বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্থায়ী উন্নতির জন্য করণীয়

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: মঙ্গল, ০১/০৪/২০১৪ - ৬:২৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

খেলোয়াড়দের জন্যঃ

১। সরকারি চাকুরীজীবিদের মতো দলের প্রত্যেক সদস্যের স্থান স্থায়ী করতে হবে। কোন অবস্থায় দল থেকে বাদ দেয়া যাবে না। প্রয়োজনে পেনশানের ব্যবস্থাও করতে হবে।
২। সবসময় দেশের বাইরে খেলতে দিতে হবে। কোন অবস্থায় দেশে খেলা হতে পারবে না।
৩। বর্তমান খেলোয়াড়দের জন্য পৃথক ফলের বাগান বানতে হবে যেখানে কমলা,আপেল ও মাল্টা’র মত ফলের চাষ করা হবে। যাতে খেলোয়াড়রা বাগানের ফল থেকে বাগানেই জ্যুস বানিয়ে খেতে পারেন। তাহলে কোন অসাধু ব্যবসায়ী তাতে ফরমালিন মেশাতে পারবে না।
৪। কম দামে বিশ্বমানের খাবার বিক্রি হয় এমন খাবার হোটেল স্থাপন করতে হবে, যেখানে খেলোয়াড়রা তাঁদের ৫-৬ জন বন্ধু নিয়ে খেলে ২০-২৫ হাজার টাকার পরিবর্তে ১-২ হাজার টাকা বিল হবে।
৫। সম্ভাব্য সকল খেলোয়াড়কে জন্মের ৬ মাস পর থেকে নরম সবজি খিচুড়ির পরিবর্তে শক্ত খাবার যেমন খোরমা, শক্ত রুটি ইত্যাদি দিতে হবে। প্রয়োজনে টিফিন বিস্কুট, ডানো, গ্লাইকন ডি দেয়ে যেতে পারে।
৬। আই সি সি কর্তৃক বিশ্বে কোচদের নিয়ে প্রতিযোগিতা মূলক অনুষ্ঠান করে বিজয়ী কোচকে দলে নিয়োগ দিতে হবে।
৭। খেলোয়াড়দের জন্য নতুন উচ্চ পে-স্কেল প্রণয়নের মাধ্যমে বেতন বাড়াতে হবে।
৮। যেহেতু দেশের ঘরোয়া লীগের খেলার মান খারাপ তাই বিদেশী লীগে খেলার মাধ্যমে খেলার মান বাড়াতে হবে।
৯। যেহেতু সকলে বিশ্বকাপ ভিন্ন অন্য সকল ম্যাচ বা টুর্নামেন্টের কথা মনে রাখেনা তাই বিশ্বকাপ ঘিরেই সকল মনোযোগ দেয়া উচিত।
১০। খেলোয়াড়রা যতই বিখ্যাত হোক তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা বন্ধ করে রুল জারি করা যেতে পারে। কখন কোথায় ক্যামেরা লাগানো হবে তা আগেই জানাতে হবে।

সমর্থক তথা দেশবাসীর জন্যঃ

১। দেশবাসীকে সকল প্রকার প্রত্যাশা করা বন্ধ করতে হবে, যেন খেলোয়াড়দের উপর কোন চাপ না পড়ে। প্রয়োজনে “প্রত্যাশার মাত্রা” শীর্ষক কর্মশালার মাধ্যমে সমর্থকদের প্রত্যাশার মাত্রা নির্ধারনের সহায়তা প্রদান করতে হবে।
২। দেশপ্রেমিক প্রতিযোগিতা’র মাধ্যমে দেশের ৯০ ভাগ আত্মস্বীকৃত দেশপ্রেমিকের মধ্য থেকে প্রকৃত দেশপ্রেমিক বাছাইয়ের মাধ্যমে, দেশে প্রকৃত দেশপ্রেমিকের হার ১০ ভাগ থেকে উন্নত করতে হবে।
৩। কখনো সমালোচনার নামে নেতিবাচক কথা বলা যাবেনা।
৪। প্রতিবার দল পরাজিত হলে দলকে ব্যপক সংবর্ধনা দিতে হবে। মনে রাখতে হবে রবার্ট ব্রুস একবারে দেশ জয় করেননি।
৫। বোর্ড, কোচ, খেলোয়াড়দের মত সমর্থকদের নিজেদের জায়গায় কিছু করতে হবে। যেমন, সুস্থ খেলোয়াড় তৈরীর লক্ষ্যে ফরমালিনমুক্ত খাবারের আন্দোলন করতে হবে।

পুনশ্চ: এই তালিকা সাকিব আল হাসানের প্রদত্ত পরামর্শের ওপর ভিত্তি করে রচিত। ভুলক্রমে কোন পয়েন্ট বাদ পড়ে থাকলে দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে তা যোগ করার জন্য পাঠকগণের প্রতি সবিনয় অনুরোধ রইল।

অভিমন্যু
________________________
সেই চক্রবুহ্যে আজও বন্দী হয়ে আছি


মন্তব্য

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

অতিথি লেখক এর ছবি

অ্যাঁ
অভিমন্যু .
________________________
সেই চক্রবুহ্যে আজও বন্দী হয়ে আছি

অতিথি লেখক এর ছবি

চিন্তিত
অভিমন্যু .
________________________
সেই চক্রবুহ্যে আজও বন্দী হয়ে আছি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

মিয়া সাবের তিন পোলা। যেইটা ভালো সেইটাও গাছে উইঠা মুতে!

মাইক হাতে পাইলে কেউ নিজেরে 'ইশমাট এবং গুঁঁজা' দাবী করে, কেউ খাদ্য, পুষ্টি ও ভিটামিন বিশেষজ্ঞ হয়ে পড়ে। আবার কোনো খানকির পোলা তার বাপেরে র‌্যাম্বো দাবী করে দামী হোটেলে চিক্কুর পারে।

তো, প্রথম দুইজনের ক্যাটাগরিকে, তৃতীয়জনের ক্যাটাগরিতে রূপান্তরিত হওয়া থেকে বাঁচাইতে মধুর এবং কড়া- উভয় সমালোচনারই দরকার আছে। সুতরাং চলুক।

অতিথি লেখক এর ছবি

চিন্তিত
অভিমন্যু .
________________________
সেই চক্রবুহ্যে আজও বন্দী হয়ে আছি

হাসিব এর ছবি

প্রধানমন্ত্রীর সমমানের নিরাপত্তা প্রটোকল বাদ পড়ছে।

অতিথি লেখক এর ছবি

আসলে সাকিবের এমন আবদার ছিলোনা তাই দেয়া হয়নি।
অভিমন্যু .
________________________
সেই চক্রবুহ্যে আজও বন্দী হয়ে আছি

ঝিঝি পোঁকা এর ছবি

বেপক গবেষণা ৷বিফলে গিন্নি ফেরত ৷ গড়াগড়ি দিয়া হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

ইয়ে, মানে...
অভিমন্যু .
________________________
সেই চক্রবুহ্যে আজও বন্দী হয়ে আছি

অতিথি লেখক এর ছবি

ইয়ে, মানে...
অভিমন্যু .
________________________
সেই চক্রবুহ্যে আজও বন্দী হয়ে আছি

মেঘলা মানুষ এর ছবি

তবে, যাঁরা খেলেন না (কোচ, ম্যানেজার, নির্বাচক কমিটি, ইত্যাদি) কিন্তু খেলার সাথে জড়িত তাদেরকেও লাইনে আনা প্রয়োজন।

সংযুক্তি:
সাকিবের সাক্ষাৎকারটা পড়ে আসলাম। আমরা যতই রাগ করি না কেন কিছু কিছু বিষয় আমদের ভাবা উচিত।
দেশের মানুষের সামনে পারফর্ম করা একটা বাড়তি চাপ থাকে, আর বাংলাদেশ দলের মধ্যে সাকিবের ওপরই সবার প্রত্যাশা বেশি। ধরুন, কোন অনুষ্ঠানে যদি আমি গান গাইতে যাই, আর সেখানে যদি আমার পরিচিতজন খুব বেশি থাকে, তাহলে অন্যরকম একটা চাপ আসে।

ক্রমাগত এই চাপের মুখে খেলতে খেলতে একজন মানুষের অস্বস্তি হওয়া স্বাভাবিক। দলের অন্যরাও যদি সাকিব, মুশির মত (কিছুটা) ধারাবাহিকতা রাখত তাহলে এমটা হত না। (প্রায় প্রতিদিনই) ২৫ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর খেলতে নামতে ভালো লাগার কথা না। সাকিবের কিছু কথা হয়ত গুছিয়ে বলা হয়নি, তবে ওঁ যেই চাপের মুখে খেলে সেটা অনস্বীকার্য।

তবে, মুশি' কে ব্যাটসম্যান (এবং উইকের রক্ষক) হিসেবে খেলানো উচিত বলে মনে করি।

শুভেচ্ছা হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

একমত।

-পিয়াল

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখার টোনটা ভালো লাগে নাই। মাঠের বাইরে ব্যাক্তি সাকিবের আচরণ অন্য দশজন মানুষের মতোই মনে হয়, সাকিববের মূল কাজ দেশের জন্য পারফর্ম করা, সেখানে তার গাফিলতি সামান্যই।

হিমু এর ছবি

সাকিবের খেলার নিন্দা তো কেউ করছেও না। নিঃসন্দেহ সাকিব এখনো দেশের সেরা খেলোয়াড়। কিন্তু দেশের সেরা খেলোয়াড় যখন বলে, "আমরা কি ওয়েস্ট ই্ন্ডিজের চেয়ে বেটার, পাকিস্তানের চেয়ে বেটার?" তখন মনে হয়, এরা খেলা শুরুর আগেই মনে মনে হেরে বসে আছে। এই হারার আগে হেরে বসে থাকা মনোভাব নিন্দনীয়। হাস্যকর অজুহাতগুলোর কথা বাদ দিলাম, ওগুলো দুইদিনের মশকরার জিনিস।

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

হ্যাঁ, অবশ্যই কেউ জবাবদিহিতার বাইরে নয়।

সে যে সব কথা খারাপ বলেছে তা না তবে বলার ভঙ্গি শোভন নয় বরং বেশ দাম্ভিক।

সাকিব নিঃসন্দেহে বর্তমান দলের সবচেয়ে ভালো খেলোয়াড় তাহলে চাপ তাঁর উপরই সবচেয়ে বেশি সেক্ষেত্রে বাকিরা কি তাঁর চাইতেও বেশি চাপ অনুভব করেন ? যেমন- ডানো তামিম, দুর্বল নাসির, অটোগ্রাফ মাহমুদুল্লাহ, বৃদ্ধ রাজ্জাক। আমি এখন যদি কোন ম্যাচ খেলতে যাই আমার হাত পা কাঁপবে সেটাই স্বাভাবিক কিন্তু তাঁরা শতকখানেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পরও কিভাবে চাপ অনুভব করেন, তবে বুঝতে হবে তাঁর চাপ নেবার ক্ষমতাই নেই। আর অল্প রানে ওপেনাররা আউট হবার পর যদি মোটামুটি আধিকাংশ ম্যাচে সাকিব বা বিশেষ করে মুশি ভালো বা মোটামুটি খেলে তবে কি তাঁরা আদৌ কি চাপ দ্বারা তেমন আক্রান্ত? অযোগ্যদের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে নিজেকে নতুন বিতর্কে ফেলতে তাঁকে কে বলেছে? বাংলাদেশের সমর্থকরা আমাদের প্বার্শবর্তী দেশের তুলনায় অনেক বুঝদার। ভারতে তো ক্রিকেট সবকিছুর চেয়ে জনপ্রিয় ও স্পর্শকাতর তাহলে তাঁদের খেলোয়াড়রা তো চাপে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে যাবার কথা।
আসলে সাকিবের একটা কথা ঠিক সেটা হচ্ছে সবাইকে তাঁর অবস্থান থেকে তাঁর দায়িত্ব পালন করতে হবে আর আমি মনে করি সমর্থকরা সেটা ঠিকই করে , অন্যদের তুলনায়।

অভিমন্যু .
________________________
সেই চক্রবুহ্যে আজও বন্দী হয়ে আছি

মেঘলা মানুষ এর ছবি

বাকিরা কি তাঁর চাইতেও বেশি চাপ অনুভব করেন ?

হতেও পারে। একই চ্যালেঞ্জের মুখে, পুরো দলের একেকজন একেকরকম ভাববে।
যেমন, বাংলাদেশের সামনে ৩২০ রানের (৫০ওভারে) লক্ষ্য দিলে, দলের কেউ কেউ ভাববে,
"শেষ! আজকে আর জিততে হবে না। ওঁয়া ওঁয়া "

আবার, আরেকজন হয়ত ভাববে,
"চেষ্টা করেই দেখি চিন্তিত , চেষ্টা না করলে এম্নিতেই হারব"

হাস্যকর শোনালেও বলি, আমাদের দলকে মনে হয় (আবার?) মানসিক কাউন্সলিং দেয়ার সময় এসেছে।

জিততে, জিততে হেরে যাওয়ার সমস্যা থাকে কিছু দলের। অনেক সময়ই জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়ে হেরে আসার কারণ হয়ে দাঁড়ায় 'জিতে যাবার ভয়'। একসময় সাউথ আফ্রিকা নিয়মিত চাপের মুখে ভেঙে পড়ত। 'চোকার' তকমাটাও লেপ্টে গিয়েছিল তাদের শরীরে।

সত্যি বলতে, বাংলাদেশের অনেক ( নাকি বেশিরভাগ?) লোকেরই আত্মবিশ্বাস জিনিসটা ছোটবেলা থেকে তৈরি করে দেয়া হয় না। একই দক্ষতার অধিকারী একজন ভারতীয়, একজন বাংলাদেশির চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী আচরণ প্রদর্শন করে বলেই আমার মনে হয়েছে।
[এটা ভারতীয়দের প্রতি বিষেদাগার নয়, বরং ওঁদের এই গুণটার কথাই বলছি।আর, এটা কোন গবেষণালব্ধ ফল না, স্রেফ নিজের পর্যবেক্ষণটাই শেয়ার করলাম]

শুভেচ্ছা অভিমন্যু -কে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

একমত।
অভিমন্যু .
________________________
সেই চক্রবুহ্যে আজও বন্দী হয়ে আছি

অতিথি লেখক এর ছবি

বুঝলাম না আপনার উত্তরটা কিভাবে আলাদা হয়ে গেলো!!! নিচ থেকে দয়া করে পড়ে নিবেন।

অভিমন্যু .
________________________
সেই চক্রবুহ্যে আজও বন্দী হয়ে আছি

আয়নামতি এর ছবি

এবার হয়নি, পরের বার হবে। হাসি

স্যাম এর ছবি

হিক!

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখার টোনটা ভালো লাগে নাই। মাঠের বাইরে ব্যাক্তি সাকিবের আচরণ অন্য দশজন মানুষের মতোই মনে হয়, সাকিববের মূল কাজ দেশের জন্য পারফর্ম করা, সেখানে তার গাফিলতি সামান্যই।

-পিয়াল

অতিথি লেখক এর ছবি

পিয়াল ভাই, সাকিব গতকাল ১ম আলুতে যা বলেছে তাঁর প্রেক্ষিতেই লিখা, আপনি যখন দেশের আইডল তখন আপনাকে সেটা বুঝেই চলতে হবে। কিছুদিন আগে একটা ঘটনা ঘটানোর পর এহেন শিশুসুলভ কথা বলার পরও কি তাঁকে কিছু বলা যাবেনা। সাকিব নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো খেলোয়াড় তাই বলে দেশের সমর্থকদের আবেগ কে তুচ্ছ করা বা ৯০ ভাগ লোক দেশপ্রেমিক নয় , এমন দাম্ভিক আচরন কি আদৌ গ্রহনযোগ্য?

অভিমন্যু .
________________________
সেই চক্রবুহ্যে আজও বন্দী হয়ে আছি

মেঘলা মানুষ এর ছবি

আরেকটা জিনিসও প্রাসঙ্গিক ভাবে মাথায় আসলো:
ক্রিকেট খেলেয়ারদের নাহয় ভবিষ্যতের কথা এখন তেমন একটা ভাবতে হয় না, এখন বোর্ড ভালো বেতন দেয় কিন্তু অন্য খেলায় যাঁরা নিজেদের সময় দিচ্ছেন তাঁদের প্রাপ্তি কি?

ধরুন, শুটার আসিফের নাম জানতাম আমি, পত্রিকায় পড়েছিলাম একবার পুলিশের মারও নাকি খেয়েছিল। পরে, তার কাছ থেকে আমরা কোন পারফর্মেন্স পাইনি ঠিক, কিন্তু যে সময়টা এই শুটার নিজের জীবন থেকে দিয়েছিল তার বদলে সে কি পাচ্ছে? আমি জানি না আসিফ কোথায় এখন। এমন করেই আমাদের সাঁতারু, দৌড়বিদদের বাকি জীবনের খোঁজ কি রেখেছি আমরা? জীবনটা গড়ে নেবার সময়ে, যৌবনে তাঁরা দেশের পতাকা নিয়ে ছুটেছেন, পড়ন্ত বেলায় তাদের জীবিকার উৎস কি? যাঁরা সশস্ত্র বাহিনী থেকে আসেন, তাঁরা খানিকটা সুবিধা পান ওই সময়টুকুতে শুনেছি, তারপর?

আমার মনে হয়, জাতীয় পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন, এমন খেলোয়ারদের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা করলে খারাপ হয় না।

ক্রিকেটারদের জন্য মনে হয় প্রয়োজন নেই, তাঁরা ভবিষ্যতের জন্য গুছিয়ে নিতে পারবেন।

শুভেচ্ছা সবাইকে হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

সম্পুর্ন একমত,আমার মনের কথাটাই আপনি বলে দিলেন সম্ভবত এটা আরও অনেকেরই মনের কথা।
অভিমন্যু .
________________________
সেই চক্রবুহ্যে আজও বন্দী হয়ে আছি

অতিথি লেখক এর ছবি

মাসুদ সজীব ভাই, হ্যাঁ আমি সাকিবের সাক্ষাৎকারের অসংগতিপূর্ন অংশকেই প্রাধান্য দিয়েছি, কারন মানুষ যাকে বেশি ভালোবাসে তাঁর ভুল সে দেখতে চায় না আর তাঁর কাছ থেকে এহেন রূঢ় আচরণও মানতে পারেনা।
আমরা যারা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সমর্থন করি, বলতে পারেন কিসের আশায় করি? আমাদের সমর্থন সম্পূর্ন নিস্বার্থ, যদি কিছু থেকে থাকে তা শুধুই দেশের জন্য।
এশিয়া কাপে আমরা চারটি খেলায়ই হেরেছি অথচ আমরা আগের বারের রানার্স আপ ছিলাম। এখন এখানে কি একটা খেলা বিশেষ করে আফগানিস্তানের সাথে জয়ও কি আশা করা ভুল ছিল? আপনার মনে আছে কি না জানি না, পাকিস্তানের সাথে খেলায় ৩০০ এর অধিক রান করেও হেরে গিয়েছিলাম সেদিন গ্যালারীতে দর্শক(অবাল-বৃদ্ধ-বনিতা) তাঁদের জন্য দোয়া চাইছিল,হতাশায় মুষড়ে ছিল,বুক ফাটা কষ্টে কাঁদছিল সাথে সাথে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে তাঁদের উদ্দেশ্যে সহমর্মিতা ও সমর্থন ব্যক্ত করেছিল।এখনও মনে আছে কয়েকটা মেয়ে অশ্রু সজল চোখে হাতে একটা প্ল্যাকার্ড ধরেছিল যাতে লিখা, "Tigers, we r still with u" । তারপরও সাকিব যদি এসব কথা বলে আর তাঁর উত্তরে আমরা কিছু বললে তাঁকে আপনি অতিশোয়ক্ত বা রুঢ় বলবেন?!! আমরা কি তাঁদের ক্রীতদাস যে যা করবেন বা বলবেন তাই হাসিমুখে মানতে হবে? আমরা হয়ত তাই করি তাইতো সাকিব এমন রুঢ় ও দাম্ভিক আচরন করতে পারে। আপনি মুশফিকুর রহিমের সাক্ষাতকারটা দয়া করে পরবেন (বিডি নিঊজ ২৪ এ আছে) দেখবেন কতটা অমায়িক ও আত্ন সমালোচনা মূলক।

লিখা পড়ে মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।

অভিমন্যু .
________________________
সেই চক্রবুহ্যে আজও বন্দী হয়ে আছি

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনি সাকিবের সাক্ষাৎকারের কিছু অসঙ্গতিপূর্ণ কথাকে হাইলাটস করেছেন বেশি। কিন্তু মূল অনেক কিছুকে এড়িয়ে গেছেন। বাংলাদেশে ক্রিকেট দলের এই ক্রমাগত ব্যর্থতার মূল কারন কিন্তু সাকিব স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন। খেলোয়াড়দের সাথে বোর্ডের দূরত্ব, নির্বাচকদের সাথে ভুল বুঝাবুঝি, কোচিং স্টাফদের মান নিয়ে সংশয় সবি ওঠে এসেছে। আপনি যে পয়েন্ট আকারে প্রস্তাব দিয়েছেন সেগুলোর অনেকগুলো অতিশোয়ক্ত হয়েছে।

সাকিবের সাক্ষাৎকার টির বেশ কিছু অংশ নিয়ে আমার নিজের ও আপত্তি আছে, বিশেষ করে চাপ আর প্রতাশা বিষয়ক তার মন্তব্য নিয়ে কিন্তু আপনি যেভাবে মূল বিষয়ের বােইরে গিয়ে নানার আলোচনায় মেতেছেন সেটিও সাকিবের মতো কিছুটা অসেচতন আর একটু বেশি রুক্ষ মনে হলো।

মাসুদ সজীব

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

বাংলাদেশে ক্রিকেট দলের এই ক্রমাগত ব্যর্থতার মূল কারন কিন্তু সাকিব স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন।

একদিক দিয়া কথা ঠিক। সামর্থ্যের-হিসেবে-আমাদের-বেস্ট-প্লেয়ার যে কথাগুলো বলেছেন, তাতেই বুঝা যায় সমস্যা অপেশাদারিত্বে। খেলোয়াড়রা দলের জন্য খেলে না, জয়ের জন্য খেলে না, ভীতি নিয়া খেলে, কনফিউশন নিয়া খেলে, টপ লেভেলে খেলার জন্য সাকিবও উপযুক্ত না।

বোর্ডের উচিত মিডিয়া ও আবাল দর্শকদের প্রেসারকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বার্থে একটা পেশাদার দল গড়ে তোলা। সেই দলে সবাই নিজেকে পাছাভারী খেলোয়াড় মনে না করে দলের জন্য খেলবে। নাম নয়, ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, দলের জয়ের জন্য যারা একটা ইউনিট হিসেবে পারফর্ম করতে পারবে, শুধু তাদেরকে রেখে বাকি আবর্জনা ছাটাই করতে হবে। বাংলাদেশ মহিলা দল এরকম ফাইটিং স্পিরিটের সাথে খেলতে পারলে পুরুষ দলও পারবে। এ ব্যাপারে বিসিবির আন্তরিকতা ও দৃঢ়তা প্রয়োজন।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

একদম দশে দশ।

সাকিব-তামিম-মুশফিকরা যদি বুঝতো, তাদের এই চিন্তাভাবনা কতোটা অপেশাদার, তাইলে বাংলাদেশ ক্রিকেট যে কোনো দলের সাথেই ধারবাহিকভাবে জিততো।

সমস্যা হলো, এদের চারিপাশে কিছু ধুরন্ধর মিডিয়া ও ভুদাই সমর্থকগোষ্ঠীও আছে, যাদের চিন্তাভাবনাও ওইরকম অপেশাদার। এরা মনে করে, সাকিব যেহেতু আমাদের বেস্ট পেলেয়ার, সেহেতু সে উইকেট থ্রো করলেও ভালো করেছে। কারণ, সে সবাত্তে বেশি বুজে। এদের সমর্থনের কারণে সাকিব-তামিম-মুশফিকরা মাথা খাটানোর চিন্তাও করে না।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

অতিথি লেখক এর ছবি

বাংলাদেশের ক্রিকেটার রা কতটা অপেশাদার তার ভুরি ভুরি প্রমাণ রয়েছে। জিম্বাবুয়ের মাটিতে সিরিজ হেরে যে আবেগের তাড়নায় মুশফিক অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেয়। অথচ সেই মুশফিক শ্রীলংকা সিরজি, এশিয়া কাপের লজ্জাজনক পারফ্যাম্যান্স ছাড়াও আফগান-হংকং এর সাথে পরাজয়ের পর অধিনায়ক থেকে পদত্যাগ করেনি? মাশরাফি কে যখন শ্রীলংকার সাথে অধিনায়ক করা হলো তখন কেন তামিম কে মাশরাফির অধিনায়কের বরাদ্দ রুম ছেড়ে দেওয়া হয়? তার মানে কি? তামিম কে খুশি রাখতে হবে? এমন সীমাহীন ব্যর্থতার পর কি কোন ক্রিকেটার সংবাদ সম্মেলনে এসে ক্ষমা চায়? চায় না কখনো বরং গর্ব করে বলে এটাই আমাদের ন্যাচারাল খেলা, আমরা আক্রমনাত্নক ক্রিকেট খেলি। ওদের এমন কথা শুনলে মনে হয় পৃথিবীতে আর কোন দলের ক্রিকেটার রা আক্রমনাত্নক ক্রিকেট বুঝি খেলে না। এত আক্রমনাত্নক ব্যাটসম্যানের দলে এমন একজন ক্রিকেটার খুঁজে পাওয়া যাবে না যে ২০ বলে ৪০ রান করতে পারে! শুধু ক্রিকেটার রা নয় ক্রিকেটের কর্তা ব্যাক্তিরাও কম অপেশাদার নয়, তামিম কে দলে না নেওয়ায় তৎকালীন প্রধান নির্বাচক আকরাম খান পদত্যাগ করে বসলেন চোখ টিপি

কোন সন্দেহ নেই সাকিব বাংলাদেশের সেরা ক্রিকেটার কিন্তু তার মতো অ-দায়িত্বপূর্ণ ব্যাটিং বাংলাদেশে বোধহয় আর কেউ করে না। আরেক মহা তারকা তামিম সাহেব দিনের পর দিন একই ভাবে বাজে শর্ট খেলে আউট হলেও মুখস্থ করা বুলি উড়ায় সংবাদ সম্মেলনে এসে বলে আমি এভাবেই খেলি। নব্য মহাতারকা নাসির সাহেব বলেন আমাদের ন্যাচারাল খেলা আক্রমনাত্নক। মাহমুদুল্লাহ কি হিসাবে দলে খেলে সেটা নির্বাচক আর বিজ্ঞ মুশফিক বলতে পারবেন। বাংলাদেশ দলে খেলার কোন যোগ্যতা নেই মাহমুদুল্লাহর। দল পরিচালনায় যেমন সাহসী নয় মুশফিক তেমনি কোচ-নির্বাচক কেউই সাহসী নয়। ক্রিকেটের সবগুলো ফরম্যাটে বাংলাদেশ একি ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে খেলে। টার্গেট ১০০ হলেও যে ব্যাটিং লাইন আপ, ২০০ রানের টার্গেট হলেও সেই একি ব্যাটিং অর্ডার! টি-টুয়েন্টি হলো নতুনদের খেলা, একঝাক নতুন মুখ সেখানে প্রতিধনিত্ব করে অথচ বুড়ো রাজ্জাককে আর অলসতায় বুড়ো তামিমকে নিয়ে খেলতে নামে বাংলাদেশ। তািই পরিবর্তন সবখানে দরকার, যারা দলে জায়ঘা নিয়ে চিন্তিত থাকে, যারা দেশের মাটিতে খেলাকে প্রেসার মনে করে তাদেরকে দল থেকে ছুঁড়ে ফেলা উচিত। নির্বচক কমিটিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

মাসুদ সজীব

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

আমি মাঝে মাঝে আমাদের পুলিশ ভাইদের আচরণ লক্ষ করি। ডিউটিরত অবস্থায় আমদের পুলিশ ভাইয়েরা কতটুকু সিরিয়াস, তা এ দেশের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ কোন স্থানে তাদের দেখলেই বোঝা যায়। দিনকয়েক আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশ দিয়ে আসার সময় যে দৃশ্য দেখলাম, তা যেমন চমকপ্রদ, তেমনি আতঙ্কজনক। এই স্থাপনার রাস্তা সংলগ্ন যে দেয়াল, তার সামনে কিছু দূর পর পর একজন পুলিশ নিযুক্ত। তাঁরা ঠিক কি কাজে নিযুক্ত তা গবেষণার বিষয়। প্রথমজনকে দেখলাম বিভোর হয়ে মোবাইল ফোনে কারো সাথে কথা বলছেন, দ্বিতীয়জন দেয়ালের উপর এক পা দিয়ে গভীর মনোযোগ সহকারে ঘাসের বিন্যাস লক্ষ্য করছেন, তৃতীয়জন নিরুদ্দিষ্টভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে আকাশেরই মত নিরব আছেন, অন্য জায়গায় দুজন মিলে কোন রঙ্গ রসিকতায় হাসাহাসি করছেন, মহিলা পুলিশও আছেন, তাঁরা দল বেঁধে জটলা করছেন এবং সম্ভবতঃ ব্যক্তিগত সুখ দুঃখের অভিজ্ঞতা বিনিময় করছেন। কারো মধ্যেই সতর্কতার লেশমাত্র নাই, দৈবাৎ কোন কিছু ঘটে গেলে এলাহি ভরসা ছাড়া আর কোন উপায় নাই।
আমাদের ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় ভাইদের সাম্প্রতিক আচরণও বেশ কৌতূহলউদ্দীপক, মাঠে যখন নামছেন তখনই চেহারায় বেদনাবিধুর অপরাধী অপরাধী ভাব, অথবা ক্লান্ত, শ্রান্ত, বিধ্বস্ত এক অবয়ব। সেই ভাবই বলে দেয় খেলায় আজ কি হতে চলেছে, হয়ও তাই। সেই মাইরা ফালামু কাইট্যা ফালামু মূলক চনমনে ভাবটা অনেকদিন থেকেই অনুপস্থিত, সেটা ফিরিয়ে আনাই এখন প্রধান কাজ।

অতিথি লেখক এর ছবি

আর সেই খেলার শুরুতেই উদ্দীপনাহীন খেলোয়াড়দের এধরনের শরীরী ভাষা সমর্থকদের মাঝে যে অসহায়ত্ব আর হতাশার সৃষ্টি করে, তা হয়তো কোনো বড় ধরনের পরাজয়েও অনুভূত হয় না, যদি দেখি তারা জান দিয়ে খেলছেন।

আমাদের ক্রিকেটাররা হয়তো ভুলে যান, তারা এদেশের সেই বিরল গুটিকতক মানুষদের মধ্যে কয়েকজন, শত ব্যর্থতার পরো সাধারন জনতা তাদের ওপ্র ভরসা রাখেন, তাদের সাফল্যে এদেশে অতি দুর্লভ, আনন্দের কিছু মুহুর্ত খুজে নেয়ার চেষ্টা করেন।

- লাবীব

অতিথি লেখক এর ছবি

যে দেশে স্কুল পড়ুয়া সব ছেলের বই খাতার সাথে সাথে একটা করে ব্যাট বা বল থাকে সে দেশে পাইপ লাইনে খেলোয়াড় নাই !! আজব কথা।
যা হোক নিজের ছোট মাথায় একটা চিন্তা বহুদিনই ঘুরপাক খাচ্ছিল তাই বলি, বাংলাদেশে ৬৪টা জেলার মধ্যে ছোট বা অনগ্রসর কিছু জেলা একত্র করে মোট ৪০টা জেলার একটা করে দল হয় আর যদি প্রতিদলে ১৫ জন খেলে তাহলে ৬০০জন খেলোয়াড় হবে । এখন এদের মধ্যে যদি জাতীয় লীগ হয় তবে ট্যালেন্ট হাণ্ট বা পেসার হান্ট করা লাগবোনা এমনিতেই খেলোয়াড় পাওয়া যাবে। এবার এই ৬০০ থেকে বাছাই করে বেশি না ১০টা পেসার, ১০টা স্পিনার, ৫টা কিপার, ১০টা ওপেনার, ১০টা মিডল অর্ডার, ২০টা অলরাউন্ডার নিয়ে টানা ৫বছর আন্তর্জাতিক মানের একজন কোচের অধীনে ১টা সিম, ১টা স্পিন, ১টা ফিল্ডিং, ১টা ব্যাটিং কোচ , সাথে গোটা তিনেক ফিজিও, একজন মনস্তাত্তিকবিদ নিয়ে ট্রেনিং চলুক। সেই সাথে সকল মামা-চাচা বাদ দিয়ে সকল বিতর্কের ঊর্দ্ধে খেলা প্রেমিক সৎ কয়েকজন নির্বাচক নিয়ে নির্বাচক পরিষদ বানিয়ে এবং খেলা সংশ্লিষ্ট বোর্ড বানলে কাজ হবেই।
আসলে মন থেকে চাইলে কোন কাজই সম্ভবত খুব একটা অসম্ভব নয়।

অভিমন্যু .
________________________
সেই চক্রবুহ্যে আজও বন্দী হয়ে আছি

মেঘলা মানুষ এর ছবি

এই একটা জিনিস করলেই ক্রিকেট জিনিসটা দাঁড়িয়ে যায়, অথচ তৃণমূল থেকে প্রতিভা খুঁজে আনার বিষয়ে সবাই কেন যেন উদাসীন।

অতিথি লেখক এর ছবি

ভাইরে উচিত কাজ ছাড়া বাহুল্য সবই হয়।

অভিমন্যু .
________________________
সেই চক্রবুহ্যে আজও বন্দী হয়ে আছি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।