মানচিত্রের সন্ধানে ২

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বুধ, ২২/০৭/২০১৫ - ২:২৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

রেনেল পুনরায় কাজ শুরু করলেন। ৬৭-র গোড়ায় সুখবর এলো,কোম্পানি সার্ভেয়র জেনারেল অব বেঙ্গল পদ সৃষ্টি করে তাঁকে নিযুক্তি দিয়েছে। রেনেলের বয়েস তখন পঁচিশ। মাইনে বাড়লো,তার সঙ্গে পাওয়া গেল চারজন সহকারী সার্ভেয়ার। ভগ্নস্বাস্থ্যের দরুন অসুবিধা হচ্ছিল,ডায়েরি থেকে দেখা যায়,পরিশ্রমসাধ্য কাজগুলির জন্য তিনি সহকারী রিচার্ডসের ওপর ক্রমশ বেশি ভরসা করছেন। ১৭৭১-এ ফিল্ডসার্ভে শেষ হলো,হাজার হাজার স্কেচম্যাপ নিয়ে রেনেল ঢাকায় গুছিয়ে বসলেন তাদের প্রকাশযোগ্য রূপ দিতে।

এখানে একটি কথা বলে রাখা দরকার,রেনেল তাঁর এটলাসে যেসব ম্যাপ প্রকাশ করেছেন তাদের মাপ গড়ে ৫৫X৩৫ সেমি,অতটুকু পরিসরে প্রধান প্রধান শহর ও গ্রামই শুধু দেখানো যায়,কিন্তু যে মাস্টার ম্যাপ থেকে তৈরি,তার সাইজ গড়ে ৮০X৬৫ সেমি,এবং তা অনেক বেশি ডিটেইলড। দুই,তাঁর ম্যাপে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জল ও স্থলপথকে,প্রাথমিক আদেশ তাই ছিল,ফলে বড়-ছোট নদী তো বটেই খাঁড়ি,কাটাখাল নিখুঁতভাবে উপস্থাপিত। তিন,তাঁর ম্যাপে 0 লঙ্গিচ্যুড কিন্তু গ্রীনিচ নয়,কলকাতা,যার অবস্থান Lat North 22.35 ও Long East 88.23। ফলে আধুনিক কালের হিসাবে পাল্টে নেওয়া বেশ কঠিন।চার,রেনেলের ম্যাপ সেক্সট্যান্ট রিডিং ও চেন সার্ভে নির্ভর ফলে আধুনিক ম্যাপের ওপর সুপার-ইমপোজ করা যায় না।

১৭৭২এর অক্টোবরে কলকাতায় এসে বিয়ে করলেন জেন থ্যাকারেকে,এবং সস্ত্রীক ঢাকায় ফিরে গেলেন। সুখী দম্পতি ছিলেন তাঁরা,১৭৭৩এ একটি মেয়ে জন্মেছিল,তার নামও জেন,এক বছর বয়েসেই তার মৃত্যু হয়। ঢাকাতেই তার কবর,মায়ের খুব প্রিয় ছিল শিশুটি,ঢাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় সমাধিফলকটির রূপার ছাঁচ তৈরি করিয়ে ইংল্যাণ্ডে নিয়ে যান,এখনো আছে। দ্রুত কাজ শেষ করতে চাইছিলেন তিনি,ভগ্নস্বাস্থ্যে এদেশের আবহাওয়া যে বেশিদিন সহ্য হবে না,বুঝতে পারছিলেন। ১৭৭২এর মার্চেই লিখছেন,কাজের অগ্রগতি বেশ ভালো,আগামী বারো মাসের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ শেষ করতে পারব আশা করছি। তবু ঐ বিশাল কাজ শেষ করতে ১৭৭৬ হয়ে গেল। রেনেল তার কিছু অংশ লণ্ডনে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন,তিনি ভারতে থাকতে থাকতেই সেই বছরেই লণ্ডন থেকে প্রকাশিত হলো এদেশের প্রথম জরিপ করা মানচিত্র,An Actual Survey on the Provinces of Bengal, Bahar &c., স্কেল ১ইঞ্চি=১২মাইল,দু’পাতায়,মোট সাইজ 150X98 সেমি। ১৭৭৭এর মার্চে কলকাতা থেকে চিরদিনের মতো ভারত ছাড়লেন রেনেল পরিবার,সম্বল বছরে ৬০০ পাউণ্ড পেনশন আর কোম্পানির উপদেষ্টা পদ।

রেনেলের গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনাগুলি,সবই হয়েছে তাঁর দেশে ফিরে যাওয়ার পর,তাঁর তত্ত্বাবধানে মুদ্রিত। যেমন,A Description of Roads in Bengal and Bahar(১৭৭৮),A Bengal Atlas (১৭৮০),তেরোটি প্লেটসহ, ইত্যাদি।এছাড়া একটি স্মৃতিকথা লিখেছিলেন,Memoir of a Map of Hindoostan or the Mogul’s Empire (১৭৮৩)।

১৭৬৭তে রেনেলকে সার্ভেয়ার-জেনারেল নিযুক্তিকেই ‘সার্ভে অব ইণ্ডিয়া’ স্থাপনের বছর ধরা হয়। রেনেলের হাতে যার গোড়াপত্তন,সেকাজ চলতে লাগলো অব্যাহত। হিন্দুস্তানের হালচাল ততদিনে ইংরেজরা বুঝে ফেলেছে,তাদের বিজয়রথ আপাতত থামছে না। নতুন নতুন অঞ্চল দখলে আসছে,মানচিত্রেরও প্রয়োজন বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। এদিকে জরিপের কারিগরী উন্নতি আরো হয়েছে। সব মিলিয়ে কোম্পানী অতিশয় উচ্চাশামূলক এক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল,সারা ভারতের ট্রিগনোমেট্রিক্যাল সার্ভে করার,যা ইতিহাসে ‘দ্য গ্রেট ট্রিগনোমেট্রিক্যাল সার্ভে’ নামে পরিচিত।এইখানে বলে রাখা ভালো তখন দুটি শাখায় কাজ হতো,টপোগ্রাফিক্যাল সার্ভে (যা রেনেল করতেন)ও রেভেনিউ সার্ভে। ট্রিগনোমেট্রিক্যাল হলো নতুন তৃতীয় শাখা।

কাজ শুরু হলো ১৮০২ সালে দক্ষিণ ভারত থেকে,প্রথমে ধরা হয়েছিল সময় লাগবে পাঁচ বছর।বাড়তে বাড়তে আরো সত্তর বছর পেরিয়ে গেল।ইতিমধ্যে সিপাহি-বিদ্রোহ ঘটে গেছে,এমনকি ১৮৫৮য় কোম্পানী শাসনের অবসান ঘটিয়ে মহারাণী ভিক্টোরিয়া নিজের হাতে শাসনভার নিয়েছেন,সার্ভে কিন্তু থামেনি। সার্ভেয়ররা আক্ষরিক অর্থে হিমালয়ের পর্বত-কন্দর থেকে সেন্ট্রাল প্রভিন্সের ব্যাঘ্রঅধ্যুষিত গভীর জঙ্গল বা উত্তর-পশ্চিমের ভয়ানক বিপজ্জনক উপজাতি এলাকা—পায়ে হেঁটে ঘুরেছেন ভারতের একটি নিখুঁত মানচিত্রের সন্ধানে। একে বলা হয় পৃথিবীর বুকে ঘটা সর্ববৃহৎ ও দীর্ঘ জরিপ।

জিটিএস,যে নামে এটি অধিকতর পরিচিত,আমরা তার খবর রাখি,কারণ,এই সার্ভেতেই হিমালয়ের নামজাদা শৃঙ্গদের উচ্চতা নির্ধারিত হয়,এভারেস্ট,কে-টু বা কাঞ্চনজঙ্ঘা।কতদূর চলে এলাম আমরা,রেনেল হিমালয় নামটাই জানতেন না,লিখতেন টার্টারিয়ান মাউন্টেনস।

রেভেনিউ সার্ভের কথা বাদ দিলে,কারণ,এর কাজ মূলত বিভিন্ন মালিকানাধীন জমির সীমা নির্ধারণ,সার্ভে অব ইণ্ডিয়ার কাজ টপোগ্রাফিক্যাল শীট,সংক্ষেপে টোপো শীট ও জেলা ম্যাপ প্রকাশ। প্রথমটির স্কেল ১ইঞ্চি=১মাইল,দ্বিতীয়টির ১ইঞ্চি=৪মাইল। এইগুলি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে সংশোধিত হয়ে থাকে। এই পদ্ধতি এখনো চলমান।

মানচিত্র ১.রেনেলের ‘বেঙ্গল এটলাস’ থেকে নেওয়া,অংশবিশেষ। মূল শিরোনাম,Plan of the Environs of the City of Dacca,স্কেল ১ইঞ্চি=২মাইল,আমার ধারণা এটিই ঢাকা শহরের প্রথম জরিপকৃত ম্যাপ। রেনেল কতগুলি স্থান নম্বর দিয়ে নির্দেশ করেছিলেন,বোঝা যাবেনা বিধায় আবার লিখে দিয়েছি। রেনেলকৃত এর তালিকাটিও দিচ্ছি, 1. English Factory, 2. French D, 3. Dutch D, 4. Kella, 5. Lolbaug, 6. Octagon, 7. Burying Ground, 8. Manickchun’s Garden, 9. Becon’s D, 10. Nabobgunge, 11. Dewanbazar , ম্যাপের ডানদিকে দোলাই খাল,এখন বুজিয়ে রাস্তা ও বাঁদিকের উপরের কোণে মীরপুর লক্ষণীয়।

মানচিত্র ২.ডিস্ট্রিক্ট ম্যাপের নমুনা,ঢাকা,সার্ভে ১৮৫৭-৬০,প্রকাশ ১৮৮৫,আংশিক,স্কেল ১ইঞ্চি=৪মাইল।

মানচিত্র ৩. ঢাকা ১৯২৪,যে বই থেকে নেওয়া তার প্রকাশ ১৯৩৭। তাতে বলা হয়েছে,’At Kurmitola,10m. distant by road, a forest begins, which stretches N. for over 100m. to Tangail. Leopards may frequently be had within 10m. of Dacca, and tigers a little further off. Duck are plentiful in parts, but snipe are very scarce’.

মানচিত্র ৪. রেনেলের ‘বেঙ্গল এটলাস’ থেকে নেওয়া,অংশবিশেষ। মূল শিরোনাম,The Low Countries Beyond the Ganges/From the Mauldah River to Sylhet, স্কেল ১ইঞ্চি=১২মাইল,সাইজ ৬১.৫X২৯সেমি।

মানচিত্র ৫. ডিস্ট্রিক্ট ম্যাপের নমুনা,রাজসাহী,সার্ভে ১৯১০-১৬,সংশোধন ১৯২৮,১৯৪০ । আংশিক,স্কেল ১ইঞ্চি=৪মাইল।

পাঠ্য তালিকা-Andrew S. Cook, Major James Rennell and a BENGAL Atlas (1780 and 1781), 1976.
Reginald H. Phillimore, Historical Records of the Survey of India, 5 Vols. 1945-1968.
John Keye, The Great Arc: The Dramatic Tale of How India was Mapped and Everest was Named, 2000.

বুড়া

bura4819@rediffmail.com


মন্তব্য

হিমু এর ছবি

বুড়াদা, আবারও নীরস জিনিসপাতি নিয়ে বসছি আপনার সাথে।

প্রথমত, কমার পরেও একটা স্পেস দিন, নাহলে পড়তে সমস্যা হয়। যদি টাইপ করতে গিয়ে অনভ্যাসের কারণে দিতে না পারেন, তাহলে লেখা শেষে যে কোনো টেক্সট এডিটরে গিয়ে "ফাইন্ড/রিপ্লেস" টুল বের করে কমাকে কমা-স্পেস দিয়ে রিপ্লেস করে নিতে পারেন।

দ্বিতীয়ত, "লেখার সাজ" বলে একটা অপশন দেখতে পাবেন সচলায়তনের টেক্সট-বক্সের ঠিক নিচেই। আপনার কম্পিউটার থেকে ছবি আপলোড করলে ছবিগুলোর একটা তালিকা চলে আসবে সেখানে। প্রত্যেকটা ভুক্তি দেখাবে এমন:

টেক্সটের যে জায়গায় যে ছবিটা গুঁজে দিতে চান, সেখানে কার্সর রেখে ঐ ছবির ওপরে "ইনসার্ট" বাটনে ক্লিক করলে ছবির কোডটা সেখানে চলে যাবে।

এভাবে সব ছবি যথাস্থানে গুঁজে দিয়ে সবশেষে ঐ ছবির তালিকাগুলোতে "তালিকা"র পাশে বাক্সটা থেকে টিকচিহ্নটা মাউস ক্লিক করে সরিয়ে দিন একে একে। সেগুলো তখন দেখাবে এমন:

অতিথি লেখক এর ছবি

অশেষ ধন্যবাদ, মনে রাখব।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

রানা মেহের এর ছবি

খুবই ইন্টারেস্টিং। বেশিরভাগ জিনিসপত্রই বুঝিনি কিন্তু পড়তে ভালো লেগেছে।

নতুন পর্ব লেখার সময় আগের পর্বগুলোর লিংক দিয়ে দেবেন প্লিজ।

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

এক লহমা এর ছবি

চলুক
পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

রেনেলের ম্যাপ কিংবা মেমোয়ারে উল্লেখিত স্থানসমূহের নামগুলো কিন্তু বেশ ইন্টারেস্টিং। তেজগাঁও কে লেখা হয়েছে টিজগং, জাহাঙ্গীরনগর কে লেখা হয়েছে জেহাঙ্গুইরনাগার, রগড় আর কাকে বলে। এই ভ্রান্তি কিংবা অবহেলা অবশ্য রেনেলের একার নয়, এটা ব্রিটিশ এবং ইউরোপিয়ানদের অনেকটা সহজাত প্রবনতা। মাঝে মাঝে ভাবি, এটা কি ইউরোপিয়ানদের অক্ষমতা নাকি দুর্বিনয়।

Ahmed এর ছবি

ইন্টারেস্টিং পোস্ট চলুক

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

পড়তে দেরি হয়ে গেলো, তাই কমেন্ট করতেও। তবে যা লিখেছেন সেটা চমৎকার হয়েছে। কোথাও কোথাও কিঞ্চিত তাড়াহুড়া লেগেছে। সার্ভে কী বস্তু এবং তার খুঁটিনাটিগুলো বিস্তারিত না আসলেও চলে। কারণ, ওগুলো ইন্টারনেটে টোকা দিলেই মেলে। বিস্তারিত যা আসা দরকার সেটা হচ্ছে ইতিহাস। যেমন, রেনেল বাবু কাজ করার সময় কী কী দেখেছেন, কী কী ভালো বা মন্দ ঘটনা পার করেছেন, স্থানীয় মানুষ-পরিবেশ-সংস্কৃতি নিয়ে কিছু বলেছেন কিনা, লোকাল ব্রিটিশদের সমাজ নিয়ে কিছু বলেছেন কিনা, তার কাজের আফটারইফেক্ট কী ইত্যাদি ইত্যাদি। এক ঝুড়ি চেয়ে রাখলাম, আপনি আপনার পরিকল্পনা আর সুবিধামতো লিখতে থাকুন, পোস্টাতে থাকুন।

খুব ভালো লাগছে যে আপনি লিখছেন। আরো ভালো লাগছে যে আপনি এখানে লিখছেন। ভালো থাকবেন। পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

অতিথি লেখক এর ছবি

এই লেখাটি কী কারণসম্ভূত আব্দুল্লাহভাইয়ের জবাবে লিখেছিলাম। রেনেল নীরস বৃত্তান্ত ছাড়া কিছু লেখেননি বিশেষ, তার বাইরে যা জানতে পারা যায়, আব্দুল্লাহভাই পূর্বে অনেকটাই লিখেছেন ।
একটি সন্দেহ জাগছে, রেনেলকৃত ঢাকার যে মানচিত্রটি দিয়েছি, বাংলাদেশে এটি পাঠকদের পূর্বপরিচিত ও যথেষ্ট আলোচিত হয়ে থাকবে। ঢাকার অনেক প্রকাশনাই এদেশে পৌঁছয় না। তা না হলে এটি সম্পর্কে কোনো কৌতূহল দেখলাম না কেন? পুরানো ঢাকার ল্যাণ্ডমার্কগুলি জেনে আমিই উপকৃত হতাম।
ব্লগ, যা বুঝি, গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম, কে লিখছেন তার থেকে কী লিখছেন, সেটাই গুরুত্বের।
মূলত আপনার আহ্বানে এখানে লেখা, তার জন্য ধন্যবাদ নেবেন।
বুড়া

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

এই লেখা কেন লিখেছেন সেটা জানি। তবে সেই কারণটা মুখ্য না। একটা দরকারী বিষয় নিয়ে লিখলেন, এটা গুরুত্বপূর্ণ।

রেনেলের মানচিত্রটা কেবল আমাদের পরিচিত - ব্যাস ওইটুকুই। বাকি কাহিনী আমাদের অজানা ছিল।

ব্লগ আমার কাছে একটা ডিসকাশন ফোরামের মতো মনে হয়। এখানে একজন একটা বিষয় নিয়ে লিখলেন সেখানে -
(ক) যারা ঐ বিষয়ে আরো জানেন তারা সেই তথ্য, তত্ত্ব, যুক্তিগুলো দিয়ে যান।
(খ) যারা ঐ বিষয়ে আরো জানতে চান সেসব প্রশ্ন রেখে যান।
(গ) কেউ ভুলচুক করলে সেটা ধরিয়ে দেয়া হয়।
(ঘ) কেউ রোয়াব দেখাতে গেলে তাকে ফর্দাফাই করা হয়।
এজন্য ব্লগে একটু পড়াশোনা করে লিখতে হয়। এতে সব পক্ষ উপকৃত হয়। ব্লগের একটা উপজাত আছে। সেটা হচ্ছে কাছাকাছি চিন্তা/পড়াশোনা/মানসিকতার মানুষদের সাথে একটা ব্লগীয় বন্ধুত্ব তৈরি হয়। এটা উপরি পাওনা।

এই লেখার আগের পর্বে একটা অনুরোধ করে এসেছি। সেটা বিবেচনা করলে খুশি হবো।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA