অলখ আমেরিকা-এক পিজ্জা ডেলিভারী ড্রাইভার

সাইফ শহীদ এর ছবি
লিখেছেন সাইফ শহীদ (তারিখ: বুধ, ০৪/০৮/২০১০ - ১:৩২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

নিউজ-উইক ম্যাগাজিনে একটা পাতা ছিল, যার নাম ছিল "মাই টার্ন"। এখানে পত্রিকার লেখকদের মধ্যে থেকে তাদের বিভিন্ন আকর্ষনীয় অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হতো। এমনি এক লেখায় এক মহিলার কাহিনী পড়েছিলাম। ভদ্রমহিলার শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে এম, এস, সি ডিগ্রী। অথচ তিনি পিজ্জা ডেলিভারী ড্রাইভারের কাজ করছেন এবং তাতে গর্ব বোধ করে এই লেখাটা লিখেছেন। লেখার সাথে লেখিকার একটা ছবিও ছিল। সুন্দরী দেখতে মহিলা। আমি বুঝতে পারছিলাম না - দেখতে সুন্দরী, বিজ্ঞানে স্নাতক - কিন্তু অন্য কোন পেশার বদলে পিজ্জা ডেলিভারী ড্রাইভারের কাজ করছেন কেন এই মহিলা? আবার এতে গর্ব বোধ করার কি খুজে পাচ্ছেন? বেশ কিছু দিন আমেরিকায় থাকার পর ধীরে ধীরে বুঝলাম 'যে কোন কাজকে সম্মান করার বোধ' (dignity of labor) থেকেই আমেরিকা আজ এতটা বড় হতে পেরেছে।

আমাদের বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে আগেকার ধারণা বদল হতে শুরু করেছে। তবুও অনেক সময় আমরা আগেকার মতো পেশার ব্যাপারে কিছু বদ্ধ ধারণা পোষন করে থাকি। এজন্যেই এ ধরনের কথা শুনতে হয় - "কি যে কইন মামা, সৈয়দ বাড়ীর ছেলে না আমি? কেমনে রিক্সা চালাই? তার চাইতে চলেন যাই, চুরি করি।" এই ধরনের জাত্যভিমানের জন্যেই কি বাংলাদেশে চোর, ঘুসখোর আর বাটপারের সংখ্যা এতো বেশী?

Tea garden life

প্রকৌশলী হবার আমি প্রথম কাজ নিয়েছিলাম সিলেটের এক ব্রিটিশ মালিকানাধীন চা-বাগানে। আমার বাংলোতে ৭-৮ জন কর্মচারী আমার খেদমতে ব্যস্ত থাকতো। বিকেলে কাজের পর বাংলোতে ফিরে আমি সামনের বারান্দাতে বসা মাত্র এক জন এসে আমার পা থেকে জুতা, মোজা খুলে নিতো, অন্য এক জন ততক্ষণে বাথটাবে গোসলের পানি ভরা শুরু করেছে পানির তাপমাত্রা ঠিক রেখে। আমাকে যা শুধু করতে হতো সেটা হচ্ছে জামা-কাপড় খুলে, বাথটাবের পানিতে নেমে পড়া। যতক্ষণ খুশী ব্যয় করতাম সেখানে। এটা অবশ্য ৭০ সালের জীবন - যেটা বহু আগে পিছনে ফেলে রেখে এসেছি।

Tea garden

৩৫ বছর পর, যখন পথিবীর সব চাইতে উন্নত ও প্রগতিশীল দেশে মোটামুটি একটা সচ্ছল জীবন যাপন করছি, তখন হঠাৎ করে চাকরী হারালাম। নতুন একটা পেশাদারী চাকরী খুঁজে নিতে কিছুটা সময় লাগে। কোথায় কোথায় চাকরী খালি আছে বের করে সেখানে আবেদন পাঠানো, তারা উপযুক্ত মনে করলে ইন্টারভিউ-তে ডাকবে, তার জন্যে অপেক্ষা করা, তারপর তারা নির্বাচিত করে চাকরীর অফার দিলে তাদের সাথে চাকরীর সর্তাবলী ও বেতন নেগোশিয়েট করে নতুন চাকরীতে যোগ দেওয়া। এ সব করতে সাধারনত কম করে হলেও ২-৩ মাস সময় লেগে যায়।

চাকরি ছাড়া কয়েক দিন বাড়ীতে বসে থাকার পর আমার ধৈর্যচুতি ঘটলো। আসলে জীবনে খুব কম দিনই আমি কাজ ছাড়া বাড়ীতে বসে থেকেছি। এমনকি সূযোগ থাকলেও তেমন ভাবে ভ্যাকেশন নিইনি কখনো। তাই ঠিক করলাম এই ২-৩ মাস বাড়ীতে বসে না থেকে হাতের কাছে যে কাজ পাই, তাই নেব। আমার এলাকাতে একটা KFC/Pizza Hut দোকানে পিজ্জা ডেলিভারী ড্রাইভারের একটা কাজ পেয়ে নিয়ে নিলাম সেটি।

SPizza Delivery Driver

এটা ছিল আমার জন্যে একটা নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ। পিজ্জা ডেলিভারী করতে আমি অনেক ধরনের আবাসস্থলে গেছি এবং দেখেছি বিভিন্ন অবস্থায় থাকা মানুষের বিচিত্র জীবনযাত্রা। তাদের অনেকেই ছোট ট্রেইলার হোম, মোবাইল হোম বা এপার্টমেন্টে বাস করছে। আমি নতুন ভাবে উপলব্ধি করলাম, এমন কি আমেরিকাতেও, অনেকের চাইতে আমরা কত সৌভাগ্যবান।

লোকেরা আমাকে টিপস দিত - শূন্য থেকে ৬ ডলার পর্যন্ত টিপস পেয়েছি ১২ ডলারের পিজ্জা ডেলিভারী করে।

একদিন এক মোটেলে পিজ্জা ডেলিভারী করতে গেছি। পিজ্জা নিতে যে মেয়েটি দরজা খুললো সে সম্ভবত এক জন কল-গার্ল। মূল্য পরিশোধের পর আমাকে অতিরিক্ত একটি ডলার দিয়ে বললো - "সরি, এটা সামান্য হয়ে গেলো।"

আমি তার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, সত্যি সেখানে একটা অপরাগতার ছাপ। তার বিষণ্না চোখে চোখ রেখে বললাম - "ঠিক আছে, এতেই হবে। তোমাকে অনেক ধন্যবাদ।"
মেয়েটার অপারগতার সৎ ভাষণের কারনে ঘটনাটা আজও মনে আছে।

আমেরিকাতে এ সব কাজে সাধারনত ১০-২০% টিপস দেওয়াটা স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হয়। এখানে অধিকাংশ স্থানে নূন্যতম মজুরি হচ্ছে ঘন্টায় ৮ ডলার। অথচ রেস্টরেন্টের সার্ভাররা (ওয়েটার) তার চাইতে অনেক কম (ঘন্টায় ৩ ডলারের মত) আয় করে। ধরে নেওয়া হয় টিপস মজুরির অংশ। তাই টিপস দেবার ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা এই কথাটা মনে রাখার চেষ্টা করে। টিপস-এর আয়ের উপরে যথারীতি আয়করও দিতে হয়।

এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত্ব এলাকার বাড়ীতে পিজ্জা নিয়ে উপস্থিত হয়ে দেখি বাড়ীর বাচ্চারা অধীর আগ্রহে আমার আগমনের জন্যে অপেক্ষা করছে। একটা ছোট্ট মেয়ে তার দুই হাত ভরে একগাদা খুচরা পয়সা এনে আমার হাতে তুলে দিল তার মধ্যে থেকে আমার প্রাপ্য টাকা গুনে নিতে। কোয়ার্টার, ডাইম, নিকেল ও পেনীতে ভরা এই খুচরা পয়সা। অনুমান করলাম তাদের মাটির পিগি-ব্যাঙ্ক ভেংগে পয়সা এনেছে তারা।

আর এক বাড়ীতে পিজ্জা ডেলিভারী করে যখন ফিরে আসছি তখন বন্ধ দরজার ওপার থেকে শুনতে পেলাম এক ছোট ছেলে খুব আগ্রহের সাথে বাবার কাছ থেকে পিজ্জা চাইছে আর বাবা চিৎকার করে বলছে - "না, তুমি কোন পিজ্জা পাবে না।"
সেখান থেকে সরে যেয়ে তাড়াতাড়ি হেটে আমার গাড়ীতে ফেরত এলাম।

Mobile Home

একবার মোবাইল পার্কের এক বাড়ীতে যেয়ে যখন দরজায় নক করলাম তখন এক মহিলা, তার মা বা শাশুরী এবং একটি ছোট ছেলে এসে হাজির হলো। তারা জানালো যে তারা যেখানে পিজ্জা কেনার জন্যে টাকা রেখেছিলো সেখানে খুঁজে আর সেই টাকা পাচ্ছে না। পরে তারা আমার দোকানে ফোন করে অর্ডার বাতিল করে দিয়েছে, কিন্তু আমি ততক্ষণে পিজ্জা নিয়ে রওয়ানা হয়ে গেছি। তারা খুবই দুঃখিত যে খামোখা আমাকে এখানে আসতে হয়েছে, ইত্যাদি, ইত্যাদি। ছোট ছেলেটা দেখলাম লোলুপ দৃষ্টিতে পিজ্জার বাক্সের দিকে তাকিয়ে আছে। আমার খারাপ লাগলো, কিন্তু বাধ্য হলাম পিজ্জা ফেরত নিয়ে দোকানে ফিরতে। পরে দোকানের ম্যানেজার আমাকে ঐ পিজ্জাটা দিয়ে দিলো খেতে বা বাড়ীতে নিয়ে যেতে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, পিজ্জাটা কি আমি আবার ঐ বাড়ীতে ডেলিভারী করে আসতে পারি। আমাকে জানালো হলো, কোম্পানীর পলিসি হচ্ছে বিনা পয়সায় কোন ক্রেতাকে পিজ্জা না দেওয়া।

আমার পক্ষে তখন আর তেমন কিছু করার ছিল না। সাথে করে নিয়ে এলাম পিজ্জাটি। এই পিজ্জাতে পেপরনি থাকায় আমি ছাড়া আর কেউ আগ্রহী হলো না। এক স্লাইস পিজ্জা নিয়ে মুখে দিলাম। তখনি চোখের সামনে ভেসে উঠলো ঐ ছোট ছেলেটির চেহারা। তার মা যখন আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছে তখন কেমন আগ্রহ ভরে আমার হাতের পিজ্জার বাক্সের দিকে তাকিয়ে ছিল। সমস্ত ব্যাপারটা একটা ভিডিও ক্লিপের মতো চোখের সামনে ভাসতে লাগলো। আর খেতে পারলাম না পিজ্জাটা। পুরা বাক্সটা ট্রাশ ক্যানে ফেলে দিলাম।

এক এপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ে গেলাম পিজ্জা দিতে। সেখানে এক মধ্য বয়সী মহিলা হুইল চেয়ারে বসে। সম্ভবত একাই থাকেন সেখানে। আমাকে বললেন কিচেনে যেয়ে টেবিলে পিজ্জার বাক্স রেখে আসতে। তারপর বললেন তার ঘরের কেবিনেটের ড্রয়ার খুলে টাকা নিয়ে নিতে। আমি গুনে গুনে যখন সঠিক পিজ্জার মূল্য নিয়ে বেডিয়ে আসছি, তখন তিনি বললেন সেখান থেকে আরো দু'টো টাকা নিতে টিপস বাবদ। অচেনা, ভীন চেহারার লোকের উপর তার এই বিশ্বাস দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম। বুঝলাম মহিলা ইতিমধ্যে জীবনের উচ্চতর মার্গে পৌছে গেছেন।

আর একবার এক মাল্টি-স্টোরিড এপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে সঠিক এপার্টমেন্ট খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এক মহিলার সাহায্য চাইলাম। তিনি আমাকে সাথে নিয়ে বেশ কিছু দূর হেটে সঠিক এপার্টমেন্টে পৌছে দিলেন।

এমন আরও অনেক সুন্দর সুন্দর অভিজ্ঞতা হয়েছে পিজ্জা ডেলিভারী করতে গিয়ে। আমি এই কায়িক পিজ্জা ডেলিভারী ড্রাইভারের কাজ করার সময় নানা ধরনের সুন্দর মনের মানুষের সংস্পর্শে এসেছি। এখন আমি মনে করি সুযোগ পেলে সবারই কোন না কোন ধরনের কায়িক পরিশ্রমের কাজে জীবনের কিছুটা সময় ব্যয় করা উচিত। এতে মানুষ এবং পৃথিবী সম্পর্কে নতুন ধরনের জ্ঞান লাভ করা সম্ভব।

স্নাতক ডিগ্রী পাবার পর, হিলারী ক্লিনটন আলাস্কার 'মাউন্ট ম্যাক-কিনলি ন্যাশনাল পার্কে' কিছু দিন 'ডিশওয়াশার'-এর কাজ করেছেন এবং সালমন মাছ প্রসেসিং প্লান্টে শ্রমিক হিসাবে কাজ করেছেন।

বারাক ওবামা নিউ ইয়র্ক শহরে এসে প্রথম রাত কাটান রাস্তায়, অন্য কোন থাকার জায়গা না থাকায়। তারপর এক পাকিস্তানী রেস্টুরেন্ট কর্মী, সাদেকের সাথে শেয়ার করে থাকা আরম্ভ করেন। পরে শিকাগোতে কাজ শুরু করেন কমুনিটি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে। নানা ধরনের কায়িক পরিশ্রমের কাজে ব্যস্ত বিভিন্ন ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে তার দৃষ্টিভঙ্গির ব্যপ্তি ঘটে। এই সব জ্ঞানই তাকে পরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে সাহায্য করেছে।

ঐ নিউজ-উইকের মহিলার কেন এই কাজ ভাল লেগেছিল এখন বুঝলাম। আমারও ভাল লাগছিল এই কাজ। আবার অন্য দিকে হিসাব করে দেখলাম, এই কাজের বদলে আমি যদি কোন কাজ না করে বাড়ীতে বসে 'আন-এপ্লয়মেন্ট বেনিফিট' নিই - তবে মাসে বেশী টাকা আয় করবো। কিন্তু কাজ ছাড়া বাড়ীতে বসে থাকতে যে আমার ভাল লাগেনা।

সৌভাগ্যক্রমে এর মধ্যে নতুন একটা চাকরীর অফার আসায় আমার বাড়ীতে 'বসে থাকা বা না থাকা' সমস্যার সমাধান হয়ে গেল।


মন্তব্য

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

এদেশে এসেই এটা শিখেছি। মার্থা নামের কানাডিয়ান মেয়ে থাকতো আমাদের হাউজে। ও নীচ তলায়, আমরা তিন ইন্ডিয়ান (ভারতীয়, বাংলাদেশী, নেপালী) উপর তলায়। মার্থার বাবা কার্পেন্টার। একদিন ওদের "গ্রামের" বাড়িতে আমাদের নিয়ে গেল। লেক অন্টারিওর ধারে বিশাল বাড়ী, ড্রাইভওয়েতে তিনটা গাড়ি, নীচে ফায়ারপ্লেস। লিভিং রুমে বিশাল টেলিস্কোপ লেক অন্টারিওর দিকে তাক করা।

সত্যি এরা শ্রমের মর্যাদা দিতে জানে বলেই এত বড়। বিদেশে আসলে তাই মনটাও বড় হয়।

সাইফ শহীদ এর ছবি

প্রকৃতিপ্রেমিক,

অবস্থার কারণে বেশ কিছুদিন আমি রেস্টুরেন্ট ম্যানেজারের কাজ করেছি। সীন্ডি নামে আমার সাথে কাজ করতো এক মহিলা সার্ভার (ওয়েট্রেস)। তার মেয়েও সেখানে পার্ট টাইম কাজ করতো স্কুলের সময়ের বাইরে। আমি ভাবতাম হয়তো অভাবের কারণে মা-মেয়ে এই কাজ করছে। খুবই অবাক হলাম (এবং বোকা বনে গেলাম) যেদিন সীন্ডি ফটো দেখালো তাদের ব্যক্তিগত বিমানের। ছোট 'সেসনা' ধরনের বিমান। তার স্বামীই লাইসেন্সধারী পাইলট।

আমাদের জন্মগত ভুল ধারনা - যেখানে পেশার সাথে আমরা সামাজিক অবস্থান মিলিয়ে ফেলি - লজ্জ্বা পেলাম তার জন্যে।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- (খুব সম্ভবতঃ) ক্লাস থ্রি/ফোরে একটা গল্প পড়েছিলাম এমন। গল্পের লেখক যেখানে কাজ করতেন সেখানে একটি ছেলে কাজ করতে আসে। লেখক ভেবেছিলেন এতো অল্প বয়সে ছেলেটি কাজ করতে এসেছে, নিশ্চয়ই তার পরিবারের অবস্থা খুব খারাপ। তাই ছেলেটির প্রতি লেখকের আলাদা মমতা প্রকাশ পায়। সেই মমত্বের ভিত্তিতে একদিন ছেলেটির পরিবারের নিমন্ত্রণে লেখক ছেলেটির বাবা-মায়ের সাথে দেখা করতে যান। সাথে নিয়ে যান সস্তা একটি উপহার। কিন্তু ছেলেটির বাড়িতে ঢুকতে গিয়ে লেখকের ভুল ভাঙে। তিনি তখন "এখন আমার সস্তা দামের মোড়কটি কোথায় লুকাই!" অবস্থায় পড়েন। কিন্তু ছেলেটির মা লেখকে এই বিব্রতকর অবস্থা থেকে মুক্তি দেন খুব স্বাভাবিক ও আনন্দ সহকারে ঐ সস্তা উপহার মোড়কটি গ্রহণ করে।

কী নাম ছিলো জানি গল্পটার। লেখক-ই বা কে ছিলেন, মনে পড়ছে না। সৈয়দ সাহেব কি! চিন্তিত
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

কিংকর্তব্যবিমূঢ় এর ছবি

জসীমউদ্দীন ...

গল্পের নাম ভুলে গেসি ...
................................................................................................
খাদে নামতে আজ ভয় করে, নেই যে কেউ আর হাতটাকে ধরা ...

sagar এর ছবি

গল্পের নাম সম্ভবত: "শ্রমের মর্যাদা"। হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

সাইফ ভাই, অসাধারন লাগলো, সরাসরি জীবন থেকে নেয়া। আমি ব্যাক্তিগতভাবে এধরনের অবস্থার সন্মূখীন হইনি তবে আমার কাছে সব কাজই কাজ। আমাদের খেয়েছে সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্সে। আসলে বাংলাদেশে বসে বাস্তবতা উপলব্ধি করা কঠিন। আমি খন্ডকালীন প্রবাসী এবং বর্তমানে আফ্রিকার ভয়াবহ একটা দেশে আছি। বাংলাদেশে গিয়ে বললে মানুষ বিশ্বাস করতে চায়না যে আমার অফিসের একজন এ্যাডভোকেসি এ্যাসিষ্ট্যান্ট এই শহরের সাবেক মেয়র। বর্তমান গভর্ণর আমাদের অফিসের সাবেক প্রোগ্রাম অফিসার, পার্লামেন্ট সেক্রেটারীও আমাদের অফিসের সাবেক একজন ফ্রন্টলাইন ষ্টাফ। এরা পরিস্থিতিকে এত সহজে আত্মীকরণ করতে পারেন যা বাংলাদেশে বললে মানুষ বলে চাপাবাজি।

শেষ করার আগে বলি, আমার এক সাবেক বস, ড্রাইভার গাড়ির দরজা খুলে দিলে তবেই তিনি নামতেন। আর এখন তিনি লন্ডনের একটা সুপার মার্কেটে মানুষের ঢোকা-বেরোনোর সময় দরজা খুলে ধরেন।

জীবন এতো ইজি না!

রাতঃস্মরণীয়

সাইফ শহীদ এর ছবি

সন্যাসী/রাতঃস্মরণীয়,

আপনার আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতার লেখা খুব আগ্রহ সহকারে পড়েছি এবং সেখানে মন্তব্য করেছি।

আমাদের খেয়েছে সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্সে।

আসলে এটি সুপিরিয়রিটি নয়, বরং ইনফিউরিটি কমপ্লেক্সে।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

আপনার অভিজ্ঞতাগুলো পড়ে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। মন চাচ্ছে নিজেই পিজ্জা ডেলিভারিতে নেমে যাই।

একবার বন্যার সময় স্কাউটের হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাহায্য চেয়েছিলাম। অনেক মজার মজার ঘটনা আছে। ৯৮র বন্যার সময় থিয়েটার করতাম। চ্যারিটি উৎসব হলো। সিদ্ধান্ত হলো থিয়েটারকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকিট বিক্রি করবে। তখনও দারুণ কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছিলো এরকম। একদিন সময় করে বলবো।

তবে আপনার ব্লগটা পড়ে অনেক অনেক পুরনো একটি ঘটনা মনে পড়লো। আমরা মিরপুরের লালকুঠিতে থাকতাম। আমাদের স্কুলে হুমায়ুন ভাই পড়তো, তখন দশম শ্রেনীতে। পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন হকার। সাইকেল নিয়ে ভোরবেলা বেরিয়ে যেতেন, পত্রিকা সংগ্রহ করে বাড়িতে বাড়িতে দিতেন। মাত্র কয়েক ঘন্টার কাজ। একদিন খালেক স্যার জিজ্ঞেস করলেন 'হুমায়ুন, এই কাজ আর কতদিন করবা?' হুমায়ুন ভাই খুব জেল্লা নিয়েই বলেছিলো- 'ক্যান স্যার? আমি তো চুরি ডাকাতি করি না। সকালে ঘন্টাখানেক কাজ করি, কিছু টাকা পাই, আমার লেখাপড়ার খরচটা উঠে যায়, অসুবিধা কী?' কথাটা এখনো কানে বাজে। হুমায়ুন ভাইকে শ্রদ্ধা।

বেইলি রোডে সুইস নামের যে দোকানটা আছে। আমার জানামতে সেখানেই প্রথম শিক্ষিত তরুণদের পার্টটাইম কাজের সুযোগ তৈরি করে দেন সুইসের মালিক, যাকে 'দাদা' নামেই চিনি। সেখানে আমার কয়েকজন বন্ধু কাজ করতো। এখন তো প্রচুর। আস্তে আস্তে অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে।

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

সাইফ শহীদ এর ছবি

স্কাউটিং এবং পরে ক্যাডেট কলেজের শিক্ষা আমাকে শ্রমের মর্যাদা শিখেয়েছি।

হুমায়ুন ভাইকে শ্রদ্ধা।

আমারও শ্রদ্ধা রইল।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনাকে স্যালুট, দুঃখের বিষয় এই মানসিকতাকে এখনো এদেশে বাঁকা চোখে দেখা হয়।তবে চিত্রটা স্লথগতিতে হলেও বদলে যাচ্ছে, আজকাল তরুণ প্রজন্ম কেএফসি-পিতজা হাটের মত রেস্টুরেন্টে অবলীলায় ওয়েটারের কাজ করছে।

অদ্রোহ।

সাইফ শহীদ এর ছবি

অদ্রোহ,

তোমাদের এই নতুন প্রজন্মকেই ভার নিতে হবে এই মিথ্যা জাত্যভিমান থেকে সড়ে আসার ব্যাপারে সবাইকে অনুপ্রানিত করার।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক অনেক ভালো লাগলো। বাইরে কাজের প্রতি এই সম্মানসূচক দৃষ্টিভঙ্গিটা অসাধারণ লাগে।
ভালো থাকবেন।

--
অচল পয়সা

সাইফ শহীদ এর ছবি

অচল পয়সা,

ধন্যবাদ, একই রকম চিন্তা-ধারণার জন্যে।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

দূরের তেপান্তর [অতিথি] এর ছবি

আপনার লেখা পড়তে ভাল লাগে।

তবে মনে হয় কোথায় যেন বিষণ্ণতার ছোঁয়া লেগে আছে। অনেক আগে প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়ের (সম্ভবত) "ফুলের মূল্য" পড়েছিলাম। হৃদয়ের গভীরের যে বেদনাবোধ তা যেমন উঠে এসেছে, আপনারটাও অনেকটা তাই মনে হয়।

আপনাকে একটা ফুলের গল্প লিখতে বললে, সেই ফুলের কাঁটার আঘাতে কারা ব্যথা পেয়েছিল তাদের কথাই বলবেন।

আপনার লেখা চলতে থাকুক আপন গতিতে।

দূরের তেপান্তর

সাইফ শহীদ এর ছবি

দূরের তেপান্তর,

আপনাকে একটা ফুলের গল্প লিখতে বললে, সেই ফুলের কাঁটার আঘাতে কারা ব্যথা পেয়েছিল তাদের কথাই বলবেন।

তাই কি?

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

দূরের তেপান্তর [অতিথি] এর ছবি

আপনি, যতটুকু লিখলেই হয়ে যায়, লেখা তার থেকে আরো একটু বেশী হৃদয়গ্রাহী করে তোলেন , এটা বলতে চেয়েছিলাম। অন্যভাবে বলতে গেলে, আপনার লেখা মানবিকতার ছোঁয়ায় পূর্ণ। এখন মনে হচ্ছে আমার আগের মন্তব্য আমার ভাব প্রকাশে ব্যর্থ হয়েছে।

ধন্যবাদ।

দূরের তেপান্তর

সাইফ শহীদ এর ছবি

আমি প্রথম বারেই বুঝেছি। শুধু নিজে কখনো ওভাবে বেশী ভাবিনি। অনেক ধন্যবাদ দেখিয়ে দেবার জন্যে।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

অতিথি লেখক এর ছবি

এদেশে কায়িক শ্রম করলে অনেক ধরণেরই অভিজ্ঞতা হয়, সেটা যেমন ভালো তেমনি অনেক খারাপ অভিজ্ঞতাও হয়। আমার ওয়াইফের তেমনি বেশ খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছিল। ও অবশ্য ইন্ডিয়ান দোকানে কাজ করতো। এরপরে আমার মনে হয়েছে এশিয়ান কোন দোকানে কাজ না করাই ভালো। মালিক-শ্রমিক বিভাজনের মানসিকতাটা এদের মধ্যে প্রবল, যেটা সাদাদের মধ্যে কিছুটা কম। অবশ্য অনেক সাদার আবার আমাদের চামড়ার মানুষে সমস্যা আছে।
তবে এটা ঠিক যে একটা লাইফটাইম অভিজ্ঞতা হয় যেটা ভোলার নয়।

পাগল মন

সাইফ শহীদ এর ছবি

পাগল মন

এরপরে আমার মনে হয়েছে এশিয়ান কোন দোকানে কাজ না করাই ভালো। মালিক-শ্রমিক বিভাজনের মানসিকতাটা এদের মধ্যে প্রবল, যেটা সাদাদের মধ্যে কিছুটা কম।

কথাটার মধ্যে কিছুটা সত্যতা হয়তো আছে। এটাও এক ধরণের কমপ্লেক্স, যেটা অনেক প্রথম জেনারেশন এশিয়ানের মধ্যে দেখা যায়।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

খুব ভাল্লাগলো।

----------------------------------------------------------------
অভ্র আমার ওংকার

সাইফ শহীদ এর ছবি

ধন্যবাদ শুভাশীষ।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ এর ছবি

ধন্যবাদ হিমু।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ এর ছবি

ধন্যবাদ হিমু।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক অনেক ভাল লাগলো। বেশ অনেকগুলো মোরাল মেসেজ পাওয়া গেলো।

রাগ করবেন না, একটা প্রশ্ন: আপনি যেখানে কাজ করতেন, সেখানে ৩০ মিনিট এ ডেলিভারি - অর এলস ফ্রী" এরকম কোন ব্যাপার ছিল কি? থাকলে সেটার বিড়ম্বনায় পড়েছিলেন কখনো।

মাহে আলম খান

সাইফ শহীদ এর ছবি

মাহে আলম খান,

"৩০ মিনিট এ ডেলিভারি - অর এলস ফ্রী"

তেমন কিছু চালু ছিল বলে মনে পরে না। তবে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আইন-কানুন বেশ কড়াকড়ি। লিটিগেশনের ভয়ে ম্যানেজার আমাকে ঐ পিজ্জা আর ছোট ছেলেটার বাড়ীতে নিতে দেননি।

আপনার যদি এ ধরণের বিড়ম্বনায় কোন অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলে সবার সাথে শেয়ার করেন না

ধন্যবাদ 'অনেক অনেক ভাল লাগার' জন্যে।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

অতিথি লেখক এর ছবি

মাহে আলাম খান

আপনার যদি এ ধরণের বিড়ম্বনায় কোন অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলে সবার সাথে শেয়ার করেন না

সেরকম কিছু না, শুধুমাত্র কৌতুহল বশে জিজ্ঞেস করেছিলাম।

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার এই সিরিজটা অনেক ভাল লাগে। আপনি অন্য চোখ দিয়ে সব দেখেন। পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ভাল। লে-অফের পরে এরকম কাজ করতে হলে আমি মনে হয় না এভাবে কিছু উপলব্ধি করতাম।

আমার কাছে এদেশের এই কালচারটা ভাল লাগে। মানুষ তার সামর্থ্য অনুযায়ী সব করতে পারে, কে কী ভাবল সেটা কোন ব্যপার না, আসলে কেউ কিছু ভাবেও না। ভালো ব্যবহার সবাই-ই পায়।

আমার ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি ডিরেক্টর কিছুদিন আগে রিটায়ার করেছেন। তার অনুসঠানে যেয়ে আমার একটা জিনিস অবাক লেগেছে। ডিপার্টমেন্ট প্রধান এসেছে, সিকিউরিটি গার্ড-ও এসেছে, আবার নীচের কফি শপের সেলসগার্লও এসেছে, আমরা সবাই এক টেবিলে ডিনার করলাম। আমার খুবই ভালো লেগেছিল এই পরিবেশটা।

-লাবণ্য-
ফাহ_বেগম@ইয়াহু

সাইফ শহীদ এর ছবি

লাবণ্য,

আমার খুবই ভালো লেগেছিল এই পরিবেশটা।

এমনই কি হওয়া উচিত না সবখানে?

ধন্যবাদ ভাল লাগার জন্যে।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ এর ছবি

লাবণ্য,

আমার পরিচিত এক বাংলাদেশী-ক্যানাডিয়ান বন্ধুর মুখ থেকে শোনা এক গল্প। তাদের পরিচিত অন্য এক বাংলাদেশী পরিবার দেশে ছুটি কাটাতে যাবার সময় দেশ থেকে আনা তাদের 'বিশেষ কাজের বুয়াকে' বন্ধুর বাড়ীতে রেখে গেল। ডিনারের সময় যখন তাদের ৬ বছরের ছোট মেয়ে দেখলো যে 'কাজের বুয়া' তাদের সাথে ডাইনিং টেবিলে বসে খাচ্ছে না - তখন কিছুতেই তাকে বোঝানো গেল না কেন এই নিয়ম।

আমাদের বাংলাদেশের ক'টা বাড়ীতে আমরা এই ছোট ৬ বছরের মেয়ের মতো চিন্তা করতে সক্ষম??

শুভেচ্ছা।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

বেশ ভালো লেগেছে।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

সাইফ শহীদ এর ছবি

ধন্যবাদ মুর্শেদ।

সাইফ শহীদ

পূনঃ আমি এই সপ্তাহান্তে তোমাকে ফোন করার চেষ্টা করবো।

সাইফ শহীদ

নীড় সন্ধানী এর ছবি

ছোট ছোট কিন্তু অসাধারণ সব মানবিক অভিজ্ঞতা!

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
এ ভ্রমণ, কেবলই একটা ভ্রমণ- এ ভ্রমণের কোন গন্তব্য নেই,
এ ভ্রমণ মানে কোথাও যাওয়া নয়।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

সাইফ শহীদ এর ছবি


ছোট ছোট কিন্তু অসাধারণ সব মানবিক অভিজ্ঞতা!

ঠিক তাই।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

অতিথি লেখক এর ছবি

এদেশের মানুষ যেদিন থেকে মানুষকে মানুষ বলে গণ্য করতে শিখবে সেদিন হয়ত আমরাও উন্নত দেশে পরিণত হতে পারব।

লেখাটা অনেক ভাল লাগল! হাসি

সাইফ শহীদ এর ছবি

এদেশের মানুষ যেদিন থেকে মানুষকে মানুষ বলে গণ্য করতে শিখবে সেদিন হয়ত আমরাও উন্নত দেশে পরিণত হতে পারব।

অবশ্য ইতিমধ্যে অনেক পরিবর্তন হয়েছে - আশা করি আরও হবে।

লেখা ভাল লাগার জন্যে ধন্যবাদ।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ এর ছবি

*

সাইফ শহীদ

 আনন্দ  এর ছবি

আমি জানিনা কিভাবে প্রকাশ করব আপনার লেখা পড়লে মনটা খারাপ হয়ে যায় , অন্য রকম একটা অনুভুতি হয় যা মন ভালো হওয়ার মত samoik না . অনেক দিন মনে থাকে . কথা গুলো আমার বাবার কথার সাথে মিলে যায় . যার সাথে আমার আর কোনদিন দেখা হবে না. আমি শুধু অপেক্ষায় থাকি কবে আপনার লেখা আসবে.

সাইফ শহীদ এর ছবি

আনন্দ,

তোমার এই আবেগময় লেখা পড়ে এখন যে আমার মন খারাপ হয়ে গেল। এখন কি করব আমি? কাছে থাকলে হয়তো জড়িয়ে ধরতে পারতাম।

কত দিন হলো তোমার বাবা মারা গেছেন? প্রার্থনা করি তার আত্মা শান্তিতে থাকুক।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

এতো ন্যাচারাল লেখা পড়ার সৌভাগ্য খুব কম হয়।
___________________________
Any day now, any day now,
I shall be released.


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

সাইফ শহীদ এর ছবি

ধন্যবাদ অনিন্দ্য।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

আকশনীলা এর ছবি

শহীদ ভাই,
আমার সশ্রদ্ধ সালাম।খুব ভালো লাগলো লেখাটা পড়ে।আসলেই অনেক কিছু শেখার আছে আপনার এই অভিজ্ঞতা থেকে।

গৌতম এর ছবি

আপনার অনবদ্য লেখা সবসময়ই ভালো লাগে। মন দিয়ে পড়ি।

---
একটা ছোট দ্বিমত জানাই। বিজ্ঞানে স্নাতক হয়ে ড্রাইভারের কাজ করে গর্ববোধ করা আর যে কোনো পেশাকে সম্মান করার মধ্যে বোধহয় পার্থক্য আছে। বিজ্ঞানে স্নাতক হয়ে ড্রাইভারের কাজ করা কোনো কাজের কথা না। ড্রাইভার হওয়ার পেছনে রাষ্ট্রের যে বিনিয়োগ, বিজ্ঞানের স্নাতকের পেছনের বিনিয়োগ কিন্তু সমান না। বরং বিজ্ঞানে স্নাতক হয়ে কেউ ড্রাইভার হলে এর কস্ট বেশিই হয়ে যায়।

চাকরি-বাকরি না থাকলে অনেককে বাধ্য হয়ে অনেক কাজ করতে হয়- সেটা আলাদা কথা। কিন্তু নিজ যোগ্যতার চেয়ে কম যোগ্যতার কাজ করতে গিয়ে সেটায় গর্ববোধ করাটায় গৌরবের চেয়ে অগৌরবই বেশি বলে আমার মনে হয়। এখানে অন্য পেশার প্রতি সম্মান জানানোটা আলাদা ব্যাপার।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

অতিথি লেখক এর ছবি

গৌতম দা, সিষ্টেমের মধ্যে একটু ঝামেলা আছে এখানে, এডুকেশন আর এমপ্লয়মেন্ট সেকটরের মধ্যে প্রচন্ড সমন্বয়হীনতা। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, টিচারসহ অল্প কিছু পেশার মানুষ কেবলমাত্র এ্যাকাডেমিক পড়াশুনার সাথে সম্পর্কযুক্ত সেক্টরে কাজ পান। তাছাড়া পড়াশুনা শেষে নিষ্চিত করে বলা যায়না যে এ্যাকাউন্টিং এর ছাত্র হিসাবরক্ষকের কাজ পাবেন বা মাইক্রেবায়োলজির ছাত্র প্রাসঙ্গিক গবেষনা ও উন্নয়নের কাজ পাবেন। এতো গেলো একাডেমিক রেলিভেন্সের কথা। আর গোটা বিশ্বজুড়েই বেকারত্ব তীব্র। এখানে খেয়ে পরে বেঁচে থাকার একটা মাধ্যম খুবই প্রয়োজনীয়। আর আমার মতে গৌরবজনক হচ্ছে প্রতিযোগিতার মধ্যে থেকে কাজ করে খাওয়া। তবে একটা কথা সত্যিঃ একজন মানুষ তার একাডেমিক রেলেভেন্ট সেক্টরে কাজ করলে অত্যন্ত ( এবং সম্ভবতঃ সবথেকে) ভালো আউটপুট দিতে পারেন।

রাতঃস্মরণীয়

গৌতম এর ছবি

আমি মোটামুটি সেটাই বলছি। পেটের তাগিদে আমাদের নানা কাজ করতে হয়; কিন্তু যে কাজের জন্য আমি নিজেকে তৈরি করি নি, সেটা করতে গিয়ে গর্ববোধ হওয়ার কথা না। বরং খারাপ লাগারই কথা।

সম্মানের ব্যাপারটা আলাদা। কোনো কাজই ছোট না, কারণ প্রতিটি কাজই অপরের ওপর নির্ভরশীল। একটি কাজ বন্ধ হলে সেটার চেইন রিঅ্যাকশনে বাদবাকি অনেক কাজই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সম্মানটা মনের তাগিদে না আসলেও অন্তত এভাবে চিন্তা করলে প্রতিটি কাজের প্রতি আমাদের সম্মান দেখাতেই হবে।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

সাইফ শহীদ এর ছবি

গৌতম,

তোমার মত আমিও চিন্তা করতাম। আসলে আমাদের বাংলাদেশী বা ভারতীয় চিন্তাধারার সাথে অন্য চিন্তার একটু বিভিন্নতা আছে। সামান্য কয়েক লাইনের মন্তবে সেটা ঠিক ভাবে প্রকাশ করা যাবে না।

আমার মেয়ে, মারিয়া, 'নিউরো-সায়েন্স' ও 'থিয়েটার আর্টস' - এই দুই বিষয়ে ডবল-মেজর করে 'কাম-লোদ' পেয়ে। আমি চেয়েছিলাম (হয়তো) বাবার মত সেও কম্পুটার বিজ্ঞান নিয়ে থাকুক। কিন্তু আমেরিকান চিন্তা-ধারায় গড়ে ওঠা তার মানসিকতা। আমি তাকে কিছু বললে সে সেটা শুনবে কেন? জীবনটা তো তার। তার যেটা ভাল লাগবে সে সেটাই করবে।

বিশ্ব-বিদ্যালয় সংলগ্ন নিউরো-সায়েন্স ল্যাবে ভালই কাজ করছিল এমন সময় থিয়েটার আর্টসের একটা কোর্স করতে হার্ভাড বিশ্ব-বিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়ে চাকরী ছেড়ে চলে গেল সেখানে। সুতরাং 'গর্ববোধ' এবং 'ভাল লাগা' একটি ব্যক্তিগত ব্যাপার।

আমি হতে চেয়েছিলাম বিজ্ঞানী বা দার্শনিক। তখনকার সময়ে এগুলির তেমন প্রয়োজন ছিল না দেশের চাকরীর বাজারে। তাই প্রকৌশলী হলাম।

আমার সতীর্থ প্রকৌশলী বন্ধু কাদের আজ মন্ত্রীত্ব করছে। কাদের এক জন ভাল ইঞ্জিনিয়ার ছিল। মন্ত্রীত্ব করতে পেরে কি সে গর্ববোধ করতে পারবে না? এতে যদি তার ভাল লাগে - তা হলে ক্ষতি কি? তেমনি ঐ বিজ্ঞানে স্নাতক মহিলার যদি পিজ্জা বিক্রী করে গর্ব হয় - ক্ষতি কি? দোষ কোথায়? আমরা আমাদের চিন্তাকে আরও একটু প্রসারিত করি না কেন?

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

গৌতম এর ছবি

আমার সতীর্থ প্রকৌশলী বন্ধু কাদের আজ মন্ত্রীত্ব করছে। কাদের এক জন ভাল ইঞ্জিনিয়ার ছিল। মন্ত্রীত্ব করতে পেরে কি সে গর্ববোধ করতে পারবে না? এতে যদি তার ভাল লাগে - তা হলে ক্ষতি কি? তেমনি ঐ বিজ্ঞানে স্নাতক মহিলার যদি পিজ্জা বিক্রী করে গর্ব হয় - ক্ষতি কি? দোষ কোথায়? আমরা আমাদের চিন্তাকে আরও একটু প্রসারিত করি না কেন?

শহীদ ভাই, বিজ্ঞানে স্নাতক মহিলা যদি পিজ্জা বিক্রি করে গর্ব করেন, তাহলে দোষ নেই, কিন্তু ক্ষতি আছে। আপনার প্রকৌশলী বন্ধু যদি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মন্ত্রীত্ব করেন, তাহলে তো খুবই ভালো কথা। না হলে একটু চিন্তা করে দেখুন, এক বিষয়ে নিজেকে প্রস্তুত করে কেউ যদি অন্য বিষয়ে কাজ করতে চায় তাহলে ওই কয়েক বছরে তাঁদের পেছনে ব্যয়িত ইনপুটের কী হবে? তাঁদের কয়েক বছরের আনুষ্ঠানিক শিক্ষার আউটপুটটা কোথায় থাকলো?

এসব বিষয়ে আমরা আমাদের চিন্তাকে অবশ্যই প্রসারিত করতে পারি, কিন্তু দেখতে হবে সার্বিকভাবে এই চিন্তা উপকারী হচ্ছে কিনা। আপনি যে উদাহরণটা দিলেন, সেটা যদি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়, তাহলে কিছু বলার নেই। কিন্তু এটাকে প্রমোট করা হলে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজন পড়ে না, রেট অব রিটার্ন ফ্রম এজুকেশন নিয়েও মাথা ঘামাতে হয় না। কোনো দেশের কোন খাতে কতোটুকু জনসম্পদের প্রয়োজন হয়, তা নিয়েও পরিকল্পনা করতে হয় না। সোভিয়েত বলয় থেকে পোল্যান্ড ভেঙ্গে যাওয়ার পর সেখানকার প্রকৌশলীদের ট্যাক্সি চালাতে হয়েছিল (এই বিষয়ে একটা মানবিক বর্ণনা পেতে পারেন সুনীলের 'ইতিহাসের স্বপ্নভঙ্গ' বইটি থেকে), তখনকার এক দশকের রেট অব রিটার্নে কী পরিমাণ ধ্বস নেমেছিল তার একটা রোমহর্ষক বর্ণনা পাওয়া যায় 'স্ট্যানলি কুরবিক'-এর (নামটা সঠিক মনে নেই, তবে এরকম একটা নামের কথাই মনে পড়ছে) গবেষণা থেকে।

তবে স্বল্পমেয়াদে এই কাজগুলো মানুষের জীবনগঠনে, নানা অভিজ্ঞতায় নিজেকে সিঞ্চিত করতে অনেক কাজে দেয়। আমার বর্তমান চাকুরিতে নামার আগে প্রশ্নপত্র বাঁধাই, বাড়ি বাড়ি ঘুরে তথ্য সংগ্রহ, টাইপিস্ট, কম্পোজিটর ইত্যাদি নানা ধরনের কাজ করেছি। তাতে যে বিশাল পরিমাণে এবং নানা ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে, তার মূল্য আমার কাছে আনুষ্ঠানিক লেখাপড়ার চেয়ে কম নয়। কিন্তু সারাজীবন এ কাজ করতে গেলে বোধহয় হীনমন্যতা এসে আঁকড়ে ধরতে, গর্ব নয়।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষাবিষয়ক সাইট ::: ফেসবুক

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

আকাশনীলা [অতিথি] এর ছবি

শহীদ ভাই,
আমার সশ্রদ্ধ সালাম।খুব ভালো লাগলো লেখাটা পড়ে।আসলেই অনেক কিছু শেখার আছে আপনার এই অভিজ্ঞতা থেকে।
আধুনিকতার মানেটা আসলে আমরা অনেকেই মানতে পারিনা তাই আমাদের মনে এত বৈষম্য।সিসিবিতে কমেন্ট করতে গিয়ে দেখলাম লেখাটা নাই।ঐ খানেও দিয়েন।মনমতো একটা স্যালুট দিতাম।

সাইফ শহীদ এর ছবি

আকাশনীলা,

কিছুক্ষণ আগে লান্চের জন্যে বাইরে বেড়িয়ে দেখি খুবই সুন্দর আকাশ। এত সাদা মেঘ - মনে হল যেন নীল দিয়ে কাচা। অদ্ভুত সুন্দর নীল আকাশ। সাথে ক্যামেরা না থাকায় আফসোস হলো। এখন তোমার নামটা দেখে মনে হলো যেন ঐ আকাশের সাথে তোমার নামের মিল আছে।

সময় এবং সচেতনতার সাথে সাথে এ সব বদলিয়ে যাবে। আর নতুন প্রজন্মের তোমারা তো আছ।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

ধ্রুবো এর ছবি

খুব ভালো লাগলো।

সাইফ শহীদ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

অতিথি লেখক এর ছবি

কিছু মনে করবেন না, একটা প্রশ্ন করি, দোকানে না জানিয়ে কি কোনভাবেই সেই পরিবারকে পিজ্জা দিয়ে আসতে পারতেন না? দয়া করে ভুল বুঝবেন না, কিন্তু আমার একটা অনেক আদরের ভাগ্নে আছে। দুনিয়ার কোথাও একটা ছোট বাচ্চার মন খারাপের কথা শুনলে ওর চেহারা মনে পড়ে বুকের ভেতর কেমন জানি করে...

হাম্মাদ আলি

সাইফ শহীদ এর ছবি

হাম্মাদ আলি,

দুনিয়ার কোথাও একটা ছোট বাচ্চার মন খারাপের কথা শুনলে ওর চেহারা মনে পড়ে বুকের ভেতর কেমন জানি করে...

সত্যি ছোট বাচ্চার মন খারাপ দেখলে সবারই মন খারাপ হবার কথা। আপনার প্রশ্নটা আমার মনে অনেকবার উদয় হয়েছিল। আমেরিকার ভাল দিকের সাথে আবার কতগুলি 'বিশেষ দিক'ও আছে। তার একটি হচ্ছে 'লিটিগেশন' বা মামলা-মকোদ্দমার ভয়।

আপনি কাউকে বাড়ীতে দাওয়াত দিলেন ডিনার খাবার জন্যে, পরে দেখা গেল সেই খাবার খেয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পরেছেন। তিনি চাইলে, আপনার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরনের মামলা করতে পারেন। [এমন ঘটনা আসলে ঘটেছে]। এ জন্যে কোম্পানীর পলিসি হচ্ছে ক্রেতা ছাড়া কাউকে 'ফ্রি' কিছু দেওয়া যাবে না।

সাধারণত পিজ্জা বানিয়ে রেখে বিক্রী করা হয় না। শুধু অর্ডার পাবার পর বানানো হয় এবং কোন কারণে ব্যবহার না হলে ফেলে দেবার নিয়ম। ম্যানেজার যে আমাকে দিয়েছিল - এটাও তার নিয়মের বাইরে ছিল, অন্য কারও চোখে পড়লে বা কেউ অভিযোগ করলে তার অসুবিধা হতো।

আমি যদি ঐ পিজ্জা বা আর একটা কিনে নিয়ে সেই বাড়ীতে যেতাম - তা হলে তারা সম্ভবত পছন্দ করতো না। এমনিতে লোক-জনের আত্মসম্মান বোধ প্রচন্ড। আমার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন আসতো। বাচ্চার মায়ের প্রতি আমি আগ্রহী কিনা - সে প্রশ্নও উঠতে পারতো।

যদি মিথ্যা বলতাম [ যেটা আমি সাধারণত খুব অপছন্দ করি ], যে দোকান থেকে ফ্রি পাঠিয়েছে, তাহলে তখনি দোকানে ফোন করতো ধন্যবাদ দেবার জন্যে। ধরা পড়ে যেতাম আমি।

অনেক ঝামেলা উন্নত দেশে থাকার। সে হিসাবে আমাদের বাংলাদেশ অনেক ভাল বাস করার জন্যে।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

অতিথি লেখক এর ছবি

বুঝিয়ে বলার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আসলেও, কিছু মানুষ অপব্যবহারের সুযোগ পেয়ে যাবে বলে আমাদের কতরকম নিয়ম বানাতে হয়, আর সেই কারনে এমন কত কষ্ট দেখেও চুপ করে থাকতে হয়। মাঝে মাঝে জীবনের কোন মানে খুঁজে পাইনা...

হাম্মাদ আলি

আনন্দ [অতিথি] এর ছবি

সাইফ ভাই
বাবা চলে গেছেন আজ ছয় বছর হলো . মৃত্যুর আগের দিন ও উনি অফিসে গেছেন. সারাজীবন এইটা ঐটা বহু কিছু করার চেষ্টা করেছেন / আপনাকে শুধু প্রতিকুলতার বিরুদ্ধে মানুষের সত সংগ্রামের কথা লিখতে হবে আর সেটা পড়ে আমার মত কিছু মানুষের মন খারাপ হবে / সেটাই আনন্দ

আনন্দম !

আনন্দ

সাইফ শহীদ এর ছবি

আনন্দ,

তোমার মধ্যেই আমি দেখতে পাচ্ছি তোমার বাবার কষ্ট এবং আত্ম-ত্যাগের ফসল।

আমি জানি তুমি মানুষের মত মানুষ হবে।

শুভেচ্ছা রইল সেই ভবিষ্যতের দিনের জন্যে।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

বাউলিয়ানা এর ছবি

হুম ভাল বলেছেন।

মানুষের সাথে মেশার অভিজ্ঞতার চাইতে বড় শিক্ষা আর কিছু হয় না।

সাইফ শহীদ এর ছবি

মানুষের সাথে মেশার অভিজ্ঞতার চাইতে বড় শিক্ষা আর কিছু হয় না।

কথাটা সঠিক।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

পৃথিবী [অতিথি] এর ছবি

সাধারণত স্মৃতিচারণমূলক লেখাগুলো পড়ি না, তবে আপনার লেখা খুবই ভাল লাগে। এই লেখাটা বেশ শিক্ষণীয় হয়েছে।

সাইফ শহীদ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ পৃথিবী।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

আরিফ জেবতিক এর ছবি

আমাদের বন্ধুবান্ধবদের একটা দল ছিল, আমরা বিয়ে বাড়িতে খাবার সার্ভ করতাম। সিলেটে একটা সময় এর চল ছিল, ছাত্ররা বিভিন্ন বিয়ের অনুষ্ঠানে বেয়ারার কাজ করতো। এই টাকার অর্ধেকটা নিজেদের ক্লাবের/সমিতির ফান্ডে যেতো আর বাকিটা যে শ্রম দেয় তাঁর। এই ধারাটা শুরু করেছিলেন ওয়েভস নামের একটি সংগঠন, সম্ভবত ৮০'র দশকের শুরুতেই। তারপর ব্যাপক হারে প্রচলন হয়, প্রতি পাড়া মহল্লায় এরকম টিম ছিল। প্রায় প্রতি শুক্রবারেই আমাদের ডাক পড়তো, কাজ আসলে বেশি সময়ে না, দুপুর দেড়টায় খাবার বিলি শুরু হতো, ৩টার মধ্যে শেষ। দেড় ঘন্টা শ্রমের বিনিময়ে একবেলা খাওয়া এবং ১শ টাকা মজুরি। বি-শা-ল মনে হতো তখন। হাসি

সিলেটে এখন এই প্রচলনটা আর নেই। বেয়ারার কাজ আবার ছোটজাতের কাজ হয়ে গেছে, সিলেটের ছাত্ররা এখন আর এই কাজে নেই।

সাইফ শহীদ এর ছবি

আরিফ,

ব্যাপারটা আমার জানা ছিল না। খুব খুশী হলাম জেনে। আবার যেন এটি চালু হয়।

বিলাতের ৯০%-এর বেশী ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টের মালিক এবং কর্মচারী বাংলাদেশের, মূলত সিলেটের। এরাই আমাদের গর্ব।

আমি আমার সহকর্মীদের মধ্যে খোঁজ নিজে জেনেছি - তাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশী কোন না কোন সময় কায়িক শ্রমে সংযুক্ত ছিল।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

বাংলাদেশে বিভিন্ন পেশায় শ্রমমূল্যের বৈষম্য আমাদের 'আভিজাত্য'-এর মোড়ককে রঙচঙে করতে সাহায্য করে। 'কোনো কাজই ছোট নয়' এই মূলমন্ত্র বাস্তবায়ন করতে হলে আগে কাজের অর্থনৈতিক দিকটা দেখতে হবে।

ঝরঝরে ভাষায় লেখা আপনার অভিজ্ঞতা পড়তে ভালো লাগলো।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সাইফ শহীদ এর ছবি

কথাটা ঠিক। এখানে যেমন এক জন প্রকৌশলী এবং এক জন প্লাম্বার প্রায় একই রকম আয়ের ব্রাকেটে - সেটা বাংলাদেশে অনুপস্থিত। [প্রকৌশলীর ঘুষের আয়ের কথা বাদ দিয়েই বলছি]

একজন ইন্টার-স্টেট ট্রাক ড্রাইভার বছরে ৭৫,০০০ থেকে ৯০,০০০ ডলার আয় করতে পারে এখানে। আর বাংলাদেশের ড্রাইভার সেখানে মাসে ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পেয়ে খুশী থাকতে বাধ্য হয়।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

তাসনীম এর ছবি

আমার রুমমেইট পিজ্জা ডেলিভারির কাজ করত। এটা করলে আমেরিকাকে খুব কাছ থেকে দেখা যায়। লেখাটা খুব ভালো লেগেছে।

++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

সাইফ শহীদ এর ছবি

ধন্যবাদ এমিল।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

মোজাম্মেল কবির এর ছবি

অসাধারন লিখা !
ভালো থাকুন।

সাইফ শহীদ এর ছবি

ধন্যবাদ মোজাম্মেল।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

দিগন্ত এর ছবি

অসাধারণ লেখা, তবে আমার রেস্টুরান্টের ওয়েটার হিসাবে কাজ করার ইচ্ছা আছে।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

সাইফ শহীদ এর ছবি

দিগন্ত,

তবে আমার রেস্টুরান্টের ওয়েটার হিসাবে কাজ করার ইচ্ছা আছে।

সখ করে অভিজ্ঞতা লাভ করার জন্যে করতে পার। অথবা এই ধরণের কাজ পছন্দ হলে লেগে থাকতে পার ম্যানেজার বা সেফ হবার জন্যে। তোমাদের সিয়েটলে এক সিভিল ইনঞ্জিনিয়ারের মাঝামাঝি মাইনে বছরে ৬০,০০০ ডলার এবং একজন রিজিওনাল সেফের মাইনে ১২০,০০০ ডলার। গুগল সার্চ করে দেখে নিতে পারো।

আর শুধু কিছু দিন পার্ট টাইম কাজ করলে হয়তো ভাল ভাল মেয়েদের সাথে বন্ধুত্ব করার সুযোগ এসে যাবে। এ বয়সে সব অভিজ্ঞতাই মূল্যবান।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি

ভালো লাগলো। ধন্যবাদ সুন্দর অভিজ্ঞতা গুলো আমাদের সাথে ভাগাভাগি করে নেবার জন্য। আচ্ছা, এই পিজ্জা ডেলিভারীর সময়টাতে কোন খারাপ ঘটনা ঘটেনি? অনেকের কাছে শুনেছি তাদের খুব খারাপ অভিজ্ঞতার কথা।

--------------------------------------------------------------------------------

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

চমৎকার, চমৎকার একটা লেখা। এই সিরিজটা আজকাল বড় আগ্রহ নিয়ে পড়ি।

_________________________________________

সেরিওজা

মুস্তাফিজ এর ছবি

এরশাদের শুরুর সময়টাতে ঢাকা ময়মনসিংহ দৌড়াদৌড়ি করলেও ‘৮৫ থেকে পাকাপাকি ঢাকায় চলে আসতে হয়। খরচ মেটাতে এখানে আসার সপ্তাহ খানিকের মাথায় এক কাপড়ের দোকানে বিক্রয় সহকারী হিসাবে কাজ শুরু করি। কাজটা আমার ভালো লেগেছিলো এবং আমাকেও ওদের পছন্দ হয়েছিলো।

...........................
Every Picture Tells a Story

সাইফ শহীদ এর ছবি

মেহবুবা,

আপনার প্রশ্নের উত্তরে বলতে হয় তেমন কোন খারাপ অভিজ্ঞতা হয়নি আমার।

এমন কি সিনেমাতে দেখা - 'পিজ্জা ডেলিভারী বয়ের' উপর ঝাপিয়ে পড়লো কয়েক জন মেয়ে - তেমন কোন অভিজ্ঞতাও হয়নি।

আসলে খুব কম সময় ঐ কাজটি করার সুযোগ পেয়েছিলাম। তবে এছাড়া আরও অনেক ভিন্ন কাজের অভিজ্ঞতা হবার সুযোগ হয়েছে। সে গল্প অন্য দিনের জন্য তোলা থাক।

ধন্যবাদ আপনাকে কাজের অবসরে সময় করে পড়ার জন্যে। ডোরা ও অর্ণবের প্রতি শুভেচ্ছা ও ভালবাসা রইল।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ এর ছবি

সবাইকে,

লান্চের ব্রেকে সচলায়তনে ঢুকে দেখলাম বিগত দু'দিনে এক হাজারের বেশী পাঠক এই উপরের লেখাটি পড়েছেন।

আমি এখন জানতে বা বুঝতে আগ্রহী - এত জনের এই আগ্রহের কারণটা কোথায়?

আমি কোন লেখক নই, বন্ধুদের সাথে যেভাবে গল্প করি সেভাবেই লিখি। তাহলে কি গল্পের কাহিনীই পাঠকদেরকে বেশী আগ্রহী করেছে?

নাকি একজন 'মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত' (বাংলাদেশের মানদন্ডে) বয়স্ক ব্যাক্তি কি ভাবে 'পিজ্জা ডেলিভারী ড্রাইভার'-এর কাজ করেছে - সেটাতেই আগ্রহটা বেশী [যেমন রাস্তায় কেউ কলার খোসায় পা-পিছলিয়ে পড়ে গেলে আমরা তাকিয়ে দেখি এবং হাসি]।

আমি বোঝার চেষ্টা করছি শুধু।

সাইফ শহীদ

সবাইকে অনেক ধন্যবাদ তাদের আগ্রহের জন্যে।

সাইফ শহীদ

ধুসর গোধূলি এর ছবি

নাকি একজন 'মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত' (বাংলাদেশের মানদন্ডে) বয়স্ক ব্যাক্তি কি ভাবে 'পিজ্জা ডেলিভারী ড্রাইভার'-এর কাজ করেছে - সেটাতেই আগ্রহটা বেশী [যেমন রাস্তায় কেউ কলার খোসায় পা-পিছলিয়ে পড়ে গেলে আমরা তাকিয়ে দেখি এবং হাসি]।
কলার খোসায় পা পিছলে পড়া দেখে আনন্দ পেতে হলে প্রথম পাতায়, প্রথম প্যারাতেই এই তথ্য থাকার দরকার ছিলো। কিন্তু তা তো নেই। যেহেতু একজন এই লেখাটি পড়া শুরু করার আগে জানছে না এতে কলার খোসায় পা পিছলানো আছে নাকি জীবনের অন্য একটি দিককে কাছ থেকে দেখার সুযোগের কথা বলা আছে! তাই বোধ'য় বলা যাচ্ছে না যারা এই পোস্টে ঢুঁ মারছে তারা কেবল 'একটু হাসার জন্য'ই এই পোস্টে ঢুকছে।

আমার মনেহয় লেখাটি এতোগুলো ভিজিট পেয়েছে এর আগের পর্বগুলোর জন্য। আপনি লেখক নন ঠিকাছে, কিন্তু আপনার লেখাগুলোতে অন্যরকম একটা আবেদন আছে। তাছাড়া মানুষ বড়ই অনুসন্ধিৎসু। গল্প কোবতের চেয়ে জীবন থেকে নেয়া ঘটনাগুলোর দিকে মনোনিবেশ থাকে বেশি। আর এই ঘটনাগুলো যদি খুব সুন্দর করে গুছিয়ে উপস্থাপন করা যায় (আপনার মতো করে) তাহলে যে কারো লেখাতেই, যেকোনো বিষয়ের লেখাতেই এতোগুলো হিট পড়তে বাধ্য।

হয়তো বন্ধুদের সাথে আপনার গল্প করার স্টাইলটা খুব আকর্ষণীয়।

আর ব্লগের ক্ষেত্রে যেটা হয় তা হলো কোনো একটা লেখায় অনেকগুলো মন্তব্য পড়তে থাকলে সেই লেখায় মন্তব্য পড়ার জন্য হলেও ভিজিট বাড়ে।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

আয়নামতি [অতিথি] এর ছবি

' যে জীবন দোয়েলের, ফড়িংয়ের মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা...' আমি তো বলবো, কারো কারো সাথে হয় বৈকি! তাদের সেটা দেখবার ক্ষমতা নেই বলেই চোখ এড়িয়ে যায় হয়ত। তাই জীবনভর আক্ষেপ ঝুলে থাকে অভিজ্ঞায়। এ আক্ষেপটুকু আপনার নেই অন্ততঃ। ঐ যে শরীর বিকিয়ে দেয়া মেয়েটি, সে কী একটা ফড়িংসম নয় কিছু মানুষের খিদের মুখে? লোভী চোখে তাকিয়ে থাকা ছোট্ট শিশুটি, সেও তো পাখিই একটা। আপনি তাদের দেখেছেন। আর সে দেখায় যেটা ছিলো তার নাম মমত্ববোধ। এটাই আপনার সবচেয়ে বড় গুণ ভাইয়া! আপনার লেখার ভাঁজে ভাঁজে থাকে এটা। শুধু লেখাতেই বলি কেনো! আমরা যারা পাঠক, তাদের দেয়া মন্তব্যের প্রতিও কী অপার মমতা ঝরে পড়ে। লেখনীর সারল্য আর এই মমতা মেশানো প্রতিত্তোরের লোভেই আমি আসবো..বার বারই আসবো আপনার ব্লগে। আপনি অবশ্যই আমাকে 'তুমি' বলবেন। ভালো থাকবেন সদাই। শুভেচ্ছা নিরন্তর।

মুস্তাফিজ এর ছবি

সাইফ ভাই, আপনার বলার ভংগী সাবলিল। জানা যায় অনেক কিছুই।
এই লেখাটার কথাই ধরেন- জানলাম “মাই টার্ণ” এর কথা, জানলাম সকল কাজই সমান, ‘৭০ দশকে চা বাগানের বাবু দের জীবন যাত্রার কাহিনী শুনলাম, ১০-১২% টিপস্‌ দেওয়াটা যে ভদ্রতা সেটা জানলাম, লিটিগেশনের কথাও শুনলাম । জানলাম আরো অনেক কিছুই।
অন্যদের কথা জানিনা, আপনার পোস্টে আসি এসব কারণেই। তবে সাধারণত একবার পড়েই চলে যাই। এটাতে বারবার ফিরে আসার কারণ এতে করা অন্যান্যদের মন্তব্য আর আপনার দেওয়া প্রতিউত্তর গুলো দেখতে।
ভালো থাকবেন।

...........................
Every Picture Tells a Story

কার  এর ছবি

মন ছুয়ে গেলো খুব গভীর থেকে।ধন্যবাদ,আত্মশুদ্ধিতে কাজে লাগবে।

আসিফ [অতিথি] এর ছবি

সচলায়তনে আমি দুটো ব্লগ নিয়মিত পড়ার চেষ্টা করি বর্তমানে- আপনার এবং সিরাতের। বিজয়-অভ্র বিবাদের সময় শহীদ লিপি সূত্রে আপনার সম্পর্কে জানার একটা আগ্রহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে আমেরিকা নিয়ে আপনার আকর্ষণীয় সিরিজটার কারনে বার বার ভিজিট করি আপনার ব্লগ।

এ মন্তব্যটা হয়তো কখনই করা হতো না, আমি মুগ্ধ ও নির্বাক পাঠক হিসাবে থাকতেই বেশি পছন্দ করি। কিন্তু হিট এর ব্যাপারে আপনার কৌতূহলের জন্য লিখলাম।

ভালো থাকবেন।

সাইফ শহীদ এর ছবি

@ ধুসর গোধূলি - জসীম উদ্দীনের গল্পটা তুলে ধরার জন্যে ধন্যবাদ। আসলে এখন পর্যন্ত এটাই আমাদের সাধারণ মানসিকতা। এটা শহরে যতটা প্রকট, ততটা হয়তো গ্রামে না। এখনও গ্রামের মানুষ মন খুলে অভ্যর্থনা জানাতে পারে অচেনা মানুষকে।

সুন্দর করে আমার প্রশ্নের উত্তর দেবার জন্যে আরও অনেক ধন্যবাদ।

@ আয়নামতি - তোমার এত সুন্দর করে লেখা মন্তব্য পড়ে সত্যি আমি অভিভুত। এখন থেকে তোমার নিজের লেখা পড়তে চাই [খুঁজেছিলাম - এখানে পেলাম না]।

@ মুস্তাফিজ - টিউশনী করা এবং পেইং গেস্ট হিসাবে থেকে ছাত্র পড়ানোটা কিন্তু আমরা অনেকটা স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিয়েছি অনেক দিন থেকে। 'কায়িক' শ্রমের ব্যাপারে আমাদের যে একটা ভ্রান্ত ধারনা আছে সেটা দূর করতে হবে। তোমার কাপড়ের দোকানের সেলসম্যানের চাকরীর কথা শুনে আশান্বিত হলাম। আশা করবো অন্যরা তোমার এই উদাহরণ দেখে শিখবে।

@ কার ও আসিফ - অনেক ধন্যবাদ এই মন্তব্যগুলির জন্যে। এগুলি আমার কাজে লাগবে।

শুভেচ্ছা সবাইকে।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

তিথীডোর এর ছবি

এই সিরিজ মিস করে যাচ্ছিলাম!! চিন্তিত

লিখুন নিয়মিত, পাঠক হিসাবে সঙ্গে থাকছি...

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

সাইফ শহীদ এর ছবি

সব লেখা যে পড়তে হবে বা পড়া সম্ভব তা তো নয়। যখন যেটা ভাল লাগবে সেটা পড়লেই হবে।
অনেক ধন্যবাদ।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

কৌস্তুভ এর ছবি

সাইফ ভাই, আপনার এই সিরিজটা পড়ার ইচ্ছা অনেকদিনের কিন্তু ব্যস্ততার মাঝে সুযোগ হচ্ছিল না। আজকে একটানে সবগুলো পড়ে ফেললাম। দারুণ লাগল। আমাদের ছাত্রদের তুলনায় আপনি অন্য এক আমেরিকাকে দেখেছেন। দয়া করে চালিয়ে যান সিরিজটা।

আর হ্যাঁ, ধন্যবাদটা আপনারই প্রাপ্য, পাঠকদের তরফ থেকে।

সাইফ শহীদ এর ছবি

কৌস্তুভ,

অনেক ধন্যবাদ অলখ আমেরিকা সিরিজের সবগুলি লেখা পড়ার জন্যে। আমি কিন্তু এখনো বোঝার চেষ্টা করছি - আমার অন্য লেখাগুলি সাধারনত ৬০০ থেকে ৭০০ জন পড়ে, কিন্তু এই লেখাটি ইতিমধ্যে প্রায় ১৮০০ জন পড়েছে।

উপরের কয়েক জনের মন্তব্য ছাড়া আরও কি কোন কারন আছে - জানতে ইছা করে।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

মূলত পাঠক এর ছবি

আজকাল পাঠক হিসেবে তেমন নিয়মিত নই, কিন্তু আপনার লেখা নিয়মিত পড়ি। আমার ধারণা পাঠসংখ্যা নিয়ে আপনি যে প্রশ্নটা ভেবেছেন তার পিছনে আমার মতো অনেক পাঠক আছেন। তাঁরা আপনার লেখার জন্য প্রতীক্ষায় থাকেন, প্রকাশ হলে পড়েন, হয়তো নিয়মিত মন্তব্য করেন না, যে কারণে তাঁদের আগ্রহের কারণটা সরাসরি বোঝা যায় না।

তীরন্দাজ তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতা লিখতেন আগে, এই সিরিজটার সাথে তার মিল পাই। আপনাদের দুজনেরই লেখার ভঙ্গি সোজাসরল আর অভিজ্ঞতা খুবই সমৃদ্ধ। যে পাঠকেরা কেরামতি দেখানো লেখার বদলে ভিতরের বস্তুকে বেশি গুরুত্ব দেন (কেরামতির ভাষায় বললে ফর্মের থেকে কনটেন্টকে), তাঁদের কাছে আপনার লেখার গুরুত্ব অনেক। আমার ধারণা এ লেখার পাঠসংখ্যা সেই পাঠকদের কথাই বলেছে।

ভালো থাকুন।

Canopus এর ছবি

খুবতো ইচ্ছে করে দৃশ্যমান জগতের স্বাভাবিক ঘটনার বাইরে গিয়ে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে, সেগুলো লিখি! তারপর মানুষ আবার ভাবতে বসবে, কল্যানকর সব কিছুই সম্মানজনক, কোন সন্দেহ নাই!
পারিনা!!
এই লেখাটা তেমন কিছু, পড়ার মত শুধু না, শেখার ও! জীবন যাপন আর চিন্তা ধারা বদলে দেবার মত।
আমার সম্মাননা গ্রহন করুন।

ফেইসবুকে শেয়ার করেছি ... ... ...

সাইফ শহীদ এর ছবি

Canopus,

'সম্মাননা' জানাবার জন্যে অনেক ধন্যবাদ। আপনার ব্লগে গিয়ে সবুর চাচাসহ কিছু লেখা পড়লাম। বাকী গুলি পড়ার জন্যে বুক মার্ক করলাম। আমার খুব ভাল লেগেছে আপনার লেখা।

আপনার ফেসবুক নামটা জানা থাকলে ফেসবুক বন্ধুত্বের আহ্বান জানাতাম।

শুভেচ্ছা।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

রোমান এর ছবি

সাইফ শহীদ: আপনার অভিজ্ঞতাগুলো জীবনটাকে জানারক্ষেত্রে সত্যিই চমৎকার, এরকম লেখায় নতুন প্রজন্মের জন্য আশার দুয়ার খুলে দিবে। আমাদের দেশের সামাজিক যে ভুল ধারনাগুলোর কারনে শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা বেকার হয়ে ঘুরে বেড়ায় এ রকম কিছু অভিজ্ঞতাই তাঁদের ভুলগুলি শুদ্ধ করতে সহায়ক হবে, যদিও এখন চিন্তা, দৃষ্টিভঙির অনেক পরিবর্তন ঘটেছে তবুও এ পরিবর্তনের হার ক্রমাগত বেড়ে উঠা উচিত, অন্যথায় আমরা আমাদেরকে এগিয়ে নিতে সমর্থ হব না। ব্যাক্তিগতভাবে আমি কোন কাজকেই ছোট করে দেখি না, আমি নিজেও এস.এসসির পর থেকে পার্ট টাইম জব করে পড়ালেখা করেছি, এখন মিডলইষ্টের একটা দেশে আছি। আমি এই ভেবে গর্বিত যে, আমি আজ অনেক ন্যাশনালিটির সাথেই সমান তালে কাজ করে যাচ্ছি।

সাইফ শহীদ এর ছবি

রোমান,

আমাদের দেশের সামাজিক যে ভুল ধারনাগুলোর কারনে শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা বেকার হয়ে ঘুরে বেড়ায় এ রকম কিছু অভিজ্ঞতাই তাঁদের ভুলগুলি শুদ্ধ করতে সহায়ক হবে, যদিও এখন চিন্তা, দৃষ্টিভঙির অনেক পরিবর্তন ঘটেছে তবুও এ পরিবর্তনের হার ক্রমাগত বেড়ে উঠা উচিত, অন্যথায় আমরা আমাদেরকে এগিয়ে নিতে সমর্থ হব না।

খুবই সত্য কথা। তবে আশার কথা হচ্ছে - আপনি, আমি এবং অন্যেরা এখন খোলা মনে তাদের অভিজ্ঞতা সবার সাথে শেয়ার করতে গর্ব বোধ করছে। দিন বদল হচ্ছে, একে আর ঠেলে নিয়ে আগের মত করা যাবে না।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

তায়েফ আহমাদ [অতিথি] এর ছবি

এক কথায় দারুন লাগল।

সাইফ শহীদ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ তায়েফ।

সাইফ শহীদ

সাইফ শহীদ

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।