হার্ভার্ডে শর্মিলা বসুর পুস্তকালাপ

কৌস্তুভ এর ছবি
লিখেছেন কৌস্তুভ (তারিখ: মঙ্গল, ২৫/১০/২০১১ - ৯:৫০পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আজ সন্ধ্যায় হার্ভার্ডের সাউথ এশিয়া ইনিশিয়েটিভের তরফ থেকে শর্মিলা বসুর ‘ডেড রেকনিং’ বইটার উপর একটা আলোচনার আয়োজন করা হয়েছিল। শর্মিলা বসুর বিপক্ষে ছিলেন দিনা সিদ্দিকি, হান্টার কলেজের উওম্যান অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজের ভিজিটিং প্রফেসর (অবশ্য তিনি নিজেকে মূলত অ্যানথ্রপোলজিস্ট বলে পরিচয় দিলেন), আর উপস্থাপক ছিলেন পাবলিক হেলথ বিভাগের প্রফেসর রিচার্ড ক্যাশ

(অনুষ্ঠানে কোনো রেকর্ডিং ডিভাইস ব্যবহারে নিষেধ ছিল, ফলে স্মৃতি থেকেই লিখছি। তাই উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে হওয়ার প্রবাবিলিটি কম হলেও শূন্য নয়।)

******************

আলোচনার শুরুতে শর্মিলা বসুকে কুড়ি মিনিট সময় দেওয়া হল তাঁর বই সম্পর্কে বলার জন্য। তিনি শুরু করলেন, তাঁর বইটি কী বিষয়ে, এবং কী বিষয়ে নয়, সে বিষয় স্পষ্ট করতে চেয়ে। তাঁর বক্তব্য, এটা ‘১৯৭১ ওয়ার’ সম্পর্কে একটা ইতিহাস বা বিশদ আলোচনার বই নয়, এটা ফিল্ড-লেভেলে গিয়ে কিছু বিশেষ ঘটনা/অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনার জন্য।

তিনি শুরুতেই বললেন, এই গবেষণা তাঁর প্রধান কাজ নয় – এই তথ্যাদি সংগ্রহ তিনি করেছিলেন বছরতিনেক আগে, ভারতে পলিটিকাল সাংবাদিক হিসাবে কর্মরত থাকার সময়। তারপর তিনি অক্সফোর্ডে কাজ পেয়েছেন এবং সেখানে অন্য বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। এই বইটাও ঠিক অ্যাকাডেমিক ভাবে লেখা নয়, ফিল্ড জার্নালিজম-এর স্টাইলে লেখা। কিছু সাক্ষাৎকার আর কিছু সংগৃহিত তথ্য নিয়ে।

তারপর বললেন, এইসব তথ্য নিতে গিয়ে তিনি চমকপ্রদ এবং অস্বস্তিকর কিছু তথ্য পেয়েছেন, যেগুলো এই বইতে তিনি উপস্থাপিত করতে চেয়েছেন, অতএব বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সেটা বিতর্কিত হতেই পারে। যেমন, তিনি অনেকবার লক্ষ্য করেছেন, বাঙালিদের সেই সময়ের অভ্যাস ছিল, পাকিস্তানি আর্মি কোনো ভালো কিছু করলেই সেটাকে ‘সেনায় উপস্থিত কিছু ভালো বালুচ’দের নামে চালিয়ে দেওয়া। এবং পাকিস্তানি আর্মিকে সাধারণভাবে ‘পাঞ্জাবি’ বলে ক্যারেকটারাইজ করা। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, যে পাঞ্জাবিরা খারাপ, তারা যেমন ভালো বাঙালিদের অত্যাচার করে তেমন বালুচদেরও করে, এবং ওদিকে বালুচরাই কেবল ভালো। কিন্তু তিনি দেখেন, যে বালুচদের নামে এমন বহু বহু ভালো কাজের উল্লেখ আসছে, যত বালুচ আসলে আর্মিতে ছিলই না – বাংলায় পাঠানো আর্মিতে প্রায় কোনো বালুচই ছিল না। এইরকম অবাস্তব, চরম এথনিক ক্যারেকটারাইজেশনের মত ভুল মানসিকতায় ছিল বাঙালিরা।

তাঁর এই বই নিয়ে তিনটে মূল জিনিস বক্তব্য – (১) ওই সময়কে ক্যারাকটারাইজ করা নিয়ে অনেক ‘কনফিউশন’ আছে – বাংলাদেশের সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি হল, ‘নৃশংস পাকিস্তানি আর্মি নিরীয় মানুষদের উপর অকথ্য অত্যাচার করেছে’, সেটা আংশিক সত্যি, কিন্তু সবদিক খতিয়ে দেখা দরকার, যেমন ওই বালুচ-বৃত্তান্ত নিয়ে। (২) অনেক অতিরঞ্জন আছে, কত লোক হত্যা করা হয়েছিল ইত্যাদি নিয়ে, যেগুলো আখেরে বাংলাদেশেরই বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষতি করছে। (৩) বিহারীদের উপর অত্যাচারের কথা তুলতে গেলে বাংলাদেশে তা চেপে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দুতরফেই যে ‘ওয়ার ক্রাইম’ বা ‘ক্রাইম এগেইনস্ট হিউম্যানিটি’ হয়েছিল সেটা তিনি দেখাতে চান।

এরপর তিনি তাঁর বইয়ের অধ্যায়গুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিলেন। বললেন, দু-তিনটে চ্যাপটারে পাকিস্তানি আর্মির দ্বারা করা কিছু নির্দিষ্ট হত্যার কথা বলেছেন, যেগুলো অবশ্যই নিন্দনীয়, যেমন ঢাকা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক এবং এক হিন্দু হলের (জগন্নাথ হল) প্রভোস্ট জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার হত্যা। (এতে যোগ করলেন, যে এই খুনটা করেছিল একজন মাত্র আর্মি অফিসার, যেটা খানিকটা অস্বাভাবিক।) এবং শেষে অতিরঞ্জনের বাইরে বেরিয়ে এসে, তাঁর প্রাপ্ত তথ্যাদির থেকে নিহত বাঙালিদের সংখ্যার একটা রেঞ্জ এস্টিমেট করেছেন (কনফিডেন্স ইন্টারভাল), যে নিহতের সংখ্যা ৫০ হাজার থেকে এক লাখের মধ্যে, ৯০% প্রোবাবিলিটি সহ।

তারপর বললেন, এই ঘটনাকে ‘জিনোসাইড’ বলতে তাঁর টেকনিকাল আপত্তি আছে, কারণ তার সংজ্ঞা নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকলেও ১৯৪৮ ইউ.এন. এর সংজ্ঞাকেই স্ট্যান্ডার্ড ধরা হয়, এবং সেটা কিছুটা রেস্ট্রিক্টিভ - তাতে পলিটিকাল হত্যাকে জিনোসাইডের বাইরে রাখা হয়েছে, আবার কিছুটা এক্সপ্যান্সিভ, কারণ হত্যার বাইরে অন্যান্য অত্যাচারকেও ধরা হয়েছে। হিন্দুদের হত্যা, বা বিহারীদের হত্যা, এই বিশেষ গোষ্ঠীর হত্যাকে জিনোসাইড বলা যেতে পারে কেবল। তাই তিনি ‘ওয়ার ক্রাইম’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করতে চান।
(আমার সংযোগ – ওই প্রস্তাব বলছে “genocide means any of the following acts committed with intent to destroy, in whole or in part, a national, ethnical, racial or religious group...” – তা বাঙালিরা ন্যাশনাল বা এথনিক গ্রুপ নয় কি?)

শেষে বললেন, এই বইয়ের সমালোচনাগুলোকে ভেঙে তিনি একটা লম্বা আর্টিকল লিখেছেন যেটা শিগগিরই একটা জার্নালে প্রকাশিত হবে। তার কিছু অংশ পড়তে পড়তে বললেন, তাঁর মূল লক্ষ্য এই ঘটনাগুলোর আলোচনার মাধ্যমে দেখানো যে দুপক্ষেই দোষ করেছিল, বাঙালিরাও শুরু থেকেই সশস্ত্র আক্রমণ, বিহারী অত্যাচার, ধর্ষণ ইত্যাদি চালাচ্ছিল, এই অন্য দিকটাও তুলে ধরা; একটা সামগ্রিক ছবি দিতে গেলে তো বহু ভল্যুম লাগবে, তাঁর বইটার কাজ কিছু কিছু ঘটনা/সাক্ষাৎকার তুলে ধরে আলোচনা করা।

******************

দিনা সিদ্দিকি বললেন, তাঁর প্রথম লক্ষ্য হল উপস্থিত শ্রোতাদের জন্য একটা পরিপ্রেক্ষিত দেওয়া। স্বাধীনতার পর মুজিব হত্যা, সামরিক শাসন এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ওই সময় নিয়ে আলোচনা বা গবেষণার সুযোগ দমিয়ে রাখা হয়েছিল, স্কুল পাঠ্যবইতে ‘পাকিস্তানি আর্মি’র বদলে ‘হানাদার বাহিনী’ বলা হত, যেন তারা যে-কোনো দেশেরই হতে পারে। সম্প্রতিই এই নিয়ে আবার কাজ শুরু হয়েছে, এবং বিচার প্রক্রিয়াও আরম্ভ হয়েছে। এই অবস্থায় শর্মিলার এই বই ঠিক যেন ওই গোষ্ঠীর জন্যই অস্ত্র।

শ্রোতাদের তিনি নাঈম মোহাইমেন-এর লেখা ইকোনোমিক অ্যান্ড পলিটিকাল উইকলিতে বইটার বিস্তারিত সমালোচনা পড়তে অনুরোধ করে বললেন, এখানে তিনি তার বাইরে, নিজের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কিছু সমালোচনা করবেন, যে কেন বইটা একটা ধোঁয়াটে ধারণা দিয়ে রেখে দেবে পাঠকদের।
তাঁর কথায়, কেবল কয়েকটা বিশেষ বিশেষ ঘটনা তুলে এনে, পুরো পটভূমির একটা পরিচয় পাঠককে শুরুতেই না দিলে, পাঠকের কেবল মনে হবে এটা দুপক্ষের মারপিট যেখানে দুপক্ষই গণ্ডগোল করছিল। একজন অ্যানথ্রপলজিস্ট হিসাবে তাঁর বক্তব্য, মানুষ অকারণে তো মারামারি করতে চায় না। কী কারণে বাঙালিদের মনে অস্থিরতা শুরু হল, সেই উপস্থাপনা কোথাও নেই। পাকিস্তানের কীরকম ব্যবহারে বাঙালিরা বিচ্ছিন্ন হওয়ার চিন্তা শুরু করে, তাদের আর্মির কী মনোভাব এবং ব্যবহার ছিল, এবং বিহারীরা কীভাবে তাদের সহকারী হয়েছিল (যে কারণে যুদ্ধ শেষে বাঙালিরা তাদের প্রতিআক্রমণ/অত্যাচার করে) সেই পরিচয়টা বইতে নেই।

তিনি এও প্রশ্ন তুললেন, বইটা যদি নিরপেক্ষ ভঙ্গিতেই লেখা হবে, তবে পাকিস্তানি বক্তব্য বা দাবিরই এত কাছাকাছি লাগে কেন পুরোটা? বইটাতে পাকিস্তানি জেনারেলদের কেন ভদ্র, যুদ্ধের ফেয়ারনেসের নিয়ম মেনে চলা যোদ্ধা হিসাবে দেখানো হয়েছে, আর বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের উচ্ছৃঙ্খল, গন্ডগোলের লোক হিসাবে?

দিনা শেষ করলেন এই বলে, যে সম্প্রতি প্রকাশিত উইকিলিকস বার্তায় দেখা গেছে, যে পাকিস্তান ইউ.এন.কে চাপ দিয়ে সফল হয়েছিল বাংলাদেশকে যুদ্ধাপরাধী বিচারের ব্যাপারে সাহায্য না করতেই। যদি পাকিস্তানি আর্মি এতই সচ্চরিত্র হয়, তাহলে তাদের এমন লুকানোর মত কী আছে?

(আমার মত – তিনি আলোচনার সময় ‘মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর’, ‘দলিল’ ইত্যাদি অনেকগুলো কীওয়ার্ড বাংলায় রেখে দেওয়ায় অবাঙালি শ্রোতাদের অসুবিধা হয়ে থাকতে পারে।)

******************

উপস্থাপক ড: ক্যাশ বললেন, আমরা পাবলিক হেলথের লোক হিসাবে যুদ্ধের সরাসরি প্রাণহানি ছাড়াও ‘কোল্যাটারাল ড্যামেজের’ দিকে নজর রাখতে চাই। এবং এই যুদ্ধের ফলে প্রায় দশ মিলিয়ন মানুষকে ঘরছাড়া হয়ে ভারতে পালাতে হয়েছিল, পাঁচ লাখ মানুষ যুদ্ধপরবর্তী মন্বন্তরে মারা গিয়েছিল (মতলব বাজার থানার তথ্যকেন্দ্র, যা তাঁর মতে খুব উচ্চমানের ছিল, তার তথ্য নিয়ে করা ১৯৭৫-এ প্রকাশিত কার্লিন/চেন/হুসেনের পেপারটির উল্লেখ করে)।
তারপর প্রশ্ন করলেন, এইসব অতিরিক্ত সমস্যা/প্রাণহানির দায় কার? সবই ঈশ্বরের লীলা? নাকি যারা এই যুদ্ধ এনেছিল তাদের?

******************

প্রশ্ন শুরু করলেন এক স্থানীয় ইকনোমিক্স/স্ট্যাটিস্টিক্সের প্রফেসর (সম্ভবত বাংলাদেশী, তবে তাঁর নাম ভুলে গেছি, দুঃখিত)। তিনি প্রশ্ন করলেন ওনার নিহতের সংখ্যা কম হওয়ার আলোচনা নিয়ে যে, একদল লোক যে ওটাকে উল্লেখ করে ‘তেমন কিছু জিনোসাইড হয়নি’ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, সে বিষয়ে ওনার কী মত?
আরো বললেন, যে পাকিস্তানি জেনারেলদের দাবি ছিল মাত্র তিরিশ হাজার সৈন্য বাংলাদেশে ছিল, যখন সাম্প্রতিক এস্টিমেট সেটাকে প্রায় এক লাখের কাছাকাছি বলছে। তাহলে আপনি যে লিখেছিলেন, ওই কজন সৈন্য দু লাখ রেপ করতে গেলে তাদের কাজকর্ম ফেলে ওটাই করে যেতে হবে শুধু, সেই বক্তব্যকে কি আপনি রিভাইজ করবেন?

শর্মিলা বসু বললেন, না, হত্যা বা ওয়ার ক্রাইম তো নিশ্চয়ই হয়েছিল। আমি দেখাতে চেয়েছি, ওই ত্রিশ লাখের মত দাবি অতিরঞ্জন। এবং ওইরকম হত্যা দুপক্ষেই হয়েছিল। আর রেপের ব্যাপারে তো আমার বইতে কিছু তেমন লিখিনি, আপনি বোধহয় আমার ২০০৫/৬ সালের প্রবন্ধটার কথা বলছেন। (এই বিষয়ে আরো কথাবার্তা পরে আসবে।) তা এস্টিমেট যাই হোক, এ দশটা মেরেছিল আর ও পাঁচটা, তাই ওরা ভালো, এটা তো যুক্তি হতে পারে না।

এতে রিচার্ড ক্যাশ প্রশ্ন করলেন, ত্রিশ লক্ষ বা তিন হাজার নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু এই পেপারে দক্ষভাবে প্রতিষ্ঠিত পাঁচ লাখ মৃত্যুর মত সংখ্যাগুলো এসব আলোচনায় আসে না কেন? তাতে শর্মিলা বললেন, আমরা সবাই-ই তো জানি, ইন্টার-ডিসিপ্লিনারি আলোচনা তেমন হয় না গবেষকদের মধ্যে। তাই যাঁরা পলিটিক্স বা ইতিহাস নিয়ে কাজ করেন তাঁরা এইসব কাজ দেখেন না।

******************

গর্গ চ্যাটার্জি বলে হার্ভার্ডের এক ছাত্র কলকাতার 'একদিন' পত্রিকায় ৯ই সেপ্টেম্বর নাঈম মোহাইমেনের সাথে একটা আর্টিকল লিখেছিলেন শর্মিলার বইয়ের উপর (লেখকের থেকে পিডিএফ পেয়ে জুড়ে দিলাম)। সেখানে উপস্থিত গর্গ তাঁদের সেই লেখার উল্লেখ করে বললেন, আপনার লেখা তো কেবল সাক্ষাৎকার বা তথ্য উপস্থাপনা বলে মনে হয় না, তার সঙ্গে যে আলোচনাগুলো থাকে তার মধ্যে একটা পার্সোনাল বায়াস স্পষ্ট, যেটা আমরা অংশ তুলে দিয়ে দিয়ে দেখিয়েছি – আপনি পাকিস্তানি জেনারেলদের কথাগুলো লেখার সময় একটা নিশ্চয়তার সঙ্গে সেগুলো উপস্থাপনা করেন, যেন সেগুলোই সত্যি, আর বাংলাদেশী কারো বিপরীত বক্তব্যের সঙ্গে একটা সন্দেহ জুড়ে যেন, যে ওহে পাঠক, এগুলো অত বিশ্বস্ত তথ্য নয় মনে হয়।

তাতে শর্মিলা বললেন, আপনাদের সমালোচনা পড়েছি, কিন্তু আপনাদের এই অভিযোগ স্রেফ খারিজ করছি, যেমন আমি দিনা সিদ্দিকিরও ওই অভিযোগ খারিজ করছি যে আমি পাকিস্তানি জেনারেলদের সাক্ষাৎকার নিয়ে অনুচিত কাজ করেছি, আমার শুধু বাংলাদেশীদেরই অভিযোগগুলো শোনা উচিত ছিল।

এতে দিনা, গর্গ এঁরা বললেন যে আমরা কেউই এমন অভিযোগ করি নি যে ওনাদের কথা শুনে আপনি অন্যায় করেছেন, আমাদের কথা এই যে ওনাদের বক্তব্যই এমন সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত করা হল কেন।

******************

হিতেশ বলে উপস্থিত এক ভারতীয় ব্লগার-লেখক এরপর কিছু ভালো প্রশ্ন করলেন।

তিনি দিনার উল্লেখ করা কথাটা বিস্তারিত করে জানতে চাইলেন, যে পাকিস্তানি আর্মির করা বহু রেপের কথা আপনার বইতে নেই কেন?

শর্মিলা বললেন, হ্যাঁ, ওই প্রসঙ্গ কিছু রেফারেন্সেই আছে কেবল, আমি উল্লেখ করিনি, কারণ আমি বাংলাদেশে যাদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম তারা সবাই বলেছিল যে আমাদের ক্ষেত্রে (মানে তাদের চেনাশোনাদের ক্ষেত্রে) কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। এমনিতে তারা সে কথা উল্লেখ না করায় আমি অবাক হয়েছিলাম, কারণ যুদ্ধে তো অনেক রেপ ঘটেই থাকে, তাই ফিরে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কিন্তু তারা বলল যে কিছুই দেখেনি। অনেক রেপ হয়েছিল বলে শোনা যায় ঠিকই, কিন্তু আমি কোনো তথ্য পাইনি আমার ইন্টারভিউতে। আবার অন্যদিকে বাঙালিরা বিহারী মহিলাদের রেপ করেছিল বলেও রেফারেন্স মেলে। আর ইয়াসমিন সইকিয়া’র যে নতুন বইটা বেরোচ্ছে তাতে এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পাবেন, আমার বইতে না থাকলেও।
(দিনা এ নিয়ে একটা তুলনা দিয়েছিলেন, যে রোয়ান্ডার গৃহযুদ্ধে হয়ত রিট্যালিয়েশন হিসাবে টুটসি’রা (তিনি হুটুর সঙ্গে মিলিয়ে ভুল করে টুটু বলেছিলেন) হয়ত কয়েকজন হুটু মহিলাকে ধর্ষণ করেছিল, কিন্তু তাকে তো কয়েক লাখ টুটসি মহিলার পরিকল্পিত ধর্ষণের সঙ্গে তুলনা করা যায় না।)

হিতেশ এবার বললেন, ওনার বালুচ প্রসঙ্গে, যে বালুচদের কথা তো আপনার বক্তব্যের কাছাকাছি ধারণার সিনেমা মেহেরজানেও এসেছিল, তা সেই পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন করি, ওই সময়ে বালুচিস্তানের মত অল্প জনসংখ্যার জায়গাতেই যদি পাকিস্তানি সেনা সেই সময় কুড়ি হাজারের মত হত্যা করে থাকতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের মত প্রচুর জনসংখ্যার জায়গায়, দীর্ঘ নয় মাসে, এবং যুদ্ধের সময়, কয়েক লাখ হত্যা হওয়া কি অসম্ভব?

উত্তরে শর্মিলা বললেন, যে না, অসম্ভব হয়ত নয়, তবে আমার তথ্যনির্ভর এস্টিমেট তো ৯০% সম্ভাবনা নিয়ে নিহতের সংখ্যা এক লাখের মধ্যেই বলছে।

এবার বসনিয়ার তুলনা দিয়ে বললেন, যে সেখানের জিনোসাইডের কথা যদি বলেন, তাহলে একটা বড় প্রশ্ন আসে, সার্বিয়ার সৈন্য সেখানে কী করছিল? তারা নিজে থেকেই আগেভাগেই চলে গেছিল কেন? এখানেও প্রশ্নটা সেই, এপারের আর্মি ওপারে করছিলটা কী? পাকিস্তানি আর্মি বাংলাদেশে গিয়ে বসেছিল কেন, শুরুতেই?

শর্মিলা বললেন, হ্যাঁ, পাকিস্তানি আর্মি সেখানে গিয়েছিল, খুনজখম করছিল, সেটা তো খারাপ বটেই। এখন এই নিয়ে তো অনেক আলোচনা আছে – বাংলাদেশে যে একটা সশস্ত্র আন্দোলন, বিহারীদের অত্যাচার আস্তে আস্তে তৈরি হচ্ছিল এটা একটা কারণ দেখানো হয়।

******************

উপস্থিত আরেক মহিলা প্রফেসর (প্রথম শ্বেতাঙ্গ প্রশ্নকারী), যিনিও পাবলিক হেলথ-স্ট্যাটিস্টিক্স নিয়ে কাজ করেন, বললেন যে আমার মনে হয় শর্মিলার মেথডলজিতে সমস্যা আছে, ওই নিহতের সংখ্যা নিরূপণের ক্ষেত্রে। তিনি কিছু সাক্ষাৎকার ইত্যাদি তথ্য থেকে একটা সামগ্রিক এস্টিমেট দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু অন্য অনেক তথ্যসূত্র তিনি হিসাবে নেন নি, যা নিয়েছেন তাও সব নির্ভরযোগ্য নয়।

জবাবে শর্মিলা বললেন, হ্যাঁ, আমি তো চাই এই নিয়ে আরো গবেষণা আসুক, তাতে যদি আমার এস্টিমেট ভুল প্রমাণিত হয় তো হোক না। এখানে তো র‍্যান্ডম স্যাম্পল করে সার্ভে করা যায় না।
আমি কলকাতার মেয়ে হিসাবে ত্রিশ লাখ, পাকিস্তানি অত্যাচার এসব শুনেই বড় হয়েছি, তারপর আমার মনে হল, অন্য দিকের কথাগুলোও শোনা দরকার।
বাংলাদেশের তরফে তথ্যের খারাপ কোয়ালিটির উপরে তিনি সেই ‘প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ’ শোনালেন, যেখানে পাকিস্তানের বন্দিত্ব থেকে বাংলাদেশে ফেরার সময় প্লেনেই পরিস্থিতি সম্পর্কে অজ্ঞ মুজিবকে শোনানো হচ্ছিল, যে নিহতের আনুমানিক সংখ্যা ত্রিশ লাখ অবধি যেতে পারে, কিন্তু ওই প্রত্যক্ষদর্শীকে বিস্মিত করে দিয়ে, মুজিব নেমে প্রথম ইন্টারভিউতেই বলে বসেন যে মৃতের সংখ্যা ত্রিশ লাখ, এবং তাঁর কথা বলে সেটাই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।

******************

আমি এনার পরে সময় পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, যে আপনি তো বলছেন, ওই টুকরো টুকরো সাক্ষাতকারগুলোর থেকে আপনি সে সময়ের ‘ভায়োলেন্স’য়ের নানা চিত্র তুলে ধরতে চাইছেন, তা ভায়োলেন্স হিসাবে রেপ কি আপনার কাছে ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, যে আপনি কোনো রেপ সারভাইভারের সঙ্গে কথা বললেন না, বই থেকে পুরো প্রসঙ্গটাই বাদ দিয়ে দিলেন? আপনি যখন যে অল্প কজনের সঙ্গে কথা বলেছেন তাতে রেপের কোনো উল্লেখ আসেনি, কিন্তু বাংলাদেশের দাবিমতে প্রচুর রেপ হয়েছিল, তখন কয়েকজন বীরাঙ্গনার সঙ্গে কথা বলা কী খুব কঠিন হত? রেপের মত একটা বড় ভায়োলেন্স সম্পর্কে আপনি সেই আগ্রহটুকু দেখালেন না কেন?

তাতে শর্মিলা বললেন, যে বলেইছি তো, আপনারা রেপ বিষয় বিশদ জানার কৌতূহল থাকলে ইয়াসমিন সইকিয়ার বইটা পড়ুন না। আমি কোনো একটা বিশেষ ভায়োলেন্সের উপর ফোকাস করিনি, তাই প্রচুর রেপ হয়েছিল এই দাবি থাকা সত্ত্বেও যখন আমার সঙ্গে কথা বলা প্রত্যেকজনেই বলল যে তারা কোনো রেপের ঘটনা তাদের চারিপাশে শোনেনি, তখন অবাক হলেও আলাদা করে রেপ নিয়ে খোঁজ করতে যাইনি।

এতে দিনা বললেন, যে রেপের মত ঘটনার ভুক্তভোগী মহিলারা তো আপনাকে নিজে থেকে এসে বলবে না, যে এই নিন, আমি ধর্ষিত হয়েছিলাম। আর রেপের পর অনেক মহিলাকে হত্যা করা হয়েছিল, অনেকে লজ্জায় আত্মহত্যা করেছিলেন, সেক্ষেত্রে সারভাইভার পেতে তো একটু খুঁজতেই হবে। এই মহিলাদের নিয়ে কাজ করার জন্য যে সমিতি তৈরি হয়েছিল, তারা তিন বছর খুঁজে মাত্র ১৮ জনকে পায় যারা এই নিয়ে কথা বলতে ইচ্ছুক। অতএব এমনি কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে এই নিয়ে সঠিক চিত্র তো পাবেনই না। আপনার লেখায় পাকিস্তানি জেনারেলরা যেমন ইমেজ তুলে ধরেন, যে আমরা জেন্টেলম্যান, কেবল নিয়ম মেনে যুদ্ধ করেছি, কোনো রেপ করিনি, সেটাই রয়ে যাবে।

উপস্থাপক ড: ক্যাশ যোগ করলেন, যে স্যাম্পলিং বায়াসও একটা বড় ফ্যাক্টর এখানে – বাংলাদেশের মাত্র ৩৬ জনকে (নাকি ৩৮ বলেছিলেন, ঠিক মনে নেই) বইয়ের জন্য ইন্টারভিউ করা হয়েছে, তার মধ্যে আবার কেবল চারজন মহিলা। এত ছোট স্যাম্পলে তো সব দিক সম্পর্কে সম্যক আইডিয়া পাবেন না-ই।

আমি ফিরতি প্রশ্ন করতে যাচ্ছিলাম, যে আপনার এই স্যাম্পলের তথ্যে তো কোনো ধর্ষণের কথা নেই, পাকিস্তানি জেনারেলরাও ধর্ষণের কথা বলেন না। তাহলে কি আপনার মেথডলজি অনুযায়ী ধর্ষিতার সংখ্যার এস্টিমেট শূন্য? এইরকম এস্টিমেট কষেছেন আপনি নিহতের সংখ্যাতেও? কিন্তু উপস্থাপক আমায় থামিয়ে দিয়ে বললেন, আর একদম সময় নেই, অন্য কারুর প্রশ্ন থাকলে সেটা শুনে শেষ করতে হবে।

******************

এরপর এক বাঙালি তরুণী কি প্রশ্ন করেছিলেন সেটা ভুলে গেছি। সবশেষে হিতেশ আরো একটা প্রশ্ন দিয়ে শেষ করলেন, যে আপনি যেমন আজকে শুরুতেই বললেন, আপনার বইয়ের পেছনে কনটেক্সটের কথা, তেমনই বইয়ে ওই কয়েকটা ঘটনা আলোচনার আগে শুরুতে পুরো যুদ্ধের একটা কার্যকারণ কনটেক্সট দিয়ে দেওয়া উচিত ছিল না?

তাতে উত্তর এল, যে ওইরকম কনটেক্সট আলোচনা করে তো অনেক বই আছেই, আমারটা একটা অন্য আঙ্গিক উপস্থাপনা করার জন্য।

******************

চলে আসার আগে গর্গ'র মত শুনলাম, যে এইটা নিয়ে আবার একটা কিছু না লেখাই ভাল, হার্ভার্ডে এনার একটা বুক রিভিউ আর বড়সড় আলোচনা-বিতর্ক হয়েছে এটা নিয়ে কথা বাড়লে বইয়ের পাবলিসিটি আরো বাড়বে, সেটা ওনার পক্ষেই ভালো হবে। সে কথা ঠিক, কিন্তু সচলবন্ধুরা যখন এটা কভার করতে অনুরোধ করেছিলেন তখন তাঁদের কী কথাবার্তা হল সেটা তো জানানোই উচিত।

আর হাসনাত বলে বস্টন ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন শিক্ষক এক বাংলাদেশী ভদ্রলোক, যিনি তাঁর পরিচয় দিলেন এই বলে যে তিনি এক সময়ের মুক্তিযোদ্ধা, এবং যুদ্ধে একটা পা হারিয়েছিলেন, আমাকে ডেকে বললেন, ‘আমি তো ফিল্ডে ছিলাম, কি সব ঘটেছে নিজের চোখেই দেখেছি, তারপর সৌখিন চেয়ারে বসে ‘দুপক্ষেই গন্ডগোল করেছিল’ টাইপের কথাবার্তা শুনে মনে মনে বলি, পুরোই ফালতু।’


মন্তব্য

রাব্বানী এর ছবি

পড়লাম, আলোচনা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ।

হিমু এর ছবি
কৌস্তুভ এর ছবি

হাসি

রু (অতিথি) এর ছবি

ধন্যবাদ। এতো কিছু শোনার পরেও এই মহিলার লজ্জা লাগে না! আচ্ছা মেহেরজানের কথা যখন উঠলো, কী মনে হোলো শর্মিলা বসু সিনেমাটার সাথে পরিচিত?

কৌস্তুভ এর ছবি

প্রশ্নে ওই একবার মেহেরজানের উল্লেখ এলেও শর্মিলা মেহেরজান নিয়ে কিছু বলেন নি। দিনা একবার সাম্প্রতিক অ্যান্টি-মুক্তিযুদ্ধ প্রচারের কথা বলতে গিয়ে মেহেরজানের নাম এনেছিলেন কিনা ঠিক মনে পড়ছে না।

ওহ ভাল কথা, এই আলোচনার অনুসরণে আগামী ৩ তারিখ রুবাইয়াতের উপস্থিতিতে মেহেরজান দেখানো হবে এই ডিপার্টমেন্টেরই আয়োজনে।

তানিম এহসান এর ছবি

এই ডিপার্টমেন্টেতো দেখি শর্মিলা বসু আর মেহেরজানের জয় জয়কার, তাও আবার রুবাইয়াৎ সহ আলোচনা হবে। মারহাবা, মারহাবা - হাভার্ড এর সাউথ এশিয়ান ইনিশিয়েটিভ ডিপার্টমেন্ট বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নিশ্চিতভাবেই একটা ডিসকার্সিভ স্থান দখল করে আছে - সেখানে এইসব মানুষজনের ঘনঘন আনাগোনা অশনি সংকেত আমাদের জন্য। কোন কিছু করার আছে কি? থাকলে জানাবেন; আমার মনে হয় সচলে অনেকেই আছেন যারা তৈরী আছেন এই নিয়ে কাজ করার জন্য। আমিও থাকার চেষ্টা করবো ক্ষুদ্র সামর্থ্য সহ।

এনথ্রোপলজি’র ছাত্র হিসেবেই চিনি দিনা সিদ্দিকিকে, বাইরেই থেকেছেন দীর্ঘদিন, বাংলাদেশে এসেও মাঝে মাঝে কাজ করেন কিন্ত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উনি কতটুকু ওয়াকিবহাল তা নিয়ে আমি নিশ্চিত নই - কিন্ত এইধরনের জাতিগত ইতিহাসের আলোচনায় দিনা সিদ্দিকের চাইতে বরং আমাদের প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, প্রফেসর মুহম্মদ জাফর ইকবাল, প্রফেসর সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যার অনেক অনেক বেশি তথ্য প্রমাণ দিয়ে কথা বলতে সক্ষম, সক্ষম আরো অনেকেই।

আপনি হাভার্ড এ আছেন, বাংলাদেশের এমন কেউ সেখানে নেই যিনি এটা নিয়ে কাজ করতে পারেন? নাকি যারা আছেন তাদের মধ্য থেকেই কেউ কেউ শর্মিলা বসু আর মেহেরজানকে প্রমোট করা হচ্ছে। সিরিয়াসলি জানতে চাই।

আপনাকে ধন্যবাদ, আশা করবো আপনার এইসব স্থানে সরব উপস্থিতি আমাদের জন্য পয়মন্ত হতে থাকবে।

কৌস্তুভ এর ছবি

তানিম, আপনি কি বস্টনে বা আসেপাশে কোথাও আছেন? তাহলে চলেই আসতে পারেন এসব আলোচনায়। আমি তো কর্মকর্তা নই, আপনার কর্তব্য কী তা নিয়ে আমি কী বলব।

একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস লক্ষ্য করবেন, যে উপস্থাপক যিনি তিনি কিন্তু প্রো-শর্মিলা নন। মডারেটর হিসাবে তিনি যথাসম্ভব নিরপেক্ষ থাকার মধ্যেও ওই আঙ্গিকটার সমালোচনা করেছেন, ১৯৭৫ এর পেপার ইত্যাদি নিয়ে যথেষ্ট চেষ্টার সঙ্গে তৈরি হয়েই এসেছেন, শ্রোতাদের মধ্যে বিলাবার জন্য তার অনেকগুলো কপিও নিয়ে এসেছিলেন। আমি ওনার কাজে মুগ্ধ।

উপস্থাপকের ওনার প্রতি সমর্থন নেই, এবং প্রশ্নকর্তাদের মধ্যেও কেউ শর্মিলার সমর্থনে কিছু বলেনি। (কোনো পাকিস্তানি শ্রোতা ছিল কি না তা বলতে পারি না।) অতএব এক অর্থে এটাকে 'শর্মিলাকে গ্রিল করার জন্য ডেকে আনা হয়েছে'-ই বলা যেতে পারে। এর পরও সাউথ এশিয়ান ইনিশিয়েটিভকে তেমন ওদিক বায়াসড বলা যাবে মনে হয় না।

দিনা সিদ্দিকি বর্তমানে নিউইয়র্কে ভিজিটিং প্রফেসর। অতএব কাছাকাছির মধ্যে ওনাকেই ডাকা হয়েছে। কাউকে বাংলাদেশ থেকে উড়িয়ে আনা তো সম্ভব না।

বাংলাদেশের কেউ ছিলেন না এমন তো নয়। প্রশ্নকর্তাদের মধ্যেও প্রথম ভদ্রলোক আর শেষের তরুণী বাংলাদেশী হতে পারেন। আবার কেউ নীরবে উলটো লবিং করছেন সেটাও অসম্ভব নয়। আমি এত কোত্থেকে জানব!

অগত্যা এর ছবি

যতদুর জানি দিনা সিদ্দিকি সম্ভবত মহেরজান সিনেমাটিকে প্রো-পাকিস্তানি মনে করেননা, দুর্বল মনে করেন। কাজেই মেহেরজান -- বোস ইত্যাদি গোষ্ঠীকে কতটা একই লাইনে রেখে মূল্যায়ন করা যায় সেটা ভেবে দেখার বিষয়।

ব্যাঙের ছাতা এর ছবি

এই বিষয়ে একটু পড়েছিলাম। আজ আপনার লেখা পড়ে আরো জানলাম। ধন্যবাদ। তবে আমার মনে জাতীয় পর্যায়ে শর্মিলা বসুর এই মিথ্যাচারের প্রতিবাদ করা উচিত।

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ।

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবার কাছে যুদ্ধের গল্প শুনেছি। কী করে ভারতে ট্রেনিং নিলেন, কী করে দেশে ফিরে এলেন এবং তারপর ফেনীর বিলুনিয়ায় সরাসরি যুদ্ধ করলেন। মায়ের কাছে শুনেছি কীভাবে তারা লুকিয়ে লুকিয়ে ঘুরেছে দেশে দেশে। আমার মায়ের বৃদ্ধ নানা সহ ঐ পরিবারের সব পুরুষকে (যাদের ধরতে পেরেছিল) লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করেছিল পাক হানাদার বাহিনী। আমার কাছে এগুলো কোন গল্প নয়। কিন্তু যখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনফারেন্স রুমে বসে শর্মিলার মত কেউ বিজ্ঞের মত "কিছু রেপ হয়েছিল" বা "এক লাখের বেশী হত্যাকান্ড হয় নি" বলে মন্তব্য করে তখন রাগ হয়। খুব রাগ হয়। মাথায় রক্ত চড়ে যায়।

কৌস্তুভ এর ছবি

ওই হাসনাত ভদ্রলোক একই কথা বললেন। ওনার সঙ্গে কথা বলে ভাল লাগল - উনি শুরুতেই আমাকে ডাকলেন 'এই যে, শোনো' বলে, এখানের সামাজিকতার 'এক্সকিউজ মি' টাইপ না, একেবারে দেশীয় 'ওহে ছোঁড়া' রকমের ডাক, অনেকদিন পর শুনে ভারি মজা পেলাম।

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

আগের মন্তব্যটা করার সময় কিছুটা উত্তেজিত ছিলাম, তাই আপনার লেখা নিয়ে বলা হয় নি। নিঃসন্দেহে আপনি খুবই চমৎকার একটা রিভিউ দিয়েছেন পুরো ইভেন্টটার। বিশেষতঃ আমি আপনার প্রশংসা করবো কোন রকম রেকর্ডিং ডিভাইস ছাড়াই শুধু স্মৃতির উপর নির্ভর করে এত চমৎকার গোছানো একটা লেখা দেয়ার জন্যে।

আপনার বর্ননা পড়ে হাসনাত সাহেবের ব্যাপারে আগ্রহ জন্মাচ্ছে। তাঁর সাথে যোগাযোগ করার কি কোন উপায় আছে? ইমেইল অথবা তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট? জানালে খুশি হবো।

শুভেচ্ছা রইলো।

কৌস্তুভ এর ছবি

দেরি করে উত্তর দেওয়ার জন্য দুঃখিত। ওনার ইমেল Syed Hasnath (shasnath@gmail.com)

ফাহিম হাসান এর ছবি

ধন্যবাদ কৌস্তুভদা। স্মৃতি থেকে লেখা হলেও ভালো বর্ণনা দিয়েছেন।

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ। 'ভালো' নাহয় হল, কিছু 'ভুলভাল' না হলেই হয়।

আজাদ মাষ্টার( রিডার/কমেণ্ট)  এর ছবি

শর্মিলা বসুকে নিয়ে কথা বলতে আর রুচি আসে না, নিজের ক্যারিয়ার গড়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু চাঞ্চল্যকর কথাবার্তা বলে তিনি লাইম লাইট পাওয়ার ধান্ধায় আছেন এরপর জামাতি এবং পাকিস্তান সরকারের আনুকূল্য লাভের গোপন হিসেব নিকেশও আছে।

বন্দনা কবীর এর ছবি

কিছু মিথ্যাবাদি ঘেউ ঘেউ করে সত্য আড়াল করতে চাইলেই সত্য মিথ্যে হয়ে যায়না।
তবুও মনে হচ্ছে, এসব ব্যাপারে রাষ্ট্রিয় পর্যায় থেকে প্রতিবাদ জানানোর সময় হয়েছে।

অবশ্য আবুলিলের কন্যার সাথে ইনার প্রেম পিরিতির যে সম্পর্ক তাতে করে 'পজেটিভ' কিছু আশা করাই...

দুষ্ট বালিকা এর ছবি

এইসব গর্ভস্রাবগুলারে নিয়ে আর কী বল্বো! মন খারাপ

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

জি.এম.তানিম এর ছবি

সাবাস! চলুক

-----------------------------------------------------------------
কাচের জগে, বালতি-মগে, চায়ের কাপে ছাই,
অন্ধকারে ভূতের কোরাস, “মুন্ডু কেটে খাই” ।

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ।

পাঠক এর ছবি

শর্মীলা বসু , এই সব জঘন্য মানুষিকতার মানুষ যে কই থাকে? জগন্নাথ হলের বর্ণনা থেকেই বোঝা যায় তার জ্ঞান কত দূর । এখানে তো ট্যাঙ্ক তুলে দিয়েছিল। তিনি শুধু জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা বললেন অথচ ড.সন্তোষ,ড.গোবিন্দ প্রভৃতি সহ আরও অনেক মারা যান অন্যান্য হলের শিক্ষক সহ ।শিক্ষক যেখানে পাইছে হিন্দু আর মুসলিম হোক তার কোন মাফ ছিলনা । এরে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিরোধ করা উচিত।যুদ্ধাপরাধীর বিচার বানচালের পাকিস্তানি অপপ্রয়াসের অংশ এই পাকিস্তানি হেরেমের ভারতীয় গণিকার ও বিচার করা উচিত।

কৌস্তুভ এর ছবি

শর্মীলা না, শর্মিলা। অবশ্য উনি বানান লেখেন sarmila.

উনি তো এক একটা ছোট কেস নিয়ে আলোচনা করছেন। উনি '২৫শে মার্চের ঢাকা ইউনিভার্সিটির হত্যা' থেকে একটা লোকের কেস তুলে নিয়ে সেটা নিয়ে বলছেন। সেখানে একাধিক হত্যা হয়েছিল সেটা তো অস্বীকার করেন নি।

উল্লেখ্য, উনি এখানেও কোনো পটভূমি দেন না। জিনিসটা যে একটা পরিকল্পিত বুদ্ধিজীবী হত্যা, দেশটাকে পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য, সে কথা বলেন না।

নাসাদ এর ছবি

চলুক শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ।

নাদির জুনাইদ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ লেখার জন্য। হার্ভার্ডে এই বই নিয়ে অনুষ্ঠানে শর্মিলা বসুকে কী কী প্রশ্ন করা হয় তা জানতে উৎসুক ছিলাম। খুব ভাল লাগছে জেনে যে প্রশ্নকারীরা সবাই এই বইয়ের নানা অসঙ্গতি আর সমস্যা আর শর্মিলা বসুর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর প্রতি পার্সোনাল বায়াস উল্লেখ করে তাকে প্রশ্ন করেছেন।

এখন শর্মিলা বলা শুরু করেছেন এই বই ঠিক অ্যাকাডেমিক ভাবে লেখা নয়; এমন কথা বছরের শুরুর দিকে তিনি বলেছিলেন কী না মনে করতে পারছি না। তার কাজে মেথডলজির সমস্যাগুলো বার বার তুলে ধরা হচ্ছে বলেই তিনি এখন এমন কথা বলছেন। এই মহিলার লেখায় যে পার্সোনাল বায়াস স্পষ্ট তা নির্দেশ করে তীব্র সমালোচনা চালিয়ে যাওয়া উচিৎ বলে মনে করি। তাতে এই বই নিয়ে হয়তো কথা হবে, তবে এই বই আসলে কোন্ ধরনের লেখা তাও স্পষ্ট হবে সবার কাছে। হার্ভার্ডের এই অনুষ্ঠানে অনেক ভাল প্রশ্ন করা হয়েছে। এই বইয়ের সমস্যাগুলো বিশদভাবে তুলে ধরা জরুরি; তাতে করেই শর্মিলা বসু এবং তার সমর্থকদের এই বইয়ের পক্ষে জোর গলায় কথা বলার সুযোগ থাকবে না।

কৌস্তুভ এর ছবি

উনি গর্গ বা দিনা'কে যেমন বায়াস সম্পর্কে 'আই রিজেক্ট দোস স্টেটমেন্টস' বলেছেন, তেমন এই সমালোচনাগুলোর সম্পর্কেও বলবেন, অসুবিধা কোথায়?

নাদির জুনাইদ এর ছবি

কিন্তু সমালোচনাগুলি শক্তভাবে তুলে ধরলে বেশির ভাগ মানুষেরই এই সব সমালোচনার যথার্থতা বুঝে নিতে সমস্যা হবে না, তা শর্মিলা বসু তার সমালোচনা যতোই রিজেক্ট করুন না কেন।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

গুরু গুরু

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

কৌস্তুভ এর ছবি

লইজ্জা লাগে

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

টুদা পয়েন্টে উত্তরই করতে চান না দেখি। এতো সরাসরি প্রশ্নের এতো ঘুরিয়ে উত্তর। আর এক বাক্যে সমালোচনা খারিজ!

কৌস্তুভ এর ছবি

নয়তো কী আশা করেছিলেন, উনি সটান স্বীকার করে নেবেন পাকিস্তান-বায়াসের কথা? খাইছে

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

ধন্যবাদ কৌস্তুভ'দা হাসি

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

কৌস্তুভ এর ছবি

হাসি

ধুসর গোধূলি এর ছবি
কৌস্তুভ এর ছবি

হাসি

shafi.m এর ছবি

পড়এ কত্ত ভাল লাগ্ল বলে বোঝাতে পারব না। ধন্যবাদ ভাই। ভাল থাকুন। চলুক

শাফি।

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ। আপনিও...

ঠোঁটকাটা এর ছবি

চলুক
বস, শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। আপনার লেখা অনেক তথ্যবহুল। কিন্তু মাঝেমাঝে বাক্য গঠনের দূর্বলতার কারনে আপনার লেখা অন্য ভাষা থেকে বাংলায় করা কাঁচা অনুবাদের মত মনে হয়। যেমন লিখেছেন, ‘ওহে পাঠক’। এটা আমার কাছে ছোটবেলায় দেখা আরব্য রজনীর(আলিফ লায়লা) সিরিজের ডাবিং-এর মত মনে হল।

অপরাধ নিবেন না প্লিজ!!!

কৌস্তুভ এর ছবি

এটা তো অনুবাদ বটেই, ইংরাজি আলোচনা থেকে বাংলায় অনুবাদ। তাই যেখানে মনে হয়েছে মূল ইংরাজি শব্দটাই ঠিক হবে তাই করেছি, সেদিক থেকে এ লেখাটা ইংরাজিবহুলও। আর তাড়াহুড়োয়, কিছু ভুলে যাবার আগেই লিখে ফেলি, সেভাবে লেখা। তাই ভাষার সাবলীলতার দিকেও নজর দেওয়া হয়নি।

'ওহে পাঠক' নিয়ে আপনার আপত্তিটা বুঝলাম। কিন্তু আপনি আমার অন্যান্য লেখা পড়লে দেখবেন, সাধু-ঘেঁষা বা প্রাচীন শব্দ ব্যবহারের আমার একটা সচেতন প্রবৃত্তি আছে। আর 'ওহে পাঠক'-এর মধ্যে পাঠকের প্রতি যে একটা প্যাট্রনাইজিং আহ্বান আছে (কনডিসেন্ডিং-ঘেঁষা অর্থে), সেটা 'শুনুন পাঠক' টাইপের অন্য কথায় ফুটে ওঠে না।

শাব্দিক এর ছবি

মানুষ ফোকাসে আসার জন্য কি না করে? একটা মহিলা হয়ে এতগুলি রেপ প্রায় অস্বীকার করে ফেললেন?

নৈষাদ এর ছবি

চমৎকার। চলুক

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ।

মঈনুল এর ছবি

চলুক

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ।

কাশফুল এর ছবি

এই নরকের কীটগুলোর কথা শুনলে মাথায় রক্ত উঠে যায়।
অনেক ধন্যবাদ দাদা। ভালো থাকবেন।

কাশফুল

কৌস্তুভ এর ছবি

আপনিও।

দ্রোহী এর ছবি

কৌস্তুভ, কৃতজ্ঞতা জানবেন।

চলুক

কৌস্তুভ এর ছবি

লইজ্জা লাগে

উচ্ছলা এর ছবি

অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে এই পোস্টের জন্য।
দারুন লিখেছেন! এক কথায় "অসাধারণ"।

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ।

তাপস শর্মা  এর ছবি

জাস্ট ফাটাফাটি। চরম হয়েছে। বর্ণনায় এবং তথ্য চলুক

কৌস্তুভ এর ছবি

দেঁতো হাসি

চরম উদাস এর ছবি

চলুক চমতকার।

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ।

তাসনীম এর ছবি

চলুক
ধন্যবাদ কৌস্তুভ।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

কৌস্তুভ এর ছবি

হাসি

তারেক অণু এর ছবি

চলুক ধন্যবাদ। মহিলার ইতিহাস বিষয়ক জ্ঞান আহরণের পদ্ধতিতে সমস্যা আছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। দুই পক্ষের কথা শুনতে চাওয়া যেতেই পারে, তার মানে এই না চোখের সামনে অন্যায় দেখেও এক পক্ষকে ঢালাও সমর্থন করতে হবে।

কৌস্তুভ এর ছবি

সেসব কথা বলাই বাহুল্য...

চরম উদাস এর ছবি

এই ফাতরা মহিলা কবে থামবে? ইয়ে, মানে...

শর্মিলা খালার জন্য উপহার ___

Tree3

সেইসাথে ল্যাটিন ভাষায় হিমুর অমর বাণী -
FONDODI GOLAE DIUM

বাংলামায়ের ছেলে এর ছবি

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এদেরকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য একটা পক্ষ উঠে পড়ে লেগেছে।

এদের ঠেকাতে হলে আমাদের ছেলেদেরকে ওই জায়গাগুলোতে পৌঁছতে হবে এবং নিজ যোগ্যতাবলেই ওদের কথার যথাযথ জবাব দিতে হবে। তা না করতে পারলে ওরা অবস্থানের সুযোগ নিয়ে এই মিথ্যাচার চালিয়েই যাবে। আর আমাদেরকে শুধু ঘরে বসে থেকে কয়েকটা গালি দিয়েই অক্ষম রাগ মিটাতে হবে।

কিন্তু আমরা নিশ্চয়ই তা হতে দিতে পারি না।

কৌস্তুভদা, অনেক ধন্যবাদ এরকম একটা লেখার জন্য। আপনার আশেপাশে যদি আরো বাঙ্গালী থাকে তবে তাদেরকেও সাথে নিন। অন্ততঃ দু'কথা শুনিয়ে দিন ওদেরকে।

কৌস্তুভ এর ছবি

বাঙালি বলতে আপনি সম্ভবত বাংলাদেশী বলতে চাইছেন। তবে বাঙালি যে আছে তা তো দেখতেই পেলেন, কলকাতার (আমি, গর্গ, তবে পূর্বপরিচিত হলেও একসাথে যাইনি), বাংলাদেশের। কিন্তু বাঙালি হওয়াটা তো জরুরি নয়। ওই হিতেশ ভদ্রলোক তো ভারতীয় হলেও রাজপুত। উপমহাদেশীয় হওয়াটাও জরুরী নয়।

অঅসাধারন এর ছবি

কার পয়সা খেয়ে এসব লিখছে রাষ্ট্রীয়ভাবে তা খোঁজখবর করা দরকার। আমাদের গোয়েন্দাসংস্থাগুলো হারাম খেয়ে খেয়ে মোটা হয়ে গেছে, তাই আর জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোন খবর তাদেরকে আলোড়িত করতে পারে না

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

কৃতজ্ঞতা জানবেন।

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ।

সচল জাহিদ এর ছবি

চলুক


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

চলুক

কৌস্তুভ এর ছবি

হাসি

সপ্তর্ষি এর ছবি

চলুক

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ।

মেঘদেয়াল এর ছবি

ভালো লিখেছেন--ধন্যবাদ।

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ।

তানভীর এর ছবি

ধন্যবাদ। নভেম্বর ৩ তারিখ মেহেরজানের আপডেটও কাইন্ডলি দিয়েন হাসি

কৌস্তুভ এর ছবি

দেখি...

পুতুল এর ছবি

বাংলাদেশের মাত্র ৩৬-৩৮ জন মানুষের সাক্ষ্যাতকার নিয়ে বই লিখেছেন শর্মিলা বসু। তার মধ্যে আবার চারজন মাত্র মহিলা! এর চেয়ে বেশী যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ খোঁজ করলে তিনি কোলকাতায়-ই পেয়ে যেতেন, যুদ্ধের পরে যাদের আর দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি।

অবাক হই এই বইটা নিয়ে হার্বডের মতো জায়গায় আলোচনা হচ্ছে!
ধন্যবাদ কৌস্তুব। আপনি সেখানে গিয়ে, আমাদের জন্য আলোচনার সারটুকু স্মৃতিতে ধরে এনেছেন।

কোথায় যেন (আপনার লেখা থেকে কপি করতে পারছিনা) তিনি বলেছেন "তোমরা দশজন মেরেছ বলে তোমরা খারাপ, আর আমারা পাঁচজন মেরেছি বলে আমরা ভাল" এ ধরনের হচ্ছে আমাদের দাবী। একাডেমিক কাজ করতে কিছুটা নিরপেক্ষতা দরকার হয় মানলাম। তাই বলে এমন করে বলতে হয়! তাঁর কথামতো পাকিস্তানীরাও খারাপ আমাদের মেরেছে আর ধর্ষণ করেছে বলে, আমরাও খারাপ কারণ আমারাও (বিহারী) ধর্ষণ করেছি আর মেরেছি।

সে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে মাত্র ৩৬-৩৮ জন বাংলাদেশীর সাথে কথা বললেই যথেষ্ট!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

কৌস্তুভ এর ছবি

হুঁ। কিন্তু তাহলে অথেন্টিসিটির দাবিটা এতটা পোক্ত শোনানো যেত না।

সে তো দিনাও বললেন, যে নাম্বারস ডু নট ম্যাটার - এক লাখ মারো আর দশ হাজার, দুটোই জিনোসাইড। কিন্তু ওই টুটসি আর হুটুর মত, স্কেল অফ অ্যাট্রোসিটিজ সম্পূর্ণই আলাদা।

সুমাদ্রী এর ছবি

শর্মিলা কি আসলেই বাঙালি? উনি বাংলায় কথা বলেন তো?

কৌস্তুভ এর ছবি

লেখাটায় দেখবেন, উনি বলছেন ওনার ছোটবেলা কাটিয়েছেন কলকাতায়। অতএব বাংলায় কথা বলতে পারবেন না, তাই কি হয়?

তিথীডোর এর ছবি

ওয়েলডান কৌদা। চলুক

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

কৌস্তুভ এর ছবি

শিশুরাও যা বোঝে, তা ওনারা বোঝেন না... খাইছে

হিমু এর ছবি

দেশের মাটিতে ভাত না পেয়ে মেহেরজান হার্ভার্ডে গেলো শেষমেশ? মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তাহলে শেষমেশ শর্মিলা চ. বসুর নেয়া ৩৮ জনের সাক্ষাৎকার আর গণ্ডারাপার যৌন ফ্যান্টাসির ফিনোটাইপ মেহেরজান থেকে শিখতে হবে মানুষকে?

আজ আবার দেখলাম মেহেরজানের আরেক বুদ্ধিখাদেম হাফুদা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ ফেঁদে বসেছে। এই লোকের কাছ থেকে ছেলেমেয়েরা চলচ্চিত্রের কী বালটা ছিঁড়তে শিখবে?

কৌস্তুভ এর ছবি

সেখানে পরিচালিকাও আসবেন, সম্ভবত একটা ইন্ট্রোডাকশন দিতে। তবে বিতর্ক আয়োজন হবে বলে মনে হয় না, তেমন কিছু লেখা দেখলাম না।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

আপনি সচলে মেহেরজান বিষয়ক লেখাগুলো পড়ে নিয়েন পারলে...

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

কৌস্তুভ এর ছবি

কৌস্তুভ এর ছবি

হিতেশের করা আরেকটা প্রশ্ন এইমাত্র মনে পড়ল, জুড়ে দিলাম।

অগত্যা এর ছবি

লেখার জন্য অনেক ধন্যবাদ, কৌস্তুভ* --

১) যদি বাঙালি এবং পাকিস্তানি পাঠক সমাজের বাইরে গ্রহনযোগ্যতার প্রশ্ন আসে তাহলে আলোচিত বইটি এখনো আন্তর্জাতিক খুব গ্রহনযোগ্যতা পেয়েছে এমন লক্ষন দেখিনি। এটা বইটির গবেষনা পদ্ধতির মান সম্পর্কে একাডেমিয়ার মতামত সম্পর্কে আস্বস্ত করে।

২) যতদূর জানি এখন পর্যন্ত ইপিডাব্লিয়তে প্রকাশিত নাইম মোহাইমিনের প্রতিক্রিয়ার কোন উত্তর আসেনি বোসের কাছ থেকে। সভায় উপস্থিত বক্তাদের মধ্যে যারা বোসের অবজেক্টিভিটির অভাবকে সামনে তুলে আনতে চাইছিলেন তাদের পক্ষ থেকে কেউ যদি নাইম মোহাইমেনের যুক্তিগুলো ভালভাবে রিভিউ করে যেতেন হয়ত আরো শক্ত ভাবে বোসকে ধরা যেত। আমার মতে এখন পর্যন্ত মোহাইমিনের কাজটাই বোসের কাজের সবচেয়ে পোক্ত উত্তর।

৩) জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে যারা বোসের সমালোচনা করছেন তাদের একটা বিষয় মনে রাখা দরকার যে বোসের কাজটার একাডেমিক মান দুর্বল হলেও কাজটা একাডেমিক ক্যাটাগরিতে পরে। আর এখানে জাতীয়তাবাদ প্রসূত পক্ষপাতের সমালোচনা করে কাউন্টার সমালোচনার পক্ষে অজুহাত দাড় করানো হয়েছে। ফলে আবেগ সর্বস্ব সমালোচনা বোসকেই সুবিধা করে দেবে -- যদিও সমালোচকদের উদ্দেশ্য তার বিপরীত।

৪) আপনার লেখা পড়ে বোসের অবস্থা কিন্তু বেশ নাস্তানাবুদ মনে হচ্ছে। আর কারোর দিক থেকে কোন ট্রান্সক্রিপ্ট পাওয়া গেলে কিছুটা ক্রস চেক করা যেত। দিনা সিদ্দিকী আরো একটু বিস্তারিত আলোচনা করলে ভাল হোত।

৫) যদিও কয়েকজন বোসের মেথডলজি নিয়ে প্রশ্ন করেছেন -- এই প্রশ্নটি আরো কয়েক ধাপ আগাতে পারত। এছাড়া বোসের আলোচনায় প্রাচ্যবাদি যুক্তিধারা থাকার কথা ছিল অনেকটা। কারন এটাই তার যুক্তির প্রধান শক্তির যায়গা। তার প্রাচ্যবাদি যুক্তির টোন এখানে কিছুটা স্তিমিত মনে হোল আর এর প্রত্যুত্তরের দিকটাও কিছুটা দুর্বল। এটাকি আপনার রিকালেকশানের রিফোকাসের দরুন হয়েছে নাকি আসলেই প্রচ্যবাদি যুক্তিগুলোর আলোচনা কম এসেছে। বিশেষ করে দিনা সিদ্দিকির উত্তরে প্রাচ্যবাদি যুক্তিগুলো শক্ত খন্ডন আশা করছিলাম। নতুন করে কিছু মনে পড়লে জানাবেন।

৬) আপনি বলছেন শর্মিলা ৯০% প্রোবেবিলিটিসহ মুক্তিযুদ্ধে নিহত বাঙালি নিহতের ইন্টারভাল এস্টিমেট দেখিয়েছেন -- এত কম সেম্পল নিয়ে এত উচ্চসম্ভাবনার দাবি করছেন কি করে সেটা স্পষ্ট হোল না। আপনার এই বিষয়ে মূল্যায়ন কী?

* আপনার লেখা বেশ ভাল লাগে কিন্তু!!

হিমু এর ছবি

শর্মিলার কাজের পারিসংখ্যানিক দুর্বলতা নিয়ে কৌস্তুভ সময় করে পৃথক পূর্ণাঙ্গ পোস্টে কিছু লিখবেন, এমন অনুরোধ আমিও জানিয়ে গেলাম।

কৌস্তুভ এর ছবি

উনি যে এইরকম কিছু স্ট্যাটিস্টিকাল (কারণ বড় মুখ করে কনফিডেন্স ইন্টারভালের কথা বললেন) হিসাব করেছেন ওই বইতে, সেটা তো জানতামই না। যাবার আগে বইয়ের যে অংশগুলোয় চোখ বুলিয়েছিলাম সেখানে ওটা ছিল না। আগেভাগে যদি কেউ এসব বিষয়ে একটু ইনফর্ম করতেন, তাহলে এটা নিয়ে ভাল করে চেপে ধরা যেত। কিন্তু সেটা তো হল না, কী করা যাবে। ওখানে বসে বসে শুনতে হল, উনি ফলাও করে বললেন, কেমন ৯০% কনফিডেন্স ইন্টারভাল এক লাখের মধ্যেই রাখছে, শুনেই খটকা লাগল, কিন্তু ভাল করে না জেনে তো কিছু বলা সম্ভব নয়। তেমনই, উনি ১৯৪৮ ইউ.এন. ডেফিনিশনের নামে যে ভুলভাল কথা বললেন, সেটাও জানা না থাকায় রিফিউট করা গেল না। ওখানে ক্যামেরা ল্যাপটপ ইত্যাদি বন্ধ রাখতে অনুরোধ করা হয়েছিল, তাই তখনই ক্রসচেকের সুযোগ ছিলনা।

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ, অগত্যা।

উনি বলছেন যে প্রকাশিতব্য ওনার আর্টিকলটায় উনি মোহাইমেনের কথা রিফিউট করেছেন। বেরোক, দেখবেন কী লিখেছেন।

বই হিসাবে কাজটা অ্যাকাডেমিক ক্যাটেগরিতেই পড়ে, কিন্তু উনি আবার ওখানে আলোচনার জন্য 'অ্যাকাডেমিক' নামের ভারী ট্যাগটা এড়িয়ে যাচ্ছেন, 'সাংবাদিকতা' বলছেন।

দিনা সিদ্দিকির হাতে বেশি সময় ছিল না। তাছাড়া উনি শর্মিলার বক্তব্য শুনতে শুনতে আরো কিছু অংশ বানাচ্ছিলেন বলবার জন্য। বলার সময় ওনাকে অনেকটা অংশ স্কিপ করতে হয়েছে।
আপনাদের যদি ওনার সঙ্গে যোগাযোগ থাকে তো বলে দেখুন না কিছু লিখতে।

'প্রাচ্যবাদি যুক্তি' বলতে কী বোঝাচ্ছেন ঠিক বুঝলাম না।

দিনা বলার সময় অতটা ঠান্ডা, গোছানো ভাবে বলতে পারেননি - খানিক দৌড়ে, খানিক থেমে, স্কিপ করে, বেশি বাংলা শব্দ এনে।

আমার বিস্তারিত মনে না থাকা একটা কারণ হতে পারে অবশ্যই।

শেষটার উত্তর হিমুদার জবাবে বললাম উপরে।

অগত্যা এর ছবি

হুম -- দেখা যাক মোহাইমেনের রিফিউটেশান কেমন করেন বোস।
একাডেমিকের ট্যাগ এড়িয়ে যাওয়াটা একটা কৌশল হয়ত -- যেহেতু মেথডলজিকাল ইস্যুজ রয়ে গেছে।
দিনা সিদ্দিকির কিছু কাজের সম্পাদনামূলক কাজ করতে গিয়ে সংক্ষিপ্ত পরিচয় হয়েছিল -- অনেক আগের কথা -- মাঝে ওনার লেখা পড়ি সেই সুবাদেই চিনি বলা চলে।

বলতে চেয়েছিলাম নব্যউপনেশিকতাবাদ (post colonialism) বলেছি প্রাচ্যবাদ (orientalism) খাইছে
এই যেমন পাকিস্তানি জেনারেল দের ডেমনাইজ করা -- আস এন্ড দেম ডাইকটমি ইত্যাদির নানামাধ্যমে উপস্থাপন (কেরিকেচার -- কার্টুন -- গান ইত্যাদি)-- এই সব বিষয় -- যার কিছুটা এখানে এসেছে - কিন্তু আমার পর্যবেক্ষন মতে শর্মিলার বক্তব্যের মূল সারটাই ওখানে। তাই তাকে কুপোকাত করতে হলে ওখানেই ধরতে হবে। আমার মনে হয়েছে পোস্টকলনিয়াল ক্লিশের বাইরে শর্মিলা আসতে পারেননি তার বইতে। লক্ষ্য করলে দেখবেন পোস্ট কলনিয়ালিসমের যেসব ক্লিশে সমালোচনা রয়েছে তার প্রায় সবই শর্মিলার যুক্তির বিপরীতে প্রয়োগ করা যায়। সেটা করা হয়েছে কিনা তা নিয়েই আমি কিছুটা কৌতুহলি (কার্যত সন্দিহানও বলতে পারেন)। দিনা সিদ্দিকির নাম দেখে মনে হয়েছিল তিনি হয়ত ঐদিকটায় কিছুটা আলো ফেলতে পারবেন। আপনার লেখাটা পড়ে মনে হচ্ছে দিনা সিদ্দিকিকে বলি আপনার ফোকাস করা দরকার ছিল পোস্ট কলনিয়ালিজমে ওপর আর আপনাকে বলি -- আপনার উচিত ছিল ইন্টারভাল এস্টিমেট নিয়ে শক্ত করে শর্মিলাকে ধরা (বিশেষ করে যেখানে সাংবাদিকতা বলে পাশ কাটানোর পাশা পাশি আবার স্টাটিস্টিকসের জারিজুরি করছেন)। আমার যতটুকু মনে আছে তার ইন্টারভিউর সেম্পলগুলোও ছিল স্নোবলিং পদ্ধতিতে নেয়া বা এমন ক্যাটগরিতে যেখান থেকে কোন স্টাটিস্টিকাল কংক্লুশান টানতে পারার কথা নয়!! তবে এই ধরনের আলোচনায় সমাজ বিজ্ঞানের যেই শাখার লোকেরা থাকেন তাদের বেশির ভাগেরই পরিসংখ্যানের ভিত্তি দুর্বল (উইথ ডিউ রেসপেক্ট) থাকে -- ফলে আবজাব বলে পার পাওয়া যায় -- তাই সেই অংশটাতে আপনার চেপে ধরা দরকার ছিল আগে। মাতব্বরি মার্কা কমেন্টের জন্য অবশ্য আগেভাগে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি -- গ্যালারিতে বসে অনেক কথাই বলা যায় সেটা বুঝি।

কৌস্তুভ এর ছবি

ভাই, পোস্টকলনিয়ালিজম ইত্যাদি কঠিন জার্গন বুঝিনা... ঠিকই বলেছেন, ওসব (যদি থাকে) দিনা'ই দেখার উপযুক্ত লোক। আর শর্মিলা যে কনফিডেন্স ইন্টারভাল ওসব কষেছেন সেটা তো যাবার আগে জানা ছিল না, যদি পড়েবুঝে যাওয়া যেত তবে নিশ্চয় ধরার চেষ্টা করতাম। ওই মহিলা প্রফেসর সম্ভবত কিছুটা দেখেছিলেন, তাই উনি সরাসরিই বললেন যে ওই এস্টিমেটের জন্য আপনার মেথডলজি সুবিধার না।

অগত্যা এর ছবি

কিছুক্ষন আগে মন্তব্য লিখেছিলাম -- কিছুক্ষন লটকে থাকার পর পোস্ট হোলো কিনা বুঝলামনা।
যাক, জার্গনের মজাটাই ওখানে একটা জ্ঞানী জ্ঞানী ভাব নেয়া -- কনসেপ্টগুলো যদিও সরল। যাক আপনারে জ্ঞান দেবার ধৃষ্টতা দেখাবোনা।
বোসের এস্টিমেট নিয়ে কিছু লিখলে একটু নোটিফাই করবেন? (জিমেইল niravoron)

কৌস্তুভ এর ছবি

ওকে...

সুজন চৌধুরী এর ছবি

এই বেটির এখনও পুন্ড্রবর্ধণ হয় নাই!!!!!!!!

তারাপ কোয়াস এর ছবি

আমাজনে'র রিভিউতে দেখলাম@#$××@ দের 'সত্য ইতিহাসের' প্রসংশায় বিচি দুলিয়ে উল্লাস! ধৃণাত্বক রিভিউর পরও তিন তারায় বর্তমানে বিরাজমান!

এই 'লেখিকার' জবাব 'প্রো'ভাবেই দেয়া উচিত বলে মনে করি। কৌস্তুভদা'কে ধন্যবাদ১০০


love the life you live. live the life you love.

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ।

যারা রিভিউ লিখেছে তারা পুরুষ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, কিন্তু নিশ্চিত না হয়ে রিভিউয়ারদের ইয়ে ধরে টান দেওয়া কি ঠিক হল? হাসি

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

গুড জব। পুরোটাই পড়লাম। আপনার মাথা ভাল, এত মনে রেখেছেন!

মুজিবের কোটেশনের জায়গায় আপনি দুই লাইনেই ত্রিশ লাখ বলেছেন। একটা মনে হয় তিন লাখ হবে, নাকি?

কৌস্তুভ এর ছবি

দুটো লাইনেই তো ত্রিশ লাখ হবে, নাকি? প্লেনে ওনাকে শোনানো হয়েছিল সর্বোচ্চ ত্রিশ লাখ, উনি নেমে সেটাই বলেছেন।

হিমু এর ছবি

এই ত্রিশ লক্ষ সংখ্যাটার দায় শর্মিলা চুতমারানি বসু এবং অন্যান্যরা খুব কৌশলে বাঙালিদের কষ্টকল্পনার ঘাড়ে চাপাতে চাইছেন। কিন্তু সংখ্যাটা কিন্তু একেবারে গায়েবি নয়। পাকিস্তানী জেনারেলরা ১৯৭১ এর ২২ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সরকারকে টাইট দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। ফেব্রুয়ারির কনফারেন্সে সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান বলেছিলো, “Kill three million of them,” and the rest will eat out of our hands.” [সূত্র (Robert Payne, Massacre [1972], p. 50.)] বাংলাদেশে পাকিস্তানি সশস্ত্রবাহিনীর গণহত্যা যে পরিকল্পিত এবং তার স্কেল সম্পর্কে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যে নির্দেশনা এসেছে, সেটা ইয়াহিয়ার এই কথা থেকেই বোঝা যায়। শর্মিলা চুতমারানি বসু এইসব জিনিস খুব সাবধানে এড়িয়ে গেছে। পাকিস্তানী জেনারেলদের মুখমেহন করে ইতিহাস লেখা খুব কঠিন আসলে, তাতে বড় বড় সব ছিদ্র থেকে যাবে।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

সূত্রের জন্য ধন্যবাদ, হিমু। ৩০ লাখ নিয়ে উপরে যে মন্তব্য করেছি সেটার যে ভার্সন আমি শুনেছি তা ছিল এরকম: মুজিবকে বলা হয়েছে তিন লাখ, আর উনি বলেছেন তিন মিলিয়ন। কত কৌশলে এগুলো মানুষের মাথায় ঢোকানো হয়েছে তা বোঝা কঠিন নয়।

হিমু এর ছবি

তিনলাখী লোকজন আরো কিছু মাছ শাক দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করে। সত্তরের বারোই নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড়ের কারণেই ছয় লক্ষ থেকে এক মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর কথা জানা যায় সে সময়ের পত্রিকা ঘাঁটলে। আর নয়মাস ধরে একটা ট্রিগারহ্যাপি আর্মি আর তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে ময়দানে থাকলে তিন মিলিয়ন মানুষ মারতে পারবে না? পঁচিশে মার্চের ডেথ টোলই তো পঞ্চাশ হাজারের ওপরে বলে জানিয়েছিল পশ্চিমা সাংবাদিকেরা।

মন মাঝি এর ছবি

যে বাহিনি নিজেদের বগলের চিপায় লাদেনকে লুকিয়ে রেখে ধরা খাওয়ার পর বেহায়ার মত বলতে পারে কিস্‌সু জানি না, তাদের এবং তাদের ভাড়াটে **দের পক্ষে ৩ মিলিওন কেন ৩০০ মিলিওন মেরেও বেমালুম অস্বীকার করা কোন ব্যাপারই না।

এদেশে যদি ৯০,০০০ পাকি জানোয়ার সেসময় থেকে থাকে, তাহলে প্রত্যেকে গড়ে ৮ দিনে মাত্র ১ জন বাঙালি মারলেই ৩০ লক্ষের কোটা পূর্ণ হয়ে যায়। বাকি ৭ দিন নাক ডাকিয়ে ঘুমালেও চলে। আর এজন্যে মাত্র একটা পিস্তলই যথেষ্ট।

এমনকি তাও লাগে না - একটা দা/বটি/বল্লম/ম্যাশেটি এমনকি চাক্কু হলেও চলে। রুয়ান্ডাতে মাত্র ৩ মাসে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, আর এর একটা বড় অংশের কৃতিত্ব ছিল সেই প্রাগৈতিহাসিক অস্ত্র 'ম্যাশেটি'র। আর সেখানে যদি 'দাঁত পর্যন্ত' সশস্ত্র 'এশিয়ার দুর্ধর্ষতম' (তাদের দাবীমতে) আর্মি-নেভি-এয়ারফোর্স তাদের ট্যাঙ্ক-কামান-হেভি মেশিনগান-রিকয়েললেস রাইফেল-গানবোট-বম্বার-ফাইটার-মাইন-বোমা-বিস্ফোরক-অগ্নিসংযোগ-টর্চার চেম্বার-সহযোগী মিলিশিয়া সব নিয়ে মাঠে নামে - তাহলে তারা কত লোক মারতে পারবে তা বলাই বাহুল্য।

****************************************

মন মাঝি এর ছবি

--উল্লম্ফনজনিত ঘ্যাচাং--

****************************************

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

চলুক

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ।

সজল এর ছবি

চলুক

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

কৌস্তুভ এর ছবি

হাসি

শিশিরকণা এর ছবি

"কাপড় না খুলে বিখ্যাত হওয়ার নতুন তরিকা " নামে আরেক খান বই লিখতে পারে মহিলা।

স্ট্যাটিসস্টিক্সের স্যামপ্লিং এর হিসেব ধরলে, যেখানে ৩০ হাজার পাকবাহিনির ৩০ জন সাক্ষাতকার নিইয়েছে, মানে স্যামপ্লিং হচ্ছে ০,১%। যেখানে সম্ভাব্য পপুলেশন ৩০ লাখ সেখানে ০,১% স্যামপ্লিং হিসেবে অন্তত ৩ হাজার এর সাথে কথা বলা উচিত। এক কথায় মহিলার কাজ খারিজ করে ফেলা যায়। একি ঘটনার দুই দিকে দুই রকম স্যামপ্লিং হলে যেদিকে স্যামপ্লিং কম সেদিকটা অনেক গুন কম দেখাবে। এই কাজটাই কি মহিলা একাডেমিক কাজ বলে চালাচ্ছে না?

~!~ আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল ~!~

কৌস্তুভ এর ছবি

দুটো ডেটাসেট থেকে যে একই অনুপাতে স্যাম্পল নিতে হবে তা তো নয়। দুটোতে স্যাম্পলিংয়ের প্রোপর্শন আলাদা হলে ভেরিয়েন্স (এবং তা থেকে কনফিডেন্স ইন্টারভাল) কষার সময় সেটুকু খেয়াল রাখলেই হবে। কিন্তু উনি কী হিসাব করেছেন, কীভাবে দুটোকে মিলিয়েছেন, সেসব তো পড়ে দেখিনি, অতএব ভেতরে আর কী ভুলটুল আছে তা জানিনা।

স্বাধীন এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ কৌস্তভকে চলুক

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ।

আশালতা এর ছবি

এই ধরনের লেখাগুলোয় আমি সাধারণত কমেন্ট করিনা। কারণ এগুলো পড়ার পর আমার রাগ চড়তে থাকে, প্রচণ্ড এক ক্রোধ বুদ্ধি বিবেচনা এলোমেলো করে দিতে চায়। অন্যায় হত্যা এক হাজার না হয়ে একটা হলেই কি তাতে দোষ স্খালন হয়ে যায় ? এই দেশের যে পরিবারগুলো যুদ্ধের ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে কিভাবে একটা মানুষ বেমালুম মিথ্যা বলে যায় আমি জানিনা। আর নারী হয়েও যে নারী রেপকে গুরুত্বের সাথে নিতে পারেনা তাকে কি বলে ধিক্কার দেয়া যায় আমার জানা নেই, সত্যিই জানা নেই।

----------------
স্বপ্ন হোক শক্তি

অনিকেত এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ কৌস্তুভ'দা জিনিসটা নিয়ে লেখার জন্য।
শর্মিলা প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলে মুখ আর মেজাজ আপন বশে রাখা মুস্কিল তাই সে চেষ্টায় গেলাম না।
তবে যে জিনিস্টা নজরে পড়ল সেটা হল---কেউই তাঁর--তার বই/লেখার পক্ষে কিছু বলেন নি (সঙ্গত কারণেই)। বিবেকবান মানুষ হলে তার বুঝে নিতে দেরী হত না---কিন্তু শর্মিলাকে মনুষ্যপদবাচ্য কিছু ভাবতে আমার বাঁধে।

আবারো অনেক ধন্যবাদ কৌস্তুভ'দা, লেখাটা শেয়ার করার জন্যে।
শুভেচ্ছা নিরন্তর

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ।

সাফি এর ছবি

ধন্যবাদ কৌস্তুভদা। মরুভূমি দেখতে এলে খবর দিয়েন, মিষ্টি পাওনা রইলো

কৌস্তুভ এর ছবি

কোন মরুভূমি, তাকলামাকান? (তারেক অণুর সঙ্গদোষ, কাছেপিঠের কথা ভাবনাতে আসেই না) দেঁতো হাসি

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

এই বইটার কঠোর সমালোচনা কোনো আন্তর্জাতিক পত্রিকায় ছাপানো যায় না?

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

পল্লব এর ছবি

অনেক অনেক ধন্যবাদ, কৌস্তুভদা!

==========================
আবার তোরা মানুষ হ!

কৌস্তুভ এর ছবি

হাসি

বন্দনা এর ছবি

স্মৃতি থেকে এত সুন্দর করে গুছিয়ে লিখেছেন কৌস্তুভদা। চলুক

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ।

সুরঞ্জনা এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, উপস্থিতির জন্য, লেখার জন্য।

চলুক

............................................................................................
এক পথে যারা চলিবে তাহারা
সকলেরে নিক্‌ চিনে।

কৌস্তুভ এর ছবি

হাসি

রণদীপম বসু এর ছবি

পোস্ট ভালো লাগলো। ধন্যবাদ কৌস্তুভকে।

তবে পোস্টে আলোচনার গুঞ্জন থেকে একটা বিষয় ধারণা হচ্ছে যে, শর্মিলাকে নিয়ে আলোচনার যেরকম ঝড়তুফান বয়ে যাচ্ছে, তাতে তাঁকে যেরকম কেউকেটাভাবে কল্পনা করেছিলাম, বাস্তবে মনে হয় তেমনটা নয় (সম্ভাব্য)। তাছাড়া একাডেমিক ট্যাগ থেকে বেরিয়ে শর্মিলার সাংবাদিকতার ট্যাগ নেয়ার প্রবণতায় একটা চোর চোর বা পালাই পালাই ভাবও লক্ষ্য করা গেছে মনে হয়। এটা অবশ্য কৌস্তুভই বলতে পারবেন ভালো, আলোচনাস্থলে তাঁর উপস্থিতি ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মূল্যায়নের প্রেক্ষিতে।

পোস্টটাকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাচ্ছি।

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

কৌস্তুভ এর ছবি

আমারও তেমনই মনে হল, তাঁকে 'প্রখ্যাত গবেষক' হিসাবে ভাবা হচ্ছিল না ওখানে।

ধন্যবাদ রণদা।

সাইফুল  এর ছবি

চমৎকার কৌস্তভ!
আসলে ঐ মহিলা সিমপ্লি লাইমলাইটে আসার জন্য এই কাজ করেছেন।
অনেক ধন্যবাদ জিনিসটা শেয়ার করার জন্য।

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ।

তৌফিক জোয়ার্দার এর ছবি

জনস হপকিন্সে পড়তে আসার কিছুদিনের মাথায়ই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এক ছেলের কাছে 'ডেড রেকনিং' বইয়ের সূত্র ধরে নোংরা যুক্তি তর্কের মুখোমুখি হয়েছি। আপনার এই পোস্টটা এবং নাইম মোহাইমেনের লেখাটা হাতের কাছে থাকলে খুব সুবিধা হত। মানসিক ভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত এবং অসহায় বোধ করছিলাম এটা উপলব্ধি করে যে, আমাদের অসংখ্য জার্নালিস্টিক রাইটিং আছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, অথচ সিরিয়াস ধর্মী কোন এ্যাকাডেমিক কাজ নেই বললেই চলে। আমাদের দেশের একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোরও এ বিষয়ে বিশেষ তাগিদ আছে বলে মনে হয়না। সরকারের পক্ষ থেকেও কোন ইনিশিয়েটিভ আছে বলে শুনিনি। অথচ এখনো সম্ভব উপযুক্ত মেথোডোলজি ব্যাবহার করে হতাহত এবং ধর্ষিতার সংখ্যা নিরূপন করা (আমি জনস্বাস্থে পিএইচ ডি করছি; ইতিহাস/সমাজবিজ্ঞান আমার বিষয় নয়; তথাপি বেশ কিছু মেথডোলজি আমার মাথাতেই আছে)। কোয়ালিটেটিভ মেথডে বিহারীদের উপরে অত্যাচার হয়ে থাকলে সেটা এবং তার প্রেক্ষাপটও নিরূপন করা সম্ভব। অথচ জ্ঞান বিমুখ বাঙ্গালির (এথনিসিটি অর্থে) সংস্কৃতিতে পরচর্চা আর সস্তা আলাপচারিতা যতটুকু আছে, গবেষণা বিষয়টা একেবারেই নেই। অথচ শর্মীলা বোসদের বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে জার্নালিস্টিক এ্যাপ্রোচে নয়, বরং গবেষণাধর্মী কাজের মাধ্যমেই জবাব দিতে হবে (কথায় আছে না, যেমন কুকুর তেমন মুগুর হওয়া চাই)।

পুনশ্চ: আপনার লেখায় দিনা আপা এবং রিচার্ডের উল্লেখ পেয়ে ভাল লাগল। রিচার্ড আমার শিক্ষক; এবং পরবর্তিতে খুব ঘনিষ্ট একজন কলিগ। বাংলাদেশের প্রতি ওর ভালবাসা অপরিসীম। আমরা রিচার্ডের মত অনেক বাংলাদেশপ্রেমীকেই চিনিনা।

হিমু এর ছবি

তৌফিক ভাই, আপনি যে মেথডোলজির কথা ভাবছেন, সেগুলো গুছিয়ে লিখে একটা পোস্ট দিন প্লিজ। এ ব্যাপারে লেখালেখি এবং আলাপ, দুটোই নিয়মিত করা জরুরি আমাদের জন্যে। আসুন, শর্মিলাদের জন্যে একটা উপযুক্ত জবাব তৈরিতে সবাই এগিয়ে আসি।

রাজিব মোস্তাফিজ এর ছবি

তৌফিক,
তুই কাজ করা শুরু করে দে না এইটা নিয়ে !

----------------------------------------------------------------------------
একশজন খাঁটি মানুষ দিয়ে একটা দেশ পাল্টে দেয়া যায়।তাই কখনো বিখ্যাত হওয়ার চেষ্টা করতে হয় না--চেষ্টা করতে হয় খাঁটি হওয়ার!!

রাজিব মোস্তাফিজ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ কৌস্তুভ দা !

----------------------------------------------------------------------------
একশজন খাঁটি মানুষ দিয়ে একটা দেশ পাল্টে দেয়া যায়।তাই কখনো বিখ্যাত হওয়ার চেষ্টা করতে হয় না--চেষ্টা করতে হয় খাঁটি হওয়ার!!

কৌস্তুভ এর ছবি

হাসি

কৌস্তুভ এর ছবি

তৌফিক, আপনার বিশদ মন্তব্য পেয়ে ভাল লাগল। আমিও বলি, আপনার মাথায় যা আছে তা লিখে ফেলুন...

কল্যাণF এর ছবি

কৌস্তভদা আপনার লেখাটার জন্য ধন্যবাদ। লেখাটা কালকে পড়েছি কিন্তু এত মাথা গরম হয়ে গেছিল যে কোন মন্তব্য করা হয়ে ওঠেনি। একটা জিনিশ কিছুতেই বুঝি না শর্মিলা ৩৬ বা ৩৮ জনের ইন্টারভিয়্যু নিয়ে কিভাবে এটাকে স্ট্যাব্লিশ করতে চায়!!! আমিতো ছোটবেলা থেকে আমার আশে পাশে যত মানুষ দেখেছি তাদের সবার পরিবারের কেউ না কেউ ৭১ এ মারা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে পুরো পরিবারই শেষ। তাহলে আমিওতো এখান থেকে একটা সংখ্যা দাড়া করিয়ে দিতে পারি যেটা নিঃসন্দেহে ৩০ লক্ষের বেশি হবে। এই মহিলাকে পাকিস্তানী জেনারেলদের সাথে গ্রুপে োদানো না হলে তার গরম কমবে না মাথা ঠান্ডা হবে না। রেগে টং

মন মাঝি এর ছবি

চমৎকার লেখা। অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে আপনি আরেকটু প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলে বোধহয় আরো ভাল হতো। তারপরও দারুন হয়েছে।

****************************************

কৌস্তুভ এর ছবি

সে তো বটেই...

অতিথি লেখক এর ছবি

হয়তো আমার মন্তব্যটা অপ্রাসংগিক মনে হতে পারে। ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

গত অক্টোবরে খোমাখাতায় অক্সফোর্ডের ফাকিস্তান সোসাইটির একটা ডিসকাশনের আমন্ত্রন পেয়েছিলাম এক বাংলাদেশীর কাছ থেকে। বিষয় [url] ‘The Bangladesh War Crimes Tribunal and International Law in South Asia’[/url]। বক্তারা ছিলো -

Main Speaker: John Cammegh (currently instructed along with Steven Kay QC and Toby Cadman of 9BRi to act for the five members of Jamaat e Islami currently awaiting trial in Dhaka for their alleged involvement in the 1971 War of Liberation from Pakistan)

Panellists:
Dr. Sarmila Bose (Fellow Department of Politics & IR, Oxford)
Dr. Faisal Devji (Reader in Modern South Asian History, St. Antony’s College Oxford)
Mr. Anup Surendranath (DPhil Student in Law)

মন্তব্য - নিষ্প্রয়োজন।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।