গল্প প্রচেষ্টা-০৪

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি
লিখেছেন ষষ্ঠ পাণ্ডব (তারিখ: শুক্র, ২৫/০৯/২০০৯ - ৪:২৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

পাঁচ টাকা রিকশা ভাড়ার রাস্তায় চার টাকার পথ আসতেই মনটা উসখুস করতে শুরু করে। অবাধ্য চোখ রাস্তার বামদিকে আভাস খোঁজে। বিন্দুমাত্র আভাস পেলেই, “এই রিকশা, থামেন থামেন। এখানেই নামবো”। আভাস যে সব দিন ঠিক হয় তাওনা। কোন কোন দিন দেখা যায় বোকার মত টার্গেট ভুল করা হয়েছে। তখন এক টাকা রিকশা ভাড়া গচ্চাতো যায়ই সাথে বাকি পথটুকু একা একা ঠেঙ্গিয়ে যেতে হয়। যেদিন আর ভুল হয়না সেদিন বাকি পথটুকুকে বড্ড ...পাঁচ টাকা রিকশা ভাড়ার রাস্তায় চার টাকার পথ আসতেই মনটা উসখুস করতে শুরু করে। অবাধ্য চোখ রাস্তার বামদিকে আভাস খোঁজে। বিন্দুমাত্র আভাস পেলেই, “এই রিকশা, থামেন থামেন। এখানেই নামবো”। আভাস যে সব দিন ঠিক হয় তাওনা। কোন কোন দিন দেখা যায় বোকার মত টার্গেট ভুল করা হয়েছে। তখন এক টাকা রিকশা ভাড়া গচ্চাতো যায়ই সাথে বাকি পথটুকু একা একা ঠেঙ্গিয়ে যেতে হয়। যেদিন আর ভুল হয়না সেদিন বাকি পথটুকুকে বড্ড সংক্ষিপ্ত মনে হয়।

শুঁড় উঁচানো গ্রীণ্ডলেজ ব্যাংকের সাইনবোর্ডওয়ালা অর্ধবৃত্তাকার ভবন পেরিয়ে এস কে রোড ধরে সামনে আগালে ডানদিকে আদালত আর জেলখানা তারপরই পোস্টঅফিস। অত সকালে সরকারী ভবনগুলোর ঘুম ভাঙ্গেনা কিন্তু আমাদের উপায় নেই। আপাত গন্তব্য পোস্টঅফিসের উল্টাদিকে জালাল হাজীর আজদাহা বাড়ির দোতলা। সেখানে গণিতের পণ্ডিত অরুণ মুখার্জ্জির কোচিং। মাধ্যমিকে ছেলে-মেয়ে চারটা বিষয়ে লেটার পেল না ছয়টা বিষয়ে লেটার পেল তাতে আমাদের বাবা-মাদের সম্মান নির্ভর করে। এই ঠুনকো সম্মান বাঁচাতে ভোর ছ’টা বাজতে না বাজতেই ছুটতে হয় গণিতের কোচিং-এ। অরুণ স্যারের সুনাম আর গণিতের সাথে সাথে পদার্থবিজ্ঞান আর রসায়ণটাও এক বেতনেই পড়া যায় বলে এই কোচিং-এ ভিড়ও বেশি।

লম্বা টেবিলের এক মাথা দেয়ালের সাথে ঠেকানো, আরেক মাথায় পণ্ডিত স্বয়ং। টেবিলের দু’ধারে আর তার পেছনে বেঞ্চে লেটার প্রার্থীদের ঠাসাঠাসি করে বসা। পণ্ডিতের ডানদিকে বালিকাকূল আর বামদিকে বালককূল। ভাগ্য ভালো থাকলে টেবিলে বসার সুযোগ পাওয়া যায়, তখন সোজাসুজি সামনে তাকালেই চোখে চোখ। কখনো টেবিলের নিচে পায়ে পায়ে ঠোকাঠুকি হলে একটু বাড়তি শিহরণ।

আটটা বাজার আগেই অরুণ স্যারের কাছ থেকে একছুটে রাস্তার মাথায় রাধাবল্লভ বণিক স্যারের ইংরেজী কোচিং-এ। এই কোচিংটাতে পড়াশোনা কদ্দূর কী হয় তা গবেষণাসাপেক্ষ, তবে ছেলে-মেয়েদের জন্য এটা একটু খোলা হাওয়ায় নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা। স্যার বেশ উদার, অনেক কিছু দেখেও দেখেন না। তাই পায়ে পায়ে ঠোকাঠুকির সাথে কনুইয়ের খোঁচা, খাতা-কলম ধার চাইতে হাতে হাতের ছোঁয়া, পেছন থেকে একটু ঝুঁকে চুলের সুবাস নেয়া সবই চলে। মাঝে মাঝে একটু বাড়াবাড়িও। তবে এই কোচিংটা সপ্তাহে মোটে তিনদিন। সপ্তাহে অন্য তিনদিন বুক কিপিং শেখার জন্য শিবাংশু দাশগুপ্ত স্যারের কোচিং-এ। সেখানে হাওয়া একেবারেই খোলামেলা নয়। ফাইনাল অ্যাকাউন্টিং করার জন্য খাতায় ঘর আঁকতে লম্বা স্কেল লাগে। স্যার সেজন্য টেবিল ভর্তি মোটা মোটা কাঠের চ্যাপ্টা রুলার রেখেছেন। মাঝে মাঝে স্যার রুলার অন্য কাজেও লাগান, তাতে হাওয়া কতটা বদ্ধ বেশ বোঝা যায়। তবে সুবিধাটা হচ্ছে অরুণ স্যারের কোচিং থেকে শিবাংশু স্যারের কোচিং বেশ দূরে। এতে সুযোগ পেলে অনেকটা পথ একসাথে হাঁটা যায়। ডিআইটি মার্কেট, মণ্ডলপাড়া ব্রীজ পার হয়ে ডানে ফায়ার সার্ভিস বাঁয়ে ছোট ভগবানগঞ্জ যাবার রাস্তা ফেলে জমিদার কাচারী রোডের উপর তার কোচিং-এর বাড়ি। রাস্তাটা রিকশা করে যাবারই কথা, তবু কখনো রায়নন্দিনীর করুণা হলে রিকশাওয়ালার উপার্জন কমে, করুণাপ্রার্থীর প্রসাদ মেলে।

ঈদুল আজহা এলেই আর্য্যপুত্রদের জিভ যেমন সুলসুল করত ঈদের পরদিন যবনপুত্রদের বাসায় নিষিদ্ধ মাংস খাবার জন্য, তেমন লক্ষ্মীপূজা এলেই যবনপুত্রদের প্রাণ আইঢাই করত আর্য্যপুত্রদের বাসায় লুচি-পাঁঠার মাংস আর মিষ্টি খাবার জন্য। ধর্মভীরু অভিভাবকদের চোখে এতে রৌরব নরক আর জাহান্নামের বন্দোবস্ত হলেও পুত্রদের কাছে এটাকেই ঠিক ধর্মপালন বলে মনে হত। লক্ষ্মীপূজার পরে যেদিন ইংরেজী কোচিং থাকত সেদিন কোচিং-এ কোন পড়াশোনা হত না। রায়-দাশ-পাল-ঘোষ-সাহা-মুখার্জ্জী বাড়ি থেকে আগত ষ্টার মার্কস প্রার্থী কন্যারা সেদিন মিষ্টি-নাড়ু-মোয়া-লাড্ডু-পিঠা নিয়ে আসত। লোভাতুর হোসেন-ইসলাম-রহমান-হক-হাসানদের কেউ কেউ সেদিন ঈর্ষাতুর হিন্দু বন্ধুদের সামনে দুই রকম প্রসাদ পেত। এ’নিয়ে কোচিং-এর বাইরে এক আধটু হাতাহাতি যে হতনা তা না। তবে এর উলটো প্রসাদ পাবার ঘটনাও হরহামেশা ঘটত বলে এনিয়ে একটু খুঁতখুঁত থাকলেও গোপন প্রতিদ্বন্দ্বীরা নির্বিকার থাকার চেষ্টা করত।

