ভয়ের নাম 'গণিত'

অরফিয়াস এর ছবি
লিখেছেন অরফিয়াস (তারিখ: শনি, ১০/১০/২০১৫ - ৭:১২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: ইহা একটি ফুল, পাখি, লতা, পাতা জাতীয় ব্লগ। মিশ্র ভাষার দোষ এর জন্য আগেই ক্ষমাপ্রার্থী।

অনেকদিন ব্লগ লিখিনা, এই ভেবেই মনে হল একটু কিবোর্ড গুঁতাই। আজকে ফেসবুকে মুর্শেদ ভাইয়ের একটা পোস্টে গণিত সম্পর্কিত আলোচনায় নিজের কিছু স্মৃতি মনে পড়ল। ভাবলাম তাই লিখি টুকটাক।

গণিতে খুব একটা খারাপ ছিলাম না আগে। কিন্তু এই বিষয়টা আমার খুব একটা পছন্দের কিছু না। করতে না হলেই ভাল লাগে টাইপ। যেমন, পোলাপান জানে দুধ স্বাস্থ্যের জন্য ভাল কিন্তু বাপ মা জোর করে না গেলানো পর্যন্ত গিলতে চায়না। বিজ্ঞজনেরা বলে, এই মহাবিশ্বে একটাই ভাষা আর সেটা হচ্ছে গণিত। আমাদের চারপাশের সব কিছুই নাকি গণিতের ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব। কথাটা আসলে সরলীকরণ হলেও, আসলেও তা মোটামুটি সম্ভব। তো গণিতের সাথে সেই স্কুল এর সময় থেকে একটা বোঝাপড়া করতে হত প্রতি বছর নতুন ক্লাসে। টিচার যতই ডাণ্ডার ভয় দেখায় আমার ততই গণিতের প্রতি ভালোবাসা কমতে থাকে। ফলস্বরূপ বার্ষিক পরীক্ষার খাতায় আণ্ডা আর বাসায় আমার উপরে বাপ-মার মার্শাল আর্ট চর্চা। তো এইরকম করতে করতে কোনমতে অষ্টম শ্রেণীতে পদার্পণ। তখন এক দাদা বাসায় অঙ্ক বুঝাতো আর চর্চার উপরে খুব জোর দিত। সেইবার মনে হয় পেলাম ৯৯। কেমনে কি কিছুই জানিনা। খালি জানলাম তিন শ্রেণীর বাঘা বাঘা হাই র‍্যাঙ্ক এর পোলাপানের থেকে আমার নাম্বার বেশি, আমি তখন বাপ মার জোরাজুরিতে মুখ কালা করে অষ্টম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষা দেই, হল থেকে বের হয়ে শুনি এই কাণ্ড।

এরপরে নবম এবং দশম শ্রেণীতে আসলো হায়ার ম্যাথ এর কষ্ট। একদিকে সাধারন গণিতেই নাভিশ্বাস, তার উপরে আবার অসাধারন গণিত এর রপ্তানি। আমি প্রতি পরীক্ষায় নিষ্ঠার সাথে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রশ্নের উত্তর না করেই বাসায় আসি। এসে দাঁত কেলাই আর বলি, ইস, যা একখান কঠিন প্রশ্ন ছিল না! তো কোন একটা কারনে ছাত্রদের হায়ার ম্যাথ এর প্রতি এমন ভালোবাসা দেখে প্রধান শিক্ষক প্রাক্তন এক শিক্ষককে দায়িত্ব দিলেন বাঁদর সোজা করার। স্যারকে দেখলে আমার কেন জানি ভয় করত কিন্তু কখনও ভয় পাওয়ার মত কিছু ঘটে নাই। সিনিয়র ক্লাসের ছেলেদের থেকে নানা ঘটনা শুনতাম, স্যার কি করে স্কুলের বাঘা বাঘা বাঁদরদের ক্লাসে শায়েস্তা করতেন, শুনেই অবস্থা টাইট আর কি। তো স্যার আসলেন ক্লাস নিতে, এসেই বলেন, শোন বাবারা, বেসিকে জোর দিতে হবে, বেসিক ঠিক করতে হবে। তখন আমাদের মাধ্যমিকের কয়েক মাস মত বাকি। বেসিকে আর কি জোড়াতালি দিব! কিন্তু না স্যারের ক্লাস আসলেই ভাল ছিল, খুবই সরলভাবে উনি হায়ার ম্যাথ এর বিষয়গুলো বোঝাতেন। একবার বুঝলে আসলে দ্বিতীয়বার দেখার দরকার পড়ত না।

তো স্কুলে টেস্ট পরীক্ষার পরে কিছুদিন এক্সট্রা ক্লাস করানো হল। এর পরে নেয়া হল দুইটা রিভিশন পরীক্ষা সব বিষয়ের। যদিও প্রথম রিভিশনে 'চূড়ান্ত' ফলাফল করে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে কিছু মিষ্টি কথা শোনা হয়ে গিয়েছিল কিন্তু তারপরেও আশা ছাড়ি নাই। সেই কারনে দ্বিতীয় রিভিশন পরীক্ষায় হায়ার ম্যাথে হায়েস্ট নাম্বারধারীর থেকে কিছু নাম্বার কমে দ্বিতীয় স্থানে। আমি নিজেই বোকা। খাতা দেখে পালানোর সময় স্যার এর সামনে। আমি কোনমতে পাশ কাটানোর চেষ্টায়। স্যার ধরে ফেলল, বলে, কি তোমার খাতা তো দেখলাম। ভাল করে পড় বাবা। আমরা তো এই শেষ এর পরে তোমরাই তোমাদেরটা দেখবা। কথাটার মর্ম এখন বুঝি।

মাধ্যমিকে সাধারণ গণিতে খুব বাজে করলাম। পরীক্ষা দিয়ে মন খারাপ। উত্তর করছি মাত্র ৮৭ এর মত। এর মধ্যে এক বিরক্তিকর স্যার বলে কিনা, হে হে আর পাইছ এ প্লাস অঙ্কে। শিক্ষকদের মানসিকতার পার্থক্য কি করে ছাত্রদের উপর প্রভাব ফেলে বলার মত না। এক স্যার এর উৎসাহে গণিতে ভাল আর আরেক স্যার এর এহেন আচরণ। সেই জেদে হায়ার ম্যাথে পুরো উত্তর করলাম। যদিও মাধ্যমিকের খাতা দেখতে দেয় না, তাও চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি এক দুই এর বেশি নাম্বার কাটতে পারবেনা। হু হু বাবা, জেদ আছে। তবে ফলাফলে দেখা গেল দুই গণিতেই এ প্লাস। তার মানে ৮৭ উত্তর করলেও সেখান থেকে খুব বেশি নাম্বার বাদ যায় নাই।

এরপরে কলেজ লাইফে গণিত নিয়ে নানা অভিজ্ঞতা আছে, সেটা আলাদা করে লেখার মত বিশাল কাহিনী। তবে গণিতের প্রতি ভালোবাসা সেই তিক্ত মধুর। কলেজের পরে যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে উদ্যোগ নিলাম তখন অনেকেই বলেছিল, গণিত নিয়ে তোমার যা অবস্থা, গণিতকেই জীবনসঙ্গী করতে চললে হে! তখন না বুঝলেও পরবর্তী বছর পাঁচেকে সেটা ভাল ভাবে বোঝা হয়ে গিয়েছিল। পড়লাম ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং। অঙ্ক ছাড়া কোন কথা নাই। পরীক্ষার হলে থিউরি প্রশ্ন খুঁজি যদি কিছু নাম্বার তোলা যায়। প্রশ্নকর্তা এক কাঠি সরেস, সে থিউরির সাথে সমীকরণ গুঁজে দেয়। ভাবটা এমন, শুধু দেখেই যাবে, ধরতে পারবেনা বাবা। কোনমতে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করি। কষ্টের রেজাল্ট দিয়ে ভাল কোন জায়গায় আরও পড়ার চান্স খুবই কম আর যুদ্ধের ইচ্ছাও তখন প্রায় শেষের পথে।

এর মধ্যেই নানা জায়গায় টুকটাক এপ্লাই এর মধ্যে নিজের সাথে জুয়া খেলার মত করেই মাত্র একটা জায়গায় পদার্থবিদ্যায় মাস্টার্স এ এপ্লাই করলাম। আমার এই উচ্চাশা পাগলেও সমর্থন করবেনা। কিন্তু হাস্যকরভাবে এই পদার্থবিদ্যার ফ্যাকাল্টি থেকেই আমার মত অপদার্থের জন্য এডমিশন লেটার পাঠাল। ভাবটা এমন তুমি কি জুয়া খেল, আস আমরাও একটু তোমার সাথে খেলি। আর আমিও পাক্কা জুয়াড়ির মত এই ফ্যাকাল্টিতেই পড়ব ঠিক করলাম। লে হালুয়া। আমার শুভাকাঙ্ক্ষী লোকজন খুসখুস করে একটা দুইটা কাশি দিয়ে বলার চেষ্টা করে, একটু ভাবলে হয় না! আমার চোখ বন্ধ, উঁহু, পদার্থবিদ্যা পড়েই দেখিনা।

পড়তে এসে প্রথমেই পড়লাম কোয়ান্টাম মেকানিক্সের চক্করে। বাপরে বাপ, সে কি জিনিস। আগে বিজ্ঞ লোকজন কোয়ান্টাম মেকানিক্স নিয়ে এক দুখান কথা বললেই, চোখ গোলগোল করে তাকাতাম। ভাবতাম, নাহ, পুলাটা মাল আছে! এখন নিজে পড়তে এসে দেখি পুরাই মালামাল! যাই কই! সিনিয়রদের প্রশ্ন করি, ভাই, কিছুই তো বুঝি না। এরা বলে ব্যপার না, আমরাও বুঝি নাই!

তবে আসল গণিতের জগতে ঢোকা শুরু হয় তখন। মহাবিশ্বের ক্ষুদ্রতম কণাগুলোর আচার আচরণ বোঝার সাথে সাথে এও বুঝতে শুরু করি এতদিন আসলে গণিতের স্বাদ থেকে বঞ্চিত ছিলাম নানা ভয়ে। টুকটাক তখন অঙ্ক কষি। পুরনো সব কিছু নতুন করে পড়া শুরু করি। লাগে রাহো মুন্নাভাই এর মত লেগে থাকি গণিতের পিছে। হতে হতে কখনও হয়, কখনও হয় না কিন্তু এইবারে মন খারাপ হয় না আর। কারন স্বাদ পাওয়ার শুরু মাত্র।

নিজের গবেষণার বিষয় হিসেবে আমার পছন্দ বায়ো ফিজিক্স। দুঃখজনক হলেও সত্যি ফিজিক্সের তাবৎ বেয়াড়া গণিত এই বিষয়ের অন্তর্গত, তার সাথে আবার বায়োলজি। আমি এইবারে আবারও দাঁত কেলাই। ধাক্কা খেতে খেতে যখন এতদূরে আসলাম, তখন আর ধাক্কার কি ভয়! এক লাফে বায়ো ফিজিক্সে না হলেও প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গবেষণা শুরু অরগানিক বায়ো ইলেক্ট্রনিক্সে। হাইব্রিড এক জগত, আছে সেমিকন্ডাক্টর ফিজিক্স (যাহা আবার এই অধমের কিঞ্চিৎ পছন্দের বিষয়!), সাথে পলিমার কেমেস্ট্রি এবং বায়োলজি। একসাথে তিন তিন খান জগতকে মিলিয়ে কাজ বের করার ধান্দা। তো আর কি, ধাক্কা খেতে খেতে চলি, আজকে না হোক, একদিন হবে। পড়ার আনন্দটাই আসল। শিক্ষা যে কেবল ডিগ্রি সার্টিফিকেট এর জন্য না সেটা একটু হলেও বোঝা দরকার। ডিগ্রিতে ভাল চাকরি মেলে অবশ্যই সেটা অস্বীকার করার সাহস নেই কিন্তু ডিগ্রির চাপে পড়ার আনন্দটা নষ্ট করাটা আমাদের জীবনে যে একটা পুরনো গল্প হয়ে গেছে তার পরিবর্তন জরুরী।

আজকাল পদার্থবিদ্যার বড় বড় গবেষণার পেপার নামিয়ে পড়ি, অল্প স্বল্প বুঝি, বেশির ভাগই মাথার উপর দিয়ে যায়। কিন্তু ভাল লাগে যতটুকু বুঝি। এটার দাম সার্টিফিকেটে না। নিজের গবেষণার নানা পাজল যখন নিজে মেলাতে পারি, ভাল লাগে। দেখাই যাক কদ্দুর কি হয়। বেঁচে থাকতে হলে এই নিরানন্দ পৃথিবীতে ছোট ছোট কিছু আনন্দের উপকরন দরকার।

পড়ার আনন্দে তাই সারাজীবন পড়ে যেতে চাই।


মন্তব্য

স্পর্শ এর ছবি

ভালো লাগলো আপনার স্মৃতিচারণ। স্কুল লাইফে ফেল্টু ছাত্র ছিলাম। নিয়মিত দুয়েকটা সাবজেক্টে ফেইল করতাম। বাংলা ইংরেজী কী যে ভয় লাগত। পরে বুঝতে পারলাম এই সব 'মানবিক' বিষয়ে পাশ করতে যে ধরণের মানবিক গুণাবলি লাগে সেগুলো সম্ভবত আমার কম আছে। বাংলা ইংরেজী এসব কিন্তু গণিতের চেয়ে আসলেই বেশি কঠিন। ভাষার ব্যাপারটা মানুষ জীনগত ভাবে ইনহেরিট করে বলে টের পায়না কী অসাধ্য সাধন করলো এটা শিখে। কিন্তু আমার হয়তো কিছু একটা গড়বড় ছিলো। শিক্ষকরা আর বাবা অনেক গুলো লাঠি-বেত-স্কেল কচা গাছে ডাল ব্যয় করেও সেই গড়বড় ঠিক করতে পারেনি।

বীজগণিত যখন পেলাম ক্লাস সেভেন নাকি এইটে মনে পড়ছে না। বাসার হোমটিউটর কে জিজ্ঞেস করলাম এইসব এ প্লাস বি হিসাব করে লাভ কী? সে খাতায় রকেট থ্রাস্ট এর ইকুয়েশনটা লিখে দিয়ে বলল, এই যে এই সমীকরণ, এটা দিয়েই মানুষ রকেটেচড়ে মহাকাশে যায়। তোমার যদি এসব আগ্রহ থাকে তাহলে বীজগণিত জ্যামিতি এসব শিখতে হবে।

সেই থেকে একটু সিরিয়াসলি গণিত পড়তে শুরু করলাম। এবং অবাক হয়ে খেয়াল করলাম। গণিত অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে অনেক বেশি সহজ। গণিতে স্রেফ যে নিয়মগুলো বলে দিচ্ছে সেগুলো দিয়েই বাকি সব হচ্ছে। ভাষা সাহিত্যের মত অসংখ্য অলিখিত নিয়ম নেই। বরং অল্প কিছু। এই সিমপ্লিসিটিটাই গণিতের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়। আর তারপর তো কত দূর পাড়ি দিলাম।

আপনি যে ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ফিজিক্স এ শিফট করতে পেরেছেন বিষয়টাকে ভালোবেসে, সেই ব্যাপারটা ভালো লাগল। আমার বন্ধুদের মধ্যেও অনেককে দেখেছি ফিজিক্স পড়ার আগ্রহ থাকলেও এই ‘কোয়ান্টাম লিপ’ টা নিতে পারেনি। হয়তো আত্মবিশ্বাস বা সাহসের অভাবে।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

গণিতে স্রেফ যে নিয়মগুলো বলে দিচ্ছে সেগুলো দিয়েই বাকি সব হচ্ছে। ভাষা সাহিত্যের মত অসংখ্য অলিখিত নিয়ম নেই। বরং অল্প কিছু। এই সিমপ্লিসিটিটাই গণিতের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়।

হারামজাদা টাইপের কিছু মাস্টার ঠিক উলটো কথা বলে কচি মাথাগুলো খেয়ে ফেলে... তারপর একসময় তাদের আর ফেরানো যায় না...

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

অরফিয়াস এর ছবি

আসলে কথাটা সত্যি। দেরিতে বুঝলেও বুঝেছি, গণিত সোজা সাপ্টা নিয়ম মেনেই চলে। তবে গণিতের মাথা খাটানোর ব্যপারটাতেই আসল গণ্ডগোল।

আমার বন্ধুদের মধ্যে আমি আর বুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল এর একজন গেলো এস্ট্রোফিজিক্স পড়তে, আরেক বন্ধু যাবে যাবে করছে। সেই হিসেবে আমার সার্কেলে ফিজিক্স পড়তে চাওয়ার লোক বেশ ভালই।

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

একাদশ শ্রেণীতে পড়া পর্যন্ত জীবনের স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে পদার্থবিজ্ঞান পড়বো। দ্বাদশ শ্রেণীতে উঠার পর থেকে আস্তে আস্তে বুঝলাম পদার্থবিজ্ঞান পড়া হয়তো যাবে কিন্তু তাতে বাংলাদেশে থাকলে জীবিকার অনিশ্চয়তা নিশ্চিত। সুতরাং আমাকে এমন কিছু পড়তে হবে যাতে চাকুরির বাজারে কিছু সুবিধা হয়। তারপর যা হবার তাই হলো। পড়াশোনা করার জন্য যদি আরেকটা জীবন পাই তাহলে সেই জীবনে শুধু পদার্থবিজ্ঞান পড়তে চাই।

বাংলাদেশে পড়াশোনা করেছি তাই এখানকার কথা অন্তত বলতে পারি। 'বাংলা' বা 'ইংলিশ' ভাষার মতো উচ্চতর বিজ্ঞানের ভাষা 'গণিত' শেখানোর পদ্ধতি এখানে ভুল। ফলে স্কুলের প্রথম দিন থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিতের ব্যাপারে ভীতি তৈরি হয়, এবং এই ভীতি সারাজীবন থেকে যায়। তাছাড়া গণিতের শিক্ষকরা ঐতিহ্যগতভাবে 'কড়া শিক্ষক' হয়ে থাকেন। বেত-গাছের ডাল-কাঠের ডাস্টারের মতো 'টুল' আর নানা অভিনব প্রকারের শারিরীক শাস্তির মতো 'টেকনোলজি'র সাথে তাদের নিবিড় সম্পর্ক থাকে। ফলাফল, গণিত প্রায় সবার জন্য অধরা থেকে যায়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

পড়াশোনা করার জন্য যদি আরেকটা জীবন পাই তাহলে সেই জীবনে শুধু পদার্থবিজ্ঞান পড়তে চাই।

আমিও

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

অরফিয়াস এর ছবি

গণিতের শিক্ষকদের সাথে কড়া হওয়ার এই সম্পর্কটা আমি বুঝিনা। আমাদের সব থেকে বদ রাগি শিক্ষকদের বেশ কজন ছিলেন গণিতের। কিন্তু গণিতের শিক্ষকদের হওয়া উচিত মাথা ঠাণ্ডার, মাথা ঠাণ্ডা কয়েকজন গণিত শিক্ষকও দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার যদিও। আমাদের স্কুল কলেজে গণিত শেখানোর পদ্ধতি বদলানো আসলেই দরকার কিন্তু কে শোনে কার কথা!

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

হাসিব এর ছবি

আমি ব‍্যবসায় শিক্ষা থেকে গণিত ঘুরে সমাজবিজ্ঞানে থিতু হয়েছি। আমি মাঝে মাঝে এই আগের এক্সপেরিমেন্টেশনটা আনডু করে প্রথম থেকেই সমাজবিজ্ঞান শুরু করলে জীবনটা কেমন হতো ভাবি।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

খুব খারাপ হতো। কারণ, তখন একটা বিষয়ের গভীরে যাবার জন্য অন্য অনেক বিষয়ের অনেকগুলো এলিমেন্টারি জিনিস নিজ উদ্যোগে পড়তে হতো। কখনো কখনো সেই এলিমেন্টারি জিনিসের দুয়েকটা আঙুলের ফাঁক গলে এড়িয়ে গেলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিজেকে 'চাকা আবিষ্কার' করতে হতো। দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মানবিক শাখায় পড়া একজন শিক্ষার্থী স্নাতক পর্যায়ে অর্থনীতি পড়তে নিলে গণিত না জানার দরুণ দুই চোখে সর্ষে ফুল দেখে। আপনি গণিত না জানলে সমাজবিজ্ঞানের অনেক সমস্যাকে ইন্টারপ্রেট করতে আপনার খবর হয়ে যেত। অনেক সমাধানকে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করতে পারতেন না। আমি ইতিহাস বা দর্শনের কিছু বইয়ে দেখেছি একটা সামান্য বিষয় ব্যাখ্যা করতে একটা গোটা অধ্যায় লিখে রেখেছে। অথচ একটা ছোট গ্রাফিক্যাল প্রেজেন্টেশান সেটাকে আধা পৃষ্ঠায় আরও প্রাঞ্জলভাবে ব্যাখ্যা করতে পারতো।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

হাসিব এর ছবি

সমাজবিজ্ঞানে অর্থনীতি হলো একটা বিষয় যেখানে গবেষকেরা দুই নৌকায় পা দিয়ে চলেন। ওখানে গণিতকন্টকিত পন্ডিতের হাত ধরে ঞক্লাসিকাল অর্থনীতির জন্ম। তাত্ত্বিকভাবে এই ঘরানা সলিড মনে হলেও এটাতে সমস‍্যা কম নয় এবং এই গণিতকন্টকিত গবেষকেরা এই সমস‍্যাগুলো সমাধানে বেশি দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেননি।

অর্থনীতি বাদে সমাজবিজ্ঞানের বাকি বিষয়গুলো যেমন রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, নৃতত্ত্বের মধ‍্যেও গণিতকন্টকিত গবেষক রয়েছে। তবে তারা মেইনস্ট্রিম নন। সবকিছু অংক কষে বের করা যাবে না এই জ্ঞানতাত্ত্বিক (epistemological) অবস্থানে থাকা গবেষকেরা ওখানে সংখ‍্যাগুরু এবং তাদের আর্গুমেন্ট আপনি ফেলতে পারবেন না। সংক্ষেপে সমাজবিজ্ঞান এইটা মানে যে ২ + ২ = ৫ হওয়াটা সম্ভব। এখানে মিসিং ১টা আমরা হয়তো দেখতে পাচ্ছি না। বা সেটা ইচ্ছা করেই ঢেকে রাখা হয়েছে। বা এমনও হতে পারে ৫ সংখ‍্যাটা আসলে ৩। কারণ প্রথম যে ২ সংখ‍্যাটা দেখা যাচ্ছে সেটা আসলে ২ নয়, ১। গণিতকন্টকিত অর্থনীতি গবেষকেরা ২ + ২ = ৪ বের করে বাড়ি চলে যাবে। বলবে তারা গুনে দেখেছে ২ + ২ = ৫ ফলটা আসলে ভুল।

আর গ্রাফ পদ্ধতির শর্টকাটে বিপদ আছে। আমার ইলেকট্রিকাল এঞ্জিনিয়ার কলিগদের আর্টিকেলের সাইজ ৩ পাতা হয়। আর আমার ফিল্ডের হয় ৩০ পাতা। এই ২৭টা অতিরিক্ত পাতার কারণ রয়েছে। সমাজবিজ্ঞানে জ্ঞান জিনিসটা প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের জ্ঞানের মতো এতোটা সহজ সরল নয়। আর্গুমেন্ট প্রতিষ্ঠা করতে নানাঘাট ঘোরা লাগে। গল্পগুলো পুরোটা বলতে একটু জায়গা বেশি লাগে।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

আপনার ব্যাখ্যার সাথে পুরোপুরি একমত হলেও সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের গণিত জানার গুরুত্বটা একেবারেই হ্রাস পায় না। গণিত একটা ভাষা, অনুকল্প-সূত্র-সমস্যা-সমাধান-ব্যাখ্যা ইত্যাদি বর্ণনার জন্য কোন না কোন সময়ে গণিতের জ্ঞানটা লাগবেই। ভৌতবিজ্ঞান/প্রকৃতিবিজ্ঞান বলুন আর সমাজবিজ্ঞানই বলুন, কোথাও কিন্তু শেষ কথা বলে কিছু নেই। 'শেষ' বললে চিন্তা, গবেষণা, জানার সেখানেই মৃত্যু ঘটবে। সুতরাং '২' কি আসলেই দুই নাকি এক অথবা তিন সেই সংশয়টা সবার মনেই থাকতে হবে। নয়তো অনেক কিছুই চোখ এড়িয়ে যাবে। অনেক কিছুই আর কখনো জানা যাবে না। দৈনন্দিন জীবনের রাজনীতিতে গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে একটা কিছু বুঝ দিয়ে পার করে দেবার প্রবণতা থেকে সমস্যাকে যান্ত্রিক সরলীকরণ করে দেখানো হয়। যেখানে গোড়াতেই বলা হয় ceteris paribus যা আদতে একেবারেই সত্য না। এই দুর্বুদ্ধির দায় গণিতের না। সেখানে গণিতকে একটা 'টুল' হিসেবে ব্যবহার করা হয়। শিক্ষার্থী এই ছলনাটুকু ধরতে না পারলে সে সারা জীবন ভৌতবিজ্ঞানের গজদন্তমিনারে বসে থাকবে, জ্ঞান তার অধরা থেকে যাবে।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

হাসিব এর ছবি

গণিত অপ্রয়োজনীয় এই দাবি কেউ তুলছে না। গণিতকে নিন্দেমন্দও কেউ করছে না। প্রসঙ্গটা আসে গণিত সামাজিক বিজ্ঞানে জ্ঞান নির্মানে শেষ কথা কিনা। এটা হতে পারে যদি আপনি নিরপেক্ষভাবে জ্ঞান নির্মান সম্ভব এরকমটা ভাবেন। প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে অল্প কিছু ক্ষেত্র ছাড়া এই নিরপেক্ষতার দাবি মেটানো সম্ভব না। ঝামেলা শুরু হয় তখনই যখন কেউ সামাজিক বিজ্ঞানের কোন বিষয়ে অংক কষে "নির্মোহ, তথ‍্য-উপাত্তভিত্তিক" বিশ্লেষণ করে সেটা নিয়ে মুলোমুলি শুরু করেন। এই "নির্মোহ" লোকেরা এরকমটা ভাবেন যে যেহেতু নাম্বার বলছে এই কথা সেহেতু এই কথা মিথ‍্যা নয়। আমি উপরে যে জ্ঞানতাত্ত্বিক নির্মানের কথা বললাম সেগুলোর মতবিরোধ এইসব থেকে শুরু হয়। জ্ঞান নির্মোহ হতে পারে এই ধারণা বহু আগেই বাতিল হয়ে গেছে।

স্পর্শ এর ছবি

আলোচনার মধ্যে ঢুকে পড়ায় দুঃখিত। কিন্তু আমি খুবই আগ্রহ বোধ করছি।
আধুনিক সামাজিক বিজ্ঞান নতুন জ্ঞান আহরণের ক্ষেত্রে কী পদ্ধতি অনুসরন করে? হাসিব ভাই যেটা বলছেন তাতে দেখা যাচ্ছে, পদ্ধতি টা আমরা 'বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি' বলতে যা বুঝি তেমন নয়। তাহলে কেমন? হাইপোথিসিসগুলো যাচাই করা হয় কিভাবে? বা আদৌ কি করা হয়? উপাত্ত দিয়ে জাস্টিফাই না হলে সেগুলো স্রেফ কোনো 'অথোরিটি ব্যক্তির' মতামত হিসাবে গণ্য হয়, নাকি কোনো লজিক্যাল সিস্টেমে এনালিসিস করে দেখা হয় সত্যি নাকি মিথ্যা নাকি মাঝামাঝি কিছু? চর্চাটা কি বর্ণনামূলক, অনুসন্ধানমূলক, নাকি গঠনমূলক? মানে, সমাজ বিজ্ঞান কি সমাজ কেমন হওয়া উচিত সেই প্রশ্নের উত্তর দেয়, নাকি সমাজ এখন কেমন অতীতে কেমন ছিলো এবং ভবিষ্যতে কেমন হতে যাচ্ছে তার বর্ণনা ও ভবিষ্যতবানী লিপিবদ্ধ করে।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

হাসিব এর ছবি

প্রাচীনকাল থেকে জ্ঞান (knowledge) কী বস্তু সেটা নিয়ে তর্ক বিতর্ক হয়েছে এবং এটা থামবে এরকম কোন লক্ষন নেই। এই জ্ঞান প্রশ্নে তিনটা জিনিস সামনে আসে। এই জ্ঞান সংক্রান্ত আলোচনাটা তিনটা ভাগে ভাগ করে দেখা যায়।

প্রথমটা হলো, ontology, অর্থাৎ আমরা যে বাস্তবতায় বাস করি সেইটার চেহারা সম্পর্কে ধারণা
দ্বিতীয়টা হলো, epistemology, অর্থাৎ জ্ঞানতত্ত্ব। সহজ করে বললে কোন জিনিসটাকে আমরা জ্ঞান বলবো, কোন জিনিস বিষয়ে আমাদের জ্ঞানার্জন সম্ভব এবং ঠিক কোথা থেকে আমরা জিনিসটাকে জ্ঞান না বলে বিশ্বাস বলবো।
তৃতীয় আলাপ হলো methodological। অর্থাৎ ঠিক কী পদ্ধতিতে জ্ঞান আহরিত হতে পারে।

এই মূল তিনটি বিষয় প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে অনেকটাই সহজ। যেমন একজন পদার্থবিদ বলতে পারেন দশতলার উপর থেকে একটি পালক ফেললে সেটা কখন মাটি স্পর্শ করবে। বা একটা নির্দিষ্ট যন্ত্রে কতোটুকু শক্তি পাওয়া সম্ভব। এই সহজ জিনিসটা এইজন‍্য সম্ভব যে পদার্থবিদ‍্যায় যে জ্ঞানগুলো রয়েছে সেটা নির্দিষ্ট অনুমিতির ভেতর একই রকমভাবে কাজ করে। (এখানে হয়তো আরো জটিল তর্ক আনা সম্ভব, কিন্তু আলোচনার খাতিরে আমরা এটা মেনে নিয়ে আগাই)। এই কারণে পদার্থবিদ‍্যার তত্ত্বগুলো রেপ্লিকেট করা যায়। আমেরিকায় বসে ১০ তলা থেকে পালক ফেলে যে হিসেবগুলো মাথায় নিয়ে অংক কষবেন সেটা বাংলাদেশে বসে করলেও একই হিসাব কষবেন এবং একই ধরণের ফলাফল পাবেন।

এখন গোল বাধে যখন এই ধরণের চিন্তা আপনি সামাজিক বিজ্ঞানে আরোপ করতে যাবেন। সামাজিক বিজ্ঞান যাদের নিয়ে কাজ করে তাদের উপর আপনি এরকম কোন ইউনিভার্সেল সূত্র প্রয়োগ করতে পারবেন না।

তো এই বিষয়গুলো যেই জ্ঞানশাখায় আলোচনা হয় সেগুলো পড়লে জ্ঞান বিষয়ে বিভিন্ন তত্ত্বের দেখা পাবেন। সংক্ষেপে আমি দুই তিনটা প্রভাবশালী মতবাদ নিয়ে এখানে বলার চেষ্টা করি।

১. পজিটিভিজম
এটা বেশিরভাগ প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে কার্যকরী। পজিটিভিস্টেরা এরকমটা ভাবে,


ক. ontology: তারা বাস্তবতায় (realism) বিশ্বাসী। তারা ভাবে একটা বোধগম‍্য বাস্তবতার অস্তিত্ব রয়েছে এবং এটাকে বোঝা সম্ভব। এই বাস্তবতাটা সময় ও প্রসঙ্গ বিচার (time and context free) ছাড়াই বোঝা সম্ভব।
খ. epistemology: এপিসটেমোলজিকালি তাদের অবস্থান হলো দ্বৈতবাদি (dualist) এবং নিরপেক্ষ (objective)। অর্থাৎ একটি বিষয়কে নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে আপনি গবেষণার উপাদানের সাথে যুক্ত না হয়ে বিশ্লেষণ করতে পারবেন।
গ. methodology: এখানে প্রশ্ন ও হাইপোথিসিস তৈরি করে সেটা পরীক্ষা করে যে ফল আসবে সেটাই প্রকৃত সত‍্য বা জ্ঞান।

২. ক্রিটিকাল থিওরী: ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুল

ক. ontology: ঐতিহাসিক বাস্তবতা। বাস্তবতা একটা ঐতিহাসিকভাবে তৈরি হওয়া জিনিস। সময়ের সাথে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, জাতিভিত্তিক বিভিন্ন ঘটনা বাস্তবতা হয়ে একটা নির্দিষ্ট সময়ে দেখা দেয়।
খ. epistemology: বিনিময়যোগ‍্যতা ও সাবজেক্টিভিটি। এরা অনুমান করে ইনভেস্টিগেটর ও সাবজেক্ট ওতোপ্রতোভাবে যুক্ত। ইনভেস্টিগেটরের মতামত (values) এই কারণে গবেষণার ফলাফলে প্রভাব ফেলে। পজিটিভিস্টরা এরকমটা ভাবে না।
গ. methodology: দ্বান্দিক। থিসিস এবং এন্টিথিসিসের মাধ‍্যমে সিনথেসিস উৎপন্ন হয়।

৩. নারীবাদ

ক. ontology: নারীবাদিরা মনে করে বাস্তবতা একটি সামাজিক নির্মান (social construct) যেটা পুরুষতান্ত্রিক (malecentric) চাপানউতোরের ভেতর দিয়ে নির্মিত। এখানে খেয়াল করুন, ক্রিটিকাল থিওরী এবং নারীবাদ দুটোতেই পূর্বধারণা বিষয়টার অস্তিত্ব আছে। একদল ইতিহাস, অর্থনীতিসহ সবকিছু টান দিচ্ছে আরেকদল নারীবিষয়ক জ্ঞান আহরণে আগে থেকে বলে নিচ্ছে তাদের প্রেক্ষাপট এবং বাস্তবতা পুরুষতান্ত্রিক নির্মান।
খ. epistemology: এরা নারী বিষয়ে কোনটা জ্ঞান সেটা বুঝতে নারীদের অভিজ্ঞতাকে সূত্র মনে করে যেটা একজন পুরুষের পক্ষে ১০০ ভাগ বোঝা অসম্ভব। এটাও সম্ভব যে নারীরা যে অভিজ্ঞতার বয়ান দিচ্ছে সেটা কি তারা পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর ভেতরে দিচ্ছে কিনা।
খ. methodology: মূলতঃ কোয়ালিটেটিভ ও আলোচনা, ব‍্যক্তিগত সাক্ষাতকার নির্ভর।

নারীবাদের মতোই পোস্টকলোনিয়ালরা চিন্তা করে। সেখানে পাঠের বিষয় নারী নয়, প্রাক্তন উপনিবেশগুলোর জনচর্চা।

এখন উপরে যেই সংক্ষেপ আলোচনা দিলাম বিভিন্ন তরিকার সেরকম আরো স্কুল অফ থট রয়েছে। সামাজিক বিজ্ঞানে কীভাবে জ্ঞান আহরিত হবে সেই স্কুলগুলো বহু আগে থেকেই এই পজিটিভিস্টপনা ত‍্যাগ করেছে। কারণ তারা বিশ্বাস করে নিরপেক্ষ জ্ঞান নির্মান সম্ভব না এবং এরকম কোন সূত্রপদ্ধতি নেই যেটা সময় ও প্রেক্ষাপটভেদে একই ফল দেবে। সর্বোপরি গবেষক কখনো গবেষণার বিষয় থেকে বিযুক্ত থাকতে পারেন না। প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মতো কিছু ক্ষেত্রে এটা সম্ভব।

ঝামেলা শুরু হয় তখনি যখন পজিটিভিজম কাজ করে এরকম জায়গার বিশেষজ্ঞ অন‍্য তরিকা মেনে চলে এরকম কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত দিতে আসেন। মাথাভর্তি পজিটিভিজম নিয়ে তারা বলতে আসেন মার্ক্সবাদ বিজ্ঞান নহে। মূল কথা হলো পজিটিজম (বা পোস্টপজিটিভিজম) ভূল বিজ্ঞান এরকম নয়, বা এটাও নয় যে ক্রিটিকাল থিওরী পুরনো বিদ‍্যা এবং এটার কোন গ্রহণযোগ‍্যতা নেই। যার যার জায়গায় সে ঠিকঠাকমতো সঠিক রাস্তা দেখাচ্ছে। নামকরা পদার্থবিদও পাওয়া যাবে যারা পজিটিভিজমে ঈমান রাখেন না। এর মানে এই না যে পজিটিজম ভুল। সেটা যেখানে প্রয়োগযোগ‍্য সেখানে ঠিকই কাজে লাগানো যায়।

বোনাস কোট ১
All we perceive are imperfect “reflections” of the ultimate Forms, which subsequently represent truth and reality - প্লেটো



ইমপার্ফেক্ট জ্ঞান সম্পর্কে একটা ভিডিও (এলেগরি অফ কেইভ)

ভাবনাসূত্রঃ একজন নারীর অভিজ্ঞতা একজন পুরুষের পক্ষে নেয়া কী সম্ভব? একজন পুরুষ কি নিরপেক্ষভাবে একজন নারীর অভিজ্ঞতা বিষয়ক জ্ঞান লিপিবদ্ধ করতে পারবে?

বোনাস কোট ২
“any claim to knowledge is always an exercise of power and a knowledge-power nexus can never be elided” - মিশেল ফুকো।

ভাবনাসূত্রঃ ফুকোর কোটটা পড়ে ইঙ্গমার্কিন দেশগুলো কীভাবে স্বচ্ছ নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক বিচার নিয়ে কান্নাকাটি করে সেটা মনে করে। ভেবে দেখেন এই “স্বচ্ছ নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক” জ্ঞানটা কিসের কনস্ট্রাক্ট বা এই ধারণাটার নির্মান কারা করছে কী প্রেক্ষাপটে করছে। এটা ঠিকমতো ভাবতে পারলে বুঝবেন পজিটিভিস্টিক আর্গুমেন্ট কেন সবজায়গাতে চলে না।

সংক্ষেপে,

পদ্ধতি টা আমরা 'বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি' বলতে যা বুঝি তেমন নয়।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি তরিকা ভেদে বিভিন্নরকম হতে পারে।

স্পর্শ এর ছবি

সময় নিয়ে রিপ্লাই দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। এই আলোচনাটা আগ্রহোদ্দিপক মোড় নিচ্ছে।

তবে সবার আগে ফুকোর কোটটার ব্যাপারে একটা হিল্লে করে নেই। মিশেল ফুকোর কথাবার্তা শুনলে মনে হয় তার কাজ হলো যেকোনো আলোচনাকে অর্থহীনতায় পর্যবাসিত করা। আরে বাবা, জ্ঞান-বিজ্ঞানকে যারা গুরুত্ব দেবে তারা এমনিতেই পাওয়ারফুল হয়ে উঠবে। কারণ 'জ্ঞানই শক্তি'। কিন্তু তা না। ফুকোমিয়া বলবেন, জ্ঞান হলো দুর্বলের উপর সবলের চাপায় দেওয়ার জিনিস। ইন ফ্যাক্ট এইসব চাপায় দেওয়া টাইপ কথাবার্তা বলাটাকে দার্শনিককতার মোড়ক দেওয়াই মিশেল ফুকোর প্রধান অর্জন। 

আমি যদি জানি যে "পৃথিবী সমতল নয়"। সেই ক্লেইমটা আমার ‘পাওয়ার এক্সার্সাইজ’ হইলো ক্যামনে?

ফুকো এইসব কথা বলে মানুষরে উত্তক্ত করার জন্য। এবং তাতে সে ১০০ তে ১০০ পেয়েছে। এ ছাড়া তার তেমন কোনো কন্ট্রিবিউশন নাই।

=====

এখন আসা যাক আরেক প্রসঙ্গে। তা হলো, বেশিরভাগ দার্শনিক বিতর্কই দেখা যায় বিতর্কের সূচনা বিতার্কিক দুজনের আলোচ্যবিষয়ের ‘সংজ্ঞা’ পার্থক্যের কারণে হয়। এটা সুস্পষ্ট যে আমি ‘বিজ্ঞান’ বলতে যা বুঝি, সামাজিক বিজ্ঞানে ‘বিজ্ঞান’ বলতে তা বুঝায় না।

তাই সবার আগে একটা ব্যাপারে একমত হয়ে নেওয় যায়। তা হলো জ্ঞান মাত্রই বিজ্ঞান নয়। বিজ্ঞান, জ্ঞানের একটা স্মলার সাবসেট। ফলসিফায়েবিলিটি, রিপিটেবিলিটি ইত্যাদি যুক্ত জ্ঞান হইলো বিজ্ঞান। একটা অতিসরলিকিত উদাহরণ হতে পারে এরকম। আমি যদি ফ্রুট কেক বানানোর একটা পদ্ধতি বের করি। তারপর সেই পদ্ধতি খুটিনাটিসহ লিখে রাখি, তা অন্য কেউ পড়ে অনুসরণ করে আরেকটা ফ্রুটকেক বানিয়ে ফেলতে পারবে। তাই এই ফ্রুটকেকের রেসিপিটা এক হিসাবে ফলসিফায়েবল। কেউ অনুসরণ করে যদি দেখে ফ্রুটকেক হচ্ছে না, কয়লা হয়ে যাচ্ছে। তাহলে রেসিপিটা ভুল। অর্থাৎ এই জ্ঞান সম্পর্কে আমরা একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারছি।

আবার আমি যদি সাইকেল জানি। এবং সাইকেল চালানোর পুংক্ষানুপূংক্ষ বর্ণনা লিখে রাখি কোথাও। তারপরেও কিন্তু কেউ স্রেফ সেই বর্ণনা পড়ে সাইকেল চালাতে পারবে না। কিন্তু তারপরেও সাইকেল চালানোর বিদ্যাটা এক ধরনের জ্ঞান। সরাসরি ফলসিফায়েবিলিটির টেস্টে সেটাকে ফেলা যাবে না যদিও।

তাই জ্ঞানের অসংখ্য ফ্লেভার সম্ভব। এবং সবকিছুকে ‘বিজ্ঞান' নাম দিয়ে বসলে বিভ্রান্তি বৃদ্ধি ছাড়া আর কিছুই অর্জিত হয় না। ইন ফ্যাক্ট, নেচারাল ফিলোসফি কে বদলে দিয়ে 'সায়েন্স' কথাটার উৎপত্তিই হয়েছিলো ভৌত বিজ্ঞানকে সিংগেল আউট করার উদ্দেশ্যে। এখন জ্ঞানের অন্য কিছু শাখা সেই শব্দটাকে এডপ্ট করতে গিয়ে গড়বড় পাকাচ্ছে। সোশ্যাল সায়েন্স কে তাই স্যোশাল ফিলোসফি বলা উচিত।

তাই সেই, “মার্কসবাদ কি বিজ্ঞান?” প্রশ্নে আপনার মৃদু উষ্মাও অপাত্রে পড়ছে। মার্স্কবাদ কি এক ধরনের জ্ঞান? হ্যাঁ। বিজ্ঞান? না।

আমার প্রশ্ন ছিলো, সামাজিক বিজ্ঞান তাহলে কোন জ্ঞানের অনুসন্ধান করে? স্পষ্টতই, ভৌতবিজ্ঞানের মত জ্ঞান সে চাইলেও অনুসন্ধান করতে পারবে না। অন্তত সমাজের মত এত বেশি ভেরিয়েবলের সিস্টেমকে মডেল করার উপায় এখনো মানুষের জানা নেই। আবার কোনো কিছু সাব্জেক্টিভ হলেই তা নিয়ে, নৈর্ব্যক্তিক জ্ঞান অনুসন্ধান সম্ভব নয় সে কথাটিও ভুল। কারণ স্কোপটিকে ঠিকঠাক ডিফাইন করলেই, এক সমাজের জ্ঞান আরেক সমাজে ঝাড়ার ফ্যালাসি কাটানো যায়।

এ ছাড়া আমার প্রশ্ন ছিলো, আধুনিক সামাজিক বিজ্ঞানের অনুসন্ধানের গতি-প্রকৃতি নিয়ে। অর্থাৎ, এটা কি “চর্চাটা কি বর্ণনামূলক, অনুসন্ধানমূলক, নাকি গঠনমূলক? মানে, সমাজ বিজ্ঞান কি সমাজ কেমন হওয়া উচিত সেই প্রশ্নের উত্তর দেয়, নাকি সমাজ এখন কেমন অতীতে কেমন ছিলো এবং ভবিষ্যতে কেমন হতে যাচ্ছে তার বর্ণনা ও ভবিষ্যতবানী লিপিবদ্ধ করে?”

আপনি এই ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ। বিধায় আপনার কাছে এই জিজ্ঞাসা।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

হাসিব এর ছবি
  • ফুকো আমাদের সময়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ চিন্তক। উত‍্যক্ত করা ছাড়া তার আর কোন অবদান নেই এটা আপনার কাছ থেকে জানলাম।
  • এ ছাড়া আমার প্রশ্ন ছিলো, আধুনিক সামাজিক বিজ্ঞানের অনুসন্ধানের গতি-প্রকৃতি নিয়ে। অর্থাৎ, এটা কি “চর্চাটা কি বর্ণনামূলক, অনুসন্ধানমূলক, নাকি গঠনমূলক? মানে, সমাজ বিজ্ঞান কি সমাজ কেমন হওয়া উচিত সেই প্রশ্নের উত্তর দেয়, নাকি সমাজ এখন কেমন অতীতে কেমন ছিলো এবং ভবিষ্যতে কেমন হতে যাচ্ছে তার বর্ণনা ও ভবিষ্যতবানী লিপিবদ্ধ করে?”

    সামাজিক বিজ্ঞান বর্ণনামূলক, অনুসন্ধানমূলক, গঠনমূলক সবকিছুই হতে পারে। সমাজবিজ্ঞান কেমন হওয়া উচিৎ জিনিসপাতি (অর্থাৎ নরম‍্যাটিভ) সেটা নিয়েও কাজ করে। ঐতিহাসিক তথ‍্য নিয়েও কাজ করে এবং ভবিষ‍্যতে কী হতে পারে সেটা নিয়েও কাজ করে।

  • বিজ্ঞানের সে সংজ্ঞার কথা আপনি ঘুরেফিরে বলছেন সেই সংজ্ঞা পজিটিভিস্ট ঘরাণার (লজিকাল ও পোস্ট ঘরাণাসহ) সংজ্ঞা। সাধারণভাবে পজিটিভিজম নিয়ে সুখি থাকা সম্ভব এরকম বিষয়গুলোতেও সবাই পজিটিভিজম মানেন না। আর আমি উপরের দীর্ঘ কমেন্টটা করলাম এইটা বোঝাতে যে সিস্টেমেটিকালি জ্ঞান আহরণের পদ্ধতি অর্থাৎ সায়েন্টিফিক মেথড এবং সেইসব মেথডে যে সিস্টমেটিকালি ডিরাইভড বৈজ্ঞানিক তথ‍্য পাওয়া যায় সেইটা আসলে ঠিক না বেঠিক সেই আলাপে মতপার্থক‍্য রয়েছে। এখন আপনি একটা তরিকা ধরে গোটা সোশ‍্যাল সায়েন্সের সায়েন্স শব্দটা ছেটে ফেলতে চাইলে আপনি সেটা করতেই পারেন। আপনি বলতে পারেন সোশাল সায়েন্স প্রকৃতি বিজ্ঞান নহে। অতএব সোশ‍্যাল সায়েন্টিস্টেরাও প্রকৃত বিজ্ঞানী নহেন। ফুকোকে শুধুমাত্র উত‍্যক্তকারী বলার মতো এইসব বলাও আপনার স্বাধীনতা।
অরফিয়াস এর ছবি

আমার জানার পরিধি খুবই ছোট, নিজের বোঝার উপর ভিত্তি করে লিখছি। কিছু জায়গায় ইংরেজি শব্দই ব্যবহার করলাম নিজের বোঝার ঝামেলা এড়াতে।

আমার মনে হয়, সামাজিক বিজ্ঞান ভৌত বিজ্ঞানের মত বিজ্ঞান কিংবা একই ধরনের জ্ঞান কিনা এই তর্কটা অনেক পুরনো। আর তর্কটা নানা প্রসঙ্গে ইন্টারকানেক্টেড।

আমরা যারা ভৌতবিজ্ঞানের চর্চা করি তাদের সবাই গবেষণার জন্য কিছু নির্দিষ্ট পন্থা অবলম্বন করি মোটা দাগে এটা বলা যায়। অবশ্যই বিষয়ভিত্তিক পার্থক্য থাকবে। কিন্তু মোটামুটি আমাদের এপ্রোচটা পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যভিত্তিক গানিতিক বিশ্লেষণযুক্ত। এতে করে পর্যবেক্ষণটা পরবর্তীতে ভুল কি শুদ্ধ তা পুনরায় নিরূপণ সম্ভব এবং এর পুনরাবৃত্তি করাও সম্ভব। ভৌতবিজ্ঞানের চর্চাটা ম্যাটারিয়ালিস্টিক এবং এ কারনে আমাদের পর্যবেক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণলব্ধ জ্ঞান সোজাসাপ্টা। এধরনের পজিটিভিস্ট এপ্রোচ এর কথা আপনিও উল্লেখ করেছেন সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে।

সমাজবিজ্ঞানের কাজগুলোকে এরকম ম্যাটারিয়ালিস্টিক এপ্রোচ এর মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব কিনা এ বিষয়ে আসল তর্কটা আসতে পারে। কারন আমাদের ভৌতবিজ্ঞানে মানদণ্ডগুলোর যেরকম কন্সিস্টেন্সি আছে সমাজবিজ্ঞানে সেরকম আছে কি? মানব সমাজ সম্পর্কিত কাজে যেখানে প্রধান উপাদান হচ্ছে মানুষ এবং তার আচার আচরণ সেখানে এধরনের ম্যাটারিয়ালিস্টিক এপ্রোচ পূর্ণতা পায় কি?

মানুষের মনন, চিন্তা চেতনা এবং এর উপর নির্ভরশীল পদক্ষেপগুলো যেখানে ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হওয়ার আশংকা থাকে সেখানে এপ্রোচ এবং সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণ ভিন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক। সুতরাং একে কন্সিস্টেন্ট কোন মানদণ্ডে বিচার করলে সেটা সম্পূর্ণতা নাও পেতে পারে। আমি মনে করি ভৌতবিজ্ঞানের সাথে সমাজবিজ্ঞানের মূল পার্থক্য এখানে (উপাদানে)।

এখন সমাজবিজ্ঞানকে তাহলে ভৌতবিজ্ঞানের মত বিজ্ঞান বলা যায় কি?হয়ত না। কিন্তু সমাজবিজ্ঞানকে ভৌতবিজ্ঞানের মতই হতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা কিন্তু নেই। সমাজবিজ্ঞানেও সায়েন্টিফিক মেথড এর মত নানা রকম মেথড আছে যেগুলো নানা সময়ে চর্চার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে কিন্তু আমার মনে হয় ভৌতবিজ্ঞানের মত রিগরাস এপ্রোচ তাতে নাই থাকতে পারে। আবার ভৌতবিজ্ঞানের
কন্সিস্টেন্ট রিগরাস এপ্রোচ এর মাধ্যমে সমাজবিজ্ঞান ভিত্তিক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব কিনা সেটাও দেখা যায়।

বেশ কিছু বছর ধরে একটা তর্ক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, মানুষের মোরালিটি বা কন্সাস্নেস ভৌতবিজ্ঞান ব্যখ্যা করতে সক্ষম কিনা। এতে ধর্ম এবং সমাজের পারিপার্শ্বিকতার প্রভাব কি এবং ইত্যাদি ইত্যাদি।এক্ষেত্রে নিউরোসাইন্স অনেকদূর অগ্রসর হয়েছে এবং বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম। ভৌতবিজ্ঞান যদি রিগরাস এপ্রোচ এর মাধ্যমে সামাজিক কোন সমস্যার ম্যাটারিয়ালিস্টিক পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যকে গাণিতিক ভাবে কিংবা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্যখ্যা করতে সক্ষম থাকে তাহলে মনে হয় এতে সামাজিকবিজ্ঞানের গণ্ডিতে অনুপ্রবেশ নয়। বরং সামাজিকবিজ্ঞানের মেথডে পর্যবেক্ষণলব্ধ তথ্যের সাথে মিল থাকলে এতে এর অবস্থান আরও পাকাপোক্ত হয়।

আলোচনা চলুক।

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

হাসিব এর ছবি

আপনি কেন ধরে নিচ্ছেন সামাজিক বিজ্ঞান রিগোরাস নয়? গণিত থাকলে রিগোরাস এবং সেটা না থাকলে রিগোরাস নয় বিষয়টা এরকম?

অরফিয়াস এর ছবি

সমাজবিজ্ঞান রিগোরাস নয় ধরে নিচ্ছি না। ভৌতবিজ্ঞানের মানদণ্ডে সমাজবিজ্ঞানের এপ্রোচকে রিগোরাস হতে হবে এমনটি নয় তা বলছি। গণিত কোন একটা বিষয় যাচাইয়ের মানদণ্ড হতে পারে কিন্তু একমাত্র মানদণ্ড নয় বলে মনে করি।

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

মন মাঝি এর ছবি

ইন ফ্যাক্ট, নেচারাল ফিলোসফি কে বদলে দিয়ে 'সায়েন্স' কথাটার উৎপত্তিই হয়েছিলো ভৌত বিজ্ঞানকে সিংগেল আউট করার উদ্দেশ্যে। এখন জ্ঞানের অন্য কিছু শাখা সেই শব্দটাকে এডপ্ট করতে গিয়ে গড়বড় পাকাচ্ছে। সোশ্যাল সায়েন্স কে তাই স্যোশাল ফিলোসফি বলা উচিত।

এই বক্তব্যে একটু বোধহয় ভুল আছে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানীরা 'নেচারাল ফিলোসফি' কে বদলে 'সায়েন্স' নামকরণের সময় 'সায়েন্স' শব্দটার উৎপত্তি হয়নি বা তারা এই শব্দটা আবিষ্কার করেননি। এটা সাধারণ ভাষায় বহু আগে থেকেই প্রচলিত ছিল এবং সম্ভবত 'জ্ঞান' অর্থেই এই শব্দটা ব্যবহৃত হতো এবং এখনো হচ্ছে বহু ক্ষেত্রে। সুতরাং এটাও হয়তো বলা যায় -- "এখন জ্ঞানের অন্য কিছু শাখা সেই শব্দটাকে এডপ্ট করতে গিয়ে গড়বড় পাকাচ্ছে" না, তারা আসলে তাদের জায়গাতেই আছে যেখানে তারা সবসময় ছিল। বরং ভৌতবিজ্ঞানই জ্ঞানের অন্য সব শাখা থেকে শব্দটাকে এডপ্ট করে তারপর এর একক দখলীস্বত্ব বা এক্সক্লুসিভ ব্যবহার্যতা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে গড়বড় পাকিয়ে ফেলেছে।

যাজ্ঞে, আপনাদের এই চমৎকার শিক্ষামূলক / এনলাইটেনিং আলোচনায় এভাবে মাঝখান থেকে নাক গলানোর জন্য দুঃখিত। প্লিজ ক্যারি অন!

****************************************

হাসিব এর ছবি

তারা আসলে তাদের জায়গাতেই আছে যেখানে তারা সবসময় ছিল

ঠিক।

হাসিব এর ছবি

আমার প্রশ্ন ছিলো, সামাজিক বিজ্ঞান তাহলে কোন জ্ঞানের অনুসন্ধান করে? স্পষ্টতই, ভৌতবিজ্ঞানের মত জ্ঞান সে চাইলেও অনুসন্ধান করতে পারবে না। অন্তত সমাজের মত এত বেশি ভেরিয়েবলের সিস্টেমকে মডেল করার উপায় এখনো মানুষের জানা নেই। আবার কোনো কিছু সাব্জেক্টিভ হলেই তা নিয়ে, নৈর্ব্যক্তিক জ্ঞান অনুসন্ধান সম্ভব নয় সে কথাটিও ভুল। কারণ স্কোপটিকে ঠিকঠাক ডিফাইন করলেই, এক সমাজের জ্ঞান আরেক সমাজে ঝাড়ার ফ্যালাসি কাটানো যায়।

নিরপেক্ষতা অর্জন করা সম্ভব এইটা কোনকালেই সমাজবিজ্ঞানীরা মানে নাই। হুট করে এরকম রায় দিলে হবে যে এটা ভুল?

অরফিয়াস এর ছবি

আমি খুব উৎসাহ নিয়ে আলোচনাটা দেখছি, ভাল লাগছে। নতুন কিছু বিষয় উঠে আসায় আলোচনা আরও আগে বাড়বে মনে হচ্ছে। আলোচনাটা চলুক।

একটা প্রাসঙ্গিক কথা, অর্থনীতিকে বর্তমান যুগে গণিত সর্বস্ব করে ফেলায় অনেকেই পছন্দ করেন না শুনেছি। আবার কোন একটা আর্টিকেলে দেখেছিলাম ওয়াল স্ট্রিট এর পতনের পেছনে নাকি ছিল কিছু ইঞ্জিনিয়ারের গানিতিক সমীকরণ। যা দিয়ে কোম্পানিগুলো চূড়ান্ত প্রোফিট করা শুরু করেছিল যার ফল অর্থনৈতিক ধ্বস।

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

হাসিব এর ছবি

ধরেন আমি একটা গাণিতিক তত্ত্ব দিলাম এবং আমার বস সেইটা না দেখে না বুঝে যেহেতু সেইটা দেখতে রিগোরাস সেহেতু সেইটা ঠিকাছে। যে ম‍্যাথ মডেলগুলোর উপরে দোষ চাপানো হয় সেইগুলো সমস‍্যাজনক অবশ‍্যই। সেই মডেলগুলোর ইনপুট গণিত নিজে থেকে বের করেনি। সেটা মানুষই ইনপুট দিয়েছে। মানুষই বিপদের মাত্রা, ভুলের মাত্রা ইত‍্যাদির সহনীয়তা ঠিক করেছে। এখন কেউ যদি সেই ইনপুটগুলো ঠিকঠাক করতে গড়বড় করে তাহলে গণিতের দোষ দিয়ে লাভ নাই।

মূল সমস‍্যাটা হলো অংক কষে একটা রেজাল্ট বের করে কেউ দেখালেই ইম্প্রেসড হবার কোন দরকার নেই। সাবপ্রাইম মর্টগেজ এবং সেই মর্টগেজের হিল্লে করার মডেল বিচারের আগে খুঁজে দেখা দরকার এই সাবপ্রাইম লোনগুলো দেবার সিদ্ধান্তগুলো কারা নিয়েছিল এবং সেটা কিসের ভিত্তিতে। ব‍্যাংকিং সিস্টেম সবচাইতে মোরালি করাপ্ট সিস্টেমগুলোর একটা। এইরকম কাজ তারা আবারো ঘটাবে। সাম্প্রতিক বিপর্যয়ে আইসল‍্যান্ড ছাড়া আর কোথাও তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হয়নি।

আরেকটা বিষয় হলো অর্থনীতি বলতে যা পড়ানো হয় পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশে সেটা হলো আমেরিকান ঞক্লাসিকাল অর্থনীতি যেটা বলে যে বাজারে আগুন লাগলে সেইটা একটা গায়েবি হাত নিভায় ফেলবে। সহজ করে বললে

প্রশ্নঃ লাইট বাল্ব বদলাতে কয়জন ঞক্লাসিকাল ইকোনমিস্ট লাগে?
উত্তরঃ কাউকেই লাগে না। বাল্ব গায়েবি ইশারায় ঠিক হয়ে যাবে।

এখন অর্থনৈতিক থটপ্রসেস আরো আছে যারা এইসব ঞক্লাসিকাল মতে চলে না। সোশ‍্যাল ডেমোক্র‍েটিক সিস্টেমগুলোর অর্থনৈতিক ব‍্যবস্থা এর একটা উদাহরণ। এগুলোর কোন বই আমাদের দেশে পাবেন না। কেন পাবেন না সেইটা বুঝতে উপরের ফুকোর কমেন্টটা আবার পড়তে পারেন হাসি

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

গণিতকে সামাজিক বিজ্ঞানের শেষ কথা হিসেবে দেখানোর পেছনে স্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকে, ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যও থাকে। এর ফলে ঐতিহাসিক বিপর্যয়গুলো ঘটে। সামাজিক বিজ্ঞানের কোন কিছুই 'নির্মোহ' হতে পারে না। কিন্তু তাকে কখনো কখনো উদ্দেশ্যমূলকভাবে নির্মোহ দেখানো হয়। এই উদ্দেশ্যসমূহের একটা হচ্ছে ভবিষ্যতে 'বুতপরস্তি' প্রতিষ্ঠা করা। এখানেও ইতিহাস সাক্ষী আছে।

হাসিব, আলোচনাটা এখানে চালিয়ে যান। অন্তত স্পর্শ, অরফিয়াস যে বিষয়গুলো জানতে চাইছে সেগুলো নিয়ে বলুন।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

হাসিব এর ছবি

অর্থনীতি একসময় পলিটিকাল ইকোনমি ছিল। পরে রাজনীতি ও ধুমপানমুক্ত হয়ে সেটা হলো অর্থনীতি। নানাঘাট ঘুরে এইজন‍্যই আমি অংক কষা নির্মোহ তথ‍্য উপাত্তভিত্তিক লোকজন ভয় পেতে শিখেছি।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

দেঁতো হাসি বুকে আসুন বাবুল ভাই কোলাকুলি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

অরফিয়াস এর ছবি

কোলাকুলি আসুন আসুন।

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক
।।।।।।।।
অনিত্র

অরফিয়াস এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

তাহসিন রেজা এর ছবি

স্কুলে অংক ক্লাসের কথা মনে হলে এখনো রাগী চোখের নিরানন্দ কয়েকজন শিক্ষকের ছবি মনে ভেসে ওঠে।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------
“We sit in the mud, my friend, and reach for the stars.”

অলীক জানালা _________

অরফিয়াস এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

মেঘলা মানুষ এর ছবি

গণিত পড়াতে যে শুধুর রাগী রাগী স্যাররাই আসেন তা না, অনেক ভালো শিক্ষকও আমাদের অনুপ্রাণিত করেছেন। সে তুলনায় ধর্মীয় শিক্ষার প্রায় সব শিক্ষকই অকারণে কঠোরতা দেখিয়েছেন।

লেখা চমৎকার লাগলো, আপনি জিনিস জিনিয়াস আছেন খাইছে

শুভেচ্ছা হাসি

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

ব্যাবহারিক অর্থে বাংলা "জিনিস" আর ইংরেজি "জিনিয়াস" এর মাঝে তেমন তফাৎ নাই দেঁতো হাসি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

অরফিয়াস এর ছবি

ধন্যবাদ আপনাকেও। আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- দেঁতো হাসি

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

সো এর ছবি

আচ্ছা, অঙ্ক আর গণিত কি একই জিনিস না ? স্কুলে থাকতে তো খাতায় 'অংক খাতা' লিখতাম। এখন কি সেটা বদলে 'গণিত' হয়ে গেছে? নাকি গণিত আর অঙ্ক (অংক?) দু'ধরনের বস্তু?

অরফিয়াস এর ছবি

গণিত হচ্ছে শাস্ত্রের নাম, আমরা বলি গণিতশাস্ত্র। আর অঙ্ক হচ্ছে গণিতের ভাষা প্রকাশের মাধ্যম। কোন কিছুই বদলে যায়নি। আমরা সবাই কোন না কোন সময় এ দুটি মিলিয়ে ফেলি মৌখিক ভাষায়। আমিও মনে হয় লেখায় কয়েকবার সেটা করেছি।

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

হাসিব এর ছবি

অংক আর গণিত এক জিনিস না।

অংক হলো ১, ২, ৩, ৫ এগুলো। আলাদা আলাদাভাবে। একসাথে বললে এগুলো হলো সংখ‍্যা। আর এগুলোর গণনা হলো গণিত। যেই শাস্ত্রে এই গণনা নিয়ে আলাপ হয় সেই শাস্ত্রকে গণিতশাস্ত্র বলে।

স্কুলে আমরা যে "অংক ক্লাস" করতাম সেটা আসলে গণিত ক্লাস।

(ভুল বললে কেউ সংশোধন করে দেবেন প্লিজ)

এক লহমা এর ছবি

খুব সুন্দর বলা হয়েছে। অংক আর গণিতের পার্থক্য নিয়ে আর কোন কথা নেই। তবে অংক নিয়ে দুই-একটি কথা বলতে ইচ্ছে করছে। গাণিতিক চিহ্নের বাইরে আরও যে অর্থে অংক কথাটা ব্যবহার করতাম আমরাঃ
(১) নানা সংখ্যা ও চিহ্নর অর্থপূর্ণ সমন্বয় (গাণিতিক সমন্বয়, mathematical expression)-কেও আমরা অংক বলতাম।
(২) গাণিতিক সমন্বয়গুলিকে সমাধান করার কাজটিকে বলতাম অংক কষা।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

মন মাঝি এর ছবি

ঠিকই আছে। স্কুলে থাকতে এটাই শিখেছিলাম। ০-৯ পর্যন্ত ১০টা চিহ্ন এককভাবে হচ্ছে 'অংক' বা ইংরেজিতে যাকে digit বলে, আর পাশাপাশি একসাথে বসলে অর্থাৎ ৯-এর পরে ১০ থেকে শুরু করে আর সবকিছু 'সংখ্যা', ইংরেজিতে অনুবাদে যা number নামে জনপ্রিয়। আর গণিত হচ্ছে এইগুলি নিয়ে গণনা করার আলাপ যে শাস্ত্রে হয়, বা ইংরেজিতে যা mathematics।

বাংলায় এই পর্যন্ত ঠিকই আছে, কিন্তু ইংরেজির সাথে মেলাতে গেলেই আমার পেচগি লেগে যায়। বাংলায় এই প্রসঙ্গে টার্ম ২টা - অংক ও সংখ্যা, কিন্তু ইংরেজিতে ৩টা - digit-number-numeral। এইটাই সমস্যা। কারন উপরে বলা অর্থে 'সংখ্যা'-র জনপ্রিয় ইংরেজি নাম number হলেও - নেট ঘাটতে গিয়ে জানলাম, এটা আসলে নাকি "numeral" হবে, number না। কেন? কারন, "number" নাকি আসলে গণনা (count) পরিমান বা পরিমাপ সম্পর্কে আমাদের মনের মধ্যে একটা ধারণা বা প্রত্যয়। আর এই ধারণা বা প্রত্যয়টা অর্থাৎ number -কে কথায় বা লিখিত আকারে প্রকাশ করার জন্য আমরা যে নির্ধারিত চিহ্ন বা নাম ব্যবহার করি, সেটাই numeral। যেমন ধরুন "৫" বা "পাঁচ", কিম্বা "২", "৯৯৯", বা "বারো" - এর সবগুলিই numeral। আমরা একই বিষয় অন্যভাবেও প্রকাশ করতে পারি, যেমন - হাতের পাঁচটা আঙুল মেলে ধরে বা টেবিলে পাঁচবার টোকা মেরে ৫-এর ধারণা প্রকাশ করা সম্ভব। তখন number নামক ধারণাটা প্রকাশ পেলেও তাতে numeral-এর ব্যবহার নেই। ভাষা আবিষ্কারের আগে মানুষ হয়তো এভাবেই সংখ্যা প্রকাশ করতো, কে জানে! Number প্রকাশের numeral ছাড়াও উপায় আছে।

সংক্ষেপে number আর numeral-এর মধ্যে পার্থক্য পেলাম -- ধারণা বনাম ঐ ধারণা প্রকাশ বা লেখার জন্য প্রমিতায়িত ভাষিক / সাংখ্যিক চিহ্ন বা সিম্বল (১, ১২, ৯৯, ইত্যাদি)। পার্থক্যটা স্পষ্ট। কিন্তু বাংলায় এই পার্থক্য না করে number আর numeral দুটোর জন্যই আমরা শুধু "সংখ্যা" শব্দটা ব্যবহার করি, আর স্কুলে শেখা ঐ সংখ্যাটা numeral-ই মনে হচ্ছে। Digit (অংক) হচ্ছে এই চিহ্ন বা numeral-গুলির মধ্যে শুধু একক চিহ্নগুলি, অর্থাৎ ০-৯ - এই দশটা মাত্র। "১৫০" একটা numeral, এর মধ্যে আছে তিনটি digit: ১, ৫, এবং ০। কিন্তু digit ('অংক')-গুলি আলাদাভাবে numeral-ও বটে, সাংখ্যিক ধারণা-প্রকাশক চিহ্ন বিধায়। অর্থাৎ ০ থেকে শুরু করে সবই আসলে numeral-ও। আর এই numeral-এর বাংলা আমরা করি "সংখ্যা"। অর্থাৎ 'অংকও' তাহলে 'সংখ্যা' ইংরেজি মতে? তাহলে স্কুলে বাংলায় 'অংক আর সংখ্যা' যে আলাদা জিনিস শিখেছিলাম, তার কি হবে?
[সূত্র]

****************************************

সো এর ছবি

কী দাঁড়ালো তাহলে ? আমরা গণিত ক্লাসে অঙ্ক কষি, আর অঙ্ক কষতে গিয়ে যেইগুলা কাটাকুটি করি সেইগুলা সংখ্যা, যেইটা পাই সেইটা নম্বর, যেইগুলা ছিড়ি সেইগুলা মাথার চুল, আর যেইগুলা খাই সেইগুলা বেতের বাড়ি।
হাসি
অল্সো, কমেন্টের দুইটা শাখায় নতুন অনেককিছু জানলাম। (নম্বর+সমাজবিজ্ঞান)

মন মাঝি এর ছবি

কী দাঁড়ালো তাহলে ?

হাঃ হাঃ হাঃ সেটা তো আমারও প্রশ্ন! গড়াগড়ি দিয়া হাসি

****************************************

মরুদ্যান এর ছবি

মূল পোস্ট বুচ্ছি। কিন্তু প্রে সমাজবিজ্ঞানের আলোচনার ধরা খেয়ে গেলুম। কেন যে কঠিন কথা বার্তা বুঝিনা মন খারাপ

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।