বাঙ্গালির বিদেশ-ফেটিস ও ভণ্ডামি!

ধ্রুব আলম এর ছবি
লিখেছেন ধ্রুব আলম [অতিথি] (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৮/০৮/২০১৪ - ৩:০৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বাঙ্গালি বিদেশ যাওয়ার সুযোগ খুব বেশি পায় না। যারা পায় তাদের বৃহদাংশের (বাঙালি শ্রমিক গোষ্ঠী) মনের জমে থাকা কথাগুলো কেউ শোনে না, শুনতে চায় না, শুনতে ভালোও না। যাদের কথা/ অভিজ্ঞতা আমরা শুনি, তারা সমাজের সৌভাগ্যবান অংশটুকুর প্রতিনিধিত্ব করে। আরেকদলের মুখে বিদেশের ভাল ভাল কথা খুব শুনি, তারা হচ্ছে আদমবেপারি।

এদের দুইদলের কাছেই, বৈদেশ হলো স্বর্গ। সেখানে মানুষের পকেট চুইয়ে চুইয়ে টাকা পরে, রাস্তা দিয়ে দুধের (আর মদের) নহর বহে, আকাশ হতে স্বর্ণমুদ্রা ঝরে! এরা বিদেশের গুণগান গাইতে গাইতে মুখের ফেনা তুলে ফেলে।

তো বিদেশ আসলে কেমন? বেশিদিন হলো আমি আসিনি বাইরে, যা দেখেছি, তা দেখেই এ লেখার চেষ্টা। অবশ্যই বিদেশ ভালো, অনেক অনেক ভালো। কিন্তু বিদেশে কি ট্রেন-বাস লেট করে না, দুর্ঘটনা হয় না, মারামারি হয় না, রাস্তায় জ্যাম পরে না? সবকিছুই কি স্বপ্নের মত?

ভদ্র সমাজের সুশীলেরা বিদেশে আসে, বিদেশীদের কাছে দেশের বদনাম তো করেই, দেশে ফিরে যেয়েও বলতে থাকলাম, বিদেশে কি দেখে আসলাম! আর দেশে কি অবস্থা, ছ্যা ছ্যা ছ্যা ছ্যা! এই দেশে মানুষ থাকতে পারে?

ব্যক্তিগত ইউরোপিয় অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, বিদেশে নিয়মিতই ট্রেন-বাস লেট হয়, বৃষ্টি হলে পানি-টানি জমে একাকার হয়, বরফে যাতায়াত ব্যবস্থা বন্ধ হয়, আবার সেই বরফ গলতে শুরু করলে কাদা-টাদা জমে সে এক জঘন্য অবস্থা, দুর্ঘটনা হয়, দুর্ঘটনা ঘটলে ২ মাইল লম্বা জ্যাম হয়, শহরে ঘন্টাব্যাপী এমনিই জ্যাম হয়, লোকজন চুরি করে, মিথ্যা বলে, ঠকায়, পকেট মারে, রেসিস্ট আচরণ করে, খেলায় হারলে বা জিতলেও দুঃখে বা ফূর্তিতে স্টেডিয়াম-শহর ভেঙ্গেচুরে একাকার করে, নেতাদের জন্যে মিউজিয়াম, এলাকা ব্লক করে দেয়, রাস্তায় গরিব থাকে, খায়, ঘুমায়, মারাও যায়, থার্টি ফার্স্ট আর হ্যালোইনে ভয়ঙ্কর ব্যাপার-স্যাপার ঘটে ইত্যাদি ইত্যাদি।

ঘটনা হচ্ছে, বিদেশে এসব যাই হোক/ ঘটুক, মেনে নেই। কিছু মনে করিনা, মনে হয়ও না। আর আমাদের তৃতীয় বিশ্বের অতি গরীব এক দেশে পান থেকে চুন খসলে আমরা কর্তৃপক্ষ আর সরকারের বাপ-মা তুলে গালি দিতে বাকি রাখি না। কারন একটা হতে পারে, বিদেশের কর্তৃপক্ষ যেকোন অসুবিধায় দুঃখ প্রকাশ করে এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অবস্থা স্বাভাবিক করে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করে। বাংলাদেশে দুঃখ প্রকাশের বালাই নেই, আর কোন পদক্ষেপ নিতেও কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করে। আবার দুঃখ প্রকাশ করলেই সব মাফ হয়ে যায় না, বা ঠিক হয়ে যায় না, বরং সেটা একটা লোকদেখানো ব্যাপারে পরিণত হয়। জনগণ মাঝে মাঝে যে বলে, 'সরকার তো মাফ চেয়ে খালাস', এই অভিযোগও পুরোপুরি ভুল না।

এক্ষেত্রে, একটা কথা বলে রাখি, সবসময় কর্তৃপক্ষ/ সরকারকে সম্পূর্ণ দোষ দেয়া যায় না। দুটা সরকারি চাকুরি প্রায় দু বছর ধরে করে যা বুঝেছি, চাইলেই সব করা যায় না, আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার কারণে আর অর্থের অভাবে। তবে সে মানসিকতারও অভাব রয়েছে, স্বীকার করি।

আমাদের আরেকটি সীমাবদ্ধতা হচ্ছে, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কর্তৃপক্ষের আচরণ এবং তথ্যের অভাব। বিদেশে বাস-ট্রেন কত লেট, তা সঙ্গে সঙ্গে বলে দেয়, কোথায় জ্যাম জানিয়ে দেয়, মারামারি হলে এলাকা এড়িয়ে যেতে বলে, কবে বৃষ্টি হবে, বরফ পরবে, ঝড় হবে, হলে কি হতে পারে, কি হলে কি করতে হবে সব বার বার প্রচার করা হয়। বিদেশে কর্মকর্তা-কর্মচারী যে সবসময় খুব ভালো ব্যবহার করে তা কিন্তু না, পুলিশ খুব ভালো, তবে সব পুলিশ কিন্তু ভালো না। মজার (?) ব্যাপার হচ্ছে, বিদেশেও ( বিশেষ করে, পূর্ব ইউরোপে), ঘুষের বেশ চল আছে।

অন্যদিকে, আমরা (জনগণ) দেশে থাকলে কি করি? রাস্তার ধারে মুতি, ময়লা ফেলি, থুথু ফেলি, লাইন ভাঙ্গি, কথায় কথায় বখশিশ চাই, বিয়েতে হাউমাউ গান বাজাই, সুশীল সমাজের দামী গাড়ি উলটো পথে চালাই ইত্যাদি ইত্যাদি। সব দোষ চাপাই কর্তৃপক্ষ আর সরকারের উপর। নিজেদের দিকে কি একবার তাকিয়ে দেখেছি? মনে হয় না। খালি দোষ চাপিয়ে আমরাও খালাস।

আমরা বিদেশ থেকে দেশে এসে বড় বড় গল্প শোনাই, লাল বাতিতে পুলিশ লাগে না, এমনিই গাড়ি থামে; জেব্রা ক্রসিং ছাড়া কেউ রাস্তা পার হয় না; শহরটা কি পরিষ্কার; সবাই কি সুন্দর লাইন ধরে দাঁড়ায়! তো এগুলো নিয়ে কি আমাদের শিক্ষা দেয়া হয়নি? কোন বয়স থেকে আমরা জানি এ নিয়মগুলো? কোন পাঠ্যবইতেই বা নেই এগুলো? আমরা কি সেগুলো মেনে চলি?

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আমাদের সমস্যাগুলো কিছুটা কমে আসতে পারে, সহনীয় পর্যায়ে নামতে পারে, যদি আমরা অল্প কয়টা বিষয়কে একটু মাথায় রাখি। আমরা নিজেদের দিকে তাকাই, একটু সচেতন হই, বাজে অভ্যাসগুলো বদলাই আর আমাদের উচ্চাশা খানিকটা নামিয়ে আনি। আমরা এখনই বাংলাদেশ বা ঢাকাকে রাতারাতি ইউরোপ-আমেরিকা বা প্যারিস বানাতে পারবো না। একটু ধৈর্য্য ধরি, একটু মেনে নেই, বিদেশে থাকলে তো মানি। ঢাকায় এখনি কি এসি বিলাসবহুল সরকারি বাসের দরকার আছে? তার চেয়ে একটা সংরক্ষিত (ডেডিকেটেড) লেন করে করে একশ সাধারণ বাসই চালাই (একে বলে বিআরটি, বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট)। আমি হলফ করে বলতে পারি, সাধারণ মানুষ ৩ ঘণ্টার এসি ভ্রমণের বদলে ১ ঘণ্টায় ঘেমে-নেয়ে ঠিকই দৌড়ে বাড়ি যাবে, সন্তুষ্ট হবে। বিরক্ত হবে গাড়িওয়ালারা, যাদের গরম সহ্য হয়না, যারা বিদেশের মত ১০০ কিমি বেগে ১০ মিনিটে মতিঝিল থেকে উত্তরা যেতে চান।

আপনার সর্বক্ষেত্রে লাইন করার নিয়ম আশা করতে পারেন না, কাঙ্গালিভোজে যেখানে হাভাতে গরিবের ক্ষুন্নিবৃত্তি নিবারণের আশা, সেখানে আপনি তাদের নিয়ম মানতে বলছেন? লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছেন? সুশীল সম্ভ্রান্ত আপনি তো ব্যাঙ্কে কোনদিন লাইনে দাঁড়ান না, আপনার সম্মানে লাগে, সোজা ঢুকে পরেন ম্যানেজারের রুমে, কাঁচের এসি রুমে বসে চা-সিগ্রেট খেতে খেতে তার সাথে খোশগল্প করেন আর আপনার কাজ কাজের মতই হয়ে যায়, অঙ্গুলি হেলনে। হাভাতেদের ছেড়ে দিন না, বিদেশে কনসার্টে কি লাইন ধরে সুনিয়ন্ত্রিতভাবে নিয়ম মেনে ঢুকতে দেখেছেন? ওখানে ওইক্ষেত্রে ওদের মধ্যে তো ভাতের অভাব নেই!

রিকশাওয়ালা উলটা কেন আসে? রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, তার গায়ের রক্ত পানি করে তো সে রিকশা চালায়। সে কি চাইবে না একটু আরামের জন্যে উলটা পথে যেতে? আপনি কি সুযোগ পেলে গাড়ি নিয়ে যান না?

বিদেশে যে গাড়ি উলটা আসে (নিয়ম মেনেই), সেটা কি জানেন? আরে জ্যামের কথা তো আগেই বললাম।

বলছি না গরিবের জন্যে সব মাফ, তার জন্যে নিয়ম নাই। কিন্তু আইন-কানুন নিয়ম, সাথে সকল সুযোগ-সুবিধার লক্ষ্য হওয়া উচিত গরিবের উন্নতি সাধন, তাদের অবস্থার পরিবর্তন। আপনি রিকশা পিটিয়ে তুলে দিতে পারেন না, বিদেশের মত এদেশে শুধু গাড়িতে চলার অবস্থা এখনো আসেনি। আপনাকে রিকশাকে মেনে নিতে হবে, তার জন্যে ব্যবস্থা করে দিতে হবে। আপনি রিকশাওয়ালার দুঃখে টিভিতে কেঁদে বুক ভাসিয়ে, পাজেরো করে বাড়ি গেলে আর মনে মনে রিকশাকে পাব্লিক নুইসেন্স ধরে 'লন্ডন-নিউইয়র্কে রিকশা নাই' এই যুক্তিতে তলে তলে সরকারের কাছে 'রিকশা ব্যানের' লবিং করলে উন্নতি হবে?

সরকার বা কর্তৃপক্ষের দোষ আছে অনেক, কিন্তু আমি-আপনি মিলেই সরকার আর দেশ। দেশে গণতন্ত্র চলে, সবুজবাহিনী বা কোন একনায়ক নেই এখন; আমি-আপনি না বদলালে, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না আনলে, এমনি এমনি দেশ ইউরোপ-আমেরিকা হবে না।

আর একখান অনুরোধ, বিদেশিরা এমনিই জানে, বাঙালি কি মাল, আর পচাইয়েন না। আবার, আকাশেও তুলে দিয়েন না, যা সত্য তাই বলেন। ঢাকা খুব নোংরা শহর, কিন্তু এই শহরের অলিতেগলিতে কি মজা, কি অসাধারণ সব রাস্তার পচা (!) খাবার রয়েছে; বাংলাদেশ গরিব, কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামে গরিব এক বুড়ির ঘরে বৃষ্টিতে আশ্রয় নিলে, উনি আপনাকে বাবা বলে গাছের আম কেটে খাওয়াবেন; সেটাও বলুন। মিথ্যা বলতে হবে না।


মন্তব্য

মরুদ্যান এর ছবি

সবার আগে দরকার নিজেদের ঠিক হওয়া। নাইলে সরকার পিটিয়েও কিছু করতে পারবেনা।

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে

ধ্রুব আলম এর ছবি

তা ঠিক, তবে সরকারও মনে হয় দায় এড়াতে পারে না পুরোপুরি চিন্তিত

মাসুদ সজীব এর ছবি

লেখার মূল বক্তব্যের সাথে অনেকাংশে একমত, তবে একটা বিষয় আমি ব্যাক্তিগত ভাবে বিশ্বাস করি সেটি হলো আমি-আপনি-আমরা সবাই মিলে সচেতন হয়ে দেশকে বদলে দিতে যেখানে শত বছর লাগবে (কারণ সব মানুষ সম হারে সচেত হয় না, হবে না) সেখানে সর্বত্র আইনের সঠিক প্রয়োগ দেশকে দুই-এক যুগের মাঝেই বদলে দিতে পারে। মানুষকে সচেতন করতে শিক্ষার চেয়েও আইনের যথাযথ প্র্রয়োগ অনেক বেশি কার্যকরী।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

ধ্রুব আলম এর ছবি

সচেতনতা আর শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। আইন করে, আর পিটুনি দিয়ে পুলিশ স্টেট তৈরি হবে। আইন ভাঙ্গা যে একটি অনৈতিক ব্যাপার, বীরত্ব নয়, এটা মানুষের মাথায় ঢুকানোই উত্তম। আইনের সঠিক প্রয়োগ তো থাকতে হবেই, একটি উন্নত সমাজের জন্যে। কিন্তু টপ-ডাউন এপ্রোচের থেকে, বটম-আপ এপ্রোচই আমার কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য।

ধ্রুব আলম এর ছবি

ধন্যবাদ হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

একদম ঠিক বলেছেন। বাংলাদেশের মানুষ জানে না যে কি পরিমাণ পরিশ্রম করে এই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হয় আর তাই বৃষ্টির দিনে কাঁথার নীচে সুখ নিদ্রা দিতে দিতে বলে "উফ এমন বৃষ্টি ভালো লাগে? সারাদিন প্যাচ প্যাচে কাদা। এমন দেশে মানুষ থাকে?" কিন্তু আমরা যারা বিদেশে থাকি তাদের একথা বলার কোন সুযোগ বা মানুষ কেউই নেই। ঝড়, বৃষ্টি বা বরফ যাই হোক না কেন আমাদের কাজে যেতে হবেই।

ফাহিমা দিলশাদ

ধ্রুব আলম এর ছবি

এক্কেবারে সত্য কথাটা বলেছেন! চলুক

তিথীডোর এর ছবি

দেশে গণতন্ত্র চলে, সবুজবাহিনী বা কোন একনায়ক নেই এখন; আমি-আপনি না বদলালে, দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না আনলে, এমনি এমনি দেশ ইউরোপ-আমেরিকা হবে না।

আর একখান অনুরোধ, ঢাকা খুব নোংরা শহর, বাংলাদেশ গরিব, কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামে গরিব এক বুড়ির ঘরে বৃষ্টিতে আশ্রয় নিলে, উনি আপনাকে বাবা বলে গাছের আম কেটে খাওয়াবেন; সেটাও বলুন। মিথ্যা বলতে হবে না।

চলুক চলুক চলুক

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

ধ্রুব আলম এর ছবি

ধন্যবাদ হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

আরেকটা জিনিস যেটা আমাকে (এবং মনে হয় অনেককেই) বিরক্ত করে সেটা হচ্ছে যারা প্রবাসী, অনেক দিন ধরে বিদেশে আছেন, তারা যেন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীদের দেখতেই পারেন না। তাদের কাছে সব বাংলাদেশী প্রতারক নয় অসভ্য। বাংলাদেশের কোনো শিক্ষা ব্যবস্থা ভালো না, আর দেশের প্রতি অলিতে গলিতে লুকিয়ে আছে মৃত্যুর দূত।

গলা ছেড়ে এদের ধিক্কার দিতে ইচ্ছা করে - পারি না ওই সভ্যতার বেড়াজালের কারনে।

মরুচারী

ধ্রুব আলম এর ছবি

এই দেশের খ্যাত বাংলা মিডিয়ামে পড়েই, খালি আমি না, আমার একগাদা বন্ধুবান্ধবও বিদেশে বেশ করে খাচ্ছে। আর কি বলা যেতে পারে? খাইছে

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

যারা এগুলো বলে তারা কিন্তু সেই অসভ্য দেশটা থেকে শিখে এসেই করে খাচ্ছে।

ধ্রুব আলম এর ছবি

চলুক

শিশিরকণা এর ছবি

এদের জন্য আমার করুণা হয়। নিজেদের বিদেশে পড়ে থাকাটাকে যথার্থতা দিতে এদের অন্য কিছুকে ছোট করতে হয়। দেশে ফিরে সবাই যে অসুবিধা গুলো নিয়ে চলে ফিরে খাচ্ছে, সেগুলোর মুখোমুখি হবার বা নতুন করে আয় উপার্জনের ধান্দা খোঁজার মত সাহস বা উৎসাহ নেই এই সত্যটা স্বীকার করতে কষ্ট হয় বলেই আরও নানান এক্সকিউজ বের করতে হয়।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

Sohel Lehos এর ছবি

আরেকটা জিনিস যেটা আমাকে (এবং মনে হয় অনেককেই) বিরক্ত করে সেটা হচ্ছে যারা প্রবাসী, অনেক দিন ধরে বিদেশে আছেন, তারা যেন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীদের দেখতেই পারেন না।

দীর্ঘ দিন দেশের বাইরে বসবাস করা সব প্রবাসীই কি এই মনোভাব পোষন করেন? আপনার বোধ হয় বলা উচত ছিল 'কিছু সংখ্যক'।

সোহেল লেহস
----------------------------------------------
হে দূর্দান্ত ভাবনারা, হেয়ালি করো না। এসো এ বাহুডোরে।

শিশিরকণা এর ছবি

এই জিনিসটা মনে হইল ঈদে ট্রেন বাস দুর্ঘটনার খবর টিভিতে দেখার সময়। স্থানীয় লোকজন টিভি সাংবাদিককে বলছে, সরকার/ কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয় না ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি বুঝলাম না সেখানে রেল ক্রসিং দেয়া আছে , সতর্ক সংকেত দেয়া হয়, এর বেশি কর্তৃপক্ষ কি ব্যবস্থা নিবে যদি লোকে নিয়ম না মানে। লাঠি হাতে দাড়ায়ে গরু তাড়ানোর মত করে ট্রেন আসলে লোক খেদাবে? আমরা মানুষ না হয়ে গরুর মত আচরণ করলে তো সেইরকমই জীবন পাব।
৫-১০গজ জায়গা ট্রেন যাওয়ার জন্য ছেড়ে গাড়ি থামানোর বিবেচনা বুদ্ধি যদি কেউ দেখাতে না পারে, তাহলে কেমনে হবে?
আর রাস্তা ঘাটে ময়লা ফেলার উদাহারণ তো বাদই দিলাম।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

ধ্রুব আলম এর ছবি

বাংলাদেশের এত পয়সা হয়ে যায়নি প্রতিটা ক্রসিং-এ সয়ংক্রিয় বা গেটওয়ালা একজন মানুষসহ উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার। বরং প্রতিটিতে দুপাশে দুটি করে ওয়ার্নিং সাইন-সাইরেনসহ লাইট লাগিয়ে দিলে, এবং মানুষ যদি সেটা দেখে থেমে পরে, তবে কাজে দিবে। এখানে তো প্রতিটি পার্কিং লটের এক্সিটে এমন থাকে, সে লাইট জ্বলে উঠলেই থেমে যেতে হয়। এখন আমি যদি, লাইট জ্বলে উঠলেও দৌড় দেই, দোষ কার?

বলছিনা, গেটসহ ক্রসিং-এর দরকার নেই, কিন্তু আস্তে আস্তে সেটা দিতে হবে, ধাপে ধাপে। একবারে সবখানে এই ব্যবস্থা দেয়া সম্ভব নয়, আশা করাও উচিত নয়। আবার, এখন কিছু কিছু ক্রসিং-এ যে বাজে অবস্থা আছে, তাও কাম্য নয়।

শিশিরকণা এর ছবি

ক্রসিং এর ব্যাপারটা একটা উদাহারণ মাত্র। কিন্তু কর্তৃপক্ষ গেট দিলে কয়দিন পর সেই গেট সিস্টেম করে ফেলবে লোকজন যাতে সাইড কেটে বের হয়ে যাওয়া যায়। লাইট জ্বলে উঠলে ড্রাইভারদের এ্যটিচ্যুড থাকে যে থেমে গেলে ৩ মিনিটের জন্য আটকে যাব, তার চে এক্টান দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। সরকার থেকে যখন কঠোরভাবে নিয়ম পালনের ব্যবস্থা করা হয়, তখন মানুষ কিছুদিন সমঝে চলে, কড়াকড়ি উঠে গেলে যে কে সেই। কিন্তু এইভাবে নিয়ম মানাইতে যে রিসোর্স লাগে, সেটা সবসময় দেয়া ইনএফিসিয়েন্ট। টপ ডাউনের সাথে বটম আপ দুইটাই লাগবে।
আমাদের দেশে নিয়ম ভাঙ্গাকে একটা বাহাদুরির কাজ মনে করা হয়। "অমুকের বেলায় নিয়ম খাটে না" এইটা বিরাট সম্মানের বিষয়। এই মনোভাব না গেলে এই সমস্যা যাবে না।

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

ধ্রুব আলম এর ছবি

চলুক

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

চলুক

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

ধ্রুব আলম এর ছবি

ধন্যবাদ হাসি

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

আপনার এই হিতবাদী আকাঙ্খার সাথে দ্বিমত পোষন করার কোন অবকাশ নেই, কিন্তু তবুও কিছু কথা আছে। ব্যক্তি পর্যায়ে মনোভাব পরিবর্তন খুব একটা কাজে আসবে বলে মনে করি না, দুটি উদাহরন দেই- আমি গত ত্রিশ বছর ধরে ঢাকা শহরে রাস্তার ধারে হিসু করা থেকে বিরত আছি, কিন্তু তাতে করে গণমানসে তার কোন প্রভাব পরছে না, পথের ধারে মোতামুতি চলছেই, কমার কোন লক্ষন নেই। আমি পয়সা বাঁচানোর জন্য বিনা টিকিটে কখনো ট্রেন ভ্রমন করি না, কিন্তু আমার এই আত্মত্যাগ কোনই উদাহরন সৃষ্টি করতে পারছে না, বহু মানুষ টিটিকে কিঞ্চিৎ উৎকোচ প্রদান করে অর্থ সাশ্রয় করাই শ্রেয় জ্ঞান করে। সুতরাং নৈতিকতার যে মানদণ্ড তত্ত্বগতভাবে প্রতিষ্ঠিত, তার বাস্তব অনুশীলন সরকারী কঠোরতা ছাড়া সম্ভব নয়। অবশ্য এই কঠোরতা প্রদর্শনের কিছু বিপদও আছে। যে ব্যক্তিটি রাস্তায় জ্যাম ও বিশৃঙ্খলার জন্য প্রতিনিয়ত সরকারের মুন্ডুপাত করে চলেছে, তাকেই যখন রং সাইডে মোটর সাইকেল চালাতে নিরস্ত করা হয়, তখন সে ক্রোধে ফুঁসে ওঠে। এ প্রবণতা আমাদের মনোজগতের এত গভীরে প্রোথিত যে খুব বড় ধরনের ঝাঁকুনি ছাড়া তার পরিবর্তন অসম্ভব।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

চলুক

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

ধ্রুব আলম এর ছবি

ঝাঁকুনি কিন্তু হাঁটুবাহিনী ক্ষমতায় আসলে ভালোই দেয়। রাস্তায় মুতলে মাইর, দৌড় মেরে পার হইলে কান ধরে উঠবস ইত্যাদি ইত্যাদি। লাভ খুব একটা হয় বলে মনে হয় না। চিন্তিত

অতিথি লেখক এর ছবি

ধ্রুব, লেখা প্রচন্ড পছন্দ হয়েছে। এক দুই মাস আগে যখন খবরের কাগজে আসল যে ঢাকা বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় দুই নম্বরে এসেছে তখন তা নিয়ে মানুষের সরকারের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করা দেখে ফেবুতে একটা পোস্ট লিখেছিলেম যার বিষয় তুমি যা তুলে ধরেছ মূলত তা নিয়েই ছিল (যদিও তুমি আমার চেয়ে অনেক বেশী গুছিয়ে লিখেছ)। চলুক

ট্রাফিক জ্যামে ঘন্টার পর ঘন্টা নিউ ইয়র্ক, লন্ডনের মানুষও আটকায় থাকে রাশ আওারের সময়, ম্যানহ্যাটানেরও অনেক আনাচে কানাচে এত ময়লা জমে থাকে যে দেখলে মনে হয় বমি করে দেই। আমাদের চোখে খালি ঢাকার পান থেকে চুন খসলেই চোখে পড়ে এবং তা নিয়ে সরকারকে দোষানো শুরু হয়ে যায়। কিন্তু নিজেদের যা করার তার কিছুই আমরা করি না। শুধু একটা উদহারনঃ সরকার ফুটব্রিজ ব্যাবহার করতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য সিঁড়ির বদলে এস্কালেটর লাগায়, কিন্তু তারপরেও তা ব্যাবহার না করে আমরা রাস্তার ডিভাইডারের শিক বেয়ে হলেও ওভাবেই রাস্তা পার হব।
নিজেরা আত্মশুদ্ধি না করলে সরকার যাই করুক, আমাদের *লটাও হবে না। রেগে টং

- ইয়ামেন

ধ্রুব আলম এর ছবি

ধন্যবাদ ভাই হাসি

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

লেখার স্পিরিট ভালো লেগেছে হাসি

ধ্রুব আলম এর ছবি

ধন্যবাদ হাসি

এক লহমা এর ছবি

"আমি-আপনি মিলেই সরকার আর দেশ" - সেইটাই। চলুক

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

ধ্রুব আলম এর ছবি

ধন্যবাদ হাসি

ধুসর জলছবি এর ছবি

আমাদের মানসিকতার কিছু নিজের অভিজ্ঞতালব্দ উদাহরণ দেই।
আমি কখনো সিগন্যাল ছাড়া আর যেখানে ওভারব্রিজ আছে সেখানে সেটা ব্যবহার ছাড়া রাস্তা পার হই না। এ কারণে এই জীবনে মোটামুটি সবার কাছ থেকে শুনি যে আমি ভিতু, এদেশে নিয়ম মানা ব্যাপারটা কেউ সম্মানের চোখে দেখে না।
গাড়ি নিয়ে বের হলে আমাকে সবাই টিপ্পনি কাটে যে আমি ঢাকার রাস্তায় গাড়ি চালানোর যোগ্য না, কারণ আমি বেকুব।
একবার সিএনজি নিয়ে আসছিলাম সাথে এক আপু ছিল, ট্রাফিক ধরে প্রশ্ন করাতে আমি বলে দিয়েছি যে আমরা মিটারে আসিনি। ট্রাফিক পুলিশটা খুবই ভাল ছিল আমাদের আবার সিএনজি ঠিক করে দেয়।সেই পুলিশের একটা কথা আমার প্রায়ই মনে হয় 'আপু্‍ আপনারা মিথ্যে বলে এদেরকে বাচান অথচ আমাদের গালি দেন, আপনারা সাহায্য না করলে আমরা কিভাবে ঠিক করব ' মজার অংশটা হল আমার সাথের সেই আপু যে কিনা পুরোটা রাস্তা পলিটিসিয়ানদের গালি দিচ্ছিল সে পরের দিন অফিসে গিয়ে বলেছে আমার মত দেখতে নরম একটা মেয়ে এত রুড সে বুঝতে পারেনি, আমি বেচারা সিএনজি চালককে ধরিয়ে দিয়েছি।
আমাদের আইসিডিডিআরবির এক ভাইয়া চকলেট খেয়ে প্যাকেট ফ্লোরেই ফেলে দেয়। কয়েকদিন দেখে আমরা বলেছি, সে শুনেনি, একদিন তার ফেলে দেয়া প্যাকেট আমি তুলে নিয়ে ঝুড়িতে ফেলি ( ঝুড়িটা খুব কাছেই) সে আমাকে বলে ' তোমার সবকিছুতেই বাড়াবাড়ি, তুমি কোথায় জন্মেছ' এই হল যারা পাব্লিক হেলথ নিয়ে কাজ করছে তাদের অবস্থা তাহলে বাকি মানুষ কি করবে।

আমরা সত্যি কথা বলাটাকে রুডনেস ভাবি, নিয়ম না মানাটাকে সাহসী স্মার্টনেস ভাবি আর সরকারকে গালি দেয়াটাকেই দায়িত্ব পালন মনে করি, আমরা কখন কোথায় মায়া দেখতে হবে আর কোনটাকে অন্যায় বলে প্রতিবাদ করতে হবে সেটার পার্থক্য মনে হয় অনেকেই বুঝি না, আমরা খালি সপ্ন দেখি মঙ্গল গ্রহ থেকে কেউ এসে দেশ ঠিক করে দিয়ে যাবে আর সেই সপ্ন কে মুলা বানিয়ে চোখের উপর ঝুলিয়ে কেউ কেউ এসে আমাদের বাস দিয়ে যায়।

ধ্রুব আলম এর ছবি

আমিও ভিতু, এবং গাড়িও চালাতে পারি না, কারণ সবাইকে সাইড দেই। এবং ময়লা, বা খোসা পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়াই।

ব্যপারগুলো এমনই হওয়া উচিত। আশা রাখি, কোন একদিন আমরাও একটু সভ্য হয়ে উঠবো। পুলিশ দিয়ে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কজনকে মার দেয়া যাবে, যত্রতত্র ময়লা ফেললে?

মেঘলা মানুষ এর ছবি

"আরেহ! ত লোকই তো ফেলে গেল, তুমি কয়টা বাদামের খোসা ফেললে কি হবে?" -এসব করেই আমরা নিজেদের ডুবাই। অথচ, ছোটবেলায় রাজার পুকুরে একগ্লাস দুধ ঢালা বদলে পানি ঢালায় কি অবস্থা হয়েছিল সেটা মনে রাখি না। এখন এত 'পানি ঢালা' হচ্ছে যে একজন 'একগ্লাস দুধ' ঢাললেও সেটা পানিরই জলাশয় হবে, দুধের না। কাজেই, নিজে 'দুধ ঢালার' পাশাপাশি অন্যকে 'দুধ ঢাল'তে বলতে হবে আর 'পানি ঢালনেওয়ালাদের' আটকাতে হবে।

শুভেচ্ছা হাসি

মরুদ্যান এর ছবি

চলুক চলুক

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে

অভিমন্যু . এর ছবি

পৃথিবীর সকল মেট্রোপলিটন সিটি’র মধ্যে ঢাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব হচ্ছে সবচেয়ে বেশী প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩৯৭৬০ জন এর নিকটতম শহর হচ্ছে কোলকাতা প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ২৪২৫২ জন ।
তাই যেসকল ভাইজানেরা বিদেশের তাবেদারী করেন তাঁরা দুনিয়ার যেকোন একটা মেট্রোপলিটন সিটি’র নাম বলেন, যারা এত মানুষের শহরটাকে উরাল/পাতাল এইসব বাদ দিয়ে আমাদের মতই চালাতে পারবে কি না ?

________________________
সেই চক্রবুহ্যে আজও বন্দী হয়ে আছি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।