ছন্দে ছন্দে চলা ০৪

রোমেল চৌধুরী এর ছবি
লিখেছেন রোমেল চৌধুরী [অতিথি] (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৬/১০/২০১১ - ৯:২২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ছন্দে ছন্দে চলা ০১
ছন্দে ছন্দে চলা ০২
ছন্দে ছন্দে চলা ০৩

এই পর্বে অক্ষরবৃত্ত নিয়ে বিশদ আলোচনা করবো।

অক্ষরবৃত্তের বিন্যাস

চার বা চারের গুণিতকের সাথে দুই যোগ করলে যে সংখ্যাটি পাই, সেই সংখ্যক মাত্রা দিয়েই তৈরি হয় অক্ষরবৃত্তের লাইন (ব্যতিক্রম আছে)। অক্ষরবৃত্তে লেখা কবিতার লাইনগুলো সাধারণত এভাবে বিন্যস্ত থাকে,
১। ৪+২=৬ মাত্রা ; ৪ মাত্রার একটি পূর্ণ পর্ব আর ২ মাত্রার একটি অতি পর্ব।
২। ৪+৪+২=১০ মাত্রা ; ৪ মাত্রার দুটি পূর্ণ পর্ব আর ২ মাত্রার একটি অতি পর্ব।
৩। ৪+৪+৪+২=১৪ মাত্রা ; ৪ মাত্রার তিনটি পূর্ণ পর্ব আর ২ মাত্রার একটি অতি পর্ব।
৪। ৪+৪+৪+২=১৪ মাত্রা ; ৪ মাত্রার তিনটি পূর্ণ পর্ব আর ২ মাত্রার একটি অতি পর্ব।
৫। ৪+৪+৪+৪+২=১৮ মাত্রা ; ৪ মাত্রার চারটি পূর্ণ পর্ব আর ২ মাত্রার একটি অতি পর্ব।
৬। ৪+৪+৪+৪+৪+২=২২ মাত্রা ; ৪ মাত্রার পাঁচটি পূর্ণ পর্ব আর ২ মাত্রার একটি অতি পর্ব।
৭। ৪+৪+৪+৪+৪+৪+২=২৬ মাত্রা ; ৪ মাত্রার ছয়টি পূর্ণ পর্ব আর ২ মাত্রার একটি অতি পর্ব।
৮। ৪+৪+৪+৪+৪+৪+৪+২=৩০ মাত্রা ; ৪ মাত্রার সাতটি পূর্ণ পর্ব আর ২ মাত্রার একটি অতি পর্ব।

মাত্রার সংখ্যা চার চার করে বাড়ছে, শেষে জিরিয়ে নেবার জন্য বাড়তি ২ মাত্রার একটি অতিপর্ব। কি সোজা তাই না? কবিতার শরীরে দেখি,

১০ মাত্রার অক্ষরবৃত্ত

সে এক সকাল বেলা খুব
ঘরের জানালা খুলে দিয়ে
চোখ শুধু দেখেছিলো আলো
যুদ্ধহীন পৃথিবীর রূপ
ঝরে পড়ছে শান্ত মাটিতে।
(ভাস্কর চক্রবর্তী, ‘সময়ের চেয়ারে’)

অক্ষরবৃত্তের নিয়ম-চরিত্র মনে আছে তো?
ওপেন সিলেবল সবসময় পাবে ১ মাত্রা। শব্দের শুরুতে কিম্বা মধ্যে থাকলে ক্লোজড সিলেবল পাবে ১ মাত্রা, শব্দের শেষে থাকলে ২ মাত্রা।

সে(১) এক্(২) স(১)/কাল্(২) বে(১)লা(১)/ খুব্(২)
ঘ(১)রের্(২) জা(১)/না(১)লা(১) খু(১)লে(১)/ দি(১)য়ে(১)
চোখ্(২) শু(১)ধু(১)/ দে(১)খে(১)ছি(১)লো(১)/ আ(১)লো(১)
যুদ্(১)ধ(১)হীন্(২)/ পৃ(১)থি(১)বীর্(২)/ রূপ্(২)

উপরে সবকটি চরণ ভেঙে ভেঙে দেখালাম, বাদ রাখলাম পঞ্চম চরণটি। প্রথম চার চরণে ৪+৪+২=১০ মাত্রা। এবারে পঞ্চম চরণে আসি। পঞ্চম চরণে কয় মাত্রা? ছন্দপতন ঘটেছে কি? টের পাওয়া যাচ্ছে? অক্ষর গুণে গুণে কিন্তু ঠিকই ১০ মাত্রা।

১৪ মাত্রার অক্ষরবৃত্ত : ৮+৬ বাঁধুনিতে

দশের বৃত্ত পেরিয়ে আমরা যখন ১৪ মাত্রার অক্ষরবৃত্তে উপনীত হই, তখন বাড়তি ২ মাত্রার অতিপর্ব নিজেকে এমনভাবে ঢেকে রাখে যে তখন ওদের ছন্দের মূল চালেরই অঙ্গ বলে মনে হয়। কারণ লাইনের টুকরো টুকরো অংশের মধ্যে যেমন ছোট মাপের চাল থাকে, তেমনি গোটা লাইনেরও একটি বড় মাপের চাল থাকে। ছোট মাপের চালের দিকে তাকালে বাড়তি ২ মাত্রাকে আলাদা করে দেখতে পাই; কিন্তু বড় মাপের চালের দিকে তাকালে আর দেখতে পাই না। তখন ৪+৪+৪+২=১৪ মাত্রা রূপান্তরিত হয় ৮+৬ কাঠামোতে। উদাহরণ দিই,

হে দারিদ্র্য/ তুমি মোরে/ ককরেছ ম/হান
তুমি মোরে/ দানিয়াছ/ খ্রীস্টের/ সম্/মান।
(কাজী নজরুল ইসলাম, ‘দারিদ্র’)


ঠোঁট থেকে/ মুছে ফেলে/ জীবনের/ কণা
স্নায়ুর সন্তাপে শেষে পাও কি সান্/তনা?
(হাসান হাফিজুর রহমান, ‘অন্বিষ্ট অসুর’)

বুঝাই যাচ্ছে, ৪+৪+৪+২=১৪ মাত্রা। কিন্তু এভাবেও তো দেখা চলে,


হে দারিদ্র্য তুমি মোরে/ করেছ মহান
তুমি মোরে দানিয়াছ/ খ্রীস্টের সম্মান।


ঠোঁট থেকে মুছে ফেলে/ জীবনের কণা
স্নায়ুর সন্তাপে শেষে/ পাও কি সান্তনা?

৮+৬ কাঠামো ; ১৪ মাত্রার সনেট রচনায় এই কাঠামোটি ব্যাপক ব্যবহৃত।

১৮ মাত্রার অক্ষরবৃত্ত : ৮+১০ বাঁধুনিতে

এবারে চারের লাফে ১৪ পেরিয়ে ১৮ মাত্রার অক্ষরবৃত্তে পৌঁছই,

সে-কথা ভু/লো না তুমি।/ ভুলো না পা/থর চাপা/ ঘাসে
তোমারি সৌ/হার্দে, নারী,/ ঈশ্বর শি/শুর মত/ হাসে।
(দিলওয়ার, ‘তোমাকে’)


অনন্ত ক/থার রাজ্যে/ তুমি এক/ নিঃসঙ্গ প/থিক।
মুক্তার ফ/সল তুলে’/ কবিতায়/ বর্ণের বা/হার
নিয়ত ছ/ড়িয়ে তুমি/ তারপর/ সুরের সে/তার
অলক্ষ্যে বা/জাও একা;/ সেইসুর/ ভোলে না ক/ দিক।
(আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ‘কোনো কবির প্রতি’)

৪+৪+৪+৪+২=১৮ মাত্রা। কেমন কেটে কেটে গেছে তাই না। কিন্তু যদি অন্যভাবে দেখি ভালোই লাগবে, বোধকরি।


সে-কথা ভুলো না তুমি।/ ভুলো না পাথর চাপা ঘাসে
তোমারি সৌহার্দে, নারী,/ ঈশ্বর শিশুর মত হাসে।
(দিলওয়ার, ‘তোমাকে’)


অনন্ত কথার রাজ্যে/ তুমি এক নিঃসঙ্গ পথিক।
মুক্তার ফসল তুলে’/ কবিতায় বর্ণের বাহার
নিয়ত ছড়িয়ে তুমি/ তারপর সুরের সেতার
অলক্ষ্যে বাজাও একা;/ সেইসুর ভোলে না ক দিক।

হ্যাঁ, ৪+৪+৪+৪+২=১৮ মাত্রা পেল ৮+১০ কাঠামো, ১৮ মাত্রার সনেট রচনায় ব্যাপক ব্যবহৃত।
পাঠকের কাছ প্রশ্ন, নীচের ১৮ মাত্রার কবিতাংশটি ভালো করে লক্ষ্য করুন। এবার বলুনতো এর কাঠামোটি কি রকম?

সবুজ চাঁদের নীচে প’ড়ে আছে আমার শরীর।
চেতনা, তারার নীচে। আমার চিৎকার উঠে যায়
অলীক ফিটনে চ’ড়ে ঘুরে ঘুরে আরক্ত চাকায়
নীল শূন্যে। নদী : আমার জীবন : বাকী সব তীর।
(আবদুল মান্নান সৈয়দ, ‘মরণের অভিজ্ঞান’)

২২ মাত্রার অক্ষরবৃত্ত


ইতিহাস/ ছেনে তারা/ স্বপ্ন দেখে/ একদিন/ সুন্দর আ/গামী
তাদেরি আ/সামি করে/ রায় দেবে/ পৌরাণিক/ কয়েদ খা/নায়।
(সৌমিত্র দেব, ‘বাঙালি অতীত মুখি’)


আবার আসিব ফিরে ধানসিড়ির তীরে — এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় — হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে;
(জীবনানন্দ দাশ, ‘আবার আসিব ফিরে’)


বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ
খুঁজিতে যাই না আর : অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে
চেয়ে দেখি ছাতার মতন বড়ো পাতাটির নিচে বসে আছে
ভোরের দোয়েলপাখি — চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ
জাম — বট — কাঠালের — হিজলের — অশথের করে আছে চুপ;
(জীবনানন্দ দাশ, ‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি’)


যেদিন সরিয়া যাব তোমাদের কাছ থেকে – দূর কুয়াশায়
চ’লে যাবো, সেদিন মরণ এসে অন্ধকারে আমার শরীর
ভিক্ষা ক’রে লয়ে যাবে;- সেদিন দু’দণ্ড এই বাংলার তীর —
এই নীল বাংলার তীরে শুয়ে একা একা কি ভাবিব, হায়;-
সেদিন র’বে না কোনো ক্ষোভ মনে –এই সোঁদা ঘাসের ধুলায়
(জীবনানন্দ দাশ, ‘যেদিন সরিয়া যাব’)


যখন মৃত্যুর ঘুমে শুয়ে রবো — অন্ধকারে নক্ষত্রের নিচে
কাঁঠাল গাছের তলে হয়তো বা ধলেশ্বরী চিলাইয়ের পাশে –
(জীবনানন্দ দাশ, ‘যখন মৃত্যুর ঘুমে’)


একদিন জলসিড়ি নদীটির পারে এই বাংলার মাঠে
বিশীর্ন বটের নীচে শুয়ে রব- পশমের মত লাল ফল
ঝরিবে বিজন ঘাসে-বাঁকা চাঁদ জেগে রবে- নদীটির জল
বাঙ্গালি মেয়ের মত বিশালাক্ষী মন্দিরের ধূসর কপাটে
(জীবনানন্দ দাশ, ‘একদিন জলসিড়ি নদীটির’)


ভিজে হয়ে আসে মেঘে এ-দুপুর — চিল একা নদীটির পাশে
জারুল গাছের ডালে বসে বসে চেয়ে থাকে ওপারের দিকে;
(জীবনানন্দ দাশ, ‘ভিজে হয়ে আসে মেঘে’)

বুঝতেই পারছেন ‘রূপসী বাংলা’ জুড়ে ২২ মাত্রার অক্ষরবৃত্তের ছড়াছড়ি।

২৬ মাত্রার অক্ষরবৃত্ত


শ্যাম মেঘপুঞ্জ যথা ঢেকে রাখে আকাশের লজ্জাহীন নীলিম নগ্নতা,
বিদ্রোহী তৃণের দল অনাবৃতা ধরিত্রীর রুক্ষ বক্ষে পরায় বসন,
প্রেমের পবিত্র ব্যথা আচ্ছাদন করি’ রাখে কুমারীর কাম-চঞ্চলতা;―
তেমনি ঢাকিয়া রাখো তোমার রূপের স্বপ্নে আমার সমস্ত প্রাণমন।
(বুদ্ধদেব বসু, ‘অসূর্যস্পর্শ্যা’)


মাঠ থেকে মাঠে মাঠে — সমস্ত দুপুর ভরে এশিয়ার আকাশে আকাশে
শকুনেরা চরিতেছে; মানুষ দেখেছে হাট ঘাঁটি বস্তি — নিস্তব্ধ প্রান্তর
শকুনের; যেখানে মাঠের দৃঢ় নীরবতা দাঁড়ায়েছে আকাশের পাশে
(জীবনানন্দ দাশ, ‘শকুন’)


মানুষের সঙ্গ ছাড়া আর সব ভালো লাগে; অতিশয় দূরে বেঁচে আছি,
পথের কুকুর দেখে মুগ্ধ হই, দেখি দূরে আজো ওড়ে মুখর মৌমাছি।
(হুমায়ুন আজাদ, ‘মানুষের সঙ্গ ছাড়া’)


তোমাকে ফিরিয়ে দেবো, এতোটা স্পর্ধার শক্তি অনুপূর্ব কোথায় আমার?
আজন্ম তোমার মুখ, তোমারই হাতের ছোঁয়া, ও-দুটি রাতুল পদচ্ছাপ
বুকের নিভৃতে রেখে, অশেষ এ-তমসায়, ত্রিতাপ- তৃষ্ণার শম খুঁজে
ঝড়ের শিরোপা নিয়ে পাহাড়-উদাস আমি পেরিয়েছি দীর্ঘ পরবাস।―
(ঊর্ধ্বেন্দু দাশ, ‘দেবী মুখ’)

৩০ মাত্রার অক্ষরবৃত্ত

আছে আছে, রূপসী বাংলাতেই পেয়েছি। তবে পুরো কবিতায় নয়, একটি কি দু’টি চরণে।

দেখা যায় — রহস্যের কুয়াশায় অপরূপ — রূপালি মাছের দেহ গভীর উদাসী
চলে যায় মন্ত্রিকুমারের মতো, কোটাল ছেলের মতো রাজার ছেলের মতো মিলে
(জীবনানন্দ দাশ, ‘ঘাসের ভিতরে যেই’)


