| ‹ পুরোনো ব্লগ | সব ব্লগ | নতুন ব্লগ › |
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর কাদম্বরী ------ ঘটনার অন্তরালে ২
ছাদের উপর কাদম্বরীর সাজানো বাগানে সন্ধ্যাবেলা বসত পরিপাটী গানের আসর। মাদুরের ওপর তাকিয়া, রুপোর রেকাবে ভিজে রুমালের ওপর বেলীফুলের গোড়ের মালা, গ্লাসভর্তি বরফপানি, বাটা ভর্তি ছাচি পান সাজানো থাকতো সবার জন্য। কাদম্বরী সেজে গুজে বসতেন সেখানে, জ্যোতিরিন্দ্র বাজাতেন বেহালা, রবীন্দ্রনাথ ধরতেন গান, যার আবেশ হয়তো সে ছাদকে অতিক্রম করে আরো চারধার ছুয়ে যেতো, “ফুলের বনে যার পাশে যাই, তারেই লাগে ভালো .........”। কিশোর রবীন্দ্রনাথের রোমান্টিক সৌন্দর্য চেতনাকে জাগিয়ে তুলতে এই পরিবেশ, এই সৌন্দর্য দৃষ্টি কল্পনার একান্ত প্রয়োজন ছিল, যা আমরা পরে রবীন্দ্রনাথের লেখায় ফিরে ফিরে দেখতে পাই। কাদম্বরী নিজেও ভালো গায়িকা ছিলেন, বিখ্যাত সংগীতজ্ঞ জগন্মোহন গঙ্গোপাধ্যায়ের পৌত্রী তিনি, গান ছিল তার রক্তে। তিনি আসার সাথে সাথে তিনতলায় শুধু পিয়ানো আসেনি, জ্যোতিরিন্দ্রের আর রবীন্দ্রনাথের অনুশীলনও শুরু হয়ে গিয়েছিল। শুধু গানই ছিলো না, সেখানে বসত রীতিমতো সাহিত্যপাঠের আসর। আসরে যোগ দিতেন বাড়ীর অনেকে, বাইরে থেকে আসতেন অক্ষয় চৌধুরী ও তার স্ত্রী শরৎকুমারী, জানকীনাথ, আর মাঝে মাঝে আসতেন কবি বিহারীলাল চক্রবর্তী। জ্যোতিরিন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ও স্বর্নকুমারী ছিলেন এই সভার স্থায়ী সদস্য। কবি বিহারীলাল চক্রবর্তী’র কবিতা কাদম্বরী খুব ভালোবাসতেন। তাকে প্রায়ই দাওয়াত করে নিজ হাতে রান্না করে খাওয়াতেন তিনি, কবির নিজের কবিতার কয়েকটি লাইন লিখে, আসন বুনে কবিকে উপহার দেন কাদম্বরী দেবী।
কাদম্বরী একজন সুঅভিনেত্রীও ছিলেন। নাট্যরসিক জ্যোতিরিন্দ্রের মন আরো উজ্জীবিত হয়ে উঠেছিল গুনবতী স্ত্রীকে পেয়ে। একেবারে ঘরোয়া পরিবেশে মাটির উঠোনে জ্যোতিরিন্দ্রের লেখা প্রহসন “এমন কর্ম আর করব না”তে প্রথম অভিনয় করলেন কাদম্বরী। রবীন্দ্রনাথ নায়কের ভূমিকায় ছিলেন, রবীন্দ্রনাথের প্রথম বিলেত যাত্রার আগে এই প্রহসনটি সফলভাবে অভিনীত হয়। এরপরে “বসন্ত উৎসব” , “মানময়ী”তেও কাদম্বরী ভাল অভিনয় করেছিলেন। কাদম্বরীর প্রধান পরিচয় তিনি অসাধারন একজন সাহিত্য প্রেমিক ছিলেন। তিনি শুধু সময় কাটাবার জন্য বই পড়তেন না, তিনি এক কথায় সেগুলোকে উপভোগ করতেন। তবে নিজে পড়ার চেয়ে শুনতে ভালোবাসতেন বেশী। দুপুরে রবীন্দ্রনাথ পড়ে শোনাতেন তাকে, হাত পাখা নিয়ে হাওয়া করতেন কাদম্বরী। “ভারতী” পত্রিকা নিয়েও তার ভাবনা ছিল। ছাপার হরফে “ভারতী”তে কোথাও তার নাম নেই সত্যিই কিন্তু তিনিই ছিলেন ওই পত্রিকার প্রান। তিনি মারা যাওয়ার পর সেটা আরো প্রকট হয়ে সকলের কাছে ধরা পড়ে। দ্বিজেন্দ্রনাথ সম্পাদক, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ দেখাশোনা করতেন, রবীন্দ্রনাথ লিখতেন তাহলে কাদম্বরী কি করতেন? শরৎকুমারীর ভাষায়, তিনি ছিলেন “ফুলের তোড়ার বাধন”। সবাইকে একসঙ্গে তিনি বেধে রাখতেন, সবার অলক্ষ্যে। বাধন যেদিন ছিড়ল, সেদিনই সবাই সেটি অনুভব করল।
রবীন্দ্রমানস গঠনে এই নারীর দান চিরস্মরনীয়। তার কবি হয়ে ওঠার মূলে আন্তরিক চেষ্টায় ছিলেন কাদম্বরী। কাদম্বরী সব সময় রবীন্দ্রনাথকে উসকে দিতেন, “ রবি সবচেয়ে কালো দেখতে, গলার যে কি অবস্থা, ওর চেয়ে সত্য ভালো গায়, ও কোনদিন গাইতেই পারবে না”। আরো বলতেন, “কোনকালে বিহারী চক্রবর্তীর মতো লিখতেও পারবে না”। রবীন্দ্রনাথের তখন শুধু চেষ্টা থাকতো কি করে এমন হবেন যে, বউদিদি আর কোন দোষ খুজে পাবেন না তার মধ্যে। রবীন্দ্রনাথ তখন বুঝতে পারতেন না, সেই সাধনাটিই করছে কাদম্বরী, যাতে কেউ কোনদিন রবীন্দ্রনাথের দোষ খুজে না পায়। যখন রবীন্দ্রনাথ এটি উপলব্ধি করলেন তখন চিরতরে হারিয়ে গেছেন বউদিদি। রবীন্দ্রনাথের প্রতিভার প্রদীপে তেল সলতে লাগিয়ে আলো জ্বালাবার কাজ তখন সারা। কিন্তু প্রিয় বউদিদি তখন চির অন্ধকারে, হয়তো তাই কবির কন্ঠে বাজে,
নয়ন সমুখে তুমি নাই
নয়নেরই মাঝখানে নিয়েছো যে ঠাই
রবীন্দ্রনাথের বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই তার অকাল মৃত্যু হয়। ঘটনাটা আকস্মিক হলেও অভাবনীয় নয়। তীব্র অভিমানীনি কাদম্বরী এর আগেও আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে ছিলেন। তিনি প্রচন্ড ইন্ট্রোভার্ট, সেন্টিমেন্টাল ও স্কিজোফ্রেনিক ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের বিয়ে হয়তো তার মন বেদনার একটা কারন ছিল কিন্তু সেটার কারন বালিকা মৃনালিনী ছিলেন না। রবীন্দ্রনাথের বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে কাদম্বরীর বিপুল উৎসাহ ছিল। কিন্তু তারপর আকস্মিকভাবেই তিনি চুপ করে গেলেন, কেনো? তাহলে কি পাত্রী নির্বাচন নিয়ে মতান্তর হয়েছিল তার কারো সাথে? ভবতারিণীকে মৃনালিনী করে তোলার ভার নীপময়ী মতান্তরে জ্ঞানদানন্দিনী পেলেন কেনো? প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, “কাদম্বরীর আকস্মিক মৃত্যুর কারন হচ্ছে, মহিলাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের পরিনাম”। সম্ভবত জ্ঞানদানন্দিনীর সাথেই তার মতান্তর হয়। হয়তো আরো কারন ছিল। কিন্তু বহিঃপ্রকাশ ঘটল এই সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এই সুরসিকা, রুচিশীলা, প্রতিভাময়ী নারীর জীবনেও শান্তির অভাব ছিল। সন্তানহীনতার ব্যাথা তার এই অভিমানকে হয়তো আরো তীব্র করে তুলেছিল। সেকালে বন্ধ্যা নারী ছিলেন উপেক্ষার পাত্রী। সমাজে সংসারে কোথাও তার তেমন কোন কদর ছিল না। কাদম্বরীও ঠাকুরবাড়ীর বৃহৎ সংসারে তার নিজের যথার্থ স্থানটি কখনও পাননি। নিজের এই মর্মজ্বালার কথা তিনি কাউকে প্রকাশ করে বলতেও পারেন নি। এই জন্য কাদম্বরীর মৃত্যুর পর সমসাময়িক অনেক লেখক কবিই তাদের লেখায় জ্যোতিরিন্দ্রকে দায়ী করেছিল। নিঃসন্তান স্ত্রীর শুন্যতা ভরিয়ে দেয়ার জন্য স্বামীর যতোখানি মনোযোগের প্রয়োজন ছিল তিনি হয়তো তা ছিলেন না।
যারা প্রথম পর্বটি পড়তে আগ্রহী তারা নীচের এই লিঙ্কটিতে ক্লিক করুন। http://www.sachalayatan.com/tanbira/16440
(চলবে)
০৪.০৭.০৮
২
ইয়া আল্লাহ, নিঃশ্বাস আটকে গেলে পুলিশতো আমাকে ধরতো, এরকম করলেতো চালানো যাবে না, ভাই।
হাহাহাহাহা, ধন্যবাদ আপনাকে।
তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে
৩
প্রথম ও দ্বিতীয় দুটি লেখাই পড়লাম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর কাদম্বরী দেবীর এই সম্পর্কের কথা জেনেছিলাম সুনীলের প্রথম আলো পড়ে; তাতে নিবৃত্তির চেয়ে কৌতুহল আরো বেড়েছে। আপনি যেভাবে লেখা শুরু করেছেন তাতে কৌতুহল পুরোপুরি মিটবে বলে আশা করছি।
চালিয়ে যান।
-------------------------------------
অর্থ নয়, কীর্তি নয় ,স্বচ্ছলতা নয়-
আরো এক বিপন্ন বিস্ময়
আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভেতরে
খেলা করে;
আমাদের ক্লান্ত করে;
৪
রাফি, আমি চেষ্টা করব যতদূর সম্ভব পূর্নাংগভাবে উপস্থাপন করতে।
ধন্যবাদ আপনাকে।
তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে
৫
ভাল লাগছে। আগেরটা পড়িনি, এটা লিখেই চলে যাব লিংক ধরে। আর কি,
কাদম্বরি কাদম্বিনীর মতে মরিয়াই প্রমাণ করিল সে মরে নাই। রবিরশ্মি যা থেকে জ্যোতি পেয়েছিল, তাতো আপনি বলেই দিলেন। চলুক।
৬
যার প্রেরনা থেকে এতো সমৃদ্ধ সাহিত্যে উৎপন্ন হয়েছে তিনি কি করে মরতে পারেন। তিনি বাঙ্গালীর জাতীর মাঝে চিরস্মরনীয়।
তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে
৭
কাদম্বরী দেবীর মৃত্যুতে মনে পড়ল জীবনানন্দকে।
''দেখিতেছিলাম সেই সুন্দরীর মুখ,
মুখে ঠোঁটে অসুবিধা, ভিতরে অসুখ
কে যেন নিতেছে তারে খেয়ে।''
এ ঘটনার পর কথিত হয় যে, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করে রাঁচি চলে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাঁর শিল্পকর্মগুলো হয়। অবশ্য কবি শঙ্খ ঘোষ এ ধারণা খণ্ডন করেছেন।
৮
ফারুক ভাই, আমার পরের পর্বগুলোতে এ প্রসংগ গুলো থাকবে। আপনার মতামত জানার অপেক্ষা থাকবে।
তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে
৯
ভালো লাগলো । লেখককে অভিবাদন রইলো ।
---------------------------------------------------------
আমার কোন ঘর নেই !
আছে শুধু ঘরের দিকে যাওয়া
১০
অসংখ্য ধন্যবাদ, অভিবাদন শিরোধার্য্য।
তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে
১১
এইসব লেখা পড়তেও আমার বড় ডর লাগে আর মন্তব্য দিতেও...!!
---------
অনেক সময় নীরবতা
বলে দেয় অনেক কথা। (সুইস প্রবাদ)
১২
প্রেম কাহিনী পড়তে ডর লাগে ??? আমার শ্যাজাদি বলে কি।
তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে
১৩
খুব সহজ ভাষায় বর্ণ্না । মনে হচ্ছিল আপনিই সামনে বসে গল্প করছেন । প্রিয় বন্ধু তানিমের কাছে একবার এই কাদম্বরী দেবীর গল্প শুনেছিলাম । সে সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কে মনে হয়েছিল বদের বদ । এই সিরিজটাতে অনেক কিছু জানা যাচ্ছে । চলুক । খুব ভালো হচ্ছে ।
---------------------------------------------------------
পৃথিবীর সব সীমান্ত আমায় বিরক্ত করে। আমার বিশ্রী লাগে যে, আমি কিছুই জানিনা...
১৪
হুমম বর্ননা, এটুকুই বলতে পারি, তুমি থাকতে আমি কি?
তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে
১৫
আপা যে কি বলেন...
---------------------------------------------------------
পৃথিবীর সব সীমান্ত আমায় বিরক্ত করে। আমার বিশ্রী লাগে যে, আমি কিছুই জানিনা...
১৬
একটা দরকারি ইনফরমেশন কি বাদ পড়েছে স্যার?
কাদম্বরী প্রথম কখন ঠাকুরবাড়ি ছেড়ে স্বামীর সাথে বসবাসের জন্য স্বামীর কর্মস্থলে গেলেন?
মরার কতদিন আগে?
রবীন্দ্রনাথের বিয়ে কতদিন আগেপরে?
কাদম্বরীর আত্মহত্যার সাথে সেটার কি কোনো যোগ নেই?
কেন তিনি হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিলেন ঠাকুরবাড়ি ছেড়ে স্বামীর সাথে চলে যাবার?
১৭
কাদম্বরীও ঠাকুরবাড়ীর বৃহৎ সংসারে তার নিজের যথার্থ স্থানটি কখনও পাননি।
এই কথাটা বোধহয় ঠিক না
ঠাকুরবাড়ির সবচেয়ে দাপুটে বৌ ছিলেন কাদম্বরী
ঠাকুরবাড়ির অন্য মেয়েরা যা করার সাহস পেতো না কিংবা করত না সেগুলোও অবলীলায় করে যেতেন কাদম্বরী এবং তাতে তার শ্বশুরেরও এক ধরনের প্রচ্ছন্ন সমর্থন ছিল
০২
বাঙালি মেয়েদের মধ্যে তিনিই পোশাক হিসেবে ব্লাউজের প্রচলন করেন এবং নিজে পরেন
এটা নিয়েও ছিছি করেছিল অনেকেই
কিন্তু তিনি টিকে গিয়েছিলেন ঠাকুর বাড়ি এবং তার স্বামীর সমর্থনে
০৩
সেই সময়ে প্রকাশ্যে তার ঘোড়া চড়ার ব্যাপারটা কী বলে?
১৮
খুব ইন্টারেস্টিং হচ্ছে।
১৯
২০
আমারও আসলে খুব বেশী জানা নেই, কিন্তু আগ্রহ অনেক। ভেতো বাঙ্গালীতো রাজ রাজাদের জীবনের প্রতি ভীষন আগ্রহ বোধ করি। ধন্যবাদ আপনাকে সাথে আনিন্দিতাকেও।
তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে
২১
লীলেন ভাই, আমার জানা মতে কাদম্বরী নয়, স্বামীর সাথে তার কর্মস্থলে গিয়েছিলেন জ্ঞানদানন্দিনী, সত্যেন্দ্রনাথ এর স্ত্রী।
বাংগালী মেয়েদের দৃষ্টি নন্দন পোষাকে ঠাকুর বাড়ির মেয়েদের অবদানের কথা নিয়ে আমি ভিন্ন একটা লেখা লিখেছিলাম, নীচে এর
লিঙ্কটা দিলাম।
http://www.sachalayatan.com/15234
স্বামীর ইচ্ছায় স্বামীর সমর্থনে তিনি ঘোড়ায় চড়তেন, এতে বেশী কিছু বলার নেই, বাইরে থেকে দেখে যতোটা স্বাধীন কাউকে মনে হয়, আসলে সব সময় তা কিন্তু না। সেসব নিয়ে অন্যসময় লেখা যাবে। তবে জীবনের প্রতি কেনো যেনো পুরুষ আর নারীদের দৃষ্টি ভঙ্গী আলাদাই হয়।
তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে
২২
স্বামীর সাথে তার কর্মস্থলে গিয়েছিলেন জ্ঞানদানন্দিনী, সত্যেন্দ্রনাথ এর স্ত্রী।
তাহলে হয়তো আমি গুলিয়ে ফেলেছি
২৩
ভারী চমত্কার লাগছে লেখাটি। অনেক কিছুই জানা জিনিস, কিন্তু তারপরও আপনার লেখার ভংগীটির কারণেই খুব আগ্রহ নিয়ে পড়ছি।
_____________________________
যতদূর গেলে পলায়ন হয়, ততদূর কেউ আর পারেনা যেতে।
২৪
ধন্যবাদ আগ্রহ নিয়ে পড়ার জন্য।
তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে
২৫
আমার ধারণা ছিল "নষ্টনীড়" (চারুলতা) কাদম্বিনী-রবীন্দ্রনাথের কাহিনীর প্রকাশযোগ্য রূপ।
২৬
হয়তো, কে জানে। এর জবার যারা দিতে পারতেন তাদের কেউতো আজ আর নেই। আবার বলবো হয়তো না, কবির কল্পনাই ছিলে শুধু সেটা।
তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে
২৭
স্কিজোফ্রেনিক ছিলেন।
তানবীরা, এটা কি সুনীলের 'প্রথম আলো'তে ছিলো ? না কি অন্য কোথাও থেকে পাওয়া?
লেখার ভংগী ভালো লাগছে।
২৮
রবীন্দ্রমানস গঠনে এই নারীর দান চিরস্মরনীয়। তার কবি হয়ে ওঠার মূলে আন্তরিক চেষ্টায় ছিলেন কাদম্বরী। কাদম্বরী সব সময় রবীন্দ্রনাথকে উসকে দিতেন, “ রবি সবচেয়ে কালো দেখতে, গলার যে কি অবস্থা, ওর চেয়ে সত্য ভালো গায়, ও কোনদিন গাইতেই পারবে না”। আরো বলতেন, “কোনকালে বিহারী চক্রবর্তীর মতো লিখতেও পারবে না”। রবীন্দ্রনাথের তখন শুধু চেষ্টা থাকতো কি করে এমন হবেন যে, বউদিদি আর কোন দোষ খুজে পাবেন না তার মধ্যে। রবীন্দ্রনাথ তখন বুঝতে পারতেন না, সেই সাধনাটিই করছে কাদম্বরী, যাতে কেউ কোনদিন রবীন্দ্রনাথের দোষ খুজে না পায়।
দয়া করে ব্যক্তিগতভবে নেবেন না কিন্তু কি করে বুঝলেন যে "সেই সাধনাটিই করছে কাদম্বরী"? এমনওতো হতে পারে কাদম্বরী ছিলেন এক অত্যন্ত দক্ষ ইমোশনাল ম্যনিপুলেটার। তরুণ রবীন্দ্রনাথ তার প্রতি আসক্ত ছিলেন (হয়তো সম্পূর্ন প্লেটোনিক ভাবেই) এটা কাদম্বরী ভালই বুঝতেন আর কাদম্বরী বর্ডারলাইনে থেকে তাকে নিয়মিত উষ্কে দিতেন এবং উপভোগ করতনে। বহু খ্যতনামা শিল্পী, সাহত্যিক, কবিদের তাদের মিউজদের সাথে এটাতো নতুন নয়।
অন্যদকে কাদম্বরীর চরিত্রের ধরণ যেমন: তীব্র অভিমানীনি, একাধিক আত্মহত্যার চেষ্টা, প্রচন্ড ইন্ট্রোভার্ট, সেন্টিমেন্টাল, স্কিজোফ্রেনিক ইত্যাদী অপর দিকে তার সুরসিকা, রুচিশীলা, প্রতিভাময়ীতা এবং আধুনিকতা ইত্যাদী স্পষ্টতঃ প্যারাডক্সিক্যাল। যা থেকে প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলা যায় কাদম্বরী একজন হার্ডকোর নার্সিসিষ্ট ছিলেন। অন্যের মনের আয়নায় নিজের মধুর প্রতীবিম্বে তুষ্ট এঁরা সাধারণ পারিবারিক সূসম্পর্কেও অক্ষম, দাম্পত্য জীবনে অসফল। বাইর থেকে যত আকর্ষণীয়াই মনে হোক না কেন এঁরা এঁদের অনেক নিকট জনেরই চরম দুর্দশার কারণ। আর অন্তর এঁদের হতাশা, ব্যার্থতা আর দূঃখে ভরা।
আপনাকে নিরাশ করতে চাইনা, চমৎকার টপিক। পরের পর্বগুলো চলুক। তবে ঐতিহাসিক বিচারে পাত্র পাত্রিদের মনোবিশ্লেষন অত্যান্ত জরুরি বলে আমি মনে করি।
২৯
ব্যাক্তিগত ভাবে নেবো কেনো, আমিতো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মীয় না। যতোটুকু আপনার তিনি, ঠিক ততোটুকুই আমার তিনি।
আপনার কথানুযায়ী এমন বহু কিছুই হতে পারে আবার না ও হতে পারে। তবে আমি জীবনের প্রতি অত্যন্ত বিশ্বাসী একজন মানুষ, সমস্ত কিছুকেই ইতিবাচক দৃষ্টি থেকে দেখার একটা সর্বনাশী প্রবনতা আমার আছে। যদি আপনার কথা মতো তাই ও হয়ে থাকে, তাও বাংগালী জাতীর কাদম্বরীর কাছে কৃতজ্ঞ থাকা উচিত, নইলে এতো ভালো সাহিত্য থেকে বাংলা ভাষা ভাষীরা বঞ্চিত হতো, তাই নয় কি?
আমি কারো সম্বন্ধেই মনে মনে একটা পূর্ব বিরাগ বা পক্ষপাতিত্বমূলক নেতিবাচক ধারনা পোষন করতে চাই না। দাম্পত্য জীবনের সফলতা শুধু এক পক্ষের উপরতো নির্ভর করে না।
ধন্যবাদ আপনাকে সহ্রদয় মন্তব্যের জন্য।
তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে
৩০
আমি এই লেখাটার জন্য মূলত ঠাকুরবাড়ির কথা - হিরন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঠাকুরবাড়ির অন্দর মহল - চিত্রা দেবকে ব্যবহার করছি বেশীটা। প্রথম আলোর কথা মনে নেই ততোটা।
প্রশংসার জন্য ধন্যবাদ।
তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে
৩১
ঐ দুটোর একটাতে ছিলো, কাদম্বরী দেবীর স্কিৎজোফ্রেনীয়ার কথা? আমি এটা বিশেষ করে জানতে চাচ্ছি একারণে যে, প্রথম আলো পড়ে তাঁর আত্মহত্যার ব্যাপারটা আমার কাছে যথেষ্ট মনে হয় নি। স্কিৎজোফ্রেনীয়া থাকলে তাহলে এর একটা মানে হয়।
৩২
হুমম, এই দুই বইয়ে স্পষ্ট করে লেখা আছে।
তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে
৩৩
ইসস খুব খারাপ লাগছে কাদম্বরী দেবীর জন্য ![]()
অসাধারণ লিখেছেন আপু, অনেক কিছু জানলাম *****
------------------------------
পুষ্পবনে পুষ্প নাহি আছে অন্তরে
৩৪
১। সিরিজ ভাল হচ্ছে
চালায়িয়ে যা
একই সাথে কিছু প্রশ্ন উসকে দিচ্ছে
কিন্তু মাহবুব লীলেন আর স্নিগ্ধার মন্তব্যে তার প্রকাশ থাকায়
আমি আর ও পথে পা বাড়াচ্ছি না ।
২। যতদুর মনে পড়ে
গতবছর ২৩ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ড জাতীয় টিভির বার্ষিক প্রোগ্রামে
তুই রবীন্দ্রনৃত্য পরিবেশন করেছিল
আর তোর একটা ইন্টারভিউ নেয়া হয়েছিল
যেখানে রবীন্দ্র প্রসংগ ছিল
আচ্ছা তখন কি কাদম্বরী দেবীর ব্যাপারে কোন প্রশ্ন এসেছিল ?
*********************************************A life unexamined is not worthliving.-Socrates
৩৫
Dosto. Lal selam toke phire ashar jonno. 23rd december chilo naki sei program ta, ami to date kobee bhule gechi. Na re dosto, Kadombori niye ora utsahito chilo na, jodio tara Shanti Niketon ghure gechilo, Robi thakur somporke possible shob tottho ee janto.
Bideshira jokhon jar upore pore jai tare mohamanob baniye chare. Tara Rabindranath ke “Banglar nari jagoroner pothikrit” hishebe dekhte cheyeche or sei somoy Bangla ba India te jotto bhalo kaj hoyeche tar uddokta hishebe.
Baddho hoye ami bolechi, he was not a social reformer or revolutionist, He was a poet and philosopher. Jar karone onekta interview korton kore diyeche @@@@ lol.
Ami birat kono Rabindra vokto na, borong onek beparee proshno ache. Kintu kono kichur opobekkha hole okarone seta jar e hok, mone hoi sothik ta bola dorkar.
Well u may say, that is not my business, then I make it my own business :-}
তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে
৩৬
Cool ! Relax my friend.
Your positiveviews and "own business" is highly appreciable. Yes like you also think
"Kintu kono kichur opobekkha hole okarone seta jar e hok, mone hoi sothik ta bola dorkar"
BTW, your "Lal selam toke phire ashar jonno" may be misiterpreted thererforei'd like to take this opportunity to clarify that I have been suffering from Illness since Friday and that's why I was not regualr here though some important blogs posted during this period including faruk wasif on Marshal Maneks and Yours on Rabindranath.
*******************************************A life unexamined is not worthliving.-Socrates
১
এক নিশ্বাসে পড়ে শেষ করলাম।
দারুন হচ্ছে, চলতে থাকুক!