| ‹ পুরোনো ব্লগ | সব ব্লগ | নতুন ব্লগ › |
আমার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা সম্ভবতঃ বেশ দুর্বল। এটা আমার স্ত্রীর দাবী। আমি নাকি কারো সাথে কারো চেহারার মিল বুঝতে পারি না। মেন্ডেল সাহেব যেখানে মটরশুটির সাথে মটরশুটির চেহারার মিল বুঝতে পারতেন, সেখানে আমি ২টা মানুষের মিল বুঝবো না – এই কথাটা মেনে নেওয়া কষ্টকর! তবে এটা ঠিক যে, লোকজন যেভাবে ভুমিষ্ট হওয়ামাত্র শিশুর মুখ দেখে বলে দেয়, ‘একদম বাবার মতোন হয়েছে’, কিংবা ‘পুরা মায়ের চোখ কেটে বসানো হইছে’ তখন আমার নিজেকে বেশ বেকুব বেকুব লাগে! আমার স্ত্রীর আরোও দাবী, এই সমস্ত মিলগুলো আমি ধরতে পারি শুধু জমজদের ক্ষেত্রে! কথাটা ঠিক হতেও পারে। কারণ, বাংলা সিনেমাতে দেখতাম, রাজ্জাকের ছেলে বড় হয়ে আরেকটা রাজ্জাক-ই হয়। কিংবা অমিতাভের সন্তানকে অবিকল অমিতাভের মতোই দেখায়! এইসব ক্ষেত্রে দাঁড়ি-গোঁফের ছলচাতুরী থাকলেও পিতা-পূত্র মিলিয়ে নিতে আমার তেমন অসুবিধা হয় না।
স্বীকার না করলেও বুঝতে পারি, শুধু মানুষের চেহারা মিলানো নয়, ইমপ্রেশন বুঝতেও আমার মাঝে মাঝে সমস্যা হয়। আমি চট করে কারো চেহারা দেখে বুঝতে পারি না যে, সে আমার ওপর রেগে আছে নাকি খুশী হয়ে আছে। এই সমস্যার কারণে আরবী ক্লাসে স্যার শব্দার্থ জিজ্ঞেস করলে আমি উত্তর দিয়ে ওনার বেতের দিকে তাকিয়ে থাকতাম উত্তরটা সঠিক হয়েছে কি না বোঝার জন্য। গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতোন, স্যারের চশমাটা ছিল মোটা লেন্সের। সেটা ভেদ করে স্যারের চোখের ইমপ্রেশন নেওয়া ছিল বিরাট ঝক্কির ব্যাপার! ফলে বেতের গতিবিধি দেখেই উত্তরের সঠিকতা নিরুপন করা লাগতো। সঠিক হলে সেটা নীচু হয়ে থাকতো। নইলে তেড়ে আসতো আমার দিকে।
একই সমস্যার কারণে জার্মানীতে এসে অনেকদিন পর্যন্ত আমি জানতামই না যে, আমার রুমের সামনে, রাস্তার অপরপাশের বিল্ডিং এ একজোড়া আদম-হাওয়া বাস করতো এবং তারা সময়ে অসময়ে জানালার পর্দা না ফেলেই জৈবিক তৃষ্ণা নিবৃত করতো।
ডরমিটরীতে আমার রুমটা ছিল সতীর্থদের আড্ডার জন্য একটা তীর্থস্থল টাইপের জায়গা। আড্ডার জন্য উপযুক্ত সময় ছিল শুক্রবারের রাত। গোটা সপ্তাহের কর্মব্যস্ততা ঝেরে ফেলে আমরা ঐদিনটায় একত্র হতাম। ২০০৩ সালের মাঝামাঝি এমনই এক আড্ডায় জনৈক বড়ভাই আবিষ্কার করলেন যে, আমার রুমের জানালা দিয়ে পাশের বিল্ডিং এর ভেতরের স-ব কিছু (?) নাকি দেখা যায়। ওরা কখন কি করে, কিভাবে করে, কতোক্ষণ ধরে করে – ইত্যাদি স-ব। অবশ্য ঘটনাটা আমার চোখ এড়িয়ে যাবার জন্য আমি নিজেকে যতোটা দায়ী করবো, তার চে অনেক বেশী সাধুবাদ দেবো ঐ বড়ভাইয়ের শকুন চোখকে! কারণ, সরাসরি দৃশ্যটা দেখা সম্ভব না, দেখার জন্য মাছির মতোন বৃত্তাকারে অগুণিত চোখ থাকা চাই। বাসাটা আমার ঠিক মুখোমুখি নয়। যাহোক, ঘটনা জেনে আমি নিজে খুব একটা সারা শব্দ করতে না চাইলেও ঐ বড়ভাই মুহুর্তেই খবরটা চাউর করে দিলো। ভুত থেকে ভুতে গোটা শহরে ঢিঁ ঢিঁ পরে গেল!
১৫-২০ মিনিটের মধ্যে আমার রুমটা ঢাকা শহরের পাসপোর্ট অফিসের মতোন লোকে লোকারণ্য হয়ে গেল। ডরমের বিবাহিত এবং অবিবাহিত নির্বিশেষে গোটা ১৫ পোলাপাইন আমার রুমের জানালায় ঝাঁপিয়ে পরলো। হাশরের ময়দানে নাকি সূর্য দেড় হাত ওপরে থাকবে। অথচ ঐরকম তেজী আলোতেও কেউ নাকি কাউকে চিনবে না! ঘটনার সত্যতা খানিকটা হলেও উপলব্ধি করলাম কারণ, এই জীবদ্দশাতেই সেই দৃশ্য আমাকে দেখতে হলো! নিজ গৃহে চরমভাবে উপেক্ষিত আমাকে কেউ তেমন পাত্তাই দিচ্ছিল না। শারীরিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী না হওয়াতে জানালার কাছাকাছি হবার কোনও সুযোগ পাচ্ছিলাম না। উপরন্তু, ‘এতোদিন আমি সব একা একা ভোগ করছি’, ‘কাউকে কিছুই জানাই নাই’ – জাতীয় অভিযোগের তুবড়ি ছুটতে থাকায় ভয়েই আর এগোবার সাহস পেলাম না! সবাই চা ফেলে এখন অন্য সুধা পানের তৃষ্ণায় ব্যকুল। জার্মানীতে জানালায় গড়াদ থাকে না। ফলশ্রুতিতে একেবারে আন-ইন্টারাপ্টেড ওয়াইড স্ক্রীণ ভিউ!
মনে মনে ভাবছিলাম, ‘শালার এইরকম লাইভ বায়োস্কোপ আমার চোখে এদ্দিন ক্যান পরলো না! বাইরের রাষ্ট্রের লোকজন এসে সব সম্পদ আবিষ্কার করে ফেলছে, অথচ আমি বেকুবের মতোন হাত-পা মুঠ করে বসেছিলাম?!!’
এরই মধ্যে হঠাৎ কে একজন বললো, এইখান থেকে দেখা গেলে তো ব্যালকনি থেকে আরো ভালো দেখা যাবে। বলা দরকার যে, আমাদের কিচেনের সাথে একটা লাগোয়া ব্যালকনি ছিল। ওখানে সামারে ‘গ্রীল পার্টি’ করতাম আমরা। ব্যালকনিতে গেলে ঘটনাস্থলের সাথে কৌনিক দূরত্ব আসলেই অনেকটা কমে যাবে! সুতরাং যেই বলা সেই কাজ। আমার জানালা প্রায় ফাঁকা হয়ে গেল! ২/১ জন লেগেই রইলো, ব্যালকনি থেকে ‘ভালো দেখা যাচ্ছে’ –সূচক রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত তারা এই জায়গাটি হারাতে চায় না।
ব্যালকনি থেকে পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেল। সবাই ছুটলো সেদিকে।
সন্ধ্যা বেলা। কিন্তু শীতপ্রধান দেশে এই সময়টা গাঢ় অন্ধকার গ্রাস করে সবকিছু। অন্ধকারের মধ্যেই দেখছিলাম ভুতের ছায়ার মতো ব্যালকনিতে গোটা ১৫ মাথা খালি এদিক থেকে সেদিক করছে। বিবাহিত একজনকে দেখলাম চেয়ার টেনে ওইটার ওপর দাঁড়িয়েছে। বুঝলাম না, বিবাহিতদেরও এতো আকর্ষণ কেমনে থাকে! আর অদূরে রাস্তার অপর পাশের বাড়ির ভেতরটাতে তখন ২জন মানুষ গোসল শেষ করেছে। ব্যালকনি থেকে বাড়িটার বেডরুম, বাথরুমের খানিকটা আর সংলগ্ন করিডোরটা পরিস্কার দেখা যাচ্ছে। হালকা কমলা আলো জ্বলছে বেডরুমে। ‘বস, এটা কি আগের গোসল, নাকি পরের?’ বিবাহিত বড়ভাইয়ের উদ্দেশ্যে প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিল কেউ একজন। ‘চুপ! জানি না। এহন ডিস্টার্ব দিও না। দেখতে থাকো’।
ঐ যে মাইয়াডা বাইর হইছে বাথরুম থেকে!
হায় হায় … … সব দেখা যায় তো!
ঐ চুপ! কিসের সব দেখা যায়! তয়লা আছে গায়ে। বেশি দেহস না?!
ওহ্ সরি। স্কীন কালার তো, বুঝি নাই।
আস্তে!....শ.শশশশশ….
ঐ যে পোলাডাও বাইর হইছে বাথরুম থেকে …
হু … ঐ যে
রুমের দিকে যায়!
হু…এহনি হবে!
এরপর কিছুক্ষণ আর কথাবর্তা নেই কারো মুখে। ঘরটার গরাদবিহীন জানালা গলে দুর্বল মৃদূ কমলা আলো খুব বেশী দূর যেতে পারেনি। ফলে অদূরে কোনও বিল্ডিং এর অন্ধকার ব্যালকনিতে সেই সময় ১৫ জন যুবকের রুদ্ধশ্বাস হৃৎকম্পন জানালার ওপাশের ২ জন শুনলো না। কিন্তু সেই কম্পন ক্রমশঃ বাড়ছিল -- প্রাচীনতম যুগলবন্দী’র তালে তালে।
দৃশ্যগুলো যুবকদের পরিচিত। খুবই পরিচিত। কম্পিউটার-মনিটরের জায়গাটা দখল করেছে গরাদবিহীন কাঁচের জানালা। পার্থক্য শুধু ঐটুকুই।
২
একদম ঠিক কথা অয়ন। এখানে আসার আগে যা যা কুকথা শুনেছি এই দেশটা সম্পর্কে, তার সবই সত্যি!
___________________________
বুড়োরা সবাই সমস্বরে বললো, "নবজন্ম", আমি চাইলাম "একটা রিওয়াইন্ড বাটন"
৩
আব্বু ! আমি জার্মানী যাব!
---------------------------------
ছেঁড়া স্যান্ডেল
৪
যাদের দেশেই এতো প্রাপ্তি, তাদের আবার বিদেশ লাগে?!
![]()
___________________________
বুড়োরা সবাই সমস্বরে বললো, "নবজন্ম", আমি চাইলাম "একটা রিওয়াইন্ড বাটন"
৫
বাপরে...এতো দেখি স্মৃতির ভয়াবহ বিপর্যয়! ![]()
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
খুঁজে যাই শেকড়ের সন্ধান…
৭
ব্যাপক হইসে বস।
খুব ভাল লাগসে... আর মনে একটা প্রশ্ন জাগছে...
জর্মন দেশের মত এরকম বেসম্ভব কায়কারবারের জায়গায় থেকেও আমাগো ধু.গোধু গুরু খালি শালী শালী করে ক্যান ![]()
---------------------------
থাকে শুধু অন্ধকার,মুখোমুখি বসিবার...
৮
কোথায় শা-দা চামড়া আর কোথায় শা-লী।
বুঝেন না?! ![]()
___________________________
বুড়োরা সবাই সমস্বরে বললো, "নবজন্ম", আমি চাইলাম "একটা রিওয়াইন্ড বাটন"
৯
ক্যান যে জর্মন দেশে গেলাম না!!
=========
স্পর্শ
১০
সবার দেখি একই আফসোস!
___________________________
বুড়োরা সবাই সমস্বরে বললো, "নবজন্ম", আমি চাইলাম "একটা রিওয়াইন্ড বাটন"
১১
দুইটা গামছা বুরখা বানাইছি প্রখ্যাত ডিজাইনার রাসেন ভাইকে দিয়ে থুক্কু আপা কে দিয়ে... এবার কন কেমতে ফাঠামু আফনার কাছে?
১২
হা হা হা!
অনেক বুরখা লাগবো তাইলে। দিয়া কুলাইতে পারেবন না!
আপাততঃ ছবির ২জনের ব্যবস্থা হইতে পারে!
___________________________
বুড়োরা সবাই সমস্বরে বললো, "নবজন্ম", আমি চাইলাম "একটা রিওয়াইন্ড বাটন"
১৩
হ, জার্মানি এইবার যাইতেই হইবো। ওই ঘটনার পরে কে কে বাইনোকুলার কিনেছিলো, সেই কাহিনী কবে পাচ্ছি?
লেখা মারাত্মক সাবলীল এবং রসালো।
আরবী ক্লাসে স্যার শব্দার্থ জিজ্ঞেস করলে আমি উত্তর দিয়ে ওনার বেতের দিকে তাকিয়ে থাকতাম উত্তরটা সঠিক হয়েছে কি না বোঝার জন্য।
১৪
জার্মানী যাইতেইইই হইবো?!! ![]()
___________________________
বুড়োরা সবাই সমস্বরে বললো, "নবজন্ম", আমি চাইলাম "একটা রিওয়াইন্ড বাটন"
১৫
সাদামাটা ঘটনার সরস বর্ণনার ক্ষেত্রে জেরোম কে জেরোম-মার্কা প্রতিভা আপনার আছে। তাই আপনার লেখা পড়তে গেলে মুখটা হাসি-হাসি হয়ে যায় আপনা থেকেই
তবে
জানালার পর্দা না ফেলেই আদিম তৃষ্ণা নিবৃত করতো।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আমি একগামী পুরুষ। একমাত্র নারীদের ভালোবাসি
১৬
গুরু অপরাধ মার্জনা।
তয় একটা অজুহাত কিন্তু দিতে পারমু।
লেখার ঐ জায়গাটা থেকে পাঠককে অন্যরকম কিছুর স্বাদ দেওয়া শুরু করছি।
অর্থাৎ তৃষ্ণাটার কাল সম্পর্কে আপনার সাথে আমি পুরা একমত, শুধু পাঠকের সাথে যোগাযোগের সুবিধার্থে ... ...
আপনিই কন, আদিম শব্দটা বাদ দিলে লেখাটার "ফোর্স" অর্ধেক কমে যায় কি না!
আপনি যদি তাও না মানেন, তাইলে এডিট করুমনে।
___________________________
বুড়োরা সবাই সমস্বরে বললো, "নবজন্ম", আমি চাইলাম "একটা রিওয়াইন্ড বাটন"
১৭
আমি শব্দটা বাদ দিতে তো বলিনি। তবে বদলানোর চিন্তা করে দেখতে পারেন। জৈবিক, জান্তব টাইপ কোনও শব্দ ব্যবহার করে।
অযাচিতভাবে নাক গলানোর জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আমি একগামী পুরুষ। একমাত্র নারীদের ভালোবাসি
১৮
অযাচিত মোটেই নয় সন্যাসী জী।
আপনার মন্তব্য/অনুযোগ/উপদেশ সবই শিরোধার্য।
বদলে দিলাম শব্দটা ![]()
___________________________
বুড়োরা সবাই সমস্বরে বললো, "নবজন্ম", আমি চাইলাম "একটা রিওয়াইন্ড বাটন"
১৯
শিরোধার্য? ঠিকাছে ![]()
ভাগ্যিস অন্য কোনও অঙ্গে ধারণের কথা বলেননি
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আমি একগামী পুরুষ। একমাত্র নারীদের ভালোবাসি
২০
![]()
আপনার সাথে কথায় পারবো এই দুরাশা আমি করি না।
___________________________
বুড়োরা সবাই সমস্বরে বললো, "নবজন্ম", আমি চাইলাম "একটা রিওয়াইন্ড বাটন"
২১
জার্মানি তে তাইলে কোন ভেজাল নাই। সবই লাইভ! আহা! স্বপ্নের দেশ...
_________________________________
ভরসা থাকুক টেলিগ্রাফের তারে বসা ফিঙের ল্যাজে
২২
হায়রে যদি পুরাপুরি বুঝাইতে পারতাম আপনারে! ... কতোখানি নির্ভেজাল ..
___________________________
বুড়োরা সবাই সমস্বরে বললো, "নবজন্ম", আমি চাইলাম "একটা রিওয়াইন্ড বাটন"
২৩
যে কয়জন দেশে থাকতো তারাও এই লেখা পড়ার পর পাসপোর্ট অফিসের সামনে লাইন দিয়েছে। শাকের খেতটা কি না দেখালেই চলছিল না আপনার?
লেখাটা দারুণ। সবচেয়ে বেশী হেসেছি "বস, এটা কি আগের গোসল, নাকি পরের?" লাইনটি পড়ে।
_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।
২৪
হাহাহাহাহা!
আপনার মন্তব্যে (বিপ্লব)
আর বেশী কিছু বলার নেই ![]()
___________________________
বুড়োরা সবাই সমস্বরে বললো, "নবজন্ম", আমি চাইলাম "একটা রিওয়াইন্ড বাটন"
২৫
আমি মুগ্ধ হয়ে বেদম হাসতে হাসতে লেখাটা পড়লাম। অসম্ভব মজার!
.....................................................................................
সময়ের কাছে এসে সাক্ষ্য দিয়ে চ'লে যেতে হয়
কী কাজ করেছি আর কী কথা ভেবেছি..........
২৬
বেদম আনন্দ নিয়ে আপনার কমেন্ট পড়লাম।
ধন্যবাদ।:-)
___________________________
বুড়োরা সবাই সমস্বরে বললো, "নবজন্ম", আমি চাইলাম "একটা রিওয়াইন্ড বাটন"
২৭
হাহাহা বেশি জোশ লেখসেন ![]()
-----------------------------------------
রাজামশাই বলে উঠলেন, 'পক্ষীরাজ যদি হবে, তা হলে ন্যাজ নেই কেন?'
২৮
ধন্যবাদ ![]()
___________________________
বুড়োরা সবাই সমস্বরে বললো, "নবজন্ম", আমি চাইলাম "একটা রিওয়াইন্ড বাটন"
২৯
বড় হইছি মিরপুরে... গাবতলী টার্মিনাল আর মাজারের মাঝখানে... ঐ অঞ্চলে তখন সর্বোচ্চ ভবন ৪তলা... তাও হাতে গোনা... বেশিরভাগই টিনশেড... বাঁশের বেড়া... অথবা ইঁট সিমেন্টের দেওয়ালে টিনের চালা... দেওয়ালেও আস্তর থাকতো না অনেক বাড়িতেই...
এলাকার বর্ণনা দেওনের কারন হইলো... প্রত্যেক রাইতেই গোটা দুয়েক টিম বাইর হইতো... তাদের নাম ফুটা বাহিনী... প্রত্যেক ঘরের কোথায় কোথায় ফুটা তাহা তাহাদের মুখস্ত... কোন ঘরে দম্পত্তি শোয় সেইটাও... ফুটা না থাকলে কায়দা কইরা ফুটা করা হইতো বিশেষ বিশেষ এ্যাঙ্গেলে... সে এক অসাধারণ শিল্পকর্ম...
এই নিয়া আবার সিনিয়র জুনিয়র ঝামেলাও হইতো...
তবে আমি কিন্তু অতীব ভালো ছেলে... পরনারীর দিকে তাকাই না...
৩০
বাহিনী আকারে না থাকলেও এরকম ফুটা সন্ধানী বয়স সবাই বা অনেকেই পার করে বলে আমার ধারণা ![]()
পরনারীর দিকে তাকাইলে কি হয়?
___________________________
বুড়োরা সবাই সমস্বরে বললো, "নবজন্ম", আমি চাইলাম "একটা রিওয়াইন্ড বাটন"
৩১
কানাডায় থাকুম না ![]()
................................................................................
objects in the rear view mirror may appear closer than they are ...
৩২
হু অতো ঠান্ডায় ওইখানে নিশ্চই কেউ আদম-ঈভের ড্রেস পরতে চা্য় না। ![]()
___________________________
বুড়োরা সবাই সমস্বরে বললো, "নবজন্ম", আমি চাইলাম "একটা রিওয়াইন্ড বাটন"
৩৩
- এক শুক্কুরবার রাইতে ঘরে ফিরতাছি। হঠাৎ লগের জন কয় 'ঐ যে দেহ, দুষ্টুকাম করতাছে...' চোখ তুইলা চাইয়া দেখি- পুরা ফকফকা আলোতে, পর্দাহীন জানালার পাশে, আদমের ব্যাটা আর হাওয়ার কন্যা। আমি কই, আমার ওযুর বদনাটা কই?
আরেক সন্ধ্যায়, এক বন্ধুর ছোট্টতম গৃহের বারান্দায়। ঝুলন্ত বিছানায় শুইয়া শুইয়া চানাচুর ভর্তা খাইতেছিলাম। সর্বদা নড়ন্ত চোখের কোণায় ধরা পড়লো আবরনহীন হাওয়া সন্তান, জলকেলীতে মগ্ন। গরমের কাল হওয়াতেই কি না বুঝা গেলো না, জানালায় বিন্দুমাত্র বস্ত্র নাই। উপভোগ করলাম সেই অপরূপ দৃশ্যও মুখ খুলিয়া। বন্ধু আসিয়া কহে, "থাকিলাম আমি এতোদিন ধরিয়া, কখনোই দেখিলাম নাতো বাহে।" ![]()
_________________________________
<সযতনে বেখেয়াল>
৩৪
১. আপনার এই কমেন্টগুলা টেস্টিমোনিয়ালের কাজ করবো আমার লেইগা।
২. আপনিও বোধ করি আমার সেই বন্ধুর মতোন মাছি চক্ষুবিশিষ্ট্য ![]()
৩. ধন্যবাদ ধূ.গো.
___________________________
বুড়োরা সবাই সমস্বরে বললো, "নবজন্ম", আমি চাইলাম "একটা রিওয়াইন্ড বাটন"
৩৫
সংসারে এক সন্ন্যাসীর এই মতটির সঙ্গে আমি ভয়াবহরকমে একমত, আপনার লেখায় একটা জেরোম কে. জেরোম টাইপ দুর্ধর্ষ বর্ণনার ভঙ্গি আছে। বিনা দ্বিধায় পাঁচ তারা! বর্ণনার এই সহজতা শক্তিটাকে কাজে লাগিয়ে আরো কিছু দিন না এরকম...
--------------------------------------------
বুদ্ধিমানেরা তর্ক করে, প্রতিভাবানেরা এগিয়ে যায়!
৩৬
মৃদুল, আরও কিছু অলরেডি আছে। স্মৃতিবিপর্যয় সেকূয়েলটা পড়তে পারেন।
মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ![]()
___________________________
বুড়োরা সবাই সমস্বরে বললো, "নবজন্ম", আমি চাইলাম "একটা রিওয়াইন্ড বাটন"
৩৭
অসম্ভব রকম ভালো লাগল। সত্যি! মুগ্ধ হয়ে পড়লাম। এবং ভক্ত হয়ে গেলাম
আপনার বাকি লেখাগুলাও খুব তাড়াতাড়ি পড়তে হবে। আপনার গল্প বলার ধরণটা এত সাবলীল!
বিনা দ্বিধায়, পাঁচ তারা
১
জার্মানী যাওয়া দরকার