রায়নন্দিনীর বাড়িয়ে দেয়া লক্ষ্মীপূজার খাবারের প্লেটের সাথে তার কনুইয়ের খোঁচাটাও কাম্য ছিল, এমন কি খাবারের চেয়েও বেশি। তবু কিছুই বলা হত না। সবাইতো আর রাজীব আচার্য্য আর মাফিন হকের মত সাহসী না। সমধর্মী কাউকে মনের কথা বলতেই যেখানে দশ বন্ধুর যোগানো সাহস কর্পূরের মত উবে যায় আর এখানে তো ধর্মের অলঙ্ঘনীয় বাধা আছে। বাধাটা টের পেত রায়নন্দিনীও, ভালভাবেই। জানত কাঁচের দেয়ালের ওপার থেকে শুধু চোখের দেখাটাই হয় - ছোঁয়াটা আর হয়ে ওঠেনা। কখনো কখনো ইলেকট্রিসিটি চলে গেলে কোচিং-এর নিকষ অন্ধকার রুমে ফস্‌ করে দেশলাই জ্বালিয়ে মোমবাতি জ্বালানো হত। তখন লিপজেল দেয়া রায়নন্দিনীর ঠোঁটে অথবা চোখের তারায় মোমের শিখার প্রতিফলন জ্বলে উঠত। সেই ছবিটাই মনে চিরস্থায়ী হয়ে আছে।

মাধ্যমিক শেষ হতে চোখের দেখাটার পথটাও বন্ধ হয়ে যায়। তখন কে কোন কলেজে ভর্তি হবে তা নিয়ে দিন-রাতের ভাবনা - তোলারাম কলেজে নাকি বিশ কিলোমিটার দূরের রাজধানীর কোন ডাকসাইটে কলেজে। এরই মধ্যে একদিন খবর আসে সোমা পাল নিখোঁজ। টিটাগড়ের কোন কারখানায় ভাল বেতনে কাজ করা সমধর্মী চাকুরের সাথে মোটা পণে বিয়ে হয়ে গেছে। টিটাগড় সে কোন মুলুক? আমরা শুধু জানি অমোঘ কাঁটাতারের বেড়ার ওপারের অচেনা সে মুলুক। উচ্চ মাধ্যমিকের পড়ার চাপে পিষ্ট হতে হতে শুনি এমন আরো নিখোঁজ সংবাদ। সোমা পালের পর কাকলী ঘোষ, তারপর নন্দিতা সাহা, তারপর বন্যা গোস্বামী - এ’এক অনিঃশেষ তালিকা। বর্ণ-গোত্র মিলিয়ে ভালো পাত্র এই দেশেতো সহজলভ্য না। তাই প্রতি বছর ভালো বর-ভালো ঘরের আশায় কত কন্যাকে কাঁটাতারের বেড়া পার করে দেয়া হয় তার হিসেব কে রাখে? এভাবে কন্যা পার করা সহজ নয়। এর জন্য ট্যাঁকের জোরের সাথে ওপারে জানাশোনাও থাকতে হয়। যেসব অভিভাবক তা করে উঠতে পারেন না তারা হতাশ গলায় বলেন, “মাইয়্যাটার একটা ভালা বিয়া যে ক্যামনে দিমু! জাত-পাত মিলায়া ভালা পোলাই বা পাই কই”!

উচ্চ মাধ্যমিকের পর পুরোনো শহরের পাট একবারে চুকাতে হলে রায়নন্দিনীর খোঁজ রাখা আর সম্ভব হয়না। বছর আটেক পর পুরোনো শহরে স্কুল-বন্ধুদের আড্ডায় গিয়ে লজ্জার মাথা খেয়ে তার খোঁজ নিতে গেলে কেউ কেউ হেসে ওঠে, কেউ শব্দ করে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলার অভিনয় করে। অবশ্যম্ভাবী সত্যটা মনের মাঝে উঁকি দিলেও মুখে আনতে সাহস হয় না। এক সময় কেউ দয়া করে জানায় কল্যানী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে দীপা রায় আর ফেরেনি। হয়তো কোন সহপাঠীকে বিয়ে করে থেকে গেছে জব চার্নকের শহরে, অথবা অন্য কোথাও - কে জানে? শুধু এইটুকু জানা সে আর কাঁটাতারের বেড়া ডিঙ্গিয়ে এপারে আসেনি। কেন আসেনি? কেউ ঠিক বলতে পারেনা। হয়তো বিয়েটাই একমাত্র ব্যাপার নয়, হয়তো বিয়েটা এখানে কোন ব্যাপারই না। কে জানে আমাদের ক্লাসেরই মন্টু, যে এখন টাওয়ার মন্টু নামেই বেশি পরিচিত, তার হাতের পিস্তলটা রায়বাবুর চোখের সামনে একবার নেচে উঠেছিল কিনা। তা অমনটা হতেই পারে। সুযোগ-সুবিধা পেলেই কেউ কেউ দুর্বল সম্প্রদায়কে ঠুসতে চেষ্টা করে। ওসব দাঙ্গা নয়, ঠাণ্ডা মাথায় একতরফা খুন-লুট-ধর্ষণ। বিশ বছরে অমন সুযোগ বিশ বার আসে। তার দুয়েকবারের সময় মন্টু তার মহল্লায় বেড়ে ওঠা কন্যার বাবাকে অমন একটু সাবধান করতেই পারে, সেটা মন্টু প্রায়ই করে থাকে।

র‌্যাডক্লিফের বোধহীন ছুরি মানচিত্রের উপর যখন দেশভাগের রেখা টানে তখন এক বৃন্তের দুটি ফুলও বৃন্তচ্যুত হয়ে দু’ভাগ হয়ে পড়ে। ভাগ হয়তো আগেই হয়ে ছিল, পরে শুধু তার নোংরা চেহারাটাও বের হয়ে পড়ে। তারপর থেকে নীরবে অপচয়িত হতে থাকে রক্ত-ঘাম-দীর্ঘশ্বাস, অবিরাম ধারায়। অর্ধ শতাব্দী পার হলেও তার শেষ হয় না। আরো কত শতাব্দী লাগবে তা কে জানে! ধর্ম কি এত বড় জিনিষ যা মানুষকে ছিট্‌কে দিতে পারে তার চেনা জগত থেকে, অথবা মুছে দিতে পারে তার স্বপ্ন, অথবা তাকে করে দিতে উন্মূল-উদ্বাস্তু? এসব হয়তো বড় বড় ব্যাপার তাই আমাদের মাথায় ঢোকেনা। আমরা শুধু দেখি অপ্রেমিক-অবিমৃশ্যকারী নেতার দল নিজেদের স্বার্থের রথে ইতিহাসের চাকাকে জুড়ে দিয়ে আমাদের অবিরাম পিষে ফেলতে। সাঁতরাগাছি-আমতা লাইনের ট্রেনের শব্দে কাকলী ঘোষের কি গোয়ালপাড়ার পেছন দিয়ে চাষাঢ়াগামী লোকাল ট্রেনের ঝিকঝিক মনে পড়ে না? অথবা বন্ধ হয়ে যাওয়া ডানলপের কারখানা ফেরত স্বামীর হতাশ মুখের দিকে চেয়ে নন্দিতা সাহার কি বন্ধ হয়ে যাওয়া ঢাকা ভেজিটেবল অয়েল মিল ফেরত বাবার কথা মনে হয় না? হয়তো হয়, হয়তো সেসব আগের জন্মের কথা বলে মনে হয়।

এখন ইলেকট্রিসিটি গেলে মোমবাতি জ্বালতে হয় না। নিমেষেই জ্বলে ওঠে আইপিএসের বাতি অথবা গর্জে ওঠে জেনারেটর। তবু কখনো কখনো আইপিএস ফেইল করে অথবা তেলের অভাবে জেনারেটর গর্জায়না। তখন দেশলাই জ্বেলে মোমবাতি জ্বালতে হয়। নিকষ অন্ধকার ঘরে মোমবাতির আলো সহসাই জ্বলে ওঠে লিপজেল লাগানো দিশার ঠোঁটে। তখন মোমের আলোয় দিশার চোখের তারা জ্বলে ওঠে দীপা রায়ের চোখের মত।

***************************************************

অণুগল্প প্রচেষ্টা-০১
অণুগল্প প্রচেষ্টা-০২
অণুগল্প প্রচেষ্টা-০৩


মন্তব্য

ফকির লালন এর ছবি

অনেকক্ষন মন খারাপ থাকলো। অসম্ভব রকম একটা সুন্দর লেখা।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

ধন্যবাদ বস, আমার মনতো বহু বৎসর ধরে খারাপ হয়ে আছে।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

আমার কাছে এটা চরিত্রে একটা গল্প বলেই মনে হলো- অণুগল্প না...
---------------------------------------------------------------------------

মধ্যরাতের কী-বোর্ড চালক

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

আয়তন হিসাবে আর চরিত্রের বিস্তারে যদি ক্রমানুসারে সাজাই তাহলে উপন্যাস - বড়গল্প - ছোটগল্প - অণুগল্প এভাবে দাঁড়ায়। সেই হিসাবে এই লেখাটি ছোটগল্পের চরিত্র অর্জন করতে পেরেছে বলে আমার মনে হয়নি।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

রণদীপম বসু এর ছবি

আবর্তনটাকে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুললেন পাণ্ডবদা। সাথে আরো অনেক কিছুই। তবে আমি একে অণুগল্প বলতে নারাজ। তা অণুগল্প নয়, অন্যকিছু। যদি বলেন অন্যকিছু কী ? আমি বলতে পারবো না।

লেখাটা ভালো লেগেছে, এটা হলো এই লেখার সবচাইতে বড় যোগ্যতা।
-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

দাদা, এটাতো গল্প প্রচেষ্টা। ছোট না অণু সেই তর্ক আপনার সাথে নাইবা করলাম। আপনার ভালো লেগেছে তাতেই আমি ধন্য।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ডিআইটি মার্কেটের নাম শুনেই ধরে নিয়েছিলাম ছোটবেলার শহরের গল্প। চাষাঢ়ার লোকাল ট্রেনের কথায় সেটা পোক্ত হলো। স্মৃতিচারণ, পাণ্ডব দ্য সিক্সথ! যদি জিজ্ঞেস করেন কোন অংশটা সবচেয়ে দাগ কাটলো? বলবো, মোমের আলোতে উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে ওঠা রায় নন্দিনীর লিপজেল মাখানো ঠোঁট, চোখ। যতোদিন মোমের আলো চোখের সামনে জ্লে উঠবে, ততোদিন এই দৃশ্যটা মনের দর্পণে প্রতিফলিত হতে থাকবে, একেবারে সেই সেদিনের মতোন।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

স্মৃতিচারণ? তা কিছুটাতো বটেই। আমিতো গল্পকার না তাই স্মৃতির কাছ থেকে কিছু ধার-কর্জতো করতেই হবে। আপনার ভালোলাগার প্রকাশ যেভাবে করলেন তাতে একটু লজ্জাই পেলাম। ধন্যবাদ।

আমার আগেই সন্দেহ ছিল আপনি আমি একই শহরের মানুষ (ছিলাম)। আজ নিঃসন্দেহ হলাম। সচলে এই তালিকাটা মনে হয় এমন হবে,
ধুসর গোধুলী
মাসুদা ভাট্টি (?)
যুথচারী
জুয়েল বিন জহির
ষষ্ঠ পাণ্ডব
.....................



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

মূলত পাঠক এর ছবি

খুব ভালো লাগলো!

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

ধন্যবাদ।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

দময়ন্তী এর ছবি

গল্পটা ভারী ভাল লাগল৷ নিজেদের কোচিনে স্মৃতি মনে পড়ে গেল৷
এটা অণু কেন?
-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

ধন্যবাদ। ফেলে আসা শহরের (বিশেষতঃ ছোট শহরের) স্মৃতিগুলো মনে হয় একই ধাঁচের। আর অণু-ছোট'র বিতর্কে যাবনা। আপনার ভালো লেগেছে তাতেই আমি ধন্য।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

যুধিষ্ঠির এর ছবি

অসাধারণ মায়া-মাখানো বর্ণনা। কোনদিন না যেয়েও জায়গাগুলো, মুখগুলো খুব পরিচিত মনে হয়। রায়নন্দিনীর নাম জানতে জানতে গল্পের অর্ধেকের বেশি শেষ, পরে মনে হলো নাম না জানলেই বা কি হত!

দারুণ লাগলো গল্প।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

গল্পের ড্রাফট পড়ে শোনানোর সময় দিশা বলছিল, "বর্ণনা ভালো হয়েছে, কিন্তু গল্প কম কেন"? আমি কী উত্তর দেবো, গল্পতো আসলে এক বাক্যে বলে ফেলার মত। গল্প ঠিক রেখে শহরের বর্ণনা একটু এদিক-সেদিক করলে মনে হয় অন্য শহরেও ফিট করে যাবে তাই আপনার কাছে পরিচিত ঠেকেছে।

অনুবাদ প্রচেষ্টার খবর কী?



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

সচল জাহিদ এর ছবি

চমৎকার লেখনী, মুগ্ধ হয়ে পড়লাম।

----------------------------------------------------------------------------
জাহিদুল ইসলাম
zahidripon এট gmail ডট কম


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট
কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

ধন্যবাদ রিপন।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

খুব ভালো লাগলো পাণ্ডবদা...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

ধন্যবাদ।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

শোহেইল মতাহির চৌধুরী এর ছবি

গল্প প্রচেষ্টা কথাটা মেনে নিতে রাজি আছি।
কিন্তু গল্প? ...নাহ, একে আমি খসড়া গদ্যই মনে করি। লেখকও হয়তো একমত হবেন।
এই বর্ণনায় স্মৃতির প্রভাব আছে (হুমম, এই শহরকে আমিও চিনি - চাষাড়া, রেললাইন, চাষাড়ার সেই টিলাটা আর একটু মাঠ, চাঁদমারির পাশেই বোধ হয়, শীতলক্ষ্যা আর বন্দর.. বন্ধুদের সাথে ঘুরেছি অনেকবার।

কিন্তু গল্প?
সাধারণ গল্পগুলোতে আমরা কোনো একটি (বা দুটি) চরিত্রের জীবন/ভাবনাকে এক বিন্দু থেকে আরেক বিন্দুতে যেতে দেখি।
সেরকম কিছু না ঘটলেও একটা অনুভবের বিকাশ থাকে।

এই গল্পে বক্তার পরিচয়টাই খোলাসা হয় না। আর অনেক ছোট ছোট চরিত্র মিছিলের মত আসে যায় কিন্তু তাদেরকে ভিড় থেকে আলাদা করে আমাদের চেনা হয় না।

সব কিছুর আয়োজন ছিল। পুরো আবহ, প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। শহরটাকে, সময়টাকে, স্কুল পড়ুয়াদেরকেও আমরা দেখতে পাচ্ছি। তাদের ছোট-খাটো কাজ-কারবারও কানে আসছে। এর বেশি কিছু?

গল্পটা আসি আসি করছে। এখনও কোনো গল্প তৈরি হয়নি।
-----------------------------------------------
সচল থাকুন... ...সচল রাখুন

-----------------------------------------------
মানুষ যদি উভলিঙ্গ প্রাণী হতো, তবে তার কবিতা লেখবার দরকার হতো না

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

শোহেইল ভাই, বিস্তারিত মন্তব্যর জন্য ধন্যবাদ। তবে আপনার মন্তব্য প্রেক্ষিতে আমার মনে কিছু প্রশ্ন জেগেছে, সেগুলো অযথা এখানে আলোচনা না করে আপনাকে মেসেজে জানাচ্ছি।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

অতিথি লেখক এর ছবি

অতীত স্মৃতি সাথে কিছু দুঃখ-কষ্ট, ভালো লাগল।

দলছুট।
===========বন্ধু হব যদি হাত বাড়াও।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

আপনার ভালো লাগায় আমি আনন্দিত।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

ভুতুম এর ছবি

গল্প কি? তবে চমৎকার লাগলো।

---------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

নিশ্চিত না, আপনার ভালো লাগায় আমার ভালো লেগেছে।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

দাদা,
স্মৃতিচারণ হিসেবে খুবই আবহমান ছকের, সত্যিই অনেক সার্বজনীন, এবং সে-কারণেই অনেক বেশি 'রেজোনেটিং'-ও।
আসোলেই অন্য অনেক শহরের অনেক দীপাপ্রার্থীর আবহমান মনখারাপের গল্প এটা। তবে, বিবরণ পূর্ণাঙ্গ সুন্দর লেগেছে, তাই অণু হোক কি পরমাণুই হোক, গল্প হিসেবে বেশ সদর্পেই দাঁড়িয়েছে বলতে হবে। 'প্রচেষ্টা' ব'লে পিছনে হাত বেঁধে না-রাখলেই বা কী?
আর, সমাজ-দর্পণের আরো কিছু প্রাসঙ্গিক এবং জড়িত ব্যাপার বেশ বোনাস বোনাস লাগলো এই ব্যক্তিস্মৃতির পশ্চাদাবহে।
এমনকি, শেষে এসে, 'দিশা(নাম্নী)'র ঠোঁটের আলোতেও দীপা রায়ের ঝলক পেয়ে গিয়ে একরকম দিশা (দিক) খুঁজে পাওয়া পর্যন্তই বেশ গুছানো, গন্তব্যসচেতন আর সংগঠিত মনে হয়েছে।

সর্বৈবে, এক কথায়- খুব সুন্দর। হাসি

___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

বিস্তারিত মন্তব্যর জন্য ধন্যবাদ।

এই লেখার সাথে সম্পর্কবিহীন একটা কথা বলি। শব্দ নিয়ে খেলতে আপনি ভালোবাসেন, এবং অনেকক্ষেত্রেই চমৎকার কারিকুরী দেখাতে পারেন, যেমন এই মন্তব্যটিতে। আমার জানার সীমায় এডওয়ার্ড লিয়ার, সুকুমার রায়, শিব্রাম চকরবরতী মায় গুরুদেব পর্যন্ত এই খেলা খেলে আমাদের মুগ্ধ করেছেন। আপনিও এই খেলা খেলুন, সফলভাবেই খেলুন, শুধু খেয়াল রাখবেন খেলার ফাঁদে ভাব যেন আম-পাঠকের কাছে দুর্বোধ্য হয়ে না যায়।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

জ্বি, আমি যখন বলি, একটু বেশিই বলি দাদা। চোখ টিপি

ঠিক আছে। খেয়াল রাখবো। কমপ্লিমেন্ট আর ওয়ার্নিং দু'টোই নিলাম খুশিমনে।
ধন্যবাদ।

ভালো থাকেন পাণ্ডবদা'।

___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

শাহেনশাহ সিমন এর ছবি

আজকে আবারো পড়লাম। আবারো দীর্ঘশ্বাস, বুকে মোচড়... সবকিছু পাল্টে যাবে — এটাই ভবিতব্য!

_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

সিমন, সবকিছু পালটে যাবার ভবিতব্যের কথা আমরা সবাই জানি, চাই বা না চাই মানি। কিন্তু তার জন্য এই বয়সেই (আমার নয়, আপনার) এই লম্বা লম্বা শ্বাস ফেলার দরকার নেই। এই মুহূর্তের সুযোগ কাজে লাগান, বুকে তখন অন্য রকম মোচড় দেবে।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

স্নিগ্ধা এর ছবি

গল্পটা পড়েছি সেই তখনই, কিন্তু কী কারণে যেন তখুনি আর মন্তব্য করা হয় নি - ভালো লেগেছে, সেটা জানানোই উদ্দেশ্য ছিলো হাসি

চলুন, আমরা একটা বিতর্ক আরম্ভ করি - 'অণুগল্প! সে কী? (সেকি! ও হতে পারে)' এই থীম নিয়ে। তবে, আগেই বলে দিচ্ছি কোন তথ্যনির্ভর যুক্তি টুক্তি দিতে পারবো না, এবং রেগে গেলে বকাবকি করতে দিতে হবে, এই শর্তে আমি অংশগ্রহণ করতে চাই দেঁতো হাসি

যুধিষ্ঠির এর ছবি

আমিও চাই।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

ঠাকমা আর ধর্ম্মপুত্র উভয়কেঃ
যারা পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া লাগাতে চায় তাদের সাথে নেটে ঝগড়া করে আমার পোষাবে না। মাঘ মাস (পড়ুন ডিসেম্বর) আসুক, আপনারাও হস্তিনাপুরে আসুন, তারপর দেখা যাবে গলার রগ ফুলিয়ে কে কত ঝগড়া করতে পারে। তখন অণুগল্প তো অণুগল্প, উপন্যাসের পিতৃনামশুদ্ধ ভুলিয়ে দেব।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

আহির ভৈরব এর ছবি

লেখাটা খুব ভালো লাগলো। রেশটা রয়ে গেল অনেক্ক্ষণ।
-----------------------------------------------------
আর কিছু না চাই
যেন আকাশখানা পাই
আর পালিয়ে যাবার মাঠ।

-----------------------------------------------------
আর কিছু না চাই
যেন আকাশখানা পাই
আর পালিয়ে যাবার মাঠ।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

ধন্যবাদ।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

বেনামী পত্র এর ছবি

অসম্ভব সুন্দর একটা লিখা...অসম্ভব সুন্দর...পড়ে মনটা খারাপ হয়ে গেল মন খারাপ

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।