ভূমিকম্প ও বাংলাদেশ — তৃতীয় পর্ব

দ্রোহী এর ছবি
লিখেছেন দ্রোহী (তারিখ: শনি, ২২/১০/২০১১ - ৮:২৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আগের পর্বগুলো:

গত দুই পর্বে আমরা টেকটোনিক প্লেটগুলোর সৃষ্টি প্রক্রিয়া ও সরণের কারণ, সীমানার ধরন ইত্যাদি সম্পর্কে জেনেছি। আমরা আরও জেনেছি টেকটোনিক প্লেটের সরণের কারণে ভূপৃষ্ঠে ভূমিকম্প হয়। দ্বিতীয় পর্বে আমরা জেনেছি দুটো টেকটোনিক প্লেট যখন পরস্পরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় তখন তাকে অভিসারী সংঘর্ষ বলে। দুটো প্লেটের মধ্যে অভিসারী সংঘর্ষের ফলে স্থানভেদে সুউচ্চ পর্বতশ্রেণী ও আগ্নেয়গিরির সারি সৃষ্টি হয়। দুটো মহাসাগরীয় প্লেটের অপসারী সীমান্তে ম্যান্টল থেকে ম্যাগমা উঠে এসে শীতল হয়ে জমে সমুদ্র–মধ্য পর্বতশ্রেণী বা মিড–ওশান রিজ তৈরি করে।

ভূ–পৃষ্ঠে ছড়িয়ে থাকা টেকটোনিক প্লেটগুলোর সীমানার সাথে ভূমিকম্পের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। নিচের মানচিত্রটি দেখলে বিষয়টা পরিষ্কার করে বোঝা যাবে।

auto

মানচিত্রটিতে ২০১১ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ২০ অক্টোবর ২০১১ পর্যন্ত সংঘটিত ভূমিকম্পগুলো দেখানো হয়েছে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বেশিরভাগ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল টেকটোনিক প্লেট সীমানায়।

প্রশ্ন করা যেতে পারে, বেশিরভাগ ভূমিকম্প কেন প্লেট সীমানায় সংঘটিত হয়?

প্লেট সীমানায় সংঘটিত ভূমিকম্পগুলোকে পুলিশ–জনতার মারামারির সাথে তুলনা করা যায়। পুলিশ–জনতার মারামারিতে সাধারণত দুই দলের সামনের দিকে থাকা লোকজন বেশি মার খায়। একইভাবে সীমানা দাগের আশেপাশে বেশিরভাগ ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।

মিছিলের মাঝামাঝি বা পেছন দিকে হুড়াহুড়িতে পায়ের তলায় পড়ে যেমন কিছু মানুষ হতাহত হয় তেমনি প্লেটের সীমানা থেকে দূরে প্লেটের অভ্যন্তরভাগে কিছু ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। তবে তাদের সংখ্যা প্লেট সীমানায় সংঘটিত ভূমিকম্পের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম।

টেকটোনিক প্লেটের সরণের কারণে লিথোস্ফিয়ারের শিলাস্তরে শক্তি সঞ্চিত হতে থাকে। সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ বাড়তে বাড়তে এমন এক পর্যায়ে উপনীত হয় যখন শিলাস্তর সে শক্তি ধরে রাখতে পারে না। ফলে শিলাস্তরে ফাটল ধরে বিচ্যুতি সৃষ্টির মাধ্যমে কিছু শক্তি নিঃসৃত হয়। শক্তি নিঃসরণের এই প্রক্রিয়াই ভূমিকম্প।

লিথোস্ফিয়ারে সঞ্চিত শক্তি শিলাস্তরে তিন ধরনের চাপ সৃষ্টি করে:

  • সংকোচন (Compression)
  • প্রসারণ (Tension)
  • মোচড় (Shear)

বলের প্রকারভেদ [১]

শিলাস্তরে দুটো মুখোমুখি বলের প্রভাবে সংকোচন সৃষ্টি হয়। সাধারণত অভিসারী প্লেট সীমানায় সংকোচনের ফলে শিলাস্তরে বিচ্যুতি (Reverse Faulting) ঘটে শক্তি নিঃসরণের মাধ্যমে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়।

কোন শিলাস্তরে পরস্পর বিপরীতমুখী বলের প্রভাবে যদি দড়ি টানাটানি অবস্থা সৃষ্টি হয় তখন শিলাস্তরে প্রসারণ ঘটে। প্রসারণ বলের মান ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকলে এক পর্যায়ে এসে শিলাস্তর ছিঁড়ে গিয়ে বিচ্যুতি সৃষ্টি হয়। সাধারণত অপসারী প্লেট সীমানায় এ ধরনের প্রসারণের মাধ্যমে শিলাস্তরে বিচ্যুতি ঘটে (Normal Faulting) ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়।

