বাংলাদেশে ব্যাটারি বাইক বা ইজি বাইকের অতি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং আমাদের অদ্ভুত নীতিমালাঃ পর্ব ৩

ধ্রুব আলম এর ছবি
লিখেছেন ধ্রুব আলম [অতিথি] (তারিখ: বিষ্যুদ, ১২/০৫/২০১৬ - ৩:২৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

গত পর্বে বলেছিলাম ব্যাটারি বাইক নিষিদ্ধকরণের কথা ও সরকারী নীতির দ্বিমুখীতা। আজকে জানাবো, সরকারের পক্ষ থেকেই আবার কি কি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ব্যাটারি বাইক বা ইজি বাইকগুলোকে নানা সুবিধা দেয়ার জন্যে!

সরকার সেই ২০১৪ সালেই সিদ্ধান্ত নেয় ৬টি বিভাগীয় শহরে (ঢাকা বাদে) সোলার-পাওয়ার্ড চার্জিং স্টেশন স্থাপনের। এর পিছনে মূল উদ্দেশ্য ছিলো জাতীয় গ্রিডের উপর চাপ কমানো ও বিদ্যুৎ চুরি রোধ। সে সময় বলা হয়েছিলো, একটি পাইলট প্রকল্পের অধীনে ঢাকাকে বাদ রেখে বাকি বিভাগীয় শহরগুলোতে ছয়টি চার্জিং স্টেশন স্থাপনে খরচ পড়বে মোট সাড়ে দশ কোটি টাকা। ১২৫ কিলোওয়াটসম্পন্ন সোলার প্যানেলসহ প্রতিটি স্টেশন স্থাপনে খরচ দেড় কোটি টাকা (অতিরিক্ত দেড় কোটি কেন খরচ হবে, বোধগম্য নয়!)। প্রতিটি স্টেশন দিনে ১২০ সেট ব্যাটারি চার্জ করে দিতে পারবে (১২০ সেট ব্যাটারি মানে কি ৪৮০ বা ৬০০ টি ব্যাটারি? এখানে পরিষ্কার করে বলা ছিলো না, পরে বিপিডিবির ব্যাখাটি দেয়া হলো)।

একবারে চার্জের খরচ পড়বে ৫০ টাকা, সে দিক থেকে হিসেব করে বের করা হয়েছিলো, প্রতিদিনের আয় হবে ৬,০০০ টাকা, এক বছরের আয় ২২ লাখ টাকা। সে সময় একবার এক সেট ব্যাটারি চার্জ করতে মালিক বা অন্যান্যরা নিতো ৬০-৭০ টাকা।

বিপিডিবি বের করেছিলো, ইজি বাইকগুলোর এক সেট ব্যাটারি মানে ৫টি ব্যাটারি, প্রতিটি ৬০ ভোল্টের, যা এক কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন, এবং ৪-৫ ঘন্টা সময় নেয় পুরো সেটটি চার্জ হতে (এই হিসেব ২০১৪ সালের)। তারা এবার ব্যাটারি বাইকের বিদ্যুৎ চুরির পরিমাণ এক লাফে বাড়িয়ে দিয়ে বলে ৪০০ মেগাওয়াট, এবং তাদের সংখ্যা নির্ধারণ করে ৪ লাখ (আগে বলেছিল ২১৬ মেগাওয়াট ও ২,৪০,০০০টি ব্যাটারি বাইক চলমান)। একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পত্রিকায় বলেন, এই বিদ্যুৎ চুরি হয় তারে সরাসরি একটি ধাতব কোন হুক লাগিয়ে দিয়ে এবং দুই-তৃতীয়াংশ ব্যাটারি বাইক চার্জ হয় এভাবে। আর বাকিগুলো গৃহস্থালি থেকে বিদ্যুৎ চার্জ করে। দুটোই বিপিডিবির বা সরকারের কাছেও অগ্রহণযোগ্য।

এদিকে পাওয়ার সেল, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, সে বছরই (২০১৪) ব্যাটারিগুলোকে সৌর-বিদ্যুতের সাহায্যে যেন চার্জ দেয়া যায়, সেভাবে উপযোগী করার চেষ্টা শুরু করে। কিন্তু সরকার বা কর্তৃপক্ষগুলোর সমন্বয়হীনতার প্রমাণস্বরূপ, বি আর টি এর চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলে, উনি তার কিছুই জানেন না বলে উত্তর দেন। এর ফলে ব্যাটারিবাইক সেই নিষিদ্ধই থেকে যায়।

দু বছর পরে, ২০১৬-তে এই সৌর বিদ্যুতের উদ্যোগের প্রথম ফল আলোর মুখ দেখে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সর্বপ্রথম সৌর বিদ্যুতায়িত চার্জিং স্টেশন তৈরি করে, তবে দুঃখের বিষয়, ঢাকার কেরানিগঞ্জে। নীতি নির্ধারকরা মনে করেন, এবং এমন আশাবাদ সাংবাদিকদের কাছে ব্যক্তও করেন যে, যদি এ ব্যবসা লাভজনক ও জনপ্রিয় হয়, তবে বেকারত্ব ঘোচাতে ব্যাটারি বাইকগুলো বড় ভূমিকা রাখবে। তারা আরো বলেন, সরকার উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনে সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে হলেও এ খাতে আনতে চায় (মূলত চার্জিং স্টেশন স্থাপন করতে)। যা হোক, সে স্টেশনটি বর্তমানে ২০-২২টি ব্যাটারি বাইককে একবারে চার্জ দিতে পারে, এবং আগে নির্ধারিত ৫০ টাকা করেই নেয় প্রতিবারে।

ওদিকে, একটা ছোট্ট খবর আমার নজরে এসেছিলো, ২০১৫-র পহেলা আগস্ট যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ২২টি মহাসড়কে সকল অযান্ত্রিক ও তিন চাকার যান নিষিদ্ধ করেছিলো, তার বিরুদ্ধে 'বাংলাদেশ অটো-রিক্সা-অটো-টেম্পো মালিক চালক সংগ্রাম পরিষদ' (তারা নিজেদের এ সকল যানের চালক ও মালিক বলে দাবি করে) প্রতিবাদ জানায়।সে প্রতিবাদ সভায় বলা হয়েছিলো দেশের দুই লাখ চালক-মালিক ও মেকানিক এবং তাদের পরিবার-পরিজন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এই প্রতিবাদে যে কোন লাভ হয়নি, বলাই বাহুল্য।

আমি এই সকল তথ্য যোগাড় করে যা দেখতে পেলাম, সরকারই একসময় ব্যাটারি বাইক আসা শুরু করলে তাকে উৎসাহিত করেছে, কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ছাড়াই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ব্যবসার এক ভালো সুযোগ পেয়ে ঝোপ বুঝে কোপও মেরেছে একটা। এরপরে যখন রাস্তাঘাট সয়লাব হয়ে গেছে এগুলোতে, সরকার তাদের হাতের কাছে সবচেয়ে সহজ যে উপায়টি ছিলো, সেটিই বেছে নিয়েছে, নিষিদ্ধকরণ। যদ্দিনে সে এই হঠকারী সিদ্ধান্তটি নিয়েছে, তদ্দিনে সেটিকে বাস্তবায়ন আর সম্ভব না।

ওদিকে ইজিবাইক বা ব্যাটারি বাইকও বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে, যার পেছনে অতি অবশ্যই হাত আছে দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা আর কর্মচারীদের। তারা নানা ফন্দি ফিকির করে পথ করে দিয়েছে, আইন বাচিয়ে এদের পথে নামানোর ও চলাচলের। ইজি বাইকগুলো যেখানে রিকশার সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করতো, সেখানে খুটির জোর পেয়ে ব্যবসায় লাল বাতি জ্বালিয়ে দিয়েছে অটো রিক্সা আর বাসগুলোর। ব্যবহারকারী বা ভোক্তাদের হয়েছে লাভ, আপাতদৃষ্টিতে; কিন্তু মফস্বলগুলোতে বেড়েছে জ্যাম ও চলাচল হয়েছে অনেক বেশি ঝুকিপূর্ণ।

সরকার, বিশেষজ্ঞ বা নানা কর্তৃপক্ষ বার বার ঘুরে ফিরে দুটো জিনিশের উপরে গুরুত্ব দিয়েছে, (১) জীবনের নিরাপত্তা ও (২) বিদ্যুতের অপব্যবহার। যে দুটি ব্যাপার তাদের মাথায় কখনো আসেনি সেগুলো হলোঃ (১) পরিবেশগত ভূমিকা ও (২) গণমানুষের পরিবহনের উপর এর প্রভাব।

যাত্রীর জীবনের ঝুকি নিয়ে কোন যান রাস্তায় চলতে পারে না, এ নিয়ে কোন বির্তকের অবকাশ নেই। শুধু ইজি বাইক বা ব্যাটারি বাইকগুলো কেন, তিন চাকার যেকোন যান, যেমন অটোরিক্সাও মহাসড়কে বিপদজনক। তাই সেগুলো মহাসড়কে নিষিদ্ধের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

ওদিকে ব্যাটারিবাইকের লেড এসিড ব্যাটারিগুলো মারাত্মক বিপদজনক পরিবেশের জন্যে। সেগুলোর সঠিক ডিসপোজাল হচ্ছে না, এবং এসিড বা পুরো ব্যাটারিই মাঝে মাঝে খোলা জায়গায় ফেলে দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে আমি সরকারের কোন পর্যায়েই কোন মাথাব্যথা তো দূরের কথা, চিন্তাই দেখিনি।

বিদ্যুতের অপব্যবহার একটি বড় অভিযোগ, প্রায় অধিকাংশ ব্যাটারি বাইকই চলে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে। কিন্তু সেটি যে অপচয়, এটি কে বলছে বা কেনই বা বলছে? আমার বিদ্যুৎ বিভাগে সামান্য কিছুদিন করা চাকরির সুবাদে বলতে পারি, বিদ্যুতের কোন অপচয় হয় না। এটি বেশ মজার একটি ধারণা যা উর্ধতন কর্মকর্তা বা নীতিনির্ধারকরা প্রায়ই ব্যবহার করতেন। বিদ্যুৎ যা উৎপাদিত হয়, তা কখনো অব্যবহৃত থাকে না, সেটিকে কোন না কোন ভাবে কাজে আসতেই হবে। এখন কেউ হয়তো সরকারকে বিল দেন, কেউ কম দেন, বাকিটা ঘুষ দেন, আর কেউ হয়তো দেনই না। এই মনোভাবটি দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে এবং সম্পদের সুষম বণ্টন হতে দেয় না। যখন কোন সম্পদশালী ব্যক্তি তার এসি বা বিলাসবহুল কোন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের বিদ্যুতটি চুরি করেন; সেটি সম্পদের অসম বণ্টন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সবচেয়ে গরিব ও দুর্বল ব্যবসায়ীরাই রাস্তার বিদ্যুৎ লাইন থেকে চুরি করে তার সংসার চালান। এমন কি ধনী শিল্পপতিও যদি বিদ্যুৎ চুরি করেন, শিল্পের উন্নতি ও কর্মসংস্থানের অজুহাতে; সেগুলো না দেখার ভান করা হয় (দুর্নীতিটাকে বাদ রাখলাম!)।

এখন মোটামুটিভাবে মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্তদের দ্বারা ইজিবাইকের গ্যারাজগুলো চলছে, অনেক ক্ষেত্রে যারা চালাচ্ছেন, তারাই যানের মালিক। সেক্ষেত্রে তাদের কোন গ্যারেজ নেই, একটি গাড়িই তাদের সংসারের সম্বল। আর যারা ব্যাটারি বাইক ব্যবহার করছেন তারা কেউই কিন্তু উচ্চবিত্ত না, সকলে সেই মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত। সুতরাং, একটি শহরের সিংহভাগ মানুষকে পরিবহন সেবা দিয়ে যাচ্ছে এই পরিবহনটি এবং সমাজের একটি বেশ দরিদ্র অংশের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে। সুতরাং, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিনামূল্যে বিতরণের পরিবর্তে আমরা কি পাচ্ছি বা সমাজের কি উপকার হচ্ছে? যদি কেউ এর আর্থিক মূল্যায়ন করে এবং লাভ-ক্ষতি বিশ্লেষণ করে, তবে এটি একটি চমৎকার বিষয় হতে পারে গবেষণার। এর আগেই ব্যাটারি বাইককে দোষী সাব্যস্ত করে নিষিদ্ধ করে দেয়াটা উচিত না।

আমার কাজটি ছিলো শহরের মানুষের যাতায়াতে (বিশেষ করে তাদের এক্সেসিবিলিটিতে) ইজি বাইক বা ব্যাটারি বাইকসহ সকল রকমের প্যারাট্রানজিটের কি ভূমিকা বের করা। আমি অতদূর যেতেই পারিনি, আমি শুধু বের করেছি সকল রকম যান ও হাঁটার মোড চয়েস মডেল। এ থেকে হয়তো এক্সেসিবিলিটি ও ইকুইটি বের করা যাবে ভবিষ্যতে। আমার প্রাথমিক ধারণা বা হাইপোথিসিস ছিলো, শহরের গরিব মানুষ বা অধিকাংশ মানুষের এক্সেসিবিলিটি বাড়িয়ে দেয় এই প্যারাট্রানজিটগুলো। আমি তা প্রমাণ করতে পারিনি এখনো, সময়ের সল্পতায়, তবে ভবিষ্যতে কাজ চালিয়ে গেলে হয়তো পারবো।

এখানে ট্রান্সপোর্ট এক্সেসিবিলিটিকে খুব সহজভাবে বলা যায়, একজন মানুষের চলাচলের সুবিধাপ্রাপ্তি বা সহজলভ্যতা। একজন গরীব মানুষকে ট্যাক্সির ব্যবস্থা করে দিলে তার এক্সেসিবিলিটি বাড়বে না, কারণ সে ভাড়া দিতে পারবে না। আবার উচ্চবিত্তর গাড়ি কেড়ে নিয়ে বাস সার্ভিস দিলে তারও লাভ নেই, সে বাস ব্যবহার করতে পারবে না। এই এক্সেসিবিলিটি বর্তমানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিবহন ব্যবস্থায়; অনেক দেশ প্রতিটি মানুষের অধিকার বলে ঘোষণা দিচ্ছে একে। মানুষের চলাচল ও ঘোরাফেরার ব্যবস্থা করে দিলে তার নানাখাতে; বিশেষত কর্ম ও শিক্ষার সুযোগ বহুগুণে বেড়ে যায়। তাই চেষ্টা করা হয় কিভাবে সমাজের সকলকে এক্সেসিবিলিটি দেয়া যায়।

খুলনা শহরে অবৈধভাবেই ব্যাটারি বাইক বা ইজি বাইকগুলো সাহায্য করছে, মূলত নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের এক্সেসিবিলিটি দিতে, সাথে কর্মসংস্থানের। এখন সরকারের উচিত তাদের দ্বিমুখী নীতিমালা প্রনয়ণ বাদ দিয়ে, কিভাবে এদের মূলধারার পরিবহন ব্যবস্থায় সংযুক্ত করা যায় সে বিষয়ে ভাবা এবং সমস্যাগুলো (বিশেষ করে পরিবেশ ও নিরাপত্তাজনিত) সমাধান করার চেষ্টা করা।


মন্তব্য

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

[সরকারী ভাষ্য সংক্রান্ত দলিলাদির পিডিএফ যুক্ত করে দিতে পারেন।]

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

ধ্রুব আলম এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ পড়বার জন্যে এবং পপকর্ন খাবার জন্যে। আমি সকল রেফারেন্স বা তথ্যসূত্রই জুড়ে দিচ্ছি।

সোহেল ইমাম এর ছবি

সুন্দর লেখা। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দিক তুলে ধরেছেন ইজিবাইক সংক্রান্ত সমস্যার। ভালো লাগলো।

---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

আপনার প্রথম লেখাটিতে অনুরোধ করেছিলাম এদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণটা পরিস্কার করে বলার জন্য, কিন্তু সেটা না করায় বেশ কিছু অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। আপনি পিডিবি'র উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন ইজি বাইকের সংখ্যা চার লাখ এবং তারা দৈনিক ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। আগেই বলেছি ৪০০ মেগাওয়াট কোন ব্যবহারিক ইউনিট নয়, যদি গড়ে ১ ঘন্টা ব্যবহার করে তাহলে সেটা হবে চার লক্ষ কিলোওয়াট-আওয়ার। আর যদি গড়ে ৫ ঘন্টা ব্যবহার করে তাহলে সেটা হবে বিশ লক্ষ কিলোওয়াট-আওয়ার। বিদ্যুতের বর্তমান মূল্য অনুযায়ী একজন বাইকার যদি বৈধভাবে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, তাহলে তার দৈনিক খরচ হবে ১০ টাকা, আর পাঁচ ঘন্টা ব্যবহার করলে খরচ হবে ৫০ টাকা। কোন সন্দেহ নাই, যদি সে পাঁচ ঘন্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, তাহলেও তার খরচের পরিমান পেট্রোল ব্যবহারের তুলনায় কয়েকগুণ কম, এমনকি ডিজেলের চেয়েও অনেক সাশ্রয়ী। তাহলে দেখা যাচ্ছে আমাদের জাতীয় অর্থনীতির জন্য শুধুমাত্র জ্বালানি খরচের হিসাবে এটা অনেক ইতিবাচক। যদি বিদ্যুতের অর্ধেক অংশও চুরি করে ব্যবহার করা হয়, তাহলেও সামগ্রিকভাবে এর অর্থনৈতিক উপযোগিতা বিশাল।
এখন আসা যাক এর ব্যবহারিক উপযোগিতার দিকে। যে যত কথাই বলুক না কে, ইজি বাইকের ব্যবহারিক উপযোগিতার ব্যাপারটি এখন আর কারো পক্ষেই উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। মফঃস্বল এবং গ্রামীণ মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটা এখন অতি আবশ্যকীয় এক বাহনে পরিণত হয়েছে। প্রায় সকল ধরনের মানুষের সাধ্যের মধ্যে একটি উপজেলার যে কোন গ্রামে যখন ইচ্ছা চলে যাওয়ার যে সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে, কারো পক্ষে কি তাতে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা সম্ভব?
আর দুর্ঘটনা- আমি মনোযোগ সহকারে লক্ষ করে দেখেছি, বাংলাদেশে দুর্ঘটনায় সাধারণত যে পরিমান প্রাণহানি হয়, সেখানে ইজি বাইকের ভূমিকা সেখানে প্রধান নয়।

ধ্রুব আলম এর ছবি

আপনি যে প্রশ্নটি করেছেন লেখার প্রথম পর্বে, যেটির উত্তর আমি সেখানে আপনার মন্তব্যেই দিয়েছি। আপনি সেটি মোটেই দেখেননি, বরং না দেখে এখানে এসে দোষারোপ করছেন। ধন্যবাদ কষ্ট করে পড়বার জন্যে এবং মন্তব্যের জন্যে। তবে ভবিষতে মন্তব্য করার পরে লেখক কি বললেন, সেটি দেখবার ধৈর্যটিও রাখবেন আশা করি। নইলে তো আপনার সাথে কথা বলা নিরর্থক।

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

আমি মন্তব্য করলাম এপ্রিলের আটাশ তারিখে, আর আপনি তার উত্তর দিলেন মে মাসের আট তারিখে, দশ দিন পরে। তিন চার দিন পর আমি ধরে নিয়েছিলাম যে কোন কারনেই হোক, আপনি আর উত্তর দিচ্ছেন না। দুঃখিত যে দশ দিন ধরে আপনার উত্তরের খোঁজ রাখা সম্ভব হয় নি। আর আপনার ভুল ধরার জন্য কিংবা দোষারোপ করার জন্য মন্তব্য করা হয় নি, আলোচনাকে পূর্ণতা দেয়ার জন্যই মন্তব্য।

নজমুল আলবাব এর ছবি

আব্দুল্লাহ সাহেব, আপনার মন্তব্যে মাঝে মাঝে অসহিষ্ণুতা প্রকাশ পায়।

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

আমি নিশ্চিত, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেটা বোঝার ভুল। এই যেমন ধ্রুব আলমের লেখার ব্যাপারে আমি কোনমতেই অসহিষ্ণু ছিলাম না, তবুও আপনি এবং ধ্রুব সেরকমটাই মনে করেছেন।

নজমুল আলবাব এর ছবি

ও! আচ্ছা।

ধ্রুব আলম এর ছবি

আমি অত্যন্ত সতর্কতার সাথেই এই লেখায় বিদ্যুতের হিসেবে 'দৈনিক' শব্দটি ব্যবহার করিনি, আপনি সেটিও খেয়াল করেননি, আবারো বলার জন্যেই একটি কথা বলেছেন। বিপিডিবি প্রায়শই এই শব্দটি ব্যবহার করে, অথবা সাংবাদিকরা হয়তো নিজেরা লাগিয়ে দেয়। এটিকে তাদের ভুল বলা যেতেও পারে, আমি শব্দটির এই ব্যবহার সঠিক নয় বলে, প্রথম লেখার পরে ভুলটি আর করিনি। আপনাকে উত্তর দিতে দেরি হবার কারণ আমি পরবর্তী পর্বগুলো তৈরি করছিলাম, সাথে অন্য কাজ তো আছেই। আপনার উত্তর দেবার আগে, আবার পত্রিকার রিপোর্ট বের করেছি, ও ইন্টারনেট ঘেটে দেখলাম আসল ব্যাখাটি কি; বাকিদের জবাবে কিন্তু দেরি হয় নি। জবাব দিতে দেরী একটু হতে পারে, তাই বলে দেবো না, এমন তো হয় নি; না দিলে বলেই দেই, আর জবাব দেবো না।

বিদ্যুৎ ক্ষমতাকে ১০০, ২০০, ৪০০ বা হাজার মেগাওয়াট দিয়েই প্রকাশ করা হয়, এতে ভুল নেই। কিন্তু তার সাথে সময় জুড়ে দেয়া যাবে না। আমরা বলছি, অমুক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করে, তার মানে তার প্রতি মুহূর্তে উৎপাদন ক্ষমতা অত মেগাওয়াট। আবার যখন বলছি, ব্যাটারি বাইক ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, তার মানে প্রতি মুহূর্তেই করছে। তবে এর সাথে দৈনিক, মাসিক ইত্যাদি বললে ভুল হবে। বিল করার ক্ষেত্রে, সময় দিয়ে গুণ করে বিল করতে হবে, তখন কাজে আসবে সময়ের হিসাব।

আর ৫টাকা করে ইউনিট গৃহস্থের, ব্যবসার নয়। আর বর্তমানে বিভিন্ন ধাপ রয়েছে, তাতে একটা নির্দিষ্ট ইউনিট খরচ করে ফেললে (যেমন ১০০ বা ৫০০ ইউনিট); পরবর্তী প্রতি ইউনিট বিলও বৃদ্ধি পায়।

হিমু এর ছবি

শক্তির হিসাবটা আসলে বিল করার সময় জরুরি। কিন্তু চাহিদার হিসাব করতে গেলে আবার ক্ষমতার হিসাবটা মাথায় রাখতে হবে। বাংলাদেশের সাংবাদিকরা শক্তি-চাহিদা গুলিয়ে ফেলেন বটে, কিন্তু আলোচনার প্রেক্ষাপটে এখানে ক্ষমতাটাই আলোচ্য।

মনে করুন আপনি সিঙ্গারার দোকান দিয়েছেন। আপনার দোকানে টেবিল আছে দুটো, চেয়ার আছে আটটা। সারাদিনে আপনার খদ্দের হয় পনেরো জন, প্রত্যেকে দুটো করে সিঙ্গারা খেতে পারে, সারা দিনে তিরিশটা সিঙ্গারা বানালেই আপনার চলে। আপনি যখন বিল করবেন, তখন সিঙ্গারা ধরেই করবেন। এটা হচ্ছে শক্তির হিসাব। কিন্তু চেয়ার যখন কিনবেন, তখন কিন্তু সিঙ্গারার সংখ্যা বিবেচ্য নয়, দোকানে এক সাথে সর্বোচ্চ কতো খদ্দের এসে হাজির হয়, সেটাই বিবেচ্য। আপনার দোকান তিরিশটার জায়গায় ষাটটা সিঙ্গারাও বেচতে সক্ষম, কিন্তু একবারে আটজনের বেশি খদ্দেরকে দোকানের ভেতরে আপ্যায়নে সক্ষম নয়।

ক্ষমতার ব্যাপারটা এই চেয়ারের সংখ্যার মতো। একসাথে সব ইজিবাইক কাছাকাছি সময়ে চার্জ করা শুরু করলে নেটওয়ার্কে কতোটুকু চাপ পড়বে, সেটা মাথায় রাখতে হবে। পনেরোজন খদ্দেরকে একবারে আপ্যায়ন করার সাধ্য আপনার দোকানে থাকতে হবে তখন, সিঙ্গারা তিরিশটা বিক্রি হোক আর একশোটা।

ধ্রুব আলম এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ হিমুভাই, চমৎকার একটা মন্তব্যের জন্যে। এইজন্যেই আসলে রাতে চার্জ দেয়া হয়, যখন লোড কম থাকে। অবশ্য রাতে দেয়ার আরো কারণও বের করা যায়, যেমন রাতে গাড়ীগুলো চলেনা, লোডশেডিং হয় না ইত্যাদি। তবে কোথাও কোথাও আধাদিনের জন্যেও যান ভাড়া করা যায় শুনেছি, সেক্ষেত্রে দুপুরের পরেও অনেকে চার্জ দিয়ে বিকালের পরে বের হয়।

ব্যাটারি বাইকগুলো দিনে চার্জ করা শুরু করলে সমস্যা শুরু হবে; তবে রাতে দিলে মনে হয় এখনো খুব বাজে অবস্থা দাঁড়াবে না। আগে একটা সঠিক হিসেব দরকার।

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।