প্রসঙ্গ ফেইসবুকঃ অনুভূতির বাণিজ্যে বসতি [আপডেট - ২]

হাসিব এর ছবি
লিখেছেন হাসিব (তারিখ: শনি, ২৯/০৫/২০১০ - ৯:৩০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

দেশে অনুভূতির বাণিজ্য সবসময়ই জমজমাট । বহুতরকম অন্যায় অনাচার চোখের সামনে ঘোরাঘুরি করতে থাকলেও কার ছবি কে আকলো, কার ছবি কে নামিয়ে ভাঙচুর করলো ইত্যাদি ইস্যুতে সরকার বাহাদুর সবসময়ই বেশ তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নেয় । ঢাকায় এখন জোর গুজব ফেইসবুক নিষিদ্ধ করা হয়েছে ।

এই নিষিদ্ধ করণ আকাশ থেকে পড়া কোন ঘটনার সূত্রে নয় । বেশ কিছুদিন ধরেই আমাদের অনুভূতিওয়ালাদের কেবলা পাকিস্তানে এই নিষিদ্ধকরণের জন্য আন্দোলন চলেছে এবং সেই দেশে কোর্ট আইন অনুযায়ী ফেইসবুক সেই দেশে আপাতত নিষিদ্ধও করেছে ।

হালের এই কার্টুন বিতর্কের শুরুটা জনপ্রিয় কার্টুন সিরিজ সাউথপার্ক থেকে । সাউথপার্কের এপিসোড ২০০ এবং ২০১-এ মোহাম্মদ নামে একটা চরিত্র থেকে এই বিতর্কে সূত্রপাত । কার্টুনের নির্মাতাদের হুমকি দেয়া হয় তাদের পরিণতি ডাচ ফিল্ম মেকার থিও ভ্যান গখের মতো হবে বলে । হুমকির মুখে সাউথপার্ক থেকে কিছু অংশ বাদ দেয়া হয় ।

তো এই ঘটনার প্রতিবাদে সিয়াটল ভিত্তিক কার্টুনিস্ট মরি নোরিস একটি কার্টুন আঁকেন "Everybody Draw Mohammed Day." নাম দিয়ে । এই কার্টুনকে ভিত্তি করে ফেইসবুকে একটি গ্রুপ খোলা হয় এবং সেখানে সবাইকে ২০মে ২০১০ তারিখে সবাইকে মোহাম্মদের কার্টুন আকার আহবান জানানো হয় ।

auto

তো এটা নিয়ে মুসলিমদের একটা অংশ ফেইসবুকে বেশ হৈচৈ করে । ২০শে মে ফেইসবুক বয়কটের ঘোষণা আসে । এর ফলশ্রুতিতে ফেইসবুক ঐ গ্রুপকে বাতিল করে দেয় । এবং এর জের ধরে পাকিস্তানের এক কোর্ট পাকিস্তানে ৩১শে মে পর্যন্ত ফেইসবুক নিষিদ্ধ করে । পাকিস্তানে সেখানেই থামেনি । ব্লাসফেমির অপরাধে উইকিপিডিয়া, ইউটিউবসহ ৪৫০টার মতো ওয়েবসাইট তারা ব্যান করে । [নিউজউইক রিপোর্ট]

এইসব ডামাডোলে বাংলাদেশের ফেইসবুক ইউজারদের খুব বেশী পীড়িত বোধ করতে দেখিনি । দৈনিক সংগ্রাম মারফত কিছু লাফঝাপই [][]দেখা গিয়েছিলো শুধু । একটু আত্মতৃপ্তিতেই ভুগছিলাম বলা চলে । তো এই আত্মতৃপ্তি বেশিদিন স্হায়ী করা যায়নি ।

আজ সকালে কয়েকজনের কাছে খোঁজ নিয়ে শুনি বাংলাদেশ থেকে ফেইসবুকে ঢোকা যাচ্ছে না । সরকার নিয়ন্ত্রিত বিটিসিএল এবং গ্রামীন ফোনের কানেকশন থেকে অন্তত এই খবরটা নিশ্চিত করা গেছে । ঠিক কি কারনে ফেইসবুক নিষিদ্ধ বা আদৌ এটা নিষিদ্ধ কিনা সেটা বিষয়ে এখনো কোন অফিসিয়াল ঘোষণা না এলেও এ সংক্রান্ত একটা খবর পত্রিকায় এসেছে । খবরটা হলো এরকম যে রডিন নামে এক ব্যক্তি ফেইসবুকে "রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিকৃত ছবি প্রকাশ" করে আসছিলো । এ অপরাধে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে । খবরের লিংক

বিখ্যাত ব্যক্তিদের "বিকৃত ছবি" (এটা আসলে কি জিনিস?) ফেইসবুক, এমনকি কাগুজে মিডিয়াতেও প্রকাশ নতুন ঘটনা না । দেশের কার্টুনিস্টরা যথেষ্ট রকমের "বিকৃত" করেই বিখ্যাত ও গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তিদের কার্টুন আঁকেন । এটা বুঝতে বেশী বেগ পেতে হয় না যে সরকার কিছু লোকের অনুভূতি রক্ষা করতেই একটা বলির পাঠা বেছে নিয়েছে । তর্কের খাতিরে এটা যদি মেনেও নেই যে কেউ একটা অপরাধ ফেইসবুকে করেছে, তবুও সেই একজনের অপরাধে পুরো পৃথিবীতে জনপ্রিয়তার বিচারে দ্বিতীয় সাইটকে ব্যান করা হালাল হয় না । বিমানবন্দরের নাম বদলের প্রভাব মিনিমাইজ করতে সরকার এক পীরের নামের আশ্রয় নিয়েছিলো । এখন ফেইসবুক ইস্যুতে তারা আশ্রয় নিলো আরেক নিন্মমানের অজুহাতে ।

আপডেট: ১ প্রথম আলো জানাচ্ছে -

জানতে চাইলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে—এমন কিছু কার্টুন ও ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করা হচ্ছিল। এসব কার্টুন যাতে প্রকাশ না হতে পারে, সে কারণে বিটিআরসি এর শাখা লিংকগুলো বন্ধ করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু তা করতে না পারায় সরাসরি ফেসবুকই সাময়িক বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবার কবে নাগাদ ফেসবুক চালু করা হবে, জানতে চাইলে জিয়া আহমেদ বলেন, শাখা লিংকগুলো বন্ধ করার পর ফেসবুক খুলে দেওয়া হবে।

বিডিনিউজের মারফত "রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিকৃত ছবি প্রকাশ" এর বদলে এখন নিশ্চিত হওয়া গেলো মূল কারন "ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে—এমন কিছু কার্টুন ও ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করা হচ্ছিল।"
পাকিস্তানের পথেই হাটলো শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ।

আপডেট - ২ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়া

১.

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক : "এমন হতেই পারে। যারা এটি ব্যবহার করেন তাদের আচরণ দায়িত্বশীল না হওয়ায় এরকম সমস্যা হয়েছে।" এধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে যারা কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা মর্যাদা ক্ষুণ� করে তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার তাগিদ দেন তিনি। সূত্র: বিডিনিউজ২৪

২.

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক এম লুৎফুল কবীর: "ফেইসবুকের কারণে কোনো গোষ্ঠী বা কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হলে বা সামাজিক সমস্যা হলে তা সরাসরি ফেইসবুক কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত যেন কর্তৃপক্ষ তাদের উল্লেখিত কনটেন্ট (বিষয়) সাইট থেকে সরিয়ে ফেলে। এরকম বন্ধ (ব্লক) করার বিষয়টি সাময়িকভাবে হতে পারে। তবে কোনোভাবেই তা স্থায়ী হওয়া শোভন নয়। সূত্র: বিডিনিউজ২৪

৩.

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, 'প্রথমত আমি ফেইসবুক ও ব্লগ বন্ধের পক্ষে না। কিন্তু আরেকটি বিষয় দেখতে হবে, সেটা হলো, স্বাধীনতার নামে যেভাবে এর অপব্যবহার হচ্ছে, সেটা জঘন্য অবস্থায় পেঁৗছেছে। কাউকে পছন্দ হলো না, তাকে হেয়প্রতিপন্ন করে যা ইচ্ছা তাই ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।' 'উলঙ্গ স্বাধীনতা চাই না' উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফেইসবুক একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকা উচিত। মোস্তাফা জব্বার নিজেও এর অপব্যবহারের শিকার বলে জানান।
সূত্র: কালের কন্ঠ

৪.

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, সম্প্রতি ফেইসবুকে বিভিন্ন ব্যক্তির উদ্দেশ্যমূলক, বিকৃত প্রচারণা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বুঝে-শুনে নিয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মতো স্পর্শকাতর বিষয় বাধাগ্রস্ত করতেও ফেইসবুক ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নিশ্চয় সরকার সাময়িকভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে আবার ফেইসবুক চালু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সূত্র: কালের কন্ঠ

৫.

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী কয়েক দিন আগে দাবি করেছিলেন ফেইসবুক বন্ধ করে দেওয়ার। গতকাল বন্ধ করার খবর শুনে তিনি বলেন, 'সরকার একটা ভালো কাজ করেছে। আমি খুশি।'
সূত্র: কালের কন্ঠ


মন্তব্য

টুটুল [অতিথি] এর ছবি

মাওলানা আমিনী'র দাবীতেই কি ফেসবুক বন্ধ হলো? পাকিস্তানের সাথে আমাদের কত্ত মিল!!!!!!

http://bikolpofacebook.ning.com/

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

ধুর্বাল। মুখটাই তিতা লাগতেছে। এই সরকারের বিচার হওয়া উচিত !!!
____________________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ !

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

অতিথি লেখক এর ছবি

দেশে মাথামোটা লোকের অভাব নাই, ক্ষমতায় যেই যাকনা কেন , মাথামোটা always মাথামোটা।

সবজান্তা এর ছবি

যাক... এই সরকার আমাদের হতাশ করছে না হাসি


অলমিতি বিস্তারেণ

কুলদা রায় এর ছবি

কোথাও কোনো আশা নাই। ধর্মের চেয়ে টুপি বেশি...। ব্লগার বন্দনা প্রশ্ন করেছেন, এই যদি হবে তাহলে নৌকায় ভোট দিলাম কেন?
...............................................................................................
এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর

...............................................................................................
'এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর'

হিমু এর ছবি

ফেসবুকে "Against Everybody Draw Mohammed Day" নামে একটা গ্রুপ আছে। সভ্য নিয়ম হওয়া উচিত ছিলো ঐ গ্রুপে জয়েন করে প্রতিবাদ জানানো। কিন্তু আলখাল্লায় পাছা আর টুপিতে মাথা ঢেকে লাঠি হাতে রাস্তায় নেমে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে যে কোনো দাবিই আদায় করে নেয়া সম্ভব।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, মোল্লারা ডেনমার্কের দূতাবাস বন্ধ করতে বলছে এইবারও। এরা মনে হয় পুরান লুপ থেকে বের হতে পারে নাই।

সরকার যদি হাসিনা খালেদার "বিকৃত" ছবি প্রকাশের দায়ে ফেসবুক বন্ধ করে, তাহলে ক্যারিকেচার প্রকাশের দায়ে দেশের তাবত প্রথম সারির দৈনিক বন্ধ করে দেয়া উচিত।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

সবজান্তা এর ছবি

একটু আগে খবরে দেখলাম, রডিন নামের যাকে গ্রেফতার করেছে, তার ল্যাপটপ থেকে এবং তার বাসায় প্রচুর জঙ্গি কনটেন্ট সমৃদ্ধ সিডি পাওয়া গেছে। এছাড়া তার দুই দুইটি পাসপোর্টও আছে।

যদি সত্যি জঙ্গী হয়ও, তবুও কি কিছু বন্ধ করার দরকার আছে ?

সত্যিকারের শিক্ষিত লোকজনের হাতে ক্ষমতা না থাকার এই হচ্ছে বিপদ !


অলমিতি বিস্তারেণ

অবাঞ্ছিত এর ছবি

দু:খের সাথে লক্ষ্য করেছি প্রতিবাদ রূপে এই ধরণের কিছু গ্রুপও গজিয়ে উঠেছে... যারা যারা আমাকে ইনভাইটেশন দিয়েছিলো সবাইকেই ব্লক করেছি... কিন্তু সেই সাথে প্রচণ্ড অবাকও হয়েছি।

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

পলাশ রঞ্জন সান্যাল [অতিথি] এর ছবি

স্বাভাবিকভাবেই এমন হয়। সুযোগটার ফায়দা লোটার চেষ্টা অনেকেই করবে।
পলাশ রঞ্জন সান্যাল

সু* এর ছবি

আমি তো মোবাইলে (জিপি) ফেসবুকে ঢুকতে পারছি :-/

হাসিব এর ছবি

মোবাইল সম্ভবত m.facebook.com এ্যাড্রেসে ব্যবহার করছে । ওটা ব্যান হয়নি এখনো পর্যন্ত ।

হাসিব এর ছবি

ফেইসবুকে একজন জানালেন https://www.facebook.com ব্যবহার করে নাকি বাংলাদেশ থেকে ব্রাউজ করা যাচ্ছে ।

অতিথি লেখক এর ছবি

মন্তব্য নিস্প্রয়োজন... হাজার মুক্তিযোদ্ধা কেঁদে মড়ে গেলেও বাঁচার অভিকার পায় না, আর একটা টুপি পড়া রাজাকার একটা লাফ দিলেই জাতির ভাগ্য পরিবর্তীত হয়ে যায়!

---থাবা বাবা!

তারানা_শব্দ এর ছবি

একদম মনের কথাগুলো লিখেছেন ভাইয়া!

সরকার শুধু কারণ খোঁজে... আর ভাবে দেশে আমজনতা গাধা-ছাগল হয়ে ঘাস চিবায়...কিছুই বুঝে না!!

পুরাই হাস্যকর ব্যাপার একটা।

কষ্ট সহজ,
বুকের ভেতর কষ্ট পোষা, সহজ না ...
স্পর্শ সহজ,
হৃদয় দিয়ে হৃদয় ছোঁয়া, সহজ না ...
দুঃখ সহজ, হত্যা সহজ, জীবন সহজ ...
শুদ্ধতম জীবনযাপন, সহজ না ...

হাসিব এর ছবি

এইমাত্র খবর পাওয়া গেলো দেশ থেকে মোবাইল ফেইসবুকের মাধ্যমে ফেইসবুক ব্রাইজ করা যাচ্ছে । এটা ছাড়া প্রক্সি সাইট (যেমন হাইডমাইএ্যাস.কম) দিয়ে ফেইসবুক ব্রাউজ করা যাবে ।

রণদীপম বসু এর ছবি

প্রক্সি দিয়েও ঢোকা যাচ্ছে না, না কি ইন্টারনেট স্পীড একেবারেই কমে গেছে বুঝতে পারছি না !

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

রায়হান আবীর এর ছবি

পাকিস্তানের ইয়ে চোষা কর্মসূচীর সফলতা কামনা করছি।

হাসিব এর ছবি

হ । কিছু লোক আছে যারা পাকিস্তানে বৃষ্টি হলে বাংলাদেশে ছাতা ধরে । ওদের সন্তুষ্ট করতেই এইসব কর্মকান্ড ।

লীন এর ছবি

হুম, এইটাও দেইখেন।

______________________________________
ভাষা উন্মুক্ত হবেই | লিনলিপি

জুনেব [অতিথি] এর ছবি

আমি প্রক্সি সাইট যেমন
www.ninjacloak.com
www.hidemyass.com use করতেছি । facebooke লগইন করার পর সিকিউরিটি চেকের জন্য ক্যাপচা দিতে বলে কিন্তু ক্যাপচার ছবি লোড হয় না ।
ক্রোম,ফায়ার ফক্স, IE সব use করলাম কিন্তু ক্যাপচার ছবি আর আসতেছে না । নিউ ক্যাপচা বা অডিও ক্যাপচা দিলেও কাজ হয় না । কি করা যায় কেও বলতে পারলে কৃতজ্ঞ থাকবো......

ফেসবুক বাদে অন্ন সব সাইটের ক্যাপচা ঠিকমতো কাজ করে।

হাসিব এর ছবি

এই সাইটটাতে বেশ কিছু লিংক আছে । ট্রাই করে দেখতে পারেন ।

রণদীপম বসু এর ছবি

আমারও তো একই অবস্থা ! পারছি না !

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

স্বাধীন এর ছবি

বাকরুদ্ধ! অদ্ভুত এই দেশের মানুষগুলো। সারা দুনি্যা সামনে এগোয় আর আমরা উল্টো পথে হাটি। হায়রে ডিজিটাল বাংলাদেশ!

এগুলো করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য সময় হবে কি?

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি কার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছিল তা বোধগম্য হচ্ছেনা। সরকারের অনুভূতি শেষ পর্যন্ত ধর্মীয় অনুভূতিতে রূপান্তরিত হবে তা ধারণা করেছিলাম।

প্রসঙ্গত: বিডিনিউজের খবরটা তুলে রাখছি।

ঢাকা, মে ২৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- একাধিক আইডি ব্যবহার করে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার ব্যাঙ্গাত্মক ছবি প্রকাশকারী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

মাহবুব আলম রডিন (২৩) নামের ওই যুবককে শনিবার ভোরে রাজধানীর ওয়ারির ৭/সি র‌্যাংকিন স্ট্রীটের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা গ্রেপ্তার করে।

এ সময় তার এ্যাপার্টমেন্ট থেকে দুটি ল্যাপটপ, দুটি পাসপোর্ট, অধর্শত পর্নো সিডি ও কিছু জেহাদি বই ও সিডি উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি।

তিনি বিভিন্ন নাম (একাধিক আইডি) ব্যবহার করে ফেসবুকে এসব ছবি প্রকাশ করতেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মো. সোহায়েল বিকালে র‌্যাব সদর দপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, "সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে স�প্রতি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিকৃত ছবি প্রকাশ করা হচ্ছিল। বিষয়টি তদন্তে র‌্যাব জানতে পারে, ধানমন্ডির ঠিকানার একটি ই মেইল ব্যবহার করে এসব ছবি আপলোড (প্রকাশ) করা হচ্ছে।"

সোহায়েল জানান, র‌্যাব ১০-এর সঙ্গে যৌথভাবে র‌্যাবের এন্টিসাইবার ক্রাইম টিম ওয়ারির র‌্যাংকিন স্ট্রীটে অভিযান চালিয়ে শনিবার ভোরে রডিনকে গ্রেপ্তার করে।

তিনি বলেন, "রডিন উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করেছেন। তিনি হ্যাকিংয়ে দক্ষ বলে আমাদের কাছে স্বীকার করেছেন। এছাড়া তিনি তার কয়েকজন বান্ধবীর পর্নো ছবি তুলে ইন্টারনেটে ছেড়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।"

সোহায়েল জানান, তিনি একাধিক আইডি ব্যবহার করে ফেসবুকে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতেন। তার আরো নামের মধ্যে আছে সিপাহী, বিগ্রেডিয়ার মাহাদী, সিপাহী মাহাদী, ইমাম হোসেন, রডিন আল, মোহাম্মদ আল মাহাদী ও জুনাইরা খোন্দকার জিহান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসআইটি/পিডি/২০৩৩ ঘ.

হাসিব এর ছবি

আধাঘন্টা চেষ্টা করে বিডিনিউজের লেটেস্ট খবরটা উদ্ধার করা গেলো ।

সেটাও এখানে তুলে রাখলাম ।

ফেইসবুক বন্ধ

Sat, May 29th, 2010 9:00 pm BdST

Dial 2000 from your GP mobile for latest news

ঢাকা, মে ২৯ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেইসবুক শনিবার বন্ধ (ব্লক) করেছে বাংলাদেশ সরকার।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (বিটিআরসি) প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বিপ্লব চাকমা রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "একটি চিঠির প্রেক্ষিতে ফেইসবুক বন্ধ করা হয়েছে।"

ওয়েবসাইটটি সাময়িরকভাবে বন্ধ (ব্লক) করা হয়েছে বলে রাত পৌনে ৯টার দিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান বিটিআরসি'র নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা।

চেকফেইসবুক.কম (পযবপশভধপবনড়ড়শ.পড়স) সাইটের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ফেইসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা আট লাখ ৭৬ হাজার ২০।

ফেইসবুক আবার কখন উন্মুক্ত করা হবে সে বিষয়ে আগামীকাল (রোববার) অফিসে যাওয়ার পর তথ্য দিতে পারবেন বলে জানান বিপ্লব।

চিঠিটি কোন্ কর্র্তৃপক্ষের তরফ থেকে এসেছে সে বিষয়ে কিছু জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি।

ফেইসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার ব্যাঙ্গাত্মক ছবি প্রকাশের অভিযোগে শনিবার ভোরে একজনকে গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা পর ওয়েবসাইটটি বন্ধ (ব্লক) করা হয়।

সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে ফেইসবুক খুলতে না পেরে বিভিন্ন স্থান থেকে টেলিফোন করে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান এর ব্যবহারকারীরা।

২০০৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ফেইসবুক। এর সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়।


হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্ক যুকেরবার্গ এবং তার সহপাঠী এদুয়ার্দো সাভেরিন, দুস্তিন মোস্কোভিৎয ও ক্রিস হিউজ এর প্রতিষ্ঠাতা। শুরুতে এতে শুধু হার্ভাডের শিক্ষার্থীরাই যুক্ত হতে পারতেন।

চেকফেইসবুক.কম (পযবপশভধপবনড়ড়শ.পড়স) সাইটের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের ১২ কোটি ৫৫ লাখ ৬০ হাজার চারশ ২০ জন সাইটটি ব্যবহার করেন। ব্যবহারকারীর হিসেবে এটি সর্বোচ্চ।

পাকিস্তান সিরিয়া, চীন, ভিয়েতনাম ও ইরানেও ওয়েবসাইটটি সাময়িক বন্ধের (ব্লক) শিকার হয়।

প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর ব্যাঙ্গাত্মক ছবি প্রকাশের অভিযোগে রাজধানীতে মাহবুব আলম রডিন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

ওই যুবকের বিরুদ্ধে একাধিক আইডি ব্যবহার করে নানা ধরনের সাইবার অপরাধ করার অভিযোগ করে র‌্যাব।

শুক্রবার কয়েকটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ফেইসবুক বন্ধের দাবি জানায়। দুপুরে মুক্তাঙ্গনে এক সমাবেশে এ দাবি জানানো দলগুলো হলো� ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট ও খেলাফত আন্দোলন।

এ দাবিতে দলগুলো ২৮ জুন হরতাল করারও ঘোষণা দেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ফেইসবুক বন্ধ করা বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "এমন হতেই পারে। যারা এটি ব্যবহার করেন তাদের আচরণ দায়িত্বশীল না হওয়ায় এরকম সমস্যা হয়েছে।"

এধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে যারা কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা মর্যাদা ক্ষুণ� করে তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার তাগিদ দেন তিনি।

ফেইসবুকের একজন ব্যবহারকারী বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক এম লুৎফুল কবীর।

ওয়েবসাইটটি বন্ধ করার প্রতিক্রিয়ায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, "ফেইসবুকের কারণে কোনো গোষ্ঠী বা কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হলে বা সামাজিক সমস্যা হলে তা সরাসরি ফেইসবুক কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত যেন কর্তৃপক্ষ তাদের উল্লেখিত কনটেন্ট (বিষয়) সাইট থেকে সরিয়ে ফেলে।"

তিনি বলেন, "এরকম বন্ধ (ব্লক) করার বিষয়টি সাময়িকভাবে হতে পারে। তবে কোনোভাবেই তা স্থায়ী হওয়া শোভন নয়।"

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

ঢাবির ভিসির বক্তব্য পড়ে তেমন অবাক হইনি। ধর্ম নয় বরং অন্য বিষয়ের ইঙ্গিত পাচ্ছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারটাও দ্রুত বিচারে আনলে কেমন হয়? নাকি বিশেষ সমস্যা আছে সেখানে?

সবজান্তা এর ছবি

এখানে খানিকটা অপ্রাসঙ্গিক কিন্তু বিডিনিউজের একটা হাস্যকর ভুল না উল্লেখ করে পারলাম না-

বিপ্লব চাকমা বিটিআরসি র কিছু না। উনি একমাত্র বেসরকারি ইন্টারনেট গেটওয়ে ম্যাঙ্গো টেলিসার্ভিসের চীফ টেকনিকাল অফিসার।

বিডিনিউজ মনের আনন্দে তাঁকে বিটিআরসির লোক বানিয়ে খবর ছেপে দিচ্ছে !


অলমিতি বিস্তারেণ

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

একবার এক দিগম্বর পাগলকে দেখেছিলাম মানুষ দেখলেই গামছায় মুখ লুকাচ্ছিল। শরীর নিয়ে চিন্তা নেই। আমাদের সরকারগুলোও সেরকম মুখ ঢাকা মিডিয়া নীতি নিয়ে বসে। সমস্ত শরীর দেখা যাচ্ছে অন লাইন মিডিয়ায়, আর মুখ ঢাকতে ফেসবুক আগ্রাসন। কে বোঝাবে এই ক্ষমতা কাঠামোর ক্ষীণবুদ্ধি নীতি নির্ধারকদের।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

পলাশ রঞ্জন সান্যাল [অতিথি] এর ছবি

চলুক

ফরিদ এর ছবি

আমি নিজে ফেসবুক ব্যবহারকারী নই, কিন্তু পদক্ষেপটি নিতান্তই ক্ষ্যাত হয়ে গেল।

আমি অবাক হচ্ছি যে স্পর্শকাতর ছবি প্রকাশকারী ফোন এবং ইন্টারনেট ব্যাবহার করে। অতএব কাল সকালে আমার মোবাইল কাজ করবে কিনা আর আমার ইমেল খুলবে কিনা চিন্তায় আছি

সিরাত এর ছবি

Amio besh smug feel kortesilam Pakistan aar Syria-r decision er por. Purai uira gelo aar ki... shudhu religion na, petty stupid politics-o, ebong shobcheye dukhkhojonok, thikmoto ban-o korte paare nai, ami matro status update korlam.

Ami limited freedom er ekti third world, semi-Islamic but Muslim Majority, feudalism-to-botched-democracy-transitioning ekta desher e nagorik. Er cheye higher plane er bhabnachinta illusion e. চোখ টিপি

But then again, illusion is the first of all pleasures.

তাসনীম এর ছবি

উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ বিরানায় ; মুক্তিযুদ্ধ,
হায়, বৃথা যায়, বৃথা যায়, বৃথা যায়।

আশির দশকে লিখেছিলেন শামসুর রাহমান, এখনো উট থেকে নামিনি আমরা, বরং এগিয়ে যাচ্ছি পাকিস্তানের দিকে বেশ দুরন্ত গতিতে।

++++++++++++++
ভাষা হোক উন্মুক্ত

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

অনিকেত এর ছবি

আমার দেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গর্ব করার অনেক বিষয় থাকলেও আমার সবচাইতে প্রিয় বিষয়টা হল--এই যুদ্ধ আমাদের বলেছিল, ধর্ম পৃথিবীর শেষ কথা নয়। মানুষের সাংস্কৃতিক বন্ধনের জোর ধর্মের চেয়েও শক্তিশালী। সাংস্কৃতিক ভাবে ভিন্ন দুইটি দেশ কে কেবল ধর্মের রশি দিয়ে বেঁধে রাখা সম্ভব নয়। আজ আমরা যে ধর্মান্ধতার পৃথিবীতে বাস করি---সেই পৃথিবীতে এইটা একটা আশার আলো হয়ে থাকার কথা। শুধু আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নয়, এরপরেও বার বার আমরা প্রমাণ করেছি আমাদের অন্তর্লীন যুথবদ্ধতা ধর্মের কাছে ঋণী নয়। আমাদের এক হয়ে থাকার মূল শক্তি আমাদের সংস্কৃতি।

এবারের নির্বাচনেও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিজয় আমাদের মনে অনেক নতুন আশার প্লাবন বইয়ে দিয়েছিল। তার উপর সরকারের 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' স্লোগান আমাদের মাঝে যারা এখনো দেশ নিয়ে নিরাময়াতীত রকমের আশাবাদী, তাদের সামনে নতুন একটা প্রাগ্রসর সমাজের ছবি তুলে ধরেছিল। স্বাভাবিক ভাবেই সেইটার অন্তর্নিহিত ফোকলা চরিত্রের প্রকাশ ঘটতেও বেশি দেরী হয় নি। প্রথমে ইউটিউব ব্যান করার মাধ্যমে সরকার হাত মকশো করল। তারপর আজকের এই ফেসবুক ব্যান। গোটা জিনিসটার মাঝে মন খারাপের নানান উপাদান থাকলেও আমার কাছে সবচাইতে আতংকের বিষয় হল একদা ঘৃণা ভরে ছুড়ে ফেলে দেয়া পাকির বাচ্চাদের ফেসবুক ব্যানের সাথে সাথে আমাদের এদিকেও ফেসবুক ব্যানের ঘটনার সাযুজ্য।

প্রতিদিন সকালে উঠে পত্রিকার পাতা খুললেই দেখি পাকিস্তানে বোমা হামলার খবর।না, কোন বহিঃশত্রুর আক্রমনে আক্রান্ত নয় ওরা। বরং ওরা নিজেরাই নিজেদের মৃত্যুদন্ড ঘোষনা করেছে। আজ দশজন, তো কাল ত্রিশজন স্রেফ উড়ে যায়,পুড়ে যায়, মরে যায়। এমন কোন দিন যায় না, যেদিন পাকির বাচ্চারা খবরের শিরোনামে আসে না।এবং শিরোনাম গুলো কোন সময়েই ভাল কোন কিছু নিয়ে নয়। আমার মনেই পড়ে না শেষ কবে পাকির বাচ্চাদের নিয়ে কোন ভাল কিছু পত্রিকার পাতায় দেখেছি।

এবং আমার কাছে কেন জানি এইটাই স্বাভাবিক মনে হয়। প্রতিদিন দেখি তাদের ওইখানে লাশের স্তুপ---আর আমার মনে হয়, এইটাই তো স্বাভাবিক, এইরকমই তো হবার কথা। আজ কেবল আমরা নয়---সারা বিশ্ব জানে এই পৃথিবীর মাঝে সবচাইতে নিকৃষ্টতম জাতি হল পাকির জাতি। তারা জাতিগত ভাবে কপট ভন্ড এবং ধর্মান্ধ।

আমি ধর্মে বিশ্বাসী নই। তাই বলে ধর্মের যে অল্প হলেও কিছু সামাজিক উপযোগিতা রয়েছে, সেইটা আমি অস্বীকার করি না। আমার নিজস্ব মত হল, আমরা যদি আমাদের ভেতরের দুর্বল অসুস্থ মানুষটাকে সারিয়ে ফেলতে পারি, আমাদের ধর্মের প্রয়োজন হবে না। মানুষকে শুধু বিশ্বাস আনতে হবে তার নিজের ক্ষমতার দিকে।

আমার স্বদেশ নানান ঘুর্ণিপাকে পড়েছে সময়ের আবর্তনে। সামাজিক, রাষ্ট্রিক এবং প্রাকৃতিক ঘুর্ণিপাক। আমার দেশের লোকরা লড়াই করে বাঁচতে জানে। একের পর এক নিশ্চিত মরণ এসে ঘুরে গেছে আমাদের নগরে,বন্দরে,পথে,প্রান্তরে। কিন্তু আমাদের হারাতে পারেনি।

আমরা যে অমিত বিক্রম নিয়ে প্রকৃতির দুর্যোগ মোকাবেলা করি, আমাদের সামাজিক দুর্যোগ কালে আমরা ততটা সফল নই। কিন্তু তাই বলে আমরা সম্পূর্ণ ব্যর্থও নই। আমাদের দেশেও মৌলবাদের উত্থান হয়েছে। কিন্তু এইটা আমাদের দেশ বলেই এখনো আমরা 'ওদের' জিততে দিই নি। একসময় বুটপরা লোক হেটেছে আমাদের দেশের সদর রাস্তা ধরে। কিন্তু আমরা জানিয়েছি---ওদের আসল জায়গা ব্যারাকে, এখানে নয়। আমাদের দেশ বলেই আমি মনে করি এইটা সম্ভব হয়েছে। বারবার আঘাত এসেছে। বার বার আমরা মরে যেতে যেতেও ঘুরে দাঁড়িয়েছি।

এইখানেই আমরা পৃথক হয়ে দাঁড়াই পাকির বাচ্চাদের কাছ থেকে।

দাঁড়ি-জোব্বা-আলখেল্লা-সুরমা পরা কিছু লোক অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখে একবিংশ শতাব্দীতে ফিনিক্সের উত্থান!

আমাদের খারাপ দিন যায়।
সত্যি।
কিন্তু সেই সাথে এইটাও সত্যি, আমাদের ভাল দিনও আসে।

তার কারণ, শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের জাত চেনাতে পারি। যতই আমাদের গায়ে কালিঝুলি এসে পড়ুক, দিনের শেষে আকাশে যে ফিনিক্সের দল পাখা মেলে---সে তো আমরাই।

তাই আমি আশা ছাড়ি না। মাঝে মাঝে এইরকম কিছু আশাভঙ্গের দিন আসে। আসবে।

কিন্তু সেই সব দিনে আমি মন খারাপ করে থাকিনা বেশিক্ষণের জন্যে। কারণ আমি জানি এইসব দিনই আমাদের ভেতরের আগুন-পাখিটা কে বের করে নিয়ে আসে--যেমন করেছিল ১৯৫২ তে, ১৯৭১ এ, এমনকি ১৯৯০ এ।

আমি ফিনিক্সের ডানা মেলার অপেক্ষায় আছি---!!!

হাসিব এর ছবি

পাকিস্তান থেকে আমাদের অবস্থা আরো একটু ভালো । পাকিস্তানে ফেইসবুক ব্যান করার পর আমার পাকিস্তানি কলিগ পরিচিত ইত্যাদির ফেইসবুক স্ট্যাটাসে শুধু আলহামদুলিল্লাহ, জাঝাকাল্লাহ ইত্যাদি দেখছি । সাধারণ ফেইসবুক ব্যবহারকারিরা বাঙ্গালিরা এতো নিচে নামে নাই ।

পলাশ রঞ্জন সান্যাল [অতিথি] এর ছবি

আমার দেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গর্ব করার অনেক বিষয় থাকলেও আমার সবচাইতে প্রিয় বিষয়টা হল--এই যুদ্ধ আমাদের বলেছিল, ধর্ম পৃথিবীর শেষ কথা নয়।

এবং

আমি ধর্মে বিশ্বাসী নই। তাই বলে ধর্মের যে অল্প হলেও কিছু সামাজিক উপযোগিতা রয়েছে, সেইটা আমি অস্বীকার করি না। আমার নিজস্ব মত হল, আমরা যদি আমাদের ভেতরের দুর্বল অসুস্থ মানুষটাকে সারিয়ে ফেলতে পারি, আমাদের ধর্মের প্রয়োজন হবে না। মানুষকে শুধু বিশ্বাস আনতে হবে তার নিজের ক্ষমতার দিকে।

ভাইয়া, একদম খাঁটি কথা বলেছেন।
পরের উক্তিটা এরকম যেটা , আমি অনেকদিন ধরে বিশ্বাস করি কিন্তু বলে বোঝাতে পারি না,এমন এক উক্তি।

হিমু এর ছবি
শিমুল এর ছবি

মজার ব্যাপার হলো, আমি বাংলাদেশে বসে ফেইবুকেই পড়ছি ফেসবুক বন্ধ করা সংক্রান্ত খবরাখবর।

কেমনে স্ক্বণশট দিতে হয় জানিনা! তবে http://www.facebook.com/ এই এড্রেসে নিশ্চিতে ফেইসবুকে ঢুকতে পারছি।

কেম্নে কি কিছুই বুঝতেছিনা!

রায়হান আবীর এর ছবি

http://www.unblockworld.com/

এইটা দিয়ে বেশ ভালো কাজ করা যায়। কোন এড ফ্যাড নাই।

রণদীপম বসু এর ছবি

হাঁ আবীর, পড়া যাচ্ছে ঠিকই, তবে কিছু পোস্ট করা বা লেখা যাচ্ছে না। মন্তব্যও করা যাচ্ছে না। পছন্দও জানানো যাচ্ছে না।

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

অর্ক [অতিথি] এর ছবি

সরকারের এই বালসুলভ কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাই :/ কিন্তু আমার ফেসবুক ব্যবহার করতে একদমই সমস্যা হচ্ছে না !! প্রক্সি সাইট আমার ক্ষেত্রে একটিও কাজ করে নি তবে [url] http://www.mediafire.com/?oqn02il5imm[/url] (নামানোর পর জিপ ফাইলটা খুলে প্রোগ্রামটা রান করার আগে readme টা পড়ে নিলে সুবিধা হবে) এটার কল্যাণে এখন আরামসে ফেসবুকে ঢুকতে পারছি দেঁতো হাসি । সরকারের এই বালসুলভ কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাই :/

রণদীপম বসু এর ছবি

এই প্রক্রিয়ায় ঢুকে ফেসবুকে কি কিছু লেখা যাচ্ছে ?

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আলু পেপারে এই পর্যন্ত প্রকাশিত মোটামুটি অনেকগুলো ব্যঙ্গচিত্র (কার্টুন) রাখা আছে আর্কাইভ করে। তার মধ্যে দুই নেত্রী (ব্যানের প্রাথমিক খবরে কারণ হিসেবে যা উল্লেখ করা হয়েছিলো) সিরিজের কার্টুনগুলো দেখলাম। কার্টুন যদি কার্টুনের মতো 'বিকৃত' না হয় তাহলে তো আর সেটা কার্টুন হবে কেমন করে! সেটা তো হয়ে যাওয়ার কথা 'হাই-ডেফিনিশন স্টিল ইমেজ'।

তো এখন থেকে সব পত্রিকা, রাস্তার ধারের পোস্টারের দোকান, এমনকি নির্বাচনের সময় নেতা-নেত্রীদের বিশাল ছবি সম্বলিত পোস্টার-ব্যানার, সবকিছুতেই থাউজেন্ড এইটি পি'তে ছবি তুলে সেটা ব্যবহার করা হবে? এর বাইরে, যেকোনো কিছুই তো "বিকৃত" হয়ে যেতে পারে! চিন্তিত
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

হাসিব এর ছবি

ধুগা, বিষয় নেতা নেত্রীদের কার্টুন নিয়ে না । আপডেট ১, ২ মন দিয়া পড় আবার ।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- হ। দেখছি। আমিনীরা অনেকদিন ধইরা কোনো ইস্যু পাইতাছিলো না হাদুমপাদুম করার। এতোদিনে তাও একটা ইস্যু পাওয়া গেলো আরকি! এদের একেকটা ইস্যুতে বিক্ষোভ মিছিল, গলা ফাটায়ে চিক্কুর পারাকে নেত্রকোনাবাসীর "ম্যারাডোনারে কাপ ফিরায়ে দ্যাও, দিতে হবে" মিছিলের অনুরূপই মনে হয়। ইরাকে-আফগানিস্তানে আগ্রাসন হলে, সেখানকার সাধারণ জনগণ না খেতে পেয়ে মরলে এরা পল্টনে মাইক ফাটায়। তারপর বাড়ি গিয়া মুরগির ঠ্যাঙে যত্ন করে কামড় দেয়।

আমিনীরে আমি আমার খোমাখাতায় বন্ধু হিসাবে এ্যাডামু। কিন্তু যদি এই মিয়ার খোমাখাতায় প্রোফাইলই না থাকে, তাইলে কেমনে কী? কী দেইখা, কি শুইনা, কী লইয়া এই মিয়া মিছিলে নেতৃত্ব দিতাছে? নিজে রংপুরের মানুষ হইলে বলতাম, "আজনীতিরে ভাই, আজনীতি!"

আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং বুয়েটের শিক্ষকের বক্তব্যে মনেহয় না আশ্চর্যের কিছু আছে। এরাই তো লাল-নীল-সাদা-কমলা-বেগুনী দলরে সমর্থন করে। সুতরাং, সব রসুনেরই তো উৎস এক।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

হাসিব এর ছবি

কিন্তু যদি এই মিয়ার খোমাখাতায় প্রোফাইলই না থাকে, তাইলে কেমনে কী? কী দেইখা, কি শুইনা, কী লইয়া এই মিয়া মিছিলে নেতৃত্ব দিতাছে?

কাগুরা তো ফেইসবুক থিকা নিউজ পায় না । পায় ফোন থিকা । পাক স্তানের ফোন ।
তসলিমা নাসরিন ইস্যু নিয়া যখন বায়তুল মুকাররমের খতিব হাদুম পাদুম করতো তখন তারে জিগানো হৈছিলো সে তসলিমা নাসরিন পড়ছে কিনা । হ্যায় স্বীকার গেছিলো যে পড়ে নাই । এই একই কাহিনী এইখানেও । কেউ কিছু করার আগেই পুরা ফেইসবুক ব্যান !

শাহেনশাহ সিমন [অতিথি] এর ছবি

আগুন নেভার আগে জ্বলে ওঠে। বিটিআরসি-ও তেমনি; প্রশাসনিক (regulatory) ক্ষমতা হারানোর আগে দেখিয়ে দেয়া, দ্যাখো, আমারে দিয়ে বিশাল বিশাল আঁটি বান্ধানো যায়।

nasrin siraj এর ছবি

এই সরকার আমাদের হতাশ করছে না। হাসি

benami এর ছবি

i think govt has taken the correct measure. there has to be a limit of freedom of speech also. it should not attack someone's sentiment. বাক্ স্বাধীনতার মানে এই না যে আমরা যে কাউকে গালি দেবার অধিকার পেয়ে যাই।

হাসিব এর ছবি

কোথায় ও কিজন্য লিমিটটা ক্রস হৈছে ? কোন স্যাম্পল দিতে পারবেন ? আমরাও অনুভূতিওয়ালাদের সাথে যোগ দিতে পারি কিনা সেইটা ভাইবা দেখতে পারতাম তাহলে ।

হিমু এর ছবি

আপনি এই সুন্দর কথাটা নিজের নামে বলার সাহস পাচ্ছেন না দেখে অবাক হলাম।

অবশ্যই, কারো সেন্টিমেন্টে আঘাত করে কথা বলাটা শোভন নয়। কিন্তু যে বলে, তার শিরচ্ছেদ করতে চাওয়াটাও শোভন না। যে ইস্যুতে মোল্লারা চিল্লাচ্ছে, সে ইস্যুর আপডেট কি কেউ রাখছে? ফেসবুকের যে গ্রুপটার কথা বলা হচ্ছে, সেটা ফেসবুকই সরিয়ে দিয়েছে, ফেসবুক খুঁজেও ওটার লিঙ্ক পাবে না কেউ। কর্তৃপক্ষ যে বলছে, তারা শাখা লিঙ্ক বন্ধের চেষ্টায় আছে, এই শাখা লিঙ্কটি এখন আদৌ সক্রিয় কি না, সেটা কি কেউ খতিয়ে দেখেছে? দেখেনি।

ফেসবুকে আলোচ্য গ্রুপটি খোলার প্রতিবাদে আরেকটা গ্রুপ খোলা হয়েছে। যারা এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করতে চায়, তারা ঐ গ্রুপে জয়েন করে আলোচ্য গ্রুপটাকে রিপোর্ট করলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। কিংবা মুমিন মুসলমানরা ফেসবুক বর্জন করলেই পারে। একটা নিকাব-বুক সাইট ডেভেলপ করা হোক, যেটা শরীয়া মোতাবেক চলবে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমার সেন্টিমেন্টে আঘাত করে অনেক কথা বলেছে। আমি দেখতে চাই, বাংলাদেশের সরকার আমার জাতীয় অনুভূতিতে আঘাত করা এই পাকিস্তান রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। নাকি আমার সেন্টিমেন্টের দাম নাই আর কতগুলি মূর্খ মোল্লার সেন্টিমেন্টেরই কেবল দাম আছে?

কর্তৃপক্ষ প্রমাণ করলো যে বানরের হাতে খন্তা খুব একটা শোভন টুল না।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

অপরাজিতা [অতিথি] এর ছবি

"একটা নিকাব-বুক সাইট ডেভেলপ করা হোক"

হিমু ভাই
আমার পাকিস্তানি এক ল্যাবমেট আমাকে কয়েকদিন আগে
http://www.millatfacebook.com/
এইখানে জয়েন রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিল। হিহিহিহিহিহ

জি.এম.তানিম এর ছবি

এইটাও ব্লকড।
-----------------------------------------------------------------
কাচের জগে, বালতি-মগে, চায়ের কাপে ছাই,
অন্ধকারে ভূতের কোরাস, “মুন্ডু কেটে খাই” ।

-----------------------------------------------------------------
কাচের জগে, বালতি-মগে, চায়ের কাপে ছাই,
অন্ধকারে ভূতের কোরাস, “মুন্ডু কেটে খাই” ।

হাসিব এর ছবি

চলেন আমরা একটা হালাল ফেইসবুক খুলি । কিন্তু বুক শব্দটা কি শরীয়তসম্মত হয় ?

পলাশ রঞ্জন সান্যাল [অতিথি] এর ছবি

হো হো হো হো হো হো
আপন একটা পিস বটে ভাই।

পলাশ রঞ্জন সান্যাল [অতিথি] এর ছবি

হো হো হো হো হো হো
আপনে একটা পিস বটে ভাই।

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

পাকিস্তানে মানুষজন এই ইস্যুতে রাস্তায় নেমেছে, কিন্তু বাংলাদেশে তো এইটা গণ দাবী ছিল না। সরকার কি বাংলাদেশের জনগনের কথা শুনছে? নাকি পাকিস্তানের পীর ফকিরের কথা শুনছে? এইসব হইতেছেটা কি?

ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকারেরা এই ব্যাপারে কি বলেন?

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

আন্দাজ করতে পারি, আমিনীরা আন্দোলনের ভয় দেখিয়েছে।

মনে রাখতে হবে, সকল পলিটিক্যাল পার্টি জনগণের নিকট জামাত সমতুল্য শত্রু । এই ব্যাপারটা আমরা বারবার ভুলে যাই দেখে আমরা আহত হই।

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

বহুকাল পুর্বেই বিভিন্ন জাতি ছাগল/পাঁঠা ইত্যাদি দিয়া হাল চাষ করিবার চেষ্টায় ক্ষান্ত দিয়াছে কিন্তু নিতান্তই পরিতাপের বিষয় যে বাঙ্গালি এখনও সেই চেষ্টা চালাইয়াই যাইতেছে। ঐসকল ছাগল/পাঁঠাবৃন্দ আবার ধর্মের কথা বলিলেই নিজেদের অন্ডকোষে ঈষৎ 'চাপ' অনুভব করে ... উক্ত পাঁঠাবৃন্দের উন্নত চাষ-বাসের গ্যাঁড়াকলে পরিয়া অত্যন্ত ফাঁপরে আছি ... ... ... ... তাহাদের নিকট আমার অত্যন্ত বিনীত জিজ্ঞাসা - "হালার পো আবাল, ফেসবুক তোর কার কুনদিক দিয়া কি দিছিলো???"

===============================================
ভাষা হোক উন্মুক্ত

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

ইন্টারনেট প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে। তাই ফাঁক ফোঁকড় দিয়ে একজন দুজন এক্সেস করলেও করতে পারেন। সচলায়তন ব্যানের সময় বার বার এই ব্যাপারটা ঘটছিল। সুতরাং শতকরা ১০০ ভাগ যেমন ব্লক করা সম্ভব না তেমনি শতকরা ১০০ ভাগ কনফার্ম করা সম্ভব না।

এক্ষেত্রে আসল ব্যাপার হল বিভিন্ন অথরিটি এটা কনফার্ম করেছে।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

মশাল [অতিথি] এর ছবি

"tor" রে ব্যাপক ভালো পাইছি...
ফেসবুক বন্ধ করবে.........মুহাহাহাহা...

অতিথি লেখক এর ছবি

ব্যাপারটা চরম ক্ষ্যাত হয়েছে।আমরা যারা প্রিয়জনের সাথে যোগাযোগের জন্যে ফেইসবুক ব্যাবহার করি তাদের জন্যে খারাপ হয়ে গেল, এই আর কি!

ব্যান করে লাভের লাভ যা হবে তা হলো যে কারনে ব্যান করা হয়েছে সেই লিঙ্কগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ হিট পড়বে এবার! এই প্রসঙ্গে বিডিআর মিউটিনির সময় "ইউটিউব" বন্ধ করে দেবার কথা মনে পড়ে গেল! শেখ হাসিনাকে আর্মির লোকজন যেভাবে নাস্তানাবুদ করেছিল সেই কথাও মনে পড়ে গেল!

আফসোস, ওরা কিছুই শিখলোনা!!

------------------------------------
কানাভূত

কুলদা রায় এর ছবি

১৯৭১ সালের পরে রাজনীতি থেকে আদর্শ ফাদর্শ উঠে গেছে। শুধু লুটেরা প্রতারক আমাদের মাথার উপরে ছড়ি ঘোরাচ্ছে। কে কতটা কার চেয়ে প্রতারণায় অগ্রগামী--তার প্রতিযোগিতাই দেখতে হচ্ছে।
বিস্ময়কর হল--নতুন প্রজন্মকেও ভরসা করতে পারছে না। নতুন প্রজন্ম কি ভরসা করবে?
...............................................................................................
এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর

...............................................................................................
'এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর'

লীন এর ছবি

কালের কণ্ঠের আজকের সংখ্যাতে 'ফেইসবুক বন্ধ' শিরোনামে একটি লেখা আছে।

______________________________________
ভাষা উন্মুক্ত হবেই | লিনলিপি

হাসিব এর ছবি

এই নিয়ন্ত্রনবাদিদের হাত থেকে সাবধান থাকতে হবে । নিজের পছন্দমতো দুনিয়া চলবে না এটা তাদের বুঝতে হবে ।

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

পাকি বরাহদের আলাপগুলো খেয়াল করে দেখতে পারেন।

হাসিব এর ছবি

কিছুক্ষন তব্ধা খেয়ে বসে থাকলাম ওগুলো পড়ে ।

অতিথি লেখক এর ছবি

অন্তত সরকারী ভার্সিটির (শিক্ষক-শিক্ষার্থী) মানুষ গুলো যদি সৎ আর বুদ্ধিমান হতো, তাহলে হয়তোবা এই দেশটা এতোদিনে পৃথিবীর সেরা দেশের একটা হতো...

''চৈত্রী''

দ্রোহী-স্বপ্নেরা এর ছবি

একি মন্তব্য মাহবুব ভাই এর লেখাতেও করলাম।কিন্তু আপনার লেখাটাতে আমার কথা গুলোই খুঁজে পেলাম বলে এখানেও কপি করলাম।
...।।...।।......।।...।।...।।...।।...।।...।...।।...।।...।।...।।...।।...।।...।।...।।...।...।।

আসলে এই ব্যান এর পিছনে দুইটা কারণ দেখলাম। এক- কার্টুন আর দুই-শুক্রবারের জমায়েত থেকে ২৮ জুন হরতাল (২৭ জুন এর পর আসে ২৮ জুন)। আমার ধারণা ২য় টাই মূখ্য। ৮ লাখ ফেসবুকার এর চাইতে ৮ হাজার জেহাদি প্রাণ অনেক বেশি কঠিন। আমরা শুধু নেটেই চিৎকার করবো আর হয়তো ৩ বছর পর একদিন 'না' ভোট দেবো। আর এরা থাকবে সারা বছর। বাংলাদেশ এ আগেও কার্টুনিষ্ট ধরা পড়েছে,প্রথম আলোকে মাপও চাইতে হয়েছিলো। হাসিনা-খালেদা কে নিয়ে প্রতিদিন পেপার এ কার্টুন ছাপা হয়।সে হিসেবে শিশির ভট্টাচার্যকে সবার আগে ধরার কথা। আমি রডিন নামক লোকটাকে শিশির এর সাথে তুলনা করছি না। শুধু বলতে চাইছি এই লোকটাকে আই ওয়াশ হিসেবে ব্যবহার করা হলো।রাজার চাইতে মহারাজার ছবি নিয়ে আঁকাআঁকি টাই গুপ্ত কারণ।

আসলে মাথামোটা সব সরকার পুরোনো তরিকাতেই চলে। কারণ সরকার পরিবর্তন হলেও বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ তো রয়েই যায়। ১/১১ এর সময়ে যারা সচলায়তন ব্যান করেছিলো তারা কি আর হারিয়ে গেছে নাকি? সরকারকে বলছে "দেখুন আপা, ফেসবুক এ হীযবুত তাহরীর এর প্রচারণা, দেখুন ধর্মের অবমাননা, দেখুন মেয়েদের ছবি নিয়ে ছিনিমিনি"- আপার এতো সময় কোথা এতো কিছু নিয়ে মাথা ঘামানোর? সবকিছুর উৎসমুখ, ওই ফেসবুক-দাও তবে বন্ধ করে।"

অপ্রাসংগিক হলেও বলি- যতদিন পর্যন্ত আমাদের টিভি মিডিয়ায় মারজুক রাসেল (ব্যক্তি মারজুক নয়,বরং উনার অভিনীত চরিত্র)এর মত চরিত্র গুলো নায়ক রূপে আবির্ভূত হবে তদ্দিন কান ধরে উঠ বস করিয়েও ইভ-টিজিং বন্ধ হবে না।

বিঃদ্রঃ প্রচারণার দারুণ মাধ্যম হিসেবে শিবির আর হীযবুত তাহরীর এর ফেসবুক ব্যবহার দেখে আমারও একসময় মনে হয়েছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ এর সুবিধা এরাই নিচ্ছে বেশি । কারণ ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে আমরা তো শুধু ফেসবক ব্যবহার ই বুঝি- তাই না চোখ টিপি

ও ভালো কথা, সরকারি এই চুলকানির অব্যর্থ ওষুধ হিসেবে এসে গেছে মিল্লাত ঘামাচি পাঊডার (millatfacebook.com)... ব্যবহার করেই দেখুন।

হাসিব এর ছবি

আইওয়াশের কথাটা আমি পোস্টেই বলেছি । একটা স্কেপগোট দরকার ছিলো সরকারের । যার কাঁধে ভর করে তারা সাপ ও লাঠি একসাথে রক্ষা করতে চাচ্ছিলেন ।

আর ধর্ম একটা হিডেন অথবা প্রকাশ্য ইস্যু হিসেবে সব দলগুলোই ব্যবহার করে । এবং এই ইস্যুতে কেউ নিজের গায়ে "ময়লা" লাগাতে চায় না । আওয়ামী লীগ সরকার মুখে যতোই ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদির কথা বলুক না তারা শেষমেষ ঐ "অনুভূতির" বলি হয় ।

অতিথি লেখক এর ছবি

"আওয়ামী লীগ সরকার মুখে যতোই ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদির কথা বলুক না তারা শেষমেষ ঐ "অনুভূতির" বলি হয় ।"
আমার মনে হয় সরকার এখানে বলি হয় নাই। বরং অত্যন্ত সফলভাবে এই ইস্যুটাকে ব্যবহার করতে পেরেছে।
তার্কিক

অতিথি লেখক এর ছবি

ধুর্‌, ভাল লাগছে না, অস্থির অস্থির লাগতেছে!
--শফকত

মামুন হক এর ছবি

শুরুতে বিষয়টার ভয়াবহতা বুঝতে পারিনি। আজ বিকালে এক বিদেশি বন্ধুর সাথে দেখা হলে তার প্রথম কথাটাই ছিল পাকিস্তানের পরপরই বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যান হওয়া নিয়ে। তার মানে পাকিস্তানের সাথে আমাদের নীতিনির্ধারকদের চিন্তা-ভাবনার মিলের কথাটা আন্তর্জাতিক মহলেও দ্রুত ছড়িয়ে যাচ্ছে। আমার কাছে এটাকেই দেশের ভাবমূর্তির জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর মনে হয়। অন্তত পাকিস্তানের সাথে এক কাতারের দাঁড়াতে আমাদের বাপ-চাচারা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেননি।

তবে যদ্দুর শুনেছি ব্যান করাটা সাময়িক, আশাকরি সরকার অতিদ্রুত তাদের সিদ্ধান্ত বদলাবেন।

জুনেব [অতিথি] এর ছবি

উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ বিরানায় ; মুক্তিযুদ্ধ,
হায়, বৃথা যায়, বৃথা যায়, বৃথা যায়।

সহমত
আর রণদীপম দা আপনার মত সমস্যা আমারো হচ্ছিল তবে hotspotshield http://search.hotspotshield.com/land/results.php?adtype=true&afhss=hss4&cnl=HSSCNL000238&tag=HSSHIELD00BD&sip=1145334788&afd=9b3d14f8_1275219517&q=horspot+shield ব্যবহার করেন কোন প্রবলেম করবে না । এইটা অনেকটা নতুন একটা কানেকশনের মতো । আর নেটও স্লো হবে না ।

রণদীপম বসু এর ছবি

আপনি কি এইটার কথা বলছেন ? এটা কি কোন ব্রাউজার ? ঠিক বুঝতে পারছি না।
আরেকটু ক্লিয়ার হতে চাচ্ছি। এটা দিয়ে লগইন করা যাবে তো ? আসলে এ ব্যাপারে অনভিজ্ঞ আমাকে ভুল বুঝবেন না।

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

অতিথি লেখক এর ছবি

ফায়ারফক্সে torbutton ব্যবহার করে ফেসবুকে ঢুকলাম, কোন সমস্যা হচ্ছে না, তবে স্পিড তুলনামুলক ভাবে কম পাচ্ছি। বেশীর ভাগ বন্ধুরা ফেসবুক ব্যবহার করতে পারছে না, তাই ফেসবুকে যেয়ে এখন খুব একটা মজা পাওয়া যাচ্ছে না। যতক্ষণ না সবাই সমানভাবে ব্যবহার করতে পারছে, ততক্ষণ কোন মজা নাই।


ছেড়া পাতা
ishumia@gmail.com

জুনেব [অতিথি] এর ছবি

রণদা আমি এইটার কথাই বলেছিলাম।
প্রথমে আপনার নেট কানেক্ট করে hotspotshild চালু করুন ।তখন hotspot আবার নিজেনিজে ডায়াল হয়ে আপনার পিসি কে নতুন একটা ভিনদেশী ip assign করবে।
তারপর আপনি যে কোন ব্রাউজার দিয়ে ঢুকতে পারবেন ফেসবুকে । আমি নিজে একসাথে google chrome আর mozilla firefox দিয়ে একসাথে ঢুকেছি ।তবে chrome সবচেয়ে ফার্স্ট কাজ করবে । আশা করি কাজে লাগবে ।

সিরাত এর ছবি

এটা যদি শুধু ধর্মীয় উদ্দেশ্যেই হতো, তাহলে তো কেবল মলি নরিসের পেজটাই ব্লক করে দেয়া যেতো, যেমন সৌদি আরব করেছে (দেখুন এখানে)। তাহলে বাকিটা কি ব্লক করা হল রাজনৈতিক কারণে?

হাসিব এর ছবি

সিরাত, আগে রাজনীতি, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক ইস্যু কথাগুলোর মানে বুঝতে চেষ্টা করেন । বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ধর্ম ও রাজনীতি দু'টো মিউচুয়ালি এক্সক্লুসিভ কোন বিষয় না । কিছু সংখ্যক লোকের ধর্ম রাজনীতিতে ভূমিকা রেখে ফেইসবুক বন্ধ করা হয়েছে এটা মোটামুটি পরিস্কার । সরকারে এই ফেইসবুক বন্ধ করাটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ।

অনুপ [অতিথি] এর ছবি

আপনার কেউ কি আইনের আশ্রয় নেবেন?

যে বেচারা কে ধরেছে র‌্যাব, র‌্যাব এর কাছে প্রশ্ন ১মআলু কে ধরলে না কেন?
কেন ফেসবুকে আপলোড করলেই ধরা হল?

আর এটা কি পাকিস্থান?
যেখানে প্রতি শুক্র বার বোমা হমলায় মানুষ মরে?

কিছু করতে হবে বসে থাকলে চলবে না। বসে থাকতে থাকতে আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে।

পৃথিবী [অতিথি] এর ছবি

আমি মনে করি পুরো আন্তঃর্জালই ব্লক করে দেওয়া উচিত, নইলে ধর্মানুভূতির মত এহেন অবলা একটা অনুভূতি আন্তঃর্জালিক সংস্কৃতির কাছে চিরকাল রক্তাক্ত হতে থাকবে।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA