বেতো ঘোড়ার কালচার দৌড়

মাহবুব লীলেন এর ছবি
লিখেছেন মাহবুব লীলেন (তারিখ: রবি, ২৭/০৯/২০০৯ - ৪:১৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

একদিন যারা মেরেছিল তারে গিয়ে
রাজার দোহাই দিয়ে
তারাই আবার ফিরিয়া আসিছে আজি
মন্দিরেতে বসিছে ভক্ত সাজি...

কথাগুলো এদিক সেদিক হবার ভয় থাকলেও যীশুকে নিয়ে লেখা গানটা রবীন্দ্রনাথের। সংস্কৃতি নিয়ে কোথাও আলাপ শুনলে কেন যেন বারবার এই গানটার কথাই আমার মনে পড়ে যায়। যে রোমানরা যীশুকে হত্যা করল তক্তা ফিটিং দিয়ে; কিছুদিন পরে তারাই হয়ে গেলো যীশুর সোল এজেন্ট। যদিও অনুমান করি কথাগুলো রবীন্দ্রনাথ ক্ষোভ থেকেই বলেছিলেন। কিন্তু আমার ধারণা সব সময় সবখানেই নতুনকে বুড়োদের পিটানো ক্ষেদানো আর নতুনকে নতুনদের মাথায় তুলে রাখা কিংবা গলায় ঝুলিয়ে হাঁটার ইতিহাস পুরোটাই যেন রবীন্দ্রনাথ বেখেয়ালে ঢুকিয়ে দিয়েছেন এই চারটা লাইনে...

পৃথিবীতে বোধহয় এমন কোনো পরিবর্তন কিংবা মোড় নেই যা বুড়োদের লাঠির বাড়ি খায়নি। আর বোধহয় এমন তরুণ খুবই কম আছে যে নিজে বুড়ো হবার পর আরেকটা নতুনের সামনে লাঠি তুলে দাঁড়ায়নি

বিষয়টা অনেকটা জন্মের পর থেকে মায়ের হাতের রান্নায় অভস্থ মুখে নতুন বৌয়ের রান্না পছন্দ করতে না পারা আবার বছরের পর বছর বৌয়ের রান্না খেতে খেতে ছেলে বৌয়ের রান্নায় অস্বস্তি লাগার মতো ব্যক্তিমানুষের অভ্যাস কিংবা সীমাবদ্ধতা বদলাতে না পারার মতো নৈমিত্তিক ঘটনা। তা হোক ধর্ম- ভাষা- বিপ্লব। হোক পোশাক আচরণ ঘরবাড়ি ফার্নিচার টেকনলজি কিংবা খাবার...

কিন্তু মানুষের বোধহয় বিশাল একটা মানবিক ঝামেলা হচ্ছে নিজেকে আনফিট ভাবতে পছন্দ না করা কিংবা করতে না পারা। আর এরকম ঘটলেই সে হেডমওয়ালা হলে লাঠি উঠায় আর হেডম না থাকলে হাউকাউ করে গেলো গেলো জাত গেলো বলে...

আশপাশে প্রায়ই নাক সিটকানি শুনি- নতুন পোলাপান ভাষা বদলে দিচ্ছে এটা ঠিক না। গান বদলে দিচ্ছে এটা উচিত না। পোশাক চেঞ্জ করে ফেলেছে এটা খুবই খারাপ। জাতে বেজাতে বিয়ে শাদি করে জাতিধর্ম নাশ করে দিচ্ছে এটা অন্যায়...

তখন তাদেরকে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে পৃথিবীতে এমন কোনো জাতি ভাষা আচরণ পোশাক কি আছে যা না বদলে জাদুঘরের বাইরে কোথাও টিকে? অথবা তারা কি মনে করে যে যদি বদলাতে না পারে তাহলে কি আদৌ টেকার কোনো সম্ভাবনা আছে কোনো জাতি কিংবা ভাষার?

বাঙালি জাতিটা একটা বারো মিশেল রক্তের উত্তরাধিকার। বাংলা ভাষাটা নিজস্ব ব্যাকরণের ভেতর শতশত ভাষার একটা সমন্বয়। বাঙালি শাড়ি লুঙ্গি ধুতি গামছা নেংটি ব্লাউজ কোনটা কোন জাতি থেকে এসছে কয় বাঙালি তার হিসাব করে? কয়টা গায়েন হিসাব রাখে একতারা দোতারা বেহালা হারমোনিয়াম তবলা বায়া নাকাড়া কোনটা কোন সংস্কৃতি থেকে ধার করা?

ওসব হিসাব করে না কারণ বাপ দাদারাও এসবে অভ্যস্থ ছিল। তার একটু খটকা লাগে আপত্তি লাগে অনভ্যস্থ লাগে ইলেকিট্রক ঢোল কিংবা হারমোনিয়ামে। তখন সে মিনমিন করে বলে- বাউল গানে সঙ্গে ড্রাম যায় না; কীবোর্ড বাজানো ঠিক না...

এখন প্রত্যন্ত গ্রামের দাদি নানীরাও ব্লাউজকে শাড়ির সাথের অনিবার্য অংশ মনে করেন। অথচ একশো বছরও হয়নি বাঙালিদের মধ্যে যখন ব্লাউজের প্রচলন হয় তখনকার ছি ছি আমরা জানি। কাটা লুঙ্গি আর সেলাই করা লুঙ্গির মারামারি পঞ্চাশ বছর আগেও ছিল

আমরা ওদিকে কিন্তু তাকাই না। কারণ ওগুলোতে জন্ম থেকে আমরা অভ্যস্থ। আমরা হৈচৈ করে উঠি যেগুলোর সাথে তাল মেলাতে পারি না। যে নতুন ভাষা বোঝে না সে ফতোয়া দেয়- ভাষার মধ্যে বিদেশি শব্দ ঢোকানো না জায়েজ। যার নিজের কান নতুন সুর বুঝতে পারে না সে বিধান দেয়- এইগুলান অপসংস্কৃতি...

গল্পকার মহসিন হাবিব একবার সৈয়দ শামসুল হককে বলেছিলেন- হক ভাই। কম্পিউটারে কবিতা গল্প লিখতে গেলে আমার অস্বস্তি লাগে। মনে হয় কম্পিউটার ক্রিয়েটিভ লেখার জন্য না

সৈয়দ হক উত্তরে বলেছিলেন- কালিদাসের হাতে ফাউন্টেনপেন ধরিয়ে দিলে তিনিও কিন্তু একই কথা বলতেন...

আমার মনে হয় পরিবর্তনের সাথে মানুষের ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার বিষয়্টা এক বাক্যে বলে দিয়েছেন সৈয়দ হক। আসোলে আমরাই পারি না। প্রতিদিনই আমরা একদিন করে প্রাচীন হই আর একটা করে শিশু পরিবারের সীমানা ছাড়িয়ে স্বতন্ত্র তরুণে পরিণত হয়। স্বতন্ত্র হয় তার নিজের ভাষায় নিজের যোগ করা শব্দে। নিজের শরীরে নিজের ডিজাইন করা পোশাকে; সে স্বতন্ত্র হয় তার নিজের তোলা সুরে তালে লয়ে... এবং একদিন আবার সেই তরুণ তার স্বাতন্ত্রের মধ্যেই প্রাচীন হয়ে আটকা পড়ে যায় নিজের সীমারেখায় আর তখন কোনো নতুন তরুণ সেই সীমারেখা ভেঙে স্বতন্ত্র হতে গেলেই পুরোনো তরুণটা তার বাপদাদার কণ্ঠে চিৎকার দিয়ে উঠে- সামলাও সামলাও গেলো। ডুবিয়ে দিলো সব...

বাংলাভাষায় বুদ্ধিদীপ্তভাবে সংযোজন করা শব্দগুলোর মধ্যে আমার কাছে সবচে অর্থবহ শব্দ মনে হয় সংস্কৃতি শব্দটাকে। ইংরেজি কালচার শব্দটার প্রতিশব্দ হিসেবে তখন ব্যবহার করা হতো কৃষ্টি। ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় এর প্রতিশব্দ করলেন সংস্কৃতি। আর এর ব্যাখ্যা দিলেন- যা সংস্কার করে গৃহীত হয়েছে তাই সংস্কৃতি। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো আমরা সংস্কৃতি শব্দটাকে ব্যবহার করেই সংস্কৃতির সংস্কার বিরোধীতার মতো গোাঁড়ামি করে বসি হামেশাই...

ইংরেজিতে বিন্দুমাত্র দখল না থেকেও সাম্প্রতিককালে আমার ভাত খেতে হয় ইংরেজি ভাষা বিক্রি করে। এই ফেরিওয়ালাগিরি করতে গিয়ে অবাক হয়ে খেয়াল করলাম মাত্র গত দশ বছরে মোবইল এসএমস আর নেটচ্যাট ইংরেজির শব্দ-বানানতো অবশ্যই; বৃটিশদের তৈরি অত বছরের গ্রামারের মূল ভিতটাও নাড়িয়ে দিয়েছে ভয়ানকভাবে...
ভাষা মানুষের সাথে যোগাযোগের জন্য। ভাষা দিয়ে মানুষকে বোঝাতে পারলে- যোগাযোগ করতে পারলে বাকি সব গ্রামার বানান নিয়ম সবকিছুই ফালতু বিষয়...

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্য সব পথ প্রায় বন্ধ হয়ে য্ওায়া বৃটিশরা এখন উঠেপড়ে লেগেছে বিদেশে ইংরেজি বিক্রি করে কিছু আয় ইনকাম বাড়াতে। কিন্তু তার জন্য ইংরেজ ভাষা বিজ্ঞানীরা গুগলে ঢুকে ইংরেজি শিখছে নতুন করে। নেট থেকে চুরি করছে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের নিজস্ব ইংরেজির চ্যাট আর ইমেইল রেকর্ড। ইউরোপে সিম্পল ম্যান বললে গরিব লোক বোঝালেও বাংলাদেশে এসে তারা শিখে নিচ্ছে সিম্পল ম্যান মানে সহজ সরল শ্রদ্ধা করার মতো মানুষ। তারা শিখে নিচ্ছে ইউরোপে পাবলিক মানে সম্মানীত জনগণ বোঝালেও বাংলাদেশে পাবলিকের মানে তুচ্ছ আমজনতা। শিখে নিচ্ছে ইউরোপের পাবলিক সার্ভিসের বাংলাদেশি ইংরেজি হলো গভমেন্ট সার্ভিস...

এবং বাংলাদেশে এসে বাঙালিদের কাছ থেকে ইংরেজি শিখে ইংরেজরা বাঙালিদের শেখাচ্ছে ইংরেজি ভাষা। সম্ভবত এটাই ভাষার মূল বৈশিষ্ট্য। ভাষা কোনোদিনও একটার সাথে আরেকটা মিশে যায় না। বরং বছরে বছরে অঞ্চলে অঞ্চলে আলাদা হতেই থাকে। বর্তমান অনেকেই বাংলার সাথে ইংলিশ মিশেল দিলেও কোনোদিনও বাংলাভাষার ইংরেজি হয়ে যাবার কোনো সম্ভাবনা দেখি না আমি। বাংলিশ হবারও না। বাংলাই থাকবে। ঠিক যেমন রবীন্দ্র লালন বাউল নতুন সুরে নতুন যন্ত্রে গাইলেও থেকে যাবে বাংলার গান; নতুন মানুষের জন্য নতুনভাবে

হয়তো সেই ভাষা সেই সুর আমি বুঝব না; বাতের ব্যথা আক্রান্ত মগজ আর অত দৌড়াতে পারবে না নতুন গতির সাথে। কিন্তু আমার কি কোনো অধিকার আছে কোনো বাঙালিকে বলার যে তোমরা পেছনে তাকিয়ে হাঁটো?

২০০৯. ০৯. ২৭ রোববার


মন্তব্য

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

দুর্দান্ত চলুক
................................................................................................
খাদে নামতে আজ ভয় করে, নেই যে কেউ আর হাতটাকে ধরা ...

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

খুবই সহজ ভাষায় দেখিয়ে দিলেন সংস্কৃতির আসল চেহারাটা।
যা কিছু প্রবহমান তাই যে সংস্কৃতি তা অনেকেই বুঝতে চায় না।
............................................................................................

আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ ব'সে অপেক্ষা করার সময় আছে।

এনকিদু এর ছবি

হয়তো সেই ভাষা সেই সুর আমি বুঝব না; বাতের ব্যাথা আক্রান্ত মগজ আর অত দৌড়াতে পারবে না নতুন গতির সাথে। কিন্তু আমার কি কোনো অধিকার আছে কোনো বাঙালিকে বলার যে তোমরা পেছনে তাকিয়ে হাঁটো?

আহা, এইটা যদি সবাই বুঝত ।


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

রাকিব সুলতান এর ছবি

চমতকার!

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

যে নতুন ভাষা বোঝে না সে ফতোয়া দেয়- ভাষার মধ্যে বিদেশি শব্দ ঢোকানো না জায়েজ। যার নিজের কান নতুন সুর বুঝতে পারে না সে বিধান দেয়- এইগুলান অপসংস্কৃতি...

অত্যন্ত অযৌক্তিক সমীকরণ। ভাষার মধ্যে বিদেশি শব্দ ঢোকানো না ঢোকানোর চয়েস কারো নিজস্ব রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী থেকেই নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। এর সঙ্গে বোঝা কিংবা না বোঝার তো কোনো সম্পর্ক দেখি না। এক হতে পারে আপনি অপসংস্কৃতি বলে কিছুতে বিশ্বাস করেন না। সেটা এক বিতর্ক। আবার কেউ বিশ্বাস করে, এবং কোনো এলিমেন্টকে অপসংস্কৃতি বলে মনে করেন। এটা আরেক বিতর্ক। নতুন সুর বোঝা না বোঝার সঙ্গে এর বিন্দুমাত্র সম্পর্ক আছে বলে তো মনে হয় না। আপনার বক্তব্য থেকে মনে হয়েছে, কোনো কিছু নিয়ে কোনো স্ট্যান্ড নিতে হলে সেটি বোঝা জরুরী। আচ্ছা মানলাম তা। কিন্তু যারা 'অপসংস্কৃতি' (সেটা যাই হোক না কেন, এবং সেটাকে যেকোনো ভাবে সংজ্ঞায়িত করার অধিকার তার থাকে) বিরোধিতা করছে তারা বেবাকেই 'অবুঝ' এটা একটা অত্যন্ত টোটালিটেরিয়ান স্টেটমেন্ট। আপনি তাদের মনোভঙ্গী বোঝাতে যে 'ফতোয়া' বা 'বিধান' এর উল্লেখ করেছেন এই দুই শব্দই হয়ত আপনার লেখার বেলাতেই খাটে।

ভাষা মানুষের সাথে যোগাযোগের জন্য। ভাষা দিয়ে মানুষকে বোঝাতে পারলে- যোগাযোগ করতে পারলে বাকি সব গ্রামার বানান নিয়ম সবকিছুই ফালতু বিষয়...

নিশ্চয়ই। কিন্তু, আপনিই এর পরের প্যারায় ভাষা কী করে নব্যসাম্রাজ্যবাদী পুঁজির ধারক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সে-বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন। ভাষা যখন বিক্রি হচ্ছে তখন তাকে নিছক 'যোগাযোগের মাধ্যম' হিসেবে গন্য করা হয় খুবই নাঈভ স্টেটমেন্ট। নয়তো, ভীতপ্রদভাবে স্ববিরোধী।

রবীন্দ্র লালন বাউল নতুন সুরে নতুন যন্ত্রে গাইলেও থেকে যাবে বাংলার গান; নতুন মানুষের জন্য নতুনভাবে

একমত। কিন্তু 'নতুন মানুষের জন্য' এবং 'নতুনভাবে' যখন বললেন তখন সংস্কৃতির প্রবহমানতা, গতিশীলতা, পরিবর্তনশীলতার কথাই মনে হবে। সমস্যা অন্যত্র। 'বাংলার গান' কথাটার মধ্যে আমি কেন যেন একটা স্থবির নস্টালজিয়ার গন্ধ পেলাম। বিষয়টা কি আমার সমস্যা ? না আপনার কথা বুঝি নি?

রবীন্দ্রনাথের গান যে কেউ যেকোনো ভাবে গাওয়ার অধিকার রাখে। নতুন পোলাপানের ভাষা নিয়েও আমার আপত্তি নাই। কিন্তু, 'এদিক সেদিক হয়ে যাওয়ার ভয় নিয়ে' আমি অন্তত রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধৃত করব না। এতে আমাকে প্রাচীনপন্থী ভাবতেই পারেন। আমি তৈরি।

আপনার লেখা ভাবালো।

বাংলাদেশে একদল শুদ্ধাচারী সংস্কৃতিব্যবসায়ী রয়েছেন। আমি তাদের দলে নই। আমি 'শুদ্ধ'তায় বিশ্বাসও করি না। আমি বিশ্বাস করি সততায়। বাউল গানকে আমি যখন গাইব, যেভাবে খুশি গাইব, যা খুশি বাজাব, সবার ভালো লাগবে, কিংবা সবার খারাপ লাগবে, কিংবা ভালো-খারাপ মিশিয়ে মিশ্র রিঅ্যাকশন আসবে, আমার কিছু যায় আসবে না। এটাই আমার স্বাধীনতা। শিল্পীর জন্মগত অধিকার। কিন্তু মুশকিল হল - আমি একে আর 'বাউল গান' বলব না। অথিন্টিসেটির ক্লেইম না বাণিজ্যও করব না। আর মনে রাখব কী বাউলিয়ানা কী ফকিরি কোনো পদ কিংবা বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একধরণের জীবনচর্যা। সেটা আমার কাছে ফালতু লাগতে পারে। ওয়াও ! কী এক্সোটিক! এমনটাও লাগতে পারে। শ্যালো লাগতে পারে। স্পিরিচুয়ালি সাব্লাইম লাগতে পারে। সাম মিস্টিক মজনু শাহের লিরিক্সে আমি গান করতেই পারি। কিন্তু আমি নিজেকে বাউল কিংবা ফকির বলে দাবি করতে পারি না। আমার গানকেও পারি না। কারণ - এগুলো আদৌ কোনো 'সমঝদারি'র বিষয়ই না। এগুলো আচরিত জীবনদর্শন। অনেকেই বিষয়দুটোকে গুলিয়ে ফেলেন (আপনি ফেলেছেন এটি কিন্তু আমি বলছি না)। তাই ভয়!

আপনা লেখা খুব জরুরী একটা ভয় দেখাল। তাই ধন্যবাদ।

: ::: ::: ::: ::: ::: ::: ::: ::: ::: ::: ::: ::: ::: ::: ::: :
'Cinema is over' - Master Godard


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

মাহবুব লীলেন এর ছবি

ভাষার মধ্যে বিদেশি শব্দ ঢোকানো না ঢোকানোর চয়েস কারো নিজস্ব রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী থেকেই নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। এর সঙ্গে বোঝা কিংবা না বোঝার তো কোনো সম্পর্ক দেখি না।

অনিন্দ্য

ভাষার মধ্যে শব্দ ঢোকানো না ঢোকানোর নিয়ন্ত্রণ কিংবা সুযোগ রাজনৈতিক কিংবা অন্য যে কোনোভাবেই হতে পারে অবশ্যই। আমার প্রসঙ্গটা ছিল ভাষায় নতুন শব্দ প্রবেশ নিয়ে। তার প্রক্রিয়া কিংবা উপায় নিয়ে না। তাই এইটুকুর সাথে সম্পূর্ণ একমত

আর এখন বুঝতে পারছি বোঝা শব্দটা কিছু ভুলবোঝাবুঝির তৈরি করেছে
এটা হয়েছে আমার সংক্ষেপে বাক্য তৈরির বদ অভ্যাসের কারণে (যদিও বাক্য প্রায়ই বিশাল লম্বা হয়ে যায়)

এখানে বোঝা দিয়ে আয়ত্ন অনায়ত্ব; পছন্দ অপছন্দ কিংবা স্বাচ্ছন্দ পুরোটাই বুঝিয়ে ফেলতে চাচ্ছিলাম তাই ভুল বোঝার তৈরি করেছে অনেকটা

এবং শাব্দিক অর্থে বোঝা না বোঝা নিযে আপনার বক্তব্যের সাথে আমার কোনো দ্বিমত নেই

০২

এক হতে পারে আপনি অপসংস্কৃতি বলে কিছুতে বিশ্বাস করেন না।

এক্ষেত্রে আমি কনফিডেন্টলি কনফিউজড

০৩

ভাষা যখন বিক্রি হচ্ছে তখন তাকে নিছক 'যোগাযোগের মাধ্যম' হিসেবে গন্য করা হয় খুবই নাঈভ স্টেটমেন্ট। নয়তো, ভীতপ্রদভাবে স্ববিরোধী।

ভাষা কিন্তু যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেই বিক্রি হচ্ছে। সাহিত্যের জন্য নয়

০৪

'বাংলার গান' কথাটার মধ্যে আমি কেন যেন একটা স্থবির নস্টালজিয়ার গন্ধ পেলাম। বিষয়টা কি আমার সমস্যা ? না আপনার কথা বুঝি নি?

বদেল যাবার পরে এইভাষার গানের নাম কী হবে সেটা অনুমান করতে না পারার জন্যই কিন্তু বাংলার গান শব্দটা ব্যবহার করেছিলাম

করেছিলাম বর্তমানের ভাষা দিয়ে বর্তমানের মানুষকে বিষয়টা বোঝাতে (নাকি যোগাযোগ?)

হয়তো বদলে যাবার পরে এর নাম বাংলার গান থাকবে না। অন্যকিছু হবে

০৫

কিন্তু, 'এদিক সেদিক হয়ে যাওয়ার ভয় নিয়ে' আমি অন্তত রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধৃত করব না। এতে আমাকে প্রাচীনপন্থী ভাবতেই পারেন। আমি তৈরি।

আমি কিন্তু 'খাতা দেখে গান করো না/উল্টে পাতা যেতেও পারে' এই থিওরিতে বিশ্বাসী

রবীন্দ্রনাথকে আমি কাগজের পাতায় নয় মগজে ধারণ করায় পক্ষপাতী বলে কাগজকেন্দ্রিক বাক্য-শুদ্ধতার চেয়ে তার বাণীকে আমি নিজের মতো ব্যবহারের অধিকারী দাবি করি

এতে রবীন্দ্রনাথের ভাষা আমার সিলেটি উচ্চারণে বদলে যাওয়াকে আমি যেমন লজ্জার মনে করি না তেমনি স্বাভাবিক স্মৃতি দুর্বলতায় শব্দ এদিক সেদিক হয়ে যাওয়াকেও আমি দোষের মনে করি না

আমি শুধু দেখি তার যে বাণী আমি ধারণ করেছি সেটা আমি প্রকাশ করতে পারছি কি না

০৬

বাউল গান। বাউল ফকির এই নাম কিংবা পরিচয় সংক্রান্ত আপনার প্রসঙ্গগুলোয় আমার মতামত ০৪ নম্বর পয়েন্টের হুবহু...

০৭

আপনা লেখা খুব জরুরী একটা ভয় দেখাল

আপনার এই ভয় থেকেই হয়তো আমার কনফিউশনগুলো দূর করার একটা উপায় পেয়ে যাবো একদিন...

হাসান মোরশেদ এর ছবি

অনিন্দ্য রহমানের মন্তব্যের সাথে দারুন সহমত।
নিজের মতো চলার, বলার, করার, দেখার স্বাধীনতা মানুষের আছে-থাকা উচিত কিন্তু তার চেয়ে জরুরী উচিত এতে অন্যের অধিকার খর্ব হচ্ছে কিনা ভেবে দেখে।
ধরো, আমার যেমন খুশী ভাবে ও ভাষায় কবিতা লেখার অধিকার আছেই। কিন্তু বাজারে আমার চেয়ে মাহবুব লীলেন কবি হিসেবে অধিক আদৃত বলে তার কবিতা আমি আমার মতো যাচ্ছেতাই করে ফেলার অধিকার নিশ্চয়ি তুমি দিচ্ছোনা।

লালনের কিংবা ধরো আব্দুল করিমের গান তো শুধু টেক্সট নয়- এর পেছনে দর্শন আছে, রাজনীতি আছে, জীবনধারা আছে। আমি ঐ দর্শনে নেই, রাজনীতিতে নেই, জীবনধারায় নেই- কেবল নিজের এন্টারটেইনমেন্ট এর উপযোগ হিসেবে তাদের টেক্সট ধার করে চালিয়ে দিলাম নিজের মতো- এটা অন্যায্য নয়?

সৈয়দ শানূর এর গান পথিক নবীর কন্ঠে শুনে আঁতকে উঠেছিলাম। পথিক নবী কিংবা অমুক তমুক নিজেদের মতো গাইতে পারেন কিংবা অন্যের গান তাদের অনুমতি ছাড়া সুর ও কথা বিকৃত করা-এটাকে কিন্তু সংস্কৃতির বহমনতার দোহাই দিয়ে জায়েজ করা যায়না।

অনাচার যুগে অনেক কিছুই স্বাভাবিক হয়ে যায় কিন্তু সময়ে বিচারে কিছু ন্যায় অন্যায় থেকে যায়ই, তাইনা?

যীশুকে পিটিয়ে মারার পর রোমানরা আবার সাম্রাজ্য বাড়ানোর জন্য যে যীশুর মুর্তি গড়ে- সে আর যেই হোক নাজারাতের যীশু থাকেনা।
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

s-s এর ছবি

চলুক

মাহবুব লীলেন এর ছবি

নিজের মতো চলার, বলার, করার, দেখার স্বাধীনতা মানুষের আছে-থাকা উচিত কিন্তু তার চেয়ে জরুরী উচিত এতে অন্যের অধিকার খর্ব হচ্ছে কিনা ভেবে দেখে

মোরশেদ

পৃথিবীর কঠিনতম সত্য হচ্ছে সংস্কৃতি অন্যের অধিকার দেখে না
অন্যের অধিকার দেখার দায় রাজনীতির...

০২

ধরো, আমার যেমন খুশী ভাবে ও ভাষায় কবিতা লেখার অধিকার আছেই। কিন্তু বাজারে আমার চেয়ে মাহবুব লীলেন কবি হিসেবে অধিক আদৃত বলে তার কবিতা আমি আমার মতো যাচ্ছেতাই করে ফেলার অধিকার নিশ্চয়ি তুমি দিচ্ছোনা।

যতদিন পর্যন্ত আমি ব্যক্তি লীলেনই শুধু লেখাগুলোর মালিকানার দাবিদার থাকবো কিংবা অন্য কেউ লেখাগুলোকে ব্যক্তি আমার সম্পত্তি হিসেবেই দেখবে ততদিন পর্যন্ত দিতে আমার কষ্ট লাগবে কিংবা আমার শুভাকাঙ্ক্ষিরা আপত্তি করবেন

কিন্তু যখন এটা জনগণের মালিকানা হয়ে যাবে
তখন কিন্তু এটা বদলাবার অধিকারও জনগণের থাকবে
এবং তখনই এটা হয়ে উঠবে সাংস্কৃতিক ঐহিত্য

আমরা যে মুখে মুখে শ্লোক বলি। খনার বচন বলি প্রবাদ বলি
নিঃসন্দেহে সেগুলো কোনো না কোনো রচয়িতা একসময় রচনা করেছিলেন

কিন্তু সেই শ্লোক প্রবাদ খনার বচনগুলো যখন আমরা ঢাকা সিলেট চট্টগ্রাম নোয়াখালি বরিশালে আলাদা আলাদা ভাষায় আলাদা আলাদা ভার্সনে শুনি তখন কিন্তু কেউই বদলে গেছে কিংবা বদলে ফেলেছে বলে চিৎকার দেই না

কারণ আমরা ওগুলোর ক্ষেত্রে বিশ্বাসে পৌঁছাতে পেরেছি যে ওগুলো জনগণের সম্পত্তি। জনগণ তার ভাষার মতো তার সুবিধামতো ওগুলো বদলাতে পারে

আর এই কারণে ওগুলোর রচয়িতার নামটাও আমরা যেমন জানতে চাই না
তেমনি ভাবতেও চাই না ওই শ্লোকগুলো রচয়িতা কোন অঞ্চলের ভাষায় রচনা করেছিলেন
আর তার মৌলিক শুদ্ধতা কোনটা?

০৩


লালনের কিংবা ধরো আব্দুল করিমের গান তো শুধু টেক্সট নয়- এর পেছনে দর্শন আছে, রাজনীতি আছে, জীবনধারা আছে। আমি ঐ দর্শনে নেই, রাজনীতিতে নেই, জীবনধারায় নেই- কেবল নিজের এন্টারটেইনমেন্ট এর উপযোগ হিসেবে তাদের টেক্সট ধার করে চালিয়ে দিলাম নিজের মতো- এটা অন্যায্য নয়?

এন্টারটেইনমেন্ট অন্যায় হবে কেন?
আজকে যে বাঙালিরা রোজা রেখে না রেখে ইফতার করে
ঈদ করে
পূজা না করেও পূজার বেড়ানোতে যায়

এই আচরণগুলোর সাথে তো অনুষ্ঠানগুলোর দার্শনিক যোগ নেই
কিন্তু মানুষ এগুলো করে করতে ভালো লাগে বলে
তার মানে এন্টারটেইমেন্ট

আর কোনো দর্শন যদি দর্শন হারিয়ে শুধুই এন্টারটেইনমেন্টে পরিণত হয় তাহলে অবশ্যই বুঝতে হবে ওই উপাদানের দর্শন অংশটা তার উপযোগীতা হারিয়ে ফেলেছে

টিকে আছে শুধু তার বিনোদন অংশটা
সেই বিনোদন নিতে আপত্তি কোথায়?

লালন সাঁই যে বিনয় করে/ সিরাজ সাঁইয়ের পায়
স্বামী মারিলে লাথি/ নালিশ করিব কোথায়?

কিংবা

রাখিলেন সাঁই কূপজল করে
আন্ধেলা পুকুরে

লালনের এই দর্শনগুলোতে আজকের যুগে তুমি বিশ্বাস করো?
করে কেউ?

কিন্তু তারপরেও এই গানগুলো আমরা হামেশাই গাই
গাই দর্শনের জন্য না
গাই বিনোদনের জন্য

০৪

সৈয়দ শানূর এর গান পথিক নবীর কন্ঠে শুনে আঁতকে উঠেছিলাম। পথিক নবী কিংবা অমুক তমুক নিজেদের মতো গাইতে পারেন কিংবা অন্যের গান তাদের অনুমতি ছাড়া সুর ও কথা বিকৃত করা-এটাকে কিন্তু সংস্কৃতির বহমনতার দোহাই দিয়ে জায়েজ করা যায়না।

আমার ০২ পয়েন্টটাই এই প্রসঙ্গে আমার মতামত

০৫


অনাচার যুগে অনেক কিছুই স্বাভাবিক হয়ে যায় কিন্তু সময়ে বিচারে কিছু ন্যায় অন্যায় থেকে যায়ই, তাইনা?

ন্যায় কিংবা অন্যায় কোনোটাই সময়ের বিচারে মুলত থাকে না
সময় সবকিছুকেই ন্যায় অন্যায় বিবেচনার উর্দ্ধে তুলে নিয়ে নতুন একটা গ্রহণযোগ্য বৈধতা কিংবা অবৈধতা দেয়

ন্যায় অন্যায় সব সময়ই বর্তমানের বিষয়
অতীত কিংবা ভবিষ্যতে এর কিছুই করার নেই

০৬

যীশুকে পিটিয়ে মারার পর রোমানরা আবার সাম্রাজ্য বাড়ানোর জন্য যে যীশুর মুর্তি গড়ে- সে আর যেই হোক নাজারাতের যীশু থাকেনা।

যীশুর জীবনী লিখে যীশুর পূজা চালু করে যারা যীশুকে প্রমোট করেছে তাদেরই কিন্তু অধিকার আছে যীশুকে বদলাবার
ওখানে যীশুর কোনো সুযোগ নেই কোনো কৃতিত্ব দাবি করার কিংবা কোনোকিছুতে আপত্তি করার

হাসান মোরশেদ এর ছবি

লীলেন ভাই,
তুমি কি সংস্কৃতি ও এর প্রবাহমানতা, বদল, বিলুপ্তি এগুলোকে রাজনীতি নিরপেক্ষ বলতে চাইছো? এই যে মার্কেজ দক্ষিন আমেরিকার লেখক হয়ে ও স্পেনিশ লিখেন, নাইপল-রুশদী'রা ইংরেজী লিখেন এর মধ্যে রাজনীতি নেই? ইউরোপীয়ানদের দখলদারিত্বে এশিয়া, আফ্রিকা,আমেরিকা,অস্ট্রেলিয়ার কতো কতো জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি বদলে গেলো এর মধ্যে বলছো রাজনীতি নেই? এই জনপদের পুরুষরা ধুতি ছেড়ে লুঙ্গি পড়লো,সিলেটীরা যে বাবার দরগার মোমবাতি জ্বালায় এ ও তো রাজনীতির ইতিহাস-

সংস্কৃতির বদল, বিলুপ্তি,টিকে থাকা নিয়ে তুমি যা বলছো সেটা সার্ভাইবেল অফ ফিটেষ্ট। রক্ষনাবেক্ষনের কিছু নেই, স্বাতন্ত্র্যের কিছু নেই- শক্তি থাকলে টিকে থাকলো না হলে ফুরিয়ে যাও। এই থিওরী ঠিকাছে, এটি বাস্তব কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এর মধ্যে সুক্ষ বর্বরতা ও আছে যা ফেরানো না গেলেও সমর্থন করা প্রশ্নসাপেক্ষ।

আর সংস্কৃতি প্রসংগে আসলে কার ফিটনেস প্রমানিত হয়? স্পেনিয়ার্ডদের দখলদারিত্বে ল্যাটিন আমেরিকার নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষা বিলুপ্ত হয়ে গেলো- এতে কি ল্যাটিন ভাষা ও সংস্কৃতির তুলনায় স্পেনিশ ভাষা ও সংস্কৃতির উৎকর্ষ প্রমানিত হলো নাকি তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তির? আমাদের আগ্রাসনে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর যে সংস্কৃতি বিলুপ্ত হলো তা আমাদের চেয়ে লো-কোয়ালিটির ছিলো বলে নাকি ক্ষমতা আমাদের হাতেই বলে? হিন্দী যদি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির দখল নেয় সেটা কি বাংলার চেয়ে হিন্দীর উৎকর্ষতা নাকি হিন্দী'র বাজার উপযোগীতা প্রমান করবে?

ইসলামী তমুদ্দূনের জোশে নজরুলকে কেটে ছিড়ে ইসলামী কবি বানানোর যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো- প্রতিরোধ না হলে তো সেটাই প্রতিষ্ঠিত হতো। এ সময়ে ও লালনের মতো অসাম্প্রদায়িক বাউলকে মুসলমান পীর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হয়।

আমি যদি আমার সংস্কৃতির কোন উপাদানকে শুভ জ্ঞান করি এবং এই সত্য জানি যে রাজনীতি, অর্থনীতির মতো সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ও দখল হওয়ার ও দখল করার মতো ব্যাপার আছে তাহলে সার্ভাইবেল অফ ফিটেস্ট এর মতো আপ্তবাক্য আউড়ে সেই শুভ বোধগুলোকে দখল হতে দিলে আখেরে কার লাভ হয়?
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

মাহবুব লীলেন এর ছবি

তুমি কি সংস্কৃতি ও এর প্রবাহমানতা, বদল, বিলুপ্তি এগুলোকে রাজনীতি নিরপেক্ষ বলতে চাইছো?

অবশ্যই না
রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং সাংস্কৃতিক রাজনীতি দুটোর অস্তিত্ব আর সম্পর্ক কোনোভাবেই বোধহয় এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব না আমি বিশ্বাস করি

০২

আইন বিপ্লব জবরদখল কিংবা জোর করে সংস্কৃতির বদলটা কিন্তু মোরশেদ সংস্কৃতির কৃত্রিম উপায়ে পরিবর্তন

স্বাভাবিক গতির পরিবর্তন না

আমার লেখাটাতে আমি সংস্কৃতির কৃত্রিম পরিবর্তনটা বাদ দিয়ে স্বাভাবিক পরিবর্তনটা নিয়ে প্রসঙ্গগুলো এগিয়েছি। যার কারণে কৃত্রিম উপায়ে পরিবর্তনগুলো এখানে আসেনি

না হলে এই ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আমার মতামত গোছানো না হলেও তোমারটা থেকে আলাদা না বোধহয়

০৩

আমি যদি আমার সংস্কৃতির কোন উপাদানকে শুভ জ্ঞান করি এবং এই সত্য জানি যে রাজনীতি, অর্থনীতির মতো সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ও দখল হওয়ার ও দখল করার মতো ব্যাপার আছে তাহলে সার্ভাইবেল অফ ফিটেস্ট এর মতো আপ্তবাক্য আউড়ে সেই শুভ বোধগুলোকে দখল হতে দিলে আখেরে কার লাভ হয়?

বিষয়টা বোধহয় আমি কিছুটা রিয়েলাইজ করি কিন্তু এর পরের ধাপ মানে এক্ষেত্রে কী করা উচিত সে ব্যাপারে আমি সম্পূর্ণ কনফিউজড

কাজী আফসিন শিরাজী এর ছবি

আগুনেরকুপ! লেখার প্রতি পরতে গতি, যুক্তি আর দর্শন। আমার সবচেয়ে প্রিয় ও কৌতুহলপূর্ণ বিষয় নিয়ে লিখা। মাহামতি লীলেন প্রনাম।
____________________
জ্বলছে জলজ মূর্খ ফুল...

স্পর্শ এর ছবি

এই বিষয়টা ভাবাচ্ছিলো কিছুদিন ধরে। আপনার মূলভাব ধরতে পেরেছি বোধ হয়। দারুণ সহমত। চলুক


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

উদ্ভ্রান্ত পথিক এর ছবি

দারুন লেখা!! একটানে পড়ে গেলাম!!

---------------------------
আমার ফ্লিকার

---------------------
আমার ফ্লিকার

জি.এম.তানিম এর ছবি

ভীষণভাবে সহমত।
-----------------------------------------------------------------
কাচের জগে, বালতি-মগে, চায়ের কাপে ছাই,
অন্ধকারে ভূতের কোরাস, “মুন্ডু কেটে খাই” ।

-----------------------------------------------------------------
কাচের জগে, বালতি-মগে, চায়ের কাপে ছাই,
অন্ধকারে ভূতের কোরাস, “মুন্ডু কেটে খাই” ।

রণদীপম বসু এর ছবি

দারুণ পোস্ট !

তবে একটা বিষয় ভাবছি। আমার কাছে মাহবুব লীলেনের একটা ছবি আছে। ছবিটার চোখ, নাক, মুখ, ঠোঁট এগুলোকে অন্য একটা ছবির মধ্যে এডিট পেস্ট করে নতুন একটা ছবি বানালাম। প্রত্যঙ্গগুলো কিন্তু ঠিকই রেখেছি। ছবির পরিচয়টা কি মাহবুব লীলেনই হবে ?
আমার প্রিয় একটি রবীন্দ্র সংগীতের বাণীকে প্রিয় একটা পল্লীগীতির সুরে বসিয়ে স্বাধীনভাবে প্রাণভরে গাইলাম আমি। অত্যন্ত বিনোদন পাইলাম এতে। ওটা কি রবীন্দ্র সংগীত থাকবে ?

বৃত্ত ভেঙে নিযত বয়ে চলার অবিরল ধারাই আধুনিকতা, এটা আমি বিশ্বাস করি। এবং আমি পুরাতনকে অস্বীকার করে নতুনকে স্বাগত জানানোর আধুনিকতায় প্রচণ্ডভাবে আস্থাশীল। কিন্তু ঐতিহ্য হিসেবে যা ধারণ করে আছি, যা আমার সংস্কৃতিগত পরিচয়, তা সংরক্ষণ না করে উপরন্তু বিকৃত করে উপস্থাপন কি আধুনিকতার অঙ্গ হবে ?

এসব ছোটখাটো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর কিঞ্চিৎ সুরাহা বাকি রয়ে গেলো যে ?

লেখাটা ভাবনায় নিয়ে নাড়াচাড়া করা জরুরি মনে করছি। পোস্টে পঞ্চতারকা।

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

মাহবুব লীলেন এর ছবি

আমার কাছে মাহবুব লীলেনের একটা ছবি আছে। ছবিটার চোখ, নাক, মুখ, ঠোঁট এগুলোকে অন্য একটা ছবির মধ্যে এডিট পেস্ট করে নতুন একটা ছবি বানালাম। প্রত্যঙ্গগুলো কিন্তু ঠিকই রেখেছি। ছবির পরিচয়টা কি মাহবুব লীলেনই হবে ?

কেন নয় স্যার?

শিশির ভট যখন নাকমুখ থেবড়ে লেপ্টে হাসিনা খালেদা এরশাদ আঁকেন তখন কিন্তু আমরা ওই কাটুনগুলোকে ঠিকই হাসিনা খালেদা এরশাদ হিসেবেই মেনে নেই

হাসিনা খালেদা এরশাদরাও মেনে নেন

এবং সবাই বিনাবাক্যে শিশির ভটকে শিল্পী হিসেবেও মেনে নেই

তাহলে?

০২

আমার প্রিয় একটি রবীন্দ্র সংগীতের বাণীকে প্রিয় একটা পল্লীগীতির সুরে বসিয়ে স্বাধীনভাবে প্রাণভরে গাইলাম আমি। অত্যন্ত বিনোদন পাইলাম এতে। ওটা কি রবীন্দ্র সংগীত থাকবে ?

তখন হয়তো ওটা রবীন্দ্র সংগীত থাকবে না। রবীন্দ্রগীতি হবে কিংবা অন্য নতুন কোনো নাম হবে

আমার কাছে যদি তার সুর গ্রহণযোগ্যতা হারায় কিন্তু বাণী গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখে তবে আমি তার বাণী নিয়ে নতুন সুরে গাইব এটাই স্বাভাবিক

আর যদি তার কোনো বাণী গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে সুর গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখে তবে সেই সুর নিয়ে অন্য কোনো বাণীর উপর চড়াবো

এটাইতো স্যার সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের সরল প্রক্রিয়া

০৩


ঐতিহ্য হিসেবে যা ধারণ করে আছি, যা আমার সংস্কৃতিগত পরিচয়, তা সংরক্ষণ না করে উপরন্তু বিকৃত করে উপস্থাপন কি আধুনিকতার অঙ্গ হবে ?

স্যার
যত যাই বলি না কেন
শেষ পর্যন্ত কিন্তু ঐহিত্য সংরক্ষণ বলতে যা বোঝায় তা হয় জাদুঘরে; জীবনে নয়। চর্চায় নয়

তালপাতার পুঁথি
বাঁশের কলম জীবনেও আর জনজীবনে ফিরে আসবে না

ওগুলোকে আমরা সংরক্ষণ করে রেখেছি দেখানোর জন্য যে- আমরা একদিন ওরকম ছিলাম...

কিন্তু কোনোদিনও আর চর্চা করব না
এটাই সত্য

আর শুদ্ধতা এবং বিকৃতি জিনিসগুলো কি খুব বেশি আপেক্ষিক না?
এক সমযে যাকে বলা হয় বিকৃতি অন্য সময়ে কি সেটাকেই গণ্য করা হয় না স্বাভাবিক হিসেবে

মানুষের ইহিতাসে এই সমীকরণের ব্যতিক্রম কি দেখা যায় খুব একটা স্যার?

নৈষাদ এর ছবি

লীলেন ভাই, কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে কয়েকবার পড়লাম আপনার লেখাটা। ভাল লাগল, কিন্তু খটকা থেকেই গেল। কোন এক বিচিত্র কারনে আপনার অন্যান্য লেখাগুলো থেকে আলাদা মনে হল। পরিবর্তনের ব্যাপারে সৈয়দ হকের উপমাটা চমৎকার লাগল। সংস্কৃতি শব্দের উৎপত্তির বিষয়টা জেনে ভাল লাগল।

আপনি ভাষার যাদুকর। আপনার সাথে ভাষা নিয়ে তর্ক করার ধৃষ্টতা আমার নেই। তারপরেও আমার উপলব্ধি খুব সরলভাবে (নাইভ) লিখলাম।

আপনার লেখার কিছু অংশ… আশপাশে প্রায়ই নাক সিটকানি শুনি- নতুন পোলাপান ভাষা বদলে দিচ্ছে এটা ঠিক না। ………। … যে নতুন ভাষা বোঝে না সে ফতোয়া দেয়- ভাষার মধ্যে বিদেশি শব্দ ঢোকানো না জায়েজ……। … ভাষা মানুষের সাথে যোগাযোগের জন্য। ভাষা দিয়ে মানুষকে বোঝাতে পারলে- যোগাযোগ করতে পারলে বাকি সব গ্রামার বানান নিয়ম সবকিছুই ফালতু বিষয়...

আমার ধারনা আপনার অবস্থান যেথেতু শিল্প, সাহিত্যের খুব কাছাকাছি, আপনার আশেপাশের মানুষের ভাষার সাথে আমার (করপোরেট!!) আশপাশের মানুষে ‘ভাষার’ কিছুটা ব্যবধান আছে। পরিবর্তনটা কিন্তু আনছে আমার কাছাকাছি মানুষেরা।

১। আমার আশেপাশের কিছু কিছু নতুন প্রজন্মের ‘পোলাপানের’ প্রচুর ইংরেজী মিশ্রিত এবং ইংরেজী উচ্চারণের বাংলা ভাষা আমি কিন্তু এখন বোঝতে পারি। কিন্তু আমার ধারনা এই পরিবর্তন চলতে থাকলে আমাদের ৮০% আম-জনতা এই ভাষা আর বোঝতে পারবে না। ভাষা যদি মানুষের সাথে যোগাযোগেরই মাধ্যম হয় তবে এই ভাষা কার জন্য? ইংরেজী ভাষাভাষীদের জন্যও না আবার সব বাংলাদেশীদের জন্যও না। এটা কি ভাষাকে উন্নত করছে? নাকি একটা ভাষা-ভিত্তিক শ্রেণী তৈরী করছে? (এই শ্রেণীর ব্যাপারে আমার আরও কয়েকটা উপলব্ধি আছে, এখানে প্রযোজ্য না।) বোঝাতে পারলাম কিনা জানিনা।

২। স্বকীয়তা কি কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার? দিনের শেষে কি আমাদের গর্ব করার মত কিছু থাকবে? আপনি কি জানেন বাংলাদেশে এমন যুক্তরাজ্যের কোম্পানী আছে (আমি কাজ করেছি) যারা তাদের যোগাযোগের ব্যাপারে কখনো একটিও যুক্তরাষ্ট্রের বানানের আদলে লেখা একটি বাননও গ্রহনযোগ্য মনে করেনা/বা সহজকরনের চেষ্টা করে না। (আনন্দবাজার পত্রিকার রবিবসরীয়তে বাংলা এবং ইংরেজী ভাষার একটা তুলনা পড়েছিলাম, ইন্টারনেটে এখন খোঁজে পেলাম না… মনে হয় একজন মিঃ কলিম… লিখেছিলেন)। লিংক্টা দিতে পারলে কিছু কথা যোগ করা যেত।

৩। হয়ত বলবেন খোদ ইংরেজী ভাষায় প্রতিবছর প্রচুর বিদেশী শব্দ যুক্ত হয়। যে পরিমানে বিদেশী শব্দ যুক্ত হয় তার প্রযোজ্যতা কত ব্যাপক, শব্দগুলো পড়লেই জানতে পারবেন।

দেখুন আমি কিন্তু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু পরিবর্তন কিছুটা গাইডেড হতে হয়। লীলেন ভাই, আবারও বলছি, আপনারা ভাষার ব্যাপারে ফাইন্যাল আথরিটি। আমি শুধু আমার উপলব্ধি বললাম।

মাহবুব লীলেন এর ছবি

আমার আশেপাশের কিছু কিছু নতুন প্রজন্মের ‘পোলাপানের’ প্রচুর ইংরেজী মিশ্রিত এবং ইংরেজী উচ্চারণের বাংলা ভাষা আমি কিন্তু এখন বোঝতে পারি। কিন্তু আমার ধারনা এই পরিবর্তন চলতে থাকলে আমাদের ৮০% আম-জনতা এই ভাষা আর বোঝতে পারবে না। ভাষা যদি মানুষের সাথে যোগাযোগেরই মাধ্যম হয় তবে এই ভাষা কার জন্য? ইংরেজী ভাষাভাষীদের জন্যও না আবার সব বাংলাদেশীদের জন্যও না। এটা কি ভাষাকে উন্নত করছে? নাকি একটা ভাষা-ভিত্তিক শ্রেণী তৈরী করছে? (এই শ্রেণীর ব্যাপারে আমার আরও কয়েকটা উপলব্ধি আছে, এখানে প্রযোজ্য না।) বোঝাতে পারলাম কিনা জানিনা।

ভাষা সব সময়ই শ্রেণীকেন্দ্রিক কমিউনিটিকেন্দ্রিক এবং স্তরভিত্তিক
এটা তৈরিও হয় এইভাবে। ব্যবহৃতও হয় একইভাবে

সিলেটের লোকরা সিলেটের লোকদের সাথে যোগাযোগের জন্যই তৈরি করেছে সিলেটি উপভাষা
চট্টগ্রামের লোকরা চট্টগ্রামের ভাষা

আর সিলেট চট্টগ্রাম বরিশাল নোয়াখালি রংপুরের মানুষরা যোগাযোগের জন্য তৈরি করেছে প্রমিত বাংলা ভাষা

প্রত্যেকেই কিন্তু কার সাথে কমিউনিকেট করছে সেটা বিবেচনা করেই ভাষা নির্বাচন করে

একই লোক নোয়ালিতে গিয়ে বলে নোয়াখালি। ঢাকায় এসে বলে অন্য ভাষা আবার বিদেশে গিয়ে আয়ত্ব করে নেয় কিংবা ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো ভাষা

বিষয়টা আগে হয়তো ছিল ভৌগলিক অঞ্চল এবং কমিউনিটিকেন্দ্রিক
এখন হয়তো হচ্ছে পেশাগত কমিউনিটি কেন্দ্রিক

আর পৃথিবীর কোনো ভাষা কিংবা উপভাষাই সবাইকে কমিউনিকেট করার জন্য তৈরিও হয় না। ব্যবহারও হয় না

একইভাবে কর্পোরেটবাংলা এনজিওবাংলাওয়ালারা বুঝবে না কিংবা কম বুঝবে এটাই স্বাভাবিক

যেমন করে রংপুরের বাংলা বোঝে না কিংবা কম বোঝে বরিশালের লোকরা

০২


আপনি কি জানেন বাংলাদেশে এমন যুক্তরাজ্যের কোম্পানী আছে (আমি কাজ করেছি) যারা তাদের যোগাযোগের ব্যাপারে কখনো একটিও যুক্তরাষ্ট্রের বানানের আদলে লেখা একটি বাননও গ্রহনযোগ্য মনে করেনা/বা সহজকরনের চেষ্টা করে না।

ভালো করেই জানি
এর একটা ভালো উদাহরণও জানি
আমাদের ইত্তেফাক পত্রিকা বহু বছর ধরে সাধু ভাষা ধরে রেখেছিল
তারপর চলে এসছে চলতি ভাষায়

এরাও ধরে রাখছে
কিন্তু পিসিগুলোতে বাই ডিফল্ট ইউএস বানান সেটাপ
ইউএসকেন্দ্রিক নেট ডিকশনারি ফিল্ম আর যোগাযোগের দাপটে এরা শেষ পর্যন্ত কোথায় দাঁড়াবে সেই বিষয়টাতে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে

০৩


দেখুন আমি কিন্তু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু পরিবর্তন কিছুটা গাইডেড হতে হয়।

হায় স্যার
পরিবর্তনের গাইড লিখবে কে?
নাকি লেখা সম্ভব?

পরিবর্তনটা ঘোড়ার মতো দৌড়ায় আগে আগে
আর আমরা ভাঙা ঠ্যাঙ নিয়ে দৌড়াই তাকে ধরতে
যে সময়মতো ধরতে পারে সে টিকে যায়
আর যে পারে না সে পড়ে থেকে প্রাচীন হয়ে উঠে

এটাই কি স্যার পরিবর্তনের সাধারণ ইতিহাস না?

নৈষাদ এর ছবি

যুক্তি ধন্যবাদের সাথে গ্রহন করা হল।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

এইটা আপনের একটা ক্লাসিক হইছে
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

অনিন্দিতা চৌধুরী এর ছবি

লীলেন, আপনার পোস্টটা মন্ত্রমুগ্ধের মতো পড়ে গেলাম।
সংস্কৃতি, অপসংস্কৃতি, কালচার, ভাষার ক্রমবিবর্তন নিয়ে আপনার যুক্তিগুলোর সাথে অনেকটা একমত হলেও খানিকটা দ্বিমত ও যে পোষন করছি।
আমি অনিন্দ্য রহমান আর হাসান মোরশেদ এর মন্তব্যের সাথে সহমত।

নিজের মতো চলার, বলার, করার, দেখার স্বাধীনতা মানুষের আছে-থাকা উচিত কিন্তু তার চেয়ে জরুরী উচিত এতে অন্যের অধিকার খর্ব হচ্ছে কিনা ভেবে দেখে।

সব বাদ দিয়ে সঙ্গীতের ক্ষেত্রেই ধরুন না।
রবীন্দ্র, নজরুল, লালন থেকে শুরু করে আজকের কিংবদন্তী বাউল শাহ আব্দুল করিম যা দিয়ে গেছেন তা আধুনিক যন্ত্রানুষঙ্গ দিয়ে উপস্থাপন করা যেতেই পারে। এবিষয়ে কোন সন্দেহ নেই । তবে সেটা করতে গিয়ে যদি তাদের সৃষ্টিকে আর চেনাই না যায় তাতে এই স্রষ্টাদের অসম্মান করা ছাড়া আর কিছু করা হয়?
কাউকে সম্মান জানানো বা স্বীকৃতি দিতে না পারলে অসম্মান করারওতো অধিকার নেই।
এরা কেউই নিজেদের সৃষ্টির (কি গানের কথা বা সুরে) বিকৃতিকে মন থেকে মানতে পারেন নি। পারার কথাও নয়। হয়ত নানা প্রতিকূলতার কারণে কেউ কেউ নিরবে সয়ে গেছেন।।
যাই হোক একজনের সৃষ্টিকে কতটা সময়ের সাথে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করা যাবে সেটার মাত্রাজ্ঞান থাকা অবশ্যই জরুরী। একজন স্রষ্টার সৃষ্টির মৌলিকত্ব রক্ষার দায়িত্ব সবার থাকা উচিত। না পারলে অযথা বিকৃত করা মনে হয় ঠিক নয়।

মাহবুব লীলেন এর ছবি

...তবে সেটা করতে গিয়ে যদি তাদের সৃষ্টিকে আর চেনাই না যায় তাতে এই স্রষ্টাদের অসম্মান করা ছাড়া আর কিছু করা হয়?

সৃষ্টিকে চেনা আর স্রষ্টাকে সম্মান করা যদি মানবসভ্যতার অংশ হতো তাহলে পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত হাজার হাজার সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব থাকতো না

বেশিরভাগ মানুষই বলে সৃষ্টিকর্তা আছে
কিন্তু একেকজন বলে একেক নাম
আর বলার সাথে সাথে বাতিল করে দেয় আরো হাজার হাজার সৃষ্টিকর্তাকে

কিন্তু একটা বিষয়ে সবাই একমত। তা হলো যে কোনো উপায়েই হোক মানুষ সৃষ্টি হয়েছে

এই উদাহরণই কি প্রমাণ করে না যে মানুষ মূলত সৃষ্টি ছাড়া স্রষ্টাকে মোটেও বদার করে না?

আর হাসপাতালে নিয়ে আধমরা মানুষকে জোড়াতালি দিযে মেরামত করা যদি স্রষ্টাকে অসম্মান না হয় (কারণ বিশ্বাসীরা বলেন ইশ্বর যা করেন ভালোর জন্য করেন) তাহলে একটা গানের বাণীকে নিজের মতো সাজিয়ে নেয়া অপরাধ হবে কেন? যদি ইশ্বর যার ঠ্যাং নিয়ে যান কাঠের ঠ্যাং দিয়ে তার হাঁটা কোনো অপরাধ না হয়?)

০২

কাউকে সম্মান জানানো বা স্বীকৃতি দিতে না পারলে অসম্মান করারওতো অধিকার নেই।

যাকে মানুষ গণ্য করে না (গণ্য আর সম্মান এখানে সমার্থক) তাকে মানুষ মনেও রাখে না
তার কোনোকিছু ছুঁয়েও দেখে না

ডেলি ডেলি লাখে লাখে গান বাজে রেডিও টিভি স্টেজে
কই সেগুলোকে পোছেও না কেউ

যেগুলোকে মানুষ গণ্য করে সেগুলোকেই নিজের মতো সাজায়
শিশু সেই গান গায় আদুল বাদুল করে
বৃদ্ধ গায় গলা কাঁপিয়ে

ইংলিশ মিডিয়াম গায় বাংলিশ সুরে আর সানজিদা খাতুন গান পরিশুদ্ধ বাংলায়

একজন শিল্পস্রষ্টার মূল কৃতিত্ব এবং সম্মান সেখানেই বলে আমি মনে করি
সর্বস্তরে কিংবা বহুস্তরে বহুভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া

০৩

এরা কেউই নিজেদের সৃষ্টির (কি গানের কথা বা সুরে) বিকৃতিকে মন থেকে মানতে পারেন নি। পারার কথাও নয়। হয়ত নানা প্রতিকূলতার কারণে কেউ কেউ নিরবে সয়ে গেছেন।।

এইটা ব্যক্তি মানুষের সীমাবদ্ধতা। তারা নিজেরা নিজেদের কালোত্তীর্ণ ভাবতে পারেন না বলেই নিজের সৃষ্টিকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করেন

অথবা তারা শিল্পের কালোত্তীর্ণ হবার প্রক্রিয়াটাকে অবজ্ঞা করেন

০৪


যাই হোক একজনের সৃষ্টিকে কতটা সময়ের সাথে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করা যাবে সেটার মাত্রাজ্ঞান থাকা অবশ্যই জরুরী।

মাত্রাজ্ঞান বিষয়টা আইনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য স্যার
পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নয়
পরিবর্তনটা ঘটে অটোমেটিক এবং অপরিকল্পিত ভাবে
আর আইন বানানো হয় পরিকল্পনা করে

০৫


একজন স্রষ্টার সৃষ্টির মৌলিকত্ব রক্ষার দায়িত্ব সবার থাকা উচিত। না পারলে অযথা বিকৃত করা মনে হয় ঠিক নয়।

দুঃখিত স্যার
সংস্কৃতিতে মৌলিক বলে কোনোকিছু নেই
সংস্কৃতি মানেই খিচুড়ি
কখনো তা চালডালের সাথে তেল মিশিয়ে
কখনো ডালডা মাংস সবজি মিশিয়ে

তুলিরেখা এর ছবি

মিশ্রণ ঘটবেই, ভাষা ও রক্তের মিশ্রণই আসলে শক্তি দেয়। জোর করে আলাদা করে রাখতে গেলে ঘটে অনর্থ। যুদ্ধ, বিষচেম্বার।
বিবর্তনের নিয়ম হয়তো সংস্কৃতিতেও কিছুটা খাটে, হাজার হাজার লাউজালি হয়, অল্পই তার মধ্যে টিঁকে থাকে, বড় হয়। কথা গান কবিতা গল্প মতবাদ বিকল্পলিখন অবিকল্পলিখন সবই সেই জীবনানন্দীয় ভাষায় "সৃষ্টির অপরিক্লান্ত চারণার বেগে এইসব প্রাণকণা জেগেছিল হায়"। টেঁকবার হলে টিঁকবে, নইলে ফুরুৎ। খাজা জিনিস টেঁকে না বিবর্তনের নিয়মেই, শক্তিশালী জিনিসই টেঁকে।
-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

গল্পকার মহসিন হাবিব একবার সৈয়দ শামসুল হককে বলেছিলেন- হক ভাই। কম্পিউটারে কবিতা গল্প লিখতে গেলে আমার অস্বস্তি লাগে। মনে হয় কম্পিউটার ক্রিয়েটিভ লেখার জন্য না

সৈয়দ হক উত্তরে বলেছিলেন- কালিদাসের হাতে ফাউন্টেনপেন ধরিয়ে দিলে তিনিও কিন্তু একই কথা বলতেন...


যথেষ্ট- আর কিছু বলার দরকার নাই...
---------------------------------------------------------------------------

মধ্যরাতের কী-বোর্ড চালক

বন্যরানা এর ছবি

আমি সবসময়ই আপনার লেখার মুগ্ধপাঠক। তবে এই পোস্টের বক্তব্যের সাথে একমত নই।

অনিন্দ্য রহমান আর রণদা'র মন্তব্যের সাথে সহমত জানিয়ে গেলাম।

মাহবুব লীলেন এর ছবি

আমি আপনার দ্বিমত করার অধিকারের সাথে সম্পূর্ণ একমত

তুলিরেখা এর ছবি

চমৎকার লেখা।
কালের গতি আসলে আমাদের মেনে নিতেই হয় শেষপর্যন্ত।
-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোনো এক নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

হিমু এর ছবি

সিলটি ফুরিগণের সাথে আবাদি ফুয়াগুলির বিবাহ চাই।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

মাহবুব লীলেন এর ছবি

ভুল পীরের দরগায় ধন্না দিলে হবে কেমনে?
সময় থাকতে নজরানাসহ কামেল পীরের সাথে যোগাযোগ করেন

মনে রাখবেন

সুময় গেলে সাধন হবে না.....

হিমু এর ছবি

আপনি লাঠি হাতে মাইর না দেয়ার অভয় দিলে আস্তেছি ...



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

মূলত পাঠক এর ছবি

আমি আগাগোড়াই লেখকের সাথে সহমত। একসময় পশ্চিমবঙ্গে বাংলা গানে 'কালজয়ী বাংলা গান' নামে রিমেক অ্যালবামের ধুম পড়ে, ইন্দ্রনীল শ্রীকান্তরা যখন প্রথম খ্যাতি পান তখন। তখন খুব গেলো গেলো রব ওঠে (যদিও এটা খুব ছোটো একটা পরিবর্তন)। মৌলিক গান যাঁরা গান তাঁরাও নাক সঁিটকেছিলেন (যেমন নচিকেতা, নানা অনুষ্ঠানে)। মুশকিল হলো, শুধু গান নয়, সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হয় বাজার ও মানুষের রুচির দ্বারা। একে আটকে রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় না। নতুন জিনিস বাজে হলে ধুয়ে চলে যাবে কালস্রোতে, ভালো হলে টঁিকবে কিছুদিন, তারপর আবার আসবে নতুন যুগ, তখন সেও যাবে ধুয়ে। অবিনশ্বরতার মোহে মানুষ জীবৎকালে ভোগে, কিন্তু অমোঘ পরিবর্তনকে সে মানুক না মানুক, তা ঘটেই চলে। এর ব্যাত্যয় হয় না কোথাও।

অতিথি লেখক এর ছবি

কিন্তু মুলদা আপনি বোধহয় সবথেকে বেশি বাংলা লেখায় ইংরেজী মেশানোর বেপারে সোচ্চার। কিছু কিছু ইংরেজী শব্দ আমরা এম্নিতেই ব্যবহার করি যেমন, মিস করি, দিকের নাম গুলো। এই শব্দগুলা বাক্যে আসলে আমাদের ঠিক অন্য ভাষার মনে হয় নাহ।

ভুতুম এর ছবি

লেখা এবং মন্তব্যসমূহ উভয় মিলে চমৎকার একটা আলোচনা হলো। ধন্যবাদ সবাইকে।

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

বর্ষা এর ছবি

মাহবুব লীলেন, লেখা এবং মন্তব্য ভালো লাগ্লো। আমি সরলভাবে যা বিশ্বাস করি তা হলো,
পরিবর্তনকে রোখা যাবেনা। যেকোনো ধরনের এক্সপেরিমেন্টকে স্বাগত জানানো উচিত। যদি ওজনদার হয় তবে তা সময়ের পরীক্ষা উতরে যাবে, সংস্কৃতির অংশ হয়ে যাবে অবধারিত ভাবে।

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

********************************************************
আমার লেখায় বানান এবং বিরাম চিহ্নের সন্নিবেশনের ভুল থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিন।

শাহেনশাহ সিমন এর ছবি

লীলেন্দা, আপনার পোস্ট সমালোচনা করার সামর্থ্য আমার নাই। আপনার সবচেয়ে বড় সমালোচক আপনি নিজেই, এটা আপনার সাথে আড্ডাতে আমি বুঝেছি।

এ লেখার সাথে অনেকাংশে একমত আমি। কিন্তু আমার মনে হয়েছে যে এ লেখাটাতে আপনি সময় দিতে পারেননি।

_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

মাহবুব লীলেন এর ছবি

না রে ভাই
সময়ের জন্য না
এই লেখা আমি কয়েক বছর ধরে লিখলেও বক্তব্যগুলো এরকমই থাকবে

এটা মুলত বিষয়গুলো নিয়ে আমার কিছু কনফিউশনের একটা লাইনআপ

অনিন্দিতা চৌধুরী এর ছবি

স্যার আপনার মতো আমি ভাষার যাদুকর নই। তাই হয়ত আমার বক্তব্য খুব পরিস্কার হয়নি।

সৃষ্টিকে চেনা আর স্রষ্টাকে সম্মান করা যদি মানবসভ্যতার অংশ হতো তাহলে পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত হাজার হাজার সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব থাকতো না

বেশিরভাগ মানুষই বলে সৃষ্টিকর্তা আছে
কিন্তু একেকজন বলে একেক নাম
আর বলার সাথে সাথে বাতিল করে দেয় আরো হাজার হাজার সৃষ্টিকর্তাকে
কিন্তু একটা বিষয়ে সবাই একমত। তা হলো যে কোনো উপায়েই হোক মানুষ সৃষ্টি হয়েছে


এখানে ধর্মীয় বিশ্বাস আর তার অনুসঙ্গ হিসেবে স্রষ্টা/সৃষ্টির সম্পর্ক বা এজাতীয় কিছুই আনিনি।
আমি সংস্কৃতির অংশ হিসেবে সঙ্গীতের কথা বলেছি।এখানে স্রষ্টা আর তার সৃষ্টির অস্তিত্ব নিয়ে সংশয়ের কিছু নেই যদি তার প্রামান্য দলিল থাকে। এখানে ধর্মের মতো বিশ্বাসে ভর করার কিছু নেই। কাজেই মানুষ সৃষ্টি ছাড়া স্রষ্টাকে বদার করে না এটা বলাটা বোধহয় খুব সরলীকরন হয়ে যায়। আর এরকম যে বা যারা বদার করে না তা তাদের সীমাবদ্ধতা হিসেবেই ভাবা দরকার। তাই কে কি করছে না ভেবে কি করা দরকার /উচিত সেদিকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাচ্ছি।
দেখবেন অনেক জনপ্রিয় গানের গীতিকার / সুরকার কে না জেনেই সংগ্রহ বলে চালিয়ে দেয়া হয়।
এতে হয়ত মূল স্রষ্টা ছোট হবেন না কিন্তু যিনি না জেনে না ভেবে মিডিযায় এভাবে প্রচার করছেন তার কাজের প্রতি কমিটমেন্ট নিয়ে সহজেই প্রশ্ন তোলা যায়। এখানেও উচিত অনুচিতের বিষয চলে আসে।
একজনকে স্বীকৃতি/ সম্মান জানাতে না পারলে সেটা ব্যর্থতা ছাড়া কিছু নয়।

একজন শিল্পস্রষ্টার মূল কৃতিত্ব এবং সম্মান সেখানেই বলে আমি মনে করি
সর্বস্তরে কিংবা বহুস্তরে বহুভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া

কথাটা আমি অনেকাংশে একমত। শুধুমাত্র বহুভাবে অংশটা ছাড়া।
খুব স্পেসিফিক উদাহরণ দেই । আমাদের দেশে রবীন্দ্র সঙ্গীত কে সর্বস্তরে জনপ্রিয করার ক্ষেত্রে যে ২/৩ জন শিল্পীর নাম চলে আসে তারা হচ্ছেন পাপিয়া সারোয়ার, কাদেরী কিবরিয়া ও পরবর্তী সময়ে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।
তারা সনজীদা খাতুনের মতো পুরোপুরি গ্রামার বজায় রেখে রবীন্দ্র সংগীত করেন কিনা সেটা নিযে অনেক বিতর্ক থাকতে পারে তবে তারা কেউই এমন কিছু ই করেন নি বা এখন ও করতে শুনিনি যাতে গান গুলোকে রবীন্দ্র সংগীত মনে না হয়।
এ নিয়ে আরও অনেক কিছু ই হয়ত বলা যায় । আমি সেদিকে না যাই।
কোন কিছু কালোত্তীর্ণ হতে গেলেই কি তাকে যাবতীয় বিকৃতির লাইসেন্স দিতে হবে? মানতে পারলাম না স্যার।

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

অসাধারণ! দুর্দান্ত! আক্ষরিক অর্থেই দুর্ধর্ষ! চলুক

আমি লীলেন ভাইয়ের সাথে ভয়ঙ্করভাবে সহমত! এমনকি আমলযোগ্য দ্বিমতগুলোর পাল্টাযুক্তিতেও। তবে, ব্যক্তি থেকে জিনিসটা যখন গোষ্ঠী পর্যায়ে যায়, তখন রাজনীতিটা আসোলেই একটা বড় ব্যাপার, কারণ সেখানে একটা কমোডিফিকেশনের ট্র্যাপ থাকে, আর আধিপত্যবাদের বরং একটা অস্ত্র হয়ে দাঁড়ায় সেই সংস্কৃতিও। তাই, আমি আস্থার সাথেই (সন্দেহ নিয়ে না) অপেক্ষায় থাকলাম- লীলেন ভাই হাসান মোরশেদ ভাইয়ের শেষ মন্তব্যটার কী জবাব দেন, সেটা পড়ার।

বিষয়গুলোর মধ্যে একটা মাত্রাগত (matter of degree অর্থে) আপেক্ষিকতা খুব ডিস্টার্ব করে বরাবর। আমিই এক জায়গায় মেনে নিচ্ছি সংস্কারপ্রগতির ভাবনায়, আরেক জায়গায় হয়তো আমিই একটু কপাল কুঁচকে ফেলতেছি একটা রূপান্তরিত মঞ্চনাটক দেখে, এমন একটা ভাব থেকে, যে- রবীন্দ্রনাথ এমন কী অনাধুনিক ছিলেন যে তাকে চিত্তরঞ্জন ঘোষের অন্য স্ক্রিপ্টে আধুনিক ক'রে মঞ্চায়ন করতে হবে! আসোলে, এই প্রবাহের বিষয়টাতে শিল্পবোধের চেয়ে বেশি যদি কোনো কারণে প্রয়োজন বা সুবিধার মনে ক'রে করা হয়, তখন হয়তো একটু পীড়াদায়ক হয় সেই অন্য কারণের কুফলটার জন্য। তবে, সামগ্রিকে- বিকৃতি যেমন না, তেমন পরিবর্তনও দরজায় দাঁড়ায়া নক কইরা লাইসেন্স নিয়া পরে আসে না (আবার কোনো একজন কেউ সেই লাইসেন্স না দিলেই যে সে ভদ্রলোকের মতো ফিরে যাবে, তা-ও না)। ফলে, চিল্লাপাল্লা ব্যাপার না, নদীর স্রোতের মতো, বাঁকের মতো, পলির মতো, যা যা হওয়ার তা-ই হয়। যা হয় না, সেইটা হওয়ার ছিল না বলেই হয় নাই। বিবর্তন তত্ত্বে এই পুরো ব্যাপারটাই মেনে নেয়া যায়- এ-ই একটা অপেক্ষাকৃত স্বস্তিকর ব্যাপার, এ-ই বাঁচোয়া। হাসি

আবারও আমিও বলি লীলেন ভাই, এই পোস্ট আপনার আরেকটা ক্লাসিক হইছে। ব্যাপক ভালা পাইছি। স্যাল্যুট লন আরেকটা। চলুক

___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

রেজুয়ান মারুফ এর ছবি

লেখা-মন্তব্য-জবাব সব মিলিয়ে দুর্দান্ত একটা পোস্ট!

------------------------------------------------------------
আমার জীবন থেকে আধেক সময় যায় যে হয়ে চুরি
অবুঝ আমি তবু হাতের মুঠোয় কাব্য নিয়ে ঘুরি।

আমার জীবন থেকে আধেক সময় যায় যে হয়ে চুরি
অবুঝ আমি তবু হাতের মুঠোয় কব্য নিয়ে ঘুরি।

হাসিব এর ছবি

পোস্ট পড়লাম । অগভীর মনে হলো । অগভীর এই কারনে যে সংস্কৃতির পরিবর্তনের পেছনে যে রাজনীতি ক্রিয়াশীল থাকে, সেই রাজনীতির প্রকৃতি এবং পরিবর্তনে সেই রাজনীতির প্রভাব এই লেখায় পুরোপুরি অনুপস্থিত ।

মন্তব্যগুলো এখনো পড়িনি । পড়ে সেগুলো নিয়ে মন্তব্য করবো ।

অনুপম শহীদ এর ছবি

'কি করা উচিত ?' প্রশ্নটা এসেই গেল শেষ পর্যন্ত...

আশা করি কেউ এই প্রশ্নের উত্তর দেবেন।

সাংস্কৃতিক উপনিবেশ তৈরির যে প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি আমরা, তার যে ভয়াবহতা আমরা দেখছি এবং পরিণতির আশঙ্কা করছি; আলোচনাটা সেদিকে যাচ্ছে মনে হচ্ছে। তাই আর একটি চিন্তা যা অনেক দিন থেকেই ভাবাচ্ছে কিন্তু আমাদের কি করার আছে সেটা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব-অজ্ঞতা কিছুই দূর হচ্ছে না তা লিখতে বসলাম।

একটা সংকট এই সমাজ ব্যবস্থায় শুরু থেকেই ছিল এবং আছে - -দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণী, যারা মূলত সচেতন এবং সংগঠিতভাবে শিল্পচর্চা করে আসতো বা আসছে, তাদের সাথে নিম্নবিত্ত বা খেটে খাওয়া শ্রেণীর যে দূরত্ব বা বিচ্ছিন্নতা। তার ফলেই শহুরে বাঙালী সংস্কৃতির সাথে যুক্ত আছে প্রাণহীনতার অপবাদ।

কিন্তু গ্রামীন সমাজে সংস্কৃতির চর্চাটা ছিল খুবই জীবন ঘেষা। সেখানে সুরগুলো জীবিকার, জীবনের সাথে জড়িত। ধান বোনার সময় কাদামাখা পায়ে যে গান কৃষক গায়, কাস্তে হাতে ধান কাটবার গান ভিন্ন। তেমনি ঢেঁকিতে ধান ভানবার গান ভিন্ন। আর এগুলো চলেও এসেছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের পথ ধরে এবং বেঁচেও থেকেছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মুখে।

আজকের সমাজে তো আর কৃষকের ছেলে কৃষক হয়না। অনেকে কৃষিকাজ ছেড়ে দিনমজুর বা মিস্ত্রি বা রিকশাচালক হয়ে শহরে আসে ঠাঁই খুঁজতে। তাদের জীবনেও কিন্তু সংস্কৃতির চর্চা ছিল। রিকশায় হাতে আঁকা ছবি থাকত এবং সেটা অবশ্যই নৌকার শরীরে বা বৈঠায় আঁকা ছবি থেকে আলাদা। দালান তৈরির সময় ইট ভাঙার গান ছিল, সেই ইটের বোঝা মাথায় করে তোলবার গান ছিল। ভরদুপুরে ভেতরে ঠাঁই নিয়ে বিড়ি টানবার সময় সুর ঘুরত জটলা করা ক্লান্ত শরীরগুলোর মাঝে। কিন্তু প্রযুক্তির উন্নতির যুগে সুর এখন মানুষের মুখ থেকে গিয়ে ঢুকেছে যন্ত্রে। সে যন্ত্র এমনই বাজে যে সব মানুষের কথা তার নিচে চাপা পড়ে যায়!

ঢাকার এই শহরে আমার বাড়ি থেকে ২-৩ প্লট পরে ৬ তলা দালান উঠছিল। রাত্রিতে বিদ্যুৎ চলে গেলে সেই উঠতি দালান থেকে একটা বাশিঁর সুর বাজত। দালান যত উঠতে থাকল সুরটাও ততই উঁচুতে উঠতে থাকল। বুঝতাম যিনি বাজাচ্ছেন তিনি খোলা আকাশের নিচে বাজাতেই পছন্দ করেন। একসময় শেষ হল দালানের বেড়ে ওঠার বয়স এবং তার সাথে সাথে হারিয়ে গেল তার সুর। ধরে রাখিনি সেই সুর কোন যন্ত্রে! তবে এখনও কানের মধ্যে বেজে ওঠে সেই সুর, তা কেবলি আক্ষেপ বাড়ায় আর না শুনতে পাবার!

সেই সুর হয়ত এই শহরেই বাজছে অন্য কোন উঠতি দালানে। প্রশ্ন মনে, কতদিন এই শহর বাঁচতে দেবে সেই সুর?

কিছু কি করার আছে আমার?

আরও অনেকে শিক্ষিত হয়ে এসেছে, গ্রাম ছেড়ে শহুরে উন্নত জীবনের টানে। গ্রামীন জীবনের প্রতি এই উদাসীনতা পরবর্তী প্রজন্মকে দেখতে শিখিয়েছে গ্রামকে অবজ্ঞাভরে। দেখতে শিখেছি শুধু দরিদ্র মানুষকে। সম্মান করতে শিখিনি, পারিনি বুঝতে তাঁদের সমস্যা, পারিনি জানতে তাদের সংস্কৃতি! আমরা অবসরে যারা সংস্কৃতি চর্চায় অভ্যস্ত বুঝিনি গ্রামীন সংস্কৃতিচর্চাটা কি ভাবে তাদের জীবনের জন্য অপরিহার্য!

কিছুই কি করার আছে আমাদের?

লেখাতে পরিবর্তনের কথা মাহবুব লীলেন বলছেন এবং পরে এসে স্বাভাবিক এবং কৃত্রিম দুই ভাগে ভাগ করলেন। আর দ্বন্দ্বটা চলে আসছে, যখন পরিবর্তনেরই একটা অংশ মেনে নিতে পারছি আমরা কিন্তু অন্য অংশটাই বেতো ঘোড়ার দলে ফেলে দিচ্ছে আমাদের!!!

মানুষের বোধহয় বিশাল একটা মানবিক ঝামেলা হচ্ছে নিজেকে আনফিট ভাবতে পছন্দ না করা কিংবা করতে না পারা।

'কি করা উচিত?'

জবাবটা কি কেউ দেবেন?

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।