কী করবেন? মানুষ হবেন নাকি পশু?

স্বপ্নহারা এর ছবি
লিখেছেন স্বপ্নহারা (তারিখ: সোম, ০১/১০/২০১২ - ১২:৫৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বাংলাদেশে একে একে নানা জায়গায়-অনেক জায়গায় হিন্দু মন্দির-বৌদ্ধ বিহার এবং হিন্দু-বৌদ্ধ্ব-আদিবাসী নামক সকল কাফেরদের শেষ করে দেয়া হচ্ছে- তাদের প্রার্থনার স্থান ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে- বিতাড়িত করা হচ্ছে এদেশের মাটি থেকে। অনেকে মায়াকান্না কাঁদছেন, অনেকে বলছেন ওরাও(!) মানুষ, অনেকে বলছেন তাদেরও(!) অধিকার আছে, অনেকে বলছেন এগুলা হিজবুতিদের কাজ-জামাতিদের কাজ! এইটা সহি ইসলাম না। আমরা ভালো, এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা অথবা এগুলো সম্পত্তি-ব্যবসা দখলের উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, পুলিশ কি করছে? সেনাবাহিনী কি করছে? কেউ আবার এক কাঠি সরেস, সরকারকে বিপদে ফেলতে নাকি এইসব করা হচ্ছে। থিওরি আপনার যাই হোক, নির্যাতিতদের কাছে সবকিছুই "মাছের মায়ের পুত্রশোক"!

আপনাদের ধর্মের নামে এরা এইসব করতেছে- আপনারা গুটিকয়জন মায়াকান্না কাঁদছেন। সবার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন, কয়টা লোক খারাপ কাজ করলো আর দেশের ধরলাম সাড়ে বার কোটি 'সহি' মুসলমানরা কী বসে বসে আঙুল চুষতেছিলেন? এখনো চুষতেছেন? আপনারা আর কত হিপোক্রেসি করবেন? কাউরে তো দেখলাম না প্রতিরোধ করতে, রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে...আসলে আপনারাও ঐ দলের-গ্রুপের...আর নাইলে স্বীকার করে নেন আপনারা ধ্বজভঙ্গ-কাপুরুষ এক পশু জাতি, যে জাতি নিজের পরিবারের সদস্যদের উপর অন্যায়-অবিচার-ধর্ষণ-হত্যা দেখেও চুপ থাকেন আর মনে মনে বাহবা দেন-উপভোগ করেন...জোরে আওয়াজ তোলেন, Islamic Republic of Bangladesh জিন্দাবাদ...কাফেরমুক্ত বাংলাদেশ চাই...বাংলা হবে আফগান, আমরা হব তালেবান...পাকিস্তান জিন্দাবাদ... অন্ধকার চিরজীবি হোক...বাংলাদেশে সকল শিক্ষা-বিজ্ঞান-কলা চর্চা বন্ধ হোক... আমরা মধ্যযুগে ফেরত যেতে চাই...

তবে মনে রাখবেন, ঘুঁটে যখন পোড়ে, গোবর তখন হাসে...যারা চুপ আছেন বা যারা মনে মনে তালি বাজাচ্ছেন, তারাও একদিন পুড়বেন... আপনার সৃষ্টিকর্তা এত বড় স্টুপিড না যে আপনার মুনাফেকী-আপনার হিপোক্রেসি-আপনার চুপ করে থাকা-আপনার বাধা না দেয়া দেখে চুম্মা দিয়ে আপনাকে কোলে তুলে নিবেন...যদি তিনি থেকে থাকেন, তাহলে প্রতিটি প্রাণ তার কাছে প্রিয়...প্রতিটি জিনিস তার কাছে প্রিয়...When terrorists disguised as religious men attack your family and neighbors, it is your religious duty to stop them an any cost! ...পারলে এখন একটু "সহি" বা "শান্তি"র স্যাম্পল দেখান...নাহলে এই সবকিছুই আপনার স্রষ্টার কথামতো ধংস হয়ে যাবে, সেটা হবে আপনার মতো মুনাফেক-পশুবৃত্তির-ঈমান ছাড়া-হিপোক্রেটদের হাতে...আপনিই তার জন্য দায়ী থাকবেন।

First they came for the socialists,
and I didn't speak out because I wasn't a socialist.

Then they came for the trade unionists,
and I didn't speak out because I wasn't a trade unionist.

Then they came for the Jews,
and I didn't speak out because I wasn't a Jew.

Then they came for me,
and there was no one left to speak for me.

- Martin Niemöller

একজন মানুষ দেখার অপেক্ষায়...


মন্তব্য

ত্যাঁদড় এর ছবি

ভাই, নিজে একটা উদ্যোগ নেন না! একটা প্রতিরোধের ডাক দেন, রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের ডাক দেন! আপনি যে ঘরে বসে ব্লগিং-এর ফাঁকে ফাঁকে আঙ্গুল চুষছিলেন না, তার একটা প্রমাণ দেন!

সাফি এর ছবি

কেন ভাই ওনার প্রমাণ দিয়া আপনার কী লাভ? উনার কোন বক্তব্যে আপনার আপত্তি আছে এইটা বলেন শুনি। তাহলে বুঝতে পারবো চুলকানিটা কোথায় উঠতেছে।

স্বপ্নহারা এর ছবি

হ, ভাই আপ্নে আমার ঘর পোড়াবেন-আপনে আমারে আমার দেশ থেকে খেদাবেন, আপনে আমাকে সপরিবারে ধংস করবেন, আমি জান বাঁচাইতে পারি কিনা সেই চিন্তায় গত দুইদিন খাওয়া-ঘুম ছাড়া, আর আমারেই আবার রাস্তায় নাইমা "একলা আমি ব্যান্ডাপার্টি" কইয়া প্রতিবাদের ডাক দিতে হবে!! শেষ লাইনটা দেখেন- আপনি কোন দলে সেইটা বলেন?

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

ত্যাঁদড় এর ছবি

আপনার সাথে সহমত না জানানো মানেই আমি কোন দলের? একই আদর্শে বিশ্বাসী দুজন মানুষের মধ্যে দ্বিমত আসতে পারে না?
যে 'একজন মানুষ' দেখার অপেক্ষায় আপনি আছেন, সেই মানুষটি আপনি নিজে হতে বাধা কোথায়? আপনি কেন সচল 'সবুজ পাহাড়ের রাজা'র মত কোন উদ্যোগ নিলেন না? অথচ, নিজের বন্ধুকে দেখলাম নিজেই বলছেনঃ "কিছু একটা করার ট্রাই কর, তা তোর সামর্থ্য যত কমই হোক"!
আপনার লেখার উদ্দেশ্য (এবং আপনার ইচ্ছের/সামর্থের শেষ সীমা) যদি হয়ে থাকে 'মুনাফেক'দের প্রতি ঘৃণা জানানো, তাহলে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু যদি আপনি দেশটাকে বাঁচানোর জন্য কিছু চেয়ে থাকেন, তাহলে এই লেখার ধারাবাহিকতায় নিজেও কিছু করুন।

চরম উদাস এর ছবি

যুদ্ধ সবাই বন্দুক দিয়ে করেনা। কখনো সুযোগ হয়না, কখনো সাহস হয়না। ৭১ এ যারা মুক্তির গান গেয়েছিল, কবিতা লিখে, গান গেয়ে, পত্রিকায় লিখে, দেশের বাইরে বসে যারা সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেছিলো, ফান্ড যোগাড় করেছে, তাদের গিয়েও কি বলবেন, হারামজাদা মাঠে নেমে কয়টা পাকসেনা মারছছ?

তাপস শর্মা এর ছবি

একটাই প্রশ্ন কোন কিছুর লড়াই কি শুধুমাত্র ময়দানে নেমে হয় ? লড়াই তো অনেক রকমের। স্বপ্নহারা নিজের মতো করে লড়াই করছেন। লড়াই যেরকমই হোক যে যার পথ ধরে করলেই আসল কথা। হয়তো পথ বা মত আলাদা হতে পারে। আর এইজন্য উপদেশ না ঝেড়ে, এই করলেন না কেন সেই করলেন না কেন না বলে আপনিও আপনার মতো প্রতিরোধ করুন, আপনাকে তো কেউ আটকায় নি

স্বপ্নহারা এর ছবি

ত্যাঁদড় ভাই, কিছু মনে কইরেন না। ব্যাপক শোক-দুঃখ-চিন্তা-অসহায়ত্ব-এর মধ্যে আছি। তবু আমি কি করতেছি বা আদৌ কিছু করছি কী না ঐ লিস্টটা দেয়ার প্রয়োজন বোধ করতেছি না। এখন আমি যদি এই লেখাটাতে বলি, আমি এই করছি, ঐ করছি, ঐখানে ঐটা করছি, আপ্নে কিছু করছেন আমার মত? সেইটা ভাল লাগবে? মানুষের বিবেক জাগানোর চেষ্টা করাতে এত প্যাঁচান কেন। যদি সহমতের হনই, তাইলেতো এই প্রশ্ন করতেন না, আমি আঙুল চুষতেছি কিনা! বরং আপনিই সবুজ পাহাড়ের রাজার মত এসে বলতেন, আমি মানুষ, আমি এই করেছি! হতাশ হইলাম ভাই। আর আমার তো মনে হয়না যেকোন বিবেকবান মানুষের দ্বিমত হবার মত কোন কথা বলেছি! দুনিয়াতে অন্যায় হয়ই কিছু খারাপ লোকের দ্বারা, এবং তারা সেই সাহস পায়- অন্যরা অন্যায় দেখে চুপ থাকে বলে! যার যতটুকু সামর্থ্য ততটুকু দিলেই অনেক অন্যায় থামানো যায়। লেখাটা আবার পড়ে দেখেন নাইলে!

বন্ধুর থেকে দূরে থাকি বলেই তাকে বলছি সে যেন কিছু একটা করে।

তবু বলি ভাই, দরকার হলে রাস্তায় নেমে যুদ্ধ করতে কখনো ডরাই নাই- আগেও করেছি -করতেছি- করবো। কিন্তু যদি সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষগুলো-বিবেক আছে এইরকম লোকগুলা খাড়ায়া খাড়ায় মজা দেখেন আর ডুগডুগি বাজান, তাইলে ভাই আপনার সহমত বা দ্বিমতের খ্যাতা পুড়ি। স্যরি!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

কল্যাণ এর ছবি

কি, লেখাটা পড়ে খুব জ্বলে?

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

অন্যদের কথা জানি না, আমি আর আমার তিনজন বন্ধু কাল চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে পোস্টার নিয়ে দাঁড়ায় থাকবো।
আমাদের পূর্বপুরুষরা ত্রিশ লাখ প্রাণ বাংলাস্তানের জন্য দেয় নাই। ওরা প্রাণ দিছে, সম্ভ্রম দিছে বাংলাদেশের জন্য আর আমরা ন্যনূতম কিছু করতে পারবো না এদেশের জন্য।
এতটা নিমকহারাম অমানুষ এখনো হতে পারি নাই।

স্বপ্নহারা এর ছবি

খুব অবাক লাগে যে সত্য-যে আদর্শ-যে চিন্তাচেতনার ফসল হিসাবে জন্ম এই বাংলাদেশের, তা আজ ধীরে ধীরে বিলুপ্তপ্রায়!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

অরফিয়াস এর ছবি

First they came for the socialists,
and I didn't speak out because I wasn't a socialist.

Then they came for the trade unionists,
and I didn't speak out because I wasn't a trade unionist.

Then they came for the Jews,
and I didn't speak out because I wasn't a Jew.

Then they came for me,
and there was no one left to speak for me.

- Martin Niemöller

চলুক

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

রাগিব এর ছবি

ভিডিওর প্রতিবাদ নিয়ে মানুষের মধ্যে যে জেহাদি চেতনা জাগিয়ে দেয়া হয়েছে, এটা তারই ফল।

----------------
গণক মিস্তিরি
জাদুনগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | শিক্ষক.কম | যন্ত্রগণক.কম

রংতুলি এর ছবি

চলুক

গরীব মানুষ এর ছবি

গুরু গুরু

স্বপ্নহারা এর ছবি

হুম, এখন তাওয়া গরম থাকতে থাকতে একদল ভেজে ফেলবে মালাউন-কাফেরদের, আর অন্যরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সম্রাট নীরো হিসেবে বাঁশি বাজাবে!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

অদ্ভুত এর ছবি

আপনি নিজেই তো কিছু না করে ব্লগে বসে চিল্লাচ্ছেন। অন্য মানুষকে কিছু বলবার আগে নিজে করে দেখালে ভাল লাগে। সব মানুষের সব কিছু করবার ক্ষমতা নেই বলেই হয়তো অনলাইনে প্রতিবাদ জানায়। তবুতো প্রতিবাদ জানাচ্ছে, যারা জানেনা তারা অন্তত জানুক। আপনার থিওরী অনুসারে তো আপনিও ওই দলের লোক, খালি ব্লগে বসে চিল্লাইতেছেন।

প্রপাগান্ডা ছড়ানো অনেক সহজ, একটা ঘটনা ঘটলে দোষীদের শাস্তি দেয়া হচ্ছে কিনা সেটা নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা থাকেনা, আপনারা মুসলিম মরলে চুপ থাকেন, আর ওরা হিন্দু বৌদ্ধ মরলে চুপ থাকে। রোহিঙ্গা ইস্যু তে ওরা চিল্লাইছে, এখন আপনেরা চিল্লাচ্ছেন, দোষীদের শাস্তি দেওয়া হল কিনা সেটা নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেই। এরকম ঘটনায় শুধু একদল আরেকদলকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠতে দেখি। রোহিঙ্গা মারার সময় ওরা বলে বৌদ্ধ ধর্ম খারাপ, আর এখন আপনারা শুরু করছেন ইসলাম ধর্ম খারাপ। যেই মানুষ নামের কলঙ্ক গুলা এই ঘটনা ঘটায়, তাদের শাস্তির দাবি কাউরে করতে দেখিনা। পরে কোন সুবিচার হইলো কিনা সেই খবর ও কেউ রাখেনা। ওদের যেমন এক চোখ অন্ধ আপনেদের ও এক চোখ অন্ধ। দুই দলই সমান সাম্প্রদায়ীক।

সাফি এর ছবি

স্বপ্নহারা খুব খারাপ লোক। ব্লগে বসে চিল্লায় খালি। আপনি কী কী করলেন ভাই?

আর অন্য ধর্ম তো খারাপ। ইসলাম হলো শান্তি আর সত্য ধর্ম। তাইলে কেমনে কী!

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

আপনি কোন দলে আছেন?

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

স্বপ্নহারা এর ছবি

ইসলাম খারাপ কোনজায়গায় বলছি একটু দেখায়ে দেবেন? ইসলামের উপর বিশ্বাস করি বলেই তো ভাল মুসলমান দের একটু প্রতিরোধ-প্রতিবাদ করতে বললাম! একটু স্যাম্পল চাইলাম, "সহি" আর "শান্তি"র!

আপনে আসলেই অদ্ভূত। একটা লোকরে চিনেন না, জানেন না- এসে মনগড়া কত কিছু বললেন! "আপনারা মুসলিম মরলে চুপ থাকেন"- আসলেই? আপনি জানেন?

কোনটা প্রোপাগান্ডা ভাই?

তাদের শাস্তির দাবী যেন সবাই মন থেকে করে সেইজন্যেই তো এই লেখা- নাকি? ব্লগে চিল্লাইতেছি, গত ২৪ ঘন্টা আমাদের কেউ ঘুমাইতে পারছে মনে হয়? কিন্তু আপ্নের লাগলো কেন? অনলাইনের মহাপ্রতিবাদীরা একখান পোস্ট শেয়ার দিয়েই হটি এন্ড নটি জোকস পোস্ট করতেছেন! যারা সত্যিই প্রতিবাদ করতেছেন, তাদের কারও তো লাগলো না ভাই!

আচ্ছা, কাফেররা তো সাম্প্রদায়িক। দেশের সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে, কত মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন শেষ হয়ে যাচ্ছে, রামু বেড়াতে যেতে কে না ভালবাসতো? এখন কেউ যাবে? কাফেরদের এই দেশ থেকে খেদানের পর আপনারা কী করবেন?

আসলেই আমি বুঝতেছিনা, রোহিঙ্গাদের সাথে এর সম্পর্ক কী! সকল কাঁঠালপাতা ভক্ষণকারীরা দেখি খালি রোহিঙ্গা নিয়া আসে!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

সত্যপীর এর ছবি

রোহিঙ্গা তো আমাদের ইস্যু না বার্মার ইস্যু, ঐটা চিটাগাং এর ঘটনার সাথে তুলনায় কিভাবে আসে?

..................................................................
#Banshibir.

অরফিয়াস এর ছবি

বৃহত্তর জামায়েতে ইসলামীর ক্ষুদ্রতর বি.এন.পি সরকার আসার পরে, দেশে ছাগল কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল দেয়া হতো মানুষকে। দুর্ঘটনায় মরলেও ছাগল, না মরলেও ছাগল। এতে করে দেশের কতোটা উন্নতি হইছে জানিনা, তবে আপনার বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে "ছাগল কর্মসূচি" সফল।

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

guest_writer এর ছবি

ইসলামিক রিপাবলিক বাংলাদেশ কখনোই না। তাইলে জামাত-রাজাকার রাই প্রেসিডেন্ট, প্রধান মন্ত্রী হত।

হয়ত সত্যিই "আপনারা ধ্বজভঙ্গ-কাপুরুষ এক পশু জাতি।"

মু রশিদুল হাসান
আখেন, জার্মানি।

স্বপ্নহারা এর ছবি

মন্ত্রী তো হচ্ছে-হয়েছে-হবে? একদিন সেটাও হবে। এভাবেই একদিন হবে বাংলাস্তান মন খারাপ

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

কল্যাণ এর ছবি

পশু আর নতুন করে পশু কিভাবে হবে? একটা অজুহাত শুধু দরকার। ভিতরের কাঁচাখেকো চেহারাটা বের হয়ে আসে সাথে সাথে।

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

সাবেকা  এর ছবি

আসলে এই সব মানুষেরা অন্তর থেকে না বদলালে কিছুই বদলাবে না এই দেশের। এমনি হতে থাকবে, হতেই থাকবে,হয়ত মুমিন মস্লমান ছাড়া এদেশে আর কারো যায়গা হবে না, সেদিনের কথা ভেবে শিউড়ে উঠি !

স্বপ্নহারা এর ছবি

হুম, সাধারণ মুসলমানরাও সেদিন আর এই আগুন থেকে বাঁচতে পারবে না।

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

হাসান এর ছবি

সাধারণ মুসলমান বলতে কিছু নাই রে ভাই। হয় জঙ্গী না হয় অধার্মিক।

স্বপ্নহারা এর ছবি

ঐটাই বললাম, মডারেটরা হবে তখন অধার্মিক ক্যাটাগরির। তাদের তখন নিশ্চিহ্ন করা হবে।

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

অতিথি লেখক এর ছবি

ঠিক
স্বয়ম

অমি_বন্যা এর ছবি

মানুষ হিসেবে আমরা নিজেকে দাবী করলেও আসলে পশুর চেয়েও খারাপ।

Then they come for me,
And there was no one left to speak for me

এই অবস্থা একদিন আমাদেরও হবে ।

স্বপ্নহারা এর ছবি

হ্যাঁ,

And there was no one left to speak for me!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

সজল এর ছবি

আপনাদের ধর্মের নামে এরা এইসব করতেছে- আপনারা গুটিকয়জন মায়াকান্না কাঁদছেন। সবার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন, কয়টা লোক খারাপ কাজ করলো আর দেশের ধরলাম সাড়ে বার কোটি 'সহি' মুসলমানরা কী বসে বসে আঙুল চুষতেছিলেন? এখনো চুষতেছেন? আপনারা আর কত হিপোক্রেসি করবেন?

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

যারা সাময়িক চুপচাপ আছেন, তারা "ঝামেলা" শেষে আবার অবমাননার প্রতিবাদে মানববন্ধন করবেন। হয়তো "ঝামেলাটা" তাদের কাছে "ইনসাফ" মনে হয় বলেই চুপচাপ থাকেন।

স্বপ্নহারা এর ছবি

হ!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

তারেক অণু এর ছবি

First they came for the socialists,
and I didn't speak out because I wasn't a socialist.

Then they came for the trade unionists,
and I didn't speak out because I wasn't a trade unionist.

Then they came for the Jews,
and I didn't speak out because I wasn't a Jew.

Then they came for me,
and there was no one left to speak for me.

- Martin Niemöller মন খারাপ

সাফি এর ছবি

ঃ(

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

যখন ওরা কম্যুনিস্টদের ধরে নিয়ে গেলো,
আমি কিছু বলি নি, কারণ আমি কম্যুনিস্ট নই।

এরপর ওরা ট্রেড ইউনিয়নিস্টদের ধরে নিয়ে গেলো,
আমি তখনও কিছু বলি নি, কারণ আমি ট্রেড ইউনিয়নিস্ট নই।

এরপর তারা এলো ইহুদিদের ধরে নিয়ে যেতে।
আমি তাদের হয়ে লড়লাম না, কারণ আমি তো ইহুদি নই।

একদিন ওরা এলো আমাকে নিয়ে যেতে।
কিন্তু আমার হয়ে লড়বে এমন কেউ আর তখন বাকি নেই।

- মার্টিন নিমোলার

স্বপ্নহারা এর ছবি

মন খারাপ

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

অতিথি লেখক এর ছবি

ব্লগে বা যেকোন মাধ্যমে লেখালেখির মাধ্যমে প্রতিবাদটা গৌণ নয়। সাহিত্য প্রতিবাদের শ্রেষ্ঠ ভাষা। ওয়াল স্ট্রিট আন্দোলনে অনেকেই ফেসবুককে খুব চমৎকারভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন। কাজেই লেখালেখিকে ক্ষমতালোভী গোষ্ঠী ভয় পায়।

এই রক্তাক্ত বর্বরতার প্রতিবাদে আপনার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।

একটু আগে আমার মা এসে আমাকে সাবধান করে গেছেন যাতে ব্লগে কিছু না লিখি। নিস্ফল আক্রোশে ফেটে পড়লাম আমি। নির্বাক মৃত্যুই কি আমাদের কাম্য?

আমি তবু লিখলাম। খুব চাপ। তাই পোস্ট লিখতে পারলাম না। প্রতিটি বিবেকবান কণ্ঠ এই হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে গর্জে উঠুক।

নির্ঝর অলয়

স্বপ্নহারা এর ছবি

প্রতিটি বিবেকবান কণ্ঠ এই হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে গর্জে উঠুক।

সেটাই কামনা!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

অতিথি লেখক এর ছবি

দায়ী না, ধর্মের দোহাই দিয়ে কিছু লোক দাঙ্গা হাঙ্গামা করছে । এজন্য দায়ী কারা । আমরাই দায়ী , খামাখা অন্যদের দোষারোপ করি । ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো রাষ্ট্রীয় শিক্ষা ব্যাবস্থারই একটা অংশ অথচ এই সেক্টরের বিষয় কারো কোন মাথা ব্যথা নাই, এই প্রতিষ্ঠান গুলো এখনও মান্ধাতা আমলের পদ্ধতিতেই চলছে, এখন ও এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে ধর্মান্ধ কিছু লোক । তাদের কাছ থেকে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা মগজ থেকে মগজে স্থানান্তরিত হয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে । তারাই জিহাদের নামে তথাকথিত দাঙ্গা হাঙ্গামা করতে সাধারন ধর্মভীরু জনগণকে উৎসাহিত করছে, ধর্মগ্রন্থ বুকে বেধে রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছে, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় ও বসতি জালাতে পোড়াতে নির্দেশ দিচ্ছে । এই গাফিলতির দায়ভার কিন্তু চাইলেই আমরা এড়াতে পারবোনা । আমি এমন কাউকে খুজে পাইনি যে মাদ্রাসার শিক্ষক হতে চায় । সরকারের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন কার্যক্রম স্কুল, কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে, মাদ্রাসা পর্যন্ত যাবার আগেই যেন তেল ফুরিয়ে যায় । আর এই সুযোগটারই সদ্বব্যাবহার করে ঐ লোক গুলো । এতই যখন অবহেলা তখন বাদ দিয়ে দিলেই তো হয়, যেহেতু তাও সম্ভব না তাই প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থাটা নিতে মাথাব্যাথা কোথায় ? আমাদের এটা ভুলেগেলে চরম বোকামি হবে যে এই ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে বের হচ্ছে এবং তারা এদেশের ই নাগরিক, তাদেরকে বাদ দিয়ে দেশ চলবেনা । বরঞ্চ তারা যাতে আধুনিক, নিরপেক্ষ ও সঠিক শিক্ষাটা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে । অন্তত তারা যেন তথাকথিত পাঠাদের বলি না হয় ।

স্বপ্নহারা এর ছবি

কথা ঠিকাছে, তবে আমি কিন্তু মাদ্রাসার ঐ ব্রেনওয়াশড মানুষদের চেয়ে তথাকথিত শিক্ষিত উচ্চডিগ্রীধারীদের বেশি ভয় পাই- এই ঘটনায় শিক্ষিত-অমানুষেরা যেরকম আচরণ করছে, তাতে মনে হয় তারা মাদ্রাসা থেকেই উঠে আসছে।

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

ধুসর জলছবি এর ছবি

চলুক সহমত।

অতিথি লেখক এর ছবি

ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা ভাই? কাফের মারলেতো বেহেশত নিশ্চিত,হয় ধর্মান্তর করো নয় মারো। সরাসরি হাদিস ভাই।রেফারেন্স মনে নাই, থাকলে দিতাম। মূলত ধর্ম। প্রথমেই বিভাজন। বাকি কথার সাথে একমত।শিক্ষাপদ্ধতি, এখানেই মূল বিষয় যার ভিতর পুণঃ পাকিস্তানিকরণের বীজ লুকিয়ে।

সুজন এর ছবি

বণিক, আমাদের বুয়েটের বন্ধুদের মধ্যে যত দিন যাচ্ছে, ততই দেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুয়েট লাইফে যাদের শুধু নিজেকে ছাড়া অন্য কোন কিছু নিয়েই মাথাব্যথা দেখিনি, তারাও ফেসবুকে এবং ব্লগে দেশের জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে লেখে, তখন পড়তে ভাল্লাগলেও খটকা লাগে কোথায় যেন। সবাই এমন দেশপ্রেমিক হয়ে গেল! আমার নিজের একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি। জাপানে প্রথম প্রথম বন্ধুরা সবাই মিলে দেশের নানা সমস্যার ব্যাপারে বিস্তর আলোচনা করতাম, কিভাবে সমাধান হবে, এসবও চিন্তা করতাম। আমার ছোটভাই তখনও দেশে। ছোটভাইয়ের সাথে ফোনে কথা বললেও দেশের কথাই হয় বেশির ভাগ। বুঝাতে চাইতাম যে, বিদেশ থাকলেও দেশের কথা কিন্তু ভুলিনি। আমাদের মনে সারাক্ষণই দেশ। যাই হোক, একদিন ছোটভাই খুব বিরক্ত হয়ে বলল, থাক তো জাপানে। বাসায়-অফিসে এসি। এখানে লোকজন নয়টায় অফিস ধরার জন্য সকাল সাতটায় বাসা থেকে বের হয়েও বাসে দাঁড়ানোর জায়গা পায় না। মানুষের পায়ে মাড়ায়, গরমে-ভিড়ে অফিসে পৌঁছায় বসের গালি খায়। অফিস থেকে বের হয়ে আবারও সেই একই যুদ্ধ। মাস শেষে বেতন পাওয়ার দিনই বেতন প্রায় শেষ হওয়ার জোগাড়। আসলে এদেরই অধিকার আছে ভাল-মন্দ যা-ই হোক দেশ নিয়ে কিছু বলার। তুই-আমি আমরা সারাজীবন সুবিধাভোগীর দল। সমস্যা থেকে পালিয়ে সেই সমস্যা নিয়ে কথা বলার অধিকার আমরা হারিয়েছি বলেই মনে হয়। যদি শিক্ষা-দীক্ষাকে একটা স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধরিস, দেশের বি/সি ক্যাটাগরির শিক্ষিতরাও যে কোনভাবে হোক বিদেশ চলে যায়। বাকি যারা আছে, তাদের থেকে এর চাইতে ভাল আর কি আশা করা যায়? ৯০ থেকে শুরু করলে গত ২২ বছরে দুই পলিটিক্যাল পার্টি কিভাবে এক্সপ্লয়েট করল দেশের মানুষদের! মাঝে মাঝে টিভিতে টক শো তে দুই পার্টির নেতাদের দেখলে মাথায় রক্ত চড়ে যায়। কি অবলীলায় মিথ্যা বলে যাচ্ছে। প্রত্যেকে শুধু অন্যের দোষটাই দেখাবে, যেন নিজে ধোয়া তুলসী পাতা। মাঝে মাঝে মনে হয়, এরা জনগণকে কি ভাবে! মশকরা করতেছে? নইলে একটা মানুষ এভাবে মিথ্যাচার করে কেমনে! অথচ মানুষ তো এদেরকই ভোট দিচ্ছে। গত বিশ বছরে জিনিসপত্রের দাম বাড়তে বাড়তে অনেক কিছুই মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে। কোন আন্দোলন দেখছিস? কোন প্রতিবাদ? একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে আগে বাসে ভিড় এভয়েড করে রিকশা এফোর্ড করতে পারত, মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো মাসে অন্ততঃ একদিন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে যেতে পারত। এসব বিলাসিতার দিন শেষ অনেক আগেই। এখন আছে শুধু দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার। গার্মেন্টসের মালিক কোটিপতি, শ্রমিকের বেতন সেই ২০০০ টাকা। ছোট সাইজের ফ্ল্যাটের দাম কোটি ছাড়িয়েছে, রিয়েল এস্টেটের মালিকের বিলিওনিয়ার হচ্ছে, কিন্তু বুয়েট পাস করা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারটার বেতন সেই ১০০০০ টাকাতেই আটকে আছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে একটা ১০০০০ টাকা বেতনের চাকরি পেতেও লাখ টাকা ঘুষ দিতে রাজি অনেকেই। এই দেশে সংখ্যালঘুদের উপর সংখ্যাগুরুদের অত্যাচার হবেই, এটাই নিশ্চিত পরিণতি। এটাতে অবাক হইনি মোটেই। প্রতিবাদের আশা করাটাই শুধু ভুল তোর। আর দোষ? সব চেয়ে বেশি দোষ তোর-আমার মত তথাকথিত শিক্ষিত 'সচেতন' লোকদের, পলায়নই যাদের সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা। আমি শুধু অপেক্ষা করছি। আমি গিল্টি ফিলিংস থেকে অন্ততঃ কথা বলাটা বন্ধ করেছি। অন্যদের এই ফেসবুক ফাটানো কথা বলার ফুলঝুড়ি বন্ধ হবে কবে! সমাধান যদি কখনও আসে, তবে এই রাস্তার লোকগুলার কাছ থেকেই আসবে। হয়ত একদিন এরা প্রতিবাদ করবে, শ্রমিকেরা মালিকের কলার চেপে রাস্তার নিয়ে আসবে। সেইদিনই হবে সমাধান। কোন আলাদা অত্যাচারের আলাদা সমাধান আশা করে লাভ নেই।
মন্তব্য কতটা প্রাসঙ্গিক হল বুঝতেছি না। শুধু স্বীকারোক্তি - নিজের মুখটা বাথরুমের আয়নাতে দেখতেও লজ্জা লাগে।

কল্যাণ এর ছবি

আর দোষ? সব চেয়ে বেশি দোষ তোর-আমার মত তথাকথিত শিক্ষিত 'সচেতন' লোকদের, পলায়নই যাদের সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা। আমি শুধু অপেক্ষা করছি। আমি গিল্টি ফিলিংস থেকে অন্ততঃ কথা বলাটা বন্ধ করেছি। অন্যদের এই ফেসবুক ফাটানো কথা বলার ফুলঝুড়ি বন্ধ হবে কবে! সমাধান যদি কখনও আসে, তবে এই রাস্তার লোকগুলার কাছ থেকেই আসবে। হয়ত একদিন এরা প্রতিবাদ করবে, শ্রমিকেরা মালিকের কলার চেপে রাস্তার নিয়ে আসবে। সেইদিনই হবে সমাধান। কোন আলাদা অত্যাচারের আলাদা সমাধান আশা করে লাভ নেই।

এইটাই মনে হচ্ছে আপনার মন্তব্যের সারাংশ? ভালোই বলেছেন। যদ্দিন আমার-আপনার ঘর ঠিকাছে, যদ্দিন আমারে-আপনারে রাস্তায় না নামানো হয়, তদ্দিন বসে বসে বিপ্লবের জন্যে অপেক্ষা করি, তাই না?

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

সুজন এর ছবি

'কল্যাণ' - আপনি আমার মন্তব্যের বক্তব্যটা মনে হয় ভুল বুঝেছেন। তারেক জিয়া বা নাজমুল হুদার মুখে 'দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও' শুনতে যেমন লাগে, সমস্যা থেকে পালিয়ে এসি রুমে বিছানায় শুয়ে ল্যাপটপে ফেসবুকে দেশের সমস্যা নিয়ে মন্তুব্য করতে তেমনই লাগে আমার। একেবারেই ব্যক্তিগত অনুভূতি, নিজের অক্ষমতার প্রকাশ। আপনি আপনার মত করে প্রতিবাদ করুন।

স্বপ্নহারা এর ছবি

মন খারাপ

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

স্বপ্নহারা এর ছবি

সুজন, বুয়েট লাইফে আমাদের ব্যাচে যে কয়টা পোলাপাইন নিজের কথা ভুলে, ক্যারিয়ার ভুলে, ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়িয়েছে, তাদের মধ্যে মনে হয় আমি প্রথম দিকেরই। রাজনৈতিক সচেতনতার কোন বিকল্প নেই- এবং তখন যেমন ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াইছি এখনো তাড়াচ্ছি। সবাই কী করে জানিনা, অন্য সবার মত দেশপ্রেমিক আমি নই- আমি হতেও চাই না। সবাই নিজের কাজটা ঠিকভাবে করলে সবকিছুই ঠিকভাবে চলে- এটাই আমার বিশ্বাস। হাত গুটিয়ে বসে না থেকে যার যতটুকু সামর্থ্য সেটুকু দিলেই দেশের জন্য অনেক বড় কিছু করা হয়। জানিনা এই পরিস্থিতিতে এই কথাগুলো এখানে আসলো কেন, দেশের মানুষগুলো বেঁচে আছে এটাই আশ্চর্য! শ্রমিকেরা কলার ধরে মালিককে মাটিতে নামিয়ে আনবে সেই অপেক্ষায় বসে থাকলে বিপ্লব হবে জানিনা, দুনিয়ার কী আসবে যাবে তাও জানিনা, কিন্তু এই ধর্মান্ধতা-মৌলবাদ বন্ধ না করলে বাংলার জনপদে আর মানুষ থাকবে না- থাকবে কিছু হিংস্র পশু। যারা আজ আমাদের (যাদের তোরা সংখ্যালঘু বলিস) কাটছে, কাল তোদের কাটবে (যারা তাদের সাথে হিংস্রতার উৎসবে অংশ নিতে চাইবি না)। আমার লেখাটার মূল কথা সেটাই, আমি বিশ্বাস করি দেশের ধরলাম আধা কোটি বাদ দিয়ে বাকি সাড়ে বার কোটি লোক এখনো ভাল-মডারেট, যাদের মধ্যে এখনো মনুষ্যত্ব আছে। তারা যদি প্রত্যেকে একবার করে "না" শব্দটা উচ্চারণ করে, তাহলে এই সবকিছু থেমে যাবে- আমি শুধু সেটাই চাইছি সবার কাছে।

আমরা সবসময়ের সুবিধাবাদী এতে কোন দ্বিমত নাই। মধ্যবিত্ত মানেই সুবিধাবাদী- শিক্ষিত মানেই সুবিধাবাদী-সুবিধাভোগী! কিন্তু তবু অন্যের হাতে ভাত খেতে আমি পছন্দ করি না। যা করার সবাইকে নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে নিজেদেরই করতে হবে, কোন শ্রমিক এসে আমার অধিকার আদায় করে দেবে এটা আমি বিশ্বাস করি না। সেজন্যেই দরকার "মানুষ"!

এই ধরনের ঘটনা সবার জন্য কতটা লজ্জার সেটা আশাকরি দেশের "মানুষ"গুলো বুঝবে!

আর গিলটি ফিলিং না করে কিছু একটা করার ট্রাই কর, তা তোর সামর্থ্য যত কমই হোক- এই অবস্থায় গিলটি ফিলিং এর চেয়ে প্রতিবাদ-প্রতিরোধই বেশি দরকার।

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

অতিথি লেখক এর ছবি

সহমত
স্বয়ম

কল্যাণ এর ছবি

ঘ্যাচাং। ভুল জায়গায় মন্তব্য।

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

তাপস শর্মা এর ছবি

খুব অবিশ্বাসী হয়তো হয়ে উঠিনি এখনো। জাস্ট ৯৯ পারসেন্ট হয়েছি। তবুও মানুষ দেখতে পাই কখনো কখনো, তাদের চেহারাটা দেখতে পাইনা শুধু এরা অনেক উঁচুতে আছে, আর আমি ভীষণ নিচুতে

রাজীব এর ছবি

সম্প্রতি কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের ঘটনার মধ্য দিয়ে মুসলিমরা আরও একবার প্রমান করল - 'ইসলাম শান্তির ধর্ম' আর 'মুসলমানরা শান্তিকামী' !

স্বপ্নহারা এর ছবি

এই ধরনের কথা মনে হয় না বলাই ভাল।

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

অতি সাধারন এর ছবি

আমার এই ক্ষুদ্র চিন্তাশক্তি থেকে আমি যতোটা ভেবেছি, মনে হয়েছে, আমরা ধর্মটা কে শুধু ব্যবহার করেছি মানুষকে বিভক্ত করার জন্য , মানুষে মানুষে ব্যবধান তৈরি করার জন্য এবং সর্বোপরি নিজের স্বার্থটা কে প্রতিষটা করার জন্য । পৃথিবিতে এতো ধর্মের দরকার হতোনা যদি শুধু একটাই ধর্ম “মানবধর্ম” থাকতো। তাহলে বোধহয় এত অশান্তিও থাকতো না পৃথিবি জুড়ে। আজ কিন্ত এই নানা ধর্মের জন্যে কেও সংখ্যালঘু আর কেও সংখ্যাগরিষ্ঠ, আর এত নিপীড়ন অত্যাচার।

অতি সাধারন

স্বপ্নহারা এর ছবি

মানুষ জন্মগতভাবে দলবদ্ধ হয়ে কাইজ্যা-ফ্যাসাদ করতে ভালবাসে। অগ্রজ সচল দ্রোহীর একটা কথা ঠিকঃ "মানুষ একটা মাদারচোদ জাতি"। ধর্ম না থাকলে জাতি-বর্ণ-পেশা-অর্থ-লিঙ্গ-স্থান যেকোন কিছু একটা নিয়েই হানাহানি করতো- আমার গ্রুপ বড়, তোর গ্রুপ ছোট। তবে ধর্মের কারণে মনে হয় মানবসমাজের ক্ষতি-হানাহানি সবচেয়ে বেশি।

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

নাম নেই এর ছবি

অবাক হয়ে যাচ্ছি মানুষের বিবেচনা করার ক্ষমতা দেখে। নিজের দেশের ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা নিয়ে লেখক কথা বলেছেন। এর সাথে রোহিঙ্গা হত্যার রেশ আসে কি করে? মিয়ানমার কি এদেশের অংশ? আমরা এদেশবাসি বড়জোর আহা উহু শব্দ উচ্চারণ করতে পারি রোহিঙ্গা হত্যাকান্ড নিয়ে। লজ্জিত হই যখন ভাবি, এদেশের পানি, ভাত, হাওয়া খেয়েও আমরা দেশের পানি, হাওয়া মাটিকে ভালোবাসতে পারি না। দেশের মানুষকে ভালোবাসতে পারি না। মিয়ানমারের কোন রোহিঙ্গাকে এদেশের বৌদ্ধ, হিন্দু বা অন্যকোন ধর্মবলম্বীরা হত্যা করে নি। এদের বাপ-ভাই-চাচা, মামাও এই হত্যার সাথে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত নয়। তাহলে তাদের উপর আঘাত কেন? আপনারা যারা রোহিঙ্গা ইস্যুর জের টানছেন, তারা কি প্রতিবেশির ঘরে আগুন লাগলে নিজের বাড়িতে পানি ঢেলে ভাসায়া দেন??????? এত মুসলিমত্ব কেন আপনাদের মাঝে চিলিক দিয়ে বের হয় ভাই??? আপনাদের ইসলাম কি কইসে, অন্য ধর্মের মানুষরে কাইট্যা কুইট্যা নাশ করে হলেও মুসলিমত্ব ফলাতে তোমরা বাধ্য মুমিনগণ??? আপনারা সকল মুসলিম ভাই ভাই হইতে পারেন, তো একই দেশে বসবাস করে, একই ভাষায় কথা বলে যারা, তাদের ভাই মনে হয় না কেন??? এত দয়া মায়া কম কেন আপনাদের শরীরে????

Misuk এর ছবি

ঘুেট যখন পোরে গোবর তখন হাসে একদিন গোবরের ও একই অবসথা হবে আমার মনে হয় জার জার জায়গা থেকে কিচু করা উচিত

অতিথি লেখক এর ছবি

আমাদের থেকে ১২ঘন্টার ব্যাবধানের দেশে ঘটে যাওয়া সামান্য সামান্য ব্যাপার গুলোয় লাফাইয়া পরে আমাদের স্বদেশী ধর্মপ্রাণ মানুষগুলো। অথচ নিজেদের স্বদেশী ভাইয়ের উপর অতর্কিত হামলায় তারা নির্বাক। দেশ নাকি ধর্ম? প্রশ্নটা এখন অনেকটা এমনই হয়ে দারিয়েছে।

অতিথি লেখক এর ছবি

ভাইরে, আপনার লেখার দাবিগুলাই মনে মনে অনেকেই বলে যাচ্ছে, কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কারোরই গলায় ঠিকমত আওয়াজ বেরোচ্ছেনা - কারণ নিজের গায়ে এখনো আগুনের আঁচ লাগেনাই। নিজে দিব্যি আরামে ঘুরতেছি-ফিরতেছি, কি দরকার হুদাই প্রতিবাদ করার? ছোটবেলা থেকে মানসিকতাই গড়ে দেয়া হইছে - "তোর কি দরকার শুধু শুধু ঝামেলায় জড়ানোর?"। এখন এমন অবস্থা - অমুসলিম মরলে মুসলিমের গায়ে লাগেনা, পাহাড়ে অবাঙ্গালি মরলেও বাঙালি ঠিকই হাপুসহুপুস খানাও গিলতেছে আর দুপুরবেলা সুন্দর কইরা ভাতঘুম দিতাছে। এই ভাতঘুম দিতে দিতে পেটটাও ভারী হইছে - প্রতিবাদ করার আর সময় বা ক্ষমতা কই!

আমি বেশ ভালোরকমের ধর্মকর্ম করি, পড়াশোনাও করছি এ নিয়ে ব্যাপক - তাই বেশকিছু বন্ধুরে কইছিলাম হিন্দু-নাস্তিক দমনে তোগো ইসলাম হেফাজত হয় - এইটা কোন সূরায় পাইছস? "সূরায় পাইছস" শুইনাইতো তাগোর মাথা গরম হয়ে যায় - কারণ শিশুকাল থেকে তাগোরে আরবি ভাষায় না বুইঝা পড়ারেই "কাফি হ্যায়" এমনভাবে বুঝানো হইছে যে এখন আরবীর তর্জমা করাটারেও তাগোর কাছে মনে হয় আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা। স্বয়ং আল্লাহ যেখানে ঐ কোরানের শুরুতেই কইছেন - পড়। এখন এই কথাগুলা কওয়াতে আমিও নাস্তিক হইয়া গেছি - কিন্তু নামায-কালাম তাগোর তুলনায় আমি বরং স্পষ্টতই বেশী করি। আর দেশের বাইরে থাইকা যতটুকু সম্ভব এগুলা নিয়ে যখন বলি - তখন লোকে কয় - "তোমার কি আর খাইয়া দাইয়া কাজ নাই?"। এমন না যে কাজেকর্মে আমি আকাইম্যা, কিন্তু সুখসুখ অনুভূতি লইয়া ঘুরাফেরা করতে আমি রাজিনা - এইটাই যেন অপরাধ হইছে। যখন অনলাইনে ফেসবুকেই লেখি এগুলা নিয়া - কোরানের লাইন দিয়াই বলি এরকম বাড়াবাড়ি না করতে - তখন ধার্মিক না সেসব বন্ধুরাও কয় তুই এত ধর্ম নিয়ে চুলকানি কেন? এই ফালতু বিষয় নিয়া তোর নিজেরটা নিজের কাছেই রাখ - এত মাঠ গরম করার কি দরকার?

আমিও জানি - হিন্দু, বৌদ্ধ, পাহাড়ি মারার পরে এই আগুন আমার কাছে আসবে - যুদ্ধ এরপর শুরু হবে কাদিয়ানি, শিয়া মারার মাধ্যমে, তারা মরার পরে আসবে আমার কাছে - কইবো তুমি আহলে সুন্নাত না, তুমি হিজবুল্লাহ নাহ। মজার ব্যাপার হইলো - আগুনের আঁচ এখনো দূরে আছে - এইটাও কেউ ভাবেনা। প্রত্যেকবার সবাই ভাবে - "আরে ধুর! আগুন নামের কিছু আছে নাকি!!"।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

পুরানো লেখা, নিত্যনতুন প্রাসঙ্গিকতা... আবার... আবার... বারংবার... মন খারাপ

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।