ভোখেনব্লাট - ৫

হাসিব এর ছবি
লিখেছেন হাসিব (তারিখ: মঙ্গল, ২৭/১১/২০০৭ - ৬:১৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সোমবার ১২ নভেম্বর, ২০০৭

১.
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি মুষলধারে বরফ পড়ছে । স্প্রিং, ফলের (বসন্ত, শরৎ) মতো সুন্দর ঋতু থাকতেও আমার কেন যেন শীতকালটাই ভালো লাগে এখানে । আমার প্রথম বরফ দেখাও জার্মানিতে । পরিস্কার মনে আছে সেদিনটা ছিলো ১১ নভেম্বর ২০০৪ । বিদেশে নতুন । যা দেখি সেটাতেই তব্দা খাই । ১১ তারিখ কি এক কাজে ইউনিভার্সিটির ৫ তলায় উঠে ব্যালকনিতে তাকিয়েই খেয়াল করলাম বাইরে তুষারপাত শুরু হয়েছে । সাথের পাকিস্তানি বন্ধুও কোনদিন বরফ দেখেনি । দুজনে ব্যালকনিতে দাড়িয়ে হা করে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলাম কিছুক্ষন । বড়বেলায় এরকম বিস্ময় নিয়ে কোন জিনিস এভাবে দেখেছি বলে মনে পড়ে না ।এই বিস্ময় মেশানো মুগ্ধতা গত তিনটা শীতে কাটেনি । একারনে শীতকালে তুমুল তুষারপাতে মাঝে মাঝে বেরোতে ভালোই লাগে । বিস্মিত হবার সুযোগ বড় একটা আসে না এই যাপিত জীবনে । জার্মান কলিগরা শুনে খুব অবাক হয় এরকম শাইযে ভেটার আমি পছন্দ করি শুনে । আরে ব্যাটা শাইযে ভেটারের দেখেছিস কি তোরা ? শুধু যদি তোরা আমাগো দ্যাশের বন্যা সাইক্লোন একবার দেখতি .. শুধু যদি একবার দেখতি তোরা .. ।

২.

আমাদের সময় সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদের জীবনের শেষ তিনটি চিঠি ছাপিয়েছে । মৃত্যুর দিন (১১ অগাস্ট ২০০৪) বা তার আগের দিন এ পরিবারের সদস্যদের কাছে এ চিঠিগুলো লেখেন তিনি । যাদের চোখ এড়িয়ে গেছে তাদের জন্য লিংক

মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০০৭

সকালে উঠে কম্পিউটারের মনিটরের দিকে তাকিয়ে মনে পড়লো আজ আমার জন্মদিন । দেশে থাকতে ভালো খারাপ কোনরকমে জন্মদিনটা কোনরকমে পার করে দেয়া যেতো । ১৫ বছর আগে যে কিশোরী আমার প্রতিটা জন্মদিনে উইশ করবে বলে কথা দিয়েছিলো তার কথা মনে করে মন একটু খারাপ হলেও মোটের ওপর ভালোই কাটছিলো জন্মদিনের দিনগুলো । বাইরে এসেই বিপত্তি বেধেছে । এখানে যাবতীয় জায়গায় নামের সাথে জন্মতারিখটা হলো বড় পরিচয় । সেসব যায়গায় যে জন্মতারিখটা লেখা থাকে সেটা আমার আসল জন্মতারিখ না। এখনকার যুগে অবস্থার একটু উন্নতি হলেও সেকালে আমি যে স্কুলে পড়তাম সেখানে স্যারেরাই ঠিক করতেন আমি কোন দিনে জন্মেছি । ক্লাস নাইনে এসএসসি পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন করার সময় ক্লাস টিচার ঠান্ডু কাশেম (আরেকজন ছিলো গরম কাশেম, বাচ্চা কাচ্চা পোলাপাইনরে পিটায়া তক্তা বানানোর জন্য ঐ লোকের সুনাম ছিলো) আমাদের বললেন জন্মতারিখের ঘরটা ফাকা রাখতে । আমরাও রাখলাম । পরে যখন রেজিস্ট্রেশন কার্ডটা হাতে পেলাম তখন দেখলাম আমার বয়স ১৩ মাসের কিছু বেশী কমেছে । অর্থাৎ, ১৩ নভেম্বর ৭৬ এর বদলে সেটা ২৫শে ডিসেম্বর ৭৭ হয়েছে । আমাদের এই বলা হলো যে বিসিএস দেবার সময় এটা নাকি কাজে লাগবে । তখনকান দিনে বিসিএস আর আর্মিই ছিলো মধ্যবিত্তের স্বপ্নের জায়গা । প্রাইভেট সেক্টর তখনও ডেভেলপ করেনি। তো বিসিএসের নাম শুনে ভালো মানুষের মতো মেনে নিলাম এই ভেবে যে মুরুব্বিরা যা করে ভালোর জন্যই হয়তো করে । কয়েকদিন পরে মুরুব্বি স্যারেদের প্রতি শ্রদ্ধা আরো বাড়লো যখন দেখলাম আশে পাশের কিছু স্কুলে পড়া বন্ধুদের সবার জন্মদিন গণহারে ১লা জানুয়ারী ৭৭/৭৮ হয়েছে । রীতিমতো হাসির পাত্র তখন তারা । ওখানকার স্যারেদের মাথায় এই অবাস্তব চিন্তা কিকরে খেললো সেটা আমি আজও বুঝতে পারি না । আমাদের ব্যাচ বা আশেপাশের ব্যাচে এরকম অনেককে পাওয়া যাবে যাদের এরকম পহেলা জানুয়ারিতে জন্ম । আমাদের অনেকের মুরুব্বিরাই আমাদের এভাবেই দুর্নীতিতে হাতেখড়ি দিয়েছেন । এই আমরাই যদি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন না হই তাহলে হবেটা কে !

তো এই দুইরকম জন্মদিনের কারনে জন্মদিনের সময়টা আমি সাধারণতঃ কোথাও ডুব মেরে থাকি এখানে । সাইবার যুগে জন্মদিন লুকানো আসলে সম্ভব না । ফেইসবুক, লিঙ্কডইন, হাই5, ফ্রেন্ডস্টার ইত্যাকার হাবিজাবি থেকে মানুষজন সহজেই জন্মদিনের খোজ পেয়ে যায় । কয়েকবার এরকম প্রশ্নের মুখোমুখিও হতে হয়েছে যে আমার জন্মতারিখ আসলে কোনটা । ইওরোপিয় ভদ্রতার আড়ালে প্রশ্নটা হলেও সেটা আমাকে যথেষ্টই বিব্রত করে । সকালে কামলা দেবার জায়গায় গিয়েও দেখলাম আমার জন্মদিনের ব্যাপারটা চাউর হয়ে আছে । একেকজন এসে উইশ করে আর আমি আতঙ্কের সাথে তাদের মুখ দেখে বোঝার চেষ্টা করি অন্য জন্মদিনের খবরটা তারা ওয়াকিবহাল কিনা । ভাগ্য সদয় ছিলো যাহোক এবার । কেউ প্রশ্নটা তোলেনি ।

এরকম শুভেচ্ছা দিয়ে ওপাড়া এপাড়ায় সহব্লগাররা পোস্ট দিয়েছেন । মুকুল ভাই ও অছ্যুৎ বলাইকে এজন্য বিশেষ ধন্যবাদ । মুকুল ভাই তার পোস্টে সেই পোস্ট পছন্দ করি কিনা সেটা নিয়ে ভয়ে ছিলেন । ফেইসবুকে ইশতিয়াক রউফ একই আতঙ্কে ছিলেন । অনুমান করি ফেইসবুক এ্যাকাউন্টে আমার প্রোফাইল পিকচার দেখে উনাদের এই ধারনা হয়েছে । তাদেরকে জানাতে চাই যে ঐ মেসেজটা শুধু ফেইসবুকের জন্য । পুলাপাইন ছবি, ফ্ল্যাশ, হাবিজাবি দিয়া খুবি ত্যক্ত করে । ঐজন্যই ঐ ঘোষণা । কমরেড সুমন চৌধুরী, আনোয়ার সাদাত শিমুল, ইমরুল হাসান, অমিত, সুজন চৌধুরী, প্রকৃতিপ্রেমিক, কনফুসিয়াস, এস্কিমো, বিবর্তনবাদী, শওকত হোসেন মাসুম, নাজিমউদ্দিন, কুদরত আলী, নিজের আয়না, সাইফুর, আহমেদ শরফুদ্দিন, নরাধম, শাহেদুর রহমান, অচেনা বাঙালি, অন্যরকম, বিহংগ, তবুও একাকি, মানুষ, প্রশ্নোত্তর, মনিটর, জোনাকি, প্রত্যুতপন্নমতিত্ব, মাথামোটা, প্রচেত্য, ছায়ার আলো, রাশেদ, বন্ধনহীন, তীরন্দাজ, শাওন, মাহমুদ রহমান, সারওয়ার চৌধুরী, নাজিরুল, সুশান্ত, শাহেদুর রহমান, রিজভী, জেবীন, আনিকা, ললিতা, নীলাঞ্জনা, তবুও একাকি, মানুষ সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ এপাড়া ওপাড়া মিলিয়ে পোস্টদুটিতে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ।

এপাড়ার জন্মদিনের পোস্ট পড়তে গিয়ে প্রথমেই দেখলাম অছ্যুৎ বলাই তার পোস্টে ভুল করে একটা ছবি পোস্ট করেছেন যেটাতে দেখা যাচ্ছে একটি বাচ্চা মেয়ে হাপুস হুপুস করে আনন্দের সাথে একটা কেক খাচ্ছে । এই ভুল ঢাকার জন্য অছ্যুৎ বলাই মিথ্যার আশ্রয় নেয়ায় তার জন্য বরাদ্দ ভার্চুয়াল কেকের অর্ধেকটা প্রত্যাহার করে নেয়া হলো । সেই সাথে ইন্ধন দেবার অপরাধে মাহবুব লীলেন, থার্ড আইয়ের জন্য কেকের সাথে কোকের বদলে পানি সুপারিশ করলাম । এপাড়ার মতো, ওপাড়ায়ও মিথ্যার হাত থেকে আমার পবিত্র জন্মদিনটি রেহাই পায়নি । ব্লগার মম দাবি করেছেন এ জন্মতারিখটাও নাকি ভুয়া ! তিনি নাকি আমার জন্মের সময় ছিলেন সেখানে ! যাইহোক মমকে আজকে সন্ধ্যায় ঘন্টা দুই সময় দেবার জন্য সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনা হলো । ১৮ তারিখে তার জন্য আগাম জন্মদিন । ১৬ তারিখে মুকুল ভাইয়ের জন্মদিন । তাকেও শুভেচ্ছা । এপাড়ার আরেক বটবৃক্ষ নজমুল আলবাবের জন্মদিনও এমাসেই । শুভ জন্মদিন নজমুল আলবাব । আরোও যেসব পুরনো বন্ধুদের জন্মদিন এ মাসে তাদেরকেও শুভ জন্মদিন । উহারা সুখে থাকুক ।

এসএম মাহবুব মোর্শেদ অনেক দিন বেঁচে থাকার জন্য আশির্বাদ করেছেন । তাকে বলি, আমি অনেকদিন বেঁচে থাকতে চাই না । চোখের সামনে প্রিয়জনদের চলে যাওয়া দেখতে হবে তাহলে । সেটা বড় কষ্টের ব্যাপার হবে । এ কষ্টটা পেতে চাই না । ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন মা, আমায় তুই আনলি কেন, ফিরিয়ে নে' তাদের তরফে শুভ জন্মদিন । ফারুক ওয়াসিফ, এতো সহজে ফিরিয়ে নেবো না নিজেকে । নিশ্চিত থাকবেন ।

আর সবার মতো হিমুও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন । তবে সেইসাথে জানতে চেয়েছেন বাসায় শুকনো কাথা আছে কিনা । তাকে আমি বিনয়ের সাথে জানাতে চাই যে হিমুর দরকারে বান্দা হাসিব সবসময় হাজির । হিমুর দরকারে কাথা নতুন করে বানিয়ে দেয়া হবে ।

গুরুজী নিধিরাম সর্দার আশা করেছেন আমি পটকা মরিচের মতো ফুলে গিয়ে ফাইটা যামু । জন্মদিনে গুরু কি চামে বদদোয়া দিলো কিনা বোঝা গেলো না ।

মৈথুনানন্দ এক ফাকে মুকুল ভাইয়ের পোস্টে জেনেফারকে ফোন দিতে বলেছেন । বিশিষ্ট এক মহিলা ব্লগারের এক পোস্টেও তিনি এধরনের শিবের গীত গেয়েছেন । তার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে এই নামে কোন মেয়েকে আমি কোনদিন দেখিনি বা এ নামে কারো সাথে পরিচয় নাই । ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানালাম সেই সাথে ।

সাইফুর সাহেব দোয়া করেছেন অনেক বড় হবার । সেইসাথে আবার ৬ ফুটের বেশী বড় যাতে না হই সেটার সতর্কবানী দিয়েছেন । আমি তাকে জানাতে চাই যে অনেককাল ধরেই এক ইঞ্চি কম ৬ ফুট উচ্চতায় আটকে আছি । এক ইঞ্চির জন্য ৬ ফুটি হওয়া গেলো না এই আক্ষেপ আমার অনেকদিনের ।
জেনারেল লোহার খাটের শুভেচ্ছা দিয়েছেন । মানে পুরা ভেজাইল্লা শুভেচ্ছা । দিলে দিবো সেগুন কাঠের শুভেচ্ছা। তা না দিয়া রট আয়রণ দিয়া কাম সারনের চিন্তা । তীব্র নিন্দা জানাই । কুদরত আলিও সমপরিমান অশ্লীল শুভেচ্ছা পাঠিয়েছেন । একসহস্র হুর পাঠাবে নাকি সে আমার জন্য ! অস্তাগফেরুল্লাহ.. । লানত পড়ুক পোড়া মুখগুলোতে ।
ব্লগের মতো ফেইসবুকেও অনেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন । মাহবুব সুমনকে ধন্যবাদ সবার আগে ট্রেন ধরার জন্য। জন্মাবার দুইদিন আগেই উনি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন । আরোও ধন্যবাদ অনুজ মুনতাসির হাসান ও জিকোকে । ধন্যবাদ জুয়েল, সহব্লগার মাহবুব মোর্শেদ, সহপাঠি কামরুল হাসানকে (অলৌকিক হাসান) ।

মৌসুমকে বিশেষ ধন্যবাদ দুছত্রের দারুন শ্লোকটির জন্য । মৌসুম ছড়া কবিতা লিখলে ভালো করতেন মনে হয় । সিংহপুর থেকে মনে করে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য টিয়াকেও ধন্যবাদ । যদ্দুর মনে পড়ে এক যুগ ধরে পরিচয় থাকলেও এবারই প্রথম জন্মদিনের শুভেচ্ছা ছিলো এটি । টিয়া ও কমরেড নাসরিন সিরাজ এ্যানি ফেইসবুকে ফ্রি গিফট পাঠিয়েছেন বলে আলাদা ধন্যবাদ । ফেইসবুকে কোনরকম গিফট নেব না বলে প্রতিজ্ঞা করায় গিফটগুলো দেখা হয়নি । মাইন্ড খাবে না ওরা আশা করি । ছোটবোন মুনিয়াকেও ধন্যবাদ মনে করে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য । ভালো থাকো মুনিয়া এই কামনা করছি ।

লেইটলতিফ আনিকাকেও ধন্যবাদ ট্রেন মিস করে হলেও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ।

মেইলে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন হোসেইন, এস্কিমো, অমিত, আরণ্যক যাযাবর । জন্মদিনের উপহার হিসেবে একশত হুরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আরণ্যক । সায় দিয়েছেন অমি রহমান পিয়াল । সময় হলে কড়ায় গন্ডায় আদায়ের প্লানটা মাথায় টুকে নিলাম। হাসান রায়হান এরকমই হুর পরিবেষ্টিত এক কৃষ্ণের ছবি পাঠিয়ে আমার জীবন সেরকম হোক সেটা কামনা করেছেন । ছবিতে এক সরোবরে হুরদের সাথে কৃষ্ণ জলকেলি করছেন সেটা দেখা যাচ্ছে । (সঙ্গত কারনে সেটা এখানে শেয়ার না করা হলেও ছবিতে যা দেখলাম সেটা বলছি) । ছবির সরোবরটি শ্যাওলায় পরিপূর্ন । পানি পুরোটাই সবুজ । জায়গাটা ম্যালেরিয়ার মশা প্রজননের উৎকৃষ্ট স্থান সেটা বলাই বাহুল্য । মশার শুককীট মুককীটের সাথে সেখানে দুচারটা ব্যাঙ পরিবার থাকাও বিচিত্র কিছু না । এহেন সরোবরে মশা মাছি ব্যাঙের সাথে জীবন কাটানোর কামনায় মোটেও খুশি হতে পারলাম না বলে দুঃখিত ।

যাইহোক, সারাদিন ব্যস্ততা আর অদ্ভুদ এক মন খারাপে কাটলো । অদ্ভুদ একারনে যে এই মন খারাপের কোন বোধগম্য কারন নেই । এমন না যে দেশে থাকতে জন্মদিন কাটতো বিশাল কেক কেটে হুলস্থুলভাবে । সত্যি কথা বলতে কি দেশে খুব অল্প লোকজনই আমার জন্মদিনটা সঠিকভাবে জানতো বা জানার আগ্রহ রাখতো । নিজেরও অনিচ্ছা ছিলো এসব ফালতু উদযাপনে । কেন জানি সারাদিন ধরে অফিসে বসে করে মুখ গোমড়া করে মেইল মেসেজ পড়লাম । বাসে করে বাসায় ফেরার পথে এই মন খারাপের ডায়োগনিসই করছিলাম। রাস্তায় দেখা এক পুরনো আরবাইটসকলেগিনের সাথে । আমাকে দেখে এতো হৈচৈ করে উঠলো যে খানিক বিব্রতই হলাম । গোমড়ামুখো ডয়েশে মানভর্তি সবাই একনজর দেখলো কি হচ্ছে । বিব্রত হলেও সাথে সাথে বুঝলাম সারাদিনের মন খারাপের কারন । দেশে যে অবস্থায়ই থাক সারাদিন কোন না কোন খুশিমুখ দেখতাম । সেইসব খুশিমুখই শান্তিতে রাখতো আমাকে যেটা আমি এখানে ভয়ানক মিস করি । কৃতজ্ঞতা কলেগিন, আমারে দু’দন্ড শান্তি দেবার জন্য ।

বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০০৭

আজ সকাল থেকেই টের পেলাম ধেয়ে আসা সাইক্লোনের খবরটা চাউর হয়েছে মিডিয়ার কিছু অংশে । সারাটা দিন গেলো সাইক্লোন সিডরকে ফলো করতে করতে । সাইক্লোনের ব্যাপকত্য আমরা আগে বুঝতাম কয় নাম্বার সিগনাল পড়েছে সেটার ওপর । রেডিও টিভি পত্রিকায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখলেই । তো ইদানিং এ নামটা অর্থাৎ স্কেলটার একটু পরিবর্তন হয়েছে । ইংরেজীতে ক্যাটাগরি ১, ২, থেকে সর্বোচ্চ ৫ পর্যন্ত সাইক্লোনের মাত্রা বেঁধে দেয়া হচ্ছে । এটাকে সাফির-সিম্পসন (Saffir-Simpson) স্কেল বলা হয় । সাফির সিম্পসন স্কেলে বাতাসের গতিবেগের ওপর ভিত্তি করে ক্যাটাগরাইজ করা হয় ।

সিডর (Sidr) নাম পাওয়া ধেয়ে আসা সাইক্লোনটি সারাদিন শক্তি সঞ্চয় করে রাতে ক্যাটাগরি-৫এ গিয়ে ঠেকলো । বাংলাদেশে প্রাকৃতিক কারনে শতাব্দির সবচেয়ে ভয়ানক মানবিক বিপর্যয়ের কারনও এরকম এক সাইক্লোন । সেবার ভয়াবহ জলচ্ছাসের কারনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমানও ছিলো বেশী । ১৯৭০এর এই সাইক্লোনের তৎকালীন কোন নাম না থাকলেও এটা এখন ভোলা সাইক্লোন নামে পরিচিত । তৎকালের ইয়াহিয়া গোষ্ঠির সীমাহীন অবহেলায় ৫ লক্ষের মতো মানুষ মারা পড়ে সেবার ।

