অপার্থিব জানালার খোঁজে

নজমুল আলবাব এর ছবি
লিখেছেন নজমুল আলবাব (তারিখ: শুক্র, ০৭/১০/২০১১ - ৬:১৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

তখন আমাদের কেরানির জীবন। বাবা পোস্টমাস্টার। কিন্তু আদতে সেটা কেরানিরই চাকরী। ভাই ঢাকায় একটা হাউজিং কোম্পানিতে জুনিয়র এক্সিকিউটিভ। আজকাল সব অফিসে সবাই এক্সিকিউটিভ হয়। গালভরা নাম সব। আদতে সবাই কেরানি। আমি নতুন চাকরীতে। পত্রিকার ডেস্কে বসি, তাও এক ধরনের কেরানিরই কাজ। বাপ ছেলে তিনজন যখন কেরানিরই চাকরী করি তখন সেটারে কেরনির জীবন বলাটাই উচিত।

আব্বা শহর থেকে ১৫/১৬ কি. মি. দুরের একটা ছোট্ট পোস্ট অফিসে কাজ করেন তখন। চাকরীর শেষ ১৫ টা বছর তিনি শহরেই ছিলেন বেশিরভাগ সময়। মাঝখানে কিছুদিন বাইরের ছোট ছোট দুটি অফিসে কিছুদিন ছিলেন। বড় অফিসে যেতে চাইতেন না। কাজের চাপে হাপিয়ে উঠতেন। শহরের সবচে কাছের দুই ছোট অফিসে তাই থাকা।

ছোট্ট একটা বাজারের অফিস। টিনশেড একটা বাড়ি। সাকুল্যে তিন জন স্টাফ সেখানে। অফিসের সামনের দিকটায় পাকা সড়ক। আর পেছনে রেল লাইন। সিলেটে আসা কিংবা সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলো যখন ঝম ঝম শব্দে পাড়ি দিতো সেই বাজার, পুরনো বাড়িটা তখন যেনো কেঁপে উঠতো।

আব্বা অফিস ছাড়া কিছু বুঝতেন না। ঝড়-বাদল, হরতাল কিছুই তাকে আটকে রাখতে পারতো না। চাকরী জীবনের বেশিরভাগ সময় বাড়ি আর অফিস এক কম্পাউন্ডে থাকায় এটা বুঝতে পারিনি। কিন্তু যখন সিলেটে চলে এলাম উপজেলা সদরের পাট চুকিয়ে, তখন তার এই বিষয়টা ধরা পড়লো। হরতাল হলেই মোটর সাইকেল চালিয়ে দিয়ে আবার নিয়ে আসতে হতো। আব্বাকে নিয়ে মোটর সাইকেলে বসা বেশ একটা ঝক্কির। পেছন থেকে অনবরত ইনস্ট্রাকশন দেয়া। সামনে কিছু পড়লো, পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়া যাবে, কিন্তু পেছন থেকে শিশুর মতো ঝাপটে ধরা। ব্রেক না করে উপায় নেই। তবুতো আমার কপাল ভালো। দাদাভাই যখন এরকম দিনে আব্বাকে নিয়ে যেতো, তখন তিনি এমনকি দাড়িয়েও যেতেন সমস্যা মনে হলে। একবার সামনে একটা গরু পড়েছিলো। দাদাভাই ব্রেক ধরেছে। আর আব্বা পেছনে দাঁড়িয়ে পড়লেন। একেতো ব্রেক ধরা হয়েছে, তার উপর পেছন থেকে আব্বা দাড়িয়ে পড়ায় মোটর সাইকেল হঠাৎ ওজন হারিয়ে ফেলে, ছিটকে পড়লো দাদাভাই সমেত! এরপর থেকে আর দাড়ানোর মতো বোকামী করেন নি। অবশ্য ড্রাইভার হিসেনে আব্বার আমাকে বেশি পছন্দ। কোথাও যেতে হলে গাড়ির চেয়ে আমার মোটর সাইকেলে চড়তেই স্বাচ্ছন্দবোধ করতেন।

ঢাকা যাবার জন্য দুপুরের ট্রেনটাতেই তখন বেশি চড়তাম আমরা। সকালে ঘুম থেকে উঠে ট্রেন ধরার ঝক্কি কিংবা রাতে ঘুমের সমস্যা করে কোথাও যাওয়ার কষ্ট করতে মন চাইতো না। দাদাভাই ১৫ দিন কিংবা মাসে একবার আসতো। সে আসতো সাধারণত রাতের ট্রেনে। অফিস শেষ করে ট্রেনে চড়ে সকালে পৌছা যেতো। কিন্তু ফেরার সময় দুপুরের ট্রেন ধরতো। যাবার দিন আব্বা সকালে বিদায় নিয়ে চলে যেতেন। মন খারাপ টারাপতো কখনো বুঝতে দিতেন না। সেটা খুজতেও যাইনি কখনও। শুধু বিকেলে ফিরে আসলে আম্মাকে বলতেন, ছেলে তিনটার দিকে আমার অফিস পেরিয়ে গেলো। আম্মা বলতেন, দেখা হইছে। আব্বা মাথা নাড়তেন। ট্রেন লাইনের পাশের সেই অফিসে যাবার কয়েকদিনের মধ্যেই প্রথম এটি শুনলাম। দেখা হবার বিষয়টি মাথায় ঢুকেনি তখন। কয়েকদিন পরেই কিসের জন্য যেনো হরতাল ডাকা হয়েছে। আব্বাকে নিয়ে গিয়েছি অফিসে। বিকেলে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসবো,তাই থেকে গেলাম। সকালের দিকে কোন একটা লোকাল ট্রেন আসলো। দুর থেকে শব্দ শোনেই আব্বা পেছনের জানালা খুলে ট্রেন দেখতে বল্লেন। চাকরী করে এমন বয়েসের কোন ছেলেকে বাবা ট্রেন দেখতে বলছে শুনলে লোকে অবাক হবে হয়তো। কিন্তু আমরা এসবে অভ্যস্থ। চা বাগানের পাশ দিয়ে গেলে আব্বা ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে আমাদেরকে চা বাগান দেখাতেন। টিভিতে শিশুপার্ক দেখালে ডাকাডাকি হতো! টিভিতে লন্ডন শহর দেখাচ্ছে। প্রবল আগ্রহ নিয়ে তিনি রাণীর বাড়ির গল্প করতে লাগলেন, আর আমাকে বসিয়েই রাখলেন, লন্ডন যখন দেখাচ্ছে, রাণীর বাড়ি না দেখিয়ে পারে না, সেটা দেখানোরে জন্য।

আমি জানালা খুলে দাড়ালাম। দেখলাম হেলে দুলে ট্রেনটা পেরিয়ে গেলো পোস্ট অফিসের সীমানা। আব্বা পেছন থেকে ডেকে বল্লেন, মানুষ দেখা যায়? আমি হু বলতেই বল্লেন, টিপু যাবার সময় দরজায় দাড়িয়ে হাত নেড়েছে! এরপর যে কয়েকমাস ছিলেন আব্বা সেই অফিসে, প্রতিবার দাদাভাই যাবার সময় ট্রেনের দরোজা বা জানালা দিয়ে হাত নাড়তেন, আব্বা তার অফিসের জানালায় দাড়িয়ে ছেলেকে দেখতেন…

আমি রোজ শাহজালালের মাজারের পাশ দিয়ে বাড়ি ফিরি, শাহজালালের মাজারের পাশ দিয়ে ছেলের স্কুলে যাই, যতবার শহরে ঢুকি কিংবা ফিরে আসি, ততবারই মাজারের পাশের রাস্তাটা ব্যবহার করি। আব্বার কবরটা দেখা যায়। আমি কয়েক মূহুর্তের জন্য সেখানে দাড়াই…

কবরের কোন জানালা থাকে না। আব্বা আমাকে দেখার জন্য কোন জানালা ধরে দাঁড়ায় না কখনো…


মন্তব্য

কল্যাণF এর ছবি

শ্রদ্ধা

তিথীডোর এর ছবি

এটা তো আসলে গল্প নয়.......
পড়ে মন ভার হয়ে গেল।

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

সচল জাহিদ এর ছবি

বাবা ফোন করলে প্রায়ই বলে যেখানেই থাক ভাল থেকো, ফোন করো যেন তোমার কথা শুনতে পাই অন্তত।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

আব্দুর রহমান এর ছবি

হয়তো জানালা থাকে

------------------------------------------------------------------
এই জীবনে ভুল না করাই সবচেয়ে বড় ভুল

দ্রোহী এর ছবি

....

উচ্ছলা এর ছবি

এই পোস্ট পড়ে হঠাৎ মন খারাপ হয়ে গেল। আমার আব্বু বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছেন...

guest এর ছবি

আমি আমার বাপরে সহজে ফোন করি না। এমন একটা ভাব ছাইড়া আসছি তো আসছি আর সম্পর্ক রাখার ইচ্ছা নাই। মাঝেমধ্যে ফোন দিলে বাপ কি যে খুশী হয় সেটা গলার স্বরেই বুঝা যায়। এক বিষয়ে বার বার কথা কয়, যাতে ফোন ছাড়তে না হয়। আমিই একসময় থামায়া দিয়া কই, আব্বা ফোন রাখি, ভালো থাইকেন। জানি একদিন কানতে হইবো এর লাইগা।

-মেফিস্টো

মাহবুব লীলেন এর ছবি

...

উজানগাঁ এর ছবি

আপনার লেখার একপর্যায়ে সায়েম হাসতে-হাসতে চেয়ার থেকে প্রায় পড়ে গেল। এবং যথারীতি শেষ পর্যায়ে এসে সে ধাক্কাটা খেল।

আপনারে ধরে মাইর লাগানো দরকার। সকাল-সকাল মন টা খারাপ করে দিলেন।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

..............

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

nirbashito pothik এর ছবি

আপনিকি সামুর সেই সাধাসিধা ব্লগার?? অনেকদিন পর একটিভ হলেন নাকি??

নজমুল আলবাব এর ছবি

ব্লগিংটা সেখানেই শুরু করেছি। সেটা সচলের জন্মের আগের কথা। কিন্তু নিক দিয়ে নয়। নজমুল আলবাব নামেই আমি সবসময় লিখি। সম্ভবত আপনি অন্যকারো সাথে আমাকে মিলিয়ে ফেলছেন। আর খুব এক্টিভ থাকা হয় না আসলে। মাঝেসাঝে লিখি, কমেন্ট করি।

ঘুম কুমার এর ছবি

মন খারাপ

বাউলিয়ানা এর ছবি

অনেক কষ্ট থেকে লেখেন জানি। তারপরও আপনার এমন লেখাগুলা ভাল লাগে।

কয়েকটা শব্দ, সিলেট, আব্বা, ট্রেইন, দেখলে না বলে পারিনা।

সচলে কয়েকটা বিষয়ের লেখার অভাব বোধ করি। দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা পোষ্ট, মেডিক্যাল, রেডিও অফিস নিয়ে লেখা।

মফস্বলের ছোট আর ছাপোষা এই অফিসগুলোতে জমে থাকা গল্পগুলো যদি কেউ লিখত।

নীলকান্ত এর ছবি

.........


অলস সময়

আশফাক আহমেদ এর ছবি

..................

-------------------------------------------------

ক্লাশভর্তি উজ্জ্বল সন্তান, ওরা জুড়ে দেবে ফুলস্কেফ সমস্ত কাগজ !
আমি বাজে ছেলে, আমি লাষ্ট বেঞ্চি, আমি পারবো না !
আমার হবে না, আমি বুঝে গেছি, আমি সত্যি মূর্খ, আকাঠ !

রিশাদ_ময়ূখ এর ছবি

.................................

অনিন্দিতা চৌধুরী এর ছবি

আপনার গত কয়েকটা লেখাই মন দিয়ে পড়েছি। ভীষন মন ছুঁয়ে যাওয়া লেখা।
সব এক সুরে বাঁধা । কমেন্ট করা হয়নি। আজ কেন জানি না করে পারলাম না।
লিখতে থাকুন বেশী করে। দেখবেন মন আস্তে আস্তে ভাল হয়ে যাবে। ভাল থাকেন।

চরম উদাস এর ছবি

কিছু বলার ভাষা নেই। সিলেট অনেক স্মৃতির শহর। আমাকে ছোটবেলায় ক্যাডেটে রেখে ফিরে আসার দিন নাকি আব্বা হাউমাউ করে কেঁদেছিলেন। আপনার লেখাগুলো হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

নৈষাদ এর ছবি

................................

পথের ক্লান্তি এর ছবি

মন খারাপ করা লেখা মন খারাপ

দোলনচাঁপা  এর ছবি

আমার বাবারও অনেক বয়স হয়ে গেছে। মা' বলেন, বাবা আর তেমন করে কারুর সাথেই কথাবার্তা বলেন না। একা চুপচাপ বসে থাকেন। আমি ফোন করলে কথা বলে যেতে বাবা'র কথায় কোন কার্পণ্য দেখি না কখনো। বিষয়বস্তুরও কোন অভাব হয় না ! লেখার শেষ অংশটা পড়ে চোখে জল এসে গেল । আরো লেখেন।

sas এর ছবি

চলুক

পাঠক অনু এর ছবি

আমার বিয়ের সময় যখন আমাকে বিদায় দেয়া হচ্ছিলো তখন বাবা কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলোনা। বাসা থেকে একটু দূরে মেইন রোডে গাড়িটা আসার সময় দেখি বাবা রাস্তায় দাড়িয়ে চিৎকার করে কাঁদছেন আশেপাশে লোকজন দাড়িয়ে আছে অবাক হয়ে।
ভাল থাক বাবা।

সুমিমা ইয়াসমিন এর ছবি

পড়তে পড়তে গল্পের ভেতরে ঢুকে গেলাম। বিষন্নতা পেয়ে বসলো...

আসিফুল ইসলাম এর ছবি

কি বলবো ভাই। লেখাটা পড়ে চোখে পানি এসে পরলো। মন খারাপ

মামুনুর রশীদ এর ছবি

কাঁদো অপু কাঁদো, নগর, চৌকাঠ, পাহাড়, অরণ্য, আকাশ, বাতাস, সড়ক, সব চৌচির করে কাঁদুন...কাঁদলে দুঃখেরা চলে যায়...বাবার কথা মনে এলে আমার বুক্টাতে কেবল রক্তের ক্ষরণ হতে থাকে। এ এক অসম্ভব কষ্ট, অপু, এ এক অসম্ভব কষ্ট। একদিন আপনার ছেলেও এরকম একটা লেখা লিখবে হয়ত... জীবনটা এমন কেন??? কেউ কি জানেন?

তারাপ কোয়াস এর ছবি

"বাবা কতদিন কতদিন দেখিনা তোমায়, কেউ বলেনা তোমার মত কোথায় খোকা ওরে বুকে আয়,
বাবা কতরাত কতরাত দেখিনা তোমায়, কেউ বলেনা মানিক কোথায় আমার ওরে বুকে আয়"


love the life you live. live the life you love.

আশালতা এর ছবি

আপনার লেখায় বাবার জন্য ভালবাসাটা এত অপূর্ব মায়াময় হয়ে উঠে আসে যে সেটা নিয়ে কিছু বলতে গেলেই কেমন কথা হারিয়ে যেতে থাকে।
নিজের একটা লেখার ঠিকানা দিয়ে যাই, কারণটা হয়ত সেখানে খুঁজে পাবেন।

----------------
স্বপ্ন হোক শক্তি

তানিম এহসান এর ছবি

আপনার লেখা পড়লে বাবার সাথে কথা বলা হয়, একটা প্রগাঢ় অনুভূতি কাজ করে ভেতরে - এই কথাটুকু বলে যেতে এলাম। আপনার বাবা জানালায় দাড়িয়ে থাকেননা, আপনার হাতে হাত রেখে ঘুরে বেড়ান পৃথিবীতে, সন্তানের জন্য তার এই মমত্ব তাকে আরো বেশি প্রশান্তি দিক।

দেবানন্দ ভূমিপুত্র এর ছবি

কেরানিগিরির ব্যাখ্যাটা দারুণ লেগেছে। আগের কেরানিরা চটি পড়ে অফিস করতো, এখন করে চাই-জুতো পড়ে। বাইরে বদলেছে, ভেতরে সেই একই অবস্থা। সেই ভূতের বেগার খাটা।

শমশের এর ছবি

মন ছুঁয়ে গেল আপনার লেখাটি। আপনার সাম্প্রতিক কয়েকটি লেখায় আপনার বাবার প্রতি তীব্র ভালবাসার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। নিজের বাবার কথা মনে পড়ে গেল, সারাজীবন নিজে কষ্ট করে সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। আজ আমরা সবাই যার যার মত গুছিয়ে নিয়েছি, কিন্ত বাবা দেখে যেতে পারেননি। ১৪ বছর আগে ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধে হেরে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। ছকবাঁধা ব্যস্ত প্রাত্যহিক জীবনের শত কাজের ভীড়ে মনেই পড়েনা একজন ছিলেন, যিনি স্বপ্ন দেখিয়ে, আদরে-শাসনে আজকের এই সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের বীজ বুনে গিয়েছিলেন। অনেকদিন পর একা একা কাঁদলাম নিজের এই বিস্মৃতিময়তার জন্য। এমন একটা লেখার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে অপু।

যদি কিছু মনে না করেন, (লেখায় সিলেটের কথা দেখে উৎসুক হলাম) আপনি কি ১৯৯৬-৯৭ এর দিকে সিলেটের ভোরের কাগজ পাঠক ফোরামে সক্রিয় ছিলেন? আপনার বাসা কি বাগবাড়ি এলাকায় ছিল?

নজমুল আলবাব এর ছবি

আপনি ডা. শমশের?

যদি শমশের ভাই হয়ে থাকেন, তাহলে দুনিয়া ব্যপক গোল...

শমশের এর ছবি

বুলস আই, অব্যর্থ নিশানা যাকে বলে।
তোমার লেখার মুগ্ধ পাঠক তখন থেকেই। কিন্তু নজমুল আলবাব যে অপু সেটা মনে হয় তারেক অণুর বা উজান গাঁ'র লেখায় কারো মন্তব্য থেকে জানলাম।
দুনিয়াটা ব্যাপক বড় এবং আসলেই গোল। নাহলে তোমার সাথে যখন রাস্তা-ঘাটে দেখা সাক্ষাৎ হত, তখন লেখায় মন্তব্য করার সুযোগ ছিলনা। আর এখন মন্তব্য করলাম সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার থেকে।
তখন সচলায়তন পড়তাম না, সময়ও ছিলনা আর দেশের ইন্টারনেট স্পিডের কথা মনে হলেতো এখনও আঁতকে উঠি।
ভালো থেকো, এরকম হৃদয় নিংড়ানো লেখা লিখতে থাক। তোমার বাবার প্রতি যে মুগ্ধতা আর ভালবাসা তুমি পুষে রেখেছ তা একদিন তোমার ছোট্ট কিউট ছেলেটি তার বাবার জন্য ধারণ করবে। হাত ধরে হাটানোর সাথে সাথে লেখার অভ্যাসটাও যদি ধরিয়ে দাও তাহলে বড় হয়ে সেও সেটা ছড়িয়ে দেবে তার প্রজন্মের কাছে।
মন্তব্যের সাথে ইমেইল আইডি যাচ্ছে বোধহয়, অন্ত‍জ‍ালে যোগাযোগ যখন হলই, ইমেইল চালাচালি করে সেটা পোক্ত করা যায়।

নজমুল আলবাব এর ছবি

আপনাকে দেখে খুব ভালো লাগছে শমশের ভাই। শেষবার আপনার সাথে দেখা হয়েছিলো সম্ভবত ওসমানী হাসপাতালের সামনে। একটা ওপারেশন করতে দৌড়াচ্ছেন।

ভালো থাকুন, ইন্টারনেটের জয় হোক।

মৌনকুহর এর ছবি

বিষাদ ছুঁয়ে গেল...... হারিয়েই না খুঁজে ফিরি...... মন খারাপ

-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-
ফেসবুক -.-.-.-.-.- ব্যক্তিগত ব্লগ

বন্দনা কবীর এর ছবি

কেবল কেবল মাত্র সিলেট ঘুরে এলাম। লেখার শুরুতে সিলেটের উল্ল্যেখ দেখে ভাবছিলাম এত্তো এত্তো লিখবো। কিন্তু শেষটায় এসে...

আমার মনে হয় জানালা অবশ্যই একটা আছে/ থাকে, কোথাও না কোথাও। আর তা দিয়ে ছেড়ে যাওয়া আপনজনেরা ঠিকি উঁকি দিয়ে তাঁদের ভালবাসার মানুষদের দেখে নেন।
আপনার বাবা শান্তিতে থাকুন' যেখানেই থাকুন।

কর্ণজয় এর ছবি

...
...
...

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

মন খারাপ
বাবা, মা কে হারাতে চাই না কোনদিন................


_____________________
Give Her Freedom!

তারেক অণু এর ছবি

.................. মন খারাপ

নজমুল আলবাব এর ছবি

মন্তব্যগুলো ধাক্কা দেয় বুকের এক্কেবারে ভেতর পর্যন্ত
মন্তব্যগুলো যেনো একেকটা হাত হয়ে পিঠে এসে আলতো ছুয়ে যায়
মন্তুব্যগুলো প্রাণ নিয়ে চারপাশে ঘুরতে থাকে

আমি ভালো মন্তব্য করতে পারি না। কিন্তু চমৎকার মন্তব্য পেলে আপ্লুত হই। যারা কষ্ট করে পড়লেন তারপর আবার চিহ্ণ রেখে গেলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

গল্পের শরীর ছিড়েফুড়ে বেরিয়ে আসে যে গল্প, সেই গল্পটাই আমার। বাকিটা হেয়ালী। আপনারা হেয়ালীর বাইরে বেরিয়ে নিজেকে উজাড় করে আমাকে ধাক্কা দিলেন, ছুয়ে দিলেন, আমার চারপাশে ঘুরতে থাকলেন... এসবের কোন জবাব থাকে না সম্ভবত, অন্তত আমার কাছে। দুর্বল চিত্তের মানুষেরা নিজের কথাই শুধু ভাবে, অন্যকে নিয়ে ভাবতে বসলে তালগোল পাকিয়ে ফেলে। আপনাদের মন্তব্য পড়ে তার উত্তর খুজতে গিয়ে আমি তালগোল পাকিয়ে ফেলি। তাই সবাইকে আলাদা আলাদা উত্তর দেবার সাহস করি না। অপরাধ মার্জনা করবেন বন্ধুরা।

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

এ তো আমারও জীবনের গল্প! আমাদের সবারই!

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

টিপু ভাই যখন ট্রেনের দরজা বা জানালা দিয়ে হাত নাড়িয়েছেন, তখন তিনি কি দেখতে পেতেন যে তার বাবা অফিসের জানালা দিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছেন? সম্ভবত না। জঙ্গম অবস্থান থেকে জাড্য অবস্থানের অবলোকন দৃশ্যমান হবার কথা না। সব দৃশ্য একটার সাথে আরেকটা লেপ্টে যাবার কথা। তাহলে আজ অপু ভাই মাজারের পাশের রাস্তা দিয়ে বাইক বা গাড়ি চালিয়ে গেলে তিনিও কি বুঝতে পারবেন যে তার বাবা কবরের জানালায় দাঁড়িয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছেন?

গতকাল নিজের বাবার কবরের সামনে দাঁড়ালাম। ঊনিশ বছর পার হলেও ঐ মুখটা দেখতে আমার এক মুহূর্তের বেশি ভাবতে হলো না।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

গল্প পড়তে পড়তে যখন দেখি এ গল্প নয়, গল্পের মানুষগুলো অদেখা নয়, অনুভূতিগুলো কাল্পনিক নয়, তখন ইচ্ছে হয়, বলি - এ তো অগল্প। কিন্তু, আসলেই কি 'অগল্প'?

তাহেরের একটা গল্প শুরু করেছিলেন, মনে আছে? ওটা চালু করেন...।

যুমার এর ছবি

আপনার এই লেখায় মন্তব্য করার ভাষা জানা নেই।
ভালো থাকবেন।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

কিছু গল্প আমাকে অপ্রস্তুত অবস্থায় আটকে ফেলে। যেটার জন্যে তৈরী নেই, থাকবো না কখনো- সেরকম একটা অনুভূতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেন গল্পকার।

... ভালো থাকেন। আর কিছু বলার পাচ্ছি না।

গৌতম এর ছবি

বিষাদসুরের গল্পগুলোই আসলে জীবন!

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

ফাহিম হাসান এর ছবি

বিষাদটুকু ছুঁয়ে গেল।

দিহান এর ছবি

প্রার্থনা করি আপনি বাবাকে যেমন ভালোবাসেন আপনার সন্তান যেনো তেমনি ভালোবাসে আপনাকে।

ইদানীং পৃথিবী অনুভব করে, একটা সূর্যে চলছেনা আর
এতো পাপ, অন্ধকার
ডজনখানেক সূর্য দরকার।

প্রবীর মন্ডল এর ছবি

আপনার লেখার শুরুটা দারুন। দু লাইন পড়লেই মনে হয় ভিতরে কিছু একটা আছে। লিখতে থাকুন.........

ধুসর গোধূলি এর ছবি

গল্প হিসেবেই পড়তে চাইরে ভাই। এর বেশি কিছু বলতে চাই না। সম্ভব না।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

মন খারাপ

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।