মেট্রো রেল বিতর্ক এবং আমার দু-আনা

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: মঙ্গল, ১২/০১/২০১৬ - ৭:১৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মেট্রো রেল নিয়ে হঠাৎ করেই ফেসবুক পাড়া সরগরম। প্রধানমন্ত্রীর কান পর্যন্তও গিয়েছে সেই কথা। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা কেমন গরম জানি না। শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে ক্লাস বন্ধ, শুধু পরীক্ষা চলছে। খুব বেশি উত্তপ্ত হওয়ার কথা না। সে যাই হোক, মেট্রো রেলের রুট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে বলে "সাধারণ শিক্ষার্থী"রা আন্দোলন করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে এখানে দু'লাইন বলা দরকার বলে মনে করছি। আর শুধু ফেসবুকের কমেন্টে তর্ক-বিতর্ক যৌক্তিক কোনও উপসংহার আনতে পারে না বলে ব্লগে লিখছি। আশা করি কমেন্টের আলোচনায় আরও কিছু পয়েন্ট উঠে আসবে।

প্রথমেই বলে নিই, আমি আর্কিটেক্ট বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার না। স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে আমার কোনও জ্ঞান নেই। আমার পুরো বক্তব্যই একজন সাধারণ নাগরিক আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোটা সময় মেট্রো রেলের রুটের অন্যতম "বিতর্কিত" অংশ দোয়েল চত্বরের পাশেই ক্লাস করেছি, ফলে এই রেললাইনের আশেপাশের এলাকার প্রভাব সম্পর্কে কিছুটা ধারণা আছে বলে দাবি করতে পারি।

আমি ঠিক জানি না সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কিভাবে হয়। সব আন্দোলনেই কোনও না কোনও গোষ্ঠী থাকে যে বা যারা আন্দোলনকে পরিচালনা করে। ফেসবুকে অধিকাংশ খবর, ছবি এবং নোটস যাদের প্রোফাইল থেকে শেয়ার হচ্ছে তারা কোনও না কোনওভাবে "বাম" রাজনীতির সাথে যুক্ত। আন্দোলন করলে নিজেদের নামে করলেই ভাল, শুধু শুধু "সাধারণ শিক্ষার্থী" নাম দিয়ে আন্দোলন করাটা সন্দেহজনক। বিফল হলে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের বদনাম হবে। অথবা হয়তো সেটাই উদ্দেশ্য - গা বাঁচানো।

গত দু-একদিনে সবচেয়ে বেশি শেয়ার হওয়া নোট কাজল আব্দুল্লাহ নামে একজনের লেখা। উনার সাথে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় নেই এবং উনার প্রোফাইল থেকে দেখলাম উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্সে পড়েছেন। নন-টেক হয়েও উনি প্রোজেক্টটা ভালই বিশ্লেষণ করেছেন। প্রথমত আমি উনার লেখার কিছু বিষয়ে বলবো, এরপর নিজের দুটো কথা যোগ করার চেষ্টা করবো।

লেখার প্রথম হেডিঙেই উনি বলেছেন উনি চান মেট্রো রেল হোক কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যদিয়ে না। এই ব্যাপারে পরে আসছি।

১ নং পয়েন্টে কাজল সাহেব AECL নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সার্ভের কথা বলেছেন। সেটার কোনও লিঙ্ক বা ডকুমেন্ট নেই বলে যাচাই করতে পারছি না। তাই এই ব্যাপারে কিছু না বলি। এর পরে উনি মেট্রো রেল প্রকল্পের EIA (Environmental Impact Assesment) রিপোর্ট থেকে একটা ছবি যুক্ত করেছেন।

কিন্তু ছবির আশে পাশের কথাগুলো আর বলেন নি। এই ছবিটা দেওয়ার উদ্দেশ্যই হচ্ছে প্রকল্প এলাকার ১কিলোমিটার রেডিয়াসের মধ্যে কি কি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আছে সেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলোর যেন কোনও ক্ষতি না হয় সে ব্যাপারে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে - এই ব্যাপারটা বোঝানো। EIA রিপোর্টের পৃষ্ঠা ৯২ থেকে কোটঃ

These sites are well known to the design team and are accounted for and protected in the design proposals for the Metro.

রিপোর্টের পৃষ্ঠা ১১৫-১১৬ থেকেঃ

All locations where curvature approaches 200 m have been evaluated, and vibration-proof track installed at locations where building occupancy and use may be affected.

পৃষ্ঠা ১১৬ থেকেঃ

Vibration intensity using MSS track at the closest point from the pier is within the Japanese standard, and at 12.5 m from the pier is found to be 57.4 VdB for ballast-less track and only 49.9 VdB for MSS track. Vibration is well within the tolerable limit for Dhaka gate with MSS track installed still, the piers will be placed as far as possible from the gate. Pier locations were modified in the design to provide the maximum distance on both sides of the gate to the nearest pier (~14 m).

In addition to Dhaka Gate, three additional locations are close enough to cause concern, Nos. 14, 15 and 21 in the list. In all instances, the distance from the nearest pier is sufficient to prevent damage to the structure from excess ground vibrations.

উপরের কোটে ১৪ এবং ১৫ হচ্ছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং টিএসসি যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। নিকটস্থ পিয়ার থেকে এদের দূরত্ব যথাক্রমে ১২ মিটার এবং ১৮.৪ মিটার।

২ নং পয়েন্টের মূল বক্তব্য ল্যান্ডস্কেপ নিয়ে। আমারও ধারণা ছিল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রেললাইন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ধার ঘেঁষে যাবে। যেহেতু আমার পক্ষে মূল প্ল্যান পাওয়া সম্ভব না সেক্ষেত্রে ইউটিউব ভিডিওর স্ক্রিনশটই মেনে নিতে হচ্ছে যেখানে দেখানো হয়েছে রেল-লাইন মূল রাস্তার মাঝ বরাবর দিয়ে যাবে। এখন কথা হচ্ছে এতে কি ল্যান্ডস্কেপ নষ্ট হচ্ছে? আমার কাছে নষ্ট মনে হচ্ছে না। যদি না আমরা লাইনের নিচে পিলারের পাশে পাবলিক টয়লেট বা গাঁজা খাওয়ার আস্তানা বানিয়ে ফেলি। এই দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরই। আমরা এতদিন ধরে একটা ল্যান্ডস্কেপ দেখে অভ্যস্ত, অনেক স্মৃতি এই এলাকা নিয়ে, তাই নতুন কিছু মেনে নিতে হয়তো একটু কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতার সাপেক্ষে সেটা কি আসলে কোনও সমস্যা? একটা দৃষ্টিনন্দন রেললাইন, স্টেশন নতুন আরেকটা ল্যান্ডস্কেপ তৈরি করবে। আমি স্বাধীনতা স্তম্ভের নিচে দাঁড়িয়ে উপরের দিকে তাকিয়ে দেখেছি। শুধু উঁচু জায়গা থেকে দেখার জন্যই তো আমি অন্তত একবার মেট্রো রেলে চড়ব। এই পয়েন্টটা আবেগের জায়গা থেকে আসতে পারে কিন্তু যৌক্তিক না। তাহলে তো ঐতিহ্য লালনের স্বার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সব বহুতল ভবন, নিত্যনতুন স্ট্রাকচার বানানোও বন্ধ করে দিতে হবে।

৩ নং পয়েন্টে পরিবেশ, শব্দ দূষন, কম্পন ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেছেন কাজল সাহেব। যে কোনও বড় প্রোজেক্টের নির্মানাধীন সময়ে শব্দ, বায়ু দূষণ হবেই। সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন হল বানাতে গেলেও হবে, পাইলিং এর শব্দে অন্তত এক বছর আশে-পাশে যাওয়া যাবে না। এটা যথা সম্ভব কম রাখার চেষ্টা করা হবে সেটা EIA রিপোর্টেই বলা হয়েছে। নির্মাণ পরবর্তী শব্দের ব্যাপারে কাজল সাহেবের বক্তব্যঃ

রিপোর্টে এও বলা হয়েছে নির্মাণ কাজের সময় শব্দ দূষণও হবে। আর ট্রেন নি:শব্দ হবে না। মেট্রো চলাচলে শব্দ হবেই। তবে শব্দ সীমিত করার জন্য ’এমএসএস’ নামক একটি প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এই ক্যাম্পাসের মধ্যে শাহবাগ থেকে শুরু করে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রয়েছে ৩ টি লাইব্রেরী। এর মধ্যে ২টি হছে দেশের সবচেয়ে বড় দু’টি লাইব্রেরি। যে যাই বলুক, একফোটা শব্দ হবে না বা শব্দে এদের সমস্যা হবে না। এটা আমি মানতে রাজি নই।

কেন মানতে রাজি না সেটা অবশ্য উনি ব্যাখ্যা করেন নি। রিপোর্টের পৃষ্ঠা ১০৬ এ পিক আওয়ারে এম্বিয়েন্ট সাউন্ডের বৃদ্ধি এবং দিন রাতের বৃদ্ধির একটা চার্ট দেওয়া হয়েছে। সেখানে দেখানো হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পিক আওয়ারে এম্বিয়েন্ট বৃদ্ধিঃ ০.২ - ০.৫% এবং দিন-রাতের এম্বিয়েন্ট বৃদ্ধিঃ ৫-৬.৭% যেটা আমার কাছে খুব বেশি মনে হচ্ছে না। বরং উত্তরা সেন্ট্রালের দিন-রাতের এম্বিয়েন্ট সাউন্ড বৃদ্ধিঃ ২৩%, লাইফ-এইড হাসপাতালেঃ ৮.৮% যেটা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার চেয়ে অনেক বেশি। রিপোর্টে সাউন্ড পাথের একটা ছবি দেওয়া হয়েছেঃ

সেখানে দেখানো আছে শব্দের গতিপথ এবং দূরত্বের সাথে কিভাবে কতটুকু কমবে। দেখা যাচ্ছে ভূমির কাছা কাছি আসতে আসতে শব্দের মাত্রা প্রায় পাঁচগুণ কমে যাচ্ছে। আর আধুনিক মেট্রো রেলের শব্দ এমনিতেই আমরা যেসব রেলগাড়ি দেখে অভ্যস্ত তার চেয়ে অনেক কম। তাহলে রেল লাইন থেকে প্রায় ১০০-১৫০ মিটার দূরে লাইব্রেরীর ভেতরে কিভাবে পড়ালেখার ক্ষতি হওয়া সম্ভব বুঝতে পারছি না। সম্ভবত EIA রিপোর্টের নয়েজ বিষয়ক চ্যাপ্টারটায় অনেক অনেক ইকুয়েশন দেখে উনি লেখাগুলোকে এভয়েড করেছেন। এই কারণে এই ব্যাপারটা বুঝতে পারেন নি।

এরপরে ভাইব্রেশনের ব্যাপারে উনি বেশ কিছু "আংশিক" স্ক্রিনশট দিয়েছেন এবং তারপর কোটঃ

আমার প্রশ্ন হচ্ছে, জেনে বুঝে আমরা এই শব্দ, বায়ু দূষণটা কেন টেনে আনছি? (অন্তত, চার বছর আমাদের এটা সহ্য করতেই হবে)। কেন মুঘল আমলের স্থাপত্য, কার্জন হলকে বিপদে ফেলছি? রুটটা ঘুরে গেলে ক্ষতি কি? শিক্ষার্থীরা তো শাহবাগেই নামতে পারে।

ভাইব্রেশনের কারণে যেন স্থাপনার ক্ষতি না হয় এজন্য সব ধরণের সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে সেটা রিপোর্টেই বলা হয়েছে। উপরে পৃষ্ঠা ১১৬ এর কোট পড়লেই সেটা স্পষ্ট হয়। আর "অন্তত চার বছর" সহ্য করতেই হবে সেটা উনি কিভাবে বলছেন? এরকম কোনও প্রকল্পই পুরো এলাকা জুড়ে একসাথে শুরু হয় না এবং পুরো সময় ধরে চলে না। চার বছর লাগবে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত কাজ শেষ করতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পুরো প্রকল্পের ১০% এলাকা হলে সর্বোচ্চ ৬ মাস নির্মাণকালীন যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে। এই ব্যাপারে সরকারের সাথে দেন-দরবার করা যায় যেন নির্মাণ কাজ গ্রীষ্মকালীন ছুটিকে মাঝে রেখে আশে পাশের সময়ে চালানো হয়।

৪ নং পয়েন্টে অংশী-জনের বক্তব্য সম্পর্কে উনি বলেছেনঃ

...দ্বিতীয়টি অনুষ্ঠিত হয় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরে যেটাতে নানা শ্রেণীপেশার ৭০ জন উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে মতামত নেয়া হয়েছে ৭ জনের যাদের মধ্যে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের চিকিৎসক, ফুলের দোকানি, সাংবাদিক স্থপতি, স্থানীয় ব্যবসায়ি, সরকারি কর্মকর্তা। কিন্তু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক বা শিক্ষার্থীদের কোন কমেন্ট নেই। যদিও ঐ ৭০ জনের মধ্যে তারা উপস্থিত ছিলেন। আমার কাছে নাম, পেশাসহ এদের তালিকা আছে।

তারা কি মতামত তখন তুলে ধরেছিলেন সেরকম কিছু রেফারেন্স কাজল সাহেব দেন নি। দিলে বোঝা যেত শুরু থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান কি ছিল। EIA রিপোর্টের ১৭১ নং পৃষ্ঠায় দেখা যাচ্ছে ০৪ জুলাই ২০১১ তারিখে বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি স্যারের রুমে ৪৪জনের উপস্থিতিতে একটা মিটিং হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি স্যারের রুমে যেহেতু মিটিং সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই প্রাধান্য পেয়েছে বলে ধরে নিচ্ছি। সেখানে বাঁধা দিলে তো শুরুতেই রুট পরিবর্তন হয়ে যেত। তখন কেউ এই রুটের বিরুদ্ধে কিছু বলেছেন বলে মনে হচ্ছে না।

৫ নং পয়েন্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে সাংস্কৃতিক বলয়ের কথা বলা হয়েছে। খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সন্দেহ নেই। মৌলবাদের এই যুগে আমাদের পহেলা বৈশাখ, একুশে, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যে উৎসব হয় তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কাজল সাহেবের বক্তব্যঃ

আমি বিশ্বের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইপাশ দিয়ে মেট্রো রেল গ্যাছে, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূমি থেকে উলম্ব হয়ে মেট্রো রেল গেছে, কোনটায় সমান্তরাল, অথবা ইউটিউবে সাউন্ড অফ মেট্রো রেল লিখে সার্চ দিয়ে সেটার তুলনামূলক আলোচনায় বিশ্বাসী নই। কারণ, সেই তুলনা আসলে আরো অনেক তুলনা আসবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ও বিশ্বের বুকে অনন্য একাডেমিক বিষয় দিয়ে নয় বরং রাজনৈতিক কারণে। একাডেমিক র‌্যাংকিং এ বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে থাকলেও রাজনৈতিক কারণে বিশ্বের বুকে ঢাবি অনন্য ও একমাত্র।...

তুলনা করে যদি আপনার যুক্তি ভুল প্রমাণিত হয় তাহলে মেনে নিতে সমস্যা কি? প্রশ্ন হচ্ছে মেট্রো রেলকে আমরা সাংস্কৃতিক বলয়ের জন্য বাঁধা কেন মনে করছি? সাংস্কৃতিক বলয়ের অংশ কেন নয়? প্রতিটা উৎসবে কয়েক লক্ষ লোকসমাগম হয় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। তৈরি হয় এতগুলো লোকের যাতায়াত, নিরাপত্তা নিয়ে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা। মেট্রো রেল হয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা অন্তত অর্ধেক লোকের যাতায়াতের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বরং যাতায়াতের সুবিধা থাকায় আরও বেশি লোকসমাগম হবে বলেই আমার ধারণা। আর সাংস্কৃতিক বলয় নিয়ে যাদের এত টেনশন তারা কার্জন হল এলাকায় বিকেল হলেই মেয়েদের উঠিয়ে দেওয়া হয়, সন্ধ্যার পরে ছেলে-মেয়ে এক সাথে দেখলেই হ্যারাজ করা হয় - এসব ব্যাপারে নিশ্চুপ কেন ঠিক বোধগম্য না।

"আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে" - এই বক্তব্যের সাথে একমত হতে পারলাম না। বরং কিছুটা অপমানিত বোধ করলাম। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র বৈশিষ্ট্য যদি হয় রাজনীতি, তাহলে সেটা আর পল্টন ময়দানের পার্থক্য কি?

সবশেষে একটা কন্সপিরেসি থিয়োরির কথা বলেছেন কাজল সাহেব। আমারও একটা থিয়োরি আছে। একটু পরে দিচ্ছি। আগে আমার কিছু কথা যোগ করি।

প্রথমত, একটা কথা বলা হচ্ছে যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যদিয়ে রেললাইন যাচ্ছে। এটা কোনও ভাবেই সত্য না। রেললাইন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দিয়ে বা "বুক চিরে" যাচ্ছে না বরং ধার ঘেঁষে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ধার ঘেঁষে অনেকগুলো রাস্তাও গিয়েছে যেগুলো প্রচণ্ড ব্যস্ত এবং গাড়ির হর্ন, রিকসা, সিএনজি, বাস ইত্যাদির গ্যাঞ্জামে পূর্ণ।

দ্বিতীয়ত, ঐতিহ্য রক্ষার কথা বলে উন্নয়ন বাঁধা দেওয়া কোনও কাজের কথা না। ঐতিহ্য রক্ষা আর উন্নয়ন কিভাবে পাশাপাশি চলতে পারে সেটাই বরং দেখা উচিৎ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উচিৎ আরও গঠনমূলক সমাধান দেওয়া। মেট্রো রেল আধুনিক সময়ের বাস্তবতা, এবং একটা প্রয়োজন। শাহবাগে স্টেশন হলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যথেষ্ট না। শাহবাগ এলাকা একটা পাবলিক প্লেস। দুইটা হাসপাতাল, শিশু-পার্ক, থানা, জাদুঘরের উদ্দেশ্যে আসা সবার জন্য এই স্টেশন ব্যবহার হয়। বাস, রিকশা, সিএনজির জন্য শিক্ষার্থীদের এখানে আলাদা "প্রিভিলেজ" নেই। দোয়েল চত্বর স্টেশন সেরকম একটা স্টেশন হতে পারে যেটার মূল ব্যবহারকারীই হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আরও আছেন ঢাকা মেডিকেল, শিশু একাডেমী ইত্যাদির যাত্রীরা। শাহবাগ থেকে রুট বামদিকে চলে গেলে এর কোনটাই হবে না। এই সব কারণেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে মেট্রো রেল দরকার। আর শাহবাগ থেকে ৯০ ডিগ্রী ঘুরে যাওয়া সম্ভবত টেকনিক্যালিও সম্ভব না।

আমি যখন গ্রাজুয়েশন শেষ করছি সেই সময়ই কথা বার্তা চলছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ডিপার্টমেন্ট গাজীপুরের দিকে ভিন্ন ক্যাম্পাস করে সেখানে সরিয়ে নেওয়ার। কারণ এই এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা বাড়ানোর বা নতুন অবকাঠামো নির্মাণের জায়গা নেই। এত শিক্ষার্থীর চাপ বিশ্ববিদ্যালয় নিতে পারছে না। পরবর্তীতে কি হয়েছে জানি না। কিন্তু সেরকম কোনও উদ্যোগ নিলেও সম্ভবত ঐতিহ্য রক্ষা আন্দোলন শুরু হবে!

আন্দোলন করছেন বাম সংগঠনের সমর্থকরা, নাম কেন দিচ্ছেন "সাধারণ শিক্ষার্থী"? আন্দোলন বুমেরাং হলে যেন গায়ে না লাগে? কাজল সাহেবের লেখার প্রথম হেডিং পড়ে এজন্যই আমার মনে পড়লো - "ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না!"
ঢাকায় মেট্রো রেল হবে সেটা নিয়ে কথা বার্তা শুরু হয়েছে সেই ২০০৩/৪ সাল থেকে। অংশী-জনের সাথে মিটিং হয়েছে ২০১১ তে। বিমান বাহিনীর বিরোধিতায় রুট পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা ২০১১ তে। তারপর ৫ বছর গিয়েছে। সব কিছু গুছিয়ে এনে যখন মূল কাজ শুরু হবে তখন কেন আন্দোলনের শুরু? এমন একটা সময় যখন কাজ থমকে গেলে প্রকল্পের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাবে? এতদিন আপনারা কোথায় ছিলেন?

কন্সপিরেসি থিয়োরির কথা বলছিলেন কাজল সাহেব। আমিও একটা থিয়োরি দেই।
বর্তমান সময়ে বিএনপি জামাত আন্দোলনে তেমন সুবিধা করতে পারছে না। নির্বাচনে গিয়ে জনসমর্থনের পরীক্ষায়ও ভরাডুবি। জামাতের বড় বড় নেতারাও সব টপাটপ ঝুলে যাচ্ছে। পদ্মা সেতুর মত প্রকল্প সরকার নিজে নিজে করে ফেলছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনের কাজ প্রায় শেষ। ঢাকা-সিলেট শুরু হবে। কিছু দিয়েই রাজনীতির মাঠ গরম করা যাচ্ছে না। এখন মেট্রো রেলের মত একটা "ফিউচারিস্টিক" প্রকল্প যদি সরকার সফল ভাবে করে ফেলে তাহলে পাবলিকের সমর্থন আর কিছু দিয়েই পাওয়া যাবে না। জামাত-বিএনপির নামে আন্দোলন করে তো লাভ হবে না তাই মধুর মাছি কিছু বামাতিকে মাঠে নামিয়ে দেওয়া যাক। এখন সরকার বা সরকার সমর্থক ছাত্রলীগ যদি এদের সাথে হার্ড-লাইনে যায় তাহলেই তো মাঠ গরম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর সরকারকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া যাবে। আমার ধারণা আজ যদি রেল লাইন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে না যেত তাহলে আন্দোলন হতো পুরোপুরি বিপরীত ইস্যুতে। কিন্তু এই আন্দোলনটা হতোই।

আমি বলি কি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেহেতু আপনারা পড়ছেন, মাথায় কিছুটা হলেও মগজ আছে। সেটা কাজে লাগান। এই আন্দোলন না হয় ঐযে গ্রাম, বন্দর, পানি, খনিজ, কয়লা, বন, সবকিছু রক্ষা কমিটির একজন আছেন না, উনার নামের সাথে "বিশ্ববিদ্যালয় রক্ষা"টাও লাগিয়ে দিয়ে উনার উপরেই ছেড়ে দেন। আর আন্দোলন যদি করতেই হয় কাজের কিছু নিয়ে করেন। এই নেন কিছু কাজের ইস্যুঃ
১। বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ বাজেট অন্তত ১০ গুন বাড়ানো হোক।
২। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হোক।
৩। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হোক। বড় একটা ভূমিকম্পে কি দশা হবে সেটা কল্পনাও করা যায় না।
৪। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
৫। পহেলা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারী নির্যাতনকারীদের চিহ্নিত করতে আরও বড় পরিসরে উদ্যোগ নেওয়া হোক।
...
...
ইস্যু তো শেষ হবে না।

যাই হোক, আমি ধরে নিচ্ছি সব বাম-ই বামাতি না। তারা অন্তত বুঝতে পারবেন এই আন্দোলনের অযৌক্তিকতা সেটাই আশা করি। সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক।

ETA রিপোর্টঃ http://goo.gl/fplth3

--
ঘুমকুমার


মন্তব্য

হাসিব এর ছবি

কিছু কথা আপনি বলেছেন যেগুলো একটু রায়ের মতো শোনায়। যেমন,

দ্বিতীয়ত, ঐতিহ্য রক্ষার কথা বলে উন্নয়ন বাঁধা দেওয়া কোনও কাজের কথা না।

তাহলে তো ঐতিহ্য লালনের স্বার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সব বহুতল ভবন, নিত্যনতুন স্ট্রাকচার বানানোও বন্ধ করে দিতে হবে।

সব বহুতল ভবন, নিত‍্যনতুন স্ট্রাকচার বানানো বন্ধ করলে সমস‍্যা কোথায়? এরকম নজির বহু জায়গাতে আছে পৃথিবীতে। ঐতিহ‍্য রক্ষার জন‍্য ইউরোপিয়ানরা (অর্থাৎ যাদের ঐতিহ‍্য আছে সেটা সংরক্ষণ করে) অস‍ংখ‍্য পদক্ষেপ নেয় প্রতিবছর। ট্রেন লাইন কোথা দিয়ে যাবে কি যাবে না, নতুন স্টেশন বানানো হবে কি হবে না, উচু বিল্ডিঙের পার্মিট দেয়া হবে কি হবে না — এরকম বহু তর্ক বিতর্ক আন্দোলন হয় এবং সেগুলো সফলও হয়।

এই নেন কিছু কাজের ইস্যুঃ

এগুলোতো সবসময়ই বাম দলগুলোর রাজনৈতিক চর্চার এ‍্যাজেন্ডার মধ‍্যে ছিলো। বিশ্ববিদ‍্যালয়ে দল আর লীগের মিছিল হাতেগোনা। অন‍্য মিছিলগুলোর বিষয়বস্তু তো আপনি যে তালিকা দিলে তার আশপাশেই যায়।

বরং যাতায়াতের সুবিধা থাকায় আরও বেশি লোকসমাগম হবে বলেই আমার ধারণা। আর সাংস্কৃতিক বলয় নিয়ে যাদের এত টেনশন তারা কার্জন হল এলাকায় বিকেল হলেই মেয়েদের উঠিয়ে দেওয়া হয়, সন্ধ্যার পরে ছেলে-মেয়ে এক সাথে দেখলেই হ্যারাজ করা হয় - এসব ব্যাপারে নিশ্চুপ কেন ঠিক বোধগম্য না।

আপনি শিওর যে এই ব‍্যাপারে তারা নিশ্চুপ? হাঁটু বাহিনীর আপত্তির সময়ে কোন হল্লা হয়নি ফেইসবুকে। এখন বহু লোককে দেখছি ঢাবির উপর দিয়ে মেট্রোরেল প্রজেক্ট বাস্তবায়নে তারা হাতুড়ি বাটাল নিয়ে শারিরীক কামলা খাটতেও রাজি। এইটার কারণ কী বলে মনে হয়?

রিপোর্টের পৃষ্ঠা ১০৬ এ পিক আওয়ারে এম্বিয়েন্ট সাউন্ডের বৃদ্ধি এবং দিন রাতের বৃদ্ধির একটা চার্ট দেওয়া হয়েছে। সেখানে দেখানো হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পিক আওয়ারে এম্বিয়েন্ট বৃদ্ধিঃ ০.২ - ০.৫% এবং দিন-রাতের এম্বিয়েন্ট বৃদ্ধিঃ ৫-৬.৭% যেটা আমার কাছে খুব বেশি মনে হচ্ছে না। বরং উত্তরা সেন্ট্রালের দিন-রাতের এম্বিয়েন্ট সাউন্ড বৃদ্ধিঃ ২৩%, লাইফ-এইড হাসপাতালেঃ ৮.৮% যেটা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার চেয়ে অনেক বেশি।

ঢাবি জায়গাটাকে আরো বেশি শব্দবহুল ও স্টিলের টুকরোও ভর্তি করতে এতো আগ্রহ কেন? একটা জায়গা যেখানে দুষণ কম থাকবে সবসময় এইভাবে ভাবা যায় না বিষয়টাকে? মানুষের তো নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা দরকার, তাই না?

অতিথি লেখক এর ছবি

সব বহুতল ভবন, নিত‍্যনতুন স্ট্রাকচার বানানো বন্ধ করলে সমস‍্যা কোথায়? এরকম নজির বহু জায়গাতে আছে পৃথিবীতে। ঐতিহ‍্য রক্ষার জন‍্য ইউরোপিয়ানরা (অর্থাৎ যাদের ঐতিহ‍্য আছে সেটা সংরক্ষণ করে) অস‍ংখ‍্য পদক্ষেপ নেয় প্রতিবছর।

রায়ের মত শোনালে দুঃখিত। কিন্তু সেটাই কি বাস্তবতা না? প্রতিবছর শিক্ষার্থীর চাপ বাড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। এক্সপেন্সনের জায়গা কোথায় উপর দিকে ছাড়া?

এগুলোতো সবসময়ই বাম দলগুলোর রাজনৈতিক চর্চার এ‍্যাজেন্ডার মধ‍্যে ছিলো। বিশ্ববিদ‍্যালয়ে দল আর লীগের মিছিল হাতেগোনা। অন‍্য মিছিলগুলোর বিষয়বস্তু তো আপনি যে তালিকা দিলে তার আশপাশেই যায়।

এজেন্ডায় থাকা আর সেটা নিয়ে নিয়মিত আন্দোলন করা এক না। এই পর্যন্ত রিসার্চ বাজেট বাড়ানোর জন্য কয়টা মানববন্ধন হয়েছে বাম দলের উদ্যোগে যেগুলো প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছেছে?

বাই দ্যা ওয়ে, আন্দোলন কিন্তু "সাধারণ শিক্ষার্থী" ব্যানারে - বাম দলের ব্যানারে না। কেন এই লুকোচুরি?

আপনি শিওর যে এই ব‍্যাপারে তারা নিশ্চুপ? হাঁটু বাহিনীর আপত্তির সময়ে কোন হল্লা হয়নি ফেইসবুকে। এখন বহু লোককে দেখছি ঢাবির উপর দিয়ে মেট্রোরেল প্রজেক্ট বাস্তবায়নে তারা হাতুড়ি বাটাল নিয়ে শারিরীক কামলা খাটতেও রাজি। এইটার কারণ কী বলে মনে হয়?

হাঁটু বাহিনীর আপত্তির সময় সব মিডিয়াই মোটামুটি নিশ্চুপ ছিল। কিছু ব্লগ ছাড়া। তারমানে এই না যে হাঁটু বাহিনীর আপত্তি যৌক্তিক ছিল। কিন্তু তাদের অযৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে দেখেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও অযৌক্তিক দাবি নিয়ে দাঁড়িয়ে যাবে আর সেটাও মেনে নিতে হবে - এটা কি কোনও যুক্তি হলো? আরও গুরুত্বপূর্ণ এবং সন্দেহ উদ্রেগকারী প্রশ্ন হচ্ছে সে সময় এই বামেরা কোথায় ছিলেন? এই দাবি এতদিন পরে - যখন যে কোনও পরিবর্তন করতে গেলে পুরো প্রকল্প বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে - তখন কেন? এই অদ্ভুত অযৌক্তিক দাবীর কারণে যেন পুরো প্রকল্প ভেস্তে না যায় এ কারনেই কামলা খাটতে রাজি। আর যদি শেষ পর্যন্ত প্রকল্প বাতিল হয়ে যায়, সেটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা "নেগেটিভ এ্যচিভমেন্ট" হিসেবেই থাকবে, "পজিটিভ" না। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন হয়ে সেই দায় নিতে আমি ব্যক্তিগত ভাবে রাজি নই।

ঢাবি জায়গাটাকে আরো বেশি শব্দবহুল ও স্টিলের টুকরোও ভর্তি করতে এতো আগ্রহ কেন? একটা জায়গা যেখানে দুষণ কম থাকবে সবসময় এইভাবে ভাবা যায় না বিষয়টাকে? মানুষের তো নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা দরকার, তাই না?

প্রশ্নের উত্তর লেখার মধ্যেই দিয়েছি বলে মনে হয়।

পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

--
ঘুমকুমার

হাসিব এর ছবি

রায়ের মত শোনালে দুঃখিত। কিন্তু সেটাই কি বাস্তবতা না? প্রতিবছর শিক্ষার্থীর চাপ বাড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। এক্সপেন্সনের জায়গা কোথায় উপর দিকে ছাড়া?

মূল ক‍্যাম্পাসের বাইরে জমি কিনে সেখানে এক্সপানশন করার কথা চিন্তায় আসে না কেন?

এজেন্ডায় থাকা আর সেটা নিয়ে নিয়মিত আন্দোলন করা এক না। এই পর্যন্ত রিসার্চ বাজেট বাড়ানোর জন্য কয়টা মানববন্ধন হয়েছে বাম দলের উদ্যোগে যেগুলো প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছেছে?

উপরে দুইটা পার্ট আছে। একটা পার্ট হলো গবেষণা বাজেট বাড়ানোর জন‍্য মানববন্ধন (আমি শুধু এতে সীমিত না রেখে একটু বিস্তৃত করে মাঠপর্যায়ে পলিটিকাল এ‍্যাকটিভিজম শব্দটা ব‍্যবহার করি) এবং আরেকটা প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছানো। দুইটা আসলে দুই জিনিস। দ্বিতীয়টা আলাপের বিষয় না। আমি নব্বুই দশকের শেষার্ধে অন্তত শখানেক মিছিল মিটিং সমাবেশে ছিলাম যেগুলোতে গবেষণার ফান্ড বাড়ানোর বিষয়টা কথা হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রীর কাছে এগুলো পৌছাবে না এগুলো বলাইবাহুল‍্য। কোন টিপস আছে এই বিষয়ে যে কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এগুলো পৌঁছানো যেতে পারে?

সাধারণ শিক্ষার্থী টার্মটা নব্বুই দশকে ঢাবি ও জাবিতে যৌন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন, ঢাবিতে ওসমানী উদ‍্যান রক্ষা আন্দোলনসহ অসংখ‍্য আন্দোলনে ব‍্যবহার করা হয়েছে। ব‍্যানারটা নামিয়ে রেখে সবগুলো দল একসাথে কাজ করার স্বার্থে এই কাজটা করা হয়। এখানে লুকোচুরির কিছু নেই, সবাই জানে কে কোন দল করে। সবই প্রকাশ‍্য।

এটা কি কোনও যুক্তি হলো?

যুক্তিটা আসলে আমার না, আপনার। আপনি একই যুক্তির ধারায় আপনি এতোদিন কোথায় ছিলেন ইত‍্যাদি প্রশ্ন পেড়েছেন। হতে পারে বামাতীরা তেল গ‍্যাস আন্দোলন করে, হতে পারে জামাতিরা বর্ডার কিলিং নিয়ে কথা বলে, হতে পারে মনসান্তো নিয়ে ফরিদা লাফঝাপ করে। তাদের বিরোধিতার কারণে যদি ঐ ইস‍্যুগুলোর বিপক্ষে দাঁড়িয়ে পড়ি তাহলে একটা বড় সমস‍্যা।

আর যদি শেষ পর্যন্ত প্রকল্প বাতিল হয়ে যায়, সেটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা "নেগেটিভ এ্যচিভমেন্ট" হিসেবেই থাকবে, "পজিটিভ" না। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন হয়ে সেই দায় নিতে আমি ব্যক্তিগত ভাবে রাজি নই।

প্রকল্প বাতিল হবার কথা হচ্ছে কেন? প্রকল্পটা একটু সংশোধন করলেই ল‍্যাঠা চোকে। আর আপনার অপিনিয়ন জানলাম এই বিষয়ে।

অতিথি লেখক এর ছবি

মূল ক‍্যাম্পাসের বাইরে জমি কিনে সেখানে এক্সপানশন করার কথা চিন্তায় আসে না কেন?

এই ব্যাপারে একটা ছোট প্যারাগ্রাফ উপরের লেখায় আছে। সমস্যা হচ্ছে সেই জমিটা কোথায়? ধরুন গাজীপুরে, সাভারে বা মুন্সিগঞ্জে সেকেন্ড ক্যাম্পাস করা হলো, তখন এক ডিপার্টমেন্ট আরেকজনের সাথে মারামারি শুরু করবে মূল ক্যাম্পাস না ছাড়ার জন্য। ঐতিহ্য, ইতিহাসের অংশ ইত্যাদি যুক্তিতে। তখন যেটা হবে নতুন একটা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় হবে কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরে চাপ কমবে না।

উপরে দুইটা পার্ট আছে। একটা পার্ট হলো গবেষণা বাজেট বাড়ানোর জন‍্য মানববন্ধন ...... আরেকটা প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছানো।

প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছানো ব্যাপারটা বলেছি আন্দোলনের "রিচ" বুঝানোর জন্য। আন্দোলন নিয়ে যখন সবাই কথা বলে অনেক মানুষ জানে তখন সেটা সরকারের অনেক উপর পর্যন্ত পৌঁছায়। এখন একটা হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে বাঁধার সৃষ্টি করছেন এজন্য সহজেই সে পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। রিসার্চ বাজেটের জন্য কোনওদিন স্মারকলিপি নিয়ে মিছিল করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে যেতে শুনিনি। হয়তো গিয়েছেন, আমার জ্ঞানের স্বল্পতা।

সাধারণ শিক্ষার্থী টার্মটা নব্বুই দশকে ঢাবি ও জাবিতে যৌন নিপীড়ন বিরোধী আন্দোলন ...... সবাই জানে কে কোন দল করে।

যারা মিছিলে থাকেন তারা হয়তো জানেন। তাই বলে সবাই জানেন না। আমার ছাত্র-অবস্থা বর্তমান সময়ে টেনে আনলে আমি একজন "সাধারণ শিক্ষার্থী" এবং আমি এই আন্দোলনের সঙ্গে নেই। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের "সাধারণ শিক্ষার্থী" রা এই দাবি করেছে এটা যখন খবরে আসে তখন তার দায়ভার আমার উপরেও আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের যে কেউ আমাকেই জিজ্ঞেস করবে "তোমরা" এই দাবি কেন করছো? এটা একটা ছদ্মবেশ ধারণ। যে উদ্দেশ্যেই শুরু হোক বর্তমানের পার্সপেক্টিভে গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে না।

যুক্তিটা আসলে আমার না, আপনার। আপনি একই যুক্তির ধারায় আপনি এতোদিন কোথায় ছিলেন ইত‍্যাদি প্রশ্ন পেড়েছেন।

এ্যাঁ। এইটা আমার যুক্তি কিভাবে হলো? একজনের অন্যায় দাবী মেনে নিলেই দ্বিতীয়জনের অধিকার গজায় না অন্যায় দাবী করার। আর এতদিন কোথায় ছিলেন প্রশ্নের কারন হচ্ছে আপনাদের দাবীটা যদি ৪/৫ বছর আগে করতেন তাহলে আমার কোনও সমস্যা হতো না। তখনও তো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এই টিএসসি, তিন নেতার মাজার, রাজু ভাস্কর্য ইত্যাদি ছিল নাকি? কাজ শুরু হওয়ার পরে আন্দোলন শুরু করলে সেই আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করবো না?

প্রকল্প বাতিল হবার কথা হচ্ছে কেন? প্রকল্পটা একটু সংশোধন করলেই ল‍্যাঠা চোকে।

একটু সংশধন?!! হো হো হো
২০১২ সালে জাইকা থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল যে প্রকল্প তাড়াতাড়ি ফাইনাল করতে নাহলে তারা টাকা নিয়ে বাড়ি চলে যাবে। একটু অংক করেন। ২০১১ সালে বিমান বাহিনীর বাঁধার পরে এখন ২০১৬ সাল - প্রায় ৫ বছর পার হয়েছে। এখন আবার এই প্রকল্প প্ল্যানিং পর্যায়ে গেলে সরল অংকই বলছে বর্তমান অবস্থায় আসতে ২০২১ হবে। জাইকা কি ততদিন টাকা নিয়ে বসে থাকবে বলে আপনার ধারণা?

--
ঘুমকুমার

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

আপনে সচলায়তনে থাকেন। কোথাও যায়েন না।
নিক রেজিস্ট্রেশন করছেন? এই নামে আগেও অন্য পোস্টে মন্তব্য দেখছি বলে মনে পড়ে।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

অতিথি লেখক এর ছবি

জ্বী আছি। আলোচনা ফলো করছি।

নিক রেজিস্ট্রেশন করা আছে। ধন্যবাদ হাসি

স্পর্শ এর ছবি

একটা নন-ইস্যু কে ইস্যু বানিয়ে কিছু 'অবুঝ' শিক্ষার্র্থীকে খেপিয়ে তুলে যে আন্দোলনের তোড়জোড় চলছে সেটা দেখে বোঝাই যায় যে কোনো একটা গোষ্ঠি "প্রক্সিওয়ার" চালাচ্ছে। স্বনামে বের হতে না পেরে, কিছু 'রাজনীতিবুঝি না, ঐতিহ্য বুঝি' টাইপ পোলাপাইনরে ক্ষেপাইছে। (কিছু দিন আগে বুয়েটের 'অবুঝ' শিক্ষার্থীদের দিয়েও এই ধরনের প্রক্সি আন্দোলোন করানো হইসিলো।)

মেট্রো রেলটা হলে কতটা সুবিধা হবে সেটা বোঝার মত বাহ্যজ্ঞান ঢাকা ভার্সিটির ছাত্রছাত্রীদের আছে বলেই মনে করতাম। এখন দেখি বড় বড় ফেসবুক আলেমরাও এদের সাথে সুর মেলাইছে। পুরাই তব্ধা খেয়ে আছি এই রিএকশন দেখে।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অতিথি লেখক এর ছবি

নন-ইস্যুটা এতদিন দেখছিলাম এবং ভেবেছিলাম হয়তো ভেসে যাবে। কিন্তু এখন ভয় হচ্ছে যে পুরো প্রকল্পই না ভেস্তে যায়! মন খারাপ

--
ঘুমকুমার

তন্ময়  এর ছবি

সবাই যে বামাতি, তাও না। অনেকে হুজুগে পড়ে বিরোধিতা করছে আর /হাটুবাহিনী যদি রুট পাল্টাতে পারে তো, আমরা পারবো না কেন?/ এমন একটা ইগোদ্বন্ধে ভুগছে। কাজল আবদুল্লাহর লেখাতে আরো অনেক ট্যাকনিক্যাল ভুল ইনফো আছে। ঢাবির সামনের দিয়ে যেসব গাড়ি যায়, সেগুলোও তো একটা ভাইব্রেশন ইমপালস তৈরী করে, তাহলে এতদিন ধরে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের কথা বিবেচনায়, সেগুলোর বিরুদ্ধেও আন্দোলন করা উচিত।

-তন্ময়

অতিথি লেখক এর ছবি

যার যার তালগাছ তার তার। কে বুঝবে কার কথা?

--
ঘুমকুমার

অতিথি লেখক এর ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পুরো প্রকল্পের ১০% এলাকা হলে সর্বোচ্চ ৬ মাস নির্মাণকালীন যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে

বাংলাদেশের বড় মাপের কন্সট্রাকশন ( ফ্লাইওভার , ব্রিজ ) কাজের টাইমলাইন সম্পর্কে হয় আপনার ধারনা নেই কিংবা জেনে বুঝে ভুল বলছেন । এটা ঠিক লেগোসেটের ব্রিজ জোড়া দেয়ার মত নয় যে উত্তরা থেকে জুড়ে দিতে দিতে ঢাবির দিকে আসবে । ঢাবির অংশের কাজটা উত্তরায় কাজ শুরু হবার সাথে সাথে শুরু না হলেও অল্প কিছুদিনের মাঝেই শুরু হবে । আর বাংলাদেশে যে কোন বড় মাপের নির্মান প্রকল্প শেষ করতে এসটিমেটেড টাইমলাইনের দ্বিগুন সময় লাগে । সুতরাং ধরে নেয়া যায় প্রকল্পের এই অংশের কাজ শেষ করতে ৩-৫ বছর পর্যন্ত লেগে যেতে পারে ।

তুলনা করে যদি আপনার যুক্তি ভুল প্রমাণিত হয় তাহলে মেনে নিতে সমস্যা কি?

উন্নত বিশ্বের অনেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ দিয়েই মেট্রোরেলের লাইন গিয়েছে । তবে এটাও মনে রাখা প্রয়োজন যে সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের মত লাইব্রেরি বা ক্লাস রুমের সাউন্ডপ্রুফিং করার সামর্থ্য বা পয়সা ঢাবির নেই । সুতরাং শব্দ দুষন বাড়বে এই কথা ভুল নয় । তবে সেটা অন্য ভাবে মোকাবেলা করা যাতে পারে ।

প্রতিটা উৎসবে কয়েক লক্ষ লোকসমাগম হয় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। তৈরি হয় এতগুলো লোকের যাতায়াত, নিরাপত্তা নিয়ে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা। মেট্রো রেল হয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা অন্তত অর্ধেক লোকের যাতায়াতের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

শাহবাগ থেকে টিএসসি হয়ে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রাস্তাটা বাঙ্গালীর বেশ কয়েকটি জাতীয় ( রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক ) উৎসবের ক্ষেত্রে শিরদাঁড়ার মত কাজ করে । এই রাস্তায় ৩-৫ বছর ধরে মেট্রোরেলের মত বড় নির্মান কাজ চললে এই উৎসব গুলোর স্বাভাবিক ছন্দে বাধা পড়া স্বাভাবিক ।

আমি একান্ত ব্যক্তিগত মতামত এবং প্রশ্ন ঃ এই রাস্তাটুকু এড়িয়ে এর ঠিক পাশ ঘেঁষে ( শিশুপার্কের অব্যবহৃত অংশ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) দিয়ে গেলে সমস্যা কোথায় ??

মামুনুর রশীদ
===============================
হাজারো মানুষের ভিড়ে টআমি মানুষেরেই খুঁজে ফিরি

অতিথি লেখক এর ছবি

বাংলাদেশের বড় মাপের কন্সট্রাকশন ( ফ্লাইওভার , ব্রিজ ) কাজের টাইমলাইন সম্পর্কে হয় আপনার ধারনা নেই কিংবা জেনে বুঝে ভুল বলছেন।

আমি তো ভাই মার্শিয়ান না। বাংলাদেশের প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা আছে। তাই বলে ৪ বছরের প্রকল্পে ৪ বছর ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পাইলিং চলবে না এটুকু বুঝি। প্রকল্প দ্বিগুণ হলে ১০% বের করে ডানে বামে এরর মার্জিন যোগ করেন। এরকম বড় প্রোজেক্ট সেগমেন্টে ভাগ করে করে কাজ করা হয়। ঢাকা-চিটাগাং হাইওয়ের কথা চিন্তা করেন। অনেক অংশে এখনই চার লেন দিয়ে গাড়ি চলে। আবার অনেক অংশে এখনও মাটি খোড়াখুড়ি চলছে।

উন্নত বিশ্বের অনেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ দিয়েই মেট্রোরেলের ...... অন্য ভাবে মোকাবেলা করা যাতে পারে ।

নয়েজ কিছুটা বাড়বে। একদম ০% দাবি করছি না। নয়েজের অংশটায় এই ব্যাপারে ডিটেইল হিসাব করে দেখানো হয়েছে কতটুকু বাড়বে এবং কিভাবে বাড়বে। ঢাকা শহরের পার্সপেক্টিভে আমার মনে হয় না সেটা ধরার মত কিছু।

এই রাস্তায় ৩-৫ বছর ধরে মেট্রোরেলের মত বড় নির্মান কাজ চললে এই উৎসব গুলোর স্বাভাবিক ছন্দে বাধা পড়া স্বাভাবিক ।

হ্যাঁ। এটা একটা ভ্যালিড পয়েন্ট। নির্মানকালীন সময়ে কিছুটা সমস্যা হবেই। এমনকি মাঝের কিছুটা সময় সারা বছর পুরো ঢাকায় গ্রিডলক লেগে থাকবে। সেটা শাহবাগ থেকে বামদিক দিয়ে চলে গেলেও ঘটবে। "গ্রেটার গুড" এর জন্য কয়েক বছরের এই কষ্টটা মেনে নিতে হবে। কিছু অল্টারনেটিভ বের করতে হবে। তাই বলে প্রকল্প বাতিল কোনও সমাধান না। আমাদের সম্মিলিত মেধা আন্দোলনে না দিয়ে এই অল্টারনেটিভ বের করার পেছনে দিলে অনেক বেশি কাজ হবে বলে মনে হয়।

এই রাস্তাটুকু এড়িয়ে এর ঠিক পাশ ঘেঁষে ( শিশুপার্কের অব্যবহৃত অংশ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) দিয়ে গেলে সমস্যা কোথায় ??

এলিভেটেড রেলওয়ে করার সময় প্রথমেই যেটা মাথায় রাখা হয় তা হচ্ছে ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে আছে এমন অবকাঠামোর যথা সম্ভব কম ক্ষতি করা। এজন্যই অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাস্তার মাঝখান দিয়ে নেওয়া হয়। সবচেয়ে বড় সমস্যাটা হচ্ছে টাইমিং। এখন মাটি খুড়ে খুঁটি গাড়া শুরু হবে। এখন যদি আবার ড্রয়িং বোর্ডে ফিরতে হয় তাহলে এই প্রোজেক্ট আর এই জীবনে হবে না।

--
ঘুমকুমার

হিমু এর ছবি

স্বল্পখরচে শব্দনিরোধ ব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য ঢাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগকে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ গবেষণার ফরমায়েশ দিতে পারে কিন্তু।

ফাই সিদ্ধি এর ছবি

১।জাদুঘর,গ্রন্থাগার,রাাজু ভাষ্কর্য,টিএসসি,কার্জন হল,বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট, বাংলা একাডেমী,বইমেলা,মঙ্গল শোভাযাত্রা,সংস্কৃতি,যে কোন প্রগতিশীল আন্দোলন ইত্যাদি সমৃদ্ধ ছোট্ট একটা জায়গার উপর কেন আমােদর উন্নয়নের দোহাই দিয়ে ছুরি চালাতে হবে, যেখানে বিকল্প পথ আছে।২। এ রাস্তাটা পুকুর খনন করে কিংবা বিল্ডিং উঠিয়ে বন্ধ করে দিলে এদেশের অধিকাংশ লোক,বিশেষ করে আমলারা খুশি হবে এবং তাই করতে চাইবে (কিছুদিন আমলাগিরী করেছি বলে আমলাদের সম্পর্কে ভাল ধারনা আছে)-কারন এটা বন্ধ করে দিতে পারলেই এ দেশের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য অনেক বৃদ্ধি পায় ।৩।শাহবাগ পর্যন্ত রেল আসলেই ছাত্রদের যথেষ্ট উপকার হয়,এটাকে মৎস ভবনের রোড দিয়ে নিলেই জনগনের সবচেয়ে বেশী সুবিধা হয়।৪।

প্রশ্ন হচ্ছে মেট্র রেলকে আমরা সাংস্কৃতিক বলয়ের জন্য কেন বাধা মনে করছি? সাংস্কৃতিক বলয়ের অংশ কেন নয়? প্রতিটা উৎসবে কয়েক লক্ষ লোকসমাগম হয় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। তৈরি হয় এতগুলো লোকের যাতায়াত, নিরাপত্তা নিয়ে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা। মেট্রো রেল হয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা অন্তত অর্ধেক লোকের যাতায়াতের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

সাংস্কৃতিক লাইনত শুরু হয় শাহবাগের মোড় থেকেই,রেল ঐ পর্যন্ত আসতেত কেউ বাধা দিচ্ছেনা।ঐখান পর্যন্ত আসতে পারলেইত যাতায়তের সমস্যার সমাধান হয়।৫।

এই নেন কাজের ইস্যু,,,,,,

ধরে নিলাম, বামাতিরা এ সব নিয়ে আন্দোলন করে না,তাই বলে ত তারা ছাত্রলীগ,ছাত্রদলকে নিষেধ করেনি এসব নিয়ে আন্দোলন না করতে

হিমু এর ছবি

মেট্রো রেলের ওপর দিয়ে যে ট্রেন চলবে, সেটা বেশ দীর্ঘ। এ কারণে বাঁক নিতে গেলে বড় জায়গা প্রয়োজন হবে। শাহবাগে এসে সে পরিমাণ বাঁকাতে গেলে অন‌্যান্য অনেক স্থাপনা ভাঙতে হবে।

মেট্রো রেল ঢাবির ভেতর দিয়ে গেলে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ঠিক কীভাবে বাধা পাবে?

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার ছয় মাসে মেট্রোর কাজ সম্পন্নের হিসাব দেখার পর থিকাই খালি হাসতেছি...

স্বয়ম

অতিথি লেখক এর ছবি

হাসি স্বাস্থের জন্য ভাল হাসি

--
ঘুমকুমার

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

ঠিক আছে। কথাবার্তা চালু রাখেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা "ইগো" আছে। মেট্রোরেল হলে "প্রাইভেসি"তে সমস্যা হওয়ার মতো একটা অনুভূতি তৈরি হয়ে গেছে। এরপর ইগোর চাপে আর কোনো যুক্তিই মেনে নেয়া যাচ্ছে না!

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

অতিথি লেখক এর ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের "ইগো" একটা আছে ঠিকই কিন্তু আন্দোলনের শুরু সেখান থেকে না বলেই আমার মনে হয়। সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নন এমন যারা, তারা হয়তো "ইগো" নিয়ে যোগ দিচ্ছেন/সমর্থন জানাচ্ছেন। কিন্তু সেটাই মূল কারণ হলে এই আন্দোলন অনেক আগেই হতো, এই ক্রিটিক্যাল সময়ে না।

--
ঘুমকুমার

অতিথি লেখক এর ছবি

পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

ফাহমিদুল হান্নান রূপক

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

সচলের সদস্যদের নিয়ে এই বিষয়ের পক্ষে/বিপক্ষে একটা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ভোটাভুটির ব্যবস্থা করলে কেমন হয়?

hasan এর ছবি

চিন্তিত

ফাই সিদ্ধি এর ছবি

মেট্রো রেলের ওপর দিয়ে যে ট্রেন চলবে, সেটা বেশ দীর্ঘ। এ কারণে বাঁক নিতে গেলে বড় জায়গা প্রয়োজন হবে। শাহবাগে এসে সে পরিমাণ বাঁকাতে গেলে অন‌্যান্য অনেক স্থাপনা ভাঙতে হবে।

মেট্রো রেল ঢাবির ভেতর দিয়ে গেলে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ঠিক কীভাবে বাধা পাবে?

১। সরাসরি বাকঁ নেওয়া হয়ত টেকনিক্যালী সম্ভব নয়।তবে বিকল্প যে একেবারেই নেই তারও কিন্তু কোন স্টাডি হয়নি।হয়ত শুরুতে বাধা আসেনি (এটা আমাদের দেশের একটা কমন ব্যপার শেষ মূহুর্ত ছাড়া হুশ হয় না) বলে বিকল্প স্টাডি হয়নি।।উপরের একজনের কমেন্টে একটা বিকল্প পথ দেখানো হয়েছে-হতে পারে টেকনিক্যালী তা ফেল করবে বাট চেষ্টা ত করা যেতে পারে। ২।।নির্মানের সময়কাল যথেষ্ট বাধা গ্রস্থ হবে,এছাড়া বাকি সময়ে সৌন্দর্য ব্যহত হবে।লজিক দিয়ে হয়ত বিষয়টিকে উড়িয়ে দেওয়া যাবে।লজিক দিয়ে, টেকনিক্যালী এফরুভ হয়ে হয়ত রেল লাইব্রেরীর ভেতর দিয়েও নেওয়া যাবে।কিন্তু বিষয়টি যদি এভাবে বলি:দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান,দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞ ঢাকা শহরের ছোট্ট একটা জায়গায় হয়ে আসছে।এছোট্ট জায়গাটা এ বিষয়গুলোর জন্য নিজস্ব মহিমায় থাকুকনা,উন্মুক্ত আকাশে মঙ্গল শোভা যাত্রাটা হোক,নতুন গ্রাজুয়েটরা রাজু ভাষ্কর্যের চারপাশে জড়ো হয়ে বিসতৃত আকাশের দিকে উড়িয়ে দিক টুপি, আবারও কখনও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে জয়বাংলা শ্লোগানের জন্য ঐ জায়গা উন্মুক্তই থাকুকনা --------হয়ত এখানে সাংষ্কৃতি পালন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সুরসম্রাটের সংগ্রহশালা রক্ষা করা যায়নি বা যাবেনা তবুও এতে ত কোন ক্ষতি হচ্ছেনা।এ গুলো আসলে শুধু লজিক দিয়ে বিশ্লেষন করা যায়না,আবেগী কিছু বিষয় চলে আসে যা একেবারেই ফেলে দিলে মানুষের বাচার তেমন অর্থ হয়ত থাকেনা।

হিমু এর ছবি

বিকল্প স্টাডি করতে গেলে এই প্রকল্পে অর্থায়ন আবার অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। শেষ সময় ছাড়া তো দেখছি ঢাবি ছাত্রদেরও হুঁশ হয় না। এই নকশা তো বহু আগে থেকেই প্রকাশিত, ওনারা তখন কী করছিলেন?

দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞ ঢাকার ছোট্ট একটা জায়গায় পুঞ্জীভূত করে রাখাটাই হয়তো একটা ভুল। আর নির্মাণকালের সময় এই সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞ বাধাপ্রাপ্ত যাতে না হয়, সেজন্য একটা ক্যালেণ্ডার প্রণয়ন করে প্রকল্প পরিচালককে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া যেতে পারে (যেভাবে ইলিশ প্রজনন মৌসুমে পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ থাকে, সেভাবে এটাও বন্ধ থাকতে পারে)। আর পরিবর্তিত পরিকাঠামোর ভেতরে সংস্কৃতি চর্চা করতে শিখতে হবে তো।

ঢাবি ছাত্ররা নিজেদের আবেগকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে যদি যানজটের কারণে নগরের মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগের কথা ভুলে বসে থাকেন, তাহলে তো চলবে না। যে লোক যানজটের কারণে দিনে চার-পাঁচ ঘণ্টা পথে নষ্ট করে, তার কষ্ট লাঘবের জন্য খানিকটা ভাবনা ঢাবি ছাত্রকেও ভাবতে হবে।

যাইহোক এর ছবি

আপনি প্রাক্তন ছাত্র হয়ে যদি সন্ধ্যার পর মেয়েদের তুলে দেয়া বা হ্যারাস করাটাকে কার্জন সংস্কৃতির অংশ হিশেবে দেখে থাকেন তাহলে কিছু বলার নেই।

বিশ্বের সেরা একটি পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম, মেট্রোরেলও যার একটি অংশ, দেখেছি। ট্রেনের ভাইব্রেশন আর বাসের ভাইব্রেশন যে ভিন্ন সেটা আশা করি বোঝেন। এখানে সব বাসা এয়ারটাইট। তাই স্টেশনের আশেপাশের বাসায় শব্দ যায় না তেমন, কাঁপুনি যায়, সেটা মোটেও আরামদায়ক কিছু বলে আমি মনে করতে পারিনি। শাহবাগ থেকে ভার্সিটির ভেতর দিয়ে কয়টা লাইব্রেরী আর ডিপার্টমেন্ট ঘেঁষে লাইনটা গিয়েছে দেখেছেন আশা করি। এগুলোর কয়টা এয়ারটাইট বলতে পারবেন? ভার্সিটি ঢাকার ভেতরে যদি থাকতে দেন তাহলে আর ঝামেলা করবেন না দয়া করে। এর চেয়ে তুলে নিয়ে বাইরে কোথাও দিয়ে আসুন।

মগজের কথাটা আপনি একটু অপমানজনকভাবেই তুলেছেন, যাই হোক, সেটা আপনিই বরং একটু খাটান।

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনি প্রাক্তন ছাত্র হয়ে যদি সন্ধ্যার পর মেয়েদের তুলে দেয়া বা হ্যারাস করাটাকে কার্জন সংস্কৃতির অংশ হিশেবে দেখে থাকেন তাহলে কিছু বলার নেই।

কি বুঝাতে চাইলেন কিচ্ছু বুঝি নাই।

বিশ্বের সেরা একটি পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম, মেট্রোরেলও যার একটি অংশ, দেখেছি। ট্রেনের ভাইব্রেশন আর বাসের ভাইব্রেশন যে ভিন্ন সেটা আশা করি বোঝেন।

ভাইব্রেশন কতটুকু বাড়বে, শব্দ কতটুকু বাড়বে সেটা রিপোর্টে দেখানো আছে। নয়েজ ০.৫% বৃদ্ধি আপনার কাছে খুব বেশি মনে হচ্ছে? ভাইব্রেশনের ব্যাপারে রিপোর্টে উল্লেখ আছেঃ

Vibration intensity using MSS track at the closest point from the pier is within the Japanese standard, and at 12.5 m from the pier is found to be 57.4 VdB for ballast-less track and only 49.9 VdB for MSS track.

এমএসএস ট্র্যাক ব্যবহার করে ৪৯.৯ VdB যেটা মানুষের সাধারণ ভাইব্রেশন এক্সেপ্টেন্সের চেয়ে অনেক কম। একটু গুগল করলেই এই ব্যাপারে আরও অনেক কিছু জানতে পারবেন

ভার্সিটি ঢাকার ভেতরে যদি থাকতে দেন তাহলে আর ঝামেলা করবেন না দয়া করে। এর চেয়ে তুলে নিয়ে বাইরে কোথাও দিয়ে আসুন।

আমি তো প্রতিটা পয়েন্টে আলাদা করেই বলেছি কেন ভার্সিটির সাথে মেট্রো রেল সাংঘর্ষিক না। বিপরীত দাবীর পক্ষে তো জেদ ছাড়া আর কোনও যুক্তি দেখছি না।

মগজের কথাটা আপনি একটু অপমানজনকভাবেই তুলেছেন, যাই হোক, সেটা আপনিই বরং একটু খাটান।

জ্বী অপমানজনক ভাবেই বলেছি। এবং সেটা ইচ্ছাকৃত। ১২ বছর আগে থেকে যেই প্রোজেক্ট নিয়ে কথা শুরু হয়েছে, ৫ বছর আগে যেই রুট ফাইনাল হয়েছে সেটা নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছেন কাজ শুরু হওয়ার পরে। তাহলে তো হয় আপনাদের উদ্দেশ্য ভাল না, চাচ্ছেন এত বড় একটা প্রোজেক্ট যেন বাতিল হয়ে যায়, অথবা মগজে জং ধরেছে।

আর আমার মগজটাতো খাটাচ্ছিই। এক একটা উদ্ভট দাবি করছেন আর গুগল করে অসংখ্য আর্টিকেল পড়ে সেই ব্যাপারে জেনে এসে উত্তর দিতে হচ্ছে। ভেবেছিলাম মরে গেলে অব্যবহৃত মগজটা বিক্রি করে ভাল দাম পাব। আপনাদের জন্য তা আর হবে বলে মনে হচ্ছে না। মন খারাপ

--
ঘুমকুমার

সমুদ্র সন্তান  এর ছবি

মেট্রো রেলের বর্তমান রুটের পক্ষে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আপনার বক্তব্য থাকতেই পারে। কিন্তু যেহেতু আপনি আরেকজনের (কাজল আব্দুল্লাহ) নোট রেফার করে লেখা শুরু করেছেন এবং সেই নোটকে কেন্দ্র করে আপনার বক্তব্য সীমিত রেখেছেন আপনার কাছ থেকে আরেকটু শালীন আর মার্জিত ভাষা আশা করেছিলাম। কমেন্টে অনেকে আপনার আক্রমণাত্মক লাইনগুলো কোট করেছেন দেখে আর পুনরুক্তি করলাম না।

আপনি আন্দোলনকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কাজল আব্দুল্লার নাম এবং তার নোট কোট করেছেন, এবং নিজেকে সাধারণ ছাত্র দাবী করে বলেছেন, এই আন্দোলন সাধারণ ছাত্রদের আন্দোলন নয়, বামাতীদের আন্দোলন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য জামাত শিবির বিএনপির চক্রান্তের অংশ। মাথায় মগজ আপনার সমপরিমাণও যদি না থাকে গড়পড়তা মগজে যা বুঝেছি মোটা দাগে এই আপনার বক্তব্য। কাজল আব্দুল্লাহদের আপনি সাধারণ ছাত্র মানতে রাজী নন, অথচ আপনি নিজে সাধারণ ছাত্র এবং আপনি বিভিন্ন রায় পড়ে শোনালেন যা হওয়া উচিত, যেভাবে হওয়া উচিত, যে সব বিষয়ে আন্দোলন করা উচিত। আপনি ছাত্রলীগকে যেভাবে হার্ড লাইনে যাওয়ার উল্লেখ করলেন তাতে মনে হয় ছাত্রলীগ আদতে কোন ছাত্র সংগঠনই না, কোন বাহিনী, সরকার তাদের হার্ড সফট বিভিন্ন লাইনে ব্যবহার করে থাকে। "ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাই না", আপনার লেখায় কিছুটা স্বগতোক্তির মতই শোনাল।

আমি যতদূর জানি কাজল আব্দুল্লাহ প্রবাসি মুক্তিযোদ্ধা না, দেশী সুশীলও না, বাম দলও করে না, জামাতও করেনা। গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে মাঠে ছিল। প্রয়োজনের সময় সরকারের পক্ষেও ছিল। যে কোন বক্তব্য সরকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গেলে দয়া করে ছাগু ট্যাগ দেয়া বন্ধ করেন। আজকে কাজল আব্দুল্লাহ আপনার কাছে ছাগু ট্যাগ খাইছে। কালকে আপনি যে আর কারো কাছে খাবেন না তার কোন নিশ্চয়তা নেই।

কাজল আব্দুল্লাহর পরিশ্রমী লেখাটার বিপরীতে আপনার লেখা এতই মোটাদাগের যে, ভাবতেই হচ্ছে কাজল তার নামের কারণে আপনার রোষের স্বীকার হলো কিনা। ছয় মাসে কাজ শেষ করে দেবেন, জনদুর্ভোগ নিয়ন্ত্রণে থাকবে, সরকার বলেছে আর্কিউলজিকার সাইট টেক কেয়ার করা হবে সো করা হবে, আপনি ভাই আসলেই মার্শিয়ান। বাংলাদেশ থেকে আপনার জন্য মঙ্গলকামনা। ভাল থাকবেন।

অতিথি লেখক এর ছবি

কিন্তু যেহেতু আপনি আরেকজনের (কাজল আব্দুল্লাহ) নোট রেফার করে লেখা শুরু করেছেন এবং সেই নোটকে কেন্দ্র করে আপনার বক্তব্য সীমিত রেখেছেন

কাজল আবদুল্লাহ-এর লেখাকে রেফারেন্স করার কারন আমি লেখাতেই ব্যাখ্যা করেছি।

গত দু-একদিনে সবচেয়ে বেশি শেয়ার হওয়া নোট কাজল আব্দুল্লাহ নামে একজনের লেখা।

নন-টেক হয়েও উনি প্রোজেক্টটা ভালই বিশ্লেষণ করেছেন। প্রথমত আমি উনার লেখার কিছু বিষয়ে বলবো, এরপর নিজের দুটো কথা যোগ করার চেষ্টা করবো।

আর উনার পয়েন্টগুলোই মূলত আন্দোলনকারীদের বলা পয়েন্ট। অতএব এর বাইরে গিয়ে আর খুব বেশি কিছু বলার প্রয়োজন মনে করি নি।

যে কোন বক্তব্য সরকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গেলে দয়া করে ছাগু ট্যাগ দেয়া বন্ধ করেন।

সেটা কোথায় দিলাম?

কাজল আব্দুল্লাহর পরিশ্রমী লেখাটার বিপরীতে আপনার লেখা এতই মোটাদাগের যে, ভাবতেই হচ্ছে কাজল তার নামের কারণে আপনার রোষের স্বীকার হলো কিনা।

আমি মোটামুটি অলস এবং কম বুদ্ধির মানুষ। লেখা মোটা-দাগের হওয়ায় দুঃখিত। অনেক কিছুই বুঝি না। গুগল করে করে বুঝতে হয়। যেমন ধরেন ভূমি থেকে উলম্ব-ভাবে কিভাবে রেল-লাইন যায় ইত্যাদি। কিন্তু নামের সাথে রোষের স্বীকার হওয়ার সম্পর্ক বুঝলাম না!

ছয় মাসে কাজ শেষ করে দেবেন, জনদুর্ভোগ নিয়ন্ত্রণে থাকবে, সরকার বলেছে আর্কিউলজিকার সাইট টেক কেয়ার করা হবে সো করা হবে

তাই বলে ৪ বছরের কাজের ৪ বছরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ চলবে এটাও খুব বুদ্ধিমানের মত কথা না। আগের কমেন্টে আমি এই পয়েন্ট নিয়ে বলেছি।
সরকার বলেছে "টেক কেয়ার" করা হবে এবং কিভাবে করা হবে সেটাও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। যদি আপনার কাছে বিকল্প গবেষনাপত্র থাকে যেটা প্রমান করে যে সরকার যে পদ্ধতি বলছে সেভাবে "টেক কেয়ার" করা সম্ভব না দয়া করে প্রকাশ করুন। অথবা সরকার যেন তার কথা মত কাজ করে সেটা নিয়ে সরকারকে চাপে রাখুন। "সরকার বলেছে কিন্তু সরকার করতে পারবে না" - শুধু এই বিশ্বাসটা তো এত বড় একটা প্রকল্পের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট না বলেই আমি মনে করি। তাহলে তো পদ্মা সেতু শেষ হলেও সেটায় গাড়ি নিয়ে ওঠা ঠিক হবে না - সরকার বলেছে এটা সেফ, কিন্তু সেটা তো বিশ্বাসযোগ্য না!

আপনার কমেন্ট পড়ে মনে হলো, মূল লেখার যেখানেই যতভাবে টেকনিক্যালি ব্যাপারগুলো বলার চেষ্টা করেছি সব বাদ দিয়ে আপনি আমাকে নির্দিষ্ট গোত্রভুক্ত করার চেষ্টা করছেন বা জোর করে আমার মুখে কথা বসাতে চাচ্ছেন। জ্বী, এই আন্দোলনের কারণে আমি ভীষন ক্ষিপ্ত এবং উদ্বিগ্ন। ২৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এই আন্দোলনের কারণে।

--
ঘুমকুমার

অতিথি লেখক এর ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পুরো প্রকল্পের ১০% এলাকা হলে সর্বোচ্চ ৬ মাস নির্মাণকালীন যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে।

শুধু এই লাইনটুকুই আপনার পুরো লেখার মান প্রতিফলনের জন্য যথেষ্ট। কোন কিছু জানার জন্য গুগোল ব্যাবহার করা ভাল; তবে গুগোল করেই যদি মনে করেন জীবনের সব বাস্তব জ্ঞান পেয়ে যাবেন আর মানুষকে জ্ঞান বিতরন করে ধন্য করবেন তাহলে আপনাকে আর বেশি কথা বলে লাভ নেই। সুধু কয়েকটা পরামর্শ দেই।
১। এক সপ্তাহ মালিবাগ মগবাজার এর রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়া করেন আর শেষ দিন রাস্তার আশে পাশের মানুষদের কে জিজ্ঞাসা করেন কবে নাগাদ ফ্লাইওভার এর কাজ শেষ হবে আর এর জন্য আপানাদের কি অসুবিধা হচ্ছে? যে উত্তরটা পাবেন তার সাথে এই প্রজেক্টের EIA রিপোর্টা মিলিয়ে নেন। কিছু বাস্তব জ্ঞান অর্জিত হবে।
২। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার এর নিচের রাস্তা ( দয়াগঞ্জ-জয়কালী মন্দির) দিয়ে বেশ কিছুদিন আসা-যাওয়া করেন আর রাস্তার আশে পাশে যাদের বাড়ি তাদের কে জিজ্ঞাসা করেন এই ফ্লাইওভার এর কাজ কতদিন আগে শেষ হয়েছে আর উনারা এখন কেমন আছেন? EIA রিপোর্টা মিলিয়ে নিতেও ভুলবেন না যেন।
৩। কেউ লেখা যুক্তি দিয়ে কেউ আবেগ দিয়ে, দিন শেষে যুক্তিরই জয় হয়, কখনও হয়তো আবেগটা জিতে যায়। কাজল সাহেব অনেক কিছুই আবেগ নিয়ে লিখেছেন। তার বিপরীতে আপনি যে লেখাটা লিখলেন তাতে বড্ড ভাড়াটে ভাড়াটে গন্ধ। যারা মেট্রোর রুট পরিবর্তন করতে চান তারা উন্নয়ন বিরোধী, একবার কাজ বন্ধ হয়ে গেলে প্ল্যান করতে আবার পাঁচ বছর লেগে যাবে, জাইকা টাকা না দিলে কি হবে এই সব বালখিল্য যুক্তি নিয়ে ত্যানা প্যাচানোর আগে দুইটা কাজ করেন এক- গুগোল করে যুক্তি শাস্ত্রের প্রাথমিক কিছু ধারণা নেন, দুই- পদ্মা সেতুর নির্মান কাজ এর ইতিহাসটা একটু ভাল করে অধ্যয়ন করুন।
-আতোকেন

অতিথি লেখক এর ছবি

টাইমলাইনের ব্যাপারে ১২ নম্বর কমেন্টে বলেছি। বার বার একই কথা বলার মানে হয় না।

১। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নির্মানকাজের "টাইমলাইন" যেন মেইনটেইন করা হয় সেটা নিয়ে তো আপনারা আন্দোলন করছেন না! সেটা নিয়ে সরকারকে চাপ দিলে তো আমার আপত্তির কোনই কারন নাই।
২। উপরের পয়েন্ট দ্রষ্টব্য।
৩। সরকারের কাজের পক্ষে লিখলেই তো ভাড়াটে লীগ লীগ গন্ধ লাগে। আপনাদের আন্দোলনের মূল উদ্যেশ্যই যদি হয় সরকারের বিরোধিতা তাহলে আর কিছু বলার নাই।

আপনার কমেন্টের মূল বক্তব্য হচ্ছে ইআইএ রিপোর্টে যাই থাকুক তার কিছুই মানি না। তাহলে তো আসলে কথা বলে লাভ নাই। শুধু শুধু ত্যানা প্যাঁচায়ে লম্বা করা হবে।

--
ঘুমকুমার

অতিথি লেখক এর ছবি

নাহ, বাস্তব জ্ঞান অর্জনের দিকে আপনার তেমন কোন আগ্রহ দেখা গেলনা। আপনার লেখায় লেপ্টে থাকা ভাড়াটে গন্ধটা লীগ লীগ না, বরং তৃতীয় বিশ্বের কোন দেশ দেখলেই উন্নয়ন ফেরি করতে ব্যস্ত হওয়া হাতুড়ে ডাক্তারের পিছনে হাতুড়ি-বাটালের ব্যাগ হাতে ঝিমুতে ঝিমুতে ছুটে চলা কম্পাউন্ডারের মত।উপরে হাসিব ভাই যেমন বলেছেন-

ঢাবির উপর দিয়ে মেট্রোরেল প্রজেক্ট বাস্তবায়নে তারা হাতুড়ি বাটাল নিয়ে শারিরীক কামলা খাটতেও রাজি

EIA রিপোর্ট নিয়ে আপনার অনেক আস্থা আর অধ্যয়ন আছে বলে মনে হলো। এই রিপোর্টা নিয়েই কয়েকটা প্রশ্ন করি।
১। নভেম্বর ২০১৫ তে প্রকাশিত EIA রিপোর্ট নিয়ে জানুয়ারি ২০১৬ তে ঢাবির ছাত্র-ছাত্রীদের কথা আপনার কাছে আপনার কাছে কেন শেষ সময়ের হাউকাউ বলে মনে হচ্ছে??
২। EIA রিপোর্টের ১০৯ নং পৃষ্ঠায় এই ড্যাটা টেবিল আর গ্রাফ সম্পর্কে আপনার মতামত কি?

-আতোকেন

অতিথি লেখক এর ছবি

১। এমআরটি-৬ রুট ফাইনাল হয়েছে ২০১১ তে। রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্ত্বর, টিএসসি সবকিছুই তখনও বর্তমান ছিল।
২। বুঝলাম না কি হয়েছে এই টেবিলে?

--
ঘুমকুমার

অতিথি লেখক এর ছবি

১। ২০১১ তে এই আন্দোলন করলে আপনারা বলতেন EIA রিপোর্ট এখনো আসে নাই,শিক্ষার্থীরা কিভাবে বুঝল যে ঢাবির পরিবেশ নষ্ট হবে? এখন করায় বলতেছেন, শেষ সময়ে হাউকাউ করে প্রজেক্ট বাতিল করার ষড়যন্ত্র। প্রজেক্টর টাইমলাইন সরকার যেন ঠিক রাখে এইটা নিয়ে আন্দোলন করা উচিত। সরকার প্রজেক্টর টাইমলাইন ফেল করার পর আন্দোলন করলে, আপনি না দিলেও অন্যকেউ এসে শিক্ষার্থীদের সরকার/উন্নয়ন বিরোধী তকমা দিয়ে দিবে। আপনি দ্বিমত প্রকাশ করতে পারেন তবে আমার মতে EIA রিপোর্ট প্রকাশ হবার পর আন্দোলন করাটাই যুক্তিযুক্ত, কারন এর আগে প্রজেক্টের উপর কোন প্রপার পাবলিক ডকুমেন্টেশন ছিল না। আর পরে করেও কোন লাভ নেই, কারন তাতে করে সরকার/উন্নয়ন বিরোধী তকমা লাভ করা ছাড়া অন্য কিছু অর্জন করা যাবে নাকি সে ব্যাপারে আমি সন্দিহান।

২। EIA রিপোর্টের ৭৭ নং পৃষ্ঠায় (পিডিএফ ফাইলের ১০৯ নং পৃষ্ঠায়)ড্যাটা টেবিল আর গ্রাফ দিয়ে
ওয়ার্ড ভিত্তিক শিক্ষার হার এবং সেক্স রেশিও এর মধ্যে কোরিলেশন এর অবস্থা দেখার চেষ্টা করা হয়েছে। দুটো ভেরিএবলের মধ্যে কোরিলেশন দেখার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত গ্রাফ হল স্ক্যাটার প্লট। বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলে যে সব ডিগ্রির কোর্স কারিকুলামে পরিসংখ্যান-১০১ কোর্স আছে তাদের সবারই পরিসংখ্যানের এই সাধারন জ্ঞানটুকু থাকার কথা। কিন্তু EIA রিপোর্টে স্ক্যাটার প্লটের বদলে করা হয়েছে লাইন গ্রাফ। এই লাইন গ্রাফটা কিন্তু প্রপার লাইন গ্রাফও না। কারন X-এক্সিসে/Y-এক্সিসে কোন কোন ভেরিএবল প্লট করা হয়েছে তার কোন উল্লেখ নেই, উপরন্তু Y-এক্সিসে দুইটি ভিন্ন ভেরিএবলকে প্লট করা হয়েছে।
২৮ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্টের EIA রিপোর্ট কত কোটি টাকার প্রজেক্ট? ব্যপারটা এমন নয় যে EIA রিপোর্টে এই ভুলের কারনে এর বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্যের কোঠায় নেমে গেছে। কিন্তু এই ধরনের শিশুতোষ ভুল, EIA রিপোর্ট যারা করেছেন এবং যারা রিভিউ করেছেন , তাদের দায়সারা গোছের মনোভাবই তুলে ধরে।

-আতোকেন

কাজল আব্দুল্লাহ এর ছবি

ভাই ঘুমকুমার, আমি ব্লগে নিয়মিত নই। আমি কিছু যুক্তি দিয়েছি পুরোটাই রিপোর্টের ইআইএ ধরে। আমার লেখাটি পড়ে আমার জবাব দেয়ার ইচ্ছে হয় নি, কারণ যুক্তি খন্ডনের চেয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণে ভরপুর। ব্যাকগ্রাউন্ড না জেনে ট্যাগানো ঠিক না ব্রাদার। মেট্রোরেলের বিরোধিতা করায় বামাতি ট্যাগ দিয়ে দিলেন, দুম করে। এটা থেকেও আপনার বিচারবুদ্ধি অথবা উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছুটা আঁচ পেয়েছি।
তারপরেও একটু ইচ্ছা ছিলো, কিন্তু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পুরো প্রকল্পের ১০% এলাকা হলে সর্বোচ্চ ৬ মাস নির্মাণকালীন যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে।

আপনার এই মন্তব্য পড়ে দেখে আমি আর ভাষা খুঁজে পাইনি। এই ভুলটা অনেকে ধরিয়ে দেয়ার পরও আমি দুঃখ প্রকাশ না করে গোঁয়ার্তুমি করে যাচ্ছেন দেখে আরো আগ্রহ পাই নি। আমার এ অক্ষমতা ক্ষমা করবেন।

---- কাজল আব্দুল্লাহ

কাজল আব্দুল্লাহ এর ছবি

(আগের কমেন্টে আমি/আপনি সংক্রান্ত কিছু টাইপিং মিসটেক আছে। আগেরটা ইগনোর করুন। এটা পড়ুন)

ভাই ঘুমকুমার, আমি ব্লগে নিয়মিত নই। আমি কিছু যুক্তি দিয়েছি পুরোটাই রিপোর্টের ইআইএ ধরে। আপনার লেখাটি পড়ে আমার জবাব দেয়ার ইচ্ছে হয় নি, কারণ এটি যুক্তি খন্ডনের চেয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণে ভরপুর। ব্যাকগ্রাউন্ড না জেনে ট্যাগানো ঠিক না ব্রাদার। মেট্রোরেলের বিরোধিতা করায় বামাতি ট্যাগ দিয়ে দিলেন, দুম করে। এটা থেকেও আপনার বিচারবুদ্ধি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ অথবা উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছুটা আঁচ পেয়েছি।
তারপরেও একটু ইচ্ছা ছিলো, কিন্তু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পুরো প্রকল্পের ১০% এলাকা হলে সর্বোচ্চ ৬ মাস নির্মাণকালীন যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে।

আপনার এই মন্তব্য পড়ে দেখে আমি আর ভাষা খুঁজে পাইনি। এই ভুলটা অনেকে ধরিয়ে দেয়ার পরও আপনি দুঃখ প্রকাশ না করে গোঁয়ার্তুমি করে যাচ্ছেন দেখে আরো আগ্রহ পাই নি। আমার এ অক্ষমতা ক্ষমা করবেন।

---- কাজল আব্দুল্লাহ

অতিথি লেখক এর ছবি

কাজল আব্দুল্লাহ,
দেখুন, আপনার প্রতি আমার কোনও ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নেই। আপনাকে আমি চিনিই না, ব্যক্তিগত আক্রমন কেন করবো? আমার ক্ষোভের জায়গাটা আন্দোলনের ব্যাপারে। আপনার লেখাটা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহারের কারণ আমি শুরুতেই ব্যাখ্যা করেছি। আর আপনার লেখাটাই সবচেয়ে গোছানো মনে হয়েছে যেখানে সবগুলো দাবিকেই মোটামুটি লিপিবদ্ধ করেছেন। লেখার কিছু কিছু যায়গায় আন্দোলনের প্রতি বিরূপ ভাবটা প্রকাশ পেয়েছে। ব্যক্তিগত ভাবে আপনি আক্রান্ত বোধ করে থাকলে আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পুরো প্রকল্পের ১০% এলাকা হলে সর্বোচ্চ ৬ মাস নির্মাণকালীন যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে।

জ্বী, এই একটা পয়েন্ট নিয়ে অনেকেই কথা বলেছেন। প্রাকটিক্যালি চিন্তা করলে বাংলাদেশে কোনও প্রকল্পই ঠিক সময়ে শেষ হয় না। কিন্তু আমার বক্তব্য কিন্তু সেটা না।

এরকম বড় প্রোজেক্ট সেগমেন্টে ভাগ করে করে কাজ করা হয়। ঢাকা-চিটাগাং হাইওয়ের কথা চিন্তা করেন। অনেক অংশে এখনই চার লেন দিয়ে গাড়ি চলে। আবার অনেক অংশে এখনও মাটি খোড়াখুড়ি চলছে।

আপনার কথা মত তাহলে তো ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের পুরো অংশেই এখনো বড় বড় যন্ত্রপাতি নিয়ে মাটি খুড়াখুড়ি চলার কথা তাই না?

৪ বছরের প্রকল্পের ৪ বছর ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দূষণ হবে না। পুরো প্রকল্পের সময়ের একটা আংশিক সময় জুড়ে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কর্মযজ্ঞ চলবে। ৪ বছর কে ৮ বছর করলেও সেই আংশিক সময়টা দ্বিগুণ হবে। পুরোটা সময় একটা সেগমেন্টে কন্সট্রাকশনের দূষণ হবে এটা কোনও যৌক্তিক কথা হতে পারে না।

--
ঘুমকুমার

অতিথি লেখক এর ছবি

যারা মেট্রোরেলের EIA রিপোর্টের বিকল্প গবেষণাপত্র ছাড়া কিছুই মানতে রাজি নন এবং EIA রিপোর্টের পর্যালোচনা করে রুট পরিবর্তনের দাবিকে শেষ সময়ের হাউকাউ বলে আখ্যা দিতে চান তাদেরকে এই প্রতিবেদনটা (ইমেজ ব্যাকআপ) পড়ে দেখার অনুরোধ জানাই। প্রতিবেদনের কিছু অংশ এখানে উল্লেখ করা দরকার মনে করছি।

মেট্রোরেলের জন্য পরিচালিত ‘হিস্ট্রিক্যাল ইমপোর্ট্যান্স/আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে’ শীর্ষক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রত্যক্ষ সমীক্ষা ছাড়াও এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) তথ্য। পাশাপাশি নেয়া হয়েছে বিশেষজ্ঞদের মতামত। ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পের অধীন সমীক্ষাটি পরিচালনা করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ঢাকা গণপরিবহন কোম্পানি।
সমীক্ষার তথ্যমতে, মেট্রোরেল নির্মাণকালে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে ঢাকার ২০টি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। প্রত্নতাত্ত্বিক এসব নিদর্শনের আটটি রয়েছে মেট্রোরেলের রুটের মধ্যে। এগুলো হলো— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার রাজু ভাস্কর্য, ঢাকা গেট, দোয়েল চত্বর, কদম ফোয়ারা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান (রেসকোর্স ময়দান), মতিঝিলের শাপলা চত্বর, কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা ও জাতীয় সংসদ ভবন।

সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় জাতীয় সংসদ ভবন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শনের বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন ঢাকা শহর-বিষয়ক গবেষকরা। কারণ ২০ কিলোমিটার রুটে এটি ৭১টি ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনকে স্পর্শ করবে। এগুলো কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর ২০টি নিদর্শন বড় ধরনের ঝুঁকিতে আছে। তাই এর রুট পরিবর্তন করে জাতীয় সংসদ ভবনের পরিবর্তে বিজয় সরণি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে রমনা পার্ক হয়ে মত্স্য ভবন দিয়ে নেয়ার সুপারিশ করা হয়

সমীক্ষা পরিচালনাকারী দলের প্রধান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এমএম হক বলেন, মেট্রোরেলের রুট পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয় গত বছর। তখন মেট্রোরেলের বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন ও সয়েল টেস্টের কাজ চলছিল। প্রতিবেদনের সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে তখনই রুট পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়া যেত। তাহলে আর আন্দোলন হতো না।

-আতোকেন

অতিথি লেখক এর ছবি

তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী তারা মেট্রোরেলের রুট পরিবর্তনের প্রস্তাব করেননি বলে জানান অধ্যাপক মোজাম্মেল।

সতর্কতা অবলম্বন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য দিয়ে মেট্রোরেলের রুট নেওয়া হলে কোনো ক্ষতি হবে কি না জানতে চাইলে অধ্যাপক মোজাম্মেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সাউন্ড প্রুফ ও ভাইব্রেশন মিনিমাইজ করলে তা হবে না।”

সূত্রঃ সংবাদের লিঙ্ক

--
ঘুমকুমার

নাদভী  এর ছবি

দেখুন ভাই, আপনি যদি আপনার দেশের ইতিহাসের অংশগুলোকে সংরক্ষিত করতে না পারেন তাহলে কিন্তু আজ থেকে ২০-৩০ বছর পর এমন একটা প্রজন্ম বাস করবে যারা নিজেদের অতীত কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করবে না। যে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো আছে, সেগুলো যে শুধু প্রাচীন সময়ের ঐতিহ্য বহন করে এমনটা নয়। আমরা যাতে নিজেদের অতীতের কাছে ফিরে গিয়ে নিজেদের চিনতে পারি, জানতে পারি - সেই কাজটিও করে। এর একটা দার্শনিক দিক আছে। আপনি যদি উন্নত বিশ্বের সাথে নিজেকে মেলাতে বদ্ধপরিকর হয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই আপনাকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণের ব্যাপারে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিতে হবে। আপনার অবকাঠামোগত উন্নয়নের আগে হওয়া উচিত আত্মিক উন্নয়ন নাহলে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট হবে না কারণ ততদিনে আপনি তৈরি করতে থাকবেন একটা বোধশক্তিহীন প্রজন্ম।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA