ইস্কুলবেলার গল্প(২)

তুলিরেখা এর ছবি
লিখেছেন তুলিরেখা (তারিখ: মঙ্গল, ০৭/১২/২০১০ - ৪:২৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মনে পড়ছে সেই দিনটা! স্পষ্ট হয়ে মনে পড়ছে। নাইনের পরীক্ষার সীট পড়েছে দোতলায়, ভীষণ গরম ও লোডশেডিং (লোডশেডিং প্রায় অঙ্গাঙ্গী জড়িত ছিলো গরমের সঙ্গে সেইসব দিনে )৷ সবাই দরদর করে ঘামতে ঘামতে ও আঁচলে মুছতে মুছতে পরীক্ষা দিচ্ছে, সেদিন ইংরেজী পরীক্ষা৷ কাগজ ও প্রশ্নপত্র পর্যন্ত গরম, গার্ড যিনি দিচ্ছিলেন তিনি বোতলে করে জল এনে টেবিলে রেখেছেন, কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে মুখে চোখে দেওয়া হবে৷ পরীক্ষা শেষের যখন আধাঘন্টা বাকী, তখন বিদ্যুৎ এলো, ফ্যান ঘুরতে শুরু করলো ৷হাওয়াটা গরম,তবু তো হাওয়া! ঈশ, যেন সেই হাওয়াটা মুখের আর চুলের উপরে অনুভব করতে পারছি এখনো৷ কিছুই কি ফুরায় না? খানিকক্ষণের মধ্যে হাওয়া ঠান্ডা হয়ে এলো, আমাদের ঘামশুকানো কালচে মুখে শান্তি৷ উত্তর শেষ করে গুছিয়ে বেঁধে জমা দিয়ে বেরোনোর পরে শ্রীতমা বাইরে এসে বললো," পরীক্ষা তো নয়, অগ্নিপরীক্ষা৷"

পরের দিন আরেক কান্ড৷ সেদিন জীবনবিজ্ঞান পরীক্ষা, যথারীতি লোডশেডিং, ঘামতে ঘামতে ও মুছতে মুছতে পরীক্ষা৷ কিন্তু অর্ধেকের পরে হাওয়া ঠান্ডা হয়ে এলো, আলো ও বেশ কমে এলো৷ জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি,"ঐ আসে ঐ অতি ভৈরব হরষে" আকাশ মেঘে ঢাকছে,বৃষ্টির সম্ভবনা, ঠান্ডা স্নিগ্ধ হাওয়া, আহা আহা আহা, কি মধুর৷

কিন্তু মধুতে টক মিশে যায় যখন আর নজর চলে না, এত অন্ধকার৷ এ ঘরে দুখানা টিউবলাইট থাকলে কি হবে, লোডশেডিং তো! জানালার কাছ ঘেঁষে বসে সেই আলোতে প্রাণপণে ছাত্রীরা লিখছে, যাদের আগেই ৮০% লেখা হয়ে গেছে তারা আর দু:সাহসিকতায় না গিয়ে খাতা বাঁধতে শুরু করেছে৷ বিপুল ঝড় এসে হাজির এমন সময়৷ সঙ্গে ছাঁট বৃষ্টি৷ সে এক টোটাল কেওটিক অবস্থা!

জয় মা বলে খাতাটাতা বেঁধে ফেলছে সবাই, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নাকি সবাইকে গ্রেস মার্ক্স দেওয়া হবে, জেনারেল গ্রেস৷ এক ঘোর কূটতাত্ত্বিক এই অবস্থায় প্রশ্ন তুললো, "দিদিমণি কারুর যদি এমনিতেই নব্বুই লেখা হয়ে গিয়ে থাকে, সে পুরোটাই ঠিক করে, তাহলে জেনারেল গ্রেসের তিরিশ জুড়ে তো তার একশোকুড়ি হয়ে যাবে!" সকলে তো থ! বলে কী রে এ?

সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ের আরেক ঝাপ্টা, কার না বাঁধা খাতার পাতা ফরফর করে উড়ে গেলো, পিছনে দিদিমণি দৌড়ালেন, বাইরে ঠল্লর ঠল্লর শিলপড়ার আওয়াজ! খাতা জমা দিয়ে কয়েকজনের শিল কুড়াতে দৌড়৷ "ওরে ছাতা, ছাতা নে রে, নইলে চাঁদি ফেটে যাবে" বলে তাদের ফেরানো হয়, তারা ছাতা খুলে সামনের খোলা ছাদে শিল কুড়ায়, সাদা হয়ে গেছে তখন সেই ছাদ৷

সেভেনে এইটে দু'বছর পড়া হতো সংস্কৃত৷ সেটাও একটা অন্য ভাষা, কিন্তু কদর নেই৷ প্রচুর শব্দরূপ ধাতুরূপ মুখস্থ করতে হয় বলে ভারী বিরক্ত সবাই৷ কেউ কেউ নাইনে ঐচ্ছিক বিষয় সংস্কৃত নেয়া যায় এই মর্মে এটাকে গুরুত্বপূর্ণ করার একটা চেষ্টা দেখালে অন্য চটপটে বলিয়ে কইয়ে লীডার গোছের বন্ধুনীদের ধমকে থেমে যায়, এর নাকি কোনো সাবজেক্ট ভ্যালু নেই৷ কোনোরকমে দুবছর তরে গেলেই ব্যস৷

কালের কী পরিবর্তন! মাত্র কয়েকশো বছর আগে এ দেশে শিক্ষা বলতে ছিলো সংস্কৃত মাধ্যম-ব্যাকরণ সাহিত্য জ্যোতিষ তর্ক মীমাংসা৷ আজকের দুনিয়ায় এরা লুজার, সাগরপাড়ের নৌপ্রযুক্তিধারী বিজয়ীরা শুধু আমাদের দেশ দখল করেনি, মন পর্যন্ত কব্জা করেছিলো৷ ওদের রেনেসাঁস? সত্য ত্রেতা দাপরমে কৈ নেহি কিয়া!!!

কেমন করে যেন পশ্চিমের ওরা লীডার, আমরা সবেতে ফলোয়ার৷ আজ যদি ওরা বলে সংস্কৃতের দাম আছে, এইসব লোক, বহুমস্তক একাকার জাতি, মুহূর্তে লয়াল ফলোয়ার হয়ে পড়তে শুরু করবে৷ অথচ আমরা তো এমন করে সপ্তসিন্ধু দশদিগন্ত নাচাতে পারিনে আঙুলের ডগায়!

এইসব কূট প্রশ্ন অবশ্যই তখন দেখা দেয় নি৷ এত সময় কোথায়? ভবিষ্যতের দুনিয়ার চেয়ে আসন্ন পরীক্ষার তাড়া ঢের বাস্তব৷
গোটা ইস্কুলে একজন মাত্র শিক্ষক, বাকীরা শিক্ষিকা৷ এই শিক্ষক হলেন পন্ডিত স্যর৷ ইনি আর শুভ্রাদি সংস্কৃত পড়াতেন৷ চটপটে সমাজসচেতন মেয়েরা এও বলতো শুধু নাকি কিছু লোককে চাকরি দেবার জন্য এই হতচ্ছাড়া ভাষার দুটি বছরের ক্লাস যা নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো কিছুই করা যাবে না৷ এইটে বার্ষিক পরীক্ষা হয়ে গেলে সবাই হাঁপ ছেড়ে বাঁচবে ও কালীতলায় পুজো পাঠাবে এই মোটামুটি পরিকল্পনা ছিলো৷

সেভেনে পড়াতেন পন্ডিত স্যর, বার্ধক্য ও দন্তহীনতা তাঁর কথা বোঝার ব্যাপারে বাধা সৃষ্টি করতো৷ তবে খুবই ইন্ট্রোডাক্টোরি লেভেলের পড়া হওয়ায় আর নানা সহায়ক থাকায় তেমন পাত্তা দেয়া হতো না এসব অসুবিধের৷ ক্লাস এইটে শুভ্রাদি পড়াতেন৷ খুব ঠান্ডা গোছের মা-মা চেহারার দিদিমণি, মন দিয়ে পড়াতেন৷ আগের বছরের মেয়েরা নাকি খুব দুরন্ত ছিলো, উনি ক্লাসে আসার আগে নাকি বোর্ডে মেয়েরা লিখতো "ফলম ফলে ফলানি/ না পারলে শুভ্রা দেবে ক্যালানি৷"

দেখতে দেখতে বছর ঘুরে গেলো, আমাদের বার্ষিক পরীক্ষার শেষে আর সংস্কৃত পড়তে হবে না এই আনন্দে অনেকেই পুজো দিয়ে এলো রক্ষাকালীতলায়৷ ঐ পরীক্ষার দিন আবার আমি আর শুভাশ্রী জানালার তাকে রাখা জলের জাগ উল্টে ফেলে দিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ি, তারপরে দুজনেরই মনে পড়ে, "য পলায়তি স জীবতি"৷ সেই মর্মে বাঁচন সেদিন৷

নাইনে আর নেই শব্দরূপ ধাতুরূপের ড্রিল, এইবারে গুরুত্বপূর্ণ ইংরেজী নিয়ে লড়াই৷ কিন্তু শেষের ও শেষ থাকে কখনো কখনো৷ নাইনে পন্ডিত স্যর রিটায়ার করলেন, আমাদের উপরে পড়লো ওনাকে বিদায় শুভেছা জানানোর ভার৷ অনেক সুমধুর তৎসম শব্দ দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে মানপত্র লেখা হলো, বিদায়ের দিন সকলের চোখ ছলছল৷ রিটায়ারের কয়েকমাস পরে উনি পরলোকগমন করেন৷

( হয়তো চলবে )


মন্তব্য

তাসনীম এর ছবি

স্মৃতিচারণ সব সময়েই ভালো লাগে, বেশ ভালো লাগলো আপনার এই লেখাটা।

জয় মা বলে খাতাটাতা বেঁধে ফেলছে সবাই, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নাকি সবাইকে গ্রেস মার্ক্স দেওয়া হবে, জেনারেল গ্রেস৷ এক ঘোর কূটতাত্ত্বিক এই অবস্থায় প্রশ্ন তুললো, "দিদিমণি কারুর যদি এমনিতেই নব্বুই লেখা হয়ে গিয়ে থাকে, সে পুরোটাই ঠিক করে, তাহলে জেনারেল গ্রেসের তিরিশ জুড়ে তো তার একশোকুড়ি হয়ে যাবে!" সকলে তো থ! বলে কী রে এ?

ইনি কী এখন উকিল অথবা কূটনীতিবিদ? হাসি

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

তুলিরেখা এর ছবি

ইনি এখন ঘোরতর সংসারী।
তবে কিনা সংসার রণাঙ্গণে ও তো রাজনীতি কূটনীতি দন্ডনীতি ভেদনীতির প্রয়োজন কম না!
হাসি

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

কৌস্তুভ এর ছবি

কথা সইত্য দেঁতো হাসি

মহাস্থবির জাতক এর ছবি

আরে, আপনি আবার সংসার করলেন কখন? আপনাকে তো জীবিত বলেই জানতেম!
_______________________________
খাঁ খাঁ দুপুরে, গোধূলিতে আর রাতে বুড়ি পৃথিবী
কেবলই বলছে : খা, খা, হারামজাদা, ছাই খা!

(ছাই: মণীন্দ্র গুপ্ত)

_______________________________
খাঁ খাঁ দুপুরে, গোধূলিতে আর রাতে বুড়ি পৃথিবী
কেবলই বলছে : খা, খা, হারামজাদা, ছাই খা!

(ছাই: মণীন্দ্র গুপ্ত)

কৌস্তুভ এর ছবি

তাই তো। বরযাত্রী কনেযাত্রী কত কী! খুব ছোটবেলায় এক মাসির বিয়েতে গিয়েছি, শেষ আচারটায় মাসি খুব কান্দতেছে। আমি অবাক হয়ে মাকে জিজ্ঞেস করলাম, মা, মাসিই তো পেমটেম করে, ছেলে পছন্দ করে, খুব আনন্দের সঙ্গে বিয়েতে নামল, এখন কান্দে ক্যান?

শঙ্কর [অতিথি] এর ছবি

হয়তো মানে? আমার স্কুল-জীবনটাকে এমন করে চোখের সামনে নিয়ে এসে মাঝ-রাস্তায় ছেড়ে দিয়ে চলে যাবেন?

এখনও তো মাধ্যমিকই শেষ হয় নি, এর পর বারো, কলেজ ইত্যাদি, ইত্যাদি ... পুরো না পড়ে ছাড়ছি না।

তুলিরেখা এর ছবি

সে কী!!! আপনার স্কুলজীবন! আপনিও গার্লস স্কুলে পড়তেন নাকি? চোখ টিপি
জাস্ট কিডিং, কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

মহাস্থবির জাতক এর ছবি

না, শঙ্করদা বোধহয় গার্লস স্কুলের বাইরে পড়তেন :D।
_______________________________
খাঁ খাঁ দুপুরে, গোধূলিতে আর রাতে বুড়ি পৃথিবী
কেবলই বলছে : খা, খা, হারামজাদা, ছাই খা!

(ছাই: মণীন্দ্র গুপ্ত)

_______________________________
খাঁ খাঁ দুপুরে, গোধূলিতে আর রাতে বুড়ি পৃথিবী
কেবলই বলছে : খা, খা, হারামজাদা, ছাই খা!

(ছাই: মণীন্দ্র গুপ্ত)

কৌস্তুভ এর ছবি

আজকের 'প্রেজেন্ট ম্যাম'ও দিয়ে গেলুম। তবে দুঃখের কথা কি, এইবারে জুতসই কোনো চরিত্র বা ঘটনাই পেলুম না লুল্বর্ষণের মত, গার্লস ইস্কুলের কাহিনী লিখতে গিয়ে যদি অন্তত গপ্পেও একটু চান্‌স্‌ না দেন বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেছোকরাদের, তবে চলে কেমন করে?

তুলিরেখা এর ছবি

বলি, বয়েজ স্কুলের গপ্পোগুলি তো কইতে পারেন আপনিও।
আপনি কি ইংরাজি স্কুল নাকি বাংলা বয়েজ?

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

কৌস্তুভ এর ছবি

আমি খাঁটি বাংলা মিডিয়াম সরকারি ইস্কুল। বারকয়েক ইস্কুল জাম্প করেছি অবশ্য, একদম খোকাবেলারটা ছিল পাড়ার ইস্কুল, ইঞ্জিরি মিডিয়াম।

বাউলিয়ানা এর ছবি

ইস্কুলবেলার গল্প সবসময়ই রঙ্গীন। ভাল লাগে।

আপনি হটাত করে সচলে ইস্কুলবেলার গল্পের রেলগাড়ি চালু করে দিলেন, দেখেন আজকে অনেকেই তাদের গাড়ি সেই রেললাইনে তুলে দিয়েছেন আপনার পিছে পিছে। আমিও আছি এই দলে হাসি

তুলিরেখা এর ছবি

খুব ভালো কথা। চালিয়ে লিখুন।
নানা রঙবেরঙের ইস্কুলকথা পড়ে মনটা ভালো হোক।
যা বরফ পড়ছে কয়দিন, মন হিহিহিহি হুহুহুহু করে কাঁপছে, চাঙ্গা করতে গরম কফির মতন এসব লেখা খুব ভালো লাগবে।

হাসি

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

কৌস্তুভ এর ছবি

এত বরফ পড়া তো ভালো কথা নয়। ইউরোপের বেচারারা বরফ নিয়ে নাজেহাল হচ্ছেন গত বছর থেকে বলে শুনছি। বস্টনে চলে আসেন, এদিকে এখনও বরফ নেইকো।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

বাংলাদেশে যাদেরকে স্কুলে সংস্কৃত বা আরবী পড়তে হয়েছে তাদের অভিজ্ঞতা আরো মজার। যেমন, আরবীতে প্রশ্নের উত্তর না পারলে কেউ কেউ গোটা প্রশ্নটা কপি করে দিয়ে আসতো, এতে শিক্ষক নাকি দয়া করে পাশ মার্ক দিয়ে দিতেন। এক ক্লাসে দেখেছিলাম শিক্ষকের মাথার পেছনের দেয়ালে প্রায় ছাদের কাছাকাছি জনৈক হিতৈষী মোটা মার্কার দিয়ে বিশাল বিশাল হরফে চার লাইন আরবী কবিতা লিখে রেখেছে যেন গোটা ক্লাস সেটা কপি করতে পারে। আগের যুগে কেউ কেউ নাকি কালির দোয়াতে তেলাপোকা চুবিয়ে খাতায় ছেড়ে দিতো। তাতে খাতায় যে নক্‌শা হতো তাতে নাকি উর্দু পরীক্ষা পাশ করা যেতো।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

তুলিরেখা এর ছবি

আরে আমাদের তো আরো সব সাংঘাতিক কাহিনি, তবে সংস্কৃত নিয়ে না, অন্য সাবজেক্টে। ক্লাসের দেয়ালগুলো সব ভর্তি ছিলো নানাবিধ জ্ঞানে, ইকোয়েশন টিকোয়েশন অবধি লেখা থাকতো, ব্যাঙের নানা তন্ত্র একেবারে ভালো করে এঁকে রাখা ছিলো লেবেলিং সমেত। একবার তো পরীক্ষার আগে চুনকাম করানো হয়েছিলো আর কোনো উপায় না দেখে। হাসি

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

বাউলিয়ানা এর ছবি

হা হা...আমাদের সময়ে ইসলাম ধর্মের হুজুর স্যারের কথা মনে পড়ে। পরীক্ষার খাতাতে 'বিঘত' মেপে নম্বর! যার প্রশ্নের উত্তর যত বড়, তত বেশি নম্বর!

ওডিন এর ছবি

আমাদের আরবী সার বিশ্বাস করতেন চাঁদে মানুষ যায়নাই- ওইটা নাকি সম্ভবই না, সব ইহুদিনাসারাদের ষড়যন্ত্র! আর আমাদের পণ্ডিতমশাই অবসর সময়ে তন্ত্রসাধনা করতেন! দেঁতো হাসি

তবে দুজনে ছিলেন জানের দোস্ত আর দুইজনেরই হাতের লেখা ছিলো দুর্দান্ত!

______________________________________
যুদ্ধ শেষ হয়নি, যুদ্ধ শেষ হয় না

দিগন্ত বাহার [অতিথি] এর ছবি

ভালো লেগেছে। চলুক... হাসি

তুলিরেখা এর ছবি

ধন্যবাদ দিগন্তবাহার।
-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

অতিথি লেখক এর ছবি

আমাদের ক্লাস সিক্স থেকে এইট পর্যন্ত পড়তে হতো আরবি নামক একটা ভাষা! ক্লাস এইট ছাড়ানোর পর আজ ১৭ বছর পরে এখন একটাই শব্দ মনে আছে... 'আনকাবুত' মানে হচ্ছে মাকড়সা! আর তেমন কিছু মনে নেই। তবে কিভাবে যেন সম্ভবত আরবি ক্যালিওগ্রাফীটা ভাল পাড়তাম বলে নাম্বারটা সবার থেকে বেশীই পেতাম তবে যন্ত্রণা কারো থেকে কম পাইনি এটা বলে রাখি। সাংস্কৃত একমাত্র আমাদের সুদীপ্তকেই পড়তে হতো, তবে সেটা নিয়ে ওর খুব একটা ক্ষোভ ছিল বলে কখনো দেখিনি।

নাইনে উঠে পড়ে এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি!

--- থাবা বাবা!

তুলিরেখা এর ছবি

হায় উত্তেজিত অবস্থায় নিজের বয়সটা ফাঁস করে দিলেন! চোখ টিপি

আমাদেরো কিছুই মনে থাকতো না সংস্কৃত ক্লাসে যা পড়া হলো তবে কিনা বাংলা তো সংস্কৃত থেকেই জাত, বহু শব্দ তাই চেনা। তৎসম শব্দ তো শুনেই বোঝা যায় সরাসরি সংস্কৃত থেকে আসা। তাই সেই সুবিধাগুলো পাওয়া যেতো। তবে ব্যাকরণ অতি বাঁশ। পাতার পর পাতা শব্দরূপ ধাতুরূপ-আরে লোকে ও ভাষায় কথা কইতো কী করে কেজানে, এত শব্দরূপের চক্করে পড়ে মাথা ভনভন করারই তো কথা।

মাকড়সার আরবী আনকাবুত শুনে মনে হলো সংস্কৃতে মাকড়সাকে বলে ঊর্ণনাভ, নাভিতে ঊর্ণা মানে তন্তু বা জাল। খুব যুক্তিযুক্ত নাম। হাসি

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

সজল এর ছবি

বাংলা সংস্কৃত থেকে জাত নয়, বাংলা এবং সংস্কৃত উভয়েই ইন্দো-ইউরোপিয় ভাষা গোষ্ঠীর সদস্য। তৎসম শব্দগুলো সংস্কৃত থেকে এসেছে ঠিক, যেমন কিছু শব্দ এসেছে ফারসী, আরবী আর অন্যান্য ভাষা থেকে।
---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

তুলিরেখা এর ছবি

ঠিক বলেছেন, বাংলাকে মিলমিশ ভাষা বলা যায়। নানা ভাষা থেকে গ্রহণ করে করে সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে। এমনকি চীনেভাষা থেকেও নিয়েছে। চা, লিচু। হাসি

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

অতিথি লেখক এর ছবি

আমরা স্কুলের ব্যাকরনে পড়তাম যে সংস্কৃতের মাগধী রূপ থেকে বাংলার উৎপত্তি। তখন অবশ্য 'সংস্কৃতের মাগধী রূপ" জিনিসটাই বুঝতাম না। এখন জানি কথাটা ভুল। বাংলার উৎপত্তি তৎকালীন আমজনতার ভাষা প্রাকৃত ভাষা থেকে।

--- থাবা বাবা।

অতিথি লেখক এর ছবি

কি বলেন দিদি! বয়স লুকাবো কেন? বয়স লুকালে দাদাগিরি করবো কিভাবে? কম বয়সী আর্কিটেক্টদের মানুষ কাজ দিলেও টাকা দিতে চায় না! তাই বয়স যতোটা বাড়ানো যায়!

--- থাবা বাবা!

তুলিরেখা এর ছবি

এতদিন পরে ঘুরতে ঘুরতে এই পাতায় এসে এই কমেন্ট দেখে কেমন যেন স্তব্ধ হয়ে গেলাম।
কিছুই আর স্পষ্ট করে ভাবতে পারছি না, সব ঝাপসা।

-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

থাবা বাবা, আপনার "আনকাবুত" শব্দটা কোত্থেকে মনে পড়লো সেটা মনে হয় বুঝতে পারছি। বোর্ডের আরবী বইয়ে একটা কবিতা ছিলোঃ

"ইন্নামাদ্দুনিয়া ফানাউন
লাইসালিদ্দুনিয়া সাবুতুন
ইন্নামাদ্দুনিয়া কাবাঈত
নাজাসাতহুল আনকাবুত"

"নিশ্চয়ই পৃথিবী ধ্বংসপ্রাপ্ত হইবে
**********************************
**********************************
মাকড়সার জালের ন্যায়"

মনে পড়ে?



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

অতিথি লেখক এর ছবি

সাধু সাধু আপনার স্মৃতিশক্তি। ক্লাস সিক্সে পড়েছিলাম এই কবিতাটা। অবশ্য এটাকে কবিতা বলা যায় কি না সেটা আমি জানি না।

কবিতার মানে জানিতাম না... তাই গ্রামে এসে এক মাদ্রাসা শিক্ষক মামার কাছ থেকে অর্থ করিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম! ক্লাস সিক্স থেকে এইট পর্যন্ত বাড়ী যাবার একটা বড় কারন ছিল এই আরবি, সেই মামার কাছ থেকে অর্থ করে নিয়ে যাবার জন্য!

--- থাবা বাবা!

সজল এর ছবি

আমাদের এইচএসসি পরীক্ষা হত বিজ্ঞান কলেজে। প্রায়ই ঘুটঘুটে অন্ধকার পরীক্ষা দিতে হয় বলে সিনিয়রদের পরামর্শ মত মোম আর ম্যাচ নিয়ে গিয়েছিলাম। তবে আমার সিট পড়লো নতুন বিল্ডিং এ, তাই আর মোমবাতি জ্বালানো লাগেনি। কিন্তু কাউকে গ্রেস দেয়া হতো না।

লেখা ভালো লাগলো।
---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

তুলিরেখা এর ছবি

পাঁচ সেলের বড়ো টর্চ নিলেই তো হতো! হাসি
-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

বিষণ্ণ বাউণ্ডুলে এর ছবি

ইস্কুলবেলা ভাল্লাগে।।

বৈচিত্র বাড়ুক।।
এবং চলতে থাকুক।।

ভাল থাকুন, অনেক ভাল।সবসময়।।

তুলিরেখা এর ছবি

ধন্যবাদ বিষন্ন বাউন্ডুলে। আপনিও ভালো থাকবেন।

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

ওডিন এর ছবি

না চললে খবরাছে! এই লেখায় ফেরত এসে তারা তুলে নিয়ে যাবো দেঁতো হাসি

______________________________________
যুদ্ধ শেষ হয়নি, যুদ্ধ শেষ হয় না

তুলিরেখা এর ছবি

এ: হে ওডিন, একবার দিয়ে আবার ফিরিয়ে নিলে কী হয় সেই বিষয়ে বাঙালি প্রবাদটা জানো না বুঝি? চোখ টিপি

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।