মিউজিক্যাল র‌্যাট (আবঝাব-৫)

ধুসর গোধূলি এর ছবি
লিখেছেন ধুসর গোধূলি (তারিখ: মঙ্গল, ০৯/১১/২০১০ - ১১:০৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

না হওয়া গিটারিস্ট

একবার গিটার শেখার পোকা ঢুকলো মাথায়। কী করে কী করে একটা আধোভাঙা গিটারও চলে এলো হাতে। আমি সেটা নিয়েই টুংটাং করি। সুরের কিছুই হয় না, অসুরেরও না। যা হয় তা কেবলই ইন্দ্রিয়ের জন্য অত্যাচার। একজন ওস্তাদ, একজন পণ্ডিত জী'র অভাব অনুভব করি। কিন্তু কোনো কূল পাই না।

 কেটে যায় বেশ কয়েকটা মাস। কোনো এক সপ্তাহান্তে কোলন শহরের সর্বোচ্চ ক্যাথেড্রালের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় একজনকে দেখি গিটার বাজাচ্ছেন অদ্ভূত সুন্দর সুরে। তাঁর সামনে বাদামের খোসার মতো খুলে থাকা গিটারের কালো বাক্সের ভেতর উঁকি দিলে ইতস্ততঃ কিছু কয়েন চোখে পড়ে। খুব বেশি কিছু না। সবাই পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে, খানিক থামছে, অদ্ভূত সুন্দর সুরের গিটার শুনছে, তারপর আবার নিজের গন্তব্যে চলে যাচ্ছে। তাঁদের মধ্যে যাঁরাই গিটারের খালি বাক্সে কয়েন রাখছেন, গিটার বাদক তাঁর ডান হাতটা তার থেকে সরিয়ে নিজের হ্যাটটা খুলে সামনে সামান্য ঝুঁকে অভিবাদন জানাচ্ছেন। যাঁরা কয়েন ফেলে চলে যাচ্ছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ এই অভিবাদনের জবাব দিচ্ছেন একটা মুহূর্ত থেকে, এক চিলতে হাসিতে। বাকিরা চলে যাচ্ছেন নির্বিকার, গন্তব্যে।

 আমি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে, বাজানো শেষ হলে তাঁর কাছে গিয়ে তাঁর শিষ্যত্ব লাভের আশাবাদ ব্যক্ত করলাম। এবং পর্যাপ্ত গুরুদক্ষিণার বিনিময়েই। তিনি আমাকে আশ্চর্য করে দিয়ে জানালেন যে তিনি কাউকে শেখান না। তিনি বাঁধাধরা নিয়মের মধ্যে পড়তে চান না। কাউকে গিটার শেখানো শুরু করা মানে একটা গুরুদায়িত্ব হাতে নেয়া। তিনি এই দ্বায়িত্ব নিতে প্রস্তুত নন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করলেন।

 আমি দাঁড়িয়েই রইলাম। সন্ধ্যা পর্যন্ত। যতোক্ষণ পর্যন্ত না উনি সেদিনের মতো তাঁর বাজানো শেষ করলেন। আমি আবারও গেলাম তাঁর কাছে। তিনি আবারও অপারগতা প্রকাশ করলেন। আমার গিটার শেখায় অগ্রিম সাফল্য জানালেন এবং হেঁটে চলে গেলেন। আমিও ফিরে স্টেশনের দিকে আসছি, এমন সময় পেছন থেকে তিনি আমাকে ডাকলেন। আমি খুশি মুখে দৌঁড়ে তাঁর কাছে যেতেই বললেন, "আমি তো শেখাই না। কিন্তু আমার এক বন্ধু আছে। উইনি। তুমি তাঁকে ফোন করে দেখো। রাজী হলেও হতে পারে।" বলেই ঘচঘচ করে একটা কাগজে উইনি'র ফোন নাম্বার লিখে আমারও শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বিদায় নিলেন।

 আমি উইনিকে ফোন করলাম। বন্ধুর মতো তিনিও রাজী হলেন না প্রথমে। কিন্তু তারপরেও কী করে কী করে যেনো উনি রাজী হয়ে গেলেন আমাকে শেখাতে। উইনি, তিনি আমার ওস্তাদ নন, আমার পণ্ডিত জীও নন। তিনি হিন্দু কিংবা মুসলমান নন। তিনি ইশ্বরের অস্তিত্বে সন্দিহান একজন। তাই তাঁকে আমি ওস্তাদ বা পণ্ডিত জী নামে ডাকি নি। আমি ডেকেছি তাঁকে নাম ধরেই। মোবাইলে এখনও তাঁর ফোন নাম্বার সেভ করা আছে, 'উইনি গিটার' নামে।

 এই ঘটনা অনেকগুলো বছর আগের কোনো এক গ্রীষ্মকালের। আমি কাঁধে গিটার ঝুলিয়ে, কানে সনি'র বিনের ইয়ারপিস চেপে 'কিস দ্য রেইন' শুনতে শুনতে ট্রামে করে উইনির কাছে গিটার শিখতে যেতাম। গিটার শেখার সে সময়ের গল্প এখানে করবো না। অন্য কোথাও, অন্য কোনোখানে, অন্য কোনো সময়ে, অন্য কোনো উপলক্ষ্যে হয়তো সেই গল্প করবো। আজকে করবো কেবল এই সময়ের গল্প। আজকের গল্প।

  আমার ঘর থেকে বের হলেই সামনের রাস্তায় ম্যাপল গাছের সারি। আমি বলি সেঞ্চুরি গাছ। পায়ে চলা যেটুকু পথ আছে, সবটুকুতেই বিছিয়ে পড়ে থাকে এই সেঞ্চুরি পাতা। বছরের এই সময়ে। অক্টোবর-নভেম্বরে। অটাম ইন এভরিহোয়্যার। ঘর থেকে বেরিয়ে, শেষ ধাপে পা রেখেই চোখটা বন্ধ করে একটা জোর দম নেই। বাঁ দিকে তাকাই। পুরোটা পথ ছেঁয়ে আছে লালচে-হলুদ সেঞ্চুরি পাতায়। গাছগুলোও একই রকম পাতায় ভরে আছে। কোনো গাছ লাল, কোনোটা হলদে আবার কোনোটা লালচে-হলদে। আমি পথে পড়ে থাকা সেঞ্চুরি পাতায় পা ডুবিয়ে হাঁটতে থাকি। হালকা ঝিরঝিরে বাতাসে ওপরের দিকে তাকালে ঠিক তখনই একটা পাতা টুপ করে ঝরে পড়ে ঠিক আমারই সামনে। তারপর আরও একটা, তারপর আরেকটা এবং তারপর অনেক। আমি হাত বাড়িয়ে এই পাতা বৃষ্টি ছুঁয়ে দেই। ঝরে যাওয়া পাতা গুলো আমার ইন্দ্রিয়ের ভেতরে গিটারের অনুরণন তুলে যায়, অনবরত।


 আত্রাবেরসিআমো

 নিজেকে এখন প্রশ্ন করি, পাহাড় ভালো লাগে আমার, নাকি সমুদ্র! একটা সময় ছিলো যখন সমুদ্র আমার ভালো লাগতো ভীষণ। প্রায়ই চলে যেতাম সমুদ্রের কাছে। নীল জলে পা ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে যেতাম। কখনো বা হাঁটতে গিয়ে ধারালো প্রবাল লাল হয়ে যেতো মুহূর্তের জন্য। তীরে ফেরার সময় পেছনের পথের দিকে তাকালে ফোঁটা ফোঁটা লাল চোখে পড়তো বালিতে। কোথাও কম, কোথাও সামান্য বেশি।

 কিছুদিন পর আবারও যেতে হতো সমুদ্রে। সে এক অমোঘ টান! কোনো এক বিকেলের কনে দেখা আলোয়। আবারও বালির তীরটুকু পাড়ি দিয়ে, ধারালো প্রবাল মাড়িয়ে আমি গিয়ে দাঁড়াতাম সমুদ্রের জলে পা ডুবিয়ে। অদ্ভূত শীতলতায় ভরে উঠতো সারা শরীর, মন। ফেরার পথে আবারও লাল হতো পা, ডুবন্ত প্রবাল, বালুময় সমুদ্রের তীর। আমি আবারও যেতাম, আবারও পা লাল করে ফিরতাম। তারপর বারবার যেতাম, যতোদিন ছিলাম সমুদ্রের কাছাকাছি।

 ঢেউগুলো যখন আছড়ে পড়তো আমার ডুবন্ত পায়ে, শরীরটা দুলে উঠতো আস্তে করে। খানিক দুলে আবার ফিরে আসতো নিজের অবস্থানে। আমি এই দোদুল্যমান হয়ে সূর্যাস্ত দেখতাম মুগ্ধ চোখে। খুবই স্বাভাবিক একটা ঘটনা। প্রতিদিনই ঘটে। অথচ আমার কাছে প্রতিদিনের ঘটা এই আটপৌরে ঘটনাই ধরা দেয় অনেক বড় কিছু হয়ে! আমি কেবল এই ছোট্ট, স্বাভাবিক আর অতি সাধারণ একটু সুখের জন্য, একটু আনন্দের জন্য অতিক্রম করে যেতে পারি যেকোনো বন্ধুর পথ! খুব ছোট্ট একটা শব্দই তখন আমার মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে তখন খুব প্রিয় কিছু'র জন্য। 'আত্রাবেরসিআমো'— অতিক্রম।

 

 

 ঘরে ফেরার গান

 অনেক আগের আমার সমুদ্র ভালো লাগাটা এখন স্মৃতির পাতলা পর্দার আড়ালে!  কাছে-ধারে সমুদ্র নেই, আছে ছোট ছোট পাহাড়। তাদের দিকেই নিজের ভালো লাগার নোঙ্গর ফেলে রেখেছি বেশ ক'বছর ধরে। যখনই খুব বেশি একা হয়ে যাই, যখনই খুব বেশি একা থাকতে ইচ্ছে করে- চলে যাই তেমনি একটি জায়গায়। সাত পাহাড়ের সারি। রাইন নদীর ধার ধরে ট্রাম নিয়ে নামিয়ে দেয় একটা ছোট্ট মফস্বলে। হেঁটে হেঁটে আমি উঠে যাই উপরে, একবারে চূড়ায়। পথিমধ্যে কেউ একটু জিরিয়ে নেয়, কেউ একটু অনুরোধ করে 'একটা ফটো তুলে দিতে', কেউবা খানিক খুনসুটি করে তার সঙ্গীর সাথে। আমিই কেবল উঠে যাই এক পা, দু পা করে।

 সিমেন্টের রেলিং দেয়া বিশ্রামস্থানের একটা নির্জন কোনে, রেলিং এর ওপরে বসি পড়ি পা ঝুলিয়ে। তারপর সামনের অবারিত নীলচে পাহাড়ী ক্যানভাসে চোখ রেখে নিজের একাকীত্বের সমীকরণে হাত বুলাতে থাকি। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতে থাকে তখন সাত-পাহাড়-সারির সমস্ত এলাকায়। অনেক নিচে রাইন নদীর শাখার দিকে তাকালে একটা দ্বীপমতো জায়গা ভালো দেখা যায়। শব্দবিহীন ভটভটি চলে যায় তার পাশ দিয়ে, পানিতে যথেষ্ট পরিমান আলোড়ন তুলে। শব্দটা কানে আসে না, কিন্তু পানির আলোড়নটা ঠিকই চোখে পড়ে। ঠিক তখনই ঝুপ করে সন্ধ্যা নেমে পড়ে চারপাশে। কখনো কখনো একটু আগের নীলচে ক্যানভাসে আচমকা চোখের সমান্তরালে ভেসে ওঠে একাদশীর একটা ধূসর চাঁদ। মনে হয় যেনো সূতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছে কেউ উপর থেকে। চূড়া থেকে ঘন্টি বাজিয়ে শেষ সাইট সিয়িং ট্রামটা ছেড়ে যায় নিচের মফস্বলে। বিকেলের দিকে বেড়ে ওঠা দর্শনার্থীর ভীড়ও কমে আসে ধীরে ধীরে। এক সময় সর্বশেষ দর্শনার্থীরাও চলে যায় তাদের ফক্স ওয়াগেন হাঁকিয়ে। নির্জনতার একটা শব্দ আছে, সেই শব্দ আমার কানে ভেসে আসতে থাকে ঝিঁঝি পোকার ডাকের ফাঁকে ফাঁকে। আমি নির্জনতার সেই ডাককে দূরে সরিয়ে দিতে কানে গুঁজে দেই ইয়ারপিস। বেজে ওঠে ঘরে ফেরার গান... একাকীত্ব পকেটে পুরে, আঁধার পেরিয়ে আমাকে ফিরে আসতে হয় লোকালয়ে। নতুন একটা দিনের সূচনায়।

 

 


মন্তব্য

ব্রুনো [অতিথি] এর ছবি

খুবই ভালো লাগলো লেখা। 'উইনি গীটার' এর গল্প শোনার অপেক্ষায় থাকলাম।

ছোটবেলায় আমিও ম্যাপল পাতার ছবি দেখলেই সেঞ্চুরী পাতা বলতাম।

ধুসর গোধূলি এর ছবি
কৌস্তুভ এর ছবি

খুব সুন্দর লেখা।

এখন মনে হচ্ছে, বনে আপনার বাসায় যাবার প্রস্তাবটাকেই বেড়ালছানার মত শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা উচিত ছিল। হায়, তখন তো জিগলিন্ডে বা গীটারের গল্প শুনি নাই! মন খারাপ

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

আপনি এই সুযোগ পেয়েও হেলায় হারায়েছেন?! আপনাকে ভাই আর কিছুই বলার নাই বিস্ফোরিত চক্ষু গোলগোল করে তাকায় থাকা ছাড়া! অ্যাঁ

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

কৌস্তুভ এর ছবি

কি করব, যাযাপু, ধুগোদা যে ভয় দেখাচ্ছিলেন, ওনার বাড়ি গেলে উনি নিজে হাতে রান্না করবেন!

আপনাকে কদিন থেকেই একটা কথা বলব বলব ভাবি, তাই অফটপিক হলেও এখানেই বলে ফেলি। আপনি যে আপু, সেটা বোঝা খুবই দুরুহ। আপনার নিকটা খুবই পুরুষালী - যাযাবর। যাযাবৌ ব্যাকপ্যাকার হলে বোঝা যেত সহজে...

দুষ্ট বালিকা এর ছবি

ধুর বোকা! ঠিক নিক! এর মানে হলো আপুর বিয়ে করার ইচ্ছা নাই! দেঁতো হাসি

খাইছে

-----------------------------------------------------------------------------------
...সময়ের ধাওয়া করা ফেরারীর হাত থিকা যেহেতু রক্ষা পামুনা, তাইলে চলো ধাওয়া কইরা উল্টা তারেই দৌড়ের উপরে রাখি...

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

কৌস্তুভ এর ছবি

অ্যাই, আমাকে বোকা বললে কিন্তু আড়ি করে দেব! আপু কোথায়, আপু? উত্তর দেয় না? আমি নালিশ করব আপুর কাছে...

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

কদিন ধরেই বলবেন ভাবছেন, নাকি আগেও বারকয়েক নাম নিয়ে গুঁতোলেন?! যাই হোক, আমার সবগুলো নামই, (আসল/ছদ্ম সবই) কিন্তু আমাকে খুব বেশিরকম জাস্টিফাই করে। সত্যিকারের যাযাবর আর ব্যাকপ্যাকিং লাইফে অভ্যস্থ না হলে এই নামটা ঠিক করে নিতাম না। হাসি
আর আমি যে আপু সেকথা তো মনে হয় কখনোই হিডেন ছিল না, দুবা-র পোস্টের আগেও তা নিজেই বলেছি মনে হয় বার কয়েক, আপনি হয়ত খেয়াল করেন নাই। হাসি
কিন্তু সবচেয়ে বড় কথাটা হল, লেখকদের কি প্রেজুডিসড আইডিয়াস থাকলে চলে? নাকি মেয়েদের যাযাবর হতে নেই? চিন্তিত
আসলে নামে কিবা আসে যায়? ধুসর গোধূলিও তো দাদা না হয়ে দিদি হতেই পারতেন, তাই না? হাসি

আর আপনি ধুগোদার রান্নাও মিস করেছেন?! এইবার আমি সত্যি স্পিচলেস!!

