ষড়যন্ত্র! ষড়যন্ত্র!

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: শনি, ০৪/০২/২০১২ - ১১:৩৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

কামাল ভাইয়ের প্রতি আমার বিশেষ ভক্তি জন্মায় যেদিন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এস এম কিবরিয়া ঘাতকের হাতে প্রাণ দেন। আমরা রাতের খবরে জানতে পারি উনি গ্রেনেড হামলায় মারাত্মক আহত হয়েছেন; তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে। কিন্তু সকালে টিভি খুলেই দেখি উনি আর নেই। বিষণ্ণ মনে অফিসে যাই; চায়ের টেবিলে আলোচনা চলে দেশের ভুত-ভবিষ্যৎ নিয়ে। কেউ কেউ সরকারকে ধুয়ে দিচ্ছে। দেশটাকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য বানানোর জন্য। আবার অনেক সরকার সমর্থক চাকুরে বিরোধী পক্ষের নানা অতীত কাসুন্দির তাজা গন্ধ বিলিয়ে যাচ্ছে। এদিকে এই কথার যুদ্ধে পড়ে আমার মাথা তখন পুরাই আউলা। আমি আগুপিছু না ভেবেই পাশে বসা পঞ্চাশোর্ধ কামাল ভাইকে বোকার মত জিজ্ঞেস করে বসি, ‘’ভাই, কে করল এই সর্বনাশা কাজটা? কি উদ্দেশ্য ছিল তার? কি মনে হয় আপনার?’’

তখনো প্রধান দুই দল থেকে কোন প্রতিক্রিয়া আসেনি; তখন পর্যন্ত নেতারা পরস্পরকে দায়ী করার প্রয়োজনীয় সময়টুকু পাননি; কোন জঙ্গি গ্রুপ এমনকি দায় স্বীকার করেনি (অন্যান্য দেশে যা প্রায়ই দেখা যায় এবং জঙ্গি গ্রুপগুলোর তথ্য ফাঁসের কারণে ‘জজ মিয়া’রা যেখানে লাইম লাইটে আসার সুযোগবঞ্চিত হয়)। কিন্তু কামাল ভাই আমাকে অবাক করে দিয়ে বলল, ‘’কে করল মানে? আপনি কি মনে করতেছেন, এটা কোন ব্যক্তি বিশেষের কাজ?’’। আমি থতমত খেয়ে বলি, ‘’না, কামাল ভাই, আমি কিছুই মনে করতেছি না। আর আমি বুঝতেছি না বলেই তো আপনাকে জিজ্ঞেস করলাম।‘’ কামাল ভাই গভীর চিন্তামগ্ন দৃষ্টিতে বললেন, ‘’শুনেন, রাজনীতি এত সহজ জিনিস না; আপনে যেটা দেখবেন, সেইটাই সত্য না। ঘটনা তলায় দেখেন; কোন সরকারই নিজের অবস্থান খারাপ করতে চায় না; আমলীগের বিশেষ প্লান অনুযায়ী এগুলো হইতেছে। বিনপিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে বিপদে ফেলার জন্য এইসব ঘটাইতেছে। সামনে আরও বড় বড় ঘটনা ঘটতে দেখবেন’।

এবং সত্যি অনেক বড় ঘটনা ঘটল। ২৩শে আগস্টের ঘটনা। কামাল ভাইয়ের প্রতি আমার মুগ্ধতার শুরু সে সময় থেকেই। সত্যি কথা বলতে কি, আমি প্রথমে উনার কথায় গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু উনার বিশ্লেষণী মস্তিষ্ক আমাকে সত্যি অবাক করেছে। কোন রাজনৈতিক দলের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোন রকম সংশ্লেষ নেই; অথচ কি ক্ষুরধার রাজনৈতিক ব্রেন। যেভাবে ঘটনা তদন্তের আগেই উনি দ্রুত গতিতে রায় ঘোষণা করে দিতে পারেন, তাতে আমাদের ডিটেকটিভ দপ্তরের প্রতি যে কিঞ্চিৎকর শ্রদ্ধা মনে অবশিষ্ট ছিল, তাও বিলীন হল। আমি মাঝে মাঝে নিজের মনকেই প্রশ্ন করি, কামাল ভাইয়ের মগজে কি একটা আদালত সবসময়ই সেট করা থাকে? নিশ্চয়ই থাকে এবং সেখানে তিনি মুহূর্তের মধ্যেই কাল্পনিক সাক্ষ্য-প্রমাণ-বাদী-বিবাদী-পুলিশ সাজিয়ে ফেলতে পারেন। শুধু তাই নয়, দ্রুত বিচার আইনের সর্বোত্তম প্রয়োগ ঘটিয়ে কামাল ভাই এত দ্রুত একখানা মচমচে রায় খসিয়ে ফেলতে পারেন যে বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে সমানে হাসতে থাকে। আর ওদিকে ‘জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড’ প্রবাদবেটি চোখ-মুখ ভাসিয়ে মরাকান্না করতে থাকে।

যাই হোক, আস্থা বেড়ে যাওয়াতে আমি কামাল ভাইকে একদিন জিজ্ঞেস করি, ‘’ আচ্ছা, আমলীগ যে এভাবে একের পর এক যড়যন্ত্র করে নিজেদের লোককেই মেরে ফেলছে, এর ফলে কি দলের ক্ষতি হবে না?’’ কামাল ভাইয়ের দ্রুত উত্তর, ‘’দলের ক্ষতি মানে? দল ক্ষমতায় আসবে, দলের আবার কিসের ক্ষতি?’’ আমি তবু তবু আমতা আমতা করে বলি, ‘’কিন্তু দলের এত বড় বড় নেতা...’’, আমার কথা শেষ করতে দেন না কামাল ভাই, ‘’এই রকম নেতা গণ্ডায় গণ্ডায় পাওয়া যাইব; কিন্তু ক্ষমতাই আসল।‘’

কামাল ভাইয়ের কথা আবারও অক্ষরে অক্ষরে ফলে। মহাজোট তিন-চতুর্থাংশ আসনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে। আমি মনে মনে বলি, ‘কামাল, তুনে কামাল কিয়া ভাই’। কিন্তু আসন ও ভোটের আধিক্য আমার মনে সন্দেহ জাগায়। কামাল ভাইকে জিজ্ঞেস করি, ‘’বিনপি হারবে বলেছিলেন; কিন্তু তাই বলে ৩২ সিট?’’ কামাল ভাইয়ের রাজনৈতিক মস্তিষ্ক মিসাইলের চেয়েও দ্রুত চলে, ‘’তুমি মনে কর, স্বাভাবিক ইলেকশন হয়েছে?’’ তারপর গলাকে কয়েক ডিগ্রি খাদে নামিয়ে গোপন কথাটা ফাঁস করে দেন, ‘’ইন্ডিয়া, ইউরোপ, আমারিকা, আর কেয়ারটেকারের ভিতর একটা দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি হইছিল তখন। যে কইরাই হওক, আমলীগরে ক্ষমতায় বসাইতে হইব। তাছাড়া, আর্মি হান্ড্রেড পার্সেন্ট ব্যাকিং দিছে আমলিগরে; বিনপি ক্ষমতায় আসলে ওদের চাকরি খাইত না? তারেকের উপর অত্যাচারের প্রতিশোধ না নিয়া ছাড়ত খালেদা জিয়া? কি মনে কর তুমি?’’

আমি নিশ্চিন্ত মনে কামাল ভাইয়ের কথা মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু বিডিআরের ঘটনায় আমি মহা দুর্ভাবনায় পড়ে গেলাম। কিছুতেই মেলাতে পারছিলাম না হিসাব, সবশেষে, কামাল ভাইয়ের দ্বারস্থ হলাম, ‘’বিডিআরের এই ঘটনা কে ঘটাইছে? আপনি ধরতে পারছেন কিছু?’’ ‘’ধরাধরির কি আছে? ইন্ডিয়া ছাড়া আর কে এই কাজ করবো? আমাদের সীমান্ত দুর্বল হইলে ওদেরই লাভ ষোল আনা, যেকোন সময় বিনা বাঁধায় বাংলাদেশ দখল কইরা নিতে পারবো।’’ আমি তো মহা কনফিউজড, ‘’কিন্তু কামাল ভাই, এই সরকারের সাথে তো আর্মির দহরম-মহরম। তাহলে তারা এই কাজ কেন করবে?’’, কামাল ভাইয়ের সোজা-সাপ্টা উত্তর, ‘’আমি কি এই সরকাররে একবারও দোষ দিছি? তারা তো জাস্ট পুতুল; ইন্ডিয়া সুইচ টিপতাছে কেবল।‘’ আমার দ্বিধা তবু যায় না, ‘’কোন সরকার কি নিজের অবস্থান খারাপ করতে চায়? আপনিই তো কিবরিয়া হত্যায় বিএনপির হাত থাকার ব্যাপারটা একই যুক্তিতে নাকচ করে দিয়েছিলেন!’’ এবার যেন কামাল ভাই খানিকটা বিরক্তই হল, ‘’আরে তুমি দেখি কোন ঘটনাই তলিয়ে দেখতে জানো না! এই সরকারের কি মাথা খারাপ হইছে যে, নিজের অবস্থান নিয়ে ভাববে? এদের আবার নিজের অবস্থান আছে নাকি? এরা অবস্থান করে ইন্ডিয়ার হাতের মুঠায়! তাই এদের নিরাপত্তার দায়িত্বও ইন্ডিয়ার!’’ আমি কামাল ভাইয়ের বুদ্ধিদীপ্ত চোখের দিকে অনিমেষ তাকিয়ে থাকি। লোকটার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার প্রতি আমার শ্রদ্ধা উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে।

তখন এপ্রিল মাস হবে বোধহয়। প্রচন্ড দাবদাহ চতুর্দিকে। অথচ এই সময়েই সীমাহীন লোডশেডিং। আমি কামাল ভাইকে যেয়ে শুধোলাম, ‘সরকার একদিকে বলছে, দেশে সারপ্লাস বিদ্যুৎ রেখে যাবে। অথচ লোডশেডিংতো মনে হচ্ছে গতবারের চেয়েও ভয়াবহ। সরকারের এই ভণ্ডামির কারণ কি বলে মনে হয় আপনার?’’ কামাল ভাই জ্ঞানগর্ভ হাসি উপহার দিয়ে বললেন, ‘’আরে এই সহজ জিনিসটা বুঝতেছো না? তোমাগো লোডশেডিংয়ে না রাখলে, ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করবো কিভাবে? তোমরা লোডশেডিংয়ে কষ্ট পাইয়া ‘বিদ্যুৎ চাই, বিদ্যুৎ চাই’ বইলা গলা ফাটাইব, আর তখনই না সরকার ভারত থেকে বেশী দামে বিদ্যুৎ কেনার মওকা পাইব। এইগুলি সব খেলা, রাজনৈতিক খেলা, বুঝলা?’’ কামাল ভাইয়ের এহেন গভীর রাজনৈতিক জ্ঞানের পরিচয় পেয়ে আমারতো প্রায় মূর্ছা যাওয়ার উপক্রম!

এমনি আরো একটি দুর্ধর্ষ রাজনৈতিক খেলার কথা জেনেছিলাম কয়েক মাস আগে। তখন বিশ্বকাপের আসর চলছে। পাকিস্তান বাংলাদেশে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবে! তখন দেশে পাকিস্তানী পতাকার জোয়ার বইছে। তা দেখে অনেকের ভিতর আবার দেশপ্রেম উথলে উঠে। প্রতিবাদে ফুসে উঠে তারা। মহা শোরগোল তুলে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে! খেলার সাথে রাজনীতি মেলানো যায় কিনা, তা নিয়েও চলে সুদীর্ঘ আলোচনা। তো আমি টিকতে না পেরে, শেষ ভরসা কামাল ভাইয়ের কাছে চলে যাই, ‘’দেশে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া নিয়ে যে নতুন বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়েছে, তা নিয়ে আপনার মত কি?’’ কামাল ভাই চরম বিরক্তি মেশানো কণ্ঠে বলেন, ‘’কিছু লোকের সবসময়ই ঘোল পাকাইতে হইব; অতীত নিয়ে টানাটানি না করলে তাগো মন ভরে না। তুমি হাজার কইরাও এদের মন ভরাইতে পারবা না। পাকিস্তান তো কম দুঃখ প্রকাশ করে নাই; কিন্তু তবু তাগো তৃপ্তি হয় না।‘’

আমি অধৈর্যের মত প্রশ্ন করি, ‘’কিন্তু পাকিস্তানই বা ক্ষমা চাইতে এত গড়িমসি করতেছে কেন? ক্ষমা চাইলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়।‘’ কামাল ভাই আবারো বিরক্ত হন, ‘’পাকিস্তানরে আমরা অস্থির কইরা ফালাইতেছি তিরিশ বছর আগের একটা ঘটনার জন্য; অথচ ভারত যে স্বাধীনতার পর থেকেই সমানে পিষতাছে, সেইডা তোমাগো চোখে পড়ে না? ভারতরে ক্ষমা চাইতে বলবা না? আসলে তোমাগোই বা দোষ দেই কেন? আমেরিকার ছাতার নীচে যেই দেশই থাকব, তাদের সাত খুন মাপের রায় আগে থেকেই কার্যকর করা থাকে।‘’ আমি চমৎকৃত হলাম কামাল ভাইয়ের যুক্তিতে! তবু আমি আদ্যোপান্ত শিখে নিতে চাই তার কাছ থেকে। জিজ্ঞেস করলাম, ‘’কিন্তু ইন্ডিয়া-পাকিস্তানকে কি এক পাল্লায় মাপা যাবে? ইন্ডিয়া তো আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহায্য করছে।‘’ কামাল ভাই কিঞ্চিত উত্তেজিত হয়ে গেলেন মনে হল, ‘’আরে বাদ দাও তোমার স্বাধীনতা যুদ্ধ। ইন্ডিয়া কি সাহায্য করছে আমাদের? বরং আমরা ইন্ডিয়ারে সাহায্য করেছি , তার প্লান বাস্তবায়নে। এটা ছিল ইন্ডিয়ার একটা রাজনৈতিক খেলা। ইন্ডিয়া তার প্লান অনুযায়ী পাকিস্তান ভাঙ্গছে; অথচ আমরা বোকার মত দিন-রাত ইন্ডিয়া-ইন্ডিয়া জপ করতে থাকি।‘’ আমি মনে কোন দ্বিধা রাখতে চাই না; তাই জিজ্ঞেস করি, ‘’ভারত তিন দিক থেকে আমাদের ঘিরে রেখেছে, তাই তাদের সাথে সম্পর্ক রাখা তো জরুরি।‘’ কামাল ভাইয়ের চটজলদি উত্তর, ‘’ক্যান, যে দেশ আমাদের অত্যাচার করছে, তাদের সাথে আবার কিসের সম্পর্ক? এরচেয়ে, চায়নার সাথে সম্পর্ক রাখো; তখন দেখবা ইন্ডিয়া ক্যামনে নেংটি ইঁদুরের মত পলায়!‘’ আমি মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনি আর শিখি।

এরকম আরেকটি চরম শিক্ষা হয়েছিল যুদ্ধাপরাধী ইস্যুতে। বড় রাজাকারদের গ্রেফতার ও বিচার প্রশ্নে অনেক মানুষ খুব উল্লসিত। বেশ শোরগোল পড়ে গেছে। কিন্তু আমি তো যথারীতি হিসাব মেলাতে পারছি না। সরকার কোন নির্বাচনী ওয়াদাই যেখানে পূরণ করতে পারছে না, সেখানে হঠাৎ করে এটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল কেন? গেলাম কামাল ভাইয়ের পাঠশালায়। কামাল ভাই কখনো হতাশ করে না; সেদিনও পরিপূর্ণ পাঠ নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলাম। মনে আছে, কামাল ভাই বেশ জোরের সঙ্গেই বলেছিল, ‘’এখন থেকে একটু চোখ-কান খোলা রাইখ। আগে থেকেই যদি রাখতা, তাইলে সরকারের এত বড় মূলাডা তোমার চোখ এড়াইতে পারত না! যাগো সাথে এক লগে আন্দোলন করেছে, তাগো ফাঁসিতে লটকাইব, ভাবলা কি কইরা? তাছাড়া, মুজাহিদ-নিজামিরে ফাঁসি দিলে সৌদি যে ডলা দিব, তা সামলানোর ক্ষমতা আছে এই সরকারের? সুতরাং, সরকার খালি খালি রিস্ক নিব ক্যান? এটা একটা আই ওয়াশ মাত্র। দেখবা সরকার এদের গায়ে ফুলের টোকা পর্যন্ত দেবে না। এভাবেই সব প্রিপ্লানড করা‘’ কামাল ভাইয়ের কথা শুনতে শুনতে আমি ভাবি, রাজনৈতিক খেলা কতই না জটিল! কামাল ভাইয়ের রাজনৈতিক জ্ঞানের বহর পরিমাপের ব্যর্থ একটা চেষ্টা চালাই আমি; কিন্তু তা অতলান্তিক; তাই হাল ছেড়ে দেয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

কিছুদিন আগে অফিসের কাজে ডুবে আছি। এমন সময় এক কলিগ জানাল, টিভিতে ব্রেকিং নিউজ দেখাচ্ছে; সারা দেশে বিক্ষিপ্ত বোমাবাজি চলছে। মতিঝিলে একজন স্পট ডেড। দিনটি ছিল বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা দিবস। আমার এক বন্ধু আছে, বিএনপির সাথে যার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। আমি সঙ্গে সঙ্গে ওকে ফোন দিলাম। বন্ধুটি টেলিফোনে জানাল, সত্যি সত্যি নাকি সারা দেশে বোমাবাজির একটা পরিকল্পনা ছিল। আর মতিঝিলে বোমার আঘাতে মানুষ মারা যাওয়া তারই ফলশ্রুতি। কিন্তু পুলিশ আগে-ভাগে টের পেয়ে যাওয়ায়, সব প্লান ভেস্তে যায়। বন্ধুর কথা শুনে আতঁকে উঠি। দেশে কি তাহলে চোরাগোপ্তা গেরিলা যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল নাকি? ‘’নাহ, এই গণতান্ত্রিক যুগে এটা সম্ভব নয়। সরকারকে বিদায়ের কত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি তো আছে; বিরোধী দল নিশ্চয়ই অগণতান্ত্রিক পথে যাবে না’’, নিজের মনেই বলি আমি। কিন্তু বন্ধুকেই বা অবিশ্বাস করি কি করে? সেও তো মাঠ কর্মি। তবু নিশ্চিত হওয়ার জন্য গেলাম রাজনীতি সচেতন কামাল ভাইয়ের কাছে। সব শুনে কামাল ভাই বলল, ‘’খবর নিয়া দেখ, তোমার বন্ধু আমলীগের একটা এজেন্ট ছাড়া কিচ্ছু না। আমলিগ তার পুরান খেলা শুরু করছে। ক্ষমতায় থাকুক বা বাইরে থাকুক, এই ‘বোমার বড়ি’ খাওয়াইতে আমলীগের জুড়ি নাই। বিরোধী দলের আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন এমন একটা রাজনৈতিক চাল না চাললে কি....।‘’ কামাল ভাই কথা শেষ করতে পারে না; কারণ প্রবল সুরে রিং টোন ভেসে আসে তার মোবাইল ফোন থেকে। কামাল ভাই ভ্রু কুচকে ফোনটা ধরলেন; আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না, অপর প্রান্তে কি কথা হচ্ছে। আমরা শুধু কামাল ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছি, যেখানে আচমকা ভয়ানক মেঘ জমতে শুরু করেছে। কথা শেষে কামাল ভাই কাউকে কিছু না বলে হন্তদন্ত হয়ে ঝড়ের গতিতে অফিস থেকে বেরিয়ে গেলেন।

আমরা কাজের চাপে তখন তাকে অনুসরণ করতে না পারলেও, ক্রমাগত ফোন করে যাচ্ছিলাম। কিন্তু একবারের জন্যও ফোনটাকে একটিভ পাইনি। শেষে সন্ধ্যায় সব কাজ সেরে আমরা সরাসরি তার বাসায় ভিড় জমালাম। কিন্তু ওখানে আমরা ছাড়াও ইতিমধ্যে আরও অনেক লোক ভিড় জমিয়েছে; তাদের সবার চোখ স্থির হয়ে আছে হঠাৎ করে বয়স বিশ বছর বেড়ে যাওয়া কামাল ভাইয়ের দিকে। একজন সাংবাদিক কামাল ভাইকে তখন সওয়াল করছিলেন। দূর থেকে সেই কথোপকথনের কিছু কিছু আমাদের কানেও এলো।
‘‘আপনি কি জানতেন না, আপনার ছেলে শিবির করে?’’
‘’প্রশ্নই উঠে না। শুধু শিবির ক্যান, কোন রাজনৈতিক দলের সাথেই আমার পরিবারের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নাই।‘’
‘’কিন্তু আমাদের কাছে রেকর্ড আছে, সে এই এলাকার উঠতি শিবির নেতা।‘’
‘’আপনাদের রেকর্ড ভুয়া। বাপ হইয়া আমি জানলাম না, অথচ আপনারা রেকর্ড পাইয়া গেলেন?‘’
‘’কিন্তু পুলিশ তো আপনার ছেলেকে আজ স্পট থেকে ধরেছে; সে যাত্রাবাড়িতে বোমাবাজি করছিল। তার সাথে শিবিরের অন্যান্য নেতাও ছিল।‘’
‘’এইগুলা আমি বিশ্বাস করি না। আমার ছেলেকে ষড়যন্ত্র করে ধরা হয়েছে!’’
‘’কিন্তু আপনার ছেলের বিরুদ্ধে কেন ষড়যন্ত্র করবে? আপনিই তো বলেছেন, আপনারা কোন দল করেন না।‘’
‘’আমার নিরীহ ছেলেরে ব্যবহার করতাছে ওরা ”
‘’ওরা বলতে কাদের বোঝাচ্ছেন?’’
‘’জানি না, আপনেরা তদন্ত করেন। সব ষড়যন্ত্র প্রকাশ পাইব।’’
‘’কার ষড়যন্ত্র? উদ্দেশ্য কি এই ষড়যন্ত্রের?’’
‘’জানি না, কিচ্ছু জানি না আমি। ষড়যন্ত্র! সব ষড়যন্ত্র! ভয়ানক ষড়যন্ত্র চলতেছে আমার পরিবারের বিরুদ্ধে’’
এরপর আর নিজেকে সামলাতে পারেন না আমাদের প্রখর রাজনীতি সচেতন কামাল ভাই। তীব্র আর্তনাদ করে কেঁদে উঠেন। অবশ্য তার এই আর্তনাদ ষড়যন্ত্রকারীদের শ্রবনযন্ত্র ভেদ করার মত যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না।

কাজি মামুন
০৪.০২.২০১২
ইমেইল আইডিঃ eval(unescape('%64%6f%63%75%6d%65%6e%74%2e%77%72%69%74%65%28%27%3c%61%20%68%72%65%66%3d%22%6d%61%69%6c%74%6f%3a%6d%64%6b%61%7a%69%6d%61%6d%75%6e%40%79%61%68%6f%6f%2e%63%6f%6d%22%3e%6d%64%6b%61%7a%69%6d%61%6d%75%6e%40%79%61%68%6f%6f%2e%63%6f%6d%3c%2f%61%3e%27%29%3b')) (ইমেইল আইডি প্রদ্রর্শিত হোক চাই না।)

বিঃ দ্রঃ এই লেখায় সমাজের একটি মাত্র শ্রেণীর অতি রাজনৈতিক সচেতনতা তুলে ধরা হয়েছে। ঠিক বিপরীত মেরুর এমন অনেক লোক রয়েছেন যারা হয়ত ভিন্ন কোন দলের পক্ষে তাদের রাজনৈতিক সচেতনাকে বন্দী করে রেখেছেন। তাদের কথাও হয়ত ভবিষ্যতে লেখা হবে। তাই আজকের লেখাটিকে পক্ষপাতদুষ্ট বা একপেশে হিসাবে না দেখার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।


মন্তব্য

হিমু এর ছবি

একটা অনুরোধ করি, বিবেচনা করে দেখবেন। "কাজী মামুন" নামে একজন ব্লগার ছিলেন (সম্ভবত এখনও আছেন, অন্যত্র লিখে চলতে পারেন, নিশ্চিত নই)। আপনার সাথে তাকে গুলিয়ে ফেলতে পারেন পাঠক। আপনি চাইলে আপনার নিকে ঈষৎ পরিবর্তন করে এই পার্থক্যটা স্পষ্ট করে তুলতে পারেন। ধন্যবাদ।

কাজি মামুন এর ছবি

হিমু ভাই,
কাজী মামুনের সাথে আমার ফেইসবুকে বন্ধুত্ব আছে এবং সচলের সন্ধান তার সূত্রেই পাওয়া। কাজী মামুন ব্যাপারটা জানেন এবং উৎসাহিতও করেছেন। তবু আপনার পরামর্শ প্রণিধানযোগ্য। আপনার শব্দভাণ্ডার অফুরন্ত ও ব্যাপক আনন্দদায়ক; তাই আপনি যদি নিকটা ঈষৎ পরিবর্তন করে দেন, তাহলে কৃতজ্ঞ থাকব।

আপনাকে এই গরীবের পোস্টে দেখে সত্যি বিস্মিত ও আনন্দিত। তবে একটা দুঃখ হল, আপনি লেখাটা সম্পর্কে একটা কথাও বলেননি; লেখাটা যদি প্রচণ্ড বাজেও হয়ে থাকে (আমি নিজেই লেখাটা পড়ে বিভিন্ন জায়গায় হোঁচট খেয়েছি, ভাষার গাঁথুনি দুর্বল মনে হয়েছে নিজের কাছেই), তাও তো বলতে পারতেন। আপনার মত একজন শক্তিশালী ও সিনিয়র ব্লগারের কাছ থেকে শেখারও তো অনেক কিছু আছে।

পুনশ্চ: হিমু ভাই, লেখাটি এডিটিং করার সুযোগ পাওয়া যাবে? অন্যান্য ব্লগে এই সুযোগ অবারিত।

হিমু এর ছবি

আপনি কী নিকে লিখবেন, সেটা তো আমি স্থির করে দিতে পারি না। আমি শুধু সমস্যাটা আপনার গোচরে আনলাম।

সচলে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় হলে তারপর সম্পাদনা করে পুনরায় মডারেশনের কাছে জমা দেয়া যায়। আপনি লিখে চলুন, অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করা হলে সম্পাদনা করে নিতে পারবেন।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

হ্রস্বই মামুন দেঁতো হাসি


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

চরম উদাস এর ছবি

আপনে বরং মামুন কাজি হয়ে যান। ফাস্ট নেম আর লাস্ট নেম অদল বদল করলে বিরাট একটা ভাব আসে। আমি ভাবতেছি বদলে উদাস চরম হয়ে যাবো দেঁতো হাসি
লেখা ভাল্লাগছে চলুক

কাজি মামুন এর ছবি

উদাস ভাই,
আপনার উদাস করা লেখা অনেক দিন পাই না; আপনে মনে হইতাছে ইদানিং, পোস্টের ব্যাপারে বড়ই উদাসিন। দ্রুতই লেখা ছাইড়া পাঠকগো মনের উদর পূর্তি করেন।
আমাগো গ্রামে দেলোয়ার কাজি, জামাল কাজি, বশির কাজি বহুত আছে এবং আপনার দেয়া নিকটা সেইদিক হইতে মন্দ না। তবু আপনার কাছে চ্রম ফাইন একটা নাম ডিমান্ড করতাছি; বেশী মনে হইলে 'ক্ষম অপরাধ'!
উৎসাহ দেয়ার জন্য ধন্যবাদ! ভাল থাকবেন!

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

রাজনৈতিক সচেতনতা আর মধ্যবিত্তের বিশাল অংশের আত্মপ্রবঞ্চনা এক বস্তু না। কেবল নিজেদের স্তরেই না, সমাজের বাদবাকি স্তরেও প্রপাগান্ডা ছড়ানোর দায়িত্ব দারুণ ভাবে পালন করে এই আত্মপ্রবঞ্চকেরা। প্রকৃত রাজনৈতিক সচেতনা থেকে এই সব লোকেরা বহু বহু দুরে আছে।

শক্তিশালী পোস্ট।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

কাজি মামুন এর ছবি

রাজনৈতিক সচেতনতা আর মধ্যবিত্তের বিশাল অংশের আত্মপ্রবঞ্চনা এক বস্তু না। কেবল নিজেদের স্তরেই না, সমাজের বাদবাকি স্তরেও প্রপাগান্ডা ছড়ানোর দায়িত্ব দারুণ ভাবে পালন করে এই আত্মপ্রবঞ্চকেরা। প্রকৃত রাজনৈতিক সচেতনা থেকে এই সব লোকেরা বহু বহু দুরে আছে।

প্রচন্ড ভাল লাগছে, অনিন্দ্যদা! ভাষার দৈন্য সত্বেও আপনি লেখার মূল বার্তাটি ঠিকই ধরে ফেলেছেন; এর সব কৃতিত্ব আপনারই। আত্মঘাতী অতি রাজনৈতিক সচেতন আমাদের দেশের একটি বড় অংশের মধ্যে হর হামেশাই কাজ করে; এমন লোক সব দলের পক্ষেই রয়েছে বিপুল সংখ্যায়, যা সমাজ পরিবর্তনে একটা বিশাল বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। দেখুন, কিবরিয়া হত্যার সাথে সাথেই আমরা রায় ঘোষণা করে ফেলি; তদন্ত তো দূরের কথা, এমনকি নেতাদের মতামতের অপেক্ষা করারও দরকার হয় না আমাদের। এটাকে অনেকেই Political Conscience বলে অভিহিত করতে পারেন; কিন্তু আমি এর নেতিবাচক দিকটি দেখাতে চেয়েছি; তা হল, আমাদের 'অতি রাজনৈতিক সচেতনতা' প্রায়শই আমাদের দুষ্ট নেতা-নেত্রীগণকে আমাদের অজান্তেই ''যা খুশী, তা কর, কিছুতেই সন্দেহ করিব না'' এমন একটা বড়সড় ব্ল্যাংক চেক দিয়ে দেয়!

আপনার উৎসাহ আমার পাথেয় হয়ে থাকবে।

অরফিয়াস এর ছবি

দেশে সঠিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই অবগত নয়, শুধু তাই নয়, শিক্ষিত মানুষেরা "আই হেইট পলিটিক্স" বলে দায়বদ্ধতা এড়াতে চান, আর কিছু মানুষ অন্ধের মতো কিছু ধারণা পোষণ করে রাখেন যা কোনকিছুতেই পরিবর্তন করতে রাজি নন, এদের জন্যই দেশে স্বাভাবিক রাজনৈতিক চর্চার পথ প্রায় বন্ধ, দেশের মানুষ যদি রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন না হয় তবে কে হবে?? আর যারা জেনেও অন্ধ হয়ে থাকতে চান, তাদের কিছুই বলার নেই, নিজেকে নিজেই এরা প্রতারিত করছে| রাজনীতি সম্পর্কে চিন্তাভাবনা বদলাতে হবে এবং সাধারণ মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে, দেশের রাজনীতির পতন এর দায়িত্ব সবার কাঁধেই আছে, আমরা জেনেও না জানার ভান করি|চায়ের কাপে রাজনীতি নিয়ে বাঙালি সবসময়ই ঝড় তোলে, কিন্তু সেটুকুই...

লেখা ভালো লাগলো, লিখতে থাকুন..

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

কাজি মামুন এর ছবি

আর কিছু মানুষ অন্ধের মতো কিছু ধারণা পোষণ করে রাখেন যা কোনকিছুতেই পরিবর্তন করতে রাজি নন,

এইটাই আসল কথা ভাইয়া! ''পলিটিকাল কনশেন্স অব মাস পিপল'' মাঝে মাঝে আত্মঘাতী হতে পারে; গণতন্ত্রে জনগণই সবচেয়ে বড় বিচারক; তাদের বিচার যদি দ্রুত বিচার আইনের চেয়েও দ্রুত হয় এবং পূর্বানুমান কাজ করে ষোল আনা, তাহলে সেই গণতান্ত্রিক সমাজের কপালে ভোগান্তি ছাড়া কিছুই জুটে না; নেতারা অবাধে দুঃশাসনের সর্গ রচনা করে যায়, আর এই জনগণকেই তার দাবদাহে পুড়তে হয় চিরকাল। এইটাই লেখাটিতে দেখাতে চেয়েছি, যদিও ভাষা ভয়ানক দুর্বল লেগেছে নিজের কাছেই।

আপনার উৎসাহ আমাকে বিপুল সাহস জোগাবে! ধন্যবাদ!

দিগন্ত এর ছবি

বহুকাল পূর্বে এ বিষয়ে আমি কিছু লিখেছিলাম। ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মোকাবিলা করার জন্য অনেক খাটতে হয় যা কোনো সাংবাদিকই খুব একটা পছন্দ করেন না। তাই, শেষমেষ দেখা যায় জনগণ যা শুনতে চায় তাই শোনানোর জন্য সংবাদমাধ্যম উদগ্রীব। বাংলাদেশে এদের হাত ধরেই পাকিস্তান-পন্থী আর ভারত-পন্থী সংবাদপত্রের জন্ম। ভারতে একই ভাবে জন্ম বাম ও দক্ষিণপন্থী সংবাদমাধ্যমের।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

কাজি মামুন এর ছবি

ভাইয়া,
আপনার লেখাটা পড়লাম। আপনার লেখার ''সবাই আগে থেকেই জানে, শুধু মিলিয়ে নিতে পারলেই হল'' এই কথাটাই আসলে আমি দেখাতে চেয়েছি। ছোট বেলা থেকেই দেখে আসছি, যেকোনো ঘটনা ঘটলেই মানুষ রায় দিয়ে ফেলতে বেশী দেরি করে না; এটাকে অনেকে Political Conscience of Common/Mass People বলে বাহবা দিয়ে থাকেন; কিন্তু আমি এর একটা ভয়াবহ নেতিবাচক দিকও দেখতে পাই; তা হল, আমাদের এই অগ্রিম রায় রাষ্ট্রনায়কদের একটা ব্ল্যাংক চেক দিয়ে দেয় যা খুশী করার। জনগণ সবচেয়ে বড় বিচারক যেকোনো গণতান্ত্রিক সমাজে; কিন্তু জনগণ যদি এমন অগ্রিম ও পূর্বানুমান-নির্ভর রায় ঘোষণা করে, তাহলে সেই গণতান্ত্রিক সমাজের বারোটা বাজতে কি খুব বেশী বিলম্ব হবে?
পুনশ্চ: আপনার মন্তব্য পেয়ে খুব ভাল লাগছে। আমাকে উৎসাহ যোগাবে আরও ভাল লেখার ব্যাপারে! ধন্যবাদ।

তাসনীম এর ছবি

লেখাট ভালো লেগেছে। লিখতে থাকুন। সচলে স্বাগতম।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

কাজি মামুন এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, ভাইয়া! আপনার এমন উৎসাহ ভাল লেখার ইচ্ছা ও শ্রম দুটোই বাড়িয়ে দেবে বলে মনে হয়! ভাল থাকবেন!

স্বপ্নহারা এর ছবি

ভাল লাগছে! হাততালি

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

কাজি মামুন এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
লেখাটি পড়ে মনে হল, ভাষাটা কয়েক জায়গায় এলোমেলো হয়ে গেছে। হিমু ভাই বললেন যে, একাউন্ট সক্রিয় না করা হলে সম্পাদনা করা যাবে না। কিন্তু আমি সচলায়তনেরই কোন এক জায়গায় পড়েছিলাম যে, অতিথিদের সম্পাদনা করার সুযোগ দেয়া হবে শীঘ্রই! সেই প্রজেক্ট কি এখনো আছে? জানালে বাধিত থাকব।

অন্যকেউ এর ছবি

রাজনৈতিক সচেতনতা আর অন্ধ আনুগত্য কখনোই এক সাথে যায় না। আর কিছু বিশেষ রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে আনুগত্য মাত্রেই অন্ধ, এটা বিবেচনা করে নেওয়াই যায়। কারণ, এই আনুগত্যের জন্য ব্যবহার করা হয় ধর্মকে, যেটা কিনা রাজনৈতিক আনুগত্যসম্পন্ন কিংবা বিহীন যেকোনও পরিবারেই প্রায়শ চর্চা করা হয়ে থাকে। এই রাজনীতির প্রচারকরা যখন রাজনীতি-অসংশ্লিষ্ট কোনও নির্দিষ্ট মানুষের কাছে পৌঁছায়, তখন তারা ধর্মের প্রতি তার এই আনুগত্যকেই ব্যবহার করে। শুধু কিছু নির্দিষ্ট চাবিতে মোচড় দিলেই পূর্বতন ধর্মীয় আনুগত্যের পথ কিছুটা ঘুরিয়ে তাকে রাজনৈতিক আনুগত্যের রূপ দিতে তাদের খুব একটা কষ্ট হয় বলে মনে হয় না। আগে থেকেই রাজনীতির ধর্মীয় মুখোশ বা ধর্মকে স্রেফ ব্যবহার করার উদ্দেশ্যটি সম্পর্কে সচেতনতা না থাকলে এই ফাঁদ এড়ানো অনেকের পক্ষেই কষ্টকর।

আপনার লেখা এই সচেতনতা বাড়িয়ে তুলতে অবদান রাখবে আশা করি। লিখতে থাকুন।

_____________________________________________________________________

বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখো দ্বিতীয় বিদ্যায়।

কাজি মামুন এর ছবি

শুধু কিছু নির্দিষ্ট চাবিতে মোচড় দিলেই পূর্বতন ধর্মীয় আনুগত্যের পথ কিছুটা ঘুরিয়ে তাকে রাজনৈতিক আনুগত্যের রূপ দিতে তাদের খুব একটা কষ্ট হয় বলে মনে হয় না।

ভাইয়া, আপনার এই কথা তো খুবই সত্যি এবং চিন্তা-জাগানিয়া! কিন্তু আমি তো মনে হয় এই দিকটা এই লেখায় আনিনি; বরং গণতান্ত্রিক সমাজের সবচেয়ে বড় নিয়ামক যে জনগণ, তারা যদি ক্রমাগত পূর্বানুমান নির্ভর, ত্বরিত আর ভুল বিচারে মগ্ন থাকে, তাহলে সেই গণতান্ত্রিক সমাজের স্কন্ধে কি ভয়াবহ দুঃশাসনের বোঝা চাপিয়ে দেন নেতারা, তাই দেখাতে চেয়েছি আজকের লেখায়।
আপনার মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। বরাবর উৎসাহ দিয়ে আমাকে গভীর কৃতজ্ঞতা-পাশে আবদ্ধ করছেন।

অন্যকেউ এর ছবি

পূর্বানুমানে আটকে পড়াটা এখানে খুব বড়ো একটা ভূমিকা রাখে। ঘটনাপ্রবাহের সাথে মিথষ্ক্রিয়া না করাটা যেমন এর একটা দিক, তেমনি আরেকটা দিক কিছু অন্ধবিশ্বাসগত অবস্থান। এই দিকটাও এই আলোচনায় কিছুটা স্থান দাবি করে বলে উপরের কথাগুলো বললাম। তবে অবশ্যই, আপনি যে মূল থিমে লিখেছেন, সেটাই প্রধান প্রভাবক- রাজনীতি সচেতনতার নাম করে আদপে অন্ধ হয়ে থাকা।

আপনার লেখা নিয়মিত পাবো আশা রাখছি।

_____________________________________________________________________

বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখো দ্বিতীয় বিদ্যায়।

স্বপ্নহারা এর ছবি

"ক্ষমা চাইলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়।‘’

ঠিক না! ক্ষমা চাইলে কিছু আধা-হারামীর (যারা পাকিস্তানপ্রেম জায়েজ করতে চান) ল্যাঠা চুকে...আমাদের না। ২৩ বছরের অপশাসন, অত্যাচার, বৈষম্য-লুঠতরাজ...আর ৭১ এর শোধ, নামমাত্র ক্ষমা চাওয়ায় হবে না...

কামাল ভাই আবারো বিরক্ত হন, ‘’পাকিস্তানরে আমরা অস্থির কইরা ফালাইতেছি তিরিশ বছর আগের একটা ঘটনার জন্য

চল্লিশ বছর...

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

কাজি মামুন এর ছবি

ঠিক না!

একদম ঠিক! মানে আপনার কথাই ঠিক। হাসি

চল্লিশ বছর...

এমন আরো ভুলের জন্যই তো এডিটিং করার সুযোগ খুঁজছিলাম। যাই হোক, অশেষ ধন্যবাদ ভুলটা ধরিয়ে দেয়ার জন্য।

মরুদ্যান এর ছবি

চলুক

কাজি মামুন এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ! ভাল থাকবেন!

তাপস শর্মা এর ছবি

লেখাটা মিস হয়ে গেছিল। যাই হোক পাতা উল্টাইতে গিয়া আবার ধইরা ফালাইলাম।

চমৎকার একটা লেখা। এই আত্মকথন সবার করা উচিৎ। চলুক

কাজি মামুন এর ছবি

তাপসদা,
প্রথম থেকেই আপনার উৎসাহ পেয়ে আসছি। ছাইপাঁশ লেখাকেও আপনি যেভাবে পাস মার্ক দিয়ে দেন, তা নতুনদের জন্য ভীষন আশীর্বাদ বয়ে আনে! তাই আপনার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার সীমা নাই। ভাল থাকবেন।

উচ্ছলা এর ছবি
কাজি মামুন এর ছবি

উৎসাহের জন্য ধন্যবাদ, আপু! ভাল থাকবেন।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।