বাসা বিভ্রাট

সাইফ তাহসিন এর ছবি
লিখেছেন সাইফ তাহসিন (তারিখ: শনি, ২৮/০১/২০১২ - ৮:১১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

দীর্ঘদিন পরে লিখতে বসে কতক্ষন কিবোর্ড নিয়ে নাড়াচাড়া করে উঠে পড়ার অবস্থা হয়েছিল, পরে আবার জোর করে লিখতে বসলাম, কিন্তু কি লিখব, মাঝে এত ঘটনা ঘটে গেছে যে তা না ব্লগর ব্লগর করার ইচ্ছাটাও প্রায় হারিয়ে যাবার অবস্থা। তারপরেও আগডুম বাগডুম একটা বিষয় নিয়ে লিখা শুরু করলাম। আমাদের সুখের ডেলাওয়ারের ব্লগার গ্রুপে যমুনা ব্রিজের মত ফাটল ধরে এখন তা ভেঙেও গেছে। আমি এখন নিউ ইয়র্কে, কম্পাউন্ডারের ট্রেনিং করতে ব্রুকলিন হাসপাতালে চলে এসেছি, এদিকে আমাদের অনিকেতদাও আর ডেলাওয়ারে নেই, উনি আপস্টেটের এক বনে গেছেন। বাকী আছে শুধু মৃত্তিকা, হয়ত কিছুদিন পড়ে সেও পাড়ি জমাবে অন্য কোন দিকে। প্রিয় শহর ছেড়ে আসার সময় নানা রকম বিভ্রাটের মধ্যে অন্যতম ছিল আমার বাসা পাওয়া, তাই সেটা নিয়েই লিখব বলে ঠিক করলাম।

ডেলাওয়ারে যে বাসায় থাকতাম, সেটা ছিল একটা ৩ তালা দালান, সেখানে আমি ৩ তালায় থাকতাম, আর আমার ঠিক নিচে থাকত এক বুড়ি, যার কোন কাজ ছিল না বিধায় সারাদিন বারান্দায় বসে বসে দেখত কে আসল, কে গেল, ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রায় সপ্তাহেই আমার বাসায় শাহান আর অনিকেতদা বাসায় আসতেন, উনাদের দেখলেই বুড়ির যেন যৌবন ফিরে পেত। প্রথম প্রথম লক্ষ করিনি, পরে লক্ষ করলাম ৯টা বাজলে আমার বাসায় কেউ এসে জোরে হাসলেই বুড়ি নিচে থেকে লাঠি দিয়ে ছাদে পিটাতো। প্রথম প্রথম পাত্তা দেইনি, কিন্তু একদিন লিজিং অফিস থেকে চিঠি পেলাম, আমাকে নাকি বাসা ছেড়ে দিতে হবে যদি আমি রাত ৯টার পর জোরে আওয়াজ করি, এমন অনেক কথা। আমার তো আক্কেল গুড়ুম, আমার স্ত্রী তখন দেশে গেছে, তাই আমি আর যোগাযোগ করিনি, ২সপ্তাহ পরে আবার এক নোটিস, যে আগে আমাকে বলা হয়েছে কিন্তু আমি কেন শুনিনি, এখন আর উপায় নেই, বাসা ছাড়তেই হবে। আমি এবার ফোন করে কথা বললাম, লিজিং অফিস থেকে জানালো আমি নাকি রোজ রাতে নরক গুলজার করি, আমি তাদের বুঝিয়ে বলার পর তারা ঠান্ডা হল।

কিন্তু এই নাটকের যদি এখানে শেষ হত তাহলে বেচে যেতাম, বুড়ির এই পিটাপিটি চলতেই থাকে, আমি যতভাবেই বুঝাই না কেন লিজিং অফিসে, তারা বলে, তোমরা নিশ্চয় অনেক আওয়াজ কর, ঐ বুড়ি নাকি ১২ বছর ধরে এখানে থাকে, হেন তেন কতকিছু, এক পর্যায়ে এমন অবস্থা হল যে, রাত ১-২ টার দিকে লিভিং রুমে হাটাহাটি করলেও বুড়ির আত্মারাম খাঁচা ছাড়া হয় হয়, আর সে পুরা থান্ডারক্যাটসের চিতারা'র মত লাঠি নিয়ে ছাদ পিটানো শুরু করে। কিন্তু এত কিছুর পরেও কপালগুনে আমাকে বাসা ছাড়তে হয়নি, কিন্তু লিজ যখন শেষ হয়ে আসে, তখন অফিস থেকে বলে দেয় এখানে থাকতে দিবে না, আমাকে ১তালায় বাসা নিতে হবে, নাহলে এই কমপ্লেক্স ছেড়ে যেতে হবে। আমি পরাজিত মুখে বাসা পালটিয়ে সামনের বিল্ডিঙ্গের নিচতলায় উঠি। ঐ বাসাটা সম্পর্কে ২-১টা কথা না বললেই নয়, এই ১ তালার বাসাটা এক কোনায়, সামনে খালি জায়গা আছে, আলাদা দরজা আছে যেটা দিয়ে সরাসরি আমার বাসায় ঢোকা যায়। আমি অবশ্য একটু ভয়ই পেলাম, কারণ কাঁচের দরজা, ভেঙে যে কেউ ঢুকে পড়ে কিনা, তাছাড়া বেশ ছিল, আমার পাশে আরেকটা ফ্ল্যাট থাকার কথা, কিন্তু সেখানে লন্ড্রি করার জায়গা, তাই আমার বারান্দা একাকী আমার, কারো সাথে ভাগাভাগি করতে হবে না, তাই খুশি মনেই এখানেই উঠে আসি আমরা।

আমার আগের বিল্ডিং এর নিচতলায় আরেক বৃদ্ধ থাকত, সে আমার স্ত্রীকে দেখে জিজ্ঞেস করল, আমরা কোন বিল্ডিং এ যাচ্ছি, সামনেরটায় নিচতলায় উঠেছি শুনে বলল, "গুড লাক", তার বন্ধু নাকি ঐ বাসায় থাকত আর ঘুমের মাঝে ইহলোক ত্যাগ করে অন্যপাড়ে পাড়ি জমিয়েছে, কিন্তু কেউ জানত না, মৃত্যুর বেশ কয়েকদিন পড় তাকে বের করা হয়েছে, তাই এই বাসাটা নাকি অনেকদিন খালি পড়ে ছিল, শুনে আমার স্ত্রীর তো কাহিল অবস্থা। আমি জানতাম না, আর কেউ বলেও নাই, স্বাভাবিক যে, লিজিং অফিস থেকে তারা বলবে না, আশাপাশে কারো সাথে এনিয়ে কথাও হয়নি। তাই এই ঘটনা শোনার পর বুঝলাম, আসলেও মনে হয় গুড লাকের দরকার পড়তে পারে, এরপর থেকে শুরু হল বিনা পয়সায় ভূতের ছবি দেখার প্রতীক্ষা, কিন্তু বৃদ্ধ ভূত মনে হয় বয়সের ভারে আর মাজার ব্যথার চোটে এমনিতেই কাহিল ছিল, তাই তার আর সময় হয়ে উঠেনি আমাদের সঙ্গ দেবার। এই বাসায় থাকতে থাকতে আমি নিউ ইয়র্কে রেসিডেন্সি পেয়ে যাই, তারপর বাসা ছেড়ে চলে আসি নিউ ইয়র্কের গ্লেন ওক্স নামে এক জায়গায়। এখানে চলে আসার আগে দেশে ফিরে যাই দীর্ঘ ৪ বছর পর।

এখানে বাসা নিতে এসে জানতে পারি যে যে মাসে বাসা নিতে চাই, সেই মাসের প্রথমে এসে লিজিং অফিসে দরখাস্ত করতে হবে, তাই আমি একা চলে আসি ১মাসের মাথায় দেশ থেকে। এখানে এসে দরখাস্ত জমা দেবার পর জানতে পারি এখানে নাকি বাসা নেবার জন্যে ১৪ পদের কাগজ জমা দেবার পর তারা জাচাই করে আমাকে আবার ডাকবে, সপরিবারে ইন্টারভিউ করার জন্যে। আমি বেকুব হয়ে যাই, ভাড়া দিব, বাসায় থাকব, এর মাঝে ত্যানা পেচানো কেন? তারা আমাকে সোনামুখ করতে বলে, না, আমরা বুঝে শুনে বাসা দেই, যাকে তাকে তো আর বাসায় উঠতে দিতে পারি না। প্রচন্ড খাট্টা মেজাজ নিয়ে ডেলাওয়ার ফেরত যাই, এর মাঝে এরা নাকি তাদের ২-৩ সপ্তাহ সময় লাগবে আমার কাগজপত্র জাচাই বাছাই করতে। আমার স্ত্রীকে জানিয়ে দেই, তাদের চলে আসতে হবে মাস শেষ হবার আগে।

অনেক খেচালত করে এইখানে বাসা নেই, বাসা নেবার সাথে সাথে পাশের বাসায় ভদ্রমহিলা বলে, তুমি নিচতালায় ভাড়া নিচ্ছ? তাহলে "গুডলাক"! দীর্ঘ ৬ বছর আমেরিকায় থেকে এটুকু বুঝে গেছি, যেখানে গুডলাক, সেখানে বিবিধ গিয়াঞ্জাম। কিন্তু বুঝে পাইনা, এখানে আবার কি সমস্যা? এরপর আস্তে আস্তে জানতে পারি যে আমাদের উপর তালায় এক বয়স্ক দম্পতি থাকেন তাদের মেয়েকে নিয়ে। প্রথমে তাদের মেয়েকে দেখে মনে করেছিলাম, সেই মনে হয় বৃদ্ধা, পরে বুঝতে পারলাম, না এটা মেয়ে, তার মা আরো বয়স্কা। স্বামী স্ত্রী ২জনেই অশীতিপর বৃদ্ধ, তবে দাদামিয়া এখনো গাড়ি চালান। তাদের মেয়ে নাকি পাড়ার দজ্জাল, কারণে অকারণে হাউ কাউ তুল-কালাম কান্ড পাকানো নাকি তার নেষা এবং পেষা। আমি ঢোক গিলে চিন্তা করি, যাক, আমার সাথে গ্যাঞ্জাম না করলেই চলবে, এরপর হঠাৎ একদিন মাঝ রাতে দেখি ব্যাপক চিৎকার চেঁচামেচি, কারণ সে তার বাবামার সাথে ঝগড়া করছে, পুরা জিনিসটাই এক তরফা, এই মেয়ে ব্যাপক স্বরে চিৎকার করে যাচ্ছে, উলটাপিঠে কোন আওয়াজ শুনতে পাইনি, এই নাটক এখন প্রায় নিত্যরাতের সাথী।

আস্তে আস্তে আশে পাশের পড়শিদের সাথে পরিচয় হতে শুরু করল, তাদের কাছ থেকে আরো মজার ঘটনা জানতে পারলাম। আমাদের উপরওয়ালী নাকি কমবেশি সবার সাথেই কোমর বেঁধে ঝগড়া করেছে, আমার সাথে যদিও এখনো সেই মোলাকাত হয়নি। মাঝে মাঝে চিৎকার শুরু করলে ভাবি ৯১১ এ একটা ফোন করে মজা নিব কিনা! পড়শিদের কাছ থেকে আরো জানতে পারলাম, যে বাসায় উঠেছি, এটা নাকি বেশ অনেকদিন খালি পড়ে আছে, কারণ এখানে ৩ জন লোক থাকত, ছেলে-বাপ-দাদা। বাসা নাকি দাদার নামে ভাড়া ছিল, দাদা মারা যাবার পর বাপ-বেটা থাকত। দাদা মারা যাবার ২মাস পরের ঘটনা, বেটা কোন এক কাজে অন্য শহরে গিয়েছিল, এর মাঝে নাকি তার বৃদ্ধ বাবা মারা যায় এবং মৃত্যুর পরে বেশ কয়েকদিন বাসায় পড়ে ছিল, পড়ে নাকি বৃদ্ধের লাশ পচে গন্ধ বের হবার পর পড়শিরা ঠোলা-মামাদের ডাক দিয়ে দরজা খুলে তার লাশ উদ্ধার করেছে। এরপর বেটা শোকে পাগলপ্রায় হয়ে বাসা ছেড়ে চলে গিয়েছে, তার নাকি ভয়, এখানে থাকলে সেও মারা যাবে, মরে পড়ে থাকবে, কেউ জানবেও না।

my sanctuary
আমার এখনকার বাসা চোখ টিপি

submerged 2
বৃষ্টি হলে এখানেও পানি আটকে যায় ঢাকার মত

my road
আমার বাসার রাস্তা
rainy day
বৃষ্টিভেজা দিনে আমার বাসার সামনে


মন্তব্য

সাফি এর ছবি

ডাগদর সাব কৈ থে আইলেন? তিন নাম্বার ছবিটা খুবই ভাল লেগেছে, কিন্তু ছবিগুলায় কন্ট্রাস্ট মনে হয় অনেক বাড়াইসেন?

সাইফ তাহসিন এর ছবি

২ লম্বরডা এক্কেরে ২ লম্বরি, ৩ লম্বরটা এইভাবেই তোলা, ৪ লম্বরটা HDR

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সাফি এর ছবি

কী ২নম্বরি আছে?

সাইফ তাহসিন এর ছবি

২ লম্বরের আসল ছবিটা এক্কেরে যা-তা, তাই ব্রাইটনেস-কন্ট্রাস্ট সহ আরো কিছু জোড়াতালি দিয়া দাড়া করানো

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

স্বপ্নাদিষ্ট এর ছবি

বৃষ্টি হলে এখানেও পানি আটকে যায় ঢাকার মত

যাক! তাইলে আমরা খুব একটা পিছাইয়া নাই... হাসি

-স্বপ্নাদিষ্ট
=======================
যে জাতি নিজের ভাগ্য নিজে পরিবর্তন করে না, আল্লাহ তার ভাগ্য পরিবর্তন করেন না।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

নিউ ইয়র্ক ঢাকা থিকা পিছায়া আছে

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

শেষ?!
ভাবছিলাম কেবল শুরু!

বাসা ভাড়া নিয়ে বিস্তারিত লেখেন। অনেকের কাজে লাগতে পারে।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

অনেকদিন পর লিখতে বইসি বস, লেখা বাইর হয় না

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

শাব্দিক এর ছবি

দুই লম্বরি দুই লম্বরটা ভালইসে।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

অনিকেত এর ছবি

সেই আতঙ্কের আর অনিশ্চয়তার মুহূর্তগুলো আবার যেন অনুভব করলাম!
কী এক সময় গিয়েছে!!
পিপিদা'র সাথে একমত---আরো বিস্তারিত লেখো এই নিয়ে। অনেকের কাজে লাগবে।

শুভেচ্ছা রইল বস।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

হ মিয়া, আপনার চেয়ে ভালু আর কে জানে ইয়ে, মানে...

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

প্রদীপ্তময় সাহা এর ছবি

আরও লেখেন ।
আর খুব ভালো থাইকেন ।

গুড লাক খাইছে

সাইফ তাহসিন এর ছবি

হ মিয়া, সবাই যেমনে গুডলাক দিতাছেন, বুইড়া আইজ রাইতেই হানা দিব

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

আপ্নে যে বাঁইচা আছেন ঠাহর হয়না! আন্নেরে মিস্কর্ছিলাম হাসি
মামুদের লগে মোলাকাতের নতুন কাহীনি নাই? সিরিজটা চালায়া দেন না হাসি

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

সাইফ তাহসিন এর ছবি

মামুদের লগে মোলা-কাইত হয় এখনো, তয় সেগুলা নিয়ে লিখা হইতাছে না, ভাবতেছি বসুম আরেকদিন

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

shafi.m এর ছবি

হ্যা, শুভ ভাগ্য দেঁতো হাসি শেষের ফটোটা আর ২ নম্বরটা ভাল লাগছে। বিভ্রাটের আরো গল্প বলেন পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

শাফি।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

বাসা বিভ্রাটের গফ কম করাই ভালো, পাগল রে সাঁকো নাড়াইতে নিষেধ করার মত আরকি, পরে যদি দাদা মিয়ারা আর বাইর না হয়

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

গুল্ডাক্ ! হাসি


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

সাইফ তাহসিন এর ছবি

চোখ টিপি
শয়তানী হাসি

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সচল জাহিদ এর ছবি

অনেকদিন পর সাইফ।

আমি আগে যখন একা থাকতাম প্রায় আড়াই বছর এক এপার্টমেন্টে আরেকজনের সাথে শেয়ারে থাকতাম। দুইজনই বাংলাদেশি হওয়াতে আমাদের বাসা ছিল বাংলাদেশি ছাত্রদের আড্ডাখানা। সেখানে প্রায়ই উচ্চস্বরে গানপ বাজনা আর আড্ডা হতো। মাঝে মাঝে নৃত্যকালাও স্থান পেত দেঁতো হাসি । আমাদের উদ্দাম নৃত্য কলা কিংবা উচ্চস্বরে সংগীতের মুর্ছনায় বিরক্ত হয়ে বেশ কয়েকবার নিচতলার মানুষও ( আমাদের ভাষার ফ্রিক, নিরস মানুষ, আনন্দ বুঝেনা) উপরে চলে আসত অভিযোগ জানাতে। একবারত পুলিশ ডাকার হুমকিও দিল, কিন্তু কে শোনে কার কথা, কিছুদিন শান্ত হই আবার সেই নৃত্য গীত (!!) চর্চা।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

আর বইলেন না জাহিদ ভাই, প্রায় মাগনা কামলা পাইলে সেরাম কইরা খাটায়, কোনমতে বাসায় আইসা ঘুমাই আর সকালে উইঠা কামে যাই, তাই বাকি সব বান্ধা পড়ছে মন খারাপ

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

তাপস শর্মা এর ছবি

বাসা বদলের ও থাকার এই আজব কাহিনী শুনে মজা পেলাম। যদিও এদিকেও অবস্থা বেশী একটা সুবিধার না, দেঁতো হাসি

সাইফ তাহসিন এর ছবি

হে হে, আর কইয়েন না

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

ফাহিম হাসান এর ছবি

ফাঁকিবাজ মানুষের ফাঁকিবাজি পোস্ট

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

তার সাথে (পঁচা কিনা তাও বোঝা যায়না) এমন কিছু ছবি চোখ টিপি

সাইফ তাহসিন এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সাইফ তাহসিন এর ছবি

খ্যাঁক খ্যাঁক খ্যাঁক!

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

নীড় সন্ধানী এর ছবি

অনেকদিন পর সাইফের পোষ্ট! আছেন কেমন?

ভাবছিলাম 'তেনা'দের সাথে সাক্ষাতের একটা বিবরণ থাকবে ছবি সহ, হতাশ হলাম মন খারাপ

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

সাইফ তাহসিন এর ছবি

আরে গুরু, কেমন আছেন, কিঞ্চিত দৌড়ের উপরে আছি, এখন ছুটি পেয়ে একটা লেখা নামাইলাম
তেনার দেখা পাবার আশায় দিন গুনতেছি, কিন্তু আমার গালিগালাজ খাবার ভয়ে লেজ তুলে পালিয়েছে

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।