মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর সমীপেষু

শুভাশীষ দাশ এর ছবি
লিখেছেন শুভাশীষ দাশ (তারিখ: শনি, ১২/০২/২০১১ - ১২:৫৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর সমীপেষু,

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ওয়েবসাইটে ‘মেহেরজান’ সিনেমার পরিচালক রুবাইয়াত হোসেনের একটা পেপার নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করবো। ২০০৯ সালের ৩০-৩১ জুলাই তারিখে ‘Second International Conference on Genocide, Truth and Justice’ এ রুবাইয়াত হোসেন পেপারটি পড়েন। ‘Trauma of the Women, Trauma of the Nation: A Feminist Discourse on Izzat’ নামের এই পেপারে তথ্য বিভ্রাট, তথ্য নিয়ে মিথ্যাচার থেকে শুরু করে নিজের প্রয়োজন অনুসারে অন্যান্য গবেষণা থেকে তথ্য নিয়ে ভুল প্রয়োগ দেখতে পাই। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস বিকৃতির একটা অসাধু প্রয়াস আছে। এক এক করে ব্যাখ্যা করি।

ইজ্জত বনাম ধর্ষণ

রুবাইয়াত হোসেন বক্তব্যের শুরুতে বলতে চেয়েছেন- ‘দুই লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে’ বহুল ব্যবহৃত এই বাক্যাংশের মধ্যে নারীর অবমাননা ঘটে। তাঁর মতে, ধর্ষণের মতো একটা বীভৎস, নির্মম, অমানবিক ঘটনা ইজ্জতের বিনিময়ের মতো নিরীহ শব্দ দিয়ে প্রতিস্থাপন উদ্দেশ্য-প্রণোদিত। বীরাঙ্গনা উপাধি একাত্তরের ধর্ষিত মেয়েদের কপালে লজ্জা ছাড়া আর কিছু উপহার দিতে পারেনি বলে তিনি জানিয়েছেন। বীরাঙ্গনা শব্দটি সম্পর্কে ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণীর ভাষ্য জানতে চান রুবাইয়াত। প্রিয়ভাষিণী জানান-

“I thought it was a low profile word, I did not think of it as glorious” (রুবাইয়াত, ২০০৯:৩)

এখানে এসে রুবাইয়াত হোসেনের পেপারের গন্তব্য উদ্দেশ্যহীনতার পথ ধরে। তাঁর প্রাথমিক অভিযোগ ছিল কেন বীরাঙ্গনাদের প্রকৃত সংখ্যা জাতীয় ইতিহাসে সঠিকভাবে নেই আর যেটুকু ছিল সেটা কেন ধারবাহিকভাবে মুছে ফেলা হয়েছে। পরে তিনিই জানাচ্ছেন বীরাঙ্গনাদের প্রতি আমাদের সমাজের ভ্রুকুটি। সমাজের বিরূপ চাহনী পালটে দেয়া একটা দীর্ঘ, ধারাবাহিক ও শিক্ষামূলক প্রক্রিয়া। সেটা অর্জন করতে প্রচুর সময় লাগে। কিন্তু যুদ্ধপরবর্তী বাংলাদেশে (চল্লিশ বছর আগেকার) সেই সময়কার মানুষের কাছে নারীর অবস্থান এখনকার মতো আধুনিক ছিল না। পুরুষ নারী নির্বিশেষে সবাই একটা যুদ্ধের ট্রমা থেকে বেরিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন না। একাত্তর-পরবর্তী সময়ে মানুষের কাছে নারীর সঠিক মূল্যায়ন দাবী করা কিছুটা অসঙ্গত। ফলে বীরাঙ্গনাদের কপালে বীরাঙ্গনা তিলক যে আখেরে তাদেরকে উঁচু অবস্থানে নিয়ে যাবে না সেটার আন্দাজ বুঝতে পেরে বীরাঙ্গনাদের অন্যান্যদের সাথে মিশিয়ে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনানোর চেষ্টাকে গর্হিত কিছু বলে মনে হয় না। হয়তো এতে কিছু তাত্ত্বিকদের নারীবাদ একটু ভোঁতা হয়, কিন্তু বীরাঙ্গনা বা ধর্ষিতার পরিচয় সরিয়ে (খারাপ শব্দে লুকিয়ে) যে নারী একটা স্বাভাবিক জীবন পেয়েছেন, তাঁর কাছে এই থিয়োরির কানাকড়িও মূল্য নেই। সুসান ব্রাউনমিলার রচিত Against Our Will: Men, Women and Rape বইয়ের বাংলাদেশ অংশ থেকে ইচ্ছামত উদ্ধৃতি ব্যবহার করে নিজের বক্তব্যকে জোরালো করার চেষ্টা করেছেন রুবাইয়াত হোসেন। স্বাধীন বাংলাদেশে বীরাঙ্গনাদের বিয়ে দেয়ার জন্য যৌতুক প্রথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন-

The government even took initiatives to marry these women off by offering lucrative dowries, “the demands of the men have ranged from the latest model of Japanese car painted red, to the publication of unpublished poems” (Brownmiller 1975, 83). (রুবাইয়াত, ২০০৯:৩)

ব্রাউনমিলার লেটেস্ট মডেলের জাপানি গাড়ি আর অপ্রকাশিত কবিতার বইয়ের প্রকাশ সম্পর্কে তথ্য জেনেছেন সরকারী এক কর্মকর্তার কাছ থেকে। কর্মকর্তা ধর্ষিতা মেয়েদের প্রসঙ্গে এটা উল্লেখ করতে ভুলেননি –

Many won’t be able to tolerate the presence of a man for some time. (মিলার, ১৯৯৩:৮৩)

রুবাইয়াত হোসেন একজনের বক্তব্য আংশিক প্রকাশ করে নিজের অপরিচ্ছন্ন গবেষণাকর্মের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর পেপার পড়ে মনে হতে পারে, এটা ব্রাউনমিলারের কোনো বক্তব্য। অথচ ব্রাউনমিলার তাঁর লেখায় উল্লেখ করেছেন এই বক্তব্য একজন সরকারি কর্মকর্তার। একাত্তরের ধর্ষণে ধর্ষণে জেরবার নারীরা কোনো পুরুষ সহ্য করতে পারছিল না। ব্রাউনমিলারের বইতে আছে-

Khadiga was regularly abused by two men a day; others, she said, had to service seven to ten men daily. (Some accounts have mentioned as many as eighty assaults in a single night, a bodily abuse that is beyond my ability to fully comprehend, even as I write these words). (মিলার, ১৯৯৩: ৮৩)

এক রাতে আশিবার ধর্ষিত নারীর তথ্য প্রকাশ করলে পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের অমানবিক আচরণের কিছুটা লেখায় চলে আসে। ফলে রুবাইয়াত হোসেন ইচ্ছে করে সেগুলো উল্লেখের প্রয়োজন মনে করেননি।

একদিকে বীরাঙ্গনাদের লিস্টি কেন সরিয়ে ফেলা হয়েছে তা নিয়ে লাইনের পর লাইন লিখে যাচ্ছেন, আবার সেই একই লেখায় জাহানারা ইমামের সমালোচনা করছেন কেন তিনি কয়েকজন বীরাঙ্গনাকে সবার সামনে এনে হাজির করিয়ে তামাশা করছেন। জাহানারা ইমামের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি ও এর ভূমিকার কোনোপ্রকার উল্লেখ না করে এক কথায় তাঁর কাজকে সমস্যামূলক চিহ্নিত করা প্রতিক্রিয়াশীলতার নামান্তর।

It is not only the nationalist narrative that can be charged with the allegation of objectifying women war victims, but the secular intervention under Jahanara Imam’s initiative was equally problematic. Three women from the rural area of Kustia were brought to Dhaka to give testimonies at the people’s court. These women were not explained adequately the concept behind the people’s court, on the contrary, their pictures were taken and published in the newspaper without their permission. (রুবাইয়াত, ২০০৯:১০)

রুবাইয়ার আসলে কি বলতে চান?

শর্মিলা বোস

রুবাইয়াত হোসেনের উদ্দেশ্যের সততা নিয়ে প্রশ্ন আসে যখন তিনি উল্লেখ করেন শর্মিলা বোসের কথা-

The recent visit of Sarmila Bose to Bangladesh and her statement in ‘Anatomy of Violence: An Analysis of Civil War in East Pakistan in 1971’, “in all of the incidents involving the Pakistan army in the casestudies,” has driven the urgency of the Birangona situation one step further. (রুবাইয়াত, ২০০৯:১২)

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সিভিল ওয়ার বা গৃহযুদ্ধ বলে চালানোর ঘৃণ্য প্রচারণা করে সুপরিচিত শর্মিলা বোসের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের কারণে বীরাঙ্গনাদের নিয়ে জানা জরুরী হয়ে পড়ে- রুবাইয়াত হোসেনের কলম থেকে নামা এই অমোঘ বাণী মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ওয়েবসাইটে উদোম থাকে দেখে কষ্ট হয়। শর্মিলা বোসের কেস স্টাডিতে নিপীড়নে (ধর্ষণের মতো বর্বর শব্দ তিনি উল্লেখ করেন না) পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী উভয়ের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। শর্মিলা বোস থেকে কিছু কিছু উদ্ধৃতি দিই-

While the excessive force used by the Pakistan army in the course of putting down the rebellion in East Pakistan, along with allegations of atrocities, has received greater public attention, the examination of incidents of violence at the ground level bear out Sisson and Rose’s conclusion that “One thing is clear – the atrocities did not just go one way, though Bengali Muslims and Hindus were certainly the main victims.” Many Bengali victims, Muslim or Hindu, are also found to have suffered at the hands of other Bengalis. (বোস, ২০০৫: ৯ )

The case studies show that brutalities were committed by all parties in the conflict and no party is in a position to occupy the moral high ground on this question without first acknowledging and expressing remorse for the inhumanities committed by its own side. Both sides must be held equally accountable in terms of the nature of the crime. (বোস, ২০০৫: ৯ )

In all of the incidents involving the Pakistan army in the case studies, the armed forces were found not to have raped women. While this cannot be extrapolated beyond the few specific incidents in this study, it is significant, as in the popular narrative the allegation of rape is often clubbed together with allegation of killing. Rape allegations were made in prior verbal discussions in some cases and in a published work on one of the incidents. However, Bengali eyewitnesses, participants and survivors of the incidents testified to the violence and killings, but also testified that no rape had taken place in these cases. While rape is known to occur in all situations of war, charges and counter-charges on rape form a particularly contentious issue in this conflict. The absence of this particular form of violence in these instances underlines the care that needs to be taken to distinguish between circumstances in which rape may have taken place from those in which it did not. (বোস, ২০০৫: ১১)

একাত্তরের যুদ্ধে শর্মিলা বোসেরা কোনো ধর্ষণের কেস পাননা। একইভাবে এই শর্মিলা বোসেরা কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নামের জায়গায় ‘গণ্ডগোল জাদুঘর’ কিংবা ‘গৃহযুদ্ধ জাদুঘর’ দেখে। আর এদিকে পেপার, থিসিস আর ইতিহাস বিকৃত করা চলচ্চিত্র ‘মেহেরজান’ এর মাধ্যমে একজন নব্য শর্মিলা বোসকে দেখতে পাই রুবাইয়াত হোসেনের মধ্যে।

সাক্ষাৎকার

রুবাইয়াত হোসেনের পেপারে বেশ কয়েকজনের সাক্ষাৎকার পাওয়া যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের প্রফেসর মুনতাসীর মামুন, ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী, সহকারী সচিব দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারি প্রমুখ। রুবাইয়াত হোসেন তাঁর লেখায় মুনতাসীর মামুন আর দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারির কথাগুলো নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রিয়ভাষিণী বীরাঙ্গনাদের প্রতি সমাজের বাঁকা দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সমালোচনা করেছেন। ফলে প্রিয়ভাষিণীর কথাকে অন্য দৃষ্টিকোণে দেখার প্রয়োজন মনে করেননি তিনি। উল্লেখ করা প্রয়োজন, ‘মেহেরজান’ সিনেমা দেখার পরে প্রিয়ভাষিণী সংবাদপত্রে এই ছবির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন-

খোলা মন নিয়েই আমরা মেহেরজান ছবিটি দেখতে গিয়েছিলাম। দাবি করা হয়েছিল, একাত্তরের পটভূমিতে নির্মিত এটি একটি যুদ্ধ ও ভালোবাসার ছবি। কিন্তু আমরা নিদারুণ আশাহত হয়েছি। আশাহত হয়েছি এ কারণে নয় যে, ছবিটি দুর্বল, চরিত্রগুলো আপনশক্তিতে দাঁড়াতে পারছে না, কিংবা হিন্দি সিরিয়ালের প্রভাব আছে এর রং ও পোশাকে—এসব কোনোটিই আশাভঙ্গের কারণ নয়। আমরা বরং আহত হয়েছি, বলা যায় অপমানিত হয়েছি, কাহিনি আর ক্যামেরায় মেহেরজান এমন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে, যা আমাদের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ আর চেতনার সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা করেছে। যুদ্ধ ও ভালোবাসার ছবির বাতাবরণে আসলে এ এক প্রতারণা আর অপমানের ছবি। প্রতারণা পুরো জাতির সঙ্গে—যাঁরা অসাম্প্রদায়িকতা, ধর্মনিরপেক্ষতা আর প্রগতিশীল মানসকাঠামোয় আস্থা রাখেন, তাঁদের সঙ্গে, আর অপমান সব নারী আর পুরুষ মুক্তিযোদ্ধাকে।

রুবাইয়াত হোসেন সাক্ষাৎকারে কি কি তথ্য এনেছেন দেখি। মুনতাসীর মামুন বলেছেন-

There is no need to ‘dig out’ the narratives of rape from 1971 because the phrase, ‘two hundred thousand mothers and sisters lost their izzat’ has become a part of our diction. (রুবাইয়াত, ২০০৯:৮)

পাটোয়ারি সাহেবের মুখে শুনি-

Are Birangonas freedom fighters? Are they war affected freedom fighters? What are they? (রুবাইয়াত, ২০০৯:৮)

আরো উল্লেখ আছে-

Mr. Patwari mentioned that, information about Birangonas were not recorded for ‘shonggoto’ meaning obvious reasons, after all, these women had to be married off, or resettled with the families if married previously. (রুবাইয়াত, ২০০৯:৮)

মুনতাসীর মামুন আর দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারির বক্তব্য দেখে বোঝা যাচ্ছে, বীরাঙ্গনাদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ্যে আনার কাজে তারা যেতে চাইছেন না। কারণ তাদের মতে, এটা সঙ্গত হবে না। বীরাঙ্গনাদের সঠিক সম্মান দিতে না পারার দায় একাংশে আমাদের ওপর বর্তায়। সেটা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন আছে। কিন্তু রুবাইয়াত হোসেনের উদ্দেশ্য-প্রণোদিত পেপার থেকে সেই জ্ঞানটুকু বুঝে নেয়া অপ্রয়োজনীয়। রুবাইয়াত হোসেনের উল্লেখিত পাটোয়ারি সাহেবের প্রথম বক্তব্য বেশ রূঢ়। এটা যদি তিনি বলে থাকেন তবে তাঁর হীন বক্তব্যের জন্য নিন্দা জানাই। রুবাইয়াত হোসেন এসব সাক্ষাৎকার উল্লেখ করেছেন কিছুটা ক্যামোফ্লেজ তৈরি করার জন্য। একাত্তরের পরে আমাদের ধর্ষিতা মা বোনদের (এটা নিয়েও রুবাইয়াত হোসেনের নারীবাদি আর্তনাদ আছে- কেন শুধু মা-বোন? কেন বউ বা অন্য কিছু না!) প্রতি বাংলাদেশের মানুষের নির্মমতা কোনো অংশে একাত্তরের পাকিস্তানিদের নিপীড়নের (পাকিস্তানিরা ধর্ষণ বা অত্যাচার করেছে এগুলো রুবাইয়াত হোসেন কখনোই উল্লেখ করেন না। কারণ আদৌ কোন ধর্ষণ হয়েছে কিনা তিনি সন্দিহান।) চেয়ে কম নয়- এটাই তার বক্তব্যের সারকথা। সেটাকে জোরালো করার জন্য প্রয়োজনীয় ক্যামোফ্লেজ আনতে তাঁর বাধে না।

মিথ্যাচার

রুবাইয়াত হোসেন তাঁর পেপারে তথ্য নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন। পেপারে দেখতে পাই-

The number of rape victims range from 40,000 to 250,000, (16) the number of abortions range from 23,000(17) to 50,000, (18) and the number of war babies range from 400 to 10,000. (19) (রুবাইয়াত, ২০০৯:৮)

এখানের 16 এবং 18 নম্বর সূত্রের বইয়ের নাম Against Our Will: Men, Women and Rape; ব্রাউনমিলারের লেখা। কিন্তু রুবাইয়াতের উল্লেখ করা ২৫০,০০০ সংখ্যার উল্লেখ বইটিতে পাওয়া যায়নি। সেখানে আছে:

During the nine-month terror, terminated by two-week armed intervention of India, a possible three million persons lost their lives, ten million fled across the border to India, and 200,000, 300,000 or possibly 400,000 women (three sets of statistics have been variously quoted) were raped. (ব্রাউনমিলার, ১৯৯৩: ৮০)

ব্রাউনমিলারের বইতে দুই, তিন, চার লক্ষ সংখ্যা তিনটি উল্লেখ করে বলা হয়েছে- এই তিনটি সংখ্যা নানা জায়গায় উদ্ধৃত করা আছে। সুসান ব্রাউনমিলারের নামে ২৫০,০০০ সংখ্যাটা রুবাইয়াত হোসেন কেন উল্লেখ করলেন? এটা অসততা। রুবাইয়াতের রেফারেন্স টানা তথ্য মতে, যুদ্ধশিশুর সংখ্যা ৪০০ থেকে ১০ হাজার। চারশো-র কোনো সূত্র নেই (হয়তোবা, মনগড়া!)। ১০,০০০ এর সূত্র আবারো ব্রাউনমিলারের বই। অথচ ব্রাউনমিলারের বইতে দেখি:

Accurate statistics on the number of raped women who found themselves with child were difficult to determine but 25,000 is the generally accepted figure. (ব্রাউনমিলার, ১৯৯৩: ৮৪)

পঁচিশ হাজার হয়ে গেছে দশ হাজার। এই অসততার কোনো জবাব কি রুবাইয়াত হোসেনের কাছে আছে?

মিথ্যাচার আরো আছে-

The eighth volume of the Bangladesher Shadhinota Juddho O Dolil Potro or Bangladesh Liberation War Documents is the only source in the official documents of Muktijuddho to have given space to incidents and accounts of rape from 1971. In the total 227 oral testimonies recorded in the eighth volume, 23 are of women, 11 of whom spoke of experiences of sexual violation. (রুবাইয়াত, ২০০৯: ৭)

এই অংশটুকুই বাংলা করে প্রথম আলোতে ছাপিয়েছেন রুবাইয়াত হোসেন-

তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিখন ও মুদ্রণ প্রকল্পের অধীনে ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে সংগৃহীত ও প্রকাশিত হয় আট খণ্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও দলিলপত্র। এটিই মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র আনুষ্ঠানিক তথ্যকোষ, যাতে এই নারীদের বিবৃতি আছে। মোট ২২৭ জনের মৌখিক জবানবন্দির মধ্যে ২৩ জন নারী। তাঁদের মাত্র ১১ জন যৌন নিপীড়নের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেছেন। এসব দলিলে একাত্তরে মেয়েদের ওপর ধর্ষণের নৃশংসতার কিছুটা আভাস পাই, কিন্তু তাঁদের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে কোনো ধারণা পাওয়া যায় না। সেনাশিবিরে সংঘটিত যৌন দাসত্বের পুরো চিত্রটিও এতে অনুপস্থিত। ফলে ১৯৭১ সালের নিপীড়িত নারীদের নির্ভরযোগ্য ইতিহাস লিখতে গিয়ে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় তাঁদের সংখ্যার ব্যাপক তারতম্য।

উল্লেখ করা ২৩ আর ১১ সংখ্যা সঠিক নয়। ২৯ জন নারী তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন। পাশবিক অত্যাচারের কথা স্বীকার করেছেন ১২ জন। বাকি সতের জনের মধ্যে একজন তাঁর নিজের মেয়ের ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন, অন্য আরেকজন তাঁর দুইজন মেয়ের ধর্ষণের কথা বলেছেন। ২৯ জনের প্রায় সবাই তাদের আশেপাশে ঘটা অজস্র পাশবিক ধর্ষণের ও অমানুষিক নির্যাতন ও হত্যার কথা ফিরে ফিরেই বলেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী পুরুষদের সবাই তাদের চোখে দেখা অজস্র ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের কথা বলেছেন।

আর ‘Sexual violation’ কিংবা তাঁর লিখিত বাংলায় ‘যৌন নিপীড়ন’ কি ধর্ষণকে ঠিকঠাক প্রকাশ করে? তাঁর পেপারের অর্ধেক জুড়ে ‘ইজ্জতের বিনিময়ে বলার মাধ্যমে ধর্ষণের মতো নির্মমতাকে বিলীন করে দেয়’ কথাবার্তাকে তাই অসাধু মনে হয়। রুবাইয়াত হোসেন ধর্ষণকে সুশীল শব্দ যৌন নিপীড়ন দিয়ে প্রতিস্থাপিত করতে চান।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা’ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হওয়ার পেছনের কারণ দিয়েছেন রুবাইয়াত হোসেন-

This song was banned from Pakistan Radio, which gave rise to patriotic emotion of Bengali nationalism. Thus, this song later became the national anthem when Bangladesh was formed as an independent state.(রুবাইয়াত, ২০০৯: ৮)

মানে দাঁড়াচ্ছে রবীন্দ্রনাথের গানটা পাকিস্তান রেডিও ব্যান করেছে বলেই সেটা পরে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত করা হয়। জানা তথ্য হচ্ছে- ১৯৭১ সালের তেসরা মার্চ তারিখে পল্টন ময়দানে ঘোষিত ইশতেহারে ‘আমার সোনার বাংলা’কে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে সেটাই জারি থাকে।

মা বনাম নারী বনাম দেশমাতা

রুবাইয়াত হোসেনের পেপার আগে শুনে নেই-

The iconification of ‘women as the nation’ creates a framework of imagination where women’s bodies appear literally as the map of the country. The spatial connection drawn between the female body and the territorial landmass symbolizes women as the nation. Rabindranath Tagore’s famous song, ‘Amar Shonar Bangla’ or ‘My Golden Bengal’ [the national anthem of Bangladesh] uses this template of representation as the landscape of Bengal transforms into different parts of the female body. The mother’s face, her smile, the ends of her sari all become diffused in the visualization of the nation as the female entity assumes a maternal role,

“Oh mother, in autumn, I have seen your sweet smile in the harvesting fields,
Alas! What I behold, your sweet smile, my golden Bengal, I love you…what a
sight, what a shade, what gentle love, what attachment you have spread with the
ends of you sari…”

মা আর ফিমেল/নারী একসাথে মেশালে বক্তব্যে গোঁজামিল থেকে যায়। রুবাইয়াত হোসেন বুঝে শুনেই হয়তো এগুলো করেছেন। শত্রুদেশের নারীদের ধর্ষণ করা যুদ্ধের একটা অলিখিত অঙ্গে পরিণত হয়েছে বহুকাল আগেই। রবীন্দ্রনাথের দেশকে মা ভাবা এক শ্রেণীর লোকের কাছে হিন্দু জাতীয়তাবাদ। এই কথাগুলিতে সাম্প্রদায়িকতার নতুন চাষাবাদ ঘটে। রবীন্দ্রনাথ দেশকে মা বলেছে বলে পাকিস্তানিরা এর কাউন্টার ধরে নিয়ে বাংলাদেশের মেয়েদেরকে ধর্ষণের পর ধর্ষণ চালিয়ে দেশমাতা বাংলাদেশকে শোধন করতে চেয়েছে- এগুলো একাত্তরের যুদ্ধ নিয়ে অতি সরলীকরণ। তবে রবীন্দ্রনাথকে কিছুটা অনারীবাদী সেকেলে হিন্দু জাতীয়তাবাদী হিসেবে দাঁড় করালে পাকিস্তানি হানাদারদের কিছুটা মানবিক মনে হয়। এদিকে কাজী নজরুলও দেশমাতাকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন-

একি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী জননী।
ফুলে ও ফসলে কাদা মাটি জলে ঝলমল করে লাবনী॥

রৌদ্রতপ্ত বৈশাখে তুমি চাতকের সাথে চাহ জল ,
আম-কাঁঠালের মধুর গন্ধে জৈষ্ঠে মাতাও তরুতল।
ঝঞ্ঝার সাথে প্রান্তরে মাঠে কভু খেল ল’য়ে অশনি॥

কেতকী কদম যূথিকা কুসুমে বর্ষায় গাঁথ মালিকা ,
পথে অবিরল ছিটাইয়া জল খেল চঞ্চলা বালিকা।
তড়াগে পুকুরে থই থই করে শ্যামল শোভার নবনী॥

শাপলা শালুকে সাজাইয়া সাজি শরতে শিশিরে নাহিয়া ,
শিউলি - ছোপানো শাড়ি প’রে ফের আগমনী - গীতি গাহিয়া।
অঘ্রাণে মা গো আমন ধানের সুঘ্রাণে ভরে অবনী॥

শীতের শূন্য মাঠে তুমি ফের উদাসী বাউল সাথে মা ,
ভাটিয়ালি গাও মাঝিদের সাথে (গো), কীর্তন শোন রাতে মা ,
ফাল্গুনে রাঙা ফুলের আবীরে রাঙাও নিখিল ধরণী॥

রুবাইয়াত হোসেন আপাতত নজরুলকে টানেন নি। কারণ শোনা যায় তাঁর চলচ্চিত্রের পরের প্রজেক্ট কবি কাজী নজরুল ইসলাম। আগাগোড়া অসাম্প্রদায়িক কাজী নজরুল ইসলাম হয়তো এবার রুবাইয়াত হোসেনের কবলে পড়ে দাঁড়িয়ে যাবেন কট্টর সাম্প্রদায়িক কবি হিসেবে।

মা যেহেতু শরীর দিয়ে সন্তান ধারণ করে, দেশের ক্ষেত্রেও তাই। মাতৃভূমি শব্দের কাউন্টারে ভূমিকে মা ধরা একটা স্বভাবগত ন্যারেটিভ। দেশকে মা হিসেবে পুত্তলিকা বানানো একটা হিন্দুয়ানী মিথ বলে চালু করার প্রবণতা রুবাইয়াত হোসেনদের। রবীন্দ্রনাথের ‘আমার সোনার বাংলা’ র বিপরীতে অন্যান্য গান/কবিতা কিংবা নজরুলের দেশমাতাকে নিয়ে লেখালেখি আনলে একটা অসাম্প্রদায়িক ধারাই পাওয়া যায়। কিন্তু রুবাইয়াত হোসেন এর মধ্যে দেখেন জাতীয়তাবাদ, নারীর অবমাননা।

মজার ব্যাপার, রুবাইয়াত হোসেনের কোট করা লেখক দীপেশ চক্রবর্তীর লেখায় ‘আমার সোনার বাংলা’ সঙ্গীতের উল্লেখ আছে। আর আছে বইটির ‘Nation and Imagination’ অধ্যায়েই।

Rabindranath Tagore employed his prosaic writings to document social problems, Tagore put his poetic compositions (not always in verse), and songs to a completely different use. These created and deployed images of the same generic category—the Bengali village—but this time as the as a land of arcadian and pastoral beauty overflowing with the sentiments that defined what Tagore would increasingly—from the 1880s on—call “the Bengali heart.” This was the “golden Bengal” of his famous 1905 song later adopted as the national anthem of Bangladesh:

My golden Bengal, I love you.
Your sky, your breezes ever play through the flute of my heart.
O Mother, the fragrance of your spring mango
groves drives me wild,
Ah me—
O Mother, what honeyed smiles I have seen upon
your fields of late autumn. (চক্রবর্তী, ২০০০:১৫২-১৫৩)

রবীন্দ্রনাথের এই গান নিয়ে দীপেশ চক্রবর্তীর দৃষ্টিকোণ আর রুবাইয়াত হোসেনের দৃষ্টিকোণের পার্থক্য সহজেই বোঝা যায়।

ফিকশনে মুক্তিযুদ্ধ

রুবাইয়াত হোসেনের মতে এ যাবতকাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গল্প উপন্যাসে বীরাঙ্গনাদের ঠিকমতো আনা হয় নাই।

আনিসুল হকের ‘মা’ আর আনোয়ারা সৈয়দ হকের ‘মুক্তিযোদ্ধার মা’ বই দুইটিকে একসাথে রেফারেন্স করে তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণে তাকিয়েছেন রুবাইয়াত হোসেন-

As ‘Maa’ or the mother is uplifted to the saintly level and her asexual role of selfless sacrifice is valorized, the loss of chastity of Bengali women in 1971 is completely removed from the narrative of women’s involvement in the freedom movement. While the mother guards patriarchal national pride through this remembrance of her son’s bloodshed, the loss of chastity becomes irrelevant to the glorious narrative of the nation. (রুবাইয়াত, ২০০৯: ৯)

সেলিনা হোসেনের ‘কাঠ কয়লার ছবি’ থেকে তার অভিমত-

The entire idea of rape and forceful pregnancy is flipped to make the womb a space of resistance and rebellion, holding the agency to rebuild a nation by literally biologically reproducing the members of it. It is this particular use of the female body, and its biological functions, that render the incident of rape and loss of chastity unproblematic, even glorious, in this narrative. (রুবাইয়াত, ২০০৯: ৯)

পুরুষতান্ত্রিক জাতীয়তাবাদী অহম, নারীকে বা মাকে দেশের আদলে চিন্তা করার মাধ্যমে নারীকে শত্রুদেশের ভোগ্যপণ্যে পরিণত করা হয়। কথাগুলি নতুন নয়। পার্থ চ্যাটার্জি এই তত্ত্ব নিয়ে অনেক বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। রুবায়াত তাঁর ইচ্ছানুয়াযী গরলপাঠ পাঠকের কাছে হাজির করে বাংলাদেশের লেখক সাহিত্যিকদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচনাবলি এক অর্থে নাকচ করার চেষ্টা করেন।

নীলিমা ইব্রাহীমের ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ বই থেকে রুবাইয়াত হোসেন উল্লেখ করেন কেবল নীলিমা ইব্রাহীম কেন আর বীরাঙ্গনাদের নিয়ে আর কথা বলতে চান না সেই অনুষঙ্গ। কারণ স্বাধীন বাংলাদেশে বীরাঙ্গনাদের প্রতি সাধারণ মানুষের অবহেলা দেখে দেখে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। অথচ বইতে বর্ণিত বীরাঙ্গনাদের প্রতি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের কথা তিনি একবারও উল্লেখ করেন না। বীরাঙ্গনাদের তিনি কতোটা নিম্নস্তরে নামাতে পারেন সেটা বোঝা যায় তাঁর গোলাপি প্রেমের সিনেমা ‘মেহেরজান’-এর মাধ্যমে। নীলিমা ইব্রাহীমের বইতে মেহেরজান নামের এক বীরাঙ্গনার কথা আছে। পাকিস্তানিদের ধর্ষণ ক্যাম্পে তিনি দীর্ঘদিন ধর্ষিত হয়েছেন। পরে পাকিস্তানি এক বুড়ো হাবিলদারকে বিয়ে করে তিনি পাকিস্তান চলে যান। রুবাইয়াত হোসেন এই নামটা ব্যবহার করেই নায়িকাকে একাত্তরের প্রেক্ষাপটে দাঁড় করিয়ে একজন বেলুচ সৈন্যের সাথে তার প্রেমের রঙিনতা দর্শককে উপহার দেন। ঘোষণা করতে চান এর মাধ্যমেই বীরাঙ্গনাদের ক্ষত সারবে।

জাতি এবং কল্পনা

রুবাইয়াত হোসেন জাতি ও কল্পনা প্রসঙ্গে তাঁর পেপারে লিখেছেন-

In the South Asian context, a culture specific construction of femininity has been noted as an integral part of imagining the nation (Chatterjee 1993; Chakrabarty 2000). (রুবাইয়াত, ২০০৯: ৪)

এখানে পার্থ চ্যাটার্জীর উল্লেখে ভুল নেই। কিন্তু দীপেশ চক্রবর্তীর নাম আসলো কোন জায়গা থেকে? গ্রন্থপঞ্জীতে তাঁর বইয়ের নাম দেয়া আছে Provincializing Europe; এই বই খুঁজে দেখি ফেমিনিটি নিয়ে বইটাতে একটা মাত্র এন্ট্রি। সেটাও এসেছে শরৎচন্দ্রের এক কথোপকথনে। দীপেশ চক্রবর্তীর বইয়ের অধ্যায় ছয়ের নাম ‘Nation and Imagination’; সেখানে ১৪৯-১৭৯ পৃষ্ঠার মধ্যে ফেমিনিটির সাথে জাতীয়তাবাদ বা জাতি-ও-কল্পনা-কে জড়ানো হয় নাই। না পড়ে গবেষণা করার লোকের সারিতে তাই রুবাইয়াতকে ও দেখতে পাওয়া যায়।

অপরিচ্ছন্ন গবেষণা

রুবাইয়াত হোসেনের পেপার পরিষ্কার কোনো গবেষণাকর্ম নয়। পেপারে এক জায়গায় আছে-

The iconification of ‘women as nation’, on the other hand, imposes the qualities of the nation on to women. For instance, nineteenth century Bengali nationalism sought its unique, spiritually superior, and private domain by locating unique national attributes in Bengali women. Women, thus, became the ground upon, which nineteenth century Bengali nationalism flourished and modernity was authored.10 (রুবাইয়াত, ২০০৯: ৪-৫)

কিন্তু ফুটনোটে ১০ নম্বরের কোনো এন্ট্রি নেই। গ্রন্থপঞ্জীতে কিছু বইয়ের নাম আছে যেগুলোর কোনো উল্লেখ পেপারের মধ্যে পাওয়া যায় না। বেনিডিক্ট এন্ডারসন, তালাশ উপন্যাসের লেখিকা শাহীন আখতার, বেগম মুশতারী শফির নাম ও গ্রন্থের নাম গ্রন্থপঞ্জীতে আছে, কিন্তু পেপারের মধ্যে কোনো উল্লেখ নেই। তাছাড়া ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার উল্লেখ করে অন্যের মুখে কথা বসিয়ে দিলে তার সত্য মিথ্যা যাচাইয়ের সুযোগও থাকে না।

রুবাইয়াতের পেপারে উল্লেখ করা কিছু সুসমাচার

শর্মিলা বোসের পেপার থেকে কোট করা উদ্ধৃতিগুলো ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে না। রুবাইয়াত হোসেনের পেপারেও সেইরকম কিছু সেলফ-এক্সপ্লেনেটরি উদ্ধৃতি উল্লেখ করি-

Bangladesh became a sovereign nation on December 16, 1971. The national rhetoric is: our sovereignty or swadhinota has cost us three million lives and two hundred thousand women’s ‘izzat.’ (রুবাইয়াত, ২০০৯: ২)

The nation had failed to protect its women, and the failure had to be rendered unproblematic by destroying historical records about the raped women. (রুবাইয়াত, ২০০৯: ২)

I will argue that, the Birangonas’ threat to the national imagination is not only rendered unproblematic, but also made to appear in coherence with the ideology that, women’s ‘chastity’ is the upholder of nation’s sacred-inner-private-cultural domain of identity by a two fold process of, a. selective official record keeping on one hand, and b. mainstream literary and visual solutions on the other. (রুবাইয়াত, ২০০৯: ৫)

The oral testimonies often speak indirectly about ‘rape,’ rather it is implied, hinted towards, even blurred with non-sexual modes of violence during the nine months of Muktijuddho. (রুবাইয়াত, ২০০৯: ৫)

The Birangonas’ already marginalized position in the historical narrative of Bangladesh reaches its ultimate epitome when the 2005 edition of Secondary School history book ‘Bangladesh O Prachin Biswa Itihash’ or ‘The History of Bangladesh and Ancient World,’ published by the National Board of Education, makes no reference to those 200,000 mothers and sisters who lost their izzat during the nine months’ of Muktijuddho. (রুবাইয়াত, ২০০৯: ৬)

Since the state is unable to produce concrete numbers the question remains unresolved . Absence of the backbone of official historical documents—the facts and figures, further complicates the process of incorporating Birangonas’ narratives in the official national history of Bangladesh. (রুবাইয়াত, ২০০৯: ৮)

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

পেপারে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নিয়ে কি কি বলা আছে দেখি-

Liberation War Museum in Dhaka documents mass rape of women during wartime. (রুবাইয়াত, ২০০৯: ২)

If one looks at the national history of Bangladesh from a patriarchal-mainstream point of view then, it seems that, the raped women of 1971 are not forgotten. These women appear in national history text books, popular literature, and even in the museum! (রুবাইয়াত, ২০০৯: ২)

In the realms of state apparatus, information about Birangonas is carefully removed from the highest official historic archives, such as the Ministry of Liberation War Affairs, national history text books, and the state run rehabilitation and welfare programs. Birangonas thereby, find a place in the ‘less’ official historic archives such as the Banglapedia11, Bangladesher Shadhinota Juddho Dolil Potro or Bangladesh Liberation War documents,12 Liberation War Research Center13 and Liberation War Museum. (রুবাইয়াত, ২০০৯: ৫)

একবার তিনি বলছেন- ইতিহাস থেকে বীরাঙ্গনাদের নাম মুছে ফেলার চক্রান্ত হয়েছে। আর এই চক্রান্তে অন্যান্যদের সাথে যোগ দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। তাই চক্রান্তকারী মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের পেছনে আশ্চর্যবোধক চিহ্নের ব্যবহার কি তাঁর ফ্রয়েডীয় ভুলচুক? অন্যদিকে পাঠ্য বইতে কিংবা সাহিত্যে এমনকি জাদুঘরে বীরাঙ্গনাদের উল্লেখ দেখলে তিনি অবাক হন। বীরাঙ্গনারা নিজেদের একমাত্র পরিচয় হিসেবে তিনি যে ধর্ষণের শিকার সেটা সর্বসমক্ষে উঁচু গলায় ঘোষণা করা উচিত।- এই বায়বীয় নারীবাদী আচরণে একাত্তরের বীরাঙ্গনাদের যাবতীয় দহন থেমে যাবে বলে বিশ্বাস রাখেন রুবাইয়াত হোসেন।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভূমিকা

দৈনিক সমকালের ২৫ ডিসেম্বর, ২০১০ তারিখে প্রকাশিত ‘গবেষণার কাজে 'মেহেরজান'-এর টিকিট বিক্রির অর্থ’ শিরোনামের সংবাদে দেখতে পাই-

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'মেহেরজান' আগামী ২১ জানুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। ছবিটির মোট টিকিট বিক্রি থেকে শতকরা ১৫ ভাগ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে দেওয়া হবে। এ অর্থ ব্যয় হবে মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অংশগ্রহণের ওপর গবেষণার কাজে। এ তথ্য জানিয়েছেন 'মেহেরজান'-এর পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন। তিনি জানান, আগামী ২৭ জানুয়ারি দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানেই এ ঘোষণা দেওয়া হবে।

রুবাইয়াত হোসেনের এই ঘোষণার কারণেই কি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নীরব?

রুবাইয়াত হোসেন নিম্নমানের বিশেষ প্রোপাগান্ডার সিনেমা ‘মেহেরজান’ হলে মুক্তি পাবার পরে এর বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ ওঠে। ব্লগে, ফেসবুকে ‘মেহেরজান’ নিয়ে তর্ক বিতর্কের ঝড় ওঠে। ‘মেহেরজান’-র পক্ষে একদল সাফাই গাইতে থাকে কাউন্টার ন্যারেটিভ আর রিকন্সিলিয়েশানের বয়ান নিয়ে। অন্যপক্ষ ফাঁস করে দেয় রুবাইয়াত হোসেনের আসল গোমর। রুবাইয়াত তাঁর বিরুদ্ধে লেখালেখিতে রত অনলাইন কম্যুনিটির লেখকদের ‘আজাইরা’ লেখক হিসেবে ঘোষণা করে মফিদুল হক, আলী যাকের, মুনতাসীর মামুনদের নীরবতাকে পরোক্ষ সমর্থন বলে উল্লেখ করেন।

এই ছবি নিয়েতো মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর কিছু বলেনি। মফিদুল হক কি কিছু বলেছেন, আলী যাকের কিছু বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগের কোনো শিক্ষক কি এর প্রতিবাদ করেছেন, মুনতাসীর মামুন কি কোনো আপত্তি উত্থাপন করেছেন? তারা তো কিছু বলেননি।

এতোকিছুর পরেও রুবাইয়াত হোসেনের মিথ্যায় ভরপুর লেখা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ওয়েবসাইটে জ্বলজ্বল করতে থাকে। মুক্তিযুদ্ধকে তামাশা বানিয়ে দেয়া ছবির মুক্তির পেছনে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একাত্তরের যুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ লোককে নির্মমভাবে হত্যা করেছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আর তাদের দোসর একাত্তরের ঘাতক দালালেরা। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের দুই তিন কিংবা চারজন লোকের সার্টিফিকেটে বাংলাদেশের শর্মিলা বোস রুবাইয়াত হোসেনের সমস্ত অপরাধ মাফ হয়ে যাবে?

সূত্র:

১। Rubaiyat Hossain, Trauma of the Women, Trauma of the Nation: A Feminist Discourse on Izzat, July, 2009
২। Brownmiller, Susan. Against Our Will: Men, Women and Rape. Faucett Columbine, 1993
৩। Chakrabarty, Dipesh. Provincializing Europe. New Jersey: Princeton University
Press, 2000
৪। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, দলিলপত্র: অষ্টম খণ্ড, গণহত্যা, শরণার্থী শিবির ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার (তথ্য মন্ত্রণালয়), জুন, ১৯৮৪

ফিরে: কিছু জায়গায় সম্পাদনা করা হবে। টাইপোর জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।


মন্তব্য

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

পোস্টের জন্য হ্যাটস অফ।

মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের সাথে রুবাইয়াতটাইপ সকল মিথ্যাচারের সংশ্লিষ্টতা দূর করতে হবে।
এই আকামের সাথে জড়িত ব্যক্তিদেরকে যথাযথ শাস্তি দিতে হবে।
তা না হলে কিছু দুই নাম্বার দুর্নীতিবাজ পার্সেন্টেজ খাওয়া কুত্তার বাচ্চার জন্য মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরই বিতর্কিত হয়ে যাবে এবং সেটা করতে পারলে স্বাধীনতা বিরোধীদেরই ষোলকলা পূর্ণ হবে। সুতরাং এখনই সময় ওগুলোকে গদাম দেয়ার।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের টার্মস-অফ-রেফারেন্স কি? তারা কি মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস এবং চেতনাকে যাদুঘরে পাঠানোর মিশনে নেমেছেন? চিন্তিত

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

হিমু এর ছবি

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে কর্তৃপক্ষ, আপনারা হয়

১. ওয়েবসাইটে "বাংলাদেশে নব্য পাকিস্তানপন্থীদের প্রোপাগাণ্ডা" সেকশন খুলে সেখানে নিয়ে রাখুন

নয়তো

২. পেপারটিকে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নিন।

অনুরোধটি রক্ষা করলে উত্তরপ্রজন্মের একজন হিসেবে অশেষ কৃতজ্ঞ থাকবো। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কমিশন খাওয়ার বাণিজ্যে আপনাদের সংশ্লিষ্টতা দেখতে চাই না। ধন্যবাদ।

দ্রোহী এর ছবি

রুবাইয়াত, শর্মিলা বোসের মত কিছু অভাগা যোনিপথে বেরিয়ে এসে পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ পায় না। তাদের জন্ম হয় গুহ্যদ্বার দিয়ে, বিষ্ঠা মাখা পরিবেশে। এ কারণে তাদের জীবন হয় বিষ্ঠাময়।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের কাছে আকুল আবেদন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাকে জাদুঘরে পাঠাবেন না।

নিবিড় এর ছবি

জ্ঞানপাপীদের মত ভয়ংকর জিনিস খুব কম আছে

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

শুভাশীষ দা, এই লেখাটার একটা ইংরেজি অনুবাদ রুবাইয়াতের প্রফেসরকে পাঠানোর ব্যবস্থা কি করলেন? গবেষণা প্রবন্ধে গরমিল করা উন্নত বিশ্বে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ!

লেখার জন্য সালাম।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

আপনারা কেউ একজন ইংরেজি করেন। কেউ আগ্রহ না পেলে তখন আমি করবো।

তানভীর এর ছবি

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

আপনাকে কুর্ণিশ করে গেলাম...

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

হাসিব এর ছবি
সাইদ এর ছবি

আপনাকে সশ্রদ্ধ সালাম।

কুলদা রায় এর ছবি

১. শর্মিলা বসুর বৈবাহিক সূত্রে পাকিস্তানী। তার হাজবেন্ড পাকিস্তানী এবং আইএসএসআই-এর লোক। এ বিষয়টা জালাল ভাই নিশ্চিত করেছেন। সুতরাং শর্মিলা বোস পাকিস্তানী এজেন্ট হিসাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করবে--এটা খুব স্বাভাবিক।
২. মেহেরজানের প্রিমিয়ার শোতে ফরহাদ মজহার ৩৬জন অনুসারী নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।
৩. সেন্সরবোর্ড মেহেরজান ছবি সেন্সবোর্ড আটকে দেন ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে। তখন মফিদুল হক বিশেষজ্ঞ হিসাবে বলেন যে এ ছবিতে কোনো ইতিহাসবিকৃতি নাই। সুতরাং একে প্রদর্শনের অনুমোদন দেওয়া হোক। সেন্সরবোর্ড তখন তাই করেন।
৪. পাকিস্তানপন্থী চৈনিক ভামরা ছাড়া মেহেরজানের পক্ষে কেউ কলম ধরেন নাই।

...............................................................................................
'এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর'

স্পর্শ এর ছবি

শুভাশীষ দা হচ্ছেন এ শতাব্দীর ছফা।
লুঙ্গির গিট্টু ঠিকমতো টাইট না দিয়ে আর কোনো বুদ্ধিজীবি এখন আর মাঠে নামার সাহস পাবে না দেঁতো হাসি

সত্যিকারের কাজের কাজ হইসে একটা। চলুক


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

ফাহিম হাসান এর ছবি

লুঙ্গির গিট্টু ঠিকমতো টাইট না দিয়ে আর কোনো বুদ্ধিজীবি এখন আর মাঠে নামার সাহস পাবে না

চলুক

অতিথি লেখক এর ছবি

শুভাশীষ দাশ আজাইরা র‍্যাঙ্কিং-এ সর্বোচ্চ নাম্বার নিয়ে এগিয়ে আছেন। আপনাকে অভিনন্দন। -রু

সুমন চৌধুরী এর ছবি

আমার কেমন মনে হচ্ছে ইনি আওয়ামী ঘরানায় উত্তরাধুনিকতার একটা টেস্ট কেস। অপ্রাসঙ্গিক বাক্যের কোলাজ তৈরী করে তথ‌্য জালিয়াতি হালালকেই ক্রমশ বর্তমানের ট্রেণ্ডে পরিণত করা বহুলোকের জন্যই জরুরি।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি
ফাহিম হাসান এর ছবি

আপনার প্রভুখন্ড পোস্ট। পাঠ প্রতিক্রিয়া জানানোর ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা’ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হওয়ার পেছনের কারণ দিয়েছেন রুবাইয়াত হোসেন-This song was banned from Pakistan Radio, which gave rise to patriotic emotion of Bengali nationalism. Thus, this song later became the national anthem when Bangladesh was formed as an independent state.(রুবাইয়াত, ২০০৯: ৮)
মানে দাঁড়াচ্ছে রবীন্দ্রনাথের গানটা পাকিস্তান রেডিও ব্যান করেছে বলেই সেটা পরে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত করা হয়। জানা তথ্য হচ্ছে- ১৯৭১ সালের তেসরা মার্চ তারিখে পল্টন ময়দানে ঘোষিত ইশতেহারে ‘আমার সোনার বাংলা’কে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে সেটাই জারি থাকে।

প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় কিছু তথ্য উল্লেখ করছি (শুভাশীষ ও হাসিবের অনুরোধে ):

একাত্তরের উত্তাল মার্চের ৩ তারিখে স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের পক্ষে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ পঠিত ইশতেহারে ’বাংলাদেশ’ নাম এবং কবিগুরুর ’আমার সোনার বাংলা’ গানটিকে জাতীয় সঙ্গীত করার প্রস্তাব করা হয় । উল্লেখ্য, ছাত্রলীগকে স্বাধীনতার পথে পরিচালনার লক্ষ্যে সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে নিউক্লিয়াস গড়ে উঠে ।

কিন্তু প্রশ্ন হল- জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে আমার সোনার বাংলা গানটি করার চিন্তাটা কার ? সিরাজুল আলম খানের ? জান্তে চলুন আরেকটু পেছনে যাই-

স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের নিমিত্তে ১৯৬৫ সালে ঢাবি বাংলা বিভাগের ছাত্র আবদুল আজিজ বাগমারের নেতৃত্বে গড়ে উঠে ‘অস্থায়ী পূর্ববঙ্গ (অপূর্ব) সরকার নামে আরেকটি গোপন সংগঠন’ । সংগঠক হিসেবে ছিলেন ঢাবি ছাত্র খন্দকার বজলুল হক, শান্তি নারায়ণ ঘোষ (উভয়ে বর্তমানে ঢাবি’র শিক্ষক) প্রাণেশ কুমার মণ্ডল, হাবিবুর রহমান ও অন্যান্য। উক্ত সংগঠনের সভাপতি ছিলেন বেগম সুফিয়া কামাল আর সাধারণ সম্পাদক আবদুল আজিজ বাগমার। উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত ছিলেন, ড. আহমদ শরীফ, ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, মুহম্মদ আবদুল হাই, শওকত ওসমান প্রমুখ। ‘স্বাধীনতার স্বপ্ন : উন্মেষ ও অর্জন’ গ্রন্থ সূত্রে জানা যায়, অপূর্ব সংসদ ১৯৬৫ সালের ১ অক্টোবর ‘ইতিহাসের ধারায় বাঙালি’ নামে একটি ইশতেহার প্রকাশ করে এবং এই ইশতেহারের রচয়িতা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ শরীফ। সমগ্র ইশতেহার জুড়ে বাংলাদেশের মাটি -জলবায়ু থেকে শুরু করে ভাষা ,সংস্কৃতি , ইতিহাস, জীবনবোধ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছিল এবং উল্লেখ্য, ১৯৬৫ সালে রচিত এই ইশতেহারের শেষের পৃষ্ঠায় ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’ গানটির প্রথম চার লাইন উল্লেখ ছিল। ড. নেহাল করিম এর মতে, ভবিষ্যত বাংলাদেশের ‘জাতীয় সঙ্গীত’ হিসেবে অধ্যাপক ড. আহমদ শরীফ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ রচিত ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’ গানটিকে নির্বাচন করেছিলেন ।

জাতীয় সঙ্গীত প্রশ্নে শরীফ স্যারের চিন্তা (ইস্তেহারের ’৬৫) সিরাজুল আলম খানের চিন্তায় (ইস্তেহার ’৭১) কিভাবে এলো ? কারন কি এই-

নিউক্লিয়াসের পুরোধা ছিলেন সিরাজুল আলম খান এবং উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ শরীফ এবং রাজনীতিক -রাষ্ট্রদুত কামরুদ্দিন আহমেদ।

সূত্রঃ স্বাধীনতা যুদ্ধের অপর নায়কেরা,নুরুজ্জামান মানিক, ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

আমার পরিবারের দু'জন সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধার নামে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের দু'টো ইট খরিদ করার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু সাম্প্রতিক মেহেরজানকেন্দ্রিক কন্ট্রোভারসিতে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের ভূমিকা আমাকে ভাবাতে শুরু করেছে যে আমার কেনা ইটের পাশের ইট'গুলো ইসলামী ব্যাংক বা কোনও সুদক্ষ পুনর্মিলকরণ (রিকনসিলিয়েশন) বিশেষজ্ঞের কেনা কি না। চিন্তিত

আমি নিশ্চিত যে আমার পরিবারের ওই দুই সদস্য মরে গেলেও মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের দেয়ালে জামাত এবং পুনর্মিলকারী পরিবেষ্টিত হয়ে থাকতে চাইবেন না।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

বাংলাদেশের শর্মিলা বোস রুবাইয়াত হোসেনের

দেশি চিনি, দেশি পিয়াজ , দেশি মাল ইত্যাদির পাশাপাশি একটা দেশি গবেষক (শর্মিলা বসু টাইপ ) দরকার ছিল মনে হয় উত্তরাধুনিক ছাগুদের ।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

রানা মেহের এর ছবি

আমাদের বুদ্ধিপরাধীরা এই লেখাগুলো পড়বেননা।
তাদের কাছে একটা বিদেশি ডিগ্রি আর গোলাপি জামার অনেক দাম।

খুব ভালো কাজ হচ্ছে শুভাশীষ দা

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

চলুক চলুক চলুক চলুক চলুক

নব্য পাকিস্তানপন্থীরা নিপাত যাক।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।