অতি বেগুনি গল্পঃ মতি মামার জ্বীন

ধুসর গোধূলি এর ছবি
লিখেছেন ধুসর গোধূলি (তারিখ: মঙ্গল, ২৪/১১/২০০৯ - ৯:০৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বেগুনি গল্প বেগুনি খেতে খেতে লিখার নিয়ম হলেও অতি বেগুনি গল্পটা একটু অন্য রকম। কিছুটা সময় বেগুনি খেয়ে, কিছুটা সময় ঘুমিয়ে, কিছুটা সময় তাইরে নাইরে নাই করে, বাদ বাকি অল্প একটু সময় লিখলে যে গল্প হয়, তাই হলো "অতি বেগুনি গল্প"।

মতি মামাকে একবার জ্বীনে ধরলো।
তাও একেবারে যেই সেই জ্বীনে না, পুরো মাত্রায় ইমপোর্টেড জ্বীন। দেওবন্দ থেকে আগত। বড় মামা মতি মামাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে চাইলেন, তাঁর পরিচিত নামজাদা ডাক্তার দেখিয়ে জ্বীনকে পেঁদিয়ে বিদেয় করবেন— এমনটাই ছিলো তাঁর আশা। কিন্তু তাঁর আশার সামনে টিপাইমুখ বাঁধ হয়ে দাঁড়ালেন আমার নানী। মামার আশার নদীতে একে একে সুড়কি ফেলে বিরাট পিলার আর থাম বানিয়ে নানী এক কথায় তাঁর সাফ কথা জানিয়ে দিলেন, "আমার এতোটুকুন পোলারে আমি দিমু না কষাই ডাক্তারগো হাতে। আর জ্বীন-পরীর ব্যাপার ডাক্তাররা কী বুঝে...!"

বড় মামা নানীর তোপের মুখে টিকতে না পেরে বার কয়েক মিনমিন করলেন। অবশেষে ভগ্ন মনোরথে মতি মামাকে ছাড়াই যাত্রা করলেন।

ডাক্তারদের জ্বীন-পরীদের সাথে পরিচয় থাকুক বা না থাকুক মাধবপাশার হুজুরের ঠিকই চিন পরিচয় আছে। তাঁর মোল্লা স্টিল মিলসের উট মার্কা ঢেউটিনের চালের পরে অমাবস্যা-পুণ্যিমার রাতে দেওবন্দ থেকে জ্বীনেরা এসে আপেল, কমলা, নাশপাতি বর্ষন করে যায়। হুজুর নাতিপুতি নিয়ে সকালে সেগুলো দিয়ে নাশতা করেন।

বড় মামাকে স্লাইস গেটের সবগুলো চ্যানেলে আটকে দেয়ার পরই নানী আমার উপর গুরু দায়িত্ব দেন মাধবপাশার হুজুরকে ডেকে আনার জন্য। আমিও পত্রপাঠ রওনা হয়ে যাই সাথে দুইজন এ্যাসিটেন্ট নিয়ে। পুব পাড়ার বয়ষ্ক টেমার বাপ আমাকে বারবার সাবধান করে দিলো, পথিমধ্যে কেউ এমনকি সুন্দরী কোনো মেয়েও পেছন থেকে ডাকলে যেনো আমি বা আমরা পেছন না ফিরি। জ্বিনেরা নাকি আমাদের জন্য পথে ওত পেতে থাকবে। তো জ্বিনেরা সামনে থেকে না আটকে পেছন থেকে কা-নারীর মতো কেনো ডাকবে, সেইটা আর আমার মাথায় ঢুকে না! যাইহোক, আমরা রওনা হয়ে যাই। সাড়ে চার বছরের বক্কা আর চার বছরের মইন্যার সাথে আমি একাদশ শ্রেনী পড়ুয়া বালক।

ছুটিতে বেড়াতে এসেছিলাম আমরা নানী বাড়ি। আমার পিঠাপিঠি মতি মামা আর আমি। এসেই দিন কয়েক পর মতি মামা পড়লেন আজব এক জ্বীনের খপ্পরে। কারো সাথে কথা বলেন না। চুপচাপ খাওয়া দাওয়া করেন আর বাড়ির পেছনের ইয়া মোটা কদম গাছে উঠে বসে থাকেন। থেকে থেকে হেরে গলায় গেয়ে ওঠেন, "রাঙ্গো ভরি বাদল পে, তেরি নেয়নো কে কাজল পে, ম্যায়নে ইস দিল পে লিখ দিয়া তেরা নাআআআম..."

এরপর মতি মামার গানের লিরিক্স "গুনগুন" হয়ে যায়, আমি আর ধরতে পারি না তিনি কি আনন্দ বকশীকেই অনুসরণ করেন নাকি তাকে বাক্সবন্দী করে অন্যকারো নাম জপেন! গানের ফাঁকে ফাঁকে মতি মামা দুর্বোধ্য ভাষায় কী জানি সব বলেন! খুব ভালো করে খেয়াল করলে হয়তো বুঝা যেতো ওগুলো বেশি বেশি হিন্দি সিনেমা দেখার কুফল! কিন্তু আমি ধারে কাছে ঘেঁষলেই মতি মামার জ্বীন ক্ষেপে ওঠে। গাছের তাউল্ল্যা ছেলা শক্ত শক্ত কদম দিয়ে আমাকে টার্গেট বানিয়ে মতি মামাকে দিয়ে সে টার্গেট প্র্যাকটিস করায় সীমান্তের ভারতীয় বিএসএফের মতো! আমি ক্ষেপে গিয়েও কিছু করতে পারি না, হাজার হোক মামাতো তায় আবার জ্বীনে ধরা। আমি শক্ত কদমের ঢিল হজম করেও দূর থেকে মতি মামার আশেপাশে ডিউটি দিয়ে যাই।

সকাল সাড়ে দশটা বাজলেই মতি মামার জ্বীনটা একটু বেয়াড়া হয়ে ওঠে। তখন সে আর কদম গাছে উঠতে চায় না। ফিট বাবু হয়ে মসজিদের বারান্দার সিঁড়িতে গিয়ে পজিশন নেয়। আমিও যাই তার সাথে সাথে। কিন্তু আমার স্থান হয় মসজিদের পাশের দোকানের বাঁশের ফালির বেঞ্চিতে। মতি মামা মসজিদের সিঁড়িতে বসে থাকেন জোহরের আযান দেয়া পর্যন্ত। বসে থাকেন আর কী যেনো গুনগুন করেন। দোকানী আমাকে জানান, "বড়ই কামেল জ্বীন বুঝলেন নি ভাই! দেখেন কেমনে জিকির করতাছে!" আমি নিজে জিকিরের জিঙ্গেল বিড়বিড় করতে করতে মতি মামার নড়তে থাকা ঠোঁটের দিকে তাকাই, কই মিলে নাতো!

মতি মামার জ্বীনের জিকিরের মাহাত্য বের করতে না পারলেও ওই সময়টুকু আমার নেহায়েত খারাপ কাটে না। মসজিদের পাশ দিয়েই রাস্তা, সেই রাস্তা চলে গেছে অদূরের গার্লস কলেজে। বসে বসে কটকটি চিবাই আর মর্ত্যের হুরপরীদের কলেজে আসা যাওয়া দেখি। মতি মামা মসজিদের বারান্দায় বসে জিকির করে যান।

মাধবপাশার হুজুরকে নিয়ে ফিরতে আমাদের আসরের ওয়াক্ত হয়ে যায়। হুজুর সোজা মসজিদে ঢুকে যান, আমি বাইরে দাঁড়িয়ে থাকি। হুজুরের নামাজ শেষ হলে তাঁকে নিয়ে বাড়িতে ঢুকি। হুজুরকে দেখেই মতি মামা আশ্চর্য রকমের শান্ত হয়ে গেলেন। বেশ লম্বা করে সালাম দিয়ে সামনে এসে বসলেন। হুজুর পাঞ্জাবির পকেট থেকে কী সব গুটি, বীজ এসব বের করছিলেন। হঠাৎ হাঁক ছেড়ে বললেন একটা বড় দেখে শুকনা মরিচ আনতে, সাথে একটা নতুন সলতে লাগানো কুপিবাতি। আমি ভাবলাম মতি মামা উঠে দৌঁড় না দিলেও এইসব যোগাড়যন্তর দেখে মতি মামার দেওবন্দী জ্বীন ঠিকই ঝেড়ে দৌঁড় দিবে! কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে মতি মামার ইমপোর্টেড জ্বীন হুজুরের সাথে সুখ দুঃখের আলাপ জুড়ে দিলো!

পিছলে চান্নি ম্যায় নাশপাতি ক্যায়সা থা ইমাম সাহাব!

বহোতি আচ্ছা থা ব্যাটা। মাগার ব্যাটা, তুমনে ইস নাদান কো কিউ চুনা? ইসনে তুমহারা ক্যায়া বিগাড়া হ্যায়?

কুচ নেহি ইমাম সাহাব। বাস ইয়োহি সামঝিয়ে। থোরাসা 'টাইম' পাস কারকে ওয়াক্ত আনে পার ছোর দেঙ্গে জরুর।

নেহি ব্যাটা, ইয়ে তো আচ্ছে বাত নেহি। জ্বীন-ইনসান ভাই ভাই। ইয়ে ছোকরা হামারা হ্যায়, তুম উসকো ছোড় দো...

হুজুর বলতে বলতেই পুরো দশ ইঞ্চি সাইজের শুকনা মরিচ একটা কাঁচের বোতলের তরলে চুবিয়ে কুপির আগুনে পুড়ে সেটা মতি মামার নাকের পরে ঠেসে ধরলেন।

মতি মামার দেওবন্দী জ্বীন রেগেমেগে "উল্লুকা পাঠ্যে... কম বখ্ত... দেখ লেঙ্গে আগলে আমাবাস ম্যায়... তুঝকো পায়েস খিলায়েঙ্গে নালায়েক..." বলতে বলতেই মতি মামাকে ছেড়ে পালালো বুঝি! কারণ মতি মামা এর পর উঠোনে বিছানো পাটিতে পড়ে গোঙাতে লাগলেন। হুজুর জানালেন আর ভয় নেই। তিনি একটা তাবিজ মতি মামার ডান বাহুতে বেঁধে দিতে দিতে বললেন তাকে যেনো কখনোই এই তাবিজ খুলতে দেয়া না হয়! আর তাকে এখন শুইয়ে দিতে।

অনেক অনুরোধের পরও হুজুর নাশতা করলেন না। এমনকি ঘরেও ঢুকলেন না। তিনি মাইয়াজ'এর বাড়িতে জল স্পর্শ করেন না, এলেমের ক্ষতি হয়। হাদিয়া সবার কাছ থেকে নেন না, বিশেষ করে যারা এলাকায় প্রভাবশালী গোছের। আমাদের কাছ থেকেও নিলেন না। হুজুর চলে গেলেন। মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়বেন, তারপর কয়েকজন মুসুল্লি তাঁকে এগিয়ে দিয়ে আসবে। আমিও যেতে চাইলাম কিন্তু এই ভর সন্ধ্যায় নানী আমাকে ছাড়লেন না 'পাছে কী হয়ে যায়' এই ভয়ে। হুজুর চলে গেলে আমি মতি মামার পাশে গিয়ে বসে রইলাম। বাড়িতে উপস্থিত নারী পুরুষ সবাই মাধবপাশার হুজুরের নামে ধন্য ধন্য করতে লাগলো।

মতি মামা সুস্থ হয়ে উঠলেন। সুস্থ হয়ে উঠলেন মানে এখন আর তাউল্যাছিলা শক্ত কদম দিয়ে আমাকে টার্গেট প্র্যাকটিস করেন না। বেলা সাড়ে দশটার দিকে রাস্তায় আমরা হাঁটতে বের হই। হাড় কেপ্পন মতি মামা নিজের টাকায় দোকান থেকে কটকটি কিনে খাওয়ান। আমাকে চাঁদনি ছবির কাহিনী বয়ান করেন। শ্রী-দেবিকে ঠিক কোন এঙ্গেলে ক্যামেরায় ধরতে পারলে ইয়াশ চোপরা আরো মাত করে দিতে পারতেন। শ্রী-দেবির বদলে জিনত আমান থাকলে কী কী সুবিধা পেতাম দর্শক হিসেবে এইসব তথ্যপূর্ণ তথ্যে সমৃদ্ধ হবার পাশাপাশি আমরা মামা ভাগনে মিলে কটকটি খাই আর কটমটিয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি, মহিলা কলেজগামী হুরপরীদের। কিছুদূর এগিয়ে গিয়ে ফেরার পথে তালতলার বিরাট তালগাছ গুলোর কাছে এসেই মতি মামার বাথরুম পায়। আমাকে রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে রেখে মতি মামা কাজ সাড়তে চলে যান।

গল্পটা এখানে শেষ হয়ে গেলেই ভালো হতো। কিন্তু ঘাপলা বাধালো মতি মামার সেই দেওবন্দী ইমপোর্টেড জ্বীন। না, সে নতুন করে মতি মামার ওপর জেঁকে বসেনি এসে। মতি মামাকে বিশাল কদম গাছে উঠিয়ে "উমমমম, তু মেরি উমমমম" গানও গাওয়ায় নি। তবে ঘটনাটা ঘটলো আমরা যেদিন ঢাকায় ফিরে আসবো তার আগের দিন, সন্ধ্যাবেলা। আগের কিছুদিনের সবকিছু তালগোল পাকিয়ে গেলো আমার কাছে।

অন্যান্য দিনের মতো সেদিনও মতি মামা আমাকে কটকটি কিনে খাওয়ালো, তালতলার বিরাটকায় তালগাছের কাছে এসে আমাকে রেখে বাথরুম করতে গেলো। কিন্তু ফিরে এসেই তাকে বেশ চিন্তিত মনে হলো। জিজ্ঞেস করে কর্কট, মর্কট, শাখামৃগ প্রভৃতি গালি মুষলধারে খাওয়ার চেয়ে তখন ঘিয়ে ভাজা কটকটি খাওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলাম বলে মতি মামার চিন্তিত হওয়ার কারণ উদঘাটন করা যায় নি!

সন্ধ্যায় বসে টিভি দেখছিলাম। বি-ফর ইউ চ্যানেলে শ্রী-দেবি স্পেশাল। চালবাজ সিনেমার সেই বৃষ্টিভেজা গানটা দেখছি মন দিয়ে। শ্রী-দেবির শাড়ির রংটা ঠিক কী হলে আরেকটু 'ভালো' দেখা যেতো গানটা, সেটা নিয়ে গবেষণা করছি এমনি সময় পেছন থেকে এসে মাথায় গাট্টা দিয়ে মতি মামা বললেন "ওঠ শাখামৃগ!"

আমি ক্ষেপে উঠলাম, "ওঠ্ মানে, কীসের ওঠ্? এখন উঠা যাবে না, ব্যস্ত আছি মামা।"

"বটে! দেখছিস তো এই বুড়া মহিলার কাতুকুতু মার্কা মোচড়ামোচড়ি। আরে আল্লা খোদার নাম নে। এই দুনিয়া আর কয়দিন। চল আমার সাথে।"

আমি ভয় পেয়ে গেলাম। দেওবন্দী জ্বীন কি আমার মতি মামার ঘাড়ে তাবলীগি ভূত ইনস্টল করে দিয়ে গেলো নাকি! মতি মামা কি এখন আমাকে নিয়ে গাস্ত-এ বের হবেন? তাইলেই হয়েছে! আবার মতি মামার সাথে তাবলীগ, ঠিক যায়ও না! দোনোমনো করতে করতে বলেই ফেললাম, "না মামা যাবো না তোমার সাথে। তুমিও বসো, আসো টিভি দেখি!"

মতি মামা জ্বলে উঠলেন। "তবে রে পাপিষ্ঠ। এতোদিন আমি নগদ পয়সায় কটকটি খাইয়ে তবে মোসাদের এজেন্ট পুষছি! আমার পুরা টাকাই জলে গেলো। মুখে মুখে না করিস, উরুব্বি মুরুব্বি মানোস না..."

"বুঝলাম, এইটে আমার মায়ের ভাই। এখন বাংলাদেশ স্বাধীন হতে শুরু করবে। সেই আটচল্লিশ থেকে শুরু করে নব্বুই এর গণঅভ্যুথানে এসে থামবে! কপাল খারাপ হলে আরও সামনের দিকেও চলতে পারে। টার চেয়ে রাজী হয়ে যাই, আল্লাহ ভরসা!"

মুখটা বাংলা পাঁচের মতো করে শ্রী-দেবির দিকে শেষবারের মতো তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে টিভিটা বন্ধ করে দিয়ে মাথায় সাদা কাজ করা গোল টুপিটা চড়াতেই মতিমামা রে রে করে উঠলেন। "ঐ বদমাইশের হাড্ডি, টুপি লাগাচ্ছিস ক্যান? তোরে কি আমি উমরাহ্ করতে নিয়া যাইতেছি, ফাজিল জানি কোথাকার! খোল টুপি!"

আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে টুপি খুলে রাখি। মতি মামার পেছন পেছন বেরিয়ে যাই ঘরে থেকে।

আমরা রাস্তায় উঠে আসি। হাঁটতে থাকি। এক জায়গায় মতি মামা একটা ঝোঁপের আড়াল থেকে একটা প্যাকেটের মতো কী যেনো শার্টের নিচে ঢুকান। তারপর আরেকটা পলিথিনের ব্যাগ সন্তর্পণে হাতে তুলে ধরে আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলেন, "এইটা ধর। প্রচণ্ড সাবধান। নাড়াবি না একদম...!

মতি মামা মাঝে মধ্যেই আমার কাছে বালমিকিমনি হয়ে যান, আর তাঁর কথা আমার কাছে হয়ে যায় বেদবাক্যসম। কোনো কথা না বলে আমি খুব সাবধানে মোটামুটি ভারী পলিথিনের ব্যাগটা ধরে হাঁটতে থাকি, মতি মামার পেছন পেছন, কখনো পাশাপাশি।

আমার পরিচিত রাস্তায় মতি মামার পেছন পেছন, কখনো পাশাপাশি হাঁটতে গিয়ে মনে কয়েক মিলিয়ন প্রশ্নের উদ্ভব হলেও টেকনিক্যাল কারণে সেগুলোকে আলোর মুখ দেখানো যাচ্ছে না। যে মতি মামা শ্রী-দেবির জন্য নরকেও যেতে রাজী আছেন সেই মতি মামা যখন তাকে "বৃষ্টিভেজা ঐ রাতে একা ফেলে চলে" আসলেন, তখন নিশ্চই বেশ সিরিয়াস কিছু একটা আছে। আমি মতি মামাকে বিনা প্রশ্নে অনুসরণ করি। একসময় মতি মামা থামলেন। বললেন, "যা এইটা দিয়া আয়..."

বলেই মোচড়ামুচড়ি করে শার্টের তলা থেকে ছোট্ট একটা পলিথিন আর রাংতা মোড়ানো বইমতোন একটা জিনিষ আমার হাতে দিয়ে আমার হাত থেকে পলিথিনের ভারী ব্যাগটা নিজের হাতে নিতে নিতে বললেন। "যা, ঐযে ঐ জানালা। গিয়ে আস্তে করে টোকা দিবি। খবরদার, তালগোল পাকাবি না কিন্তু!"

আমি চোখের ভ্রূতে বিশাল একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে মতি মামাকে বললাম, "চামেলী! হুজুরের নাতনীইইই!"

মতি মামা একটু লজ্জা পেয়ে বললেন, " নে নে আর দেরী করিস না। কুইক দিয়ে আয়, আরও কাজ আছে!"

"মামা, এই মাইয়া তো সুবিধার না। কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করে কেউ কাছে গেলে..."

"তোর সাথে হয়তো করে, আমার সাথে করে না। তালতলায় যে বাথরুম করতে যেতাম তোরে রেখে, ঐটাই তার প্রমাণ।"

"কেনো, সে কি তোমার জন্য টিস্যুপেপার রেখে আসতো ওখানে?"

"নারে মর্কট। টিস্যুপেপার না। চিঠি রেখে আসতো, চিঠি...লাভ লেটার... খিক খিক খিক।"

এবার আমি খানিকটা খাবি খাই। চামেলীকে আমি যেবার মনে দোলা লাগা পাখি জাগার কথা বললাম, শালি কিনা আমাকে তার দাদার ভয় দেখিয়ে আমার ভালোবাসার ভিসুভিয়াসে গঙ্গার পানি ঢেলে ঠাণ্ডা করে দিলো! প্রতিদিন দোকান থেকে কটকটি কিনে খেতে খেতে আমি যে মনে করতাম চামেলী কলেজ যাওয়ার সময় আমার দিকে আড়চোখে তাকাতো সেটা তাহলে ভুল মনে করতাম! আসলে সে তাকাতো মসজিদের সিঁড়িতে বসে থাকা জ্বীনে ধরা মতি মামার দিকে! আর মতি মামাতো জিকিরের জিঙ্গেল তুলতো না, তাহলে সে বিড়বিড় করে চামেলীকে কোনো মেসেজ দিতো আর চামেলী মতি মামার ঠোঁট পড়ে বুঝে নিতো মেসেজের মাহাত্য! কিন্তু মতি মামার দেওবন্দী জ্বীনের রহস্য কী তাহলে! জিজ্ঞেস করতেই মাথায় প্রমাণ সাইজের একটা গাট্টা দিয়ে মতি মামা বললেন, "যা বলি তাই কর পোটলা, নাইলে দাতা গোষ্ঠীর দান চিরতরে বন্ধ, বুঝিস!"

দাতা গোষ্ঠীর হুমকি পেয়ে কোন দেশ পাল্টা প্রশ্ন করার সাহস পেয়েছে? আমিও পাইনি। সুড়সুড় করে কমাণ্ডো স্টাইলে কোমর সমান 'বেড়াগাছে'র দেয়াল টপকে ঢুকে পড়লাম ভেতরে। চামেলীর জানালায় গিয়ে আস্তে করে টোকা দিতেই সেটা খুলে গেলো। চামেলীর হলদেটে গোলগাল মুখটা আমার চোখের সামনে ভেসে উঠলো। এক গোছা অবাধ্য চুল তার বাম গালের পাশ বেয়ে নেতিয়ে পড়ে আছে। জানালা খুলে আমাকে দেখেই চামেলী চিরতার রস খাওয়ার মতো করে ফেললো মুখটা। মুহূর্তের মধ্যেই কুকুরের ঘেউ ঘেউ ধ্বনি কানে আসার আগেই আমি মতি মামার প্যাকেটটা জানালা দিয়ে ভেতরে ঠেলে দিয়ে দৌঁড়! আসার আগে কেবল কানে এলো, "... গোলামের পুতের সাহস কতো...!"

আমি হন্তদন্ত হয়ে মতি মামার কাছে এসে হাঁপাই। মতি মামা সবই দেখেছে। এবার আমার হাতে অন্য পলিথিনের ভারী ব্যাগটা দিয়ে বলেন, "ঐটা দেওবন্দী হুজুরের ঘর। ঐ ঘরের দরজার সামনে বারান্দায় এইটা ককটেলের মতো ফুটায়ে দিয়ে আয়তো আমার সিংখ!"

"দাতা গোষ্ঠীর দোহাই দিয়া তুমি আমারে দিয়া আর কী কী করাইবা কংস মামা?"

"ওরে নেমকহারাম, তুই দেখি আমার মুখে মুখে কথা বলিস। বেয়াদব, মুরুব্বীরা যদি দোজখে যাইতে বলে তাইলে ঐখানেই পূণ্যি, বুঝলি মূর্খ!"

চামেলীর গালি খেয়ে এখন মতি মামার হেদায়েত শুনতে ভালো লাগার কথা নয়। তাই কোনো কথা না বাড়িয়ে তার হাতের ব্যাগটা হ্যাঁচকা টানে ছিনিয়ে নিয়ে গেরিলা স্টাইলে গা বাঁচিয়ে হুজুরের ঘরের দাওয়ায় হাজির হলাম। আর তারপর "ইয়া...আলিইইইই..." বলে হাতের ব্যাগটা সজোরে ছুঁড়ে মারলাম সুন্দর নকশী করা লাল বারান্দায়। একটা 'চটাৎ' করে শব্দ তুলে পলিথিনটা ফেটে গেলো। ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো হাইব্রিড রঙ-এর কিছু তরল, সাথে বোনাস হিসেবে পেটের নাড়িভুড়ি বের করে নিয়ে আসা গন্ধ! আমি আর কাল বিলম্ব না করে সেখান থেকে কাটাপাতলা দিলাম!

হাঁপাতে হাঁপাতে বেড়াগাছের দেয়াল পার হয়ে রাস্তায় উঠে মতি মামার পেছন পেছন বা পাশেপাশে বাড়ির পথ ধরলাম। মতি মামা কোনো কথা বললেন না সারা পথে! দেওবন্দী জ্বীনের কথা জিজ্ঞেস করাতে কোনো সদুত্তর পেলাম না, শুধু দুইটা অদ্ভুত কথা বললেন, "এক কেজি নাশপাতি আর মেথরপট্টির তাপসকে পঞ্চাশ টাকা।"

পরদিন আমরা যথারীতি ঢাকা রওনা হয়ে গেলাম।

মতি মামার সামনে ইন্টার পরীক্ষা। আমারও ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। রাস্তায় উঠতেই দোকানী জানালো, "শুনছেন নি ভাই, কাইলকা রাইতে মাধবপাশার হুজুরের কাচারী ঘরে জ্বীনেরা গু-চিকিৎসা করছে। হঠাৎ কইরা নাকি দরজার চিপা দিয়া গায়েবী গু আসা শুরু হইছে...!"

আমরা রিক্সায় উঠে বসলাম। রিক্সা চলতে শুরু করলো। ইট বিছানো রাস্তা থেকে একসময় আমরা পাকা রাস্তায় উঠে এলাম, গার্লস কলেজকে পেছনে ফেলে...!


সর্বশেষ আপডেটঃ

* চামেলীর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। মতি মামার সাথে না। অন্যকারো সাথে। এই খবর শুনে মতি মামা একদিন পুরোবেলা ক্রিসেন্ট লেকের পানিতে পা ডুবিয়ে বসেছিলো, কোনো কথা না বলে। সেদিনের পর থেকে মতি মামা আগাগোড়াই বদলে গেলো। বেশ লম্বা একটা সময় পর্যন্ত কখনো কারো সাথে আর দুষ্টুমী করেনি আমার 'অতি দুষ্টু' খেতাবধারী মতি মামা। তার বাহুতে দেওবন্দী হুজুরের তাবিজও এরপর আর দেখিনি।

* ইদানিং শুনছি আমার জন্য কনে দেখা হচ্ছে। গোলগাল হলদেটে মুখ, অবাধ্য চুলের একটা গোছা নাকি গাল বেয়ে প্যাচিয়ে থাকে! কনের দাদা নাকি বেশ পরহেজগারী মানুষ ছিলেন!


মন্তব্য

সাইফ তাহসিন এর ছবি

কিন্তু তাঁর আশার সামনে টিপাইমুখ বাঁধ হয়ে দাঁড়ালেন আমার নানী।

চোখ টিপি জাহিদ ভাই মাইন্ড খাব কইলাম দেঁতো হাসি
এমনকি সুন্দরী কোনো মেয়েও পেছন থেকে ডাকলে যেনো আমি বা আমরা পেছন না ফিরি।

আহারে, আমারে কেন ডাকে না?
আমি আর ধরতে পারি না তিনি কি আনন্দ বকশীকেই অনুসরণ করেন নাকি তাকে বাক্সবন্দী করে অন্যকারো নাম জপেন!

গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি
"কেনো, সে কি তোমার জন্য টিস্যুপেপার রেখে আসতো ওখানে?"

হো হো হো হো হো হো
কুচ নেহি ইমাম সাহাব। বাস ইয়োহি সামঝিয়ে। থোরাসা 'টাইম' পাস কারকে ওয়াক্ত আনে পার ছোর দেঙ্গে জরুর।

জট্টিল, এই জায়গায় এসে পুরা বিষম খাইসি, টেবিলে কফি ফালায়া ছেড়া বেড়া অবস্থা।
"শুনছেন নি ভাই, কাইলকা রাইতে মাধবপাশার হুজুরের কাচারী ঘরে জ্বীনেরা গু-চিকিৎসা করছে। হঠাৎ কইরা নাকি দরজার চিপা দিয়া গায়েবী গু আসা শুরু হইছে...!"

ধুগোদা ফাডায়ালাইসেন, আগুন ধরায় ফালাইসেন পুরা। কুডি কুডি তারা আপনার লেখায়।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদ্বপি গরীয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- হে হে হে
আগুনের ফুলকিতে হেব্বি গরম লাগতাছে সফদার ডাগদর ভাই। যাই, গোসল দিয়া আসি!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

উদ্ধৃতি
কিন্তু তাঁর আশার সামনে টিপাইমুখ বাঁধ হয়ে দাঁড়ালেন আমার নানী। জাহিদ ভাই মাইন্ড খাব কইলাম
হো হো হো

সচল জাহিদ এর ছবি

সাইফ ঈমানে কইতাছি এই গল্প পইড়া হাইসা গড়াগড়ি খাইতাছি তাই মাইন্ড খাওনের সময় নাইক্যা ।

----------------------------------------------------------------------------
zahidripon এট gmail ডট কম


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

অতিথি লেখক এর ছবি

সাবধান ধুগোদা,
দাদা না থাকলেও
এখনো কনের অবাধ্য চুলের একটা গোছা গাল বেয়ে প্যাচিয়ে থাকে! আগের মতোন!

-মজনু

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আরে মজনু ভাই যে, গালের উপর প্যাচানো চুলের কথা বাদ দেয়, আসেন আমরা চা-য়ে চুমুক দিতে দিতে দাড়ির কথা কই। হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অতিথি লেখক এর ছবি

দাড়ির কথায় আরেকটু পরে আসি,

* চামেলীর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
* ইদানিং শুনছি আমার জন্য কনে দেখা হচ্ছে।

আপনের বিবাহ কি ঠিক হইয়া গিয়াছে?
নাইলে কিন্তুক ঘাপলা আছে।হ

-মজনু

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আগে হুইনা লই বিবাহ ঠিক না হৈলে ঘাপলা কীসের, তারপর 'আসল' খবর দিমু আপনেরে মজনু ভাই!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

সাইফ তাহসিন এর ছবি

মজনু ভাই মনে হয় হবু বউ ভাগানির তালে আছে হো হো হো
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদ্বপি গরীয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

মুস্তাফিজ এর ছবি

মজনু ভাই মনে হয় হবু বউ ভাগানির তালে আছে

"... গোলামের পুতের সাহস কতো...!"

.........................................
I think what I think because that's how I am. You think what you think because that's how you are.

...........................
Every Picture Tells a Story

অতিথি লেখক এর ছবি

ঘাপলা আপনার মাঝে না, আমার, অর্থাৎ আমি গল্প বুঝলাম কি না।

গল্পের মজা হলো, শেষ পর্যন্ত চামেলীর বিয়া আপনার সাথে হচ্ছে।
কথা হলো, চামেলীর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, তাই অটোমেটিক্যালী তার বরেরও বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।

আর আপনার জন্যে কনে দেখা হচ্ছে মাত্র, তার মানে আমি মনে করি আপনার বিয়ে এখনো ঠিক হয়নি,
তাই একথা বলা যায় যে, আপনি চামেলীর বর হচ্ছেন্না। হচ্ছে অন্য আরেকজন,যার সাথে চমেলীর বিয়ে ঠিক হয়েছে।

ঠিক বল্লাম, নাকি গল্প বুঝার বয়স এখনো আমার হয়নাই?

-মজনু

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আরে মজনু ভাই খুল ডাউন। সব কথা যদি আমার আর মতি মামারেই বইলা দিতে হয় তাইলে পাঠকের জন্য কী থাকলো? এইটা হইলো ইশটুইস্ট! দেঁতো হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অতিথি লেখক এর ছবি

ঠিকাছে, চুপ হতে হতে আর একটা কথা বলে শেষ হয়ে যাব।

-মিয়া আফনে খুল ডাউন। আমি ইশটুইস্টের মজা কমাইতে চাইনা।
আফনের লেখায় ভুল ধরার যোগ্যতা বা সাহস কোনোটাই আমার নাই। এমনকি যেকোনো লেখকের লেখায়ও।
আমি যা দুনিয়াতে আফনেরে বুঝাইতে পারি নাই, তা আখেরাতে ইনশাআল্লাহ বুঝাইমুনে।

[অফটপিক] লেখাটাতে আমার এতো কথা কওয়ার কারণ।

আফনে লেখাটা ছাড়নের আগে মনে মনে ভাবতেছিলাম, ধুগো দেখি লেখা টেখা ছাড়েনা।
পিসি ছাইড়াই দেখি আজবলীলা কারবার! ধুগো পোষ্ট দিছে!
প্রথম কমেন্টও আমিই দিছিলাম, অতিথি হওয়ার সুবাদে পরে আইছে।
০২
সচলে কয়েকজন পছন্দের শিল্পীর মাঝে আপনি আমার কাছে অন্যতম একজন।

-মজনু

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আরে মজনু ভাই, গোস্বা করলেন নি?

দুনিয়াবি জিনিষ এক্কেরে আখেরাতে লৈয়া গেলেনগা? দুনিয়াতে যে জিনিষ বুঝলাম না সেই জিনিষ আখেরাতে বুইঝা আমি কী করুম রে ভাই! দুনিয়ার প্যাচ দুনিয়াতেই মিটাইয়া যাওয়ার পিলান আমার। আরো ছোট কইরা বললে, আমার চর্ট লাইটের ফোকাস যতোটুকু, ঠিক ততোখানিই আমার চোখে পড়ে, এর বাইরে কী হইলো, কী হইলো না, কে কানলো, কে হাসলো, কে বুঝলো, কে বুঝলো না, কে সুখি, কে দুঃখী সেইগুলা নিয়া মাথায় ব্যথা তোলার আসলে কোনো মানে নাই আমার কাছে। মনে হয় আপনের কাছেও নাই, নাকি!

তো আসেন আমরা সন্ধি করি। হাসি

পান দিয়া চিনি খাইয়া গলাগলি কইরা কতোক্ষণ খিলখিল করি। ধুগো তো দুই দিন আগেও একটা লেখা দিছে, সেইটা পড়েন নাই? পিসি কয়দিন পরপর ছাড়েন আপনে মজনু ভাই? দেঁতো হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

মামায় না পারলেও ভাইগনা ঠিকই পারবে। চামেলী দিয়া শুরু, চামেলীর মাইয়া দিয়া শেষ।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- টেকনিক্যালি কিন্তু চামেলীর মাইয়া-ই ঠিক আছে ভাইগনার লাইগা, বলাই'দা। চোখ টিপি
তবে পরের জেনারেশনে গেলেগা টেকনিক্যালি না বরং গ্লোবালি-ই একটা পিরোবলেম হইয়া দাঁড়াইবে। দেঁতো হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

মতি মামার মতো না হয় আবার।

দোকানী আমাকে জানান, "বড়ই কামেল জ্বীন বুঝলেন নি ভাই! দেখেন কেমনে জিকির করতাছে!" আমি নিজে জিকিরের জিঙ্গেল বিড়বিড় করতে করতে মতি মামার নড়তে থাকা ঠোঁটের দিকে তাকাই, কই মিলে নাতো!
হো হো হো

ধুসর গোধূলি এর ছবি
বইখাতা এর ছবি

মজা পাইলাম !

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

খ্যাক খ্যাক খ্যাক খ্যাক খ্যাক খ্যাক

জয়তু ধুগো
____________________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ !

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

শালার বেগুনী আমার দুই চউক্ষের বিষ মাগার অতিবেগুনী মালটা জবর লাগছে। ঐ সফদার ডাগদররে ধইরা মাইর, আমার পিরিয় জাগা গুলান কুট কইরা ঐ মিয়া আগেই মাইরা দিছে। তয় ধূগোদা লেখা একখান হইছে মাশাল্লাহ, পুরাই জোশিল্লার উপর দুই নুক্তা।

"উল্লুকা পাঠ্যে... কম বখ্ত... দেখ লেঙ্গে আগলে আমাবাস ম্যায়... তুঝকো পায়েস খিলায়েঙ্গে নালায়েক..."
আহা যা দেখা দেখলো মামুতে ... ... ...(মাইঙ্কা ভেটকির ইমো) ।

=================================================
সকলই চলিয়া যায়,
সকলের যেতে হয় বলে।

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

সাইফ তাহসিন এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি কমেন্টে তো বস আপনে ধুগোদার ফেইল মারবেন আর ৩ মাসের প্র্যাকটিস করলে। আপনার কমেন্ট পইড়া ক্ষিদার পেটেও হাসি বইর হইল চলুক

এখানে আগে আসিলে আগে পাইবেন ভিত্তিতে মন্তব্য নেওয়া হইতেছে চোখ টিপি কাজেই আগে আসেন মিয়া দেঁতো হাসি খাইছে হে হে হে, আমার মতন সচলে তাম্বু গাড়েন গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদ্বপি গরীয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

বর্ষা এর ছবি

চলুক
********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

অতিথি লেখক এর ছবি

বড়অই মজা পাইলাম ...।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

খ্যাক খ্যাক
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

হিমু এর ছবি

লাভ নাই। অক্টোবরফেস্টে তোর বেলাল্লাপনার অ্যালবাম এখন মাধবপাশার পথে ...।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- লাভ নাই আবুল হোছেন। আমি কমু ঐ খোমা আমার না। তুই প্রমাণ করবি ক্যামনে যে ঐ বেলেল্লাপনাকারীটাই আমি! এ্যালবাম প্রথম শ্রেণীর সরকারী কর্মকর্তা দিয়া সত্যায়িত করাইছোস? ছবির পিছে আমার নিজের হাতে আমার নাম লেখা আছে? হেহ হেহ হেহ খাইছোস ধরা! দেঁতো হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

সাইফ তাহসিন এর ছবি

সই যদি নকল করে? তাইলে চলবো? চোখ টিপি হে হে হে, সই নকলে হাত এক্কেবারে খ্রাপ না দেঁতো হাসি
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদ্বপি গরীয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

সাফি [অতিথি] এর ছবি

হিমু ভাই ইদানিং ক্যামেরা ট্রিক্স করতাসে নাকি? ধুগোদা গফ্ফর ভাইয়ের থেকে সার্টিফাই কইরা নিতে পারেন চোখ টিপি

লেখা শিরাম হইসে

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ক্যামেরা ট্রিক্স না, ব্যাটায় (ক্যামেরা + সফ্টু) মেইলিং করার চেষ্টা কর্তাছে। আমার কাছে টেবিলের নিচ দিয়া পয়সা চায়। আমিও কইয়া দিছি, "শায়তাআআআন, অক্টোবর ফেস্টের কোনো ললনার কাছে নিজের ইজ্জত বিলিয়ে দেবো তবুও তোর মতো কালিয়াকে ঘুষ দেবো না!"
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

হিমু এর ছবি

তোর ঐ মনহুঁস সুরৎ এর সুরতহাল করতে এলাকার সকল ডাগর মেয়ের বাপ-দাদা-নানাই পারঙ্গম বইলা আমি বিশ্বাস রাখি। মাধবপাছা থিকা ক্যান তোরে পাছা গুটাইয়া এই সুদূর মুল্লুকে আইসা পড়তে হইছে, তা তো তুই একদিন কান্তে কান্তে নিজেই খুইলা কইছিলি। ইস্কুলগামিনীদের মিস্কল আর শিস বাজাইয়া শিস্কল দেয়ার ক্রমিক অপরাধে এলাকার সচেতন জনতার ধাওয়া খাইয়া দেশমাতৃকার আঁচল তোরে ছাড়তে হইছে বটে, কিন্তু অক্টোবরফেস্টের ছবিতে বাভারিয়ার দুই সন্তানের মাতৃকাদের আঁচল তুই য্যাম্নে পাকড়াও কইরা পোজ দিছিলি, সেইটা কীসের তাগিদে, তা মাধবপাশার ল্যাদাপ্যাদা থেকে শুরু করে রইস-মুরুব্বি সবাই বুঝবে। তাই তোর প্রতি আমার আহ্বান, ত্যানা প্যাচাইচ্চা। প্যাচাইলে বিপদ বাড়বে তোর। অ্যালবামের প্রচ্ছদ সচলেও হাত ফস্কাইয়া তুইলা দিতে পারি, কিছুই কওঞ্জায়না!



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

তোর ঐ মনহুঁস সুরৎ এর সুরতহাল করতে এলাকার সকল ডাগর মেয়ের বাপ-দাদা-নানাই পারঙ্গম বইলা আমি বিশ্বাস রাখি।
এ দোস, তুই কি দর্পণের সামনে খাড়ায়া কমেন্ট টাইপ কর্তাছিলি? খুল ডাউন ম্যান, খুল ডাউন! আয় আখের রস খাই। দেঁতো হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

হিমু এর ছবি
সাফি এর ছবি

আচ্ছা টারজানা এখন কোথায়?

অতিথি লেখক এর ছবি

একী??? অন্তর্দন্দ্বে তো ধুগোদার কাছা খুলে পড়লো প্রায়...

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- হ, তাত্তারি একটা কলার ফাউট্টা নিয়া আইসা আমার কাছা জাপ্টাইয়া ধরেন। আমার হাত বিজি, দুই হাতেই ললনা! দেঁতো হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

ভ্রম এর ছবি

হাহাহা... দেঁতো হাসি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- হে হে হে
মজার ব্যাপার কই একটা? আপনের ফটুকের তাৎপর্যটা আমি অনেকদিন পরে ধর্তে পার্ছি। আগে বুঝি নাই কেউ নিজেরে গুলটি কর্তাছে! আমি বুঝছিলাম অন্যকিছু। হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অনিকেত এর ছবি

তুমুল-----

দ্রোহী এর ছবি

লাভ নাই ধুগো। চামেলিরে পাইতে হইলে আমার কাছেই আসতে হবে শেষে। তবে গল্প চরম হইছে।

হিমুর হবু বউ নাদিয়ার সাথেও আমার জান-পেহচান আছে।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- চরমের কথা কইয়েন না মেম্বর, আগে গরম লাগলেও এখন লাগে শরম!

আর নাদিয়ার কথা কন? মানে হিমুর বিয়া? হুহ্, হিমু শুনলাম নাদিয়া নাদিয়া করিয়া অবশেষে প-বর্গীয় বর্ণের প্রথম অক্ষর বসায়া ডাকা ধরছে হেতিরে। কারণ বৈশাখে তোলা হেতির ফটুক এখন আমার কম্প্যুর শোভা বাড়াইতাছে। দেহেন না, তার লাইগ্যা পাপিষ্ঠটায় আমার নামে মাধবপাশায় পর্যন্ত কম্প্লিন কর্ছে! মন খারাপ
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

সাফি এর ছবি

কাসেল শহরে এসব কি চলতেসে!

অতিথি লেখক এর ছবি

চমৎকার। ভালো লাগার মুগ্ধতায় ডুবে ছিলাম। কখন যে শেষ হয়ে গেলো বুঝলাম না।

ধুসর গোধূলি এর ছবি
ভেজা নক্ষত্র [অতিথি] এর ছবি

ঘরেতে এলো না সেতো মনে তার নিত্য আসা যাওয়া.....গোলগাল হলদেটে মুখ, অবাধ্য চুলের একটা গোছা নাকি গাল বেয়ে .....
ভালোই..

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- প্রথম লাইনটা খুব পরিচিত লাগতেছে। কিন্তু মনে করতে পারতেছি না একদমই!

ধন্যবাদ আপনাকে।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

উদ্ভ্রান্ত পথিক এর ছবি

-মিয়া আপ্নে লুক্টা খুপ খ্রাপ! মামার ভাত মারেন ! চোখ টিপি
-গল্প সিরাম দেঁতো হাসি

---------------------
আমার ফ্লিকার

নীড় সন্ধানী এর ছবি

‍‌সময় না থাকলে আপনার এবং আরো কয়েকজনের লেখায় ঢুকি না, কারন ঢুকলে শেষ না করে বের হওয়া মুশকিল। আজকে দৌড়ের উপ্রে ছিলাম ঢুকবো না ভেবেছিলাম, তবু মতিমামার প্রথম প্যারাটা পড়ে আর পারলাম না, কাজকাম আধঘন্টার জন্য ইস্তফা দিয়ে বসে গেলাম।

টাইমটা মোটেও লস হয় নাই ......... চোখ টিপি এ-ডাবলপ্লাস ।

-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-
সেই সুদুরের সীমানাটা যদি উল্টে দেখা যেত!

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- হা হা হা
অনেক ধন্যবাদ বস।

আমিও কিন্তু আপনার লেখার দারুণ ভক্ত। কোনো সারকাজম থেকে বলছি না, বিশ্বাস করেন। আমার ব্লগে প্রায়ই ঢুঁ মারি, আপনার পাতায়। হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

হোহোহোহোহোহোহোহোহো......

ভাইরে ভাই- শ্রীদেবী থেইক্যা চামেলী; কৈ যা টাইন্যা নিয়া গেলেন...

গপ্পে পারলে দশতারা দিতাম...

______________________________________________________

মধ্যরাতের কী-বোর্ড চালক

ধুসর গোধূলি এর ছবি
অবাঞ্ছিত এর ছবি

চামেলিরে দেখতে মঞ্চায় ।

লেখা উত্তম হইয়াছে।

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

সচল জাহিদ এর ছবি

জটিল হইসে বস।

----------------------------------------------------------------------------
zahidripon এট gmail ডট কম


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

উরে...... চরম হয়ছে

খেকশিয়াল এর ছবি

এইনি তাইলে ব্যাপার! হো হো হো
কিন্তু চামেলী কার শালী?

------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

ধুসর গোধূলি এর ছবি
অতিথি লেখক এর ছবি

মুরুব্বীরা যদি দোজখে যাইতে বলে তাইলে ঐখানেই পূণ্যি, বুঝলি মূর্খ!

আহা! কি ডায়লগ ছারসেন ধুগোদা!!! এই ধরনের কিছু মুরুব্বির দেখা পাইলে দুনিয়াই দোজখ হয়া যায়। পরকালের নরক তো সে তুলনায় নস্যি।

মনজুর এলাহী

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- হে হে হে

মক্তবে হুজুরের বাড়ি খাইলে যে জায়গায় বাড়ি খাইবেন সেই জায়গা আগে বেহেশতে যাইবো। তো হুজুর খালি আমার পাছায় বাইড়ায়। আমি একদিন ক্ষেইপা গিয়া কইলাম, হুজুর খালি পাছারে বেহেশতে পাঠাইলেই হইবো? আর বাকী শইলে কী দোষ কর্ছে?

কইলাম ভালো কথা, হুজুর দিলো আব্বার কাছে বিচার। কয় পুলা বেদ্দপ! আব্বায় পিডাইবো কি, বাড়ি ফিরা হাসতে হাসতে নাই! মন খারাপ
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

ভাইরে! কড়া ডোজের কোন হাসির ওষুধ খাইলাম মনে হইল। খুবই সাবলীল গদ্য।

আমারে গপ লেখা শেখাও ধুগো, আমিও গপ লিখমু।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।