| ‹ পুরোনো ব্লগ | সব ব্লগ | নতুন ব্লগ › |
গত পোস্টে তাড়াহুড়া করে ভূমিকম্পে করণীয় সম্পর্কে কিছু টিপস দিয়েছিলাম যার বেশিরভাগ ছিল এক উদ্ধার কর্মীর লেখা একটি আর্টিকেল থেকে। আর্টিকেলটি বেশ কয়েক বছর আগে এক কলিগ মারফত ইমেইলে পেয়েছিলাম, পড়ে যুক্তিসংগত মনে হওয়ায় সেইভ করে রেখেছিলাম। তবে আজকাল মনে হয় সবকিছুই যাচাই করে নেয়া লাগে! পোস্ট দেয়ার পর দু’একটি পয়েন্ট বিশেষ করে ভূমিকম্পের সময় গাড়ী থেকে বের হওয়ার পয়েন্টটি নিয়ে খটকা লাগায় ইন্টারনেটে এটা নিয়ে খোঁজাখুঁজি করলাম। ইন্টারনেটে আর্টিকেলটি এবং এ বিষয়ে আমেরিকান রেড ক্রসের বক্তব্যও খুঁজে পেলাম। এছাড়া উদ্ধার কর্মীটি সম্পর্কেও দেখলাম বিভিন্ন সময়ে জালিয়াতির অভিযোগ আছে। তাই আগের পোস্টের কন্টেন্ট মুছে দিয়েছিলাম।
তবে রেড ক্রস এই টিপসগুলোকে একেবারে উড়িয়ে দেয় নি। তাদের বক্তব্য হচ্ছে বিল্ডিং স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলায় আমেরিকায় খুব কম দালানই অন্যান্য দেশের মত ভূমিকম্পের সময় ধ্বসে পড়ে। তাই এ টিপসগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে মূলত তুরস্কে ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লেখা উদ্ধার কর্মীর টিপসগুলো অন্যান্য দেশে যেখানে মাঝারি ভূমিকম্পেও বিল্ডিং ধ্বসে পড়ে, সেখানে হয়ত বেশি গ্রহণযোগ্য হবে। বাংলাদেশে যেখানে বেশিরভাগ বাড়িতে ভূমিকম্পরোধক ব্যবস্থা নেই এবং বিল্ডিং কোডও মেনে চলা হয় না, সেখানে মাঝারি ভূমিকম্পে দালান ধ্বসে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা আছে। তাই উদ্ধার কর্মীর টিপসগুলো বাংলাদেশের ক্ষেত্রে হয়ত বেশী প্রাসঙ্গিক হবে। কিন্তু সতর্কতার বিষয় হল- এগুলো কোন বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে দেয়া পরামর্শ নয়। উন্নত বিশ্ব যেমন জাপান, আমেরিকা ইত্যাদি ছাড়া অন্য কোথাও এ বিষয়ে গবেষণা হয়েছে এমনটিও পাই নি এবং তাদের দেয়া সেফটি টিপসগুলো আসলে তাদের দেশের জন্যই বেশি প্রাসঙ্গিক। তবে আমেরিকান রেড ক্রস, ফিমা এদের পরামর্শগুলো খোদ আমেরিকার জন্য হলেও এগুলো প্রফেশনাল রেকমেন্ডেশন- রীতিমতো অনেক গবেষণা করে তৈরী।
বাংলাদেশের জন্যও আসলে বাংলাদেশের নির্মাণ প্রকৌশলী, ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ইত্যাদির সহায়তায় জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, আর্থকোয়েক সোসাইটি- এদেরই এগিয়ে আসতে হবে গবেষণার ভিত্তিতে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য পরামর্শ প্রণয়নে। ঘূর্ণিঝড় পৃথিবীর ক্রান্তীয় অঞ্চলের সব প্রান্তেই একরকম। তাই এ বিষয়ে সতর্কতা কম-বেশী সব জায়গায় একই রকম। কিন্তু দেশে দেশে মাটির গঠনে ভিন্নতা, টেকটোনিক প্লেট, বিল্ডিং কোড, বিল্ডিং স্ট্রাকচার ও মেটারিয়ালের পার্থক্য থাকায় ভূমিকম্পের প্রভাব দেশ ভেদে ভিন্ন। আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, রেড ক্রসের পরামর্শগুলো আমেরিকার জন্য প্রণীত হলেও যেহেতু এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে আগে সেটা মেনে চলুন। ব্যাক আপ হিসেবে উদ্ধার কর্মীর টিপসগুলো মাথায় রাখুন। আর যদি সম্ভব হয় আপনার বিল্ডিংকে রেট্রোফিটিং বা ভূমিকম্পরোধক করার ব্যবস্থা এখনই নিন। যদি ভাড়া বাড়ীতে থাকেন বাড়িওয়ালাকে পরিস্থিতি বোঝাতে এবং প্রয়োজনে ভাড়াটিয়ারা চাঁদা তুলে ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করুন। যে অর্থ খরচ হবে তা আপনার জীবনের তুলনায় সামান্যই।
নীচে আমি মোটামুটি আগের টিপসগুলোই উল্লেখ করছি। সাথে কোন পয়েন্টে রেড ক্রস বা অন্য বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য থাকলে সেটাও উল্লেখ করছি। এক্ষেত্রে নিজের বিবেচনাকেই প্রাধান্য দিন।
১। আমেরিকান রেডক্রসের পরামর্শ অনুযায়ী- ভূমিকম্পের সময় সবচেয়ে উত্তম পন্থা হল ‘ড্রপ-কাভার-হোল্ড অন’ বা ‘ডাক-কাভার’ পদ্ধতি। অর্থাৎ কম্পন শুরু হলে মেঝেতে বসে পড়ুন, তারপর কোন শক্ত টেবিল বা ডেস্কের নীচে ঢুকে কাভার নিন, এমন ডেস্ক বেছে নিন বা এমনভাবে কাভার নিন যেন প্রয়োজনে আপনি কাভারসহ মুভ করতে পারেন। তাদের মতে, ভূমিকম্পে আমেরিকার খুব কম বিল্ডিংই কলাপস করে; যেটা হয় তা হল আশেপাশের বিভিন্ন জিনিষ বা ফার্নিচার গায়ের উপর পড়ে নেক-হেড-চেস্ট ইনজুরি বেশি হয়। তাই এগুলো থেকে রক্ষার জন্য কোন শক্ত ডেস্ক বা এরকম কিছুর নীচে ঢুকে কাভার নেয়া বেশি জরুরী। অপরদিকে সেই উদ্ধার কর্মীর মতে বিল্ডিং কলাপস করলে ‘ডাক-কাভার’ পদ্ধতি একটি মরণ-ফাঁদ হবে। সেটা না করে কোন বড় অবজেক্ট যেটা কম কম্পপ্যাক্ট করবে যেমন সোফা ইত্যাদির পাশে আশ্রয় নিলে যে void তৈরী হবে, তাতে বাঁচার সম্ভাবনা বেশী থাকবে। এখন রেড ক্রস কিন্তু এই ভয়েড বা ‘Triangle of life’-এর ব্যাপারটা অস্বীকার করে নি। কিন্তু যেহেতু আমেরিকায় বিল্ডিং কলাপ্স হবার সম্ভাবনা কম, তাই তাদের ‘ড্রপ-কাভার-হোল্ড অন’ পদ্ধতিই বিভিন্ন বস্তুর আঘাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য সবচেয়ে উত্তম। দু’টো ব্যাপারই তাই মাথায় রাখুন।
২। রাতে বিছানায় থাকার সময় ভূমিকম্প হলে উদ্ধার কর্মী বলছে গড়িয়ে ফ্লোরে নেমে পড়তে- এটা বিল্ডিং ধ্বসার পার্সপেক্টিভেই। রেড ক্রস বলছে বিছানায় থেকে বালিশ দিয়ে কাভার নিতে, কারণ সিলিং ধসবে না, কিন্তু ফ্লোরে নামলে অন্যান্য কম্পনরত বস্তু থেকে আঘাত আসতে পারে।
৩। দরজায় আশ্রয় নেবার ব্যাপারে উদ্ধার কর্মী এবং রেডক্রস উভয়েই নেতিবাচক। রেড ক্রস বলছে প্রায় এক দশক আগে থেকেই তারা এ পরামর্শ বন্ধ করেছে। (The American Red Cross has not recommended use of a doorway for earthquake protection for more than a decade)
৪। সিঁড়িতে আশ্রয় নেয়া উচিত না- এ ব্যাপারেও নিশ্চিত। এক বিশেষজ্ঞ যিনি ঐ উদ্ধারকর্মীর সবগুলো পরামর্শেরই সমালোচনা করেছেন, তিনিও বলেছেন একমাত্র এ পরামর্শটিই সবচেয়ে যৌক্তিক। এছাড়া ভূমিকম্পের সময় এলিভেটর/লিফট ব্যবহারও উচিত না।
৫। ভূমিকম্পের সময় ভেতরের দিকে না থেকে বাইরের দিকে ওয়ালের কাছে আশ্রয় নেয়া উচিত- এটা নিয়ে কোন বিরোধ পাই নি। যেটা পেয়েছি তা হল এর কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই এবং এর উলটো হাইপোথিসিসও নাকি আছে যে ভেতরের দিকে থাকাই ভালো।
৬। উদ্ধার কর্মীর যেসব পরামর্শ রয়েছে তার মধ্যে একমাত্র গাড়ীরটাই সরাসরি বাদ দেয়া যায়। তিনি বলছেন ভূমিকম্পের সময় গাড়ী বন্ধ করে গাড়ী থেকে বের হয়ে বসে বা শুয়ে পড়তে। রেড ক্রস বলছে গাড়ী বন্ধ করে গাড়ীর ভিতরেই বসে থাকতে। গাড়ীর বাইরে থাকলে আহত হবার সম্ভাবনা বেশি। রেড ক্রসের এই পরামর্শ যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে দেয়া এবং এটা সব দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে।
৭। অনেকে জানতে চেয়েছেন ভূমিকম্পের সময় কোন ফ্লোর নিরাপদ, কিভাবে দালান ভেঙ্গে পড়ে- কাত হয়ে নাকি এক তলার উপর আরেকটা। আমি জানি না। এটা ঐ জায়গার মাটির গঠন, বিল্ডিং কিভাবে তৈরী- এটার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করার কথা। বাংলাদেশের পুরকৌশলীদেরই এটা বের করে জানানো উচিত। (বাংলাদেশে কেউ নাকি থিসিসের বিষয় খুঁজে পায় না! অথচ এখানে আলোচিত প্রত্যেকটি পয়েন্ট নিয়েই দেশের জন্য উপকারী ভালো থিসিস করা যায়)। এখানে এ বিষয়ে কিছু আলোচনা ও নিবন্ধ (১, ২) খুঁজে পেয়েছি।
৮। তবে যে ফ্লোরেই থাকুন- ভূমিকম্পের সময় বেশি নড়াচড়া, বাইরে বের হবার চেষ্টা করা, জানালা দিয়ে লাফ দেবার চেষ্টা ইত্যাদি না করাই উত্তম। একটা সাধারণ নিয়ম হল- এসময় যত বেশি মুভমেন্ট করবেন, তত বেশি আহত হবার সম্ভাবনা থাকবে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে অফ দ্য রেকর্ড একটা কথা- যদি গ্রাউন্ড ফ্লোরে একেবারে দরজার কাছে থাকেন, তবে এক দৌড়ে বাইরে কোন খোলা জায়গায় চলে যান। সিঁড়ি-টিঁড়ি পার হয়ে যেতে হলে না যাওয়াই ভালো।
৯। সব বড় ভূমিকম্পের পরপরই আরেকটা ছোট ভূমিকম্প হয় যেটাকে ‘আফটার শক’ বলে। এটার জন্যও সতর্ক থাকুন, না হলে পচা শামুকেই শেষমেষ পা কাটতে পারে।
১০। প্রথম ভূমিকম্পের পর ইউটিলিটি লাইনগুলো (গ্যাস, বিদ্যুত ইত্যাদি) একনজর দেখে নিন। কোথাও কোন লিক বা ড্যামেজ দেখলে মেইন সুইচ বন্ধ করে দিন।
যা আগেই করণীয়ঃ
• পরিবারের সবার সাথে বসে এ ধরণের জরুরী অবস্থায় কি করতে হবে, কোথায় আশ্রয় নিতে হবে- মোট কথা আপনার পরিবারের ইমার্জেন্সি প্ল্যান কী সেটা ঠিক করে সব সদস্যদের জানিয়ে রাখুন।
• বড় বড় এবং লম্বা ফার্নিচারগুলোকে যেমন- শেলফ ইত্যাদি দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখুন যেন কম্পনের সময় গায়ের উপর পড়ে না যায়। আর টিভি, ক্যাসেট প্লেয়ার ইতাদি ভারী জিনিষগুলো মাটিতে নামিয়ে রাখুন।
• বিছানার পাশে সবসময় টর্চলাইট, ব্যাটারী এবং জুতো রাখুন।
• রেট্রোফিট, রেট্রোফিট আবারো বলছি রেট্রোফিটিং-এর ব্যবস্থা এখনই করুন।
২
কি অদ্ভুত সমাপতন!! এই মিনিট পনেরো আগে আমার এখানে জবরদস্ত একটা ভুমিকম্প হয়ে গেল৷ আশেপাশের সমস্ত ফ্ল্যাট থেকে লোকজন ৬-৭ তলা সিঁড়ি বেয়ে নীচে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে৷ আমার স্রেফ আলসেমী লাগল এত রাতে হেঁটে হেঁটে নামতে, আমি তাই পাশের খোলা ছাদে দাঁড়ালাম কিছুক্ষণ৷ এখন আপনার লেখা পড়ে দেখছি সিঁড়ি বেয়ে নামার চেষ্টা নআ করাই ভাল৷৷
এই অত্যন্ত উপকারী লেখাটির জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে৷
৬
কোন পরামর্শই আসলে পার্ফেক্ট নয়।
যেমন, ভূমিকম্পপ্রবণ জাপানে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে যাবার পরামর্শ দেওয়া হয় না। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বিপদে পড়ার সম্ভাবনা তো আছেই, বাইরে ইলেকট্রিক পোল, গাছপালা উপড়ে পড়া সহ আরো অনেক বিপদ অপেক্ষা করে আছে।
টেবিল বা ডেস্কের নিচের জায়গাটুকু অনেক নিরাপদ।
বাড়ির গঠনকাঠামো অনুযায়ীই হুড়মুড় করে আস্ত বাড়ি মাথার উপরে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা খুব কম।
কিন্তু, আমাদের দেশের জন্যে, বাড়ির বাইরে বেরুনোর সুযোগ পেলে অবশ্যই বাড়ির ভিতরটা নিরাপদ নয় - এটা বলতে পারি। হুড়মুড় করে আস্ত বাড়ি মাথার উপরে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা খুব খুব বেশি। অন্তত, পাকিস্তানে বছর দুয়েক আগে ঘটা ভূমিকম্পের ছবিগুলো দেখে তাই মনে হয়েছে। দুর্বল কাঠামোর ইট-সুরকির দেয়ালের নিচে বেশি মানুষ চাপা পড়েছেন।
৭
তানভীর ভাইকে আবারো ধন্যবাদ!
-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।
৮
শুনলাম ভূমিকম্পের সতর্ক সঙ্কেত দেওয়ার ব্যবস্থা নাকি আবিষ্কৃত হইতেছে... তাতে খুশি... তা নাইলে আমার জন্য এইসব একেবারেই বেহুদা... ডাক্তার আসিবার পূর্বেই রোগী মারা গেলো টাইপ ভূমিকম্প বোঝার আগেই সব শ্যাষ...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল
৯
দরজার নিচে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আপত্তির কারণ হিসেবে বলা হয়েছে: The problem is that many doorways are not built into the structural integrity of a building, and may not offer protection. Also, simply put, doorways are not suitable for more than one person at a time.
কিন্তু বাংলাদেশের কংক্রিটের বিল্ডিংগুলোতে সাধারণত দরজাগুলোর উপরে একটা লিন্টেল দেয়া হয়। এছাড়া দরজার ফ্রেমটিও এতে অতিরিক্ত শক্তি দেয়। তাই দরজার নিচের অংশটা নিরাপদ বলেই মনে হয়। যদিও পরীক্ষালব্ধ কোন তথ্য আমার কাছে নেই। তবে যেহেতু সকল বাড়ি একই স্ট্যান্ডার্ড মেনে তৈরী হয় না তাই এই পরামর্শকে সাধারণ পরামর্শ হিসেবে প্রচার করা যায় না।
এছাড়া আসি সিড়ির ঘরের ব্যাপারে। অন্য সকল ফ্লোরের চেয়ে সিড়ির ঘরকে বেশি মজবুত করে নকশা করা হয়। সাধারণ ফ্লোরে যেখানে ৪০ পি.এস.এফ. লাইভ লোড ধরা হত, সেখানে সিড়িতে ১০০ পি.এস.এফ. ধরা হত বলেই মনে হয় (আবছা ভাবে)। এছাড়া এধরণের ভূমিকম্প থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কিছু shear wall দেয়া হত, যেটা সাধারণত সিড়ির বিমগুলোর উপরেই থাকতো। কাজেই, আমার ধারণা ভূমিকম্পের সময়ে সিড়ির ঘর অন্য ঘরগুলোর চেয়ে অধিকতর নিরাপদ।
গত দুই ট্রাইমিস্টারে (সেমিস্টার = বছরে দুই টার্ম; ট্রাইমিস্টার = বছরে ৩ টার্ম) আমাদের এখানে সফট ফ্লোর নিয়ে কিছু স্ট্রাকচারাল এনালাইসিস মার্কা আন্ডারগ্রাজুয়েট থিসিস হচ্ছে। (সফট ফ্লোর হল সেগুলো, যেগুলোতে বিম-কলাম ফ্রেমগুলোর মাঝে তেমন কোন ফিলার দেয়াল থাকে না -- যেমন নিচতলার কার পার্কিং।) ওখানে দেখা যায়, ভূমিকম্পের সময়ে সফট ফ্লোরগুলোতে ডিফরমেশন বেশি হয় এবং ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থ দালানগুলোর ছবি দেখলে লক্ষ্য করবেন যে দেয়ালবিহীন কারপার্কিংগুলো বিধ্বস্থ, অথচ উপরে কাত হয়ে নেমে আসা ফ্লোরগুলো মোটামুটি অাছে - অর্থাৎ বিল্ডিং ভেঙ্গে পড়লেও কারপার্কিং-এর ছাদ বাদে অন্য কোন ফ্লোরের ছাদ ভেঙ্গে কারো মাথার উপরে পড়েনি।
এরকম ডিফর্মেশন জনিত ভেঙ্গে পড়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এরকম ফাঁকা অংশগুলোতে ক্রশ ডায়াগোনাল দেয়া হয় - এমন দেখেছি জাপানের অনেক কারপার্কিং-এর জায়গায়।
একটা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হল, (জাপানের গাইডবুকে ছিল) ভূমিকম্প শুরু হলে দরজা বা জানালা খুলে দেয়া, কারণ ভূমিকম্পের ফলে ভবন ক্ষতিগ্রস্থ হলে ওগুলো কষে গিয়ে খুলতে অসুবিধা হতে পারে। ফলে বাইরে যাওয়া বা উদ্ধার করা অসুবিধাজনক হয়ে যাবে।
অপর যেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার সেটা হল, এই ধরণের সতর্কতাগুলো অসাধারণ ভূমিকম্পের সময় কাজে লাগবে না। ভূমিকম্পের কেন্দ্রের ঠিক উপরে হলে কম্পনটা মূলত উলম্ব বরাবর হবে -- ওটা থেকে রক্ষা পাওয়ার কোন উপায় আধুনিক নির্মানশৈলীতেও নেয়া হচ্ছে বলে আমার জানা নাই। বরং কেন্দ্র থেকে দুরে যেখানে ভূমিকম্পের তরঙ্গগুলোর প্রভাবে সাধারণত আনুভুমিক কম্পন হবে সেখানের জন্য অধিক প্রযোজ্য হবে।
বাংলায় কিছু তথ্য
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।
১০
ধন্যবাদ শামীম ভাই। সিঁড়ির ব্যাপারটা রাগিবও বলেছিল। কিন্তু ঐ ব্যাটার আর্টিকেল পড়ে দেখেন সিঁড়ির 'মোমেন্ট অফ ফ্রিকোয়েন্সী' নিয়ে কী জানি বলছে। প্লাস আরো কয়েক জায়গায় চেক করে দেখেছি সিঁড়ির ব্যাপারে আপত্তির কথা। আপনার দেয়া লিংকটাও বেশ কাজের।
= = = = = = = = = = =
ঊষার দুয়ারে হানি আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত
আমরা ঘুচাব তিমির রাত
বাধার বিন্ধ্যাচল।
১১
ওখানের বক্তব্য: (they swing separately from main part of the building). The stairs and remainder of the building continuously bump into each other until structural failure of the stairs takes place.
এটা তখনই সম্ভব যখন সিড়ির অংশ মূল অবকাঠামো থেকে আলাদা হবে। কিন্তু আমাদের এখানকার বাড়িগুলোর সিড়ি মনোলিথিক বা একই সাথে বানানো হয় - কাজেই ঐ ধরণের বিপদের আশংকা এখানে হবে না বলেই মনে হয়।
মূল কথা হল অবকাঠামোর ধরণের উপর নির্ভর করবে কী হবে বা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।
১২
১৩
দেখতে পারি নাই ![]()
Forbidden
You don't have permission to access /~msh0004/SEGSA.pdf on this server.Apache/1.3.41 Server at www.auburn.edu Port 80
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।
১৪
ধন্যবাদ দ্রোহী। দারুণ কাজ। দ্রোহীর লিংকে মনে হয় সবাই এক্সেস করতে পারছে না। নীচে তাই দ্রোহীর করা ম্যাপটা আপলোড করলাম।
মিরপুর আর খিলগাঁও দেখছি সবচেয়ে বেশী ঝুঁকির মধ্যে আছে, তারপর একে ঘিরে ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান, বাড্ডা, সবুজবাগ ইতাদি এলাকা। সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ রমনা, তেজগাঁও, উত্তরা। মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ মোহমমদপুর, ধানমন্ডি, মতিঝিল, হাজারীবাগ, লালবাগ, তথা পুরান ঢাকা। পুরানো ঢাকা মোটামুটি কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে দেখে ভালো লাগছে।
ঢাকার ভূমিকম্প ঝুঁকি ম্যাপ (ক্রেডিট-দ্রোহী)
= = = = = = = = = = =
ঊষার দুয়ারে হানি আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত
আমরা ঘুচাব তিমির রাত
বাধার বিন্ধ্যাচল।
১
ইন্ডিয়ানা জোন্সের মত একটা খালি রেফ্রিজারেটরে ঢুকে পরা যায় না? কামেল নায়ক তো আস্ত একটা আণবিক বিস্ফোরণ থেকে বহাল তবিয়তে বেঁচে গেল ফ্রিজে ঢুকে।
দেশে পড়াতে হবে লেখাটা।
রাজাকার রাজা কার?
এক ভাগ তুমি আর তিন ভাগ আমার!