লেনিন- স্ট্যালিনের প্রথম আড্ডা

তারেক অণু এর ছবি
লিখেছেন তারেক অণু (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৯/০৮/২০১৩ - ৯:২৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

lenin 1

যদি বলি Vladimir Ilyich Ulyanov এবং Ioseb Besarionis dze Jugashviliর প্রথম সাক্ষাৎ কোথায় হয়েছিল তাহলে অধিকাংশই পড়ুয়াই ভুরু কুঁচকে বলে বসবেন- ভর সন্ধ্যাবেলা এই খটোমটো নামগুলো না বললে হচ্ছে না! কিন্তু এদের দুইজনকে নিয়ে আজ পর্যন্ত যত বই লেখা হয়েছে মানব ইতিহাসে তার জুড়ি মেলা ভার। আবার দুইজনেই লিখেছেনও অনেক, প্রথমজনতো দার্শনিকের মর্যাদা পেয়েছেন সারা বিশ্ব জুড়ে। তাদের পছন্দ করুন, অপছন্দ করুন, ঘৃণা করুন, বা সন্মান করুন ইতিহাসে তাদের ভূমিকা কেউ-ই এড়াতে পারবে না।

কিন্তু যদি বলতাম লেনিন এবং স্ট্যালিনের প্রথম দেখা কোথায় হয়েছিল? তাহলেই সবাই বলতেন, ওহ তারা! তা তেনাদের আসল নাম এমন লৌহবেষ্টনী দিয়ে ঘেরা নাকি !

অবাক ব্যাপার হচ্ছে লেনিন এবং স্ট্যালিনের প্রথম দেখা হয় ১৯০৫ সালের ছবির ঘরটিতে, যার অবস্থান বর্তমান ফিনল্যান্ডের তামপেরে শহরে, যা ছিল লেনিনের বাসস্থান ( ফিনল্যান্ডে তিনি অনেক দিন আত্মগোপন করেছিলেন জারের রোষানলে , এই বাসাতেও ছিলেন প্রায় ২ বছর), বর্তমানে লেনিন জাদুঘর। আজকের যাত্রা সেই দিকেই-

images

download

১৯০৫ সালের ডিসেম্বরে বলশেভিকদের কনফারেন্স হয়েছিল তামপেরে শহরের এই ওয়ার্কার হলে, এবং কদিন পরেই ১৯০৬র ৭ জানুয়ারি লেনিনের সাথে ব্যক্তিগত ভাবে কথা বলেন তরুণ জর্জিয়ান নেতা স্ট্যালিন, ব্যক্তিগত জীবনে লেনিনের ব্যপক ভক্ত হওয়া সত্ত্বেও সেদিন লেনিনের ভোটে অংশগ্রহণের রাজনৈতিক কৌশলের সমালোচনাই করেছিলেন বলে জানা যায়।

Lenin_and_stalin

এইটি বিশ্বের দুর্লভতম জাদুঘরগুলোর একটি, কারণ সোভিয়েত রাশিয়ার ভাঙ্গনের পর লেনিন নিয়ে সমস্ত স্মৃতিমালা যেন চাপা পড়ে গিয়েছে এক নিমেষে, কিন্তু ফিনল্যান্ডের ক্ষুদে জাদুঘরটি টিকে গেছে, মূলত এই দেশের লোকদের আগ্রহের কারণেই। লেনিন বলেছিলেন - রুশ জাতিভুক্ত জনসাধারণ তথা শ্রমিক ও কৃষক অন্য কোন জাতিকে পীড়ন বা অত্যাচার করার কোনো ইচ্ছাই পোষণ করে না। রুশ দেশের সীমানার অন্তর্ভুক্ত অরুশ কোন জাতিকে জবরদস্তি করে বেঁধে রাখার কোন ইচ্ছাই রুশ জাতির নেই এবং কস্মিনকালেও করবে না। এর অর্থ হলো যে, বৃহত্তর রুশ জাতির পোল্যান্ড, ইউক্রেন, ফিনল্যান্ড, আর্মেনিয়া কিংবা অন্য কোন জাতিকে জবরদস্তি করে বেঁধে রাখবে না। বৃহত্তর রুশ জাতির অন্য সকল জাতিকে স্বেচ্ছায় এক মৈত্রীমূলক সংযুক্ত সংঘে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

05_moravov-tampere

সেই প্রতিশ্রুতি মোতাবেক বলশেভিক বিপ্লব সফল হবার পরপরই ফিনল্যান্ড প্রতিনিধিদলের সাথে আলাপ করে তাদের স্বাধীনতার ব্যাপারে সম্মত হন, এই ব্যাপারে তার এক যুক্তি ছিল- এই স্বাধীনতার ফলে ফিনল্যান্ডের ভিতরের পুঁজিবাদীরা আর সমাজতন্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাধারণ ফিনিশ জনগণকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারবে না সাম্যবাদের দুয়ার থেকে ।

সেই আদর্শবাদী কমরেড লেনিন কে নিয়েই সুকান্ত ভট্টাচার্য লিখেছিলেন-

লেনিন ভেঙেছে রুশে জনস্রোতে অন্যায়ের বাঁধ,
অন্যায়ের মুখোমুখি লেনিন প্রথম প্রতিবাদ।
আজকেও রাশিয়ার গ্রামে ও নগরে
হাজার লেনিন যুদ্ধ করে,
মুক্তির সীমান্ত ঘিরে বিস্তীর্ণ প্রান্তরে।
বিদ্যুৎ-ইশারা চোখে, আজকেও অযুত লেনিন
ক্রমশঃ সংক্ষিপ্ত করে বিশ্বব্যাপী প্রতীক্ষিত দিন,-
বিপর্যস্ত ধনতন্ত্র, কন্ঠরুদ্ধ, বুকে আর্তনাদ;
-আসে শত্রুজয়ের সংবাদ।

সযত্ন মুখোশধারী ধনিকেরও বন্ধ আস্ফালন,
কাঁপে হৃৎযন্ত্র তার, চোখে মুখে চিহ্নিত মরণ।
বিপ্লব হয়েছে শুরু, পদানত জনতার ব্যগ্র গাত্রোত্থানে,
দেশে দেশে বিস্ফোরণ অতর্কিতে অগ্নুৎপাত হানে।
দিকে দিকে কোণে কোণে লেনিনের পদধ্বনি
আজো যায় শোনা
দলিত হাজার কন্ঠে বিপ্লবের আজো সম্বর্ধনা।
পৃথিবীর প্রতি ঘরে ঘরে,
লেনিন সমৃদ্ধ হয় সম্ভাবিত উর্বর জঠরে।
আশ্চর্য উদ্দাম বেগে বিপ্লবের প্রত্যেক আকাশে
লেনিনের সূর্যদীপ্তি রক্তের তরঙ্গে ভেসে আসে;
ইতালী, জার্মান, জাপ, ইংল্যান্ড, আমেরিকা, চীন,
যেখানে মুক্তির যুদ্ধ সেখানেই কমরেড লেনিন।
অন্ধকার ভারতবর্ষঃ বুভুক্ষায় পথে মৃতদেহ-
অনৈক্যের চোরাবালি; পরস্পর অযথা সন্দেহ;

দরজায় চিহ্নিত নিত্য শত্রুর উদ্ধত পদাঘাত,
অদৃষ্ট ভর্ৎসনা-ক্লান্ত কাটে দিন, বিমর্ষ রাত
বিদেশী শৃঙ্খলে পিষ্ট, শ্বাস তার ক্রমাগত ক্ষীণ-
এখানেও আয়োজন পূর্ণ করে নিঃশব্দে লেনিন।

লেনিন ভেঙেছে বিশ্বে জনস্রোতে অন্যায়ের বাঁধ,
অন্যায়ের মুখোমুখি লেনিন জানায় প্রতিবাদ।
মৃত্যুর সমুদ্র শেষ; পালে লাগে উদ্দাম বাতাস
মুক্তির শ্যামল তীর চোখে পড়ে, আন্দোলিত ঘাস।
লেনিন ভূমিষ্ট রক্তে, ক্লীবতার কাছে নেই ঋণ,
বিপ্লব স্পন্দিত বুকে, মনে হয় আমিই লেনিন।।

lenin_speech2

কিন্তু আদপেই কী বাস্তব জীবনে লেনিন এবং তার রাজনীতি এতটাই মহান ছিল?

লেনিনের জীবিত অবস্থাতেই লাল বাহিনী হানা দিয়েছিল ক্ষুদের দেশ এস্তোনিয়াতে, মাত্রে ১ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশটি তারা দখল করে রেখেছিল ১৯৯১ পর্যন্ত, যে দীর্ঘ সময়ে তাদের মাতৃভাষায় জাতীয় সংগীত ছিল নিষিদ্ধ, শুনতে হয়েছে শুধু চাপিয়ে দেওয়া রুশ ভাষার জয়গান।
পরবর্তীতে চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি, ইউক্রেইন, মলদোভা কোথায় অস্ত্রের মুখে রুশ সাম্রাজ্যবাদকে সাম্যবাদের মুখোশে ঢেকে বিস্তারের চেষ্টা করে নি রুশী বাহিনী! যেহেতু লেনিনের সময়েই এই অরাজকতার শুরু হয়েছিল তা হলে আমরা কি ধরে নিব- যে মুখে মানুষের মুক্তি বুলি আউড়ানো সমাজতান্ত্রিক বিল্পবের ঝাণ্ডা উড়ানো এই নেতাও ছিলেন আর দশ জন রাজনীতিবিদের মতই? না হলে অন্য দেশ দখলে যায় কি করে তার সেনাবাহিনী?

তার চেয়েও বড় কথা- উনি বললেন, সবাইকে স্বেচ্ছায় যোগ দিতে, পরবর্তীতে যোগ না দেওয়ায় আক্রমণ চলল! তার মানে কি – ভালোয় ভালোয় বলছি আমার সাথে থাক, আর না থাকলে মুণ্ডু উড়িয়ে দিব?

যে লেনিন মাঠে ক্রীড়ারত বালকদের দিকে চেয়ে বলেছিলেন এদের কারো কারো বাবাকে বিল্পবের বলি হতে হচ্ছে সময়ের দাবীতে, যাতে এই ছেলেদের ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জলতর হয়, ভালো হয়! আসলেই কি তাই ঘটেছিল?

লেনিন সম্পর্কে বর্তমানে প্রাপ্ত তথ্য দেখা যাচ্ছে তার ক্ষমতায় আরোহণের জন্য আপোষ করা, বিরোধীদের দমন করা, এবং অনেক সময় পৃথিবী থেকে চিরতরে সরিয়ে দেবার ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিলেন না তিনিও। যদিও সবই বিপ্লবের বলি বলে পাশ কাটিয়ে গেছেন সবসময়ই।

lenin2

বিশাল ভবনের দুই কক্ষ মিলিয়ে ক্ষুদের জাদুঘরটি, দেয়াল জুড়ে লেলিনের জীবনের নানা সময়ের আলোকচিত্রের কপি, গুরুত্বপূর্ণ খবরের কাগজ, পোস্টার, লিফলেট, তার লেখা অযুত বইয়ের সংগ্রহ। আসলে এখানে ব্যক্তি লেলিন সম্পর্কে একটা ধারণা দেবার চেষ্টা করা হয়েছে, সেই সাথে দেখানো হয়েছে লেনিন CULTকে। বিখ্যাত সেই ছবিটির দেখা মিলল যেখানে ছদ্মবেশী লেনিনকে দাড়ি ছাড়া অবস্থায় দেখা যাচ্ছে একজন
শ্রমিকের বেশে,

lenin-in-disguise-1916

eeis_01_img0347

এর সাহায্যেই ফিনল্যান্ডে পালিয়েছিলেন তিনি জারের রোষানল থেকে রক্ষা পেতে, ফিরেছিলেন আবার বিপ্লবের অগ্নিক্ষণে। তামপেরে থেকে ১৯০৭ সালে সুইডেনে পালাতে বাধ্য হবার পর পরবর্তী ১০ বছরে লেনিন রাশান সাম্রাজ্যের কোথাও আসতে পারেন নি, অবশেষে জার্মানদের সাহায্যে ১৯১৭র বিশ্ব কাঁপানো বিপ্লবে ফেরেন রাশিয়াতে, যে স্টেশনে ফিরেছিলেন , দিয়েছিলেন আগুনঝরা ভাষণ তার নাম ফিনল্যান্ড স্টেশন!

tampere

কাঁচের শোকেসে রাখা আছে লেনিন ও স্ট্যালিনের ডেথ মাস্ক। অবশ্যই নকল ছাঁচ।

406829559_6b822e7f02_z

PC011511

স্ট্যালিনের দিকে তাকিয়ে অবাক লাগে, যে মানুষটি বিপ্লবের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন অনেকবার, নিজের সাইবেরিয়ার নির্বাসিত হয়েছিলেন অগণিত বার সেই মানুষটির কী পরিবর্তন দেখা গেল নিরঙ্কুশ ক্ষমতা পাবার এবং তা ধরে রাখার জন্য। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সকল দেশে এমনকি পিতৃভূমি জর্জিয়াতেও স্ট্যালিন এক অভিশপ্ত নাম, তার কারণে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে প্রায় ৫ কোটি লোক মারা গিয়েছিল! সরাসরি হত্যা থেকে শুরু করে সাইবেরিয়ায় নির্বাসন, কৃত্রিম ভাবে দুর্ভিক্ষ তৈরি এমন অনেক ভাবেই সামান্যতম বিরুদ্ধমত পোষণকারীদের শায়েস্তা করেছে স্ট্যালিন ও তার পাণ্ডারা। বিশেষ করে তার Personality Cult এর চর্চা কিংবদন্তী হয়ে আছে এখনও ইতিহাসের কালো অধ্যায় হিসেবে।

ফিনল্যান্ডে স্ট্যালিনকে হিটলারের চেয়েও অনেক নিষ্ঠুর, খুনি, ঘৃণিত হিসেবে দেখা হয়। (১৯১৭ সালে ফিনল্যান্ড ছিল জারের সাম্রাজ্যের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত রাজ্য বা ষ্টেট, যাদের ছিল নিজস্ব সিনেট, মুদ্রা। বলশেভিক বিল্পবের ফলে তারা জারতন্ত্রের কবল থেকে মুক্তি পেয়ে নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং লেনিন নিজেও এটি অনুমোদন করেন। কিন্তু অন্য শীর্ষ নেতারা কেউই এই সিদ্ধান্ত উদারতার সাথে মেতে নিতে পারে নি, ফলে সবসময়ই তাদের শোষণমূলক মনোভাব জারি ছিল শিশুরাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে, তাই কেবলমাত্র স্তালিন বাহিনীর কবল থেকে রক্ষা পাবার জন্য হিটলারের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করতে বাধ্য হন ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ফিনিশ সরকার ( বাঙ্গালী নেতা সুভাষ বসু যেমন ইংরেজদের শত্রু হিসেবে হিটলারের সাথে জোট বাঁধতে চেয়েছিলেন), ফলে বিশ্বযুদ্ধের পর রাশান সেনাবাহিনী ফিনল্যান্ডের ২য় বৃহত্তম শহর ভিপুরিসহ কারেলিয়ায় অঞ্চলের বিশাল এলাকা দখল করে নেয় যা আজ পর্যন্ত রাশিয়ার দখলেই আছে। )

ইতিহাসকে নির্মোহ দৃষ্টিতে দেখতে চেষ্টা করি আমরা, যদিও তা খুব কঠিন কাজ, লেনিন, স্ট্যালিনের মত ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রদের black or white ভাবে মাপা খুব কঠিন কাজ, স্তালিনের শত নৃশংস কাহিনী প্রচার পেলেও বলা হয় না তার জ্যেষ্ঠ পুত্র জ্যাকব নাৎসি বাহিনীর হাতে ধরা পড়লে কয়েকজন বন্দী নাৎসি অফিসারের মুক্তির বিনিময়ে তারা জ্যাকবকে মুক্তি দিতে রাজী হয়, কিন্তু স্ট্যালিন এমন প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় তারা জ্যাকবকে হত্যা করে।

2265_04_stalins_familie_0
(ছবিতে দেখা যাচ্ছে নাৎসিদের হাতে বন্দী স্ট্যালিনের ছেলে জ্যাকবকে, লাল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত)

আবার সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বের উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা লাভের যুদ্ধে নানা দেশের জন্মে প্রত্যক্ষ ভুমিকা রেখেছে, বাংলাদেশও তার ব্যতয় নয়। মানবতার ধব্জা ওড়ানো বর্তমানের ইংল্যান্ড-ফ্রান্স-স্পেন- জার্মানি কোনদিন চায় নি আমরা স্বাধীনতার সূর্য দেখি, কিন্তু সোভিয়েতরা চেয়েছিল, সাহায্য করেছিল।

কবি পাবলো নেরুদা যেমন বলেছিলেন, আমরা ইতিহাসের অনেক কালো অধ্যায় জানতাম না, আমাদের চোখে স্ট্যালিন ছিলেন সেই নেতা যিনি হিটলারকে যুদ্ধে হারিয়েছিলেন। কথাটি শতভাগ সত্য, যে কারণে মানুষ আজ ভুলতে বসেছে যে ২য় বিশ্বযুদ্ধে ২ কোটি ৬০ লক্ষ রাশিয়ান সৈন্য নিহত হয়েছিল (যেখানে ব্রিটিশ সৈন্য মারা গিয়েছিল আধা মিলিয়ন, আমেরিকান সৈন্য আধা মিলিয়ন সেখানে রাশিয়ান সৈন্য ২৬ মিলিয়ন, অন্যদের চেয়ে ৫২ গুণ বেশী) , কিন্তু আবার এটিও সত্য যে নাৎসিদের সাথে চুক্তি করার যে মাশুল স্ট্যালিনের লালফৌজকে দিতে হয়েছিলে অযাচিত আক্রমণের শিকার হয়ে তার অন্যতম কারণে ছিল স্ট্যালিনের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে হাজার হাজার চৌকষ অফিসারকে ফাঁসিতে ঝোলানো অথবা নির্বাসনে পাঠানো!

ছোট হলেও জাদুঘরটি বেশ পরিপাটি, লেলিনের পড়ালেখার টেবিল এমন ভাবে রাখে যেন মনে হচ্ছে খানিকক্ষণের জন্য কোথাও গেছেন তিনি, ড্রয়ার আধখোলা, বইয়ের পাতা ওল্টানো, কয়েকটা চিঠি পঠিত হবার অপেক্ষায়। নানা জায়গায় লেনিনের ভাস্কর্য।

7794148972_b94bb2280e_z

বিশেষ জাদুঘরের এক কোণে যত্ন করে সংরক্ষিত ছবির সোফাটি চোখে পড়ল। হেলসিংকি বিশ্ব-বিদ্যালয় গ্রন্থাগারের স্লাভিক বিভাগের প্রধান ভ্লাদিমির স্মিরনভের কার্যালয়ে সোফাটি অবস্থান করত এককালে, বিশেষ মেকানিজমে সোফাটির হাতল দুটি নিচু করা যায়। স্মিরনভের কার্যালয়ে অবস্থানের সময় এই সোফাতেই রাত্রিযাপন করেছিলেন বিশ্বখ্যাত লেখক আলেক্সেই ম্যাক্সিমোভিটস পেসকভ, যিনি জীবনের সমস্ত তিক্ততা বুকে টেনে নেবার পর নিজেই নিজেই নামকরণ করেছিলেন ম্যাক্সিম গোর্কি ( গোর্কি মানে তিক্ত), এবং এই সোফাতেই মাঝে মাঝে রাত্রিযাপন করতেন গোর্কির ভক্ত, বিপ্লবী, দার্শনিক কমরেড লেনিন।

lenin 2

গোর্কির আত্মজীবনী আমার ছেলেবেলা কতদিন নিয়ে গেছে তুষারপ্রান্তরের দেশটাতে, তার ভাষার গুনে হারিয়ে গেছি পাভেল ভ্লাসভের সাথে রুশি কারখানার ধোঁয়া আর জীবন সংগ্রামে। তার রোজনামচা আমার বিশেষ বিশেষ প্রিয়, তারই স্মৃতি বিজড়িত সোফাটি দেখে কত ভাবনা খেলে গেল মনের মাঝারে, এইখানে হেলান দিয়েই কি গোর্কি আগুনের লেলিহান সম্মোহনকারী শিখা নিয়ে অসাধারণ রচনাটি করেছিলেন? কিংবা লিখেছিলেন পাথরে খোদাই করা ছোট গল্প?

455px-Maxim_Gorky_authographed_portrait

স্ট্যালিনের আমন্ত্রণেই ইতালির নির্বাসিত জীবন থেকে রাশিয়ায় ফিরেছিলেন গোর্কি, তার রূপকথার গল্প "A Girl and Death" স্ট্যালিনকে পড়ে শোনাবার ঘটনাটি ক্যানভাসে অমর করে রেখেছেন ভিক্টর গোভোরোভ।

gorkys

অথচ জীবনের শেষ দিকে রাজনৈতিক কারণে হাউজ অ্যারেস্ট ছিলেন গোর্কি, ১৯৩৬ সালে তার মৃত্যুর পরে কফিন পরিবহণকারীদের মাঝে স্ট্যালিন স্বয়ং থাকলেও গোর্কি মৃত্যুর পিছনে তার এবং অনুগতবাহিনী হাত ছিল বলে সন্দেহ করা হয় আজ পর্যন্ত!!! ঢাকাতে কেনা এক ম্যাক্সিম গোর্কি টি-শার্টেও পেয়েছিলাম সেই তথ্য!
475px-Joseph_Stalin_and_Maxim_Gorky,_1931

জাদুঘরে একটি ছোট্ট দোকানও আছে, সেখানে নানা পোস্টার, লিফলেটের কপির সাথে সাথে লেনিনের স্মৃতিসম্বলিত কিছু কিনতে পারবেন চাইলে। সেখানে কর্মরত ফিনিশ-রাশিয়ান মহিলার সাথে কথা হল জাদুঘরটির জনপ্রিয়তা, বিদেশী অতিথি, ইতিহাস নিয়ে। বেশ প্রশংসা করলেন আমাদের কিউবা ভ্রমণের অভিজ্ঞতার, বললেন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অংশ হতে চান তিনি, বয়স হয়েছে অনেক, কিছুটা নিশ্চিন্ত জীবন চান এই সায়াহ্নে, আধুনিক বিশ্বের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক জীবন তার পছন্দ নয়। কিন্তু যখন জানতে চাইলাম স্ট্যালিনের সময়কার চরম আতঙ্কময় মোসাহেবি জীবনের প্রতি ফিরতে চান, তখন আবার বেশ রাগ ঝাড়লেন সেই সময়ের নেতার উদ্দেশ্যে।

বেশ কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া নিয়েই বাহির হলাম লেনিন জাদুঘর থেকে, তবে মনে মনে জানি যেহেতু শেষ পর্যন্ত মানবজাতির ইতিহাস কেবল মানুষের জন্যই, তাই মানুষের অধিকার পায়ে দলে আদতেই কোন বিপ্লব, আদর্শ টিকে থাকে না, থাকতে পারে না।

( পোষ্ট লেখার সময় দেখি জাদুঘরে তোলা সব ছবি অজানা কারণে ডিলিট হয়ে গেছে ! এই পোস্টের কেবল দুইটি ছবি আমার তোলা, বাকী সবই নেট থেকে সংগৃহীত)


মন্তব্য

খেকশিয়াল এর ছবি

চলুক সেরাম পোস্ট

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

তারেক অণু এর ছবি

কিরাম কাকা?

মইনুল রাজু এর ছবি

আমি এই চার-পাঁচদিন আগে রাশিয়া থেকে ফিরলাম। সেইন্ট পিটার্সবার্গ শহর। শহরের যেদিকেই যাই, শুধু প্যালেস আর প্যালেস। ক্ষমতাধারীদের নিজেদের নামে প্যালেস, তাদের বউ, ছেলে, মেয়ে, বন্ধু, আত্মীয় সবার নামে শুধু প্যালেস আর প্যালেস। তাও আবার ছোট-খাটো কিছু নয়, বিশাল আকৃতির সে-সব স্থাপনা। একটা হলেও কথা ছিলো। সামার প্যালেস, উইন্টার প্যালেস। শুধু জনগনের নামে কিছু চোখে পড়লো কম। দেখে মনে হয়েছিলো, বিপ্লব এখানে হবে না তো কোথায় হবে।

কিছুদিন আগে স্ট্যালিনগ্রাদে জার্মানদের পরাজয় নিয়ে নেটফ্লিক্স এ ডকুমেন্টারি দেখলাম। কিন্তু, অন্যদেশের তুলনায় রাশিয়ান এত বেশি সৈন্য মারা যাওয়ার ব্যাপারটা মাথায় আসেনি। সংক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমৃদ্ধ লেখা। চলুক

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

তারেক অণু এর ছবি

বাহ ! তাহলে আপনার পোস্টের অপেক্ষায় রইলাম হারমেতেজ নিয়ে!

বিপ্লব এখানে হবে না তো কোথায় হবে। -- এই কথাটার সাথে একমত হচ্ছি না, ইউরোপের সবখানেই কিন্তু প্যালেস আর ধনীদের রাজত্ব ছিল সবসময়ই, বা সারা বিশ্বেই! বরং মার্ক্স নিজেই ভেবেছিলেন তার লেখার সূত্রে বিপ্লব আসবে হয় জার্মানি, নতুবা ফ্রান্স, নাহলে ইংল্যান্ডে! রাশিয়াতে যে তার সূত্র কাজ করবে সেইটা তিনি কল্পনা করলে কী করতেন তা নিয়ে বেশ কিছু কৌতুক আছে কিছু সোভিয়েত দেশগুলোতে, মূলকারণ রাশানদের সবকিছু গায়ের জোরে করতে চাইবার প্রবৃত্তি।

হ, আমেরিকান ডকু দেখলে মনে হয় সারা যুদ্ধটা তারাই করছে ! রাশানরা আবার কে?

মইনুল রাজু এর ছবি

হারমিটেজ গিয়ে আমি স্বর্ণের প্রাচুর্য্য দেখে প্রায় ফিট হয়ে যাচ্ছিলাম। সোনায় মুড়ে রাখা যাকে বলে আর কি। সব মিলিয়ে অপূর্ব সুন্দর। ওদের আর্ট কালেকশান বেশ ভালো, তাছাড়া কাঠের উপর করা কারুকার্য আর ভাস্কর্যতো আছেই।

কথা সত্যি, ইউরোপের সবখানেই প্যালেস। কিন্তু, এখানে তুলনামূলকভাবে বেশি মনে হলো। এই যে হারমিটেজ এর কথা বলছি, সেটারও একটা অংশ নাকি সম্রাটের উইন্টার প্যালেস ছিলো।

হারমিটেজের ভিতরের একটা ছবি দিলাম।

ফেইসবুক
---------------------------------------------
এক আকাশের নীচেই যখন এই আমাদের ঘর,
কেমন ক'রে আমরা বলো হতে পারি পর. . .

তারেক অণু এর ছবি

হ্যাঁ ! আর এর পেছনের ,মানুষটি ছিলেন জার্মান মহিলা, ক্যাথরিন দ্য গ্রেট !!! গেছিলাম বছর দুই আগে, দারুণ জাদুঘর

হামিম কামাল এর ছবি

জার্মানদের পরাজয় স্ট্যালিনগ্রাদ তো নয়, লেনিনগ্রাদ।

সংগীতা এর ছবি

""ইতিহাসের এই ‍গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো কে black or white ভাবে মাপা কঠিন কাজ....""‘ ভাল লাগল পড়ে। সংগীতা

তারেক অণু এর ছবি
অনার্য তাপস এর ছবি

বাক্সের ভেতরে যে কত গয়না থাকে সেটা উপর থেকে জানা যায় না। অনুমান করা যায় মাত্র। কিন্তু অনুমান যে সবসময় ঠিক হয় তাতো নয়। রাজনীতি আর ক্ষমতা নিয়ে তাই এককথায় কিছুই বলা যায় না।

মোদ্দা কথা

যেহেতু শেষ পর্যন্ত মানব জাতির ইতিহাস কেবল মানুষের জন্যই, তাই মানুষের অধিকার পায়ে দলে আদতেই কোন বিপ্লব, আদর্শ টিকে তাকে না, থাকতে পারে না।

তারেক অণু এর ছবি
সৈয়দ নাঈম গাজী এর ছবি

পড়ে অনেক নতুন কিছু জানলাম…
লেখাটা খুব ভালো লাগল…

তারেক অণু এর ছবি
সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

চমৎকার!
শুরুটা যে রাশিয়ার বাইরে জানতামই না...

রাশিয়া নামটা শুনলেই নস্টালজিক লাগে... সমাজতন্ত্র নামের নবীনতম ধর্মটির জন্য নয়... প্রগতি, রাদুগা, রামধনু, জুবোভস্কি বুলভার এই শব্দগুলা মনে পড়ে... তাই মন খারাপ

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

তারেক অণু এর ছবি

গতি, রাদুগা, রামধনু, জুবোভস্কি বুলভার --- আহাহা !

অতিথি লেখক এর ছবি

"রাশিয়া নামটা শুনলেই নস্টালজিক লাগে... সমাজতন্ত্র নামের নবীনতম ধর্মটির জন্য নয়... প্রগতি, রাদুগা, রামধনু, জুবোভস্কি বুলভার এই শব্দগুলা মনে পড়ে... তাই"
সম্পূর্ণ একমত। সেই সাথে স্তব্ধ হয়ে থাকি ভেবে যে দর্শনকে ধর্ম বানানোর এই আদিম প্রক্রিয়া আরো কতবার আলোর অভিসারী মানুষকে টেনে নিয়ে যাবে আঁধারের পথে।
- একলহমা

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

কত অজানারে জানাইলে তুমি > তারেক অণু ! চলুক

তারেক অণু এর ছবি

আপনি না আমেরিকাতে এখন?

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

আজকে শিকাগোতে, বড় ছেলের বাসায়।

Shafiq এর ছবি

তথ্যে একটু ভুল আছে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক মৃত্যুর সংখ্যা আনুমানিক ৮-১০ মিলিয়ন। সামরিক-বেসামরিক মিলিয়ে সর্বমোট মৃত্যু ধরা হয় ২৫-৩০ মিলিয়ন।

তারেক অণু এর ছবি
নীলকমলিনী এর ছবি

সামারে নানা রকম ব্যস্ততার জন্য সচলায়াতনের লেখা বেশী পড়া হচ্ছে না। মাঝে মাঝে ফেবুতে পড়ে ফেলি। অনেক কিছু জানলাম। যথারীতি ভালো লাগলো। একটা কথা মনে হলো, আমি যখন ক্লাস নাইনে পড়ি, তখন ছাত্র ইউনিয়নের সম্মেলনে লেনিন এর রচনা লিখে লেনিনের জীবনী পুরস্কার পেয়েছিলাম। বইটি আমার প্রিয় বইএর একটি ছিলো।
ধন্যবাদ আবার আমাদের বিভিন্ন ধরনের তথ্য বহুল লেখা উপহার দেয়ার জন্যে।

তারেক অণু এর ছবি

বাহ বাহ ! এখন আরেক্তু লিখুন না রে বাবা !

মন মাঝি এর ছবি

'বিপ্লব' 'বিপ্লববাদ' 'বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব' এইগুলি শেষ পর্যন্ত একেকটা অস্তিত্ত্বহীণ কল্পদ্রুম (ইন্দ্রলোকের সর্বকামনাপূরণকারী দেবতরু)। মানুষের অন্তর্গত স্বভাব-চরিত্র-প্রকৃতি না বদলে কোনরকম ইউটোপিয়া কায়েমের তথাকথিত মহৎ উদ্দেশ্যে বিপ্লব নাম দিয়ে রক্তগঙ্গা বইয়ে ক্ষমতা দখল ও তা অগণতান্ত্রিক ভাবে ধরে রাখার তত্ত্বের নামের আগে - যতই 'বৈজ্ঞানিক অমুক-বাদ তমুক-বাদ', 'সর্বহারার একনায়কত্ব' - ইত্যাদি তক্‌মা লাগিয়ে গলা ফাটানো হোক না কেন, সেটা যে মোটেই 'বৈজ্ঞানিক' হয় না বরং চরম অবৈজ্ঞানিক একটা কল্পদ্রুম বলেই প্রমানিত হয় - সোভিয়েত ইউনিয়নের বিশ্বকাঁপানো পতনই তার উদাহরণ। গণতন্ত্রহীণ সর্বহারার-একনায়কত্ব 'সর্বভূকের একনায়কত্বে' পরিণত হয়ে যায়। এটাই বরং বিজ্ঞান।

ট্রাজেডি হল, 'বৈজ্ঞানিকতার' ছদ্মবেশধারী একটা আদতে ধর্মীয়-মৌলবাদী তত্ত্ব তথা বিপ্লবের মুখোশ খুলে পড়তে, তার বৈজ্ঞানিক-আফিম থেকে মুক্ত হতে, এবং তাকে অপ্সারন করতে গিয়ে যে সুদীর্ঘ সময় লেগে যায় - আর সেই সময়ের মধ্যে যে কত লক্ষ-কোটি মানুষের জীবন আর ছোটবড় জাতিগোষ্ঠী ছারখার হয়ে যায়, নেমে আসে অবর্ণনীয়-অতুলনীয় বিপর্যয়, নৃশংস মৃত্যু ও ট্রাজেডি, ব্যর্থ হয়ে যায় জাতি ও সভ্যতার বিকাশের কত সম্ভাবনা - সেসব কোন কিছু দিয়েই জাস্টিফাই করা যায় না। আর এর জন্য ঐ সব ভয়ঙ্কর বিভ্রান্ত তত্ত্ব আর বিপ্লবের উদ্‌গাতা, প্রবক্তা ও নেতৃত্বদানকারীই দায়ী থাকবে চিরকাল। কোন মীথ বা ব্যক্তিগত কারিশ্‌মা দিয়েই তাদের সেই অতুলনীয় অপরাধ মুছে ফেলা যাবে না। তা সে যেই হোক না কেন। আমার কাছে এর মধ্যে কোন 'গ্রে-এরিয়া' নাই - পুরোপুরিই রৌদ্রদগ্ধ দিবালোকের মত ফকফকা। সুকান্ত যেমন ক্ষুধার রাজ্যে পূর্ণিমার চাঁদের মধ্যে ঝলসানো রুটির মত উৎকট গদ্যময়তা ছাড়া আর কিছু খুঁজে পান না, এইসব রক্তস্নাত ব্যক্তিবাদ আর বিপ্লববাদের মধ্যে আমিও তেমনি চরম নিষ্ঠুর-অন্যায় বাস্তবতা ছাড়া লেশমাত্র রোমান্টিকতা খুঁজে পাই না - সুকান্ত পেলেও।

কার কেমন লাগবে জানি না, আমি আমার মতামত দিলাম মাত্র।

তবে লেখা ও ছবিগুলি চমৎকার হয়েছে! চলুক

****************************************

ব্রুনো  এর ছবি

চলুক

তারেক অণু এর ছবি

মতামত ভালো লাগল

ফাহিম হাসান এর ছবি

পোস্ট ভালো লেগেছে কিন্তু একটা কথার সাথে একমত নই।

স্ট্যালিন ব্যাটা ইতিহাসের মহা গুরুত্বপূর্ণ হলেও ওই লোকটা কালো। কুচকুচে তিকতিকে ভুদ্ভুদে কালো।

তারেক অণু এর ছবি

আমি আবার দ্বিমত করলাম কোথায় হে নববর !

অতিথি লেখক এর ছবি

বিশ্লেষণ ভাল লাগল।
- একলহমা

তারেক অণু এর ছবি
স্পর্শ এর ছবি

আমার সাথে সামনা সামনি যে কজন রাশিয়ানের কথা হয়েছে, তারা মনে করে, সমাজতন্ত্র-কমিউনিজম-ভুগিজুগি এইসব নাকি জার্মানির ষড়যন্ত্র। জার্মানিই নাকি এইসব আইডিয়া উৎপাদন করে, লেলিন-স্ট্যালিনদের দিয়ে বিপ্লব করাইছে। সেইসব দিনের কথা ভেবে এখনো আতঙ্কে ভোগে এরা...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

তারেক অণু এর ছবি

ঐটা আবার বেশী কইয়া ফেলছে। ঐ দেশটার আসলেই কিছু আজব সমস্যা আছে, এখন দেহেন কী হচ্ছে ! পুতিন দেশ--

রুবাই এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

তারেক অণু এর ছবি
তূর্য রায় এর ছবি

অণু ভাইয়া কী মার্ক্সিস্ট নাকি?

তারেক অণু এর ছবি

মার্ক্সিস্ট মানে কী?

বন্দনা এর ছবি

মেলা তথ্যপূর্ণ লেখা। আমার এইগুলা নিয়ে পড়ার খুব ইচ্ছা হয়, কিন্তু পড়তে গেলেই সব গুলায়ে ফেলি।কিচ্ছু মনে থাকে না আজকাল।
ও প্রথম লাইনের দুইখানা নামের উচ্চারন বাংলায় কি হবে??

তারেক অণু এর ছবি

ভ্লাদিমির ইলিচ ইলিয়ানভ, কিন্তু পরেরটা জর্জিয়ান কাউরে পেলে যেনে নিব

নীড় সন্ধানী এর ছবি

ট্রান্সসাইবেরিয়ান রেলে চড়ার উপায় খুঁজতেছিলাম বহুদিন ধরে। রাশিয়ার উপর লেখাজোকা পড়লে নেশাটা আবারো গুতাগুতি শুরু করে।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

তারেক অণু এর ছবি

আমি যাব, যে কোন সামারে

guest_writer এর ছবি

বিপ্লবের পথে রয়ে যাবো সারাজীবন - এমন মন্ত্রেই দীক্ষা নিয়েছিলাম ছাত্রজীবনে।
কিন্তু ভীরু আমার সেই পথে টিকে থাকা হয়নি। তারপর, অন্য গল্পের শুরু - সংসার নামের উথাল-পাথাল ঢেউয়ের মাঝে ডিঙ্গি নৌকা ভাসিয়ে ফেলা।
সেই মাতাল পদক্ষেপের দিনগুলো মনে পড়লে অস্থির লাগে। ভোগবাদী সমাজের শ্বাপদদের আমিও একজন।
নিজেকে আয়নায় দেখে মাঝে মাঝে অদ্ভুত লাগে, কে আমি?
*****
আপনার এই পোষ্ট আবার সেই দিনগুলোকে মনে করিয়ে দিলো। এমন ছবি তথ্যের সমাহারতো আমাদের সময় ছিলো না। এইতো সেদিন, টেলিভিশনে 'World Athletic Championship 2013 - Moscow' এর ম্যারাথন দেখার সময় দারা-পুত্র কে সঙ্গে নিয়ে মস্কো শহর দেখছিলাম, যতটুকু দেখা যায়। সেই রাশিয়া! আমার ভেতরে এখনো বিপ্লবের রোমান্টিকতা রয়ে গেছে, বুঝতে পারি।
*****
খুব ভালো পোষ্ট অনু। আমার শুভেচ্ছা জানবেন।
শরীরের যত্ন নেবেন। আমাদের মত সাধ্যহীন গৃহপালিত মানুষগূলোর জন্য আপনাকে শতাব্দী ধরে ঘুরে বেড়াতে হবে। মনে থাকে যেন।

---------------------------
কামরুজ্জামান পলাশ

তারেক অণু এর ছবি

আমাদের বিপ্লব চলবেই, চলছেই , আপনিও সাথেই আছেন।

সেই রাশিয়া আসলে কিন্তু কোন সময়ই ছিল না, কিন্তু মুগ্ধতাটুকু এসেছে বইপত্র থেকে।

অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক চলুক

-আরাফ করিম

তারেক অণু এর ছবি
অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক চলুক , কি জটিল জটিল নাম বাপরে খাইছে
ইসরাত

তারেক অণু এর ছবি

নাহ, খুব সহজ তো !

নজরুল ইসলাম এর ছবি

চলুক

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

তারেক অণু এর ছবি

কুয়াকাটার লেখা কুতায়?

কৌস্তুভ এর ছবি

দাদীকে নাতির প্রশ্ন:
– লেনিন কি ভালো ছিলেন?
– হ্যাঁ, খুব ভালো ছিলেন।
– আর স্তালিন ছিলেন খুব খারাপ, তাই না?
– হ্যাঁ।
– আর ক্রুশ্চেভ কেমন?
– এখনও জানি না। মরুক আগে, তারপর জানা যাবে।

সোভিয়েতস্কি কৌঁতুকভে পড়েছিলাম দেঁতো হাসি

তারেক অণু এর ছবি
অতিথি লেখক এর ছবি

যখন ছোট ছিলাম- সমাজতন্ত্র খুব একটা বুঝতাম না, কিন্তু আমেরিকাকে সহ্য হতো না বলেই সবকিছুতেই রাশিয়ার পক্ষে থাকতাম। সোভিয়েট পতনে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম- একেতো বাংলাদেশের স্বাধীনতায় সমর্থন দিয়েছিলো, তার উপর আমেরিকার বিরোধিতা করার আর কেউ রইলো না! আবার যখন জারের হত্যাকান্ড পড়ি (জানি, জারতন্ত্র অনেক অনেক অনেক খারাপ কাজ করেছে, তা সত্ত্বেও- মানতে পারি না। অপ্রাসঙ্গিক হয়তোবা, তবুও লিঙ্কটি দিতে ইচ্ছে করছে- লেলিন কীভাবে জারকে হত্যা করেছিলেন, একেবারে আমাদের বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের মতো-- একজন জারের মৃত্যু।

-নিয়াজ

তারেক অণু এর ছবি

লেখাটা পড়লাম, খুব বেশী সফট টোনে লেখা, জারদের অজস্র অপরাধ ছিল, অবশ্যই তার সন্তানদের হত্যা আমি সমর্থন করি না, কিন্তু জারকে যেমন নরম বেচারা দেখানো হয়েছে সে মোটেও তা ছিল না

অতিথি লেখক এর ছবি

অণু ভাইয়া, আপনার সাথে আমি একমত, কিন্তু আমার কথাটা ছিলো অন্য জায়গায়, জারদের চেয়ে কি লেলিন বা স্টালিন খুব ভাল কিছু করেছে?

-নিয়াজ

তারেক অণু এর ছবি

হুম, বড়ই কঠিন প্রশ্ন, আদর্শটা তো ভালই ছিল অন্তত লেনিনের সময়ের প্রথম দিকে, পরে তো পুরাই পালটি

একটা লোক এর ছবি

বঙ্গবন্ধু আর জারের তুলনাটা বেশি হয়ে গেল না?

তারেক অণু এর ছবি

তুলনাটা যায় না, একেবারেই

অতিথি লেখক এর ছবি

আমি মানুষ হিসেবে দুই জনের মধ্যে অবশ্যই তুলনা করিনি। আমি যেটা বলতে চেয়েছিলাম, সেটা হচ্ছে - মিলটা হচ্ছে হত্যাকান্ডের ব্যাপারটায়।

-নিয়াজ

স্যাম এর ছবি

অনেকদিন পর একটা লেখা ২বার পড়লাম - কিছু ব্যাপার নিয়ে কথা আছে, কিন্তু লিখতে ইচ্ছে করছেনা, দেখা হলে বলি? হাসি

তারেক অণু এর ছবি

না না, এইখানেই বলেন, আড্ডা জমুক

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

তারেক অণু এর ছবি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA