সোনা-রূপার স্মৃতি

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: রবি, ১৩/০৩/২০১৬ - ১:৪১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ছলাৎ ছলাৎ শব্দে এগিয়ে যাচ্ছিল আমাদের নৌকা। পানি, নৌকা ছুইঁ ছুঁই করছে। চারপাশে ভেসে যাচ্ছে সবুজ সবুজ কচুরিপানা, বৈঠার প্রতিটা টানে আমরা ছাড়িয়ে যাচ্ছি আঁখের ক্ষেত, ধান ক্ষেত, ইটের ভাটা, এই গ্রাম , ঐ গ্রাম, এই ঘাট, সেই ঘাট। কখনো চোখে পড়ছে মরা গরু ভেসে যাচ্ছে, কখনো ভাঙ্গা ঘরের অংশ, কখনো বাচ্চাদের পানিতে লাফিয়ে পড়ে গোসল করা, কখনো ঝাপ করে বৃদ্ধ দাদুর জাল ছুড়ে মারা, কখনো গৃহবধূর লজ্জায় কাপড়ে মুখ লুকানো। মাথার উপর সূর্য, জলের উপর তাপের ঝিকিমিকি খেলা। ঝিরঝির বাতাস......। মনে পড়ে যায় বার বার।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ প্রহরের দিকে একশ নম্বরের রিচার্স মনোগ্রাফ সম্পাদন করতে "হালদা নদী ও নদীপাড়ের মানুষের জীবনকে" বেছে নিয়ে ছিলাম। প্রথম কারণ ছিল একশ নম্বরের বাহনকে "নৌকা" বানানো। দ্বিতীয় কারণ ছিল সাতার না জানা সত্ত্বেও নদীর প্রতি দূর্বলতা। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার সাথে যাযাবর(নদী ভাঙ্গনে বাস্তুহারা) জীবনের স্বরুপ এবং দুইয়ের মাঝামাঝি যে জীবন অর্থাৎ নদী কেন্দ্রিক জীবনের রাইট অফ প্যাসেজকে তুলে ধরা। সকল প্রস্তুতি নিয়ে প্রথমেই নৌকা ভ্রমণ করার মন স্থির করেছিলাম। সঙ্গী ছিল দুই বন্ধু আর ছোট ভাই। এর পিছনে উদ্দেশ্য ছিল দুটিঃ নৌকার মাঝির সাথে সখ্যতা তৈরী করা (কেস স্টাডির অংশ ) ও ভ্রমণের মাধ্যমে গবেষণার এলাকাকে নির্বাচন করা। এভাবে সারাটা দিন, পুরোটা সময় হালদা নদী আর নদী পাড়ের মানুষগুলোর সাথে অতিবাহিত করেছিলাম।

নৌকায় বসে পান করেছিলাম সদ্য মূল উৎপাটন করা আখের রস। দেখেছিলাম জল নিয়ে শুশুকের খেলা। নদী আকড়ে বেঁচে থাকা মানুষের জীবন যাপন। সেই সাথে জলের ছলাৎ ছল শব্দে শুনেছিলাম নদীর বুকে শেষ সম্বল (ঘর আর চাষাবাদের জমি )বিলীন হয়ে যাওয়া মাঝির জীবনের গল্প। দুপুর গড়িয়ে বিকেল ,চায়ের তেষ্টা পেয়েছিল। নৌকা ঘাটে ভিড়িয়ে চাচা(মাঝিকে সারাদিন এই নামে সম্বোধন করেছিলাম) নিয়ে গেল এক সময়কার জমজমাট ঘাট ঘিরে গড়ে উঠা বাজারের চায়ের দোকান। আধুনিকতার ছোঁয়া , মোটর চালিত যান, মাছের অভয়ারণ্য তৈরী করার প্রচেষ্টা সব মিলিয়ে ঘাট আর বাজার দুই-ই নিষ্প্রাণ ছিল। তবে ধোঁয়া উঠা চায়ে ফু দিয়ে সময়টাকে ভালোই বেধেঁছিলাম।

গবেষণা কর্মটি সম্পূর্ণরূপে জমা দেওয়ার সময় সীমা ছিল খুব অপ্রতুল মাত্র ত্রিরিশ দিন (সেশন জট কমাতে গিয়ে)। গবেষণার স্থান, শিরোনাম আর উদ্দেশ্য সাজাতেই প্রথম সপ্তাহের কয়েকটা দিন শেষ হয়ে গিয়েছিল। আর শেষ সপ্তাহ গেল অধ্যায় সাজানো , টাইপিং, বাইন্ডিং করে। মাঝখানের দুই সপ্তাহ ছিল আমার অভিজ্ঞতা আর গবেষণার উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার দিন। যেভাবে চেয়ে ছিলাম সেভাবে অনেক কিছু করতে পারিনি। কেননা অচেনা একজন মানুষকে সহজ ভাবে নিতে ,নিজেরদের কথা গুলো আপন করে বলা সময়ের ব্যাপার। দুই সপ্তাহ তার জন্য যথেষ্ট ছিল না। তারপ উপর এলাকার বিভিন্ন শুমারী ভিত্তিক তথ্য , উপাত্ত সংগ্রহ করতে বিভিন্ন মহলের অনুমতি নেওয়া , সাহায্য সহযোগিতা নেওয়া , উপজেলার কর্মকর্তাদের অফিস আওয়ারে গিয়েও না পাওয়া, আজ গেলে কাল আসুন অবস্থা, নিজের সময় মত গবেষণার মানুষগুলোকে এক সাথে পাওয়া, তাদের সময়ের সাথে সময় মিলানো , সব মিলিয়ে আমাকে গবেষণার উদ্দেশ্যেকে কিছুটা কাট ছাট করতে হয়েছিল । সত্তরঘাট-মদুনাঘাট(ডিম ছাড়ার স্থান) , দীর্ঘ এলাকায় কাজ করা অল্প সময়ে অসম্ভব, তাই গবেষনা এলাকাকে একটি ইউনিয়নের(যা ডিম ছাড়ার নিদিষ্ট এলাকার অন্তর্গত) মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে হয়েছিল।

মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে নৌকায় আর চড়া হয়নি, শহুরে মোটর গাড়ি চড়েছি, কোথাও কোথাও রাস্তা ভেঙে হাঁটতে হয়েছে। দেখেছি নদী পাড়ের মানুষ গুলোর সারল্য, দেখেছি নদী ভাঙ্গনে সৃষ্ট যাযাবর জীবন , দেখেছি জাল বিহীন জেলে,নৌকা বিহীন মাঝি নিয়ে মধ্যসত্ত্বভোগীর ভোগ বিলাস। দেখেছি আধুনিকায়নের সাথে সাথে প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতার হুমকিতে পড়ে জল-জাল-জেলেদের পরিবর্তিত জীবন । রাজনৈতিক দাপটে নদীর বাকঁ কেটে , বারোটা বেজে যাওয়া নদীর অবস্থা, তেমনি দেখেছি পরিবর্তিত জীবনকে ধারণ করার জন্য সহ যোগিতা স্বরূপ সরকারী পর্যায়ে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে গ্রামীণ পর্যায়ে দলীয়করণের রূপ, অর্থাৎ একজন ডিম সংগ্রহকারী ,একজন মাঝি, একজন জেলে, যারা এক সময় হালদাকে আকড়ে বেচেঁ ছিল, যারা এক মৌসুমের সংগৃহীত ডিম বিক্রি করে সারা বছর চলতে পারত, কিন্তু আজ যারা "প্রান্তিক " উপাধি নিয়ে দারিদ্রতার সাথে লড়ছে, দেখা যায় তাদের নিয়ে চলছে রাজনীতি। এ নিয়ে পত্রিকায় লেখালেখি হয়েছে, অনেক গবেষণা কর্ম হয়েছে,হচ্ছে তাই বিশদে গেলাম না। গবেষক হিসেবে তিরিশ দিনের অনুভূতি আর কিছু অনন্য অভিজ্ঞতা ছিল আমার শিক্ষা জীবনের বিশেষ প্রাপ্তি। যা নানা রঙয়ের স্মৃতির খাতায় বন্দী। সেই খাতা থেকে আজ হালদা নদীর বিশেষত্বকে ঘিরে যে সংষ্কৃতি ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছে আমার চোখে দেখা তার একটি ঝলক তুলে ধরছি।

হালদা নদীর বিশেষত্ব ও অনান্য নদীর চেয়ে তার স্বতন্ত্রতার দৃশ্য দেখতে হলে রুই জাতীয় মাছের ডিম ছাড়ার মৌসুমে(বর্ষা) যেতে হবে। মাছ ধরা নিত্য ব্যাপার কিন্তু ডিম সংগ্রহকে কেন্দ্র করে নদী কেন্দ্রীক মানুষগুলোর ঘরে বাইরে চলে বিশেষ প্রস্তুতি। যার জাল নেই ,সে জাল ভাড়া করে। যার নৌকা নেই ,নৌকা ভাড়া করে। যার কোনটাই নেই সে মহাজনের নৌকায় কাজ করে। এই মৌসুম অনেকটা উৎসবের আমেজ নিয়ে আসে(এখন আসে কিনা জানি না কেননা তারা জানিয়ে ছিল আগের মত ডিম পাওয়া যায় না। তাই তারা এই পেশা ছেড়ে দিচ্ছে)। ডিম সংগ্রহকারীরা(জেলে,মাঝি) ডিম সংগ্রহের জন্য তৈরী বিশেষ নৌকা সাহায্যে সংগৃহীত ডিম নদীর পাশে বিশেষভাবে তৈরী কুয়াতে রেখে পরিচর্যা করে , বিক্রি করে। কুয়াতে থাকার দিন যত পুরান হয় , দাম তত কম হয়। যত নতুন তত দর বেশি। অবশ্য এর চাহিদা এতো বেশি যে পুরান হওয়ার সুযোগ থাকে না। হ্যাচারী মালিকদের কাছে বিক্রি হয়ে যায়। তাছাড়া এলাকার ভেতরের মহাজন কিনে ,তা নিজের পুকুরে পরিচর্যা করে পোনা হিসেবেও বিক্রি করে। এভাবে (ডিম -রেনু-পোনা-মাছ ) সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
ডিম সংগ্রহের কৌশল বংশধারায় সবাই জানে। এর জন্য বিশেষ জাল ও নৌকার প্রয়োজন হয়। বংশ ধারায় নদীকেন্দ্রিক ভবিষ্যত প্রজন্ম শৈশব থেকে তা যেন আয়ত্ব করে নেয়। কিভাবে বড়শি বানাতে হয়, ছিপ কিভাবে ফেলতে হয়, কোন মাছ কোন জালে আটকা পড়ে। তারা জাল বুনতেও জানে,নৌকাও তৈরী করে।

যে যার যার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে , বিশেষ প্রার্থনা করে, পূজা করে যেন এই মৌসুমে বেশি লাভ করতে পারে। নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করার পর সেগুলোকে কুয়াতে রাখতে হয়। তাই সবাই কুয়ার জন্য নির্ধারিত জমিকে আয়তক্ষেত্রের মত করে কেটে কুয়া তৈরী করে। যেখানে পরিচর্যার অংশ হিসেবে পানি পরিবর্তনের বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। ডিম রাখার পর সেই স্থানে সর্ব সাধারণের প্রবেশ সীমিত হয়ে যায়। অপবিত্র অবস্থায় সেখানে কাউকে যেতে দেওয়া হয় না। বিশেষত্ নারীদের ঋতুকালীন সময়ে যাওয়া নিষেধ। পরিচর্যার অংশ হিসেবে কুয়ার উপরে জালের মত জালি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। সেই স্থানে সোনা-রূপা চুবানে পানি ছিটানো হয়,বদ নজর সহ অশুভ কিছুকে দূরে রাখার জন্য। বিশেষ পানি দিয়ে (যেমনঃ সোনা রুপা চুবানো, পরানো পানি, পূজার পানি) নৌকা সহ ডিম সংগ্রহের সকল রকম সরঞ্জামের উপর ছিটানো হয়। যেন ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়। আবার ফলের গাছেও কাপড় বেঁধে দিতে দেখা যায়, বদ নজর এড়াতে।

ভাগ্য সুপ্রসন্ন আজো আছে কিনা জানি না। তবে তাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের কাউকে আর বাপ-দাদার পেশায় থাকতে আগ্রহী দেখিনি। যার হাওয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল তখন থেকেই। কাউকে পেয়েছি রিকশা চালক হিসেবে, কাউকে সিন এনজি চালক কিংবা দর্জি বা কাঠমিস্ত্রি হিসেবে। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ণরত প্রজন্মও পেয়েছি। স্থলের মানুষের(বহিরাগত মৌসুমী জেলে, তাদের ভাষায় 'বাবু জেলে') নানা রকম অত্যাচারে জলের মাছেরা অভিমান করেছে অনেক আগেই। তাই জেলেরা জালের পর জাল টেনেও তাদের সে ভাগ্যের দেখা পেতে বেলা ফুরিয়ে যায়,বলে জানিয়েছিল । অনেকে মাঝি আর জেলে উপাধি ছেড়ে, মাছ ব্যবসায়ী(শহর থেকে মাছে এনে গ্রামের হাটে বিক্রি),সওদাগর, বাজে মালের দোকানদার উপাধি গ্রহন করলেও "ডিম সংগ্রহকারী' উপাধি তারা ত্যাগ করেনি। করবে বলে মনেও হয়নি। কেননা এটি তারা যতটা না ব্যবসার কারণে করে থাকে, তার চেয়ে বেশি করে ঐতিহ্য আর নদীর সাথে যুগে যুগে গড়া টানের কারণে । তাই লাভ হোক আর লোকসান, ডিমের পরিমান কম/বেশি হোক, সেই মৌসুমে তারা ঘরে থাকতে পারে না। এমনকি তাদের প্রজন্মরা ফরমাল-ইন পেশায় থাকলেও, মেঘের গর্জন শুনে তারাও লুঙ্গী-গামসা নিয়ে তৈরী হয়ে পড়ে, দুই হাতে মা মাছের সদ্য প্রসব করা রোপালি ঝিলিকের সে অনন্য সৃষ্টির(ডিমের) স্পর্শ পেতে, সেই অনন্য অনুভূতি আর অতুলনীয় মুহুর্ত যে কেউ পেতে চায়, বারংবার। দাদার কাছে গল্প শুনে শুনে নাতিও স্বপ্ন দেখে একদিন সেও যাবে মাছের ডিম ছাড়া দেখবে, এ যেন নাড়ীর সাথে সম্পর্কিত, তাই তারা(হালদা সম্প্রদায়) কোন রাডার ছাড়াই বুঝতে পারে কোন বর্ষনে আর কোন গর্জনে মা মাছ ডিম ছাড়ে। আর তাই যতদিন নদী আছে, মা মাছ আসবে , ডিম ছাড়বে বেশি বা কম , ততদিন তাদের সোনা-রূপার সংষ্কৃতি আছে, বছরের পর বছর, হাজার বছর ।

ইচ্ছা আছে আবারো যাবার।
এ্যানি মাসুদ


মন্তব্য

আয়নামতি এর ছবি

বংশপরম্পরায় কিছু কুসংস্কার আঁকড়ে বেঁচে থাকেন দেখি এরা! কেমন নম্বর পাইয়াছিলেন গবেষণাপত্রে?
ট্যাগের মেদভূঁড়ি কমিয়ে সিক্সপ্যাক বা জিরো ফিগারে নিলে দেখতে ভালুলাগে কিন্তু চোখ টিপি
লেখালিখি জারি থাকুক হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

ক্যারিনা-ঋত্বিক জুটিরে মাথায় রাখবো। নাম্বার যথেষ্ট সম্মানজনক পাইয়া ছিলাম ।:) আর আমি সংষ্কৃতিকে "কুসংষ্কার" বা মন্দ/ভাল বলতে বা লিখতে পারি না। যা আমার বিষয়গত জ্ঞানকান্ডের পরিপন্থি।নতুবা গবেষনা কর্ম পক্ষপাত দোষে দুষ্ট হইবে।
উৎসাহ জারি থাকুক
এ্যানি মাসুদ

অতিথি লেখক এর ছবি

চমৎকার লেখা, ভালো লাগলো।

ফাহমিদুল হান্নান রূপক

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক লেখাটা কিন্তু একটানেই পড়ে ফেললাম, ঝরঝরে সুন্দর গদ্য। এক দশক পর বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তনে সবচেয়ে মধুর সময় কেটেছে আমার ভালবাসার ইছামতির জলে।

নদীর পাড়ে কুমোরপাড়া, বড় বড় মাটির পাত্র আর কলসির স্তুপে ঢাকা কুমোরবাড়ির ঘাট। তাঁতিপাড়া নদীর অপর পাড়ে। সূর্যের তাপে তাঁতি শুকাচ্ছে তার সদ্য রঙ মেশানো সুতো। বাড়ির গৃহিণী শুকাচ্ছে গোবর, জ্বালানি হিসেবে পূড়বে সারাবছর তার মাটির চুলোয়। গোবর মেশানো পানিতে লেপতে দেখেছি কৃষকের মাটির ঘর। গৃহস্থ পরিবারের ঢেউটিনের ঘরের চালে লোটন কবুতর জোড়া বেঁধে বসে আছে, আর গিরিবাজ পাল্টি খাচ্ছে নীল আকাশে। উঠোনে সিদ্ধ ধান রোদে শুকায় গৃহবধূরা, বালকেরা বড়শি হাতে ছুটছে নদীর পাড়ে। পুঁই-লাউয়ের মাচায় বালিকা তুলছে সবজি, গলায় তার উঠোনের গাঁদা ফুলের মালা। মধ্যাহ্নে গ্রাম্যশিশুদের জলকেলিতে মেতে উঠে ইছামতি। দিন শেষে গৃহস্থ নদীর জলে নামে তার হালের গরু নিয়ে, ধুইয়ে দেয় আপন সন্তানের মতো করে।

অতিথি লেখক এর ছবি

আমার তো এখন ইছামতি দেখতে ইচ্ছে করছে।
এ্যানি মাসুদ

নীড় সন্ধানী এর ছবি

চেনা জানা এলাকার লেখা ছবি সবসময়ই আলাদা আগ্রহ তৈরী করে। একসময় কর্নফুলী বা শংখ বা ইছামতি খালে নৌকা নিয়ে বেশ ঘুরাঘুরি করলেও হালদার দিকে যাওয়া হয়নি কখনো, কিন্তু হালদা পাড়ের মানুষদের সম্পর্কে শুনেছিলাম, ভাঙ্গনের ভয়াল থাবার গল্প শুনে শিউরে উঠেছিলাম। আপনার পোস্টে তাদের কথা আরো বিস্তারিত দেখে তুষ্ট হলাম। বিশেষ করে মাছের ডিমের কারবার করে যারা, তাদের সম্পর্কে জানার আগ্রহ ছিল। যে রাস্তাটা মাঝখানে ভেঙ্গে গেছে দেখলাম, ওটা নদীর কোন পাড়ের রাস্তা?

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

অতিথি লেখক এর ছবি

ভাঙ্গা রাস্তাটি সত্তরঘাট( যেখানে মা মাছেরা ডিম ছাড়তে আসে) এলাকার ভেতরে। আমার প্রধান তথ্যদাতার বাড়ি গিয়েছিলাম। যা নদী থেকে সৃষ্টি একটি ছড়া সংলগ্ন রাস্তা।
এ্যানি মাসুদ

কৌস্তুভ এর ছবি

সুন্দর ছবিগুলো। ট্যাগ এত বেশি দেওয়াটা অপ্রয়োজনীয় মনে হয়।

অতিথি লেখক এর ছবি

হাসি ধন্যবাদ দাদা। আগামীতে খেয়াল রাখবো।

অতিথি লেখক এর ছবি

হাসি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।