| ‹ পুরোনো ব্লগ | সব ব্লগ | নতুন ব্লগ › |
মানুষ ধর্মীয় চেতনা ধারণ করলে তাতে তেমন ক্ষতি হয় না, মানুষের ধর্মীয় চেতনা পরিচিত জনের পীড়ার কারণ হলেও তেমনভাবে তা বিশাল একটা ভোক্তা শ্রেণীকে আক্রান্ত করে না। তবে যখন প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় চেতনা ধারণ করে কিংবা প্রতিষ্ঠান নিজেই সাম্প্রদায়িক এবং ধর্মীয় চরিত্র এবং চিহ্ন ধারণ করে তখন সেটা সামগ্রীক ভাবে সকল ভোক্তা এবং কর্মীর ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠে।
গতকাল প্রদত্ত আদেশ বলে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের সকল মহিলা কর্মীকে এখন থেকে স্কার্ফ বেধে আসতে হবে। এই ধর্মীয় চিহ্ন ধারণ করাটা তাদের চাকুরির কোনো শর্তে না থাকলেও যেহেতু নিয়োগ বিধিমালায় বলা আছে প্রয়োজনে কতৃপক্ষ নতুন কোনো আইন কিংবা বিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে, সেই বিশেষ ক্ষমতা বলে এখন সকল মহিলা কর্মীকে মাথায় স্কার্ফ বেধে চাকুরিতে আসতে হবে।
মাথায় স্কার্ফ বাধা উচিত কিংবা অনুচিত এই বিতর্ক না করে শুধুমাত্র ধর্মীয় ব্যাংকিং চেতনা ধারণ করে সকল মহিলা কর্মীর জন্য স্কার্ফ বাধ্যতা করার বিধিটা আদৌ সঙ্গত কি না এই প্রশ্নটাই আমার ভেতরে ডালপালা মেললো।
আমার অন্য সকল প্রশ্নের ভেতরে এই প্রশ্নটাই প্রথমে ছিলো, এটা ঠিক কি উপলক্ষে জারি করা হলো? শোভনতা সৌজন্যতা এবং শরিয়া মোতাবেক ব্যাংকিং চালানোর জন্য। আমি আশ্চর্য হলাম। বন্ধুকে বললাম তোমাদের এখানে অন্য ধর্মের কোনো কর্মচারী নেই?
তার উত্তর ছিলো বর্তমানে মনে হয় নেই- তাই এই বিধান যে কারো ধর্মীয় স্বাধীনতাকে ক্ষুন্ন করবে না এমন না, তবে সেটা বিধর্মীর উপরে ধর্মীয় চিহ্নের আগ্রাসন হয়ে উঠবে না।
আমাদের বাংলাদেশের পূঁজিবাজারে শাহজালাল ব্যাংকের শেয়ারের দাম ভালো। বলা চলে চড়া, তবে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র পূঁজির চলন, যা শেয়ার বাজারে কোনো প্রতিষ্ঠানের উপরে আস্থা এবং অনাস্থার প্রকাশ ঘটায়, যেখানে সচেতনতার স্পষ্ট অভাব।অন্তত অন্য কোনো দেশে এমন ধর্মীয় বিভাজনমূলক যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া পড়তো শাহজালাল ব্যাংকের শেয়ারের মূল্যে।
যেকোনো ধর্মীয় আগ্রাসনকে শেয়ারহোল্ডাররা বিনিয়োগের পক্ষে ক্ষতিকারক ভেবে থাকেন, তাই তারা খুব দ্রুতই এই শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেন এবং এই অনাস্থার প্রভাব পড়তো শেয়ারের দামে।
এই সাম্ভাব্য অনাস্থার ভয়েই প্রতিষ্ঠানগুলো যে দেশে- যে ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করুক না কেনো একটা আপাত অসাম্প্রদায়িক, ধর্ম নিরপেক্ষ চরিত্র বজায় রাখে।
শাহজালাল ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত গ্রহন করলো, এর পরবর্তীতে সেখানে অন্য কোনো ধর্মের কর্মচারির নিয়োগ পাওয়া দুরহ। অন্তত এমন স্পষ্ট ধর্মীয় চেতনা যে প্রতিষ্ঠানে রয়েছে সেখানে অন্য ধর্মের কোনো কর্মী কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে না।
প্রতিষ্ঠান যখন এভাবে ধর্মীয় চিহ্ন ধারণ করতে চায় এবং সেটাকে প্রতিষ্ঠানের বিধিতে স্পষ্ট করে প্রকাশ করে সেই প্রতিষ্ঠান অসাংবিধানিক আচরণ করে। বাংলাদেশের সংবিধানে কোথাও এই ধর্মীয় বিভাজনের সুযোগ নেই, যোগ্যতার বিচারে বিশেষ কোনো ধর্মের প্রাধান্যও নাকচ করা হয়েছে।
তবে বর্তমানের বাংলাদেশের ঘাড়ে চেপে বসে আছে পাকিস্তানের ভুত, তাই এই একটা প্রতিষ্ঠান শুধু নয়, বরং ধর্মীয় চেতনা ধারণকারী অন্য সকল ইসলামী প্রতিষ্ঠানের অনেকখানেই অন্য ধর্মাবলম্বীদের হেনেস্থার শিকার হতে হচ্ছে।
আল মানারাত নামের একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমার এক পরিচিত শিক্ষকতার জন্য আবেদন করতে গিয়েছিলো, সেখানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কোথাও বলা ছিলো না বিশেষ একটা ধর্মকে প্রধান্য দেওয়া হবে। আমার এক পরিচিত রঞ্জন বণিক সেখানে গিয়েছিলো-
তার শিক্ষাগত সনদ দেখে, তার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যয়ন পত্র দেখে ইন্টারভিউ বোর্ডের প্রথম প্রশ্ন ছিলো আপনি কি কালেমা তাইয়্যেবা জানেন?
যার নাম রঞ্জন বণিক, যে তার সিভিতে স্পষ্ট উল্লেখ করেছে তার ধর্ম হিন্দু- তাকে এই প্রশ্নটা করাটা উচিত হয়েছে কি না এটাও একটা বিবেচনার বিষয়।
সে বের হয়ে আসবার সময় একটাই কথা বলেছিলো ইন্টারভিউ বোর্ডকে। আমার মনে হয় না পদার্শ বিজ্ঞান পড়ানোর সাথে কালেমা তাইয়্যেবা জানবার কোনো সম্পর্ক আছে।
আমি ভেবেছিলাম এটা বিচ্ছিন্ন একটা ঘটনা। তবে ভুল ভাঙলো, তার দুই বছর পরে ফয়সাল কিংবা ফাহাদ, কোনো এক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে সেখানে চাকুরির আবেদন করলো বিকাশ কুমার দাস-
ইন্টারভিউ বোর্ডে তাকে প্রথম যে প্রশ্নটা করা হলো আপনি সুরা ফাতিহা তেলাওয়াৎ করেন।
প্রশ্নটা অনেক দিন ধরেই করছি- বাংলাদেশ আদৌ কোনো ভাবে ধর্মান্ধ একটা রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে না কি এটা বাংলাদেশের সমাজ মানসেই ছিলো। এই বিধর্মী বিদ্বেষ যা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে সেটাকে তীব্র ঘৃনা এবং এই প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাই।
২
সহমত
-----------------------------------------
রাজামশাই বলে উঠলেন, 'পক্ষীরাজ যদি হবে, তা হলে ন্যাজ নেই কেন?'
৩
অপবাক, প্রথমেই ধন্যবাদ আপনাকে এইধরনের একটা গুরত্বপূর্ণ টপিক নিয়ে লিখবার জন্য।
আসলে ধর্মের এত এত ফলদায়ী, এত চমত্কার মাধ্যম আর তৈরী হয়নি যা দিয়ে এর থেকেও মানুষ আরো ভালো ব্যাবসা করবে, মানুষকে নাস্তানাবুদ করবে। জিহাদ আর ক্রুসেড এর রমরমা বাণিজ্য তো গত এক দশক ধরে ক্রমাগত চলছেই। এর আর নতুন কি। শুধু বাংলাদেশ নিয়ে যদি এ ব্যাপারে কথা বলি তাহলে ভুল বলা হবে। আপনার লেখার সাথে সঙ্গতি পূর্ন কিনা জানিনা তবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে কয়েকটি উদাহরন। যেমন গত বছর ইংল্যান্ডের কিছু প্রাইমারী স্কুলে মাথায় স্কার্ফ পরা নিষিদ্ধ করা হলো। পরবর্তীতে ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ জাস্টিসেও অই স্কুলের নির্দেশ কে কোর্ট আপহেল্ড করেছিলো। ঠিক আপনার মত আমারও একটা প্রশ্ন ছিলো এই ব্যাপারে যে, শাহজালাল ব্যাংকে যেমন স্কার্ফ পরবার এই হুজুরীয় নীতি চাপাবার যেমনি কোন উপায় নেই, তেমনি কেউ স্কুলে কিংবা কোন জায়গায় ধর্মীয় বিশ্বাস মেনে চল্লেও তাকে আটকাবার বা বাধা দেবার অধিকার কারো নেই। কিন্তু ধর্মীয় রীতি গুলো যখন আদেশ, বাধা এইভাবে কাছে আসে তখনি আর তাকে যুক্তি গ্রাহ্য করে মানতে পারিনা।
আবার কিছুদিন আগে লন্ডনে এক ভদ্রমহিলার গলার চেইনের লকেটে যীশু'র ছবি থাকায় তার চাক্রি চলে গেলো।এ্কই কাহিনী। মাকাল ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ জাস্টিস আবার ওই ডিসিশান আপহেল্ড করেছিলো। এইভাবে প্রাতিষ্ঠানিক মদদ পাচ্ছে কিছু মানুষ,যাদের লক্ষ্য ধর্ম নয় - ব্যাবসা। এরকম অনেক উদাহরণ আছে এইখানে। এখন যদি কেউ প্রশ্ন তোলেন, এটা তো ভালই স্কুলে ,চাকরিতে হিজাব পরা বা যীশুর লকেট পরবার দরকার টা কি? সেক্ষত্রে আমার ওই এক্টাই উত্তর , বিশ্বাস কিংবা তার প্রকাশ মানুষের ক্ষতির কারন হতে পারে না যদি তা -মানতে হবে বা মানা যাবে না- এই ধরনের মান দন্ডে চাপিয়ে না দেয়। একটা উদাহরণ দেই- শিখ সম্প্রদায়ের মাথা থেকে পাগড়ী কিন্তু কোন ব্রিটিশ, আমেরিকান কিংবা অজি, কেউ খুলে নিতে পারে নি। এইখানে কিন্তু কোন প্রশ্ন নাই। এমন না যে আমি চাই প্রশ্ন হোক, কথা উঠুক। আমার সার কথা হলো কারো ক্ষতি না করে যদি নিজের বিশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকা যায়, তাতে ক্ষতি কি?
শাহজালাল ব্যাংকের ব্যাপারটা আপ্নারা সবাই জানেন।একটি মৌলবাদী, ধর্ম কে নিয়ে ব্যাবসা করে , এমন কিছু লোকের অবদান। সুতরাং তারা স্কার্ফ রীতি অনুসরণ করবে -এটাই স্বাভাবিক। এদের কাছে পেশা কিংবা মানুষের অধিকার , বিশ্বাস কোন বিষয় নয়। সুতরাং টাকা পয়সার লেনদেনের সাথে মস্তক ঢাকা কেন?? এই জাতীয় প্রশ্ন এদের করা অর্থহী্ন। যেখানে জামাতীদের নামাজ পড়াটা জামাতী হবার কারনেই জরুরী, কিংবা থোতার নিম্নাঞ্চলে খানিক্টা বাল রাখা জামাতীদের আদর্শ - সেখানে মস্তকে সামান্য কাপড় পড়বার বিধি...ক্ষমা করেই দেয়া যায়। এরা তো সব সময় ক্ষমা পেয়েই আসছে।
---------------------------------------------------------
পৃথিবীর সব সীমান্ত আমায় বিরক্ত করে। আমার বিশ্রী লাগে যে, আমি কিছুই জানিনা...
৪
প্রতিবাদটা বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বলেই এই ধর্মীয় চিহ্নধারণের বিষয়টা আপত্তিকর মনে হলো। ধর্মীয় চিহ্ন ধারণ কিংবা ধর্মীয় চিহ্ন ধারণ না করবার স্বাধীনতা প্রতিটা মানুষের নিজস্ব অধিকারের পর্যায়ে পড়ে। এখানে চাপিয়ে দেওয়ার বিধি কেনো?
ইংল্যান্ডে যে মেয়েটা হিজাব পড়বার দাবীতে মামলা করলো, তার অধিকার স্বীকৃত হলো, সেটা তার ধর্ম পালনের স্বাধীনতাকে রক্ষা করলো, কিন্তু এই ধর্মপালনের অধিকার কিংবা স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করলেও এখানে শাহজালাল ব্যাংকের কর্মচারীরা আদালতে গিয়ে মামলা করবেন সেই পরিবেশ নেই বাংলাদেশে।
বাংলাদেশের কোথাও কি এমন বলা আছে কোনো স্কুলে শিক্ষকতার জন্য সুরা ফাতিহা কিংবা কলেমা তাইয়্যেবা পড়তে হবে? যখন কোনো কতৃপক্ষ এমন কোনো উচ্ছন্নে যাওয়া আচরণ করে তখনই ঘৃনা এবং প্রতিবাদ তৈরি হওয়া উচিত।
এটা ধর্ম বিরোধিতা নয় বরং ধর্মের গা জোয়ারির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
এটা বাস্তবতা, বর্তমানের বাংলাদেশে যে মানুষটা শাহজালালে কাজ করে তার ধর্ম চিহ্ন যদি হয় শাখা সিঁদুর, তাকে স্কার্ফ পড়তে বাধ্য করানোর এই কতৃপক্ষীয় নীতিকে সমর্থনযোগ্য? শাখা সিঁদুরের অধিকার কেড়ে নেওয়া কি যুক্তিযুক্ত।
এটা কৌশলে একটা ধর্মীয় বিভাজন জিইয়ে রাখা কিংবা একটা আপাত বিভাজন তৈরির প্রচেষ্টা। কর্মদক্ষতায় ধর্মের কোনো ভুমিকা বোধ হয় নেই।
৫
ইংল্যান্ডে যে মেয়েটা হিজাব পড়বার দাবীতে মামলা করলো, তার অধিকার স্বীকৃত হলো, সেটা তার ধর্ম পালনের স্বাধীনতাকে রক্ষা করলো,
না না ...তার অধিকার রক্ষা হয়েছে, তা তো বলিনি। বলেছি স্কুল কতৃপক্ষের ডিসিশান, ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ জাস্টিস(ECJ) আপহোল্ড করেছে। সুতরাং সেই মেয়েটি স্কুলে স্কার্ফ পরতে পারবে না। আমি আপনার কথার সাথে কিন্তু পুরা একমত। শাহজালাল ব্যাংকে যেমন "পরতেই হবে" এই বিধি জারি হোলো এইখানে লন্ডনে , "পরা যাবে না"-এই বিধি জারি হোলো। ভাল-খারাপ, উচিত -অনুচিত, পরের কথা। আমি চাপিয়ে দেয়া বিধিটাই মানতে চাই না। আর দেখেন ECJ এর মত এত বড় ইন্ডিভিজুয়াল রাইট প্রটেক্ট করা সংস্থা ( মনে করা হয়) যদি এই ধরনের ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ নেয়, তাহলে আমাদের দেশে কি হবে বলেন?
এটা কৌশলে একটা ধর্মীয় বিভাজন জিইয়ে রাখা কিংবা একটা আপাত বিভাজন তৈরির প্রচেষ্টা।
এই বিভাজন টিকিয়ে রাখবার ব্যাপারটা কিন্তু আজকে গড়ে উঠেনি। আমাদের পারিবারিক বা সামাজিক চিন্তা চেতনা থেকেই এর উদ্ভব। যদি বলি কবে থেকে? তাহলে বলতে হয় আমি জানিনা কবে থেকে, শুধু জানি আমার জ্ঞান হবার পর থেকেই অল্প অল্প করে এই বিভাজন দেখেছি।
একটা উদাহরণ দেই, আমাদের বাসায় নীচতলায় ভাড়া থাকত এক হিন্দু ভদ্রলোক। উনি আবার শখ করে দাড়ি রেখেছেন। আমার গ্রাম থেকে আসা ফুফু উনার সামনে একদিন প্রায় শুনিয়েই বললেন, " মালাউন দেখি আবার দাড়ি রাখসে "
খুব কষ্ট পেয়েছিলাম ওইদিন তার কথা শুনে।(পরে আমার মা ফুফুর উপর খুব রাগ করেছিলেন) অথচ আমার ফুফু ধর্ম কর্ম করলেও তার জামা কাপড় সব সময় এলো মেলো থাকত।সে যাক, বলছিলাম, এই ধরনের মনস্তাত্বিক বিভাজন আমাদের একদম পারিবারিক লেভেল থেকেই হয়। বিশেষ করে গ্রাম থেকে আর একটু রক্ষনশীল মেন্টালিটি থেকে। তো এইসব শাহজালাল,মানারাত ইস্লামী ব্যাংকের ,কিছু মূর্খেরা তো পারিবারিক ভাবেই ব্রেইন ওয়াশড্। সুতরাং এই ব্যাপারটিও ভাবতে হবে। সামগ্রিক চেতনার বিকাশ আর কি...
---------------------------------------------------------
পৃথিবীর সব সীমান্ত আমায় বিরক্ত করে। আমার বিশ্রী লাগে যে, আমি কিছুই জানিনা...
৬
সমসাময়িক ঘটনাপন্জীকে ঘিরে প্রতিবারই মূল্যবান প্রবন্ধ লিখেন আপনি। এবারও তার ব্যতিক্রম হলোনা।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানিক কাঠামো ধর্মমুক্ত হওয়া জরুরী। অথচ হচ্ছে তার উল্টোটি আমাদের দেশে। ধর্ম তার নিজস্ব ভূমিকা ছেড়ে ধীরে ধীরেই জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসছে আমাদের উপর। আর যারা এর হোতা, তারা নিজেদের ধ্বংস টেনে আনছে হয়তো এভাবেই। এটাই একমাত্র আশা। মধ্যযুগেও এভাবে চেপে বসেছিল খ্রীষ্ট ধর্ম, ধর্মযাজকদের উন্মাদনায়। তাদেরও পতন ঘটেছিল।
**********************************
কৌনিক দুরত্ব মাপে পৌরাণিক ঘোড়া!
৭
যদি ফ্লাইট এমিরেটস পারে তাইলে শাহজালাল ব্যাংক কি দোষ করল। ধর্ম মানাটাকে এত খারাপ চোখে দেখছেন কেন?
এতে হয়ত সস্তা মেয়ে দেখান মাল্টিন্যাশনাল কালচার ফলো করা হল না।
কোন ব্যাংক/কোম্পানি যদি মেয়ে দেখিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে পারে তাইলে মেয়েদের স্কার্ফ পরালে বাধা কোথায়??
৮
মেয়েদের স্কার্ফ পড়াটা দোষনীয় নয়, মেয়েদের স্কার্ফ পড়তে বাধ্য করানোটা দোষনীয়।
ফ্লাইট এমিরেটসের মেয়েরা স্কার্ফ পড়ে না কি? তাদের পর্দাপ্রথার কড়াকড়ি দেখি নি আমি, অন্তত গত বছরও তেমন পর্দাপ্রথার কড়াকড়ি দেখি নি, কিংবা আমি ফ্লাইটে ছিলাম বলেই হয়তো তারা এমন পোশাক পড়ে নি।
ব্যাংক যদি মেয়ে দেখিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে পারে মেয়েদের স্কার্ফ পড়ালে দোষের কি? এইটা কোনো যুক্তির পর্যায়ে পড়ে কি না, কিংবা কোনো দৃষ্টান্তের পর্যায়ে পড়ে কি না কিংবা আদৌ এই বাক্যের কোনো মূল্য আছে কি না এটা ভেবে দেখতে অনুরোধ করছি।
৯
ভেবে দেখলাম।
মেয়েদেরকে পন্য বানিয়ে বিজ্ঞাপন দেয়া হয় এটা তো মানেন নাকি???
এখন ধরেন শাহজালাল ব্যাংক বিজ্ঞাপন দিল যে তারা ইস্লামী ব্যাংক থেকে বেশী ইসলাম মানে তাই তারা স্কার্ফ পরাতে পেরেছে, যাতে করে বেশি করে ধর্মপ্রান মানুষ সেখানে লেনদেন করে। আমি এটা বোঝাতে চেয়েছি।
১০
মেয়েদের "পণ্য" বানিয়ে যে বিজ্ঞাপন বানানো হয় তা বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ায় দেখানো হয় না। আমাদের দেশে পণ্যের বিজ্ঞাপনে মেয়েদের অংশগ্রহণের হার বেশি, দুনিয়ার বেশির ভাগ দেশে বিজ্ঞাপনের মতোই, সেটা বলতে পারেন।
১১
কমেন্ট করার আগে লেখাটা একটু পড়ে নিলে ভাল হয় । ধর্ম মানা আর চাপিয়ে দেয়া ভিন্ন জিনিস ।
-----------------------------------------
রাজামশাই বলে উঠলেন, 'পক্ষীরাজ যদি হবে, তা হলে ন্যাজ নেই কেন?'
১২
প্রতিবাদের ধরনটিই বোঝেন নি আপনি! জোর করে যা কিছু করানো হয়, তার বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ। কারো ইচ্ছে হলে হিজেব পড়বে, না হলে পড়বে না, মোদ্দা কথা এটিই। রাষ্ট্রীয় অনুশাসন মানতে রাজী, যদি নীতিগতভাবে গ্রহনযোগ্য হয়। কিন্তু রাষ্ট্র্রকে ছাপিয়ে ধর্মীয় অনুশাসনের জোয়াল বইতে রাজী নই একেবারেই। এখানে তাই করা হচ্ছে।
জোর করে যেমন হিজাব পড়াতেও চাইনা, তেমনি জোর করে হিজাব খোলাতেও সমর্থন থাকবে না।
**********************************
কৌনিক দুরত্ব মাপে পৌরাণিক ঘোড়া!
১৩
এমিরেটস এর শ্বেতাঙ্গিনী হোস্টেসদের মাথায় যে পট্টি প্যাঁচানো থাকে, সেটাকে খুব কষ্টে স্কার্ফ বলতে হবে। আর মাথায় কাপড় থাকলেও তাদের হাঁটুর নিচ খোলা দেখেছি। আমিরদের "ধর্মেও আছি, জিরাফেও আছি" নীতির বড় স্পষ্ট একটা উদাহরণ এই রান দেখিয়ে স্কার্ফ পরানো কারবার। পাছার কাপড় থাকে না, আর মাথার ঘোমটা দেখান। অনুগ্রহ করে অন্য কোন উদাহরণ বাছুন।
১৪
যদি ফ্লাইট এমিরেটস পারে তাইলে শাহজালাল ব্যাংক কি দোষ করল। ধর্ম মানাটাকে এত খারাপ চোখে দেখছেন কেন?
এমিরেটস এর নারী কর্মীদের পোষাকে মাথায় লালটুপির সাথে একচিলতে যেই স্কার্ফ থাকে সেটা ঠিক ধর্মীয় কারনে নয় । প্রতিষ্ঠানের নামের সাথে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠার জন্য, আমিরাত অঞ্চলের প্রচলিত পোষাকরীতির একটা টুকরা তারা তুলে এনেছে । অবশ্য এতে চুল-টুল কিছু ঢাকে না । কাজে ধর্মীয় উদ্দেশ্য থেকে থাকলেও তা অর্জিত হয় না । এটা ব্যবসায়িক পদক্ষেপ, ধর্মীয় না ।
ব্যপারটা আরো পরিষ্কার হবে যদি খেয়াল করে দেখেন একই ভদ্রমহিলার নিম্নাঙ্গে শোভা পাচ্ছে হাঁটু পর্যন্ত স্কার্ট । এও সেই ব্যবাসায়ীক কারনেই ।
- এনকিদু
১৫
এমিরেট্স এর মেয়েরা তো স্কার্ট-ট্পসও পড়ে, তাই বলে কি শাহজালালে কর্মরতা যিনি শাড়ীতে অভ্যস্থ - তাকেও স্কার্ট-ট্পস পড়া শুরু করতে হবে?
১৬
রুবাবা দৌলা মতিন যখন বিশাল গলার ব্লাঊজ পরা ছবি ছাপা হয় তখন প্রতিবাদ করেন না কেন?
১৭
বিশেষ কোনো পোশাক পরতে গ্রামীণ ফোন ওনাকে বাধ্য করেছে- এমন প্রমাণ থাকলে আপনি নিজেই লিখতে পারেন সেটা, কে মানা করছে?
১৮
ভালো কথা মনে করিয়ে দিছেন। দেশের একটা প্রথম সারির মোবাইল কোম্পানির বড় একটা অনুষ্ঠানে মেয়েদেরকে এরকমই পোশাক পড়ে আসতে বলা হয়েছিল।
এটা নিয়া কেঊ প্রতিবাদ করবে না।
সবাই বলবে বাহবা আমরা খানিকটা আর একটু আধুনিক হলাম।
১৯
প্রথম সারির কোন মোবাইল কোম্পানি কি কোন প্রাতিষ্ঠানিক মেমো দিয়ে তার মহিলাকর্মীদের প্রতিদিনের অফিসে নির্দিষ্ট কোন পোশাকরীতি অনুসরণের আদেশ দিয়েছে? আপনার কাছে কি এমন কোন উদাহরণ আছে?
রুবাবা দৌলা মতিন বড় গলার ব্লাউজ পরলো নাকি স্যান্ডো গেঞ্জি পরলো, তাতে কিছু এসে যায় না। সে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কিন্তু প্রতিষ্ঠান নয়। ব্যক্তিগত রুচি অনুসরণ করা এক জিনিস, আর প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত আদেশে কোন পোশাকরীতি অনুসরণ করা আরেক জিনিস। আগে এই ব্যাপারটা বুঝে নিন, তারপর অন্য কথা বলুন।
আর মন্তব্যের শেষে আপনার নাম যোগ করলে সবাই উপকৃত হই।
২০
করিনা, কারণ সেটি ঠিক হিজাবের মতই অপ্রয়োজনীয় বলে। আর আমি ব্যক্তিগত ভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি একজন ব্যক্তির নাম নিয়ে তাঁকে হেয় করা এই মন্তব্যে। তাঁর পোশাক পছন্দ না হওয়াটাও আপনার ব্যক্তিগত অভিরুচি , কিন্তু একজন ভদ্রমহিলার নাম ধরে এভাবে বলাটা আমার কাছে রুচিহীন মনে হচ্ছে। আপনি হয়তো নিজে ইসলামী ভাবধারা অনুযায়ী "চোখের পর্দা" থাকলে আরেকটু ভদ্র ভাষায় বলতেন একই বক্তব্যটি। আর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের সীমারেখাটা কোনো নারীর ব্লাউজের নেকলাইনে বা কোনো পুরুষের আন্ডারপ্যান্টের ইলাস্টিকে থাকে কি'না , থাকলেও সেটি নিয়ে কথা
বলবার এটি উপযুক্ত স্থান কি'না সে'টি বিবেচনার ভার রইলো।
প্রতিবাদ করছি আপনার উক্তির।
বিনীত
ss
২১
ইসলামি ব্যাংক তো মহিলাদের নিয়োগই দেয় না। আগে উল্লেখ করে দিত, মহিলাদের আবেদনের প্রয়োজন নাই। সেটা সংবিধানের সাথে মেলে না বলে এখন উহ্য রাখে, তবে নীতি একই।
২২
এতে অবাক হবার কি আছে? আমাদের রাষ্ট্রই তো শুধু একটা ধর্মকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। সে রাষ্ট্রে ব্যাঙ্কের এধরনের নীতিমালা তো রাষ্ট্রীয় নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমার মনে আছে, যেদিন আই ইউ টির ফর্ম তুলতে গিয়ে জানতে পারলাম আমি ভর্তি হওয়ার যোগ্য না সেদিন থেকেই এটা আমার দেশ মেনে নিতে খানিকটা বাঁধত। কি করে একটা রাষ্ট্র এমন একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণ অনুমোদন করে যেখানে তার জনসংখ্যার একটা বড় অংশই পড়তে পারবে না? এটা নিয়ে কখনো কোন কথা হতেও শুনি নি।
২৩
পুরুজিত দা
খুব বেশী কষ্ট নিয়েন না।
ক্যাথলিক স্কুলগুলো অনেকটা একাজ করে। (তারা অবশ্য বলেই নেয়।)
জিওদের স্কুলে ননজিও কেউ কোনদিন ঢুকতে পেরেছে কিনা জানিনা। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এটা হয় না।
আমি অস্ট্রেলিয়ার কথা বলছি।
২৪
রাষ্ট্র ও ব্যক্তিগত ধর্মবিশ্বাস পৃথক, এমনি অনেক দেশই আপনাকে নাগরিকত্ব দেবে, বাংলাদেশ মানে আমরা ছোটবেলায় যা জানতাম বা বুঝতাম, আজ দেশ বা স্বদেশ মানে আর তা নয়। ধর্মহীনরা তো সকল দেশে, সকল কালেই সংখ্যালঘু, সংখ্যাধিক্যের সেন্টিমেন্ট দিয়ে এই বেদনা বোঝা দুরূহ। খুব জরুরিও নয় বোধ করি। যুক্তি আর ধর্মবিশ্বাসের সহাবস্থান নিয়ত অসম্ভব বলেই সতত: সৌন্দর্য অপসৃয়মান আমাদের জীবন থেকে - এটা তো সবাই যারা কথা বলছি এখানে, জানি তাই না? যে দেশ আপনাকে আপনার মত করে বাঁচতে দেয় না , সে দেশ নিয়ে আদিখ্যেতা অন্তত: এ মুহূর্তে প্রয়োজনীয় নয়।
ভালো থাকবেন।
২৫
দেশের একটা প্রথম সারির মোবাইল কোম্পানির বড় একটা অনুষ্ঠানে মেয়েদেরকে এরকমই পোশাক পড়ে আসতে বলা হয়েছিল।
'অতিথি লেখক' দয়া করে একটু ব্যখ্যা করবেন কি কিভাবে এটা মেয়েদেরকে বলা হয়েছিলো? মৌখিকভাবে ? "আপনারা সবাই অমুক জায়গায় অমুক অনুষ্ঠানে বড় গলার ব্লাঊজ পরে আসবেন", নাকি লিখিতভাবে, নাকি সরাসরি না বলে 'বুঝিয়ে দেয়া' হয়েছিলো, কোনটা??
হিমু এবং নুশেরা তাজরীনের সাথে একমত - ব্যক্তিগত রুচি আর প্রাতিষ্ঠানিক আরোপ কি ভাবে এক হলো সেটা নিয়ে আপনার মন্তব্যের অপেক্ষায় থাকলাম - অবশ্যই আপনার নামসহ ।
পুরুজিৎ - চিন্তা করবেন না ধর্ম গরিষ্ঠের দলে পড়েও আমার নিজেরই এখন বাংলাদেশ আমার নিজের বা নিদেনপক্ষে আমার বড় হবার সময়কার সেই 'চেনা' দেশ কিনা তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ হয় !!
১
এই বিধর্মী বিদ্বেষ যা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে সেটাকে তীব্র ঘৃনা এবং এই প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাই।
সহমত!