ফেরা - ০৭

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি
লিখেছেন ত্রিমাত্রিক কবি (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৫/০১/২০১২ - ১০:২৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১১
আগুন

মাথার ভেতরে এক অদ্ভুত শূন্যতা অনুভব করে। চট করে কিছু মনে পড়ে না। কোথায় আছে কেন আছে বুঝে উঠতে বেশ সময় লাগে। চোখের পাতা খুলতেও কষ্ট হচ্ছে ওর। নিজের শরীরের ওজনও যেন অনুভব করতে পারছে। ধীরে ধীরে সব মনে পড়ে আবার। চোখ খোলে। কিন্তু কিচ্ছু দেখতে পায় না। শুধু নিকষ কাল, একেবারে অন্ধকার, আলোর ছিটেফোটাও নেই কোথাও। প্রচণ্ড ভয়ে আত্না শুকিয়ে আসে। ওরা কি ওকে অন্ধ করে দিয়েছে তাহলে?

উঠে বসার চেষ্টা করে কামালি। কিন্তু উঠতে পারে না। মনে নানা রকম চিন্তা এসে ভর করে ওর। একবার মনে হয় মারাই গেছে বোধহয়। মৃত্যু তাহলে এরকম? এরকম অবস্থায় কতদিন কাটাতে হবে? সামান্য কিছু সময়েই তো দম বন্ধ হয়ে আসছে। এভাবে কতদিন কাটাতে হবে? হাত পা নাড়ানোর মত শক্তিও নেই। প্রচণ্ড পিপাসা পাচ্ছে শুধু, গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে, চিৎকার করে পানি চাইতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু গলা দিয়ে একটা শব্দও বের হচ্ছে না। আবার মনে হয়, মারাই গেছে তাহলে? মারা যাওয়া তাহলে খুব একটা খারাপ না। কষ্টকর তেমন কোন অনুভূতি তো নেই। শুধু অদ্ভুত এক অন্ধকার, এত অন্ধকার ও জীবনেও দেখেনি। কিন্তু এভাবেই থাকতে হবে? কেউ এক গ্লাস পানি এসে দিয়ে যাবে না? কিন্তু কেন মারা গেল ও? কিসের জন্যে ওরা ওকে এখানে নিয়ে আসল? ওকে নিয়ে ওরা কী করেছে আসলে? প্রফেসর বিটলার এখন কোথায়? এরকম হাজার প্রশ্ন মাথায় ভীর করে।

মনে পড়ে হিম শীতল সেই আঙ্গুলের কথা। কোন মানুষের আঙ্গুল এত শীতল হতে পারে? সেটাও সহ্য করে নেয়া সম্ভব ছিল, কিন্তু পেছন ফিরে যা দেখল তাতে কোন সুস্থ মানুষ স্বাভাবিক থাকতে পারে না।

হাঁটাচলা আর কথাবার্তা টের পায় ঘরের ভেতরেই। হঠাৎ করে বুঝতে পারে, নাহ মারা যায়নি ও। কিন্তু মনে হচ্ছে অনেক দূর থেকে আসছে সেই শব্দ। বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ শুয়ে থাকে। বুঝতে পারে একটা বাক্সে বন্দী আছে। কফিন টাইপের কিছু হবে হয়ত। এতক্ষণে বোধহয় হাতে কিছুটা জোড় ফিরে পেয়েছে। কফিনে আস্তে আস্তে টোকা দিতে থাকে। কেউ কি খুলে দেবে? না হলে হয়ত পানির পিপাসাতেই মারা যাবে ও।

বাক্সের ঢাকনা হাত দিয়ে ঠেলা দেয়ার চেষ্টা করে। এতক্ষণে কিছুটা জোড় বোধহয় ফিরে পেয়েছে। বেশ জোড়ে ঠেলা মারে বাক্সের ঢাকনা। মৃদু ক্যাচক্যাচ শব্দ করে ঢাকনা খুলে যায়। আস্তে করে উঠে বসে বাক্সের ভেতরেই। আশে পাশে তাকিয়ে দেখে একবার, ওর বাক্সটার পাশেই আরও কয়েকটা বাক্স রাখা আছে। গুণে দেখে মোট ছয়টা বাক্স।

বাক্সের মুখটা আটকে দেয়। ধপ করে বাক্সের উপরে বসে পড়ে। খুবই হতাশ লাগতে থাকে। এই ঘরটাও অন্ধকার। পুরো দেয়াল কুচকুচে কাল, ঠিক আগের ঘরটার মত। ছাদ অনেক উঁচুতে। এই ঘরে আর কোন আসবাব নেই। শুধু ছয়টা কফিন।

ধীরে ধীরে একটা করে কফিন খুলে দেখতে থাকে। কোনটাতেই ডালাতে তালা আটকানো নেই। টান দিতেই ক্যাচক্যাচ শব্দ করে খুলে আসছে কফিনের ডালা। কফিনগুলো অনেক পুরানো। দেখেই বোঝা যায়। খুবই ভারী কাঠের তৈরী, ভারী কব্জা। কব্জায় বোধহয় তেলটেল দেয়া হয়নি অনেকদিন। মনে হয়ে হাসি পেয়ে যায় কামালির, কফিনের কব্জায় কে তেল দিতে যাবে?

একটা বাক্সের মুখ খুলেই চমকে উঠল কামালি। অবাক হল প্রচণ্ড। এতক্ষণ ধরে এতসব আজগুবি অভিজ্ঞতার পরেও তাহলে ওর চমকে যাওয়ার ক্ষমতা চলে যায়নি? কোন যোগসূত্র খুঁজে পায় না ও। খুব খেয়াল করে দেখলে, ইলেনের বুকের মৃদু ওঠানামা চোখ এড়ায় না। তাহলে বেঁচে আছে ও! ইলেনকে কি তাহলে ওর মতই ধরে এনেছে ওরা? বাকি কফিনগুলোতে কিচ্ছু নেই, একেবারে ফাঁকা। কফিনগুলো কি আর কারও জন্যে অপেক্ষা করছে?

ইলেনের কফিনটার পাশে এসে বসে। এত কাছ থেকে ইলেনকে কখনও দেখেনি। মেয়েটার প্রতি বেশ দুর্বলতা ছিল। কিন্তু তেমন একটা পাত্তা টাত্তা দিত না ওকে। হাই হ্যালো ছাড়া তেমন কোন কথাও হয়নি ইলেনের সাথে ওর। এক সাথে দুইটা কোর্স করেছে শুধু। কিন্তু ইলেনের সব খাতির যেন আজমের সাথে। আজমের ওপর তখন থেকেই মেজাজ গরম হত কামালির। ইলেনও এসে কেন যেন ক্লাসে আজমের পাশেই বসত। 'মেয়ে পটাতে পারে আজম', মনে মনে প্রশংসাই করত কামালি, কিন্তু ওদিকে নিজের অক্ষমতার জন্যে রাগও হত নিজের ওপর।

