পাঠকের কাঠগড়ায় সুমেরু মুখোপাধ্যায় (ব্লগার কারুবাসনা)

জ্বিনের বাদশা এর ছবি
লিখেছেন জ্বিনের বাদশা (তারিখ: রবি, ১৫/০৩/২০০৯ - ৯:০৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বন্দুকের নলই ক্ষমতার প্রকৃত উৎসবন্দুকের নলই ক্ষমতার প্রকৃত উৎস

লেখক সুমেরু মুখোপাধ্যায়, আমাদের ব্লগার কারুবাসনা।

অদ্ভুত চমৎকার তাঁর লেখার স্টাইল, পাঠের শুরুতেই পাঠককে এক ধরনের মায়ামবী জগতে নিয়ে যায়, একেবারেই স্বতন্ত্র। খুব কম লেখক যাদের লেখার কোন অংশ পড়ে বলে দেয়া যাবে যে "এটা অমুকের স্টাইল", তাঁদের মঢ্যে কারুবাসনা পড়েন অনায়াসেই -- এতটাই স্বতন্ত্র।

লেখক নিজে এই স্বতন্ত্র ধারাকে উল্লেখ করেন "না- ম্যজিক রিয়েলিজম ( আ্যন্টি- ম্যাজিক রিয়েলিজম)" নামে। পাঠক হিসেবে আমার অনুভূতিটা এমন, "চোখ বুলিয়েই বোঝা যাচ্ছেনা পুরোটা, অথচ পড়তে ভীষন আরাম হচ্ছে।"

সুমেরুদা'র যে বইটি এবার বের হয়েছে, তার নামটাও সেরকম স্বতন্ত্র -- "বন্দুকের নলই ক্ষমতার প্রকৃত উৎস"। পাঠকের চোখে নামটি হয়তো প্রবন্ধের বই হিসেবে ধরা দেবে -- অথচ এটি কয়েকটি ছোটগল্প আর একটি "অসম্পূর্ণ উপন্যাস" নিয়ে লিপিবদ্ধ।

নিশ্চয়ই এই সম্পূর্ণ ভিন্নরকম লেখক সবার মনে অনেক রকম প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন। তার ওপর জানা গেছে কিছু ছোটগল্প একান্তই ব্যক্তিগত কারণে বইটিতে উঠে আসতে পারেনি। সেই গল্পগুলোর বিষয় নিয়েও নিশ্চয়ই লেখককে পাঠকেরা প্রশ্ন করবেন। সব মিলিয়ে দূর্দান্ত এক আড্ডা হবে যদি ব্লগার কারুবাসনাকে কাঠগড়ায় উঠানো যায়।

সুখবর হলো, উঠানো যাচ্ছে, সময় দিতে পারবেন সুমেরু মুখোপাধ্যায়।

তাহলে আর দেরী কেন? সবাই প্রশ্ন শুরু করুন, কাঠগড়ায় আসছেন ব্লগার কারুবাসনা, ওরফে সুমেরু মুখোপাধ্যায়।

_/_/_/_/_/_/_/_/_/_/_/_/_/_/_/_/_/_/_/_/_/_/

এই সিরিজের আগের পোস্ট:
১. পাঠকের কাঠগড়ায় বিপ্লব রহমান

২. পাঠকের কাঠগড়ায় কবি সুমন সুপান্থ

৩. পাঠকের কাঠগড়ায় মুজিব মেহদী

৪. পাঠকের কাঠগড়ায় সামরান হুদা, আমাদের শ্যাজাদি

৫. পাঠকের কাঠগড়ায় ব্লগার মোরশেদ ভাই

৬. পাঠকের কাঠগড়ায় কবি শেখ জলিল


মন্তব্য

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

হুম... আজকে মোটে পড়া শুরু করলাম বইটা... গোটা দুয়েক গপ্প পড়েছি... প্রশ্ন করবো কাল...
আজকে এট্টুক বুকিং দিয়ে যাই... ঐশ্বরিয়া রাইকে নিয়ে বেশি মাতামাতি আমি পছন্দ করি না। বিষয়টা আমার একান্ত ব্যক্তিগত... চোখ টিপি

তবে ব্লগার কারুবাসনা আর গল্পকার সুমেরু মুখোপাধ্যায় অনেকটাই ভিন্ন...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

কারুবাসনা এর ছবি

ধন্যবাদ।
এখন পর্যন্ত আদতে কোন প্রশ্ন নেই।
তবু নজরুল ভাই যখন বলেছেন, দুই আমির কথা তখন ধরিয়ে দিই। এই সংকলনের গল্পগুলি অনেকটাই আগে লেখা। দিন আনি দিন খাই ব্যতীত সবগুলি গল্প ২০০৭ তে লেখা। এই সিরিজের শেষ গলপ এস ই জেড, যে পর্যন্ত আমি কেবল বিবিধ ভাবে গল্প বলারই চেষ্টা করে গেছি।

মোটামুটি বারো বছরের লেখালিখিকে চার বছর করে ভাগ করে নেওয়া যায়। বাংলা ব্লগিং শুরু করেছি শেষ কোয়ার্টারে। দিন আনি দিন খাই-এর সাথে কিছু মিল পাওয়া যাবে এই গদ্যরীতির।

বাংলায় দুই আনা টাইপ করতে পারার পর থেকে আমার চিঠি লেখা বন্ধ। আমি চিঠি লিখতাম ডাইরির মত। তারপর পারমুটেশন -কম্বিনেশন করে এদিক ওদিক পাঠিয়ে দিতাম।এখন সেটা নেই। এখন মাঝেমাঝে ব্লগ লিখি। মূলত এক ধরনের গদ্য মকশো করছি। আমার একমাত্র প্রকাশিত উপন্যাসের ( উপেনটি বাইস্কোপ) পরবর্তী লেখা গুলিতে এই গদ্যে লেখার চেস্টা করেছি। বল্গিং আমার আমার প্রবাস কালীন লেখা, মূলত। ইউরোপ প্রবাস কালীন লেখা উপন্যাস " এজেশ কেতেশ" ও থাইল্যান্ড পরবাসকালীন লিখতে শুরু করা" রিয়েলিটি শো" তে অনেকটাই এই গদ্য পাওয়া যাবে, যা আসলেই জটিলতর আকার ধারণ করছে।

তবে আশার কথা কথা, বাংলাদেশে বসবাসে আমি সেই গদ্য ব্যবহারে বিরত আছি। অনেক সময়ই বক্তব্য সোজাসুজি বলতে বাধা পাচ্ছি বলে রূপকের আশ্রয়ে ফিরে গেছি। আমি এই গদ্যগুলি মজা আনার জন্য শ্লেষ যুক্ত করি ও সরল বাক্যে লেখার চেস্টা করি। স্টিরিওটাইপিং ও কিচের ঘন সন্নিবেশ লেখাগুলিতে লক্ষ্য করে থাকবেন।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

কিন্তু এইটা জাইনা রাইখেন, ঐশ্বরিয়ারে নিয়া বেশি কথা বলা আমি কিন্তু পছন্দ করি না
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

কারুবাসনা এর ছবি

আমি পুরোপুরি পছন্দ করিনা এই রকম নয় , বলিনা। আমি গত দশ বছরে যদিও অনেকটা সময় কাটিয়েছি তার সাথে। তার গ্রাফ দেখুন, বিশ্ব সুন্দরী, বিনোদিনী, বচ্চন বৌমা, হলিউড, রেনকোট, সাউথ-নর্থ-ইষ্ট-ওয়েষ্ট, সেই জলবায়ুর মুরগীটির মত তার পরিক্রমা ভারতীয়দের মানসে। টাইম ফ্রেম লেখালিখির সাথে এক, সুতরাং আমি যদি এই সময়ের একটি কাল্ট রচনা করতে চাই, তার নাম হবে ঐশ্বর্য, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাকে নিয়ে বেশী কথা বলা আমি পছন্দ করি না।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।

রণদীপম বসু এর ছবি

auto

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

কারুবাসনা এর ছবি

থ্যাঙ্কুঃ।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

হায় হায়, আমিতো ভেবেছিলাম কারুবাসনা একজন মানবী খাইছে ; জীবনটাই ভুলে ভরা।

কারুবাসনা এর ছবি

হায় হায়, তার জন্য কি আমার একজন পাঠক কমল?


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

না না, তা হবে কেন? আমি জেন্ডার হিসাব করে লেখা পড়িনা। ধারনার কথা বলেছি আরকি হাসি

কারুবাসনা এর ছবি

আপনাকে প্রশ্ন করি বরং-
১। কেন জেন্ডারের হিসাব করে পড়েন না?
২। জেন্ডার সচেতনতা যদি লেখকের কাছ থেকে চাওয়া হয়, লেখক কেন পাঠকের কাছ থেকে চাইবেন না?
৩। আমার লেখার কি পড়ে লেখককে তার মানবী মনে হয়েছে?
৪। অধুনা "মানবী" বলে যে লিঙ্গটি অহরহ নির্মাণ করা হয়,রূপান্তরিত লিঙ্গের ক্ষেত্রে , তা সন্মর্কে আপনার কী ধারনা?


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

খেয়েছে, যাকে প্রশ্ন করবে পাঠক সে-ই দেখি পাঠককে প্রশ্ন করা শুরু করেছে। যাহোক, প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি:

১। কেন জেন্ডারের হিসাব করে পড়েন না?

- জানিনা। লেখার সাথে জেন্ডারের সম্পর্ক খুঁজিনি হয়তো তাই।

২। জেন্ডার সচেতনতা যদি লেখকের কাছ থেকে চাওয়া হয়, লেখক কেন পাঠকের কাছ থেকে চাইবেন না?

- ব্যাপারটা ভালো বুঝিনা। যে লেখা পড়ে ভালো লাগে সেই লেখককেও ভালো লাগে। আবার প্রিয় লেখকের সব লেখা ভালো লাগেনা। কেন ভালো লাগেনা তার কোন একটি কারণের মধ্যেও জেন্ডার নেই।

৩। আমার লেখার কি পড়ে লেখককে তার মানবী মনে হয়েছে?

- আপনার লেখা নয়, আপনার ছদ্মনাম দিয়ে মনে হয়েছে। "কারু" শব্দের মধ্যে আমার কাছে 'নারী নারী ভাব' আছে বলে মনে হয়। (জানিনা এটা কে কিভাবে নেবে-- পজিটিভলি বা নেগেটিভলি। এতকিছু চিন্তা করে ভাবিনি। অটোমেটিক যা মনে হয়েছে সেটাই বলেছি।)

৪। অধুনা "মানবী" বলে যে লিঙ্গটি অহরহ নির্মাণ করা হয়,রূপান্তরিত লিঙ্গের ক্ষেত্রে , তা সন্মর্কে আপনার কী ধারনা?

- ভাই, আমি এত কিছু চিন্তা করে শব্দটা ব্যবহার করিনি। মেয়ে বললে বাচ্চা বাচ্চা মনে হয়, তরুণী বা যুবতী বলিনি হয়তো সেই একই কারণে। তাই মানবী বলেছি।

সচলায়তনের গোটা পঞ্চাশেক ব্লগই আমার সারা জীবনের লেখালেখির সঞ্চয়। শুধু লেখক হিসেবে নয়, পাঠক হিসেবেও আমি নিম্ন সারির একজন। এত কঠিন প্রশ্নগুলো তাই বেশী কঠিন মনে হলো।

বরং আমি আপনাকে একটা প্রশ্ন করি:

বিড়ালে ইঁদুরে আসলে কি মিল হয়? নাকি বিড়ালটা ইঁদুরের সাথে মিলের ভান করে, আর সুযোগ মত ঘার মটকায়?

কারুবাসনা এর ছবি

না, ভাই। হিসাব করা করির ব্যপার নয়। এ আসলে সচেতনতা বাড়ানো।গেজ বলে আমরা যার কথা বলি তাতে জেন্ডার নির্ণায়ক হিসাবে থাকে। লক্ষ্যে বা অলক্ষ্যে। হিসাব করার দরকার নাই, সচেতনতায় থাকুক।

২। পড়ে মজা পেয়েছি।

বিড়াল-ইঁদুরের গল্প বলতে সন্দীপনের "অন্ধদের স্কুলে ঘন্টা বাজবে কখন" মনে পড়ে যায়। আর দুটো ছবি, ভুল হল একটা ইনস্টলেশন। নন্দনমেলায় অংশুমান দাশগুপ্তের করা, দেয়ালফুটো করে বেরিয়ে আসা হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা । আর আমাদের এক ছোট্ট বোনের আঁকা ( তখন সে পড়ত ক্লাস থ্রিতে), বিড়ালের গায়ে ঘন্টা বাঁধা। একটা বিড়াল উল্টে শুয়ে, উল্টে আছে ক্লোরোফর্মের শিশি। আর কয়েকটি ইঁদুর ঘন্টা বাঁধছে তার গলায়।

তাই কে কার ঘাড় মটকায়, অন্তত আমার লেখায় সে আপনিই বুঝবেন।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।

তুলিরেখা এর ছবি

আমারও নানা প্রশ্ন আছে।
১। মুদি বিষয়ে। মুদির মুশকিল কেন?
২। যদি মুশকিল হয়েই থাকে তো বিড়াল পার করে দিয়ে আসলেই তো হয়? ইদুর নিশ্চয়ই মিল হওয়া বিড়ালের সাথে চলে যাবে!

এইবারে সিরিয়াস নোটে

৩।কারুবাসনার লেখাগুলো কিছু কিছু বেশ বুঝতে পারি, কিছু কিছু একেবারেই পারি না, এইটা কি কারুবাসনার লেখনীর জটিলতা নাকি আমার অদীক্ষিত পাঠকত্ব?
৪। কোনো কোনো লেখা না বুঝলেও পড়তে ভালো লাগে, এইটা কেন হয়?
৫। ম্যাজিক-রিয়ালিজম কি? উদাহরণ সহকারে বিস্তারিত বুঝিয়ে বলুন।(মানে আগে ম্যাজিক বুঝলে তবে তো না-ম্যাজিক)
৬।আরো আছে। হাসি
-----------------------------------------------
কোন দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

কারুবাসনা এর ছবি

১। আমার বাল্যকাল কেটেছে চুঁচুড়া বলে ছোট শহরে। সেটা ভৌগলিক কারণে গঙ্গার তীরবর্তী। প্রথমদিকের গল্পগলিতে যারা উৎসাহ প্রদান করত তার মধ্যে সুজয় মুদি ছিল অন্যতম। তার একটা টেলরিং এর দোকান ছিল তালডাঙার মোড়ে। সেখানে আমাদের আমাদের আড্ডা বসত। প্রচুর ইঁদুর ছিল সেখানে, বিড়ালও। মুদির খুব মুস্কিল হয়েছিল বিড়ালে ইঁদুর না ধরায়।

২।বিড়াল পার নি্যে আমার একটা গল্প ছিল, জীবনানন্দের বিড়াল, ইস কেউ যদি খুঁজে দেয়।

৩। ও ৪। এর উত্তর আলাদা করে দেব। এটা আসলেই বেশ বড়।

৫। শিল্প-সাহিত্যের একটি সুনির্দিষ্ট জ্যঁর ঝেখানে ম্যাজিকাল এলিমেন্টগুলি আসে ও বসে খুব স্বাভাবিক-প্রাকৃতিক ভাবে।

কিউবান লেখক আ্যলেজো কারপেন্টারের দ্য কিংডম অফ দিস ওয়ার্ল্ড বা ফুয়েন্তাস বা মার্কেজ পড়লে বোঝা যাবে। মার্কেজ বলতেন তার লেখা নিয়ে, কোনটা ম্যাজিকের মত দেখতে আর কোনটা সত্যির মত দেখতে তাই আসলে বোঝা যাচ্ছে না। তিনি প্রচন্ড বড় ক্রাফটসম্যানও। তাই ম্যজিক রিয়েলিজমের উদাহরন তার যে কোন প্রায় লেখা।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।

কারুবাসনা এর ছবি

১। আমার লেখালিখির বাল্যকাল হবে কথাটা।

কারুবাসনার লেখাগুলো কিছু কিছু বেশ বুঝতে পারি, কিছু কিছু একেবারেই পারি না, এইটা কি কারুবাসনার লেখনীর জটিলতা নাকি আমার অদীক্ষিত পাঠকত্ব?

১৯৯৭ সাল নাগাদ আমি লক্ষ্য করি যে আমি লিখছি। সেগুলো বেশিরভাগই ব্যক্তিগত লেখালিখি। বরাবরই খুব ছোট পাঠকগোষ্ঠীর দ্বারা লালিত। কাজেই আমার লেখার অনেক সীমাবদ্ধতা আমি টের পাই। তখনই নদীর মত কিছু কিছু পরিবর্তন আনতে থাকি। আর ভাষার গ্রহণ যোগ্যতার জন্য প্রকাশের স্থানান্তর ঘটাই অনবরত।

২০০০-২০০৬ ভাল রকম নেশাগ্রস্থ থাকতাম বিবিধ উপায়ে ও উপাচারে। যেহেতু লেখালিখিটা জীবনযাপন ও নেশার অংশ ছিল, তাই গদ্য অন্য কোথাও একটা নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা এই সময় থেকেই শুরু হয়।এই সময়ের মুদ্রিত গল্পগুলোতে এই গদ্য খুজতে যাওয়া ছিল একেবারেই অমূলক। সেই সময় সেই গদ্য মকশো করছিলাম ব্যক্তিগত চিঠিপত্রে, যা আমার কাছে ছিল ডাইরি বিশেষ তার কিছু আমার কাছে এখনও আছে কিছু ব্লগপোস্টের ব্লগে আছে, দিল্লীকালীন রচনা খুঁজলে পাওয়া যাবে।আর দুই আনা টাইপ করতে শিখে ২০০৬ এ প্রবেশ মজলিশি মহল্লায়।তার খবর আপানার কাছে নতুন কিছু নয়। আমার বর্তমান ব্লগ পাঠকদের মধ্যে আপনি, দময়ন্তী, সামরান ও কনফুসিয়াস সবচাইতে বেশী পড়েছেন বা দেখেছেন।

সুতরাং মকশো করা চলতেই থাকে এখনো জারি আছে। গুরুচন্ডা৯ আমাকে অনেকটাই জটিলতা সহজতের করতে শিখিয়েছে। মজলিশি মকশোর চেয়ে বর্তমান মকশোয় এতটাই তফাত, গদ্যের জট বাক্য নির্মাণে কমছে, চয়নে বাড়ছে। সামহোয়ারইনে পোষ্ট মর্ডানিজমের ঘাত-ঘোত অভ্যাস করতাম। এখন তা অনেকটাই মুক্ত। আগেই বলেছি বাংলাদেশে বসবাস আমাকে কিছুটা হলেও ফিরে তাকাতে বাধ্য করছে। পোমোর উপাদান টিকে আছে বর্তমান লেখাতে অথচ সেটা হওয়ার কথা ছিল না।

যেহেতু লেখার ভঙ্গিকে গদার পরবর্তী সময় থেকেই আমার অগ্রজরা অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন, আমিও দিচ্ছি। সেখানে তাদের সাথে আমার কোন সংঘাত নেই। কোথাও কোথাও আমি বলেছি আমার লেখা নিয়ে, কিন্তু পুরোপুরি ধরতে পারিনি সেটা। চেস্টা করেছি শব্দের বিস্তারে যেন সে সঙ্গীত হতে পারে। প্রচুর দেশজ গান শুনি আমি, বিদেশী সিনেমা দেখি, সংবাদপত্র প্রায় পড়িই না। এদের যোগসাজসে পালক পড়ার গদ্যের মত এক গদ্য নির্মাণে নিয়ত আছি।

