স্মৃতির পাতার দূর্গাপূজো…

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: সোম, ১৯/০৯/২০১১ - ৪:৪৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ভাদ্র-আশ্বিনের এই এক ঝামেলা। এই ঝমাঝম বৃষ্টি, এই রোদ্দুর।
অন্যদের কি হয় জানিনা, তবে বৃষ্টি হলেই আমার মন ভিঁজে যায়, বলা ভাল ভিঁজেই থাকে। স্যাঁতস্যাঁতে পিছল উঠোনের শ্যাওলার মতন গন্ধ ছুটছে মনে হয়। ভাল্লাগেনা’ ভাবটা এতো প্রকট হয় যে মাঝে মাঝে নিজের উপরেই রাগ লাগে।
‘আরে! বর্ষাকালে বৃষ্টি হবেনা তো কি হবে…?'

বর্ষা আমার কোনোকালেই প্রিয় ছিল না। সেই ছেলেবেলায় বর্ষাকাল মানেই জ্বরে ভোগা। সামান্য বৃষ্টির পানি মাথায় পড়লেই কোঁ কোঁ শুরু, সাথে মায়ের বকুনি। বৃষ্টির দিনে বাবার বর্ষা যাপন ভাই বোনদের নিয়ে আর আমার কান মাথা ঢেকে বারান্দায় বসে থাকা। উফঃ।

ছেলেবেলায় শরৎকালের বর্ষা ভাল লাগতো শুধু একটা জিনিসের আকর্ষনে। সেই কারনে শরতের জন্য অধির অপেক্ষাও ছিল। ঘোর বর্ষার ঘ্যানঘ্যানানির দিন শেষে টিপটিপ বৃষ্টি বা এই রোদ এই মেঘের খেলার দিনের অপেক্ষায় অন্তর অস্থির হয়ে থাকতো। অপেক্ষায় থাকতাম দূর্গাপূজার !!

আহ্, দূর্গাপূজা!!

প্রতি বছর আর কোথাও যাওয়া হোক কি না হোক, দূর্গাপূজার সময় সাভারের ধামরাইয়ে সুবল কাকুর(বাবার বন্ধু)বাড়িতে যাওয়া অবধারিত ছিল। কাকুর বাড়ি পৌছতেই কাঁসার গ্লাস ভর্তি গরম গরম লাল গাইয়ের দুধ হাজির! সাথে ইয়া বড় বড় মুঠির সমান সদ্য বানানো রসগোল্লা, সন্দেশ আর কাঁচের মত স্বচ্ছ সফেদ বাতাসা! আর বাড়ির পেছনেই সারি করে বোনা গাছের চম্পা কলা। আহা!

নাস্তা সেরেই কুঁচোদের দল ছুটতাম গ্রাম ঘুরতে। বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রতিমা দেখে, কুমোর পাড়ায় ঢুঁ মেরে, স্যাকরার দোকানের জানালায় দাঁড়িয়ে সোনা-রুপা গলিয়ে দেবীর মুকুট তৈরীর ফিনিসিং দেখে ভর দুপুরের চড়া রোদ্দুরে পাখির ডানা ছড়ানোর মত দুই দিকে হাত ছড়িয়ে ভোঁ পোঁ শব্দ করতে করতে নদীর(না বিল?মনে নেই) পাড় ধরে দৌড়ে ঘেমে নেয়ে কাঁদায় মাখামাখি হয়ে বাড়ি ফিরে বকা খাওয়া… নিয়মিত গপ্প ছিল এটা।

দুপুরে একটু বেলা করে খেতে বসাতেন কাকি, ক্ষিধে লাগিয়ে(এতে নাকি বেশি খাওয়া যায়)। শীতল পাটিতে পেতে রাখা পিঁড়ের পরে সোনা রঙের চকচকে কাঁসার বিশাল থালায় গরম গরম বেলকুঁড়ির মত সাদা ফেনা মাখা চিকন দানার ভাত আর তার চার পাশ ঘিরে ছোট ছোট বাটি ভরা সাত পদ। সবার পাতের এক পাশে একটা করে ডুমুর পাতায় মিহি নুন আর শর্ষে বাটা(নাকি কালো জিরে?)আর পানির গেলাশ। তাও কাঁসার।

দুই পদ খেতে খেতেই অষ্টম পদ হাজির হত। বড় একটা রেকাবিতে করে কাকার হাতের বিঘতের চে বড় সাইজের গরম কই মাছ ভাঁজা আর চারকোনা করে কাটা কলাপাতা।
কাকি নিজেই এক এক করে সবার পিঁড়ের উপরে একটা করে কলাপাতা বিছিয়ে দিয়ে রেকাবি হাতে ঘুরে ঘুরে মাছ তুলে দিতেন সবার পাতে। আর কী স্বাদ সেই মাছের!!
মচমচে ভাঁজা অথচ কী তুলতুলে! কেমন যেন একটা আলাদা ঘ্রান ছুটতো, এখন আর মনে পড়েনা… (হিং এর কি?! কে জানে?!)
চিমটি দিয়ে দিয়ে সবার আগে মাছটাই খেতাম আমি কারোর পাতের দিকে নজর না ফেলেই। ছোটদের মাছ বেছে দেবার জন্য মায়েরা জোরাজুরি করলেও আমরা কেউ-ই তাতে রাজী হতাম না। অথচ, গলায় কাঁটা না বিঁধিয়ে দিব্যি খেয়েও উঠতাম!

দুই সারি করে পাত পাতা হত। এক সারিতে বাবা কাকারা(বড় পুরুষেরা) আরেক সারিতে কুঁচোকাঁচারা, সব মিলিয়ে চৌদ্দ-ষোল জন। কুঁচোদের মায়েরা কাছে পিঠেই থাকতেন। শুধু কাকিমা দুই সারির মাঝখানে একটু ফাঁক রেখে পিঁড়েয় বসতেন সকলের খাবার তদারকি করতে। তো, পেট ফাঁটিয়ে (যেন জনম ভরে খাওয়া হয়না এমন) খেয়ে ঢসঢস পেটে হাত বুলোতে বুলোতে সেকি হাসি আমাদের!
ঘন্টা দুয়েক গড়াগড়ি বা লুডো-ক্যারাম দাবা। এরপর সাজ, বেড়াতে যাওয়ার।

ভাসানের পাঁচ দিন আগে যেতাম আমরা। দিন অনুসারে এখন আর মনে পড়েনা। কিন্তু রথের মেলায় যেতাম এটা পস্ট করে মনে পড়ে। গ্রামটা ঠিক গ্রাম ছিলনা মনে হয়। কাঁচা বাড়ি খুব কমই দেখেছি। দোতলা তিনতলা পুরোনো পুরোনো দালান। আর বড় বড় দালানগুলোর বিশাল উঠোনে প্রতিমা সাজানো।
কবিতাদি, ঝর্ণাদি আর বুবুরা ছিল এক বয়সী। তাদের মাতব্বরিতে আমাদের দুষ্টুমি করবার জো’টি নেই। তার মধ্যেও আমাদের বাঁদরামোর কমতি ছিল না। আর অকারন হি হি।
ক্লাস টু কি থ্রিতেই পড়ি? তাও পটর পটর কত গল্প, কত হি হি, হু হু। আজকালকার গম্ভির গম্ভির বাচ্চাগুলোকে দেখলে এখন বেশ অবাকই লাগে। এরা এতো গম্ভির কি করে থাকে এই বয়সে?!

সে যাই হোক, পাঁচ পাঁচটা দিন স্বর্গে বাস যাকে বলে।সারা বিকেল ঘুরে ফিরে সন্ধ্যে সন্ধ্যে বাড়ি ফিরে আবার পেট পূঁজো। সেও কি যা তা?! হেন কোন পিঠে পুলি নেই যা করা হয় নাই।কাকির তৈরী মাখনের মতন নরম মুগ পাঁকনের স্বাদ এখনো মনে হয় জ্বিভে লেগে আছে। আর থাকতো মোয়া। সাদা-কালো তিলের মোয়াটা ছিল আমার সবচেয়ে প্রিয়। সে সময় বলতাম ‘পিয়্য’।তো সেই পিয়্য’ বস্তু বেশি বেশি খেয়ে পরে পেটের ব্যাথাও তো কম হতোনা (খাইছে)।

বড়রা যখন নিজেদের কাজে ব্যাস্ত, আমরা তখন নিজেরা (বয়স ভেদে দল হয়ে যেতো) নিজেদের সামলাতাম। মানে অপরিসীম দুষ্টুমি যাকে বলে। একটা ঘরের ছোট খাট আসবার সরিয়ে বিরাট জায়গা করা হত ছোটদের জন্য। সেখানে ঢালাও বিছানা পাতা হত রাত আটটা বাজতে বাজতে। লাল রঙের সিমেন্টের মেঝেটা এম্নিতেই ঝকঝকে মসৃন আর পিচ্ছিল। কারণ ছাড়াই দৌঁড়ে গিয়ে পিছলে পড়ার খেলা’ কেউ কি কল্পনা করতে পারছেন সেটা কেমন ছিল? এক একবার আছাড় খেয়ে পড়ি আর হি হি করে গড়িয়ে পড়ি। কি যে মজার ছিল সেই অদ্ভুত খেলা!

রাতের খাওয়ার পর শুতে যেতাম আরো ঘন্টা দুয়েক পর। চোখ ঢুলে পড়তো ঘুমে কিন্তু ঘুমোতে ইচ্ছা করতো না। রাতে বুড়ো মতন একজন আমাদের সাথে শুতে আসতেন, আমরা ভয় পাই পাছে বা যদি কিছুর দরকার পড়ে বা টয়লেট যেতে হয়। বাতি নিভে যেতেই অকারনে একটা চিৎকার দিয়ে উঠতাম সমস্বরে। মা কাকিরা ছুটে আসতেন দুদ্দাড় আর আমরা হিঃ হিঃ তে গলে পড়তাম। এটা রোজকার খেলা ছিল।

শুতাম ঠিকি, ঘুমও পেতো, কিন্তু ঘুমোতে পারতামনা ঢোল বাদ্যির শব্দে। তার সাথে যোগ হত শেয়ালের ডাক। গা ছমছম করা অন্ধকারে বুড়িকে আবার ভুতের গল্প বলার অনুরোধ করতো বুবুরা। দুবার সাধাসাধির পর বুড়ি পান তামুকের ঘ্রাণ ছড়িয়ে গল্প শুরু করতেন।
গল্প বলতে বলতে এক সময় বুড়ির গলা এমন ভয়াল হয়ে উঠত যে আমরা কুঁচোরা কেঁচো হয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরতাম ভয়ে। এই করে কখন যে ঘুমিয়ে পড়তাম…

(এক বছর, গনেষ পূজোর দিনে তুমুল এক কান্ড হয়ে গেল। বরাবরের মত এ বাড়ি ও বাড়ি ঘুরছি প্রতিমা দেখে দেখছি। হটাৎ কি খেয়াল হল কে জানে, গনেষের লম্বা শুঁড় ধরে দিলাম মোচড়। আর তাতেই আদ্দেক শুড় হাতে চলে এল। একেই তো পূজোর মধ্যে প্রভুর অঙ্গহানি তায় মুসলমানের ছোঁয়া!! আর যায় কই? শুরু হয়ে গেল চিল্লা পাল্লা, মহা গ্যাঞ্জাম। নালিশ। শেষে আমার পিঠে… সেবার সুবল কাকার বড় ভাই যদি না থাকতেন তো আমার বলি-ই হয়ে যেতো।)

পূঁজোর শেষ দিনটা হত সবচেয়ে বেশি মজার। কত রকমের পূঁজো শেষে মা দুর্গা যাবেন বাপের বাড়ি। তার জন্য কত তোড়জোড়। বিশেষ কিছু বুঝতাম না, হা করে শুধু তাকিয়ে দেখতাম। কাকিমার গম্ভির কাঁদো কাঁদো মুখটা মনে পড়ে এখনো। লাল পেড়ে সাদা গরদের শাড়ির ঘোমটার মাঝখানে কাকিমার গোলপানা ফর্সা মুখটা অসম্ভব মলিন। বিকেল হতে হতে তার চোখ লাল টকটক। তা ধুপ ধোঁয়ার কারনে নাকি প্রতিমা বিদায় হবেন সেই দুক্ষে তা আর বুঝতে পারতাম না। তবে আমাদের হাসি তখনকার মত বন্ধ থাকতো। ভাসানের সময় সিঁদুর পরা সধবাদের জ্বীভ নেড়ে নাগাড়ে উলু ধ্বনি দেয়া আর শাঁখ বাজানো দেখতাম হা করে। ছেলেরা সারা গায়ে রঙ মেখে কোমরে মাথায় গামছা বেঁধে প্রতিমা তুলে নিয়ে চলে যেত। আর সেই সময় মেয়েদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়তো ‘মা’কে একবার ছুঁয়ে দেবার জন্য।

অবশেষে চোখের পানিতে মা’কে বিদায় দিয়ে মেয়েরা নাকে চোখে আঁচল গুঁজে ফুপিয়ে উঠতেন আর আমরা ছুট লাগাতাম ছেলেদের পিছে পিছে।ছুটতে ছুটতে এক্কেবারে হাঁটু জলেই নেমে যেতাম। পিছল এঁটেল মাটিতে পিছলে পড়ে কাঁদামাটিতে একসা হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে একে অপরের কিম্ভুত চেহারা দেখে দম ফাটানো হাসি ঠেকাতাম মুখে হাত চেপে। হৈ হৈ করে দেবীকে মাথায় তুলে গলা পানিতে নেমে নদীর(কিংবা বিল)জলে ডুবিয়ে দিতো ছেলেরা।

দেবী বিসর্জনের সাথে সাথে আমাদের হাসিরও বিসর্জন হত বুঝি। পূঁজো শেষ, এবার ফিরে যেতে হবে সেই ঢাকা শহরে। সেই ইট কাঠের খাঁচার ভেতরে। হাজারটা অনুশাষনের বেড়াজালের জটের মধ্যে- এই দুঃক্ষে সবার মুখ মলিন। মা, কাকি, পিসিরা ব্যাস্ত হয়ে যেতেন রাতের সকালের ভোঁজের ব্যাবস্থ্যায়। আর আমরা…

রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে মনে হত মোটেই ঘুম আসবেনা। অথচ, বিছানায় পড়েই ঘুম।
ভোর ভোর বুড়ির ডাকে ঘুম ভাংতেই মনে পড়ে যেতো আজ চলে যাওয়ার দিন। ‘সুখ ভরি দিন বিতেরে ভাইয়া…’
কাঁদতে কাঁদতে গাড়িতে উঠতাম আর আরো ঘন্টা দুয়েক কেঁদে চোখ ফুলিয়ে ঢাকার বাসার সামনে গাড়ি থেকে নামতাম।
ঘরে ফিরেই অপেক্ষা শুরু হত পরের বছরের পূঁজোর।

আজ কত বছর দূর্গাপূজো দেখা হয়না… কাকির মুখও। সুবল কাকা নেই অনেক বছর হল। আর কুঁচোগুলোর অনেকের তো নামও মনে নেই। কোথায় যে হারিয়ে গেল সবাই!! কেউ নেই, কিছুই নেই… যন্ত্র যূগের যন্ত্রনায় অনেক ভাললাগার কথা মনেও পড়েনা সময়ে। শুধু ছিঁচকাদুনে বৃষ্টির দিনে অসময়ের স্মৃতীরা এসে হামলে পড়ে মাঝে মধ্যে। এল্বামের সাদা-কালো কিংবা ফিকে হয়ে যাওয়া রঙ্গিন ছবিগুলোর প্রায় ঝাপসা হয়ে যাওয়া মুখগুলো বড্ড যন্ত্রনা করে। ভাল্লাগেনা… আবার কী যে ভাল লাগে…


মন্তব্য

বন্দনা কবীর এর ছবি

প্রতিবারই লেখার নীচে টিপসই দিতে ভুলে যাই খাইছে

তাপস শর্মা এর ছবি

টিপসই দিতে হবেনা। আপনার লেখা একটা অন্য জগতে নিয়ে গেল কিছুক্ষণের জন্য। এমন নয় যে এই ধরনের বর্ণনা এর আগে শুনিনি। কিন্তু বহু দিন পর মনে করিয়ে দিলেন। একটা আবেশ ছড়িয়ে গেলো হৃদয় জুড়ে। পুজোটা ভগবান টগবানের নয় । একটা আনন্দের, অনুভূতির। কোনোদিনও এই ভাবে পুজোর আবেশকে অনুভব করিনি আপনার মতো। কর্পোরেট পুজোয় অভ্যস্ত আমি। মোটামুটি জ্ঞান হবার পর পুজোর মণ্ডপে যাইনি কোনোদিন। এই বারও যে সত্যই পুজো এসেছে তা মনে হচ্ছিল না। পুজোর অনুভূতি আলাদা ভাবে স্পর্শ করেনা আমায়। পুজোর চারদিন মানেই এখন আমার কাছে একটু রেস্ট পাওয়া। মা বাবার সাথে একটু দেখা করা, ব্যাস এটুকুই। বইয়ের পাতায় কোনো কোনো সময় অনুভূতিকে খোঁজার চেষ্টা করি, এবারও তাই করেছি, পুজোর দিন গুলিতে পড়ার জন্য শারদীয়া পত্রিকা গুলো কিনে নিয়েছি প্রতিবারের মতো। এই আমার উৎসব, আর উৎসবের দিনযাপন।

লিখতে থাকুন, আর লেখায় বানানের দিকে একটু নজর দেবেন ভাই। পুজোয় আপনার ভাল লাগার দিনগুলি আবারো ফিরে আসুক। ভাল থাকবেন। হাসি

কর্ণজয় এর ছবি

সুন্দর বর্ণনা.. নিটোল...

বন্দনা কবীর এর ছবি

পড়ার জন্য ধন্যবাদ দাদা। আপ্নিও লিখুন না আপনাদের এই বিশেষ উৎসবটিকে নিয়ে হাসি

ভালো মানুষ এর ছবি

অসাধারন লাগলো.........চালিয়ে যান............।। উত্তম জাঝা!

বন্দনা কবীর এর ছবি

আপনি 'ভাল মানুষ' বলেই বেশি প্রশংসা করে ফেললেন হাসি

অনেক ধন্যবাদ ভাল মানুষ

কল্যাণF এর ছবি

মন খারাপ

বন্দনা কবীর এর ছবি

মন খারাপ কেন গো ভাই?
কেউ বুঝি বেড়াতে নে যায় নাই?

আশালতা এর ছবি

আহ, পূজোর এই দিনগুলো এলেই ভারী মন ভালো হয়ে যায়। কত যে স্মৃতি জড়ানো। হিন্দু বান্ধবীদের সাথে মিলে পূজোটা যেন অনেকটাই আমাদেরও হয়ে যেত। তিন দিনের মেলার এন্তার চালতার আচার, গুড়ের জিলিপি আর হজমি বড়ি। আর মাইকে হিট সব পূজোর গান তো ছিল বোনাস। বাণী মাসি ধরে নিয়ে গিয়ে জোর করে করে কতরকম খাবার যে গেলাতেন। আহা ! হাসি

----------------
স্বপ্ন হোক শক্তি

বন্দনা কবীর এর ছবি

আপনার জনম স্বার্থক দিদি। আপনার মন ভাল হয়ে যায় পূজোর কথাতেই আর আমার মন খারাপ। পূজোর চার পাঁচটে বছরের স্মৃতি-ই কেবল আছে। আর বড় হওয়ার পরে সিলেট, রংপুরের পুজো যা দেখেছি তা কেবল চোখেই দেখেছি। প্রতিমা দেখা যাকে বলে। প্রাণের পরশ আর পাইনি তেমন করে। শহুরে পূজো কেন যেন তে,অন ভালও লাগেনা। এখন তো জাঁকজমক প্যান্ডেল সাজানোর প্রতিযোগিতা আর মেকি আলোর জেল্লায় প্রতিমাদেরই প্রান ওষ্ঠাগত হয়ে যায়।
গত দুবছর ধরে শুনি গুলশান মাঠে পূজোর প্যান্ডেল হয়। একবার উঁকি দিতে গিয়েছিলাম। ওরেব্বাস, গাড়ির জাম আর র্যা ব পুলিশের কড়াকড়িতে রাস্তা থেকেই ভেগে এসেছি। তাই, পূজো মানে এখনো মন খারাপ-ই আমার জন্য।

ছোটবেলাতেও আমি কেন যে কোনোভাবেই মেলার/ ঠ্যালার আচার বা হজমীর বড়ি খেতে পারতামনা মন খারাপ

তাপস শর্মা এর ছবি

আপনার ভালোলাগার দিনগুলি ফিরে আসুক হাসি

তানিম এহসান এর ছবি

পুরনো ঢাকায় এমনিতেই সারাবছর পার্বন লেগে থাকতো, আর পূজোর সময়তো কথাই নেই। আরতি হয়না বললেই চলে, গান বাজে। আরতি ছাড়া দূর্গাপূজো কোনভাবেই হয়না, আমার মানতে ইচ্ছে করেনা। আহ, আরতি!!

বন্দনা কবীর এর ছবি

চার বছর আগে সম্ভবতঃ জগন্নাথের পূজোয় গিয়েছিলাম প্রতিমা বিসর্জনের শেষ মূহুর্তেই বলা চলে। তার ঘন্টাখানেক আগে ছেলেদের লাউড স্পিকারের সাউন্ড সিস্টেমে গান বাজনার সাথে সাথে ধুধুম্মার নাচের কসরত ছাড়া কিছুই দেখা হয়নি প্রায়।
হ্যা, ছেলেবালার পূজোর আরতির কথা এখন মনে পড়ছে বটে।

তা...
আহ্‌ আরতি'র আরতি'টা কি কারো নাম? খাইছে

তাপস শর্মা এর ছবি

সেই দিন গুলি কি হারিয়ে গেলোরে ভাই তানিম

অরফিয়াস এর ছবি

আমার পূজোর বেড়ানো দুরকমের, নিজের গ্রামের বাড়ির বনেদি পূজো, আর কোলকাতার বাড়ির পূজো, দুটোতে দুরকমের মজা| কোলকাতায় সারা রাত পূজো দেখা চলে, আরতি অসাধারণ হয়, আর আমি নাচি ধুনোচি নাচ, পূজো আসতে না আসতেই অন্যরকম অনুভূতি, এটা ধর্মীয় যতটা না, তার থেকে বেশি নিজ সংস্কৃতির| আর বাড়ির পূজোর তো আলাদা মজা, প্রস্তুতি চলে অনেক আগে থেকেই| আবহমান বাংলার এই ঐতিহ্যগুলো টিকে থাকুক যুগের পর যুগ...

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

বন্দনা কবীর এর ছবি

এটা ধর্মীয় যতটা না, তার থেকে বেশি নিজ সংস্কৃতির|

সেটাই।

আবহমান বাংলার এই ঐতিহ্যগুলো টিকে থাকুক যুগের পর যুগ

শুধু টিকে থাকলেই হবেনা
ঐতিহ্য নিয়ে ঠিকে থাকতে হবে হাসি

তাপস শর্মা এর ছবি

অনুভূতি গুলো ছুঁয়ে গেল। আসছেন তো পুজোতে কোলকাতায়।

তাপস শর্মা এর ছবি

আবহমান বাংলার এই ঐতিহ্যগুলো টিকে থাকুক যুগের পর যুগ...

দিগন্ত এর ছবি

দুর্গা বানানে হ্রস্ব উ আর পূজা বানানে দীর্ঘ ঊ - ঠিক করে নেবেন। বাকি বর্ণনা খুব সুন্দর ও সাবলীল হয়েছে। প্রবাসে দুর্গাপূজা অন্যরকম - পারলে এবারের পূজোর পরে লিখব।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

বন্দনা কবীর এর ছবি

উফঃ আবার বানান ভুল?! মন খারাপ এবার থেকে ব্যাকরণ বই নিয়ে বসতে হবে দেখছি লেখার সময়।

অনেক ধন্যবাদ মনযোগ দিয়ে পড়ার জন্য।

আপনার প্রবাসের অন্যরকম দুর্গাপূজার গপ্প শোনার অপেক্ষায় রইলাম। ভাল থাকুন।

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

চলুক
বাঙালিকে উৎসব মুখর দেখতে খুব ভালো লাগে। সবাই রেঙে উঠুক................


_____________________
Give Her Freedom!

বন্দনা কবীর এর ছবি

সবাই রেঙ্গে উঠুক...
আপনিও হাসি

কাজি মামুন এর ছবি

শরতকাল এলেই বাতাসে পূজোর গন্ধ পেতে শুরু করি! ছোটবেলা-কার কথা মনে পড়ছে! তখন পূজো এলেই বাবা নিকটস্থ রামকৃষ্ণ মন্দিরে নিয়ে যেতেন। বিশাল সব প্রতিমা দেখে চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে যেত! মণ্ডপের বাইরে বসা মেলা থেকে হরেক রকম মজাদার খাবার ও খেলনা কিনে নিয়ে পরিতৃপ্ত মনে বাড়ি ফিরতাম। একটু বড় হলে, অমর্ত্যের প্রতিমা থেকে মর্ত্যের প্রতিমা দর্শনই হয়ে উঠল প্রধান আকর্ষণ। ভিড়ে ঠাসাঠাসি কল-হাস্যমুখর সেই উৎসব ছিলো হ্রদয়ের উষ্ণতায় পূর্ণ! ''স্মৃতির পাতার দুর্গাপূজো''র মধ্য দিয়ে সেই ছবিটি খুব সুন্দরভাবে দেখতে পেয়েছি! রচয়িতাকে অনেক ধন্যবাদ!

বন্দনা কবীর এর ছবি

আমাদের সকলেরই বোধ করি কিছু না কিছু স্মৃতি আছেই এই সকল উৎসবকে ঘিরে।

মর্তের প্রতিমারা যে বড্ড জীবন্ত ! ওদের আকর্ষনই ভিন্ন হাসি

তারেক অণু এর ছবি

আহা, খানিকের জন্য ফিরে গিয়েছিলাম সেই পুজার দিনগুলিতে। বিশেষ করে দুর্গা পুজায়তো কয়েকদিন শহর থেকে দূরে গ্রামে কত আনন্দ, কত পালা পার্বণ, শারদীয় উৎসব শেষে প্রতিমা বিসর্জনের আগে কার্তিক ঠাকুরের ধনুকটি ছিল আমার জন্য বাঁধা ( ধনুক ছাড়া টারজান হয় নাকি !)। ধুপের গন্ধ ছড়ানো সন্ধ্যা, আর মন মাতানো জিভে জল আনা খাবার ! বাঁশ বাগানের উপরে আধো চাঁদ, পুকুরের জলে কার ছায়া। বুকটা হু হু করে ওঠে- মন খারাপ

বন্দনা কবীর এর ছবি

কার্তিক বাবুর ধনুকগুলো কি আছে না হারিয়েছেন?

আপনি তো যাযাবর, পূজোর সময় কোথাও যাননি? সে রকম কোন স্মৃতি যদি থাকে তো লিখে ফেলুন্না তা নিয়ে। আমরা আপনার চোখে পূজোও দেখে নেবো।

অরিত্র অরিত্র এর ছবি

ভাল লাগল। তবে বানানে ভুলগুলো চোখে লাগে।
আপনার জন্য শুভ কামনা।

বন্দনা কবীর এর ছবি

সর‌্যি, সব বানান শুদ্ধ করা বোধ হয় এই জীবনে সম্ভব হবেনা আমার। ভুল ত্রুটি মার্জনা করবেন প্লিজ। মন খারাপ

দিহান এর ছবি

আপনি ভাগ্যবান, কী সুন্দর সময় কাটিয়েছেন শৈশবে। এমন করে পাইনি তবে প্রতিবছর প্রতিমা না দেখলে মনের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়ে যায়।

ইদানীং পৃথিবী অনুভব করে, একটা সূর্যে চলছেনা আর
এতো পাপ, অন্ধকার
ডজনখানেক সূর্য দরকার।

বন্দনা কবীর এর ছবি

জ্বি, কিছু কিছু ব্যাপারে মাঝে মাঝে নিজেকে ভাগ্যবানই মনে হয়, অন্ততঃ আজকালকার ছেলে পেলেদের চাইতে। ভাগ্যিস! কিছুকাল আগে জন্ম নিয়েছিলাম! নইলে এই ক্লাস কোচিং করা পন্ডিতগুলোর মত আমার শৈশবটাও টিচারের বাড়িতে আর কম্পিউটারের সাম্নেই কেটে যেত।

গুলশান মাঠে দেখলাম পঁজোর প্যান্ডেল সাজানো শুরু হয়েছে। খোঁজ খবর করে একবার ঘুরে যেতে পারেন (যদি পুলিশ র‌্যাবের ভয় না থাকে) মনের অশান্তি দূর করতে হাসি

বাংলামায়ের ছেলে এর ছবি

অসাধারণ লিখেছেন।

আপনার মতো মানুষেরা আছে বলেই হয়তো বাংলাদেশ এখনো তাঁর অসাম্প্রদায়িক সত্তাকে ধারণ করতে পারছে।

সকল ধর্মীয় উগ্রতা ও গোঁড়ামিকে নস্যাত করে এই মনোভাব জাগ্রত হোক সবার মাঝে।

ভালো থাকা হোক।

বন্দনা কবীর এর ছবি

আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষেরাই অসাম্প্রদায়িক। আর এই কারনেই "কেয়ামত" পর্যন্তই আমাদের সার্বোজনিন উতসবগুলো টিকে থাকবে সগৌরবে। সামান্য কিছু গোঁড়াকে ভয় পাওয়ার কিচ্ছু নেই। হাসি

আপ্নিও অনেক ভাল থাকুন ভাই।

সুমন তুরহান এর ছবি

লেখা ভালো লেগেছে। ছেলেবেলার কথা মনে করিয়ে দিলেন। এখন তো সবকিছু হারিয়ে যাচ্ছে, ফিকে হয়ে যাচ্ছে আমাদের জীবনের রঙ...

-----------------------------------------------------------
স্নান স্নান চিৎকার শুনে থাকো যদি
নেমে এসো পূর্ণবেগে ভরাস্রোতে হে লৌকিক অলৌকিক নদী

বন্দনা কবীর এর ছবি

ধন্যবাদ।

কিছুটা ফিকে হয়ে গেলেও সার্বজনিন ধর্মিয় উৎসব গুলো এখনো যে টিকে আছে এই ঢের। আশা, একদিন রংগুলো আবার প্রাণ ফিরে পেয়ে ঝকঝকে হয়ে উঠবে। ঐতিহ্য কি কখনোই চিরকালের জন্য হারিয়ে যায়?! কখনোই নয়। কেউ না কেউ তা ধারন করে থাকেই। তার হাত ধরেই হয়তো আবার চকচকে হয়ে উঠবে আমাদের জীবনের রং।
ভাল থাকুন।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।