আল জাজিরাতে শর্মিলা বসুর মিথ্যাচার

শুভাশীষ দাশ এর ছবি
লিখেছেন শুভাশীষ দাশ (তারিখ: মঙ্গল, ১০/০৫/২০১১ - ৯:১১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আল জাজিরাতে সুবীর ভৌমিক তাঁর ‘Book, film greeted with fury among Bengalis’ (২৯ এপ্রিল ২০১১) লেখায় একাত্তরের ইতিহাস বিকৃতির দায়ে অভিযুক্ত করেছেন শর্মিলা বসু ও মেহেরজান সিনেমার পরিচালক রুবাইয়াত হোসেনকে। সুবীর ভৌমিক একটা বাক্যে একাত্তরের যুদ্ধকে সিভিল ওয়ার বলার চেষ্টা করলেও লেখাটা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মূল ন্যারেটিভের পক্ষেই থেকেছে। সেখানে স্পষ্টভাবে রুবাইয়াত হোসেনের পাকিপ্রেমের সাথে শর্মিলা বসুর পাকিপ্রীতির সুন্দর সংযোগ দেখানো হয়েছে।

আজকে শর্মিলা বসু সুবীর ভৌমিকের লেখাটার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আল জাজিরাতে (৯ মে ২০১১)। শর্মিলা বসু হালকা কিছু নতুন কথাবার্তা যোগ করে তাঁর একই কথা পুনরুচ্চারণ করেছেন সেই লেখায়। শর্মিলা বসুর ইতিহাস বিকৃতির অপপ্রয়াস নিয়ে আগের দুইটা পর্ব লেখা হয়েছে। এই পর্বে মূলত আল জাজিরাতে তাঁর প্রকাশিত লেখাটা নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করবো।

শর্মিলা বসু একাত্তরের যুদ্ধকে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আরব বিদ্রোহের সাথে তুলনার চেষ্টা করেছেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের রক্ষাকর্তা হয়ে হাজির হওয়াকে তিনি আরবদের বিদ্রোহে আমেরিকার ত্রাতা হিসেবে অবতীর্ণ হওয়ার তুলনা করেছেন। তাঁর এই তুলনা প্রতিতুলনা প্রায় হাস্যকর। শর্মিলা বসু আমাদের বোঝাতে চেষ্টা করেছেন একাত্তরে আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা ভারতের উপহার দেয়া এক ধরনের প্যাকেজ স্বাধীনতা। এটা চরম আপত্তিকর ভাষ্য। মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ লোকের শহীদ হওয়া, অজস্র মহিলাদের ওপর নেমে আসা গণধর্ষণ, নয় মাস ব্যাপী দেশের আনাচে কানাচে মুক্তিসংগ্রাম চালানো- তিনি এক মুহূর্তে ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলে মনগড়া সূত্র বানিয়ে ফেলেন। একাত্তরে অন্যান্য পরাশক্তির উপস্থিতি তিনি বেমালুম চেপে গিয়ে অদ্ভুত একটা যোগসূত্র হাজির করেছেন। আরব বিদ্রোহের পেছনে সেখানকার লোকজনের অবদানকে খাটো করে খালি আমেরিকার দেয়া উপহার হিসেবে সূত্র কষতে শর্মিলা বসু ছাড়া ভালো আর কে পারবেন? তিনি গণবিদ্রোহ, গণ-আন্দোলন এসবের অর্থ বোঝার চেষ্টা করেন না। শোষক শোষিতদের মধ্যে সম্পর্কের দুর্বিষহ ভাষ্য নিয়ে তাঁর মাথাব্যথা নাই। তাঁর হিসাব সহজ সরল। শোষকের নির্যাতনের বিরুদ্ধে শোষিতের বিদ্রোহকে নাকচ করে দেয়া। কাল্পনিক সূত্র দিয়ে স্বৈরশাসক, জেনারেল, গণহত্যাকারিদের অত্যাচারকে হালকা করতেই তাঁর যাবতীয় আগ্রহ। নিজের মিথ্যাকে বহুবার উচ্চারণ করে পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করা প্রায় বাতিক পরিণত করে ফেলা শর্মিলা বসু একাত্তরের মূল বয়ানকে পুরো অস্বীকার করতে দৃঢ়ভাবে উদ্যোগী।

মিশরের তাহরির স্কয়ারে সিবিএস নিউজের বৈদেশিক প্রতিনিধি লারা লোগানের ওপর যে যৌন আবমাননার ঘটনা ঘটেছে সেটার সাথে একাত্তরের যুদ্ধ জয়ের পরে স্বাধীন বাংলাদেশে বিহারিদের ওপর নেমে আসা তাৎক্ষণিক আক্রমণের সাথে তুলনার একটা অপচেষ্টাও দেখা যায় তাঁর লেখায়। এটাও ভয়ঙ্কর রকমের ভুল সম্পর্ক দেখানো। বিহারিরা একাত্তরে কিভাবে বীভৎস হত্যাকাণ্ড আর নির্যাতন করেছে সেটা নানা বইপত্রে আছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরে বিহারিদের ওপর বিচ্ছিন্নভাবে নির্যাতন নেমে এসেছিল। এখানে লারা লোগানের সাথে বিহারিদের তুলনা আসে কিভাবে? শর্মিলা বসু কি বলতে চাইছেন, লারা লোগানও হোসনি মোবারকের দলের লোকদের সাথে মিলে বিদ্রোহীদের ওপর নির্যাতনে নেমেছিল? আরব বিদ্রোহের গায়ে তিনি তথাকথিত তকমা লাগিয়ে দিয়েছেন তাঁর লেখায়।

So far the story of valiant rebels fighting oppressive dictators in the so-called "Arab spring" has had one significant blemish - the vicious sexual attack and attempted murder of CBS foreign correspondent Lara Logan by dozens of men celebrating the downfall of Hosni Mubarak in Tahrir Square in Cairo. It initially vanished from the headlines and has still not led to the kind of questioning of the representation of such conflicts that it should have generated. "Tahrir Square" became shorthand for freedom and democracy-loving people rising up against oppressive dictators.

মিশরের তাহরির স্কয়ারে লারা লোগানের ওপর নেমে আসা নির্যাতন পুরা বিদ্রোহের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করে- সেটা অংশতঃ ঠিক। কিন্তু এই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে সমস্ত মুক্তিকামী মানুষের সংগ্রামকে এক সেকেন্ডে মাটিতে মিশিয়ে দেয় না। এই সমস্ত মুহূর্তে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় থাকে আইন ও বিচার ব্যবস্থা। সেটার সুযোগ কিছু লোক নিবেই। লারা লোগানের ওপর নেমে আসা নির্যাতন সেইরকম একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। সেটাকেই একমাত্র ঘটনা হিসেবে দাঁড় করিয়ে আরব বিদ্রোহকে তথাকথিত করে হাজির করা মূর্খের কাজ। এই ঘটনার সাথে তিনি জোড়াতালি দিয়ে দিয়েছেন একাত্তরের সংগ্রামকে। এর চেয়ে বিচিত্র সম্পর্কায়ন বহুদিন দেখা হয়নি।

People in other countries started to say they wanted their own "Tahrir Square". Logan has given a brave and graphic account of what happened to her at the hands of those supposedly celebrating the fall of a dictator and the coming of freedom, democracy and human rights. Her life was saved by burqa-clad Egyptian women and she was rescued by soldiers. Her account endows "Tahrir Square" with an entirely different meaning.
It should caution us against assuming that all those opposing an oppressive regime are champions of non-violence, democracy or human rights. It should alert us to the complexities of political power struggles and civil war, and stop getting carried away by what we imagine is happening, or would like to happen, rather than what the evidence supports.

Such was the impact of the 1971 war on South Asians that the year has transformed into a shorthand for its particular symbolism: 1971, or ekattor, the number 71 in Bengali, has come to stand for a simple equation of a popular nationalist uprising presumed to embody liberal democratic values battling brutal repression by a military dictatorship. But was it really as simple as that? Over time, the victorious Bangladeshi nationalist side's narrative of Pakistani villainy and Bengali victimhood became entrenched through unquestioned repetition.

তিনি বলতে চাইছেন, এই যে মুক্তি প্রত্যাশী মানুষগুলো- তারাও কিন্তু হোসনি মোবারক কিংবা গাদ্দাফির চেয়ে কোনো অংশে কম খারাপ না। যেহেতু এইসব গণ-আন্দোলনের লোকগুলো পরে নিজেরাই ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হয়ে যায়, তাহলে এই সব ক্ষোভ, বিদ্রোহ, ক্ষমতা থেকে অপসারণের মতো অপচেষ্টা না করে বরং ধর্ষিত, অপমানিত, শোষিত হয়ে থাকার চর্চা দেশে দেশে চালু করা উচিত। কারণ শেষ বিচারে সবাই এক একজন হোসনি মোবারক কিংবা গাদ্দাফি কিংবা একাত্তরের পাক হানাদার। শর্মিলা বসুর এই অনবায়নযোগ্য কর্কট তত্ত্ব বিশ্বের তাত্ত্বিক জগতে একটা বিরাট আবিষ্কার হিসেবে দাঁড় করানোর আরো ধারাবাহিক অপচেষ্টা তিনি করবেন সেটা বেশ বোঝা যাচ্ছে।

শর্মিলা বসু জন্মসূত্রে ভারতীয়। একাত্তরের যুদ্ধকে তিনি ভায়ে ভায়ে গ্যাঞ্জাম বলে মনে করেন। এটাকে সিভিল ওয়ার বলে চালানো তাঁর প্রাত্যাহিক প্রচেষ্টা। ভারতকে তিনি এই যুদ্ধের অনধিকার চর্চাকারি অপশক্তি হিসেবে দেখেছেন। তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গি ভারতের আমজনতা খুব একটা পছন্দ করেনি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অস্বীকার করা যাবে না। তবে সেটা অল্প কয়েকটা দিক বাদ দিলে বন্ধুসুলভের চেয়ে খারাপ দিকে মোড় নেয়নি। আফগানিস্তান বা ইরাকে নেমে আসা প্যাকেজ স্বাধীনতার সাথে আরব বিদ্রোহের তুলনা চলে না। আর আরব বিদ্রোহের সাথে একাত্তরের যুদ্ধে নেমে আসা ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যার উল্লেখ না করে তুলনা করা পুরোপুরি শর্মিলা বসু জঁনরার অপপ্রয়াস।

শর্মিলা বসু আল জাজিরাতে লিখেছেন-

My book Dead Reckoning: Memories of the 1971 Bangladesh War, the product of several years of fieldwork based research, has just been published (Hurst and Co. and Columbia University Press). It focuses on the bitter fratricidal war within the province of East Pakistan over a period of a little more than a year, rather than the open "hot" war between India and Pakistan towards the end. It brings together, for the first time, the memories of dozens of people from each side of the conflict who were present in East Pakistan during the war. It lets the available evidence tell the stories. It has been described as a work that "will set anew the terms of debate" about this war.

এক বছরের বেশি সময় ধরে বলার মধ্যে ভুলটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তাঁর কন্সপির‍্যাসি থিয়োরি বলতে চায়- পঁচিশে মার্চের আগে পূর্ব পাকিস্তানে বিহারিদের ওপর নেমে আসা গণহত্যা থামানোর জন্য উপায় না দেখে পাকিস্তানি আর্মি নামাতে একরকম বাধ্য হয়েছিল। ফলে নিজের থিয়োরিকে রক্ষা করতে নয় মাসের যুদ্ধের মেয়াদ বাড়ানো শর্মিলা বসুর নেকি দায়িত্ব হয়ে যায়। ঈমানের সাথে তিনি সেটা করেন, করছেন।

শর্মিলা বসু নিজের লেখায় তাঁর গবেষণা নিয়ে নিজের ঢাক নিজে অনেক কয়বার বাজিয়েছেন। তাঁর একমাত্র দাবী, একাত্তরে গণহত্যার নামে যেসব সুবিশাল সংখ্যা হাজির করা হচ্ছে সেগুলো বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রটনা। হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞের প্রচলিত চিত্রের কিছুই আসলে ঘটে নাই বলে তিনি বিগত ছয়-সাত বছর ধরে প্রচারের চেষ্টা করছেন। তাঁর এই কিম্ভূতকিমাকার গবেষণা বোদ্ধাদের প্রশংসায় ভেসে গেছে বলে তিনি দাবি করছেন। অথচ তাঁর এই বই নিয়ে আলোচনা সভাতেই তাঁর পাশে বসে আর্নল্ড জাইটলিন এই বইতে ইতিহাস বিকৃতি আছে বলে অভিযোগ করেছেন। শর্মিলা বসু আর রুবাইয়াত হোসেনেরা যখন জনতার চাপের গ্যাঁড়াকলে পড়েন, তখন তাঁদের মুখে আন্তর্জাতিক ভাড়া খাটা গবেষকদের প্রশংসার গল্প শোনা যায়। শর্মিলা বসুকে নিজের ঢোল নিজেকে বাজাতে দেই বরং-

The book has received gratifying praise from scholars and journalists who read the advance copies, but the word "courageous" cropped up with ominous frequency in many of the reviews. Some scholars praised my work in private; others told me to prepare for the flak that was bound to follow. One "myth-busting" scholar was glad my book was out at last, as I would now sweep up at the unpopularity stakes and she would get some respite after enduring several years of abuse.

অন্যদিকে সমালোচনাকারিদের প্রতি তাঁর উচ্চারণ বেশ কড়া-

When people read the book they will be far better informed as to what really happened in 1971. Hence the desperate attempt by those who have been spinning their particular yarns for so long to try to smear the book before anyone gets the chance to read it. A few people also seem to be trying to laud the book before reading it, an equally meaningless exercise. These commentaries are easy to dismiss: clearly, those who haven't read the book have nothing of value to say about it.

এগুলো অনাবশ্যক সতর্ক উচ্চারণ। সমালোচনাকারিরা তাঁর লেখালেখির রেফারেন্স টেনে সমালোচনা করেছে। বই নিয়ে সমালোচনা এখনো হাজির হয়নি, সেটা বই হাতে আসলে অচিরেই হাজির করানো হবে। বুক লঞ্চিং অনুষ্ঠান যারা দেখেছে, তারা শর্মিলা মুখে পাকিস্তান প্রীতির বয়ান নিজের কানেই শুনেছে। ফলে বইয়ের মধ্যে কি মহার্ঘ্য লুকিয়ে আছে সেটার আন্দাজ কিছুটা করা যায়। কারণ তাঁর সমীকরণের মধ্যে অস্পষ্টতা নাই। তিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বর্বর হানাদারদের মানবিক করে দেখাতে চান। এর বিপরীতে একাত্তরে মুক্তিসংগ্রামীদের বর্বরতার কল্পজগৎ তৈরি করে বিশ্ব দরবারে পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের অপরাধ লাঘব করে সেটাতে নৈতিকতার প্রবেশ ঘটনাই তাঁর মূল তাড়না। মুখ ফসকে সেটা বলেও ফেলেছেন-

My aim was to record as much as possible of what seemed to be a much-commented-on but poorly documented conflict - and to humanise it, so that the war could be depicted in terms of the people who were caught up in it, and not just faceless statistics.

পাকিস্তানিদের মানবিক দিক নিয়ে ইদানিং কালে বাংলাদেশে বুদ্ধিজিগালোমণ্ডলি স্তম্ভ লিখছেন প্রথম আলো, বিডিনিউজে২৪-এর পাতায়। গডমাদার শর্মিলা বসুর এই লেখা থেকে তারা বেশ কিছু মশলা পাবে। সেটার নানান রিকন্সট্রাকশন খাটিয়ে উপস্থাপন করা হবে নয়া নয়া লিখিত স্তম্ভে। এদিকে পাকিস্তানি জেনারেলদের মতো ধর্ষকামী প্রবৃত্তি শর্মিলা বসুর ও আছে। এই মিথ্যা বয়ানের ব্যবসা খোলার পর বাংলাদেশের মানুষদের গাত্রদাহ তিনি উপভোগ করেন। তাঁর এই অভূতপূর্ব কাউন্টার ন্যারেটিভের চোটে মুক্তিযুদ্ধের আসল ন্যারেটিভ ভেঙ্গে খান খান হয়ে যাওয়ার স্বপ্নের ইঙ্গিত ও তিনি দেন তাঁর লেখায়।

The publication of Dead Reckoning has spoiled the day for those who had been peddling their respective nationalist mythologies undisturbed for so long. Careers have been built - in politics, media, academia and development - on a particular telling of the 1971 war. All the warring parties of 1971 remain relentlessly partisan in recounting the conflict. As the dominant narrative, which has gained currency around the world, is that of the victorious Bangladeshi nationalists and their Indian allies, they stand to lose the most in any unbiased appraisal. Unsurprisingly therefore, the protests from this section are the shrillest.

শর্মিলা বসু আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টাও করেছেন তাঁর লেখায়। তাঁর বই প্রকাশনা বানচালের গল্পও তিনি এক ফাঁকে করে ফেলেন। যেকোনো ধরনের গণ আন্দোলনকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার পরে শেষমেষ তিনি হতে চান শহীদ শর্মিলা বসু।

The reaction to the publication of Dead Reckoning by those who feel threatened by it has followed a predictable path. First, there has been an attempt to damn the book before it was even available. Apart from random rants on the internet - which provides opportunity for anyone to rail against anything - reports have been written by people who haven't read the book, citing other people who also haven't read the book. The reason for this may be summed up as the well-founded fear of "knowledge is power".

শর্মিলা বসু মনে করেন তাঁর এই আবর্জনা গবেষণা (যেটাকে তিনি সুশৃংখল গবেষণা ও একাত্তর নিয়ে মাঠ পর্যায়ের একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য গবেষণা বলে চালানো চেষ্টা করেছেন তাঁর লেখায়) বিশ্বকে একাত্তরের মূল ঘটনার সন্ধান দিবে। শর্মিলা বসুর এই হীন বাক্যের বিপরীতে কিছু উচ্চারণ করতেও বাধে।

When people read the book they will be far better informed as to what really happened in 1971. Hence the desperate attempt by those who have been spinning their particular yarns for so long to try to smear the book before anyone gets the chance to read it. A few people also seem to be trying to laud the book before reading it, an equally meaningless exercise. These commentaries are easy to dismiss: clearly, those who haven't read the book have nothing of value to say about it.

Second, detractors of the book claim that it exonerates the military from atrocities committed in East Pakistan in 1971. In reality the book details over several chapters many cases of atrocities committed by the regime's forces, so anyone who says it excuses the military's brutalities is clearly lying. The question is - why are they lying about something that will easily be found out as soon as people start reading the book? The answer to this question is more complex than it might seem. Of course the detractors hope that by making such claims they will stop people from reading the book.

শর্মিলা বসু নিজের বইয়ের মার্কেটিং ভালোই করেছেন আল জাজিরাতে প্রকাশিত এই প্রতিক্রিয়াতে। পাঠক যাতে সত্যের সন্ধানে এই পবিত্র গ্রন্থ পাঠ করে সেটা বোঝানোর চেষ্টার কমতি নেই। এই নতুন বহি বাজারে আসার পর আরো আরো নয়া মেহেরজানের প্রসব ঘটবে, বিতর্কের সূচনা হবে, পাকিস্তানিদের প্রতি ভ্রাতৃপ্রতিম অনুভূতির জন্ম নিবে- শর্মিলা বসুর এই সুদূরপ্রসারি স্বপ্নের কতোটা বাস্তবায়ন ঘটে সেটা ভবিষ্যতে বোঝা যাবে।

শর্মিলা বসু ইঙ্গিতে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন তাঁর ন্যারেটিভ আন্তর্জাতিক গবেষকদের সপ্রশংস মনোযোগ পেলেও দক্ষিণ এশীয় গবেষকদের তুষ্ঠ করতে পারেনি। আসল ঘটনার কাছাকাছি থাকা সচেতন লোকজন এই শতভাগ বিশুদ্ধ অপগবেষণার বিপক্ষে কথা বলবেন- সেটাই স্বাভাবিক। শর্মিলার গবেষণাকে প্রশংসার দৃষ্টিতে না দেখার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার গবেষকদের একহাত নেয়া লাগে। সেটাই করেছেন তিনি-

South Asians are prone to conjuring up all manner of conspiracy theories when faced with unpleasant realities, but those looking for one for Dead Reckoning are at a loss, as the only explanation for what it contains is that it reconstructs what really happened on the basis of available evidence.

নিজে দক্ষিণ এশীয় হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাঁর চেয়ে বেলাইনে কথা বলার জন্য পুরো দক্ষিণ এশীয় লোকদের নিয়ে বাজে রেসিস্ট মন্তব্য করতে দ্বিধা করেন না। শর্মিলা বসুর কাছে একটা সহজ প্রশ্ন, পাকিস্তানের জেনারেলরা কোন এশিয়ায় অধিবাসী?

শর্মিলা বসুর কল্পজগৎ। পর্ব এক।
শর্মিলা বসুর কল্পজগৎ। পর্ব দুই।


মন্তব্য

রু (অতিথি) এর ছবি

এই মহিলাকে নিয়ে কিছু বলতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু একে একটা জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতেই হবে, শুধু বুক রিভিউ-এ যতটুকু ফিডব্যাক পাচ্ছে সেটা যথেষ্ট না।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

রেকর্ড বুকে গেলো। চোখ টিপি

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

পশু পিচিডেন্ট থামবে না কখনোই...

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

সাফি এর ছবি

এখানে আরেকটা উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো যে ছবিটা ক্যাপশনে ব্যবহার করা হয়েছে সেটা। এই ছবি যে ঘটনার, তার ভিডিও ছাগু সম্প্রদায়ের অমূল্য ধন।

এই ছবির পেছনের কাহিনী হলো, এই লোকগুলো এক/একাধিক মেয়েকে এবং তাদের বাবাকে গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল, তাদের বাড়ি লুট করার পরে। ব্যবহার করা গাড়িতে লুট করা স্বর্ণালঙ্কার ও আর গাড়ির বুটে মেয়েদের বাবাকে পাওয়া যায়। তখন ঢাকা স্টেডিয়ামে মুক্তিযোদ্ধাদের এক সমাবেশ চলছিল। যুদ্ধ পরবর্তী সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে জেল/থানা পুলিশের চিন্তা সেই মূহুর্তে অবান্তর। এমন অবস্থায় কাদের সিদ্দিকী জনতার আদালতে এই লোকগুলোকে নিয়ে কী করা হবে জানতে চান। জনতার রায় হয় মৃত্যুদন্ড। এর পর বেয়োনেট আর গুলিতে রায় কার্যকর করা হয়। কাদের সিদ্দিকীর লেখা স্বাধীনতা ৭১ বইটা কারো কাছে থাকলে সেখানে এই ঘটনার বর্ণনা পাবেন।

এই ঘটনার সবচেয়ে বড় টুইস্ট হলো যেই মেয়ে আর তাদের বাবাকে বাঁচানো হল, তারা ছিল বিহারী আর যাদের মারা হলো তারা ছিল বাঙ্গালি।

হিমু এর ছবি

শর্মিলা চু. বসু এক ফারুক গুয়েবাড়া ছাড়া আর কাউকেই আসলে বিপন্ন করতে পারেনি। গুয়েবাড়াদা পড়েছে ফ্যাসাদে। একে তো আলুতে বামঘেউ দিতে হয়, সেখানে শর্মিলার বিপক্ষে ডালকলম চালাতে হয়। ওদিকে ঘরে আবার মিসেস সিনেমা বানায় শর্মিলার থিসিস পিষে তেল বার করে, সেইটার সপক্ষে ফেসবুকে রিকনসিলিয়েশনের দোকানে মুড়ি বেচতে হয়। গুয়েবাড়াদা বাচ্চুদার গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় লেজ আর কান দুটোই উঁচিয়ে রেখেছে। অচিরেই একেবারে প্রাণ খুলে ঘরে বাইরে শর্মিলার সুনামের সুনামি বইয়ে দিতে পারবে সে, এমনটাই মনে হচ্ছে।

একটা লিমেরিক হয়ে যাক।

শর্মিলা পশু হেগেমুতে ছারখার করে আল-জাজিরা
গুয়েবাড়া শুধু গণিছে প্রহর, আলুতে দেবেন হাজিরা
শর্মিলা-আলু মিলে মিশে গেলে
ফারুক ঘুরিবে সদা হেসে খেলে
চিপা দিয়ে শুধু বাদ সাধে কেন সচলায়তনে পাজিরা?

কৌস্তুভ এর ছবি

হো হো হো

মন মাঝি এর ছবি

আল জাজিরাতে আপনিও একটা লেখা পাঠান না কেন ? আগের একটা পর্ব নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছিল না -- ওটার একটা ভাল ইংরেজি অনুবাদ হলেও চলবে।

****************************************

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

শর্মিলা বসু তার অ্যাকটিভিটি (গবেষণা, প্রকাশনা, বক্তৃতা-প্রচার-প্রকাশনা অনুষ্ঠান, নানা স্থান ভ্রমণ ইত্যাদি) চালানোর পয়সা কোথা থেকে পায়? কারা এই নিরবচ্ছিন্ন আর্থিক বিনিয়োগ করে যাচ্ছে? বিভিন্ন দেশে কোন কোন রাজনৈতিক গ্রুপগুলো তাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে? এই ব্যাপারগুলো জানা খুব জরুরী। তাহলে আগামী দিনগুলোতে তার গতিবিধি কী হবে সেটা বোঝা যাবে। তাছাড়া এই কাজগুলো কেন করা হচ্ছে সেটাও বোঝা যাবে। আমাদের নিরাপত্তার জন্যই এই বিষয়গুলো জানতে হবে।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। শর্মিলা বসু যেভাবে নিত্যনতুন ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে একাত্তর নিয়ে অপব্যাখ্যা বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে তাতে তাঁর আসল কাহিনী পুরোপুরি জানা প্রয়োজন।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

তার গবেষণা কর্মগুলোর ফাইন্যান্সার কারা সেগুলো মনে হয় উত্তর আমেরিকাবাসীরা একটু চেষ্টা করলেই বের করতে পারবে। কেউ কি একটু এই কষ্টটা করবেন?


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

সচল জাহিদ এর ছবি

চলুক চলুক চলুক


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

নজমুল আলবাব এর ছবি

তেনার পেমিকের বাড়ি মনেলয় ফাকিস্তান

ক্রাক কমাণ্ডো  এর ছবি

কালকে প্রতিদিনকার অভ্যাসমতো আল জাজিরা ওয়েব পেইজে ঢু মারতে শরমিলার লেখাটা চোখে পড়ে তার পাকিপ্রেমি চরিত্র সম্পর্কে আগেই অবগত ছিলাম বলে লেখার ধরন সম্পর্কে আগেই আন্দাজ ছিল কিন্তু কমেনট সেকশনে এক পাকির এবং তাদের এদেশিয় বীর্যের কমেনট পড়ে রক্ত মাথায় উঠল

Dr Bose, do you know how I can purchase your book in Pakistan? I am certain a lot of Pakistani's born post 1971 would love to read it, as the educated youth of today, people in their 20s and 30s have started questioning the historical narrative of Pakistani history we have been brought up with. A lot of us are now questioning why our homeland split into two, why our elders blindly sat and saw as spectators the atrocities of our army. We unlike our elders never got to live or experience or visit or feel the part of our country that once was. So in a way curiosity about the former East will always remain in our minds as we do not even have memory to look back on. The only secondary sources of memory that I have to rely on are accounts of Pakistani families that fled the former East Pakistan to escape from the ethnic cleansing committed towards ethnic non Bengalis, my family has also suffered some casualties, so some close relatives I never got to meet, I was born and brought up in post 71 Pakistan, where infact the memory and legacy of the 71 civil war has been completely burried and removed from the pages of history.
(Deen Sheikh)

বুঝা যাচ্ছে শরমিলা নামে এই ছাগীর বইয়ের target audience হচ্ছে পাকিস্থানী ইংরেজী শিক্ষিত মিডিল ক্লাস যারা তার উগরে দেওয়া তথ্য গোগ্রাসে গিলবে বিদেশে বাংলাদেশি কোন লোকের সাথে দেখা হলে এই বই হতে কোট করে সবক দেওয়ার চেষ্টা করবে , চেষ্টা করবে নিজেদের এবং পাকি আর্মির পক্ষে সাফাই গাইতে সব পাপকে আড়াল করতে।

সচলে ব্লগারদের কাছে একটা অনুরোধ Dead Reckoning: Memories of the 1971 Bangladesh War এই প্রত্যেকটা মিথ্যাচার খণ্ডন করে ইংলিশে একটা বই সম্বলিত প্রচেষ্টায় লেখার।

স্বাধীন এর ছবি

সচলে ব্লগারদের কাছে একটা অনুরোধ Dead Reckoning: Memories of the 1971 Bangladesh War এই প্রত্যেকটা মিথ্যাচার খণ্ডন করে ইংলিশে একটা বই সম্বলিত প্রচেষ্টায় লেখার।

চলুক

নাম! এর ছবি

চলুক

অর্ফিয়াস এর ছবি

বইটার নতুন নামকরণ করার প্রস্তাব দাওয়া হউক - "বেজন্মার মিথ্যাচার" ...

হিমু এর ছবি

নতুন একটা ক্রিয়াপদ চালু করা যেতে পারে ইংরেজিতে, Sharmilate । এর অর্থ হতে পারে, অপরাধীর সপক্ষে "গবেষণা" করে বই-প্রবন্ধ-কলাম রচনা করা। Boycott যদি ইংরেজিতে চালু হতে পারে, এটাও পারবে।

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

চলুক এই লেখাটা ইংরেজী অনুবাদ করে নেটে তুলে রাখা দরকার।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

হামিদ মীর নিয়ে লম্ফঝম্ফ করা আলু পেপার গোষ্ঠীর মতামত জানতে পারলে ভালো হতো। এই খাটাশ মহিলার কার্যকলাপ সম্পর্কে হামিদ মীরের ভাষ্য জানাটাও গুরুত্বপূর্ণ। এর বুদ্ধিবৃত্তিক বেশ্যাবাজীর ব্যাপারে চুপ থেকে বাংলাদেশের মানুষকে 'সমঝোতা'র টেবিলে আহ্বান করাতো ভালো কথা না। সমঝোতা তো শর্মিলা আর হামিদপন্থী বলদের পিছন দিয়ে বের হয় না!

ফারুক হাসান এর ছবি

শর্মিলাই নাকি প্রথম যে কিনা '৭১য়ের ন্যায়বিচার এনে দেবার জন্য তদন্ত করছে। এখানে সে বলছে- "Despite periodic noises about war crimes, nobody pieced together the data that might make justice possible until this author’s investigation."

নীড় সন্ধানী এর ছবি

নীরদ চৌধুরীর ঝান্ডা তুলে রাখার জন্যই কি শর্মিলা বোসের প্রয়োজন? নাকি ভিন্ন কোন এজেন্ডা আছে?

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

রানা মেহের এর ছবি

সমন্বিত বই লেখার আইডিয়া টা সিরিয়াসলি চিন্তা করা উচিত

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

বইখাতা এর ছবি

চলুকচলুক

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

প্রথম আলোর ন্যারেটিভ

প্রথম আলোর কাউন্টার ন্যারেটিভ

শর্মিলা বসু ও রুবাইয়াত একই ছাতার নিচে বসে একাত্তরকে বাসি করে, আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে। এটুকু বুঝেও না বোঝার ভানটুকুতে থাকে প্রথম আলোর অজ্ঞান।

অতিথি সাদাচোখ এর ছবি

শর্মিলা বোস এর কর্মকান্ডকে সমর্থন জানিয়ে আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু নয়া দিগন্তে একটা কলাম লিখেছেন।

লিংক হল--
একজন শর্মিলা বোস ও তার বিতর্কিত গ্রন্থ

ফন্ট সমস্যার কারনে লেখাটি পড়তে না পারলে এই লিংক থেকে পিডিএফ ফাইল নামিয়ে পড়তে পারেন।

----সাদাচোখ

ফরিদ এর ছবি

রবিবারে লন্ডনে সেমিনার করছেন ম্যাডাম। ত্যাড়া ত্যাড়া প্রশ্ন করতে চাইলে একটা সুযোগ

http://www.bricklanecircle.org/Occasional_events.html

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।