সেই ইলেন আজ এতটা কাছে? বুকের এক একটা ওঠা নামাও টের পাচ্ছে। চাইলেই ছুঁয়ে দিতে পারে, ছুঁয়ে থাকতে পারে। কিন্তু এভাবে কি চেয়েছিল? অর্ধস্বচ্ছ একটা কাপড় দিয়ে বুকের ওপরটা ঢেকে দিয়েছে ওরা। ঘরের ভেতর অন্ধকারেও কামালির নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসে, শ্বাস প্রশ্বাস দ্রুত হয়। কিন্তু নাহ এভাবে নাহ। চোখ ফিরিয়ে নেয়। বুকের ভেতর থেকে, ইলেনের জন্যে জমিয়ে রাখা একটা দীর্ঘশ্বাস, আস্তে করে ছেড়ে দেয়। হাজারো দুশ্চিন্তা, অনিশ্চয়তা, ভয়, সবকিছু কয়েক মুহূর্তের জন্যে ভুলে যায় যেন। ইলেনের জন্যে একটা ছোট্ট দীর্ঘশ্বাস ফেলে, বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকে, চুপচাপ। আস্তে করে ইলেনের হাতটা টেনে নেয় কফিন থেকে। ঠান্ডা হয়ে থাকা হাতটা, নিজের হাতের ভেতর নিয়ে ঘষতে থাকে। একটু উষ্ণতার জন্য। এই কি প্রেম? নাকি ভালবাসা? এই প্রেমের জন্ম কোথায়? নিজেকে প্রশ্ন করে কামালি, কিন্তু উত্তর পায় না, অন্ধকার দেয়ালে বারবার প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসে, এই কি প্রেম? এই কি ভালবাসা?

কিছু করার না থাকলে কি অদ্ভুত জিনিসই না মানুষ ভাবতে পারে! মানুষের মস্তিষ্ক এক আজব চিড়িয়া। কোথায় দুশ্চিন্তায় ঘুম হারাম হয়ে যাবে, কিভাবে কী করা যায়, চিন্তা ভাবনা করবে! অথচ সে কিনা ভাবছে, 'এই কি প্রেম? এই কি ভালবাসা?' নিজের ওপর কিছুটা মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু কীইবা করার আছে ওর!

উঠে গিয়ে দরজাটা ভালমত দেখে আসে আবার। একেবারে শক্ত করে আটকে রেখেছে বাইরে থেকে। নড়ানোর শক্তিও নেই ওর। ঘরের ভেতর খুঁজে পেতে একটা পানির পাত্র পেয়ে যায়। ওটা থেকে ঢকঢক করে গলাটা ভিজিয়ে নেয়। ওরা বোধহয় ইচ্ছা করেই রেখে গেছে পানির পাত্র। তারমানে ওরা জানে ও ঠিকই জেগে উঠবে। ও এতক্ষণে বুঝে গেছে এখানে ওর করার কিছুই নেই। ওদের হাতের পুতুল হয়ে থাকতে হবে ওকে। তাও নিজেকে একবার স্বান্তনা দেয়, তাওতো শেষ সময়ে ইলেনকে পাওয়া গেছে! আচ্ছা ওরা কি আসলেই মেরে ফেলবে ওকে? ইলেনকে? এভাবে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে? এভাবে সবকিছু শেষ হয়ে যায়?

ইলেনের হাত ধরে কতক্ষণ বসে আছে ওর নিজেরও বোধহয় খেয়াল নেই। বসে আছে চুপচাপ। ভাবতে থাকে, সেই শীতল আঙ্গুলের লোকটা কে? এরকম ভয়ানক চেহারা কোন মানুষের হতে পারে? চেহারাটা খুব চেনা, কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারে না। এক মুহূর্তের দেখা ছিল ওটা। কিন্তু খুব পরিচিত কেউ যে ছিল সে ব্যাপারে কামালির মনে কোন সন্দেহই নেই। খুব পরিচিত একটা চেহারার মধ্যে অস্বাভাবিক একজোড়া চোখ। অন্ধকারে শ্বাপদের চোখও বোধহয় ওরকম জ্বলে না। ওটা তো শুধু জ্বলে থাকা না, মনে হচ্ছিল চোখের ভেতর রীতিমত আগুন জ্বলছে। পিঠের ওপর এসে পড়েছিল কি রকম হিমশীতল একটা নিঃশ্বাস!

হাতের ভেতর ইলেনের হাতের মৃদু নড়াচড়া টের পায়। জ্ঞান ফিরছে তাহলে ওর? হাতের কাছে রাখা পানির পাত্র থেকে একটু পানি ছিটিয়ে দেয় ইলেনের মুখের ওপর। মুখ কুঁচকে একটা বিরক্তির ভঙ্গি করে। কি যে অদ্ভুত লাগে কামালির। এই বিপদের ভেতরেও এক অন্যরকম ভাললাগা। কামালির হাতটা আরো শক্ত করে ধরে ইলেন। চোখ মেলে কামালিকে দেখেই হাতটা ছাড়িয়ে নেয় আস্তে করে। অস্থির ভাবে উঠে বসে পড়ে কফিনের ভেতরেই। প্রশ্ন করে কামালিকে, "আমি কোথায়?"

কামালির মুখ ততক্ষণে হা হয়ে গেছে। খুব তাড়াতাড়ি নিজের শার্টটা খুলে ফেলে। ইলেনের হাতে দিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে বলে, "পরে নাও ইলেন"। অন্যদিকে দৃষ্টি ফেরায় ও। ভালবাসার মানুষের দিকে এভাবে তাকানো যায় না, ভালবাসার মানুষের দিকে এভাবে তাকাতে হয় না।

এতক্ষণে সম্বিত ফিরে আসে। ইলেনের লজ্জায় লাল হয়ে যাওয়া মুখটা, দেখতে পায়না কামালি। ওর মুখ তখন অন্যদিকে ফেরানো। ইলেন শার্টটা পরে ফেলে খুব দ্রুত। একটু কৃত্রিম সপ্রতিভ হবার চেষ্টা করে। আবার জিজ্ঞেস করে, কামালিকে, "আমি কোথায়?" ওর শূণ্য দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে কিছু বলার পায় না কামালি। শুধু বিরবির করে বলে, "আমি জানি না, আমি কিচ্ছু জানি না"।

ইলেনের কাছ থেকে সবকিছু শুনতে চায় কামালি। কিন্তু ওরা কিছু বলার সময় পায় না। ঘরের বিশাল দরজা খুলে যায়, গম্ভীর আওয়াজ তুলে। তিনজন লোক এসে ঢোকে ঘরের ভেতরে। দুইজনকে চিনতে পারে কামালি। ওরা দুইজনই ওর দুহাত ধরে রেখেছিল কিডন্যাপের সময়। ওদের শরীর দেখে এই অসময়েও হাসি পেয়ে যায়। ছোট বেলায় কৃষি বিজ্ঞানে পড়া গরু মোটাতাজাকরণ নিয়ে একটা অধ্যায়ের কথা মনে পড়ে। কি খায় শালারা? তৃতীয় লোকটার মুখ ঢাকা কাল কাপড়ে ঢাকা, চোখে কাল সানগ্লাস। ওরা ইলেনের দিকে একটা ঢিলেঢালা পোষাক এগিয়ে দেয়। আদেশের সুরে পরে নিতে বলে। দ্রুত পোষাক পড়ে নেয় ইলেন। পোষাক পরা হয়ে গেলে, মুখ ঢাকা লোকটা, খেঁকিয়ে ওঠে, 'মুভ অন, কুইক'। কামালির মনে হয়, খুব চেনা একটা কন্ঠস্বর, অনেকদিন পরে শুনল। কিন্তু একটা জিনিস বুঝতে পারে, এই অ্যাকসেন্ট কানাডিয়ান কারও নয়।

একটা সরু করিডোর দিয়ে, সেই আগের বিশাল হলরুমটাতে চলে আসে। বিশাল গোলাকার রুমটাতে চারিদিকে বিশাল বিশাল দরজা। রুমের একেবারে মাঝখানে একটা বিশাল চুলা। সেখানে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আর তার চারপাশে কয়েকজন স্বল্পবসনা মেয়ে খুব জোড়ে জোড়ে মন্ত্র আউড়াচ্ছে, আর আগুনকে ঘিরে প্রদক্ষিণ করছে। কোন মেয়ের বয়সই চোদ্দ পনেরর বেশী হবে না। ওদেরকে ধরে নিয়ে গিয়ে আগুনের পাশে একটা অদ্ভুত চেয়ারে বসানো হয়। কয়েকটা মেয়ে এগিয়ে আসে ওদের দিকে। ওদের ঘিরে মন্ত্র পড়তে থাকে, চারপাশে ধূপের ধোঁয়ার মত গন্ধ। ওদের চেতনা একেবারে আচ্ছন্ন হয়ে যায়। মাথার ভেতর শুধু মন্ত্রের বিজবিজ শব্দ। আর কোন চেতনা ওদের কাজ করে না।

এভাবে কতক্ষণ কেটে গেছে ওদের খেয়াল নেই। যখন চেতনা ফিরে আসে, তখন ওরা আবিষ্কার করে সেই বিশাল হলরুমের ভেতর ওরা একা, আর কেউ নেই। কামালি ইলেনের চোখের দিকে তাকায়। কিন্তু কিচ্ছু বলতে পারে না, ইলেনের চোখের ভেতরে গনগনে আগুন। যদিও কোন আয়না নেই এখানে, কিন্তু ও খুব বুঝতে পারে, ওর চোখেও আগুন। ইলেনের হাতটা শক্ত করে ধরতে গিয়ে দেখে, অদ্ভুত শীতল কয়েকটা আঙ্গুল।

১২
আবারও আগুন

সকাল থেকে সাঈদকে ডায়াল করে যাচ্ছে হেলাল। কিন্তু ওদিক থেকে কোন রিপ্লাই নেই। শুধু রিং হয়েই যাচ্ছে। এদিকে সাঈদকে খুবই দরকার হেলালের। কালকে ও ফোন করেছিল শাহেদকে। শাহেদ ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া রিভারসাইডেই পড়ে। অনির ব্যাপারে আরেকটু ডিটেইলস খোঁজখবর নেয়ার জন্যেই ওকে ফোন করা।

ওদের লাশ নাকি কে যেন নিয়ে গেছে। পুলিশ রিপোর্ট বলছে, স্যাম নামের কেউ একজন লাশ রিসিভ করেছে। পুলিশ বলছে, স্যাম নাকি ওর ভাই। কিন্তু সবাই জানে যে অনির কোন ভাই বোন নেই। ও ছিল ওর বাবা-মার একমাত্র সন্তান। ওদিকে সাঈদের কথা অনুযায়ী লাশের নাকি পোস্টপর্টেম হয়েছে, লাশ নাকি আবার দেশেও পাঠানো হবে। তাহলে সাঈদ কি জানত না? নাকি জেনেশুনে মিথ্যা বলছে হেলালকে?

কিছুই মাথায় ঢোকে না হেলালের। খুব চিন্তায় পড়ে যায়। এই চিন্তায় কয়েকদিন ধরে ওর পড়াশোনাও কিছু হচ্ছে না। ওর মাথায় একবার একটা কিছু ঢুকলে সেটার একটা গতি না করা পর্যন্ত ওর শান্তি হয় না। ওর মাথায় খালি ঘুরছে একটা কথাই, কী হবে ৫ নভেম্বরে? আসলেই কি কিছু হবে? নাকি এগুলো আসলেই কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা? সাঈদই বা মিথ্যা কথা বলল কেন? এখন ফোনই বা ধরছে না কেন? হাজারটা প্রশ্ন কিন্তু কোনটারই জবাব নেই ওর কাছে।

মাথা ঠাণ্ডা করার জন্যে ভার্সিটি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল হেলাল। ল্যাব এ গিয়ে কিছু কাজ করে আসা যাক। কারণ, আপাতত এই ইস্যু নিয়ে আগানোর মত কোন কিছু পাচ্ছে না ও। মাথাটাকেও একটু রেস্ট দেয়া দরকার। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার দেশে ফোন করা হয়ে গেছে ওর। সাঈদের ফোনে না পেয়ে আর কিছু ফ্রেন্ডকে ফোন দিয়ে সাঈদের খোঁজ নিতে বলেছে, কিন্তু কেউই শেষ পর্যন্ত সাঈদের কোন খোঁজ পায়না। ওর বাসার ঠিকানা বা ফোন নাম্বারও কারও জানা নেই। তাছাড়া বাসার সাথে ওর যোগাযোগও তেমন একটা ছিল না। তাহলে সাঈদও কি হাওয়া গেল? এই ঘটনায় সাঈদেরও তাহলে কোন পার্ট আছে?

ল্যাবে এসে কিছুক্ষণ যন্ত্রপাতি নিয়ে গুঁতোগুঁতি করে, এটা সেটা নেড়েচেড়ে দেখে, কিন্তু কাজ ঠিক আগায় না। মাল্টিটাস্কিং ও ভালই পারে, কিন্তু এখন হচ্ছে না। আসলে এক দিকে বেশী প্রেসার পরে গেছে, বেশ কয়েকদিন ধরে কাজ কারবার কিছুই হচ্ছে না। প্রফেসরকে ধুনফুন দিয়ে আর কয়দিন? প্রফেসরকে বলে এক সপ্তাহ ছুটি নিয়ে নিবে নাকি? কিন্তু ছুটি নিয়ে কী করবে? বাসায় বসে একই জিনিস জাবর কাটা ছাড়া আর কিছু কি করা হবে?

ল্যাবের কাজকর্ম বন্ধ করে প্রফেসরকে একটা মেইল করে দেয়। এই সপ্তাহে আর ল্যাবে আসবে না ও। কারণ হিসেবে কিছু বলে না। ও জানে প্রফেসর কিছু বলবে না ওকে। প্রফেসরও জানে মাঝে মাঝে এরকম হাওয়া হয় হেলাল। প্রফেসরও মাথা ঘামায় না, কারণ জানে ঠিক সময় কাজ ওর কাছে ঠিকই পাওয়া যাবে। এরকম আস্থার সম্পর্ক খুব বেশী দেখা যায় না গ্রাড স্টুডেন্ট আর প্রফেসরের মধ্যে, সবাই খালি দৌড়ের উপরে রাখতে চায়।

ল্যাব থেকে বের হয়ে আসে। কামালির রুমের দিকটা আবার একটু ঘুরে আসবে। ল্যাব একেবারে গ্রাউন্ড ফ্লোরে। এখানকার লিফটটা বাড়াবাড়ি রকমের স্লো, বাংলাদেশের মতিঝিল এলাকার কিছু লোহার গেটা লাগানো লিফটের চেয়েও স্লো মনে হয় ওর কাছে। কিছুক্ষণ লিফটের সামনে অপেক্ষা করে অস্থিরভাবে। ভাবে, থাক সিঁড়ি দিয়েই ওঠা যাক উপরে, একটু ক্যালরিও বার্ন হবে।

হঠাৎ করেই মাথায় আটকে যায় শব্দটা। এই শব্দটা কামালির মুখেই সবচেয়ে বেশী শোনা যেত। অনেকটা অবসেসড ছিল ও ক্যালরি বার্নিং নিয়ে। কোথাও খাওয়া দাওয়া বা দাওয়াত থাকলেও ওখানেই ওয়ার্ক আউট শুরু করে দিত, রাত দিনের বালাই ছিল না। প্রচণ্ড শীতের মধ্যে দেখা যেত একটা হাফপ্যান্ট আর রানিং স্যু পরে মাঠে দৌড়াচ্ছে। সব কিছু ওলট পালট হয়ে যেত, কিন্তু এই রুটিনের কোন নড়চড় নেই। কোন ভারী খাবার খেলেই, খাওয়ার পর চলত গ্রীন টি, গ্রীন টি নাকি মেদ কাটায়। সব কিছু মিলিয়ে একেবারে ফিটফাট যাকে বলে। ক্যাম্পাসে তো কেউ একজন একটু এক্সারসাইজ বা ডায়েটিং শুরু করলেই, সবাই বলত, কি 'কামালি ফিগার' বানাচ্ছেন নাকি? ফুটবল খেলায় একাই সারা মাঠ দৌড়াত, বল পায়ে থাকুক কি নাই থাকুক, ক্যালরি বার্ন তো হচ্ছে, গোল্লায় যাক ফুটবল! কে জানে কোথায় আছে এখন কামালি! বেচারার ওয়ার্ক আউটের রুটিন এলোমেলো হয়ে গেলে এই টেনশানেই তো বেচারা মারা যাবে।

হঠাৎ করে হেলালের খেয়াল হয়, ভার্সিটির পেছনের রাস্তায় প্রায়ই দৌড়াতে বের হত কামালি, দুপুরের লাঞ্চের পরপর বা সন্ধ্যার দিকে। একেবারে লেকের পার ধরে পাহাড়ের বেশ খানিকটা উপরে উঠে যেত। ওখানে ওর সাথে হেলালও গেছে দু'একবার, পরে আর যাওয়া হয়নি, ওর সাথে হারমোনি রেখে দৌড়ানো কঠিন, হাঁপিয়ে ওঠে শেষ পর্যন্ত। মনে হল ওদিকে যেয়ে কোনাভাবে হারিয়ে যায়নি তো কামালি? পাহাড়ের ওপরটায় বেশ জংলা, ভাল্লুক-টাল্লুকও নাকি বের হয় মাঝে মাঝে। নাহ, এটা বোধহয় ঠিক ভাল্লুকের কেস না, আরও জটিল কিছু, কিন্তু উঠে একবার দেখে আসতে তো সমস্যা নেই।

ওখানে একেবারে জংলা জায়গায় একটা সাইনবোর্ডও ছিল। প্রথমবার দেখেই বেখাপ্পা লেগেছিল ওর কাছে। কিন্তু তখন অতটা মাথা ঘামানো হয়নি। মাথা ঘামানোর দরকারও ছিল না। কোন সিদ্ধান্তে আসা কঠিন যদিও। কিন্তু দেখে আসতে দোষ কী? কাজ ফেলে রাখার ছেলে না হেলাল। আর ছুটি যখন নিয়েই নিয়েছে, এখন তো আরও আটঘাট বেঁধে কাজ শুরু করা উচিৎ। লিফটের সামনে থেকে সরে আসে। দোতালায় নিজের রুম থেকে দৌড়ে জ্যাকেটটা নিয়ে আসে। বাইরে বেশ ঠান্ডা, টুপি আর হাতমোজাটাও পরে নেয়। তারপর একে দৌড়ে ক্যাম্পাসের পেছন দিকে।

লেকের পাড়ের রাস্তাটা ধরে হাটতে থাকে। বেশ তুষারপাত হয়েছে এদিকটায় কয়েকদিন। তাপমাত্রা এখন মাইনাস টুয়েন্টির কাছাকাছি। বেশ কড়া বাতাসও আছে। বাতাসটাই সবচেয়ে খারাপ। আর একেবারে লেকের পাড়ের বাতাস, এত পোষাক আশাক কিছুরই বাঁধা মানে না। কিন্তু এতকিছু ভাবলে কাজ আগাবে না। বেশ দ্রুতই আগাতে থাকে হেলাল। কিন্তু নিজের ওপর মেজাজ খারাপ হয় কিছুটা, স্ট্যামিনা একেবারে নেই। এইটুকু এসেই বেশ হাঁপিয়ে গেছে। কামালির সাথে কয়েকদিন দৌড়ালে বেশ হত।

থেমে থেমে পাহাড়ের ওপরে বেশ খানিকটা উঠে যায়। বেশ কষ্ট হচ্ছে উঠতে, একদিকে উঁচু ঢাল, আর আরেকদিকে সেখানে বরফ জমে বেশ পিচ্ছিল করে রেখেছে ওঠার পথটাকে। জমে যাওয়া শক্ত বরফটাই সবচেয়ে খারাপ। দেখে শুনে নরম বরফের ওপর পা দিয়ে দিয়ে হাটছে। চারিদিকে সতর্ক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করছে, যদি চোখে পড়ে কোন কিছু!

আরও বেশ খানিকটা হেঁটে উপরে উঠে, সাইনবোর্ডটা চোখে পড়ে। আরেকেটু হেঁটে সামনের দিকে আগায়। এই জায়গাটা বেশ জংলা। জঙ্গল বেশ ঘন হয়ে এসেছে। বিশাল বিশাল পাইন গাছ এই জায়গাটাতে, বেশ ঘন। বেশ অন্ধকার, মাটির একাটা সামান্য অংশই সূর্যের আলোর স্পর্শ পাচ্ছে। বেশ ভয় ভয় লাগতে থাকে হেলালের। আস্তে পা ফেলে খুব সাবধানে আগায়। আস্তে আস্তে জঙ্গল ভেদ করে আগাতে থাকে। জঙ্গলের ভেতরে ঠান্ডা বাইরে থেকেও অনেক বেশী। হাত পা একেবারে জমে যাচ্ছে। মনে হয় কাউকে নিয়ে আসলেই ভাল হত। একা আসাটা বিরাট বোকামী হয়ে গেছে। কিন্তু কাকে জড়াবে এই কাজে? আর ওর কথা কেই বা বিশ্বাস করবে, পড়ে দেখা যাবে ওকে নিয়ে সবাই হাসাহাসি করছে।

আরও কিছুদুর সামনে আগাতেই, জঙ্গল কিছুটা হালকা হয়ে আসে। কিন্তু একইরকম নিস্তব্ধ, এখানটাতেও। একটা নড়াচড়ার শব্দও টের পাওয়া যায় না। একটা পশুপাখিও কি নেই জঙ্গলে? এটা কি মরা জঙ্গল?

আর কিছুদুর সামনে এগোতেই হঠাৎ বোকা হয়ে যায় যেন, একেবারে ফাঁকা একটা জায়গায় চলে এসেছে। চারিদিকে ঘন জঙ্গল, কিন্তু একটা বেশ বড়সড় বৃত্তাকার ফাঁকা জায়গা। আন্দাজ করল হেলাল, ব্যাস মোটামুটি ত্রিশ-পঁইয়ত্রিশ মিটারের মত হবে। দেখলেই টের পাওয়া যায়, এটা কৃত্রিমভাবে তৈরী করা হয়েছে।

ভয় পেলেও মনে মনে খুশি হয়ে ওঠে হেলাল। যাক ওর আন্দাজ ঠিক আছে তাহলে। নিজের বুদ্ধির মনে মনে নিজেই একবার প্রশংসা করে। ওর হয়ত লেখাপড়া না করে গোয়েন্দাগিরিতে আসা উচিৎ ছিল! মাথায় ঘুরতে থাকে হাজারটা প্রশ্ন, কোনটারই উত্তর জানা নেই। কিন্তু একটা জিনিস বুঝতে পারছে, চেষ্টা করে দেখার একটা ক্লু পাওয়া গেছে হাতে। হাতে আর সময় আছে মাত্র এক সপ্তাহ। মিলিয়ে দেখল হেলাল, পাঁচ নভেম্বর আসতে আর মাত্র সাতদিনই বাকি আছে তাহলে, আর প্রফেসরের কাছ থেকে ওর চেয়ে নেয়া ছুটিও সাতদিনেরই। কিন্তু কী হবে আসলে এই সাত দিনে?

ব্যাপারটা কতটা ভয়ানক, সেটা আঁচ করার মত পরিস্থিতিতে যে যায়নি সেটা বুঝতে পারছে নিজেই। হাজার মেইল দূরত্বে ঘটে যাওয়া কয়েকটা কাকতালীয় ঘটনা, আর দুই তিনটা ফোনকলের ওপর ভিত্তি করে এরকম ঝামেলায় জড়ানো কি ঠিক হচ্ছে? বরং ও যা জানে সেটা কোন উপযুক্ত জায়গায় বললেই কি বেশী ভাল হত না! কিন্তু বলার মত কী আছে ওর কাছে? কী প্রমাণ আছে? যাকেই বলবে সেই হয়ত হেসে উড়িয়ে দেবে।

ফাঁকা জায়গাটা থেকে আবার জংলায় ঢুকে পরে এবার। বোকার মত হুট করে কারও চোখে পড়তে চায় না ও। কামালিকে খুঁজতে এসে, নিজেই নিখোঁজ হওয়ার মত বোকামী আর হয় না। আশেপাশে ঘুরে দেখে বেশ ভাল করে। স্বাভাবিক কিছু চোখে পড়ে না। শুধু জঙ্গলের ন্যাড়া অংশটা খুব বেশী চোখে লাগে। একেবারে সমান করা মাটি। কী করা হয় এখানে?

মাথায় রাজ্যের চিন্তা। খুব সহজেই একটা হেলিকপ্টার কি নামতে পারে? নিজেকেই প্রশ্ন করে। জায়গা দেখে মনে হয় হেলিকপ্টার নামার জন্যে খুবই চমৎকার একটা জায়গা। কিন্তু এখানে হেলিকপ্টার কেন নামবে? যদি নামে, তারমানে আশেপাশে কিছু তো অবশ্যই আছে। কিন্তু কোন কিছু শিওর করে বলা যাচ্ছে না। আর বরফের কারনে কোন কিছুর ছাপ বা দাগও পাওয়া যাচ্ছে না। কাঁচা বরফ পরে চোখে পড়ার মত সবকিছু ঢেকে দিয়েছে। একবার ভাবে একবার বরফ সরিয়ে দেখবে কি? কিছু চোখে পরার মত দেখে কিনা?

কিন্তু ঝুঁকি নেয় না হেলাল। ওই জায়গাটা স্পষ্ট দেখা যায়। কেউ চোখ রাখছে কিনা কে জানে? দিনের আলোতে খুব বেশী ঝুঁকি হয়ে যাবে। মনে মনে একটা পরিকল্পনা এঁটে ফেলে হেলাল। ফিরে আসবে আবার এখানে, এখন না, রাতে। সন্ধ্যার আগে দিয়ে এখানে আসবে, দরকার হলে রাত কাটিয়ে দেবে জঙ্গলের কোথাও। যদি কিছু চোখে পড়ে? জেদ চেপে গেছে ওর, শেষ না দেখে ছাড়বে না।

হিসেব করে দেখল হাতে খুব বেশী সময় নেই ওর। এখন বাজে সকাল দশটা। বেলা ডুবে যায় এখানে সাড়ে চারটার দিকে। তার আগে আগেই এখানে এসে পড়তে চায় ও। তারমানে হাতে আছে প্রায় মাত্র ছয় ঘন্টার মত সময়। কোন ফাঁক থাকা চলবে না কাজে।

গুছিয়ে কাজ করা ওর স্বভাব নয়। বরং বেশ খাপছাড়াভাবেই সব কিছু করে ও। যখন যা ইচ্ছে, যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে। কিন্তু এখন ওই পথে যায় না। একটা কাগজ নিয়ে লিস্ট করে ফেলে হুটহাট কি কি লাগতে পারে। আপাতত টাকা পয়সা নিয়ে তেমন ভাবে না, যা যাচ্ছে যাক, টাকা পয়সা হাতের ময়লা।

কেনাকাটা খুব বেশী কিছু না। বেশীরভাগ জিনিস ওয়ালমার্টেই পাওয়া যাওয়ার কথা। প্ল্যান করতে করতে বাসস্ট্যান্ডে চলে আসে। একটু গুছিয়ে নিতে হবে তারপর। কিছু শুকনা খাবার দাবারও নিতে হবে। একটা বেশ ভাল পাওয়ারের, আর একটা কম পাওয়ারের টর্চ কিনে নেয়, রাতের বেলা কাজে দেবে, সাথে কয়েকটা ব্যাটারী। কাটাকাটি করার জন্যে একটা অ্যান্টিকাটার, আর বেশ ভারী একটা কুঠার নিয়ে নেয়, ওর আসলে কোন আইডিয়া নেই কী কাজে লাগতে পারে, আত্নরক্ষার জন্যেই একটা ভারী অস্ত্র দরকার। এখানকার এই এক সুবিধা, এক জায়গায় সব পাওয়া যায় বাংলাদেশে হলে পাঁচটা জিনিস কিনতে পাঁচ জায়গায় যেতে হত। আর সবচেয়ে বড় সুবিধা ওয়ালমার্টের সবগুলো জিনিসই চোদ্দ দিনের ভেতর ফেরত দিলে, ফুল রিফান্ড পাবে। তাই বাছাবাছি করেনা। কাজে লাগতে পারে এরকম সবকিছু কিনে ফেলতে থাকে। কয়েকগজ নাইলনের দড়ি, আর কী ভেবে একটা মেটাল ডিটেক্টরও কিনে ফেলে।

শেষ পর্যন্ত যেটা কেনে, সেটাই হেলালের কাছে সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট। এই প্ল্যানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ওর কাছে এটাই। ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জের বেশ কয়েকটা রেডিও রিসিভার কেনে। ও খুব ভালমতই জানে, হয়ত কোন কমুনিকেশান লিঙ্ক থাকলেও, ফ্রিকোয়েন্সি রিসিভ করতে পারলেও, ডিকোড হয়ত ও করতে পারবে না। ডিকোড করা না গেলেও যদি কমপক্ষে জানা যায় কি হচ্ছে বা কোন ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জে ট্রান্সমিট হচ্ছে, সেটা থেকে পরে অ্যানালাইসিস করে কিছু তথ্য পাওয়া হয়ত কঠিন হবে না। তাছাড়া ওর রিসার্চ টপিকও এইসব বিষয় নিয়েই। ও কিছুটা কনফিডেন্টই বলা যায় এই ব্যাপারে।

রিসার্চ এক্সপেরিয়েন্সের সাথে মিলে যাওয়ায়, ও মনে মনে একটা চ্যালেঞ্জও নিয়ে নেয়। পেপার পড়ে পড়ে থিওরি কপচানি রিলেটেড রিসার্চ ওর খুব বেশি ভালও লাগে না। আগের থেকে এখন যেন ওর উৎসাহ বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়।

কেনাকাটা শেষ করে বাসায় এসে, একটা গোসল দিয়ে বড় ব্যাকপ্যাকটা গুছিয়ে ফেলে। হাতে এখনও ঘন্টাচারেক সময় আছে। যাওয়ার আগে ল্যাব থেকে কয়েকটা জিনিস ব্যাগে তুলে নেবে। আপাতত সবচেয়ে কঠিন কাজটায় হাত দিতে হবে। একটা মেয়ে লাগবে ওর!

মেয়ে মানে নরমাল কোন মেয়ে না। ওর চাই একটা প্রস্টিটিউট। এসব লাইনে ওর অভিজ্ঞতা একেবারে শূণ্যের কোঠায়। ওর অভিজ্ঞতার ঝুলি বলতে গেলে দু'একবার নাইট ক্লাব আর স্ট্রিপ ক্লাবে যাওয়া পর্যন্ত। তাও একা না, বন্ধুদের মুলামুলিতে যাওয়া হয়েছে দু'একবার। কোন ধারণাই নেই, একটা মেয়ে কিভাবে যোগার করা যায়? এই ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে?

নেটে ঢুকে কিছুক্ষণ গুতাগুতি করে, এরকম কোন এজেন্সী আছে কিনা। খুব সুবিধা করতে পারে না। গুগল সার্চে যা কিছু পাওয়া যায়, বেশীরভাগই কোন না কোন ডেটিং সাইট। ও তো আর ডেটিং এর জন্যে মেয়ে খুঁজছে না! নাহ গুগলের এখনও অনেক উন্নতি করার সুযোগ আছে তাহলে? নাকি ও নিজেই জানেনা কিভাবে কী করতে হয়! নিজের দোষ গুগলের উপর চাপাচ্ছে!

এক্সপার্ট অপিনিয়ন লাগবে বুঝতে পারে। সবকিছু নিজে নিজে করা যায় না। ভাবতে ভাবতে একটা নামই মাথায় আসে, শান্ত ভাই। এই ব্যাপারে হেল্প করতে পারলে একমাত্র শান্ত ভাইই পারবে হেল্প করতে। সময় নষ্ট না করে, ডায়াল করে,

- হ্যালো শান্ত ভাই, আমি হেলাল। স্লামালাইকুম ভাই।

- ওয়ালাইকুম ভাই, হঠাৎ আমারে স্মরণ করলা? তাও আবার এই অসময়ে? কী ব্যাপার বলত!

- ভাই, একটা দরকারেই ফোন করছি, আসলে, ক্যামনে যে বলি, খুবই দরকার আমার। লজ্জা লাগতেছে, আপনি আবার কী না কী মনে করে বসেন।

- আরে আমার কাছে তো মানুষ এক বিষয়েই ফোন করে। নাইলে তো আমারে তোমারা মোটামুটি সোসাইটির বাইরে ফালায় দিছ মিয়া। আচ্ছা কও।

- ভাই একটা মেয়ে লাগবে আমার।

- মেয়ে লাগবে বুঝলাম, কিন্তু তুমি এই লাইনে কবে থেকে আসলা বল দেখি? তোমার মেয়ে লাগবে? আশ্চর্য হইলাম।

- ভাই আপনি যেজন্যে ভাবতেছেন সেজন্যে না, কিন্তু আমি আপনারে এক্সপ্লেইন করতে পারব না ভাই। কিন্তু আমারে একটা মোটামুটি স্মার্ট আর বুদ্ধিশুদ্ধিওয়ালা মেয়ে যোগার করে দিতে হবে ভাই।

- হুম, রুচি আছে তোমার, হাহ। স্মার্ট, বুদ্ধিশুদ্ধি দিয়া কি করবা মিয়া, যেগুলা দরকার সেগুলার কথা কও, তোমার পছন্দ কী? উপর নাকি নীচ?

- ভাই আমার টাইম নাই ভাই, আমারে যা ব্যাবস্থা সেটা ঘন্টাদুয়েকের মধ্যে করতে হবে। এক সপ্তাহের জন্যে ভাই, টাকা পয়সা নিয়ে সমস্যা নাই, আমি নগদ দিয়ে দেব। ভাই একটু শিক্ষিত হইলে ভাল হয়। রেট নিয়ে সমস্যা নাই আমার।

- ঝামেলার কথা কইলা মিয়া, হাজারটা আবদার, মাগী চাও, তাও আবার শিক্ষিত, তোমাগো ভাও বুঝিনা, সেইটা আবার লাগবে দুই ঘন্টার মধ্যে? মাথায় মাল উঠছে নাকি তোমার?

হেলালের রাগ উঠতে থাকে, এই লোককে কীভাবে বোঝাবে এখন ও। সে তো এক লাইন ছাড়া চিন্তাই করতে পারে না। কত রকম লোক যে আছে পৃথিবীতে! আবার এটাও ভাবে, নাহ সব রকম লোকেরই বোধহয় দরকার আছে! বলে,

- ভাই দেখেন না কিছু করতে পারেন নাকি?

- আচ্ছা, শুন আমার লগে একটা মেয়ে আছে এখন, সামান্থা। ওরে পাঠাইলে চলবে? এইটা ছাড়া আপাতত দুই ঘন্টার মধ্যে ম্যানেজ করা কঠিন হবে, রাতে হইলে পারতাম। তোমাকে বিশ্বাস করে দিতেছি, কোন ঝামেলার মধ্যে ফালাইওনা আমারে।

- না ভাই, আপনি চিন্তা কইরেন না, ভাই, আপনারে কী বইলা যে ধন্যবাদ দিব। আমি তো পুরাই বিপদে পইড়া গেছিলাম। আচ্ছা ভাই, আমি কি আপনার বাসায় এসে নিয়ে যাব ওকে?

- হ্যাঁ আস, এক ঘন্টার মধ্যে আস। আমার বাসায় আস।

ফোন রেখে তাড়াতাড়ি তৈরী হয়ে নেয়। বেশ মোটা কিছু পোষাক আশাক পরে নেয় রাতে থাকতে হবে জঙ্গলের ভেতর। দিনেই যেরকম ঠান্ডা ছিল, রাতে একেবারে জমে যাওয়ার কথা। ওয়াল্মার্ট থেকে কেনা টেন্টটা, ব্যাগের ভেতর ভরে নেয়, এক প্যাকেট বিস্কুট, পানির বোতল। মোটামুটি ভাল প্রস্তুতি বলা যায়।

শান্তর বাসা ডাউন টাউন। দশ নাম্বার বাসে চেপে বসে তাড়াতাড়ি। হাতে খুব সময় নেই, তিনটার মত বেজে গেছে অলরেডি। বাসায় পৌছাতে পৌছাতে প্রায় সাড়ে তিনটা বেজে যায়। হেলালের বুকটা একটু ধুকপুক করছে, এমনিতেই মেয়েদের সাথে এখনও ঠিক কম্ফোর্টেবল নয়, আর এত মেয়ে নয় একেবারে প্রো। কী বলবে, কীভাবে কথা বলবে ঠিক ভেবে পায় না। গলার কাছটা বেশ শুকিয়ে আসছে এটা শুধু টের পায়।

কথা বলতে হয় না ওর। মেয়েটা বেশ সপ্রতিভ। ওর কোন আইডিয়া ছিল না। এরকম মেয়েদের আসলে স্মার্ট হয়ে হয়, পেশাগত কারণেই। আর এটাতো বাংলাদেশ না। এদের সবারই নিজস্ব আইডেন্টিটি আছে। প্রস্টিটিউট বললে চোখের সামনে যেরকম একটা চেহারা ভেসে আসে, মোটেও সেরকম কেউ না। কড়া লিপিস্টিক, বুক খামচে ধরা টপস বা বাড়াবাড়ি রকমের ছোট স্কার্ট, নাহ কিছুই নাহ। এক দেখায় মেয়েদের বয়স বলে ফেলা কঠিন, তারপরেও হেলালের মনে হয়, নাহ ত্রিশের কম কিছুতেই নয়। বাড়াবাড়ি রকমের সুন্দরী না মেয়েটা, কিন্তু চেহারায় কিছু একটা আছে, টেনে ধরে রাখে। ঠোঁটদুটো প্রয়োজনের তুলনায় একটু পুরু, কিন্তু ওইটুকুর জন্যেই বোধহয় মেয়েটার চেহারা আর দশটা মেয়ের থেকে আলাদা। মেয়েদের এভাবে দেখা স্বভাব না হেলালের। একটা মেয়ে সামনে দাঁড়িয়ে আছে, সে যেরকমই হোক, একেবারে তার বুকের দিকে সরাসরি তাকানো, হেলালের মত ছেলের কাছে অকল্পনীয়ই বলা যায়। কিন্তু এখানে হেলাল প্রফেশনাল। মেয়েটার সারা শরীরে একবার চোখ বুলিয়ে নেয় হেলাল। মেয়েটাও বোধহয় এগুলাতে অভ্যস্ত। বেশ হাসিমুখেই দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ, বা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। হেলালের পর্যবেক্ষণ শেষ হলে মেয়েটাই এগিয়ে আসে, হাত বাড়িয়ে দেয়, বলে,

- আই অ্যাম সামান্থা, মাই প্লেজার টু মিট ইউ, মিস্টার হেলাল।

অপ্রতিভভাবে হাত মেলায় হেলাল, আস্তে আস্তে বলে,

- ইটস নাইস টু মিট ইউ ঠু, সামান্থা, ইটস রিয়েলি নাইস টু মিট ইউ।

(চলবে)

ফেরা - ০১
ফেরা - ০২
ফেরা - ০৩
ফেরা - ০৪
ফেরা - ০৫
ফেরা - ০৬


মন্তব্য

চরম উদাস এর ছবি

হাততালি ভালো লাগলো

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-
ভাই সাহিত্যিকের ত্যানা কোথায় প্যাচাইল??

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

মুনা এর ছবি

বেশ ভালো লাগছে, কিন্তু এত দেরী করে দিলে তো আগের কাহিনী ভুলে যাই!

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

কথা সত্যি, আমি নিজেও মাঝে মাঝে ভুলে যাই, কিন্তু কী করব বলেন?
তারপরেও যে সাথে আছেন, এজন্যে ধন্যবাদ হাসি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

তাপস শর্মা এর ছবি

চমৎকার। অনবদ্য। চলুক চলুক

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

এত গ্যাপে গ্যাপে দিতেছি, আপনারা যে এরপরেও পড়তেছেন, তাতেই আমি চরম খুশি দেঁতো হাসি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

সাফি এর ছবি

আপনের নাম শান্ত না?

চরম উদাস এর ছবি

কবি ভাইয়ের পুরা নাম DD (2D/ দ্বিমাত্রিক) শান্ত দেঁতো হাসি

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

একেবারে DD?? হোয়াই দিস কোলাবেরী D? নাকি DD?

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

সাফি এর ছবি

কবিসাব এখনো ছুডু দেখা যায়, ডাবল ডি এর মানে বুঝেনা দেঁতো হাসি

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

না ভাই মানে টানে বুঝি। অভিজ্ঞতায় ছুডু, তয় থিউরিটিক্যাল গিয়ানের অভাব নাই দেঁতো হাসি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

ফাহিম হাসান এর ছবি

হোয়াই দিস কোলাবেরী D? নাকি DD? DD ?? গড়াগড়ি দিয়া হাসি

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

দেঁতো হাসি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

rabbani এর ছবি

খাইছে শান্ত শান্ত আন্ত

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

খাইছে

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

জি ভাই, আমিই সেই শান্ত। নামকরণটা ইচ্ছাকৃত দেঁতো হাসি
উপন্যাসের প্রত্যেকটা নাম আমাদের এখানকার আশেপাশের লোকের নাম থেকে নেয়া। অনেকে আমার উপর চেইতা আছে, আমি নাকি তাদের সবাইরে পচাইতেছি। এখন নিজের নাম দিয়া সিল মাইরা দিলাম, দেঁতো হাসি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

সাফি এর ছবি

বিজ্ঞাপন দিলেননি? চোখ টিপি

তানিম এহসান এর ছবি

চলুক ..

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

আশালতা এর ছবি

শেষ পর্যন্ত লিখলেন তাহলে ! ড্রাইভিং ফোর্স কাজে দিয়েছে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এইরকম একটা জায়গায় থামলেন ?!

----------------
স্বপ্ন হোক শক্তি

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

হুম লিখলাম, শুরু যখন করেছি, শেষও করে ফেলব আশা করি। আসলে এমনিতেই গ্যাপে লিখছি, আমি নিজেই কাহিনী ভুলে যাই মাঝে মাঝে লেখার সময়ে। একটু জায়গামত না থামলে পরের পর্ব যে কেউ পাত্তাও দেবে না সেটা বুঝতে পারি :)।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

পড়লাম। ভালই লাগলো, তবে আগের ঘটনা অবছা আবছা মনে আছে।
বড্ড দেরিতে আসলো এ পর্বটা।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

খুব স্বাভাবিক, অনেক গ্যাপে লিখলাম। পরের পর্বগুলাও যে খুব তাড়াতাড়ি আসবে সে কথা দিতে পারছি না। আসলে বড় কোন সিরিজ ব্লগে শুরু করা বেশ টাফ দেখছি। একবারে লিখে ফেলে পোস্টানো ভাল। ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

ফাহিম হাসান এর ছবি

দ্বিতীয় প্যারাটা একটু ঝুলে গিয়েছে। বর্ণনা আরোপিত মনে হল। সেই তুলনায় ডায়ালগগুলো বাস্তব মনে হচ্ছে।
কিছু টাইপো রয়ে গিয়েছে- শূন্যতা, জঙ্গল, হ্যাঁ ইত্যাদি।
স্বল্প বসনা মেয়েদের বয়স অন্তত ১৮ করে দেন, ১৪-১৫ খুব অস্বস্তিকর।

লেখা ভাল লাগছে, চলুক চলুক

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

ফাহিম, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ চমৎকার মন্তব্যের জন্য। আপনার মন্তব্যে সবসময়েই ভাল ফিডব্যাক থাকে।

আসলে একটা বড় লেখা তো সব জায়গায় হয়ত এক রিদম রাখতে পারছি না। লেখাটা শেষ করার পর পুরোটা একবারে পড়ব, কিছুদিন ফেলে রেখে। তখন যেখানে যেখানে নিজের কাছে পছন্দ হবে না বদলাব। আপনার ফিডব্যাক তখন খুব কাজে দেবে। তারপরে যদি মনে হয়, লেখাটা জমিয়ে রাখা যায়, তখন হয়ত দুই মলাটের ভেতর আটকানোর একটা চেষ্টা থাকবে, দেখা যাক কী হয়।

'জঙ্গল'টে বেশ ঝামেলা করছে দেখি। বেশ কয়েকবার ঠিক করে দেয়ার পরেও এই অবস্থা মন খারাপ বাকিগুলো ঠিক করে দিচ্ছি। ভাল থাকুন।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

ওহ আর মেয়েদের বয়সের ব্যাপারে, আসলে বয়সটা ইচ্ছা করেই দেয়া। একটু পারভার্ট ধরণের ব্যাপার, মনে করেন ব্ল্যাক ম্যাজিক বা এই ধরণের কিছু হলে? সেক্ষেত্রে তারা কিন্তু আমাদের মত র‍্যাশনালি চিন্তা করবে না। তাই বয়সের ব্যাপারটা অনেকটা সেটাকে রিপ্রেজেন্ট করার জন্যেই দেয়া। অড লাগাটাই স্বাভাবিক।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

আমি শিপলু এর ছবি

চমৎকার দাদা.. সাথে আছি। এই পর্বটা দিতে বেশ দেড়ি করলেন। আগের পর্বে চোখ বুলিয়ে নিতে হলো। চলুক

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

না-ইন্সাফি হয় নাই তেমন, কারণ লেখার আগে আমারও এট্টু চোখ বুলাইতে হইছিল। আপনারা সাথে আছেন বলেই লিখতে পারছি এখনও। ধন্যবাদ, মন্তব্য দিয়ে উৎসাহ দেয়ার জন্যে।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

ন এর ছবি

দারুণ, পুরোটা শেষ হলে আবারও একবার পড়ব ভাবছি

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

অবশ্যই পড়বেন। হাসি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

তদানিন্তন পাঁঠা এর ছবি

চিন্তিত মাইয়া লাগব কেন? তাও আবার প্রো? শীতের রাতে গরম থাকতে? ইয়ে, মানে... বহু ভাইবাও কারন পাইতাছিনা। নাহ! আমি ভালু গুয়েন্দা হইতে পারুম না স্বীকার গেইলাম। (সাবধান! গেল্মান না কিন্তু।।)

উত্তম জাঝা! পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

চিন্তা কইরা কিছু পাইলে বইলেন, আইডিয়া সংকটে আছি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

লাবণ্যপ্রভা এর ছবি

গল্প ভাল ভাবেই এগুচ্ছে... তবে এত্তদিন পর এট্টুক্কখানি লিখা মন খারাপ ? বাকিটা তাত্তারি আসুক... আর আপনার সুমতি হোক খাইছে

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

একটুখানি কই? ব্লগ হিসেবে সাইজ তো বেশ বড়ই মনে হইল আমার। বুঝছি আপনি ক্ষুধার্ত পাঠক, আপনারে এইটুকু দিয়ে ভোলানো যাবে না। দেখি এই সপ্তাহের মধ্যে দিতে পারি কিনা।
আর সুমতি! সে আমার জীবনেও হবে না, না হোক দেঁতো হাসি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

শাব্দিক এর ছবি

জাফর ইকবাল স্যারের "প্রেত" মনে পড়ছে।
পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

জাফর ইকবাল স্যরের প্রেত? পড়িনি বলেই মনে হচ্ছে, জাফর ইকবাল স্যারের 'পিশাচিনী' পড়েছিলাম। পড়ে দেখতে হবে।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

বন্দনা এর ছবি

যাক আপনি অবশেষে ফেরা নিয়ে ফিরলেন।পরের পর্ব দিয়েন তাড়াতাড়ি, এত্ত ঝুলায়ে রাখলে হবে না কবি।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

এক সপ্তাহ টাইম দেন। অবশ্য এখন প্রতিশ্রুতি দেয়া বাদ দিয়ে দিছি, কারণ মানুষ তো প্রতিজ্ঞা করে প্রতিজ্ঞা ভেঙ্গে হাঁফ ছেড়ে বাঁচার জন্যে।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

বন্দনা এর ছবি

হুম বুঝছি, আপ্নের শক্ত মাইর দরকার, মাইরের উপর কোন ওষূধ নাই । দেঁতো হাসি

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

মাইর দিবেন কিল্লাই? ছাত্রলীগে যোগ দিছেন্নি?

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

কল্যাণ এর ছবি

বাকি বাক্স গুলায় কি?? চিন্তিত

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

বাকি বাক্সগুলা তো এখন পর্যন্ত খালি, সেইটা লিখছি তো মনে হয়!

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

কল্যাণ এর ছবি

ওভাই ৮ কো?

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

আসবে আসবে হাসি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

 জলছাপ এর ছবি

খুবি ভালো লাগলো পড়ে, পরের সিরিজ কবে নাগাদ পাবো? অপেক্ষায় রইলাম চলুক

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ। লেখাটা আসলে ঝুলে গেছে। অনেক কাজ কামে ব্যস্ত হয়ে পড়ছি। সামনে মাস্টার্সের ডিফেন্স। থিসিস লেখা ফেরাকে আর ফিরতে দিচ্ছে না।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

আশফাক আহমেদ এর ছবি

এই পর্ব থেকে পড়া শুরু করলাম।
এখন মেমেন্টোর মত পাস্টে যেতে হবে

-------------------------------------------------

ক্লাশভর্তি উজ্জ্বল সন্তান, ওরা জুড়ে দেবে ফুলস্কেফ সমস্ত কাগজ !
আমি বাজে ছেলে, আমি লাষ্ট বেঞ্চি, আমি পারবো না !
আমার হবে না, আমি বুঝে গেছি, আমি সত্যি মূর্খ, আকাঠ !

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

ফিডব্যাকের অপেক্ষায় থাকলাম হাসি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।