অভিসারী ও অপসারী প্লেট সীমানায় সৃষ্ট বিচ্যুতিতে শিলাস্তরের সরণ উপর–নিচ বরাবর ঘটে বলে এ ধরনের বিচ্যুতিকে একত্রে Dip-Slip Faulting বলা হয়।

Dip-Slip বিচ্যুতির প্রকারভেদ (ফাটল বরাবর শিলাস্তরের আপেক্ষিক সরণ বোঝাতে একমুখী তীর-চিহ্ন ব্যবহৃত হয়েছে) [২]

রূপান্তরিত বা রক্ষণশীল প্লেট সীমানায় (Transform Plate Boundary) দুটো প্লেটের পাশাপাশি সরণের ফলে শিলাস্তর মুচড়ে যেতে থাকে। সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে যে ধরনের বিচ্যুতি সৃষ্টি হয় তাকে Strike-Slip Faulting বলে। এ ক্ষেত্রে শিলাস্তরের ফাটল বরাবর পাশাপাশি বিচ্যুতি ঘটে।

Strike-Slip বিচ্যুতির প্রকারভেদ (ফাটল বরাবর শিলাস্তরের আপেক্ষিক সরণ বোঝাতে একমুখী তীর-চিহ্ন ব্যবহৃত হয়েছে) [২]

লিথোস্ফিয়ারে সঞ্চিত শক্তি শিলাস্তরে বিচ্যুতি সৃষ্টির মাধ্যমে নিঃসৃত হয়ে ভূমিকম্প সৃষ্টি করে। কোন বস্তুর উপর বল প্রয়োগ করলে বস্তুর দৈহিক বিকৃতি ঘটে। প্রযুক্ত বল সরিয়ে নিলে বস্তুটি পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে যায়। বলের প্রভাবে কোন বস্তুর এ ধরনের দৈহিক পরিবর্তনকে Elastic deformation বলে [রাবার ব্যান্ড]। প্রযুক্ত বলের মান বাড়াতে থাকলে এক পর্যায়ে বস্তু মধ্যে স্থায়ী বিকৃতি সৃষ্টি হয়। এ ধরনের বিকৃতিকে Plastic deformation বলা হয় [রাবার ব্যান্ড বেশ কিছুক্ষণ টানাটানি করলে plastic deformation এর কারণে খানিকটা ঢিলা হয়ে যায়]। প্রযুক্ত বলের মান আরও বাড়লে এক পর্যায়ে বস্তুটি ছিঁড়ে/ভেঙ্গে যায়। লিথোস্ফিয়ারের শিলাস্তরে ঠিক একই ব্যাপার ঘটে।

প্রযুক্ত বলের প্রভাবে বস্তুর পরিবর্তন [৩]

সংকোচন, প্রসারণ, ও মোচড়ানো বলের প্রভাবে শিলাস্তরে সঞ্চিত শক্তি বাড়তে বাড়তে এক পর্যায়ে এসে বিচ্যুতি সৃষ্টির মাধ্যমে নিঃসৃত হয়। নিঃসৃত শক্তি বিভিন্ন ধরনের তরঙ্গ হিসাবে প্রবাহিত হয়। তরঙ্গগুলোর প্রভাবে ভূ–পৃষ্ঠে আলোড়নের সৃষ্টি হয়।

ভূমিকম্পে সৃষ্ট তরঙ্গগুলোর মধ্যে যেটি সর্বপ্রথম ধরা পড়ে তার নাম P-wave বা প্রাইমারি–ওয়েভ বা লম্বিক তরঙ্গ। শব্দতরঙ্গের মত শিলাস্তরে সংকোচন–প্রসারণের মাধ্যমে প্রবাহিত হয় বলে একে প্রেশার–ওয়েভ ও বলা হয়। ভূমিকম্পে সৃষ্ট শক-ওয়েভ মূলত P-wave এর জোরালো ধাক্কা। সংকোচন–প্রসারণের মাধ্যমে প্রবাহিত হয় বলে এ ধরনের তরঙ্গ কঠিন, তরল, ও বায়বীয় মাধ্যমের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। মাধ্যমের ঘনত্ব বাড়ার সাথে সাথে P-wave এর গতিবেগ বাড়ে। বাতাসে P-wave এর গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩৩০মিটার, পানিতে ~১৪৫০ মিটার/সেকেন্ড, গ্র্যানিট পাথরের ভেতর দিয়ে P-wave প্রতি সেকেন্ডে ~৫ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। ভূমিকম্পে সৃষ্ট তরঙ্গগুলোর মধ্যে P-wave সবচাইতে দ্রুতগতিসম্পন্ন বিধায় তা সর্বপ্রথম ধরা পড়ে।

P-wave এর পর দ্বিতীয় যে তরঙ্গ ভূমিকম্প পরিমাপক যন্ত্রে ধরা পড়ে তার নাম S-wave। S-wave কে সেকেন্ডারি–ওয়েভ বা Shear-wave বা আড়–তরঙ্গ নামেও ডাকা হয়। শিলাস্তরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় S-wave শিলাস্তরকে তরঙ্গ প্রবাহের দিকের সাথে আড়াআড়িভাবে ৯০ ডিগ্রি কোণে আন্দোলিত করে।

নিচের ছবিতে S-wave এর প্রকৃতি দেখানো হয়েছে। তরল ও বায়বীয় মাধ্যমে Shear wave প্রবাহিত হতে পারে না দেখে ভূমিকম্পে সৃষ্ট S-wave শুধুমাত্র কঠিন শিলাস্তরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়। P-wave এর তুলনায় S-wave অনেক ধীরগতিসম্পন্ন, S-wave এর গতি P-wave এর প্রায় এক-দশমাংশ।

P-wave ও S-wave পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ দিয়ে প্রবাহিত হয় বলে এদেরকে একত্রে Body-wave বলা হয়।

Body-wave ছাড়াও ভূমিকম্পের ফলে আরও দুটো তরঙ্গ সৃষ্টি হয় যা শুধু ভূ–পৃষ্ঠ বা ভূ–পৃষ্ঠের কাছাকাছি অগভীর শিলাস্তরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ভূ–পৃষ্ঠ দিয়ে প্রবাহিত হয় বলে তরঙ্গগুলোকে Surface-wave নামে ডাকা হয়। Surface wave দুই ধরনের হয়ে থাকে:

  • Rayleigh wave
  • Love wave

Rayleigh wave এর আরেক নাম Ground roll। শিলাস্তরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় Rayleigh wave শিলাস্তরকে উপর–নিচ ও পাশাপাশি ঝাঁকায়। ফলশ্রুতিতে বড়মাত্রার ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির মূল কারণ হিসাবে Rayleigh wave কে দায়ী করা যায়। Rayleigh wave এর গতি S-wave তুলনায় সামান্য কম (~৯০%)।

Love wave প্রবাহিত হওয়ার সময় শিলাস্তরে পাশাপাশি ঝাঁকুনি সৃষ্টি হয়। সাধারণত দ্রুতগতিসম্পন্ন শিলাস্তরের উপর অপেক্ষাকৃত ধীরগতিসম্পন্ন শিলাস্তর থাকলে এ ধরনের তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। Love wave এর গতি Rayleigh wave এর তুলনায় কিছুটা বেশি।

চলবে...

________________________________
সূত্র:
[১, ২, ৩] SCIGN, JPL, NASA
বিভিন্ন প্রকার তরঙ্গের অ্যানিমেশনগুলো Wolfram Research–এর ইউটিউব ভিডিও থেকে তৈরি করা হয়েছে।


মন্তব্য

তারেক অণু এর ছবি

চলুক দারুণ, কিন্তু তাহলে হাতির শুঁড়ের সাথে কম্পের কোন সম্পর্ক নাই বলছেন শয়তানী হাসি
খুব ভাল, লিখে যান এমন---

দ্রোহী এর ছবি

হাতির শুঁড়ের সাথে ভূমিকম্পের সম্পর্ক নাই এমন কথা জোর দিয়ে বলা সম্ভব না।

পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ ~৬৩৭১ কিলেোমিটার। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গভীর ড্রিলিং হয়েছে রাশিয়ায় ২০১১ সালে । গভীরতা মাত্র ১২.৩৪৫ কিলোমিটার। আবার সাইজমিক সিগন্যাল বিশ্লেষণ করে আমরা পৃথিবীর inner core সম্পর্কে তেমন বেশি কিছু জানতে পারিনি। সুতরাং, পৃথিবীর কেন্দ্রে একটা হাতি সত্যিই দাঁড়িয়ে শুঁড় নাড়ছে কিনা তা বলা অসম্ভব। চোখ টিপি

পৃথিবীর কেন্দ্রে চাপ ও তাপের পরিমাণ এত বেশি যে হাতির মাংস অতি উচ্চঘনত্বের লোহা আর নিকেল দিয়ে তৈরি হতে হবে। এই হইলো ঘটনা....

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

আহারে‍‍! আমার আমাদের পাঠ্যবইয়ের বালছালগুলো গণ্ডমূর্খ শিক্ষকেরা গিলিয়ে দিতে চেষ্টা করে করে আমাদের শিক্ষার্থীদের জানার ইচ্ছাটা একেবারে কাঁচা বয়সেই মেরে ফেলে‍!

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

দ্রোহী এর ছবি

হীরকরাজ বলেছেন, "জানার কোন শেষ নাই। জানার চেষ্টা বৃথা তাই।"

সুতরাং, এত জেনে লাভ কী?

মারদিয়া এর ছবি

আমার কাছে আরও দুইটা যৌগিক ওয়েভের অ্যানিমেশন আছে।লাগলে বলতে পারো

দ্রোহী এর ছবি

ওরে না রে!!!!!!!

এমনিতেই P, S ওয়েভের ধাক্কায় লোকে পোস্ট পড়া বাদ দিয়ে দৌড়ে পালিয়েছে। সেখানে PP, SS ওয়েভ দিতে গেলে লোকে লাঠি নিয়ে তাড়া করবে শেষে! মন খারাপ

সাফি এর ছবি

দ্রোহীর ব্যাটাতো দিনকে দিন ফাডায় ফালাইতেছে। আগুনের গোলারে সচলে একাউন্ট খুইল্লা দেন, তাইলে আর বাপের একাউন্ট দিয়া লেখা লাগবেনা।

এনিমেশনগুলো জটিল, খেলা ধুলা করলাম খানিকক্ষণ।

ডিপ স্লিপ ফল্টের সাথে সিংক হোলের কোন সম্পর্ক আছে?

দ্রোহী এর ছবি

পোলা তো নয় একখান আগুনের গোলা!

ভূতত্ত্বের ভাষায় সিংকহোল তৈরি হওয়ার প্রসেসকে বলা হয় Karst process।

ভূগর্ভে কার্বোনেটঘটিত শিলা যেমন চুনাপাথর, চক ইত্যাদি জমে শিলাস্তর তৈরি করে। কার্বোনেটঘটিত শিলাস্তর ভূগর্ভস্থ পানির সংস্পর্শে এসে বিক্রিয়া করে ক্ষয়ে গেলে শিলাস্তরে শুন্যতার সৃষ্টি হয়। তখন উপরের শিলাস্তর ঝুপ করে ভেঙ্গে পড়ে। এই হইলো সিংকহোল তৈরির ঘটনা....... এর সাথে টেকটোনিক অ্যাকটিভিটির সম্পর্ক নাই।

সাফি এর ছবি

গুয়াতেমালা না কৈ জানি সিংক হোল হৈলো ভূমিকম্পের পরে, তাই দেখার পর থেকে ব্যপক ডরে আছি।

দ্রোহী এর ছবি

গুয়াতে সিংকহোল তো জন্মের পরের থেকেই থাকে। কার গুয়ায় সিংকহোল নাই বলেন? হো হো হো

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক থেকে:

Sinkholes are natural depressions that can form when water-saturated soil and other particles become too heavy and cause the roofs of existing voids in the soil to collapse.

Another way sinkholes can form is if water enlarges a natural fracture in a limestone bedrock layer. As the crack gets bigger, the topsoil gently slumps, eventually leaving behind a sinkhole.

It's unclear which mechanism is behind the 2010 Guatemala sinkhole, but in either case the final collapse can be sudden.

চরম উদাস এর ছবি

জটিল এগুচ্ছে লেখা গুরু গুরু

দ্রোহী এর ছবি

ধুর মিয়া, এত সহজ করে সবকিছু বাদ দিয়ে লিখি তাও যদি বলেন "জটিল" এগুচ্ছে তাইলে ক্যামনে কী? চোখ টিপি

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

ঢেউগুলা দারুণ তো! আমার রেইলেহ টা ভাল্লাগছে হাসি

এইগুলা ছাড়াছাড়া পড়তে গেলে খেই হারায়া যায়, বিশেষ করে টেকনিক্যাল জিনিসগুলো। আশা করি একটা ইবুক হবে। সেটা ভালো একটা রেফারেন্স হবে। চালিয়ে যান। ভালো হচ্ছে।

দ্রোহী এর ছবি

খারাপ জিনিস সবসময় বেশি ভাল্লাগে। ধ্বংসযজ্ঞের মূল হোতা এই রেলি ওয়েভ।

প্রত্যেকটা জিনিসের পজিটিভ অথবা নেগেটিভ দিক আছে। যেমন ধরেন শের শাহ সুরী যদি ঘোড়ার ডাকের প্রচলন না করতো তাহলে এখনকার দিনে ঘোড়াগুলো সব মূক থাকতো। রেডিওটেলিভিশনপত্রিকাব্লগে বিবৃতি দিয়ে বেড়াতো না। নিউটন জন্ম না নিলে আপেল গাছেই ঝুলে থাকতো। শুধু শুধু গাছ থেকে মাটিতে পড়ে ফিজিক্সকে কঠিন করতো না। ঠিক তেমনি লর্ড রেলি যদি এই তরঙ্গ আবিষ্কার না করতো তাহলে ভূমিকম্পে কোন ক্ষয়ক্ষতি হতো না। চোখ টিপি

টেকনিক্যাল জিনিসপত্র নিয়ে ব্লগ লেখা মোটা বুদ্ধির পরিচায়ক। চোখ টিপি

চেষ্টা করছি টেকনিক্যাল জিনিস, সমীকরণ ইত্যাদি যতোটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে। সিরিজ শেষে একটা ইবুক করার ইচ্ছা আছে। দেখা যাক আদৌ করি কী না!

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

জটিল!!!!

অনেকদিন পর 'মেকানিক্স অভ মেটেরিয়াল' সাবজেক্টটার কথা মনে পড়ে গেল। সাবজেক্টটা সেকেন্ড ইয়ারে ব্যাপক জ্বালানো জ্বালিয়েছিল। যে আমলে পড়েছিলাম সে আমলে অ্যানিমেশন এত সহজলভ্য ছিলনা। এমন সব অ্যানিমেশন দিয়ে ক্লাসগুলো নেয়া হলে লেখাপড়াটা কতো উপভোগ্য হতো!

ই-বুকটার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেলেন। অভিনন্দনগুলো জমা থাকলো। বই বের হবার পর একবারে সবগুলো দিয়ে দেবো।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

দ্রোহী এর ছবি

আমারও একই অবস্থা বলতে পারেন। যখন পরীক্ষা পাশের জন্য পড়েছি তখন কি আর অতশত বুঝে পড়েছি? তখন খালি চোথা মুখস্থ করে পরীক্ষার হলে উগরে দিয়ে এসেছি।

এইসব জিনিস আমিও ঠিকমতো বুঝি না। যদ্দূর বুঝেছি সেটুকু গতকাল রাতে পোস্টটা লিখতে গিয়ে বোঝা! চোখ টিপি

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

১. কোন ওয়েভ কোন ধরনের ভূমিকম্পের সময় সৃষ্টি হয়? অর্থাৎ ভূমিকম্প সৃষ্টির কারণের সাথে কি ওয়েভের সম্পর্ক রয়েছে? যদি থেকে থাকে তাহলে একটু ব্যাখ্যা করলে ভালো হয়।

২. অতীতে হয়ে যাওয়া ভূমিকম্পগুলো থেকে কোন ধরনের ওয়েভ সৃষ্টির ফলে কেমন প্রতিক্রিয়া (ক্ষয়-ক্ষতি, মাত্রা ইত্যাদি) হয়েছিল, সেটা নিয়ে কিছুটা আলোকপাত করলে বিষয়টা আরো পরিষ্কার হবে আশা করি।

উত্তরের অপেক্ষায় থাকলাম।

দ্রোহী এর ছবি

১. কোন বস্তুতে সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ বাড়ার সাথে সাথে বস্তুটির দৈহিক বিকৃতি ঘটতে থাকে। ক্রমান্বয়ে শক্তি জমতে জমতে বস্তুটির ভেতর এমন এক সম্পৃক্ত (saturated) অবস্থার সৃষ্টি হয় যে আরেকটু শক্তি যোগ হওয়া মাত্র পুরো সিস্টেমটা ধ্বসে পড়ে।

একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা সহজে বোঝা যাবে:

একটা পুকুর কল্পনা করেন। পুকুরের পানিতে কোন ঢেউ নেই তাই ধরে নেওয়া যাক পুকুরের পানির উপরিতল সম্পৃক্ত (saturated) অবস্থায় আছে। এমতাবস্থায় পুকুরে ঢিল ছুঁড়লে কী ঘটবে তা আমরা জানি।

পুকুরে ঢিল ছোঁড়ার মাধ্যমে আমরা একটা সম্পৃক্ত সিস্টেমে বাড়তি শক্তি সরবরাহ করছি। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে এই বাড়তি শক্তিটুকু চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে সিস্টেমকে পুনরায় স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করবে।

উৎস থেকে শক্তিটুকু ছড়িয়ে পড়ার সময় পানির কণায় আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেই আলোড়নকে আমরা ঢেউ হিসাবে দেখতে পাই। ঢিল যত বড় হয় ঢেউ ও ততো বড় হয়।

পানিতে ঢিল ছুঁড়লে পানির কণাগুলো স্থিতিস্থাপকতা ধর্মের কারণে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে চক্রাকারে আন্দোলিত হয়ে শক্তিটুকু পার্শ্ববর্তী কণার উপর পাচার করে দেয়। ফলে পানির উপরিতলে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। নিচের অ্যানিমেশনটি দেখলে বিষয়টা বোঝা সহজ হবে [নীল রংয়ের কণগুলোকে খেয়াল করলে বিষয়টা সহজে বোঝা যাবে।]

ভূমিকম্পের ফলে শিলাস্তরে বিচ্যুতি সৃষ্টির মাধ্যমে শক্তি নিঃসরণ হয়। এই শক্তিটুকু তখন স্বাভাবিক নিয়মে উৎস থেকে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। মাটির স্থিতিস্থাপকতা ধর্মের কারণে কণাগুলো এক জায়গায় দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ভাবে আন্দোলিত হয়ে শক্তিটুকু পার্শ্ববর্তী কণার উপর পাচার করে দেয় [মূল পোস্টে সংযুক্ত অ্যানিমেশনগুলো দ্রষ্টব্য]।

ভূমিকম্পে নিঃসৃত শক্তির কিছু অংশ শিলাস্তরের কণাগুলোকে সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়, এই অংশটুকুকে আমরা নাম দিচ্ছি P-wave। কিছু অংশ কণাগুলোকে উপরে-নিচে আন্দোলিত করে অগ্রসর হয়, এই অংশটুকুর নাম দিচ্ছি S-wave। আবার P ও S ওয়েভ যখন ভূপৃষ্ঠে পোঁছাচ্ছে তখন নতুন দুটো তরঙ্গ সৃষ্টি করছে। এই তরঙ্গ দুটোর নাম দিচ্ছি রেলি ওয়েভ ও লাভ ওয়েভ।

সুতরাং, ভূমিকম্পের ফলে নিঃসৃত শক্তি শিলাস্তরের কণাগুলোকে বিভিন্নভাবে আন্দোলিত করে এক কণা থেকে অন্য কণায় প্রবাহিত হয়। আন্দোলনের ধরন অনুযায়ী তরঙ্গগুলোর নাম ভিন্ন ভিন্ন হয়। আদতে তারা একটি প্যাকেজ হিসাবে কাজ করে।

অতএব, আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় ভূমিকম্পের ফলে সব ধরনের তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। যেহেতু ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মাটির গভীরে তাই তরঙ্গের গতিবেগের পার্থক্যের ভিত্তিতে একটি আরেকটির আগে পরে কোন জায়গায় এসে পৌঁছে।

স্থিতিস্থাপকতা ধর্মের কারণে শিলাস্তরের ভেতর দিয়ে শক্তি প্রবাহিত হওয়ার সময় তরঙ্গগুলো উৎপন্ন হয়। শুধু ভূমিকম্প না, শিলাস্তরে যে কোন ধরনের কম্পনের [যেমন: ভারী হাতুড়ির আঘাত, ভারী যানবাহন চলাচল, বিস্ফোরণ] কারণেই এই তরঙ্গগুলো উৎপন্ন হবে।

২.
তরঙ্গগুলোর অ্যানিমেশনে শিলাস্তরের আন্দোলনের প্রকৃতি থেকেই সহজেই বোঝা যায় ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির মূল কারণ Surface waves এবং S-wave। বড় মাত্রার ভূমিকম্পে যেহেতু বেশি শক্তি নিঃসৃত হয় তাই শিলাস্তরের কণাগুলোর আন্দোলনের বিস্তার (amplitude) বড় হয় এবং আন্দোলনের সময়কাল বেশি হয়। তাই ক্ষয়ক্ষতিও বেশি হয়।

সে হিসাবে অতীতে সংঘটিত ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে যেগুলো অপেক্ষাকৃত বড় মাত্রার ছিলো সেগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেশি ছিল।

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার বোঝায় কিছুটা গ্যাপ ছিল যা এই চমৎকার ব্যাখ্যায় দূর হয়েছে। ই-বুক আকারে যখন লেখাটাকে দাড় করাবেন, তখন এই ব্যাখ্যার অংশটুকুও মূল লেখায় যুক্ত করলে পাঠকের জন্যে আরো সহজবোধ্য হবে বিষয়টা (যদিও আপনি এমনিতেও অনেক অনেক সহজ করেই লিখছেন)।

পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম। হাসি

কালো কাক এর ছবি

কঠঠিন ! ( মানে বুঝতে কষ্ট হইসে খাইছে )

দ্রোহী এর ছবি

এইরাম একটা সহজ লেখারে কঠঠিন কইলেন? ঠাডা পড়বো ঠাডা!

উপরে S-wave এর যে 'ছুইট' অ্যানিমেশনটা দেখতেছেন এইটার বদলে যদি নিচের এই লেখাগুলা দিতাম তাইলে কী কইতেন? চোখ টিপি

The prediction of S-waves came out of theory in the 1800s. Starting with the stress-strain relationship for an isotropic solid:

\tau_{ij}=\lambda\delta_{ij}e_{kk}+2\mu e_{ij}\

where τ is the stress, λ and μ are the Lamé parameters (with μ as the shear modulus), δij is the Kronecker delta, and the strain tensor is defined

e_{ij}=\frac{1}{2}\left( \partial_i u_j+\partial_j u_i \right)

for strain displacement u. Plugging the latter into the former yields:

\tau_{ij}=\lambda\delta_{ij}\partial_ku_k+\mu \left( \partial_i u_j+\partial_j u_i \right).

Newton's 2nd law in this situation gives the homogeneous equation of motion for seismic wave propagation:

\rho\frac{\partial^2u_i}{\partial t^2}=\partial_j\tau_{ij}

where ρ is the mass density. Plugging in the above stress tensor gives:

\rho\frac{\partial^2u_i}{\partial t^2}=\partial_i\lambda\partial_ku_k+\partial_j\mu\left(\partial_iu_j+\partial_ju_i \right) = \lambda\partial_i\partial_ku_k+\mu\partial_i\partial_ju_j+\mu\partial_j\partial_ju_i.

Applying vector identities and making certain approximations gives the seismic wave equation in homogeneous media:

\rho \ddot{\boldsymbol{u}}=\left(\lambda+2\mu \right)\nabla(\nabla\cdot\boldsymbol{u})-\mu\nabla\times(\nabla\times\boldsymbol{u})

where Newton's notation has been used for the time derivative. Taking the curl of this equation and applying vector identities eventually gives:

\nabla^2(\nabla\times\boldsymbol{u})-\frac{1}{\beta^2}\frac{\partial^2(\nabla\times\boldsymbol{u})}{\partial t^2}=0

which is simply the wave equation applied to the curl of u with a velocity β satisfying

\beta^2=\frac{\mu}{\rho}.\

This describes S-wave propagation.

কানে কানে বলে রাখি, উপরে আংরেজিতে যা ছাতামাতা পেস্ট করছি তার কিছুই আমি বুঝি না। ভাব লওয়ার জন্য উইকিপিডিয়া থেকে কপি মারছি। চোখ টিপি

অন্যকেউ এর ছবি

ওরে মারছে রে! ইয়ে, মানে...

_____________________________________________________________________

বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখো দ্বিতীয় বিদ্যায়।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

পড়ছি ... শিখছি ... চলুক

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

দ্রোহী এর ছবি

তাইলেই মরছেন....

ব্যাঙের ছাতা এর ছবি

দারুন ! এত কঠিন বিষয় এত সুন্দর আর সহজ করে বোঝালেন। গুরু গুরু গুরু গুরু

দ্রোহী এর ছবি

আসলে আমি কঠিন বিষয়গুলো পুরোপুরি এড়িয়ে গেছি। চোখ টিপি

জিনিসটা অনেকটা "জল না ছুঁয়ে জলের উপর উড়াউড়ি" টাইপের হয়ে গেছে। মন খারাপ

নীড় সন্ধানী এর ছবি

ভূমিকম্প নিয়ে এমন চমৎকার এনিমেশান আর সুস্বাদু ব্যাখ্যা আগে পড়িনি। আগের সিরিজগুলোও পড়তে হবে জরুরী ভিত্তিতে চলুক

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

দ্রোহী এর ছবি

দেঁতো হাসি

পড়লে সময় নষ্ট হওয়া ছাড়া তেমন কোন লস হবে না এই গ্যারান্টি দিতে পারি। চোখ টিপি

অতিথি অন্যকেউ এর ছবি

দারুণ চলছে। জলদি জলদি শেষ করে ই-বুক দেন। পুরাটা একটানে পড়তে হবে। আর নেক্সট ভূমিকম্পের সময় ফেসবুকে কিছু পাবলিকের মুখের উপ্রে আপনার ই-বুক ছুঁড়ে দেবার প্ল্যান আছে। দেঁতো হাসি

দ্রোহী এর ছবি

অ্যাঁ!

যুমার এর ছবি

এ রকম বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা পড়ে সাহিত‌্য পড়ার আনন্দ পাওয়া যায়। হাসি
এ‌্যানিমেশনগুলো আসলেই দারুন!

দ্রোহী এর ছবি

লইজ্জা লাগে

আশালতা এর ছবি

আমার ক্ষুদ্র ব্লগ জীবনে এত চমৎকার গোছানো পোস্ট আগে পড়েছি বলে মনে পড়ছে না। আপনি আসলেও নমস্য ব্লগার। চলুক

----------------
স্বপ্ন হোক শক্তি

দ্রোহী এর ছবি

পায়ের ধুলো দেবো নাকি এক শিশি? চোখ টিপি

আশালতা এর ছবি

সেটা একটু রিস্কি হয়ে যায়না ? ধরেন সেই ধুলোবালি মেখেও আমার লেখার উন্নতি না ঘটলে তো লোকে একাউন্ট হ্যাক হবার গল্পটা সত্যি বলেই ধরেই নেবে ! হাসি

----------------
স্বপ্ন হোক শক্তি

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

চমৎকার, আসলেই। এনিমেশনগুলা সহজ করে দেয়।

ভূমিকম্পের তীব্রতা কি ওয়েভগুলার ধরণের উপর নির্ভর করে ?? না এইটার ব্যাখ্যা পরে দেবেন ??

দ্রোহী এর ছবি

ভূমিকম্পের তীব্রতা নির্ভর করে শিলাস্তরের কত বড় বিচ্যুতি সৃষ্টি হচ্ছে তার উপর। শিলাস্তরের বিচ্যুতি যত বেশি হয় ভূমিকম্পে ততো বেশি শক্তি নিঃসৃত হয় ফলে ওয়েভগুলোর অ্যাম্প্লিচ্যুড ও বড় হয়। আবার ওয়েভ অ্যাম্প্লিচ্যুড বড় হওয়া মানে গ্রাউণ্ড মোশন বেশি হওয়া। গ্রাউণ্ড মোশন বেশি হওয়া মানে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হওয়া। মন খারাপ

আগামী দুই পর্বে তীব্রতা, মাত্রা ইত্যাদি নিয়ে লিখতে গিয়ে এ সম্পর্কে লিখব।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

খুবই ভালো আগাচ্ছে। লগে আছি, মেম্বর।

দ্রোহী এর ছবি

লাগে রাহো শুভাশীষস্কি দাশভ!

তানিম এহসান এর ছবি

কেমন আছেন? ভূমিকম্পের ভয়ে কাতর ভয়কাতুরে বাংলাদেশিদের ভয় খানিকটা লাঘব হচ্ছে আপনার লেখা পড়ে -আমি সহ হাসি

দ্রোহী এর ছবি

সমস্যা হচ্ছে লেখা পড়ে কোন লাভ নাই আসলে।

ভূমিকম্প সম্পর্কে আমার জ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূতত্ত্ব নিয়ে পড়া যে কোন ছাত্রের সমান। দেশে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলা বিষয়ে জানেন এমন বহু পণ্ডিত ব্যক্তি আছেন। তারপরও ভূমিকম্প মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শুন্য। হয়তো আমরা বাঙালি বলেই এই অবস্থা!

একটা তীব্র মাত্রার ভূমিকম্প ঢাকার আশেপাশে সংঘটিত হলে কী ঘটবে তা ভাবতে ইচ্ছা করে না। মন খারাপ

guest_writer এর ছবি

এত সহজ করে লেখার জন্য অনেক ধন্যবাদ দাদা।
এনিমেশন গুলি খুবই মজার। দেখে মনে হচ্ছে ভূপৃষ্ঠ নৃত‌্য করছে। দেঁতো হাসি

কাশফুল

দ্রোহী এর ছবি

দেঁতো হাসি

অ্যানিমেশনগুলো মনে হয় মেলবোর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সম্পত্তি! ইউটিউবে Wolfram Research চ্যানেলে এগুলোর ভিডিও খুঁজে পাবেন।

ফাহিম হাসান এর ছবি

দারুণ, দারুণ! হাততালি

দ্রোহী এর ছবি

দেঁতো হাসি

সচল জাহিদ এর ছবি

দারুন।

এস-ওয়েভ আর লাভ-ওয়েভ এর মধ্যে এনিমেশন দেইখা কনফিউশন হইছিল (আসলে একখান উপরে নিচে আরেকখান পাশাপাশি বুঝতে চোখে কেমুন জানি ধান্ধা লাগে দেঁতো হাসি )

বিদ্রঃ আপনার পোলা লেখতাছে বইলাই কিনা, আমার পোলাও দুই একবার পাশে বইসা এনিমেশনগুলিরে গুতা মারলো দেঁতো হাসি


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

দ্রোহী এর ছবি

ইউটিউবে অ্যানিমেশনগুলো অনেক মসৃণ। আমি ফাইল সাইজ কমানোর জন্য সেকেন্ডে ৫টা করে ফ্রেম ব্যবহার করেছি। এতেই গণ্ডগোল হয়ে গেছে।

তরঙ্গের প্রকৃতি সহজে বোঝার জন্য শিলাস্তরের বেজের দিকে তাকাতে হবে - কথাটা মূল পোস্টে লিখে দিতে ভুলে গেছিলাম। মন খারাপ

বি.দ্র.: আজকালকাল পোলাপান এরা। পোলা তো না যেন আগুনের গোলা!

কৌস্তুভ এর ছবি

দেরিতে হলেও পড়ে ফেললাম, আগুনের গোলার পোস্ট... দেঁতো হাসি

মরুদ্যান এর ছবি

এই সিরিজটা বন্ধ হইল ক্যান?? মন খারাপ

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।