নীড়পাতা | সন্দেশ | গ্যালারী | আড্ডাঘর

Primary Links:

‹ পুরোনো ব্লগসব ব্লগনতুন ব্লগ ›

মা


লিখেছেন লুৎফর রহমান রিটন (তারিখ: সোম, ২০০৮-০৫-১২ ০৯:২৩)
ক্যাটেগরী:

‘তারে জামিন পার’ ছবিটা আমাকে দেখতে বলেছিলেন সানজিদা আখতার, ঢাকা কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান। চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে ভাষা আমার কাছে বিষয় নয়। হিন্দি ফিল্ম দেখি নিয়মিতই। বাংলার পাশাপাশি হিন্দি ফিল্ম এবং গানের বিশাল কালেকশন ছিলো আমার। কানাডায় প্রবাস জীবন বেছে নেবার পরও অভ্যেসটা পাল্টায় নি। প্রচুর হিন্দি গান শুনি, হিন্দি ছবি দেখি। বিশেষ করে যে ছবিতে মা-কে নিয়ে গান থাকে সেটা তো আমি দেখবোই। সানজিদা আপা ক’মাস আগে আমি যখন ঢাকায় ছিলাম, তখন দেখতে বলেছিলেন ‘তারে জামিন পার’ ছবিটা। আমার জন্যে নিয়েও এসেছিলেন, কিন্তু এতো ব্যস্ত ছিলাম যে দেখার সুযোগ হয়নি। কানাডায় আসার পর আমার স্ত্রী শার্লি এবং কন্যা নদীও বললো ছবিটা দেখতে। যখন জানলাম এই ছবিতে মা-কে নিয়ে অসাধারণ একটা গান আছে, যোগাড় করে ফেললাম। কতোবার যে শোনা হলো গানটা! শংকর নামের একজন গায়ক কী অসাধারণ মমতায় গেয়েছেন-অভিমানী বালকের আকুল করা কথামালা-তার মাকে উদ্দেশ্য করে। বালকটিকে জোর করে পাঠানো হয়েছে অনেক দূরের এক আবাসিক ইশকুলে। ওখানে মা-কে ছাড়া অসহায় বালকটির চোখের জলে ভেসে যাওয়া দিবস-রজনীর কাব্য-চিত্র এই গানটি। মন খারাপ করা এক সন্ধ্যায় বালকটির মা বাবা আর পিঠেপিঠি অগ্রজ তাকে স্টুডেন্ট হোস্টেলে রেখে চলে যাচ্ছে, ওদের বহনকারী চলমান ট্যাক্সির পেছনে অসহায় বালকটির অশ্রুসজল অবয়ব ক্রমশঃ ক্ষুদ্র এবং ঝাপসা হয়ে আসে। এরপর অনেক ছোট ছোট দৃশ্যের নিপূণ গ্রন্থণা, সহসা আলো নিভে যাওয়া রাতে বলকেরর প্রথম শয়ন অজানা অচেনা একঝাঁক নতুন ছেলের সঙ্গে, ব্যাকগ্রাউন্ডে হূদয় ছেঁড়া গানটি- ‘তুই তো সবই জানিস তাই না মা? অন্ধকারে আমার ভয় লাগে, হারিয়ে যাবার আশঙ্কায় আমাকে বেশিদূর যেতে দিতি না, তুইই তো ছিলি আমার সবচে বড় সাহস, তোকে ছাড়া এই জীবন আমি বইবো কেমন করে? তুই তো সবই জানিস তাই না মা? আমি কি এতোটাই মন্দ ছেলে যে আমাকে তুই একলা ফেলে গেলি? এতোটা দূরে আমাকে ঠেলে দিস না যেখান থেকে তোকে আমি স্মৃতিতেও আনতে পারবো নারে মা....!’
খুবই শাদামাটা কিন্তু হূদয়ে মোচড় লাগানো কথা আর সুরে গানটি শুনে দর্শকও অশ্রুসজল হয়ে উঠবে বালকটির সঙ্গে। বিশেষ করে প্রবাসী যারা, তাদের তো মনে হবে এটা তারই গান। এই গানের কোথাও না কোথাও মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকা সন্তান নিজেকে আবিস্কার করবে অথবা নিজেকে প্রতিস্থাপন করবে ছোট্ট সেই অভিমানী বালকটির জায়গায়।
এবার মা দিবসের একান্ত অনানুষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতায় এই গানটিই শুনছিলাম।
ছোট্ট একটি শব্দ-মা। কিন্তু কি অসম্ভব শক্তিশালী! মা-কে নিয়ে গল্পের কি কোনো শেষ আছে ?
২ .
কোন কিছু বানাতে ঈশ্বরের সময় লাগে কয়েক মুহূর্ত। ঈশ্বর যদি বলেন হয়ে যাও, তো হয়ে গেলো। কিন্তু একটি জিনিস বানাতে দীর্ঘ সময় নিলেন ঈশ্বর । টানা ছয়দিন ধরে ঈশ্বরকে কাজ করতে দেখে একজন দেবদূত অবাক বিষ্ময়ে প্রশ্ন করলেন- ঈশ্বর,একটিমাত্র জিনিস বানাতে আপনি এতো সময় নিচ্ছেন!জিনিসটা কি?
ঈশ্বর বললেন- আমি একজন মা বানাচ্ছি। একাই করতে হবে তাঁকে দশজনের কাজ। শুধুমাত্র চা আর উচ্ছিষ্ট খেয়েই বেঁচে থাকতে পারবেন তিনি। তিন তিনটি শিশু একসঙ্গে থাকতে পারবে তাঁর কোলে, এবং ছয় জোড়া হাত থাকবে তাঁর।
- বলছেন কী? ছয় জোড়া হাত!?
- তিন জোড়া চোখও থাকবে তাঁর।
- তিন জোড়া চোখ!?
- হ্যাঁ, তিন জোড়া চোখ। সন্তানরা যখন কাছে থাকবে তাঁর, তখন এক জোড়া চোখ দিয়ে তিনি তাদের দেখে রাখবেন। সন্তানরা দূরে চলে গেলে দ্বিতীয় জোড়া চোখ দিয়ে তাদের দেখে তো রাখবেনই, সেই সঙ্গে ওই দ্বিতীয় জোড়া চোখ দিয়েই তিনি অবলীলায় জেনে যাবেন তাঁর সন্তান কী গোপন করছে কিংবা কী গোপন করতে চাইছে।
- আর তৃতীয় জোড়া চোখ দিয়ে কি করবেন তিনি?
- ওই তৃতীয় জোড়া চোখ দিয়ে সন্তানদের চোখের দিকে না তাকিয়েই এবং কোনো কথা না বলেই তাদের জানিয়ে দিতে পারবেন যে তিনি তাদের কতোটা ভালোবাসেন।
ছয়দিন ধরে আপনি নাগাড়ে কাজ করছেন ঈশ্বর, আজ আপনার খানিকটা বিশ্রাম নেয়া দরকার, বললেন দেবদূত।
জবাবে ঈশ্বর বললেন- এখন তো বিশ্রামের প্রশ্নই ওঠে না। আমি আমার সবচে প্রিয় জিনিসটি নির্মাণের প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। অসুস্থ হলে তিনি নিজেই নিজেকে সারিয়ে তুলবেন । আর মাত্র এক পাউন্ড রুটি দিয়ে ছয়সদস্যের একটি পরিবারকে খাইয়ে-দাইয়ে অনায়াসে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে পারবেন তিনি।
মহাবিষ্মিত দেবদূত ঈশ্বরের অনুমতি সাপেক্ষে এবার স্পর্শ করলেন ‘মা’ নামের বিষ্ময়কর নারীকে- হায় ঈশ্বর আপনি তাঁকে এতো নরম করে তৈরি করেছেন !?
তোমার কোনো ধারণাই নেই এই নরম মা প্রয়োজনে কতোটা কঠিন হতে পারবেন। তুমি ভাবতেই পারবে না তাঁর পক্ষে কী কী অসম্ভব কর্ম সম্পাদন করা সম্ভব। ধৈর্যশক্তিতে তিনি হবেন তুলনারহিত আর ধারণক্ষমতায় সমূদ্রও হবে তাঁর তুলনায় অতিশয় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র।
- চিন্তাশক্তি থাকবে তাঁর? চিন্তা করতে পারবেন তিনি ?
- শুধু যে চিন্তা করতে পারবেন তা তো নয়, যুক্তি এবং পরামর্শ দেয়ার ক্ষেত্রেও তিনি হবেন অনন্যা।
ঈশ্বরের অনুমতি সাপেক্ষে দেবদূত এবার স্পর্শ করলেন ‘মা’ নামের বিষ্ময়কর নারীর কপোল- কিন্তু এখানটায় বিন্দু বিন্দু জল কেনো ঈশ্বর?
ঈশ্বর বললেন- ওটা জল নয়, অশ্রু।
- অশ্রু? অশ্রু দিয়ে কী হবে?
মৃদু হেসে ঈশ্বর বললেন- এই অশ্রুই হচ্ছে তাঁর সমস্ত আনন্দ-বেদনা-দুঃখ-কষ্ট-হতাশা-গৌরব-
ঘৃণা-মমতা-ভালোবাসা আর একাকিত্ব প্রকাশের মাধ্যম।
এই হচ্ছে মা।
৩ .
কতো গল্প মাকে নিয়ে! মাকে নিয়ে কতো কতো কাহিনী-চলচ্চিত্র, কতো ছড়া-কবিতা, কতো গান-কতো ভাষায়!
মাকে নিয়ে লেখা রুশ লেখক ইভান তুর্গিয়েনেফ (নামটা সঠিক বলছি তো?)-এর অসাধারণ গল্পটির কথা মনে পড়ছে।
একটি কিশোর তার মাকে খুব ভালোবাসে। পৃথিবীতে তার চোখে সবচে সুন্দর হচ্ছে তার মা। সবচে রূপসী হচ্ছে তার মা। মাকে জড়িয়ে ধরে কিশোর ছেলেটি বলে-মাগো,তোমার জন্যে আমি সব পারি। মা বলেন-পাগল ছেলে!
কিশোরটি একদিন তরুণ হলো। তরুণটির সঙ্গে একদিন দেখা হলো ঝকঝকে এক তরুণীর। অনিন্দ্যসুন্দর সেই তরুণীর প্রেমে পড়লো সে।
তরুণীর সামনে হাঁটু গেড়ে বসলো সেই তরুণ। তারপর নিবেদন করলো তার প্রেম-তোমার জন্যে আমি সব পারি। তুমি চাইলে পৃথিবীর সবকিছু আমি এনে দিতে পারি তোমার জন্যে, সব কিছু।
তরুণী জিজ্ঞেস করলো- সব? সব কিছু?
-হ্যাঁ, সবকিছু। তুমি চাইলে পৃথিবীতে এমন কিছু নেই যা আমি এনে দিতে পারবো না।
-তাহলে যাও, তোমার মায়ের হূদপিন্ডটা নিয়ে এসো আমার জন্যে।
ছুটতে ছুটতে তরুণটি গেলো তার মায়ের কাছে। মাকে হত্যা করে মায়ের হূদপিন্ডটা ছিঁড়ে নিয়ে ঝটিতি সে ছুট লাগালো সেই তরুণীর বাড়ির দিকে।
তরুণীর বাড়িতে ঢুকতে যাবার মুখে তাড়াহুড়োয় দরোজায় ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়লো তরুণটি। মায়ের হূদপিন্ডটা সে সময় বলে উঠলো- খোকা তোর লাগে নি তো?
এই হচ্ছে মা।
৪ .
মুক্তিযুদ্ধের অনন্য শহীদ আজাদের মাকে নিয়ে নিকট অতীতে আনিসুল হক লিখেছেন হূদয় ছোঁয়া উপন্যাস ‘মা’। লেখক-গবেষক আফসান চৌধুরীর এক সাক্ষাৎকারে জেনেছি অনন্যসাধারণ এক মায়ের কথা।
একাত্তরের উত্তাল দিনে ছেলেকে কিছুতেই যুদ্ধে যেতে দেবে না কুষ্টিয়ার মোহিনী সুগার মিলের এক মা। কিন্তু ছেলে যাবেই। কিছুতেই ছেলেকে আটকানো গেলো না। যাবার আগে মাকে আদর করে প্রবোধ দিয়েছে ছেলে-‘‘ভয় পেওনা মাগো। আমি চলে গেলে সাড়ে সাত কোটি বাঙালি আছে, তোমাকে মা বলে ডাকবে। শেখ মুজিব এসে তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে।’’
সেই ছেলেকে ধরেছে পাকিস্তান আর্মি। অতঃপর ভয়াবহ নির্যাতন চলেছে ছেলেটির ওপর। এক পর্যায়ে মানুষরূপী জানোয়ারগুলো কেটে ফেলেছে তার গলা। তারপর তার মাথাটা পুঁতেছে সুগার মিলে আর ধড়টা পুঁতেছে রেলস্টেশনে।
এরপর এলো স্বাধীনতা। স্বাধীনতার পর ছেলেটির মা ছুটোছুটি করেছে সবার কাছে-বাবারা, আমি আমার শহীদ ছেলের ধড় ও মাথাকে এক করে কবর দিতে চাই। কিন্তু সবাই বলেছে-এটা সরকারী জায়গা, এখানে খোঁড়াখুঁড়ি করা যাবে না।
সেই মা এখন উন্মাদিনী হয়ে গেছে। ভিখিড়ি হয়ে গেছে। সেই মা এখন প্রতিদিন একবার ছেলের ধড় যেখানে-সেখানে যায়,একবার মাথা যেখানে-সেখানে যায়। বারবার যায়। প্রতিদিন যায়। পাগলিনী সেই মায়ের কথা লিখতে গিয়ে আমার চোখ ভিজে আসছে। চোখ ভেসে যাচ্ছে। আজ মা দিবসে ‘‘সাড়ে সাত কোটি বাঙালি’’র কোনো একজনও কি তাঁকে মা বলে ডাকবে? ‘‘শেখ মুজিবের মতো কেউ’’ কি এসে তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে দেবে?
৫ .
আজ মা দিবসে আমার নিজের মা-সহ জগতের সকল মাকে আমার বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা। আর আগামীতে যারা মা হতে চলেছে, ভালোবাসা সেই নতুন মায়েদেরও। এবং আজকের এই বিশেষ দিনটিতে যারা মা হবে, তাদের জন্যেও ভালোবাসা- মাগো তোরা ভালো থাকিস গো মা,ভালো থাকিস।


গড় রেটিং
(১৫ ভোট)
লিখেছেন লুৎফর রহমান রিটন (তারিখ: সোম, ২০০৮-০৫-১২ ০৯:২৩)
উদ্ধৃতি | লুৎফর রহমান রিটন এর ব্লগ | ৯২টি মন্তব্য | ৪৮৫বার পঠিত

Views or opinions expressed in this post solely belong to the writer, লুৎফর রহমান রিটন. Sachalayatan.com can not be held responsible.

মুহম্মদ জুবায়ের এর ছবি
১ | মুহম্মদ জুবায়ের | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ০৯:৪৬

অসামান্য লেখাটির জন্যে অভিবাদন।


লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি
১.১ | লুৎফর রহমান রিটন | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১০:৪২

ধন্যবাদ।


লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি
২ | লুৎফর রহমান রিটন | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ০৯:৫৩

আমার অসুস্থতার কথা মুহম্মদ জুবায়েরের মাধ্যমে জেনে তারেক, মাহবুব লীলেন, সুমন চৌধুরী, আনোয়ার সাদাত শিমূল, হিমু, দ্রোহী, সন্যাসী, বিপ্লব রহমান, ধূসর গোধূলীসহ অনেকেই আমার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। কিডনীর মহামূল্যবান পাথরের যন্ত্রণা থেকে সম্প্রতি নিষ্কৃতি পেয়েছি। আপনাদের প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা। আমার বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্তিতে যাঁরা অভিনন্দন জানিয়েছিলেন এই সুযোগে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তাঁদের প্রতিও।


আকতার আহমেদ এর ছবি
৩ | আকতার আহমেদ | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১০:০১

"ছোটদের কাগজ" এর শেষ সংখ্যাটা ছিল মাকে নিয়ে । কী অদ্ভুত মমতা আর কষ্টে পূর্ণ ছিল সম্পাদকীয়'র প্রতিটা অক্ষর . মাকে নিয়ে লেখা "ইভান তুর্গিয়েনেফ" এর গল্পটা পড়ে এত বছর পর আবারও সেই চিনচিনে ব্যথাটা টের পেলাম বুকের ভেতর !
ভালো থাকবেন রিটন ভাই


লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি
৩.১ | লুৎফর রহমান রিটন | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১১:০২

কেমন আছো তুমি আকতার?


আরিফ জেবতিক এর ছবি
৪ | আরিফ জেবতিক | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১০:১৫

দীর্ঘশ্বাস সেই কুষ্টিয়ার মায়ের জন্য ।

----------------------------
কালের ইতিহাসের পাতা
সবাইকে কি দেন বিধাতা?
আমি লিখি সত্য যা তা,
রাজার ভয়ে গীত ভনি না।


লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি
৪.১ | লুৎফর রহমান রিটন | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১০:৪৫

দীর্ঘশ্বাস আমারও....


শ্যাজা এর ছবি
৫ | শ্যাজা | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১০:৩৫

টুপি খুললাম আপনার জন্যে রিটন।

...চোখ বুজে রইলাম খানিক সেই মায়ের কথা পড়ে... অশ্রু যেন বয়ে না যায়...


---------
অনেক সময় নীরবতা
বলে দেয় অনেক কথা। (সুইস প্রবাদ)


লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি
৫.১ | লুৎফর রহমান রিটন | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১০:৫৪

উদ্ধৃতি
...চোখ বুজে রইলাম খানিক সেই মায়ের কথা পড়ে... অশ্রু যেন বয়ে না যায়...

কিন্তু অশ্রু যে বয়ে যায়......শ্যাজা...


১০

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি
৬ | নুরুজ্জামান মানিক | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১০:৩৯

আরে রিটন ভাই নাকি? ভুল দেখছি না তো ? সচলে ত' আপনাকে পাওয়াই যায় না ।


১১

লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি
৬.১ | লুৎফর রহমান রিটন | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১১:০৫

না ভুল নয়। আমি নিয়মিত পাঠক সচলায়তনের।


১২

সুজন চৌধুরী এর ছবি
৭ | সুজন চৌধুরী | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১০:৪৯

লেখা পড়ে চোখে পানি চলে আসলো। মাকে দেখিনা ৩বছর!
আপনি এখন কেমন আছেন রিটন ভাই?


লাল গানে নীল সুর, হাসি হাসি গন্ধ


১৩

লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি
৭.১ | লুৎফর রহমান রিটন | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১১:০৯

কেমন আছো সুজন তুমি? তোমার মা?


১৪

সুজন চৌধুরী এর ছবি
৭.১.১ | সুজন চৌধুরী | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১১:২০

মা যেমনই থাকুক,আমাকে সব সময় বলে ভালো আছি আর আমি যেন চিন্তা নাকরি।
আমি আছি ভালো।
আপনি আবার লিখছেন দেখে খুব ভালো লাগছে।


লাল গানে নীল সুর, হাসি হাসি গন্ধ


১৫

খেকশিয়াল এর ছবি
৮ | খেকশিয়াল | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১১:০৩

এত সুন্দর একটা লেখার জন্য রিটন ভাইকে লাল সালাম । কালকে একটা মুভি দেখলাম, awake নাম, দেখে মনটা এমনিতেই একটু খারাপ । আমি ঈশ্বর বিশ্বাস করি না, তাকে দেখিনি, দেখতেও চাই না । কিন্তু আমি মাকে দেখেছি, আমি মা বিশ্বাস করি, তাকে সবসময় দেখতে চাইব ।

-----------------------------------------
রাজামশাই বলে উঠলেন, 'পক্ষীরাজ যদি হবে, তা হলে ন্যাজ নেই কেন?'


১৬

লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি
৯ | লুৎফর রহমান রিটন | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১১:১৪

আপনার দেখা মুভিটা দেখিনি, দেখবো যোগাড় করতে পারলে।


১৭

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি
১০ | এস এম মাহবুব মুর্শেদ | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১১:১৬

অসাধারন লেখাটির জন্য রিটন ভাইকে শ্রদ্ধা। আপনার পাথর-মুক্তি ঘটেছে জেনে খুব ভাল লাগল।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির


১৮

লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি
১০.১ | লুৎফর রহমান রিটন | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১১:২০

ধন্যবাদ মাহবুব মুর্শেদ।


১৯

তারেক এর ছবি
১১ | তারেক | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১১:৪১

মনের সব দরজার অলিগলি নাড়িয়ে দিয়ে গেলো...
অনেকদিন পর আপনাকে দেখে খুব ভালো লাগছে। আর মহামূল্যবান পাথরমুক্তির অভিনন্দন চোখ টিপি
_________________________________
ভরসা থাকুক টেলিগ্রাফের তারে বসা ফিঙের ল্যাজে


২০

লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি
১১.১ | লুৎফর রহমান রিটন | মঙ্গল, ২০০৮-০৫-১৩ ০৭:০৬

ধন্যবাদ আপনাকে।


২১

রায়হান আবীর এর ছবি
১২ | রায়হান আবীর | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১১:৪২

মাকে নিয়ে লেখার শখ আমার বহুদিনের...

---------------------------------
জ্ঞানীরা ভাবলেন খুব নাস্তানাবুদ করে ছাড়া গেছে...আআআহ...কি আরাম। বিশাল মাঠের একটি তৃণের সাথে লড়াই করে জিতে গেলেন।

ছোট্ট তৃণের জন্য অপরিসীম ঘৃণা।


২২

লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি
১২.১ | লুৎফর রহমান রিটন | মঙ্গল, ২০০৮-০৫-১৩ ০৭:০৮

তো লিখে ফেলুন।


২৩

নজরুল ইসলাম এর ছবি
১৩ | নজরুল ইসলাম | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১২:২৩

লেখাটি অসম্ভব সুন্দর... তার জন্য ধন্যবাদের কিছু নেই... আপনি বলে কথা!
তবে ভালো লাগছে জেনে যে আপনার রোগমুক্তি ঘটেছে। আর আরও ভালো লাগছে যে এখন থেকে আপনার লেখা মাঝে মধ্যে আশা করতে পারবো। ______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল


২৪

লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি
১৩.১ | লুৎফর রহমান রিটন | মঙ্গল, ২০০৮-০৫-১৩ ০৭:১২

ধন্যবাদ নজরুল।


২৫

অতিথি লেখক এর ছবি
১৪ | অতিথি লেখক | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১২:৩১

অদ্ভুত সুন্দর!!মাকে নিয়ে এরকম একটা লিখা.....অনেক ভালো লাগলো।
-নিরিবিলি


২৬

লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি
১৪.১ | লুৎফর রহমান রিটন | মঙ্গল, ২০০৮-০৫-১৩ ০৭:১৩

ধন্যবাদ।


২৭

কনফুসিয়াস এর ছবি
১৫ | কনফুসিয়াস | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১৩:০৯

সেইরকম একটা কামব্যাক পোস্ট হইছে।
বিপ্লব।
-----------------------------------
... করি বাংলায় চিৎকার ...


২৮

লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি
১৫.১ | লুৎফর রহমান রিটন | মঙ্গল, ২০০৮-০৫-১৩ ০৭:১৬

ধন্যবাদ। বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক।


২৯

সৌরভ এর ছবি
১৬ | সৌরভ | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১৩:২০

পুরোটা পড়তে পারি নি, তার আগেই চোখ ঝাপসা হয়ে গেছে।


৩০

লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি
১৬.১ | লুৎফর রহমান রিটন | মঙ্গল, ২০০৮-০৫-১৩ ০৭:২৪

আমার লেখাটি আপনাকে স্পর্শ করতে পেরেছে জেনে ভালো লাগলো।


৩১

নজমুল আলবাব এর ছবি
১৭ | নজমুল আলবাব | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১৩:৫২

আমার চোথটাও ঝাপসা হইছে।

ভুল সময়ের মর্মাহত বাউল


৩২

লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি
১৭.১ | লুৎফর রহমান রিটন | মঙ্গল, ২০০৮-০৫-১৩ ০৭:২৭

আমার লেখাটি আপনাকেও স্পর্শ করতে পেরেছে !


৩৩

হিমু এর ছবি
১৮ | হিমু | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১৪:২৫

আপনার প্রস্তরযুগের অবসান ঘটেছে জেনে ভালো লাগলো। তবে লেখাটা পড়ে মন খারাপ হয়েছে। আপনার উচিত দারুণ কিছু ছড়ার গোলা মেরে আমাদের মন আবার ভালো করে দেয়া।


হাঁটুপানির জলদস্যু


৩৪

লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি
১৮.১ | লুৎফর রহমান রিটন | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ২১:৩৫

আপনার উচিত দারুণ কিছু ছড়ার গোলা মেরে আমাদের মন আবার ভালো করে দেয়া।

উদ্ধৃতি

ধন্যবাদ হিমু।
সচলায়তন এখন আকতার, মৃদুল আর সন্ন্যাসীর মতো দুর্ধর্ষ ছড়ালেখকদের আস্তানা। আমার ছড়ার গোলা-গুলি এদের সঙ্গে পেরে উঠবে না।


৩৫

বজলুর রহমান এর ছবি
১৯ | বজলুর রহমান (যাচাই করা হয়নি) | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১৪:৩৩

তুরগিয়েনিয়েফের গল্পটা জানা থাকলেও আবার মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। 'তারে জামিন পার' ছবিটা আমাকে যেভাবে আন্দোলিত করেছে, রিটনের লেখাও প্রায় ততটুকু হৃদয়গ্রাহী।
আমার দুঃখ মা'র সংগে আমার তেমন কোন ইমোশনাল বন্ড বেশীদিন থাকে নি; স্বল্প শিক্ষা সত্ত্বেও তাঁর মেধা আমাকে সব সময় বিস্মিত করেছে। তিনি অসাধারণ সুন্দরী ছিলেন, ছোট বেলায় আমার অসুস্থতার সময় রাত জেগে তাঁর সেবা মনে পড়ে। কিন্তু একটা ফাঁক থেকে গেছে এই কারণে যে, তিনি তাঁর একমাত্র ছেলেটিকে যত যত্ন করেছেন, ছয় কন্যাকে তা দেন নি। আমার কাছে এটি সব সময় অন্যায় মনে হয়েছে। একটু বয়স হলে আমি আমার কালো, বেঁটে, মোটা, সংসারে উদাসীন বাবার প্রতিই বেশি ঝুঁকে পড়ি।
রিটনের বৃক্ক-পাথরের কথা জানতাম না। এটি আমারও হয়, দুএক বছর পর-পর ঘন্টা কয়েক (কখনো সারারাত) এমন যন্ত্রণায় ভুগতে হয়, তখন কিছুটা উপলব্ধি করি মা-দের কতটুকু প্রসব ব্যথা সইতে হয়। তবে এখন অভ্যাস হয়ে যাওয়াতে দাঁত কিড়মিড় করে চিল্লাতে থাকিঃ "তোমাকে বেরুতেই হবে, হে ক্যালসিয়াম অকজালেট।" আমার স্ত্রী সাথে সারা-রাত জাগলেও এ-রকম উদ্ভট সেন্স অব হিউমার পছন্দ করেনা, "এতো বলি তবু পানি খাও না" বলে রাগ করে কথা বন্ধ করে দেয়।


৩৬

হিমু এর ছবি
১৯.১ | হিমু | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১৪:৪০

প্রিয় বজলুর রহমান,

আপনার ই-মেইল ঠিকানাটি, যদি সমস্যা না থাকে, আমাকে অনুগ্রহ করে জানান। ধন্যবাদ।


হাঁটুপানির জলদস্যু


৩৭

লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি
১৯.২ | লুৎফর রহমান রিটন | মঙ্গল, ২০০৮-০৫-১৩ ০৭:৩৩

উদ্ধৃতি
এখন অভ্যাস হয়ে যাওয়াতে দাঁত কিড়মিড় করে চিল্লাতে থাকিঃ "তোমাকে বেরুতেই হবে, হে ক্যালসিয়াম অকজালেট।"

আপনার অবস্থা দেখছি একদম আমারই মতো !
ভেবে পাইনা কিডনিতে পাথর যাদের, তারা পানি পানে এতো কৃপণ কেনো ?


৩৮

খেকশিয়াল এর ছবি
২০ | খেকশিয়াল | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১৪:৪০

হ্যাঁ একটা লিখে ফেলেন এরকম,
'আজগুবি ডাক্তার হাঁদারাম ঘোষ
চুলকানি হলে বলে মোমবাতি চোষ'
আপনার লেখা আমার প্রিয় ছড়া হাহা

-----------------------------------------
রাজামশাই বলে উঠলেন, 'পক্ষীরাজ যদি হবে, তা হলে ন্যাজ নেই কেন?'


৩৯

লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি
২০.১ | লুৎফর রহমান রিটন | মঙ্গল, ২০০৮-০৫-১৩ ০৭:৪০

সর্বনাশ ! ৮২ সালে প্রকাশিত আমার প্রথম ছড়ার বইটির একটি ছড়া খেকশিয়ালও পড়েছিলো ! হুক্কা হুয়া.......


৪০

খেকশিয়াল এর ছবি
২০.১.১ | খেকশিয়াল | বুধ, ২০০৮-০৫-১৪ ১০:২৯

পড়েছিলাম বইকি, তবে ৮২তে নয় অনেক পড়ে, ওই বইতে আরেকটা ছড়া ছিল ঐটাও আমার প্রিয়, 'আলু কয় বালু রে তুই আমার খালু রে ...' দেঁতো হাসি

-----------------------------------------
রাজামশাই বলে উঠলেন, 'পক্ষীরাজ যদি হবে, তা হলে ন্যাজ নেই কেন?'


৪১

অতিথি লেখক এর ছবি
২১ | অতিথি লেখক | সোম, ২০০৮-০৫-১২ ১৪:৪২

লেখাটা পড়ে খুবই ভালো লাগলো রিটন ভাই।
মূর্তালা রামাত।


৪২

লুৎফর রহমান রিটন এর ছবি
২১.১ | লুৎফর রহমান রিটন | মঙ্গল, ২০০৮-০৫-১৩ ০৭:৪৪

ধন্যবাদ আমার লেখাটি পড়েছেন বলে।


৪৩

অনিন্দিতা এর ছবি
২২ | অনিন্দিতা (যাচ