ইয়ে দুবা - আমার অনেকগুলো নাম তাতো জানোই, কিন্তু কোন নামের এহেন ব্যাখ্যা আজতক শুনিনিহে! দেঁতো হাসি

আচ্ছা, ধুগোদার এত সুন্দর পোস্টটাকে নাহয় এইবেলা রেহাই দেই?
ভালো থাকুন সবাই।
___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

কৌস্তুভ এর ছবি

ধুগোদার পোস্ট বলেই তো এখানে আবজাব করাটা আরো বাধ্যতামূলক। ওনার কতকালের দুখ, ধুগো-দ্রোহী জুটির সেই সব থ্রেডে গিয়ে আবজাব করে করে পোস্টের আসল ধারাটাকেই ঘুরিয়ে দেবার গ্লোরিয়াস ঐতিহ্য আজকাল কেমন মিলিয়ে গেছে...

ধুসর গোধুলি কিছুতেই দিদি হতে পারতেন না। দিদিরা কি কর্তে পরশালীলোলুপ হতে যাবে??? খাইছে

আমি তো আগে নাম নিয়ে আপনারে খোঁচাইনি, একটা পোস্টে শুধু বলেছিলাম, আপনি আপু তা আগে মালুম ছিল না বটেক। (আপনি অন্য কোথাও-ও বলেছিলেন হয়ত, আমি খেয়াল করি নি) তারপরে এই একটু মজা কর্লাম, তা পছন্দ হয়নি মনে হচ্ছে আপনার, তাহলে অফ যাই।

[ইয়ে, নামে হয়ত তেমন আসে যায় না, কিন্তু ছদ্মনামে আসে যায় বৈকি... এই যদি আপনি কোকনদ গুপ্ত নিক নিতেন, তাহলে ব্যোমকেশ না প্রথমেই... দেঁতো হাসি ]

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

ধুর মিয়া, ধুসরদা দিদি হবেন কেনে? আমি বলেছি যে 'ধুসর গোধূলি' নামটা ওনার আগেই কোন দিদি বুকিং দিতেও তো পারতেন। তখন কি আপনি তাকে বলতেন আপনার নামের 'ধুসর' অংশটা শুনে ছেলে লাগে, এটাকে 'গোলাপী' গোধূলি বানালেন না কেন? চিন্তিত

[মজার ব্যাপার হল, কালকে দুপুরেই দুবার থেকেই ধার নেয়া ব্যোমকেশ সমগ্রের পাতা উল্টে কোকনদ গুপ্তেই বুকমার্ক গুঁজে রেখেছি! দেঁতো হাসি
এক কাজ করুন, আপনিও আমাদের সেই বারোয়ারি দলে যোগ দিন। আপনার এই অত্যুতসন্ধানী মন দেখে সন্দেহ হচ্ছে আপনি আদর্শ ক্যান্ডিডেট হবেন নেক্সট বাকরা হিসেবে। হা হা হা। দেখেন, ধুগোদাকেও দলে ভেড়াবার চেষ্টায় আছি আমি, আমকে তিনি একদা বলেছিলেন বটে যে তাঁর মাঝে একটা ডিটেক্টিভ সত্ত্বা আছে। চোখ টিপি ] দেঁতো হাসি
___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

দুষ্ট বালিকা এর ছবি

সাধু সাধু! বকরা হিসেবে ইনি খ্রাপ হবে না মনে হয়! বেশ গায়ে গতরে একটা ... খাইছে

-----------------------------------------------------------------------------------
...সময়ের ধাওয়া করা ফেরারীর হাত থিকা যেহেতু রক্ষা পামুনা, তাইলে চলো ধাওয়া কইরা উল্টা তারেই দৌড়ের উপরে রাখি...

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

কৌস্তুভ এর ছবি

আল্লা মাবুদ! আমি এই ভয়েই তো ভুটানের থ্রেডে কোনো কমেন্ট করি না। তাই আপনি কাঁঠালপাতার লোভ দেখিয়ে টেনে নিয়ে যেতে চাইলেও অধম ঐদিকে পা বাড়াচ্ছে না - গোবেচারা হতে পারি, ছাগবেচারা তো নই! দেঁতো হাসি

দুবা তো আবার খুন হবার জন্য ওখানে লোক রিক্রুট করছেন, অলরেডি ব্রুনো বেচারা ফাঁদে পড়েছে। আমি রোগাপ্যাটকা মানুষ ওই পথে আর যাই?

