গুরুত্বপূর্ণঃ স্তন ক্যান্সার ও সচেতনতা

স্বপ্নহারা এর ছবি
লিখেছেন স্বপ্নহারা (তারিখ: শনি, ২২/১০/২০১৬ - ৩:৩৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

অক্টোবর স্তন ক্যান্সার সচেতনতার মাস। গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় দেখলাম "সূত্র: ইন্টারনেট" থেকে যে যা পারছে তুলে দিচ্ছে, এবং স্তন ক্যান্সার নিয়ে বাংলায় একটি অশ্লীল সুড়সুড়িপূর্ণ নিম্নরুচির বিজ্ঞাপনও দেখলাম (সেই বিজ্ঞাপনটি নিয়ে বেশি কথা বলতে চাই না, স্তন ক্যান্সারের মত একটি অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় নিয়ে কেউ এরকম ইতরামি করতে পারে সেটা বিশ্বাস করতে খুবই কষ্ট হচ্ছিলো।) এবং অনেক জায়গায় দেখলাম নিজে নিজে স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ে সুবিধার জন্য রেগুলার সেলফ এক্সামের উপর জোর দিচ্ছে। এইসব নিয়ে কথা বলার জন্যই এই লেখা।

প্রথমেই কিছু ভুল ধারনা দূর করা যাক। স্তন ক্যান্সার নিয়ে নিয়ে গবেষণা করি এমন পরিচিতির কারণে পরিচিত-অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে এ পর্যন্ত প্রচুর প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। সেগুলোর অল্প কয়েকটা এখানে তুলে দিচ্ছি।

ভুল ধারনা
------------------------------
* বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ালে স্তন ঝুলে পড়ে, ফিগার নষ্ট হয়ে যায়।
...................................................................................................
- সম্পুর্ণ ভুল ধারনা। ১৫-২০ বছর আগে মানুষ এসব বিশ্বাস করতো। স্তন ঝুলে পড়ার সাথে বা ফিগার নষ্ট হবার সাথে বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর কোন সম্পর্ক নেই। স্তন ঝুলে পরার জন্য দায়ী বয়স, স্তনের সাইজ-আকার-আকৃতি, স্তনে কোন ধরনের টিস্যু বেশি (ফাইব্রাস, গ্রান্ডুলার, নাকি ফ্যাটি), শারীরিক গঠন, মাতৃত্ব, বংশগতি বা জেনেটিক ফ্যাক্টর (মা-খালাদের যেরকম), হরমোন, সঠিক ব্রা এর ব্যবহার ইত্যাদি।

বাচ্চাকে স্তন দান করা ব্যক্তিগত ইচ্ছা অনিচ্ছা এবং আরও হাজারো ফ্যাক্টরের উপর নির্ভরশীল। প্রাসঙ্গিকভাবে বলতে গেলে, যদি সম্ভব হয় বাচ্চাকে জন্মের প্রথম ৬ মাস শুধু বুকের দুধ খাওয়ালেই হয়, বিশ্বজুড়ে শিশু বিশেষজ্ঞরা অন্তত এক বছর পর্যন্ত খাওয়ানোর কথা বলেন (৬ মাসের পর পর্যাপ্ত অন্য খাবারের সাথে) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দুই বছর পর্যন্ত খাওয়ানোর জন্য রেকমেন্ড করে। আবারও বলি, "যতটুকু সম্ভব্য হয় বা আদৌ যদি সম্ভব হয়"।

এখানে ব্রেস্ট ফিডিং এর কথা কেন আসলো? কারণ, বুকের দুধ যে সন্তানকে সারা জীবনের হাজারো শারীরিক-মানসিক সমস্যা থেকে সুরক্ষা দেয় শুধু তাই-না, মা- কেও দেয়! ব্রেস্ট ক্যান্সারের রিস্ক ফ্যাক্টর কমানোর একটা বড় অস্ত্র এই ব্রেস্ট ফিডিং। মায়ের শরীরে অন্যান্য হাজারো সুফলের কথা বাদই দিলাম।

নিয়মিত ব্রেস্ট ফিডিং যেসব দেশে করানো হয় (যেমন আমাদের দেশে) সেসব দেশে বয়স্কদের স্তন ক্যান্সারের হার উন্নত বিশ্বের চেয়ে একটু কম হবার অন্যতম একটি কারণ হতে পারে এই ব্রেস্ট ফিডিং।

* ব্রা পরলে ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়।
............................................
- একটা গবেষণা এরকম দাবী করেছিল। এবং অনেক বিশেষজ্ঞ এটা বিশ্বাস করেন। কিন্তু এখনও এর পক্ষে কোন জোরালো প্রমাণ পাওয়া যায় নি। তবে দিনের অনেক সময় ধরে প্রচণ্ড টাইট ব্রা না-পরাই উত্তম। কারণ টাইট ব্রা বা পুশ- আপ ব্রা অতিরিক্ত সময় ব্যবহার করলে তা মেরুদণ্ড এবং রক্ত-লসিকা (রোগ প্রতিরোধকারী রস, লিম্ফ) সার্কুলেশন সিস্টেমের উপর চাপ তৈরি করে। যেটা লং টার্মে নানা রকম সমস্যার জন্ম দেয় (কেউ কেউ বিশ্বাস করেন ক্যান্সারও!) । সঠিক সাইজের ব্রা সিলেক্ট করা এবং পরা তাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে কেউ কেউ কিছু সময় বা ঘুমের সময় ফ্রি থাকতে বলেন।

* ব্রেস্ট বড় করলে (সিলিকন ইমপ্লান্টেশন) করলে ক্যান্সার হয়।
.........................................................................................
- সম্পূর্ণ ভুল ধারনা। তবে সিলিকন ইমপ্লান্ট করলে ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পরে, ম্যামোগ্রাম এ ঢেকে যায় বলে তাদের প্রায়ই আল্ট্রাসাউন্ডও করাতে হয় ম্যামোগ্রামের সাথে সাথে।

* ব্রেস্টে শক্ত কিছু/লাম্প/পিন্ড মানেই ক্যান্সার।
..................................................
- প্রায় ৮০-৯০% লাম্পই বিনাইন টিউমার মাত্র, ক্ষতিকর না (একটু পরেই আসছি এগুলো নিয়ে)। তবে এগুলো অবশ্যই নিয়মিত অবজারভেশনে রাখতে হবে। কারণ বিনাইন টিউমারও ম্যালিগন্যান্ট ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে বা ম্যালিগনেন্সিকে লুকিয়ে রাখতে পারে। আরেক ধরনের সমস্যা হয় মহিলাদের বাচ্চা হবার পর, বুকের দুধ জমে গিয়ে স্তন অনেক শক্ত হওয়ে যায়। একে বলা হয় "মাস্টাইটিস"- এটা টিউমার না, ভয়ের কিছুই নেই।

* ব্রেস্ট ক্যান্সার বুকে শক্ত পিণ্ডের মত মনে হয়।
....................................................................
- শক্ত পিণ্ড মানেই যেমন ব্রেস্ট ক্যান্সার নয়, তেমনি ক্যান্সার সাধারণত পিণ্ডের আকারে থাকতেও পারে নাও পারে। সাধারণত বিনাইন (ক্ষতিকর না) টিউমার গুলো শক্ত পিণ্ডের আকার নেয়, ম্যালিগন্যান্ট (ক্যান্সার) যেকোন আকার, আকৃতি, নরম, শক্ত, যেকোন যায়গায় হতে পারে।

* ডিওডোরেন্ট ব্যবহারে ক্যান্সার হয়।
......................................................
- আরেকটি "সূত্র:ইন্টারনেট" থেকে প্রাপ্ত হোক্স/মিথ্যা প্রচারণা। এরকম কোন কিছুর প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।

* ব্রেস্ট ছোট হলে ক্যান্সার রিস্ক কম।
.......................................................
- ব্রেস্ট ক্যান্সার ব্রেস্টের সাইজের সাথে কোনভাবেই সম্পর্কিত নয়। ছোট ব্রেস্টে অনেক সময় ক্যান্সার ধরা সহজ হয়। কিন্তু সেটাও ব্যক্তির স্তনের অন্যান্য অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে।

* ফ্যামিলিতে কারো না থাকলে আমার ব্রেস্ট ক্যান্সার হবে না।
........................................................................................
- যাদের ফ্যামিলিতে ব্রেস্ট ক্যান্সার আছে তাদের এটা হবার চান্স অনেক বেশি এটা যেমন সত্য তেমনি প্রায় ৭০% ক্যান্সার রোগীর কোন ফ্যামিলি হিস্ট্রি পাওয়া যায় না।

বিশ্বজুড়ে স্তন ক্যান্সার
-------------------------------
স্তন ক্যান্সার পৃথিবীজুড়ে মেয়েদের সবচেয়ে বড় ঘাতকের নাম (ফুসফুসের ক্যান্সার আরেকটি)। প্রতি বছর সারা পৃথিবী জুড়ে প্রায় দেড় থেকে দুই মিলিওন (১৫-২০ লক্ষ!) নতুন স্তন ক্যান্সারের রোগী পাওয়া যায়, যার মধ্যে ৫-৭ লাখ মারা যায় স্তন ক্যান্সারের কারণে। উত্তর আমেরিকা বা উন্নত দেশগুলোতে বলা হয়, একজন মহিলা যদি পূর্ণ বয়স্ক (৮৫-৯০ বছর প্রায়) বাঁচেন তাহলে তার সারা জীবনে স্তন ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা প্রতি ৮ এ ১। এবং এ থেকে মারা যাবার সম্ভাবনা ২৭ এ ১। পরিসংখ্যান গত ভাবে তাহলে প্রতি ১০০ জনে ৩ থেকে ৪ জনের স্তন ক্যান্সারে মারা যাবার সম্ভাবনা রয়েছে! (আবারো বলি, সারা জীবন ব্যাপী সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে)।

পুরুষরা যদি মনে করে, আমরা বেঁচে গেছি, তাহলে সেটা হবে ভুল, স্ট্যাটিস্টিক্যালি রেয়ার হলেও পুরুষেরও স্তন ক্যান্সার হতে পারে। একই সাথে পুরুষের জন্য একই রকম প্রাণঘাতী ক্যান্সার হচ্ছে প্রস্টেট ক্যান্সার। ফুসফুসের ক্যান্সার নারীপুরুষ নির্বিশেষে সবচেয়ে বেশি হয় এবং মারা যাবার হারও বেশি।

বাংলাদেশে কী অবস্থা?
-----------------------------------
- বাংলাদেশের স্তন ক্যান্সারের নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানগত উপাত্ত তেমন পাওয়া যায়না। ভারতের তথ্য উপাত্ত বিবেচনা করে এবং বাংলাদেশের কিছু উপাত্ত নিয়ে মোটামুটিভাবে ধরা হয়, বাংলাদেশে স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে (৫ বছরের চিত্র): প্রতিবছর প্রতি ১ লাখে ২২ -৩২ জন আক্রান্ত হন (প্রায় ৮ কোটি মহিলার জন্য, প্রতি বছর কতজন আক্রান্ত হচ্ছে হিসাব করুন)! এবং এর বেশির ভাগই মারা যান ধরা পড়তে দেরি হওয়া, চিকিৎসায় ত্রুটি, নিজেদের অবহেলা বা জাস্ট লুকিয়ে রাখার কারণে।

অনেকে বলেন, কিছুদিন আগে পর্যন্ত আমাদের দেশে এতটা ভয়াবহ অবস্থা ছিল না স্তন ক্যান্সার, আসলে স্তন ক্যান্সার ছিল কিন্তু ধরা না পড়ার অন্যতম কারণ হয়তো সামাজিক, ধর্মীয়, কুসংস্কার এবং নানাবিধ কুপ্রথা। অনেক কেসই রিপোর্টেড হতো না, এখনও হয় না। বর্তমানে মানুষ কিছুটা সচেতন হবার কারণে দেখা যাচ্ছে, আমাদের পরিচিতের মধ্যেই একাধিক স্তন ক্যান্সারের রুগী রয়েছেন! আশেপাশে প্রচুর পরিবার স্তন ক্যান্সারের ভিক্টিম! এবং এই স্তন ক্যান্সার আক্রান্তের হার সারা পৃথিবীর মতো বাংলাদেশেও দিন দিন বাড়ছে/বাড়বে!

এবার আসি আসল সমস্যায়। উন্নত দেশগুলোতে দেখা যায়, বয়সের সাথে সাথে স্তন ক্যান্সারের হার বাড়ছে। সাধারণত উন্নত বিশ্বে স্তন ক্যান্সারকে ধরা হয় পোস্ট-মেনোপজাল বা প্রান্তিক মহিলাদের (৫০+) রোগ হিসাবে, তাদের অল্প বয়সে স্তন ক্যান্সারের রিস্ক কম থাকে। কিন্তু উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশগুলোতে এ ব্যাপারটা মেলানো যায় না, বরং উল্টোটাই দেখা যায়! এর মানে হচ্ছে, বাংলাদেশের মত দেশগুলোতে অল্প বয়সী মেয়ে/মহিলাদের (১৫-৪৯ বছর) ব্রেস্ট ক্যান্সার হবার হার অনেক বেশি! এক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশের প্রায় ৫৬% ব্রেস্ট ক্যান্সার রোগী মেনোপজের আগেই! এর আরেকটা দিক হচ্ছে, বয়স্ক মহিলারা বেশিরভাগ সময় লজ্জায় টিউমার/ক্যান্সারের কথা গোপন রাখেন এবং এগুলো রিপোর্টেড হয় না।

আরও ভয়ের ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশে ধরা পরা স্তন ক্যান্সারের ৯০% ধরা পড়ে স্টেজ-৩ বা স্টেজ-৪ এ (স্টেজিং ও টিউমারের প্রকারভেদ নিয়ে পরে বলছি), যখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। একারণে বেশিরভাগ স্তন ক্যান্সারের রোগীই বাংলাদেশে মারা যান। এই দেরিতে ধরা পড়ার অনেক গুলো কারণ আছেঃ

- বাংলাদেশের মত দেশে রেগুলার কোন স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম নেই, তাই ক্যান্সার বা টিউমার ধরা পড়ার একমাত্র উপায় সেলফ এক্সাম বা ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করানো। অতদিনে অলরেডি যথেষ্ট দেরী হয়ে গিয়েছে। এগুলো কোনটাই রিলায়েবল এক্সাম না।
- ব্রেস্ট ক্যান্সারের অনেক সময়ই কোন বাহ্যিক লক্ষণ নেই বা অনেক দূর ছড়িয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত শারীরিক কোন সমস্যাও দেখা যায় না
- কেউ কিছু সমস্যা অনুভব করলেও অন্য কিছু ভেবে ভুলে যান বা পাত্তা দেন না। ক্যান্সারের ক্ষেত্রে একটি দিনও গুরুত্বপূর্ণ!
- ব্রেস্ট ক্যান্সার পাপের ফল/ সামাজিক ভাবে অন্যের চোখে হেয় হয়ে যাওয়া/ লোক লজ্জার ভয়/ স্বামী ছেড়ে যাবার ভয়/ পরিবারের সাপোর্টের অভাব/ পাড়াপ্রতিবেশি বা শ্বশুরবাড়ির লোক জানলে ছি ছি করবে ইত্যাদি বিষয়ও কাজ করে, তাই কিছু হলেও কেউ বাইরে জানান না। এই সংখ্যাটা বাংলাদেশে খুব একটা কম না।
- আমাদের দেশে ধরে নেয়া হয় মেয়েদের ৫০ হয়ে গেছে মানে অনেক বয়স হয়ে গেছে, এখন তো অসুখবিসুখ এইটা-সেইটা হবেই। এগুলা পাত্তা দেয়ার কিছু নাই- সামাজিক-পারিবারিকভাবে মহিলাদের স্বাস্থ্য অবহেলিত হয়। মহিলারাও এই একই মাইন্ডসেটে বড় হন, যার ফলে লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও ক্যান্সার অনেক দূর ছড়িয়ে যায়।
- উন্নত চিকিসা ব্যবস্থার অনুপস্থিতি বা দুর্বলতা ও অভিজ্ঞ রেডিওলজিস্ট বা অভিজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব।

প্রসঙ্গত বলে রাখি, বাংলাদেশের মহিলাদের দ্বিতীয় প্রাণঘাতী ক্যান্সারটি হচ্ছে, জরায়ুর (বা এর সম্পর্কিত) ক্যান্সার। প্রতি বছর তাই সম্ভব হলে, উন্নত বিশ্বের মত, সব মেয়ের/মহিলার প্যাপ-স্মিয়ার (Pap test) টেস্ট করা জরুরি। অনেকেই লজ্জায় প্যাপ টেস্ট বা ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট এক্সাম করান না। নারীর শরীরকে শরীর হিসাবে না দেখে "সেক্স অবজেক্ট" হিসাবে দেখার জাতিগত/সামাজিক/ ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না করলে এ থেকে মুক্তি মিলবে না। এজন্য মেয়েদের পাশাপাশি পরিবারের সবাইকে সচেতন করা এবং শেখানো জরুরি।

স্তন ক্যান্সার কেন হয়?
------------------------------

- ক্যান্সার কেন হয় এর অনেক গুলো জানা কারণ আছে, তেমনি অনেক অজানা কারণও আছে। কিছুদিন আগে কিছু গবেষক বলেছিলেন, ক্যান্সার কোন কোন ক্ষেত্রে জাস্ট ব্যাড লাক, যেকারোই হতে পারে। যেকোন ক্যান্সারের জন্য একটা কোষের মিউটেশনই দায়ী হতে পারে। সরল ভাষায়, ক্যান্সার হচ্ছে যখন শরীরের কিছু কোষ আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে বা পরাজিত করে অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে এবং অস্বাভাবিক ভাবে ছড়াতে/বাড়তে থাকে।

এই অস্বাভাবিক কোষ যখন মূল উৎপত্তি স্থল থেকে (টিস্যু বা অঙ্গ) দেহের নানা জায়গায় ছড়াতে শুরু করে তখন তাকে বলা হয় মেটাস্টাসিস (এটাই মূলত মৃত্যুর জন্য দায়ী)। আর কোথায় উৎপত্তি হয়েছে সেটাও আরেকটা বড় ফ্যাক্টর (যেমন সাধারণ ত্বকের ক্যান্সার হলে মারা যাবেন না হয়তো, কিন্তু সেটা যদি অন্য জায়গায়/ভাইটাল অর্গানে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে মৃত্যুর সম্ভাবনা অনেক বেশি।)

ব্রেস্ট ক্যান্সারের পিছনের রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো দুই রকম, কিছু ফ্যাক্টর আমরা দূর করতে পারি, কিছু ফ্যাক্টর আমাদের বা কারোই কিছু করার নেই। মেয়েদের স্তন ক্যান্সারের রিস্ক বেশি। এরপর আসবে অতিরিক্ত মোটা হওয়া (বিশেষত পেটের চর্বি), অস্বাস্থ্যকর/অনিয়মিত জীবন-যাপন, ধূমপান, মদ খাওয়া, নিয়মিত ফিজিক্যাল এক্টিভিটি বা শারীরিক পরিশ্রম না করা, রেডিয়েশনঃ অল্প বয়সে অতিরিক্ত এক্সরে করানো, সিটি স্ক্যান করানো, রেডিয়েশন বের হয় এমন কিছুর আশেপাশে থাকা, পৃথিবীর যেসব জায়গায় নানা কারণে রেডিয়েশন বেশি (প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট- নর্থ আমেরিকার কিছু জায়গায় যেমন রেডিয়েশন বেশি) সেসব জায়গায় থাকা, অপুষ্টি ইত্যাদি।

অন্যান্য কারণের (পরিবর্তন যোগ্য বা পরিবর্তন সম্ভব নয় এমন) মাঝে আছে, অনেক বেশি বয়সে বাচ্চা নেয়া (৩০ এর পর প্রথম সন্তান ধারণ) বা একেবারেই না নেয়া, ব্রেস্ট ফিডিং না করানো, হরমোন থেরাপি, খুব অল্প বয়সে মাসিক/পিরিয়ড হওয়া (১১/১২ বছরের আগে) , অনেক দেরীতে মেনোপজ হওয়া (~৫৫) , এবং বংশগত কারণ। নিকটাত্মীয়ের মধ্যে (মা-বাবা দুই দিকেই) কারো হয়ে থাকলে তাদের হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। কারো শরীরে BRCA1/BRCA2/p53 মিউটেটেড জীনের অস্তিত্ব থাকলে তাদেরকে অনেক বেশি রিস্কে আছে বলে ধরা হয়। আর বয়সের সাথে সাথে রিস্কও বাড়তে থাকে (খুব সম্ভব বেশিরভাগ ক্যান্সারের জন্যই সত্য)। সাম্প্রতিক কালে শরীরে "ভিটামিন ডি"-এর স্বল্পতার সাথেও ব্রেস্ট ক্যান্সার এর লিংক পাবার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সেই সম্ভাবনাও কম না।

শরীরে মেদের পরিমাণের উপরও নির্ভর করে রিস্ক। উর্ধাঙ্গে বা পেটের মেদ থাকলে সেটা একটা রিস্ক ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায় মেনোপজের পরে মহিলাদের জন্য। সাধারণত, মেনোপজের আগে শরীরের ফ্যাট ব্রেস্ট ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কিছুটা প্রতিরক্ষামূলক কাজ করতে পারে। কিন্তু মেনোপজের পর ঘটনা উলটে যায়, শরীর আর এস্ট্রোজেন (মেয়েদের হরমোন) তেমন তৈরি করে না, শরীরের ফ্যাট সেটা সাপ্লাই দেয়া শুরু করে, যেটা ওই বয়সে কোনভাবে ক্যান্সারকে ট্রিগার করতে পারে।

জন্মবিরতিকরণ পিল অনেক বছর ধরে ব্যবহার করলে ব্রেস্ট ক্যান্সারের রিস্ক বাড়ে। তবে বন্ধ করে দেয়ার পর আস্তে আস্তে এর এফেক্ট কমতে থাকে। লঙ টার্মের জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি/ হরমোন ইনজেকশন নিলে এই রিস্ক বাড়ে (অনেক রোগেরই রিস্ক বাড়ে, সেজন্য মেয়েদের শরীর ধ্বংসকারী পিলের চেয়ে সম্পূর্ণ নিরাপদ কনডম ব্যবহার উৎসাহিত করা জরুরি )।

আরেকটা মোটাদাগের ফ্যাক্টর হচ্ছে, এথনিসিটি/জাতিসত্ত্বা - যেমন আফ্রিকানদের (কালো) ব্রেস্ট ক্যান্সার কম হয়, ককেশিয়ান (সাদা) দের বেশি হতে পারে - বিবর্তন গত কারণ ছাড়াও পরিবেশগত কারণ রয়েছে। এলকোহলের ব্যবহার আরেকটা কারণ। এদিকে আফ্রিকানদের কম হলেও, তাদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সার খুব দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং মৃত্যুহার বেশি হয়। এশিয়ানদের এবং সাউথ এশিয়ানদের তুলনামূলক কম হয়।

আগেই বলেছি, উন্নত বিশ্বে এটা বয়স্কদের রোগ, আমাদের জন্য ১৫ এর পর থেকে সবার জন্যই এই রোগ। সন্তান জন্মদানের পর হরমোন এবং শারীরিক কারণে ব্রেস্টে অনেক পরিবর্তন হয়। তখন অনেক সময় ক্যানসার দেখা যায়, এসময় ধরা পড়া মুশকিল কারণ এই সময়টাতে নানা রকম পরিবর্তনকে মানুষ স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়। ব্রেস্টের গঠনও পরিবর্তিত হয়। অল্প বয়সে ক্যানসার হলে মৃত্যুহার অনেক অনেক বেশি হয়, কারণ এসময় মেটাবোলিজম অনেক ভাল অবস্থায় থাকে এবং ক্যান্সার অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, কন্ট্রোল করা দুরূহ হয়ে থাকে, এবং কয়েক মাসেই মানুষ মারা যায়। বয়স্ক অবস্থায় এই বৃদ্ধি সাধারণত আস্তে হয়, তাই কিছুটা সময় থাকে চিকিৎসা করার।

ধারনা করা হয়, শক্ত স্তনে (ফাইব্রোগ্যান্ডুলার টিসু বেশি, ফ্যাটি কম) স্তন ক্যন্সার বেশি হয়। এ ধরনের ব্রেস্টে ক্যান্সার ধরাটা একটু কঠিন কারণ ম্যামোগ্রামে এইসব টিস্যু ক্যান্সারকে ঢেকে/ছায়ায় রেখে দিতে পারে।

কারো যদি আগে একবার স্তন ক্যান্সার বা অন্য ধরনের ক্যান্সার হয়ে থাকে, তাহলেও রিস্ক অনেক বেড়ে যায়। কারো স্তনে বিনাইন টিউমার থাকলেও তার ক্যান্সারের রিস্ক বেড়ে যায়।

স্তন ক্যান্সারের রকমফের ও স্টেজিং
-----------------------------------------------
দেশের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত কারো আত্মীয়-বন্ধু যখন বলে অমুকের ক্যান্সার ধরা পড়েছে, স্টেজ-III বা স্টেজ-IV, কিন্তু এই স্টেজিং কীভাবে করা হয়?

প্রথমে জেনে নিই বিনাইন ও ম্যালিগন্যান্ট টিউমার (ক্যান্সার সম্পর্কে)। যখন শরীরের কোথাও কিছু কোষ অস্বাভাবিক ভাবে বাড়তে থাকে এবং পিণ্ডের মত হওয়ে যায় তখন তাকে সাধারণ ভাষায় টিউমার বলা হয়। এই টিউমার তিন ধরনের হতে পারে, বিনাইন (ক্ষতিকর না, যেমন আমাদের অনেক গায়ে লাল রঙের রক্তের পিণ্ড দেখা যায়, এরা সাধারণত বিনাইন), ম্যালিগন্যান্ট (এই জাতের টিউমারকে বলা
হয় ক্যান্সার), এবং সম্ভবত ভবিষ্যতে ম্যালিগন্যান্ট হতে পারে (এখনও ক্যানসার না, কিন্তু ক্যান্সারে রূপ নেবার সম্ভাবনা আছে)।

খুব সাধারণভাবে বলতে গেলে, বিনাইন টিউমার পিণ্ডের মত হয়, আলাদাভাবে ডিফারেনশিয়েট করা যায় (গ্রেডিং এ বলা হয় - স্বল্প- মধ্যম গ্রেড টিউমার), এক বা একাধিক জায়গায় আবদ্ধ থাকে, সিস্ট বা থলির মধ্যে থাকতে পারে। ম্যালিগন্যান্ট ক্যান্সার পিণ্ড না হয়ে নরম হতে পারে, কোন পরিষ্কার সীমানা নির্ধারণ করা যায় না, আকার-আকৃতি অনিয়মিত (মধ্যম থেকে উচ্চ গ্রেডের টিউমার) , এক জায়গায় আবদ্ধ না থেকে আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং সুস্থ কোষকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে ফেলে, এবং চিকিৎসা না করালে বা চিকিৎসায় কাজ না হলে মৃত্যু ডেকে আনে। মূল উৎপত্তিস্থল থেকে আস্তে আস্তে এরা মেটাস্টাসাইজ হয়ে দূর দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং তখন আর রোগীকে বাঁচানোর উপায় থাকে না। সম্ভবত ম্যালিগন্যান্ট যেকোন রকমের হতে পারে (কয়েক ধরণের টিউমারকে এই ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়) - মূল ব্যাপার হচ্ছে এরা হয়তো বিনাইন-পিন্ডবদ্ধ, আপাতত কোথাও ছড়াচ্ছে না কিন্তু ভবিষ্যতে ছড়াতে পারে।

কিন্তু সবসময় যে ক্যান্সার এই শ্রেণীবিভাগ মেনে চলবে এমন কথা নেই। বিনাইন কখন কখনো ম্যালিগন্যান্টে রূপ নিতে পারে বা ম্যালিগনেন্সিকে ঢেকে রাখতে পারে। ম্যালিগনেন্ট পিন্ডবদ্ধ হতে পারে সাথে আরও নমনীয় ক্যান্সার কোষ থাকতে পারে, বা খুব ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত হয়ে থাকতে পারে। সাধারণত ডাক্তাররা নিশ্চিত বিনাইন হলে ঝামেলা না করে অবজারভেশনে রেখে দেন, সার্জারি করেন না। বিনাইন ক্ষতিকর না হলেও অনেক সময় আকারে বাড়তে বাড়তে বড় ধমনী বা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বা টিস্যুতে চাপ তৈরি করতে পারে বা বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে। আবার অনেক বিনাইন টিউমার তৈরি হলে বায়োপসি (ছিদ্র করে কিছু কোষ সুঁই এর মাধ্যমে নিয়ে এসে পরীক্ষা করা) করতে করতে থলের ভেতরের কোষগুলো শরীরের ভেতরে আশেপাশে লেগে গিয়ে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

স্টেজিং করা হয় অনেকগুলো ফ্যাক্টর বিবেচনা করে, প্রাইমারি লোকেশন, বিনাইন না ম্যালিগন্যান্ট, লসিকা গ্রন্থি (লিম্ফ নোড, আমাদের শরীরের ইমিউনিটি/রোগ প্রতিরোধকারী ব্যবস্থার অংশ) আক্রান্ত কি না, সাইজ, গ্রেড, মেটাস্টাসাইজ হয়েছে কি না ইত্যাদি। আর ক্যান্সার ধরা পড়ার পর চিকিৎসা করলে ভাল হবে কি না বা কতদিন বাঁচবে এটা নির্ভর করে চিকিৎসার কার্যকারিতা, সাইজ, গ্রেড, বয়স, বৃদ্ধির হার, এবং ব্যক্তির উপর। আপাতত ৫ বছরের "রিলেটিভ সারভাইভাল রেট" বিবেচনায় মোটা দাগে উন্নত বিশ্বে বিষয়টা এরকম - (মানে এরকম ১০০ জনের মধ্যে কতজন ৫ বছর বাঁচবেন (গড়ে), এটা ১০ বছর বা ১৫ বছর হিসাবে নেয়া যায়, তখন ক্যান্সার আবারো ফিরে আসার সুযোগ থাকে এবং রেটটা তখন কমে যায়)ঃ

স্টেজ ০ঃ ক্যান্সার না, বা ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার কোন লক্ষণ ধরা পড়েনি। ৫ বছর বাঁচার হার ১০০%

স্টেজ ১ঃ ১-A - ২ সেমির চেয়ে ছোট টিউমার, ছড়িয়ে পড়ছে না। ১-B খুব ছোট টিউমার থাকতে পারে নাও পারে, কিন্তু খুব ছোট ছোট একাধিক ক্যান্সার কোষ পাওয়া গেছে। লসিকা গ্রন্থিতে থাকতে পারে নাও পারে। ৫ বছর বাঁচার হার ১০০%

স্টেজ ২ঃ A এবং B ভাগ আছে। মোটা দাগে, টিউমার ৫ সেমি পর্যন্ত হতে পারে, ছোট ছোট একাধিক ক্যান্সার কোষ আছে (২মিমির নিচে), এবং/অথবা ৩টির মত লসিকা গ্রন্থিতে ছড়িয়ে পড়ছে। ৫ বছর বাঁচার হার ৯৩%

স্টেজ ৩ঃ A , B এবং C ভাগ আছে। ভয়াবহতার শুরু। কোন রকম লক্ষণ থাকতেও পারে নাও পারে। লাল হয়ে বা ফুলে উঠতে পারে স্তন, স্তনে গরম অনুভূত হতে পারে, বগলের নিচে ব্যথা হতে পারে, চামড়ায় চিহ্ন দেখা যেতে পারে। ক্যান্সার বড় হয়েছে, ১০ টির বেশি গ্রন্থিতে ছড়িয়ে পড়েছে, ৫ সেমির বড় টিউমার বা যেকোন আকার-আকৃতির ক্যান্সার থাকতে পারে, বুকের পেশী ও দেয়ালে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ৫ বছর বাঁচার হার ৭২%

স্টেজ ৪: ক্যান্সার লসিকা গ্রন্থি ও রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে- মেটাস্টাসিস চামড়া, হাড়, মস্তিষ্ক, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, বা রক্তে ছড়িয়ে পড়েছে। ৫ বছর বাঁচার হার ২২% (খুব ভাল চিকিৎসা হলে এবং চিকিৎসায় ফল পাওয়া গেলে)

আশার কথা এই যে দিন দিন স্তন ক্যান্সার যত দ্রুত সম্ভব ধরার জন্য প্রচুর গবেষণা হচ্ছে এবং বর্তমানে খুব দ্রুতই ধরা পড়ছে, একই সাথে চিকিৎসা ব্যবস্থাও দিন দিন উন্নত হচ্ছে। যেকারণে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকলেও মৃত্যুহার আস্তে আস্তে কমে আসছে।

নির্ণয়ের উপায়
--------------------------------

স্তন ক্যান্সারকে একরকমের নীরব ঘাতকই বলা যায়। যতক্ষণে টের পাওয়া যায় ততক্ষণে অনেক ক্ষেত্রেই দেরি হয়ে গিয়েছে। স্তন ক্যান্সার ধরার পড়ে সাধারণত তিন ভাবেঃ

- এক, উন্নত বিশ্বে ৪৫ বা ৪৯ বছর বয়স থেকে প্রতি ১-২ বছর পর পর নিয়মিতভাবে ম্যামোগ্রাম করা হয়। একে বলা হয় স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম। সাধারণত ৬৯ বছর বয়স পর্যন্ত এটা করা হয়ে থাকে। এরপর সাধারণত ক্যান্সারের বৃদ্ধি খুব আস্তে হয় আর চিকিৎসাও কিছুটা ভিন্ন রকমের হয়। যাদের রিস্ক অনেক বেশি তাদেরকে ৪০ এর পর থেকেই অনেক সময় নিয়মিত ম্যামোগ্রাফি করতে বলা হয়। স্ত্রিনিং প্রোগ্রামের ম্যামোগ্রামগুলো অন্তত দুইজন রেডিওলজিস্ট স্বাধীনভাবে চেক করেন, একই সাথে কিছু কম্পিউটার সফটওয়ারও ব্যবহৃত হয় অটোমেটিক ভাবে সন্দেহজনক জায়গাগুলোতে রেডিওলজিস্টকে এবার চেক করতে বলার জন্য।

- দুই, কেউ কোন কারণে অসুস্থ বোধ করলে, তার অন্য কিছু স্ক্রিনিং করতে গিয়ে (এম,আর,আই; সিটি স্ক্যান; এক্সরে; আল্ট্রাসাউন্ড) বা ডাক্তারের কাছে ক্লিনিক্যাল এক্সামের জন্য গেলে তখন ধরা পড়ে।

- তিন, সেলফ এক্সামের সময়। দুর্ভাগ্যবশতঃ স্ক্রিনিং এর বাইরে ধরা পড়া টিউমারের প্রায় ৮০ ভাগই ধরা পড়ে এভাবে। সেলফ এক্সাম ও ক্লিনিক্যাল এক্সামের কার্যকারিতা নিয়ে বলছি এবার।

সেলফ এক্সাম বা ডাক্তারের ক্লিনিকাল এক্সাম কতটা কার্যকরী?
............................................................................................
বেশিরভাগ টিউমার ধরা পড়ে ডাক্তারের ক্লিনিক্যাল এক্সাম বা রোগীর সেলফ এক্সামের মাধ্যমে। কিন্তু সারা বিশ্বজুড়ে এদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রচুর স্টাডি করা হয়েছে, এবং কোথাও মৃত্যুহার কমানোতে এদের কোন এফেক্ট পাওয়া যায়নি। এর কারণ এভাবে ধরা পড়া টিউমারের বেশিরভাগই বিনাইন, পিণ্ড বদ্ধ এবং লো গ্রেডের। ক্যান্সার অনেক সময়ই শক্ত হয় না এবং টিপে বোঝা যায় না। যদি ক্যান্সার/ম্যালিগনেন্ট টিউমার চাকার মত মনে হয় তখন খুব সম্ভব যথেষ্ট বড় হয়ে গিয়েছে। তাই এগুলো কোন নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা না।

তার মানে কি আশা নেই কোন? মোটেও না। তখনও ট্রিটমেন্ট শুরু করা হলে এবং লসিকাগ্রন্থি আক্রান্ত না হয়ে থাকলে বা দূরে ছড়িয়ে না থাকলে সুস্থ হবার সম্ভাবনা অনেক অনেক বেশি। আর বিনাইন ধরা পড়লে তো সবাই ভবিষ্যতের জন্য আরও সাবধান হয়ে যাবে। সেটাও বড় লাভ।

অন্যদিকে, আমাদের মত দেশে স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম যেমন নেই, তেমনি সেলফ এক্সাম ছাড়া তাই তেমন কোন অল্টারনেটিভও নেই। একারণে সেলফ এক্সামকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, আইডিয়াটা এরকম, কামান না থাকলেও ঢাল-তলোয়ার যা আছে তাই নিয়ে যুদ্ধ করতে হবে, বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী!

স্তন ক্যান্সার ধরার ব্যবস্থাগুলো কী কী?
............................................................
এক্ষণ পর্যন্ত স্তন ক্যান্সার ধরার সবচেয়ে কার্যকরী এবং সহজলভ্য ব্যবস্থা হচ্ছে ম্যামোগ্রাম। ম্যামোগ্রাম মানে হচ্ছে বিশেষ কায়দায় তোলা স্তনের এক্সরে। প্রতিটা স্তনের জন্য দুইভাবে দুইটা এঙ্গেল থেকে এক্সরে করা হয় যেন কোন কিছু মিস না যায়। যদি অনেক ঘন বা শক্ত স্তন হয় তখন এর সাথে আল্ট্রাসাউন্ডও করা যেতে পারে। আল্ট্রাসাউন্ড সাধারণ ফ্লুইডপূর্ণ টিউমার/থলে/পিন্ড বা সিস্ট এবং বিনাইন নাকি ম্যালিগনেন্ট চিনতে সাহায্য করে। অনেক সময় (বিশেষত অল্প বয়সীদের) এম,আর,আই করানো হয়। এম,আর,আই অনেক কার্যকরী ইমেজিং ব্যবস্থা হলেও স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ম্যামোগ্রামকে বাদ দিয়ে নয় বরং ম্যামোগ্রামের পাশাপাশি করাতে রেকমেন্ড করা হয়। এছাড়া আছে সি,টি স্ক্যান।

ম্যামোগ্রাম মানে এক্সরে। এক্সরে মানে রেডিয়েশন। একারণে নিয়মিত ম্যামোগ্রাম করাতে হলে রেডিয়েশন রিস্কও বিবেচনায় নেয়া হয়। এজন্য ৪৫ এর আগে নিয়মিত করানো হয় না। আর সিটি স্ক্যান একান্ত উপায় না থাকলে যতটা সম্ভব এভয়েড করাই ভালো (বিশেষত অল্প বয়সে)। সুখের বিষয়, দিন দিন ম্যামোগ্রাফিক এক্সরের রেডিয়েশন কমে এসেছে, এক্ষণ প্রায় একটা ম্যামোগ্রামের যে রেডিয়েশন, এক-দুই ঘণ্টা প্লেনে চড়লেও কাছাকাছি রেডিয়েশন। আর শুধুমাত্র স্তন ক্যান্সারের জন্য সি,টি স্ক্যানের বিকল্প হিসাবে অনেক অনেক কম রেডিয়েশনের "ব্রেস্ট টোমোসিন্থেসিস" করা শুরু হয়েছে। এছাড়াও মাইক্রোওয়েভ ইমেজিং, হিট ইমেজিং, ইলাস্টিসিটি ইমেজিং, ইম্পিডেন্স ইমেজিং ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা চলছে।

ম্যামোগ্রামের একটা সমস্যা হচ্ছে ৪০ এর আগে ম্যামোগ্রাম এর কার্যকারিতা কিছুটা কম। এছাড়া এসময় ফ্যাটি টিস্যু কম থাকে ও ঘনত্ব বেশি থাকে। এজন্য ৪০ এর আগে ম্যামোগ্রাম ছাড়াও অন্যান্য উপায় ব্যবহার করতে হয়।

ম্যামোগ্রামে রেডিওলজিস্টরা সাধারণত ক্যান্সারের যেসব চিহ্ন খুঁজেন তা হচ্ছে
- মাইক্রো ক্যালসিফিকেশন (অনেক গুলো খুব ছোট ছোট ক্যালসিয়াম এর চিহ্ন), বয়স বাড়লে সাধারণত স্তনে স্বাভাবিকভাবেই ক্যালসিয়াম জমা হয় (এদের বলে ক্যালসিফিকেশন, নরমাল); কিন্তু মাইক্রো ক্যালসিফিকেশনের ক্লাস্টার/বসতি একটা রেড ফ্ল্যাগ।
- মাস/ভরপিন্ড বা লাম্প বা চাকা বা পিণ্ড (এর এপিয়ারেন্স, বিস্তৃতি ইত্যাদি বিবেচনা করে ডাক্তাররা অনুমান করার চেষ্টা করেন সেটা বিনাইন নাকি ম্যালিগনেন্ট)
- দুই স্তনের অসাম্যতা (বাইল্যাটেরাল এসিমিট্রি) ঃ কারোই দুই স্তন পুরোপুরি এক রকম না। কিন্তু তার পরও পাশাপাশি দুই স্তনের মধ্যে তুলনা করে গঠন, প্রকৃতি, ঘনত্ব, বিন্যাসে পার্থক্য পাওয়া গেলে ডাক্তাররা তখন সন্দেহ করেন।
- গঠন বিন্যাসের বিকৃতি (স্তন ক্যান্সারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং খুবই প্রাথমিক চিহ্ন যা ক্যান্সার শুরু হবার বেশ আগেও দেখা দিতে পারে এবং যা প্রায় ৪৫% ক্ষেত্রেই রেডিওলজিস্টরা ধরতে ব্যর্থ হন। (প্রাসঙ্গিকভাবে বলি, আমার গবেষণা ছিল ক্যান্সার ধরা পড়ার আগের ম্যামোগ্রামগুলোতে কম্পিউটারের মাধ্যমে এই চিহ্ন সনাক্ত করা এবং আমরা দেখিয়েছিলাম, ক্যান্সার ধরা পড়ার গড়ে প্রায় ১৫ মাস আগে কম্পিউটারের মাধ্যমে এই চিহ্ন ধরা সম্ভব যা রেডিওলজিস্টরা ধরতে ব্যর্থ হয়েছিলেন!)

আর সব রকমের ইমেজিং বা স্ক্রিনিং করার পর নিশ্চিত হবার জন্য করা হয় বায়োপসি। সুঁইয়ের মাধ্যমে ছিদ্র করে কিছু স্যাম্পল আনা হয় এবং ল্যাবরেটরিতে টেস্ট করে বোঝা যায় সেটা ক্যান্সার কি না বা কোন ধরনের ক্যান্সার।

সেলফ এক্সাম কীভাবে করবেন?
-----------------------------------------

এ বিষয়ে ইন্টারনেটে এবং ডাক্তারদের কাচে বিভিন্ন রকম লিফলেট পাবেন- কীভাবে সেলফ এক্সাম করতে হবে। মাসে অন্তত একদিন, শুয়ে একবার, আয়নার সামনে আবার, স্নান করার সময় ভেজা শরীরে একবার করে করতে হবে - মনোযোগ দিয়ে সামান্যতম পরিবর্তনও বোঝার চেষ্টা করতে হবে, এবং বিশেষত বুকের দেয়ালের কাছে ও বগলের কাছাকাছি কিছু আছে কি না সেটা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। সব বয়সের মেয়েদের জন্যই এই পরীক্ষা প্রযোজ্য।

যে বিষয়গুলো খেয়াল করতে হবে সেগুলো মনে করিয়ে দিচ্ছি-

- স্তন শেষ বারের মত একই আকার, আকৃতি, রঙ, গড়ন আছে কি না?
- কোন রকম ফুলা, লাল, র‍্যাশ, গরম অনুভূতি, বিকৃতি, ভিন্ন আকৃতি দেখা যায় কি না?
- দুই স্তন তুলনামূলক একই রকম কি না?
- কোন রকম টোল, চামড়া কুঁচকানো বা কোন অংশে চামড়ার কোন পরিবর্তন দেখা যায় কি না?
- নিপলের অবস্থান, আকার, আকৃতি পরিবর্তিত মনে হচ্ছে কি না? নিপল ভিতরে ঢুকে গেছে কি না?
- চাপ দিলে বা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাত উঁচু করলে কোন রকম ফ্লুইড, জল, বা রক্ত বের হয় কি না?
- শুয়ে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বা ভেজা শরীরে স্নান করার সময় নানা রকম ভাবে উপর-নিচে, বৃত্তাকারে, ডানে-বামে ইত্যাদি ডিরেকশনে সম্পূর্ণ স্তন পরীক্ষা করে নতুন কিছু পাওয়া যায় কি না বা অনুভব করা যায় কি না?

চিকিৎসা
---------------------------------
(লেখাটি অনেক বড় হয়ে গিয়েছে, তাই ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়ে খুব বেশি কিছু বলবো না। আগামীতে সেটা নিয়ে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা আছে, যদিও আমি ডাক্তার নই বলে এই বিষয়ে ডাক্তাররা অনেক ভাল বলতে পারবেন বলে বিশ্বাস করি।)

স্তন ক্যান্সারের প্রায় ২০-২৫ রকমের গ্রুপ-সাবগ্রুপ আছে। স্টেজিং, বয়স, রোগীর অবস্থা, কোন ধরনের চিকিৎসা কার্যকরী হতে পারে, মেটাস্টাসিস, এবং কোন গ্রুপের ক্যান্সার বা টিউমার তার উপর ভিত্তি করে রোগীর চিকিৎসা করা হয়। যদি বাঁচার আশা না থাকে তাহলে অনেক সময় বাঁচার সময় বাড়ানোর জন্য চিকিৎসা করা হয় অথবা একেবারেই কিছু করা হয় না। চিকিৎসা সাধারণত তিন রকম ভাবে করা হয়ে থাকে -

- সিস্টেমিক থেরাপিঃ কেমো থেরাপি, হরমোন থেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি
- রেডিয়েশন থেরাপি
- সার্জারি

কেম থেরাপি মানে হচ্ছে ঔষধের মাধ্যমে ক্যানসার কোষগুলোকে ধ্বংস করার চেষ্টা। এতে সুস্থ কোষও মারা যায় এবং ভয়াবহ সাইড এফেক্টের কারণে কেমোথেরাপি রুগীদের জন্য অনেক কষ্টকর হয়। টিউমার যদি এস্ট্রজেন/প্রজেস্টোরন হরমোন পজিটিভ হয় তাহলে হরমোন থেরাপি ব্যবহার করা হয়। ক্যানসার কোষ অনেক সময় হরমোনের সাপ্লাই এর উপর ভিত্তি করে বাড়তে থাকে, সেটাকে হরমোন থেরাপির মাধ্যমে ব্লক করে টিউমারের বৃদ্ধি ঠেকানো হয়। টার্গেটেড থেরাপিতে শুধু ক্যান্সারের জীন, টিস্যু বা প্রোটিনকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়।

অন্য অনেক ক্যান্সারের মত ব্রেস্ট ক্যান্সারও ফিরে আসতে পারে একাধিক বার। সেজন্য উপরের থেরাপি গুলোর কয়েকটা মিলিয়েও চিকিৎসা করা হয়। সার্জারি করা সম্ভব হলে খুবই ভাল, কিন্তু অনেক সময় টিউমারের অবস্থান ও আকৃতি-প্রকৃতির কারণে সার্জারি করা সম্ভব হয় না। তখন রেডিয়েশন বা সিস্টেমিক থেরাপির মাধ্যমে টিউমারকে ছোট করে আনা হয় এবং সার্জারি করা হয়। অনেক সময় সার্জারির পরও কেমো/রেডিয়েশন দেয়া হয় যেন ক্যানসার আর ফিরে আসতে না পারে। সার্জারি করে ক্যানসার /স্তনের কিছু অংশ সরানোর পর রুগী চাইলে এবং সামর্থ্য থাকলে অনেক সময় রিকন্সট্রাক্টিভ বা প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়।

প্রতিরোধ
-----------------------------------

স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করা এখনও সম্ভব হয়নি। যাদের রিস্ক ফ্যাক্টর অত্যধিক বেশি তারা ডাক্তারের সাথে আলোচনা করে প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিতে পারেন কিছু। (এর একটা উদাহরণ নায়িকা এঞ্জেলিনা জোলির ব্রেস্ট রিমুভ করানো, এটা সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা দেয় না, তবে রিস্ক ফ্যাক্টর কিছুটা কমাতে পারে। ) হরমোন থেরাপি, সার্জারি সহ কিছু ব্যবস্থা নেয়া যায় রিস্ক ফ্যাক্টর অনেক বেশি হলে।

কিন্তু উপরে যেসব রিস্ক ফ্যাক্টরের কথা বলেছি, সেগুলো যতটা সম্ভব কমানো গেলে তন ক্যান্সারকে কিছুটা হলেও প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মনে করা হয়; যেমন-
- স্থূলতা/মেদ দূর করা
- নিয়মিত পরিশ্রম করা, সপ্তাহে নিদেনপক্ষে এক-দুই ঘণ্টা নিয়মিত দৌড়-ঝাঁপ-সাঁতার করা
- মদ-সিগারেট না খাওয়া
- স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করা, পরিমিত খাবার খাওয়া ও ঘুমানো, একটু বয়স হলে লাল মাংস কম খাওয়া
- সেক্সুয়ালি একটিভ থাকা, নিয়মিত সুস্থ যৌন মিলন নারী-পুরুষ দুজনকেই অনেক অসুখ থেকে সুরক্ষা দেয়
- বাচ্চা হবার পর সম্ভব হলে ব্রেস্ট ফিডিং করানো
- ভিটামিন ডি পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করা, আমাদের দেশে অন্তঃপুরবাসিনী মেয়েদের বেশিরভাগই ভয়াবহ ভিটামিন ডি এর স্বল্পতায় ভুগেন। ভিটামিন ডি আমাদের ইমিউনিটি ব্যবস্থাকে শক্ত করে (অনেকেই একে ভিটামিন না বলে হরমোন বলে থাকেন এর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে) এবং শরীরের সুস্থতা ও হাজারো রোগ থেকে প্রতিরক্ষার জন্য জরুরি।
- রেডিয়েশন থেকে দূরে থাকা, অল্প বয়সে সিটি স্ক্যান একদমই না করানো (সম্ভব্য হলে), এবং যথাসম্ভব এক্সরে কম করানো,
- প্রতি বছর ক্লিনিকাল এক্সাম, সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্যাপ-স্মিয়ার টেস্ট করানো,
- প্রতি মাসে অন্তত একবার খুব সাবধানে সময় নিয়ে স্তনের সেলফ এক্সাম করা এবং সামান্যতম পরিবর্তন মনে হলেও এক মুহূর্ত দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যাওয়া,
- ৪৫ এর পর প্রতি দুই বছরে অন্তত একবার ম্যামোগ্রাম করানো (যদি সামর্থ্য থাকে), ইত্যাদি

স্তন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে মূল ব্যাপার হচ্ছে, যত দ্রুত সম্ভব ধরা পড়া, সেজন্য সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিয়মিত পরীক্ষা করানোটা জরুরি। যত তাড়াতাড়ি ধরা যাবে বাঁচার সম্ভাবনা তত বাড়বে। এজন্য সচেতনতার বিকল্প নেই। সেই সচেতনতা নারীপুরুষ-সমাজ-সরকার সবার জন্য জরুরি।

একই সাথে বাংলাদেশে নিয়মিত মেয়েদের বাৎসরিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ৪০ এর পর থেকে প্রতি দুই বছরে একবার অন্তত ম্যামোগ্রাম করানো, প্রতি বছর প্যাপ-স্মিয়ার টেস্ট করানো সরকারিভাবে (সম্ভব হলে) চালু করা জরুরি। যৌন উত্তেজনাপূর্ণ এবং নারীর শরীরকে অব্জেক্টিফাই করে বিজ্ঞাপন বানিয়ে যদি স্তন ক্যান্সারের ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করে বা দায়িত্ব শেষ মনে করে তাহলে তাদের জন্য ধিক্কার ছাড়া আর কিছু বলার নেই। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়ে যাচ্ছে, এটার সুফল স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রতিফলিত হওয়াটা জরুরি। সরকারের কাছে সেই আবেদন রইলো।

================================================

[ক্যান্সার নিয়ে এবং ম্যামোগ্রামে স্তন ক্যান্সারের আশু নির্ণয় নিয়ে ৭/৮ বছর গবেষণা করার অভিজ্ঞতা/শিক্ষা থেকে কিছুটা লেখার চেষ্টা করেছি। জ্ঞানের কচকচানি বাদ দিয়ে যতোটা সম্ভব সাদা ভাষায় লিখতে চেয়েছি, আমার জানায় কোন ফাঁক থাকতে পারে বা গত কয়েক বছরের মধ্যে বিজ্ঞানের আবিষ্কার অনেক দূর এগিয়ে গিয়ে থাকতে পারে। আর স্মৃতিশক্তির দুর্বলতাতো আছেই। ভুল কিছু থাকলে ক্ষমা প্রার্থী। আমার চেয়ে ডাক্তার বা যারা এ বিষয়ে পড়াশুনা/কাজ করেছেন তারা হয়তো ক্লিনিক্যাল বিষয়গুলো আরও ভালভাবে বলতে পারবেন। ভাল বাংলা প্রতিশব্দ জানা না থাকায় বা সহজে বোঝানোর জন্য কিছু ইংরেজি শব্দ অবধারিত ভাবেই চলে এসেছে, সেজন্যও ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। ]

লেখকঃ শান্তনু বণিক, পি,এইচ,ডি
(প্রাক্তন) স্তন ক্যান্সার গবেষক, ক্যালগেরি।

উৎসর্গঃ সকল স্তন ক্যান্সারের ভুক্তভুগী রোগী এবং তাদের পরিবার-পরিজনদের।


মন্তব্য

শেহাব এর ছবি

আচ্ছা এটা তো ছেলেদেরও হয়, তাই না?

স্বপ্নহারা এর ছবি

হ্যাঁ, তবে খুবই রেয়ার। প্রতি ১০০ টা কেসের মধ্যে একটারও কম। একজন মহিলার লাইফটাইম রিস্ক ৮ এ ১, সেখানে পুরুষের প্রায় ১০০০ এ ১ বা তারও কম। পুরুষের জন্য এর কাউন্টারপার্ট প্রস্টেট ক্যান্সার।

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

অতিথি লেখক এর ছবি

উপকৃত হলাম। ধন্যবাদ। ঐ সুড়সুড়ি দেওয়া বিজ্ঞাপন দেখে , আইডিয়াটা যার উর্বর মস্তিষ্কের ফল , তারে আর মডেলকে গালি দিতে গিয়ে জানা গালি গুলো কম পড়ে গিয়ে ছিল।
এ্যানি মাসুদ

স্বপ্নহারা এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ। লেখাটি কারো কাজে আসলে ভাল হবে।

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

আয়নামতি এর ছবি

উত্তম জাঝা!
অত্যন্ত দরকারী আর সময়োপযোগী একটা লেখার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
শুধু হজুগে মেতে 'ব্রা' পরিত্যাগ না করে বরং সচেতন হই। মা-বোনেদের মধ্যে ট্যাবুটুবু ভেঙে সচেতনতা বাড়ুক।
দীর্ঘ একটা লেখা, কিন্তু সহজ সরলভাবে লেখবার জন্য এতটুকু ক্লান্তি বা বিরক্তি আসেনি।
এর জন্য বাড়তি ধন্যবাদ আপনার পাওনা। সেখানাও দিয়ে গেলেম। ভালো থাকবেন। শুভেচ্ছা।:)

স্বপ্নহারা এর ছবি

সময়ের অভাবে গুছিয়ে লিখতে পারিনি। পড়ার জন্য ধন্যবাদ। সবার মাঝে সচেতনতা ছড়িয়ে দেয়া জরুরি। এক জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশের ৪১ ভাগ মহিলার ব্রেস্ট ক্যান্সার সম্পর্কে কোনই আইডিয়া নেই!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

অতিথি লেখক এর ছবি

গুড জব! অসংখ্য ধন্যবাদ।

লেখাটার সাথে কিছু ড্রয়িং-এর অভাববোধ করেছি, কারণ অনেকের পক্ষে বর্ণনা পড়ে সঠিক জিনিস/অবস্থানটা বোঝা সম্ভব হয় না। একটা অনুরোধ করবো। এই ব্যাপারে আরেকটু সহজ ভাষায় (মানে টেকনিক্যাল ব্যাপার-স্যাপারগুলো একটু কমিয়ে) একটা লিফলেটের মতো জিনিস বানানো যায় কিনা ভাবুন। তাহলে সচলের পাঠকেরা সেটার প্রিন্ট-আউট নিয়ে তাদের চারপাশের নারীদের কাছে বিলাতে পারবেন।

কুসংস্কার, জড়তা, ভুল ধারণার অপনোদন এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এই রোগের বিস্তৃতি রোধ করা সম্ভব না। একইভাবে আরেক কালব্যাধি জরায়ুর ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও এগিয়ে আসতে হবে।

চিকিৎসাসংক্রান্ত পোস্টটির অপেক্ষায় থাকলাম।

স্বপ্নহারা এর ছবি

হ্যাঁ, ড্রয়িং, ছবি আমিও দিতে চেয়েছি। সময়াভাবে দেয়া হয়নি। এই লেখার একটা সহজ সারমর্ম যে কেউই লিখতে পারবে।
অনেক ধন্যবাদ

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

নীলকমলিনী এর ছবি

শান্তনু খুবই সময়োপযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ লেখা। ১৯৯৭ সালে আমার মায়ের ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়ে। উনি আমার কাছে বেড়াতে আসলে উনাকে ম্যামগ্রাম করাই। ১৫ দিনু পর ডাক্তার জানায় ২.৫ সেন্টিমিটার টিউমারের সাইজ। স্টেজ ওয়ান। লাম্পেক্টোমি করে। কোথাও ছড়ায়নি,কিমো রেডিয়েশন দিয়ে ভাল হোন। এরপর পাঁচ বছর টোমাক্সফিন খান। এর এগারো ছর পর জড়ায়ু তে হয়। এবারো সিমটম দেখার সাথে সাথেই চিকিৎসা করানো হয়। আবারো কিমো রেডিয়েশন। স্টেজ ছিল ওয়ান বি। খুব এগ্রেসিভ ছিল কিন্তু এবারো ছড়ায়নি। এবার আমরা বায়প্সির রিজাল্ট পাবার সাথে সাথে সার্জারি করাই। আমি প্রথমে ফ্যামিলি লিভ নেই পরে কাজ ছেড়ে দেই উনাকে দেখাশুনো করার জন্য। ডাক্তারের কথা শুনে মনে হয়েছিল হয়তো এবার যুদ্ধে হেরে যাবেন। আট মাস উনার চিকিৎসা চলে। উনি এখন ক্যান্সার ফ্রি। আমার এই কথা গুলো বলার কারন ক্যান্সার ধরা পড়ার সাথে সাথে চিকিৎসা শুরু করা জরুরী। প্রতিটি দিন ই খুব গুরুত্বপূর্ণ।
২০১১ তে আমার খুব প্রিয় এবং কাছের বন্ধু সাড়ে চার বছর যুদ্ধ করে মারা যায়। ওর হয়েছিল ব্রেস্ট ক্যান্সার। স্টেজ ছিল চার। দারুন স্মার্ট আমার বন্ধুটি ম্যামগ্রাম করাইনি বছর দুয়েক। খুব সম্ভব লাম্প অনুভব করেও গুরুত্ব দেয়নি।
অসম্ভব সাহসী বন্ধু ১৩০ টার মত কিমো নিয়েছিল। তবু শেষ রক্ষা হয়নি। আমার এখানকার মেয়ে বন্ধুদের প্রতি
লঅনুরোধ শান্তনুর লেখাটি পড়ে যা যা করনীয় আপনারা করবেন প্লিজ। আমরা এখন সবাই সবাইকে জিজ্ঞেস করি নিয়মিত ম্যামগ্রাম করে কিনা। দেশেও আত্মীয় স্বজনদের বলি করতে।
এখানে বয়স্ক খালাদের আমার মায়ের জড়ায়ু তে ক্যান্সার ধরা পড়ার গল্প করি। কি করে উনি লক্ষন দেখে সাথে সাথে ঢাকায় ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করান। এবং আমাকে জানানোর পর উনাকে আমার কাছে আমেরিকায় নিয়ে আসার সাথে সাথেই চিকিৎসা শুরু করাই। সবার পক্ষেতো আসা সম্ভব নয়। তবে সবার মধ্যে সচেনতা আনা সম্ভব।
মেনোপজ হবার পর যদি ব্লিডিং হয় তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তার দেখানো দরকার। স্বাভাবিক নয় এমন কোন উপসর্গ দেখা দিলেই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিৎ।
অনেক অনেক ধন্যবাদ লেখাটির জন্য। এমন লেখার জন্য স্যালুট ভাইটি।

স্বপ্নহারা এর ছবি

আশেপাশে এখন প্রচুর ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী দেখছি আমরা। গত মাসে আমার প্রিয় বন্ধুর মা মারা গেলেন। উনি লাম্প ফিল করেছিলেন, কিন্তু বলতে ভুলে গেছিলেন বা পাত্তা দেন নি। আমেরিকা আসার পর ধরা পড়ে এবং এই তিন মাসে উনি অজান্তেই মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে গেছিলেন।
বছর দুয়েক আগে এক ছোটভাই এর বউ, খুবই অল্প বয়স, লাম্প ধরা পড়লো। লাকিলি বিনাইন ছিল।

এই কেমোর কষ্টগুলো মানুষকে দেখানো উচিত সচেতনতার জন্য।

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

দময়ন্তী এর ছবি

খুব দরকারী লেখা। অত্যন্ত সহজভাবে বোঝানো, ফলে লোককে বোঝাতে খুবই কাজে লাগবে।

আমি অফিসের উইমেনস এমপাওয়ারমেন্ট গ্রুপের সাথে যুক্ত। সেখানে বিভিন্ন মহিলা নানারকম সমস্যা নিয়ে আসেন। কিছুদিন আগে একজন এসেছিলেন, ডিপ্রেশান ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের ফলে অত্যন্ত ওজন বেড়েছে। স্তন ও খুব ভারী হয়ে ঝুলে গেছে। এইবার যখন এসেছেন তখন উনি আবার ব্যালান্সড জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। তো এইজন্য উনি লাইপোসাকশান করে স্তনের পুনর্গঠন করাবেন বলে ভেবে ডক্টর কনসাল্ট করেন। সেখানকার নার্স ও ওঁর পরিচিত কিছু মহিলা ওঁকে ভয় দেখিয়েছে যে স্তনে সার্জারী করলে স্তন ক্যন্সার হবার সম্ভাবনা খুবই বেড়ে যায়।
এটা কতটা সত্যি? এরকম সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়া সত্যিই সম্ভব কী?

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

স্বপ্নহারা এর ছবি

আমি তো ডাক্তার নই, তাই ১০০ ভাগ সঠিক করে বলতে পারবো না। কিন্তু যতদূর জানি, ব্রেস্ট বাড়ানো/কমানোর সার্জারির সাথে ক্যান্সারের রিস্ক বাড়ার কোনই সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি হাসি আমার মতে, উনি নিশ্চিন্তে করতে পারা উচিত যদিনা অন্যান্য রিস্ক ফ্যাক্টর থাকে। তবে উনার স্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইলে ফিরে আসাটা খুব দরকার...

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

সোহেল ইমাম এর ছবি

খুবই দরকারী লেখা। পড়ে রাখলাম যেন আশেপাশের মানুষকে জানাতে পারি। লেখককে ধন্যবাদ।

---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।

স্বপ্নহারা এর ছবি

আপনাকেও ধন্যবাদ। সবার জানা জরুরি

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

হান্নান এর ছবি

স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে অনেক তথ্য জানতে পারলাম। লেখাটার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

স্বপ্নহারা এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

নীড় সন্ধানী এর ছবি

খুব দরকারী একটা বিষয় নিয়ে লিখেছেন। এই জাতীয় ইস্যুগুলো ভুক্তভোগী ছাড়া অন্য কেউ সিরিয়াসলি নেয় না। আমাদের সমাজে খোলামেলা আলাপও করে না এসব সমস্যা নিয়ে। অনেক সময় সঠিক পরামর্শের অভাবে ভুল চিকিৎসার দিকে যায়। বাংলাদেশে এই বিষয়ে সরকারী প্রচারণা বা সতর্কতাও দেখা যায় না। যে ইতরামি বিজ্ঞাপনের কথা উল্লেখ করেছেন সেই বিজ্ঞাপনের মডেল এবং নির্মাতা দুপক্ষেরই শাস্তি হওয়া দরকার। বিজ্ঞাপনটি ব্রেস্ট ক্যান্সারের ইস্যুটাকে চরমভাবে ব্যাঙ্গ করেছে। এই পোস্টে যেসব পয়েন্ট উল্লেখ করেছেন সেগুলোর একটা সারাংশ করে সবার রেখে দেয়া উচিত। এই নীরব ঘাতক থেকে কে নিরাপদে আছে আর কে বিপদে আছে আমরা কেউই জানি না। অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা পরিশ্রমসাধ্য লেখাটির জন্য।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

স্বপ্নহারা এর ছবি

আপনাকেও ধন্যবাদ। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য বিষয়ক ব্যাপারগুলোতে সবাই কেমন যেন গা করে না। যখন ধরা পড়ে হয় ভুল চিকিৎসা নাহয় অনেক দেরি হয়ে যায়। মন খারাপ

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

আনীকা এর ছবি

ভাল হয়েছে লেখাটা।

স্বপ্নহারা এর ছবি

ধন্যবাদ

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

অতিথি লেখক এর ছবি

খুবই দরকারি লেখা, ২ পর্বে দিলে মনে হয় ভালো হতো। আশে পাশে প্রচুর মানুষজনকে দেখি এই রোগের ভুক্তভোগী। মনে হচ্ছে ইদানীং এই রোগের প্রকোপ একটু বেশীই, সম্ভবত ভেজাল, কেমিক্যাল যুক্ত খাবার, কীটনাশক, হাইব্রিড বা উন্নতজাতের ফসল এর জন্য দায়ী, বিশেষজ্ঞরা আরো ভালো বলতে পারবেন।

আর একজন ক্যান্সারের রোগী একটি পরিবারের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়ে যায়, অনেক সাধ্য সাধনার পরও রোগীকে বাঁচানো যায় না। ঐ বিজ্ঞাপনের নির্মাতারা মনে হয় এই সম্পর্কে সঠিক ভাবে অবগত না। অবশ্য এই আজকাল সবই "ফান" পর্যায়ে চলে গেছে, সেদিন দেখলাম সদ্যমৃত পরিবার সদস্যের লাশের সাথে "সেলফি" তুলে আপলোড দিচ্ছে। প্রথমে ভেবেছিলাম কোন বিচ্ছিন্ন অর্বাচিনের কাজ, পরে দেখলাম তা না, অনেকেই আছে এরকম। তাই এখন আর মানুষের আহাম্মকি দেখে অবাক হই না, অবাক হয়ে যাওয়ার দিন মনে হয় আর নেই।

স্বপ্নহারা এর ছবি

দুই পর্বে দিলে আসলে সবার কাছে পুরো চিত্রটা পৌঁছানোতে সমস্যা হতে পারে এই চিন্তা করে এক পর্বেই দিয়েছি।

অসংখ্য ধন্যবাদ।

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

গুরুত্বপূর্ণ লেখা! চলুক

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

অতিথি লেখক এর ছবি

খুব দরকারী লেখা।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA