ফিলিস্তিনে সাহায্য প্রেরণ ও কিছু সমস্যা

ধ্রুব আলম এর ছবি
লিখেছেন ধ্রুব আলম [অতিথি] (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৪/০৮/২০১৪ - ১২:২২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ইসরাইল-ফিলিস্তিন খুনোখুনি চলছিলো কিছুদিন আগেই, এখনো চলছে। তবে, এখন কেন জানি সব ঝিমিয়ে গেছে, হ্যাশট্যাগ দেখি না, স্ট্যাটাস দেখি না, কান্নাকাটিও চোখে পরে না। আমি ফেসবুক দেখে মানুষের আবেগটা যদি বোঝার চেষ্টা করি, তবে যা যা পাবোঃ

১। হ্যাশট্যাগ
২। স্ট্যাটাস
৩। বাংলার বুকে ফিলিস্তিনি ভাইদের নিয়ে আসার জন্যে কান্না (সাথে রোহিঙ্গাদের কেন ঢুকতে দেইনা, চিপায় বলে নেয়া)
৪। যুদ্ধে যাবো, জিহাদি হবো (এইটা ফেবুতে বেশি, কাজে কম)
৫। কিভাবে সাহায্য করা যায়, সে উপায় বের করা ইত্যাদি ইত্যাদি

আমি পঞ্চম ব্যাপারটি নিয়ে আগ্রহী, কারণ ওটি সবচেয়ে কার্যকরী হতো এবং কোনভাবে কি সম্ভব?

ভেবে দেখলাম, নেটে ঘাঁটলাম। যা পেলাম তার তথ্যগত ভিত্তি কি? কিছুই না আসলে। পিয়ার রিভিউড জার্নালে লেখা দিতে গেলে এভাবেই বলতে হবে, কারণ সবই উইকি, বিভিন্ন পত্রিকা আর ইউটিউব ভিডিও (খানিকটা ফেসবুক) থেকে পাওয়া। কিন্তু যা রটে, তা খানিকটা সত্যি তো বটে।

জানলাম,

১। এম্বেসি ফাতাহর, গাজা হামাসের। ফাতাহ কন্ট্রোল করে ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক, নট গাজা। সে জানামতে, কোনদিনই সাহায্যের টাকা বা সাহায্য গাজায় দিবে না (আর চাইলেও পারবে না, গাজায় ঢুকাবে কিভাবে?)। আবার হামাসের প্রতিনিধি নাকি বাঙলাদেশে নাই (জামাতের সাথে নাকি তাদের ভাল খাতির আছে, এটাও শোনা কথা, তবে ছাগুরা বলছে, স্ট্যাটাস দিচ্ছে, জামাতকে টাকা দিন, তারা হামাসকে পৌছে দিবে। জামাতকে এখন মানবতার খাতিরে ব্যবহার করুন!)

২। গাজায় সাহায্য দিতে পারে মিসর, কিন্তু সে তা চায় না, কারন হামাস। মিশর হামাসকে কট্টর বলে এভয়েড করে। মুসলিম ব্রাদারহুড (কট্টরপন্থি) হামাসের বন্ধু ছিল, তারা এসেই রাফা বর্ডার খুলে দিসিলো, এখন বন্ধ।

৩। দুর্নীতি নিয়ে হামাস-ফাতাহ একে অপরকে দোষারোপ করে। এর কিছুটা সত্যি নিশ্চয়। আর ধরে নিলাম, হামাস করাপ্ট না, কিন্তু তারা নাকি বেশিরভাগ সময় সাহায্যের টাকা, অস্ত্র কিনতে ব্যবহার করে। এবং এদের মূলনীতি আইসিসের মতই, এরা প্রায় তালিবান রাষ্ট্র চায়। (এ নিয়ে পরে বিশদ আলোচনার ইচ্ছে আছে)

এই মুহূর্তে, আপনি হামাস-ফাতাহ নিয়ে আলোচনা না করে হুট করে টাকা দিয়ে দিতে পারেন না। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এইড নিয়ে তৈরি আছেই, যেতে পারছে না। আমাদের আসলে কিছু করার নেই, দুঃখজনক সত্য। এটা মেনে না নিলে নাই, কিন্তু এম্বেসিতে টাকা দেয়াটা মনের শান্তি দেবে, আর কিছু না। অনেকে ইতোমধ্যে দিয়েছেন অবশ্য।

আমি শুধু হামাস না, ফাতাহকেও দোষ দিচ্ছি, তারা যে টাকা নিচ্ছে, বলছে না কেন, কিভাবে গাজা পৌছাবে, টাকা হামাসকেও দিবে, বন্টনের জন্যে, নিশ্চিত করবে এটা খাদ্য কিনতে ব্যবহার হবে, অস্ত্র না।

অনেকে বলেছেন, হামাস-ফাতাহ যৌথ সরকার হয়েছে, তারা ক্ষমতা বন্টনের চুক্তি করেছে। হ্যা করেছে, কিন্তু হামাস, পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরাইলের চোখে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। আপনি যদি মনে করেন, কেন? তার জবাব হচ্ছে, হামাসের মূলনীতিতে রয়েছে, ইসরাইল ও ইহুদিদের ধবংসকামনা (মতান্তরে দুনিয়া থেকে ইহুদি নিশ্চিহ্নকরণ!)। ফাতাহর মাহমুদ আব্বাস অবশ্য দাবি করেছেন, হামাস দ্বি-রাষ্ট্রনীতি মেনেছে, যেটি বিশ্বাস করা কষ্টকর। ফাতাহ এই চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছে, কারণ গাজায় নির্বাচনে জয়ী হামাস। কিন্তু এর পরপরেই ইসরাইল সব ধরণের আলোচনা বন্ধ করে দিয়েছে, তারা একটি সন্ত্রাসী সংগঠনকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না (এটি জেনেশুনে তালিবান বা আইসিসকে ক্ষমতায় বসানোর মতই। কে তার নিজের পায়ে কুড়াল মারবে?)

হ্যাশট্যাগ দিয়ে আমরা যেমন খালাস, তেমনি টাকা দিয়েও খালাস। হামাসের হাতে টাকাটা/ সাহায্য পৌছবে কি? পৌছালেও তারা কি সেটা নতুন বন্দুক কিনতে ব্যয় করবে, না খাদ্য কিনবে? তবে আমি অনুৎসাহিত করছি না কাউকে, সাহায্য হয়তো পরে এম্বেসি থেকে ফাতাহ ব্যবহার করবে, কিছু হয়তো দুর্নীতিতে যাবে, এটা অনিবার্য।

টাকা দেবেন কি না দেবেন আপনার সিদ্ধান্ত, তবে পুরো গল্পটুকু জেনে রাখুন (গল্পই বলছি, সত্যের ভাগ কম হতে পারে)। না জানলেও ক্ষতি নেই, তবুও জানালাম আর কি। একেবারে আবেগে ভেসে না গিয়ে, একটু চিন্তার খোরাক তো পাওয়া যেতে পারে।


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

এই ভিডিওটা বেশ ইন্টারেস্টিং।
http://www.c-span.org/video/?320736-1/book-discussion-old-wine-broken-bottle

Emran

ধ্রুব আলম এর ছবি

চলুক

মরুদ্যান এর ছবি

হুমমমম।

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

ঠিক! আপনার দেয়া টাকা দিয়ে রুটি কেনা হলো না গোলা কেনা হলো সেটা তো পরের ব্যাপার। উত্তোলিত সব টাকা ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের কাছে (হোক ফাতাহ্‌ বা হামাস) আদৌ যাচ্ছে কিনা সেটাও দেখার বিষয়। গাজার নাম করে তোলা টাকা কেউ গাঁজায় উড়িয়ে দিচ্ছে কিনা সেটাও দেখতে হবে।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

রণদীপম বসু এর ছবি

চলুক

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

মেঘলা মানুষ এর ছবি

গাজার নাম করে তোলা টাকা কেউ গাঁজায় উড়িয়ে দিচ্ছে কিনা সেটাও দেখতে হবে।

হাততালি

ধ্রুব আলম এর ছবি

হামাস নেতার জিহাদ দেখুন এখানে

আমি এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম দেখে এক ভাইয়ের বিরাগভাজন হয়েছি। এগুলা নাকি সব মিথ্যা এবং আমি নাকি শুধু শুধু হামাসের পিছে লাগি!

ধ্রুব আলম এর ছবি

ধন্যবাদ সকলের মন্তব্যের জন্যে। আমি যতটুকু জানি, টাকা নাকি এম্বেসি, মুসলিম এইড, রেড ক্রস/ ক্রিসেন্ট তুলেছিলো। এম্বেসি রিসিপ্টও দিয়েছে।

এদের মধ্যে এম্বেসি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। মুসলিম এইড একটি সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠান আমার কাছে। এর মূলহোতারা ইহুদিবিদ্বেষী বলে প্রচার রয়েছে (হলোকাস্ট অস্বীকারেরও)। রেড ক্রস/ ক্রিসেন্ট ভালো প্রতিষ্ঠান।

আর জামাতের ব্যাপারটা ছাগু স্ট্যাটাস থেকে পেয়েছি, সেই ভদ্রলোক বিসিএস ডাক্তার। বুঝুন প্রশাসন আস্তে আস্তে কাদের হাতে যাচ্ছে। আমার চেনাজানা সকল বুয়েটিয়ান ছাগু এখন বিসিএস/ সরকারি অফিসার।

অতিথি লেখক এর ছবি

অধিকাংশই ফেসবুকে কভার ও প্রোফাইল পিক বদল, না পড়ে বা দেখে অন্যের পোষ্ট শেয়ার করা এবং হ্যাশট্যাগিংয়েই সীমাবদ্ধ এদের মধ্যে আদৌ কেউ দুই টাকাও দেবে কিনা সন্দেহ? আর যারা ফান্ড তোলায় ব্যস্ত তাদের মধ্যেও আসলের চেয়ে নকলের পরিমানই বেশী। সেকারনে এদের জানার আদৌ প্রয়োজন নেই টাকা পৌঁছবে কি না।

অভিমন্যু .
________________________
সেই চক্রবুহ্যে আজও বন্দী হয়ে আছি

ধ্রুব আলম এর ছবি

সম্প্রতি বাংলার বিবেক বলে আখ্যায়িত মজা লস পেজের আবেগ দেখে পোচুর কান্না পাচ্ছিলো (ওরে কোথায় কে আছিস, দুঃখ ভুলতে কেউ হিন্দু বাড়িতে আগুন দিয়ে আয়)

প্রোফেসর হিজিবিজবিজ এর ছবি

আবেগ তাড়িত উদ্দীপনা এসব ক্ষণস্থায়ী উত্তেজনার মূল কারণ। এতে করে নিজের মনের গোড়ায় বেশ একটা শান্তির সুড়সুড়ি দেয়া যায়!

____________________________

ধ্রুব আলম এর ছবি

সম্পূর্ণ সহমত। চলুক

হিমু এর ছবি

হামলার শুরুর দিকে যখন ইসরাইলিদের হাতে ফিলিস্তিনিদের হত্যাযজ্ঞে ছবি মিডিয়ায় আসেনি, তখন মমিনবৃন্দ সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে নিহত শিশুদের ছবি দেখিয়ে লোকজনকে মুক্ত হস্তে দানের ডাক দিচ্ছিলেন। সিরিয়া আর ইরাকে আইসিসের খুনাখুনি নিয়ে কাউকে টাকাপয়সা তোলা তো দূরের কথা, একটু দোয়ার জন্যও ডাকাডাকি করতে শুনলাম না। ইউনূস নবীর মাজার উড়িয়ে দিলো আইসিস, মমিনবৃন্দের কোনো ভ্রুক্ষেপই নাই।

আজ পত্রিকায় পড়লাম, হামিদুর নামে এক বৃটিশ-বাংলাদেশি মোজাহিদ পোর্টসমাউথের জীবন ফেলে সিরিয়ায় ইসলামি খেলাফত কায়েমের যুদ্ধ করতে গিয়েছেন। এই মোজাহিদরা কেন ফিলিস্তিনে যায় না? সিরিয়া তো মুসলিম দেশ বলেই জানতাম, সেই তেলা মাথায় তেল দিতে ওনারা কেন যান? পোর্টসমাউথের কাফের-মোশরেকদের সিরাতুল মুস্তাকিম বরাবর ডাক দিলেও তো চলতো।

অতিথি লেখক এর ছবি

সিরিয়ায় তো মোজাহিদরা জিতছে; সুতরাং সেইখানে গেলে হামিদুর সাহেবের গাজী হওয়া, একে-৪৭/রকেট লঞ্চার নিয়ে ক্যামেরার সামনে পোজ দেওয়া, আর গনিমতের মাল পাওয়ার সুযোগ আছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনে গেলে গনিমতের মাল তো দূরের কথা; গুলতি দিয়ে পাথর মারতে যেয়ে ইসরায়েলী ট্যাঙ্কের নীচে পরে মরার সম্ভাবনাই বেশী। হামিদুর সাহেব হলেন জাতে মাতাল, তালে ঠিক পাব্লিক। সোভিয়েত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ দিকে (যখন সোভিয়েত ইউনিয়নের পশ্চাদপসরণ সময়ের ব্যাপার মাত্র) বাংলাদেশ থেকেও এরকম অনেক তালেবান মোজাহিদ জিহাদ করতে আফগানিস্তান গিয়েছিল; দেশে ফিরে তারা ইনকিলাব পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিত।

Emran

ধ্রুব আলম এর ছবি

জায়গামত চোখ টিপি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।