সিলেটী লস্কর - ১

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: বিষ্যুদ, ৩০/০৮/২০১২ - ১০:২৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ব্রিটেন ও আমেরিকায় পয়লা ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট খোলে সিলেটীরা। সিলেট ছোট জেলা, মুসলিমপ্রধান। জঙ্গলে ঘেরা, চা উৎপাদনের উপযোগী ছোট টিলায় ভরা জায়গা সিলেট, উত্তরপূর্বে আসাম। মোগল আমলে আওরঙ্গজেব লক্ষ্য করেন “সিলেট প্রদেশে, যা কিনা সুবা বাংলার অন্তর্ভুক্ত, রেওয়াজ ছিল পরিবারের কয়টি ছেলেকে খোজা বানিয়ে গভর্নরের কাছে ভেট পাঠানো হত খাজনার বদলে”। ইংরেজ আমলে সিলেট বিখ্যাত ছিল সুমিষ্ট কমলালেবুর জন্যে, কিন্তু রান্নাবান্নায় এদের তেমন তেলেসমাতির খবর পাওয়া যায়না। একটি খাবার নজর কেড়ে নেবার মত, তা হল পচানো পুঁটি মাছ।

এই মাছ সিলেটের নদীনালায় ভরা। এগুলোকে মাটির হাঁড়িতে সর্ষের তেল মেখে মুখ বন্ধ করে মাটিতে পুঁতে রাখা হত, পরে যখন মাটি খুঁড়ে আবার তা তুলে আনা হত ততদিনে মাছ পচে তেলতেলে পেস্টের মত হয়ে গেছে। সেই পেস্ট সিলেটের লোকে মরিচ দিয়ে ভেজে আচার বানিয়ে খেত, কিংবা মাছের তরকারিতে দিত বাস আনার জন্যে।

ইংরেজ আমলে সিলেট ছিল গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, কোলকাতা বন্দর থেকে আসাম চা বাগানে যেতে হলে সিলেটের নদী পার হয়েই যেতে হয়। ১৮৪০ সালে ইংরেজ বাষ্পচালিত জাহাজ নদীতে নামায়। সিলেটের মাঝি যারা বৈঠা বেয়ে দিন গুজরাত করত তারা আচমকা নিজেদের আবিষ্কার করে জাহাজের উত্তপ্ত ইঞ্জিনরুমে। জাহাজের ভারতীয় কর্মচারীদের ডাকা হত লস্কর, এই সিলেটী লস্করের দল দলে দলে বিবিধ জাহাজে খালাসীর কাজ নিয়ে দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এরা ইংরেজি কইতে পারত না দেখে এদের প্রমোশনের কোন সুযোগ ছিল না, বয়লার রুম বা ইঞ্জিনরুমের কাজ ছাড়া ডেকে কাজ করতে গেলে ইংরেজ জানতে হত। ইঞ্জিনরুমে দিনরাত ভয়ংকর শব্দ হত, সেখানে কয়লা আগুনে ছুঁড়ে মারার কাজ করতে গিয়ে অনেকে গরমেই মারা যেত, তার উপর ইঞ্জিনগুলারও মাঝে মধ্যে বিস্ফোরিত হবার বদ অভ্যেস ছিল। সব মিলিয়ে অকল্পনীয় রকম বাজে কাজের পরিবেশ। টাকাপয়সার ব্যাপারটাও অত্যন্ত করুণ, এরা বেতন পেত সাদা লোকের পাঁচ ভাগের এক ভাগ। মাসে ২ পাউন্ডের মত। এইরকম বেগতিক অবস্থায় তারা যে সুযোগ পেলেই জাহাজ থেকে চম্পট দিয়ে ঘাটে পালিয়ে যাবে এ আর আশ্চর্য কি। জাহাজ থেকে পালানোর জন্য সিলেটীরা ছিল বিখ্যাত। রেঙ্গুন থেকে সিঙ্গাপুর থেকে সাউথহ্যাম্পটন থেকে নিউইয়র্ক যেকোনো প্রধান বন্দরে তখন খুঁজলেই সিলেটীর দেখা মিলত।

লন্ডনের পূর্বাংশে পলায়নবীর সিলেটী লস্কর ও তাদের বউরা মিলে বোর্ডিং হাউস খোলে ঊনবিংশ শতাব্দীর দিকে। মিশনারি জোসেফ সল্টার লিখে গেছেন এই বোর্ডিং গুলায় খালাসীরা আফিম খেয়ে আর জুয়ার আসর বসিয়ে কষ্টার্জিত টাকা সব উড়িয়ে দিত। তবে বিংশ শতাব্দীতে এসে এগুলির কিছু উন্নতি ঘটে, আলি নামে এক বাঙালি একটা ছোট কফি শপ চালাতেন, যেখানে খালাসীরা ভাত তরকারি খেতে পেত। এরপর অনেকেই আলি মিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে সিলেটী খালাসীদের জন্যে রেস্টুরেন্ট খোলেন স্যান্ডি রো, ব্রিক লেন, নিউ রোড আর কমার্শিয়াল রোড এলাকায়। ব্রিটেনের বর্তমান ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টগুলোর শিকড় এইখানেই পাওয়া যাবে। এগুলি খোলা হয়েছিল সিলেটী খালাসীদের জন্যে, যাদের জাহাজ কিছুদিনের জন্য লন্ডন থামত।

১৯৪০ সালে লন্ডনে বোমাবর্ষণের রাতে জাহাজ পালিয়েছিলেন রাজাউর রহমান জায়গীরদার। রাতের বেলা চতুর্দিকে বোমার বহর দেখে তিনি তো থরহরি কম্পমান, ভোরে কমার্শিয়াল রোডে এক সিলেটী রেস্টুরেন্ট খুঁজে পেয়ে তার জানে পানি আসে। সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় ৩৬ পার্সি স্ট্রিটের এক ক্যাফের বেসমেন্টে, যা ছিল যুদ্ধকালীন লন্ডনে সিলেটী কম্যুনিটি সেন্টার টাইপ। সেখানে চার বেডরুমের বাসা শেয়ার করে ছিল ৩৫-৪০ সিলেটী। কার্ডিফে জাহাজ পলাতক নবাব আলি ছিলেন কমার্শিয়াল রোডের এক বাসার রান্নাঘরে খাটিয়া পেতে। সিলেটীরা চাকরি বাকরির অভাবে পাবে চকলেট বেচে, কাপড়ের হকারি করে কি রাস্তায় মাল বেচে দিন গুজরান করত। বেশিরভাগই কাজ করত রেস্টুরেন্টে বয় হিসেবে। রাজাউর রহমান জায়গীরদারের চেনা প্রায় দেড়শ সিলেটীর প্রায় সকলেই কাজ নিয়েছিল বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে কুলি, ক্লিনার বা বাসবয় হিসেবে।

এই করতে করতে সিলেটীরা ভাবল নিজেদের রেস্টুরেন্ট খুলতে হবে। নবাব আলির কর্মজীবন শুরু হয় ক্যানন স্ট্রিটের এক মিশরীয় রেস্টুরেন্টে আলু পেঁয়াজ কাটার মধ্য দিয়ে। পরে তিনি যান স্যাভয় রেস্টুরেন্টে, কিছুদিন সেখানে কাজ করার পর তিনি কাজ নেন বীরস্বামী রেস্টুরেন্টে। সেখানে তার কাজ ছিল পাতে ভাত পরিবেশন করা। তাকে বলা হয়েছিল প্লেটে এক কাপ ভাত ঢালতে, কিন্তু তিনি লক্ষ্য করে প্রায় কেউই পুরো ভাত না খেয়ে কিছু ফেলে দিচ্ছে। যে ভাতের জন্য জীবনে এত কষ্ট সেই ভাত ডাস্টবিনে নিয়মিত যেতে দেখে আলি মিয়ার বুকটা হু হু করে উঠল। ভাত ফেলে দেওয়া আর পয়সা ফেলে দেওয়ার মধ্যে পার্থক্যটা কি? নবাব আলি করল কি, এক কাপ ভাত উপুড় করে দেবার বদলে পরিমাণ কমিয়ে প্লেটে ছড়িয়ে দিতে শুরু করল যেন প্লেট ভরা ভরা লাগে। কয়দিন পরে মালিক লক্ষ্য করে আরে কম চালে কি সুন্দর ভাত খাচ্ছে লোকে, লাভ বাড়ছে দিন দিন এদিকে কাস্টমারেরাও খুশি। মালিক আলির উপর ভারি খুশি হয়ে তার মাইনে বাড়িয়ে দিলেন। তাতে করে বাকি কর্মচারীরা গেল চটে, আর ঝগড়া করতে অনিচ্ছুক নবাব আলি চাকরি ছেড়ে দিলেন।

১৯৪০ সালের লন্ডনে বীরস্বামী ছিল হাতেগোনা কয়টি ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টের একটি। পাকিস্তান ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক জেনারেল সেক্রেটারি মনে করতে পারেন আরেক রেস্টুরেন্টের নাম, তার নাম ছিল আবদুল্লা। পাচক ছিল বম্বের। শোনা যায় আব্দুল্লায় বাকিংহাম প্রাসাদ থেকেও অর্ডার যেত। লন্ডনে ভারতীয় ছাত্রদের জন্যে ছিল দুইটি প্রধান রেস্টুরেন্ট, তার একটি জেরার্ড স্ট্রিটের শাফি’স। ১৯২০ সালে মুহম্মদ নামের দুই ভাই শাফি’স খোলেন, তারা এসেছিলেন উত্তর ভারত থেকে। দুই ভাই এসেছিলেন পড়তে, তারপরে লন্ডনে ভারতীয় খাবারের তুমুল অভাব দেখে ঠিক করেন দোকান খোলার। বীর বাহাদুর নামে আরেক ছাত্র দিল্লী থেকে এসে লন্ডনে রোপার স্ট্রিটে কোহিনূর নামে রেস্টুরেন্ট খোলেন। এই রেস্টুরেন্ট এতই জনপ্রিয় হয় যে পরে তার ভাই সর্দার আর শমশেরকে নিয়ে এসে চেইন রেস্টুরেন্ট খোলেন। ১৯৪৮ সালে বাহাদুর তাজ মহল রেস্টুরেন্টের শাখা ছিল ব্রাইটন, অক্সফোর্ড, কেম্ব্রিজ আর নর্দ্যাম্পটনে। এইসব বড় বড় রেস্টুরেন্ট কাজ দিত প্রাক্তন খালাসীদের। এই খালাসীরা কোহিনূরে কাজ করতে করতেই স্বপ্ন দেখত নিজেদের রেস্টুরেন্ট খোলার, কোহিনূর ছিল তাদের ট্রেনিং সেন্টার। বাহাদুর ভাইয়েরা ছিল ভালমানুষ, কর্মচারীদের দারিদ্রের সুযোগ তারা কখনোই নেয়নি বরং সাহায্য করেছে। প্রথম প্রজন্মের বাংলাদেশী যারা পরে রেস্টুরেন্ট খুলেছে তাদের প্রায় সবাই বাহাদুর ভাইদের কাছ থেকে শিখেছে রান্না, পরিবেশন আর দোকান চালানোর কৌশল।

যুদ্ধের পরে এন্তার বিধ্বস্ত দোকানপাট পানির দামে পাওয়া যাচ্ছিল। সিলেটী লস্করের দল তাদের কষ্টে জমানো পয়সা দিয়ে কিনে নেয় ছোট ক্যাফে বা ফিশ-অ্যান্ড-চিপস দোকান। লন্ডনের ইস্ট এন্ডে ফিশ অ্যান্ড চিপসের দোকান জমজমাট অনেক আগে থেকেই, ইহুদী অভিবাসীরা প্রথম এর চল করে। এছাড়া স্কটল্যান্ড আর আয়ার্ল্যান্ডে ফিশ অ্যান্ড চিপস দোকান চালাত মূলত ইতালীয় অভিবাসীর দল। ৫০ আর ৬০ দশকে চীনা গ্রীক আর সিলেটীরা এসে এগুলি কিনা শুরু করে। সিলেটীরা দোকান খুঁজত চীনা টেক এওয়ে দোকানের কাছেপিঠে, তারা জানত চীনে খাবারের লোভে যারা আসে তাদের কাছে ভারতীয় খাবার ঠিক বিক্রি করা যাবে। ঊনবিংশ শতকে ফিশ অ্যান্ড চিপস যখন প্রথম চালু হয় তখন তার খদ্দের ছিল মূলত রাস্তার লোক, বারবনিতারা খ্যাপ মারার ফাঁকে দুই কামড় খেয়ে নিত পটাপট। আস্তে আস্তে তা খেটে খাওয়া লোকের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, আর ১৯৫০ সাল আসতে আসতে এমনকি সম্ভ্রান্ত পরিবারেরও এই খাবার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে কারণ তারা প্রতিদিন সেই একই রোস্ট আর হ্যাশ ব্রাউন কি কটেজ পাই খেতে খেতে ক্লান্ত।

বীরস্বামী ছেড়ে যাবার পরে নবাব আলি ১৯৪৩ সালে সেটলস স্ট্রিটে কিনে নেন একটি ছোট কফি শপ। দোকানের পুরোন নাম আর মেন্যু রেখে দেয়া হল, নইলে ভয় ছিল পুরোন কাস্টমারেরা হয়তো আসবেনা। দোকান রাত ১১টার পরে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হল, বন্ধ হয়ে যাওয়া পাবের কাস্টমার ধরার উদ্দেশ্যে। ইংরেজ মাতালের দল ফট করে আবিষ্কার করল বিয়ারের সাথে ভিন্দালু একটি চমৎকার জুটি!

নবাব আলি এরপর কার্ডিফে একটা মল্টিজ ক্যাফে কেনেন ৩৫০ পাউন্ড দিয়ে, দামাদামিতে সাহায্য করেছিল এক বারবনিতা। দোকান কিনার পর তিনি এবার দোকানের নামই পাল্টে দিলেন, নাম হল ক্যালকাটা রেস্টুরেন্ট। মেন্যুতে সবই রাখা হল ভারতীয় খাবার। এইরকম ভারতীয় খাবারের দোকান গজিয়ে উঠতে থাকে এদিক সেদিক, তার প্রায় সবই চালাত সিলেটীর দল। নবাব আলি বলেন, “চতুর্দিকে সিলেটী হবার কারণটা বলি। এরা সবাই এঁকে অন্যকে সাহায্য করেছে। আমি নিজে (যুদ্ধের আগে) এনেছি বিশজন, আর জাহাজ থেকে তো এনেছি কমসে কম দুইশ। ভেবে দেখেন, এরা সবাই যদি বিশজন করে আনে...এই হল কাহিনী। আমরা তখন অবশ্য বুঝিনি এতো সিলেটীতে ছেয়ে যাবে শহর, আমরা কেবল আমাদের ভাইদের সাহায্য করতেই চেয়েছিলাম।” জাহাজের ইঞ্জিন রুমের খালাসীরা সবাই সাধারণত কাছাকাছি বা একই গ্রাম থেকে আসত, তারা নিজেরা আত্মীয়ও ছিল প্রায়ই। সকলেই এঁকে অপরকে ভাইয়ের চোখে দেখত। প্রথমদিকের অনেকেই লন্ডনে ঘাঁটি গাড়তে চায়নি, পয়সা জমিয়ে তারা সিলেটেই ফেরত যেতে চেয়েছিল। লন্ডনের কষ্টার্জিত পয়সা তারা পাঠাতে থাকে সিলেটে, একেকটা গ্রাম হঠাত বড়লোক হয়ে ওঠে। সেখানে তাদের নাম দেয়া হয়েছিল “লন্ডনি”, এই লন্ডনিরা কাঁচা পায়খানা আর মাটির দেয়ালের বাসাভরা গ্রামে বানিয়ে তুলতে থাকে ঝকমকে পাকা ইটের দালান। জমির দাম বেড়ে যায় হু হু করে।

১৯৪৭ সালে সিলেটী অর্থাৎ পূব বাংলার লোক রাতারাতি পাকিস্তানিতে পরিণত হয়। তাদের রেস্টুরেন্ট যে “ইন্ডিয়ান” রেস্টুরেন্ট এই ব্যাপারটায় তাদের অনেকের ভুরু কুঁচকে যায়, ইন্ডিয়া পাকিস্তানের জাতীয় শত্রু ছিল কিনা। কিন্তু ইন্ডিয়া নামটা বেশীরভাগ ইংরেজের কানে নস্টালজিয়ার কাজ করত, যা ব্যবসার জন্য ভারি উপকারী। ৫০ আর ৬০ এর দশকে এইসব রেস্টুরেন্টের বড় খদ্দের ছিল প্রাক্তন সিভিল সার্ভেন্টের দল যারা ভারতে কাজ করত। তাদেরকে “সাহিব” ডাকলে ভারি খুশি হত, আর মোটা টিপস দিত। তারা ওয়েটারকে ডাকত “বেয়ারা”, আজকালকার দিনে কাউকে বেয়ারা ডাকলে ঘাড় ধরে রেস্টুরেন্ট থেকে বের করে দেবার সম্ভাবনা।

ছাত্রদের মধ্যেও ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট তুমুল জনপ্রিয় ছিল, সস্তা সুস্বাদু আর পেটভরে খাওয়া যেত তাই। ছাত্ররা কলেজের ক্যাফে বাদ দিয়ে ভারতীয় কি চীনে খাবার খেতে যেত সস্তা দেখে। লেখক মাইকেল বোডি লিখে গেছেন, “মনে আছে খেতাম মাদ্রাজ কারি, মুর্গি পুলাউ, হাত্তির কানের মত বিশাল চাপাতি, জাফরান ভাত আর আচার। খেতে তেমন ভালো নয়, কিন্তু মারাত্মক সস্তা।” এগুলি রান্না করত জাহাজের খালাসীরা, যারা সাধারণত এই কাজ করত যতদিন অন্য কিছু না জোটে।

রেস্টুরেন্ট গুলোয় সাধারণত একই কারিপেস্ট মোটামুটি সব তরকারিতে ব্যবহৃত হত, মেন্যু কপি করা হয়েছিল বীরস্বামী, শাফি’স বা বীর বাহাদুর ভাইদের চেইন রেস্টুরেন্ট থেকে। বীরস্বামীর মেন্যু শ্বেতাঙ্গরা ভারি পছন্দ করত। সেখানে পাওয়া যেত রঙিন পুলাউ, টকঝাল ভিন্দালু, পেস্তা দেওয়া মাখনের মত কোর্মা, ঝাল মাদ্রাজ কারি , দোপিয়াজা। শাফি’স এর মালিক আর বাহাদুর ভাইয়েরা ছিল উত্তর ভারতের লোক, তারা পরিবেশন করত মুর্গি বিরিয়ানি, রোগান জোশ, মাশরুম কারি, শাক আর আলুর তরকারি। এভাবে যা কখনোই ভারতের জাতীয় ক্যুইজিন ছিলনা সেই মোগলাই খাবার ভারতের বাইরে জাতীয় ভারতীয় খাবার হয়ে বসল।

(চলবে)

লিজি কলিংহ্যাম রচিত “Curry: A Tale of Cooks and Conquerors” এর কিছু অংশের ছায়ানুবাদ।


মন্তব্য

সজল এর ছবি

প্রথম দুই প্যারা পড়েই কমেন্ট করতেছি। চ্যাপা শুটকী ওরফে সিদল, পুটি মাছ এইসবের কথা এই বিশ্রি সময়ে বিশ্রি জায়গায় মনে করিয়ে দেয়ায় ধিক্কার।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

অতিথি লেখক এর ছবি

সুইডেনের কোন এক অঞ্চলে নাকি এখনো এই ধরনের কিছু একটা বানানো হয়। কাঁচা মাছ টিনে ভরে হাবিজাবি কি কি দিয়ে মাসের পর মাস রেখে দেয়। খুবি উৎকট গন্ধ মাগার তার থেকেও নাকি বেশি বিখ্যাত চাল্লু

-শহরবন্দী

সত্যপীর এর ছবি

খেক খেক শয়তানী হাসি

..................................................................
#Banshibir.

ব্যাঙের ছাতা এর ছবি

এক এবং অদ্বিতীয় সত্যপীর! হাসি
পরের পর্বের জন্য পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

অপ্রাসঙ্গিক প্রসংগঃ আমাকে নিচের একটা মেইল করবেন, আমার কিছু জিজ্ঞাসা ছিল অর্থনীতিতে পড়াশোনা করার জন্য।

সত্যপীর এর ছবি

"এক এবং অদ্বিতীয় সত্যপীর" হা হা হা। আমি একশো-একতম ভুয়া সত্যপীর, আসল সত্যপীর একাই একশো।

..................................................................
#Banshibir.

লাবণ্যপ্রভা এর ছবি

অসময়ে এসব কেউ দেয় ওঁয়া ওঁয়া
চলুক

সত্যপীর এর ছবি

চাল্লু

..................................................................
#Banshibir.

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

রেস্তোরা সেক্টরে এখন আর সিলেটিদের নিরংকুশ আধিপত্য নেই তবে আধিপত্য আছে। গেলোবার ব্রিক লেইনে গিয়েছিলাম এবং সিলেটি রেস্তোরায় পেটপুরে কড়া ঝাল-মশলায় রান্না সালুন দিয়ে বেশ কম পয়সায় একগাদা ভাত মেরে দিলাম। এবারও আশা আছে। অক্সফোর্ডে সিলেটি আজিজ ভাইয়ের আর বার্মিঙ্গহামে কয়েকটা সিলেটি রেস্তোরায় খেয়ে বেশ মজা পেয়েছি।

আমার সম্পর্কীয় মামা (আম্মার ফার্স্ট কাজিন) ইকবাল ওয়াহাব, ওবিই আদিতে বাগেরহাটের মানুষ এবং রান্নার ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে না এসেও বেশ স্বল্প সময়ে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। লন্ডনে তার মালিকানাধীন দুটো রেস্তোরার নাম- দ্য সিনামোন ক্লাব আর দ্য রোস্ট রেস্টুরেন্ট। হারামজাদা কিপ্টে, খবিসের হাড়ি, আমাকে দ্য রোস্টে খালি চা আর বিস্কুট খাইয়েছে।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

সত্যপীর এর ছবি

"হারামজাদা কিপ্টে, খবিসের হাড়ি, আমাকে দ্য রোস্টে খালি চা আর বিস্কুট খাইয়েছে।" হা হা হা হা।

..................................................................
#Banshibir.

বাউলিয়ানা এর ছবি

চমতকার ব্লগ। লন্ডনে সিলেটিদের রেস্টুরেন্ট ব্যাবসা নিয়ে জানার অনেক আগ্রহ ছিল।
পারলে নবাবা আলীদের মত আর যারা আছেন তাদের নিয়ে আরেকটু ডিটেইল লিখেন। যেমন তারা শুধু রেস্টুরেন্ট ব্যাবসার পাশাপাশি অন্যান্য দিকেও বাঙ্গালিদের কিভাবে সাহায্য করতেন।
আর কিভাবে সেই রেস্টুরেন্টগুলোতে ধীরে ধীরে বাংলাদেশি খাবারের প্রচলন এবং জনপ্রিয়তা এই বিষয়ে কি কিছু আছে মূল বইতে?

পরের পর্বের অপেক্ষায়।

সত্যপীর এর ছবি

পরের আরো কিছু ব্যক্তিগত প্রোফাইল আসবে, লেখক যতটুক ডিটেইল দেবেন ততটাই দিব। আমার নিজের লেখা তো নয়। তবে এরকম পেপার আরো পেলে পোস্ট করব।

..................................................................
#Banshibir.

জুন এর ছবি

পঁচা পুটি মাছ পড়ে মনে হল কোথায় যেন পড়েছিলাম স্যামন না কোন একটা মাছের নাড়িভূড়িও যেন এম্নে পঁচায়ে খায়। এরা কি একই গোত্রের নাকি? আহা! যদি খালাসী হইতাম, তাইলে আমিও লন্ডনী হইতাম পারতাম। মন খারাপ

যদি ভাব কিনছ আমায় ভুল ভেবেছ...

সত্যপীর এর ছবি

ইন্টারেস্টিং চিন্তিত

..................................................................
#Banshibir.

শাব্দিক এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- পীরবাবা অচাম একটা সিরিজ শুরু করার জন্য।
চা কফি মুড়ি চানাচুর নিয়া বস্লাম পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

---------------------------------------------------------
ভাঙে কতক হারায় কতক যা আছে মোর দামী
এমনি করে একে একে সর্বস্বান্ত আমি।

সত্যপীর এর ছবি

চা কফি মুড়ি চানাচুর পপ্পন সবই? আমারটা কো?

..................................................................
#Banshibir.

শাব্দিক এর ছবি

আপনি খাইলে লিখবে কে? খাইছে

---------------------------------------------------------
ভাঙে কতক হারায় কতক যা আছে মোর দামী
এমনি করে একে একে সর্বস্বান্ত আমি।

অতিথি লেখক এর ছবি

নিজে সিলোটি,বছরখানেক ছিলাম ওখানে।
সবকিছু দেখে মনে হয়েছে বর্তমানে এই ব্যবসার লালবাতি জ্বলতেছে। কিছুদিন কাজ করার অভিক্ষতাও আছে। এতো চুরি করে মালিকগুলো।
আমি ভেবেছিলাম বৃটিশ চলে যাবার পর 'চারআনার ভাউচার' মাধ্যমে সিলেটের লোকজন প্রথমে ওখানে গিয়েছিলো। এখন তো দেখি তারও অনেক আগে থেকেই উনারা ওখানে আছেন।

চলুক।

--ফ্রুলিংক্স

সত্যপীর এর ছবি

ধন্যবাদ।

..................................................................
#Banshibir.

অতিথি লেখক এর ছবি

অসময়ে ক্ষিধা লাগানোর জন্য গুল্লি
লন্ডন গেলে খালি ব্রিক্লেনে পইড়া থাকার আশাবাদ ব্যাক্ত করতেছি।
--শহরবন্দী

সত্যপীর এর ছবি

ব্রিকলেন পসা খাইছে

..................................................................
#Banshibir.

স্যাম এর ছবি

ট্রাফিক জ্যাম টা অনেক সহনীয় ছিল আজ সচল এর পোস্টগুলোর জন্য!
আপনার পোস্ট টা পড়তে না পড়তেই শেষ হয়ে গেল খাইছে

কোনভাবে এগুলোকে আর বাংলাদেশী কারি নামে পরিচিত করার উপায় নেই?

পরের পর্বের অপেক্ষায়।

সত্যপীর এর ছবি

দিচ্ছি পরেরটা চিন্তা নাই।

..................................................................
#Banshibir.

তারেক অণু এর ছবি

আপনি লন্ডনে অবাঞ্ছিত ঘোষিত মনে হয় হয়েই গেলেন। খাইছে

সত্যপীর এর ছবি

খি খি। আমি লস্করের বংশধর আমার এগুলি বলা জায়েজ আসে চাল্লু

..................................................................
#Banshibir.

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

বিলাতে প্রথম বঙ্গীয় তথা ভারতীয় রেস্টুরেন্ট দেবার কৃতিত্বটা শেখ দীন মোহাম্মদের। বঙ্গীয় বললাম এই জন্য যে পাটনা তখন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সীর আওতায় ছিল। মানে বিহারীরা তখন বাঙালী ছিল!! শেখ সাহেবের রেস্টুরেন্ট 'দ্য হিন্দোস্তান কফি হাউস' চালু হয় ১৮১০ সালে। তার মানে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসন ঘুঁচিয়ে ব্রিটিশ সরকারের শাসন চালু করতে তখনও ৪৮ বছর বাকী ছিল।

সিলেটের শাহ্‌ আবদুল মজিদ কোরেশী সোহো'র উইন্ডমিল স্ট্রীটে 'দিলখুশ ডেলাইট' চালু করেন ১৯৩৮ সালে। এটিকে প্রথম সিলেটী রেস্টুরেন্ট বলাটা ঠিক হবে না কিন্তু প্রথম উল্লেখযোগ্য সিলেটী রেস্টুরেন্ট বলা যায়। পার্সি স্ট্রীটে এরও আগে থেকে বাঙালী রেস্টুরেন্ট ছিল।

শেখ দীন মোহাম্মদ লস্কর ছিলেন না, তবে শাহ্‌ আবদুল মজিদ কোরেশী নিঃসন্দেহে লস্কর ছিলেন।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

সত্যপীর এর ছবি

হ ঠিক, শেখ দীন মোহাম্মদের কথা কেন আসলোনা বুঝলামনা। তবে উনার রেস্টুরেন্ট ব্যবসার চেয়ে শ্যাম্পু ব্যবসাই বেশি জমজমাট ছিল।

..................................................................
#Banshibir.

শান্ত এর ছবি

ধন্যবাদ চমৎকার পোস্টের জন্য। অপেক্ষায় রইলাম পরের পর্বের .........

__________
সুপ্রিয় দেব শান্ত

সত্যপীর এর ছবি

আ-সি-তে-ছে।

..................................................................
#Banshibir.

কড়িকাঠুরে এর ছবি

হুম- "লন্ডনি" কাহিনী তাইলে এই...

সত্যপীর এর ছবি

কাহিনী আরো ব্যাপক। এইটা তো এক ছিটা গল্প মাত্র।

..................................................................
#Banshibir.

দুর্দান্ত এর ছবি

পঁচানো পুটি মাছের 'শুটকি' কুমিল্লা/ব্রাহ্মনবাড়িয়া অন্চলে 'চ্য়াপা' বা ' হিদল' শুটকি হিসাবে পরিচিত। এর কাঠালের বিচি সহকারে শুক্না বা নাগামরিচ ও আধাবাটা পিয়াজ সহকারে ঈষদার্দ্র ভর্তা ধোঁয়া উঠা লাল বিরই চালের ভাতে ডলা দিয়ে যে খায়নাই, তার জীবনই মিছা।

***
সিলেটি মুসলমান আছে কিন্তু (ব্রিটিশ) সিলেটি হিন্দু বইলা কি কিছুই নাই।

উনিশ শতকের গোড়ায় সিপাহিবিদ্রোহে মুসলমানি মাতবরির ইয়াদ তাজা থাকার কথা। ব্রিটিশ আমলে তো সিলেট মুসলমান মেজরিটি ছিলনা। মোঘ্ল ও ব্রিটিশ আমলে সেলেটের মুসলিম মাইনরিটি যেভাবে সরকারি জমিজমা জলমাহালের বন্দোবস্ত পাইছে, তাতে সেখান থেইকা কাতারে কাতারে 'মুসলমান লস্কর' উইঠা আসলো কইত্থেইকা? কয়লা খনি, রেলওয়ে ওয়ারকশপ বা করাতকল সবখানেই অ-মুসলিম শ্রমিক। দরকারি লোক পাওয়া গেলনা বইলে সেই বিহার থেইকা গ্রামকে গ্রাম খালি কইরা সাওতাল-মুন্ডা ধইরা আনা হইল চা-বাগানে কাজকরার জন্য়। যদি স্টীমশিপের বয়লার রুমের 'হিদল শুটকি' বানানোর জন্য় কমদামে বেশী গতরে খাটা শ্রমিকের দরকার ছিল, তাহইলে টো অল্রেডি গতরে খাইটা অভস্ত নমো আর কৈবর্ত অথবা আবারো সেই বিহার থেইকা লোক নেওয়াই সমিচীন ছিল।

যে সিলেটিরা লন্ডনে গেল, তারা সবাই মুসলমান হইল কেমনে? হিন্দু সিলেটি বা সিলেটি ভেকধরা ময়মনসিন্গা মুসলমানেরা কি ব্রিটেনের টিকেট পায়নাই?

সত্যপীর এর ছবি

জটিল প্রশ্ন। সিলেট বা লন্ডন কোন জায়গাতেই দীর্ঘদিন থাকিনাই তাই তথ্য উপাত্ত দিয়ে উত্তর দিতে পারলাম না। লস্করের বংশধর হিসেবে আমার দৃষ্টিকোণ কৈতে পারি।

কাতারে কাতারে 'মুসলমান লস্কর' উইঠা আসলো কইত্থেইকা? কয়লা খনি, রেলওয়ে ওয়ারকশপ বা করাতকল সবখানেই অ-মুসলিম শ্রমিক।

জাহাজে কাজ নিসিল মাঝির দল। পানির লোক পানিতেই কইরা খাইতে চায়। মাঝিরা প্রধানত হিন্দু না মুসলমান আসিল জানেন নাকি?

আরেকটা পয়েন্ট, হিন্দুরা মুসলমানের আগে ইংরেজী শিখসে। ইংরেজের লেবার খাটার জন্য ইংরেজী না জানা লেবার দরকার ছিল যারা দিনের পর দিন ইঞ্জিনরুমেই খাটবে। এইটা গণহারে মুসলমান হায়ারিং এর কারন হইতেও পারে।

যে সিলেটিরা লন্ডনে গেল, তারা সবাই মুসলমান হইল কেমনে?

ট্র্যাডিশনাল সিলেটীরা অত্যন্ত ধর্মভীরু। এরা বাড়ি বানানোর আগে মসজিদ বানায় থাকে। যে মুসলমানেরা লন্ডন গেছিল তারা নবাব আলির ভাষায় ভাইদের সাহায্য করতে চেয়েছিল। মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই।

সিলেটি ভেকধরা ময়মনসিন্গা মুসলমানেরা কি ব্রিটেনের টিকেট পায়নাই?

সিলেটীরা খুবই ক্লোজ নিট টাইপ। বৃহত্তর সিলেট এলাকার বাইরের মানুষকে এরা ডাকে বেঙ্গলি। বেঙ্গলিদের সাথে এমনকি বিয়েশাদিও সামাজিকভাবে ভুরু কুঁচকে দেখা হয়, যাকে বলে ফ্রাউনড আপন। ময়মনসিংহের লোককে বিচ্ছিন্ন কিছু লন্ডনি সাহায্য করতেই পারে, কিন্তু সেটা ট্রেন্ড নয়।

..................................................................
#Banshibir.

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

বেঙ্গলী নাকি আবাদী/আবাইদ্যা?


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

সত্যপীর এর ছবি

আমি ব্যক্তিগতভাবে বেঙ্গলিই শুনছি পাণ্ডবদা, আবাদি/আবাইদ্যা শুনি নাই। হইতে পারে হয়তো অন্য কারো জানা আসে।

..................................................................
#Banshibir.

মন মাঝি এর ছবি

আবাদি আর বেঙ্গলি দুটোই আছে, বা প্রথমটা অন্তত ছিল। 'বেঙ্গলি'-টা নির্দোষ টার্ম 'অ-সিলেটি' বোঝানোর জন্য ( এমনকি আমার মত অসিলেটিভাষী সিলেটিদের বোঝানোর জন্যেও হয়তো হাসি ) , কিন্তু 'আবাদির' মধ্যে একটা ইষৎ তাচ্ছিল্যসূচক আঞ্চলিকতাবাদী কনোটেশন ছিল বলেই মনে হয়। এটা সম্ভবত বাংলায় 'চাষা' বলে গাল দেয়ার সমতুল্য। এখনকার বাংলাদেশের সিলেটিরা মনে হয় এই শব্দটা ব্যবহার করেন না এবং এতে লজ্জিত বোধ করেন। আমিও ব্যক্তিগত ভাবে কোন বাংলাদেশি সিলেটিকে এটা ব্যবহার করতে শুনিনি, আমার সমস্ত আত্নীয় সিলেটি হওয়া সত্বেও। কিন্তু কিছু লণ্ডনি সিলেটি বোধহয় এটা এখনও ব্যবহার করে।

****************************************

মন মাঝি এর ছবি

সিলেটীরা খুবই ক্লোজ নিট টাইপ।

একটা মজার অব্জার্ভেশনঃ অসিলেটি বন্ধুবান্ধব বা পরিচিত মহলে 'সিলেটিদের' প্রসঙ্গ আসলেই একটা কথা প্রায়ই বেশ প্রচ্ছন্ন বিদ্রুপাত্নক/সমালোচনামূলক/অভিযোগের ঢঙে শুনতে হয় যে - সিলেটিরা নিজেদের খুব টানে। অর্থাৎ সিলেটিরা সিলেটিদের একটু বেশি দেখাশোনা করে, অন্যান্য জেলার লোক তাদের জেলার লোকদের যতটুকু দেখাশোনা করে তুলনায় তার চেয়ে একটু বেশিই নাকি করে। এই কথাটা শুনলে আমার বেশ মজাই লাগে, কারন এটা যে কেন 'খারাপ' তা এখনও বুঝে উঠতে পারিনি আমি। হাসি

****************************************

সত্যপীর এর ছবি

মানুষের সাথে মিলামিশা না করলে একটু কথা তো শুনতে হবেই মাঝি ভাই।

..................................................................
#Banshibir.

মন মাঝি এর ছবি

এর একটা কারন হয়তো এরকম হতে পারে যে - হিন্দুধর্মে 'কালাপানি' বা সাগর পাড়ি দেয়ার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা/সংস্কার ছিল সেটাই হয়তো অন্য অঞ্চলের চেয়ে ধর্মীয়ভাবে একটু বেশি রক্ষণশীল হওয়ায় (হিন্দু/মুসলিম নির্বিশেষে) সিলেটি হিন্দুরা একটু বেশি মাত্রায়ই পালন করতেন, কিন্তু এই সংস্কার মুসলমানদের মধ্যে ছিল না। কিম্বা স্রেফ সিলেটি মুসলমানরা একটু বেশি এডভেঞ্চারাস ছিলেন বলেই হয়তো! হাসি

****************************************

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ এমন চমৎকার একটি বিষয় নিয়ে লেখবার জন্য। পরের পর্বের অপেক্ষায়।

-- ঠুটা বাইগা

সত্যপীর এর ছবি

ঠিক আসে বাইগা ভাইজান।

..................................................................
#Banshibir.

সাবেকা  এর ছবি

পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম হাসি চলুক

সত্যপীর এর ছবি

আ-সি-তে-ছে।

..................................................................
#Banshibir.

ক্লোন৯৯ এর ছবি

চলুক চলুক

সত্যপীর এর ছবি

হাসি

..................................................................
#Banshibir.

ধুসর গোধূলি এর ছবি

পরের পর্বে নিশ্চয়ই বিরিয়ানী নিয়ে কথাবার্তা থাকবে। সিট বেল্ট বেঁধে বসলাম পীর বাহাদুর।

সত্যপীর এর ছবি

খালি কথাবার্তা না রেসিপিও দিয়া দিমুনে যান।

..................................................................
#Banshibir.

ধুসর জলছবি এর ছবি

আচ্ছা এই তাহলে লন্ডনি সিলেটীদের কাহিনী। হাসি পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম। পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

সত্যপীর এর ছবি

আছেন ক্যামন?

..................................................................
#Banshibir.

ধুসর জলছবি এর ছবি

ভাল । আপনি হাসি ?

সত্যপীর এর ছবি

কেটে যাচ্ছে। কাটিং গোজ অন।

..................................................................
#Banshibir.

ধুসর জলছবি এর ছবি

হুম

যুমার এর ছবি

পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম হ ,রেসেপি দিলে ভালই হৈব।

সত্যপীর এর ছবি

রেসিপি দিমু আমি আর পপ্পন খাইবেন আপ্নে এইটা ক্যামুন বিচার?

..................................................................
#Banshibir.

অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক চলুক।

বৃটেনে যত "ভারতীয় রেস্টুরেন্ট" আছে, তার পঁচাত্তর ভাগই বাংলাদেশীরা (মূলত সিলেটিরা) চালান।

আর লাস্ট প্যারায় "মেনু কপি করার" ব্যাপারটা দেখে মাথায় এলো, আমেরিকার প্রায় সব সস্তার চাইনিজ দোকানের মেনুই হুবহু এক, ফর্ম্যাটিং বলেন, ফন্ট বলেন, সবই। মাঝে মাঝে জানতে ইচ্ছা করে মূলত কোন রেস্টুরেন্ট থেকে এই জিনিস শুরু হয়।

---দিফিও

সত্যপীর এর ছবি

ধন্যবাদ।

..................................................................
#Banshibir.

পরিচয়বিহীন এর ছবি

চমৎকার!
কেউ পারলে এটিএন বাংলার মাহফুজ সাহেব-কে একটু পড়তে দিয়েন।
লন্ডনি সিলটি সম্পর্কে উনার ব্যাপক জ্ঞান-গবেষনায় কাজে লাগবে।

সত্যপীর এর ছবি

উনার গবেষণার ব্যাপারটা খুইলা কন। জানতে মঞ্চায়।

..................................................................
#Banshibir.

অতিথি লেখক এর ছবি

পরের পর্বের অপেএকক্ষায় রইলাম। এমনিতেই একটু ভোজন রসিক খাইছে

--- বাউলা বাতাস

সত্যপীর এর ছবি

দেঁতো হাসি

..................................................................
#Banshibir.

ইয়াসির আরাফাত এর ছবি

ভালু পাইলাম। পরের পর্বের জমাটি গল্পের অপেক্ষায় (পপ্পনের ইমো)

সত্যপীর এর ছবি

চাল্লু

..................................................................
#Banshibir.

দীপাবলী এর ছবি

চলুক পরের লেখার অপেক্ষায় থাকলাম।

সত্যপীর এর ছবি

হাসি

..................................................................
#Banshibir.

কল্যাণ এর ছবি

সর্ষের তেল দিয়ে পচানো পুঁটি মাছ!! ইয়াক্ক

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

সত্যপীর এর ছবি

খাইছে

খাইতে ভালৈ।

..................................................................
#Banshibir.

অতিথি লেখক এর ছবি

পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম... পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

সিলেটিদের 'বাত' 'বালো' নিয়ে কিছু লিখেন না... দেঁতো হাসি

..........
রংতুলি

সত্যপীর এর ছবি

মৌলিক লেখা না রে ভাই, অনুবাদ মাত্র। সিলেটি মাত নিয়ে আপনে কিছু নামায় দেন পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

..................................................................
#Banshibir.

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

চলুক, পড়ছি।

সত্যপীর এর ছবি

ধন্যবাদ, আছেন ভালো?

..................................................................
#Banshibir.

কর্ণজয় এর ছবি

সব সময় আপনার লেখার বিষয়বস্তু আমার ব্যক্তিগতভাবে প্রিয় একটা জগতে নিয়ে যায়। তবে এই প্রথম দুর্দান্তের প্রশ্নটা নিয়ে বেশিক্ষন থমকে থাকলাম।
সিলেটি মুসলমান আছে কিন্তু (ব্রিটিশ) সিলেটি হিন্দু বইলা কি কিছুই নাই।
এটা কেন হলো -- বিষয়ক কোন গবেষণা বা অনুসন্ধানমূলক পর্যবেক্ষন জানতে খুব ইচ্ছে করছে।

সত্যপীর এর ছবি

ধন্যবাদ কর্ণজয়। দুর্দান্তদার প্রশ্ন আসলেও খাঁটি।

..................................................................
#Banshibir.

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখাটা দারুন হয়েছে। অনেক কিছু জানতে পারলাম। কিন্তু একটা প্রশ্ন জাগলো মনে আর তা হল আপনি কি বাঙালী আর সিলেটিদের আলাদা জাতি হিসেবে ভাবেন?

দ্রোণ মৈত্র

সত্যপীর এর ছবি

না ভাবি না। মূল লেখক ও ভাবেন এরকম আলামত পাইনি।

..................................................................
#Banshibir.

স্যাম এর ছবি

চলুক

সত্যপীর এর ছবি

চোখ টিপি

..................................................................
#Banshibir.

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।