কেমন ছিলেন তাঁরা

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি
লিখেছেন প্রৌঢ় ভাবনা [অতিথি] (তারিখ: বুধ, ২৮/০৩/২০১২ - ৬:১২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১৯৭১ এ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বা ৭১ এর মার্চ থেকে যে সব বাঙালী পশ্চিম পাকিস্তানে ছিলেন অথবা এভাবে বললে, ৭১ এর মার্চ থকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের পর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আগ পর্যন্ত পাকিস্তানে আটকে পড়া বাঙালীরা কেমন ছিলেন ?

১৯৭১ এ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বা ৭১ এর মার্চ থেকে যে সব বাঙালী পশ্চিম পাকিস্তানে ছিলেন অথবা এভাবে বললে, ৭১ এর মার্চ থকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের পর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আগ পর্যন্ত পাকিস্তানে আটকে পড়া বাঙালীরা কেমন ছিলেন ?

বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে, সঠিক সময়ের নির্দেশে এভাবে বলা যায়, ৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের কিছুকাল পরে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান ত্রিদেশীয় সমঝোতার ফলে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময়ে পাকিস্তান প্রত্যাগতদের মধ্যে আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দু-একটি পরিবারও ছিলেন। সেই সময়ে তাঁদের কাছ থেকে জানা, পাকিস্তানে আটক থাকাকালীন তাঁদের কিছু অভিজ্ঞতা, স্মৃতি থেকে আপনাদের সাথে শেয়ার করবার ইচ্ছা থেকেই এই লেখাটি।

শুরুতে সামান্য ইতিহাস চর্চার প্রয়োজন মনে করছি। কারও বিরক্তির উদ্রেক ঘটালে নিজগুণে ক্ষমা করবেন।

১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার ইন চীফ জে: নিয়াজী, ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জে: মানেকশ এর নিকট একটি যুদ্ধবিরতি অনুরোধ বার্তা পাঠান। উত্তরে জে: মানেকশ তাঁর প্রেরিত বার্তায়, ক্ষয়ক্ষতি কমানোর নিমিত্তে অনতিবিলম্বে জে: নিয়াজীকে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী পরদিন ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ ইং পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার ইন চীফ জে: আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী তদানিন্তন রমনা রেসকোর্স ময়দানে সদ্য নির্মিত একটি মঞ্চে যৌথ বাহিনীর কমান্ডিং ইন চীফ লে: জে: জগজিৎ সিং অরোরার নিকট জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী যুদ্ধবন্দী হিসাবে আত্মসমর্পন করেন। ভারতীয় সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে লে: জে: অরোরা, জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী যুদ্ধবন্দীদের প্রতি পালনীয় সকল নীতিমালা মেনে চলার অঙ্গিকার প্রদান করেন। এই আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান জনাব আবদুল করিম খন্দকার (এ, কে, খন্দকার) বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন।।।

ধারনা করা হয়, ঐ সময়ে পাকিস্তানে প্রায় ৪ লক্ষ বাঙালী বসবাসরত ছিলেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তান সরকার প্রায় ১৬ হাজার বাঙালী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকুরীচ্যুত করে।

যাহোক, এমতাবস্থায় ১৯৭২ সালের ২ জুলাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জনাব জুলফিকার আলী ভুট্টোর মধ্যে ভারতের সিমলায় একটি চুক্তি সাক্ষরিত হয়। যেটাকে আমরা সিমলা চুক্তি হিসাবেই জানি।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তখন ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এরই ফলশ্রুতিতে পাকিস্তানও আটক কিছু সেনা কর্মকর্তার বিচারের প্রসঙ্গ উথ্থাপন করে। এভাবে দর কষাকষির এক পর্যায়ে ১৯৭৩ সালের ১৭ এপ্রিল বিশদ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় যে, ৯০ হাজার পাকিস্তানী যুদ্ধবন্দী মুক্তির বিনিময়ে পাকিস্তানে আটকে পড়া ১ লক্ষ ৭৫ হাজার থেকে ২ লক্ষ ষ্ট্যান্ডার্ড বাঙালীকে তারা বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে।

এই 'ষ্ট্যান্ডার্ড বাঙালী' বিষয়টিতে একটু বলতে হয়, পাকিস্তান সরকার তখন সাধারণ খেটেখাওয়া বাঙালীদের বিশেষ একটা আটক করেনি। সামরিক, বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকেই মূলত আটক করা হয়েছিল।

১৯৭৩ সালের ২৮ আগষ্ট ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দিল্লি সন্ধিচুক্তি সাক্ষরিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম শুরু হয়।

ঐ সময়ে পাকিস্তানে আটকে পড়া একটি পরিবারের কিছু অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।

পরিবারটির সদস্য সংখ্যা তিন। স্বামী, স্ত্রী এবং দুই বছরের একটি কন্যা সন্তান। পরিবারটির অবস্থান ছিল, সিন্ধু প্রদেশের করাচী শহরে। ভদ্রলোক, 'করাচী নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট' এ চাকুরী করতেন। ভদ্রমহিলাটি অর্থাৎ স্ত্রীটি নেহায়েতই একজন গৃহবধু। তাঁরা থাকতেন একটি সাধারণ আবাসিক এলাকায়।

৭১ এর মার্চের শুরু থেকেই তাঁরা একটা পরিবর্তনের আভাস পাচ্ছিলেন। বিদেশী সংবাদ মাধ্যম, বিশেষ করে বিবিসি থেকে তাঁরা একেবারে তাজা খোঁজখবর পাচ্ছিলেন। ২৫ মার্চের সেই ভয়াল রাতের কয়েকদিন পরেই একটি দেয়াল লেখন পরিবারের পুরুষ সদস্যটির নজরে আসে। সেখানে লেখা ছিল, 'বাঙালকো মারো'। স্বভাবতই তিনি একটু ভীত হয়ে পড়েন। তাঁর বাঙালী সহকর্মীদের উপদেশমত তিনি বিষয়টি ঊর্ধতন কতৃপক্ষকে জানান। তাঁর কতৃপক্ষীয় কর্মকর্তাটি ছিলেন সিন্ধি। অতি সত্বরই তাঁকে বসবাসের জন্য পাওয়ার প্ল্যান্টের সীমানার ভীতর একটি বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক সেখানে কর্মরত সকল বাঙালী কর্মকর্তাদেরকে কর্মবিরতিতে রাখা হয় এবং তাঁদের বেতনও অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়। এসময়ে তাঁরা প্রচন্ড একটা উৎকন্ঠার মধ্যে দিনযাপন করতে থাকেন। তবে তাঁদের পাকিস্তানি বন্ধু-বান্ধবেরা বিশেষ করে সিন্ধিরা যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। তবে পাঞ্জাবী এবং মোহাজের (ভারত থেকে আগত) দের সামনে পড়লে তারা কটুকাটব্য করতো।

এমনই একটা সময়ে তাঁরা জানতে পারলেন যে, ভারতীয় সামরিক বাহিনী বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে তাঁরা তখন আভাস পাচ্ছিলেন যে, অচিরেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যাবে। মনের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা মিশ্রিত আনন্দও অনুভব করছিলেন সাথে উৎকন্ঠাও ছিল ভবিষ্যৎ ভাবনায়।

একটা সময় তাঁদের ধারনা জন্মালো যে, তাঁদেরকে অবশ্যই পাকিস্তান ছাড়তে হবে তখন তাঁরা তাঁদের সকল আসবাবপত্র, ফ্রিজ, টেলিভিসন, কাপড় ধোয়ার মেশিন ইত্যাদি সমস্ত কিছুই বিক্রয় করা শুরু করেন। এই বিক্রয় প্রক্রিয়ার কারনে ছোট্ট মেয়েটি তার সব খেলনা লুকিয়ে রাখতো। তার ধারনা, বেচাওয়ালারা তার খেলনাও নিয়ে যাবে। যারা পুরনো জিনিসপত্র কিনতো, তাদেরকে সে বেচাওয়ালা বলেই জানতো।

এসময়ে অনেকেই তাঁদেরকে পালিয়ে যাবার উপদেশ দিয়েছেন। পালানোর উপায়ও বাতলে দিয়েছেন। এঁদের অধিকাংশই ছিল সিন্ধি। কারও কারও উপদেশমতো তাঁরা সামান্য কিছু নগদ টাকা রেখে বাকি সব টাকা দিয়ে সোনা কিনে ফেলেন। সেই সব সোনা তাঁদের এক সিন্ধি বন্ধুর জিম্মায় রেখে তাঁকে নিউইয়র্কে বসবাসরত এক ব্যক্তির নাম-ঠিকানা দিয়ে অনুরোধ করেন যেন সুবিধামতো ওগুলো তাঁর কাছে পৌঁছে দেন।

এর মাঝে হঠাৎই বিবিসির সংবাদ থেকে জানতে পারলেন যে, পাকিস্তান সামরিক বাহিনী আত্মসমর্পন করেছে এবং বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করেছে।

দু-এক দিনের মধ্যেই পুলিশ এসে বাড়ির পুরুষ সদস্যটিকে আটক করে নিয়ে গেল। তাঁকে নিয়ে রাখা হলো করাচী বর্ষ্টাল জেলে (অপ্রাপ্ত বয়স্ক অপরাধীদের সংশোধন বিধি সম্বলিত কারাগার)। বিরাট একটা হলরুম। হাসপাতালের বেডের মতো একটার পর একটা বেড পাতা। প্রত্যেকের জন্য বরাদ্দ একটি বেড ও একখানা ষ্ট্যান্ডফ্যান। মাথাপিছু তাঁদের রেশনও বরাদ্দ ছিল। তাঁরা নিজেদের তত্বাবধানে জেলের বাবুর্চিদের দিয়ে রান্না করাতেন। সময় কাটানোর জন্য ছিল, তাস, দাবা, লুডু, কেরম ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের খেলার সরঞ্জাম। আর পরিবারের মহিলাটি তখন ছোট্ট একটা বাচ্চা নিয়ে বাড়িতে বড্ড একা। এসময়ে সিন্ধি বন্ধু-বান্ধবেরা যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। বাজার-সদাই তাঁরাই করে দিতেন।

বর্ষ্টাল জেলে আটক পুরুষদের সাথে তাঁদের পরিবারের দেখা করার সুযোগ ছিলো। সিন্ধি বন্ধুরা সেখানেও সঙ্গ দিতো। কিন্তু তাঁরা অত্যন্ত উৎকন্ঠার সাথে দিন কাটাচ্ছিলেন, কারন তাঁরা আদতেই তাঁদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছুই জানতে পারছিলেন না। তাঁদের সে উৎকন্ঠার স্বরূপতো আর আমার লেখায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

এভাবে বেশ কিছুদিন চলার পর একদিন পুলিশ এসে বাচ্চাসহ মহিলাটিকেও আটক করে নিয়ে গেল। তাঁদেরকে নেওয়া হলো সদ্য নির্মিত করাচী আইডিয়াল লেবার কলোনীতে। সেখানে ছোট্ট একটা বাড়িতে আগে থেকেই পুরুষ সদস্যটিকে এনে রাখা হয়েছে। ঐ লেবার কলোনীতে অনেক বাঙালী পরিবারকে রাখা হয়েছিলো। তখন ঐ কলোনীটা পরিচিত ছিলো কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প হিসাবে।

এখানে থাকাকালীন পরিবারগুলো তাঁদের নিজস্ব জমানো টাকা দিয়েই বাজার-সদাই করতো। নিজেদের মতো করেই থাকতো। শুধু ছিলো একটি গভীর অনিশ্চয়তা।

সেখানে তাঁদের তত্বাবধানের জন্য যেসব পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন, তাঁদের কাছ থেকে জানতে পেরেছিলেন যে, ভারতে আটক পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর মুক্তিপণ হিসাবে তাঁদেরকে আটক রাখা হয়েছে। অচিরেই এর একটা সমাধান হয়ে যাবে এবং উপরের নির্দেশ আসলেই সকলকে বাঙাল মুলুকে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

তারপর সত্যিই একদিন শুরু হলো সেই বহু প্রত্যাশিত স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম। তারই ধারাবাহিকতায় এই পরিবারটিও একদিন ঢাকার তেজগাঁও বিমান বন্দরে এসে পৌঁছলেন। শেষ হলো এক দীর্ঘ প্রতিক্ষার। স্বজনদের সাথে দেখা হবার মুহূর্তে তাঁদের যে নির্ভার রূপ দেখেছিলাম তা যেন আজও চোখের সামনে ভাসে।


মন্তব্য

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

এই বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি লেখালেখি হয়নি।
অনেক কৃতজ্ঞতা রইল।

আমার বড় মামা, ছোট মামা, বড় খালু একাত্তরে পাকিস্তানে আটকা পড়েছিলেন। বড় মামা ফ্লাইট লেফট্যান্ট মোবাশ্বের হুসেন শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফট্যান্ট মতিউর রহমানের কলিগ ছিলেন। ছোট মামা কলেজে পড়তেন আর বড় খালু পাকিস্তান আর্মির ক্রয় অধিদপ্তরে চাকুরী করতেন।
ছোট মামা আর বড় খালু সপরিবারে ক্যাম্পে আটক ছিলেন। বড় মামা ব্যারাকে গৃহবন্দী ছিলেন। ভয়ংকর সব ঘটনা শুনেছি ওঁনাদের থেকে।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

হ্যা, এ বিষয়টি নিয়ে কেন জানি খুব কমই লেখালেখি হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসে মনে হলো এ বিষয় নিয়ে কিছু লেখার কথা। কিন্তু লিখতে গিয়ে বেশ কঠিনই মনে হলো। সেই কবে তাঁদের কাছ থেকে সামান্য কিছু জেনেছিলাম। স্মৃতিতে সেসবতো এখন ঝাপসা।
তবুও যে ধৈর্য ধরে পড়েছেন, সে জন্য জানাই কৃতজ্ঞতা।

তৌফিক জোয়ার্দার এর ছবি

বিষয়টি নিয়ে আসলেও অনেক কম আলোচনা চোখে পড়েছে। শুধু পাকিস্তানভিত্তিক একটি মিডিয়ায় চোখে পড়েছিল এখনো লক্ষ লক্ষ বাঙালি নাকি পাকিস্তানে আটকে পড়ে আছে; বিশেষ করে করাচিতে। শৈশবে ট্রানজিট হিসেবে করাচিতে যখন গিয়েছিলাম (১৯৮৭-৮৮ হবে) তখনো এয়ারপোর্ট হোটেলে বাঙ্গালি বয়দের কাজ করতে দেখেছি। একটা বাঙ্গালি পরিবারের সাথেও পরিচয় হয়েছিল- মোটামুটি উচ্চ পর্যায়ের চাকরিরত। 'ননস্ট্যান্ডার্ড' বাঙ্গালিদের ভাগ্যে কি হল সেটা কি জানাতে পারেন?

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই পড়বার জন্য। এত্ত বছর পর স্মৃতি হাতড়ে লিখতে গিয়ে কেমন জানি গুলিয়ে ফেললাম। লেখাটা আমার নিজেরই মনপুত হয়নি। মনে হলো আরও অনেক কিছুই হয়তো লেখার ছিলো।
নন স্ট্যান্ডার্ড বাঙালীদের বিষয়ে আর তেমন কিছু জানার সুযোগ হয়নি।

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

চলুক

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ।

তারেক অণু এর ছবি

খুব ভাল হবে, চলুক

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

মূল্যবান সময় থেকে কিছুটা দেবার জন্য ধন্যবাদ।

শাফি এর ছবি

চলুক আমার কেউ পাকিস্তানে ছিল না, সেজ চাচা এমবিএ করতে করাচী না কোথায় যেন যাবার প্লান করেছিলেন ষাটের দশকে, কিন্তু শেষমেষ যাওয়া হয়নি তাঁর। যারা কষ্ট করে ওখানে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন তাদের জন্যে খারাপ লাগল।

সবুজ পাহাড়ের রাজা এর ছবি

করাচী আইবিএ-এ কথা বলছেন। বাহ, আমার সেজ চাচা তো অনেক ব্রিলিয়ান্ট।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

হ্যা, তাঁদের সেই সময়টা প্রতিনিয়ত চরম উৎকন্ঠার মধ্যে কেটেছে।

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

আসলেই অত্যন্ত স্বল্প আলোচিত একটা বিষয়। আমার স্ত্রীর বড়োমামা পাকিস্তান আর্মির মেজর ছিলো এবং সেখানে বন্দী ছিলো। আমার বড়োমামা অবশ্য পাকিস্তান আর্মিতে ছিলো কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের আগে ছুটিতে এসে আর ফিরে যায়নি, সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছে।

তবে বিপরীত চিত্র আছে- পাকিস্তানে বাংলাদেশীদের মিলনমেলাগুলোতে প্রায়শই এক শুয়োরের বাচ্চা সস্ত্রীক উপস্থিত থাকে। তার স্ত্রী একজন পাঠান নারী। ওই শুয়োরের বাচ্চা পাকিস্তান আর্মির মেজর ছিলো। মুক্তিযুদ্ধের সময় সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আনুগত্য প্রকাশ করে এবং স্বাধীনতার পর পাক সেনাবাহিনীতে তার চাকরি টিকে থাকে। সে ইচ্ছে করেই বাংলা বলেনা, উর্দু এবং ইংরেজিতে কথা বলে। আমি এইসব কাহিনী জানার পর থেকে আর কখোনোই তার সাথে বাক্যালাপ করিনি।

মর্‌ শালা গোভাগাড়ে গিয়ে।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ, পড়বার জন্য।
এ রকম দু-একটা বাচ্চা শুয়োর প্রায় সব সমাজেই আছে।

তৌফিক জোয়ার্দার এর ছবি

একদলা থুথু গলার কাছে আটকে আছে।

মিতা এর ছবি

ধন্যবাদ লেখাটার জন্য. প্রথম বারের মত এমন বিষয় নিয়ে একটা লেখা পড়লাম আজ.
আমি আমার বাবা-মা এর সাথে ওই সময়টা পাকিস্তান এ বন্দী ছিলাম .. ছোট মামা ও ছিলেন আমাদের সাথে কিন্তু একা বলে আফগান বর্ডার দিয়ে পাহাড়ি এলাকা পেড়িয়ে অনেক কষ্ট করে দেশে ফিরেছিলেন. আমার বাবা পাকিস্তান বিমান বাহিনীত়ে কর্মরত ছিলেন. আমরা অনেক গুলো পরিবার camp এ আটকেছিলাম. অনেক অনেক গল্প. প্রায় সবই মা-বাবার আর মামার কাছে শোনা. কত সৃতি, কত কষ্টের গল্প.. আমরা খালি হাতে দেশে ফিরে আসি ১৯৭৫ এ ...
আপনার লেখা পরে মনে পরে গেল সে দিন গুলোর কথা, যার অনেকটা ই শোনা আর কিছু কিছু মনে আছে এখন ও ..

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

হয়তো আপনি খুবই ছোট ছিলেন। বড় হয়ে যখন শুনেছেন, নিশ্চয়ই খুব খারাপ লেগেছে। আবারও মন খারাপ করে দেবার জন্য সত্যিই আমি দুঃখিত।

তাপস শর্মা এর ছবি
প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

তানভীর এর ছবি

এ নিয়ে লেখা আসলেই তেমন চোখে পড়ে নি। জানানোর জন্য অনেক ধন্যবাদ।

'ষ্ট্যান্ডার্ড বাঙালী' মানে কী?

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

আমাকে আবার বিভেদ সৃষ্টিকারী ঠাওরাবেন না যেন। কয়েকদিন আগে, সে সময়কার পাকিস্তান প্রত্যাগত এক ভদ্রলোকের সাথে কথা প্রসঙ্গে তাঁর প্রত্যাগমনের বিষয়টি জানতে চেয়েছিলাম। তাতে জানলাম, আমরা বালাঙীরা কী ভুলোমনা। তিনি বাংলাদেশে ফেরত আসার সালটা পর্যন্ত মনে করতে পারলেন না। কথা প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁরা যে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে আটক ছিলেন সেখানকার পুলিশ সিপাইরা তাঁদেরকে বলত 'ষ্ট্যান্ডার্ড বাঙাল' আরেক শ্রেণী ছিল 'আম বাঙাল'। সম্ভবত তুলনামূলক সম্মানীয় হিসাবেই তারা কথাটা বলতো।

তো, ভদ্রলোকের এই ভুলে যাওয়া বিষয়টিই আমার লেখার প্রেরণা। মুক্তযুদ্ধকালীন পাকিস্তানে আটকে পড়া বাঙালীরাও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটা অংশ। এ নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজ হওয়া প্রয়োজন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেখা নিয়ে এক-এক সরকারের আমলে কী তুলকালাম কান্ডই না ঘটেছে ! লক্ষ লক্ষ পৃষ্ঠা ইতিহাস লেখা হয়েছে অথচ এই বিশেষ একটা দিকে কেউ নজরই দিলেন না।

ধন্যবাদ, মন্তব্যের জন্য।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

শব্দটা stranded হবে, standard নয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

আপনার বিষয় নির্বাচন অত্যন্ত আগ্রহ জাগানিয়া। আপনার লেখায় ওইসব পরিবারের মনজাগতিক বলয়ের দ্বান্দ্বিক চিত্রন দেখতে চাই।
আর হ্যাঁ, বেটার লেট দ্যান নেভার, আপনাকে হাচলত্বের অভিনন্দন জানাই।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ, প্রেরণাদায়ক মন্তব্যের জন্য।
আমি মনে করি এ বিষয়টিও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিষয়টি হারিয়ে যেতে বসেছে। এটি নিয়ে কাজ হওয়া প্রয়োজন।
ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন।

জয় এর ছবি

ষ্ট্যান্ডার্ড নাকি ষ্ট্যান্ড্রেড (মানে আটকে পড়া)

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ, পড়বার জন্য।
তানভীরের প্রশ্নের জবাবে বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

চমৎকার একটি বিষয়। সেই সময়ে আটকে পড়া বাঙালীদের মনোজগত নিয়ে তেমন কোন লেখা চোখে পড়েনি। লেখাটির জন্য ধন্যবাদ ও ভালো লাগা জানিয়ে গেলাম।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ, ভালোলাগা জানাবার জন্য।
আমার সীমিত জ্ঞানে ধারনা করি এ বিষয়টি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। হারিয়ে যাওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে কাজ হওয়া প্রয়োজন।
আপনার অভিমতের জন্য আগ্রহভরে অপেক্ষায় রইলাম।

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

দিলারা হাশেমের 'মিউর‍্যাল' পড়ে দেখতে পারেন। সেখানে এমন মনোজাগতিক দ্বন্দ্বের নাগাল পাওয়া না গেলেও হৃদয় রক্তাক্ত হবার বর্ণনা পাবেন।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

স্বপ্নখুঁজি এর ছবি

এই ব্যপারটা নিয়ে লেখার জন্য ধন্যবাদ। এখনও অনেক কিছু জানার বাকি। একটা দেশের জন্মের সাথে কতশত ঘটনা জড়িত। প্রতিদিন দেশের প্রতিটি কোনায় প্রতিটি মূহূর্তে একেকটি আলাদা ঘটনার জন্ম। জানি খুব সামান্যই। আর এটা তো শত্রুর দেশের ঘটনা। যা হয়ত থেকে যাচ্ছে আড়ালে-আবডালে। এসব ব্যপারে জানার আগ্রহ রাখি।
আবার ও ধন্যবাদ।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ, মন্তব্যের জন্য।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

'বাঙালকো মারো' এ ধরণের দেয়াল লিখন যখন পাকিস্তানে ছিলো, তার মানে ধরে নেয়া যায় সাধারণ পাকিস্তানীদের মধ্যে ব্যাপারটা কিছুটা হলেও পরিচিত ছিলো। তো, আমরা যখন শুনি, পশ্চিম পাকিস্তানীরা 'কিছুই' জানতো না, তাদেরকে জানানো হয়নি- এটা ডাহা মিথ্যা মনে হয় না? 'বাঙালকো মারো' তাদের দেয়ালে শোভা পাচ্ছে, কেনো পাচ্ছে সেটা তারা জানতো না? আজকে হামিদ মীর আর ক্রিকেটার ইমরান খান নিয়াজি এসে কুমিরের চোখে জল দেখায়। শালা মাদারচোদের বাচ্চারা।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

শুধু দেয়াল লিখন না, বাড়িতে ইট-পাথর নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। উনারা সব মুফতে ক্রেডিট চায়।

আসমা খান, অটোয়া এর ছবি

খুব ভালো লাগলো। স্মৃতি জাগানিয়া একটি লেখা। এ ব্যাপারে আরো লিখলে খুশি হবো।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ, চেষ্টা করবো।

পথিক পরাণ এর ছবি

আপনার লেখার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। একটা যুদ্ধের কতগুলো দিকই না অজানা থেকে যায়!

চলুক।
------------------------
পথেই আমার পথ হারিয়ে
চালচুলোহীন ছন্নছাড়া ঘুরছি ভীষণ---

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

জী, অনেকগুলো দিকই অজানা থেকে গেছে।

আশালতা এর ছবি

আমার পরিচিত এক হিন্দু পরিবার যুদ্ধ কালীন সময়টা এখনও 'মিস' করেন। সেই সময়টা নাকি তাদের জীবনের অন্যতম সুখের সময় ছিল। ভারতের কোনও এক জায়গায় তারা আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে ভারতীয় সরকার তাদের খাবার দাবার ইত্যাদির সুবন্দোবস্ত করে রেখেছিলেন। এমনকি ট্রাকভর্তি কমলা লেবু এনে ডালা খুলে দেয়া হত আর ঝরঝরিয়ে কমলা পড়ত, তখন সবাই গিয়ে ইচ্ছে মত কুড়িয়ে আনত। এই বক্তব্যের সত্যমিথ্যা আমার জানা নেই।

----------------
স্বপ্ন হোক শক্তি

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

আমারওতো জানা নেই। ভাল করে মনে করবার চেষ্টা করুন, স্বপ্নে দেখেননিতো!

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

সৈয়দ নাজমুদ্দীন হাশেমের 'বন্দীশালা পাকিস্তান' এই বিষয়ে একটি চমৎকার, অবশ্যপাঠ্য বই। লেখক নিজে ১৯৭৩ পর্যন্ত পাকিস্তানে আটকে ছিলেন।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ, অবশ্যপাঠ্য যখন বলছেন, সুযোগ মতো অবশ্যই পাঠ করবো।

তাসনীম এর ছবি

লেখাটা ভালো লেগেছে। এই বিষয়ে খুব বেশি লেখা চোখে পড়েনি।

সেবা প্রকাশনীর হেল কমান্ডোও মনে হয় এক মেজরের পাকিস্তান থেকে পলায়নের চেষ্টার গল্প।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ধন্যবাদ, ভালোলাগা জানাবার জন্য।
আমার বড় ভাইরা চার বন্ধু ঐ সময়ে পালিয়ে এসেছিলেন। সেটা একটা বিশেষ অ্যাডভেঞ্চার বটে। সেই ঘটনাটা বিস্তারিত লিখবো ভাবছি।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

চলুক
এই বিষয়টি নিয়ে আরো বিস্তারিত লিখবেন আশা করি, শুভেচ্ছা। হাসি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

দেখি আর কিছু তথ্য সংগ্রহ করা যায় কিনা! হাসি

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

চলুক পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

আয়নামতি এর ছবি

মাঝিভাইয়ের কারণে সত্যানন্দ বাবাজী এই পোস্টের কথা উল্লেখ করেন।
তাদের দু'জনকেই ধন্যবাদ। আসলেই কিন্তু এই বিষয়টি নিয়ে যতটা লেখালেখির দরকার ছিল,
বলার প্রয়োজন ছিল ততটা একদমই হয়নি।এই মৌনতার কারণ কী? পোস্ট লেখকের সাথে আমিও এক মত যে এই বিষয়টি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সাথে গভীরভাবে সংশ্লিষ্ট। কিন্তু বিষয়টি যথেষ্ট অবহেলার যেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের আরো কত দিক অবহেলার শিকার কে জানে!
যদিও আমার জানার পরিধি খুবই সীমিত(যে কারণে লজ্জিতবোধ করছি) তারপরও যেটুকু পড়েছি এসব বিষয়ের আলোচনা খুব একটা পেয়েছি বলে মনে হয় না। যাঁরা সেসময়ে স্বদেশ ফিরে এসেছিলেন তাঁদের একটা ভালো সংখ্যার (মানুষের) বিষয়টি নিয়ে লেখা উচিৎ ছিল। সেটি যে সে মাত্রায় হয়নি বলাই বাহুল্য।
এমন এক যুগান্তকারী ঘটনা সেভাবে লিখে না রাখাটাকেও অপরাধ মনে করি। কারণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের এসব ইতিহাস জানবার অধিকার আছে। ভুল বলেছি?? ভাবনাদা, আপনার কাছ থেকে এ বিষয়ে আরো কিছু জানবার আগ্রহ থাকলো।
আরেকটা বিষয়, এ সংক্রান্ত বই/লেখালেখির একটা পরিপূর্ণ লিস্টি করা গেলে ভালো হতো কিন্তু। কী বলেন আপনি?
ধন্যবাদ ভাইয়া আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।