কেন একজন জাফর ইকবাল হওয়া এত কঠিন?

অনিকেত এর ছবি
লিখেছেন অনিকেত (তারিখ: সোম, ০৫/০৩/২০১৮ - ১০:০৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আহা রে---এই লোকটার এত ভালো হবার কোনই দরকার ছিল না! ছোট দেশের ছোট ছোট মন নিয়ে ঘুরে-বেড়ানো মানুষ আমরা। বড় মাপের মানুষ এই দেশে আঁটবে কেন? সারাজীবন গোলাপ ফুল, কমলালেবু এঁকে যারা বড় হয়, তাদেরকে হঠাৎ করে ভ্যান গগের সানফ্লাওয়ার দেখতে দিলে তারা এইটাকে উঁচুদরের শিল্প বলে মানতেই চাইবে না। আমরাই সেই লোক যারা মর্ডান বা পোষ্ট-মর্ডান আর্ট ফর্ম নিয়ে সস্তা রসিকতা করি---সেই লক্ষ-কোটি বার বলা 'তেলাপোকার গায়ে রং মেখে ছেড়ে দিয়েছিলাম--পরে দেখি সেইটা কম্পিটিশনে ফার্স্ট প্রাইজ জিতসে'-জাতীয় সস্তা রসিকতা করি।

কেন?

কারণ খুব সোজা! এমন কোন কিছু যা আমাদের প্রচলিত বিশ্বাস-ধারণা-প্রথাকে চ্যালেঞ্জ করে তা আমাদের মানতে কষ্ট হয়। গ্রামের কলেজে যাদের পড়াতাম তারা তাই আন্তরিক ভাবেই জানতে চাইত আমি কোনদিন নকল করেছি কি না। নকল জিনিসটা না করেও পরীক্ষা পাশ করা যায়--এইটা তাদের কাছে অবিশ্বাস্য ব্যাপার! এছাড়াও আমরা যদি এমন কিছুর মুখোমুখি হই--যা আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে চ্যালেঞ্জ করে--প্রশ্নের মুখোমুখি করে--যে চ্যালেঞ্জে হেরে গেলে নিজেকে সকলের সামনে গাবড়-গাঁইয়া ভূত বলে উপস্থাপিত হবার ভয় থাকে--সেখানে আমরা চ্যালেঞ্জটা সফল ভাবে বা স্পোর্টিঙ্গলি মোকাবিলা করার চেয়ে অফেনসিভলি নিয়ে নিই।

আর সেই কারণে এবস্ট্রাকট আর্টের শিল্পীকে নিয়ে আমরা মশকরা করি, যারা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের চর্চা করেন, তাদের নিয়ে হাসাহাসি করি, আর কেউ খেটেখুটে কোন নতুন কিছু লিখে নিয়ে এলে--সেটা যে আসলে নতুন কিছুই না, 'পশ্চিমের দেশে' লোকজন এইসব আগেই করে ফেলেছে' এই জাতীয় স্তোকবাক্য শুনাই নিজেদের।

আমাদের এই বিপন্নতা, আমাদের এই ক্ষুদ্রতা, আমাদের এই নীচতা আমাদের কেবলই বিকল আর বিফল করে।

এই রকম একটা দেশে জাফর স্যার থাকাটা শুধু বেমানান নয়, বিপদজনক। আজ দেশের প্রায় অর্ধেক লোক তাকে ঘৃণা করে আর অর্ধেক বাসে ভালো। ঘৃণার দল বরং একটু ভারীই হতে পারে।

সতেরো বছর আগে আমি পৃথিবীর পথে বেরিয়ে পড়েছিলাম--তাঁর মত একজন হবো বলে। সতেরো বছর পর--আমি তার কিছুই হতে পারিনি এবং আমি আরো গভীরভাবে বুঝতে শিখেছি, একজন জাফর স্যার হওয়া কত কষ্টকর। খালি প্রতিভা আর পড়াশোনা জানা থাকলেই জাফর স্যারের মত হওয়া যায় না। বাইশটা বই পড়ে জাফর স্যারের গল্পের সাথে তুলনা টানলেই তাকে ছোট করা যায় না।

জাফর স্যার হতে হলে নিজের বাপের কবর নিজে খুঁড়তে হয় --নিজের মায়ের সামনে। নিজের পিতার লাশের পা থেকে মোজা খুলে এনে মা-কে দেখাতে হয়--বলতে হয়, মা, বাবা আসলেই মারা গেছেন। জাফর স্যার হতে হলে আঠেরো বছর পর স্রেফ 'বৃষ্টির শব্দ শুনব' বলে আমেরিকা ফেলে দেশে চলে আসতে হয়। জাফর স্যার হতে হলে--যাদের জন্য জীবনপাত করছেন, তাদের গালি খেয়ে, মার খেয়ে, অপমানিত হয়েও দাঁত কামড়ে দেশে পড়ে থাকতে হয়। জাফর স্যার হতে হলে সবার সামনে ঘাড়ে মাথায় ছুরির কোপ খেয়েও উঠে দাঁড়িয়ে বলার শক্তি রাখতে হয়, আই এম অলরাইট, তোমরা উত্তেজিত হয়ো না। স্ট্রেচারে করে যখন তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রক্তস্রোতে এক চোখ প্রায় বুঁজে এসেছে--সেই সময়েও বলেছেন, দেখো, ছেলেটাকে যেন ওরা মারধোর না করে! এই কথাটা বলছেন সেই ছেলের জন্য যে একটু আগেই তার মাথায় ঘাড়ে ছুরি মেরেছে।

জাফর ইকবাল হওয়া তাই সম্ভব নয়। কোন মাদ্রাসা, কোন বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে জাফর ইকবাল হওয়া যায় না। কোন দল করে জাফর ইকবাল হওয়া যায় না। আজকের বাংলাদেশের অন্ধ বিকলাঙ্গ নপুংসক ক্লীব সমাজে জন্ম নিয়ে জাফর ইকবালের ছায়া মাড়ানোরও যোগ্যতা আপনি অর্জন করতে পারেন না। পেট্রো ডলারের মুত্রে ভাসা দাঁড়িওয়ালা মর্ষকামী হুজুরের চোখ টাটায়। কারণ সে জানে ঐ লোকের ধরা ছোঁয়ার মধ্যে যাওয়ার তার ক্ষমতা নেই। সারা জীবন যে অন্ধত্ব সে লালন করেছে, যে অন্ধত্ব লালন করা সে শিখেছে, যে অন্ধত্ব সে শেখাতে জানে---সে অন্ধত্ব দিয়ে আলোর সরণীতে হাঁটার যোগ্যতা আসে না।

তাদের পক্ষে যা সম্ভব--তারা তাইই করেছে।
পেছন থেকে কাপুরুষের মত ছুরি চালিয়েছে।
এইটুকুই তারা পারে।
এইটুকুই তারা করে।

১৯৭৫ থেকে ৯০ পর্যন্ত যে অমানিশার মাঝে দেশ নিমজ্জিত ছিল--সে অমানিশা জন্ম দিয়ে গেছে কোটি কোটি শুয়োর ছানার। ৭১ এর যুদ্ধে যে শুয়োরের দল বেইমানি করেছিল--বেইমানি করে হেরেছিল, রোদ চশমা পরা লোভী প্রতারক জড়িত উচ্চারণে কথা বলা এক মেজর সেইসব শুয়োরদের পুনর্বাসিত করেছিল--তার অবধারিত বীভৎস পতনের পরও আমাদের দেশটা মুক্তি পায় নি অন্ধকার থেকে--কারণ আরো এক ক্লীব তস্কর এসে ক্ষমতায় বসেছিল।

এই বিপুল সময়ের ব্যবধানে তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আমরা এমন কিছু প্রজন্ম পেয়েছি যারা নিজের দেশ নিয়ে গর্বিত হতে শেখেনি। তাদের শেখানো হয়েছে যুদ্ধে হেরে গিয়ে কুকুরের মত দু'পায়ের ফাঁকে লেজ গুটিয়ে চলে যাওয়া শ্বাপদরা আমাদের চেয়ে 'ভাল মুসলিম'। 'ভাল মুসলিম' হবার সাধনায় আমরা দিনের পর দিন কাটালাম--জন্ম দিলাম নানান গর্ভস্রাবের। রক্তের মাঝে বিষ ঢুকিয়ে শেষ করে দিলাম আমাদের জাতির সকল গৌরব চিহ্ন। আর দিনের পর দিন শাসন করতে লাগলাম টপ দুর্নীতিবাজ দেশের মসনদটি। এত হাদিস কোরান আর মাদ্রাসায় ধর্ম পড়িয়ে এই হচ্ছে ফলাফল। দেশের সুসন্তানরা হল ফয়জুলের মত নির্বোধ গোঁয়ার ছেলে। একুশে টিভির সেই উপস্থাপকের মত লোক। হুজুর হয়ে অজাচার করে বেড়ানো নূরানী চেহারার সেই শুয়োর যে বলেছিল 'ঘুমের মাঝে কোন কিছুর ঠিক থাকে না আমার'

এরা! এরা হচ্ছে আমাদের দেশের উৎপাদন। আমাদের নষ্ট-ভ্রষ্ট দেশের গর্ভস্রাব।

এরা কী করে ছোঁবে জাফর ইকবালকে?

তাঁকে ছোঁয়া যায় না, তাঁর মত হওয়া যায় না বলেই তাকে 'ষাড়' ডেকে সস্তা রসিকতা করার চেষ্টা করা, প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে তার একলা বৃষ্টিতে ভিজতে থাকার দৃশ্যে তাই সবার গায়ে আগুন ধরে যাওয়া আর সবশেষে পেছন থেকে কাপুরুষের মত ছুরি মারা ---

এত কিছুর পর হয়ত, খুব আশা করছি, প্রাণমনে কামনা করছি--এই লোকটা এই কুৎসিত দেশটা ছেড়ে চলে যাবে। তার জীবনের বাকী বছর গুলো অন্তত কোথাও শান্তিতে কাটাবে পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে---যেখানে তার স্ত্রীর হাত ধরে বিকেলে সে হাটতে পারবে নিশ্চিন্তে, পুর্ণিমা রাতে উথাল-পাথাল চাঁদের আলোয় বেসুরো গলায় গান ধরতে পারবে বারান্দায় দাঁড়িয়ে, পথে চলতে, কাজে যেতে, ঘরে ফিরতে তাকে পেছন ফিরে ফিরে দেখতে হবে না কোন ক্রুর সুরমা দেওয়া চোখ আর ছাগলা দাড়ি তার পিছু নিয়েছে কিনা।

আমি যদি এই লোকটাকে ৯৫% ও চিনে থাকি--তাহলে আমি জানি তিনি এসব কিছুই না করে এই কৃতঘ্ন দেশে থেকে যাবার চেষ্টা করবেন।

আজ থেকে বিশ বছর আগে আমি যখন তাকে জিজ্ঞেস করে করে ক্লান্ত করে ফেলেছিলাম তখনো প্রতিবার তিনি হাসি মুখে বলছিলেন, কী করব বলো? দেশের বৃষ্টির শব্দটা এত ভালো লাগে--আর কোথাও এটা পাইনা---

জাফর ইকবাল--এই লোকটা--যার মত হওয়া সম্ভব নয়, যাকে কেবল হিংসা করতে পারে আজকের বাংলাদেশ, যাকে হত্যার নীল নকশা আঁকতে পারে আজকের বাংলাদেশ, নির্বাচন সামনে রেখে লোভী দুই নেত্রী নানান হিসেব-নিকেশ কষতে পারে---সেই লোকটা সকল কাঁটা তুচ্ছ করে রয়ে যেতে চায় এই দেশেরই এক প্রান্তে--কারণ তার বৃষ্টির শব্দটা বড় প্রিয়---আর বৃষ্টির কথা ভাবতে ভাবতে কোন এক শুক্লপক্ষ রাতে সে ঘুমিয়ে পড়তে চায়----

না, আপনার, আমার--কারো পক্ষেই জাফর ইকবাল হওয়া সম্ভব নয়।

তাই তাকে আপনি ঘৃণা করেন, হিংসা করেন--তার কথা ভেবে ছুরিতে শান দেন---

আর আমি কেবল নত মস্তকে দূর থেকে মৃদু গলায় বলি, আহা রে, এই লোকটা এত ভাল কেনে ?!!