কন্টেন্ট কে যদি কন্টেক্সট থেকে আলাদা করে দেখেন তাহলে দুর্বোধ্য ঠেকতে পারে যাকোন লেখা আমার লেখাও তার ব্যতিক্রম নয়। কিছুটা উদ্ধৃতি, টানা হ্যাঁচড়া ভাঙা-আধ ভাঙা টেকস্ট ভঙ্গি দিয়ে অতিক্রম করার অমিত চেস্টা, আমি দূরে দেখতে পাই ভেসে আসা চর, ভাসতে ভসতেই সবুজ থেকে সোনালী হয়ে গেল, বাদামি ঘোড়ারা ল্যাজ ঘোরাতে ঘোরাতে বানিয়ে ফেল্লো ডানা, সোনালি ফসল পিঠে বেঁধে উড়ে যাচ্ছে মেঘ হবে বলে। আমি আর আমার ন্যাড়া চর টের পাচ্ছি বরষা এখনো অনেক দূরে।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

আমার অনেক প্রশ্ন জমা হয়ে আছে ... একটু একটু করে ছাড়ি
১। ছোটগল্পের বইগুলোর বেলায় ইদানিংকার ট্রেন্ড হলো, বইয়ের নামে খানিকটা কাব্যিক ভাব বা সফটনেস প্রকাশ করা। সেদিক দিয়ে আপনার বইটির নামকরণ একেবারেই অন্যরকম, নামটি পড়ে আমি প্রথমে ধরেই নিয়েছিলাম রাজনৈতিক গদ্যের বই চোখ টিপি
প্রশ্ন হলো এই নামকরণের পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড কি?

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

কারুবাসনা এর ছবি

১। বইটি রাজনৈতিক গদ্যেরও বই বটে।
এই নামের একটা গল্প আছে বইটিতে।

আরো কি বেশী শুনতে চান?


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।

সবজান্তা এর ছবি

  • আমার জানামতে সুমেরু মুখোপাধ্যায়ের অনেক গুণ, অনেক রূপ। এর মধ্যে লেখক অংশটার প্রাধান্য কেমন ? নিজেকে কি কোন একটি পরিচয়ে পরিচিত করতে আগ্রহী ? হলে সে'টি কোনটি ?

  • টেক্সট ফরম্যাট বিভ্রাটে পড়ে এ'বার অনেকটা সময় আপনার নষ্ট হলো, বিস্তর ভোগান্তিও হলো। এ'সবের পর কি বাংলাদেশে থেকে বই প্রকাশে নিরুৎসাহিত বোধ করছেন ?

  • সুমেরু মুখোপাধ্যায়ের অনেক লেখাই ব্লগের অনেকের কাছে দুর্বোধ্য। এই দুর্বোধ্যতার ব্যাপারে আপনার ব্যাখ্যা কী ? আপনি কি মনে করেন আদৌ আপনার লেখা দুর্বোধ্য নয় কিংবা এ'টা কি একধরনের স্বেচ্ছায় বেছে নেওয়া স্টাইল ?

  • একজন মানুষের জন্য প্রাতিষ্ঠাণিক দর্শন পাঠ কতটা জরুরী ?


অলমিতি বিস্তারেণ

কারুবাসনা এর ছবি

# আমার জানামতে সুমেরু মুখোপাধ্যায়ের অনেক গুণ, অনেক রূপ। এর মধ্যে লেখক অংশটার প্রাধান্য কেমন ? নিজেকে কি কোন একটি পরিচয়ে পরিচিত করতে আগ্রহী ? হলে সে'টি কোনটি ?

খুব মুস্কিল। আমি আসলেই একজন দর্শক, অবসারভার। কিছুদিন লিখি, ছবি আঁকি, ছবি তুলি, ঘুরে বেড়াই। ক্রমাগত চেস্টা করে চলেছি পাগল হওয়ার, কিছুতেই পারছি না। জলাশয় ফিরিয়ে দিচ্ছে, ডুবিয়ে নিচ্ছে না। মাধ্যাকর্ষণের মত উৎকট কোন ফ্যাচাং কাজ করছে মনে হয়।

জীবিকার প্রয়োজনে টিভি প্রোগ্রাম বানাই, চিত্রনাট্য লিখি, সম্পাদনা করি, শব্দ নকশা করি, পড়াই, সাংবাদিকতা করেছি ও আরো হিজিবিজি অনেক কিছুই করেছি ও করছি। যেরকম সিনেমা বানাতে চাই তা এখনও বানাতে পারিনি। সেও নিশ্চয়ই পাগল হওয়ার পথের মধ্যবর্তী কোন অংশ, তাই নাগাল পাচ্ছি না।

# টেক্সট ফরম্যাট বিভ্রাটে পড়ে এ'বার অনেকটা সময় আপনার নষ্ট হলো, বিস্তর ভোগান্তিও হলো। এ'সবের পর কি বাংলাদেশে থেকে বই প্রকাশে নিরুৎসাহিত বোধ করছেন ?

এইভাবে দেখাটা সত্যের অপলাপ। ফরম্যাট বিভ্রাট অনেক কম। আমাদের গাফিলতি অনেকটাই বেশি। আমাদের অলসতা, অদিক্ষিত নন্দনবোধ ভোগান্তির কারণ। নিরুৎসাহ নিশ্চয়ই হয়েছি, তবে বাংলাদেশ থেকে এরপরও বই বেরোবে, কারণ সেটা আমার নিজেরই দেশ।

# সুমেরু মুখোপাধ্যায়ের অনেক লেখাই ব্লগের অনেকের কাছে দুর্বোধ্য। এই দুর্বোধ্যতার ব্যাপারে আপনার ব্যাখ্যা কী ? আপনি কি মনে করেন আদৌ আপনার লেখা দুর্বোধ্য নয় কিংবা এ'টা কি একধরনের স্বেচ্ছায় বেছে নেওয়া স্টাইল ?

এটা হওয়ার কথা নয়। চেষ্টা করছি কমিউনিকেট করার। ক্রমাগত পরিবর্তন করে চলেছি। বলুন কি অসুবিধা হচ্ছে, ব্যক্তিগত কথন অবশ্য না বুঝলেও চলে, তবে গদ্য যদি তাকে ধরে ফেলে তবে না বুঝে উপায় নেই, যন্ত্রনার শরিক হওয়া ছাড়া, উপফ, এই কাফকা লোকটা আমায় কোনদিন মেরে ফেলবে।

# একজন মানুষের জন্য প্রাতিষ্ঠাণিক দর্শন পাঠ কতটা জরুরী ?

বাপরে, ভাইরে এটাতো লেকচার কেলাস নয়, এখানেও এই সব প্রশ্ন করছ?

নিজে ভাল করেই জান এর উত্তর। যদি না জান বলে মনে হয়, নিঃসঙ্কোচে আবার প্রশ্নটা করো, আমি উত্তর দেবো।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।

সবজান্তা এর ছবি

দর্শনের ব্যাপারে আমার চিন্তা কিছুটা ঝাপসা। পরিষ্কার করার কাজটা না হয় আপনার মন্তব্য দিয়েই শুরু হোক। চোখ টিপি


অলমিতি বিস্তারেণ

কনফুসিয়াস এর ছবি
কারুবাসনা এর ছবি

ক্লান্ত ভীষণ ক্লান্ত। কয়েকদিন নির্জনে কাটাব, পারছি না।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।

নাজনীন খলিল এর ছবি

বইটি এখনো সংগ্রহ করতে পারিনি।

আশা করছি শীগগীরই হাতে আসবে।বইটির সাফল্য কামনা করি।

কারুবাসনা এর ছবি

সেদিন আপনাকে অনেক মিস করেছি। ভাল থাকবেন।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

সুমেরু'দা ,
১। সাহিত্যে 'উত্তরাধুনিকতা' বিষয়টা কি? আমার মতো বেবুঝ পাঠকের জন্য একটু সহজবোধ্য উদাহরন দেয়া যায়?

২। এ সময়ের বাংলা গদ্যে আপনি কার মুগ্ধ পাঠক?

৩। দুই বাংলার গদ্য ভাষায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য কতোটুকু? এই পার্থক্য কি বাড়ছে? শেষপর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

৪। কার জন্য লিখেন? নিজের জন্য/পাঠকের জন্য/ নাকি দুটোর সমন্বয়ের চেষ্টা করেন?
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

কারুবাসনা এর ছবি

১। সাহিত্যে 'উত্তরাধুনিকতা' বিষয়টা কি? আমার মতো বেবুঝ পাঠকের জন্য একটু সহজবোধ্য উদাহরন দেয়া যায়?

ক্রিটিসিজম লিটারেচারের বাইরে বিষয়টা বেশ গোলমেলে, সাহিত্যের ক্ষেত্রে। আমরা তো মর্ডানিজমের সমস্ত কনফিউশনকেই পোষ্ট মর্ডানিজম বলে চালাচ্ছি। ধর সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপর, শুরু হল ইস্ট ইউরোপে। অবক্ষয়, আর দাঁড়াতে পারল না। সংস্কৃতির হায়ারআর্কির কেন্দ্রবিন্দুর স্থানান্তর তো হোলই, দ্বিধা, দন্দ্ব , সংশয়, প্রান্তিক জটিলতা আমাদের ছিঁড়েখুড়ে খেল। সাহিত্যে খুব দ্রুত হয় নি, খুব ধিরে হয়েছে, ঐ ক্রিটিসিজম লিটারেচার ছাড়া।

বুর্জোয়া কালচার ও এলিট ভাষার ব্যবহার সরাসরি প্রত্যখ্যান করার সাহস এই সময় দেখিয়েছেন তারা। মর্ডানিজিমের সংশয়ের দুরুদুরু বুক পাল্টে গেল অট্ঠাসিতে ভরা ছাতিতে। ঠাট্টা এল বলে এল না, সিমিলাক্রা, স্টিরিওটাইপে বাক্য থেকে স্ট্রাকচার সব ভরে গেল। এইদিক থেকে ফুকোর অবদান আছে, পোষ্টস্ট্রাকচারালিজম আমাদের সাহিত্যে তো বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

২। এ সময়ের বাংলা গদ্যে আপনি কার মুগ্ধ পাঠক?

আমার মুগ্ধতার তো শেষ নেই। এই যে এখন রাশিদা সুলতানা বা শাহাদুজ্জামানের প্রথম গল্পের বইটি পড়ছি, গদ্যে না মজি তো তার ভঙ্গি আমাকে নির্যাতন করছে।
গদ্য -পদ্য জানিনা আমি মাইকেল মধুসূদনের অন্ধ ভক্ত। মানিক, হ্যাঁ স্বীকার করি রবীন্দ্রনাথ, সন্দিপন, জীবানানন্দের অসম্ভব গদ্যের মুগ্ধতা মারাত্মক। সোহরাব হোসেন, স্বপ্নময়, অমর মিত্র থেকে শুরু করে এই যে আমার বন্ধুরা সৈকত, ইন্দ্রনীল যা লিখছে, নবারুনদা, দেবর্ষি সারগী, রবিশংকর বল সবাই তো যা তা করে ফেলছে। নাঃ আমার মুগ্ধতার কোন শেষ নেই।

৩। দুই বাংলার গদ্য ভাষায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য কতোটুকু? এই পার্থক্য কি বাড়ছে? শেষপর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

এটা কি ইয়ার্কি হচ্ছে? দুই বাংলা মানে? আরও একটা কাঁটাতার লাগিয়ে ভাগাভাগি করতে চাও? আজ পর্যন্ত আমি দেশের বাড়ি বলে কিছু জানলাম না। জন্মের পর থেকে জানি, আমাদের কোন জমি ছিল না, তাই সোহাগের ধান হয়নি কোনদিন, কোন পুকুর ছিল না। নাম রাখার মত কোন আত্মীয়তা মাছ বা গরুর সঙ্গে কোনদিন হল না। বাসা বাড়িতে বড়িতে বড় হতে হতে দেখলাম এজমালি উঠোনে কোন মাটি নেই, সব সিমেন্টে বাঁধানো। বাংলাদেশি বই কটা পাই হাতে? হালের বইমেলায় তবু সে হুমায়ুন আহমেদ, ঝকঝকে তকতকে মসজিদের মত। ব্যাস। দিনকাল যা পড়েছে জসিমুদ্দিনকেও এই বাংলা বলে চালাবে, খাতা কলম নিয়ে হিসাব করবে শিলাইদহে ররীন্দ্রনাথ কত পাই কত আনা লিখেছেন। আর এই শুয়োরের বাচ্চা বাংলা একাডেমি , শালা শেষ করে দেবে বাংলা ভাষাকে। খালি বিধি বানায়, কোথায় ভাষা পুষ্ট হবে তা না, স্লিম বানাচ্ছে, মিস ইউনিভার্স বানিয়ে ছাড়বে।

৪। কার জন্য লিখেন? নিজের জন্য/পাঠকের জন্য/ নাকি দুটোর সমন্বয়ের চেষ্টা করেন?

কেবল পাঠকের জন্য লিখি। তাদের জন্যই লড়াই করি গদ্যের সাথে। বারে বারে পাল্টাই। নতুন কিছু দিতে না পারলে লেখার কোন মানে নেই।এক্সপিরিমেন্ট থেমে যাওয়া মানে শেষ। ডেড। কমিউনিকেট করতে না পারলে থেমে যেতে হবে। তবু যে গল্প বলে সুখ তো তারই তাই গল্প হয়ত বলব, লিখব না।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

আমার নিশ্চয়ই বুঝতে ভুল হচ্ছে, সুমেরু'দা সজ্ঞানে পোষ্টমর্ডানিজমকে প্রলেতারিয়েত লিটারেচারের কোলে ঠেলে দিচ্ছেন না- না তো?

আর ঐ ইয়ার্কির বিষয়ে বলি একটুঃ-
'৪৭ এর ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক বিভাজনের আগে ও কিন্তু এপাড় ওপাড় ছিলো দাদা । পদ্মার এপাড় আর ওপাড়ের ভাষায় ব্যবধান আমরা এড়াই কি করে? বঙ্কিম আর মীর মোশাররফের কিংবা সন্দীপন আর সৈয়দ হকের ভাষা কি এক?
এই বিভাজন ধর্মের নয় । ধর্মের বিভাজনটা বানানো । কিন্তু ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক দুরত্বের কারনে দুই বাংলার ভাষায় ব্যবধান তো ছিলোই । তোমার ঠাকুর্দা পুর্ববঙ্গীয় বাঙ্গাল যেদিন কোলকেতেতে গেলেন- ঘটি বাবুরা তারে বাঙ্গাল বলে উপহাস করেনি তার বাচনভঙ্গীর কারনে?

আমি এই পার্থক্যটা বুঝতে চাচ্ছিলাম । তোমার যেহেতু দুইদিকেই অভিজ্ঞতা আছে- তুমি বলতে পারো এই সময়ে আমাদের এদিকের লেখার ভাষা আর কলকাতার লেখার ভাষার মধ্যে মিল-অমিলটা কেমন?

অন্যভাবে নেয়ার কিছু নাইগো দাদা হাসি

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

কারুবাসনা এর ছবি

মোরশেদভাই,
আপনার উত্তর পেয়ে ভাল লাগল। আর এটা তো জানা কথাই পোমো লিটারেচার মানেই প্রলেতারিয়েত লিটারেচার নয়।

দুই বাংলার সাহিত্য সন্মর্কে আমার জ্ঞান খুব সিমিত। সময়ের সঙ্গে, জায়গা ও মানসিকতার কারণে সতীনাথ ও রমানাথ রায় যেমন আলাদা, হুমায়ুন আজাদের সাথে অসীম রায় তেমনই আলাদা। আলাদা তো হবেই, সেটাই বৈশিষ্ট্য। ভাষাগত পরিবর্তণ কুচবিহার আর বাঁকুড়ায় মারাত্মক, পরিবেশও। আমি তাই বলে ছিলাম, এটা বাংলা ভাষার ডাইভার্সিটি, পকেট করে কোন লাভ নেই। আমি চাই না।

color=red]
----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।[/color]


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

১। আপনার বেশ কয়েকটি গল্প খুঁজে না পাবর কারণে বইটিতে সংযুক্ত করতে পারেননি বলে জেনেছি -- গল্পগুলো সম্পর্কে কি সংক্ষেপে কিছু বলবেন? যেমন ধরুন গল্পগুলোর পটভূমি

২। আপনি আর শ্যাজাদি, দুজনেই লেখালেখির সাথে খুব এক্টিভলি জড়িত আছেন। এব্যাপারটা আপনাদের দুজনের লেখক সত্ত্বাকে কোনভাবে প্রভাবিত করছে কি? করলে পজেটিভ ও নেগেটিভ (যদি থাকে) দুটো সাইড নিয়েই আলোচনা করুন।

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

কারুবাসনা এর ছবি

১]অলরেডি অনেক বলেছি।

২] আমি খুব নিস্পৃহ লেখক। তা সত্তেও আমার মধ্যে মায়া ও প্রভাব দুটোই মারাত্মক। আমি খুব দ্রুত লিখি, সামরান প্রচুর সময় নিয়ে লেখা সাজায়। ওর লেখা পড়ে আমি প্রচুর কথা বলি। ও আমার লেখা পড়ে , বেশির ভাগ সময়ই বাতিল করে দেয়। আর পারছি না।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

আর এই শুয়োরের বাচ্চা বাংলা একাডেমি , শালা শেষ করে দেবে বাংলা ভাষাকে। খালি বিধি বানায়, কোথায় ভাষা পুষ্ট হবে তা না, স্লিম বানাচ্ছে, মিস ইউনিভার্স বানিয়ে ছাড়বে।

মোরশেদ ভাইয়ের প্রশ্নের জবাবে সুমেরুদা'র এই মন্তব্য বুঝতে পারিনি। ক্ষোভ না আক্ষেপ?

হিমু এর ছবি

এই মন্তব্যটার অভব্যতায় আমি বিস্মিত। তবে কোন উত্তর আশা করছি না। আগের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হলে জনাব কারুবাসনা দীর্ঘদিনের জন্য ব্লগীয় শীতনিদ্রায় চলে যান। ব্যস্ত মানুষ।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

কারুবাসনা এর ছবি

ব্যস্ত না থাকার কোন কারণ দেখছি না।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।

কারুবাসনা এর ছবি

আক্ষেপ আবার কি?
ক্ষোভ, মশাই ক্ষোভ।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।


----------------------
বিড়ালে ইঁদুরে হলে মিল, মুদির কিন্তু মুশকিল ।

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

ক্ষোভ থেকেই না হয় বলুন, বাংলা একাডেমি 'শালা'টি কীভাবে কোন বিধি দিয়ে বাংলা ভাষাকে 'শেষ করে' দিচ্ছে, কীভাবে 'স্লিম' করে দিচ্ছে, অন্যদিকে কারাই বা বাংলা ভাষাকে 'পুষ্ট' করছে?

ছেলেবেলায় যখন প্রথম একুশের বইমেলায় যাই, তখন যে কথাটি প্রায়ই কানে ভেসে আসতো - 'বাংলা একাডেমি একুশের সন্তান'।
তো, আপনি কোন কারণে বাংলা একাডেমিকে 'শুয়োরের বাচ্চা' ডাকলেন তা জানতে খুব ইচ্ছে করছে।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।