ডিফেন্স বা মানসিক প্রতিরক্ষা

সাইফ তাহসিন এর ছবি
লিখেছেন সাইফ তাহসিন (তারিখ: শনি, ২৩/০৫/২০০৯ - ১২:১২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ঠিক করলাম, খুব রসকষহীন কিছু লিখবো। আমার এই লেখার উদ্দেশ্য নিজেকে আরো ভালো ভাবে বুঝতে চান যারা তাদের কিছু অস্ত্র বা যন্ত্রের সন্ধান দেয়া। টপিকের নাম দেখে কেউ ভেবে বসেন না যে আমি কোন মানসিক রোগের ডাক্তার বা মনোবিজ্ঞানী। আমি আর ১০ জনার মত সাধারন একজন মানুষ। জ্ঞানী নই, বানান বিষেশজ্ঞও নই, আমার জ্ঞানও খুব সীমিত। আমার এই লেখার চেষ্টা করার জন্য আশাকরি বিদ্বানগন ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমার বাংলার অবস্থা বেশ খারাপ আর যে বিষয়ে লিখতে যাচ্ছি, তা বাংলায় লেখা খুব বেশী কঠিন যেহেতু আমার শব্দের ভান্ডার খুবই দুর্বল।

মানুষের জন্মের পর থেকেই তার যাবতীয় মানসিক চিন্তাভাবনা ৩ টি পদ্ধতিতে, এর কোনটাই আমার আবিস্কার না, ফ্রয়েডকে ধরতে পারেন। আমি শুধু পুরো ব্যাপারটা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। পদ্ধতি ৩ টি হল ইড, ইগো, সুপার ইগো. ইড জন্ম হতেই থাকে, আমাদের যাবতীয় চাহিদা এই দলের অন্তর্ভুক্ত, যেমন খাদ্যের প্রয়োজন এবং এর পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজন, মজার কথা হল এটা আমাদের এবং অন্যান্য পশুদেরও সমানভাবে প্রকাশ পায়। এরপর আসে ইগো, যা আমাদের বিশ্লেষন ক্ষমতা এবং যুক্তিতর্কের সাথে চিন্তাভাবনা করতে শিখায়, সহজ ভাবে ভাষার বহিঃপ্রকাশ কিন্তু পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানো ভাবে প্রকাশ। সুপারইগো হলো আমাদের সামাজিকতা, মোরাল গুনাবলী।

আমি আজকে ইগো কিভাবে কাজ করে, তা নিয়ে কিছু বলব। মনের ভেতরে যখন কোন দ্বন্দের সৃষ্টি হয়, তখন মন নিজে থেকেই কিছু পন্থার মাধ্যমে তা গ্রহনযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করে। অবচেতন মনের রিফ্লেক্স ছাড়া কিছুই নয়, যখন কেউ ডিফেন্স করে, সে জানেও না, কেন সে এটা করে বা উপলব্দিও করে না যে সে এটা করে ফেলেছে। আর আজকে কেউ কিছু একটা করছে দেখে পরেও করবে এমন না, পরিস্থিতির সাথে এটা পরিবর্তন হয়। কিন্তু এই ডিফেন্স যদি প্রবল হয়ে দেখা দেয় বা ইচ্ছাকৃত ভাবে কেউ করে, তখন কিন্তু আর এটি ডিফেন্স থাকে না, মানসিক সমস্যায় পরিণত হয়। তার মানে সহজ ভাষায় ডিফেন্স আপনার মানসিক রিফ্লেক্স যা সম্পুর্নভাবে অনিচ্ছাকৃত।

ডিফেন্স এর ৪টি গোত্র আছে, ১।অপ্রাপ্তবয়ষ্ক ২। নাটকীয় ৩।দুষ্চিন্তা ৪। প্রাপ্তবয়ষ্ক ডিফেন্স। নাম দেখেই বুঝতে পারছেন, কোন বহি:প্রকাশ কিভাবে দেখা হয়, কেউ মনে করেন না, ১নং শুধু বাচ্চারা করবে, প্রকাশটাকে গ্রেড করলে তা বাচ্চাদের আচরনের মত লাগবে, তাই এমন নাম। ১নং দিয়েই শুরু করি, কি বলেন? সমস্যা হল বাংলায় এর প্রতিশব্দ করলে অর্থ ঠিক থাকে না, তাই দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।

১। অপ্রাপ্তবয়ষ্ক ডিফেন্স:
ক) ব্লকিং - হঠাৎ করে কোন একটা জিনিষ মনে পড়বে না। যেমন পরীক্ষা দিতে গিয়ে উত্তর মনে না আসা। মন যখন কনফ্রন্টেশনের মুখোমুখি হয়, তখন সে সহজ রাস্তা বেছে নেয়, মনে না পড়াটা অনেক সহজ, এতে কোন দ্বন্দের সৃষ্টি হয় না। দেখা গেল, ডেটিং এ গিয়ে প্রেমিকাকে নিয়ে রমনায় ঘুরছেন, মামা চাচা কারো সাথে দেখা হয়ে গেল, উনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার সাথীর নাম কি, আপনে মনে করতে পারছেন না চোখ টিপি খালি ইয়ে ইয়ে করছেন।

খ) রিগ্রেশন - বয়ষের তুলনায় বাচ্চাদের মত ব্যবহার করা। কোন বয়ষ্ক মানুষ যদি বাচ্চাদের মত খিল খিল করে হাসেন, সেটা এই বাবাজীর হাতে ধরাশায়ী হয়ে করেন।

গ) সোমাটাইজেশন - মানসিক চাপের মুখে নানা রকম শারিরীক উপসর্গের সৃষ্টি হওয়া। তেমন পরীক্ষা দিতে গিয়ে মাথা ব্যাথা হওয়া এই বাবজীর কারনে হয়। এছাড়া যেমন কানে পিনপিন শব্দ শুনা, হঠাৎ করে মাথা ঘুরে উঠা, বমি বমি ভাব হওয়াও একই কারনে ঘটে।

ঘ) ইন্ট্রোজেকশন - আপনি যাকে মনে প্রানে মানেন, বা যার মত হতে চান তার মত করে কথা বলা, তার মত করে কাপড় পরা এই বাবাজীর কারনে হয়। যেমন বসের মত করে কথা বলা বা লেকচারারের প্রফেসর সুলভ আচরন এই কারনে দেখা যায়।

২) নাটকীয় ডিফেন্স:

ক) প্রোজেকশন - নিজের ইচ্ছা অন্যের নামে প্রকাশ করা। যেমন বাবা বাইরে যাবে, বাচ্চা মেয়ে তার পুতুল বাবাকে দেখিয়ে বলছে, ডলি (পুতুল) তোমাকে মিস করবে, যেখানে ডলির কোন অনুভুতি নেই, মেয়েটি তাঁর অনুভুতি ডলির নামে প্রকাশ করছে।

খ) ডিনায়াল - যখন খুব কঠিন সত্যের মুখোমুখি হয় মানুষ, তখন সে সত্যকে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে। যেমন, হার্টএটাকের রুগী বেচে যাবার পর আবার পুরানো জীবনে ফিরে যায় এবং নির্লীপ্তভাবে আবার সিগারেট খাওয়া শুরু করে, সে মনে করে সে আসলে সুস্থ, ডাক্তারই ভুল।

গ) স্প্লিটিং - পুরা পৃথিবীকে ২ ভাগে ভাগ করে ফেলেন, ১ দল খুব ভাল, অন্য দল খুব খারাপ। তাদের কাছে উত্তর মেরু দক্ষিন মেরুর মাঝে কেউ নেই অথবা ইশ্বর এবং শয়তান। প্রেমের প্রাথমিক পর্যায়ে মানুষ স্প্লিটিং এর ধারাশায়ী হয় বলে মনে করা হয়, এজন্য প্রেমিকের কাছে প্রেমিকার সব দোষ মধু লাগে, একইভাবে প্রেমিকার কাছে প্রেমিকের সব ভালো। যখন যাকে ভালো লাগবে, তখন তার সব ভালো। যেমন যে ডাক্তারকে ভালো লাগবে, তাকে গিয়ে বলবে, আপনি অসাধ্য সাধন করেছেন, আগের বেটা তো কবিরাজ ছিল (এমন না যে ডাক্তারের নামে কবিরাজের অভাব আছে, হা হা হা)

খুব বেশী লম্বা হয়ে যাচ্ছে, তাই আজকের মত বিদায়। কি দাদা দিদিরা, চলবে?

সাইফ


মন্তব্য

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

আমার খুবই আগ্রহের একটা বিষয় নিয়ে লেখা শুরু করলেন দেখে ধন্যবাদ। তবে বানানগুলো যদি একটু খিয়াল কৈরা...

আলাভোলা এর ছবি

একই প্যারা বারবার লেখার কারণটা ঠিক বুঝলাম না।
বানান এক্টু খিয়াল কইরা, ভাই।

সাইফ এর ছবি

ভাইরে, গত ১১ বছর বাংলা লেখি নাই, বানা এর যাচ্ছেতাই অবস্থা, খুবই লজ্জায় আছি, আশাকরি আগামীতে বানান আরেকটু ঠিক করতে পারবো। লেখা যাতে হারিয়ে না যায়, এজন্য বারবার নপি পেষ্ট করতে গিয়ে এই বিভ্রাট।

সাইফ এর ছবি

ইশতিয়াক ভাই, বানান এর কথা বলে আর লজ্জা দিয়েন না, তাহলে আর ২য় ভাগ লেখা সম্ভব হবে না। অবশ্য কারো শতক স্কোর করার জন্য খুব ভালো যায়গা।

মডু বস, আমার ২ প্যারা রিপিট হয়েছে, দয়া করে কি একটু ঠিক করে দিবেন? অশেষ ধন্যবাদ।

সাইফ

দিগন্ত এর ছবি

অপেক্ষায় রইলাম।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

সাইফ এর ছবি

খুব শীঘ্রই আসবে, সামনে একদিন ছুটি আছে, আশাকরি নামায় ফেলতে পারব।

অনিকেত এর ছবি

চলবে মানে? উড়ে চলুক----
লেখা ভাল হচ্ছে সাইফ। আর বানানের ব্যাপারটা ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে বলেই বিশ্বাস।

শুভেচ্ছা রইল!!!!

সাইফ এর ছবি

আপনার দেয়া সাহসেই না হাবিজাবি লিখে সচল দুর্গন্ধ করতেছি, তারপরেও ধন্যবাদ বস, আপনের জন্য এটা আলোর মুখ দেখেছে।

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

একই প্যারার পুনরাবৃত্তি আর অসংখ্য বানান ভুল সত্ত্বেও লেখাটা খুব পছন্দ হলো। পরের অংশের অপেক্ষায় থাকলাম।

চলুক।

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ, খুব শীঘ্রই আসবে ২নং

এমি এর ছবি

বেশ ভাল লাগলো লেখাটা ।

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ এমি কষ্ট করে আমার এম্ন রষকষহীন লেখা পড়ার জন্য। আপনার কোন লেখা দেখেছি বলে মনে পড়ছে না, থাকলে কি লিঙ্কটা দিবেন দয়া করে?

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।