যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে কিছু কথা এবং সেগুলোর প্রত্যুত্তর

হিমু এর ছবি
লিখেছেন হিমু (তারিখ: বুধ, ০৬/০১/২০১০ - ১১:৩৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:


২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর সদ্য ক্ষমতায় আগত মহাজোট সরকারের মুখে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গ কয়েক ডেসিবেল নিচে নেমে বাজতে থাকে। এ কথা খুব দূর অতীতের নয় যে মহাজোট যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের জনগণকে দিয়ে বিপুল ভোটে জিতে সরকার গঠন করেছে। ক্ষমতায় আসতে না আসতেই সেনাবাহিনীর ৫৭ জন অফিসার [মেজর জেনারেল থেকে শুরু করে ক্যাপ্টেন পর্যন্ত]সহ ৭৪ জনের মৃত্যু এবং পিলখানায় বিডিআর সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত অন্যান্য অপরাধ সরকারের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করে। কোনো সন্দেহ ছাড়াই বলা যায়, এ হত্যাযজ্ঞে বেনিফিশিয়ারিদের তালিকায় যুদ্ধাপরাধীরা রয়েছে।

পুনরায় মানুষের মুখে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি গুঞ্জরিত হতে শুরু করে যখন, তখন আমরা লক্ষ করি, পাকিস্তান থেকে তাদের দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ও অতীতে সাজা খাটা প্রেসিডেন্টটির এক বিশেষ দূত মির্জা জিয়া আনসারি ঢাকায় এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটি বার্তা জানায়, যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রকৃষ্ট সময় নাকি এখন নয়। এই অভব্য অনুরোধ করেই পাকিস্তান ক্ষান্ত হয়নি, আন্তর্জাতিক মহলেও তারা জোর লবিইং করে এই বিচারকে বন্ধ বা বাধাপ্রাপ্ত করার জন্যে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারপর সৌদি আরব সফরে গেলে একটি গুজব বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয় যে সৌদি আরব এই বিচারের বিরুদ্ধে। যদিও সৌদি সরকার কোনো বিবৃতি দেয়নি, এবং বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জোর গলায় এ কথা অস্বীকার করেছেন।

আমরা ওয়ার্স্ট পসিবল কেইস হিসেবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে অপরাধী পক্ষ পাকিস্তান ও তার সহমর্মী পক্ষ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি রাষ্ট্রকে এই বিচারের বিপক্ষে অত্যন্ত বিরোধী থেকে শুরু করে মৃদু বিরোধী, এই স্পেকট্রামে সাজাতে পারি। পাকিস্তানের তৎকালীন সহযোগী পক্ষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ বিচারের প্রশ্নে কোনো প্রকাশ্য বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেনি, এবং তাদের ভাষ্যমতে তারা এ বিচারকার্যে সহযোগিতায় আগ্রহী।

কিন্তু এ কথা অনস্বীকার্য যে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ তার মাটিতে সংঘটিত হওয়া অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করার সকল ক্ষমতা রাখে। এ বিচারের প্রকৃতি অনন্য এবং অভূতপূর্ব বলে এর প্রবাহের পথে সকল বিঘ্ন দূর করার জন্যে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা সমমানের আন্তর্জাতিক কেইসগুলি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সহায়তা নিতে পারে।

আমি নিচে কিছু ছাগুপ্রিয়, বরাহপ্রিয় মিথ, প্রশ্ন ও যুক্তি তুলে ধরে সেগুলো খণ্ডন করবো। পাঠকদের কাছে অনুরোধ থাকবে, ফেসবুকে, মেইলগ্রুপে, পথেঘাটে, জলেস্থলেঅন্তরীক্ষে যখন কাছাকাছি ধরনের তর্ক হবে, তখন এই টেমপ্লেটটি উপস্থাপন বা রেপ্লিকেট করার। আপনাদের সংযোজন, বিশ্লেষণ আর সংশ্লেষণ আমি সম্পাদনা করে পোস্টে যোগ করার অভিলাষ জানাই এবং অনুমতি চাই। ধন্যবাদ।

মিথ ০*: দেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই।

স্পষ্টভাবেই আছে।

১৯৭৩ সালে ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার আওতায় অনেক পাতি রাজাকার, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সেই সময়ে আনীত হয়নি, তারা ছাড়া পেলেও ১১ হাজারের বেশি রাজাকার আলবদর যুদ্ধাপরাধী দালাল আইনের আওতায় কারাবন্দী ছিলো। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু নিহত হবার পর যারা ক্ষমতায় আসে, তারা এক পর্যায়ে আইনের চোখে অবৈধ ঘোষিত অধ্যাদেশ জারি করে দালাল আইন বাতিল ঘোষণা করার ফলে এই ১১ হাজার যুদ্ধাপরাধী মুক্তি পায়। এদের অধিকাংশই এখনো বহাল তবিয়তে দেশে বিরাজ করছে এবং তারা যুদ্ধাপরাধী। ফলে দেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই, এই দাবী মিথ্যা।

মিথ ১: ৩৮ বছর আগে কী হয়েছে না হয়েছে, তা নিয়ে জাতিকে বিভক্ত করার কোনো মানে হয় না

৩৮ বছর আগে, ১৯৭১ সালে আমাদের দেশে যা ঘটে গেছে, তা একটি নৃশংস অপরাধ। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও তার এ দেশীয় সহযোগী, যথাক্রমে জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী ও মুসলিম লীগের নেতৃ- ও কর্মীবৃন্দ এবং তাদের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় পরিচালিত রাজাকার বাহিনী, আল বদর ও আল শামস, বাংলাদেশের নিরস্ত্র জনতার ওপর গণহত্যা, হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, জেণ্ডারসাইড, পরিকল্পিত জাতিধর্ষণ, পরিকল্পিত জাতিনিধনের মতো অপরাধ করেছে। এসব অপরাধ আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে স্বীকৃত, এবং ফৌজদারি অপরাধ তামাদি হয় না বলে এখনও বিচারযোগ্য। জাতি এই অপরাধের বিচার নিয়ে ঐক্যবদ্ধ, যার প্রমাণ সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রতিশ্রুতির পক্ষে প্রদত্ত ভোটের অনুপাতে মেলে। অল্প কিছু সংখ্যক শুয়োরের বাচ্চা এই বিচারের বিরুদ্ধে।

মিথ ২: শেখ মুজিবর রহমান তো যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, এখন আবার কথা কীসের?

শেখ মুজিবর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করেননি।

১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি "দালাল আইন (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশ" জারি করা হয়। একই বছরের ৬ ফেব্রুয়ারী, ১ জুন ও ২৯ আগস্ট তারিখে তিন দফা সংশোধনীর পর আইনটি চূড়ান্ত হয়।

দালাল আইন জারির পর ১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ৩৭ হাজার ৪৭১ দালালকে গ্রেফতার করা হয়। ৭৩টি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এদের বিচার কাজ চললেও ২২ মাসে মাত্র ২ হাজার ৮৪৮টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়। এ-রায়ের মাধ্যমে ৭৫২ জন বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত হন।

১৯৭৩ এর ৩০ নভেম্বর বহুল আলোচিত সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়। এ-ঘোষণার মাধ্যমে ২৬ হাজার ব্যক্তি মুক্তি পান। বাকীদের বিচার অব্যাহত থাকে।

সাধারণ ক্ষমার প্রেস-নোটে বলা হয়,

ধর্ষণ. খুন, খুনের চেষ্টা, ঘর-বাড়ী অথবা জাহাজে অগ্নি সংযোগের দায়ে দণ্ডিত ও অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে ক্ষমা প্রদর্শন প্রযোজ্য হবে না।

মিথ ৩: ৩৮ বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার এখন সম্ভব নয়

ভুল। অবশ্যই সম্ভব। প্রথমত, ফৌজদারি অপরাধ তামাদি হয় না। দ্বিতীয়ত, এই অপরাধের ভিক্টিমরা এখনও অনেকে জীবিত ও সাক্ষ্যের জন্যে প্রস্তুত রয়েছেন। তৃতীয়ত, এই অপরাধ সংক্রান্ত বহু দলিলপত্র বর্তমানে অবমুক্ত করা হয়েছে [মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান সরকার]। চতুর্থত, পৃথিবীতে এখনও প্রায় ৭০ বছর আগে ঘটে যাওয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। আমাদের আলোচ্য অপরাধ মাত্র ৩৮ বছর আগে ঘটা।

মিথ ৪: এই বিচারের দাবি মূলত রাজনৈতিক বিদ্বেষ প্রসূত এবং জামায়াতে ইসলামিকে বিপন্ন করার বাকশালী পাঁয়তাড়া

জামায়াতে ইসলামি দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিলো, এবং এর তৎকালীন নেতৃবৃন্দের সকলে যুদ্ধাপরাধের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলো বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তাদের বর্তমান নেতৃত্বেও যুদ্ধাপরাধের অপরাধে অভিযুক্তরাই রয়েছে। তারা যদি বিপন্ন হয়, তাহলে এই বিপদের পেছনে তাদের অতীত ইতিহাসই দায়ী।

মিথ ৫: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে গেলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি সেখানে কর্মরত বাংলাদেশীদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবে

জামায়াতে ইসলামির নেতৃবৃন্দের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির হৃদ্যতা রয়েছে, এবং এমন একটি গুজব তাদের উৎসাহেই ছড়ানো হয়েছে যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে গেলে মধ্যপ্রাচ্য আমাদের ওপর গজব নাজিল করবে। তবে প্রকৃত সত্য হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাথে বাংলাদেশ বর্তমান সরকারেরও জোরালো সম্পর্ক রয়েছে, এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এমন অশুভ উদ্যোগ ঠেকানোর ক্ষমতা বাংলাদেশ সরকারের রয়েছে।

প্রশ্ন ১: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হলে কি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়বে? অপরাধ কমবে? দুর্নীতি কমবে? বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমবে? ওয়াসার পানিতে গুয়ের গন্ধ দূর হবে?

পাল্টা প্রশ্ন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা না হলে কি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়বে? অপরাধ কমবে? দুর্নীতি কমবে? বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমবে? ওয়াসার পানিতে গুয়ের গন্ধ দূর হবে?

উভয় ক্ষেত্রেই একই উত্তর।

প্রকৃতপক্ষে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম আমাদের প্রাত্যহিক জনজীবনের ওপর কোনো নেতিবাচক বা তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। অপরাধের বিচার কেবল তাৎক্ষণিক প্রভাবের কথা ভেবে করা হয় না, করা হয় সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যে। এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাবের মধ্যে রয়েছে, সার্বভৌম বাংলাদেশে এ ধরনের অপরাধের বিচার নিষ্পত্তি করার মাধ্যমে বিচারব্যবস্থার উত্তরণ লাভ এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অন্যান্য অপরাধের বিচারের সাথে এ অর্থে তুলনীয়, যদি তাদের বিচারের বিরোধিতা করা হয়, তাহলে আজ প্রতিটি খুনী, ধর্ষণকারী, লুণ্ঠনকারী ও অগ্নিসংযোগকারী এই একই ছাড় পাবার দাবিদার।

প্রশ্ন ২*: আওয়ামী লীগ তো আগে একবার ক্ষমতায় এসেছিল। তারা তখন বিচার করে নাই কেন? শেখ হাসিনা একটা সময় জামায়াতের সাথে হাত মিলিয়েও রাজনীতি করেছিল। তখন যুদ্ধাপরাধী বিচারের ইস্যু কোথায় ছিল?

প্রশ্নটির মধ্যে একটি ভুল তথ্য রয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর আওয়ামী লীগ দুইবার ক্ষমতায় আসে। প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর তখনকার সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেয়, এ লক্ষে আইন প্রণয়ন করে এবং তার ভগ্নাংশ পরিমাণ বাস্তবায়নও করে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা ক্ষমতার বলয়ে প্রবেশ করে, তারা যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে ক্ষমতা পোক্ত করার আশায় আওয়ামী লীগ সরকারের প্রণয়ন করা আইনগুলি বাতিল করে।

১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেয়নি, এর পেছনে প্রধান কারণ হতে পারে তাদের তৎকালীন নেতৃত্বে দূরদর্শিতার অভাব। এ দূরদর্শিতার অভাবের মূল্য আওয়ামী লীগকে শোধ করতে হয়েছে ২০০২-২০০৭ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন জোট সরকারের শাসনামলে বারবার আক্রান্ত হয়ে। দেশের মানুষ দুই ভূতপূর্ব আলবদর নেতাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখে অপমানিত বোধ করে, এবং সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হবে, এ প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে আওয়ামী লীগকে পুনরায় আরেকটি সুযোগ দেয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার জন্যে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা না করা আওয়ামী লীগের একান্ত এখতিয়ার নয়। এটি বাংলাদেশের মানুষের দাবি। অতীতে এ দাবি পূরণে ব্যর্থতার অর্থ এই নয় যে বর্তমানে তা পূরণ করা যাবে না।

প্রশ্ন ৩*. স্বাধীনতার পর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তো সঠিক ভাবে হয়নি, চুনোপুঁটির বিচার হয়েছে, কিন্তু রাঘব-বোয়াল ছাড়া পেয়েছে। এবারও কি তা হবে না?

