বিগত ২০০ বছরে রাজশাহীর বন্যপ্রাণীর ইতিহাস

তারেক অণু এর ছবি
লিখেছেন তারেক অণু (তারিখ: মঙ্গল, ১৪/০৭/২০১৫ - ৫:১৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

পদ্মার চরে ঘড়িয়াল দেখি নি আমরা কোনদিনই, আগে গেলেই শুশুকের দেখা মিলত, এখন কালেভদ্রে উঁকি দিয়ে আমাদের ধন্য করে পদ্মার এই ডলফিনেরা। বন্যপ্রাণী বলতে দেখেছি কেবল শিয়াল, বেজি, গুইসাপ, বাদুড়, সাপ আর পাখি। তাই ১৯১৬ সালে ছাপা L S S O’malley রচিত রাজশাহী গ্যাজেটর-এ রাজশাহী অঞ্চলের সেই আমলের নানা পশু-পাখির কথা পড়ে ভাবলাম অসাধারণ কিন্তু করুণ সেই ইতিহাস বাংলা করেই ফেলি, অন্তত জানিয়ে রাখি কী হারিয়েছি আমরা--

পুরো অঞ্চলটিই ছিল শিকারে ভরা এবং শিকারিদের জন্য স্বর্গ বিশেষ। ১৮৮৬ সালে ছাপা F B Simsonএর Sport in Eastern Bengal বইটিতে এর বেশ ভাল উল্লেখ আছে। জনাব সিমসন ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসের একজন সদস্য ছিলেন, ১৮৫০ সালে জীবনের প্রথম কর্মক্ষেত্র হিসেবে তিনি রাজশাহীতে যোগদান করেন। শেঈ আমলে পদ্মার চর ছিল ঘন জঙ্গলে ভর্তি, শুধু মাত্রা নীল চাষের জন্য ব্যবহৃত কিছু পরিষ্কার করা জায়গা ছাড়া নানা ঝোপঝাড়, নলখাগড়ায় ভরা ছিল বিস্তীর্ণ অঞ্চল, অনেক জায়গাতেই জঙ্গলে এইটাই দুর্ভেদ্য ছিল যে পালা হাতির পালের সাহায্য ছাড়া সেখানে যাওয়া সম্ভব ছিল না। চর ভর্তি থাকত বুনো মহিষে। সাধারণত এদের কাছে যেয়ে স্যাডল থেকে হর্স পিস্তল বা অন্য আগ্নেয়াস্ত্রের সাহায্যে শিকার করা হত। ১৮৬০-এর দিকে ওয়াটসন অ্যান্ড কোম্পানির ম্যানেজার হ্যারি ডেভেরেল চর সোনাইকান্দিতে অত্র এলাকার শেষ বুনো মহিষটি শিকার করেন।

বরেন্দ্র ভূমি (বরিন) ছিল শিকারের জন্য আদর্শ, যেখানে বাঘের দেখাও মিলত। জনাব সিমসনের মত তাল, বাঁশ এবং অন্যান্য স্থানীয় গাছের সমন্বয়ে এইখানে ছিল বিশাল জঙ্গল, এবং জঙ্গলের তলদেশে থাকতে নানা ধরনের ঝোপ, যা ছিল নানা প্রাণীর লুকিয়ে থাকার জন্য যথার্থ জায়গা। তথাপিও বরিন অঞ্চল এতটাই অগম্য এবং গুলি করার জন্য ঝামেলাপূর্ণ ছিল অধিকাংশ শিকারি এই এলাকাকে সুনজরে দেখতেন না। ফলে শিকারের অধিকাংশ প্রাণীই এখানে নির্বিঘ্নে প্রজনন করত বছরের পর বছর। মাঝে মাঝেই হরিণ, বুনো শুয়োর বরিন সেখানে থেকে গ্রামে নেমে আসত, ঘাস এবং ঝোপে আশ্রয় নিয়ে তারা সবুজ ফসলের উপর হামলা চালাত। আবার পোষা হাতির পালের তাড়া খেলেই ফের বরিন এলাকায় পালিয়ে যেত। জলের উৎস এবং বরিন এলাকার মাঝেই চরে বেড়াত হরিণ (Hog-deer), যার পিছু নিত বাঘ এবং চিতাবাঘ।

কালা-তিতির(Black Francolin) এবং হরিণেরা ঘাসের জঙ্গলে আস্তানা গাড়ত। চিকোর নামের বাতাই(Patridge) জাতীয় পাখিটি ঝোপে, কাদাখোঁচা এবং সব জাতের বুনোহাঁসেরা জলের কাছেই থাকত। বরেন্দ্র অঞ্চলে যে একটিমাত্র শিকারের প্রাচুর্য ছিল তা হচ্ছে চিত্রা হরিণ(Spotted Deer)এবং ময়ূর, যা আমি বাংলার আর কোথাও শিকার করি নাই। এবং জীবনে এখানেই প্রথম আমি বাঘ দেখি। মহানন্দা তীরের অভয়া নামের এক পুরাতন নীল কারখানা ঘুরে দেখার পর জনাব সিমসন সেই পানিপূর্ণ উপত্যকায় ঘুরে দেখেন এবং তার রোজনামচায় শিকারের তালিকা লিপিবদ্ধ করেন- ৪টি হরিণ, ৯টি বাতাই, দুইজোড়া চাপাখি, ২টি বুনোহাঁস এবং একটি আহত বাঘ!

৫০ বছর আগে এই অঞ্চল বুনো মহিষ, বাঘ, চিতাবাঘ, বুনো শুয়োর, চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণে ভরা ছিল। ক্ষুদে শিকারদের মধ্যে ছিল খরগোশ, ময়ূর, কালা-তিতির, বাদা-তিতির(Swamp Francolin), বৃষ্টি-বটেরা(Rain Quail), পাতি-ডাহর (Lesser Florican), নানা জাতের বুনোহাঁস, বনমুরগি, কাদাখোঁচার দল। এতসব প্রাণী মধ্যে কেবল চিতাবাঘ এবং বুনো শুয়োরেরাই টিকে আছে গ্রামের জঙ্গলগুলোতে, বাকিরা কৃষিকাজের জন্য জঙ্গলে কাটার জন্য হারিয়ে গেছে চিরতরে। পাখিদের মধ্যে অবশ্য অবস্থা কিছুটা ভাল, কেবল ময়ূর আর বাদা-তিতিরেরাই হারিয়ে গেছে। অল্প কয়েকটি কালা-তিতির আর পাতি-ডাহরের দেখা মেলে মাঝে মাঝে, আর বুনোহাঁস, বনমুরগি, কাদাখোঁচার দল আগের মতই আছে।

২০ বছর আগ পর্যন্তও বাঘেরা টিকে ছিল। মুর্শিদাবাদের নবাবের জন্য গোদাগাড়ীর বরিন অঞ্চলের প্রতি বছর বিট করা হত, এবং ১৮৯৪ পর্যন্ত রাজশাহীর কালেক্টর এবং আরেকজন শিকারি রামপুর-বোয়ালিয়ার ৩ মাইলের মধ্যে বেশ কটি বাঘ মেরেছিলেন। শেষ বাঘটি দেখা গেছিল ১৯০০ সালে খরচাকাতে।

চিতাবাঘেরা এখনও আগের মতই প্রবল বিক্রমে সাহসিকতার সাথে টিকে আছে। রামপুর-বোয়ালিয়ার (রাজশাহী শহরের প্রাচীন নাম) কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রাচীরে ওঠার চেষ্টা করার সময় ১৯০৭ সালে একটিকে গুলি করা হয়, এছাড়া ১৯১৫ সালেও একটিকে শহরে দেখা গেছিল। একবার জানা যায় একটি চিতাবাঘ নরখাদকে পরিণত হয়েছে এবং রাজাপুর পুলিশ পোস্টের এলাকার ৪জন মানুষকে শিকার করেছে। অধিকাংশ চিতাবাঘই ছিল ছোট আকৃতির, যার বাসযোগ্য বনের অভাব এইখানে ছিল না। রামপুর-বোয়ালিয়া থেকে ২ মাইল দূরে অবস্থিত শিরইল গ্রামে এদের প্রায়ই ফাঁদ পেতে ধরা হত (ইহা তারেক অণুর মহল্লা) এবং সেখানে অনেক বনবেড়ালও দেখা যেত। অন্যান্য বুনো বেড়াল, শেয়াল এবং খরগোশ ছিল অগুনতি।

বুনো শুয়োরের বিচরণ ছিল সর্বত্র বিশেষ করে নদীর চরে। এক হিসেবে তারা আসলেই কোন কোন জনপদে হামলা করত এবং রাতের বেলা ধান ও আঁখ ক্ষেতের চরম ক্ষতিসাধন করত। মড়া-পচা খেকো বলে তাদের দুর্নাম ছিল এমনকি কাদায় আটকা পড়া গবাদিপশুদের ক্ষতি করার ঘটনাও শোনা গেছে।

স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে সব শেষে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে শুশুক বা গাঙ্গেয় ডলফিন যা গঙ্গা এবং আত্রাই নদীতে, সেই সাথে চলন বিলের গভীর অঞ্চলেও সহজে দেখা যায়।

শীতকালে নদী এবং ভিতরের জলাঞ্চলে নানা জাতের পরিযায়ী পাখিরা আসত। চলন বিল, নওগাঁর ৬ মাইল দক্ষিনের দুবলহাটি বিল এবং মধুয়ানগর রেলষ্টেশনের কাছে অবস্থিত হালতি বিলে বুনোহাঁসের মেলা বসে। চা-পাখি, চ্যাগা এবং কাদাখোঁচারা বিলে এবং বাদা জুড়ে থাকে সারা জেলাতে। বড় চর এবং পদ্মার বালির চরে রাজহাঁসদের শিকার করা যায়, যেখানে মদনটাক (Adjutant Stork) এবং গগণবেড়(Pelican)দের দেখাও মিলে। অন্যান্য জলচর পাখিদের মধ্যে পানমুরগি, কুট, সারস, বক, জিরিয়া, বাটান ইত্যাদি নদী ও বিলে দেখা যায়। হরিয়ালও মেলে প্রচুর, এছাড়া কালা-তিতির, বাদা-তিতির, বৃষ্টি-বটেরা এবং পাতি-ডাহর এখনও টিকে আছে।

গেম-বার্ড বা শিকারের জন্য জনপ্রিয় পাখি বাদেও অন্যান্য নানা জাতের পাখি এই জেলায় অনেক কাছে কিন্তু জায়গার অভাব বিধায় যত্রতত্র দেখা যায় এমন কয়েকটি পাখির কথা উল্লেখ করছি। এখানের শকুনেরা পশ্চিমের শকুনের তুলনার বিশালকায় হয়, যারা গাছের উপরে বসে খাবারের অপেক্ষায় থাকে দিনমান, এদের ধৈর্যের অভাব নেই আবার এদের খাবার জন্য পচা-গলারও অভাব হয় না। বিল এবং নদীতে মেছো-ঈগলেরা রাজত্ব করে। কোকিল পরিবারের মধ্যে কানাকুয়ো (এটি মোটেও কোকিল নয়, তখন ভুল ভাবা হত) এবং দেশী-কোকিলের(Indian Koel) ডাকই সবচেয়ে বেশি শোনা যায়। রাতে সবসময়ই শোনা যায় রাতচরার (Nightjar) ডাক, বরফের মাঝে পাথর পড়ার মত শব্দ তুলে অবিরাম অস্তিত্ব জানান দেয় সে।

বিশাল সব নদী এবং বিলের কারণে এই জেলাতে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। পদ্মা নদী থেকে পাওয়া মাছের দাম এক বছরে অন্তত দুই লাখ তো হবেই, সেই সাথে আছে আত্রাই থেকে পাওয়া মাছ! পদ্মার ইলিশ নামের অসাধারণ স্বাদের মাছটি ধরা পড়ে প্রচুর পরিমাণে। অন্যান্য মাছের মধ্যে রুই, কালবাউশ, কাতলা সবচেয়ে জনপ্রিয়। এছাড়া মৃগেল, বোয়াল, মাগুর, আইড়, ট্যাংরা, বাছা ইত্যাদি মাছও বেশ সুস্বাদু এবং যথেষ্টই ধরা পড়ে। মাগুর এবং কই স্বাদু পানির মাছ যাদের সাধারণত একটু ময়লা পানিতেই দেখা মেলে, কই আবার কানকো ব্যবহার করে ডাঙ্গায় উঠতে পারে। দুবলাহাটির বিলের কই অতি বিখ্যাত, কিংবদন্তী বলে যে এই বিলের ইজারাদার মোঘল আমলে মোঘলদের কর হিসেবে বিশ হাজার কই মাছ দিত! মুক্তোওয়ালা ঝিনুক চলন বিল এবং পূর্বের নদীগুলোতে মেলে।

উত্তরবঙ্গের পাওয়া সকল সাপই রাজশাহীতে মেলে। সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া বিষাক্ত সাপগুলোর মাঝে আছে গোখরা, চন্দ্রবোড়া, কাল-কেউটে, শঙ্খিনী এবং রাজ-গোখরা। রাজ-গোখরা সাধারণত অন্য সাপ খেয়েই বাঁচে, যা ৭ থেকে ৮ ফিট পর্যন্ত লম্বা হয়।নির্বিষ সাপদের মাধ্যে বালুবোয়া, ঘরমৌনী, হেলে ইত্যাদি দেখা যায়, তবে সবচেয়ে বেশি দেখা মেলে জলঢোড়া সাপদের।

মূল নদী এবং কয়েকটি জলাধারে দুই ধরনের কুমিরের দেখা মেলে, একটি মাগার কুমির অন্যটি ঘড়িয়াল। মাগার কুমির ১২ ফুটের মত লম্বা হয়, যেখানে মাছখেকো সরু মুখের অধিকারী ঘড়িয়াল হয় ৮ ফিট। নদীর কচ্ছপ কালি কাইট্ট্যা প্রায় সবখানেই মেলে, এবং নিম্নবর্ণের মানুষেরা সেগুলো খেয়ে থাকে।

(এতটুকুই ছিল সেই আমলের গ্যাজেটে, চিন্তা করা যায় যে এই ১০০ বছরে উল্লেখিত প্রাণীগুলোর প্রায় ৯০% আমরা হারিয়ে ফেলেছি, বাকিরাও বিলুপ্তির পথে।দুষ্প্রাপ্য গ্যাজেটটির ফটোকপি ধার দিয়ে পড়বার সুযোগ করে দেবার জন্য প্রিয় গবেষক ব্যক্তিত্ব মাহবুব সিদ্দিকীকে অনেক অনেক ধন্যবাদ

এর আগে ঢাকার ৪০০ বছরের বুনোপ্রানীর ইতিহাস নিয়ে এই অসাধারণ লেখাটি অনুবাদ করেছিলাম, আমি চাই দেশের সব জেলা, সব অঞ্চল নিয়ে এমন তথ্যবহুল লেখা আসুক। কোন বাঙ্গালী সাধারণত এই কাজগুলো করে না বিধায় সেই আমলের কোন ইংরেজ প্রকৃতিবিদ বা শিকারির রচনার উপরেই আমরা নির্ভরশীল সেই অতীত আলোকপাতের জন্য। আপনি কি করবেন আপনার অঞ্চলের কাজটুকু??? )


মন্তব্য

হিমু এর ছবি

চলুক

হগ ডিয়ারের বাংলা কী হওয়া উচিত?

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

বরাহরিণ?

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

সৌম্য এর ছবি

বাংলা নাম প্যারা হরীন। ভাটিয়ারিতে মিলিটারি একাডেমির জঙ্গলে বিশেষ করে ফায়ারিং রেঞ্জ আর গলফ গ্রাউন্ডের ওদিকে প্যারা হরীন (হগ ডিয়ার) দ্যাখা মিলতো। ২০০০ সালের দিকে ক্যাডেট ডর্মিটারিতেও ঢুকে পড়তে দেখেছি। তবে কুমিরায় ইসলামি ইউনিভার্সিটির পিছের পাহাড়ের উপরে একটা জঙ্গল আছে। ওখানে আরো ভালো অবস্থায় থাকার কথা। ভাটিয়ারি, ফৌজদার হাট, মাদামবিবির হাট, কর্ণেলের হাট এখন পুরো ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া হয়ে গেছে।
মিলিটারি একাডেমির পাহাড়ের জঙ্গলে দুধরনের হরীন দ্যাখা যেত। প্যারা হরীন বা হগ ডিয়ার আার মায়া হরীন বা বার্কিং ডিয়ার।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

ধন্যবাদ সৌম্য,
আমি বাংলা পরিভাষা নেই ভেবে বলেছিলাম।

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

সত্যপীর এর ছবি

ভাটিয়ারির গুলাগুলিতে হরিণ ডরায় না?

..................................................................
#Banshibir.

সত্যপীর এর ছবি

এইখানে চট্টলা আর এইখানে খুলনা পাওয়া গেল। ও'ম্যালি সাবে বহুত খাটছেন। এইবার অনুবাদ দেন, অপেক্ষায় নাজির।

..................................................................
#Banshibir.

তারেক অণু এর ছবি

বাংলা ছিল, একাধিক যদিও, বইটা পেলেই জানাচ্ছি

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

চলুক

অন্যান্য এলাকারও কি এমন গেজেট আছে? কোথায় খুঁজে পাওয়া যাবে?
সব এলাকারগুলোকে সমন্বিত ভাবে সংকলন ও প্রকাশ করা যায় না?

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

তারেক অণু এর ছবি

আছে অনেক বড় জেলা শহরেই, কিন্তু সেগুলোতে হাঁ দেওয়া মুশকিল। সাধারণত জেলা গ্রন্থাগার বা কলেজের গুপ্তকক্ষে থাকে। কিছু পেলে জানিয়েন-

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

হুমমম

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

এখন এটাকে রূপকথাই মনে হবে! চলুক না হয় রাজশাহী অঞ্চলের আরও কিছু ইতিহাস।

তারেক অণু এর ছবি

আসলেই তাই। পুরোটা অনুবাদ করতে পারলে ভাল হয় খুব, কেউ আগ্রহী হলে জানিয়েন

হিমু এর ছবি

রাজশাহীর স্কুল-কলেজের ছাত্রদের মধ্যে এক প্যারা করে ক্রাউডসোর্স করে দেন। ওদেরও ইংরেজি-বাংলা চর্চা হবে, কাজও সহজে আগাবে।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

তাতে ভাষার গড়মিল হয়ে যাবে না?

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

হিমু এর ছবি

গড়মিল>গরমিল হবে কিছুটা, সম্পাদনা করতে হবে কাউকে। সেটার খাটনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজনকে গছানো যেতে পারে।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

এহহে... হুম, তা করা যেতে পারে।

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

তারেক অণু এর ছবি

আরামে আছে ডয়েচে! আপনারেই পাঠাচ্ছি, একটু সময় দেন-

কল্যাণ এর ছবি

ভাল লিখেছ অণু। ওদের বাসস্থান আর চরে বেড়ানোর যায়গাগুলো সব বেদখল হয়ে যাওয়ার কারণে আজ এই অবস্থা!

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

তারেক অণু এর ছবি

হ, আমরাই সব লিয়ে লিয়েছে

নজমুল আলবাব এর ছবি

বেশি না, ১৯৯৭ সালে আমাদের বাড়ির পাশ থেকে দিনে দুপুরে আস্ত ছাগল ধরে নিয়ে গেছে শেয়ালে। প্রতি গরমে গণ্ডায় গণ্ডায় সাপ মারা হতো পিটিয়ে। বছর পাঁচেক আগেও সব্জি বাঁচানোর জন্য খরগোশ তাড়াতে হতো।

তারেক অণু এর ছবি

রূপকথা?

নজমুল আলবাব এর ছবি

দেঁতো হাসি

গ্রামের ছেলেরা তিন বছর আগেও মেছো বাঘের বাচ্চা ধরে বাবাইকে দেখাতে নিয়ে এসেছে। সেই বাঘের বাচ্চা আলুর তলের জংগলে ছাড়ার আগে দেড়দিন ছিলো বাড়িতে।

কপাল ভালো থাকলে খরগোশ পাওয়া যায় এখনও।

ডালটন এর ছবি

@ নজমুল আলবাব, এটা কোন এলাকায়?

নজমুল আলবাব এর ছবি

সিলেটে

অতিথি লেখক এর ছবি

গেজেটিয়র সম্পর্কে অনেকে কৌতূহলী,ভারতীয় উপ-মহাদেশে এর সূচনা হয় ফ্রান্সিস বুকানন-হ্যামিল্টন (১৭৬২-১৮২৯)এর সার্ভে থেকে।তিনি পেশায় চিকিৎসক এবং বহুবিদ্যাবিদ বিশেষত ভূগোল,প্রাণীবিদ্যা ও উদ্ভিদবিদ্যা।তৎকালীন বেঙ্গল মেডিক্যাল সার্ভিসে যোগ দেন ১৭৯৪তে।টিপু সুলতানের পতনের পর তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয় মহীশূর সার্ভের,যার ফল ‘আ জার্নি ফ্রম ম্যাড্রাস থ্রু দ্য কান্ট্রিস অব মাইসোর,কানারা অ্যাণ্ড মালাবার’ (১৮০৭)।১৮০৭ সালে সরকারি আদেশ পান ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির দখলে থাকা অঞ্চলের বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরির,যার মধ্যে থাকবে ভূপ্রকৃতি,আবহাওয়া,ইতিহাস,দেশীয়দের অবস্থা,ধর্ম,প্রাকৃতিক উৎপাদন যথা জঙ্গল,খনি,মাছ,কৃষিজাত উৎপাদন তৎসহ কৃষিকার্যে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি,পালিতপ্রাণী,সার,ভূসম্পত্তি,বাণিজ্য,আমদানি-রপ্তানি,পণ্যপরিবহণ,কারিগরি ও সূক্ষ্মশিল্প।সোজা কথায় কী নয়? দীর্ঘ সাতবছর পরিশ্রমের পর খণ্ডে খণ্ডে রিপোর্ট তৈরি হলো,কিন্তু কোনদিনই পূর্ণাঙ্গ প্রকাশিত হলো না।পরবর্তীকালের গেজেটিয়রে এই প্রশ্নমালাই আরও বিস্তারিত,তাকেই অনুসরণ করা হয়েছে।
এর পরের পর্বের নায়ক উইলিয়ম উইলসন হান্টার (১৮৪০-১৯০০),ইণ্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে ভারতে আসেন ১৮৬২তে।বুকাননের কাজের মান নিয়ে উপরওলারা অনেকেই অখুশি ছিলেন,১৮৬৯ এ স্বয়ং গভর্নর লর্ড মেয়ো হান্টারকে একটি সুসংবদ্ধ সার্ভের পরিকল্পনা পেশ করতে বলেন।ঠিক তার আগের বছরই প্রকাশিত হয়েছে হান্টারের লেখা ‘দ্য অ্যানালস অব রুরাল বেঙ্গল’।হান্টার অতিশয় আগ্রহে দায়িত্ব নিলেন,সে বছরেই কাজ শুরু হয়ে গেল।১৮৭৫ থেকে ১৮৭৭এর মধ্যে কুড়িটি খণ্ডে প্রকাশিত হলো ‘আ স্ট্যাটিসটিক্যাল অ্যাকাউন্ট অব বেঙ্গল’। তার সঙ্গে দু’খণ্ডে আসাম।এই বিপুলাকৃতি বিবরণীকে সংক্ষিপ্ত,সংহত করে ১৮৮১ সালে জন্ম নিলো ‘দ্য ইম্পিরিয়াল গেজেটিয়র অব ইণ্ডিয়া’, প্রথমে নয় খণ্ডে,দ্বিতীয় পরিবর্দ্ধিত সংস্করণ চোদ্দখণ্ডে,হান্টারের মৃত্যুর পর ১৯০৮ সালে পঁচিশ খণ্ডে তার সঙ্গে এক খণ্ড ভারতের মানচিত্র।এই সেটটিকে প্রভিন্সিয়াল গেজেটিয়রও বলা হয়,তৎকালীন প্রভিন্স বা প্রদেশ অনুযায়ী সাজানো।এর তালিকা,Vol.1-Afganistan and Nepal,Vol.2-Andaman and Nicobar Islands,Vol.3-Baluchistan, Vol.4-Baroda, Vols.5 & 6-Bengal,Vol.7-Berar,Vols.8 & 9-Bombay Presidency, Vols.10 & 11-Burma, Vol.12- Central India, Vol.13- Central Provinces, Vol.14-Eastern Bengal and Assam, Vol.15-Hyderabad State, Vol.16-Kashmir and Jammu, Vols.17 & 18-Madras, Vol.19-Mysore and Coorg, Vol.20-North-West Frontier Province, Vols.21 & 22-Punjab, Vol.23-Rajputana, Vols.24 & 25-United Provinces of Agra and Oudh.
এটা ভাবা ভুল হবে যে সবটাই হান্টারের অবদান,তা নয়,বহুলোক লিখেছেন,হান্টারের নিজের লেখাগুলি বাদ দিলে তাঁকে আহ্বায়ক ও সম্পাদক বলাটাই শ্রেয়।
জেলা গেজেটিয়র লেখার এই প্রথা ধারাবাহিক,কারণ,তথ্য ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে,এবং সেহেতু এখনো লেখা হচ্ছে।একটি হিসাবে দেখেছিলাম ১৯৬০ পর্যন্ত ভারতে প্রকাশিত গেজেটিয়রের সংখ্যা ১৩৪৪।
বর্তমান বাংলাদেশের অভ্যন্তরস্থ সব জেলার গেজেটিয়র আছে,অর্থাৎ জেলার পুরানো নামে।বিখ্যাত কয়েকটির নাম দিচ্ছি,
Bakerganj, J.C.Jack 1918
Chittagong, L S S O'Malley 1908
Dacca, B C Allen 1912
Dinajpur, W F Strong 1912
Noakhali, JE Webster 1911
Mymensingh, F A Sachse 1917

বুড়া

হিমু এর ছবি
সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

চলুক

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

তারেক অণু এর ছবি
রানা মেহের এর ছবি

কষ্ট হলো লেখাটা পড়ে। আমরা বুঝতেই পারিনা কী ভয়াবহ ক্ষতি করে চলেছি প্রকৃতির।

(তাড়াহুড়োয় কিছু টাইপো রয়ে গেছে। ঠিক করে দিও ভাইয়া)

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

তারেক অণু এর ছবি

সব শেষে আমরাও ভ্যানিশ

প্রোফেসর হিজিবিজবিজ এর ছবি

হুম - ক্রিকেট খেলতে খেলতে শেয়াল দেখতে পেয়ে পাড়ার কুকুরগুলোকে লেলিয়ে দিয়ে শেয়াল ধাও্য়া করে ক্যান্টনমেন্টের পুকুরপাড় পর্যন্ত ছুটে যাওয়ার কথা বললে আমার ছেলে গল্প মনে করে! (ইহা উপশহরের ঘটনা - চোখ টিপি )

আপনিই অনুবাদ করে ফেলুন না!

____________________________

তারেক অণু এর ছবি

উপশহর?

উহু, আসলেই সময় পাব না, লোক খুঁজছি

প্রোফেসর হিজিবিজবিজ এর ছবি

হুঁ, উপশহর, রাজশাহী।

____________________________

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

আরে বাদ দ্যান। জংলা জন্তু জানোয়ার বিলুপ্ত হয়েছে তো সমস্যা কি? তার বদলে তো সে সব অঞ্চল এখন ভরে গেছে আশরাফুল মখলুকাতে, মারহাবা! মারহাবা!!

আমার কাছে বাংলাদেশের বৃহত্তর জেলাগুলোর প্রায় সবগুলরই গেজেটিয়ার আছে, কোনটির বিষয়ে কেউ আগ্রহী হলে জানান দিয়েন।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

দারুণ ব্যাপার। সফটকপি? না হার্ড?

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

তারেক অণু এর ছবি

আগ্রহী

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

আপাতত সফট। আগ্রহের জেলা কোনটি?

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

দারুণ!! সব দেঁতো হাসি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

হুঁক উঁ ইয়ে, মানে...
একসাথে এই বিপুল পরিমান মাল হস্তান্তরের প্রযুক্তিগত তড়িকা কি? ইয়ে! মানে, আমি আবার প্রযুক্তিগত ভাবে মোটামুটি অশিক্ষিতই বলা চলে।
আর ইয়ে, ট্যাকা টুকা কিছু দিবেন? নাকি ফ্রি? চোখ টিপি

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

কল্যাণ ভাই উত্তর দিক। কপি করুম। চাল্লু

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

কল্যাণ এর ছবি

দারুণ!! সব দেঁতো হাসি

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

উপরের টা কপি।

কল্যাণ এর ছবি

গুগল ড্রাইভে আপ্লোডান বস। ওইখানে জিমেইল একাউন্টের সাথে ১৫জিবি পর্যন্ত স্পেস আছে বিনামূল্যে।

গুগলের একটা ড্রাইভ এপ আছে। ওইটা এখান থেকে আপনার কম্পিউটারে ইন্সটল করে নেন। এবার যে ফাইলগুলা শেয়ার করবেন সেইগুলা কপি করে ড্রাইভের ফোল্ডারে ফেলে দেন। ফাইল সিঙ্ক্রনাইজেশন শেষ হলে আপনার ড্রাইভের লিঙ্ক শেয়ার করেন আমাদের সাথে। আর ইয়ে, ফাইল সিঙ্ক শেষ না হওয়া পর্যন্ত কম্পিউটার চালু রাখতে ভুলবেন না কিন্তু, হেহ হেহ হে।

সকল প্রকার দানা-পানি সংক্রান্ত দরকারে এবং পরবর্তি প্রযুক্তিগত সহায়তায় নিশ্চিন্তে সাক্ষী ব্যাটারে ধরেন শয়তানী হাসি

অগ্রিম ধন্যবাদ হাসি

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

ইয়ে আব্দুল্লাহ ভাই, ওপরে তিন নং অনুচ্ছেদটা আসলে একটা ভাইরাস। চাল্লু
বাকি সব ঠিকাছে। ভাইরাসমুক্ত মতামত কপি করে অপেক্ষায় থাকলাম। দেঁতো হাসি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।