“সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ- আমি কিন্তু রাজাকার নই”

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: সোম, ০৬/০৯/২০১০ - ২:৫৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

হিযবুতে তাহরীর সম্পর্কে খুব বেশী কিছু জানতাম না। যখন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়, তখনো খুব বেশি পাত্তা দেইনি। কিন্তু নিষিদ্ধ হওয়ার পর একদিন ক্লাসে এইটা নিয়ে কথা উঠায় জানতে পারলাম আমার নিজের ইউনিভার্সিটিতেও হিযবুতে তাহরীর ছিল। অবাক হয়েছিলাম শুনে কিন্তু তখনও পাত্তা দেইনি। ভাবছিলাম, ছিলতো কী হয়েছে, ওরা এসে প্রীচিং করলেই কী আর প্রাইভেটের ছেলে-মেয়েরা গলে যাবে! এত সোজা নাকি! সেটা ছিল গত বছরের শেষের দিকের কথা। এরপর ভুলেও গিয়েছি।

তিন রাজাকার (এরা কোন নেতা না।) গ্রেফতার হওয়ার পর হিযবুতে তাহরীরের ট্রেডমার্ক কিছু কমলা পোস্টার আমার চোখে পড়ে। সিগনালের কল্যাণে অনেকক্ষণ খুটিয়ে খুটিয়ে দেখার সৌভাগ্য হয়। রাজাকারদের মুক্তি চেয়ে মানুষ কী করে পোস্টার ছাপাতে পারে তখন সেটা আমার মাথায় ঢুকে নাই। কিন্তু পরে, এরা যে কী পরিমাণ ভয়ঙ্কর হতে পারে আর কিভাবে মগজ ধোলাই দিতে পারে সেটা নিজে না দেখলে বুঝতাম না।

প্রথমটা হচ্ছে দেলওয়ার হোসেন সাঈদী আর আবুল কালাম আজাদকে নিয়ে। একটা সময় ছিল যখন এটি.এন.বাংলার শুক্রবারের ইসলামিক অনুষ্ঠানের জ্বালায় মনে হত বাসা ছেড়ে দেই। তখন অনেক ছোট ছিলাম, বাপ-মার মুখে তর্ক করে বলবো যে এদের কথার কোন লজিক নাই সেই উপায় ছিলনা। একটা মাত্র ছুটির দিন তাও টিভিতে কিছু দেখার উপায় নাই। কী পরিমাণ যে বিরক্ত লাগতো এদের হুদাই প্যাঁচানোকে রেগে টং । তো যাই হোক সেখানে সাঈদী আসতেন, আবুল কালাম আজাদ আসতেন (চিঠিপত্রের উত্তর দিয়ে বহু বছর আমাদের ধন্য করে গেছে, তিনটা গ্রেফতার হওরার পর থেকে এন টিভিতে আর আসে না, তার আগেও আসতো)। আর এদের মহান বাণীর টার্গেট অডিয়েন্স ছিল গৃহবধুরা। এবং এই ব্যাপারে তারা অনেকাংশেই সফল। লক্ষ্য করতাম, কোন আড্ডায় বা গেট টুগেদারে যারা দেখে তারা বাকিদেরও দেখের জন্য ইনফ্লুয়েন্স করছে। এবং অনেকেই ইনফ্লুয়েন্সড হয়ে দেখাও শুরু করে। কালের বিবর্তনে সেই প্যাচাঁল দেখা কমে ঠিকই কিন্তু প্রভাবটা বহাল তবিয়তে রয়ে যায়।

এত বছর পর আমি যখন আমার আম্মাকে সাঈদী আর আজাদের কুকাজের কথা বলি, আম্মা শকড হয় ঠিকই, আতঙ্কও প্রকাশ করে, কিন্তু তারপরও পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেনা। একটু অবাক ভাব থেকেই যায়। হাজার হোক এত এত বছর ইসলাম নিয়ে ভালো ভালো কথা বলে গেছে! এইরকম যে আরো কত আম্মা ভুল ধারণা নিয়ে আছে রেগে টং

আশার কথা, আমার আম্মা এখন আর এইসব প্রোগ্রাম দেখে না। কিন্তু যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার নিয়ে কথা প্রসঙ্গে যখন আমারই এক ক্লাসমেট সিরিয়াস টোনে বলে যে এইটা একটা বিতর্কিত বিষয় আর বাকিরা সাথে সাথে তাল মিলায় তখন হতবাক হয়ে যাই। আমার সেই ক্লাসমেটকে অনেক দিন ধরেই চিনি। পলিটিক্সের চেয়ে সাজ-গোজে যার অসীম আগ্রহ তার মাথায় বিতর্কের কনসেপ্ট কিভাবে আসলো সেই কনসেপ্ট আমার মাথায় ঢুকে না।

পরের সেমিস্টারেই কনসেপ্ট কিভাবে আমাদের মত স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের মাথায় ঢুকানো হয় সেটা দেখার সৌভাগ্য হয়ে যায়। একটা কোর্স ছিল যেখানে বেশ কয়েকটা টপিকের সাথে একটা টপিক ছিল ইসলাম এন্ড দ্যা ওয়েস্ট। যখন টপিকটা পড়ানোর সময় আসে তখন আমাদের কোর্স ইন্সট্রাক্টর ওনার একটা জরুরী কাজের জন্য থাকতে পারেন না। ওনার বদলে আরেকজনকে (খান সাহেব) দিয়ে যান। টপিকটা মূলত ছিল ইসলামকে যে ওয়েস্ট এর মিডিয়া কিভাবে রিপ্রেজেন্ট করে, ইরাক যুদ্ধ এইসব নিয়ে। নতুন ইন্সট্রাকটরের আসার কথা আমি জানতাম না। বন্ধু-বান্ধবীদের কাছে যা শুনলাম সে নাকি এক ডুড। দেখতে বড়ই সৌন্দর্য্য!

পরের ক্লাসটা যখন অ্যাটেন্ড করলাম, প্রথমে কিছুক্ষণ ডকুমেন্টারি (আমাদের টপিকের উপর বেসড ডকুমেন্টারি দেখায়) নিয়ে কথা বললো। তারপর কথা বলতে বলতে একসময় সে দেখি মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গে চলে আসছে (ক্যামনে কি!) যা বললো সেটা নিজের কানে শুনেও বিশ্বাস করা কঠিন! সে যেটা করে, বলে যে আমি এখন একটা উদাহরণ দিব কিন্তু কিছু বললেইতো মানুষের প্রবণতা, যে বলে তাকে রাজাকার বানিয়ে দেয়া (আমি রাজাকারদের সাফাই গাইবো কিন্তু সংবিধিবদ্ধ সতীর্কিকরণঃ আমি রাজাকার না)। তো ছেলে-মেয়েরা বলে যে না স্যার আপনি বলেন (আগেইতো মুগ্ধ হয়ে আছে)।

তো সে বলে যে যুদ্ধ এমন একটা জিনিস সেটার জন্য সবাইকে ব্লেম দেয়া ঠিক না। পশ্চিম পাকিস্তানের বেশিরভাগ মানুষ ৭১ এর সময় জানতো ও না যে পূর্ব পাকিস্তানে কি হচ্ছে! ওরা শুধু শুনতো যে এইখানে গণ্ডগোল হচ্ছে। ঠিক যেমন কিছুদিন আগেও আমারা জানতাম না, চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টসে কি হচ্ছে! আমারা শুধু শুনতাম যে গন্ডগোল হচ্ছে! পাকিস্তান যদি আমাদের চোখে খারাপ হয় তাহলে আমরা নিজেওরাও খুব ভালো মানুষ না! সবাইতো হ্যাঁ হ্যাঁ শুরু করে দিয়েছে, তাইতো, কথায়তো অনেক যুক্তি আছে!(খেয়াল করেন, পাকিস্তানকে ভালো বানিয়ে দিল সবার কাছে!)

তারপর আসলো তার আসল বোমা! বললো, আমরা সবাই গোলাম আযমকে রাজাকার বলি, কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখি যে, সে যা করেছে সেটা তো তার দেশ প্রেম থেকে করেছে। সেতো তার দেশকে ভালোবাসতো সে কেন রাজাকার হবে, তার পয়েন্ট থেকে একবার চিন্তা করে দেখেন!!!!!!!!!!!!! অ্যাঁ রেগে টং অ্যাঁ রেগে টং রুমের মধ্যে সত্যিকারের বোমা পড়লেও আমার আফসোস থাকতো না! আমি আমার পাশের ফ্রেন্ডকে বলি, এইগুলা কি বলে! এইটা কাকে দিয়ে গেসে পড়াতে! আমার ফ্রেন্ড বলে আগের ক্লাসেও এইরকম কথাই বলেছে! আশে-পাশে দেখি মানুষজন গভীর চিন্তায় পড়ে গেসে! সবাই গোলাম আযমের দেশ প্রেমের পয়েন্ট অফ ভিউ নিয়ে ভাবা শুরু করে দিয়েছে! এইসব চিন্তা মাথায় ঢুকিয়ে বলে, আসেন আমরা আমাদের পড়ায় ফিরে যাই!!

পরের ক্লাসে সে ওসামা বিন লাদেনের উকিল সেজে আসে। তার কথা হচ্ছে, ওসামা বিন লাদেন যে টুইন টাওয়ার উড়িয়ে দিয়েছে সেটার কি প্রমাণ আছে!! একটা ভিডিও দেখে লাদেন যদি বলে ভালো হয়েছে তার মানে এই না যে সে ওইটার পেছনে কল-কাঠি নেড়েছে! ধরেন এখন যদি আমিও ভিডিও দেখে বলি, ভালো হয়েছে, তার মানে কি এই যে, আমি ওইটার পেছনে ছিলাম, আমিও সন্ত্রাসী (মনে মনে বলি, আপনিতো পুরাই আন্তর্জাতিক মানের রাজাকার)। আরো বলে যে আমেরিকার মত একটা দেশে কেউ এইরকম হামলা করবে আর আমেরিকা কিছু জানবে না এইটা কি আপনারা বিশ্বাস করেন! টুইন টাওয়ার এত সুন্দর করে সোজাভাবে কিভাবে পড়লো (এই পর্যায়ে ওনার ছাগলামি সব যুক্তি শুনে হাসি চেপে রাখতে কষ্ট হচ্ছিল)। তারপর দেখি সে এক গল্প শুরু করেছে, আলী আর আয়েশার নামে। প্রথমে বুঝি নাই কাদের কথা বলছে! পরে দেখি সে হযরত আলী আর হযরত আয়েশাকে নিয়ে এক কাহিনী বলা শুরু করে দিয়েছে (কোথা থেকে কই চলে গেসে!) তারপর তো আরেক বোমা বিস্ফোরণ! আরবীতে সে কোরান শরীফের কি কি সব আয়াত মুখস্ত বলছে! আর কি পারফেক্ট উচ্চারণ! ওইদিনের পর তার ক্লাস অ্যাটেন্ড করার ইচ্ছা আমার আর ছিল না, করিও নাই।

এই লোকটার কথা হয়ত আমার বন্ধু-বান্ধবীরা ভুলে যাবে। কিন্তু সে যে একটা করে সন্দেহ মাথায় ঢুকিয়ে দিয়ে গেছে সেটা ঠিকই থাকবে। ডাল-পালা মেলে বড় হবে। আমার মত স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া ছেলে-মেয়ে যারা আছেন, তাদের প্রতি একটাই অনুরোধ, কেউ যখন রাজাকারদের হয়ে প্রীচিং করতে আসে তখন একটু চোখ খুলে মানুষটাকে দেখেন। বোঝার চেষ্টা করেন, তার স্বার্থটা কোথায় যে সে আপনাকে এইরকম জঘন্য লোকদের পক্ষে যুক্তি দেখাচ্ছে। সে দেখতে ভালো, অনেক পড়া-শোনা জানা, উচুঁ পদে চাকরী করে তার মানে এই না যে সে সাধু পুরুষ। এদের মূল টার্গেট এখন আমরা। আমাদের মগজ ধোলাই করে যদি একবার সহানুভূতি পেতে পারে তাহলে আর এদের কি লাগে। আশে-পাশে কোনটা যে কোথায় ঘাপটি মেরে আছে, চোখ-কান খোলা না রাখলে একদিন আমাদেরই পস্তাতে হবে।

ছাগতাড়ুয়া।


মন্তব্য

হাসিব এর ছবি

আক্কেলমন্দদের জন্য একটা ভিডিও

মাসরুফ হোসেন এর ছবি

গোলাম আজমকে দেশপ্রেমিক বলামাত্র নগদে পাছায় লাত্থি দিলে এই চুতিয়াগুলা ঠিক হবে।আপনি কিছু বলেন নাই,ভাই? বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যাবার আগে বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে নূন্যতম ধারণা থাকলে এইসব বলে পার পাওয়ার কথা না।অবশ্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইংলিশ মিডিয়ামের কম্বিনেশন বড় ভয়াবহ জিনিস-গুটিকয়েক ছাড়া এদের অধিকাংশ বাংলাদেশের ইতিহাসের একেবারে বেসিক জিনিসগুলাও জানেনা।আমি নিজে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-২০০৮ সালে স্পেশাল টপিকস অন ইকোনমিক্স নামে অনার্সের শেষ বর্ষের (ফোর হান্ড্রেড লেভেলের) একটা কোর্সে স্যার একবার জিজ্ঞাসা করেছিলেন-"পারমানেন্ট সেটেলমেন্ট পলিসি" বা "চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের" নাম কে কে শুনেছো? প্রায় ৩৫ জন ছাত্রছাত্রীর(এরা সবাই কিন্তু খারাপ ছাত্র না,এদের অনেকেই এখান থেকে পাস করে বিশ্বের নামকরা অনেক ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স করতে গিয়েছে) মধ্যে একমাত্র আমি হাত তুললাম(এর কারণ অন্য কিছু না,এসএসসিতে সামাজিক বিজ্ঞানের ইতিহাস অংশ এবং তখন বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি)।স্যার অবাক হয়ে আমার দিকে একবার তাকালেন এবং প্রশ্ন করলেন-"ব্যাটল অফ পলাশী" এর নাম কে কে শুনেছ? এবারো আমি একমাত্র হাত তুললাম।

আমি এত অবাক হয়েছিলাম তা বলার মত না।এই যদি হয় বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে অনার্স ফাইনাল ইয়ারের বেশ কিছু একাডেমিকালি সাউন্ড ছাত্রছাত্রীর ধারণা,এরা যে গোলাম আজমকে দেশপ্রেমিক বলামাত্র গদাম না দিয়ে সেতার যৌক্তিকতা নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে থাকবে তা আর বেশি কথা কি?

অতিথি লেখক এর ছবি

রাজাকারদের ভাই-বেরাদরদের এইরকম কর্ম-কান্ড সম্পর্কে ধারণা ছিল না। হঠাৎ এর মধ্যে এসে এইগুলা বলেছে যে আসলে বুঝে উঠতে উঠতেই, সে যার যার মাথা ওয়াশ করার দরকার করে ফেলেছে। আমারতো মাথাতেও কোন দিন ছিল না যে কেউ এসে বলবে, গোলাম আযমের দেশ প্রেমের কথাটা চিন্তা করেন!

হাসিব এর ছবি

পোস্ট লেখক ও মাসরুফ হোসেন, দয়া করে প্রাইভেট-পাবলিক, ইংলিশ বাংলা মিডিয়াম ইত্যাদির পার্থক্য করবেন না। আবাল সবজায়গা থেকেই বের হয়।

মাসরুফ হোসেন এর ছবি

হাসিব, আবাল সব জায়গা থেকেই বের হয়-অতি সত্য কথা।কিন্তু রেশিও বলে একটা ব্যাপার আছে।আমার মন্তব্যটা খেয়াল করলে দেখবেন আমি নিজেও কিন্তু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।এখানে পাবলিক-প্রাইভেট বিতর্ক বা ইংলিশ-বাংলা মিডিয়াম কে ভালো বা খারাপ সেটি প্রশ্ন নয়,প্রশ্ন হচ্ছে এমন দুটি সিস্টেমের যেখানে ক্রুড মেজরিটিরই নিজস্ব ইতিহাস সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞানটুকুও নেই।"হোয়াট ইজ মুক্তিযুদ্ধ" টাইপ প্রশ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন ক্লাসে কেউ করলে নগদে মাইর খাবে এটা নিয়ে আমি মোটামুটি কনফিডেন্ট-অথচ আমাকে এইরকম প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে(ঘটনাটা মোটেও বিচ্ছিন্ন নয়)।দুঃখজনক হচ্ছে অধিকাংশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে এই জিনিসগুলো বাধ্যতামূলক নয়,ফলে আমরা সেখান থেকে এমন এক গ্র্যাজুয়েট গোষ্ঠী পাচ্ছি যারা পড়াশোনায় ভালো কিন্তু দেশের ইতিহাস নিয়ে কোন খোঁজই রাখেনা।আমার ইংলিশ মিডিয়াম পড়ুয়া ছোটবোনটাকে এই জিনিসগুলো শিখাতে প্রচুর বেগ পেতে হয়েছে কারণ আশেপাশের পরিবেশ থেকে সে কোন সাপোর্টই পায়নি-যা এসেছে তা শুধু পরিবার থেকে।আর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে তো নিজের অভিজ্ঞতার কথা বললামই।

এই কারণেই এসব জায়গায় রাজাকারেরা খুব সহজেই ঘাঁটি গেঁড়ে বসতে পারে,ব্রেইনওয়াশ দিতে পারে অপেক্ষাকৃত সুযোগ-সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেনীর ছেলেমেয়েগুলোকেও।

অনেকটা আত্মসমালোচনা হিসেবেই প্রসংগটি তুলে ধরেছি,বিতর্ক সৃষ্টির বিন্দুমাত্র অভিপ্রায় আমার নেই।যদি ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকে সেজন্যে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

কোথাও কম, কোথাও বেশি
_________________________________
রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

অতিথি লেখক এর ছবি

দুঃখিত, আসলে ওইদিকে যেতে চাইনি। বোঝাতে চাচ্ছিলাম যে কিভাবে এরা সব জায়গাতেই ছড়িয়ে পরছে।

ছাগতাড়ুয়া।

পৃথিবী [অতিথি] এর ছবি

আমিও নতুন কোন বিতর্ক শুরু করতে চাচ্ছি না, কিন্তু ৬ বছর ইংরেজি মাধ্যম(GCE O'level এর পাঠ্যসূচি) বিদ্যালয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে এই মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ইতিহাসের নামে পাতিহাস দিয়ে মগজধোলাই করা সবচেয়ে সহজ। ইতিহাস ক্লাসে আমাদের বিশ্ব ইতিহাস পড়ানো হত(তবে সেখানে এশিয়ার ইতিহাস কমই থাকত, ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস তো ছিলই না), কেবল অষ্টম শ্রেণীতে বোর্ডের গুতো খেয়ে মাধ্যমিকের সমাজবিজ্ঞানের বইয়ের ইতিহাসটা পড়ানো হয়েছিল। ৬ বছরে দেশের ইতিহাস সম্পর্কে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পেয়েছি শুধু ওই একটি বছরেই, বাকি যা জানি তা জেনেছি হুমায়ুন আহমেদ-জাফর ইকবালের বই পড়ে এবং বাবার কাছ থেকে(আর এখন জানছি ব্লগের মাধ্যমে)। আমাদের পরিবারে রাজাকার ও জামায়াতের সক্রিয় কর্মী থাকায় পারিবারিক আলাপ-আলোচনায় প্রায়ই মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ আসত, এই সুযোগে বাবার কাছ থেকে রাজাকারদের কুকীর্তি সম্পর্কেও জানতে পারতাম। যেসব ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের বাসায় এরকম পরিবেশ নেই, তারা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বলতে গেলে কিছুই জানে না(আমার এখনও মনে আছে সপ্তম নাকি অষ্টম শ্রেণীতে থাকার সময় পোলাপানকে স্বাধীনতা দিবস আর বিজয় দিবসের পার্থক্য বোঝাতে ম্যাডামের জান বের হয়ে গিয়েছিল)। স্কুল কর্তৃপক্ষকে দোষ দিয়েও লাভ নেই, আন্তরিক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পাঠ্যসূচি ও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের ইতিহাস-ভূগোল ইত্যাদি শিক্ষা দেওয়া হয়ে উঠে না। এখন এরকম কোন স্কুলে যদি কোন পাকপন্থী শিক্ষক এসে সুক্ষ্মভাবে অপপ্রচার চালানো শুরু করে, শিক্ষার্থীদেরকে বাঁচানোর জন্য কেউ থাকবে না।

আমি সমাজ বইতে মুক্তিযুদ্ধের অংশে কোন রাজাকারের নাম পাইনি। জামায়াতি পরিবারে বড় হওয়া ছেলে-মেয়েরাও জানে রাজাকাররা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বিরোধীতা করেছিল, কিন্তু তারা নামগুলো জানে না এবং রাজাকারদের নাম বললে তারা সেটাকে রাজনৈতিক অপপ্রচার হিসেবে নেয়। এর জন্য সুস্থ ইতিহাস চর্চার অভাবই দায়ী, কিন্তু ইতিহাস বইতে রাজাকারদের নাম সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করলে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বেশ উপকার হত। বর্তমান প্রজন্ম পরিবারের কাছ থেকে রাজাকারদের নাম জানছে, কিন্তু বর্তমান প্রজন্মই যেখানে বিভ্রান্ত হচ্ছে সেখানে ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা শুধু চিন্তা করুন।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আমাদের পরিবারে রাজাকার ও জামায়াতের সক্রিয় কর্মী থাকায় পারিবারিক আলাপ-আলোচনায় প্রায়ই মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ আসত, এই সুযোগে বাবার কাছ থেকে রাজাকারদের কুকীর্তি সম্পর্কেও জানতে পারতাম।
নিজেদের পরিবারে রাজাকার এবং জামাত কর্মী থাকার পরেও তাদের 'কুকীর্তি' জানতে পারাটা প্রশংসার দাবী রাখে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয় উল্টো। অর্থাৎ তখন রাজাকার আর জামাত কর্মীদের সুকীর্তি শুনে এবং শোনাতেই পরিবারের সদস্যদের ব্যাপক অধ্যবসায় লক্ষ্য করা যায়।


বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

সাঈদ আহমেদ এর ছবি

১. নোলনের ইন্সেপশন ছবির কথা মনে হলো। চিন্তার ইন্সেপশন হচ্ছে।

২.

কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখি যে, সে যা করেছে সেটা তো তার দেশ প্রেম থেকে করেছে। সেতো তার দেশকে ভালোবাসতো সে কেন রাজাকার হবে, তার পয়েন্ট থেকে একবার চিন্তা করে দেখেন!!

- কথা তো সত্য। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে কোন প্রশ্ন সে সময় ছিলনা। তবে পরের লাইনটায় একটা সমস্যা আছে-- সে সময় সে দেশকে ভালোবেসেই তো রাজাকার অথার্ৎ দেশের `সহযোগী' হয়েছিলেন। রাজাকার নামটাতো আর পাবলিকের দেয়া না... তাঁর বা তাদেরই দেয়া। এর মধ্যে দেশ প্রেমের ছোঁয়া আছে। হাতমে বিড়ি, মুহমে পান... লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান.... এগুলো যদি দেশ প্রেম না হয়, তবে দেশ প্রেম কী? আমরা যেমন আমাদের দেশকে ভালোবাসি, তিনিও তেমনি তাঁর দেশ (তৎকালীন পশ্চিম) পাকিস্তানকে ভালোবাসেন। স্বয়ং নিয়াজী থেকে শুরু করে ভুট্টো, ইয়াহিয়া সকলেই তাঁর এই দেশপ্রেমের সার্টিফিকেট দিবে।
দেশপ্রেমের কারনেই তিনি একাত্তরের পরে তাঁর দেশেই থেকে গিয়েছিলেন। কী দরকার ছিল এদেশে আসার!
-----------
চর্যাপদ

-----------
চর্যাপদ

তানভীর [অতিথি] এর ছবি

তাহলে সে তার দেশেই থেকে যেত। বাংলাদেশে এসে এই রেস্তকে নষ্ট করার অপচেষ্টা নেওয়ার কোনও মনে ছিল না ।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

সু'ওয়ার কে বাচ্চে জাহান্নমমে জায়েঁ ... যেমনটা ভুট্টো বলে গেল
____________________________
রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

অতিথি লেখক এর ছবি

"রাজাকারদের তৎকালীন দেশপ্রেমের কোন অভাব ছিল না, বরং স্বাধীন বাংলাকামীরাই ছিলো তখন বিদ্রোহী।"
ভুট্টো, ইয়াহিয়ার পা চোষাদের কাছ থেকে এর চাইতে ভিন্ন কোন মত তো কেউ আশা করতে পারেন না। মন খারাপ

- মুক্ত বয়ান

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

গতকাল এক ছোট ভাই, সে অন্য আরেকটি স্বনামখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে- জানালো আরেকটি অদ্ভূত তথ্য।

... তাদের ছাত্রাবাসে বাসরত প্রায় হাজারখানেক ছাত্রের মাঝে জনা চল্লিশেক পাকিস্তানি। একুশে ফেব্রুয়ারীতে বাঙ্গালি ছাত্রদের কার্যক্রমে এই পাকিরা 'শব্দের কারণে পড়াশুনা করতারিনা' এই জাতীয় আকুল আবেদন নিয়ে স্যারদের কাছে দৌড়াদৌড়ি করে কিন্তু ১৪ আগস্টের রাতে নিজেরাই ড্রাম পিটায়...

_________________________________________

সেরিওজা

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

আপনার দৃষ্টিভঙ্গীটা ভালো লাগল। বরাহপোনাদের কিন্তু খালি একটু সুযোগ দিলেই অনেক ক্ষতি করে ফেলতে পারে। তাই সাধু সাবধান!

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

রাজাকাররাও রাজাকার বললে অপমান বোধ করে!!
দেশপ্রেম অটুট রাখতে তাদের অবিলম্বে তাদের দেশ পাকিস্তানে হিজরত করা উচিত।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

অতিথি লেখক এর ছবি

তাদের হিজরতের প্রিয় স্থানতো দেখি লন্ডন।

ছাগতাড়ুয়া।

অদ্রোহ এর ছবি

মগজধোলাইকারীদের থেকে সাবধান। এইসব ভেকধরা ছাগুরা মানুষজনের মাথা চিবিয়ে খাচ্ছে। বাই দ্য ওয়ে, আপনার নিকটা পছন্দ হয়েছে হাসি

------------------------------------------

আজি দুঃখের রাতে, সুখের স্রোতে ভাসাও তরণী
তোমার অভয় বাজে হৃদয় মাঝে হৃদয় হরণী।

--------------------------------------------
যদ্যপি আমার গুরু শুঁড়ি-বাড়ি যায়
তথাপি আমার গুরু নিত্যানন্দ রায়।

অতিথি লেখক এর ছবি

গোলাম আজম পাকিস্তান প্রেমি ছিল, ঠিক আছে, কিন্তু মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সমর্থন করার কারনে তাকে ঘৃনা করা হয়। রাজাকারের ডেফিনেশন ঠিক হওয়া দরকার। অনেক লোক রাজাকারি করে নিজের এলাকার লোকজনকে পাক আর্মির হাত থেকে বাচানোর চেষ্টাও করছে। এই ধরনের লোকদেরকে রাজাকারি করার জন্য আমরা কতটুকু ঘৃনা করব তার পরিমানও নির্ধারিত হওয়া দরকার।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

৪৮ থেকে ৭০ এই এতগুলা বছরের পাকিস্তানী অমানবিক শোষণের পর, পাকিস্তান প্রেমও কি 'ঠিক' থাকে ভাই? অবশ্যই, কোয়েশ্চেনটা মানবতার। এবং আমার মত হচ্ছে, ৭০ সালের বাস্তবতায় পাকিস্তান প্রেমের জন্যও কাউকে ঘৃণা করা যাইতেই পারে।
_________________________________
রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

গোলাম আযম পাকিস্তানপ্রেমী থাকাটা ঠিক নাই; কারণটা আপনি নিজেই বলেছেন। যখন চোখের সামনে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়, তখন আর হত্যাকারীর প্রতি প্রেমকে 'ঠিক' বলা যায় না।

রাজাকারের সংজ্ঞা নিয়েও নোতুন কিছু করার দরকার দেখি না। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা রাজাকার বাহিনীতে কাজ করেছে, তারা সবাই রাজাকার। পাক আর্মির হাত থেকে এলাকার লোকজনকে বাঁচানোর জন্য কেউ রাজাকারি করে নাই। রাজাকারি করেছে নিজে নিরাপদ থাকার জন্য, বেতন ভাতার জন্য এবং লুটপাটের জন্য। আত্মীয়-বান্ধবদের কাউকে পাক আর্মির হাত থেকে ছাড়িয়ে আনার যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তার অনেকগুলোই টাকার বিনিময়ে হয়েছে, আবার অনেকগুলোই আত্মীয়তার কারণে। সমাজসেবা বা মানুষের সেবা বা মুক্তিযুদ্ধ করার খায়েসে কেউ রাজাকার বাহিনীর নিয়মিত সদস্য হওয়া সম্ভব না। সুতরাং এসব এস্কেপ রুট তৈরি করার চিন্তা বাদ দেন। রাজাকাররা কখনোই দেশপ্রেমিক না, সবসময়ই সুবিধাবাদী এবং সে সুবিধাটা পেতে আশেপাশের মানুষকে হত্যা করতে তাদের একাত্তরেও বাধে নাই, সুযোগ পেলে এখনো বাধবে না।

(এ বিষয়ে অনেক আগে একটা পোস্ট লিখেছিলাম।)

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সাঈদ আহমেদ এর ছবি

একমত। কটাক্ষ করে লেখা আমার মন্তব্যেও আসলে তার পাকিস্তান প্রেম নিয়ে ভুল ধারনা তৈরি হতে পারে, তাই সেটাও ঠিক করে দিচ্ছি।
গণহত্যার সাথে ব্যক্তিস্বার্থের সম্পর্ক থাকে, দেশ প্রেমের না।
-----------
চর্যাপদ

-----------
চর্যাপদ

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার "ড্যুড" শিক্ষকের জন্য হাই হিল স্যান্ডেল এর পিটা উপহার রইল। আর গবেট ক্লাসমেটদের জন্য বাটার চপ্পল। পাস করে দিয়েন।
-শিশিরকণা-
(amihimi@gmail.com)

অতিথি লেখক এর ছবি

ওই রকম একটা ছাগল লোক আমার শিক্ষক না। আমি অভিজ্ঞতা শেয়ার করে আসলে বুঝাতে চাইছিলাম যে আমরা কত উদাসীন হয়ে আছে, আর এরা এই সুযোগটাকে কাজে লাগাচ্ছে।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

এই বরাহপোনার পরিচয় জানিয়ে দেন।

----------------------------------------------------------------
অভ্র আমার ওংকার

অতিথি লেখক এর ছবি

এরকম অভিজ্ঞতা আমারও হয়েছিল যখন ভার্সিটি ভর্তি কোচিং করছিলাম সাধারণ জ্ঞান ক্লাসে একদিন হঠাৎ করে শিক্ষক বলে উঠলেন যে মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ লোক মারা যাবার ঘটনা নাকি একটা ভুয়া কথা, এরপর ট্যাঁনা পেছিয়ে বলার চেষ্টা স্বাধীনতা যুদ্ধটা আসলে ভারতের একটা চাল এরকম আরও এক গাদা রাজাকারি কথাবার্তা সেই সময় বাংলা ব্লগ মগ বাজার ছাগু সম্প্রদায় এই সব বুঝতাম না এখন বুঝি এ ধরনের সূক্ষ্ম প্রচারণা জামাত শিবির করে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করতে থাকে প্রতিনিয়ত।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।