গুরুচন্ডালী - ০২১

ধুসর গোধূলি এর ছবি
লিখেছেন ধুসর গোধূলি (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৮/০৫/২০০৯ - ১১:২৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ধর্মান্তরঃ একটি ফ্যাশন!

ওর নাম ছিলো আন্দ্রে, আন্দ্রে অমুক (পারিবারিক নামটা মনে নেই)। লম্বা ট্যাং ট্যাঙে ঢ্যাঙা ধরণের একটা পোলিশ অরিজিন ছেলে। তার সাথে ভালো করে পরিচিতি বেড়েছিলো ২০০৬ এর 'বিশ্বযুবদিবসে'-র সময়টাতে। সেসময় আমার ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করার কথা থাকলেও পরে আর করা হয়নি। কিন্ত আন্দ্রে করেছিলো।

গলায় লাল রঙের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ঝুলিয়ে আন্দ্রে ঘুরে বেরায় কোলন-বনের বিভিন্ন জায়গায়। নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করে বিলেফিলডের পিলগ্রিম সম্মেলনে পোপের আশেপাশে থাকার অনুমতি পাওয়াতে। তাঁর অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডটাতে বিচরণ ক্ষেত্রের পরিধি উল্লেখ করা আছে, সেটা খুব আগ্রহ নিয়ে আমাকে দেখায় সে। আমি দেখি, খুশী হই, উদ্বেলিত হই আন্দ্রের আনন্দ দেখে।

বাদ বাকি সবার সাথেই হতো কিনা কে জানে, তবে ও আমাকে দেখলেই জুড়ে দিতো তার মেসনহুডের আলাপ। কখনো বিয়ে করতে পারবে না, মদ খেতে পারবে না, এটা-সেটা নানান খুঁটি নাটি নিয়ে কথা বলতো। তার ভ্যাজর ভ্যাজর আমার একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভালো (আসলে বোধহয় শব্দটা হবে ইন্টারেষ্টিং) লাগলেও পরে বিরক্তিকর ঘ্যানঘ্যান টাইপের হয়ে যাওয়ায় কাজ আছে বলে কেটে পড়তাম প্রায়শঃই। মানে ভদ্রভাবে "তোমারে ঠাশ করলাম" টাইপের আরকি!

এমনই একদিন তাঁর সাথে আমার দেখা। লম্বা আলখাল্লা পরিহিত মাথায় টুপি। আমি দেখে ভাবলাম, কাম সারছে। এই ব্যাটা নির্ঘাত ভ্যাটিকান থেকে সার্টিফাইড হইয়া আসছে, এইবার বুঝি পুরা পাদ্রীর দীক্ষা দিয়ে ছাড়বে আমাকে। কম করে হলেও দশ মিটার দূর থেকেই ইয়া লম্বা এক সালাম দিলো আমাকে দেখে। আমি কেমন ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম! ভ্যাটিকানের কাউকে তো এভাবে সালাম দিতে জীবনেও শুনি নাই হালায়!

আন্দ্রে কাছে এসে আমার হাত ধরে তাবলীগী স্টাইলে 'মুসাবাহ্' করতে করতে হাতে আমার একটা কার্ড ধরিয়ে দিয়ে বল্লো, "আমাদের ধর্ম হলো সেরা ধর্ম, এটা রাখো। আমাদের সংগঠনের ইন্টারনেটের ঠিকানা আছে, তুমি চাইলে দেখতে পারো"। আমার তব্দা খাওয়া মুখ আরেকটু গেলো ঝুলে।

কার্ডের ওপর আরবী ক্যালিগ্রাফির আদলে লেখা। ওর এরকম ব্যবহারে কেমন যেনো ধাক্কা খেলাম। বিরক্ত লাগছিলো, ও ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলামকে গ্রহন করেছে। আমার হয়তো খুশী হবার কথা, অ্যাপ্রেশিয়েট করার কথা। কিন্ত পারিনি, খুব বিরক্তি জমে গেলো তার ওপর। মেন হচ্ছিলো কষে একটা চড় মারি ব্যাটাকে! অবশ্য ততদিনে আমি আন্দ্রেকে পারলে এড়িয়ে চলি। তার লেকচারের ভয়ে এক গলিতে তাকে দেখলে আরেক গলি দিয়ে কাটাপাতলা দেই। এই ঘটনার পর থেকে তারে দেখলেই মুখটা বাংলা 'ঙ'-এর মতো করে খাঁটি বাংলায় মন খুলে একটা গালি দেই, গালি দিয়ে যেদিকে যাচ্ছিলাম সেদিকে তিনগুণ বেগে হাঁটা দেই।

কিছুদিন আবার দেখা হলো তাঁর সাথে। আমি অবাক হয়ে লক্ষ করেছি, ও আমাকে দেখে কিছুদিন ধরেই "হরে কৃষ্ণা" বলে হুংকার দেয়। একদিন মাথায় চেয়ে যাওয়া ক্ষোভ লুকিয়ে খুব ভদ্রোচিত ভাবে জিজ্ঞেস করলাম,

"কিছু মনে না করলে তোমাকে খুব ব্যক্তিগত একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি"।
- (একটু থমকে গিয়ে) হ্যাঁ করো...

"তুমি কি আবার ধর্মান্তরিত হয়েছো?...
- এটা খুবই ব্যক্তিগত!

"সে জন্যই এতো ঘটা করে অনুমতি নিলাম।
- (একটু থেমে থেকে) হ্যাঁ, আমি নতুন ধর্ম নিয়েছি...।

ধন্যবাদ দিলাম তাকে কথোপকথন টুকুর জন্য। দিয়েই কাটাপাতলা দিলাম। ওর আশেপাশে বেশিক্ষণ থাকলে টেম্পার ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।

আন্দ্রে হরে কৃষণা করলেও আমার কিছু এসে যায় না, কিংবা সারাদিন চার্চ কিম্বা মসজিদে বসে জিকির করলেও আমার কিছু হওয়ার কথা না। কিন্ত আন্দ্রের চলন-বলন কেমন জানি বিরক্তিকর ঠেকে আমার কাছে। একেবারে র' বিরক্তিকর কিছু পাবলিক থাকেনা, দেখলেই গায়ে কেমন খুঁজলি'র মতো চুলকানী হতে থাকে- ওরকম! শুরু থেকেই, প্রথমে মজা পেলেও সেটা আর মজার পর্যায়ে থাকেনি।

ও যেদিন আমার হাতে কার্ডটা ধরিয়ে দিয়ে বলেছিলো, "আমার নাম ইউসূফ। আমি এখন মুসলিম"- সেদিন থেকে আমার চরম বিরক্তি পরিণত হয়েছিলো বজ্রবিরক্তিতে। দেখা হলেই লম্বা সালাম দিয়ে নানান বিশেষনে আল্লাহ কে বিশেষায়িত করতো, আমার মেজাজ চড়ে যেতো। প্রথম দিনে, তার সালামের বাহার আর আল্লাহ্'র অপার মহিমা বয়ান শুনেই কী করে যেন বুঝে গিয়েছিলাম সে আবার ধর্মান্তরিত হবে!

এর মাঝে প্রায় বছর দুয়েকের মতো কেটে গেলো এমনি এমনি! এর মধ্যে আরবের লোকেরা তাদের ঘোড়ায় হেডলাইট সংযোজন করলো, রিয়রভিউ মিরর লাগালো। আর আজকে ঘটলো মজার ঘটনা! স্পার্কাসে ব্যাঙ্কের কোনা ধরে হেঁটে এগিয়ে আসতেই পরিচিত চেহারার আন্দ্রেকে দেখতে পেলাম আজ। গায়ে সেই তাবলীগী আলখাল্লাও নেই, গেরুয়া রঙের 'হরে রামা হরে কৃষ্ণ' নামাঙ্কিত সেলাইহীন বস্ত্রও নেই। গলায় দেখতে পেলাম বিশালকায় ডিজাইন করা এক সাদা চকচকে ক্রশ শোভা পাচ্ছে। মোটা চেইন দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে। পরনে কেতাদুরস্ত খেরেস্তানী পোষাক। এক বিশালবক্ষা, মিনিস্কার্ট পরা ষ্টাইলিশ আফ্রিকান মহিলা'র সাথে কী বলতে বলতে উল্টাদিক থেকে এগিয়ে আসছে। আমি একবার মহিলার দিকে তাকিয়ে আন্দ্রের দিকে তাকাতেই ও মুচকী হাসিতে ইশারা করলো! আমি কী বুঝলাম, সেটাও বোঝার মতো সময় নিউরণকে না দিয়ে হাত পাকিয়ে এমন একটা ভাব করলাম যার খাঁটি বাংলা করলে দাঁড়ায়, "ঘুইরা খাড়া ভাদাইম্যা হালার্পুত, তোর পোঙ্গায় কইষ্যা একটা ভ্যাদা মারি..."


মন্তব্য

আহমেদুর রশীদ এর ছবি

অন্তর্নিহিত কোনো তথ্য নাই ব্যাপারটায়?

---------------------------------------------------------

ঘাস তুমি ঘাসের মতো থাকো মাটি ছুঁয়ে
যে দেখার সে নতজানু হয়ে ছুঁবে তোমার আঙুল
অবরুদ্ধ মাঠ থেকে তুমি লাফিয়ে নেমোনা প্লিজ পাথরের পথে

---------------------------------------------------------

ঘাস তুমি ঘাসের মতো থাকো মাটি ছুঁয়ে
যে দেখার সে নতজানু হয়ে ছুঁবে তোমার আঙুল
অবরুদ্ধ মাঠ থেকে তুমি লাফিয়ে নেমোনা প্লিজ পাথরের পথে
________________________________________
http://ahmedurrashid.

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আছে, "ছিদ্রান্বেষণ"। এই হালার্পুত যেখানে দেখে ছাই, উড়াইয়া দেখে তাই। 'ইউসূফ' হওয়ার পরে আফগান এক মেয়ের পিছনে ঘুরে ঘুরে ঐ মেয়ের জান খান্দান করে ফেলছে। ঐ মেয়ে যার এখানে কাজ করে, সে বাধ্য হয়ে ইউসূফরে সেখানে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছে পরে। 'হরে কৃষ্ণ হরে রামা' ভেক ধরার পর সে এরকম আরেকজনকে বগলদাবা করেছে। এই মহিয়সী আবার আমার পূর্ব পরিচিত। একদা দিলো আমার কাছে 'হাঁড়ি ভাইঙা'। শুরুর দিকের 'মেসনের মহত্ব' বুঝতে না পারলেও আজকে দেখে মনে হইলো, তার মেসনত্ব গ্রহণের পেছনেও 'গূঢ় মাহাত্য' আছে!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

নিবিড় এর ছবি

ইন্টারেস্টিং, ভেরী ইন্টারেস্টিং চিন্তিত


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- একসময় তা-ই লাগতো নিবিড়, এখন পুঙ্গির পুতেরে দেখলে শইল জ্বলে। হালায় মাইয়া মাইনষের মতো শরীর দোলায়!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

আগে কন, 'ঙ'-এর মতো মুখ ক্যাম্নে বানায়? দরকার হইলে ভিডিও দেখান দেঁতো হাসি

মূলত পাঠক এর ছবি

হা হা
গড়াগড়ি দিয়া হাসি

গড়াগড়ি খেলাম জিনিসটা ভিসুয়ালাইস ক'রে!

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

এই গড়াহাসি হাসাগড়ির ইমোটিকন-টা বরঞ্চ ঙ-র কাছাকাছি দেখতে! খাইছে
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ভিডিওতে তো এমনে এমনে 'ঙ' আসবে না বিডিআর ভাই। তার জন্য চাই সঠিক পাত্র-পাত্রী। চোখের সামনে ঐরকম 'মাল' দুয়েকটা চলে আসলে অটোমেটিক দেখবেন চেহারায় একটা বিবর্তন আইসা পড়ছে। তখন যদি কোনোমতে একটা দর্পণ ধরতে পারেন সামনে তাইলে যে প্রতিবিম্ব পাইবেন, সেইটাই আমাদের উল্লেখিত 'ঙ'-এর মতো মুখ।

এবার এসো নিজে করি স্টাইলে এক্সারসাইজ করেন। দেঁতো হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

হইতেছে না বস। আপনে দেশে আসেন, আপনার কাছ থেকে লাইভ ডেমো দেখব দেঁতো হাসি

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

এই না হৈলে আপ্নের নাম বিডিআর?!
আপ্নেপারেনোরেভাই!
হাসি
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

রায়হান আবীর এর ছবি

আন্দ্রেরে দিয়া হইবো। খাইছে

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- কে জানে হৈবো কীনা! আজোবধি তো 'কাউরে' অর ব্যাপারে 'আহামরি' কইতে শুনলাম না। যা শুনলাম তা হইলো, "অয় পুরুষ মানুষের জাত-ই না! হালায় পুরাই একটা আর্শ-লখ!" চোখ টিপি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

এনকিদু এর ছবি

রায়হানের সাথে একমত । আন্দ্রেরে দিয়াই হইব । আন্দ্রের ঠিকানা দেন, টিপস নিমু ।


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আপনে টিপস নিবেন শুনলে অর ঠিকানা আর আমার খুঁইজা দিতে হইবো না। ও নিজেই দেখবেন টিকেট কাইটা বাংলাদেশ গিয়া, পলাশীর মোড়ে খাড়াইয়া "কদু ভাই, কদু ভাই" কইয়া পুকার শুরু কইরা দিছে!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

এনকিদু এর ছবি

হবেনা, পারবেনা । পলাশীর মোড় বলে কিছুর অস্তিত্ব আর নাই । কী আর বলব দুঃখের কথা । আমাদের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটটা নষ্ট করে দিয়েছে পরিকল্পনাবিদেরা বিদ্যা ফলাতে গিয়ে । এই নিয়ে পরে একটা কান্নাকাটি পোস্ট দিব, বিস্তারিত দেখে নিয়েন ।


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

অতিথি লেখক এর ছবি

আর বইলেন না প্রতিদিন আমি পলাশীতে গিয়া ডস খাই!!
-------------
উদ্ভ্রান্ত পথিক

স্বপ্নাহত এর ছবি

গুরু, ভালৈয়াছেন তাইলে? হাসি

---------------------------------

তাও তো ভারী লেজ উঁচিয়ে পুটুশ পাটুশ চাও!

---------------------------------

বাঁইচ্যা আছি

ধুসর গোধূলি এর ছবি
হাসিব এর ছবি

ঘুইরা দাড়ানির পর শেষ পন্ত কিঐছিলো ?

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ছিছি! কী কন এগুলা?
মেম্বর সাবের মতোন কৈলাম পিঠে ব্যাদ্না লৈয়া আশপাতালে বৈয়া বৈয়া চউক্ষের পানি ফেলবেন আর কৈবেন, "কইছিলো, ধুগো কৈছিলো!" মন খারাপ
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

নূপুরের ছন্দ [অতিথি] এর ছবি

আপনে এতো মুখ খারাপ করেন কেমনে? আপনের কাছে শিখতে হবে।।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- নূপুরের ছন্দরে (এক কথায়) কী কয় কন তো দেখি আগে!
এইটা হইলো এন্টার-ভিউ। গালাগালি শিখানির কেলাশ শুরু করুম পরে। হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

দৃশা এর ছবি

সহজ উপায় হইল এই খাটাশ লুকের খাটাশ পুস্টগুলা ফলো করবেন। যেই পুস্টে যত বেশী কমেন্ট ধইরা নিবেন সেই পুস্ট তত বেশী খাটাশ। তাইলে দেখবেন হড়বড় কইরা মুখ দিয়া খ্রাপ খ্রাপ কথা বাইর হয়।

যাই দুইটা গ্রম গ্রম আলুর চপ খাইয়া আসি। মানবসেবা করতে করতে টাইহার্ড হইয়া গেলাম।

দৃশা

ধুসর গোধূলি এর ছবি
মামুন হক এর ছবি

ধুগো, ইউসুফ ভাইজানের কাছ থিকা অনেক জীবনধর্মী শিক্ষা পাইছ বইলা মনে হয়।
"চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক" -এইটা আন্দ্রে ভাইজানই শিখাইছিলো?

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- নাহ, এই মহান বাণী ধুগো তার ঊর্বরগোবরস্থলে আবিষ্কার করছিলো (বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের নিমিত্তে) আন্দ্রে চান্দুর উজ্জ্বীবনী শিক্ষারও মিনিমাম ছয় মাস পূর্বে। চোখ টিপি

আরেকটু প্রিসাইজলি বললে। এইটা আসলে অনেক ছোট বেলায় বড় ভাইয়ের ঘরের দরজায় সাঁটানো একটা স্টিকারে দেইখা গোবরস্থলে জমা হৈয়া আছিলো এতোকাল! সুযোগ পাইয়া লটকানো হইছে ব্লগোমণ্ডলের চান্দিতে। হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

তানবীরা এর ছবি

মেয়ে মানুষ কি না করতে পারে !!! ট্রয় ধ্বংস কি কোন ব্যাপার ছিল? একজন বেশ বদলায় আর একজন তা নিয়া কান্নাকাটি পোষ্ট দেয়। মেয়েদের ক্ষমতা .....................অসীম

তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ঐ মিয়া ভাই যে 'মেয়েদের' ক্ষমতার গুণে বদলায় সেই মেয়েদেরকে দেখে এই কান্নাকাটিওয়ালাও সাড়ে সাত মাইল তফাৎ দিয়া চালি মারে! তবে ক্ষমতাওয়ালী যদি আসলেই ট্রয় ধ্বংসের মূল কারণ হেলেন হইয়া যায় দৈবাত, তাইলে যে এই অধম দূর দিয়া চালি দিবে, সেই গ্যারাণ্টী কিন্তু দিতে পারতেছি না! চোখ টিপি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

তুলিরেখা এর ছবি

হি হি হি হি।
-----------------------------------------------
কোন দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

ধুসর গোধূলি এর ছবি
অতিথি লেখক এর ছবি

আমি আন্দ্রে ভাই-এর শিষ্যত্ব নিমু। ওনারে বাংলাদেশে আইতে কন!! বড়ই এলেমদার মানুষ!! চোখ টিপি
---------------------
উদ্ভ্রান্ত পথিক

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- হেহ হেহ হেহ
তারে খালি একবার কইলেই হইছে, "বাংলাদেশে লও, তোমারে বিবাহ করাইয়া দিবো!" লগে লগে অই 'বাংলা-ধর্ম' গ্রহণ কইরা টিকেট কাইটা বিমানে চইড়া বসবো, আমার আগেই। দেঁতো হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

দ্রোহী এর ছবি

এইজন্যই ধুগোর কিছু হয় না!

কোথায় আন্দ্রেরে গুরু মেনে তার খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত করে যাতে করে আন্দ্রের কাছ থেকে শালিবধ বিদ্যা লাভ করতে পারে। তা না করে ব্যাটা আন্দ্রের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগছে।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- এইত্তা নাই। আমার আন্দ্রের কাছে শলিবধ কাব্য পাঠ নেয়ার দরকার নাই। আসেন কামের কথা সারি। কন, আপনের যে শালির ফটুক দেখাইছেন, তার নাম্বার কবে দিবেন। বউয়ের মাইরের ডরে এখন আবার কইয়া বইসেন না, "ফটুক?? কার ফটুক? কেমন ফটুক!!" আপনের লগে মিয়া বিশ্বাস নাই। মন খারাপ
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

তীরন্দাজ এর ছবি

আমাদের সমাজে যে সব অতৃপ্তি, তার কারনগুলো বেশীরভাই মনে হয় পার্থিব ধরণের। এখানকার ইউরোপীয়া সমাজের লোকজন বেশীরভাই আত্মিক সমস্যায় ভোগে। নিজের পরিচিত গন্ডি থেকে বেরিয়ে অন্য গন্ডিতে সমাধান খোঁজে। না পেলে অন্য জায়গায় খোঁজে। অনেক সময় একারনে দেশান্তরী হয়।

আন্দ্রে তাদেরই একজন। এদেরকে আপনার মতোই আমান কাছে বিরক্তিকর বলে মনে হয়। তবে মাঝে মাঝে মায়াও হয়!
**********************************
কৌনিক দুরত্ব মাপে পৌরাণিক ঘোড়া!

**********************************
যাহা বলিব, সত্য বলিব

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ইউরোপের অন্য দেশের জনগণের কথা জানি না তীরু'দা, কিন্তু জার্মানদের এই জেনারেশনকে দেখেছি কাছ থেকে। তাদের বেশির ভাগ আত্মিক সমস্যায় ভোগে কীনা বুঝি না, তবে এটা বুঝি তারা নিজেদের সিস্টেমে নিজেরাই অতিষ্ট! "সাইসে ডয়েশলাণ্ড!" বলে প্রায়শঃই গালি টালি দিয়ে বসে। তাদের কাছে কেনো জানি আম্রিকাকে 'স্বপ্নের দেশ' মনে হয়। 'উরলাউব' করতে সেদিকে যাবার জন্য মুখিয়ে থাকে। একজন তো আমাকে বলেছিলো, দরকার হলে রুমানিয়া তে গিয়ে বসবাস শুরু করবো, তাও এই দেশে না! আমার মাথায় আসলে ঢুকেই না, এইখানে তাদের সমস্যাটা কী! মাগনা পড়াশুনা করে, পড়াশুনা শেষ করলে চাকরির বাজার খাড়া। তারপরও তারা কেনো নাখোশ, সেটাই বুঝি না আমি। এটা কি আসলে আত্মিক কোনো সমস্যা? নাকি ব্যুরোক্র্যাটিক সমস্যা!

আন্দ্রের ব্যাপারটা আলাদা মনে হয়েছে এদের থেকে। আমার কেনো জানি মনে হয়েছে ও আসলে আত্মার কোনো প্রশ্নের কারণে বিভিন্ন ধর্মের দ্বারে কড়াঘাত করছে না। বরং করছে অন্য কারণে, কারণটা কী সেটাই আমি ধরতে পারিনি ঠিকঠাক! তবে এটা বুঝি, কারণটা আত্মিক না। বাহ্যগত!

আমার বিরক্তিটা আসলে আন্দ্রে বলেই হয়েছে। অন্য কেউ হলে বিরক্তিটার জায়গায় হয়তো একটা সাহায্যপ্রবণ মানসিকতা কাজ করতো আমার।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

বিপ্লব রহমান এর ছবি

আমি কী বুঝলাম, সেটাও বোঝার মতো সময় নিউরণকে না দিয়ে হাত পাকিয়ে এমন একটা ভাব করলাম যার খাঁটি বাংলা করলে দাঁড়ায়, "ঘুইরা খাড়া ভাদাইম্যা হালার্পুত, তোর পোঙ্গায় কইষ্যা একটা ভ্যাদা মারি..."

হুমম...তারপর? চোখ টিপি


একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া, উঠে দাঁড়ালো
একটা পাখ ভাঙা পাখি, উড়াল দিলো...


একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া, উঠে দাঁড়ালো
একটা পাখ ভাঙা পাখি, উড়াল দিলো...

ধুসর গোধূলি এর ছবি
দময়ন্তী এর ছবি

কিন্তু আধুলিমশাই, তারপর কি হল? মার দিলেন?

হোহো করে হেসে ফেলতে যাচ্ছিলাম৷ কিন্তু আমার এক পরিচিত অ্যামওয়ে বেচনেওয়ালা'র কথা মনে হতেই হাসিটা কপ করে গিলে ফেললাম৷ তাকে দূর থেকে দেখলেই আমারও ঠিক এরকম হাড়পিত্তি জ্বলে যায়৷ মন খারাপ

------------------------------------------------------
"নিভন্ত এই চুল্লিতে মা
একটু আগুন দে
আরেকটু কাল বেঁচেই থাকি
বাঁচার আনন্দে৷'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- এই বিঁভুইয়ে আপনি আমারে মাইরপিট করার কুবুদ্ধি দেন দন্তময়ী? আপনি এতো হৃদয়হীনা, এতো দিলহীনা! ঐ লম্বা তালগাছের সাথে মাইরপিট লাগলে আমি পারুম? মন খারাপ

আপনার অনুভূতিটা বুঝি। মোটামুটিভাবে মানুষকে দেখলে আমার কখনোই খারাপ কোনো অনুভূতি জাগে না। কিন্তু হাতে গোণা কয়েকজনকে দেখলে কোনো কারণ ছাড়াই পায়ের রক্ত মাথায় চেপে যায়। কয়েকজনের ফোনও এড়িয়ে চলি এইজন্যে। পাছে কোনো অপ্রীতিকর অবস্থা তৈরী হয়ে যায়, এই ভয়ে!
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

দময়ন্তী এর ছবি

আহাহা আপনি যে বেঁটে বাঁটকুল, তা তো আর আমি জানতাম না৷ এই জেনে নিলাম৷ আর কক্ষনো লম্বা লোকেদের সাথে মারামারি করতে বলব না৷ দেঁতো হাসি দেঁতো হাসি দেঁতো হাসি
-------------------------------------------------------
"নিভন্ত এই চুল্লিতে মা
একটু আগুন দে
আরেকটু কাল বেঁচেই থাকি
বাঁচার আনন্দে৷'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ক্যায়া!!! হামকো বাইট্টা বোলতা হ্যায়? খাড়াতা হ্যায়, হাম লোগ পুলিশ ডাকতা হ্যায়!

মজার কথা হইলো, আজকে এক ফ্রেণ্ডের লগে তাগো টিমের ফুটবল (আম্রিকান) খেলা দেখতে গেছিলাম। ঐখানে গিয়া দেখি একমাত্র আমিই কাউল্যা আর লিলিপুট। কারণ যারা আম্রিকান ফুটবল খেলে তারা বেকগুলাই রীতিমতো বিশাল বপু আর ইয়া লম্বা তাল গাছের লাহান শরীর। আমি ডরে এক কোনায় বইয়া বইয়া বার্গার খাইছি আর বন্ধুর আম্রিকান ফুটবলের নিয়ম কানুন নিয়া লেকচার শুনছি। খেলা শেষে মাঠে নাইমা এরে তারে 'কংগ্রেচুলেট' করছি। মনে মনে চিন্তা করছি, এরা একেকটা আমার ছয়টার সমান। আমারে ধইরা কখন জানি বল মনে কইরা ফিক্যা মারে! মন খারাপ
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

দময়ন্তী এর ছবি

ঐরে! ইনি পুলিশ ডাকছেন ....... এই কে আছিস? শীগগির ডাকাতদলকে খবর দে তো৷ খাইছে

জীবনে পত্থমবার এক আম্রিকানের লগে হ্যান্ডশেক কইরা দুইদিন পর্যন্ত আমার কাঁধে আর মাথায় ব্যাথা আছিল৷ উফ! দৈত্য একেকটা!
---------------------------------------
"নিভন্ত এই চুল্লিতে মা
একটু আগুন দে
আরেকটু কাল বেঁচেই থাকি
বাঁচার আনন্দে৷'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

আজ শুক্রবার। কয়দিন ধরে সচলে সময় দিতে (পড়তে হবে নষ্ট করতে) পারছিলামনা বলে সকালে কোনমতে একলাইনের একটা পোস্ট দিয়ে নিজের অস্তিত্ব ঘোষণা করেছিলাম।

গুরুচন্ডালী ভালো লাগলো। তবে মন্তব্য করার কিছু খুঁজে পাচ্ছিনা। আমি এক সিংহলী দেখেছি যার কাজই হলো পটিয়ে পাটিয়ে, মদ খাইয়ে, মেয়েদেরকে নিজের বাসায় নেয়া। এরা একেকজন একেক ভেক ধরে। এ ধরেছে ধর্মের ভেক-- ওটাই ওর ধর্ম।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- সিংহলী ভাইয়ের পদধূলি নিতে মঞ্চায়। তিনি মেয়েদের ঘরে নিয়ে গিয়ে কী করেন পিপিদা? দেঁতো হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

দ্রোহী এর ছবি

মনে হয় ধর্ম নিয়া আলোচনা করে। দেঁতো হাসি

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

আমার কিন্তু এই পোলাটারে ভালো লাগলো।

ধর্ম জিনিসটা খুব একটা কামে টামে লাগে না। এই লোক ধর্মের একটা নতুন ব্যবহার দেখাইলো। লুক্টা ভালুই তো, তারে মার্বেন ক্যান?
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- অরে তো মার্তে চাইছি অর ক্যারেক্টারের লাইগা। হালায় পুংটামী করবি কর, আমারে ধর্মের দাওয়াত দিতে আহোস ক্যান, তাও একেকদিন একেক ধর্মের?
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

দ্রোহী এর ছবি

কী জানি বাপু। পুলা হয়তো মেয়েদের সাথে সাথে আপনার প্রতিও ইট্টুসখানি আগ্রহী। আমারে আবার মারতে আইসেন না।

ধুসর গোধূলি এর ছবি
দ্রোহী এর ছবি

আপনের তো মনে হয় ইচ্ছা আছে। যেমনে আমারে চোখ টিপি দিতাছেন। খাইছে

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- চোখ টিবি তো আপনেরে দেইনা। সংসদে দেখেন না, মাননীয় সদস্যরা 'স্পীকারের মাধ্যমে' অমুক-তমুক'কে জানিয়ে দিতে চায়! আমার চোখ টিবিও ঐরকম আরকি! দেঁতো হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

দ্রোহী এর ছবি

তাইলে কি আমারে মাননীয় ইসপিকার বানাইয়া আন্দ্রেরে চোখ টিবি দিলেন?

ধুসর গোধূলি এর ছবি
দ্রোহী এর ছবি

আপনের জন্য না হয় হইলাম।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- হায় হায় কী কৈলেন এইটা। এই কথা শোনার আগে আমি ধ্যান্ধা হৈয়া গেলাম না ক্যান! আপনে আন্দ্রের লগে 'ঐত্তা' করেন? আপনেরেতো আমি ন্যাটোভুক্ত দ্যাশ ভাবছিলাম! মন খারাপ
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

দ্রোহী এর ছবি

আমি করি? এ দেখি "ধুগোর পিন্ডি দ্রোহীর ঘাড়ে" অবস্থা!

পিন্ডির আবার অন্য মানে বুইঝেন না।

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

হ, খুবই ভালু!
হো হো হো

___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ভালু তো বুঝলাম খান ভাই, কিন্তু আপনের নিয়ত তো ভালু না। 'কোন অংশ'রে যে ভালু কইছেন সেইটা কি আমি বুঝি নাই মনে করছেন? চোখ টিপি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

খাইছে
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।