মন্তব্য

সুমন_সাস্ট এর ছবি

গত ডিসেম্বরে দেশে গিয়ে গল্প গুজবের এক পর্যায়ে জাফর স্যারের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, রিটায়ারমেন্টের পরে ওনার পরিকল্পনা কি? বললেন, ওনার ইচ্ছা বাংলাদেশের কোন একটা গ্রামে থাকতে যাওয়া। তো উনি আপনার কথামতো,

তার জীবনের বাকী বছর গুলো অন্তত কোথাও শান্তিতে কাটাবে পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে---যেখানে তার স্ত্রীর হাত ধরে বিকেলে সে হাটতে পারবে নিশ্চিন্তে, পুর্ণিমা রাতে উথাল-পাথাল চাঁদের আলোয় বেসুরো গলায় গান ধরতে পারবে বারান্দায় দাঁড়িয়ে

সবই হয়তো করতে চাইবেন, কিন্তু যা বললেন আবার, সেটা ‌উনি করতে চাইবেন নিজের দেশেই।

আমি ২০০২ সালে উনার ডিপার্টমেন্টের ছাত্র হিসাবে যাত্রা শুরু করেই বলেছিলাম, "স্যার, আমি আপনার মতো হতে চাই, কি করতে হবে শুধু বলে দিয়েন!" স্যার বলেছিলেন, "তোমার স্বপ্ন এতো ছোট কেন, তুমি আরো বড় কিছু হতে চাও!" পরে আমি জবাব দিয়েছিলাম, "আপনার চেয়ে বড় কিছু আছে কিনা আমার জানা নাই, জানার দরকারও নাই। আমি আপনার মত হতে পারলে জীবনে আর কিছু চাই না।" সেখান থেকে ৫ বছর ছাত্র, আর ৪ বছর কলিগ হিসাবে ওনার সাথে থেকে আমিও বুঝতে পেরেছিলাম,

না, আপনার, আমার--কারো পক্ষেই জাফর ইকবাল হওয়া সম্ভব নয়।

--
মাগো তুমি রেখো জেনে, এই আমরাই দেব এনে,
আঁধারের বাধা ভেঙে রাঙা ভোর, রোদ্দুর মাখা দিন।

http://www.youtube.com/watch?v=8OB_uPY4i4M

অতিথি লেখক এর ছবি

জাফর স্যারের মতন হওয়া সম্ভব নয়। কখনোই নয়। এই লোকটা একা একটা বাতিঘরের মতন সটান দাঁড়িয়ে আমাদের ঠিক-ভুল দিক চিনিয়ে যাচ্ছেন আজ কতগুলো বছর হলো। আমরা এমনই অকৃতজ্ঞ জাতি, তাঁর উপযুক্ত মর্যাদাটুকু তো দিচ্ছিই না আরো তাকে হত্যা করার হাজারো পরিকল্পনা করে চলছি। আমি সত্যিই খুব হতাশ।

অন্তরা রহমান

নীড় সন্ধানী এর ছবি

না, আপনার, আমার--কারো পক্ষেই জাফর ইকবাল হওয়া সম্ভব নয়।

দেশের কথা বাদই দিলাম। শুধু মানুষের প্রতি ভালোবাসার মাপকাঠিতেও এটা একটা অসম্ভব ব্যাপার।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

সোহেল ইমাম এর ছবি

কেউ না কেউ দাঁড়িয়ে থাকে, হয়তো জাফর ইকবাল বা অন্য কেউ। আর এরা যতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন ততক্ষণ জানি বাংলাদেশও আছে, হতাশ হবার কিছু নেই। এই অন্ধকার সময়েও হতাশ হইনা কেননা জাফর ইকবাল আছেন।

---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।

তুলিরেখা এর ছবি

এই লেখাটা পড়ে আমি হেন আধা-রোবটের চোখেও জল এল । ঝমঝম বৃষ্টির শব্দ শুনতে পেলাম, অপরূপ সঙ্গীতের মতন বৃষ্টির শব্দ । তারপরে দেখতে পেলাম বৃষ্টি থেমে গিয়ে মেঘেরা চলে যাচ্ছে আর দিগন্ত থেকে উঠে আসছে মস্তবড়ো গোল চাঁদ । সেই জ্যোৎস্নায় হাত ধরাধরি করে হাঁটছে মানুষেরা, প্রত্যেকে তার প্রিয় মানুষের সঙ্গে ।

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

উত্তর আমেরিকা - ইউরোপ - অস্ট্রেলিয়ার দেশগুলোতে যারা পড়তে বা কাজ করতে গিয়ে থেকে যান, অথবা থাকার জন্যই যান তাদের কেউ কেউ প্রায়ই বলেন দেশে চলে যাবো, এখন থেকে দেশেই থাকবো। যত জন এই কথা বলেন তাদের খুব অল্প অংশ একদিন সত্যি সত্যি তল্পিতল্পা গুটিয়ে দেশে চলে আসেন। অত্যন্ত কুণ্ঠার সাথে বলছি, আমি এই মানুষগুলো দেশে আবার থাকতে পারবেন এমনটা মনে করি না। কারণ, যে সময় পার হয়ে গেছে সে সময়ে দেশের যা পরিবর্তন হয়ে গেছে সেটা তারা বুঝতে পারেন না, অথবা বুঝতে পারলেও মানতে পারেন না। ফলে দেশে আবার টিকে থাকার মানসিকতা আর সক্ষমতাটা তারা গড়ে নিতে পারেন না। এর পরেও অতি নগণ্যসংখ্যক জন দেশে ফিরে আসেন এবং পালিয়ে না গিয়ে সফলভাবে দেশে স্থায়ী হন। এরা শক্ত পাল্লার মানুষ। সবাই তাদের মতো নন্‌। এই শক্ত পাল্লার মানুষদের মধ্যে আরও অতি অল্প পরিমাণের মানুষ আছেন যারা বুনো ষাঁড়ের গোয়ার্তুমি নিয়ে দেশের আবর্জনাগুলো দূর করতে নামেন। কোন কিছুর পরওয়া না করে নিজের সকল শক্তি-সামর্থ্য-মেধা-যোগ্যতা-সম্পদ নিয়ে এই দেশটার, এর মানুষগুলোর ভালোর জন্য অহোরাত্রি পরিশ্রম করে যান। এমন মানুষ কয়েক নিযুতে একজন মেলে। তাই চাইলেই একজন জামাল নজরুল ইসলাম বা একজন মুহম্মদ জাফর ইকবাল পাওয়া যায় না।

সবার অমন কিছু হবার দরকার নেই। চিন্তায় ও কর্মে সৎ থেকে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে গেলে এবং মানবিক আচরণে অভ্যস্ত হলেই চলে।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

বাংলাদেশের শিশু কিশোরদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক, এরচেয়ে স্বস্তির আর কিছু নেই। এই শিশু কিশোররা একদিন বড় হবে, তাঁদের মানসিকতা আর আচরণ ভিন্ন হবে বর্তমান বাংলাদেশ থেকে। এটুকু নিশ্চিত জানি... খুব ধীরে ধীরে তিনি একটি বিরাট প্রজন্মকে লাইনে নিয়ে এসেছেন এবং আসছেন।
আরো অনেক বছর তাঁর বেঁচে থাকাটা তাই জরুরী।

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

অতিথি লেখক এর ছবি

"আর আমি কেবল নত মস্তকে দূর থেকে মৃদু গলায় বলি, আহা রে, এই লোকটা এত ভাল কেনে ?!!"

আর কতকাল?
-বৃদ্ধ কিশোর

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA