হুমায়ুন নামার প্রসঙ্গে

অনিকেত এর ছবি
লিখেছেন অনিকেত (তারিখ: মঙ্গল, ০৬/১১/২০০৭ - ৮:৫৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

নীচের লেখাটা আদতে 'হুমায়ুন নামাhttp://www.sachalayatan.com/guest_writer/9989
লেখাটার মন্তব্য করতে গিয়ে লেখা। শেষে দেখলাম ফুলে ফেঁপে বিশাল হয়ে উঠছে। তাই আলাদা পোষ্ট হিসেবে দিয়ে দিলাম।

আশা করছি 'সচলায়তন' কর্তৃপক্ষ তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন!
=============================
লেখাটা খুব ভালো লাগল।

আমাদের দেশের সাহিত্য সংস্কৃতিতে কি ভুমিকা রেখেছেন বা বাঙ্গালির 'জীবন বোধ' নিয়ে তার কি রকম চিন্তা, এই জাতীয় গুরু গম্ভীর ও 'যুক্তিযুক্ত' আলোচনা না করে আমরা সাধারনতঃ কোন লেখক কে পাস মার্ক দিতে চাই না।

আমি নিজে তার একজন বিশাআআআআআল ভক্ত। আমার কৈশোর, যৌবন তার লেখার ছত্র ছায়ায় কেটেছে। হুমায়ুনের কারনে হঠাৎ করেই এদেশের মানুষ বুঝতে শুরু করল যে 'সাহিত্য' মানেই উচ্চ ভাব বা উচ্চ চিন্তা বা দেশ উদ্ধার এ জাতীয় মহৎ অনুভুতির বহিঃপ্রকাশ হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। 'সাহিত্য' শব্দটি 'সহিত' থেকে আসা। মানে যা আমাদের 'সাথে সাথে' চলে(খুব সম্ভবত)। হুমায়ুনের আগে আমাদের দেশে হয়ত খুব মান সম্পন্ন সাহিত্য হয়েছে। কিন্তু হুমায়ুন এসে জানালেন, আমাদের সাহিত্য বিশেষ করে উপন্যাস অত্যন্ত আড়ষ্ট ও জরদ্গব।

হুমায়ুন খুব ছোট বাক্যে, হাল্কা হাসির আমেজ দিয়ে উদ্ভাসন করলেন আমাদের মধ্যবিত্ত জীবনের কিছু মর্মস্পর্শী দৃশ্য। আমাদের মধ্যবিত্ত সমাজ তা সাদরে আমন্ত্রন জানাল।

হুমায়ুনের আগে, বিটিভির 'এ সপ্তাহের নাটক' ছিল তথাকথিত সমাজদর্শনের নামে নিম্নোক্ত বিষয়াবলীর অহরহ উপস্থাপনঃ

১। সন্তান বাবা মা কে দেশে ফেলে রেখে বিদেশে স্থায়ী হয়েছে। তার বঞ্চনার কথা মনে করে ৪৫ মিনিট করে পালাক্রমে মা ও বাবা চরিত্রদ্বয়ের ক্রন্দন।

২। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সৎ পিতা তার সততার মুল্য হিসেবে নিগ্রহীত জীবন যাপন করেন। তার ছেলে বখে যাওয়া, মেয়ে মাস্তান প্রেমিক এবং স্ত্রী মুখরা।

৩। উপরের ১ নংটি আবার পড়ুন।

আমাকে শুধু শুধু গালি দেবার আগে, বা হুমায়ুনের কোন গুপ্ত P R ভাবার আগে, একটু স্থির হয়ে ভেবে দেখুন।
সে সময় হয়ত অনেক ভালো নাটক হয়েছে কিন্তু হুমায়ুনের মত একের পর এক 'মন ছুয়ে যাওয়া' নাটক আর কে উপহার দিতে পেরেছেন?

সে সময়ের ঈদের নাটক মানেই ছিল উচ্চনাদে বাঁধা আমজাদ হোসেনের 'জব্বার আলী' গং। সে সময়ে ঐটাই ছিল আমাদের হাস্যরসের সংজ্ঞা। হুমায়ুন এসে প্রথম আমাদের ঐ গ্রাম্য ভাড়ামো থেকে মুক্তি দিলেন।

কিন্তু ..........

হ্যাঁ, কিন্তু! হুমায়ুন খুব দ্রুত তার নিজের প্রেমে পড়ে গেলেন। তার পরবর্তি সময়ের নাটক আর উপন্যাস ধীরে ধীরে একই বৃত্তে ঘুরপাক খেতে শুরু করল।

এখন আপনি চোখ বন্ধ করে বলে দিতে পারেন হুমায়ুনের নাটকে কী ঘটতে চলেছেঃ

--- নাটকে একজন 'অবশ্যম্ভাবী' পাগল থাকবেন।
--- অতিদ্রুত আপসেট হতে পারেন, এমন কোন পিতা।
---- প্রায় ৯০% নিশ্চিত থাকতে পারেন, নায়িকা হবে ১৮ কি ১৯ বছরের কোনো 'খেয়ালী' কিশোরী।

---- নায়ক হয় বাউন্ডুলে, নয়ত অব্যাখাত মহাপুরুষ Syndrome এ আক্রান্ত কোন যুবক।

উপন্যাসের ছকটা এইরকমঃ

----- খুব ক্ষমতাবান কেউ তার পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে গেছেন প্রত্যন্ত কোন গ্রামে। সেই খানে গিয়ে পরিবারের কোন এক মেয়ের বিপর্যস্ত প্রেমজীবনের আলেখ্য রচনা। উদাহরন- আমার আছে জল,তুমি আমায় ডেকে ছিলে ছুটির নিমন্ত্রনে প্রভৃতি।

--- এক একান্নবর্ত্তি পরিবারের (অবশ্যই Dysfunctional) কিছু পাগল, আধ-পাগল সদস্য এবং তাদের কাহিনী। উদাহরন- আমাদের সাদা বাড়ি, মন্দ্র সপ্তক প্রভৃতি।

--- নিম্নবিত্ত পরিবার, যেখানে পরিবারের কম বেশী সবাই পরিবারের কোন এক সদস্যের(অধিকাংশ ক্ষেত্রে বড়মেয়ে বা বড় ছেলে) উপর সাংসারিক বা মানসিক ভাবে নির্ভর। সংসারের কথা ভেবে নায়ক বা নায়িকার বিশাল আত্মত্যাগ। উদাহরন-- জনম জনম,আশাবরী প্রভৃতি।

আমি লিস্টিটা আরো লম্বা করতে পারি, কিন্তু মনে হয় আপনারা আমি কি বলতে চাইছি তা ধরে ফেলেছেন।
হুমায়ুন সব সময়ে(পড়ুন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে) তার এই বাঁধা ছক থেকে বেরুতে চাননা। তিনি এমন ভাবে একের পর এক গল্প লিখতে থাকেন একই ফর্মা মাথায় রেখে যে মনে হয় তিনি ঐ Particular form টিকে বার বার মক্‌শো করে নিখুত করে তুলতে চাইছেন।

আমার বরাবরকার ধারনা এই যে, সাফল্যই মানুষের সব চাইতে বড় শত্রু। হুমায়ুনের 'পতন' শুরুর মুল কারন এই সাফল্য। একের পর এক সাফল্য ---- নাটক, উপন্যাস, শেষে চলচ্চিত্র, সবকিছু হুমায়ুনকে মাটি থেকে কিছুটা আলাদা করে দিয়েছে। বর্তমানে তার লেখা উপন্যাস পড়লে যে কেউ আমার সাথে একমত হবেন। তার সাম্প্রতিক লেখা পড়ে মনে হয়েছে, তিনি তার পাঠককুল কে খুব নীচু চোখে দেখছেন। তার ভংগীটি এমন--- আমি ছাইপাশ যাই লিখিনা কেন, তোমাদের তা গিলতে হবে এবং বইমেলায় ৭/৮ টি সংস্করন বের হবে।

তার এই complacency এর জন্য তিনি যত না দায়ী, আমরাও কিন্তু কম দায়ী নই। হুমায়ুনের পক্ষে সম্ভব ছিল শুধু আমাদের দেশের নয়, সমগ্র বাংলা ভাষাভাষীদের একজন অনন্য মুখপাত্র হবার। কিন্তু তিনি তা হেলায় উপেক্ষা করেছেন। হয়ত সাহিত্য সংস্কৃতি তার কাছে কখনই খুব serious কিছু না, নয়ত তিনি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন।

কিন্তু আমাদের অন্তত এই সম্মানটুকু তাকে দিতে হবে যে, বাংলা উপন্যাসের গাঁথুনীর আর ভাষার আড়ষ্টতা থেকে তিনি আমাদের প্রগলভতার উন্মুক্ত প্রান্তরে মুক্তি দিয়েছিলেন।

তাকে আমাদের এই সম্মানটুকুও দিতে হবে যে, তার মত এমন বহুস্পর্শী ও সর্বত্রগামী মানুষ আমরা খুব কম পেয়েছি আমাদের মাঝে('আমাদের মাঝে' শব্দগুচ্ছ কঠোর ভাবে বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য)।

আমার মনে হয়, হুমায়ুনের যতটুকু করার, তিনি তা করে গিয়েছেন। এখন সময় নুতুন কাউকে হাল ধরার।

সবশেষে, হুমায়ুন নিয়ে আলাপ উঠলে তার ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিগত জীবনের কথা এসেই পড়ে। আমার মনে হয়(আমার মনে হয়, আমি "আমার মনে হয়" বাক্যটি প্রায় ১ কোটিবার ব্যবহার করে ফেলেছি এই লেখায়-ক্ষমাপ্রার্থনীয়) তাকে শুধু তার সৃষ্টি কর্ম দিয়েই আমাদের বিচার করা উচিত। আমাদের নিজস্ব ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমরা নিজেরাও তো চাইব না সবার মনোযোগের কেন্দ্র হতে। জীবন খুব একটা সহজপাচ্য নয়।
আমাদের সারাটাখন কাম,ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ(এইটা কতটুকু প্রাত্যহিক, সে বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে) মাৎসর্য নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হয়। দিনের শেষে, হুমায়ুন আমারি মত এক লোক--- ষড়রিপুর দংশনে আকন্ঠনীল মানবাত্মা।

সবাই তো আর নীলকন্ঠ হয়না।


মন্তব্য

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

আরে ভাই, আমিতো হুমায়ূননামা লিখে বসে আছি গতকাল থেকে। কিন্তু কি এক কারণে আমার নাকি সব কোটা শেষ তাই পোস্ট করতে পারছিনা। এর মধ্যেই আপনি নামিয়ে দিলেন। আমারও একই অবস্থা হয়েছে, কমেন্ট এত বড় হয়ে যায় দেখে ভাবলাম পোস্ট হিসেবেই দিব। আপনি দেয়ায় তো আরো কদিন অপেক্ষা করতে হবে। নাইলে আমার পোস্টকে প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দেয়ার একটা বড় সম্ভাবনা আছে।

অনিকেত এর ছবি

অনির্ধারিত এই ঝামেলা করে ফেলার জন্য দুঃখিত।
কিন্তু আপনার লেখা পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।

কালোবিড়াল এর ছবি

আমি আপনার সাথে ভিন্নমত পোষন করি। নব্বই এর আগে বিটিভির নাটকের মান যথেষ্ট ভালো ছিল বলেই আমি মনে করি। মামুনুর রশীদ, আব্দুল্লাহ্‌ আল মামুন, মোস্তফা, হুমায়ূন ফরীদি, আবুল হায়াত, আসাদুজ্জামান নূর, ফেরদৌসী মজুমদার, আফজ়াল হোসেন, সুবর্ণা মুস্তফা-বাংলা নাটকে এঁদের যে কারো সামগ্রিক অবদান হুমায়ুন আহমেদের চাইতে বেশি বলে আমি মনে করি। হুমায়ুনের বিখ্যাত সিরিজ নাটকগুলোতে তাঁর কন্ট্রিবিশন শুধু নাট্যকার হিসাবে, পরিচালনা/প্রোযোজনায় থাকতেন নওয়াজিশ আলী খান এর মত দক্ষ পরিচালকেরা। একটু খেয়াল করে দেখবেন হুমায়ুনের নাটক ফ্লপ করা শুরু করে যখন থেকে তিনি ক্যামেরার পিছনে দাড়ানো শুরু করেন; সেটা আমজাদ হোসেনের ভাঁড়ামি মার্কা নাটক গুলোর সমসাময়িক। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক '৯০ এর আগে কিছু নাটক তৈরি হয়, যার সমকক্ষ পরবর্তিতে আর দেখিনি।

অনিকেত এর ছবি

এইটা আপনি ভালো ধরেছেন। আমি ভেবে দেখলাম যে সত্যিই হুমায়ুন নিজে থেকে যখন নাটক লেখা, পরিচালনা এবংবিধ সমস্ত কাজ করা শুরু করেছেন, তখন থেকেই তার সীমাবদ্ধতার শুরু। হুমায়ুন নিজে আসলে নাটক/চলচ্চিত্র পরিচালনার ব্যাপারে খুব উৎসাহী। তার বিভিন্ন স্মৃতিকথায় এই ব্যাপার গুলো বার বার উঠে এসেছে। সেই উৎসাহের বশেই কি না কে জানে, উনি নিজে পরিচালনায় চলে এলেন।

আমি কিন্তু হুমায়ুনের আগের যুগের নাটক ঢালাও ভাবে 'বাজে' বলিনি। আমি যেটা বলতে চেয়েছি তা হলো, হুমায়ুন এসে আমাদের নাটকগুলোর প্রচলিত কাঠামো ভেঙ্গে দিয়ে সাধারন মানুষের গ্রহনযোগ্যতার খুব কাছে নিয়ে এসেছিলেন।

আবারো বলছি, আমি কিন্তু অস্বীকার করছি না যে, হুমায়ুন-পূর্ব যুগে কোনো ভাল নাটক হয়নি।

দিগন্ত এর ছবি

আপনার টেম্পলেটগুলো সুন্দর হয়েছে। ঠিকই বলেছেন, সব গল্পই প্রায় ওই একই ছাঁচের হয়ে গেছে।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

হুমায়ুন আসার আগে বাংলা টিভি নাটক মানসম্পন্ন ছিল না - এই ধারনাটা ভূল। সত্তরের দশকের শেষে আর আশির দশকের শুরুতে কিছু চমতকার সাপ্তাহিক নাটক বিটিভিতে আসতো। 'আমার জল মহাল কই?!' - এই ডায়ালগটা কার কার মনে আছে? বুড়ি রওশন জামিলকে মরে যাবার জন্যে পাহাড়ে রেখে আসা হচ্ছে, তিনি পাথর দিয়ে ঠুকে ঠুকে নিজের দাঁত ভেঙ্গে ফেলছেন, কার কার মনে আছে?
সাপ্তাহিকের মত ধারাবাহিক নাটকেও একই কথা প্রযোজ্য - 'এই সব দিন রাত্রি'র মত হয়তো হয় নাই, কিন্তু 'সকাল সন্ধ্যা' বেশ পপুলার ছিলো। হুমায়ুন জনপ্রিয়তার একটা ভিন্ন লেভেলে যেতে পেরেছিলেন ঠিক। কিন্তু সস্তা পাল্প ফিকশন লিখে লিখে তিনি তার বিরাট লেখনী ক্ষমতার অপব্যয় করেছেন।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

সুমন চৌধুরী এর ছবি

সকাল-সন্ধ্যা বাদ বাকবিটার সাথে একমত। সকাল সন্ধ্যার তুলানায় হনুমানের বাজে নাটকও ভালো।



ঋণম্ কৃত্বাহ ঘৃতম্ পীবেৎ যাবৎ জীবেৎ সুখম্ জীবেৎ

অতিথি লেখক এর ছবি

আমার মনে হয় হুমায়ূন টিভি নাটকের ক্ষেত্রে একটি অবদান রেখেছেন, এবং সেটি হচ্ছে উনি অতি দক্ষতার সাথে আমাদের রুচিটিকে নামিয়ে এনেছেন। ফল হিসেবে প্রায় প্রতিটি বর্তমান টিভি নাটক বা সিরিয়ালেই দেখা যায় উদ্ভট চরিত্রের সমাহার আর সুড়সুড়ি দিয়ে হাসানোর ব্যর্থ চেষ্টা। একসময় বিটিভিতে দুর্দান্ত সব নাটক দেখানো হোত। উদাহরণ হিসেবে "রক্তের আংগুরলতা" , "কাস্কেটে কারুকাজ", "পারলেনা রুমকি", "শুভা" এসবের নাম বলা যেতে পারে। আমি বহুদিন দোকানে গিয়ে এইসব নাটকের ভিডিওর খোঁজ করেছি, পাইনি। এখনকার দর্শকেরা এগুলো দেখলে বুঝতে পারতেন যে আমরা কত ভাল জিনিস দেখতাম একসময়।

অমিত এর ছবি

সুবিনয় মুস্তফী লিখেছেন:
'আমার জল মহাল কই?!' - এই ডায়ালগটা কার কার মনে আছে? বুড়ি রওশন জামিলকে মরে যাবার জন্যে পাহাড়ে রেখে আসা হচ্ছে, তিনি পাথর দিয়ে ঠুকে ঠুকে নিজের দাঁত ভেঙ্গে ফেলছেন, কার কার মনে আছে?
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

হঠাত্ করে এই দৃশ্যটা মনে পড়ে গেল। কোন নাটকে ছিল ?
_____ ____________________
suspended animation...

হিমু এর ছবি
সুমন চৌধুরী এর ছবি

দৃইটা দুই নাটকরে কথা।
প্রথমটা মামুনুর রশীদের এখানে নোঙর। পরেরটা মহাপ্রস্থানের পথে। নাট্যকারের নাম ভুলে গেছি।



ঋণম্ কৃত্বাহ ঘৃতম্ পীবেৎ যাবৎ জীবেৎ সুখম্ জীবেৎ

হিমু এর ছবি

হুমায়ূন আহমেদের লেখনীসাফল্য মূলত ছোটগল্পে, ছোট পরিসরের গল্পে। খুব কঠিন একটা ক্ষেত্রে তিনি দুর্দান্ত কিছু গল্প লিখেছেন, সেটি হচ্ছে হরর। বাংলা হরর গল্পের সেরা লেখা বাছাই করলে তার একাধিক গল্প ওপরের সারিতে স্থান পাবে সম্ভবত। তবে তিনি উপন্যাস আদৌ লিখতে পারেন না, যা লেখেন তা একটা বড় গল্পের স্খলিত বিস্তৃতি হয়ে যায়। আর এখন তিনি প্রায় নিঃশেষিত, ফ্লাই হুইলে চলছেন বলা যায়, পুরনো খ্যাতির সঞ্চয় ভাঙিয়ে। যাদের পাঠজীবন হুমায়ূনময়, তারা পঠনে ব্যাপক আলস্যচর্চা করেছেন। এভাবে বলার জন্য দুঃখিত, তবে এ কথা সত্য। বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূনের আগেই অনেকে অনেকভাবে একে আড়ষ্টতামুক্ত করেছেন।

তবে লেখকের লেখা নিয়ে আলোচনায় তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলাপ রীতিমতো কুরুচিকর, পড়লে গা গুলায়।


হাঁটুপানির জলদস্যু

সুমন চৌধুরী এর ছবি

ঠিকাছে।
টিভি নাটকের ক্ষেত্রে কমু কোথাও কেউ নেই থিকা তার অবনতি শুরু।



ঋণম্ কৃত্বাহ ঘৃতম্ পীবেৎ যাবৎ জীবেৎ সুখম্ জীবেৎ

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।