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থা উভয়ই সদ্য স্বাধীন দেশকে প্রায় ধ্বংসস্তুপ থেকে টেনে তোলার কাজে ব্যস্ত ছিলো। তারপরও দু'টি অত্যন্ত শক্তিশালী আইন প্রণীত হয়েছিলো এবং তার আওতায় বিচারও শুরু হয়েছিলো। ১৯৭৩ সালে ঘোষিত সাধারণ ক্ষমায় যে সকল রাজাকার ছাড়া পেয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ আনীত হয়নি। কিন্তু রাঘব-বোয়ালদের ছাড়ার প্রশ্ন আসে না, কারণ রাঘব-বোয়ালরা তখন পলাতক ছিলো এবং তাদের নামে সুনির্দিষ্ট অভিযোগও ছিলো। তখন স্বল্প লোকবল ও পরিকাঠামো নিয়ে বিচারে যে অসামঞ্জস্য ছিলো, এখন তা অনায়াসে দূর করা সম্ভব, কারণ ৩৮ বছরে বাংলাদেশের বিচার ও প্রশাসন কাঠামো এখন অনেক সংগঠিত। তাই যুদ্ধাপরাধীদের পালের গোদাদেরও ধরা যাবে এবং ধরা হবে।

প্রশ্ন ৪*. বিচারের দাবী শুধু প্রাকনির্বাচন আর আওয়ামী রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ কেন?

এই ইস্যুতে আওয়ামী লীগকে এবার যত মানুষ ভোট দিয়েছে, তারা সকলেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সমর্থক নয়। নির্দলীয় বা অন্যদলীয় সবাই এই বিচারের দাবী জানাচ্ছে। বরং নিজেকে প্রশ্ন করুন কেন বিচারের দাবীতে আপনিও সরব হচ্ছেন না। প্রাকনির্বাচনী প্রচারণা এক দিকে যেমন রাজনৈতিক দলকে বাধ্য করে যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিতে, অন্যদিকে সংসদকে যুদ্ধাপরাধীমুক্ত রাখতেও সহায়তা করে। এতে ভবিষ্যতে যুদ্ধাপরাধীদের মনোনয়ন দেবার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোও নিরুৎসাহী হবে।

প্রশ্ন ৫*. এত বছর পর দেশকে এটা নিয়ে ভাগ করার দরকার কী?

ভাগ হচ্ছে না তো, দেশের লোক একাট্টা হচ্ছে কতিপয় খুনি-ধর্ষকের বিচারের দাবীতে। যুদ্ধাপরাধীর বিচার মানে তো আর দেশের জনগণকে ভাগ করা নয়। খুনির বিচার, ধর্ষকের বিচার মানে যদি দেশ ভাগ করা হতো তাহলে তো দেশে আইন-আদালত দরকার হতো না। জেলখানা তুলে দিয়ে খুনি-ধর্ষককে বাসার লজিং মাস্টার নিয়োগ করা হতো।

প্রশ্ন ৬*. হাসিনার বেয়াই তো যুদ্ধাপরাধী। তারপর আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী ১৯৯১ সালে গোআ'র কাছে দুআ চাইতে গিয়েছিলেন। সুতরাং আওয়ামী লীগের এই বিচারের ব্যাপারে সততা কতটুকু?

যেমনটা আগে বলা হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তো আর আওয়ামী লীগের একান্ত এখতিয়ারের বিষয় নয়। এটি বাংলাদেশের মানুষের দাবি। যুদ্ধাপরাধীর দলীয় পরিচয় বিবেচ্য নয়, কৃত কুকর্মই বিবেচ্য। যুদ্ধাপরাধ যে আইনের অধীনে বিচার করা হবে, সে আইনের আওতায় আপনি স্বচ্ছন্দে আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তির নামেও অভিযোগ তুলতে পারেন।


আপনারাও প্রচলিত মিথ, প্রশ্ন ও যুক্তি যোগ করতে পারেন, আমি নির্বাচিত অংশ সংযোজন করে পোস্ট সাম্প্রতিকীকরণে আগ্রহী। ধন্যবাদ।

* চিহ্নিত অংশগুলি মন্তব্য থেকে গৃহীত এবং ঈষৎ সম্পাদিত।


প্রায়প্রাসঙ্গিকঃ বরাহশিকারের গান


মন্তব্য

মামুন হক এর ছবি

অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পোস্ট । এটাকে স্টিকি করার দাবি জানাই।

অয়ন এর ছবি

ওয়াসার পানিতে গোলাম আযমের গন্ধ দূর হবে।

ফারুক হাসান এর ছবি

চলুক

আরিফ জেবতিক তার 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গ :শিশুর সাথে আরেকটি আলাপচারিতা' পোষ্টে আরো কয়েকটা প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন নিয়ে সহজ আলোচনা করেছিলেন। প্রাসঙ্গিক মনে হওয়ায় সেটি খুঁজলাম, কিন্তু পেলাম না।

সাজেদ এর ছবি

ফেসবুকে যোগ করলাম, অনুমতি সাপেক্ষে।

রেশনুভা এর ছবি
ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

খুব কাজের লেখা।


পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও তার এ দেশীয় সহযোগী, যথাক্রমে জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী ও মুসলিম লীগের নেতৃ- ও কর্মীবৃন্দ এবং তাদের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় পরিচালিত রাজাকার বাহিনী, আল বদর ও আল শামস, বাংলাদেশের নিরস্ত্র জনতার ওপর গণহত্যা, হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, জেণ্ডারসাইড, পরিকল্পিত জাতিধর্ষণ, পরিকল্পিত জাতিনিধনের মতো অপরাধ করেছে। এসব অপরাধ আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে স্বীকৃত, এবং ফৌজদারি অপরাধ তামাদি হয় না বলে এখনও বিচারযোগ্য।

এখানে যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবীর মূলকথাটা পুরোপুরি আছে। আসলে সবকয়টা প্রশ্নের উত্তরে একথাটা বারবার বলা যায়।

--------------------------------
~পর্যবেক্ষণ-অসাধ্য তত্ত্ব অর্থহীন~

মাসুদ [অতিথি] এর ছবি

'' তবে প্রকৃত সত্য হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাথে বাংলাদেশ বর্তমান সরকারেরও জোরালো সম্পর্ক রয়েছে, এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এমন অশুভ উদ্যোগ ঠেকানোর ক্ষমতা বাংলাদেশ সরকারের রয়েছে।''

অন্তত যা জানেন না তা দাবিও করবেননা। মধ্যপ্রাচ্যের সাথে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারেরও কতটুকু জোরালো সম্পর্ক রয়েছে তা আমরা যারা মধ্যপ্রাচ্যে আছি তারা ভালো করেই জানি। ভুগ্তভুগী আমরা, আমাদেরই প্রতি পদে পদে ধাক্কা খেতে হচ্ছে শুধু বাংলাদেশী বলে, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার কতটুকু ক্ষমতা রাখে তা ভাল করেই দেখিযেছে! এর শুরু অশুভ তত্তাবধায়ক সরকারের আমলে, যখন আমরা কোনো কিছু আশা করিনি এবং কিছুই হয়নি, কিন্তু যখন গণতান্ত্রিক সরকার এলো সবাই ভেবেছিলাম যাক এবারে হয়ত কিছু হবে, এবারে হয়ত আমাদের কোনো গতি হবে। আমি আছি সৌদি আরবে, বলছিও এখানের অবস্থা, তবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের পরিস্থিতি যে আমাদের চেয়ে ভালো, তা কিন্তু বলা যায়না। আমাদের সরকার, খুব গর্ব করে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ নিয়ে, কিন্তু এ কথা বলতে তাদের বাধে কেনো যে এই অর্থের 75%-80% আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে? দুখের বিষয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন মধ্যপ্রাচ্য সফরে এখানে এলেন, সব কিছু জানলেন, এবং আশা দিয়ে গেলেন যে সব ঠিক হয়ে যাবে, দেশে ফিরে কিছু বড় বড় বুলিও আওড়লেন, কিন্তু আমরা আর সেই সব ঠিক হওয়া দেখলাম না!! আশা করেছিলাম দিন বদলের ডাকের স্লোগানে, যে আমাদেরও হয়তো দিন বদল হবে, কিন্তু কে জানতো এরা তো সেই একই পথের পথিক, আশার বুলি আওড়তেই যারা শুধু ওস্তাদ!

হিমু এর ছবি

প্রসঙ্গে থেকে বলি, আপনি কি দাবি করছেন, জামায়াতে ইসলামির রাজনৈতিক যোগাযোগ বাংলাদেশ সরকারের রাজনৈতিক যোগাযোগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী?

সৌদি আরবে বাংলাদেশি হওয়ার কারণে আপনি কী ধরনের সমস্যায় ভুগছেন, আমাদের বিস্তারিত জানাতে পারেন। তবে এই পোস্টে নয়। guest_writer অ্যাকাউন্ট আর guest পাস ব্যবহার করুন। আগ্রহী পাঠক পাবেন অনেক। ধন্যবাদ।



হাঁটুপানির জলদস্যু বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

কৌতুহলী এর ছবি

এইটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সন্দেহ নাই। সাধারণ ধারণা হচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে জামাতের প্রভাব, বাংলাদেশ সরকারের থেকে খুব কম নয়। কয়েকদিন আগে একটি আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌদি অর্থপুষ্ট একটি গবেষণা সংস্থা মতিউর রহমান নিজামীকে বিশ্বের প্রভাবশালী ৫০ মুসলিম নেতার একজন বলেছে। এবং আরো চিন্তার কথা হচ্ছে যে ওখানে নিজামীর সম্বন্ধে যে কথাগুলো আছে, সেটি দেখে বোঝা যায় যে জামাতেরই কোন একজনের লিখে দেওয়া।

মরাল গ্রাউন্ডে হয়ত মধ্যপ্রাচ্যের চাপ বিষয়টা গোণায় ধরা উচিত না, কিন্তু মূলত রেমিট্যান্স সহ লাখো বাংলাদেশীর ভাগ্য ও অন্যান্য কারণে একে গোণায় ধরতে হয়।

হিমু এর ছবি

প্রবাসী বাংলাদেশীদের ব্যাপারটি জামায়াত যেভাবে উপস্থাপন করে, ততটা সরল নয়। তারা ওখানে আছে, কারণ তাদের সস্তা এবং গুণগতভাবে উত্তম শ্রম মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রয়োজন আছে। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের বদনাম কম [বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী রোহিঙ্গা শ্রমিকদের সাম্প্রতিক কুকীর্তিগুলো বাদ দিলে]। তাই কয়েকটা নিজামীকে বাঁচানোর জন্যে এদের সকলে ঝেড়ে বিদায় করার যে জুজু দেখানো হয়, তার বাস্তবিক ভিত্তি অতটা মজবুত নয়। বরং কিছু ইউনিভার্সিটির বালছাল সেমিনারে সে কতো মস্তো ইসের্বাল, সেটা ওগড়ানোর জন্য পেট্রোডলার খরচ করা পর্যন্ত তাদের দৌড়। আর আমরা শুধু কামলাই খাটি না, প্রচুর হাজী পাঠিয়ে হজ্জ ব্যবসা আর সামান্য তেল কিনে তেল ব্যবসাও চাঙা রাখি। আমরা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ, চাইলেই ফট করে আমাদের ধাক্কা দিয়ে বসানো এত সহজ না।

আর এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা চোখে পড়লে তা সামলানোর উদ্যোগ সরকার নিতে পারবে, এই আস্থা আমার আছে। আর এই আস্থার জায়গাটাই মিথ ছড়িয়ে পণ্ড করতে চায় যুদ্ধাপরাধীরা।



হাঁটুপানির জলদস্যু বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

অতিথি লেখক এর ছবি

বস এইটা খিয়াল কইরা যে জামাত শিবিরের ফান্ড বা জঙ্গিবাদি গ্রুপগুলার ফান্ড কিন্তু ঐ মিডেলইস্ট থেকেই আসে। আর তারা ঐ টাকা দিয়া দেশে কোটি টাকার ব্যবসা করে। এমনে এমনে তো আর জামাত শিবির এত শক্ত না। এমনে এমনে তো তদের দলীয় কাঠামো এত গোছানো না। হাজার হলেও বাঙালি, নিজেদের ভিতর গ্যাঞ্জাম লাগতে কতক্ষন?

কিন্তু জামাত শিবিরের ভিতরে আজ পর্যন্ত কোন দলীয় গ্যাঞ্জাম হইসে বলে আমার জানা নাই + বাঙালি হয়েও তারা একেবারেই স্বজন প্রীতি মুক্ত, এইটা ক্যম্নে? শুধু বাঙালি না, প্রায় সবারই স্বজন প্রীতির অভ্যাস কম বেশি আছে, কিন্তু জামাতিদের স্বজন প্রীতি থেকে দল প্রীতি বেশি ক্যান? এখন পর্যন্ত তাদের কোন নেতার কোন পুত্র আবার নেতা হয় নাই,অন্তত পিতার তদবিরে হয় নাই।
এসব কেন হয়? ক্যম্নে হয়? সব হয় টাকার জোড়ের কারনে,কারন মিডেলইস্টের টাকা ছাড়া জামাত অনেক খানি অচল।
আমাদের শ্রমিক বিদায় করে দিলেও তাদের শ্রমিকের অভাব হবে না। টাকা থাকলে বাঘের দুধও মেলে। আপনি বলবেন যে জামাত শিবিরের জন্য কেন মিডেলইস্ট নিজের স্বার্থ ছাড়বে? আমি বলি, ছাড়বে ছাড়বে- কারন জামাতিরা হলো ওদের হাতের হাতিয়ারের মতন, হাতিয়ার তো বাচাতে হবেই। আপনি কি আপনার পায়ের এক জোড়া জুতা হারাতে চাইবেন, নাকি হাতে থাকা পিস্তল?

আমিই তানভী |

হিমু এর ছবি

এটাই ছড়ানো মিথের কার্যকারিতার প্রমাণ। টাকা থাকলে বাঘের দুধ মেলে, আর হাতিয়ার মেলে না হাসি ?

শ্রমশক্তি নিয়ে আমাদের নেগোসিয়েশন ক্ষমতা যেমন কম, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তেমন কম না। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, কোনো দেশেরই না। সস্তা এবং নেগোসিয়েশনে অক্ষম শ্রমিক আছে একমাত্র বাংলাদেশেই। শেখের ব্যাটাদের চেয়ে ভালোমতো এ কথা আর কেউ জানে না। যে জিনিস দিয়ে বাঘের দুধ মেলে, সে জিনিস কেউ বাড়তি খরচ করতে চায় না রে ভাই।



হাঁটুপানির জলদস্যু বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

এটাই ছড়ানো মিথের কার্যকারিতার প্রমাণ। টাকা থাকলে বাঘের দুধ মেলে, আর হাতিয়ার মেলে না?

একশভাগ ঠিক কথা, অসাধারণ উত্তর।

পৃথিবীর সকল মিথের স্বপক্ষে শক্তেরভক্তদের একটি অপযুক্তি হলো:

'ক' খারাপ, কিন্তু 'ক'কে ফেলে দেয়াটা আরো খারাপ। তাই, 'ক'এর অস্তিত্ব প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম।

তাবৎ যুক্তির মধ্যে এধরনের যুক্তি সবচেয়ে খারাপ। কারণ, এধরনের যুক্তি বহুক্ষেত্রে আমাদের মধ্যেই অনেকে (ভুলবশত:) ধারণ করে অথচ নৈতিকভাবে স্বীকার করে 'ক' খারাপ।

যেমন, একটা প্রচলিত অপযুক্তি হলো - যুদ্ধ খারাপ, কিন্তু যুদ্ধ অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখার জন্য সময়ে সময়ে ঘটা আবশ্যক। বা দুর্নীতি (নামেই খারাপ) ছাড়া অর্থনীতি অচল। অর্থাৎ, 'ক' খারাপ, কিন্তু প্রকৃতি তার হাতের সবচেয়ে ভালো গুটিটা ফেলার পরেই যেন 'ক' এসেছে। তাই এটা প্রাকৃতিকভাবে অপ্টিমাইজড। এর পরিবর্তন খারাপ ফল আনবে।

যুদ্ধাপরাধীর বিচার করলে যা যা ক্ষতি হবে বাংলাদেশের বলে অপপ্রচার আছে, তার সবই এই ক্যাটাগরীর অন্তর্ভুক্ত। দেশে তারা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাবে, বিদেশে মাতবররা চটে যাবে, ইত্যাদি।

এগুলো হলো ফ্যালাসি। যুক্তিগত ফ্যালাসি। এর সাথে ন্যাচারালিস্টিক ফ্যালাসি আর ইজ-অউট প্রবলেম ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং ওই ধরনের যুক্তি কেউ শুরু করতে গেলে "এটা একটা 'খ' ফ্যালাসি বলে" থামিয়ে দেয়াটাই নিয়ম। তাই এই প্যাটার্নটাই আমাদের উত্তরমালার মধ্যে প্রস্তুত রাখা দরকার, আমাদের জানা থাকা দরকার অপযুক্তির অপ অংশটি কি এবং এর প্রত্যুত্তরটি কি।

তাদের ভুল আচরণগুলো আমাদের কাছে প্রেডিক্টেবল হয়ে ওঠাটা একটা বড় জয়।

--------------------------------
~পর্যবেক্ষণ-অসাধ্য তত্ত্ব অর্থহীন~

kamal এর ছবি

আপনােক ধন্যবাদ হিমু, চমৎকার পোস্ট।

কিনটু এটা কি লিখ্েল্ন?????

" প্রচুর হাজী পাঠিয়ে হজ্জ ব্যবসা "

হজ্জ কি একটা ব্যবসা????
সৌদী আরব এর সাথে সম্পক খারাপ হলে কি Bangladesh এর হাজীরা হজ্জ U.S.A /INDIA েত যাবে???????

হিমু এর ছবি
ধুসর গোধূলি এর ছবি

- বস, আপনি যে সমস্যা নিয়ে কথা বলছেন সেটা একটা উন্নয়নশীল তৃতীয় বিশ্বের দেশের নাগরিক হিসেবে মুখ বুজে সহ্য করতেই হবে। শুধু মধ্যপ্রাচ্য না, সবখানেই।

এই পোস্টে যে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে সেটা নিয়ে লেখকের দাবীকে একেবারে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েন না। পোস্টে কথা হচ্ছিলো জামাত যদি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে বিচারের বিরুদ্ধে কোনো চাপ আনার চেষ্টা করে সেটাকে বাংলাদেশ সরকার বেশ ভালোভাবেই প্রতিহত করতে পারবে।

এই কথাটার প্রমাণ পেতে হলে আমি এক কাজ করেন। সৌদীতে যেখানে যেখানে ধাক্কা খাচ্ছেন সেখানে সেখানে বলে দেখতে পারেন যে, আমি বাংলাদেশের নাগরিক না, মনতঃ, মূলতঃ আমি জামাতে ইছলামির নাগরিক। দেখেন ধাক্কা খাওয়া কমে কিনা।

তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে যেগুলো হয়তো অন্যকোনো পোস্টে আলোচনা চলতে পারে। কিন্তু এই পোস্টে না। এই পোস্টে আলোচনা চলতে পারে আপনি একজন বাংলাদেশী হিসেবে সেখানে প্রভাবশালী সৌদীদের কাছে জামাতে ইসলামীর মুখোশ উন্মোচন করার চেষ্টা করা। বাংলাদেশের ইসলাম প্রিয় মানুষের কাছে কীভাবে সৌদীদের ধান্দাবাজ বানাচ্ছে, এই জিনিষগুলো তুলে ধরা।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

সজীব [অতিথি] এর ছবি

প্রশ্ন: আ.লী. তো আগে একবার ক্ষমতায় এসেছিল। তারা তখন বিচার করে নাই কেন? শেখ হাসিনা একটা সময় জামায়াতের সাথে হাত মিলিয়েও রাজনীতি করেছিল। তখন যুদ্ধাপরাধী বিচারের ইস্যু কোথায় ছিল?

সম্ভাব্য উত্তর হতে পারে: আ.লী. এক সময় জামাতের সাথে মিলে রাজনীতি করেছিল, এটা তাদের দোষ বা ভুল। একারণে রাজাকারদের অপরাধের মাত্রা কমে যায় না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দেশের মানুষের প্রাণের দাবী। এটা কোন রাজনৈতিক ইস্যু না। বতর্মান প্রজন্ম আ.লী. কে একটা সুযোগ দিয়েছে, এই পবিত্র কাজটি সম্পন্ন করার জন্য। তারা যদি এ সুযোগ কাজে না লাগায়, তাহলে সময়মত এর জবাব পাবে। (এরচেয়ে আরো ভাল উত্তর আশা করছি বরাহশিকারীদের কাছ থেকে।)

হিমু এর ছবি
অতিথি লেখক এর ছবি

উত্তরগুলো আসলেই একত্রিত হওয়া দরকার ছিল ।

বোহেমিয়ান

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করলে কী হবে, কী হবেনা, কী পাল্টাবে, কী পাল্টাবে না, ঐসব ত্যানা প্যাচানিতে তারাই যায় যাদের পূর্বাপর জ্ঞাতিগোষ্ঠীর কেউ না কেউ, কোনো না কোনোভাবে জামাতে এছলামি, নেজামে এছলামি, আলবদর বা আল-শামসের কোনো না কোনো নেতা, পাতি নেতা, সাথী, সঙ্গীদের সাথে সম্পৃক্ত আছে।

এই দলটা ছাড়া আরেকটা খুব ক্ষুদ্র অংশ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করে, তারা হলো পরিষ্কার সুবিধাবাদী। আল্লায় না করুক, যদি বাংলাদেশ আবারও কখনো আক্রান্ত হয় তাহলে এই অংশটা কোনো কিছু না ভেবেই পাল্লা যেদিকে ভারী সেদিকে ঝুঁকে পড়বে।

এই জ্ঞানপাপীগুলা বড় বড় পিএইচডি বাগায়া, কূয়োর ব্যাঙের মতো চিপায় বসে বাল ছিঁড়ে আর মাঝে মাঝেই জাফর ইকবালদের মতো ব্যক্তিত্বদের পিণ্ডি চটকাতে আসে।

যেইসব পিএইচডি'অলা রক্তের ঋণ শোধ করতে শেখে না, দেশের জন্মের শত্রুদেরকে ছেড়ে দিয়ে সবকিছু ভুলে যেতে বলে, তাদের পিএইচডি'র ওপর আমি ছ্যাঁড়ছ্যাঁড় করে মুতে দেই। বরাহের বাচ্চা একেকটা। এইসব সুশীল চুতমারানীদের জন্যই ৩৮ বছর পরেও স্বজন হত্যার বিচারের দাবী নিয়ে নিজের দেশের লোকের বিরুদ্ধেই তর্ক করতে হয় আমাদের।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

হিমু এর ছবি
রাজিব মোস্তাফিজ [অতিথি] এর ছবি

হ...

স্বাধীন এর ছবি

খোমাখাতা আর WCSF এ দিয়ে দিলাম।

বরাহ শিকার জারি থাকুক। প্রয়োজন ছিল এই সবগুলো প্রশ্নের উত্তর একত্রে গাঁথা।

সুমন চৌধুরী এর ছবি

প্রশ্ন: হাসিনার বেয়াই তো যুদ্ধাপরাধী। তারপর আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী ১৯৯১ সালে গোআ'র কাছে দুআ চাইতে গিয়েছিলেন। সুতরাং আওয়ামী লীগের এই বিচারের ব্যাপারে সততা কতটুকু?

সম্ভাব্য উত্তর: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তো আর আওয়ামী ইস্যু নারে কাকা। এইটা একটা পাবলিক ইস্যু।

সুতরাং যুদ্ধাপরাধীর দলীয় পরিচয় কোন ঘটনা না। কৃতকর্মই বিবেচ্য। আওয়ামী লীগে কোন রাজাকার থাইকা থাকলে তারও বিচার হইতে তো কোন সমস্যা নাই।

শেখ মুজিবও যদি রাজাকার হইয়া থাকে তো তারেও মরোনত্তর কাঠগড়ায় উঠাইতেই বা সমস্যা কী?
আর উপরের কোনটাই কি রাজাকার, আল বদর, আল শামসের চিহ্নিত যেইসব পাণ্ডারা এখন জামাত আর বিএনপিতে আছে তাগো হালাল করে?



অজ্ঞাতবাস

নন্দিনী [অতিথি] এর ছবি

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তো আর আওয়ামী ইস্যু নারে কাকা। এইটা একটা পাবলিক ইস্যু।

আসলে এইটাই সারকথা ।

এইখানে আওয়ামী লীগ ইস্যু আসে কোত্থেকে? মুক্তিযুদ্ধে জামায়াত-রাজাকাররা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজাকারী করেনি,করেছিল দেশের বিরুদ্ধে, নিজ দেশের জনগণের বিরুদ্ধে-তাই যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবীটা আপামর জনগণের । আওয়ামী লীগের কাছে অন্যান্য দলের চেয়ে প্রত্যাশা বেশী কারণ বাংলাদেশে এই জানোয়ারদের বিচার করার মত অন্য কোন দল ছিল না কখনই, এখনো নেই । আর আগে বিচার করেনি বলে আর কখনই বিচার চাওয়া যাবে না তা তো নয় । এবার বিচার করা ছাড়া আওয়ামী লীগের হাতেও অন্য কোন অপশন নেই-কারণ তারা জানে পরের বার আবার জনগণের দরজায় তাদের ভোট চাইতে যেতে হবে...

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

চলুক

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

Shaকিল হাsan এর ছবি

বুঝলাম ভাই এটা দলীয় ইস্যু না। জাতীয় ইস্যু। পাবলিক ইস্যু।
বিচার বিভাগ পৃথক হল কিন্তু ক্ষমতাসীন দলীয় হস্তক্ষেপ কি 100% মুক্ত হয়েছে।
হয় নি ভাই।।হয় নি।।।।

সকল দলেই রাজাকার, ঘাতক দালাল আছে।
বর্তমান সরকার প্রধানও বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেননা যে তার মন্ত্রীসভা বা দলে তেমন লোক নেই। বিএমপি, জাপার ক্ষেত্রেও একই কথা।
প্রভাবশীল সরকার, দল
বিচারবিভাগেও দলীওকরণ,
সকল সেক্টরে সেক্টরে দলীওকরণ
এই ইস্যুতে দলীয় সার্থ মেটানো তেমন অসম্ভব কিছুনা।

তাই চাই সঠিক যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা ও নিরপেক্ষ বিচার যাতে কোন দলকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বা হয়রানী না করা হয়।।।।

অতিথি লেখক এর ছবি

সকল দলেই রাজাকার, ঘাতক দালাল আছে।
বর্তমান সরকার প্রধানও বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেননা যে তার মন্ত্রীসভা বা দলে তেমন লোক নেই।

তাই নাকি ? তা বেশ তো, আপনার যদি মনে হয় ঐ সব লোকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে না, তাহলে এখানে ঢাক-ঢাক গুড়-গুড় তেনা-পেচানী কমেন্ট না করে নাম-ধাম-তথ্যপ্রমানসহ আপনিই গিয়ে মামলা ঠুকে দিন না তাদের বিরুদ্ধে ! আইনে তো কোন বাধা নেই !

বাই দ্য ওয়ে এখানে ২টা অপযুক্তি দেখছি অনেকটা এরকমঃ

১। 'ক' ও 'খ" দুইজন চোর। ক ধরা পড়েছে এবং তার বিচার হচ্ছে, খ ধরা পড়েনি এবং তার এখনও বিচার হচ্ছে না। এখন ক -এর আত্নীয় গ এসে বলল খ-কে ধরে বিচার না করা পর্যন্ত ক-এর বিচার করা যাবে না। এখন যুক্তি ও আইনের দৃষ্টিতে এই দাবী কতটুকু গ্রহণযোগ্য ? আমার মতে এটা অপরাধীকে বাঁচানোর একটা ছদ্মবেশী অসদুদ্দেশ্য-প্রণোদিত ফাজলামি, ফাত্রামি ও ইতরামি ছাড়া আর কিছুই না।

২। এটা খানিকটা উপরেরটার কাছাকাছি, তবে পার্থক্যও আছেঃ 'ক' একজন চোর। সে ধরা পড়েছে এবং তার বিচারও হচ্ছে। এখন ক -এর আত্নীয় গ এসে বলল, আমি আরো চোরের খবর জানি কিন্তু সুনির্দিষ্ট নাম-ধাম ও যথেষ্ট তথ্যপ্রমানসহ তাদের পরিচয় দিতে পারছি না এবং তাদের বিরুদ্ধে এই মুহুর্তে কোন আইনমোতাবেক অভিযোগও দাখিল করতে পারছি না বা চাচ্ছি না। কিন্তু, আমার জানা ঐ-সব অনামা হাইপোথেটিকাল/থিওরেটিকাল/কাল্পনিক অনভিযুক্ত ব্যক্তিগুলির বিচার না করলে, পাহাড়প্রমান তথ্যপ্রমান-সাক্ষী-সাবুদ থাকা সত্বেও 'ক'-এর বিচার করা যাবে না! -- এইটা হলো আরেকটা বজ্জাতি কুযুক্তি। মুখ হা করলেই দুর্গন্ধের ঠেলায় এইসব তক্কে-তক্কে থাকা ছদ্মবেশী ছাগু-গুলারে চেনা যায় কথা শোনার আগেই। এইসব জোঁকের জন্য নুন-জবাব চাই।

রাহিন হায়দার এর ছবি

চলুক ... খোমাখাতায় ও প্রিয়তে।
________________________________
তবু ধুলোর সাথে মিশে যাওয়া মানা

________________________________
মা তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো...

পুতুল এর ছবি

রাজাকারদের বিচারের বিরোদ্ধে যারা কোন না কোন কারণ আবিস্কার করে তারা খুব তেনা প্যাচিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে অনেক কথা বলে। এই দলে ভয়ঙ্কর কিছু তথাকথিত একাডেমিক আছে। তাদের জ্ঞন দেখে মাথা খারাপ হয়ে যায়। বাইন মাছের মতো যুক্তি, নীতিবোধ, মানবতা এড়িয়ে যুদ্ধ অপরাধকে "যা ঘটে গেছে, তাতো আর রোধ করা সম্ভব হবে না" গোছের জ্ঞনের তালিম দেয়। তাদরকে আমি এই গল্পটা শোনাই

একটি কিশোরীকে রাজাকার আর পাকিরা মিলে ধর্ষণ করতে এলো। মেয়েটির বাবা বাঁধা দিতে গিয়ে নিহত হলেন, রাজাকারদের হাতে। কিশোরিটি বেঁচে রইল। তার বিয়ে হল। এবং তিনি সন্তানের জন্ম দিলেন।

ধরুণ আপনি সেই সন্তান। এখন আপনি রাজাকারদের ক্ষমা করে দেবেন?
তিরিশ লক্ষ পরিবারের লোকসংখ্যা ধরি এখন এককোটি। তার সাথে দুইলাখ ধর্ষিতা মা-বোনের পরিবারের লোকসংখ্যা যোগ করেন। এবার বলুন আপনার জ্ঞান কী বলে?
যারা (১৯৭১ সালে এককোটি) ভারতে পালিয়ে গিয়ে প্রাণ বাচাতে পেরেছেন। কিন্তু তাদের ঘর-বাড়ি পাকিস্তানী সৈন্য আর এদেশের রাজাকাররা পুড়িয়ে দিয়েছে অথবা নিজের বাপের সম্পত্তি মনে করে রাজাকারদের নিজের বাড়ি নিয়ে গেছে।
তাঁদের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করুণ।
এবার আপনার যুক্তিটা শোনান, কেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়া উচিৎনয়?
**********************
ছায়া বাজে পুতুল রুপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কি দোষ!
!কাঁশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

হিমু,

ফাটাফাটি একটা পোস্ট। বরাহশিকার জারি থাকুক।

এম. এম. আর. জালাল এর ছবি

[quote]যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা না করা আওয়ামী লীগের একান্ত এখতিয়ার নয়। এটি বাংলাদেশের মানুষের দাবি। অতীতে এ দাবি পূরণে ব্যর্থতার অর্থ এই নয় যে বর্তমানে তা পূরণ করা যাবে না।


আওয়ামী লীগের কাছে অন্যান্য দলের চেয়ে প্রত্যাশা বেশী কারণ বাংলাদেশে এই জানোয়ারদের বিচার করার মত অন্য কোন দল ছিল না কখনই, এখনো নেই । আর আগে বিচার করেনি বলে আর কখনই বিচার চাওয়া যাবে না তা তো নয় ।

আসলে এইটাই সারকথা ।


এম. এম. আর. জালাল
"ফিরে দেখুন একাত্তর ঘুরে দাঁড়াক বাংলাদেশ।"আওয়ামী লীগের কাছে অন্যান্য দলের চেয়ে প্রত্যাশা বেশী কারণ বাংলাদেশে এই জানোয়ারদের বিচার করার মত অন্য কোন দল ছিল না কখনই, এখনো নেই । আর আগে বিচার করেনি বলে আর কখনই বিচার চাওয়া যাবে না তা তো নয় ।


এম. এম. আর. জালাল
"ফিরে দেখুন একাত্তর ঘুরে দাঁড়াক বাংলাদেশ।"

দ্রোহী এর ছবি

রাজাকার ইস্যুতে 'মানবতা' মুছে ফেলো টয়লেট টিস্যুতে।

কুবের [অতিথি] এর ছবি

হিমু ভাইরে অসংখ্য ধন্যবাদ। ফেসবুকে শেয়ার করলাম।

সাঈদ আহমেদ এর ছবি

এসংক্রান্ত আমার একটি পোস্টে কিছু আজাইরা প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছিল। সে আলোকে কিছু সংযোগ করছি এখানে-

১. একাত্তরের চার দশক পর নতুন প্রজন্মকে কি স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষে বিভাজন সম্ভব?
উত্তর: যুদ্ধাপরাধী আর যুদ্ধাপরাধীর সমর্থক বা সহায়ক ভিন্ন জিনিস। যারা একাত্তরে নাদান ছিল বা তার পরে জন্ম নিয়েছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীর দলে যোগ দিতে পারে। নতুন প্রজন্মের কেউ যখন কোন যুদ্ধাপরাধীর দলে যোগ দিয়ে তার অনুসারী হয়, তখন তো তাকে যুদ্ধাপরাধীর অনুসারীই বলতে হবে। এমন কি একাত্তরের স্বাধীনতার পক্ষের কেউ যদি পরবর্তীতে যুদ্ধাপরাধীকে সহায়তা করে থাকে, তাহলে সেওতো যুদ্ধাপরাধীর (যুদ্ধাপরাধের নয়) সহায়ক ।
তবে বর্তমানে সবাই ‘মীর জাফর’ এর মতন ‘রাজাকার’ শব্দটিও অনেক সাধারন ক্ষেত্রে বিশ্বাসঘাতকের সমার্থ হিসেবে গ্রহন করেছে। এটাকে যদি বাংলাভাষায় গোয়াজমের অবদান বলতে চান, তো বলতে পারেন।

২. তেহাত্তরের বিচার তো সঠিক ভাবে হয়নি, চুনোপুটির বিচার হয়েছে, কিন্তু রাঘব-বোয়াল ছাড়া পেয়েছে। এবারও কি তা হবে না?
উত্তর: তেহাত্তরের সাধারন ক্ষমায় ২৬০০০ রাজাকার ছাড়া পেয়েছিল। এই ২৬০০০ রাজাকারের সবাই রাঘব-বোয়াল হয় কী করে? আর বিচারে অসামঞ্জস্য থাকলে তা দূর করলেই হয়, বিচার বাদ দিতে হবে কেন? মাথা ব্যথা করলে মাথাই কেটে ফেলতে হবে নাকি? আর তখন ছাড়া পেলেই যে এখন বিচার করা যাবে না, তাই বা কে বললো? ইতোমধ্যে যে মামলাগুলো শুরু হয়েছে, তাতে তো সব রাঘব-বোয়ালকেই ধরার চেষ্টা চলছে। আসুন সবাই নজরদারী শুরু করি যেন রাঘব-বোয়াল, বরাহ-সারমেয় কিছুই বাদ না যায়।

৩. বিচারের দাবী শুধু প্রাকনির্বাচন আর আওয়ামী রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ কেন?
উত্তর: এই ইস্যুতে আওয়ামী লীগকে এবার যত মানুষ ভোট দিয়েছে, সবাই আওয়ামী লীগ করে এটা কে বললো? নির্দলীয় বা অন্যদলীয় সবাই এই বিচারের দাবী জানাচ্ছে। বরং নিজেকে প্রশ্ন করুন কেন বিচারের দাবীতে আপনিও সরব হচ্ছেন না। প্রাকনির্বাচনী প্রচারণা এক দিকে যেমন রাজনৈতিক দলকে বাধ্য করে যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিতে, অন্যদিকে সংসদকে যুদ্ধাপরাধীমুক্ত রাখতেও সহায়তা করে। এতে ভবিষ্যতে যুদ্ধাপরাধীদের মনোনয়ন দেবার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোও নিরুৎসাহী হবে।

৪. এত বছর পর দেশকে এটা নিয়ে ভাগ করার দরকার কী?
উত্তর: ভাগ হচ্ছে না তো, দেশের লোক একাট্টা হচ্ছে কতিপয় খুনি-ধর্ষকের বিচারের দাবীতে। যুদ্ধাপরাধীর বিচার মানে তো আর দেশের জনগনকে ভাগ করা নয়। খুনির বিচার, ধর্ষকের বিচার মানে যদি দেশ ভাগ করা হতো তাহলে তো দেশে আইন-আদালত দরকার হতো না। জেলখানা তুলে দিয়ে খুনি-ধর্ষককে বাসার লজিং মাস্টার নিয়োগ করা হতো।

-----------
"সে এক পাথর আছে কেবলি লাবণ্য ধরে"

-----------
চর্যাপদ

হিমু এর ছবি
আনন্দী কল্যাণ এর ছবি

এই রাজাকারদের বিচার খুব দ্রুত চাই। যত দেরি হবে এই ধরনের আরো বাহানা ও প্রশ্ন বাড়বে। বিচার শেষে রায় ও খুব দ্রুত কার্যকর করতে হবে। এসব শুরু হতে হতে এরা যেন তাদের পছন্দের দেশগুলোতে পালিয়ে না যায়, সেটা কি সরকার দেখছে?

আর বরাহপোনা যারা তারা কেন এত আকুল রাজাকারদের রক্ষা করতে? রাজাকারদের বিচার আমরা করব, কিন্তু এই বরাহপোনাদের নিয়ে আমরা কি করব? এদের কে তো যুদ্ধাপরাধের জন্য বিচার করা সম্ভব না। "অন্ধত্ব" এবং "অপরকে অন্ধ করা" কি একটা অপরাধ হওয়া উচিৎ না? নাকি এদের সাথে বসবাস ছাড়া আমাদের আর কোন অপশন নেই। জানিনা এই প্রশ্নগুলো কাকে করা, জানিনা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কি।

স্বপ্নহারা এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ হিমু ভাই এই লেখাটার জন্য!
সাঈদ ভাই এবং বদ্দার মন্তব্যও ভাল লাগছে...
-------------------------------------------------------------
স্বপ্ন দিয়ে জীবন গড়া, কেড়ে নিলে যাব মারা!

-------------------------------------------------------------
জীবন অর্থহীন, শোন হে অর্বাচীন...

বাউলিয়ানা এর ছবি

খুব দরকারী পোস্ট। এই কথাগুলো চারদিকে ছড়িয়ে দিতে হবে।
ধুগো-আপনাকে চলুক

অনিকেত এর ছবি

হিমু বস,
এই জিনিসটার যে কী দরকার ছিল বলে বোঝানো যাবে না।

আমি ভীষন আবেগী মানুষ। দেশ নিয়ে কথা বলতে গেলে আরো আবেগী হয়ে পড়ি। তাই অনেক কিছুই দরকার মত গুছিয়ে বলে উঠতে পারি না। পরে এসে মাথার চুল ছিড়তে হয়।

এই পোষ্টটা আমার জন্যে এক নতুন আয়ুধ।

অনেক ধন্যবাদ তোমাকে এবং বাকি সকলকে

স্বাধীনতাকামী চেতনার হোক অপার অভ্যুদয়
রাজাকারহীন দেশেই যেন আমার মৃত্যু হয়

অবাঞ্ছিত এর ছবি

প্রিয়তে নিলাম।

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

বরাহশিকার বেগবান হউক!
..................................................................

আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ ব'সে অপেক্ষা করার সময় আছে।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

হিমুকে অনেক ধন্যবাদ এরকম একটি প্রয়োজনীয় পোস্ট দেওয়ার জন্য।
তবে এই মিথগুলোর পাশাপাশি আরো কিছু ব্যাপারেও আমাদের ভাবার সময় এসেছে এখন।

যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠী এখন যে মিথ সবচেয়ে বেশি ছড়াচ্ছে, তা হলো দেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই। এখন তারা নিজেরাই স্বাধীনতা দিবস বিজয় দিবস পালন করছে। এবং সবচেয়ে ভয়ঙ্করভাবে তারা এখন দাবী করছে যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে জামায়াত ইসলামীর অবদান ছিলো।
এই মিথগুলো প্রবলভাবে চালু করে দিতে পারলেই তারা আর আগের মিথগুলো নিয়ে মাথা ঘামাবে না।
মিথ ছড়ানোতে তারা এগিয়ে গেছে, আমরা এখনো তাদের পুরনো মিথগুলোর জবাব খুঁজতে ব্যস্ত।

প্রশ্ন ১: দেশে যুদ্ধাপরাধী আছে কি নেই?
উত্তর: স্পষ্টভাবেই আছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকসেনাবাহিনীকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছিলো এদেশীয় কিছু দালাল। রেজাকার, শান্তিবাহিনী, আল বদর, আল শামস প্রভৃতি নামের আড়ালে এরা দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। বাংলাদেশের প্রতিটি আনাচে কানাচে এখনো প্রতক্ষ্যদর্শী এবং ভূক্তভোগীরা জীবিত এবং সাক্ষী দিতে প্রস্তুত।
সাধারণ ক্ষমার আওতায় অনেকে ছাড়া পেলেও ১১ হাজারের বেশি রাজাকার আলবদর যুদ্ধাপরাধী কারাবন্দী ছিলো। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে যারা মুক্তি পায়। এদের অধিকাংশই এখনো বহাল তবিয়তে দেশে বিরাজ করছে। এবং তারা যুদ্ধাপরাধী। ফলে দেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই, এই দাবী মিথ্যা।

প্রশ্ন ২: মুক্তিযুদ্ধে জামায়াত ইসলামী ও এর নেতৃবৃন্দের ভূমিকা কী ছিলো?
উত্তর: ৭০ এর নির্বাচনে জামায়াত ইসলামী গোটা পাকিস্তানে আসন পায় মাত্র চারটা, আর [তৎকালীন] পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসন পায় মাত্র ১টা। সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে এবং এই ভূখণ্ডে রাজনৈতিক ক্ষমতার লোভে এই দলটি পাকি সেনাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মেতে ওঠে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকাণ্ডে। দেশজুড়ে চালায় অত্যাচার নির্যাতন। নেতৃত্ব দেয় হত্যাকাণ্ড আর ধর্ষনে। জামায়াত ইসলামীর বর্তমান নেতৃত্বের অধিকাংশই মুক্তিযুদ্ধের প্রধান বিরোধীতাকারী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রধান বিরোধীতাকারী, এবং প্রধান যুদ্ধাপরাধী।
[তৎকালীন] পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমীর গোলাম আযম দৈনিক সংগ্রাম এ ‘দুষ্কৃতিকারীদের’(মুক্তিযোদ্ধা) বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও যুদ্ধের ডাক দিয়ে রাজাকার বাহিনী গঠন করে সে বাহিনীর আমীরের পদ গ্রহণ করেন। যে রাজাকার বাহিনী কোরআন ছুয়েঁ শপথ নিতো “I shall bear true allegiance to the constitution of Pakistan as framed by law and shall defend Pakistan, if necessary, with my life.”

আল শামস্ ও আল বদর ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহায়তা দানকারী আধা-সামরিক বাহিনী। যার সৃষ্টি হয়েছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রকে অখন্ড রাখার জন্য জনমত গঠন করার জন্য। পূর্বাঞ্চলীয় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল নিয়াজীর পৃষ্ঠপোষকতায় এই বাহিনী গঠিত হয়েছিল। এই বাহিনীই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডর মতো মানব ইতিহাসের জঘন্য কাজটি সম্পন্ন করে। [তৎকালীন] পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রসংঘের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী আল বদর ও আল শামস বাহিনীর আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।
খুব বেশি কিছু বলার নেই তখনকার আলবদর হাই কমান্ডের কেন্দ্রীয় কমিটির তালিকা দেখলেই এদের চেনা যাবে, এবং জানা যাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় জামায়াত ইসলামীর ভূমিকা।
১)মতিউর রহমান নিজামী- সমগ্র পাকিস্তান প্রধান
২)আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ পূর্ব পাকিস্তান প্রধান
৩)মীর কাশেম আলী- আল বদর বাহিনীর তৃতীয় স্থানীয় প্রধান নেতা
৪)মোহাম্মদ কামরুজ্জামান- বদর বাহিনীর প্রধান সংগঠক
৫)আশরাফুজ্জামান খান- ঢাকা শহর বদর বাহিনীর হাই কমান্ড সদস্য এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের প্রধান জল্লাদ
৬)মোহাম্মদ শামসুল হক- ঢাকা শহর প্রধান
৭) মোহাম্মদ ইউনূস
৮)আশরাফ হোসাইন- বদর বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা ও ময়মনসিংহ জেলা প্রধান
সংক্ষেপে কমিটির বাকীগুলার নাম দিয়ে দেই মোস্তফা শওকত ইমরান, আ.শ.ম. রুহুল কুদ্দুস, সরদার আব্দুস সালাম খুররম ঝা মুরাদ, আব্দুল বারী, আব্দুল হাই ফারুকী, আব্দুল জাহের মোহাম্মদ আবু নাসের, মতিউর রহমান, চৌধুরী মইনুদ্দীন (বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের অপরারেশন ইনচার্জ), নূর মোহাম্মদ মল্লিক, এ.কে. মোহাম্মদ আলী ও মাজহারুল ইসলাম।

১৪ই নভেম্বর ১৯৭১ তারিখে জামাতের মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকাতে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে নিজামী ঘোষণা দেন, “It is our conviction that the day is not far off when, standing side by side with our armed forces, our youth will raise the victorious flag of Islam the world over by defeating the Hindu Army and finishing off Hindustan” ।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

হিমু এর ছবি

ধন্যবাদ নজরুল ভাই। একটি মিথ যোগ করলাম। আমার মনে হয়, ৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে এমন একটি স্বতন্ত্র পোস্ট হতে পারে। তথ্যসূত্র কাম্য।



হাঁটুপানির জলদস্যু বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

ঠিক আছে, একটু গুছিয়ে তথ্যসূত্র যোগ করে আলাদা পোস্ট হিসেবেই দিবো এটা। ধন্যবাদ
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

তমাল [অতিথি] এর ছবি

আমি বাংলা ভাল টাইপ করতে যানি না। তাই কিছু ভুল হতে পারে। জামাত ১৯৭১ এ রাজনৈতিক ভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে। কাজেই ব্যাক্তি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সাথে সাথে জামাত সহ অন্যান্য ধর্ম ভিত্তিক দল যারা রাজনৈতিক ভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল সেই দল গুলোর বিচার হতে হবে এবং তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

জরুরি এই পোস্ট দেওয়ার জন্য হিমু ভাইকে ধন্যবাদ । নিরলসভাবে বরাহ/ছাগু নিধনে হিমু ভাইকে গুরু গুরু

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

স্পর্শ এর ছবি

প্রিয়তে চলুক


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অতিথি লেখক এর ছবি

অসাধারন পোস্ট। হিমুদাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। সংগ্রহে রাখলাম।

রানা মেহের এর ছবি

হিমু
রাজাকরদের বিচার নিয়ে কথা বলতে চাইলেই সবচেয়ে বড় সমস্যা সাধারণ ক্ষমা নিয়ে। এই অংশটা আরেকটু বিশদ ব্যাখ্যা করা যায়কি?
পুরো প্রেসনোটটা কোথায় পাওয়া যাবে?
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

টিউলিপ এর ছবি

List of collaborators

এখানে যুদ্ধাপরাধীদের একটি তালিকা আছে তাদের বর্তমান অবস্থানসহ, যদিও একটু পুরানো, ২০০৮ সালের।

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

একটা জামাতি প্রশ্ন প্রায়ই তোলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় নাকি ৩০ লাখ লোক নিহত হয় নি এবং ৩ লাখ নারীর সম্ভ্রমহানির ব্যাপারটিও সত্য নয়! পুরোটাই আওয়ামী প্রচার। অল্প কিছু হত্যা এবং নারী নির্যাতন হয়েছে, যেটা যেকেনো সাধারণ গৃহযুদ্ধেই হতে পারে। হিন্দুপ্রিয় আওয়ামী লীগ এবং ভারত নিজের স্বার্থে তথ্যসন্ত্রাস করেছে পাকিস্তানকে হটাবার জন্য। ভাইয়ে ভাইয়ে সম্পর্কে ফাটল ধরাবার জন্য। এই সময়ের অনেক তরুণ তরুণীই এই প্রশ্ন দ্বারা আক্রান্ত।

প্রচলিত উত্তর : জীবনেও আওয়ামী লীগের ধার ধারেন নি বা আওয়ামী লীগের ঘোর বিরোধী এরকম অনেক লেখকের বইতেই আশা করি এর ভালো তথ্য পাওয়া যাবে। আর ছবি তো রয়েছেই। বিদেশি লেখকদের বইও এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
বইয়ের নাম দেয়ার ক্ষেত্রে নজরুল ভাই এবং অন্যদের সহায়তা প্রত্যাশী। আমার হাতের কাছে একেবারই বইপত্র নেই।

আমার উত্তর : আমার মুখে কোনো উত্তর আসে না। ঠাডায়া চটকানা দিতে ইচ্ছা করে।
--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

টিউলিপ এর ছবি

এই লিংকে বাংলাদেশের গণহত্যার অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। আগ্রহীরা এখানেও যেতে পারেন। R. J. Rummel এর Statistics Of Pakistan’s Democide: Estimates, Calculations, And Sources এ বিষয়ে অনেক তথ্য আছে।

আসলে এই গণহত্যা এতি ব্যাপক যে একটু চেষ্টা করলেই অনেক তথ্য, ছবি, ভিডিও ফুটেজ বের হয়ে আসবে। নিতান্ত অন্ধ না হলে এই প্রশ্ন তোলার কথা না।

অতিথি লেখক এর ছবি

ইউরোপের জার্মানীসহ অনেকগুলো দেশে নাৎসিদের ইহুদী গণহত্যা অস্বীকার করার বিরুদ্ধে শক্ত আইন আছে। বাংলাদেশেও খুব দ্রুত এরকম আইন চালু করা উচিত। "মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ লোক মারা যাওয়াটা গুজব" - এই টাইপ কথা এখন অনেক বেশি শোনা যাচ্ছে।

--আশাহত

বর্ষা এর ছবি

হিমুকে ধন্যবাদ। টিউলিপ আপনি কি একটা আলাদা পোষ্ট দিতে পারেন না?
সচলে কি যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে লেখাগুলোর সংকলন বের হয়েছে?

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

টিউলিপ এর ছবি

বর্ষা আপু, ইচ্ছে আছে এই সবগুলো লিঙ্ক এক করে একটা পোস্ট দেয়ার, যাতে উইকিযুদ্ধের কাজ করাটা নতুনদের জন্য সহজ হয়। আশা করি আগামী সপ্তাহে সময় নিয়ে বসতে পারবো।

বর্ষা এর ছবি

ধন্যবাদ

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

রণদীপম বসু এর ছবি

এ পোস্টের জবাব নেই ! এটাকে সচলের কোথাও দীর্ঘস্থায়ীভাবে লটকে রাখার ব্যবস্থা করা হলে মনে হয় খুব খারাপ হবে না।

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

সুমন  [অতিথি] এর ছবি

সব গুলা মন্তব্য পরলাম. হিমু ভাই কে অনেক ধন্যবাদ......

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

রিলেটেড পোস্ট:

জামায়াতি মুখোশ খোলাতে তত্ত্ব সরকারকে ধন্যবাদ

মুক্তিযুদ্ধ করা রাজাকারের মিথ

খেলাকে রাজনীতির সাথে মিশাবেন না

পোস্টগুলোর চেয়ে আলোচনার মন্তব্যগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ওখানে বেশ কিছু বিষয়ে স্পষ্ট যুক্তি পাওয়া যাবে। একটু সময় করে সংক্ষেপে মূল জিনিসগুলো এই পোস্টের মন্তব্যে যোগ করে দেব।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

অতিথি লেখক এর ছবি

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তো আর আওয়ামী ইস্যু নারে কাকা। এইটা একটা পাবলিক ইস্যু।

চলুক বরাহশিকার জারি থাকুক।

সেই সাথে যেসমস্ত বুদ্ধিযুক্ত ছাগল ঐসব বরাহের কাজকর্মকে একটা ছদ্ম-বুদ্ধিবৃত্তিক ডিসকোর্সে রূপ দেয়ার জন্য ত্যানা প্যাচিয়ে মোটা করছেন, তাদের ত্যানা খুলে ন্যাংটা করাও জরুরী।

হিমু এর ছবি

আসাদ ভাই, যে বরাহের লিঙ্ক দিলেন, ওকে অনলাইন সমাবেশগুলোতে পাত্তা দিলেই ও পাত্তা পাবে। অনুরোধ থাকবে হাইপারলিঙ্ক যুগিয়ে এই ছাগুটাকে আর গাছে না তোলার।



হাঁটুপানির জলদস্যু বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

আসাদ [অতিথি] এর ছবি

লিংক মুছে দিয়ে তার ঠিকুজি উন্মোচন করতে পার। তাকে পাত্তা দেয়ার আমিও পক্ষপাতি না।

হিমু এর ছবি

ওর আর কিছু উন্মোচনের বাকি নাই। ও একটা নাঙ্গা ছাগু।

আপনার সাথে আমার পরিচয় নেই। অপরিচিত কাউকে আমি নিজেও চট করে তুমি সম্বোধন করি না, তাই একই ফেভার ফিরে পেতে ভালো লাগে। ধন্যবাদ।



হাঁটুপানির জলদস্যু বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

অতিথি লেখক এর ছবি

এখানে যতগুলো "মিথ", প্রশ্নের কথা বলা হয়েছে সবগুলোই শাক দিয়ে মাছ ঢাঁকার অপচেষ্ঠা। আমার বিশাস এবং আস্থা সরকার এই "শাক দিয়ে মাছ ঢাঁকা'র অপচেষ্ঠাকে" রুখতে/ মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে। এবং এই মিথগুলো শেষ-বিচারে জনগনের কাছে তেমন একটা গ্রহনযোগ্যতা পাবে না। সব অপচেষ্ঠাকে রুখতে সফল হলেও আমার কেন যেন মনে হয় ৫ নাম্বার মিথটার বেলায় সরকারকে একটু বেগ পেতে হবে। এমনকি সরকার এ ক্ষেত্রে সফল নাও হতে পারে। কারন মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে সৌদিআরবে এই মিথটাকে এমন ভাবে ছরানো হচ্ছে, বা আমার আর মাসুদের মতো মেংগো পাব্লিককে এমনভাবে খাওয়ানো হচ্ছে যাতে আমরা মনে করি যুদ্ধাপরাধী মানে জামাত, আর জামাত মানে ইসলাম, আর ইসলামকে শেষ করতে চায় কে? বাংলাদেশের জনগন নয়, আওয়ামীলীগ। এককথায় আওয়ামীলীগ "ইসলাম" এর শত্রু।
জামাতিদের সুদূর প্রসারী প্ল্যানগুলোর মধ্যে এইটা একটা। তারা আমাদের দুর্বলতাকে হাতিয়ার করে। এই ক্ষেত্রে আমাদের দুর্বলতা হলো সারা-বিশে প্রবাশী বাংলাদেশীদের ৮০%ই মধ্যপ্রাচ্যে। এই ৮০% প্রবাশীদের মধ্যে ৬০% কেও যদি কাজে লাগানো যায় বা তাদেরকে ব্যবহার করা যায় তাহলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকানো সম্ভব। তারা বুঝে ফেলেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাশীরা দেশে ফিরলে ( যদিও এর কোন ভিত্তি নেই) সরকার ব্যর্থ হতে বাধ্য।
এর বিপরীতে আমার মতামত হলো- মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাশীদের ঠ্যালা দেয়ে দেশে পাঠানো কী এতই সোজা। জাতিসংঘ আছে কী করতে?
@ মাসুদ,
আমিও সৌদিতে আছি। সৌদিতে বাংলাদেশীরা যে কী সমস্যায় আছি তা আপনি যেমন জানেন তেমনি আমিও ভালো করেই জানি। এই সমস্যাগুলির মূলে কিন্তু বাংলাদেশ সরকার নয়, আমরা নিজেরাই। আর যেখানে-সেখানে বিশেষ করে সৌদিতে বাংলাদেশীদের অবহেলা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার মূলে ৭৫'পরবর্তী অবৈধ সামরীক সরকার। ইচ্ছা করেই ঐ আলোচনায় যাচ্ছিনা, কারন এই পোস্টের সাথে অপ্রাসঙ্গীক।
সবশেষে, কৃতজ্ঞতা হিমুদার কাছে।
( বানান ভুল হলে ক্ষমা করবেন)
- বুদ্ধু

Parijat এর ছবি

facebook er status dilam eitukun (onumoti dia badhito krben)

"যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা না করা আওয়ামী লীগের একান্ত এখতিয়ার নয়। এটি বাংলাদেশের মানুষের দাবি ( অল্প কিছু সংখ্যক শুয়োরের বাচ্চা এই বিচারের বিরুদ্ধে)। অতীতে এ দাবি পূরণে ব্যর্থতার অর্থ এই নয় যে বর্তমানে তা পূরণ করা যাবে না।

http://www.sachalayatan.com/himu/29639"

আশাহত [অতিথি] এর ছবি

অত্যন্ত জরুরী এবং সময়োপযোগী একটি পোস্ট। ফেসবুক এবং এই রিলেটেড কয়েকটি গ্রুপে শেয়ার দিলাম।

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

উত্তম জাঝা...

রেজওয়ান এর ছবি

হিমুকে উত্তম জাঝা! এই পোস্টটা সেইভ করে রাখলাম। ছাগুপোন্দানীতে কাজে লাগবে।

আমার মনে হয় জনস্বার্থে ছাগুমনা লোকজনদের এধরনের কোন মিথ সম্বলিত পোস্ট থাকলেই কমেন্টে জবাব দিয়ে আসা উচিৎ। এও আরেক মুক্তিযুদ্ধ। এবং আমাদের নপুংশক থাকলে চলবে না। প্রতিটি প্রলাপের বিরুদ্ধেই জবাব দিতে হবে।

পৃথিবী কথা বলছে আপনি কি শুনছেন?

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

পোস্ট এবং ছাড়া-ছাড়া ভাবে (ভিন্ন ভিন্ন সময়ে) কমেন্টগুলো পড়েছি। সময়াভাবে মন্তব্য করা হয়নি। এধরনের একটি লেখা বরাহশিকারের প্রস্ততিপর্ব বলা যেতে পারে। এরকম লেখা এবং উৎসাহ জারী রাখা জরুরী। সরকারকে বুঝিয়ে দিতে হবে যে এই দাবী সত্যিকারের গণদাবী। তবে সরকারের উচিত সময়ক্ষেপণ না করে (আবার দায়সারা ভাবে শুরু করুক এটাই চাইনা) শক্ত প্রস্ততি নেয়া। বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো হওয়ার চেয়ে একটু দেরী হলেও গেরো যেন খুলে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরী।

ওডিন এর ছবি

চমৎকার! এখন একটা লিঙ্ক দিয়েই পাকমনপেয়ারু অজশাবকদের মুখে শিরীষ কাগজ ঘষে দেয়া যাবে। শয়তানী হাসি
______________________________________
যুদ্ধ শেষ হয়নি, যুদ্ধ শেষ হয় না

জুলিয়ান সিদ্দিকী এর ছবি

সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশীদের অধিাকংশই ৫অক্ত মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়েন। অর্ধেকেরও বেশি বাংলাদেশী সময় সুযোগে মক্কা-মদীনা তওয়াফ করে এসেছেন। আর তাদের অনেকেই জামাতী ইসলামকে ইসলামী দল বলে বিশ্বাস করেন। তাদের মানসিকতাও অনেকটা রাজাকারীয়। তাদের কারো কারো সাথে আমার কথা হয়েছে। এদের অনেকেই বলেছেন হিন্দুদের ক্ষতি তেমন একটা বড় ব্যাপার নয়। কারন ইসলামেই আছে যে অমুসলিমদের হত্যা অবৈধ নয়। (বোখারী-৩৯) আর মুসুল্লীরা্ও অনেকটা তাই বিশ্বাস করেন। আর জামাতীদের বিপক্ষ সরকার বলেই সৌদি সরকার বাঙালীদের প্রতি অনেকাংশে ক্ষুব্ধ কথাটি একেবারেই উড়িয়ে দেবার মত নয়।

এ প্রসঙ্গে বলা যায় আমাদের কোম্পানীর জিএম একদিন বলছিলেন যে, সৌদি আর পাকিস্তানী তার কোম্পানিতে সমান মর্যাদার অংশীদার।

আমি মনে করি কেবল আমাদের জিএম নয়, প্রতিটি সৌদি নাগরিকই হয়তো এমন একটি ধারনা পোষন করে। যে কারণে অমুসলিমদের নিধনে আরবদের সাহায্যপুষ্ট দলগুলোই ইসলামের নামে নানাবিধ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে।

প্রসঙ্গত বলতে চাচ্ছি যে, একাত্তরে যদি মুক্তিযোদ্ধারা কোনোক্রমে পরাজিত হতেন তখন আজকের রাজাকাররা পাকিস্তানের পক্ষে মুক্তিযোদ্ধা হতো আর আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানের পক্ষে হতেন রাজাকার। ইহুদীরা যেমন এখন্ও হিটলারের পক্ষে কেউ কিছু বললেও তাকে বিচারের সম্মুখীন করে, তেমনি মুক্তিযোদ্ধারা হেরে গেলে আজ কেবল মুক্তিযোদ্ধারাই নন, তাদের উত্তরসূরী তো বটেই কোনো মুক্তিযোদ্ধার আত্মীয় বলে পরিচিত কেউই হয়তো বিচার থেকে রেহাই পেতেন না। যুদ্ধাপরাধীদের মানসিকতা এখনও যতটা বাংলাদেশ আর স্বাধীনতা বিরোধী এতেই প্রতীয়মান হয় যে তারা খুব সহজেই বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু করবে না। কিন্তু আমাদের সরকার বা আমাদের অনেকেরই এখনো বোধোদয় হচ্ছে না যে, যুদ্ধাপরাধীরা কেন এখনো দলীয়ভাবে এতটা শক্তিশালী আর একাত্ম। তারা যতই স্বাধীনতার পক্ষে এখন বড়বড় কথা বলুক না কেন তাদের চরিত্র সামান্যতম বদল হয়নি। তাদের যদি বিনা বিচারে ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে হয়তো কোনো একদিন ভিন্নভাবে লিখিত হবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। আর তাদের অপকর্ম সবই রূপান্তরিত হবে সুকর্মে।

কাজেই যেভা্ই হোক কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষতি লাভ ভেবে তাদের বিচার প্রকৃয়াকে এড়িয়ে গেলে চলবে না। যে কেরেই হোক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অবশ্যই জরুরি। নয়তো বাংলাদেশের ইতিহাসকেই একদিন ওরা পদদলিত করবে। সুযোগ পেলে কি ওরা এখনও আমাদের ইতিহাসের মুখে থুতু ছুঁড়ে দিচ্ছে না?

ধন্যবাদ হিমু। আপনার পোস্টটি খুবই প্রয়োজন ছিলো।

.
____________________________________
ব্যাকুল প্রত্যাশা উর্ধমুখী; হয়তো বা কেটে যাবে মেঘ।
দূর হবে শকুনের ছাঁয়া। কাটাবে আঁধার আমাদের ঘোলা চোখ
আলোকের উদ্ভাসনে; হবে পুন: পল্লবীত বিশুষ্ক বৃক্ষের ডাল।

___________________________
লাইগ্যা থাকিস, ছাড়িস না!

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

(বোখারী-৩৯)
এটা কি ভলিউম? পূর্ণ রেফারেন্সটা কি দেয়া যাবে?

জুলিয়ান সিদ্দিকী এর ছবি

হাদিসের ক্রমানুসারে।

এটি পেয়েছি সৌদি আরবের বাংলা অনুবাদ সহ (ড. মজিবর রহমান) কোরানের একটি পৃষ্ঠায় টীকা হিসেবে। সেখানে নবির বক্তব্য হিসেবে বলা আছে যে, তারা (বিধর্মীরা) যতক্ষণ আমাদের মত কেবলামূখী না হয়, নামাজ না পড়ে... ততক্ষণ তাদের রক্ত আমাদের জন্য হারাম হবে না। এমনই ধরনের কথাগুলো।
.
____________________________________
ব্যাকুল প্রত্যাশা উর্ধমুখী; হয়তো বা কেটে যাবে মেঘ।
দূর হবে শকুনের ছাঁয়া। কাটাবে আঁধার আমাদের ঘোলা চোখ
আলোকের উদ্ভাসনে; হবে পুন: পল্লবীত বিশুষ্ক বৃক্ষের ডাল।

___________________________
লাইগ্যা থাকিস, ছাড়িস না!

ওয়াইল্ড-স্কোপ [অতিথি] এর ছবি

ভাই - কি বঙ্গানুবাদ পড়ছেন জানি না - এইখানে দেখেন: স্ক্রল করে ৩৯-এ যান - পুরাটাই উল্টা-পাল্টা বলছেন: ঘটনা কি?

অতিথি লেখক এর ছবি

পরলাম ।আসলে ই পুরাটাই উল্টা-পাল্টা

জলপুত্র তথাস্থু,

টিউলিপ এর ছবি

আরেকটা মিথ আছে, বরাহপোনারা এখন মুক্তিযোদ্ধাদের রাজাকারনিধনকেও যুদ্ধাপরাধের সাথে এক নিক্তিতে মাপার চেষ্টা চালাচ্ছে। সামুর ব্লগের নীড়পাতায় এক ছাগুর এই সংক্রান্ত একটি পোস্ট আমার গাত্রদাহের কারন।

যদিও জানি সামান্য বুদ্ধিমান কোন লোককেই ওই পোস্ট প্রভাবিত করবে না, তবুও মনে করিয়ে দিতে চাই আমাদের নীরবতার সুযোগেই ছাগু আর বরাহদের এত নর্তনকুর্দন।

সকল পুরাতন ও নব্য রাজাকার নিপাত যাক।

নৈষাদ এর ছবি

অপেক্ষা করে আছি...। চমৎকার পোস্ট। ধন্যবাদ আপনাকে।

অতিথি লেখক এর ছবি

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তো আর আওয়ামী ইস্যু নারে কাকা। এইটা একটা পাবলিক ইস্যু।

ফেবু তে শেয়ার করলাম ।

--

ইমতিয়াজ মির্জা ।

শেখ নজরুল এর ছবি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারপর সৌদি আরব সফরে গেলে একটি গুজব বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয় যে সৌদি আরব এই বিচারের বিরুদ্ধে। যদিও সৌদি সরকার কোনো বিবৃতি দেয়নি, এবং বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জোর গলায় এ কথা অস্বীকার করেছেন।

সৌদী আরব এ বিষয়ে বিবৃতি দেবে না। যা করার গোপনেই করবে। একটি বিষয় হয়তো সবার জনা যে, এই সৌদি আরব বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দিয়েছিলো ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টে।
ধন্যবাদ আপনাকে।
শেখ নজরুল

শেখ নজরুল

অতিথি লেখক এর ছবি

বেশ কয়েকদিন ধরে এই পোস্ট এবং কমেন্ট পড়ছি। অন্য সবার মত আমারও দাবি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তি। সহমত অবশ্যই।

একটা প্রশ্ন ঘুরঘুর করছে মনে, ধরা যাক মহাজোট সরকার বিচার শুরু করল, কিন্তু বিচার শেষ করে শাস্তি দিতে পারবে তো, আগামী ৪ বছরে?

তা না হলে, যদি ৪ দলীয় জোট আগামীতে ক্ষমতায় যায়, তাহলে রাজাকারগুলোকে যে দ্বিতীয়বার সসস্মানে ছেড়ে দেওয়া হবে সে বিষয় কি কারো সন্দেহ আছে? এরপরতো ওরা বলবে যে দেশে যে যুদ্ধাপরাধী নেই সেটা তো প্রমান হয়ে গেল।

এ বিষয়ে আপনাদের অভিমত কি?

###তাসনীম###

ওয়াইল্ড-স্কোপ [অতিথি] এর ছবি

এরপরতো ওরা বলবে যে দেশে যে যুদ্ধাপরাধী নেই

বলা কি বাকি রাখছে নাকি? এখনি তো রাজাকারগুলো তাই দাবি করে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

একটা অনুরোধ করছি। এই পোস্ট, এর কমেন্টগুলোতে এবং এই জাতীয় অন্য পোস্টগুলোতে যে প্রশ্নগুলো ও তাদের উত্তর পাওয়া গেল (এবং যাবে) সেগুলোকে একসাথ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটা ই-বুক বানিয়ে ক্রিয়েটিভ কমন্সে ছেড়ে দিন। আমরা নিজ উদ্যোগে প্রিন্ট আউট নিয়ে, ফটোকপি করে বা স্ক্রীন প্রিন্ট করে হাতে হাতে এটা ছড়িয়ে দেব। এটা একটা অসম্ভব জরুরী কাজ।

সামনে বই মেলা আসছে, তখন এটা কোনভাবে বুকলেট আকারে ছাপিয়ে বিনামূল্যে/শুভেচ্ছামূল্যে বিতরণ করতে হবে। স্কুল-কলেজের ক্যান্টিন-ক্লাসরুম, হাসপাতাল-স্টেশনের ওয়েটিং রুম, ব্যাঙ্ক-বীমার লাইনে দাঁড়ানো মানুষ সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে। খবরের কাগজের সাথে ফ্রি কপি হিসাবে বিতরণ করা যেতে পারে। সাধারণ মানুষের মনে এতগুলো বৎসরে যে সন্দেহের ধোঁয়াশা তৈরি করা হয়েছে তা দূর করতে হবে। বিচারকর্ম ও কঠোর শাস্তির যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

রাজিব মোস্তাফিজ [অতিথি] এর ছবি

সহমত--খুবই ভালো প্রস্তাব।

স্পর্শ এর ছবি

চলুক


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অতিথি লেখক এর ছবি

অতি উত্তম প্রস্তাব!

-- আশাহত

অতিথি লেখক এর ছবি

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কোনো দলের দাবি কখন ও ছিল না এখন ও নাই ।
এইটা দেশের দাবি।এই দেশের সাথে যে বেহায়াপানা করা হয়েছে , দেশ তার বিচার চায়।এটা দেশের মাটির দাবি।

এই পোস্ট, এর কমেন্টগুলোতে এবং এই জাতীয় অন্য পোস্টগুলোতে যে প্রশ্নগুলো ও তাদের উত্তর পাওয়া গেল (এবং যাবে) সেগুলোকে একসাথ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটা ই-বুক বানিয়ে ক্রিয়েটিভ কমন্সে ছেড়ে দিন। আমরা নিজ উদ্যোগে প্রিন্ট আউট নিয়ে, ফটোকপি করে বা স্ক্রীন প্রিন্ট করে হাতে হাতে এটা ছড়িয়ে দেব। এটা একটা অসম্ভব জরুরী কাজ।

সুন্দর প্রস্তাব পাণ্ডব দা । সাথে আছি ।
জলপুত্র তথাস্থু,

আলমগীর এর ছবি

পোস্টটা কয়েক বার পড়ে গিয়েছি কিন্তু ইতিহাসে বিস্তর জ্ঞান নেই বলে কোন কিছু যোগ করার সাহস করিনি। নেটে যে প্রোপাগান্ডা দেখি তাতে ২নং মিথটা বেশী দেখা যায়।

এ প্রসঙ্গে আমার চিন্তাটুকু রেস্ট্রিক্ট করে দিচ্ছি।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন। মন্তব্য বা পোস্ট রেস্ট্রিক্ট করা যায় কীভাবে?



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

আলমগীর এর ছবি

লেখার যে অংশটুকু গোপন করতে চান, সিলেক্ট করে টুলবারে রেস্ট্রিক্ট বাটনে টিপ দিন। এতে সে অংশটুকু [ restrict ] যা গোপন করতে চান। [/ restrict ] ট্যাগের মধ্যে চলে আসবে।

এ পদ্ধতি ফুলপ্রুফ না। ফুলপ্রুফ করতে হলে ম্যানুয়ালি কোড দিতে হয়:

[ restrict:roles=মডুরাম,লেখক,গর্ভনর,*,অতিথি]

যা গোপন করতে চান।

[ /restrict]

ট্যাগের আগে স্পেস দিয়েছি যাতে আমার উদাহরণকে কমান্ড না মনে করে। ব্যবহারের সময় স্পেস মুছে দিতে হবে।

আলমগীর এর ছবি

সূত্রটা পেলাম, যদিও একজনের কমেন্ট মাত্র। এখানে।

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

দেরীতে মন্তব্য করলাম হাসি

এমন ফাটাফাটি একটা পোস্টের জন্য তোমাকে কিছু একটা খাওয়াইতে মন চাচ্ছে। খুবই সুন্দর, সবকিছু এক জায়গায় জড়ো করেছো।

পোস্ট সবার কমেন্ট পড়ি নাই, তবে কারো কারো কমেন্ট থেকে মনে হল রসদ নিয়ে পোস্টটা আরেকটু সম্পাদনা করা যেতে পারে।

প্রভুখন্ড!

বটগাছ এর ছবি

একাত্তরে আমেরিকা আমাদের বালটাও ছিঁড়তে পারে নাই। আর এখন ছাগুগুলা মধ্যপ্রাচ্যের দোহাই দিচ্ছে।

ইবরাহিম যুন [অতিথি] এর ছবি

সচেতনতা বাড়াতে হবে সচেতন ভাবেই, যা সত্যি তা ছড়িয়ে দিতে হবে সর্বস্তরে... কোটি মানুষের তীব্রতাকে পৃথিবীর কোন প্রান্তে বাঁধ দিতে পেরেছে কখনো ?---- নো শর্টকাট।

ইবরাহিম যুন

অতিথি লেখক এর ছবি

পোস্টটাকে নীড়পাতায় স্থায়ী জায়গা দেয়া হয়েছে দেখলাম। একটু বানানভুল চোখে পড়ল মনে হল। "প্রশ্নত্তোর" হবে, না "প্রশ্নোত্তর"? ইয়ে, মানে...

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

নগদে প্রিয়তে। এবার যেহেতু একটা গনরব ঠিক মতো উঠেছে, এটাকে আর ছাড়া যাবেনা। এবার বরাহ গুলোকে শিকার করতেই হবে।

রেজওয়ান ভাইয়ের সাথে আমিও একমত - এই পোষ্টটি ছাগু পোন্দাতে বেশ আরাম দেবে।

===============================================
রাজাকার ইস্যুতে
'মানবতা' মুছে ফেলো
টয়লেট টিস্যুতে
(আকতার আহমেদ)

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

শেহাব [অতিথি] এর ছবি

বস এই পোস্টটি দেখেন। দৈনিক সংগ্রামের লেটেস্ট ফাজলামো

http://www.somewhereinblog.net/blog/omarshehabblog/29076766

রাহাত-ই-আফজা এর ছবি

জরুরি এই পোস্ট দেওয়ার জন্য হিমু ভাইকে ধন্যবাদ ।

হামিদুর রহমান পলাশ এর ছবি

আপনার তথ্যমূলক পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ। অনেক কিছু জানতে পারলাম।আমার ভাবনাটুকুও শেয়ার করলাম।

ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ধর্মীয় গোড়ামী দুটি পাশাপাশি চললে আমরা কখনোই ধর্ম বিশ্বাসকে পরিপূর্ণ ভাবে আমাদের মাঝে ধারন করতে পারব না। ধর্ম বিশ্বাসকে ধারন করতে ধর্মীয় গোড়ামী থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। আমাদের দেশে এখনও অনেকে জেনে বুঝেই ধর্মকে পুঁজি করে ব্যবসা করছে।

ধর্মের লেবাশে আবদ্ধ মুখোশধারী জামাত-শিবির কতটা ধূর্ত তার কিছু বাস্তব চিত্র আমার এ লেখায় ফুটে উঠবে। জামাত-শিবিরের টার্গেট বরাবরই দরিদ্র পরিবারের মেধাবীদের প্রতি। জামাত-শিবিরের সাথীরা তাদের উর্ধ্বতন নেতাদের নির্দেশে দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মা-বাবাকে প্রথমে ধর্মের কথা বলে তাদের দুর্বল করে তার পারিবারিক অবস্থা জেনে নেয়। প্রথমে সুন্দর সুন্দর ধর্মীয় কথা বার্তা বলে তাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে। ধর্মীয় ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের মনকে দুর্বল করে আসল উর্দ্দেশের পথে অগ্রসর হয়। অনেকটা আধুনিক বাংলা উপন্যাসের অন্যতম প্রবক্তা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ও তার উপন্যাস লালসালুর মতো। ওয়ালীউল্লাহর অন্য দু'টি উপন্যাস "চাঁদের অমাবশ্যা" ও "কাঁদো নদী কাঁদো"। তিনটি উপন্যাসেরই মূল ভিত্তি "ভয়ভীতি"। ধর্মপ্রান মানুষকে শোষনে ভয় ভীতির কোন বিকল্প নেই। ভয়ে মানুষের চিত্ত দূর্বল হয়, সিদ্ধান্তে আসে জড়তা। বিবেচনাবোধ দ্বিধাগ্রস্থ হয়। যুগে যুগে স্বেচ্ছাচার ও স্বৈরাচার সাধারনের নিপীড়নে "ইস্তেমাল" করেছেন ভয়-ভীতি। বিভিন্ন আনুষাংগিক ভয়ই মানুষকে টেনে নেয় দাসত্বের দূয়ারে।

সমস্ত পৃথিবী জুড়ে ধর্ম ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক সংগঠন জামাত "ইসলামের" নামে একই কাজ করছে। অবশ্য বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন নামে জামাতের ধর্ম বানিজ্য। বাংলাদেশে "ডেডিকেটেড" সদস্য-হান্টাররা সমাজে ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে "আর্বিভূত" হয়। একদল "পাকিস্তানী সুন্নতী লেবাসে" থাকেন আল্লাহর ঘরের দখলে। গেল শতাব্দীর চল্লিশ শতকের সংস্করনের দেওবন্দী কেতাব ও "মুসলমান পাকিস্তানের" রাষ্ট্রদ্রোহী আবুল আলা মওদুদীর "ঘৃনার" উচ্চারন গিলে উনারা আলেম সাজেন। জনগনের দেয়া মসজিদ নির্মাণের অর্থ ও এতিমখানা-মক্তবের জন্যে ধর্মপ্রানদের দান আত্মসাতের মধ্য দিয়ে উনাদের সুন্দর "ক্যারিয়ারের" সূচনা। অথচ এরাই "আল্লাহর আইন আর সৎ লোকের শাসন চায়"। পবিত্র মাদ্রসায় "এতিম" বাচ্চাদের সমকামী ধর্ষনের মধ্য দিয়ে উনাদের "বিদ্যা" পরিপূর্নতা পায়। এই শ্রেণীর ''জামাত'' হচ্ছে 'নমশুদ্র' শ্রেণীর জামাত। মুক্তমনা- প্রগতিশীল ধর্মপ্রান মুসলমানদের নিয়মিত মসজিদে যাতায়েত ঠেকানোই এই "পাহারাদার" শ্রেণীর জামাতের কাজ। এরা দৃশ্যমান জামাত।

আরেক দল ইংরেজী- আরবী-বাংলা শিক্ষিত হয়ে প্রকাশ্যে "দ্বীন-ইসলামের বাণী" বিতরণে নামে। উনারা "রোকন"। উনারা প্রকাশ্যে থাকেন দলীয় রাজনীতিতে। অপ্রকাশ্যে থাকেন "জামাতের" বিভিন্ন অপ্রদর্শিত ব্যবসায়। জামাতের ব্যবসার লোভী হাত সর্বত্র। প্রকাশ্যে ব্যাংক-বীমা-কিন্ডারগার্টেন-মুদ্রন-চিকিৎসা-এনজিও বিভিন্ন বৈধ বানিজ্যের পাশাপাশি জামাতের এই শিক্ষিত শ্রেণী থাকেন বিভিন্ন অপকর্মের লীডারশীপে ও লিয়াজোঁতে। এই তালিকায় আছে অস্ত্র ব্যবসা, কন্ট্রাক কিলিং, বস্তিতে বস্তিতে মাদক সরবরাহ, বার্মা সীমান্তের অবাধ চোরাচালান, মধ্যপ্রাচ্যে "নারী মাংস" সরবরাহ ইত্যাদি এবং এসব কিছুই হয়ে থাকে 'পবিত্র ইসলামের" নামে। বাংগালী কাফেরদের দেশে সব না-জায়েজই 'জায়েজ" ফতোয়ার জোরে। কোথাও কোন ব্যাপারে এদের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ উঠলে "বিদ্রোহ- বেয়াদবী' দমনে ফতোয়াবাজীতে মত্ত হয় জামাত। এই শ্রেনীর কাছে 'পরকালের চেয়েও মূল্যবান ইহকালীন প্রাপ্তি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাতী শিক্ষকরা নবী পত্মী বিবি খাদিজার নামের ছাত্রীবাস নির্মামানের প্রস্তাব ছুঁড়ে ফেলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে ছাত্রীবাস নির্মানের ইহকালীন প্রাপ্তিতে। নারী নেতৃত্ব "হারাম" হলেও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে 'হালাল" হয় ইহজাগতিক স্বার্থে মন্ত্রীত্ব লাভের আশায়।ব্যাংকের নিষিদ্ধ 'সুদ" হারাম বলে প্রচার করে ধর্মপ্রান সাধারন মুসলমানদের বিভ্রান্ত করে জামাতীরা মগ্ন হয় ইসলামী ব্যাংকের লভ্যাংশের ভিত্তিতে ঋন গ্রহনে। কিন্তু মাদ্রাসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত জামাতীরা রাষ্ট্রীয় সুদ-বানিজ্যের সোনালী ব্যাংকের প্রভিডেন্ট ফান্ডের ''সুদ" গ্রহনে দ্বিধাম্বিত হয় না। আমি কখনো শুনিনি লভ্যাংশের ভিত্তিতে ঋন দেওয়া ইসলামী ব্যাংক কারো অসফল ব্যবসার ভাগিদারী হয়েছে।

মাহফুজ খান এর ছবি

বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমা বিষয়ক প্রশ্নটা খুব বেশী শুনি যখনই যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে কোন তর্ক হয়। এই ব্যপারে স্বতন্ত্র ও বিস্তারিত একটা পোস্ট দিলে ভালো হত। শেয়ার দিলাম স্ট্যাটাসে প্রেসনোটটা কপি মেরে।


বরাহশিকার কোন খেলা নয় বরং এটা প্রত্যেক দেশপ্রেমী বাঙ্গালীর পবিত্র দায়িত্ব

তারেক আল ইসলাম এর ছবি

হিমুদা,
পোস্ট টি নোটস আকারে ফেবুতে একটি পেজে দিতে চাই, মূল সূত্র হিসাবে পোস্টটির লিঙ্ক শুরুতেই দেয়া থাকবে। আপনার সবিনয় অনুমতি প্রার্থি।
ধন্যবাদ।

সাফি এর ছবি

পোস্টের লিঙ্কটাই পোস্ট করুন না!

তারেক আল ইসলাম এর ছবি

ধন্যবাদ।
ওই পেজে শুধু লিঙ্ক নিরুতসাহিত করা হচ্ছে। এর কারন ও আছে। লিঙ্ক ধরে অনেকেই আরেক সাইটে গিয়ে পড়তে চায়না আজকাল। নোটসের শুরুতেই লেখকের নাম সহ এই পোস্টের লিঙ্ক দেয়া থাকবে। এধরনের অতি প্রয়োজনীয় লেখা যতোবেশি সহজলভ্য করা যায়। যতো বেশী মানুষের নাগালে পৌছে দেয়া যায় সেটাই করাই জরুরী বোধহয়। দয়া করে অনুমতি দিয়ে বাধিত করবেন। ধন্যবাদ আবারো।

সাফি এর ছবি

অনুমতি দেওয়ার আমি কেউ না, লেখকের নিজস্ব ব্যাপার। আপনার বর্ণিত পেজটা কৌতুহল জাগাচ্ছে, লিঙ্ক দেওয়া যাবে?

তারেক আল ইসলাম এর ছবি
সাফি এর ছবি

ধন্যবাদ। আমি লেখকের কাছে আপনার অনুরোধটুকু পৌছে দিয়েছি।

তারেক আল ইসলাম এর ছবি

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

হিমু এর ছবি

ফেসবুকে আপনার নোটটা পড়ার জন্যে একটা লিঙ্কে ক্লিক করেই তো ঢুকতে হবে লোকজনকে। যারা একটা লিঙ্ক ক্লিক করে কোনো কিছু পড়তে চায় না, তাদেরকে নোট লিখে কিছু কি বোঝানো যাবে?

এই পোস্টের জন্য অনুমতি দিচ্ছি। আপনাকে ধন্যবাদ।

তারেক আল ইসলাম এর ছবি

হিমুদা, কথা সত্য। তারপর ও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। সেই সাথে সাফি ভাইকেও ধন্যবাদ।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।