আমারে ঘুমাতে দেখে বিছানায়, — আমার কাতর চোখ, আমার বিমর্ষ ম্লান চুল –
(জীবনানন্দ দাশ, ‘এইসব ভালো লাগে’)


দেখিতাম সেই লক্ষ্মীপেঁচাটির মুখ যারে কোনোদিন ভালো করে দেখি নাই আমি –
(জীবনানন্দ দাশ, ‘ভেবে ভেবে ব্যথা পাব’)

এই তো গেল রীতিসিদ্ধ অক্ষরবৃত্তের খেলা। তাহলে কি এই শেষ? না আরো আছে। আছে অক্ষরবৃত্তের ছোট বড় চাল। এই পর্বে শুধু দু’টো উদাহরণ দিই, পরের পর্বে বিস্তারিত লেখা যাবে।


ভালোবেসে/ দেখিয়াছি/ মেয়ে মানু/ষেরে, ৪+৪+৪+২
অবহেলা/ করে আমি/ দেখিয়াছি/ মেয়ে মানু/ষেরে, ৪+৪+৪+৪+২
ঘৃণা করে/ দেখিয়াছি/ মেয়েমানু/ষেরে; ৪+৪+৪+২
আমার সে/ ভালোবাসি/য়াছে, ৪+৪+২
আসিয়াছে/ কাছে, ৪+২
উপেক্ষা সে/ করেছে আ/মারে, ৪+৪+২
ঘৃণা করে/ চলে গেছে/ — যখন ডে/কেছি বারে/বারে ৪+৪+৪+৪+২
ভালোবেসে/ তারে; ৪+২
তবুও সা/ধনা ছিল/ একদিন/ — এই ভালো/বাসা; ৪+৪+৪+৪+২
আমি তার/ উপেক্ষার/ ভাষা ৪+৪+২
আমি তার/ ঘৃণার আ/ক্রোশ ৪+৪+২
অবহেলা/ করে গেছি;/ যে নক্ষত্র/ — নক্ষত্রের/ দোষে ৪+৪+৪+৪+২
আমার প্রে/মের পথে/ বারবার/ দিয়ে গেছে/ বাধা ৪+৪+৪+৪+২
আমি তা ভু/লিয়া গেছি; ৪+৪
তবু এই/ ভালোবাসা/ — ধুলো আর/ কাদা — । ৪+৪+৪+২
(জীবনানন্দ দাশ, ‘বোধ’)

এইমাত্র আমার ফেসবুকের কবিবন্ধু হাসান আল জামী তাঁর সদ্যলেখা একটি কবিতায় আমাকে ট্যাগ করেছেন। কবিতাটি দেখি,


প্রতীক্ষা প্রা/চীন ! ৪+২
আজন্ম বু/কের ভাঁজে/ জমে থাকে/ স্থির ; ৪+৪+৪+২
নেশাবৃত/ অন্ধকার-/ পাস্তুরিত/ হিমবাহ/ যেনো ৪+৪+৪+৪+২
হৃদয়ের/ নোনাজলে/ নিমগ্ন নি/বিঢ় ! ৪+৪+৪+২

আবেশের/ শীতঘুম/ শেষে, ৪+৪+২
কখন যে/ হৃতদিশা/ নেশা কেটে/ যাবে ! ৪+৪+৪+২
জীবনের/ আয়োজনে/ নির্নিমেষ/ সহসা স/রল ৪+৪+৪+৪+২
যতিচিহ্ন/ এঁকে দিয়ে/ - তবে ৪+৪+২
ভোরের রো/দের রঙে/ পাশে এসে/ দাঁড়াবে সুন্দর , ৪+৪+৪+৪+২
'প্রতিক্ষা' প্র/সূন ! ৪+২
(হাসান আল জামী, ‘প্রতীক্ষা’)

আজ এখানেই ইতি।


মন্তব্য

কাজি মামুন এর ছবি

প্রথমেই লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ ছন্দের সাথে আমাদের মত সাধারণ পাঠককে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য! সত্যি বলতে কি, কবিতা পাঠ করতে গিয়ে ছন্দ নিয়ে এতদিন মাথা ঘামাইনি! এখন ছন্দের এই সূক্ষ্ম খেলা দেখে অবাক হয়ে ভাবি একটি কবিতার শরীর গড়তে কবিকে কতই না শ্রম দিতে হয়! তবে আমার জানতে কৌতূহল হচ্ছে, এই ছন্দের ব্যাপারটিকে এড়িয়ে যদি কোন কবিতা রচিত হয়, আর তা পাঠ করতে পাঠকের যদি কোন রকম বেগ পেতে না হয়, বরং কবিতাটির গভীর ভাবরস আস্বাদন করে পাঠক যদি আনন্দিত হয়, তাহলেও কি ঐ কবিতাকে 'গ্রামার' না মানার কারণে কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে?

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

গদ্যছন্দ ও বাংলা কবিতায় ছন্দোমুক্তির সূত্র নিয়ে একটি পোষ্ট দেবার অভিপ্রায় আমার দীর্ঘদিনের। প্রয়োজন আরো অনেক অধ্যয়নের। আপনার প্রশ্নটির পরিপূর্ণ উত্তর দেবার জন্য যথেষ্ট সঞ্চয় এই মুহূর্তে আমার ঝুলিতে নেই। তবে এ বিষয়ে এ মুহূর্তে দুটি সূত্র (link) দিতে পারি,
১। আবিদ আনোয়ার, বাংলা কবিতার আধুনিকায়ন, দ্বিতীয় সংস্করণ, (পৃষ্টা ৫১-৫২ ও ৩৪)
২। নীলরতন সেন, ছন্দকুশলী কবি জীবনানন্দ।
দ্বিতীয় সূত্রটি থেকে কিছু অংশ তুলে দেবার ইচ্ছে ছিল, সেখানে আপনার প্রশ্নটির উত্তর কিছুটা হলেও খুঁজে পেতেন।

আপনি যে সাধারণ পাঠক, আমি এটি মানতে রাজী নই, এই দেখুন আপনার মতামতকে আমি কত গুরুত্বের সাথে গ্রাহ্য করেছি।

-----------------------------------
যে মাঠে ফসল নাই তাহার শিয়রে
চুপে দাঁড়ায়েছে চাঁদ — কোনো সাধ নাই তার ফসলের তরে;

মাহবুব লীলেন এর ছবি

বর্ণ গুনে গুনে মাত্রা বিচারে আমার প্রধান আপত্তির কারণ হলো; পড়তে গেলে আর এইসব ছন্দ থাকে না
থাকলেও মাত্রা বিন্যাস বদলে যায়
কারণ কবিতা পড়তে গেলে লাইন মেনে পড়া হয় না। পড়া হয় অর্থ মেনে

আপনার কোট করা লিখিত কবিতার পাঠ্যরূপগুলা একটু দেখেন তো:

ক.
অনন্ত কথার রাজ্যে তুমি এক নিঃসঙ্গ পথিক।
মুক্তার ফসল তুলে’ কবিতায় বর্ণের বাহার নিয়ত ছড়িয়ে
তুমি তারপর সুরের সেতার অলক্ষ্যে বাজাও একা;
সেইসুর ভোলে না ক দিক।

খ.
বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর :
অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে চেয়ে দেখি;
ছাতার মতন বড়ো পাতাটির নিচে বসে আছে ভোরের দোয়েলপাখি —
চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ - জাম — বট — কাঠালের — হিজলের — অশথের করে আছে চুপ;

গ.
যেদিন সরিয়া যাব তোমাদের কাছ থেকে – দূর কুয়াশায় চ’লে যাবো,
সেদিন মরণ এসে অন্ধকারে আমার শরীর ভিক্ষা ক’রে লয়ে যাবে;
- সেদিন দু’দণ্ড এই বাংলার তীর —
এই নীল বাংলার তীরে শুয়ে একা একা কি ভাবিব, হায়;-
সেদিন র’বে না কোনো ক্ষোভ মনে –এই সোঁদা ঘাসের ধুলায়

ঘ.
একদিন জলসিড়ি নদীটির পারে এই বাংলার মাঠে বিশীর্ন বটের নীচে শুয়ে রব-
পশমের মত লাল ফল ঝরিবে বিজন ঘাসে-
বাঁকা চাঁদ জেগে রবে-
নদীটির জলে বাঙ্গালি মেয়ের মত বিশালাক্ষী মন্দিরের ধূসর কপাটে

ঙ,
ভিজে হয়ে আসে মেঘে এ-দুপুর — চিল একা নদীটির পাশে
জারুল গাছের ডালে বসে বসে চেয়ে থাকে ওপারের দিকে;

০২

এইবার দেখেন তো। আদৌ এইসব ছন্দবিন্যাস পড়ার ক্ষেত্রে কাজে লাগে কি না? নাকি পড়ার সময় অন্যসূত্র মানতে হয়?

০৩

বাংলা কবিতায় লেখার লাইন আর অর্থবোধক বাক্যেকে আলাদা করার উদ্ভট অপকর্মটিকে আমার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মধুসূদন দত্ত

পণ্ডিতদের আহাউহু করা তার অমিত্রাক্ষর ছন্দ বস্তুটা এই অপকর্মের সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ
তার ওই অমিত্রাক্ষর বস্তুতে ছন্দ খুঁজতে গেলে পড়তে হয় অক্ষর আর শব্দ
আর কবিতা পড়তে গেলে ডিঙাতে হয় তার শব্দের কারিশমা
তাও মুক্তি নাই। তিনি আবার কবিতার লাইনের মধ্যে ব্রাকেটও ব্যবহার করেছেন
কিন্তু কবিতা আবৃত্তি করতে গেলে ব্রাকেট কেমনে আবৃত্তি করে?
ব্রাকেট একমাত্র পন্ডিতের পক্ষে দেখা সম্ভব। শ্রোতার পক্ষে শোন সম্ভব না

মধুসূদনই কবিতাকে শ্রুতি শিল্প থেকে সরিয়ে নিয়ে পণ্ডিতের চশমা দিয়ে খুঁটিয়ে খাবার খোরাক বানিয়ে দিয়েছেন
যার কারণে দাঁড়ি কমা নক্তার সাথে আবার ব্রাকেটও ব্যবহার করেছেন কবিতায়

এটাই পরবর্তীতে অনেকেই অনুসরণ করেছেন
কিন্তু বাংলা কবিতার আদি সকল ফর্মই আবৃত্তি উপযোগী
এক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথও দুর্দান্ত আবৃত্তি উপযোগী। কবিতার লাইন আর বাক্য এ দুটোর সফল সমন্বয় তার কবিতাতেই সবচে বেশি পাওয়া যায়

০৪

প্রবোধ চন্দ্র সেন অক্ষরবৃত্তকে মূলত পড়ার জন্য ছন্দ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। আবৃত্তি উপযোগীতাকে মাথায় রেখে করেননি মোটেও
কিন্তু কবিতা মূলত শ্রুতিশিল্প। এটা মুখ শব্দ করে পড়ে আর কান শোনে

০৫

বাংলা কবিতায় অক্ষরবৃত্তকে বনেদি ছন্দ ধরা হয়। কিন্তু সবচে ভুল ব্যবহারও হয় এই ছন্দটির
তার জন্য প্রথমত দায়ী মধুসূদন। দ্বিতীয়ত দায়ী প্রবোধচন্দ্র সেন

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

০১
ছন্দ কি শুধু কবিতার জন্যে? তাহলে গৈরিশ ছন্দ? কবিতার কি শুধুই পাঠ, আবৃত্তি নয়? টিভি নাটকের সংলাপভঙ্গীর সাথে মঞ্চ নাটক কিম্বা যাত্রার সংলাপ কতটুকু বিসদৃশ?
আপনার এ মন্তব্যের উত্তর এখুনি নেব না। কারণ, পদ, যতি, যতিলোপ ইত্যকার বিষয় নিয়ে এই সিরিজেই আলাদা একটি পোষ্ট দেবার ইচ্ছে আছে। সেখানেই এসব প্রশ্নের কিছুটা হলেও উত্তর মিলবে।

শুধু এটুকু বলি রাখি আপনার সাথে আমার অভিমত ক্রমশঃ অপসরণশীল (diverging) হচ্ছে।

০২
অক্ষরবৃত্তের উদাহরণ দেবার জন্য আমি যে কবিতাগুলি ব্যবহার করেছি তার মধ্যে কিছু কবিতাকে আপনি বেছে নিয়ে পাঠ্যরূপের সাথে ছন্দবিন্যাসের অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।

লক্ষ্য করুন, ১৮ মাত্রার অক্ষরবৃত্তের আমি নমুনা দিয়েছি দু’টি। আপনি বেছে নিয়েছেন দ্বিতীয়টিকে। প্রথমটিকে বেছে নিলে আপনার প্রতিপাদ্য এত সহজ হতো না। তেমনি ২২ মাত্রার অক্ষরবৃত্তে আমার দেয়া সাতটি উদাহরণের মধ্যে আপনি বেছে নিয়েছেন পাঁচটি। সেখানেও একই হিসেব, এক ও দুই নম্বরকে জ্ঞান করলে সেটি আপনার প্রতিপাদ্যের বিপক্ষে যায়। আর আপনার বেছে নেয়া পঞ্চম উদাহরণটি তো আপনার প্রতিপাদ্যের বিপক্ষে গোড়া থেকেই দাঁড়িয়ে গেছে।

০৩
আগের পর্বে নীরেন বাবুকে আর এই পর্বে মধুসূদন ও পি সি সেনকে ভালোই ধুলেন। ডিটারজেন্টের শক্তি ও কার্যক্ষমতা কতটুকু সেটি বিবেচনার দায়িত্ব নিতে চাচ্ছি না, পাঠক নেবেন। তবে এটুকু তো নির্ভয়ে বলি, আমার ধারণা মধুসূদন অমিত্রাক্ষর বা অমিল অক্ষরবৃত্ত সৃষ্টি করেছিলেন কবিতা পাঠের বিষয়টিকে মাথায় রেখে নয়, বরং নাটকের সংলাপ বলার বিষয়টিকে পুঁজি করে। অন্ততঃ ‘পদ্মাবতী’ তো সেটিরই সাক্ষ্য দেয়। মেঘনাদ বধে অমিত্রাক্ষরের সুপ্রয়োগ কাব্যটিকে একধরনের রসসিক্ত করবার প্রয়োজনে। গিরিশচন্দ্রও নাটকে ব্যবহারের জন্য অসম মাপের পংক্তির অমিল অক্ষরবৃত্ত তৈরি করেছিলেন। আমরা তাকে গৈরিশ ছন্দ বলে জানি।

অমিত্রাক্ষর ও গৈরিশ ছন্দের সবচেয়ে বড় অবদান হলো গদ্য-পদ্যের মেলবন্ধন রচনা করা। হালের আধুনিক কবিতায় এর প্রায়োগিক দিকটি আপনার মতো গুণীজনের নজর এড়িয়ে যাবে সেটি অবিশ্বাস্য।

এক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথও দুর্দান্ত আবৃত্তি উপযোগী। কবিতার লাইন আর বাক্য এ দুটোর সফল সমন্বয় তার কবিতাতেই সবচে বেশি পাওয়া যায়

সহমত। তবে আবৃত্তি উপযোগী না বলে পাঠ উপযোগী বললে আরও লক্ষ্যভেদী হতো।

০৪/০৫
আহত না হলে বলব, কিছুটা ঝেড়ো মন্তব্য (sweeping statement).

-----------------------------------
যে মাঠে ফসল নাই তাহার শিয়রে
চুপে দাঁড়ায়েছে চাঁদ — কোনো সাধ নাই তার ফসলের তরে;

সৈয়দ আফসার এর ছবি

চলুক

__________♣♣♣_________
না-দেখা দৃশ্যের ভেতর সবই সুন্দর!

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

-----------------------------------
যে মাঠে ফসল নাই তাহার শিয়রে
চুপে দাঁড়ায়েছে চাঁদ — কোনো সাধ নাই তার ফসলের তরে;

ফাহিম হাসান এর ছবি

নানা ব্যস্ততায় মন্তব্য করা হয়ে উঠছে না। কিন্তু সিরিজটা পড়ছি।

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

ব্যস্ততার মধ্যেও যে পাঠে সময় দিচ্ছেন, এটুকুই বা কম কিসে?

-----------------------------------
যে মাঠে ফসল নাই তাহার শিয়রে
চুপে দাঁড়ায়েছে চাঁদ — কোনো সাধ নাই তার ফসলের তরে;

নজরুল ইসলাম এর ছবি

এইবার আরো ডরাইছি

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

তাইলে আপনি সত্যই ডরপুক! চোখ টিপি

-----------------------------------
যে মাঠে ফসল নাই তাহার শিয়রে
চুপে দাঁড়ায়েছে চাঁদ — কোনো সাধ নাই তার ফসলের তরে;

যুমার এর ছবি

অক্ষরবৃত্তের এত জটিল বিন্যাস দেখে সত্যিই ঘাবড়ে গেছি।রূপসী বাংলার কবিতাগুলো এতদিন পাঠ্যরূপ ধরেই তো পড়েছি এবং অন্য সব কবিতার ক্ষেত্রে ও তাই।
লেখা ধারাবাহিকভাবে চলুক,রোমেল ভাই।

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

দুঃখপ্রকাশ ও আনন্দবিলাস দুটিই করছি। প্রথমটি ব্যবচ্ছেদের ক্লান্তি ছড়িয়ে দেবার জন্য। দ্বিতীয়টি, ছন্দে ছন্দে চলার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও গতি জড়তা তৈরি করতে পারার জন্য। ছন্দোমুক্তির সূত্রটি খুঁজে পেতে ছন্দের জ্ঞান নিঃসন্দেহে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে হয় অবশেষে।

-----------------------------------
যে মাঠে ফসল নাই তাহার শিয়রে
চুপে দাঁড়ায়েছে চাঁদ — কোনো সাধ নাই তার ফসলের তরে;

তানিম এহসান এর ছবি

সাথে আছি সর্বোচ্চ মনোযোগী ছাত্র হাসি

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

হাসি

-----------------------------------
যে মাঠে ফসল নাই তাহার শিয়রে
চুপে দাঁড়ায়েছে চাঁদ — কোনো সাধ নাই তার ফসলের তরে;

হাসান আল জামী এর ছবি

খুব ভালো লাগলো আলোচনা পর্বটি । খুবই শিক্ষনীয় এবং সুন্দর । লেখককে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, এই অভাজনের কবিতা কোট করেছেন বলে ! কৃতার্থতা ও আনন্দ প্রকাশের ভাষা পাচ্ছি না !
সহজ এবং সুন্দর ভাষায় অক্ষরবৃত্ত ছন্দের উপর সফল আলোচনা করেছেন বলে লেখককে আন্তরিক অভিবাদন আবার ও ।

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ জামী ভাই। মাঝে মাঝে সচলায়তনের পাতায় চোখ বুলাতে অনুরোধ করি।

-----------------------------------
যে মাঠে ফসল নাই তাহার শিয়রে
চুপে দাঁড়ায়েছে চাঁদ — কোনো সাধ নাই তার ফসলের তরে;

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

এত পরিশ্রম করেছেন দেখে গুরু গুরু না দিয়ে পারলাম না। কাব্যবিশারদ, আপনার সাহিত্যসাধনা অব্যাহত থাকুক, আর আমরাও তার স্পর্শ আপনার সুলেখনী থেকে পেতে চাই..........


_____________________
Give Her Freedom!

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

এবার তোমাকে একটু পরিশ্রম করাই, কেমন!

সে এক সকাল বেলা খুব
ঘরের জানালা খুলে দিয়ে
চোখ শুধু দেখেছিলো আলো
যুদ্ধহীন পৃথিবীর রূপ
ঝরে পড়ছে শান্ত মাটিতে।
(ভাস্কর চক্রবর্তী, ‘সময়ের চেয়ারে’)

পঞ্চম লাইনটির মাত্রাবিন্যাস করো তো! এবারে তোমার মত জানাও।

-----------------------------------
যে মাঠে ফসল নাই তাহার শিয়রে
চুপে দাঁড়ায়েছে চাঁদ — কোনো সাধ নাই তার ফসলের তরে;

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

সাহস নিয়ে পরীক্ষা দিতে বসে গেলাম; ফেল সুনিশ্চিত জেনেও। দেঁতো হাসি

বর্ণবিচারেঃ
সে এক সকাল বেলা খুব(১০)
ঘরের জানালা খুলে দিয়ে(১০)
চোখ শুধু দেখেছিলো আলো(১০)
যুদ্ধহীন পৃথিবীর রূপ(১০)
ঝরে পড়ছে শান্ত মাটিতে।(১০)

১০ মাত্রার পঙ্ক্তি।

ধ্বনিবিচারেঃ
সে১ এক্২ স১ কাল্২ বে১ লা১ খুব্২ (১০)
ঘ১ রের্২ জা১ না১ লা১ খু১ লে১ দি১ য়ে১ (১০)
চোখ্২ শু১ ধু১ দে১ খে১ ছি১ লো১ আ১ লো১ (১০)
যুদ্১ ধো১ হীন্২ পৃ১ থি১ বীর্২ রূপ্২ (১০)
ঝ১ রে১ পড়্১ ছে১ শান্১ তো১ মা১ টি১ তে১। (৯ চিন্তিত )

আমার মনে হচ্ছে কবি বর্ণগুণে মাত্রা মিলিয়েছেন, ধ্বনি/উচ্চারণ এককে নয়। দুটো পদ্ধতি একি ফলাফল দিচ্ছে না। কবিরও কি স্বাধীনতা থাকছে যে কোন একটি বেছে নেবার, রোমেল ভাই?


_____________________
Give Her Freedom!

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

ডুপ্লি

-----------------------------------
যে মাঠে ফসল নাই তাহার শিয়রে
চুপে দাঁড়ায়েছে চাঁদ — কোনো সাধ নাই তার ফসলের তরে;

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

আমার মনে হয় বিষয়টি কবির ইচ্ছাকৃত। দেখো, এক মাত্রা কমতি পড়ার কারনেই পাঠককে পড়তে হচ্ছে এভাবে,

ঝরে পড়ছে শা-আ-ন্ত মাটিতে।

একজন ছন্দকুশলী কবি এভাবেই মোহজাল বিস্তার করে ভাষা ও শব্দকে গভীরতা দেন।

-----------------------------------
যে মাঠে ফসল নাই তাহার শিয়রে
চুপে দাঁড়ায়েছে চাঁদ — কোনো সাধ নাই তার ফসলের তরে;

মৃত্যুময় ঈষৎ(Offline) এর ছবি

এবং 'শা-আ-ন্ত' উচ্চারণে ভাবটি আরো গভীর হচ্ছে আসলেই। আপনার উপলব্ধি সঠিক।

বন্দনা এর ছবি

পড়ে যাচ্ছি, একসাথে এত কিছু মাথা একটু গুলিয়ে যাচ্ছে যদি ও। কিন্তু খুব প্রয়োজনীয় একটা সিরিজ রোমেলদা। এত সুন্দর করে লিখছেন তাই পড়তে ক্লান্তি লাগেনা। অনেক অনেক ধন্যবাদ রোমেলদা।

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

এ যেন ডিকেডি স্যারের কোর্স! পি এল এর সময় প্রথমবার পড়তে গিয়ে মাথায় জট পাকিয়ে যায়, দ্বিতীয় কিম্বা তৃতীয় পঠনে ধীরে ধীরে খোলাসা হতে থাকে।
বোন, তোমায় অনেক ধন্যবাদ!

-----------------------------------
যে মাঠে ফসল নাই তাহার শিয়রে
চুপে দাঁড়ায়েছে চাঁদ — কোনো সাধ নাই তার ফসলের তরে;

guest_writer এর ছবি

লেখাটা পড়ে মনে হচ্ছিল, ঈদের আগে আবুল সাহেবের মেরামত করা রাস্তা দিয়ে দিব্বি চলতে পারছি। কিন্তু মন্তব্য পড়ে ঈদের পরের রাস্তার মত সেই বেহাল দশা।

যাহোক, মন্তব্য আপাতত শিকেয় তুলে মূল লেখাটায় মনোনিবেশ করছি। মনে হচ্ছে যৎসামান্য হলেও কিছু শিখেছি।

বিশেষ কারনে কয়েকদিন ল্যাপি থেকে দুরে ছিলাম তাই মন্তব্যে দেরি হল।

প্রৌঢ়ভাবনা

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানাই।

-----------------------------------
যে মাঠে ফসল নাই তাহার শিয়রে
চুপে দাঁড়ায়েছে চাঁদ — কোনো সাধ নাই তার ফসলের তরে;

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA