ভেতো

হিমু এর ছবি
লিখেছেন হিমু (তারিখ: মঙ্গল, ২৬/০৫/২০০৯ - ১১:৪৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১.
আমি ভোজনরসিক নই। খাওয়াকে আমার একটা রুটিন ঝামেলা বলেই মনে হয়। তারিয়ে তারিয়ে, রসিয়ে রসিয়ে, উপভোগ করে খাওয়ার ব্যাপারটা আমি রপ্ত করতে পারিনি। নেহায়েত হাগতে হবে বলেই খাই।

কিন্তু তারপরও দেখলাম, আমি আসলে ভোজনবেরসিকও নই। যেমন, একটা কিছু হলেই আমার চলে না। খেতে বসে এটা দেখি, সেটা নাড়ি, ওটা শুঁকি। যা খুশি তাই আমাকে খেতে দিয়ে হাগতে বলা হলে, আমি আপত্তি জানাবো। নো স্যার!

খেতে বসে নানা খুঁত ধরাকে আমার মায়ের ভাষায় যথাক্রমে "প্যাংসা" এবং "কুয়ারা" বলা হতো। এই কাজে আমি একটা সময় মায়েস্ত্রো ছিলাম। আমার প্যাংসা আর কুয়ারার নুয়্যান্স নিয়ে খেতে বসে সকলেই উচ্ছ্বসিত আলাপ করতেন। সমস্যার মূলে না গিয়েই তারা নানা সমাধান বাতলে দিতে চাইতেন তুঘলকি স্টাইলে। যেমন ধরে একটা শক্ত চটকানা মারলে প্যাংসা/কুয়ারা কমবে কি না, একটা আছাড় দিলে কেমন হয়, দুইদিন না খেতে দিলেই এসব লোপ পাবে, ইত্যাদি। সৌভাগ্যক্রমে এইসব প্রস্তাবিত বর্বরতার হাত থেকে বেঁচে গিয়েছি। ভাই-বোন, যাঁরা বিভিন্ন ডাইনিঙে খেয়ে অভ্যস্ত ছিলেন, তাঁরা মিটিমিটি ভিলেনি হাসি হেসে বলতেন, রোসো, বাড়ির ভাত খাওয়া কমলেই এসব দূর হবে।

সত্যিই তাই হলো। বাড়ির বাইরে বেশির ভাগ খাওয়া-দাওয়ার যুগ শুরু হতেই আমি এক আশ্চর্য বৈরাগ্যে আক্রান্ত হলাম খাওয়াদাওয়া নিয়ে। বুঝলাম, খাওয়া নিয়ে অভিযোগ এক বৃথা কালাতিপাত। তারপরও অভ্যাসের বশে মাঝেমধ্যে ইতিহাস পুনরাবৃত্ত হলে আমার মা বলতেন, সেদিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন নিঃসঙ্গ প্রবাসে আমাকে হাত পুড়িয়ে রান্না করে খেতে হবে। আমি যেন সেই কথা স্মরি ভালো মনে।

প্রথম দীর্ঘ প্রবাসে গিয়েই বুঝলাম, এ কথা কত সত্যি। নিজের রান্না খেয়েই মানুষ কেবল অপরের রান্নার দোষগুণ ধরতে পারে, তার আগে নয়। নিজের রান্না কয়েকদিন খেয়ে আমার মনে হলো, এরচেয়ে অনাহার ভালো ছিলো।

২.
দ্বিতীয় যে সত্যটি দ্বিতীয় দফা প্রবাসে এসে বুঝতে পারছি, তা হচ্ছে, আমি প্রকৃত ভেতো। ভাতের সাথে পানতামুক বন্ধ করে বিকল্প অভ্যাস করতে গিয়ে বুঝেছি, এ হবার নয়।

রুটি-সসেজ-সালাদকে ভাতের বিকল্প করার জোর চেষ্টা চালালাম কয়েকদিন। কয়েকদিন ভালোই লাগে, কিন্তু এরপর কেমন যেন একটা অকৃত্রিম অশ্রদ্ধা আস্তে আস্তে অবিচল হতে থাকে মনে। বুঝলাম, লিলিয়া লিউকোভার মতো সন্ধ্যায় বেক করা রুটি আর একগাদা সসেজ আমি খেতে পারবো না। পারবো না সসেজ আর আলুভাজা দিয়েও কাজ চালিয়ে নিতে। ফিশষ্টেবশেন আর ভর্তা আলু মাখনে সেঁকেও আমার চলবে না।

এরপর কিছুদিন দৌড়ের ওপর থেকে আমি পিৎজার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লাম। দিনে দুইবেলা পিৎজা খাই। মাছ, মাংস, সব্জি, কেবল চীজ ... যত জাতের পিৎজা হতে পারে সবই খাই তখন। কিন্তু সে-ও বেশিদিন টেকার নয়। অভক্তি ধরে গেলো পিৎজার ওপর।

এরপর শুরু করলাম তুর্কি রুটি আর মাংস খাওয়া। রুটি মাংস আমার অতি প্রিয় খাবার, কিন্তু রাতের পর রাত কি আর খাওয়া যায় এই জিনিস? রুটি দিয়ে সব্জি চেষ্টা করে দেখলাম, কিন্তু এমনি করে করে রুটির ওপরও আমার একটা রাগ চাপলো।

ঠিক হায়, ন্যুডলসই খাবো। ভিয়েতনামী দোকান থেকে পাইকারী দরে ন্যুডলস কিনে ঘরে ফিরলাম। যত রকম উপকরণ পাওয়া যায় হাতের কাছে, সব কিনে শুরু করলাম ন্যুডলস রান্না। কিন্তু ঐ যে, সবকিছুরই একটা সীমা আছে। কয়েক বাক্স ন্যুডলস খেয়ে শেষ করে একদিন তালাকবাক্য উচ্চারণ করে শেষ প্যাকেট ন্যুডলসে খেয়ে প্রতিজ্ঞা করলাম, আর না।

আরো বিকল্প চেষ্টা করে দেখেছি। তুর্কি স্যুপ-নান, স্যুপ-বাগেত, স্পাগেতি বোলোগনেজে। দই-সালাদ-শিঙ্কেন-ফ্লাডেনব্রোট। ডোয়নার-ফ্লাডেনব্রোট। হয় না।

শেষমেশ কেন যেন গরমাগরম ডাল-ভাত-কাঁচামরিচ-মাছভাজা, নয়তো ভর্তা-ভাজি-মাছ-ভাত, কিংবা তেহারি, কিংবা মুরগির ঝোল-ভাত, এই ভাত ভাত ভাতের প্রতিই আকর্ষণটা টিকে থাকে। বিপ্লবস্পন্দিত বুকে টের পাই ভেতরে স্লোগান উঠছে, ভাতের আমি ভাতের তুমি তাই দিয়ে যায় চেনা!

জেনারেল উ বৃথাই বাঙালিকে আলু খাওয়ানোর জন্য মমতাজকে দিয়ে গান গাইয়েছিলেন। ছ্যাহ। স্বর্গের হুররা এসে খাটে চড়লেও লাভ নাই। আগে ভাত, পরে অন্য কথা।


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

স্বর্গের হুররা এসে খাটে চড়লেও লাভ নাই। আগে ভাত, পরে অন্য কথা।

জটিল বলছেন দেঁতো হাসি

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

খা বাঙ্গালী হাত ডুবিয়ে ভাত খা...

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির
এই একাউন্টটি কোন মডারেটরের নয়। এই একাউন্ট থেকে মডারেশন করা হয়না, কিংবা এই একাউন্টের কর্মকান্ডের দায়ভার সচলায়তন নেবে না।

শাহেনশাহ সিমন [অতিথি] এর ছবি

শেষ দুই প্যারা পড়ে হাহাহা করে বেশ কিছুক্ষণ হাসলাম।

হাসিব এর ছবি

হ । ভাতের বদলে অন্য জিনিস দিয়া পেট ভর্তি কৈরা ঘুমাইলে মাঝরাইতে ঘুম ভাইঙ্গা ভাবতে হয় কি জানি করি নাই - কি জানি করি নাই ... ভাত-সবজি ভাজি-তরকারি-ডাইলের রিপ্লেস সম্ভব না ।

শোহেইল মতাহির চৌধুরী এর ছবি

এইবার নাকি দেশে আলু হয় নাই ঠিকঠাক...
আলু বিপ্লবের যে কি হবে?
-----------------------------------------------
সচল থাকুন... ...সচল রাখুন

-----------------------------------------------
মানুষ যদি উভলিঙ্গ প্রাণী হতো, তবে তার কবিতা লেখবার দরকার হতো না

তানবীরা এর ছবি

হিমুর, ইদানিং প্রায় প্রত্যেক লেখা মেয়েতে এসে কেনো যেনো শ্যাষ হচ্ছে !!!! ঃ)

"হাগন" ব্যবহার করছো প্রায় প্রত্যেক লেখাতেই এমনকি মন্তব্যও, কারন কি ???

তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

হিমু এর ছবি

তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই ফিডব্যাক আপনি ছাড়া আর কেউ দিচ্ছে না চোখ টিপি

মেয়েতে এসে শেষ হলে সমস্যা কী? জীবনের প্রত্যেকটা দিনই তো এরকম মেয়েতে এসে শেষ হওয়া উচিত।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

তানবীরা এর ছবি

সবাইতো আমার মতো শকুনী চক্ষুর অধিকারীনি না ঃ)

তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

দ্রোহী এর ছবি

বুঝেনইতো। পোলার বয়স হইছে। চোখ টিপি

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

কথা সত্য ...
................................................................................................
খাদে নামতে আজ ভয় করে, নেই যে কেউ আর হাতটাকে ধরা ...

অতিথি লেখক এর ছবি

ভারী সত্য কথা বলেছেন হিমুদা, ভাতের উপরে কিছু নাই, বিদেশে এসে তা বুঝতে পারলাম। আসলে পানি না, ভাতের অপর নাম জীবন। ভোট দিবার ক্ষমতা থাকলে ১ কোটি ভোট দিতাম, ভাগ্যিস নাই, হে হে হে।

সাইফ

অনিন্দিতা চৌধুরী এর ছবি

একমাত্র বিদেশের মাটিতে কিছুদিন থাকলেই বুঝা যায় ভাত কী জিনিস।
এর বিকল্প এখনো কেউ বের করতে পারলো না!

স্নিগ্ধা এর ছবি

হিমু - আমিও ভয়ংকর ভেতো !!!! অবশেষে, আপনার একটা লেখা পড়ে আপনার বুদ্ধিশুদ্ধির ওপর একটু শ্রদ্ধা জন্মালো!

আহা, এটাকে বলে জীবনের চটকানা - এই মেগাসাইজ চটকানা খেলে প্যাংসারা কুয়ারাদের সাথে হাত ধরাধরি করে পগারপার হয় দেঁতো হাসি

তানভীর এর ছবি

আপনে তো খালি বেগেল খান...ভাত খান নাকি? দেঁতো হাসি

স্নিগ্ধা এর ছবি

তা ঠিক, তানভীর ভাত আমি খাই না মন খারাপ

এই যেমন আজকের কথাই ধরেন না? আজকে আমাদের এখানে প্রচন্ড, প্রচন্ড বৃষ্টি - তো আজকে আমি কোনমতে ভুনা খিচুড়ি, গরুর মাংসের তরকারি, আর একধরনের আলু+চাট দিয়ে খাওয়া দাওয়া সাঙ্গ করে কোওওওনমতে প্রাণটা বাঁচালাম মন খারাপ

আহা, সেদিন ভালোই পেট ব্যথা হইসিলো আপনার, তাই না? দেঁতো হাসি

তানভীর এর ছবি

দেঁতো হাসি
কই নাতো? আমার বেগেল খেলেই শুধু পেট ব্যথা হয় হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

স্নিগ্ধাপু, তানভীর ভাইয়ের পেট কামড়াক আর না কামড়াক, খিচুড়ীর কথায় তো আমার লোল পড়তেছে, আমি কি চলে আসবো ভার্জিনিয়া, খুব কাছেই থাকি, পাতিলের তলার একটু খিচুড়ী দিলেই চলবে!!

সাইফ

স্নিগ্ধা এর ছবি

ইসসসস, পাতিলের তো তলাতেও কিছু আর নাই!

আর, আজকে মুরগি এবং কুমড়া+শাক চিংড়ি দিয়ে রান্না করবো - ভাতের সাথে মনে হয় খারাপ লাগবে না, কী বলেন? দেঁতো হাসি দেঁতো হাসি দেঁতো হাসি

(ভার্জিনিয়ার কাছাকাছি বেশি মানুষজন থাকে দেখি আজকাল!!)

সাইফ এর ছবি

স্নিগ্ধাপু, কুমড়া শাক!!! খাইনি গত ৩ বছরেও, ঢাকায় থাকতে খাওয়া নিয়ে কত রগর করতাম, এখানে এসে সব টাইট হয়ে গেছে, আপনার দুর্ভাগ্যবসত অনেকেই ভার্জিনিয়ার কাছাকাছি থাকে, হা হা হা।

শামীম রুনা এর ছবি

আমিও ভীষণ রকম ভাতের পাগল। তা না হলে চালের দাম এতো বাড়লেও মাসের বাজারের ফর্দের প্রথমে চাল থাকে কি করে?

আমার প্রথম বই 'টমবয় নিশো ও তার বন্ধুরা'

_________________________________________________________
খাতার দিকে তাকিয়ে দেখি,এক পৃথিবী লিখবো বলে-একটা পাতাও শেষ করিনি। ( জয় গোস্মামী)

তুলিরেখা এর ছবি

আরে কী কান্ড!
"সব পথ শেষে
মিলে গেল এসে,
তোমারি দু'খানি নয়নে।"

কেস দেখি গড়বড়! হাসি

লেখা মজার।
-----------------------------------------------
কোন দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

স্বপ্নহারা এর ছবি

দেশে থাকতে ভাতের চেয়ে অন্য খাবারের প্রতি আকর্ষণ ছিলো বেশি! কিন্তু ভিনদেশে এসে একবেলা ভাত না খেলে পেট ভরে না!
ধন্যবাদ হিমু ভাই মনের কথাগুলো বলার জন্য।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- দোস্ত, সবই ঠিকাছে, সবই মানলাম কিন্তু ওই যে শেষের বাক্যটা! দিলি তো ওইটাতেই গরবর লাগায়ে। কোনো চৈনিক বালিকা খাটে উঠলে, আগে ভাত খাইয়া, গায়ে তাগদ বাড়ায়া তারপর নাহয় তেলওয়াৎ শুরু করলি, কিন্তু তাই বলে স্বর্গের হুরপরী...!

নাহ্ দোস্ত, আমার নির্লিপ্ততায় তোর কইলজায় দিনকেদিন পানি বাইড়া চলতাছে! হুরপরীর ব্যাপারে রিস্কটা নিস না দোস্ত, তোর ভালো চাই বইলাই উপদেশটা দিলাম। পরে দেখবি ঘর ভর্তি কালো মিচমিচা আণ্ডাবাচ্চা না হৈয়া গুলাবী ধুগো জুনিয়রে ঘরবাড়ি সয়লাব হৈয়া গেছে তোর! মন খারাপ
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অতিথি লেখক এর ছবি

ধুগোদা, হিমুদা কি করবে, উনার বাড়ীতে তো স্বর্গমাসীর আনাগোনা।

দ্রোহী এর ছবি

ঠিক বুঝলাম না!

হিমুর ঘর গুলাবী ধুগো জুনিয়রে সয়লাব হবে ক্যামনে? হিমু ইদানিং গুলাবী ধুগোকে নিয়ে খাটে উঠতে চায় নাকি? চোখ টিপি

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

খাইছে

...........................

সংশোধনহীন স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন দেখি একদিন

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

মূলত পাঠক এর ছবি

আহা দুর্দান্ত লিখেছেন ভায়া, সব দেশিবিদেশি জিনিস ফেলে খাই মাছের ঝোল আর ভাত। এ বস্তু জেনেটিক কোডে ঢুকে গেছে, কোনো খাদ্যই একে সরিয়ে সিংহাসন নিতে পারবে না।

মামুন হক এর ছবি

ভাইরে ভাতের কষ্টে আমিও অনেক ভুগছি, প্রথম এই দেশে আসার পর প্রায় মাসখানেক ভাতের কষ্টে প্রায় পাগল হয়ে গেছিলাম। তারপর আর টিকতে না পেরে প্লেনের টিকেট কেটে হং কং গিয়ে ঠেসে কয়েকদিন ভাত খাইলাম, তিন দিনে ওজন বাড়ছিল দুই কেজি কিন্তু মুখে হাসি ফিরে আসছিল। এই নিয়ে একটা পুস্ট দিতে মন চাইতেছে...ক্যান জানি হিমু মিয়া কিছু একটা নিয়া লিখলে ঐটা নিয়া আমারো লিখতে ইচ্ছা করে...ভালো গিয়াঞ্জামে পড়লাম।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

"খাওয়াকে আমার একটা রুটিন ঝামেলা" ‍‌বলেও খাওয়া নিয়ে রসালো লেখাতে পাঠকের রসনা তো জবজবে করে দিলেন।

"নিজের রান্না খেয়েই মানুষ কেবল অপরের রান্নার দোষগুণ ধরতে পারে"
১০১% দ্বিমত।

জীবনে রান্নাবান্না না করেও সফলতার সাথে অন্যের রান্না খেয়ে দোষগুন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পৌঁছে গেছি। রাঁধুনির তীব্র চাহনিও আমাকে একতিল দমাতে পারেনি। বলে- "একটা ডিমভাজার মুরোদ নেই, আবার দোষধরা।"

আমি বলি-"আমি ডিম পাড়ি না, মুরগী পাড়ে, তাই বলে কি মামলেটের স্বাদ মুরগী আমার চেয়ে ভালো বলতে পারবে?"

-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-
সেই সুদুরের সীমানাটা যদি উল্টে দেখা যেত!

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

ভাত খাওয়া মনে হয় বন্ধ করে দিতে হবে পোস্টটা যখন দেই তখন ভেবেছিলাম বিদেশে এসে একমাত্র আমিই বোধহয় ভেতো রয়ে গেছি, বাকীরা হয়তো স্মর্ট বনে গেছে। সেই পোস্টে আপনি প্রথম মন্তব্যে উল্লেখ করেছিলেন ভাতের বিকল্প অভ্যাস করার কথা। যাক এতদিন পরে আবার প্যাভিলিয়নে ব্যাক করা দেখে স্বস্তি পেলাম-- আমি তাহলে একা নই।

আরেকটা কথা, কুয়ারা শব্দটা যতটা জানি আমাদের এলাকার মায়েরা বলেন। আপনার মায়ের সাথে আমার মায়ের শব্দ চয়নের মিলের কারণ কী হতে পারে? একই এলাকার?

...............................
নিসর্গ

হিমু এর ছবি

না। কুয়ারা আমাদের দিকেও জনপ্রিয়। ভাষায় আর আচরণে।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

সিরাত এর ছবি

হা: হা:। সাধে কি কয় 'মাছে-ভাতে বাঙ্গালী'?

কোন রাশিয়ান লেখকের বইয়ে জানি পড়ছিলাম রুটি খাইতে না পাইয়া যুদ্ধের সময় এক রাশিয়ান যুবকের অন্য দেশে ধীর মৃত্যুবরণের কাহিনী; যদিও অন্য আরো নানা খাবার ছিল ওই দেশে। এইবার বুঝলাম ক্যান।

এইটার নিশ্চয়ই একটা সায়েন্টিফিক ব্যাখ্যা আছে। জানলে জানামু!

এনকিদু এর ছবি

মালাকাইটের ঝাঁপি ।

যতই ফল খাওয়াও, রুটি না পেলে রুশ বাঁচে না ।


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

দ্রোহী এর ছবি

গত তিনবছরে নানারকমের ইয়েমারা খেতে খেতে ভাতের কষ্ট কমে গেছে আমার। হাসি

মুস্তাফিজ এর ছবি

আমার বাসায় একমাত্র আমিই ভেতো, বাকি সব অন্যকিছুতে মজে যায়। দুশ্চিন্তায় আছি সেজন্যে।

...........................
Every Picture Tells a Story

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

আমিও ভেঁতো। আজকাল ২ বেলা ভাত চালাচ্ছি। তবে আমি মিলিয়ে খাই। আপনি যেপথে হেটেছেন আমিও সেইপথেই হাটছি, এখনও। তবে কোনওটাই এক নাগাড়ে চালাই না, একমাত্র ভাত ছাড়া হাসি ভাতটা সবসময়ই চলে।

আর পাস্তা নিয়মিত বেশিদিন খাইলে 'ইয়ের' গন্ধ বদলে যায়। টয়লেটে বসে নিজের 'ইয়ে' অপরিচিত লাগে। সেইটা আমার অপছন্দ।

দ্রোহী এর ছবি

আর পাস্তা নিয়মিত বেশিদিন খাইলে 'ইয়ের' গন্ধ বদলে যায়। টয়লেটে বসে নিজের 'ইয়ে' অপরিচিত লাগে। সেইটা আমার অপছন্দ।

এই কথাটা সত্য। বছর দুয়েক আগে সামারে একটা ইতালিয়ান হোটেলে ওয়েটারের কাজ করেছিলাম মাস দুয়েক। বউ নাইওর গেছিলো বাপের বাড়ি, রান্না-বান্নার কোন ঝামেলা নাই। নির্ঝঞ্ঝাট জীবন। প্রতিরাতেই হোটেল থেকে ফ্রি পাস্তায় পেট ভরাই। কয়েকদিন যেতেই আবিষ্কার করি নিজের হাগা নিজের কাছেই অপরিচিত ঠেকছে।

কীর্তিনাশা এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

-------------------------------
আকালের স্রোতে ভেসে চলি নিশাচর।

বিপ্লব রহমান এর ছবি

হাগন প্রেমিক হের হিমু ও দ্রোহীদার সৌজন্যে সচলে 'ইয়ের' একটা নতুন ইমো চাই! চোখ টিপি


একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া, উঠে দাঁড়ালো
একটা পাখ ভাঙা পাখি, উড়াল দিলো...


একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া, উঠে দাঁড়ালো
একটা পাখ ভাঙা পাখি, উড়াল দিলো...

সাইফ এর ছবি

হা হা হা, আরেফীন ভাই, কঠিন কইছেন, আপনার "ইয়ে" বিশ্লেষন না জব্বর লাগলো

ভূঁতের বাচ্চা এর ছবি

আমার কোনওকালেই ভাতের প্রতি তেমন আকর্ষণ ছিলনা। অন্য খাবারের দিকেই লোভটা বেশি সবসময়। তবে লেখা হয়েছে দারুন সরেস।
-------------------------------------------------

--------------------------------------------------------

আহমেদুর রশীদ এর ছবি

এমনি কী আর কবি বলেন, সাদা জুঁই তুমি সাদা ভাত হও।

---------------------------------------------------------

ঘাস তুমি ঘাসের মতো থাকো মাটি ছুঁয়ে
যে দেখার সে নতজানু হয়ে ছুঁবে তোমার আঙুল
অবরুদ্ধ মাঠ থেকে তুমি লাফিয়ে নেমোনা প্লিজ পাথরের পথে

---------------------------------------------------------

ঘাস তুমি ঘাসের মতো থাকো মাটি ছুঁয়ে
যে দেখার সে নতজানু হয়ে ছুঁবে তোমার আঙুল
অবরুদ্ধ মাঠ থেকে তুমি লাফিয়ে নেমোনা প্লিজ পাথরের পথে
________________________________________
http://ahmedurrashid.

খেকশিয়াল এর ছবি

'ভাত দে হারামজাদা নইলে মানচিত্র খাব!'

------------------------------
'..দ্রিমু য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

ভাতে শান্তি, ভাতে সুখ, ভাতে ঘুম...

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

এক্কেরে ঠিক কথা!
একলা-বাসে দেখলাম বহুকাল, ভাত ছাড়া এখনও রক্ষা নাই।
বহুকিছু ট্রাই করে দেখেছি, বেশিদিন কোনোটাই সহ্য করা যায় না।
ভাতই কেবল মায়ের মতো একমাত্র নারী যেন, যাকে সারাজীবনই ভালো লাগে।
হাসি
প্যাংসা, কুয়ারা- দুইটা শব্দই কমন পড়লো ভালো।
মজা পেলাম।

___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আমি প্রথম বিদেশে আসার পরে ফ্রেন্ডরা যখন কইলো, হাতমুখ ধুয়ে খাওয়া দাওয়া করে রেস্ট নে, তখন মনে হইছিলো ভাত খাইতে যাচ্ছি। দীর্ঘ বিমান ভ্রমণে অখাদ্য কুখাদ্য খাওয়ার পরে ভাতের আশায় চকচকে চোখের সামনে যখন কলা-কেক আসতে থাকলো, তখন যে ছ্যাঁকাটা খাইছিলাম, কোনো মাইয়াও আজতক সেই ছ্যাঁকা দিতে পারে নাই।

তবে এখন মেদভুঁড়ির গ্যাঁড়াকলে পড়ে ভাতের বদলে সালাত খাওয়া শুরু করেছি, অবশ্য উইকেন্ডে পুষিয়ে নেই। সারা উইকে ওজন কমে ২ কেজি,উইকেন্ডে বাড়ে আড়াই কেজি, বাঁদরের তৈলাক্ত বাঁশের মত ভুঁড়ির সাইজ আর কমে না।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

দৃশা এর ছবি

"জেলখানাতে ভাত খাইছে দেড় বছরের কাছাকাছি
তারপরও হুঁশ হয় না তার করে শুছু বাছাবাছি "

এই মহান ভানী হামার না... চর্ব্যগুণসম্পন্না হোজ্ঞলের চুখেরমনি 'মমতাজ আফা'

দৃশা

দৃশা এর ছবি

"জেলখানাতে ভাত খাইছে দেড় বছরের কাছাকাছি
তারপরও হুঁশ হয় না তার করে শুছু বাছাবাছি "

এই মহান ভানী হামার না... চর্ব্যগুণসম্পন্না হোজ্ঞলের চুখেরমনি 'মমতাজ আফার'

ফুনশ্ছঃ এট্টা ভেশী হয়ি গেছে... কাডি দেন।

দৃশা

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

হো হো হো
---------------------------------------------
বুদ্ধিমানেরা তর্ক করে, প্রতিভাবানেরা এগিয়ে যায়...

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।