ব্রুনো [অতিথি] এর ছবি

আমি তো গেছি। আমারে আবার টানেন কেনো (দী-ই-ই-র্ঘশ্বাসের ইমো)।

কৌস্তুভ এর ছবি

না না তা কেন। আপনি শহীদ হয়ে আমাদের বাঁচিয়েছেন। দেঁতো হাসি

ব্রুনো [অতিথি] এর ছবি

সিরিয়াল কিলার বুঝেন মিয়া? আমার পরে আপনি শয়তানী হাসি

কৌস্তুভ এর ছবি

আরে, ধুসর আর গোধূলি দুটোই তো জেন্ডার-বায়াসহীন শব্দ খাইছে , আর যাযাবর-এ 'বর' শব্দটা প্রবলভাবেই... দেঁতো হাসি

যাউকগা, এই নিয়ে আর চটেন না। আসেন দাওয়াত খাওয়ান। হাসি

ধুসর গোধূলি এর ছবি
কৌস্তুভ এর ছবি

হ, তারপরে আমাকে নাচবার হুকুম দিয়ে আপনি গিটার বাজিয়ে গান ধরতেন... "চুলা জ্বলাইলে... জিগর সে মিয়া... জিগরমা বড়ি আগ হ্যায়... দাম দুম দুড়ুম..." ইয়ে, মানে...

(ন্যান আপনার মিউজিকাল র‍্যাটে আমিও গান পুস্ট করে গেলুম...)

অনিকেত এর ছবি

কেন জানি মনটা খারাপ হলো লেখাটা পড়ে।
ভাল থেকো, বস---
আর মনে রেখো---এই দিনগুলো বদলাবে একদিন--

শুভেচ্ছা নিরন্তর!

আরিফ জেবতিক এর ছবি

বহুদিন পরে একটা লেখায় ৫ তারকা দিয়ে তৃপ্তি পেলাম।

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

যাক! অবশেষে মিউজিক্যাল র‌্যাট এল তাইলে। হাসি

মজার ব্যাপার হল আপনার পছন্দের মিউজিকগুলির চাইতে আমার বেশি ভালো লাগে সাথের গল্পগুলো পড়তে। আমরা সবাই নিজেদের খুব ছোট ছোট অনুভূতিগুলো সুন্দর করে স্মৃতির তাকে সাজিয়ে রাখি মনে হয়, কিন্তু এভাবে তুলে ধরতে পারি না সবাই, হয়ত চাইও না, তার জন্যে প্রয়োজনীয় সৎ সাহসটা করতে... মাঝে মাঝে তারা দিতে না পারার জন্যে আফসোস হয়, কিন্তু কী আছে দুনিয়ায়? মনে মনে লক্ষ তারা যারা দেবার দেবেন ঠিকই। হাসি
আমার মনে হয়না সেই দিন খুব দূরে যখন আপনি আপনার পিচ্চি-পাচ্চাদেরকে নিয়ে হইহুল্লোড় শেষে ছুটির দিনের সাঁঝে ফিরবেন পাহাড় আর সমুদ্রের মাঝের কোন এক বাড়িতে। হাসি

ধন্যবাদ আমাদের মিউজিকাল র‌্যাটদের কথা মাথায় রেখে এই পর্বটা শেষতক দেবায়!
___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

হ। এলো অবশেষে। অনেকদিন ধরেই কিছু একটা লেখার তাড়না অনুভব করছিলাম। কিন্তু লেখা তো আর হয় না!
তারার তোড়া দিয়ে কী হবে বলেন! দুই দিনের দুইন্যা।

ধন্যবাদ আপনাকে।



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

বাউলিয়ানা এর ছবি

১। ১০০ মিটার স্পৃন্টে দৌড়ের উপর আছি। তারপরও মাঝে মাঝে এসে উঁকি দেই সচলে।

২। আজকে মিউজিক্যাল র‌্যাট খুলে প্রথমেই চালু করি সুর-সংগীতায়োজন। তারপর একটু হাতের কাজগুলো সেরে পড়তে বসি।

৩। সুরের আবেশে ভেসে যেতে যেতে লেখাগুলো পড়ি আর ভেসে বেড়াই এক একটা বুদবুদের মত।

৪। ধূগোদাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করার কোনো মানে হয়না।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আপনের একশো মিটার কতো বড় ট্র্যাকরে ভাই? শেষ-ই হয় না...!

মিউজিক্যাল র‌্যাট— নিয়মই কিন্তু সেটা, যেমনটা আপনি করলেন। সুরগুলো মস্তিষ্কের ভেতরে চালান করে দিয়ে তবে লেখাটা পড়তে হয়। মিউজিক্যাল র‌্যাট লিখাও হয় এই ফর্মূলা মেনে।

আর ধুগো'দাকে ধন্যবাদ দিয়ে আসলেই ছোট করার মানে নেই। ধুগোদা এমনিতেই ক্ষুদ্র। হাসি
ধন্যবাদ থাকলো বরং আপনার জন্য।



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

নির্বাসন এ একা  [অতিথি] এর ছবি

ভালো লাগলো

ছোট গল্পের রেশ রয়ে গেছে, শেষ হইয়াও যেন হইল নয়া শেষ।

গীটার শেখার বাকি অংশটুকু জানতে ইচ্ছে করছে।

ধুসর গোধূলি এর ছবি
দ্রোহী এর ছবি

বাহ!

ভায়রা দেখি কোপাইছেন। খাড়ার উপ্রে পাঁচ দিলাম।

লেখা পড়ে আপনার জন্য দুইটা উপদেশ আছে।

  • সুন্দর বাড়ি হল। এবার সুন্দর দেখে একটা বউ আনার ব্যবস্থা করেন।
  • আর কতকাল "পরের ধনে পোদ্দারি" করবেন? কবি বলেছেন,"গ্রন্থগত বিদ্যা আর পরহস্তে ধন, নহে বিদ্যা নহে ধন হলে প্রয়োজন।"
সুতারাং, সাধু সাবধান। উপযুক্ত সময় পার হয়ে গেলে ধনসম্পদের কোন মূল্য থাকে না। দেঁতো হাসি

কাকস্য পরিবেদনা

ধুসর গোধূলি এর ছবি
দুষ্ট বালিকা এর ছবি

আহা! এমন করেন ক্যান! সবার কি আর আব্বাভাইএর মতো বুকের পাটা! খাইছে

-----------------------------------------------------------------------------------
...সময়ের ধাওয়া করা ফেরারীর হাত থিকা যেহেতু রক্ষা পামুনা, তাইলে চলো ধাওয়া কইরা উল্টা তারেই দৌড়ের উপরে রাখি...

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

ধুসর গোধূলি এর ছবি
কৌস্তুভ এর ছবি

আপনার বিপজ্জনকভাবে শব্দব্যবহারের কারণে ওই নিয়ে আর কিছু না বলি, নীরবে লাইক মেরে যাই। শুধু বলে যাই, আমাদের ব্যাচেলরদের বিদ্যা কেবলই গ্রন্থগত (পুঁথিগত বললে আরো ভালো) আর ধন কেবলই নিজহস্তগত। কবি ঠিকই বলেছেন, ধিক সেই ধন যাতে পরের কোনো প্রয়োজন নেই।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

কেমন যেন বিষাদমাখা ভালো লাগার অনুভূতি হল আপনার লেখা পড়ে, ৫তারা
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আচ্ছা, আমি লিখলাম ভালো ভালো কথা- আর আপনার লাগলো বিষাদমাখা অনুভূতি! থাকুম না, আফগানিস্তান যামুগা। যুদ্ধে। মন খারাপ



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

দারুণ
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

বইখাতা এর ছবি

ভাল লাগলো। অনেক ভাল লাগলো। প্রায় সবাই ভালবাসে সমুদ্র - আমার চারপাশে। আর আমি ভালবাসি পাহাড়, নির্জন পাহাড়। এজন্যই হয়তো আপনার পাহাড়ে সময় কাটানোর চিত্রটা বেশি ভাল লাগলো।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ বইখাতা।
কিন্তু আসল কথা হলো কী জানেন, পাহাড়ে আমি যা দেখেছি, যে সময়টা কাটিয়েছি, যে চিত্র আমার মনে আঁকা আছে- সে চিত্রের খুব সামান্য একটা অংশও লেখায় ধরতে পারি নি। জাত লেখক না হতে পারার আফসোস হয় মাঝে মাঝে!



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

দুষ্ট বালিকা এর ছবি

আজকাল বেশিরভাগ লেখাতেই মন্তব্য করার কিছু পাইনা। যা যা বলার ইচ্ছে হয় সব আগে কেউ না কেউ বলে গিয়েছে! মন খারাপ

তাও বলি, লেখাটা বিষন্ন আমাকে কোনও আজব কারণে আরও বিষন্ন করলো! মন খারাপ

-----------------------------------------------------------------------------------
...সময়ের ধাওয়া করা ফেরারীর হাত থিকা যেহেতু রক্ষা পামুনা, তাইলে চলো ধাওয়া কইরা উল্টা তারেই দৌড়ের উপরে রাখি...

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

সেইজন্যই শাস্ত্রে আছে,
'যদি কোনো কথা না পাও খুঁজে,
দাও ধুগোর কথা সেখানে গুঁজে!'।

আর ধুগোর কথা তো জানেনই। আসমান থাইকা ধইরা আইনা একটা কথা ছাইড়া দিবেন। এইবার পাবলিক মাথা ঘামাইতে থাকুক সেইটা নিয়া। হো হো হো

আর, মাঝে মাঝে বিষণ্ণ থাকার দরকার আছে। এতো হাহাহিহি কিসের, শুনি!



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

দুষ্ট বালিকা এর ছবি

হুর্মিয়া! অনেক প্যাঙ্গাপেঙ্গি করসেন! এলায় ক্ষ্যান্ত দ্যান! গিটার মিউঝিক কই? আপ্নের বাজানো?

-----------------------------------------------------------------------------------
...সময়ের ধাওয়া করা ফেরারীর হাত থিকা যেহেতু রক্ষা পামুনা, তাইলে চলো ধাওয়া কইরা উল্টা তারেই দৌড়ের উপরে রাখি...

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

ধুসর গোধূলি এর ছবি
নিবিড় এর ছবি

অনেক দিন পর আপনার লেখা পড়া হল ধূগোদা। পড়ে কিছুটা মন ভারী হল বটে কিন্তু মন ভারী করা লেখাগুলোই লেখা হয়ত বেশি কঠিন মন খারাপ


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

কী কয় পোলা! হৈ মিয়া, কোনো লেখাই কঠিন কিছু না। খালি এডিটর খুলবেন আর খটাখট টাইপানো শুরু করবেন। ব্যস, লেখা হয়ে গেলো। এইবার এই ফর্মূলাতে লেখেন একটা লেখা। অনেকদিন তো হাদুমপাদুম করলেন!



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

শাহেনশাহ সিমন এর ছবি

হুমম
_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

ফকির লালন এর ছবি

বাজনা শেখার গল্পের জন্য ব্যাকুল রইলাম। ভালো লাগলো।

ধুসর গোধূলি এর ছবি
অদ্রোহ এর ছবি

কোনদিন তারা দেওনের ক্ষেমতা হইলে আইসা তারা দিয়া যামুনে, আপাতত অফ যাই...

--------------------------------------------

আজি দুঃখের রাতে সুখের স্রোতে ভাসাও ধরণী
তোমার অভয় বাজে হৃদয় মাঝে হৃদয় হরণী।

--------------------------------------------
যদ্যপি আমার গুরু শুঁড়ি-বাড়ি যায়
তথাপি আমার গুরু নিত্যানন্দ রায়।

ধুসর গোধূলি এর ছবি
অদ্রোহ এর ছবি

হ, সেই কপাল যদি কখনো হয়...

--------------------------------------------

আজি দুঃখের রাতে সুখের স্রোতে ভাসাও ধরণী
তোমার অভয় বাজে হৃদয় মাঝে হৃদয় হরণী।

--------------------------------------------
যদ্যপি আমার গুরু শুঁড়ি-বাড়ি যায়
তথাপি আমার গুরু নিত্যানন্দ রায়।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

আহা...

_________________________________________

সেরিওজা

তানভীর এর ছবি

আরে এটা আপনি লিখসেন! লেখায় তো কোনো শালি শালি গন্ধ নাই চিন্তিত

সচল জাহিদ এর ছবি

মাঝে মাঝে এমন মন খারাপ করা লেখা কেন জানি নিজের ইন্দ্রিয়গুলোকে নাড়া দিয়ে যায়। থিতু হয়ে থাকা কিছু কল্পনা আবার দৃশ্যপটে ভেসে উঠে। অনেক দিন সমুদ্র দেখিনা। কবে দেখব জানিনা।

--------------------------------------------------------------------------
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
সচল জাহিদ ব্লগস্পট


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আসলে কি জানেন জাহিদ ভাই, কিছু কিছু ঘটনা আছে যেগুলো ইন্দ্রিয়গুলোতে ব্যাপক আলোড়ন তোলে বলেই তার কিছুটা বহিঃপ্রকাশ ঘটে বাক্যের মাধ্যমে, লেখনীর মাধ্যমে। হয়তো এজন্যই সেই লেখাগুলো আমাদের ইন্দ্রিয়গুলোকেও ছুঁয়ে যায়।



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

নৈষাদ এর ছবি

অনেক দিন পর আপনার লেখা পড়া হল ধূগো। ….. এবং অনেকদিন পর এধরণের একটা লেখা পড়লাম। চমৎকার।

দ্রোহীর সাথে একই সাথে কিছুটা সহমত, কিছুটা দ্বিমত পোষণ করি। উপদেশ ঠিক আছে। কিন্তু এও ঠিক যে সেই উপদেশ অনুযায়ী কাজ করার কয়েক বছর পর এই অনুভূতিগুলি আর থাকবে না...। তবুও প্রথা অনুযায়ী শুভকামনা করে গেলাম।

স্কুলে অথবা কলেজে (ঠিক মনে নেই) পড়ার সময় ঢাকায় এলিফেন্ট রোডে সেঞ্চুরি বলে একটা দোকান ছিল, যার মনোগ্রামে একটা পাতা ছিল (ম্যাপল পাতা কি?)। আমার ধারণা সেইজন্যই ম্যাপল পাতার সাথে সেঞ্চুরি নামটার লিংক আমার মাথায়ও কাজ করে।

আপনার কোন একটা লেখায় বা মন্তব্যে অটামের ম্যাপাল পাতা বিছানো সেই বর্ণনাটা পড়েছিলাম (মুনতাসীর মামুনের ‘কভেন্ট গার্ডেনের সন্ধ্যায়’ কোটের ল্যাপে ম্যপল পাতা ঝরে পরার একটা লাইন ছিল)... ভীষণ ইচ্ছে হয় কখনও...।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

'দ্য ম্যান অফ ইউর ড্রিম'— সেঞ্চুরির বিজ্ঞাপনের ট্যাগ লাইন ছিলো এইটা। হাসি

কখনো অক্টোবরকে সামনে রেখে চলে আসেন নৈষাদ'দা। আপনাকে ব্যাপক কয়েকটা জায়গায় নিয়ে যাবো। উপযুক্ত সময়ে যে জায়গাগুলোতে গেলে আক্ষরিকই তাব্দা খেয়ে থাকতে হয়!

মেম্বরের বক্তব্যে আমার শুধু দ্বিমত না, ত্রিমত করারও সুযোগ আছে। কিন্তু যে হারে সেই মন্তব্যে "লাইক্সদিছ" এর পরিমান বাড়তেছে, এখন কিছু বললেই গণপুটুনি খেতে পারি! মন খারাপ

আপনাকে অনেক অনেক শুক্রিয়া।



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

শান্ত [অতিথি] এর ছবি

লেখাটা খুবই ভালো লেগেছে।

গীটার শেখার গল্পের অপেক্ষায় রইলাম।

ধুসর গোধূলি এর ছবি
অতিথি লেখক এর ছবি

ইদানিং খুব দৌড়ের উপর আছি। এটাকে আমি বলি কুত্তা দৌড়। তাই সচলে ঢুঁ মারা হচ্ছে না। একটু সুযোগে আপনার লেখাটা পড়লাম। বহুদিন পর আবার এই মিউজিক্যাল র‍্যাট! অসাধারণ।

আমি বড় হয়েছি দুর থেকে সমুদ্র দেখে দেখে। সকালে ঘুম থেকে উঠলেই বারান্দায় দাঁড়ালে সাগর দেখা যেত। অবশ্য এটাকে মোহনা বলা উচিত। আর বিকেলে চলে যেতাম পাহাড়ের কোলে। তাই পাহাড় আর সাগর আমাকে খুব টানে। তবে সমুদ্র মনে হয় বেশি টানে। এর অদ্ভুত এক আকর্ষণ আছে। অনেক দিন সমুদ্র দেখা হয় না।

যাউজ্ঞা, মিউজিক গুলা ডাউনাইলাম। শুনে শুনেই আপাতত সাগরে অবগোহন করি।

অনন্ত

ধুসর গোধূলি এর ছবি

দৌঁড়ের উপরে আর কী আছেরে ভাই। দৌঁড়ই জীবন!
আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানবেন। আশা করি সুরগুলো আপনার দৌঁড়ে খানিকটা হলেও বিশ্রামের পরশ যোগাবে। হাসি



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

অতিথি লেখক এর ছবি

শক্তিশালী লেখা। খুব ভালো লাগল। দেঁতো হাসি

কুটুমবাড়ি

নীল রোদ্দুর এর ছবি

ভাইয়া, আপনার লেখা পড়তে আসি মন চাঙ্গা করতে। আপনি বিষন্ন লেখা লিখলে আঁড়ি নিমু কইল্মম!

লেখা দারুন হৈছে। হাসি.
--------------------------------------------------------
দেখা হবে সত্য, সুন্দর আর মুক্তচিন্তার আলোকে;
যদি লক্ষ্য থাকে অটুট, দেখা হবে বিজয়ে।

-----------------------------------------------------------------------------
বুকের ভেতর কিছু পাথর থাকা ভালো- ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়

ধুসর গোধূলি এর ছবি
ওডিন এর ছবি

অনেক আগে আপনার বলা একটা কথা কয়দিন ধরেই মাথায় ঘুরতাছে।
জীবন হালায় বহমান।

______________________________________
যুদ্ধ শেষ হয়নি, যুদ্ধ শেষ হয় না

ধুসর গোধূলি এর ছবি
তিথীডোর এর ছবি

'জীবন হালায় বহমান। '
হ, সেটাই.... মন খারাপ

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

Brishtibilashini এর ছবি

খুব সুন্দর লেখা। মন ছুঁয়ে গেল...

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

আমার ঘর থেকে বের হলেই সামনের রাস্তায় ম্যাপল গাছের সারি। আমি বলি সেঞ্চুরি গাছ। পায়ে চলা যেটুকু পথ আছে, সবটুকুতেই বিছিয়ে পড়ে থাকে এই সেঞ্চুরি পাতা। বছরের এই সময়ে। অক্টোবর-নভেম্বরে। অটাম ইন এভরিহোয়্যার। ঘর থেকে বেরিয়ে, শেষ ধাপে পা রেখেই চোখটা বন্ধ করে একটা জোর দম নেই। বাঁ দিকে তাকাই। পুরোটা পথ ছেঁয়ে আছে লালচে-হলুদ সেঞ্চুরি পাতায়। গাছগুলোও একই রকম পাতায় ভরে আছে। কোনো গাছ লাল, কোনোটা হলদে আবার কোনোটা লালচে-হলদে। আমি পথে পড়ে থাকা সেঞ্চুরি পাতায় পা ডুবিয়ে হাঁটতে থাকি। হালকা ঝিরঝিরে বাতাসে ওপরের দিকে তাকালে ঠিক তখনই একটা পাতা টুপ করে ঝরে পড়ে ঠিক আমারই সামনে। তারপর আরও একটা, তারপর আরেকটা এবং তারপর অনেক। আমি হাত বাড়িয়ে এই পাতা বৃষ্টি ছুঁয়ে দেই। ঝরে যাওয়া পাতা গুলো আমার ইন্দ্রিয়ের ভেতরে গিটারের অনুরণন তুলে যায়, অনবরত।

আজ অনেকদিন পরে আবার কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে আপনার মিউজিক্যাল র‍্যাটের কথা মনে পড়ল। শোনার আগে পড়া শুরু করলাম। উদ্বৃত অংশটুকু পড়ে মনে হল এই রাতের বেলাতেও সেই পথে আমি হেঁটে এলাম।

সেদিন ভাবছিলাম সেঞ্চুরী পাতা কিভাবে সেঞ্চুরী পাতা নাম পেল। সম্ভবত সেঞ্চুরী ফ্রেব্রিক্স-এর সেই বিজ্ঞাপনের কারণেই। নাকি অন্য কোন কারণ আছে?

তিনটা মিউজিক-ই ভালো লাগলো।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আমার ধারণা সেঞ্চুরি পাতার নামকরণটা আসছে সেঞ্চুরি'র মনোগ্রাম থেকে। সেঞ্চুরি কি ফেব্রিক্স ছিলো আসলে? থাকতেও পারে। আমার সেঞ্চুরি ফ্যাশন আর টেইলার্সের কথা মনে আছে।

আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রিয় পিপিদা।



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

অনেক আগের কথা, ঠিকমত মনে নেই। মস্তিষ্কের যে সেলগুলোতে এসব স্মৃতি জমা পড়ে আছে সেখানে থেকে তথ্য রিট্রিভ করা অনেকটা (আপনার) স্মৃতির ব্যাড সেক্টর থেকে ড্যাটা রিট্রিভ করার মতই-- ঠিকমত আসে না। সেঞ্চুরী টেইলার্সই হবে বোধহয়। এটুকু মনে পড়ে "সেঞ্চুরী-- দ্যাটস হোয়াট আই-লাইক"

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।