ফি বছর এই বিপুল মানুষের মৃত্যুর পর ইন্টারন্যাশনাল রেডক্রস ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি একটা প্রকল্প তিলে তিলে গড়ে তোলে বাংলাদেশের উপকুলের লোকজন নিয়ে । এটা সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম নামে পরিচিত । ১৯৬৫ সালে এ প্রকল্পের ধারনাটি প্রথম প্রস্তাব করে ন্যাশনাল সোসাইটি (বর্তমানে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি) । এই পরিকল্পনা বাস্তব রূপ লাভ করে স্বাধীনতার পরে ১৯৭৩ সালে । বর্তমানে এ প্রকল্পের আওতায় নারী পুরুষ মিলিয়ে মোট ৩৪ হাজারের বেশী স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেন । সাথে আইন শৃংখলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী মিলে মোট ৪০ হাজার কর্মি সাইক্লোনের সতর্কিবার্তা মানুষের কাছে পৌছে তাদের ঝুকিপুর্ন এলাকা থেকে সরিয়ে নেবার কাজ শুরু করেছে । দেখা যাক তাদের এই কর্মযজ্ঞ কতটুকু সফল হয় ।

বৃহস্পতিবার – রবিবার, ১৫ নভেম্বর -১৭ নভেম্বর

১.
হারিকেন সিডর তার চিহ্ন ভালো মতোই রেখে গেছে । প্রাথমিক হিসাবেই হাজারের ওপর মৃত । ক্যাটগরি ৫ থেকে নেমে ল্যান্ডফলের সময় এটা ক্যাটাগরি ৪ নেমে আসে ভাগ্যক্রমে । তীব্রতার দিক দিয়ে ’৭০ বা ’৯১-এর সমকক্ষ হলেও এটা আগেরগুলোর মতো লক্ষাধিক লোকের মৃত্যু ঘটাবে না বলেই এখনো পর্যন্ত মনে করা হচ্ছে । অনেক গুলো কারণ এর পেছনে কাজ করেছে বলে ধারনা করা যায় । আগের চাইতে সচেতন হয়েছে মানুষ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি । তবে সবার ওপরে ছিলো রেড ক্রিসেন্টে স্বেচ্ছাসেবকদের কর্মতৎপরতা । মিডিয়া বলছে ৬ লক্ষেরও বেশী মানুষ তারা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন । আরোও ত্রিশ লক্ষের মতো মানুষ এখনও বিপদ সংকুল এলাকায় থেকে গেছেন । এই ত্রিশ লক্ষ মানুষের ব্যাপারটা ঠিক পরিস্কার না । তারা ঠিক কি ধরনের বিপদ সংকুল পরিবেশে ছিলেন ? তাদের বেশীরভাগই বিপদটা কাটিয়ে উঠলেও ভবিষ্যতে তাদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর বা তারা যেখানে থাকেন সেখানটা আরোও নিরাপদ করে তোলার ব্যাপার দুর্যোগ ব্যবস্থাপকেরা কি ভাবছেন ?

অপটিমিস্টিক চিন্তা অনুযায়ী এরপর এই ত্রিশ লক্ষ বিপদগ্রস্থ মানুষের খুব অল্পই মারা গেছেন । কিছু মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারও হয়েছে পুর্ব সতর্কিকরণের সাফল্যগাথা । কিন্তু স্বভাবে পেসিমিস্টিক আমি একটু প্রশ্ন রাখতে চাই এই যে যারা মারা গেলেন তাদের মৃত্যুও কি ঠেকানো যেত না ?

কিছুদিন ধরেই বিবিসির বাংলা বিভাগের খবর ফলো করছিলাম । বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস তাদের বিভিন্ন ভাষাভিত্তিক বিভাগের সাংবাদিকদের নিয়ে Bangladesh Boat Journey নামে একটি সফরের এক আয়োজন করছিলো । (ছবি দেখুন এখানে) । তো সেই সফরে তারা মাসাধিককাল বাংলাদেশের নদীপথে এমভি অবসর নামে একটি লঞ্চে ঘুরে বেড়িয়েছেন । বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব স্বচক্ষে দেখা ও তা নিয়ে স্থানীয় জনগনের সাথে মতবিনিময়ই ছিলো তাদের উদ্দেশ্য । মংলা ঘুরে উত্তর দিকে এগুচ্ছিলেন তারা । মাঝখানে সাইক্লোনের কবলে পড়ে লঞ্চ ছেড়ে স্থলে আশ্রয় নিতে হয়েছিলো তাদের । সাইক্লোনের শেষে আবার তারা মংলা ফিরে আসেন স্বচক্ষে অবস্থা পর্যবেক্ষনের জন্য । সাইক্লোনের অনেক ফার্স্টহ্যান্ড অভিজ্ঞতা তাদের কাছেই শুনি প্রথম ।
তো আমি তাদের রিপোর্টগুলো ফলো করছিলাম প্রথম থেকেই । সফরের প্রথম দিকে এক পর্যায়ে তারা এক স্কুল দেখতে যান যেটা সাইক্লোন শেল্টার হিসেবে পরিচিত । তারা দেখতে পান সেখানে সে শেল্টারের ছাদ খসে পড়ছে । বেশীরভাগ রুমই পরিত্যক্ত । কয়েকদিন আগে ছাদ থেকে প্লাস্টার খসে পড়ে একজন ছাত্র আহতও হয়েছে সেখানে ! এসব কারনে বলাবাহুল্য স্থানীয় জনগণের কাছে সেটা শেল্টার নামে পরিচিত হবার কারণ নেই । নিশ্চিতভাবেই বলা চলে এরকম আরো অসংখ্য সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে উপকুল জুড়ে যেগুলো শেল্টার দেবার বদলে নিজেই প্রান হরণ করে নিতে পারে ।

cyclone_shelter

কিছু এলাকার লোকজনকে রীতিমতো লাঠিপেটা করতে হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাবার জন্য । তবুও তারা যাননি অনেকেই । ভিটা মাটি ছেড়ে যেতে চাননা কেউ, কেউ ছোট বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে বের হতে চান না । তো, ভাঙ্গা শেল্টারের পাশাপাশি এ জিনিসগুলোও মৃতের সংখ্যা বাড়ানোর পেছনে কাজ করেছে । আরো কিছু নির্ভরযোগ্য আশ্রয় কেন্দ্র, আরেকটু সচেতনতা আরোও কিছু মৃত্যু নিশ্চিত এড়াতে পারতো ।

এবারের সাইক্লোনটি ভোলা জেলার কিছুটা পশ্চিম দিক দিয়ে সুন্দরবন ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা দিয়ে প্রবেশ করেছে । স্থলভাগে প্রবেশের পর পূর্ব দিকে ভোলা সাইক্লোন থেকে একটু কম বেকে সিলেটের ওপর দিয়ে সেটা বাংলাদেশ অতিক্রম করেছে । এটা একটু ব্যতিক্রম আগের গুলো থেকে । বাংলাদেশে বেশীরভাগ প্রানক্ষয়ি সাইক্লোনের ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেছে ভোলা জেলাও তার পূর্বের দ্বীপগুলো । রেড ক্রিসেন্টের সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রামের মূল কার্যক্রম এলাকা (সিপিপি কমান্ড এরিয়া) একারনে সেখানে বেশ ভালো ও ঘনভাবে সন্নিবেশিত । এবারে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ভোলার পশ্চিমে সিপিপির কর্মকান্ড পুরো উপকুল জুড়ে নেই । তাছাড়া সুন্দরবন অঞ্চলের উপকুলের সাথে ভোলার পুর্বের উপকুলের পার্থক্য হলো এখানে বিপদসংকুল এলাকার মানুষদের উত্তর দিকে পালানোর সুযোগ নেই । দুবলার চর ও তার পাশের বেশ কিছু মাঝিনৌকা এই চেষ্টাটি করেছিলো । বিবিসির সাংবাদিকদের বেঁচে যাওয়া লোকেরা বলছেন সে চেষ্টা খুব সফল হয়নি ।

CPP

ছবিঃ সিপিপি কমান্ড এরিয়া । লক্ষ্য করুন নব্বুই পরবর্তি সময়ে এটা কতটা সামান্য বেড়েছে ।

সিপিপির কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চলে অকিঞ্চিতকর হবার কারনে বেশ কিছু এলাকায় সতর্কবার্তাও পৌছেনি সময়মতো । সুন্দরবন উপকুলে মাঝিরচর নামে এক চরের কথা জানা যায় যেখানে কোন সতর্কবার্তা পৌছোয়নি । আশ্রয় নেয়া বেশীরভাগ জেলেই সেখানে প্রানে বাঁচতে পারেননি । আন্দাজ করা যায় এরকম অসংখ্য চর ও ক্ষুদ্র বসতিগুলোতে সতর্কবানী ছাড়াই মানুষ প্রান হারিয়েছেন ।

সিপিপির আওতা সুন্দরবনের দুর্গম এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে দেবার প্রয়োজনীয়তা একটু আগে বুঝলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান হয়তো আরোও কমানো যেত । সেইসাথে দুর্যোগ ঠেকানোর জন্য বেশী করে মজবুত শেল্টার বানানোটাও অতি আবশ্যিক । অন্য সময় এগুলো শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবেও কাজে দেবে । আমাদের সরকার বাহাদুরেরা সেতু উদ্বোধন করতেই ৫ কোটি টাকা ব্যয় করেন । এসব জীবন রক্ষাকারী প্রকল্পেই তাদের এতো অনীহা ।

সাইক্লোনের ঝাপটা সরে যাবার পর এখন সবাই মৃতদেহ গোনার কাজে ব্যস্ত । এরপরই আসবে ত্রানের কাজ । হাতে নেয়া সব প্রজেক্টে ফেইল করা ফৌজি শাসকরা সেটাতে কি করে সেটাই দেখার বিষয় এখন ।

২.
সাংবাদিক ও কন্ঠশিল্পী সঞ্জীব চৌধুরীকে এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে । পত্রিকা মারফত জানতে পারছি তিনি কোমায় আছেন । মস্তিস্কে রক্তক্ষরণজনিত কারনে তার এই দুর্দশা । সুস্থ হয়ে উঠুন তিনি । মাহমুদুজ্জামান বাবু, বাপ্পা মজুমদার, সঞ্জীব চৌধুরী আমার প্রিয় গায়ক । এর মধ্য কেউ চলে গেলে সত্যিকার অর্থেই দুঃখ পাবো ।

(এলেখাটি যখন প্রকাশিত হয় তখন সঞ্জীব চৌধুরী আর আমাদের মাঝে নেই । যেখানেই যান ভালো থাকুন তিনি।)

টিকা:
১. ভোখেন – সপ্তাহ, ব্লাট – পেপার শিট, পৃষ্ঠা । একত্রে অর্থ সপ্তাহের পৃষ্ঠা/পাতা ।
২. এপাড়া, ওপাড়া
৩. শাইযে ভেটার (Scheisse Wetter) : ইংরেজীতে Shit Weather. বাংলা কি হবে এটার ?
৪. অছ্যুৎ বলাইয়ের পোস্ট , মুকুল ভাইয়ের পোস্ট
৫. ডয়েশে মান – জার্মানির অধিবাসী, আরবাইটসকলেগিন – সহকর্মি (স্ত্রীলিঙ্গ)
৬. ১৩ নভেম্বরের ব্লাটে এই ভিনদেশী কলেগিনের গল্প আরেকদিন হবে । শুভেচ্ছো জানানো সবার নাম এলো কিনা সেটা বুঝতে পারছি না । কারো নাম বাদ পড়ে থাকলে ক্ষমা করবেন ।)
৭. সাইক্লোন শেল্টারের ছবি বিবিসির ফ্লিকার এ্যাকাউন্ট থেকে নেয়া ।


মন্তব্য

হাসান মোরশেদ এর ছবি

মাত্র ক'মাসেই সচলায়তনে বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ন লেখা হয়েছে ।
হাসিবের এই সিরিজ তার মধ্যে অন্যতম নিঃসন্দেহে ।
আরো অনেকদিনপর এই সিরিজটা পড়লে,আজকের সময়ের অনেক খুঁটিনাটি খোঁজে পাওয়া যাবে ।

আমি এই সিরিজের মুগ্ধ পাঠক ।বোনাস হিসেবে জার্মান শব্দ ও কালচারের ছবি উপরি পাওনা ।
ধন্যবাদ হাসিব ।
-----------------------------------------
ভালো নেই,ভালো থাকার কিছু নেই

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

হাসিব এর ছবি

মন্তব্য পইড়া ভাল্লাগলো । আর কেউ না পড়লেও খিয়াল করছি আপনেরা দুই লন্ডনি ঠিকই রাইতের বেলা আইসা উকি দিয়া যান ।

হাসিব এর ছবি

হারামিগুলা এখনি হারামিই আছে শুনি ।

সৌরভ এর ছবি

আমার আসল নাম নাই। মন খারাপ


আবার লিখবো হয়তো কোন দিন

হাসিব এর ছবি

কি ছিলো কি হৈলো শেষ পন্ত ? স্যারেরা আকিকা স্পন্সর করছিলো ।

তীরন্দাজ এর ছবি

আমাদের এখানেও বরফ পড়ছে বেশ। মনে হয় আপনাদের উলম থেকে বেশীই পড়ে মিউনিখে। আলপস্ এর ।নেক কাছাকাছি আমরা।

হাসান মোর্শেদ বলেছেন আপনার লেখাটি সচলাতয়নের উল্লেখযোগ্য সংযোগ। কথাটি কতোটা যে সত্যি, তা আপনার প্রতিটি লেখাতে বার বার টের পাইয়ে দিচ্ছেন। ভাল থাকবেন!

**********************************
যাহা বলিব সত্য বলিব

**********************************
যাহা বলিব, সত্য বলিব

হাসিব এর ছবি

উলম জার্মানির শীতলতম এলাকার মধ্যে অন্যতম । অক্টোবরের ২১ তারিখ থেকে স্নোয়িং শুরু হয়েছে । ম্যুনশেনে গেলে গরম লাগে আমাদের হাসি

তীরন্দাজ এর ছবি

তাইলে তো আরো ভাল আমাদের জন্যে! এই শীতের জায়গায় থাকেন কেমনে?

তবে মিউনিখে গরমের সময়ে এলে তো গরম লাগবেই!

**********************************
যাহা বলিব সত্য বলিব

**********************************
যাহা বলিব, সত্য বলিব

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

ছবি কি পোস্ট করার চেষ্টা করেছিলেন কোন? এই পোস্টের মাঝখানে একটা লম্বা চিকন দাগ দেখি। যাউক, আপনের এই সিরিজ চলুক। বড়ই সুখপাঠ্য। বাংলাদেশ ভারত থেকে শুরু করে যদি নানা দেশ থেকে এরকম মজাদার সাপ্তাহিক ডায়েরী সিরিজ আসতো, দারুন হতো। তবে সবাই এতো সুন্দর করে গুছিয়ে লিখতে পারবে কিনা, সন্দেহ !
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

হাসিব এর ছবি

- ছবি প্রমাদ ধরিয়ে দেবার জন্য ধন্যবাদ । ডাইমেনশ সাইজে একটা স্পেশাল ক্যারেকটার ঢুকে বসে ছিলো ।
- আপনিও একটা সিরিজ লেখেন । আমি একসময়ে ভ্রমন কাহিনীর পোকা ছিলাম ।

দ্রোহী এর ছবি

বড় চমৎকার একটা সিরিজ হচ্ছে।


কি মাঝি? ডরাইলা?

হাসিব এর ছবি

বস, ইওরোপে থাকা লুকেরা কাহিনী লেখে । কিন্তু আমরিকার লুকেরা ফাকি মারে কিজন্য সেইটার কোন কারন জানেন ?

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

ইউরোপিয়ানরা আইলসা, সারাদিন কম্পুর সামনে বইসা থাকে। আমেরিকানরা করিৎকর্মা!
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

হিমু এর ছবি

আমেরিকার করিৎকর্মাদের উচিত সপ্তাহান্তে ফাটিয়ে একটা পোস্ট দেয়া। অ্যাতো কর্মের পর নিশ্চয়ই অনেক কিছু বলার মতো জমে যায়!


হাঁটুপানির জলদস্যু

অয়ন এর ছবি

কিছু এলাকার লোকজনকে রীতিমতো লাঠিপেটা করতে হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাবার জন্য । তবুও তারা যাননি অনেকেই । ভিটা মাটি ছেড়ে যেতে চাননা কেউ, কেউ ছোট বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে বের হতে চান না ।

ঝড়ের আগের রাত্রে এনটিভির খবরে বললো সুন্দরবনের কোন এক এলাকার মানুষ নাকি আশ্রয়কেন্দ্রে যাইতে আগ্রহী না, কারণ এইরকম সতর্কসংকেত তারা বহু দেখছে। আসলে একটা বড় ঝড়ের পর ১০-১৫ বছর লাগে সব ভূলতে । দেইখেন সামনের ১০ বছরে যত বড় ঝড় আসুক এইবারের মতো ক্ষতি আর হইবো না।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

জার্মানিবাসী ব্লগারদের জার্নালগুলোর মুগ্ধ ভক্ত আমি। চালিয়ে যান। ভীষন ব্যস্ত কিছুদিন ধরে, তাই দৌঁড়-ঝাঁপ দিয়ে পড়ে যাই লেখাগুলো। এই লেখাটা প্রথম পৃষ্ঠা থেকে সরার আগেই পড়বো বলেই আজকে পড়লাম, নাহলে মনে হয় না আদৌ সচলেই ঢুকা হত। অধমের নাম স্মরণের জন্য ধন্যবাদ। আসলেই এই সিরিজটা সচলায়তনের 'আইকন' সিরিজ গুলোর একটা। চলুক।

আর সব আমেরিকাবাসীর কথা জানি না, তবে আমি প্রায়ই এটা-সেটায় ডুবে গিয়ে অনেক লেখা অর্ধেক লিখে সটকে পড়ি। পরে আর আগের সেই জোশ খুঁজে পাওয়া যায় না। ঘটনা অনেকই ঘটে, শুধু লেখার ফুরসত মেলে না।

সিডরের জন্য টাকা তুলতে টি-শার্ট বিক্রি করার চিন্তা করছি। সিপিপি'র ছবিটার জন্য ধন্যবাদ। ওরকম একটা খণ্ড-মানচিত্র ব্যবহার করা যায় হয়তো। কারো কোন ক্রিয়েটিভ আইডিয়া থাকলে ভাল হত। তার আর খাম্বার ইঞ্জিনিয়ার তো, এসব মাথায় কুলায় না। খাইছে

আমার মায়ের খুব শখ ছিল ছেলের নামে মুহম্মদ লাগানোর। বিসিএস'এর কথা ভেবে বয়সও কমানোর খায়েশ ছিল। বাবার ধমকে দুইটাই রোধ করা গেছে। প্রথম যুক্তিঃ চোরের নামের আগেও মুহম্মদ থাকে, তাই বলে চোর কি নামের জোরেই শুধু বেহেশতে যাবে? খোদা নিশ্চয়ই এত বেকুব না! দ্বিতীয় যুক্তিঃ ছেলের জন্মপরিচয় নিয়ে কোন ঘাপলা রাখা যাবে না। বুড়োটা একটু তাড়াতাড়ি হই, কিন্তু আর যাই হোক 'মো' বলে ডাকে না কেউ। হাসি

আবারো ধন্যবাদ একটা ক্লান্তি-ভুলানো ভোখেনব্লাটের জন্য।

??? এর ছবি

নামের কারণেই কিনা, আগে হাসিবের লেখাটা পড়া হয়নি। এবার পড়লাম এবং ভাল লাগল। সবচে বড় পাওনা হল জার্মান শব্দগুলো... এইতো আজকে সকালেও আমি আমার এক জর্মন বন্ধুর মেইলের জবাব দিয়ে দিতে জার্মান-জ্ঞানের যে ডিসপ্লে দেখাইলাম তাতে নাকি হাইডেলবার্গে বৈসা সে ভীষণ টাসকি খাইছে! ধন্যবাদ হাসিব এবং অন্যান্য জর্মন-বাঙালদের।
..............................................................
শুশুকের ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সাঁতরে এসেছি কুমীরে-ভরা নদী!

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

নিয়মিত পড়ছি, ভালো লাগছে সপ্তাহের হালচাল।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।