প্রগতিশীলতার আড়ালে ছফার সু-কৌশল মিথ্যাচার এবং অন্ধ গুরু ভক্তি

মাসুদ সজীব এর ছবি
লিখেছেন মাসুদ সজীব [অতিথি] (তারিখ: সোম, ০১/০৯/২০১৪ - ৩:২৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

একজন জনপ্রিয় সাহিত্যিক (খুব সম্ভব হুমায়ুন আহমেদ) বলেছিলেন সাক্ষাৎকারে অর্থাৎ প্রশ্ন আর তার উত্তরের মাঝে কাউকে খুঁজতে যাওয়া অনেকটাই বোকামি। কারণ সাক্ষাৎকার প্রদানকারী যদি নিজেকে লুকিয়ে রাখেন তাহলে শত প্রশ্ন করেও তাকে বের করা সম্ভব নয়। তারপরও লেখকের সততার উপর আমরা আস্থা রাখি বলে সাক্ষাৎকার গ্রন্থগুলো আমাদের প্রিয় পাঠ্য হয়ে ওঠে। একজন লেখককে অামরা সাধারণত দুভাবে চিনতে কিংবা জানতে পারি। এক তার লেখা আর দুই তার সাক্ষাৎকার। লেখকের লেখনী ছাড়াও তার জীবন ধারণ, ব্যাক্তিগত ভালোলাগা, বিশ্বাস, উপলব্ধি-মতবাদ, দেশ ভাবনা, ছেলেবেলা সহ সবকিছু সহজে জানা হয়ে যায় সাক্ষাৎকারে।

সাক্ষাৎকার সম্পর্কে এই ভূমিকা টানার উদ্দেশ্য হলো সদ্য পড়া আহমদ ছফার সাক্ষাৎকার বইটি নিয়ে কিঞ্চিৎ আলাচনা করার বাসনা। লেখক ছফাকে বিশ্লেষন করার ক্ষমতা আমার নেই। বহুকাল আগে শুভাশীষ দাশ নামের একজন সচল ব্লগার ছিলেন, যিনি ছফার রচণা নিয়ে ছফাগিরি নামে ধারাবাহিক ভাবে লিখেছিলেন সচলে। আমার দুর্ভাগ্য উনি যখন সচলে নিয়মিত লেখতেন তখন সচলে আমার আগমন ঘটেনি। উনাকে এই আলোচনায় পেলে সেটি আমার জন্যে সৌভাগ্যের হতো। আমার জ্ঞানে আমি যতটুক বুঝি আহমদ ছফা বাংলাদেশের অন্যতম গুণী লেখক, হয়তো শ্রেষ্ঠদের মাঝেও একজন। উনার বেশ কটি উপন্যাস আমাকে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা তিনটি উপন্যাস ওঙ্কার, অলাতচক্র এবং একজন আলীকেনানের উত্থান উল্লেখযোগ্য। মুক্তিযুদ্ধকে নানান আঙ্গিক থেকে দেখা, রণাঙ্গনের যুদ্ধের পাশাপাশি সেই সময়ের সব মানুষে মনস্তাত্বিক লড়াই, মুক্তিযুদ্ধের পর সুযোগ সন্ধানীদের উত্থান সহ তিনটি উপন্যাসে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপকতাকে তুলে আনতে সক্ষম হয়েছেন স্বার্থক ভাবে। ছফা বহুমুখী প্রতিভাধর মানুষ ছিলেন। তাই আরো কাছ থেকে নিবিড় ভাবে জানার জন্যে ছফার সাক্ষাৎকর গ্রন্থ ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে পড়েছি। যদিও বইটি বেশ আগে সংগ্রহ থাকার পরও পড়িনি। উনার সব লেখা মোটামুটি পড়ে তারপর সাক্ষাৎকার পড়েছি যাতে সবকিছু সহজে বোধগম্য হয়। গ্রন্থিত ও অগ্রন্থিত সাক্ষাৎকার শিরোনামে বইটিতে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাজ্জাদ শরীফ, ব্রাত্য রাইসু, রাজু আলাউদ্দিন, শামীম রেজা, মিজানুর রহমান মিজান, বিপ্লব রহমান, শাহরিয়ার রাসেল, আশীষ খন্দকার, নাসির আলী মামুন, ভারতের কেশব মজুমদার প্রমুখ। ১১টি শিরোনামে গ্রন্থিত সাক্ষাৎকারকে শিরোনাম করলেও সেখানে চারটি মূলত উনার ভাবনাকে প্রবন্ধ আকারে উঠে এসেছে, বাকী সাতটি সাক্ষাৎকার। এছাড় অগ্রন্থিত সাক্ষাৎকার পাঁচটি শিরো নামে সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে উঠে এসেছে ছফার অগোছালো স্বাধীন জীবন-যাপন, রাষ্ট-সমাজ-ধর্ম এবং জাতিতত্ত্ব নিয়ে নিজস্ব নানা ভাবনা, কোথাও বেশিদিন খাপ না খাওয়ার ব্যর্থতা, প্রতিবাদী ক্ষ্যাপাটে জীবন আর তাঁর বহুমুখী জ্ঞানের নানান ধারা। তবে যে বিষয়গুলো আমাকে অনেকগুলো প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে তার মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো ছফার রাজনৈতিক বিশ্বাস ও মতবাদ, জাতিতত্ত্ব(সাম্প্রদায়িকি ভাবনা-মুসলমান/হিন্দু তত্ত্ব) এবং ব্যাক্তিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বারবার নিজের ভালোলাগা বদলে নেওয়ার ক্রমধারা। এই পোষ্টে মূলত এই রাজনীতি এবং ব্যাক্তিক সম্পর্ক বিষয় আলোচনা করব। আগামী পর্বে হয়তো বাকী বিষয়গুলো।

(১) রাজনৈতিক মিথ্যাচারে ছফা
আহমদ ছফা সরাসরি রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। জাসদের রাজনীতি করেছেন দীর্ঘকাল, কম্যুনিষ্ট ধারায় বিশ্বাসী হলেও পরে সেখান থেকে সরে এসেছেন এবং ৬৭-৬৮র পরে রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন (পৃষ্ঠা-১০১)। ছফার পুরো সাক্ষাৎকার গ্রন্থটি পড়লে বুঝা যায় উনি বারবার উনার বিশ্বাস-আদর্শ আর মত বদল করেছেন। যেমন এক জায়গায় বলেছেন তিনজন শ্রেষ্ঠ বাঙালির নাম বললে সেখানে শেখ মুজিবের নাম থাকবে (পৃষ্ঠা-১১৮)। আবার আরেক জায়গায় সেই তিনি বলছেন শেখ মুজিবের যে অত্যাচার সে অত্যাচারের সাথে কোন তুলনা হয় না (পৃষ্ঠা-১৪২)! দুটো মত পরস্পর সাংঘর্ষিক এবং সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। যার অত্যাচারের কোন তুলনা হয় না তিনি কিভাবে শ্রেষ্ঠ তিনজন বাঙালির একজন হন? প্রথম সাক্ষাৎকারটি তিনি দিয়েছেন ১৯৯৩ সালে আর শেষটি ২০০২ সালে প্রকাশিত। এটা কি বদলে যাওয়া বিশ্বাস নাকি উদ্দেশ্য প্রণেদিত বিদ্বেষ?

উদ্দেশ্য প্রণেদিত কেন মনে হলো সেটি বলার আগে রাজনীতি নিয়ে আমাদের দেশে সাধারণ মানুষদের কিছু বিষয় ব্যাখা করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করি। আমাদের দেশে রাজনীতিক দলগুলোর নানান ধরনের সমর্থক দেখা যায়, কেউ অন্ধ দল ভক্ত, কেউ নিজের সুযোগ-সুবিধা বুঝে দল সমর্থন করে। আবার কেউ কেউ কোন দলের সমর্থক হলেও সঠিক সমালোচনাটি করতে ভয় পায় না। সমর্থকের বাইরে রাজনীতি বিমুখ মানুষও আছে। এদের মাঝে একশ্রেণীর শিক্ষিত সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয়েছে যারা খুব সহজে বলে ফেলে I hate bangladeshi politics। আবার অতি আধুনিক নিরপেক্ষ একটি গোষ্ঠি আছে যারা বলেন আমি শেখ মুজিব আর জিয়াকে সম্মান করলেও এই-দুই মহিলা কে ঘৃনা করি! কেউই সমালোচনার উর্ধে নয় তাই শেখ মুজিবরের সমালোচনা করা যায় কিন্তু তাই বলে অবৈধ পথে ক্ষমতা দখলকারী একজন স্বৈরাচার আর রাজাকার বান্ধব জিয়ার সাথে শেখ মুজিবের তুলনা! যারা শেখ মুজিব আর জিয়াকে সমান পাল্লায় রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মান বিচার করে তারা যত বড় ডিগ্রীধারী হোক না কেন ইতিহাস বিষয়ে তারা এখনো শিশু শ্রেণী ও পাস করতে পারেনি। তবে সবচেয়ে বিপদজনক যে শ্রেণীটি আছে তার নাম সুযোগ সন্ধানী সুশীল শ্রেণী। এই সমস্ত সুশীল বুদ্ধিজীবিরাও রাজনীতি নিয়ে যেকোন আলোচনায় প্রথমেই বলবে আমি শেখ মুজিবকে সম্মান করি, উনি মহান নেতা। এই বাক্য দিয়ে মানুষকে বুঝিয়ে দেন উনি সত্যি স্বীকার করেন, উনি ভীষন প্রগতিশীল। তারপর নিজের যখন প্রগতিশীল একটা ইমেজ তৈরি হয় তখনি থলে থেকে বেড়াল বেরিয়ে পড়ে। শেখ মুজিব যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করেছেন (ভুল তথ্য), সব পত্রিকা নিষিদ্ধ করে গনতন্ত্র হত্যা করেছেন (ভুল তথ্য) এবং শেখ মুজিবের পরিণতির জন্যে তিনি এবং তার দু-সন্তান দায়ীর মতো সহজ সরলীকরণ করে ফেলেন। তখন আর বুঝার বাকী থাকে না তার প্রথম উক্তিটুকু কতটুকু আন্তরিক আর কতটুকু ভাওতাবাজী ছিলো।

ঠিক এমন ভাবে না বললেও শেখ মুজিবর রহমানের হত্যার কারণ বলতে গিয়ে ছফা যেটি বলেছেন সেটার মাঝেও বুদ্ধিভিত্তিক ছলনা এবং অবশ্যই ভাওতাবাজী রয়েছে। ছফার যা বলেছেন

ভারতীয় কংগ্রেস পার্টি তার আসনে এখনো ৫০ বছর ক্ষমতায়। মাঝখানে ১-২ বছরের জন্যে জনতা পর্টি এসেছে। সুকর্নর পার্টি প্রায় ২০-২৫ বছর একনাগাড়ে রাজত্ব করেছে। আলজিরিয়ার বেনবেল্লা অনেকদিন রাজত্ব করেছেন। ঘানার নক্রুমা অনেকদিন ক্ষমতায় ছিলেন। হাবিব বরগুইবা অনেকদিন তিউনিসিয়ায় ক্ষমতাসীন ছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগকে মাত্র তিনবছরের মাথায় ক্ষমতাচ্যূত হতে হল। এটা বাংলাদেশের জন্য অভিনব ঘটনা। কোন একটি যুদ্ধের মধ্যে বিজয়ী দল ক্ষমতা দখল করে ৩ বছরের মধ্যে পলিটিক্যালি সম্পূর্ণ অরফেন হয়ে যাওয়ার এরকম কোন দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে নেই। তারা হয়ত বাড়াবাড়ি করেছিলো। শেখ মুজিব যখন একদল করলেন তখন তখন তাকে ভায়োলেন্ট ওয়েতে সামরিক লোকেরা সপরিবারে হত্যা করল।

একটু গভীর ভাবে এই তুলনা কিংবা মতটা বিশ্লেষন করলে ছফার সুকৌশল মিথ্যাচার আর সরলীকরণ টা ধরা পড়বে। যেটাকে পুঁজি করে বর্তমানে নব্য সুশীলরা এখন টকশোতে বাণী আওড়ান। ছফা নানান দেশের নানান উদাহারণ টেনে বুঝাতে চেয়েছেন শেখ মুজিবের সপরিবারে হত্যার পেছনে আসলে কারো কোন চক্রান্ত নেই। বরং শেখ মুজিবরের বাড়াবাড়ি-ই এ পরিণতির জন্যে দায়ী। একদল তরুন সেনা সদস্য দেশপ্রেমে উদ্ধুত্ব হয়ে দেশ রক্ষার্থে শেখ মুজিবকে হত্যা করেছে। ছফার মতো জ্ঞানী লোক সেখানে পাপিস্থানের ষড়যন্ত্র খুঁজে পান না, আমেরিকা ষড়যন্ত্রতো তো আরো দূরের কথা! অথচ এগুলো দিবালোকের মত সত্য যে পাপিস্থান-আমেরিকার যৌথ চক্রান্ত এবং মুক্তিযুদ্ধকে (পাকিস্থান ভেঙ্গে যাওয়াকে) যারা মানতে পারেনি তাদের ষড়যন্ত্রের কারণে শেখ মুজিব স-পরিবারে খুন হয়েছেন। শেখ মুজিবরে হত্যা নিন্দনীয়, পৃথিবীতে এমন ঘটনা বিরল বলে সবটুকু সত্যকে আড়াল করে ছফা যে মিথ্যাচার করেছেন তাকে বুদ্ধিবেশ্যা ছাড়া আর কিছু বলার থাকতে পারে না।

ছফার এমন বদলে যাওয়া বিশ্বাস আর মত কতটা উদ্দেশ্য প্রনেদিত ভাওতাবাজী সেটা বইটির শেষের দিকে গেলে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ছফা বলেছেন তিনি শেখ মুজিবের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে সাহসের পরিচয় দিয়েছে। তখন প্রশ্নকর্তা যখন বলেছেন তাহলে সামরিক শাসনের সময় কেন আপনি নীরব ছিলেন?
উত্তর: আমি কি কোন সামরিক শাসনেরর সঙ্গে গেছি?
প্রশ্ন: না, কিন্তু কোনদিন প্রতিবাদও তো করেননি?
উত্তর: কি করতে পারতাম বলো? (পৃষ্ঠা-১৪৩)
অর্থাৎ একজন সামরিকের বিপক্ষে উনার কিছু করার ছিলো না, বলার ছিলো না। অথচ শেখ মুজিব সীমাহীন অত্যাচারকারী হওয়ার পরেও ছফা প্রতিবাদ করেছেন এবং বিস্ময়কর ভাবে সেই প্রতিবাদের জন্যে কোন প্রকার শাস্তি পান নি! কোন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কিছু না লিখে-না বলে উনি নিজেকে সাহসীর সর্টিফিকেট দিয়েছেন! উনার মতো সাহসী নাকি কেউ ছিলো না! তারপর নিজেই আবার বলছেন তিনি জিয়াউর রহমানের কাছে শিল্পী সুলতানকে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং একটা বাড়ি পাইয়ে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ এক স্বৈরাচারের কাছে গিয়েছেন অনুরোধ আর আবদার নিয়ে!

অন্যায়ের প্রতিবাদী ছফার আরেকটি দৃষ্টান্ত দেই। ১১৫ নং পৃষ্ঠায় ছফা বলেছেন

জামাত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিলো বলে তাদের পলিটিক্স ব্যান করতে হবে এটায় আমি বিশ্বাস করি না

। এরপরেও ছফা অন্যায়ের প্রতিবাদী এমন দাবি যারা করবেন তারা আমাকে কোনটা ন্যায় আর কোনটা অন্যায় সম্পর্কে একটু বিশদ ব্যাখা দিবেন আশা করছি। ৭১ এ জামাত যে অপরাধ করেছিলো তার জন্যে যদি ক্ষমা করে দেওয়া যায়, সেগুলো যদি অন্যায় না হয়ে থাকে তাহলে বাংলাদেশে সংঘটিত কোন অন্যায়কে আর অন্যায় বলা যাবে না, শাস্তিতো অনেক দূরের কথা।

এটি ছাড়াও ছফা বেশ কিছু মিথ্যে দাবি উপস্থাপন করেছেন। উানার ‍গুরু অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাককে ৬ দফার মূল প্রণেতা দাবি করেছেন। এই বিষয়ে হাসান মোর্শেদ ভাই অনেকদিন আগে গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচনা করেছিলেন। আমি তাই সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম না। এটি ছাড়াও এই বইয়ে কোন প্রকার প্রমাণদি ছাড়া আরো কয়েকটি মোটা দাগে অভিযোগ করেছেন ছফা । যেমন উনার গুরু উনাকে বলেছেন গুরুর ( আব্দুর রাজ্জাক) কাছে ছবি আছে যে-জিন্নাহ মারা যাওয়ার পর শেখ মুজিব হাউমাউ করে কেদেঁছেন! এ না হলে অন্ধ গুরু ভক্তি! গুরু বলেছেন আর তিনি সেটার প্রমাণ না নিয়েই মেনে নিয়েছেন এবং সেই আষাড়ের গল্প সবাইকে বলে বেড়িয়েছেন।(পৃষ্ঠা-২২১)

(২) অন্ধ ভক্তিতে ও ব্যা্ক্তি বিদ্বেষে ছফা]
পুরো সাক্ষাৎকারে তিনি দুজন মানুষের বন্দনা করে গেছেন। একজন প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক আরেকজন এসএম সুলতান। প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাককে তিনি দেবতা বানিয়ে ছেড়েছেন অন্ধ গুরুভক্তি দিয়ে। যে মানুষ পাকিস্থানের অখন্ডতা চেয়েছিলো, ধর্ম ভিত্তিক রাষ্ট্র (মুসলমান) চেয়েছিলো, যিনি জিন্নাহর একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশে বসে সেই জিন্নাহর গুণগান গেয়েছেন তিনি যত বড় জ্ঞানী-ই হোক না কেন তাকে প্রগতিশীল আর মুক্তমনা হিসেবে মেনে নেওয়া কোনদিনও সম্ভব না। ভালোবাসা কিংবা সম্মান তো লক্ষ মাইল দূরের কথা। হ্যাঁ অনেকেই বলেন হুমায়ুন আজাদও আব্দুর রাজ্জাককে পন্ডিত মানতেন, সম্মান করতেন। খুব ভালো কথা, কিন্তু হুমায়ুন আজাদ ঠিক কি কারণে তাকে সম্মান করতেন সেটা একান্ত তার বিষয়। তিনি কাউকে সম্মান করলেই আমাকে কিংবা আমাদেরকেও সেটা মেনে নিতে হবে বিষয়টা এমন নয়। যার ভিতর সাম্প্রদায়িকতার বীজ ছিলো তার পান্ডিত্য অর্থহীন।

সুলতানকে নিয়ে উনার ধারণা আর ভালোলাগার প্রকাশ অনেক জায়গায় মাত্রাতিক্ত মনে হয়েছে। শিল্পের এই বিষয়টাতে আমার জ্ঞান যথেষ্ট কম তাই তুলনা করা সম্ভব না আমার পক্ষে। তবে সুলতানকে বড় প্রমাণ করতে গিয়ে উনি জয়নুল আবেদীনকে সাধারণ প্রতিভা, কামরুল ইসলমাকে উঁচু তলার লোক বলে আখ্যা দিয়েছেন, যেটা অনেকটােই অপ্রয়োজনীয় ছিলো। একজন কে ছোট করতে না পারলে আমাদের দেশে আরেকজনকে যে-বড় প্রমাণ করা যায় না তার উজ্জল দৃষ্টান্ত এটি।

সাহিত্যের প্রায় সবাইকে তিনি ব্যাক্তি আক্রমন করেছেন। হুমায়ুন অজাাদকে “সজারু”, হুমায়ুন আহমেদ কে বাজারি লেখক, শামসুর রহমানকে ভারতীয় দালাল এবং আওয়ামি লেখক, আল মাহমুদকে ধর্মের লাঠিয়াল, আহমেদ শরীফকে ক্ষমতালোভী, সৈয়দ শামসুল হক তরল পদার্থের মতো যে পাত্রে রাখে সে পাত্রে আকার ধারণ করে, মাণিক ছিলেন স্প্লিটেড পার্সোনালিটির লোক অর্থাৎ বাইরে একরকম ভিতরে আরেক রকম, রফিক আজাদ, শহীদ কাদেরী, শহীদুর রহমানের ভিতরে ছিলো ফাঁকা, মুনীর চৌধুরী ছিলো এলিটিষ্ট! জয়নুল আবেদীন, কামরুল ইসালাম, যামিনী রায়, নন্দলাল এরা সবাই ভারতীয় আর্টিস্ট! (পৃষ্ঠা- ২১, ২৯, ৩৯, ১৯৩)। এর অনেকগুলো হয়তো সত্য আবার অনেকগুলো ব্যাক্তি আক্রমনের অতি বাড়াবাড়ি! এভাবেই ছফা সবাইকে গণহারে আক্রমন করে নিজের প্রতিবাদী রূপ প্রকাশ করেছেন।(চলবে)


মন্তব্য

আব্দুল গাফফার রনি এর ছবি

‌ছফাকে কেন জানি আমার ভালো লাগে না। কেন, আসলেই জানি না। আপনার এই লেখা পড়ে ভালো না লাগাটা আরও বাড়ল।

----------------------------------------------------------------
বন পাহাড় আর সমুদ্র আমাকে হাতছানি দেয়
নিস্তব্ধ-গভীর রাতে এতোদূর থেকেও শুনি ইছামতীর মায়াডাক
খুঁজে ফিরি জিপসি বেদুইন আর সাঁওতালদের যাযাবর জীবন...
www.facebook.com/abdulgaffar.rony

আহসান এর ছবি

'হাসান মোরশেদ' নাম ভুল এসেছে। মিথ্যাচার আর গুরুভক্তি প্রগতিশীলতার আড়ালে- এই কথাটি কেন বলা হয়? আমি বেশীরভাগ সময়ই এই বাক্যটির অর্থ বুঝে উঠতে পারি না। এরচেয়ে 'প্রগতিশীলতার পাশাপাশি মিথ্যাচার আর গুরু ভক্তি' অনেক সহজবোধ্য।

মাসুদ সজীব এর ছবি

প্রগতিশীল বলতে আসলে কি বুঝায়? হুমায়ুন আজাদের প্রগতিশীলতা কিংবা প্রতিক্রিয়শীলতার বিষয়ে একটি মত রয়েছে। যা আমার কাছে সবচেয়ে বেশি গ্রহনযোগ্য মনে হয়েছে। উনি বলেছেন “যে মত কিংবা বিশ্বাস ধর্মান্ধতামুক্ত, ইহজাগতিক, স্বদেশনিষ্ঠ ও আন্তর্জাতিক, স্বৈরাচারবিরোধী ও জনসংলগ্ন, যে মত কিংবা বিশ্বাস সাধারন মানুষের স্বার্থ ছাড়া অন্য কোন স্বার্থান্বেষী নয়, সে মত আর বিশ্বাসকে প্রগতিশীল মত বলে”। আর যা কিছু এর বিরোধী তাই প্রগতিবিরোধী অর্থাৎ প্রতিক্রিয়াশীল।

ছফা একজন প্রগতিশীল লেখক এবং প্রতিবাদী মানুষ বলে খ্যাতি রয়েছে তার ভক্তকূলের মাঝে। সুতরাং উনাকে প্রগতিশীল ধরে নিলাম প্রথমে। কিন্তু প্রগতিশীল হয়ে উনি মিথ্যাচার করবেন, সত্য আড়াল করবেন, একজন স্বৈরাচারের কাছে অনুরোধ নিয়ে যাবেন এটা কতটা গ্রহনযোগ্য? তাই লেখার শিরোনাম দিয়েছি প্রগতিশীলতার আড়ালে মিথ্যাচার।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেকেই বলেন হুমায়ুন আজাদও আব্দুর রাজ্জাককে পন্ডিত মানতেন, সম্মান করতেন। খুব ভালো কথা, কিন্তু হুমায়ুন আজাদ ঠিক কি কারণে তাকে সম্মান করতেন সেটা একান্ত তার বিষয়।

আব্দুর রাজ্জাক বিষয়ে হুমায়ুন আজাদের মনোভাব কিছুটা স্ববিরোধীতাপূর্ণ। অধ্যাপক রাজ্জাকের প্রতি অধ্যাপক আজাদের শ্রদ্ধার উদাহরণ হিসেবে সবাই "সাক্ষাৎকার" বইটির রেফারেন্স দেন। অন্যদিকে, হুমায়ুন আজাদ তাঁর "নির্বাচিত প্রবন্ধ" বইতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে নিজেই বলেন যে আব্দুর রাজ্জাক "গুরুত্বপূর্ণ" কারণ তিনি দুষ্প্রাপ্য কিছু বই পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, যা দিয়ে তিনি তাঁর ভক্তদেরকে ইম্প্রেস করতে পারতেন; কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যাপক রাজ্জাকের মৌলিক লেখা অত্যন্ত কম। আর যারা লেখেন না, ব্যক্তিগতভাবে হুমায়ুন আজাদ তাদের পাণ্ডিত্যকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না। তাহলে, আব্দুর রাজ্জাকের সাক্ষাৎকারের সময় কেন তাঁকেও (হুমায়ুন আজাদ) মনে হয় একজন গুণমুগ্ধ ভক্ত, এই প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক আজাদ বলেন যে সেই সাক্ষাৎকার তিনি নিয়েছিলেন কবি রফিক আজাদের অনুরোধে। ব্যাখ্যা হিসেবে এটাকে আমার কাছে মনে হয়েছে একধরণের গোঁজামিল।

Emran

মাসুদ সজীব এর ছবি

প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাককে নিয়ে আমার কোন আকর্ষন নেই। ছফা, রাজ্জাককে দেবতার আসনে বসালেও রাষ্ট্র কিংবা সমাজের খুব বেশি ক্ষতি দেখি না কারণ ছফার অন্ধ ভক্তিতে ছাপান্নো হাজার বর্গমাইলের দেশে অপরিচিত মুখ রাজ্জাক সাহেব কখনো দেশ আর জাতির স্বপ্রদ্রষ্টা হতে পারবেন না। কিন্তু ছফা যখন শেখ মুজিবকে (বাঙালি জাতির সত্যিকার স্বপ্নদ্রষ্টা) নিয়ে মিথ্যাচার করে, শেখ মুজিবের হত্যা নিয়ে ভুল ব্যাখা দেয় সেটার প্রভাব সমাজে পড়ে। অনেকের চোখে ছফা প্রগতিশীল, ভীষন প্রতিবাদী একজন মানুষ ছিলেন। তাই ছফার কথার অনেক গুরুত্ব তারা দিয়ে থাকেন। আমি ছফার সেই প্রগতিশীলতার কিছু নমুনা তুলে ধরতে চেয়েছি।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

লেখাটা ভালো লাগলো না, সরলীকরণ মনে হলো।

ছফার রাজনৈতিক ধারণা আমায় আনন্দিত করে না, কিন্তু সাক্ষাৎকারের কয়েকটি চরণ পড়েই একজন মানুষকে পূর্ণ রুপে আবিষ্কার করা যায়- এই বিশ্বাসের সাথে সমর্থন নেই আমার। আহমদ ছফার রাজনীতির লেখা বলে প্রবন্ধ সংকলনটি ছফা রচনাবলীর ৭ম খণ্ডে রয়েছে সম্ভবত। সেটা পড়লে হয়তো আরো পরিষ্কার ধারণা পাবেন।

মাসুদ সজীব এর ছবি

ধন্যবাদ। ঠিক কোথায় সরলীকরণ করা হলো বলে মনে হচ্ছে আপনার? সাক্ষাৎকারের কয়েক চরণ পড়ে আমি সিদ্ধান্তে আসিনি! আমি উনার লেখা বিশেষ করে উপন্যাসে মুগ্ধ সেটা প্রথমেই স্বীকার করেছি। কিন্তু উনার রাজনৈতিক মতাদর্শ আর ব্যাক্তি পূজোকে গ্রহনযোগ্য মনে হয়নি। বরং সেখানে তিনি মিথ্যাচার করেছেন, সত্য ঢেকে দিয়েছেন। আমি সেটাই তুলে ধরতে চেয়েছি। উনি বার বার উনার মত বদল করেছেন, এক লেখায় যেটা বলেছেন পরের লেখায় তার বিপরীতমুখী মতবাদ দিয়েছেন, যার উদাহারণ আমি লেখায় দিয়েছি। আপনি যে প্রবন্ধের কথা বলছেন সেখানে যেমনটা বলেছেন, ঠিক তার বিপরীত বলেছেন সাক্ষাৎকারে। তাহলে পাঠক কেনটিকে ছফার মত ধরে নিবে? প্রবন্ধ নাকি সাক্ষাৎকার?

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

দীনহিন এর ছবি

ব্যাক্তি পূজোকে গ্রহনযোগ্য মনে হয়নি।

প্রথমত, উনি কোন ব্যাক্তিকে পুজো করেছেন বলে শুনিনি।
দ্বিতীয়ত, একজনের রাজনৈতিক মতাদর্শ অন্য আরেকজনের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হবে, তেমন কোন শর্ত নেই, এবং গ্রহণযোগ্য না হলেই পাপ হবে, তারও কোন সংবিধান নেই।

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

মাসুদ সজীব এর ছবি

প্রথমত, উনি কোন ব্যাক্তিকে পুজো করেছেন বলে শুনিনি

শুনা কথায় বিশ্বাস নেই, যদ্যপি আমার গুরু বইটি পড়ে দেখবেন। গুরু মেনেছেন কিনা সেখানেই বুঝতে পারবেন।

দ্বিতীয়ত, একজনের রাজনৈতিক মতাদর্শ অন্য আরেকজনের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হবে, তেমন কোন শর্ত নেই

এটি রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, ইতিহাসের সত্যকথন কিংবা ইতিহাস নিয়ে মিথ্যাচার। আমি কয়েকটি পয়েন্ট আপনাকে দেই অাপনি সেগুলোর ব্যাখা গুলো দিবেন আশা করি। সবগুলিয়ে ফেললে হবে না।

১। তিনি প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাককে ছয় দফার মূল প্রণেতা বানিয়েছেন (যদ্যপি আমার গুরু পৃষ্ঠা ১০৯)

২। জিন্নাহর মৃত্যুতে শেখ মুজিব হাউমাউ করে কান্না করেছেন তার গুরু তাকে বলেছে আর উনি সেটা প্রমাণ ছাড়া বিশ্বাস করেছেন এবং এই তথ্য তিনি প্রচার করেছেন। কোন কিছু প্রমাণ ছাড়া বিশ্বাস করা কি অন্ধ ভক্তি নয়? (সাক্ষাৎকার সমগ্র পৃষ্ঠা-২২১)

৩। তারা (শেখ মুজিব/আওয়ামীলীগ) হয়ত বাড়াবাড়ি করেছিলো। শেখ মুজিব যখন একদল করলেন তখন তখন তাকে ভায়োলেন্ট ওয়েতে সামরিক লোকেরা সপরিবারে হত্যা করল। শেখ মুজিব হত্যার বিষয়টি কি এত সহজ ছিলো? ছফা কি সেখানে পাপিস্থানের ষড়যন্ত্র খুঁজে পাননি, পরাজিত পাপিস্থানমনাদের ষড়যন্ত্র খুঁজে পাননি যে বলে দিলেন বেশি করেছে বলেই শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে?

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

কারো প্রবন্ধ আর সাক্ষাৎকারে যদি বারংবার দ্বিমুখী মনোভাব প্রকাশ পেয়ে যায়, তবে তাকে পাঠক বিভ্রান্ত বা দ্বিচারী ভাববেন। সেটাকে 'সুকৌশল মিথ্যাচার' বলার পরিবর্তে 'দ্বিমুখিতা' বলাই আমার কাছে অধিক গ্রহনীয় মনে হবে। আপনার লেখা তাই আমার কাছে সরলীকরণ মনে হয়েছে। রাজ্জাকের বিষয়ে গুরুভক্তিতে অবশ্য আপনায় আমায় মতের অনৈক্য নেই। দ্বিমত নেই।

ধ্রুব আলম এর ছবি

একমত। সুকৌশলে মিথ্যাচার হয়তো উনি করেননি, সজ্ঞানে তো নয়ই। তবে তার এই উল্টোপাল্টা কথাবার্তাগুলোকে তার পাগলামো ও ব্যক্তিগত, তাৎক্ষণিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখতে চাই।

আর বইয়ের লাগামহীন প্রমাণছাড়া দাবি অন্ধ গুরুভক্তি। আর কিছু কিছু বিষয় তার ব্যক্তিগত মতামত। উনার সৈয়দ আলি আহসানের মত ধান্ধাবাজির উদ্দেশ্য ছিল না, আর যাই উনি করুন না কেন।

দ্বিমুখীতাই এখানে মোক্ষম শব্দ।

মাসুদ সজীব এর ছবি

ইতিহাস আর কোন অপ্রমাণিত বিষয়ে নিজের ধারনা-মতামত (মতবাদ) দেওয়া দুটো ভিন্ন বিষয়। কোন অপ্রমাণিত ভালোলাগার বিষয়ে মানুষের মত পরিবর্তন হতে পারে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু ইতিহাসের সত্য সম্পর্কে মত বদল করে নেওয়া যায় না। আর করলে সেটাকে দ্বিমুখী মনোভাব বলা যায় না। সেটি হয় মিথ্যাচার। ‍দ্বিমুখীতাও একপ্রকার মিথ্যাচার। মিথ্যাচার শব্দটা একটু রুঢ় এবং ছফা নামটা বেশ ভারী বলেই মানতে আপত্তি।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

ধ্রুব আলম এর ছবি

মিথ্যাচার শব্দটা একটু রুঢ় এবং ছফা নামটা বেশ ভারী বলেই মানতে আপত্তি।

সহমত।

আসলে ছফাকে মিথ্যাবাদী বলতে ইচ্ছা হয় না। উনি সরলচিত্তের একজন মানুষ, যার আচরণমুগ্ধ হওয়া খুব সোজা। (ব্যক্তিগত অভিমত)

দীনহিন এর ছবি

আমার জ্ঞানে আমি যতটুক বুঝি আহমদ ছফা বাংলাদেশের অন্যতম গুণী লেখক, হয়তো শ্রেষ্ঠদের মাঝেও একজন।

অথচ সেই লোকটিকে যে ভাষায় আক্রমন করা হল, তা সত্যি আশা করা যায়নি, বিশেষ করে, মাসুদ সজীব ভাইয়ের কাছ থেকে।

ছফা সত্যি একটি ব্যতিক্রমী চরিত্র আমাদের যুক্তি ও চিন্তার সংগ্রামে, তাকে ঠিক রিড করা যায় না, কিন্তু তার মানে নয় যে, তিনি দ্বিচারিতাই করেছেন! এমন হওয়া কি সম্ভব নয় যে, আমাদের পাঠ এখনো সম্পূর্ণ নয়?

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

হিমু এর ছবি

তাকে ঠিক রিড করা যায় না

আপনি নিজে কাউকে রিড করতে না পারলে কি ঐ ব্যক্তিকে রিড করার অক্ষমতা বাকি সবার ওপর অর্শায়?

দীনহিন এর ছবি

না, আমি কি তেমন বলেছি?
তবে, আপনি যদি কাউকে রিড করেন, তো সেই রিডিং সবাই অন্তরে ধারণ করবে, তেমনটাও নয় কিন্তু!

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

হিমু এর ছবি

আপনি সেটাই বলেছেন। কাউকে রিড করা যায় না মানে তো সেটাই, কেউ সেই পাঠে সক্ষম নয়।

আপনি যদি কাউকে রিড করেন, তো সেই রিডিং সবাই অন্তরে ধারণ করবে, তেমনটাও নয় কিন্তু!

আপনি এটা বুঝতে পেরেছেন দেখে ভালো লাগলো। আপনার রিডিং সবাই ধারণ করে না।

মরুদ্যান এর ছবি

চলুক

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে

দীনহিন এর ছবি

ভালো লাগলো।

যতদূর মনে পড়ে, এই প্রথম, আমার কোন বিষয় আপনার ভাল লাগল। যারপরনাই আনন্দ বোধ করছি, ধন্যবাদ, হিম ভাই।

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

মাসুদ সজীব এর ছবি

আমার মনে হয় আলোচনা হওয়া উচিত নিদিষ্ট বিষয়ের উপরে, আমি যে তথ্য দিয়েছি তার সব উনার বই থেকে। সেখানে কোথায় কোথায় ভুল আছে কিংবা উনার কথার ভুল ব্যাখা আমি দিয়েছে আছে ধরিয়ে দিন, আমি আমার মত (যেটাকে আপনি আক্রমন ধরছেন) তুলে নিবো।

ছফাকে রিড করা যাবে না কেন?

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

ধ্রুব আলম এর ছবি

ছফাকে রিড করা যাবে না কেন?

অনেকেই ছফাকে বিশেষভাবে আলাদা করে রিড করতে বলেন। কেন? উনি কে, যে তাকে আলাদাভাবে রিড করতে হবে? উনি বছরে বছরে তার বক্তব্য/ মত পাল্টেছেন (যার প্রমাণ লেখাতেই আছে)।

আমি এই আবদার আর একজনের জন্যেই করতে শুনি, মওলানা ভাসানী। তাকেও নাকি আলাদা করে রিড করতে হবে, উনারও তো একই সমস্যা। আজ এক কথা, তো কাল আরেক। এবং কার সঙ্গে পর্দায় (পড়ুন মুজিব) আর কার সঙ্গে বিছানায় (পড়ুন জিয়া) যেতে হয়, উনারা দুজনেই বুঝতেন না, বলে আমার মনে হয়েছে।

যাকে আলাদা করে বিশেষ যত্নে রিড করা লাগে, ১০০ বা ২০০ বছর পরে, কেউ অতসব মাথায় রাখবে না। তখন কেউ/ কারা হয়তো আস্তাকুড়েও নিক্ষেপ করতে পারে, কিছুই অসম্ভব নয়। উদাহরণস্বরূপ জামাত-শিবিরগোষ্ঠী কর্তৃক, বিশেষভাবে রিড করার কারণেই কিন্তু হুমায়ুন আজাদ তাদের কাছে আস্তাকুড়ে আছেন।

দ্বিমুখী আচরণ, ব্যক্তিপূজো বা পাগলামো, অনেকেই করেছেন। আজাদভক্তরা যেমন তা স্বীকার করেন না, ছফাভক্তরাও তা করেন না।

**প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হুমায়ুন আজাদের অন্ধ আহমদ শরীফ ভক্তি আছে। তবে গুরু হিসেবে আহমদ শরীফ অনেক বেশি ঋজু ও বলিষ্ঠ, কোন লুকোছাপা নেই। অন্যদিকে আবদুর রাজ্জাক বেশ সন্দেহজনক ব্যক্তিত্য।

১। তার জিন্নাহভক্তি, মুসলিম লিগপ্রেমের ইত্যাদির জন্য
২। কোন লেখালেখি না করার জন্য

কোন কিছু না লেখার আগে পর্যন্ত আহমদ শরীফও কিন্তু 'মূর্তিমান মধ্যযুগ' বলে পরিচিত ছিলেন। সুতরাং, মত লিখে না প্রকাশিত হলে সন্দেহ থাকবেই।**

দীনহিন এর ছবি

ছফাকে রিড করা যাবে না কেন?

আবারো আশাহত করলেন। কোথাও বলেছি, ছফাকে রিড করা যাবে না??? কই পেলেন?
আমি কি বলেছি, তা নীচে আবারো উদ্ধৃত করছিঃ

তাকে ঠিক রিড করা যায় না

মানে, আমি তাকে ঠিক মত রিড করতে পারি না, এবং আমার মত আরও অনেকেই পারে না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, কেউই তাকে রিড করতে পারবে না, বা, এ দুনিয়াতে এমন কোন জ্ঞানীর জন্ম হয়নি বা হতে পারে না যে, ছফাকে ঠিকঠাক রিড করতে পারে।
হ্যা, হয়ত অনেক পন্ডিত ব্যাক্তি সত্যি আছেন, যারা পারেন। কিন্তু আমার সংলাপটিকে চোখ বুলালে দেখবেন, আমি বিনয়ের সাথে সেই অক্ষমতাটুকুই প্রকাশ করেছি, মানে, আমি সেই জ্ঞানীদের দলে নাম লেখাতে পারিনি এখনো।

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

হিমু এর ছবি

বাংলা ভাষা আসলে এখনো এতো জটিল ধোঁয়াশাময় হয়ে পড়েনি। ভবিষ্যতে আরো ঝাপসা হয়ে গেলে আপনি যে লাইনে কথা ঘোরাতে চাচ্ছেন, সে লাইনে ঘোরাতে পারবেন।

ধ্রুব আলম এর ছবি

চলুক আমি ধোঁয়াশা সৃষ্টির প্রতিভায় এখন মুগ্ধ হয়েছি।

মাসুদ সজীব এর ছবি

আপনার প্রথম মন্তবে আমি কোন বিনয় খুঁজে পাইনি, যদিও বিনয়ের প্রয়োজন নেই।

তাকে ঠিক রিড করা যায় না, কিন্তু তার মানে নয় যে, তিনি দ্বিচারিতাই করেছেন! এমন হওয়া কি সম্ভব নয় যে, আমাদের পাঠ এখনো সম্পূর্ণ নয়?

উপরের লেখাটি আপনার প্রথম মন্তব্য। যেখানে আপনি বলেছেন ছফার পাঠ আমাদের সম্পূর্ণ নয়! সেখানে বলেন নি আমি ছফাকে রিড করতে পারিনা কিংবা অনেকেই পারে না।আপনি বলেছেন তাকে ঠিক রিড করা যায় না।

দ্বিতীয়ত বলেছেন তার মানে এই নয় দ্বিচারিতা করেছেন! আমাকে একটু বলেন তো দ্বিচারিতা তাহলে কি বিষয়? যিনি একবার এক কথা বলেন( একি বিষয়ে তার দু-ধরনের মত দেখার পরও তাকে দ্বিচারি বলতে এত দ্বিধা কেন? উনি আহমদ ছফা বলে?

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

দীনহিন এর ছবি

সেখানে বলেন নি আমি ছফাকে রিড করতে পারিনা কিংবা অনেকেই পারে না

"এমন হওয়া কি সম্ভব নয় যে, আমাদের পাঠ এখনো সম্পূর্ণ নয়?"-এই কথাটির মানে আমার কাছে, আমি ছফাকে রিড করতে পারিনা কিংবা অনেকেই পারে না, ঠিকাছে? এখন আপনি না মানলে আমার কিছু করার নাই, আমার যতটুকু জ্ঞান রয়েছে, তাতে আমি এইটুকুই বুঝি!

আপনার প্রথম মন্তবে আমি কোন বিনয় খুঁজে পাইনি,

হ্যা, খুব অশালীন একটা মন্তব্য করে ফেলেছি, নিজ গুনে না হয় ক্ষমা করবেন! আমার বিনয়ের অভাব থাকতে পারে, আপনার তো নেই!
তবে আমার একটা প্রশ্ন আছে, আপনার উদ্ধৃতিটি আবারও উপস্থাপন করিঃ

আমার জ্ঞানে আমি যতটুক বুঝি আহমদ ছফা বাংলাদেশের অন্যতম গুণী লেখক, হয়তো শ্রেষ্ঠদের মাঝেও একজন।

কেন গুণী লেখক বা শ্রেষ্ঠদের মাঝেও একজন মনে হল তাকে আপনার? একজন লেখক কি তার লেখা থেকে ভিন্ন কিছু? একজন লেখক, তার বই, আর তার চিন্তাভাবনা - সবই একই জিনিস, আলাদা করা যায়? মানে, আমি লেখককে গুনী মনে করি, কিন্তু তার লেখাগুলিকে নয়, এমন বলতে চাইছেন?

আমি কিন্তু কোন লেখক, যে খুবই সুললিত ও সমৃদ্ধ ভাষায় লেখেন, তাকে পছন্দ করি না বা শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসাইনা, যদি না তার লেখার মূল ভাবনা আমাকে অনুপ্রাণিত করে। অন্যদিকে, কোন লেখকের ভাষা ও সংগঠন দুর্বল হলেও, যদি তার চিন্তা আমাকে অনুপ্রানিত করে, ভাবনার খোরাক যোগায়, তাহলে আমি সেই লেখককে প্রিয়দের তালিকায় স্থান দেই।

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

মাসুদ সজীব এর ছবি

আপনি বোধহয় বিষয়টিকে ব্যাক্তিগত ভাবে নিচ্ছেন, বিনয় নেই বলতে বুঝিয়েছি এখানে ভক্তি করার মতো কিছু নেই যে বিনয় করতে হবে।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

পৃথিবীতে কোরান, সফা ছাড়া আর কী কী গ্রন্থ পাঠ করে বুঝতে হইলে বিশিষ্ট পণ্ডিত হইতে হবে? জানাইলে সেইসব গ্রন্থ থেকে দূরে থাকতাম।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

সফা কে?

মন মাঝি এর ছবি

সফা কে আমি আপনাকে বলতেছি, তার আগে এই পোস্টের বক্তব্য বিষয়ে আপনার মতামত শুনতে চাই! হাসি

****************************************

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

এই লেখা নিয়ে আমার মতামত লীলেন্দার মতামতের সাথে সাংঘর্ষিক না। এইবার বলেন, সফা কে?

দীনহিন এর ছবি

লীলেনদা আসলে কি বলেছেন, শুভাশীষদা? উনি কি এই বুঝাতে চেয়েছেন যে, ছফাকে পাঠ করা একটা দুরুহ কাজ? অথবা, লীলেনদা মনে করেন, ছফাকে পাঠ করা এত্ত সহজ নয়? আমি কিন্তু 'দুরুহ' শব্দটি ব্যবহার করেছি, 'অসম্ভব' অর্থে নেবেন না আশা করি, কারণ এ নিয়ে বিস্তর ভুল বোঝাবুঝি হয়ে গেছে ইতিমধ্যে; আমার 'ছফাকে ঠিক পাঠ করা যায় না' - কথাটির মানে করা হয়েছে, ছফার মত একজন পয়গম্বরের সম্পূর্ণ পাঠ কখনোই মর্ত্যের মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়!!!!! যাই হোক, সে আমারই ব্যর্থতা, আমি বোঝাতে ব্যর্থ!

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

ছফা পাঠ অসম্ভব হবে কেন? উনি তো আর কমলকুমারের ভাষায় বাংলা লেখেন নাই। যোগসূত্র ধরে এগোলে পরিষ্কার বোঝা যায়।

দীনহিন এর ছবি

যোগসূত্র ধরে এগোলে পরিষ্কার বোঝা যায়।

একটু পরিষ্কার করবেন, শুভাশীষদা? যোগসূত্রটি কি? আর তিনি যে মৌলবাদীদের সাথে বুক মেলালেন, তারই বা কি ব্যাখ্যা? প্রগতিশীলতার সাথে মৌলবাদ যায় কি করে?
তার পাঠ দুরুহ হতে পারে, তবে অসম্ভব নয়, তার পাঠ একটু জটিল বলেই কি আমার মত অনেকে ধন্দে পড়ে যায়?

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

ছফা মৌলবাদীদের সাথে হাত মেলালেন কখন?

ছফার একমাত্র কোনো সমস্যা যদি থাকে সেটা হলো ছফা সরাসরি আওয়ামী লীগার না। তাই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কেবল স্তুতিবাক্য তিনি লিখেন নাই। তবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এই পর্যন্ত যে কয়েকজন লেখক লিখেছেন; বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে ছফার প্রশংসাবাক্য তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। ‘বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ছফার প্রশংসা সঙ্কলন’ নিয়ে আমি নিজে চাইলে পাঁচ পর্বের সিরিজ নামাতে পারি। প্রয়োজন পড়লে সেটা করবো।

ছফা নিজেও লিখেছেন- সাতই মার্চে বক্তৃতার শেষে ‘জয় পাকিস্তান’ তিনি শুনেছেন। পরে এটাও বলেছেন- এটা তাঁর শোনার ভুলও হতে পারে। তার বক্তব্য বিতর্ক তৈরি করবে তিনি জানতেন, তবে ছাগু প্রজাতি যে এই নানা জায়গায় আর্ধেক গুজে ফায়দা তুলবে এটা বোধহয় ঠাহর করতে পারেন নি। ছফার আরো নানা বিপদজনক বক্তব্য আর্ধেক আর্ধেক গুজে যারা যারা লাভ করতে চায়- তাদের থামানো কার সাধ্য! তের পর্বের ‘ছফাগিরি’ তে ছফাকে নিয়ে অনেক অনেক বিতর্কের জবাব দেয়া আছে। ঐ সিরিজে এই পর্যন্ত কমেন্ট সংখ্যা ৬২৩; কষ্ট কম করতে চাইলে যোগসূত্র বোঝার ঐটাও একটা তরিকা হৈতে পারে।

মন মাঝি এর ছবি

আমি নিজে চাইলে পাঁচ পর্বের সিরিজ নামাতে পারি।

আসুক!! আসুক!! যেকোন বিষয়ে আসুক!!! ইয়েস বাঘ মামা, ইয়েস!!!

****************************************

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

ছফা নিজেও লিখেছেন- সাতই মার্চে বক্তৃতার শেষে ‘জয় পাকিস্তান’ তিনি শুনেছেন। পরে এটাও বলেছেন- এটা তাঁর শোনার ভুলও হতে পারে। তার বক্তব্য বিতর্ক তৈরি করবে তিনি জানতেন, তবে ছাগু প্রজাতি যে এই নানা জায়গায় আর্ধেক গুজে ফায়দা তুলবে এটা বোধহয় ঠাহর করতে পারেন নি।

শুভাশীষ দা,
স্মৃতিচারণে বারংবার শোনার ভুল/স্মৃতির ভুল এর উল্লেখ থাকলে সেই স্মৃতির ওপর আস্থাটা কিন্তু ঠিক পোক্ত না হতেই পারে, তাইনা? (তবে এ প্রসঙ্গে ছফা'র সততার প্রশংসা করা যেতে পারে।) আর তিনি ঠাহর করতে না পেরে থাকলে সে দায় কেন পাঠক নেবে? মুজতবা আলী বেচে থাকলে নির্ঘাত বলে বসতেনঃ "তবে রে! ঠাহর করতে পারোনি? না?..."

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

মাসুদ সজীব এর ছবি

সাক্ষী দা, শোনার ভুল কিংবা স্মৃতির ভুল কি ছফা শুধরে নিতে পারতেন না নাকি ওটা নিয়েই উনি সন্তুষ্ট ছিলেন? যেমন শামসুর রহমান নিজের ভুল স্বীকার করে লেখেছেন, ছফার কি সেটা করা উচিত ছিলো না?

ছফা অনেক বড় পন্ডিত মানুষ, বাঙালি বিশেষ করে বাঙালি মুসলমান নিয়ে গবেষনা করেছেন দীর্ঘকাল যে মানুষ সেই মানুষ কি জানতেন না যে তার এমন সংশয়ের মন্তব্য সহজেই পরবর্তীতে বিতর্কের জন্ম দিবে?

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

ছফা অনেক বড় পন্ডিত মানুষ, বাঙালি বিশেষ করে বাঙালি মুসলমান নিয়ে গবেষনা করেছেন দীর্ঘকাল যে মানুষ সেই মানুষ কি জানতেন না যে তার এমন সংশয়ের মন্তব্য সহজেই পরবর্তীতে বিতর্কের জন্ম দিবে?

মাসুদ ভাই,
একই প্রশ্ন তো আমারও, কিন্তু সে প্রশ্নের উত্তর পাবার আর বুঝি উপায় নেই মন খারাপ

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

মাসুদ সজীব এর ছবি

ছফার একমাত্র কোনো সমস্যা যদি থাকে সেটা হলো ছফা সরাসরি আওয়ামী লীগার না।

আওয়ামী লীগার না বলেই সমালোচনা বিষয়টা এমন ছিলো না। আওয়ামী লীগে সক্রিয় না হয়ে ও তাদের সমালোচনা এবং প্রশংসা অনেকেই করেছেন। হুমায়ুন আজাদ, আহমদ শরীফ এরাও আওয়ামী লীগ না।

তবে ছাগু প্রজাতি যে এই নানা জায়গায় আর্ধেক গুজে ফায়দা তুলবে এটা বোধহয় ঠাহর করতে পারেন নি

আপনার কাছ থেকে এত সহজে কাউকে সার্টিফাইড করা আশা করিনি। ছাগু আর রাজাকারের সংজ্ঞা এখন বাংলাদেশে সবচেয়ে সহজ। একটু দ্বিমত হলে সেও এখন ছাগু, গুরু ভক্তিতে পূজো না দিলে সেও রাজাকার! ‌আপনি আমার লেখার মূল অভিযোগগুলো খন্ডায়িত না করে তাত্ত্বিক লাইনে আলোচনায় গেছেন। আপনি যেভাবে বিপক্ষকে জাষ্টিফাই করেছেন তাতে আপনার সাথে আর আলোচনার প্রয়োজন বোধ করছি না। ভালোথাকুন ধন্যবাদ।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

দীনহিন এর ছবি

আপনার কাছ থেকে এত সহজে কাউকে সার্টিফাইড করা আশা করিনি।

মনে হয় ভুল করছেন।
স্বাধীনতাবিরোধী অনেক চক্র রয়েছে, এদের যে অংশটি বঙ্গবন্ধুর 'জয় পাকিস্তান' তত্ত্ব বাজারে ছাড়ার জন্য ছফাদের খন্ডিত ব্যবচ্ছেদ করে থাকেন, সার্টিফিকেট মনে হয় তাদের প্রাপ্যই।

একটু দ্বিমত হলে সেও এখন ছাগু, গুরু ভক্তিতে পূজো না দিলে সেও রাজাকার! ‌

আবারো ভুল করছেন মনে হয়।
সাম্প্রদায়িক শক্তি বা যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিল, তাদের জন্য মনে হয়।

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

মাসুদ সজীব এর ছবি

মন খারাপ

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

মাসুদ সজীব এর ছবি

লীলেন্দার সাথে আপনি একমত তার মানে হলো লেখার মূল বিষয়ের সাথে একমত না। কেন একমত না একটু ব্যাখা করবেন?

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

মন মাঝি এর ছবি

হা হা হা! "সফা" হইল একটা ট্র্যাপ। টোপ বললে আরও ভাল হয়। এই ছুতায় আপনারে দিয়া আবার সাত কাণ্ড জপানোর একটা বাহানা। কিছু বুঝলেন? দেঁতো হাসি

****************************************

মাসুদ সজীব এর ছবি

সবকিছু না বুঝলেও এটা বুঝি বিখ্যাত কারো ভুল ধরলে (যেটাকে আক্রমন বলা হচ্ছে) অনেকেই আসবে যু্ক্তি ছাড়া এর বিরোধীতা করতে, ব্যাক্তি আক্রমন, লেখকের জ্ঞান কম এইসব উপাধি ও যে পুরষ্কার হিসাবে জুটবে জানতাম। আমি সেটাকে ভয় পাই না, কে আমার লেখায় পাঁচতারা দিলো আর কে একতার দিলো না সেটা নিয়ে আমি কখনো ভাবি না। ট্রাপ হোক আর টোপ হোক আমি মনগড়া কিছু লিখিনি, সত্য টাই লিখেছি। এবং ভবিষ্যতেও লিখবো। ধন্যবাদ হাসি

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

মন মাঝি এর ছবি

আমার মন্তব্যটা আপনার বা আপনার লেখা সম্পর্কে করা হয়নি। ছফা বা ত্রিমাত্রিক কবি সম্পর্কেও না, শুধু 'সফা' বানান সম্পর্কে। বাকিটা আপনার না বুঝলেও চলবে।

****************************************

আয়নামতি এর ছবি

'সফা' নয় 'ছফা' খাইছে

এক লহমা এর ছবি

কুতায় খাপ খুলতিছ দিদিভাই, এ যে পলাশীর প্রান্তর! তুমার মন্তব্যটারে ঘ্যাচাং দিয়া পলায় আইস। এইখানে সফা/ছফা সবাই সব জানে। ফুকুশিমার তাপ কোথায় চড়িছে নজর করিছ কি? আবারও বলি সাইডলাইনে চাপি আস! চোখ টিপি

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

কল্যাণ এর ছবি

এই পুলা বিশাল বদ, আমার ঠেঙ্গাডা গেলো কুতি রেগে টং

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

মন মাঝি এর ছবি

আপনি আচরি ধর্ম পরেরে শিখাও! শয়তানী হাসি

****************************************

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

এই কমেন্টটা অনেকটা কোরান বোঝার মত জ্ঞান এখনও মানুষের হয় নাই কখনও হবেও না, টাইপ লাগল।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

ধ্রুব আলম এর ছবি

হো হো হো

ধ্রুব আলম এর ছবি

একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, যেটা এখানেও উল্লেখিত হয়েছে, হুমায়ুন আজাদ আবদুর রাজ্জাককে নিয়ে বেশ উঁচু ধারণা পোষণ করতেন। ব্যাপারটি আমার সত্য বলে মনে হয়নি। উনি তাকে অত্যন্ত সাধারণ মাপের গবেষক ও বিশ্লেষক হিসেবে গণ্য করতেন এবং পরবর্তীতে অন্যখানে উল্লেখও করেছিলেন যে, যে ব্যক্তির নিজের লেখালেখি নেই, তাকে উনি জ্ঞানী বলতে পারেন না (আমি এ বিষয়ে হুমায়ুন আজাদের সঙ্গে একমত)।

আবদুর রাজ্জাককে মূল্যায়ন করতে গেলে আমাদের 'পরের মুখে ঝাল খেতে হয়'। আর সেটাকে আহমদ ছফা ব্যক্তিপূজোর মাধ্যমে প্রকাশ করেন (যে কেউ 'যদ্যপি আমার গুরু' পড়লেই বুঝবেন)। নির্মম বিশ্লেষণ যদি বলা হয় কে করেছেন; তবে আমি বলবো, হুমায়ুন আজাদ।

তবে এখানে আবদুর রাজ্জাকের পাকিস্তানপন্থি রূপটি প্রকাশিত নয়, তাকে শেখ মুজিবের বেশ ভক্তই মনে হয় বরং। কিন্তু আবদুর রাজ্জাক উদারপন্থি বা পাকিস্তানপন্থি নন, এই সার্টিফিকেট যেমন এ সাক্ষাৎকার দেয় না বা হুমায়ুন আজাদ একা দিতে পারেন না, কারণ তিনি এখানে হয়তো সত্য প্রকাশ হয়তো করেননি বা প্রশ্নগুলোও সেদিকে যায়নি।

এই সাক্ষাৎকারটি পড়ে আর যাই হোক, মনে হয়না হুমায়ুন আজাদ উনার গুণে গুণমুগ্ধ একজন মানুষ। যদিও এটি সে ধারণা তৈরি করেছে অনেকের মাঝেই।

যদিও অফ-টপিক, তাও দেবার লোভ সামলাতে পারলাম না, নিজগুণে ক্ষমা করবেন। হুমায়ুন আজাদের সাক্ষাৎকারের অংশটুকুঃ

আমাদের দেশটি ছোটো, আর এর মানুষরাও বেশ ক্ষুদ্র। প্রথাগত ভুয়োদর্শন আমাদের উপদেশ দেয় বেশি না বাড়ার, বেশি উঁচু না হওয়ার। বেশি বৃদ্ধি পেলে ক্রুদ্ধ ঝড়ে ভেঙে পড়ার ভয় আছে। আমাদের প্রকৃতি ও মানুষ যেনো এ-ভয়ে আতংকিত; তাই অভাব এখানে আকাশ-ছোঁয়া বৃক্ষের, দুর্লভ এখানে মহৎ ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্ব। মাঝারি, নিম্নমাঝারি ও নিম্ন আকারের ব্যক্তি ও বৃক্ষে পূর্ণ আমাদের লোকালয় ও অরণ্য।

কাউকে পাওয়া খুব কঠিন পঞ্চান্ন হাজার বর্গমাইলে, যিনি আয় করেছেন মহত্ত্ব, অর্জনে বা ত্যাগে হয়ে উঠেছেন অসাধারণ, এক রকম বিস্ময় ও কিংবদন্তি। জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক আমাদের এই সময়ের সে-অনন্য পুরুষ, যাঁকে ঘিরে কয়েকদশক ধ’রে জড়ো হয়েছে নানা রহস্য; পরিণত হয়েছেন যিনি জীবিত উপকথা বা কিংবদন্তিতে। ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর বহুমুখি পাণ্ডিত্যের নানা গল্প, জীবনের অসংখ্য উপাখ্যান। শারীরিক সৌন্দর্যে দেবতুল্য নন তিনি যে তাঁকে দেখেই দর্শক ভক্ত হয়ে উঠবে; বাগ্মীও নন তিনি যে শ্রোতা তাঁর বাণী আস্বাদ ক’রে স্পর্শ পাবে অমৃতের। মোটা মোটা বই লিখেননি অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক, অলংকৃত করেননি জ্যোতির্ময় বিভিন্ন আসন; এমনকি নিজের নামের সঙ্গে তিন অক্ষরের একটি উপাধিও যুক্ত করেননি তিনি। তবু তিনিই হয়ে উঠেছেন আমাদের সাম্প্রতিক জ্ঞানজগতের কিংবদন্তি। এর মূলে আছে সম্ভবত দুটি সহজ কিন্তু অসাধারণ কারণ : প্রাচীন ঋষিদের মতো তিনি নিজের দীর্ঘ ও সমগ্র জীবন ব্যয় করেছেন জ্ঞান আহরণে, এবং ঋষিদের মতোই তিনি অবলীলায় অবহেলা ক’রে গেছেন পার্থিব সাফল্য। জ্ঞানের জন্যে এমন তপস্যা-জীবন, সংসার, সাফল্যের কথা ভুলে - এখন দুর্লভ ব্যাপার; আর তাই রূপ লাভ করতে দেখি জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের মধ্যে। শুধুই জ্ঞানের জন্যে সব ত্যাগ ক’রে তিনি হয়ে উঠেছেন এই সময়ের জ্ঞানতাপস।

ছোটখাটো মানুষ অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক। তাঁর ক্ষীণ কাঠামোতে সত্তর বছর ধ’রেই বেশি মেদমাংস জমতে পারেনি। মুখে একগুচ্ছ দাড়ি, চশমার ভেতরে দীপ্ত দু’টি চোখ। কম দামের পাজামাপাঞ্জাবিচাদর পড়েন। চাদরটা কখনো ঝুলতে থাকে গলায়, কখনো জড়ানো থাকে শরীরে। রাস্তায় হাঁটার সময় বাঁ হাতে অনেকটা নিজেকে জড়িয়ে ধ’রে হাঁটেন। বসার সময় গুটিয়ে নেন নিজেকে, যেনো লুপ্ত হয়ে যাবেন আসনের অভ্যন্তরে। হাত দিয়ে যখন কিছু ধরেন, তখন মনে হয় জিনিসটি বোধহয় এখনি গড়িয়ে পড়বে হাত থেকে। ওই হাত যেনো কিছুই ধ’রে রাখতে জানে না।

তাঁর সঙ্গে প্রত্যেক সন্ধ্যায় আমার দেখা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে। দাবা খেলতে ভালোবাসেন তিনি। এটা তাঁর দ্বিতীয় নেশা। পৌনে ছটার দিকে ক্লাবে এসে খেলার সাথী কেউ না থাকলে চুপ ক’রে ব’সে থাকেন নির্দিষ্ট আসনটির এক কোণায়। সাথী এলেই খেলা শুরু হয়ে যায়। তাঁর দাবা খেলায়ই ধরা পড়ে তাঁর চরিত্রের তিনটি বড় বৈশিষ্ট্য। দাবাড়ুরা সাধারণত একটু অহমিকাসম্পন্ন হ’য়ে থাকে – তারা একটি জিনিশ খুবই ঘেন্না করে, তা হলো হারা। খুবই পছন্দ করে তারা জিততে। অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক একের পর এক খেলে যেতে থাকেন, চাল ফেরত দিতে থাকেন বিপক্ষকে; কিন্তু জিতে উল্লাস আর হেরে বিষাদ বোধ করেন না কখনো। তাঁর সারাটি জীবনেও ঘটেছে তাই। জীবনের ইঁদুর দৌড়ে তিনি অংশ নেন নি, কখনো অধিকারের বিজয়ের বাসনায় কেঁপে ওঠেননি তিনি। পরাভুত হ’য়ে বিপর্যস্ত বোধ করেননি কখনো। দাবা খেলার সময় তিনি বিপক্ষের ঘুঁটি একটি একটি ক’রে খান, আর পাশের টেবিলে না জমিয়ে জমাতে থাকেন নিজের বাঁ মুঠোতে। এক সময় মুঠোতে ঘুঁটি জ’মে জ’মে উপচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে প’ড়ে যায় চারদিকে। ধ’রে রাখার অভ্যাস নেই তাঁর। জীবনকেও তিনি এমনভাবেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছেন সত্তর বছর ধ’রে। দাবা খেলেন তিনি মোটামুটি – অধিকাংশ চালই সাধারণ; কিন্তু মাঝে মাঝে তিনি দিতে থাকেন অনুপ্রাণিত চাল আর শিউরে ওঠে দর্শকেরা, কেননা অমন চালের কথা কেউ ভাবেনি। ওই অনুপ্রাণিত দূরদর্শী চালগুলোর মধ্যেই আছেন অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক। জ্ঞানজগতের বিভিন্ন সমস্যা ও বিষয় সম্পর্কেও তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ বেশ সাধারণ। কিন্তু হঠাৎ আলোর ঝলক লেগে কখনো কখনো আলোকিত হয় তাঁর অন্তর্লোক, তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে আসে অনুপ্রাণিত অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ। ওই জ্যোতিটুকুই তো তিনি। তাঁর আরো একটি বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ে দাবার চালেই : তিনি কারও পরামর্শ মতো চাল দেননা তা যতো অসাধারণ চালই হোক, তিনি নিজের বোধে নির্দ্বিধায় দেন খুবই ভুল চাল, এবং হেরে গিয়ে অনুতাপ করেননা। জীবনেও আবদুর রাজ্জাক তেমনি। একটা কোমল অথচ অত্যন্ত শক্ত গোঁ রয়েছে তাঁর ভেতর, যা তাঁকে চালিয়েছে সারা জীবন।

…কথা বলতে বলতে হেসে উঠেন; শব্দ শুনে মনে হয় তাঁর ভেতর খলখল ক’রে উঠছে নিষ্পাপ একটি শিশু। সারা মুখে চোখে ছড়িয়ে পড়ছে সারল্যের দ্যুতি। কথা বলেন ভরাট স্বরে। কখনোই বিশুদ্ধ চলতি বাঙলা বলেননা। আঞ্চলিক, চলতি বাঙলা ও ইংরেজী মিশিয়ে কথা বলতে থাকেন...আটপৌরে কথা বলেন ঢাকার আঞ্চলিক ভাষায়...

...বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একটি পুরোনো বাংলোবাড়ির একতলায় বাস করেন তিনি। বাড়িটি তৈরী করা হয়েছিলো ১৯০৬ সালে বাঙলা ও আসামের একাউন্টেন্ট জেনারেলের বাসগৃহ হিসেবে। একটি বিশাল কক্ষে তিনি একলা থাকেন – চিরকুমার ও অবিবাহিত এ-বয়স্ক জ্ঞানতাপস বিশাল কক্ষটিতে নিঃসঙ্গ ঋষির জীবনযাপন ক’রে যাচ্ছেন বিশশতকের দ্বিতীয়ার্ধে। দিনের বেলা কক্ষটিতে ছড়িয়ে থাকে কিছুটা আলো আর অনেকটা অন্ধকার। কক্ষটির দক্ষিণ দিকে একটি বিরাট পড়ার টেবিল, বসার জন্য রয়েছে আরামদায়ক চেয়ার। কক্ষের এদিকে সেদিকে শুধু বই – সাহিত্য, অর্থনীতি, শিল্পকলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব, ইতিহাস, দাবা ও আরো অজস্র বিষয়ের বই। বইগুলোর মধ্যে খুবই স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে বিশ্বকোষগুলো...

...একদিন দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়েছে। আমি তাঁর বাসায় প্রবেশ করি। তাঁর ঘরে ঢুকেই থমকে দাঁড়াই, বাইরের উজ্জ্বল আলোর সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থা ঘরটিতে। উঁচু সিলিংয়ের বিশাল ঘর ভ’রে ছড়িয়ে আছে অন্ধকার। অন্ধকার টেবিল, তাকে এখানে সেখানে দাঁড়ানো এলানো ছড়ানো বইগুলোকে ছায়ামূর্তির মতো মনে হলো...এ-বাড়িতে কোনো শিশুর কোলাহল নেই, যদিও শিশুদের তিনি খুব ভালোবাসেন। কোনো নারীর স্পর্শ নেই, চুলের ঘ্রাণ নেই...ছোটো চৌকিটিতে আরো ছোটো হয়ে ঘুমিয়ে আছেন তিনি। জাগরণে কিছু অধিকার করতে চাননি কখনো তিনি, নিদ্রার মধ্যেও কোনো অধিকার বিস্তার করেননি...

...অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের মতো মানুষদেরই বোধহয় পুরোনো কালে জাতিস্মর বলা হতো। বাল্যকাল থেকেই সব দেখে এসেছেন দু-চোখ খুলে, আর স্মৃতিতে তা জমে আছে অমলভাবে। তবে তিনিও জানেন স্মৃতি বড়ো প্রতারক। জ্ঞান অর্জন করেছেন তিনি দুটি উপায়ে; - নিরপেক্ষ নিস্পৃহ দর্শক হিসেবে, আর পুস্তক পাঠ ক’রে...উৎসাহ তাঁর সব কিছুতে; মানববিষয়ক সব কিছুতেই তাঁর উৎসাহ, তাই জ্ঞানের যে-সমস্ত শাখা মানবকেন্দ্রিক, তার সবই আয়ত্তের সাধনা করেছেন তিনি...

...অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক জন্মেছিলেন আজ থেকে প্রায় সত্তর বছর আগে। ১৯১৪ সালে। জন্মের তারিখ জানেন না তিনি...

...ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রজীবন শুরু হ’তে-না-হ’তেই একজন তাঁকে ঢুকিয়ে দিয়েছিলো জ্ঞানের জগতে। একদিন তিনি পাঠাগারের বইয়ের আলমারিগুলোর কাছে ঘুরঘুর করছিলেন। যেখানে সারিসারি বইভরা আলমারি সেখানে ঢোকার অধিকার ছিলো না ছাত্রদের। তিনি তাকিয়ে দেখছিলেন বইয়ের আলমারিগুলো। বুড়ো লোকটি, যে ভেতর থেকে বই এনে দিতো, সে জ্ঞানার্থী আবদুর রাজ্জাকের দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকায়।কী চাও? তাঁকে জিজ্ঞেস করে বুড়ো লোকটি।বই পড়তে চাই। উত্তর দেন তরুণ ছাত্র আবদুর রাজ্জাক।ভিতরে ঢুইক্কা বই দেখতে চাও? বেশ দয়ালু কণ্ঠে জানতে চায় বুড়ো।হ, ঢুকতে দিলে তো ভিতরে যাই। উত্তর দেন আবদুর রাজ্জাক।বুড়ো লোকটি তাঁকে নিয়ে যান ভেতরে, যেখানে শুধু বই আর বই...

হুমায়ুন আজাদ – আপনি কি মনে করেন উপাচার্য হওয়ার জন্য পণ্ডিত হওয়া দরকার?
আবদুর রাজ্জাক – না, একেবারেই না। উপাচার্য পদটা তো বুড়ো বয়সে পাণ্ডিত্যের পুরস্কার না। উপাচার্য পদের জন্য দরকার ভালো প্রশাসক, পণ্ডিতের দরকার নাই।

হুমায়ুন আজাদ – ক্লাসে বক্তৃতা দিতে কেমন লাগতো আপনার?
আবদুর রাজ্জাক – খুব খারাপ। ছাত্রদের মুখের দিকে চাইলেই খুব মায়া হতো। মনে হতো আহা, ওদের কোনো কিছুতেই কোনো আগ্রহ নাই। আমার কথায় তো নয়ই। দু-একটি ছাত্র আমাকে জানিয়েছিলো আমি নাকি এক আধটি ছেলের মুখের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে বক্তৃতা দিয়ে যেতাম। পুরোনো কলাভবনে আমার ক্লাসের পাশেই ছিলো একটি পুকুর। সেই পুকুরে হাঁস ভাসতো অনেকগুলো। আমি জানলার বাইরে পুকুরের হাঁসগুলোর দিকে তাকিয়ে বক্তৃতা দিয়ে ঘন্টা শেষ করতাম।

হুমায়ুন আজাদ – পাকিস্তান বলতে এখন আমরা ইসলামি পাকিস্তান বুঝি। আপনারাও কি ইসলামি পাকিস্তান চেয়েছিলেন?
আবদুর রাজ্জাক - মোটেই না। পাকিস্তানে ধর্মের বাড়াবাড়ি পরবর্তী ঘটনা। মুহম্মদ আলি জিন্নাহকে ধার্মিক লোক বলা যায় না, ইসলামের জন্য তাঁর বিশেষ মাথাব্যথা ছিলো না। ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্টে পাকিস্তানের স্বাধীনতা উৎসব অনুষ্ঠানটি আর ১৫ই আগস্টে ভারতের স্বাধীনতা উৎসব অনুষ্ঠানটি তুলনা করলেই ব্যাপারটা বোঝা যায়। পাকিস্তানের স্বাধীনতা উৎসবের প্রোগ্রামে ধর্মের কোনো নামগন্ধও ছিলো না। মওলানা আকরাম খাঁ, শাব্বির আহমদ ওসমানি, লিয়াকত আলিকে দিয়ে জিন্নাকে অনুরোধ জানান অনুষ্ঠানে কিছু ধর্মকর্ম রাখতে। অনুষ্ঠান শুরু হ’লে দেখা যায় জিন্না সরদার আওরঙ্গজেব খানকে ডাকেন কোরান থেকে কিছু আবৃত্তির জন্যে। আওরঙ্গজেব খান ধর্মের ধার ধারতেন না। তিনি মঞ্চে এসে দু-একটা সুরাকলমা প’ড়েই বিদায় নেন। অন্যদিকে ভারতের স্বাধীনতা অনুষ্ঠান হয়েছিলো সম্পূর্ণরূপে হিন্দুবিধিমতে। পাকিস্তানে ধর্মের বাড়াবাড়ি পাকিস্তান হওয়ার পরের ঘটনা।

১৯৪৫ সালে উচ্চশিক্ষার্থে বিলেত যাত্রা করেন অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক। পড়াশোনা করবেন নিজের খরচে। সম্বল মাত্র সাড়ে চারশো পাউণ্ড। বোম্বে থেকে জাহাজে উঠেন। সৈনিকদের জাহাজ। পাঁচ হাজার সৈন্য আর চারশো যাত্রী নিয়ে উনিশ দিনে জাহাজ বিলেতে পৌঁছোয়। বিলেতে থাকেন পাঁচ বছর নিজের খরচে। মাঝে বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে গ্রন্থাগারবিজ্ঞান পড়ার জন্য আরো সাড়ে চারশো পাউণ্ড দেয়। মোট নশো পাঊণ্ডে, মাসে পনেরো পাউণ্ড ব্যয় ক’রে, পাঁচ বছর কাটিয়ে দেন।

...ডিগ্রী না নিয়ে প্রচুর বই ও প্রচুর অধীত বিদ্যা নিয়ে মালজাহাজে চেপে দেশে ফিরে আসেন আবদুর রাজ্জাক। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে যোগ দেন। পদোন্নতির জন্যে কখনো দরখাস্ত করেননি, যদিও কয়েকবার তাঁকে পদোন্নতি দেয়ার চেষ্টা করা হয়...

...কোনো উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়িত না করার ঋষিসুলভ ঔদাসীন্য তাঁর স্বভাবগত। থেকে গেছেন চিরকুমার ও অবিবাহিত। কোনো বই লেখার উদ্যোগ নেন নি। পড়েছেন বিপুল, জ্ঞান দান করেছেন ঘনিষ্ঠ ছাত্রদের, যারা তাঁর কাছে এসেছে, বা তিনি খুঁজে বের করেছেন যাদের...

...অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাককে অনেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনীতিকের মিশ্রণ ব’লে মনে করেন। ১৯৮০র মে মাসে তিনি ‘স্টেট অব দি নেশন’ নামে একটি বক্তৃতা দেন। তাঁর বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন অনেকেই। অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের ব্যাখ্যা ও সিদ্ধান্তের বিরোধিতা ক’রে সলিমুল্লাহ খান বাংলাদেশ : জাতীয় অবস্থার চালচিত্র নামে একটি বই’ই রচনা করেন; সম্প্রতি অধ্যাপক মনসুর মুসাও একটি প্রবন্ধে অধ্যাপক রাজ্জাকের বক্তব্যের ত্রুটি ধরেছেন। ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটি অনেকেরই আক্রমণের লক্ষ্য, কেননা তাঁরা মনে করেন ওই শব্দটি রাজনৈতিক ও দলীয়, তা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক আলোচনায় ব্যবহৃত হ’তে পারে না...

হুমায়ুন আজাদ – আপনি কি ‘জাতির পিতা’ ধারণায় বিশ্বাস করেন?
আবদুর রাজ্জাক – ‘জাতির পিতা’ ধারণাটি দিয়ে বোঝানো হয়ে থাকে যে একটি লোকের মধ্যেই জাতির আশাআকাঙ্ক্ষা মুর্ত হয়ে ওঠে। একটি জাতির আশাআকাঙ্ক্ষা ও আরো বহু ব্যাপার সংক্ষেপে জড়ো হয় ওই একটি শব্দবন্ধে। ওয়াশিংটনকে যখন বলা হয় আমেরিকার জাতির পিতা, গান্ধিকে ভারতের, জিন্নাকে পাকিস্তানের, তখন শুধু এটাই বোঝানো হয় যে ওই কয়েকজন মানুষ স্বাধীনতা লাভের জন্য বিশেষভাবেই গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমানও ওই অর্থে বাঙলাদেশের স্বাধীনতা লাভের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন।

হুমায়ুন আজাদ – শেখ মুজিব যেভাবে দেশ শাসন করছিলেন তাতে কি তাঁর রক্তাক্ত পরিণতি অনিবার্য ছিলো
আবদুর রাজ্জাক – বিশেষ কোনো পদ্ধতিতে দেশ শাসনের অনিবার্য পরিণতিরূপে হত্যাকাণ্ডকে মেনে নেওয়া যায় না। ব্যাপারটি বোঝার জন্যে জানতে ও বুঝতে হবে হত্যাকারী কারা? কী এমন ঘটেছিলো যাতে তারা এতোটা বিক্ষুদ্ধ হলো যে তাদের হত্যার পথ বেছে নিতে হলো? তিনি কীভাবে দেশ শাসন করতেন সে-ব্যাপারটি এই হত্যার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতিক দর্শন ঠিক কি ভ্রান্ত আমি সে-বিবেচনায় যেতে যাই না, শুধু এটুকুই বুঝতে পারি যে তিনি একটা ব্যাপার বিশেষভাবে স্পষ্ট ক’রে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে সামরিক বাহিনীর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার কিছু নাই। সেনাবাহিনী রাষ্ট্রে যে-গুরুত্ব দাবি করে শেখ মুজিব তাদের তা দিতে রাজী ছিলেন না। তাদের মতে তাদের যথেষ্ট মর্যাদা দেয়া হয় নি। তাদের ক্ষুণ্ণ করার জন্যেই এমন ঘটে।

হুমায়ুন আজাদ – গত এক দশকের বাঙলাদেশি রাজনীতির প্রধান লক্ষণ কী ব’লে আপনার মনে হয়?
আবদুর রাজ্জাক – প্রশ্নটা এতো নির্বিশেষ ভাষায় করা হয়েছে যে উত্তরটাও নির্বিশেষই হবে। এটা ঠিক যে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ – রিকশাওয়ালা, বস্তিবাসীরা শেখ মুজিবুর রহমানের সময় একটু বেশি সোজাভাবে দাঁড়াতো, একটু বেশি শক্তিশালী বোধ করতো। তাঁর পরে যে তারা খুব খারাপ আর্থিক অবস্থায় পড়ে গেছে, বা তাঁর সময়ে যে খুব ভালো আর্থিক অবস্থায় ছিলো, তা না। তবে এটা আমি খুব স্পষ্টভাবেই বুঝি যে এখন বিপুল সংখ্যক মানুষ অনেকটা অসহায় বোধ করে, আগে এমন অসহায় বোধ করতো না। সমাজের যত বেশি সংখ্যক মানুষ বুঝতে পারে যে সমাজে তারাও গুরুত্বপূর্ণ, তারাও সমাজের জন্যে অপরিহার্য, ততোই ভালো। গান্ধি বা জিন্না জনগণের নেতা ছিলেন, জনগণের অংশ ছিলেন না, কিন্তু মুজিবের সময় জনগণ এমন বোধ করতে থাকে যে শেখ মুজিব তাদেরই অংশ। বর্তমানে এ-অবস্থাটা নাই।

হুমায়ুন আজাদ – আমার কাছে বাঙলাদেশের সমাজকে নষ্ট সমাজ ব’লে মনে হয়। আপনার কেমন মনে হয়?
আবদুর রাজ্জাক – আমি এর সঙ্গে একেবারেই একমত নই। বরং আমার কাছে এই এলাকাটিকেই সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল এলাকা ব’লে মনে হয়। বাঙলাদেশে ছোটো থেকে বড় হওয়ার, তুচ্ছ অবস্থা থেকে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার যে-সুযোগ রয়েছে, তা এই উপমহাদেশের আর কোথাও নাই। শুধু উপমহাদেশে কেনো, সারা পৃথিবীতেও নাই।

অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বিশেষ কোনো দার্শনিক বা তাত্ত্বিক ধারার অনুসারী নন। তাঁকে উদার মানবতাবাদী বললে খিলখিল ক’রে হেসে ওঠেন, বুর্জোয়া চিন্তাধারার বললেও তেমনি হাসেন। তিনি জ্ঞানান্বেষী, যে-কোন ধারা থেকে তা আহরণে তিনি উৎসাহী। রাষ্ট্রচিন্তায় তিনি গণতান্ত্রিক। আর্থিক শোষণহীন গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা সম্ভবত তাঁর পছন্দ। বাঙলাদেশের জন্যে কোন ধরনের ব্যবস্থা তাঁর কাম্য, স্পষ্টভাবে তিনি তা জানাতে দ্বিধান্বিত, কেননা তাঁর বিশ্বাস যে-কোনো ব্যবস্থাই কালপরম্পরায় পরিবর্তিত হয়ে যেতে বাধ্য।

হুমায়ুন আজাদ – শ্রেণীহীন সমাজব্যবস্থা আমাদের জন্য কতোটা দরকার?
আবদুর রাজ্জাক – আর্থনীতিক অসাম্য থাকা উচিত না, বেশি অসাম্য থাকা ভয়ংকর। একেবারে থাকবে না, এটাকে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য বলে মনে হয় না। ষাট বছর কেটে যাওয়ার পরেও সোভিয়েট ইউনিয়নে শতকরা দশজন লোক কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য, আর ওই শতকরা দশজন লোকই সব কিছু স্থির ও নিয়ন্ত্রণ করে। এটাতো অসাম্য দূর করার কথা না। আর্থনীতিক অসাম্য দূর হয়েছে, আর বেশি কিছু না। শুধু অর্থনীতির ওপর গুরুত্ব দিলে সমাজকে তো ঠিকমতো সংজ্ঞায়িত করা হয় না। আমি যদি ব্যক্তি হিশেবে মূল্য না পাই অথচ আমার আয় যদি অন্যের সঙ্গে সমান হয়, তবে তা মূল্যবান না। এটা ঠিকই সোভিয়েট ইউনিয়নে আর্থ অসাম্য দূর হয়েছে। তবে তার জন্যে মূল্য দিতে হয়েছে। সেই মূল্য হচ্ছে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে অবিমিশ্র অসাম্য।

হুমায়ুন আজাদ – বিশ্বব্যাপী এখন রাজনীতিতে মন্দির-মসজিদের প্রত্যাবর্তন ঘটছে। আপনার কি মনে হয় আগামী পঞ্চাশ বছরে সারা গ্রহ ভ’রে বিভিন্ন রকম ধর্মরাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে?
আবদুর রাজ্জাক – ধর্মের মূল কথা হচ্ছে এই জীবন মৃত্যুপরবর্তী এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মহান জীবনের একটি অত্যন্ত গৌণ উপাংশ মাত্র। এ ছাড়া ধর্মের আর কোনো সংজ্ঞা নাই। আমার মনে হয় না যে এমন বিশ্বাসের পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভের কোনো যুক্তিসঙ্গত সম্ভাবনা আছে। এখন মানুষ নানান কথা কয়ে তাকে ধর্ম বলে চালানোর চেষ্টা করছে। ওই বিশ্বাস যে এ-জীবন তাৎপর্যপূর্ণ নয়, পরলোকই সব, এমন বিশ্বাস ফিরে আসে নাই। পাঁচ-ছশো বছর আগে মানুষেরা সত্যিই বিশ্বাস করতো যে এ-জীবন নশ্বর, আসল জীবন প’ড়ে আছে সামনে মৃত্যুর পর। এখন ধর্ম বলতে যা বলা হয় তা আমি বুঝি না।

হুমায়ুন আজাদ – পৃথিবী এখন যারা চালাচ্ছে, তাদের কতোজনকে আপনি উন্মাদ বা অসুস্থ মনে করেন?
আবদুর রাজ্জাক – উন্মাদ কিনা বলতে পারিনা, তবে পৃথিবী যারা চালাচ্ছে, যেমন আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, জাপান প্রভৃতি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরা সবাই বুড়ো, অনেকটা বাতিল মানুষ...যারা এখন পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ, তাদের কেউ পাঁচ-দশ বছরের বেশি বাঁচবে না। আমার ধারণা পৃথিবীর তরুণেরা তাদের শাসকদের চেয়ে নিজেদের মধ্যে অনেক বেশি মিল দেখতে পায়...বয়স যত বাড়ে মানুষ ততো আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে, অন্যের কথা মনে থাকে না। আর এ-দেশে তো তা ভয়াবহ।

হুমায়ুন আজাদ – তবু পৃথিবীটা তো বুড়োরাই চালাচ্ছে!
আবদুর রাজ্জাক – এই তো পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো বিপদ।

হুমায়ুন আজাদ – আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে জ্ঞানচর্চার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আপনি কী ধারণা পোষণ করেন?
আবদুর রাজ্জাক – আমাদের সমাজে লেখাপড়া বেড়েছে, শিক্ষায় অনেক অগ্রসর হয়েছি আমরা। কিন্তু জ্ঞানের ক্ষেত্রে আমরা কতোটা কন্ট্রিবিউট করতে পারছি, তা পরিমাপ করার সহজ কোন উপায় নাই। আমরা কেউই এতো পণ্ডিত না যে জ্ঞানের হাজারটা শাখায় কে কী করছে, তার মূল্যায়ন করতে পারি। তবে আন্তর্জাতিক সমতার মানদণ্ড প্রয়োগ ক’রে কিছুটা হিশেব করা যেতে পারে। পৃথিবীর উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্রশিক্ষকদের সঙ্গে তুলনা করতে পারি আমাদের ছাত্রশিক্ষকদের। আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই যে আমাদের বিপুল সংখ্যক তরুণ পৃথিবীর প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শ্রেষ্ঠ ছাত্রদের সমতুল্য বা প্রায় সমতুল্য। ’৪৭ এর আগে এমন ছিলো না।

হুমায়ুন আজাদ – আমাদের সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যেমন বিশ্ববিদ্যালয়, বিচারালয়, বিভিন্ন একাডেমি বিশেষ মহিমা অর্জন করতে পারছে না। এর কী কারণ ব’লে আপনার মনে হয়?
আবদুর রাজ্জাক – ওইসব প্রতিষ্ঠানের মহিমা বা মূল্য কতোটা তা ওই আন্তর্জাতিক সাম্যের মাপকাঠি দিয়েই নির্ণয় করতে হবে। আমি এ-দেশের জাতীয় অধ্যাপক, বিদেশে গিয়ে যদি সহকারী অধ্যাপকও হ’তে না পারি, তবে মহিমা থাকে কোথায়? শিল্পী, কবি, শিক্ষক, সেনাবাহিনী, আমলা সব কিছু মাপার জন্যেই দরকার আন্তর্জাতিক সাম্যের মাপকাঠি। আমার ধারণা ওই প্রতিষ্ঠানগুলো যা ব’লে নিজেদের দাবি করে, কিন্তু তা হয়ে উঠতে পারে নাই ব’লেই এমন অবস্থা।

হুমায়ুন আজাদ – আপনি তো আশাবাদী।
আবদুর রাজ্জাক – আমি জানি না। আমি তথ্য নিই, আর তথ্যভিত্তি ক’রেই সিদ্ধান্তে পৌঁছি।

হুমায়ুন আজাদ – আপনি তো বেশ ঠাণ্ডা মেজাজের মানুষ।
আবদুর রাজ্জাক – সাধারণত। তবে মাঝে মাঝে মেজাজ নষ্ট হয়। কম বয়সে বেশি নষ্ট হতো।

হুমায়ুন আজাদ - প্রথাগত ব্যাপার ও চিন্তার প্রতি কি আপনি শ্রদ্ধাশীল?
আবদুর রাজ্জাক – শুধু প্রথাগত ব’লেই কোনো কিছুকে উড়িয়ে দেয়ার প্রয়োজন বোধ করি না, আবার প্রথাগত ব’লেই মেনে নেয়ার প্রয়োজনও বোধ করি না।

হুমায়ুন আজাদ – আপনি কি প্রথাগত ধর্মে বিশ্বাসী?
আবদুর রাজ্জাক – বিশ্বাস অবিশ্বাসের কথাটা ওঠে না। কারণ ধর্ম সম্পর্কে কথাবার্তা বলার আগ্রহ আমি কখনো বোধ করি নাই।

হুমায়ুন আজাদ – মৃত্যু সম্পর্কে ভাবেন?
আবদুর রাজ্জাক – বিশেষ না। তবে মরতে হবে এই পর্যন্ত নিশ্চিত।

হুমায়ুন আজাদ – জ্ঞানের কোন শাখাগুলো আপনাকে আকর্ষণ করে?
আবদুর রাজ্জাক – মানুষ সম্পর্কে যা তার সবই।

হুমায়ুন আজাদ – শুনেছি বাজার করতে আপনি পছন্দ করেন?
আবদুর রাজ্জাক – খুব। নিয়মিত বাজার করা শুরু করেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার পর। রান্না শিখেছি ছোটবেলায়ই। আমি যে-কোন দেশে গেলেই দুটি জিনিশ দেখি, একটা কাঁচাবাজার, অন্যটা বইয়ের দোকান। আমার মনে হয় কাঁচাবাজার আর বইয়ের দোকান সম্ভবত সমাজের অবস্থার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নির্দেশক। যে-দেশে বইয়ের দোকান নাই সে-দেশে লেখাপড়া খুব হয় তা বিশ্বাস করি না। কাঁচাবাজার দেখলেই বোঝা যায় দেশের অবস্থা কেমন। বইয়ের দোকানে গিয়ে কী ধরনের বই পাওয়া যায়, কেমন বিক্রি হয়, তা দেখেই দেশের জ্ঞানচর্চার অবস্থা বোঝা যায়। একবার তুরস্কে গিয়েছিলাম। সেখানে বইয়ের দোকানে শতকরা ত্রিশপঁয়ত্রিশটা বই কম্যুনিজম সম্পর্কে, শতকরা ত্রিশপঁয়ত্রিশটা বই ইসলাম সম্পর্কে। সুতরাং ওই দেশে যে টেনশন থাকবে তা বোঝার জন্য হাফেজ হওয়ার দরকার নাই।

হুমায়ুন আজাদ – আপনি যাঁদের সংস্পর্শে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্তত দুজনের নাম বলবেন, যাঁদের আপনি অসাধারণ ব’লে গণ্য করেন?
আবদুর রাজ্জাক – জয়নুল আবেদীন, জসীমউদ্দীন। অসাধারণ বলতে সাধারণত যা বোঝা হয় তার থেকে খুবই ভিন্ন রকম এঁরা। জসীমউদ্দিন যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন, তখন নানাজন খুবই বিরক্ত করেছে তাঁকে। আমি বলতাম আমরা ম’রে গেলে কেউ নামও নেবে না, জসীমউদ্দীনের নাম অনেক বছর থাকবে।

হুমায়ুন আজাদ – সৃষ্টিশীল ও পণ্ডিতদের মধ্যে কোন শ্রেণীটিকে আপনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন?
আবদুর রাজ্জাক – গুরুত্বপূর্ণ তো নিঃসন্দেহে সৃষ্টিশীল মানুষ, তবে মানুষ হিসেবে তাঁরা এমন যে তাঁদের সঙ্গে বাস করা খুবই কঠিন। আমরা শিক্ষকেরা তো পাণিনিও না, পাণিনির টীকাকার মাত্র।

হুমায়ুন আজাদ – আপনি কোন বই লিখলেন না কেনো?
আবদুর রাজ্জাক – আলস্যবশত। হয়তো বা জেনেছি, তাও খুবই অকিঞ্চিৎকর। তবে এটা প্রতারণাও হ’তে পারে।

হুমায়ুন আজাদ – আপনার যা চরিত্র তাতে তো আপনার হওয়া উচিত ছিলো একজন সুখী আর সংসারী ব্যক্তি।
আবদুর রাজ্জাক – আমি সুখী আর সংসারী দুই-ই তো।

হুমায়ুন আজাদ – আপনি আর কতো বছর বাঁচবেন বলে আশা করেন?
আবদুর রাজ্জাক – আমি যে-কোন মুহূর্তে বিদায়ের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। কোনো দুঃখ নাই। কতো বছর বাঁচবো, তা ভাবি না। জীবনমৃত্যু সম্পর্কে আমি বেশি ভাবি না। আমি অনেক বেঁচেছি, সত্তর বছর। নিজের হাতে জীবন নেবো, এই কথা কখনো ভাবি নাই, যে-কোনো মূহূর্তে মারা গেলে দুঃখ নাই। অনেক তো বেঁচেছি।

...দিনরাত্রির রহস্যজড়ানো একটি বড় ঘরে ব’সে আছি আমরা দুজন; একজন বলেন, ‘অনেক বেঁচেছি।’ আরেকজন মনে মনে বলে, ‘আমি আরও বাঁচতে চাই।’ একজন অনেক জেনেছেন, তার মৃত্যুর কোনো ভয় নেই। অন্যজন জানে নি কিছুই, কিন্তু মৃত্যুর ভয়ে সারাক্ষণ আতংকিত......আমার মুখোমুখি এখন এক কিংবদন্তী; জ্ঞানের ও ঔদাসীন্যের, কিন্তু আলোআঁধার জড়ানো সন্ধ্যায় আমার চোখ দেখতে পাচ্ছে একজন মানুষকে, যাঁর পোশাক, বসার ভঙ্গি, উচ্চহাসি আর দশজনের মতোই সহজ সরল সাধারণ।এ সাধারণত্বকেই তো অসাধারণ ক’রে তুলেছেন নিজের জীবনে অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক – একালের জ্ঞানতাপস – শুধু জ্ঞানের জন্যে জীবনকে অবহেলা ক’রে।

জ্ঞানের কাছে জীবন পরাভুত হ’লে জন্ম নেন একজন অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক।

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

ধ্রুব আলম,
আবদুর রাজ্জাকের এই সাক্ষাৎকারটি কি সেইটি, যা সাপ্তাহিক বিচিত্রায় প্রকাশিত হয়েছিল?

ধ্রুব আলম এর ছবি

দুঃখিত আমি জানিনা। আমি পেয়েছি, হুমায়ুন আজাদের চারটি সাক্ষাৎকারের যে বইটি আছে, ওখান থেকে।

১। আবদুর রাজ্জাক
২। আহমদ শরীফ
৩। শওকত ওসমান
৪। শামসুর রাহমান

উনি ৫ম ব্যক্তি হিসেবে কামরুল হাসানেরও একটি সাক্ষাৎকার নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু নেয়ার আগেই তিনি (কামরুল হাসান) মারা যান। ইয়ে, মানে...

মাসুদ সজীব এর ছবি

চলুক

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

কল্যাণ এর ছবি

চলুক

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

মাহবুব লীলেন এর ছবি

মাত্র একখান পুস্তক ধরে ছফা-রাজ্জাক সবাইরে তিন কথায় বাতিল করে দিলেন... আপনার ক্ষমতায় মুগ্ধ না হয়ে পারলাম না....

মাসুদ সজীব এর ছবি

‌১। ছফাকে আমি বাতিল করার কেউ না, আমি বলেছি ছফা মিথ্যাচার করেছেন, সত্য ঢেকেছেন। শেখ মুজিবের খুনকে তিনি সরলীকরণ করেছেন। সেই সরলীকরণ এখনো চলে, শেখ মুজিবের দু:শাসন নাকি উনার স্ব-পরিবারে মৃত্যুর জন্যে বড় কারণ। সেটি যদি হয়ে থাকে তাহলে পাকিস্থানের ভুট্রো সাহেবের আগেই শেখ মুজিবের হত্যার কথা জানতে চাওয়া, হেনরি কিসিঞ্জারের ষড়যন্ত্র সব মিথ্যে হয়ে যায়। মিথ্যে হয়ে যায় পাপিস্থান মনা ষড়যন্ত্রকারীদের সকল চক্রান্ত।

২। রাজ্জাক সাহেবকে নিয়ে উনার অতি অন্ধ ভক্তির কথা বলা হয়েছে। রাজ্জাক সাহেব বলেছেন ”জিন্নাহ মারা যাওয়ার পর শেখ মুজিব হাউমাউ করে কেদেঁছেন। কেদেঁছেন কি কাদেঁননি সে তর্কের চেয়েও বড় কথা হলো উনি অন্ধ ভাবে সেটি বিশ্বাস করেছেন। প্রমাণ দেখেননি, এবং প্রমাণ ছাড়া তিনি সেই কথা নানান সাক্ষাৎকারে বলে বেড়িয়েছেন। এটা কি অন্ধ ভক্তি নয়? যদ্যপি আমার গুরু বইটিতে ছফা, আব্দুর রাজ্জাককে ছয় দফার মূল প্রণেতা বানিয়েছেন। এটার কোন প্রমাণ তিনি দেননি? তাহলে প্রমাণ ছাড়া কিসের ভিত্তিতে ছফা এমন সিদ্ধান্তে এসেছেন? প্রমাণ ছাড়া ইতিহাসের এমন গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়ে কাউকে মূল প্রণেতা বানিয়ে দেওয়া কি অন্ধ ভক্তি নয়?

৩। এস এম সুলতানকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করতে গিয়ে উনি জয়নুল আবেদীনকে একজায়গায় বলেছেন ভারতীয় আর্টিস্ট আরেক জায়গায় বলেছেন সাধারণ প্রতিভা। কামরুল ইসলামও তাই। একজন কে নীচু প্রমাণ করে কি আরেকজনকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করা কতটা যুক্তিযুক্ত?

পোষ্টে অনেকে বলছেন সরলীকরণ হয়েছে, একটা-দুইটা বই পড়ে উনাকে বুঝা যাবে না। ‍উনাকে বুঝতে উনার সব বই মুখস্থ করে আসতে হবে ভাবটা এমন। আমি উনার নিজ মুখের যে তথ্যগুলো দিয়েছি সেগুলোর মাঝে কোন মিথ্যে আছে কিনা অথবা উনার কথার আমি কোন ভুল ব্যাখা দিলাম কিনা সেটি আমাকে ধরিয়ে দিন। আমার ভুল হলে আমি শুধরে নিবো। কিন্তু সেটা না করে আমি কয়টা বই পড়েছি কিংবা আদৌ পড়েছি কিনা সেই আলোচনা অপ্রয়োজনীয় বরং এটা অনেকটাই ব্যাক্তি আক্রমন।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

ছফা'র লেখা বেশি পড়ি নাই, আরো পড়ে দেখতে হবে দেখছি ইয়ে, মানে...

গত হপ্তায় "স্টেট অফ দ্য নেশন" কিনছি, এইবার তাইলে পইড়া দেখুম

[ তবে "যদ্যপি আমার গুরু" ভালো লাগে নাই... কেন ব্যাখ্যা করতে পারুম না... তয় বইটা কেমুন জানি... ভাষ্যের কতটা রাজ্জাকের আর কতটা ছফার যাচাই করার কোনও উপায় নাই... তার ওপর ছফা নিজেই বার বার স্বীকার করেছেন তিনি নোট রাখেননা এবং অনেক কথা মনে রাখত পারেননা... সব মিলায়ে বিভ্রান্তিকর... রাজ্জাক সাহেবের নিজের লেখালেখি যেহেতু নাই, তার সম্পর্কে বাকিদের স্মৃতিচারণের ক্রসচেকিং ছাড়া উপায় নাই বোধহয় ]

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

ধ্রুব আলম এর ছবি

'যদ্যপি আমার গুরু' আমারও ভাল লাগে নাই, কিন্তু বেশ সুপাঠ্য। কনটেন্ট নিয়ে কথা উঠতে পারে, তবে পড়তে ক্লান্তি আসেনি।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

একমত, ছফা'র সব বইই বেশ সুপাঠ্য এবং পড়তে ক্লান্তি আসেনি।

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

মাসুদ সজীব এর ছবি

আমিও একমত ছফার লেখা বেশ ‍সুপাঠ্য। যা পড়েছি কখনো ক্লান্তি আসেনি। উনার উপন্যাসগুলো আমার বেশ প্রিয়, সেটি আমি লেখায় উল্লেখ করেছি তারপরও দেখি অনেকে অভিযোগ করেছেন আমি ছফাকে বাতিল করেছি। আমি শুধু উনার রাজনৈতিক মতবাদ আর ইতিহাস বলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি। পাশাপাশি উনার অন্ধ গুরু ভক্তি আমার ভালোলাগেনি সেটা প্রকাশ করেছি।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

চলুক

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

ধ্রুব আলম এর ছবি

আপনি ছফাকে বাতিল করলেই বা কার কি? আপনি কাকে বাতিল করলেন, কেন করলেন সেটি যদি বুঝাতে সক্ষম হন, তবে তো হয়েই গেল।

যেমন হুমায়ুন আজাদ, আল মাহমুদকে বাতিল করে ব্যাখা দিয়েছিলেন।

আর আপনি মোটেই বাতিল করেননি। আমিও করিনি, অনেকেই করেন না, করবেন না, করা ঠিক হবে না। তবে তার সমালোচনা হতেই পারে। বরং না হওয়াটাই সমীচীন নয়।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

তার সমালোচনা হতেই পারে। বরং না হওয়াটাই সমীচীন নয়।

চলুক

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

কল্যাণ এর ছবি

ঠিক চলুক

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

আয়নামতি এর ছবি

“আমরা একে-অন্যের শক্তিকে হয় অবমূল্যায়ন করি নয়তো অতিমূল্যায়ন করি। খুব কম মানুষ আছে যারা অন্যের সম্পর্কে যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারে। এটা একটা বিশেষ গুণ। উঁচু মাপের মহৎ মানুষেরাই তা পারে। ”–আন্দ্রেই তারকোভস্কি

মাসুদ সজীব এর ছবি

মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ হাসি

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

এক লহমা এর ছবি

পোস্ট আর তার পক্ষে-বিপক্ষে সমস্ত মন্তব্য নিয়ে আমার মত লোকের জন্য এ পোস্ট এক চিহ্নিত করে রাখার মত প্রাপ্তি। চিহ্নিত করে রাখলাম।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

মাসুদ সজীব এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- হাসি

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

ছফা মিথ্যাচার করেছেন বলার চেয়ে তিনি বিভ্রান্তিতে ভুগেছেন বলাটাই বোধ হয় শ্রেয়, বিশেষত বঙ্গবন্ধু বিষয়ে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের আগে এবং পরে অনেক বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর মানুষ তাদের নিজের নিজের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর রাজনৈতিক কর্মকান্ড বিষয়ে নানা মত প্রকাশ করেছেন, ছফাও করেছেন। তিনি জাসদের রাজনীতির ধারক ছিলেন, সিরাজ সিকদারের সাথেও তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। জাসদ বৈজ্ঞানিক সমাজন্ত্রের শ্লোগান ব্যবহার করলেও জাসদের নেতা কর্মীরা আদৌ সমাজতন্ত্রের ধ্যান ধারনার সাথে একাত্ম ছিলেন কি না সে প্রশ্ন বার বার উঠেছে। জাসদের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মেজর জলিল কয়েক বছর পরেই হাফেজ্জী হুজুরের ইসলামী খেলাফত দলে ভিড়ে যান, জাসদের প্রধান তাত্ত্বিক সিরাজুল ইসলাম খান এবং প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারন সম্পাদক আসম আব্দুর রব সেনাশাসক এরশাদের তল্পিবাহকে পরিনত হন, উঁচু এবং মাঝারি সারির বহু নেতা কর্মী সমাজতন্ত্রের একেবারে বিপরীত প্রান্তে বিএনপিতে বিলিন হয়ে যান। এতদিনে এ কথা দিবালোকের মত পরিস্কার হয়ে গেছে যে পঁচাত্তর পূর্ববর্তী সময়ে জাসদের নেতা কর্মীরা মুখে এবং তাদের মুখপাত্র "গণকন্ঠ" পত্রিকার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর সরকার সম্পর্কে যে সকল কথা বলেছে, সে সব রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ছাড়া আর কিছুই নয়। ছফা যখন বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পরও ১৯৭৬ সালে নিবন্ধ লিখে পূর্বতন প্রোপাগান্ডা অব্যাহত রাখেন, যার সাথে বঙ্গবন্ধু বিরোধী রাজনৈতিক ভাবনা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে, তখন বোঝা যায় এই স্বনির্মিত মেধাবী সন্ত বিভ্রান্তির চোরাবালিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত হয়ে গেছেন।
তবে এ কথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই, ছফা এবং তাঁর গুরু আব্দুর রাজ্জাক মেধাবী মানুষ ছিলেন, প্রতিভাসম্পন্ন নয়, মেধাবী। আব্দুর রাজ্জাকের মেধার পরিচয় প্রকাশিত হয়েছে শুধু তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিমন্ডলে, বাংলাদেশের ঘন অজ্ঞানতার আঁধারে আম পাঠকের উলুবনে তিনি মুক্তো বর্ষনের কোন আগ্রহ বোধ করেন নি, তাই কোন কিছু লেখেন নি। আব্দুর রাজ্জাকের কোন কিছু না লেখা সম্পর্কে ছফার অভিমত হল, বাংলাদেশের তাবৎ বুদ্ধিজীবীরা অকাট মূর্খ, যেহেতু সেই সকল বুদ্ধিজিবিগন নানা কিছু লিখেছেন, তাই কোন কিছু লিখে আব্দুর রাজ্জাক সেই সকল অকাট মূর্খদের কাতারে নেমে যেতে চান নি। এই আজব অভিমত জেনে হাসবো নাকি কাঁদবো ভাবে পাই নি।

মাসুদ সজীব এর ছবি

চলুক

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

মরুদ্যান এর ছবি

কিছু না লেখা সম্পর্কে ছফার অভিমত হল, বাংলাদেশের তাবৎ বুদ্ধিজীবীরা অকাট মূর্খ, যেহেতু সেই সকল বুদ্ধিজিবিগন নানা কিছু লিখেছেন, তাই কোন কিছু লিখে আব্দুর রাজ্জাক সেই সকল অকাট মূর্খদের কাতারে নেমে যেতে চান নি।

কস্কি মমিন!

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে

ধ্রুব আলম এর ছবি

আব্দুর রাজ্জাকের কোন কিছু না লেখা সম্পর্কে ছফার অভিমত হল, বাংলাদেশের তাবৎ বুদ্ধিজীবীরা অকাট মূর্খ, যেহেতু সেই সকল বুদ্ধিজিবিগন নানা কিছু লিখেছেন, তাই কোন কিছু লিখে আব্দুর রাজ্জাক সেই সকল অকাট মূর্খদের কাতারে নেমে যেতে চান নি।

গুরু গুরু
এমন গুরুরে সেলাম ঠুকলাম!

অতিথি লেখক এর ছবি

আব্দুর রাজ্জাকের মেধার পরিচয় প্রকাশিত হয়েছে শুধু তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিমন্ডলে, বাংলাদেশের ঘন অজ্ঞানতার আঁধারে আম পাঠকের উলুবনে তিনি মুক্তো বর্ষনের কোন আগ্রহ বোধ করেন নি, তাই কোন কিছু লেখেন নি। আব্দুর রাজ্জাকের কোন কিছু না লেখা সম্পর্কে ছফার অভিমত হল, বাংলাদেশের তাবৎ বুদ্ধিজীবীরা অকাট মূর্খ, যেহেতু সেই সকল বুদ্ধিজিবিগন নানা কিছু লিখেছেন, তাই কোন কিছু লিখে আব্দুর রাজ্জাক সেই সকল অকাট মূর্খদের কাতারে নেমে যেতে চান নি।

বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীরা না হয় "অকাট মূর্খ", দুনিয়ার অন্য সব দেশের বুদ্ধিজীবীরা কি দোষ করলো? অধ্যাপক রাজ্জাক লিখে বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করতে পারতেন কেন এবং কিভাবে তিনি বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের চেয়ে উঁচুস্তরের বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন; সেটাও তো করলেন না! রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে যেহেতু অধ্যাপক রাজ্জাকের নিজস্ব লেখার পরিমাণ সীমিত, সেহেতু তাঁর চিন্তাভাবনা জানার জন্য নির্ভর করতে হয় শোনা কথার ওপর। শোনা কথা ঐতিহাসিক সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য না।

Emran

ধ্রুব আলম এর ছবি

শোনা কথা ঐতিহাসিক সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য না।

চলুক

শুনে শুনে 'জিয়ে পাকিস্তান' তবে কি সত্য বলে মেনে নেবো? চিন্তিত

মাসুদ সজীব এর ছবি

এই পোষ্টের বিষয় এবং শিরোনাম নিয়ে যারা দ্বিমত করছেন কিংবা আমাকে সরলীকরণের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছন তাদের সম্মানর্থে কিছু বিষয় পরিষ্কার করে বলার প্রয়োজন বোধ করছি। এ লেখার বিষয় ছিলো আসলে দুটো, এক রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে ছফার মিথ্যাচার এবং দুই অন্ধ গুরু ভক্তি। কিন্তু সেগুলো ছাড়িয়ে আমি ছফা-রাজ্জাক সাহেবকে বাতিল করে দিয়েছি এমন অভিযোগও করেছেন। আমি সেগুলোরও উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি।

প্রথমেই লেখাটির শিরোনাম নিয়ে কথা বলি। মূলত পরস্পর বিপরীতমুখী তিনটি শব্দের মাধ্যমে শিরোনাম ছিলো পোষ্টটি। সেগুলো হলো প্রগতিশীল-সুকৌশল-মিথ্যাচার।

প্রগতিশীল: ছফার যে পরিচিতি টা সবচেয়ে বেশি তা হলো তিনি প্রগতিশীল মানুষ। আশা করি প্রগতিশীলতার সংজ্ঞা না দিলেও চলবে। তারপরও আগের একটি মন্তব্যে সেটি দিয়েছি। সবার কথা মতো প্রথমেই ছফাকে আমি প্রগতিশীল ধরে নিলাম। তাই প্রগতিশীল শব্দটা শিরোনামে ব্যবহার হয়েছে।

মিথ্যাচার: কোন অপ্রমাণিত বিষয়ে মানুষের ভালোলাগা/মত যখন বারবার পরিবর্তন হয় সেটিকে দ্বিমুখীতা বলা যেতে পারে। কিন্তু ইতিহাসের কোন সত্যকে যখন ঢেকে দেওয়া হয় নানান অজুহাত দিয়ে তখন সেটিকে দ্বিমুখিতা বলা যায় না, সেটি মিথ্যাচার। তাই ছফার, শেখ মুজিব হত্যার ইতিহাস কথন কে আমি দ্বিমুখীতা বলতে রাজি নই, এটি মিথ্যাচার। ছফার মতো পন্ডিত নিশ্চয় জানতেন শেখ মুজিবের খুন হওয়ার মূল কারণ তার দু:শাসন নয় কিংবা বাকশাল নয়। মূল কারণ পাপিস্থান-আমেরিকা আর ৭১ এ পরাজিত পাপিস্থান মনাদের ষড়যন্ত্র। তারপরও যদি সাক্ষাৎকারটি তিনি যদি ১৯৭৫-৭৬ এ দিতেন তাহলেও বলা যেত উনি তখন ষড়যন্ত্র বুঝে উঠতে পারেননি। উনি সাক্ষাৎকারটি দিয়েছেন ২০০২ সালে। সুতরাং উনি বুঝে শুনে বলেছেন।

সু-কৌশল: সু-কৌশল বলতে কি বুঝায়? যে মত বা কাজের মাধম্যে কৌশলের আশ্রয় নিয়ে মূল বিষয় থেকে ফোকাস সরিয়ে নেওয়া হয় কিংবা মূল বিষয়টিকে কম গুরুত্বপূর্ণ করে তোলা হয় তাকে খুব সম্ভব সু-কৌশল বলে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক শেখ মুজিবর রহমান, এটা স্বীকার করলে কেউ অন্ধ আওয়ামী লীগ হয়ে যায় না। কিন্তু সেই মহানায়ক কে যখন সাধারণ কাতারে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় কিংবা তার চরিত্রে মিথ্যে কলংক লেপে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় তখন সেটি সু-কৌশল হিসেবে পরিণত হয়। আমি কেন সু-কৌশল বললাম? বলেছি কারণ ছফা তার গুরুর কথা শুনে কোন প্রকার প্রমাণ ছাড়া সেটি প্রমাণ ছাড়াই কিছু বিষয় উত্থাপিত করেছেন। যেমন- ৬দফা, জিন্নাহর মৃত্যুতে শেখ মুজিবের কান্না। এগুলো দিয়ে শেখ মুজিবকে হালকা করার চেষ্টা ছিলো (ছফার সেই চেষ্টা আমি কোট করে আরো অনেক জায়গায় সেটা দেখাতে পারতাম)। তাই সু-কৌশল শব্দটা ব্যবহার করেছি।

ছফাকে বাতিল করা প্রসঙ্গ: ছফাকে কিংবা রাজ্জাককে বাতিল আমি করিনি। আমি প্রথমেই বলেছি ছফার উপন্যাস আমার প্রিয়। আমি প্রমাণ সহ ছফার রাজনৈতিক মিথ্যাচারের দিকটা তুলেছি, কিন্তু তার সাহিত্যের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলিনি, অন্যের সঙ্গে তুলনায় যাইনি। তাহলে কিভাবে বাতিল করলাম? কোন বড় লেখকের কোন মতকে গ্রহণ না করা মানে কি তাকে বাতিল করে দেওয়া? কিংবা কেউ তার লেখায় কিংবা বলায় মিথ্যাচার করলে তার প্রতিবাদ করার মানে কি তাকে বাতিল করে দেওয়া?

অন্ধ গুরু ভক্তি: ছফার গুরু ভক্তিতে যে অন্ধ ছিলেন তা উনার যদ্যপি আমার গুরু আর সাক্ষাৎকার গ্রন্থখানি পড়লে বুঝা যায়। সেই অন্ধ গুরু ভক্তি বুঝতে কিংবা ছফাকে বুঝতে তার সব লেখা পড়ে আসতে হবে এমন নয়। কিভাবে অন্ধ গুরু ভক্তি ছফা করেছেন তার বর্ণনা প্রমাণ সহ পোষ্টে রয়েছে। ‍গুরু ভক্তি ছাড়াও ব্যাক্তি বন্দনা বিশেষ করে সুলতানকে নিয়ে উনার ধারণা এবং সেই ধারণাকে সবাইকে মানতে বাধ্য/অনুপ্রাণিত করতে উনি জয়নুল-কামরুল ইসলামকে ব্যাক্তি আক্রমন করেছেন। এটি গ্রহনযোগ্য নয়।

সবাইকে ধন্যবাদ।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

ধ্রুব আলম এর ছবি

উনার ব্যক্তিগত আক্রমণের উদাহরণস্বরূপ তার হুমায়ুন আজাদকে নিয়ে একটি লেখা এখানে দেব কিনা ভাবছি। চিন্তিত

অনুমতি দেন তো দিয়ে দেই, থাকলো এখানে। সময়-সুযোগে পড়ে যাবো মাঝে মাঝে। হে হে হে!

কল্যাণ এর ছবি

দেন দেন চলুক

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

এক লহমা এর ছবি

বলতে চেয়েছিলাম - দেন দেন দিয়া দেন, পড়ি। কিন্তু সেটা যদি কপিরাইটের কারণে ঠিক না হয়, দরকার নেই।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

মাসুদ সজীব এর ছবি

আপনি কি সেই বিখ্যাত ছফা-আজাদের দ্বন্দর কথা লেখতে চাইছেন? যেখানে ছফা, আজাদকে সজারু বলেছিলো? যাই হোক দিয়ে দেন। পড়ুক সবাই, অন্ধ ভক্তি দূর হোক মানুষের মাঝে।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

ধ্রুব আলম এর ছবি

এখানে ১৯৯৮ সালে মানবজমিনে দেয়া হুমায়ুন আজাদের একটি সাক্ষাৎকারের বিপরীতে আহমদ ছফার লেখাটি দেয়া হয়েছে। সেই সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন আজাদকে বলা হয়েছিলো, আহমদ ছফা তাকে 'সজারু' বলেছেন, সেটি নাকি সম্মানার্থেই বলেছিলেন! এতে হুমায়ুন আজাদ বেশ চটে যান, তিনি ছফাকে জন্তু-জানোয়ার নিয়ে থাকেন বলে উপেক্ষা করেন। তবে সাধারণত তিনি যেভাবে ব্যক্তি আক্রমণ করেন, তেমনটি না করে এড়িয়ে যান। সাক্ষাৎকারটি 'ধর্মানুভূতির উপকথা ও অন্যান্য' বইটিতে রয়েছে, আগ্রহী পাঠক পড়ে দেখতে পারেন। তবে যদ্দূর মনে পরে, ওতে ছফা নিয়ে দুই লাইনের বেশি কিছু নেই।

"'২১ ফেব্রুয়ারি' এগিয়ে আসছে বোঝা গেল। হুমায়ুন আজাদ 'মানবজমিন' এ একটা উত্তেজক সাক্ষাৎকার দিলেন। ২১শে ফেব্রুয়ারির বাংলা একাডেমীর বইমেলায় যে আসল কনসার্ট শুরু হবে, এ সাক্ষাৎকারে তার শিক্রিনিধ্বনি শোনা গেল মাত্র। এটাও একরকম অবধারিত, মেয়ায় আজাদ সাহেবের একটা কিংবা একাধিক বই প্রকাশিত হবে। এ সাক্ষাৎকারটি সে অনাগত গ্রন্থ বা গ্রন্থাদির শুভ জন্মবার্তা যদি ঘোষণা করে, তাতে অবাক বা বিস্মিত হওয়ার খুব বেশি কিছু থাকবে না। মোটামুটি বিগত ৮/১০ বছর ধরে তিনি দিগ্বিজয়ের যে কলাকৌশলগুলো ব্যবহার করে আসছেন, সেগুলো সকলের কাছে সুপরিচিত।

প্রাচীনকালে রাজারা অশ্বমেধযজ্ঞের মাধ্যমে নিজেদের একচ্ছত্র প্রতাপ ঘোষণা করতেন। আমাদের কারে যাঁরা রাজা হয়ে থাকেন, তাঁদের ভূখা-নাঙ্গা মানুষের ভোটের ওপর নির্ভর করতে হয়। আমাদের যুগে রাজা নেই, কিন্তু হুমায়ুন আজাদ রয়েছেন। বাক্যের মাধ্যমে ব্যক্তিত্ব হত্যার যে অভিনব কৌশলটি তিনি বেশ কিছুদিন ধরে সাফল্যের সঙ্গে ব্যবহার করে আসছেন, যা তাকে এমন একট ঔদ্ধত্যের অধিকারী তুলেছে, তাঁর সামনে সাহিত্য ব্যবসায়ী সমস্ত মানুষকে থরহরি বলির পাঁঠার মতো কম্পমান থাকতে হয়। এ সাক্ষাৎকারটিতেও হুমায়ুন আজাদ অনেক নামিদামী মানুষের উষ্ণীষ বাক্যের খড়-খড়গাঘাতে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়েছেন। যাঁরা হুমায়ুন আজাদের আক্রমনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন, এক সময়ে তাঁদের অনেককে তিনি ওপরে ওঠার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। উপকার করলে অপকারটি পেতে হয়- এই আপ্তবাক্যটি হুমায়ুন আজাদের ক্ষেত্রে পুরোপুরি সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়ে গেল।

শুয়োরের বাচ্চার যখন নতুন দাঁত গজায়, বাপের পাছায় কামড় দিযে শক্তি পরীক্ষা করে। হুমায়ুন আজাদের কোন উপকার আমি কোনদিন করিনি, তথাপি কেন তিনি অনুগ্রহটা করলেন, সেটা ভেবে ঠিক করতে পারছিনে। সত্য বটে, একবার তাঁকে আমি সজারুর সঙ্গে তুলনা করেছিলাম। সেটা একটুও নিন্দার্থে নয়। আসলেই হুমায়ুন আজাদ একটা সজারু। বাঘ, সিংহ কিংবা অন্যকোন হিংস্র প্রাণী নয়। লেখক হিসেবে আমি যে কত সামান্য সেটা অনেকের চাইতেই আমি অনেক বেশি ভাল জানি। অনেকে আমার নাম উল্লেখই করেন না। অন্তত হুমায়ুন আজাদ গাল দেয়ার জন্য হলেও আমার অস্তিত্বটা অস্বীকার করেননি, সেজন্য হুমায়ুন আজাদের কাছে আমার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। আর এটা একটুও মিথ্যে নয় যে, আমি জন্তু-জানোয়ার নিয়ে কাটাই। আমার জন্তু-জানোয়ারের সংগ্রহশালাটি যদি আরো বড় হত, সেখানে আজাদের জন্যও একটা স্থান সংরক্ষণ করতাম।

হুমায়ুন আজাদ এ সাক্ষাৎকারে নিজের অনেক পরিচয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন তিনি একজন কবি, ভাষাবিজ্ঞানী, অধ্যাপক, উপন্যাস লেখক, প্রবন্ধকার, সমালোচক ইত্যাদি ইত্যাদি। তিনি তাঁর অনেকগুলো পরিচয় ঢেকেও রেখেছেন। সেগুলো হল- হুমায়ুন আজাদ হলেন একজন স্ট্যান্ডবাজ, পরশ্রীকাতর এবং অত্যন্ত রুচিহীন নির্লজ্জ একজন মানুষ। হুমায়ুন আজাদ কী পরিমাণ নির্লজ্জ সে সম্পর্কে তাঁর নিজের কোন ধারণা নেই। আমি কয়েকটা দৃষ্টান্ত দেব।

একবার হুমায়ুন আজাদ ভাষাবিজ্ঞানের ওপর থান ইটের মত প্রকান্ড একখানা কেতাব লিখে বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশ করলেন এবং যত্রতত্র বুক ফুলিয়ে বলে বেড়াতে লাগলেন যে, আমার সমান ভাষাবিজ্ঞানী বাংলাভাষায় কস্মিনকালেও আর একজন জন্মাননি। তার অনতিকাল পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. মিলন কান্তি নাথ নামে আর একজন অধ্যাপক প্রবন্ধের পর প্রবন্ধ লিখে অকাট্য প্রমাণ হাজির করে দেখালেন যে, হুমায়ুন আজাদের এ ঢাউস বইটা আগাগোড়াই চৌর্যবৃত্তির ফসল। ওই রচনা যাঁরা পড়েছেন, বাংলা একাডেমীর কাছে কৈফিয়ৎ চেয়ে বসলেন, আপনারা এমন একটা বই কেন প্রকাশ করলেন, যার আগাগোড়া চৌর্যবৃত্তিতে ঠাসা? বাংলা একাডেমী হুমায়ুন আজাদের বই বাজার থেকে পত্যাহার করে নিলেন এবং বিক্রয় বন্ধ করলেন আর হুমায়ুন আজাদের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করলেন, আপনি দায়িত্বশীল ব্যক্তি হয়েও কেন আগাগোড়া একটি নকল গ্রন্থ একাডেমীকে দিয়ে প্রকাশ করিয়ে একাডেমীকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেললেন?

হুমায়ুন আজাদের 'নারী' বহুল আলোচিত গ্রন্থ। আমি নিজেও এক কপি কিনেছিলাম। কিন্তু কিনে মুশকিলে পড়ে গেলাম। বইটি এতই জীবন্ত যে, মাসে মাসে রক্তশ্রাব হয়। অগত্যা আমাকে বইটি শেলফ থেকে সরিয়ে রাখতে হল। হুমায়ুন আজাদ দাবি করেছেন, এটা তাঁর মৌলিকগ্রন্থ। আমার একটুখানি সংশয় জন্ম নিয়েছিল তাহলে সিমোন দ্যা বোভেয়ার কী করছিলেন? পরবর্তী গ্রন্থ 'দ্বিতীয় লিঙ্গ' প্রকাশিত হওয়ার পরে আমার সব সংশয় ঘুচে গেল। হুমায়ুন আজাদ অত্যন্ত বিশ্বস্ততারসহকারে সিমোন দ্যা বোভেয়ারের বই বাংলাভাষায় নিজে লিখেন। সমস্ত মাল-মসলা সিমোন দ্যা বোভেয়ারের। হুমায়ুন আজাদ এই বিদূষী দার্শনিক মহিলার পরিচ্ছন্ন রুচি এবং দার্শনিক নির্লিপ্ততা কোথায় পাবেন? কুরুচি এবং অশ্লীলতাটুকুই এই গ্রন্থে হুমায়ুন আজাদের ব্যক্তিগত বিনিয়োগ। এ বিষয়ে আরো একটা কথা উল্লেখ করতে চাই। 'নারী' গ্রন্থটি যখন বাজেয়াপ্ত করা হল আমরা লেখকরা মিলে প্রস্তাব করলাম এ ধরসের গ্রন্থ নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে মিছিল করে প্রতিবাদ জানাব। আদালতে মামলা করব। কিন্তু হুমায়ুন আজাদ পিছিয়ে গেলেন। তখন ধরে নিয়েছিলাম হুমায়ুন আজাদের সৎসাহসের অভাব আছে। 'দ্বিতীয় লিঙ্গ' প্রকাশিত হওয়ার পর আসল রহস্য বুঝতে পারলাম। মামলায় লড়ে 'নারী' গ্রন্থটি বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করা গেলেও আর্থিকভাবে হুমায়ুন আজাদের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা অল্প। কারণ এই লেখার যতটুকু চমক প্রথম বছরেই তা নিঃশেষ হয়েছিল। নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হলেও পাঠকের বিশেষ চাহিদা থাকবে না। 'নারী' গ্রন্থটি নিষিদ্ধ হওয়ার সুযোগ গ্রহণ করে হুমায়ুন আজাদ নতুন একটা জালিয়াতি করলেন। সে একই বই ভিন্ন নামে ভিন্ন মোড়কে প্রকাশ করলেন। বাংলাদেশে মহাজ্ঞানী-মনীষী হতে হলে এই ধরনের কত রকম ফন্দি-ফিকির করতে হয়! কত রকম ফন্দি-ফিকির শিখতে হয়!

হুমায়ুন আজাদ একটা দাবি অত্যন্ত জোরের সঙ্গে করে আসছেন, তিনি পশ্চিমা ঘরানার পন্ডিত। এতদঞ্চলের নকলবাজ, অনুকরণসর্বস্ব পল্লবগ্রাহী বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে তাঁর কোন সম্পর্ক নেই। তাঁর 'আমার অবিশ্বাস' গ্রন্থটি প্রকাশিত হওয়ার পর এই দাবির যথার্থতা প্রমাণিত হল। প্রয়াত বৃটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল ঊনত্রিশ বছর বয়সে যে গ্রন্থটি 'Why I am not a christian' লিখেছিলেন, তার বঙ্গীয় সংস্করণ প্রকাশ করে সর্বত্র আস্ফালন করে বেড়াতে লাগলেন এটা তার মৌলিক কীর্তি। কী করে পশ্চিমা ঘরানার পন্ডিত হতে হয়, এ সময়ের মধ্যে হুমায়ুন আজাদ তার এক সহজ ফর্মুলা উদ্ভাবন করে ফেলেছেন। স্বর্গত পশ্চিমা লেখকদের লেখা আপনার মাতৃজবানে অনুবাদ করবেন এবং তার সঙ্গে খিস্তি-খেউর মিশিয়ে দেবেন। তাহলেই আপনি পশ্চিমা ঘরানার পন্ডিত বনে যাবেন।

হুমায়ুন আজাদ উপন্যাস, কবিতা অনেক কিছু লিখেছেন। সেগুলো সবটা একেবারে খারাপ সেকথাও আমি বলব না। মাঝে মাঝে নাড়াচাড়া করে দেখেছি, চিবানোর যোগ্য পদার্থ তাতে অধিক খুঁজে পাইনি। তথাপি হুমায়ুন আজাদ একজন সুপরিচিত লেখক। ভ্যালু তৈরি করতে না-পারুন, ন্যুইসেন্স ভ্যালু তৈরি করার ক্ষমতা তাঁর অপরিসীম। আমাদের উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে যে নৈরাজ্য, সন্ত্রাস এবং দুর্বৃত্তায়ন প্রক্রিয়া কার্যকর রয়েছে, হুমায়ুন আজাদের লেখার মধ্যদিয়ে সেগুলোরই অভিব্যক্তি ঘটেছে। এক কথায় হুমায়ুন আজাদকে আমি এভাবেই সংজ্ঞায়িত করতে চাই-'

স্বভাবে কবিতা লেখে, পেশায় জল্লাদ,
খিটিমিটি মানবক হুমায়ুন আজাদ।'"

এক লহমা এর ছবি

সারাংশ করলে ব্যাপারটি তাহ'লে কি পাওয়া গেল?
(১) ছফা 'সজারু' বলেছিলেন হুমায়ুন আজাদকে।
(২) হুমায়ুন তাতে ছফা সম্পর্কে বলেছিলেন যে তিনি 'জন্তু জানোয়ার নিয়ে থাকেন'।
(৩) তার উত্তরে ছফা এই প্রবন্ধটিতে হুমায়ুনের লেখা এবং চরিত্র-বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে জানালেন যে হুমায়ুন আজাদ অকৃতজ্ঞ, চোর, ফিকিরবাজ, শুয়োরের বাচ্চার তুল্য আচরণকারী, ন্যুইসেন্স ভ্যালু তৈরীতে দক্ষ, স্ট্যান্ডবাজ, পরশ্রীকাতর, কবি স্বভাবের, পেশায় জল্লাদ একজন অত্যন্ত রুচিহীন নির্লজ্জ লোক।

দুঃখের সঙ্গে ভাবি যে এই চাপান-উতোরের লাভ তুলেছিল, তুলে চলেছে কারা?

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

এই চাপান-উতোরের লাভ তুলেছিল, তুলে চলেছে কারা?

চলুক

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

ধ্রুব আলম এর ছবি

চাপান-উতোর লাগে না, সামুবোলোগে এম্নিতেই তার লেখার খুব চল, কোন দিন সোনাবলগেও দেখবো।

ধ্রুব আলম এর ছবি

এখানে মন্তব্যগুলো দেখুন নাহয়। উনারাই প্রগতিশীল। আজাদের গোমর নাকি ছফা ফাস করে দিয়েছেন। সাখ্য-প্রমাণ ছাড়াই; হে হে হে!

অতিথি লেখক এর ছবি

"দ্বিতীয় লিঙ্গ" এবং "আমার অবিশ্বাস" - উভয় বইয়ের ক্ষেত্রেই হুমায়ুন আজাদ মূল উৎসের ঋণ (যথাক্রমে সিমন দ্য বোভয়ার এবং বার্ট্রান্ড রাসেল) স্বীকার করেছিলেন। সুতরাং, মনে হয় এইক্ষেত্রে আহমদ ছফার ইন্টারপ্রিটেশন কিছুটা অতিরঞ্জিত।

দ্বিতীয়তঃ হুমায়ুন আজাদকে "সজারু" বলার মধ্য দিয়ে এই অনাবশ্যক সংঘাতের সূচনা করেছিলেন আহমদ ছফা নিজেই। যখন এই ব্যাপারে হুমায়ুন আজাদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হল, তখন তিনি সাক্ষাৎকারগ্রহণকারীকে বলেছিলেন, "যে জন্তুজানোয়ার নিয়ে থাকে, তাকে তাই নিয়েই থাকতে দাও।" তার জবাবে ছফা লিখলেন উপরের লম্বা নিবন্ধ। হুমায়ুন আজাদ কোথাও এর প্রত্যুত্তর দিয়েছিলেন কিনা, সেটা আমার জানা নাই। ব্যক্তিআক্রমণের বেলায় হুমায়ুন আজাদের কলম আহমদ ছফার তুলনায় কোন অংশে কম তীক্ষ্ণ এবং তিক্ত ছিল না। তারপরেও স্বীকার করতেই হবে যে এই লেখার জবাব না দিয়ে হুমায়ুন আজাদ অসাধারণ ভদ্রতার পরিচয় দিয়েছেন।

তৃতীয়তঃ আমার মতে হুমায়ুন আজাদ এবং (যতটুকু পড়েছি, তার ভিত্তিতে মনে হয়েছে) আহমদ ছফা - এই দুজনের মধ্যেই এক ধরণের "সিজ মেনটালিটি" কাজ করত; তাঁরা মনে করতেন যতটুকু গুরুত্ব পাওয়া দরকার, ততটুকু গুরুত্ব সমাজ/মানুষের কাছ থেকে তাঁরা পান না। ফলে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলে তাঁদের প্রতিক্রিয়ার জোরটা হত সাধারণতঃ disproportionate। আহমদ ছফার উপরের লেখাটা একটা ভাল উদাহরণ।

Emran

ধ্রুব আলম এর ছবি

হুমায়ুন আজাদ কোথাও এর প্রত্যুত্তর দিয়েছিলেন কিনা, সেটা আমার জানা নাই।

আমি পাইনি।

তারপরেও স্বীকার করতেই হবে যে এই লেখার জবাব না দিয়ে হুমায়ুন আজাদ অসাধারণ ভদ্রতার পরিচয় দিয়েছেন।

এই জিনিশটা হুমায়ুন আজাদের সাথে একদমই যায় না, তার উপর যেখানে ছফা শুরু করেছিলেন। আর সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী অনাবশ্যকভাবেই তাকে খুঁচিয়েছিলো, উনি সেই ফাঁদে পা না দিয়ে এড়িয়ে গেছেন। আমি একে ছফার প্রতি আজাদের সম্মান প্রকাশরূপেই ধরি।

মাসুদ সজীব এর ছবি

নানান জায়গায় ছফার এই বিদ্বেষপূর্ণ লেখাটাই আমি পেয়েছি, এর উত্তরে ছফাকে নিয়ে হুমায়ুন অাজাদের কোন লেখা পাইনি। এটাকে হুমায়ুন আজাদের বিনয় ও বলা যায় আবার পাত্তা না দেওয়া মনোভাব ও বলা যায়। কেন ঠিক কি কারণে দু-জনের মাঝে এই ব্যাক্তি আক্রমন শুরু হয়েছিলো সেটি আমি জানতে পারিনি কোনদিন। যদি কেউ জেনে থাকেন তাহলে উল্লেক করলে বাধিত থাকিব।

আপনাদের সাথে সহমত যে আজাদও প্রতিক্রিয়াতে বেশ তীক্ষ্ণ আর ঔদ্ধত্ব ছিলেন। তবে ছফা যেভাবে আক্রমন করেছেন সেটি বাড়াবাড়ি পর্যায়ের ছিলো। বিশেষ করে যে বই দুটো নিয়ে অভিযোগ করেছেন সেটি বোধহয় ছফা ভালো করে পড়েননি, সেখানে সিমন দ্য বোভয়ার এবং বার্ট্রান্ড রাসেলের প্রতি উৎসের ঋণ স্বীকার করেছেন হুমায়ুন আজাদ। নারী নিয়ে ছফার মন্তব্য বালখিল্য মনে হয়েছে আমার। বিরোধীতা করতে হবে বলেই করেছেন টাইপের হয়ে গেছে অনেকটা।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

ধ্রুব আলম এর ছবি

ঘটনার সূত্রপাত বলা আছে পূর্বের মন্তব্যেঃ

(১) ছফা 'সজারু' বলেছিলেন হুমায়ুন আজাদকে।
(২) হুমায়ুন তাতে ছফা সম্পর্কে বলেছিলেন যে তিনি 'জন্তু জানোয়ার নিয়ে থাকেন'।
(৩) তার উত্তরে ছফা এই প্রবন্ধটিতে হুমায়ুনের লেখা এবং চরিত্র-বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে জানালেন

নীড় সন্ধানী এর ছবি

যত বড় মানুষই হোক, কেউই সমালোচনার উর্ধ্বে নন। এমনকি নিজের গুরুকেও ততক্ষণই গুরুমান্য করা যায় যতক্ষণ তার দুর্বল দিকটা অজানা থাকে। আহমদ ছফা বা আর কেউই তার বাইরে নন। ছফার মধ্যে নানান ইস্যুতে স্ববিরোধীতার উপস্থিতি ছিল প্রবল, কিন্তু সেটা সু-কৌশল বা কুটকৌশল বলে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না আমি। অনেক ক্ষেত্রেই অসচেতনতা মনে হয়েছে, পরিস্থিতির কারণে অবস্থান পাল্টে গেছে কখনো কখনো। আপনার লেখাটি পছন্দ হলেও শিরোনামটা পছন্দ হলো না। শিরোনামে কেমন একটা ষড়যন্ত্রগন্ধ আছে। ছফাকে যতদূর জেনেছি, পড়েছি ষড়যন্ত্রী কুটকৌশলী বা সচেতন মিথ্যাবাদী মনে হয়নি।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

মাসুদ সজীব এর ছবি

শিরোনাম সম্পর্কে উপরে ব্যাখা দিয়েছি নীড় দা। তারপরও যদি মনে হয় শিরোনামে ষড়যন্ত্র আছে তাহলে দু:খের সাথে বলতে হবে আমি কোন ষড়যন্ত্র নিয়ে শিরোনাম দেইনি। ধন্যবাদ

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

মরুদ্যান এর ছবি

আমার কাছেও ষড়যন্ত্র মনে হয়নাই। আসলে শিরোনামে এরকম সরাসরি আক্রমণ থাকলে অনেক সময় ভিতরে পড়ার আগেই মনের ভিতরে একটা নৈর্ব্যক্তিক ধারণা জন্ম নিতে পারে, বিশেষ করে আক্রান্ত ব্যক্তি যদি অনেকের চোখে সমাদৃত হয়। আর আগে থেকেই যদি পাঠক একটা পারসেপশান নিয়ে পড়তে বসে, তাহলে অনেক সময় ঠিক জিনিসও বেঠিক লাগে।

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে

স্যাম এর ছবি

চলুক চলুক।

জাসদের রাজনীতি করেছেন দীর্ঘকাল, কম্যুনিষ্ট ধারায় বিশ্বাসী হলেও পরে সেখান থেকে সরে এসেছেন এবং ৬৭-৬৮র পরে রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন (

এই অংশটি পড়তে যেন কেমন লাগল! জাসদের রাজনীতি করলে ৬৭/৬৮ তে রাজনীতি ছেড়ে দিলেন কিভাবে?

মাসুদ সজীব এর ছবি

ধন্যবাদ।৬৭-৬৮ পর কম্যুনিষ্ট ধারার রাজনীতি থেকে সরে এসেছেন বুঝানো হয়েছে।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

মাহবুব লীলেন এর ছবি

আসোলে ভাইজান আপনে গুলায়ে ফেলছেন...
আয়োজক আহ্বায়ক আলোচক আর সভাপতি; সব আসনে নিজেরে বসাইতে গিয়া এজেন্ডা ভুলে গেছেন...

০২
আপনার টাইটেল পড়ে মনে হচ্ছিল আপনি টুয়েন্টিফোরডটকম স্টাইলে মারাত্মক একখান শিরোনাম দিয়ে বাজিমাত করতে চাইছেন....
লেখা পড়ে মনে হাচ্ছিল কিছু একটা বলার জন্য ছফাকে খামমাখামছি করছেন
আর কমেন্টগুলা পড়ার পর মনে হচ্ছে এদিক সেদিক হাতড়াচ্ছেন নিজের লেখার পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানোর জন্য...

০৩
একটা কাজ করতে পারেন
পুরাটা ভেবে চিন্তে আরেকখান পোস্ট নামান গোছায়ে...

মাসুদ সজীব এর ছবি

কোথায় কিভাবে গুলালাম সেটা ধরিয়ে দিন। এই পোষ্টে আপনার প্রথম মন্তব্যে আমি উত্তর আর অভিযোগগুলো স্পষ্ট করে বলেছিলাম আপনি সেগুলো খন্ডায়িত না করে ধরি মাছ ছুঁই না পানি ধরনের উপদেশ দিয়ে গেলেন।

আমি একেবারে নিদিষ্ট আকারে অভিযোগ (যেটা আপনার ভাষায় খামমাখামছি) করেছি এবং শিরোনাম কেন মারাত্নক দিয়েছি তার ব্যাখাও দিয়েছি। সেখানে ভুল হলে ধরিয়ে দিন, আমি শুধরে নিবো। অযথা মনগড়া মন্তব্য আপনার কাছে আশা করি না (টুয়েন্টিফোরডটকম স্টাইলে মারাত্মক একখান শিরোনাম দিয়ে বাজিমাত করতে চাইছেন....) ছফাগিরি তে আপনার ব্যাখা আর সুচিন্তিত মতামত ভীষন ভালোলেগেছে বলেই আশার বারুদটুকু বেশি ছিলো।ধন্যবাদ

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

দীনহিন এর ছবি

ছফাগিরি তে আপনার ব্যাখা আর সুচিন্তিত মতামত ভীষন ভালোলেগেছে বলেই আশার বারুদটুকু বেশি ছিলো।

কোন মতামতগুলি ভাল লেগেছে, স্পষ্ট করবেন?

আর ঠিক কি আশা করছিলেন লীলনদার কাছে? এমন কোন ব্যাখ্যা যা ছফাগিরিতে পরিষ্কার হয়নি?

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

অন্যকেউ এর ছবি

১।

লেখক ছফাকে বিশ্লেষন করার ক্ষমতা আমার নেই।

একমুখী চিন্তা এবং অগভীর ব্যবচ্ছেদ পড়ে মনে হোল, ব্যক্তি ছফাকে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাটাও নির্ভরযোগ্য না।

২।

এটা কি বদলে যাওয়া বিশ্বাস নাকি উদ্দেশ্য প্রণেদিত বিদ্বেষ?

উদ্দেশ্য প্রণোদিত বিদ্বেষ বলে মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রশংসা তিনি অকুণ্ঠে করতে পারেন, আবার ছাত্রলীগের সেই সময় ঘটানো ভয়ানক সব দুষ্কর্মের ভারও নেতা হিসাবে তাঁর কাঁধে ছফা চাপিয়ে দিয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন। কেউ নিতান্ত জামায়াতি শুওরের বাচ্চা না হলে, মানুষ বঙ্গবন্ধুকে চিনতে কোনও বাঙালির কষ্ট হতে পারে না। কিন্তু তাই বলে স্বাধীনতার অব্যবহিত পরের সময়ের বিবিধ সন্ত্রাসের কথাও একজন বাঙালি মনে রাখতে পারেন। এখানে বিশ্বাস বদলে যাওয়া সম্পর্কিত কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।

৩।

উদ্দেশ্য প্রণেদিত.......................কতটুকু আন্তরিক আর কতটুকু ভাওতাবাজী ছিলো।

বেশ বড়ো অনুচ্ছেদ। এখানে প্রচুর দুষ্কর্মের রেফারেন্স টানার পর লেখক বলছেন, "ঠিক এমন ভাবে না বললেও শেখ মুজিবর রহমানের হত্যার কারণ বলতে গিয়ে ছফা যেটি বলেছেন সেটার মাঝেও বুদ্ধিভিত্তিক ছলনা এবং অবশ্যই ভাওতাবাজী রয়েছে।"

অবশ্যই ভাঁওতাবাজি নাই। লেখক গায়ের জোরে 'অবশ্যই' ব্যবহার করে এখানে নিজের মত চাপাচ্ছেন। যেমন- "ছফা নানান দেশের নানান উদাহারণ টেনে বুঝাতে চেয়েছেন শেখ মুজিবের সপরিবারে হত্যার পেছনে আসলে কারো কোন চক্রান্ত নেই।" ছফা কি বোঝাতে চেয়েছেন সেটা আমি বুঝতে পারছি। তিনি বিভিন্ন উদাহরণ টেনে শুধু এটাই বলছেন যে এমন ঘটনা এর আগে দেখা যায় নাই। লেখক অসাধারণ বায়াসড মানসিকতা নিয়ে খুঁজে পাচ্ছেন, "চক্রান্ত নেই"! শেখ মুজিবরের বাড়াবাড়ি-ই এ পরিণতির জন্যে দায়ী!

কোথায়? কোথায়? চক্রান্ত নাই এটা কোথায় বলা আছে? কীভাবে বলা আছে? ঠিক এমনভাবে না বললে ছফার বক্তব্য বলার আগে এমন সব কথা লেখক কেন জুড়ে দিলেন তবে? পাঠকের মনের তারে নির্দিষ্ট একটা কম্পন তোলার খাতিরে কি?

৪। আমেরিকা এবং ফাকিস্তানের চক্রান্ত? এই আমি একজন মানুষ, একটা অনুল্লেখযোগ্য কথোপকথনের মাঝখানে যদি যেকোনও একদিন ফাকিস্তানকে গালি না দেই, তাহলে আমি ফাকিস্তানের দালাল হয়ে যাবো?

দুঃখের সাথে বলতেই হচ্ছে, 'গভীর ভাবে তুলনা কিংবা মতটা বিশ্লেষণ' না করেই খুব সরলভাবে লেখকের কথা থেকে বোঝা যাচ্ছে, হুমায়ুন আজাদও একজন পটেনশাল ফাকিস্তানি দালাল, কারণ তিনি 'মানুষ হিসাবে আমার অপরাধসমূহ' বইতে আমেরিকা এবং ফাকিস্তানকে গালি দেন নাই।

৫। "শেখ মুজিবরে হত্যা নিন্দনীয়, পৃথিবীতে এমন ঘটনা বিরল" - স্রেফ এই কথা বলার কারণে আহমদ ছফা একজন বুদ্ধিবেশ্যা? বুদ্ধিবেশ্যা?

আমি আমার সৎ মতামত জানাচ্ছি- আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা নিন্দনীয়। পৃথিবীতে এমন ঘটনা বিরল।

৬।

অর্থাৎ একজন সামরিকের বিপক্ষে উনার কিছু করার ছিলো না, বলার ছিলো না।

এই রকম গঠনমূলক সমালোচনার খোঁজেই লেখাটা পড়তে শুরু করেছিলাম। ছফার মতো একজন ব্যক্তির জন্য এই ধরণের ভণ্ডামি ভয়ানক নিন্দার্হ। পরপরই আরও একটা -

জামাত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিলো বলে তাদের পলিটিক্স ব্যান করতে হবে এটায় আমি বিশ্বাস করি না

এবং

যে-জিন্নাহ মারা যাওয়ার পর শেখ মুজিব হাউমাউ করে কেদেঁছেন! এ না হলে অন্ধ গুরু ভক্তি! গুরু বলেছেন আর তিনি সেটার প্রমাণ না নিয়েই মেনে নিয়েছেন

৭।

সুলতানকে নিয়ে উনার ধারণা আর ভালোলাগার প্রকাশ অনেক জায়গায় মাত্রাতিক্ত মনে হয়েছে। শিল্পের এই বিষয়টাতে আমার জ্ঞান যথেষ্ট কম তাই তুলনা করা সম্ভব না আমার পক্ষে।

জ্ঞান কম হবার পরে আর মন্তব্য না করাটাই বোধ হয় শ্রেয়।

৮।

সাহিত্যের প্রায় সবাইকে তিনি ব্যাক্তি আক্রমন করেছেন।

তাতে লেখকের কি আসে যায় বা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সেই আন্তঃসম্পর্কটা কোনও ভাবেই পয়দা করতে পারলাম না। আফসোস।

৯। এই লেখক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর নামটা বোধহয় একবারও ঠিকভাবে লিখতে পারেন নাই। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যে মানুষটির জন্য আজ বাস্তব, তার প্রতি এমন বিভৎস শ্রদ্ধা আর কোনওভাবে জানানো যায় কিনা আমার জানা নাই।

_____________________________________________________________________

বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখো দ্বিতীয় বিদ্যায়।

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

ছফা এবং বঙ্গবন্ধু বিষয়ে আপনি উপরে কিছু মন্তব্য করেছেন। একটি মন্তব্যে বলেছেন- "শেখ মুজিবুর রহমানের প্রশংসা তিনি অকুণ্ঠে করতে পারেন, আবার ছাত্রলীগের সেই সময় ঘটানো ভয়ানক সব দুষ্কর্মের ভারও নেতা হিসাবে তাঁর কাঁধে ছফা চাপিয়ে দিয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন।" পত্রিকায় প্রকাশিত [url=এই নিবন্ধটি]http://unmochon.net/node/2386[/url] ১৯৭৫ সালের সেপ্টেম্বরে লেখা, ১৫ আগস্টের অব্যবহিত পরে লেখা এই নিবন্ধেই বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে ছফার আসল মনোভাব কি, তা প্রকাশ পেয়েছে। আমার মতে তাঁর এ লেখাটি আগাগোড়া মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ, আপনার যদি সে বিষয়ে দ্বিমত থাকে, তাহলে কোন কোন অংশে তিনি মিথ্যাচার করেন নি, তার উল্লেখ করলে বাধিত হবো।

ধ্রুব আলম এর ছবি

লেখাটি এখানে পুরোটাই তুলে দেবার অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রায় ৩০ বছর আগের খবরের কাগজের কলাম, যা অন্য ব্লগে প্রকাশ হয়ে গেছে, সেটি এখানে দিতে মনে হয় বাধা নেই। আহমদ ছফার রাজনৈতিক ধ্যাণ-ধারণা ও ১৯৭২-৭৫ সময় নিয়ে ভাবণা উন্মোচনের জন্যে লেখাটি গুরুত্বপূর্ণ, সাথে ৭৫-এর ঘটনা নিয়ে তার নির্লিপ্ততা।

আর লেখাটি আগাগোড়া মিথ্যাচারে মনে হয় পরিপূর্ণ নয়। তবে অনেক কথাই অতিশায়িত।

উল্লেখ্য, শেখ কামাল ডাকাত/ গুণ্ডা এমন দাবি ছফাসাহেব করেছেন, তার কোন বইতে যেন, মনে নেই। সে নাকি জিপ নিয়ে অস্ত্রহাতে তাকে তাড়া করেছিলো! (স্মৃতিবিভ্রমও হয়ে থাকতে পারে আমার। হলে দুঃখিত)

মাসুদ সজীব এর ছবি

১।

ব্যক্তি ছফাকে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাটাও নির্ভরযোগ্য না

লেখকের ব্যাক্তি ছফাকে বিশ্লেষন ক্ষমতা নির্ভরযোগ্য কি নির্ভরযোগ্য নয় তার সার্টিফিকেট আপনার থেকে নেওয়ার প্রয়োজনবোধ করছে না। সেটা লেখার রেফারেন্স-ই যথেষ্ট।

২।

শেখ মুজিব যখন একদল করলেন তখন তখন তাকে ভায়োলেন্ট ওয়েতে সামরিক লোকেরা সপরিবারে হত্যা করল।

এমন কথার পরও মন্তব্যকারী যদি বুঝে যান এখানে আসলে শেখ মুজিবুরের হত্যার নিন্দা করা হয়েছে এবং কোন ষড়যন্ত্র উল্লেখ না করা সঠিক, তাহলে ছফাকে মুর্তি করে পুজো করলেও কিছু বলার নেই। পৃথিবীতে মূর্তি পূজাকারীদের-ই জয়োৎসব চলে।

৩।

হুমায়ুন আজাদও একজন পটেনশাল ফাকিস্তানি দালাল, কারণ তিনি 'মানুষ হিসাবে আমার অপরাধসমূহ' বইতে আমেরিকা এবং ফাকিস্তানকে গালি দেন নাই।

বেশ, ছফাকে আনলে আজাদকেও টানতে হবে। আজাদ তার “আমরা কি এই বাংলাদেশে চেয়েছিলাম” গ্রন্থে মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের পাশাপাশি পতনমুখী শেখ মুজিবুরের ব্যাখাও দিয়েছেন। সময় করে সেগুলোর কিছু অংশ দিবো সবাই দেখবে শেখ মুজিবর রহমানকে আজাদ আর ছফা কিভাবে মূল্যায়ন করেছেন। হুমায়ুন আজাদ কোথাও বলেননি একদল করার জন্যে সামরিক বাহিনী এসে শেখ মুজিবকে হত্যা করেছে। কোথাও বলেননি জিন্নাহর মৃত্যুতে শেখ মুজিবুর রহমান হাউমাউ করে কেদেঁছেন। শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে সংশয়-সন্দেহ টা ছফা নিজেই তৈরী করেছেন বলে লেখার সূত্রপাত। হুমায়ুন আজাদকে টেনে এনে ছফার মন্তব্যকে সঠিক প্রমাণের কোন সুযোগ নেই।

৪।

এই আমি একজন মানুষ, একটা অনুল্লেখযোগ্য কথোপকথনের মাঝখানে যদি যেকোনও একদিন ফাকিস্তানকে গালি না দেই, তাহলে আমি ফাকিস্তানের দালাল হয়ে যাবো?

আমি কোথায় ছফাকে ফাকিস্থানের দালাল বলেছি একটু কোর্ট করেন তো? আমি যেটা বলিনি সেটা নিজের দিকে টেনে নিয়ে গোলমাল পাকানোর কোন দরকার নেই। শেখ মুজিবুরের হত্যা যদি আপনার কাছে অনুল্লেখযোগ্য হয় তাহলে ফাকিস্থান কেন আপনি বাংলাদেশকেই বাদ দিয়ে দিতে পারেন। এই আমি আর আহমদ ছফার মাঝে পার্থক্য আছে এটা আগে বুঝে আসুন। ছফার মতো সমাদৃত লেখক বা বুদ্ধিজীবী যখন শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার ঘটনাকে বিশ্লেষন করবে সেটি অবশ্যই ইতিহাস হবে, অনেকেই সেটি পড়বে। এবং সেই বিশ্লেষনে অথবা ইতিহাস কথনে অবশ্যই ফাকিস্থানের ষড়যন্ত্র সহ সকল ষড়যন্ত্র আসবে। সেই ষড়যন্ত্র উল্লেখ না করা আপনার চোখে সাধারণ ঘটনা হতে পারে সবার কাছে নয়।

৫। "শেখ মুজিবরে হত্যা নিন্দনীয়, পৃথিবীতে এমন ঘটনা বিরল" - স্রেফ এই কথা বলার কারণে আহমদ ছফা একজন বুদ্ধিবেশ্যা? বুদ্ধিবেশ্যা?

স্রেফ এই কথার জন্যে কি বুদ্ধিবেশ্যা বলা হয়েছে? নাকি বলা হয়েছে সবটুকু সত্যকে আড়াল করে ছফা যে মিথ্যাচার করেছেন সেটি বুদ্ধিবেশ্যা? ভুল কোর্ট না করে দয়া করে সঠিক ভাবে কোর্ট করুন। আপনার মন্তব্য দেখে মনে হচ্ছে আপনি পোষ্টদাতাকে আক্রমন করার পণ নিয়ে নেমেছেন এবং বেশ সফলতার সহিত করে গেছেন।

৬। তাতে লেখকের কি আসে যায়

লেখককে দফাদফা করার পণ নিয়ে নামার কারণে লেখার শিরোনামটা বোধহয় পড়া হয়নি মনোযোগ দিয়ে, দয়া করে আবার পড়ুন। অন্ধ গুরু ভক্তির কথা আছে সেখানে। যারা অন্ধ পূজো করে তারা বাকী সবাইকে বাতিল করে দেয়। সেটাই উল্লেখ করা হয়েছে। তারপরও যদি আফসোসের আগুনে জ্বলেন তবে নিজ দায়িত্বে জ্বলতে থাকুন।

৭। জ্ঞান কম হবার পরে আর মন্তব্য না করাটাই বোধ হয় শ্রেয়

আবারো ভুল কোর্ট করেছেন। বলা হয়েছে চিত্রশিল্পে লেখকের জ্ঞান বিধায় জয়নুল/কামরুল না সুলতান বড় সেই বিচারে যাওয়ার ক্ষমতা নেই তাই সেই বিষয়ে মন্তব্য নিস্প্রয়োজন।

৮। এই লেখক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর নামটা বোধহয় একবারও ঠিকভাবে লিখতে পারেন নাই

আপনি সফল, আপনার আক্রমন করার ক্ষমতায় মুগ্ধ হলাম। কারণ আপনি বানান ভুলের দাবিতে শেখ মুজিবুর রহমানকে লেখক কতটুকু শ্রদ্ধ করে কিংবা বিভৎস শ্রদ্ধা করে সেটা পরিমাপ করে বসেছেন। আপনাকে গুরু গুরু বানালাম। শেখ মুজিবের এই বানানটি কি ভুল? বানান ভুল হলে ক্ষমাপ্রার্থী কিন্তু বানান ভুলের জন্যে যেভাবে আক্রমন করলেন এমন আক্রমনের অভিজ্ঞতা সচলে গত দেড় বছরে হয়নি। তারপরও সচলের প্রথম পাতায় হিমু ভাইয়ের কলরবের পোষ্টটি দেখুন উনিও এভাবে লিখেছেন।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

ধ্রুব আলম এর ছবি

দাগা দিছেন মিয়া। খাইছে

মাসুদ সজীব এর ছবি

সবধরনের আক্রমনের শেষে উনি লেখককে একজন মুজিব বিদ্বেষী বিশিষ্ট রাজাকার প্রমাণ করে ছেড়েছেন, উনার প্রতিভায় মুগ্ধ না হয়ে পারি? চোখ টিপি

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

দীনহিন এর ছবি

একটি প্রশ্নের উত্তর এখনো পাইনি, ভাইয়া!

আমার জ্ঞানে আমি যতটুক বুঝি আহমদ ছফা বাংলাদেশের অন্যতম গুণী লেখক, হয়তো শ্রেষ্ঠদের মাঝেও একজন।

ছফা কেন গুণী লেখক? কেন শ্রেষ্ঠদের মাঝেও একজন? লেখক ছফা আর তার বইয়ে নিহিত দর্শন কি আলাদা সত্তা? তাহলে কেন শ্রেষ্ঠ ছফা? কেন?

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

ধ্রুব আলম এর ছবি

আমার জ্ঞানে আমি যতটুক বুঝি আহমদ ছফা বাংলাদেশের অন্যতম গুণী লেখক, হয়তো শ্রেষ্ঠদের মাঝেও একজন।

"আহমদ ছফা বাংলাদেশের অন্যতম গুণী লেখক" সহমত। তার লেখা সুপাঠ্য এবং অবশ্যই উত্তম। সব হয়তো নয়, কিন্তু একজনের সব লেখাই সেরা বা অসাধারণ হয় না। "তবে হয়তো শ্রেষ্ঠদের মাঝেও একজন" অতিশয়োক্তি বলে মনে হয়েছে। (ব্যক্তিগত মতামত)

লেখক ছফা আর তার বইয়ে নিহিত দর্শন কি আলাদা সত্তা?

হতেই পারে। আল মাহমুদ বা সৈয়দ আলি আহসানকে দেখুন। এদের সাহিত্যে কিছু অবদানকে ফেলে দিতে পারবেন না, যদি না রাজনৈতিক দর্শনকে বিবেচনায় না রাখেন।

আর দ্বিমুখী আচরণের জন্যে তো ফরহাদ মজহার ও আসিফ নজরুল তো আছেনই।

উদাহরণ দিলাম, তুলনা নয় কিন্তু।

দীনহিন এর ছবি

আল মাহমুদ বা সৈয়দ আলি আহসানকে দেখুন। এদের সাহিত্যে কিছু অবদানকে ফেলে দিতে পারবেন না, যদি না রাজনৈতিক দর্শনকে বিবেচনায় না রাখেন।

উদাহরণটি যথার্থ হল কি?

ছফা চিন্তক হিসেবেই খ্যাত, আর মাহমুদ কবি। মাহমুদ বাংলা প্রকৃতিকে নিয়ে লিখে পাঠককে নাড়া দিতে সক্ষম হয়েছেন; কিন্তু ছফা আসলে কেন খ্যাত????????? মননশীল/দার্শনিক/চিন্তাশ্রয়ী লেখা ছাড়া ছফার আলোড়ন সৃষ্টিকারী বই বা জাগরনী কোন গ্রন্থের নাম আমার মনে পড়ছে না, একটু সাহায্য করবেন ধ্রুব আলম ভাইয়া?

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

ধ্রুব আলম এর ছবি

কিন্তু ছফা আসলে কেন খ্যাত?

এটা কে বললো? অ্যাঁ আপনি যদি এটাকে তুলনা হিসেবে নেন, তবে তুলনা ভুল হয়েছে। আমি আগেই বলেছি উদাহরণ।

ধরেন, আবুল ক্রিকেট খেলে ও সিগারেট খায়। সিগারেট খায় দেখে অনেকে পছন্দ করেনা তাকে। আবার করিম ফুটবল খেলে ও ধূমপায়ী। আবারো, এই দ্বিতীয় কারণটির জন্যে অনেকে তাকে পছন্দ করে না। তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল, তবে এই এক অভ্যাসের জন্যে অনেকের কাছে অপছন্দনীয়। এখন, তাদের উদাহরণ হিসেবে একসাথে দেখানোই যায়।

কবি তার বিচরণক্ষেত্রে সফল (সফল না বললেও ব্যর্থ নিশ্চয়ই না), কিন্তু দর্শনের কারণে নিন্দাও জুটে তার কপালে। চিন্তকও তার ক্ষেত্রে সফলই বলা চলে। তবে দর্শনের কারণে উনিও কিছু সমালোচকের গালমন্দও খাচ্ছেন! এখানে ক্ষেত্রটি বড় কথা নয়, তাদের বিভ্রান্ত বলুন আর চক্রান্ত বলুন, সেই দর্শনটিই মুখ্য।

আহমদ ছফাকে আমি বিভ্রান্ত, এবং প্রোপাগাণ্ডায় গা ভাসিয়ে দেয়া বলতে চাই, সেক্ষেত্রে মিথ্যাবাদীর তকমা তিনি পুরোপুরি এড়াতে পারেন না। আবার তার ৭২-৭৫-র বর্ণনা যে পুরোপুরি মিথ্যে, সেটি আমি মনে করি না। শুধু শুধু মিথ্যা উনি বলবেন কেন? বাকি যাদের নাম নিয়েছি, তাদের বৈষয়িক স্বার্থ আছে, উনার ছিলো না, এটা জোর গলায় বলতে পারি।

আর আপনি কি অন্ধ ভক্ত নাকি? অ্যাঁ

"মননশীল/দার্শনিক/চিন্তাশ্রয়ী লেখা" বাদেও নানা ধরণের লেখা কি আপনি মন্তব্যতে পাননি? হুমায়ুন আজাদকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও শেখ মুজিবর রহমানের ৭২-৭৫ আমলকে অতি অতি সরলীকরণে পরিণত করা দুটি লেখার নমুণা তো রয়েইছে। পড়েই দেখুন না।

আর সবাইকে 'ভাইয়া' বলছেন কেন? বিদ্রুপ করে যদি বলে থাকেন, তবে বলছি, এর প্রয়োজন ছিলো না।

দীনহিন এর ছবি

চিন্তকও তার ক্ষেত্রে সফলই বলা চলে। তবে দর্শনের কারণে উনিও কিছু সমালোচকের গালমন্দও খাচ্ছেন!

মাথার উপ্রে দিয়ে গেল! চিন্তক ও দার্শনিকের মধ্যে ঠিক কি কি পার্থক্য আছে বলে মনে হয় আপনার?

"মননশীল/দার্শনিক/চিন্তাশ্রয়ী লেখা" বাদেও নানা ধরণের লেখা কি আপনি মন্তব্যতে পাননি?

উহু, ছফা যে আর কিছু লেখেননি, তা কে বলেছে? মনে হয় বুঝতে পারেননি প্রশ্নটা, দেখুন, শামসুর রহমান হ্যামলেটও অনুবাদ করেছিলেন, কিন্তু তবু তিনি মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের প্রধান কবি; আবার কবীর চৌধুরীর মূল পরিচিতি কিন্তু অনুবাদক হিসেবেই; বলছিলাম, ছফার মূল পরিচিতি তার চিন্তাশ্রয়ী লেখাগুলোকে ঘিরেই; ছফা কবি বা ঔপন্যাসিক হিসেবে অতটা আলোচিত হননি; তবে আপনি যদি ছফার কোন গল্প, কবিতা বা উপন্যাস নিয়ে আলোড়িত হয়ে থাকেন, এবং সে জন্য তাকে গুণী লেখক বা শ্রেষ্ঠ লেখকের আসনে বসাতে চান, তা আপনি অবশ্যই পারেন, এবং পাঠক হিসেবে আপনার এই স্বাধীনতাটুকু রয়েছেই। আমাদের চাওয়া তো খুব সামান্য, ঠিক কোন গল্প, কবিতা বা উপন্যাসের জন্য আপনার চোখে শ্রেষ্ঠ লেখক বা গুনী লেখকের আসনে বসে গেলেন ছফা, তা যদি বলতেন!

আর আপনি কি অন্ধ ভক্ত নাকি?

অন্ধ ভক্ত নই, তবে অন্ধ সমালোচকও নই।

আর সবাইকে 'ভাইয়া' বলছেন কেন?

আপনি যদি আপু না হয়ে থাকেন, তাহলে 'ভাইয়া' বলবই বা না কেন? তাছাড়া, সচল নীতিমালার কোথাও শব্দটি প্রয়োগে কোন নিষেধাজ্ঞাও তো দেখতে পাচ্ছি না!

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

ধ্রুব আলম এর ছবি

আপনাকে সবকিছু কি লাইন বাই লাইন বা চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিতে হবে? আপনি তো সেই লেভেলের ভোদাই নন। আপনি যেটি করছেন, সেটি হচ্ছে ত্যানা পেচাঁনো, কেন পেচাচ্ছেন, জানি না। আপনি ইচ্ছা করে কেন ধোয়াশা টাইপ কত্থা বলছেন, আবার মাঝে মাঝে পেচাঁচ্ছেন, কিছুই বুঝলাম না। অ্যাঁ

চিন্তক = থিঙ্কার; আর আমি দর্শন শব্দটি এখানে ব্যবহার করেছি ভিউ বুঝাতে। আপনি দর্শনের পরিবর্তে ভিউ বসিয়ে নিন।

মননশীল/দার্শনিক/চিন্তাশ্রয়ী লেখা ছাড়া ছফার আলোড়ন সৃষ্টিকারী বই বা জাগরনী কোন গ্রন্থের নাম আমার মনে পড়ছে না, একটু সাহায্য করবেন ধ্রুব আলম ভাইয়া?

তার 'ওঙ্কার' এবং ফাউস্তের অনুবাদ বেশ বিখ্যাত। যদিও আমি তার প্রবন্ধ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের জন্যেই তাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। আর 'যদ্যপি আমার গুরু'র বিষয়বস্ত নিয়ে দ্বিমত থাকতে পারে, তবে সুপাঠ্য।

বলছিলাম, ছফার মূল পরিচিতি তার চিন্তাশ্রয়ী লেখাগুলোকে ঘিরেই; ছফা কবি বা ঔপন্যাসিক হিসেবে অতটা আলোচিত হননি;

তাহলে আপনি ছফার যা যা আপনার মতের সাথে যাবে, আলোচিত হবে, তাই বেছে নিবেন। উলটাপালটা লেখা নিয়েই কিছু বললেই হাউমাউ করে উঠবেন যে, আরে এগুলা বাজারে আলোড়ন তুলে নাই। কিন্তু 'সোনার চাঁদ' (ঠিক করেছি এখন থেকে আপনাকে এ নামেই সম্বোধন করবো, নীতিমালা দেখেছি, কিছু বলে নাই। আপনাকে কিউট লাগে বলেই বলছি, বিদ্রুপ নয় কিন্তু চোখ টিপি ) একজন লেখক/ চিন্তকের সব লেখাই তো তাকে প্রকাশ করে। নইলে আলি আহসান আর আল মাহমুদকে ফেলে দিচ্ছেন কেন (নাকি আপনি দেন না)?

অন্ধ ভক্ত নই, তবে অন্ধ সমালোচকও নই।

অবশ্য উপরিউক্ত মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, আপনার অভ্যাসই এমন। আমি বা আমরা যখন ছফাকে বিশেষ বিশেষ লেখার জন্যে সমালোচনা করছি, বা তাকে গুণী/ সরলচিত্তের মানুষ বা সুপাঠ্য লেখক বলে ধরে নিলেও, আপনার মতে তখন সেটা হচ্ছে অন্ধ সমালোচনা। কারণ আপনি তার সাথে আমাদের যেখানে দ্বিমত রয়েছে সেটাকেই কোট করে তুলে আনছেন। এই লেখায় বা কোন একটি কমেন্টে কোথাও কি তার নামে কোন অসভ্য আক্রমণ পেয়েছেন কি?

আমার বরং মনে হচ্ছে, আপনি বেশ এক ভক্ত, যিনি বুকে দাগা খেয়ে যারা যারা ভিন্নমত পোষণ করেছেন, তাদের ক্রমাগত খুচিয়ে যাচ্ছেন (এবং 'ভাইয়া' ভাইয়া' করে বিদ্রুপও করছেন)

দীনহিন এর ছবি

আপনি তো সেই লেভেলের ভোদাই নন।

অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কখনো কখনো স্বাভাবিক মানুষকেও অস্বাভাবিক করে তুলে, এমনকি ভোদাইয়ের লেভেলেও ফেলে দেয়, তা আপনার গোল গোল কথাগুলি না পড়লে বুঝতেই পারতাম না, সত্যি বলছি!

ঠিক করেছি এখন থেকে আপনাকে এ নামেই সম্বোধন করবো, নীতিমালা দেখেছি, কিছু বলে নাই। আপনাকে কিউট লাগে বলেই বলছি, বিদ্রূপ নয় কিন্তু

অবাক হই নাই; সহজ বাংলায় লেখা নীতিমালার পাঠটুকুও যার সামর্থ্যের বাইরে, সে করবে ছফার পাঠোদ্ধার?

দেখুন, আমি যা বলেছি, লীলেনদা ও শুভাশীষদাও তাই বলেছেন (যদিও উনাদের কাছ থেকে দূরেই থেকেছেন); লীলেনদা ও শুভাশীষদাকে একবারও মনে হয়নি ছফার অন্ধভক্ত, তারা যা বলতে চেয়েছেন, তা হল, ছফার পাঠ অসম্ভব নয়, কিন্তু এত সহজও নয়; এজন্যই শুভাশীষদাকে ধারাবাহিক ছফাগিরি লিখতে হয়, শুভাশীষদার উদ্ধৃতিঃ

তের পর্বের ‘ছফাগিরি’ তে ছফাকে নিয়ে অনেক অনেক বিতর্কের জবাব দেয়া আছে। ঐ সিরিজে এই পর্যন্ত কমেন্ট সংখ্যা ৬২৩; কষ্ট কম করতে চাইলে যোগসূত্র বোঝার ঐটাও একটা তরিকা হৈতে পারে।

বুঝছেন এইবার??? শুভাশীষদা, বা লীলেনদা ছফার অন্ধ ভক্ত বা অনুরাগী না; তবে তাদের বক্তব্য হল, ছফাকে বিশ্লেষণ করলে একটু কষ্ট করতে হবে, আরও গভীরে ঢুকতে হবে, মাত্র সামান্য পড়েই তাক লাগিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে হাস্যকর হবে!

আপনি এত জানেন বা পারেন, শুভাশীসদার 'ছফাগিরি'-তে যেয়ে আপনার জ্ঞানগর্ভ বক্তব্যগুলো রেখে আসছেন না কেন??? সেখানকার আলোচকদের যুক্তিগুলি খন্ডন করে আসুন, প্লিজ লাগে!

'ভোদাই, সোনার চাঁদ বা হাউমাউ' ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করার নেপথ্য শক্তিটি কি, জানি না; তবে সিনিয়র সচলদের কাছ থেকে দূরে থাকলেও একজন অতিথি হাচলকে বাগে পেয়ে ইচ্ছেমত গালাগাল করে নেয়ার মধ্যে বাহাদুরি যে নেই, তা ঘটলে যে তা আপনার নৈতিক অবস্থানকেই দুর্বল করে, সে আপনার জানা নাই।

আমার কোন নেপথ্য শক্তি নেই; হয়ত এই মন্তব্যও প্রকাশিত হবে না; আপনার গালাগালসমেত মন্তব্য শোভা পেলেও আমার জবাবটুকু হয়ত নীতিমালা লঙ্ঘন হিসেবেই দেখা হবে; তবে নেপথ্য শক্তি ছাড়া বেঁচে থাকার আনন্দটুকু আমার ঠিকই থাকবে।

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

মাসুদ সজীব এর ছবি

দীনুদা আপনি হতাশ করলেন। আপনি প্রথম থেকে অনেকবার অনেক জায়গায় কথা ঘুরিয়েছেন, জটিল করেছেন, যা বলা হয়নি তাই বলেছেন।

একেবারে প্রথমেই বলেছেন ছফাকে রিড করা যায় না। হিমু দা যখন সেটাকে আপত্তি জানালো তখন আপনি আবার কথা ঘুরিয়ে নিলেন।

দ্বিতীয়ত আপনি শুভাশীষ দাকে প্রশ্ন করেছেন ছফা কেন মৌলবাদর সাথে বুক মেলানে, অথচ আমি ছফার বিরুদ্ধে এমন কোন অভিযোগ করিনি।তাহলে এই প্রশ্ন কেন আসলো?

আপনি বলছেন শুভাশীষ দা বলেছেন ছফা পাঠ সহজ নয় অথচ এই পোষ্টেই তিনি বলেছেন ছফা পাঠ অসম্ভব হবে কেন? উনি তো আর কমলকুমারের ভাষায় বাংলা লেখেন নাই

ছফাকে কেন গুণী বললাম তার ব্যাখা চাইলেন, কেন হয়তো শ্রেষ্ঠ বললাম তাও জানতে চাইলেন? এগুলোর আসলে প্রয়োজন ছিলো না। একজন লেখকের একটি মতের সাথে/বিশ্বাসের সাথে আমার অমিল হতে পারে, আমি সেটা গ্রহণ না করতে পারি কিন্তু তার মানে এই নয় যে তার সব লেখাকে আমি বাতিল করে দিবো। ছফাকে আমি বাতিল করিনি। আমি তখন-ই একজন লেখককে বাতিল করি যখন সে জাগতিক স্বার্থে ধর্মের লাঠি হাতে নেয়, যখন সে মৌলবাদি-স্বৈরাচারীর পদতলে ঠাঁই নেয়।

আর সর্বশেষ মন্তব্যে আপনি সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছেন, বললেন কোন নেপথ্য শক্তি আমার নেই তাই এই মন্তব্য প্রকাশিত হবে না

অথচ এই মন্তব্য প্রকাশ পেল! এটি আসলে সচলের প্রতি আপনার অনাস্থা প্রকাশ পায়, একি সাথে সচলে স্বজনপ্রীতি হয় বুঝায়। এতদিন সচলে থাকার পর এইটুুকু আপনার মূল্যায়ন? সচলে নেপথ্য শক্তি আছে?

তারপর আবার সচল-হাচল দের শ্রেণী বিভাগ করলেন। আপনার মন্তব্য শুনে মনে হচ্ছে এটা আলোচনা নয় যুদ্ধ। সচলরা অনেক শক্তিশালী তাদের পোষ্টে গিয়ে আলোচনা করে আসতে পারলে বাপের বেটা আর নইলে ভীতুর ডিম? আমি ব্যাক্তিগত ভাবে সচল আর হাচলকে আলাদা ভাবে বিচার করি না। আমার কাছে লেখাটাই প্রধান সে যেই লেখুক। যেমন লীলেন দা আমার প্রিয় একজন লেখক, কিন্তু উনার সাথে দ্বিমত পোষন করতে আমি ভয় পাইনি। আর উনাদের ছফাগিরিতে গিয়ে হুট করে এই বিষয়ে আলোচনা করা সঠিক মনে হয়নি, সেটা প্রাসঙ্গিক হতো না বলে করিনি। কোন প্রকার ভয় কিংবা বাহদুরি পেতে নয়।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

দীনহিন এর ছবি

একেবারে প্রথমেই বলেছেন ছফাকে রিড করা যায় না। হিমু দা যখন সেটাকে আপত্তি জানালো তখন আপনি আবার কথা ঘুরিয়ে নিলেন।

আমি কথা ঘুরাইনি, প্রথমে যা বলেছি, এখনো তা বলছি, আমি বলেছি, 'ছফাকে ঠিক রিড করা যায় না', অথচ আপনারা 'ছফাকে রিড করা যায় না' বলে আমার কথাকে ঘুরে ফিরে বার বার বিকৃত করছেন। আগেও বলেছি, 'ছফাকে ঠিক রিড করা যায় না' মানে, আমার কাছে, 'ছফাপাঠ কঠিন, অসম্ভব নয়', তবে এই কথাটি আরও হাজারবার বললেও আপনারা ঠিকই 'ঠিক' শব্দটি বাদ দিয়ে আমার কথাটির মূল অর্থ বিকৃত করেই যেতে থাকবেন।

আপনি বলছেন শুভাশীষ দা বলেছেন ছফা পাঠ সহজ নয় অথচ এই পোষ্টেই তিনি বলেছেন ছফা পাঠ অসম্ভব হবে কেন?

'সহজ নয়' এবং 'অসম্ভব' শব্দদুটির মধ্যেকার পার্থক্য আপনি জানেন না, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। অথচ দেখুন, আবারও সমার্থক অর্থে শব্দদুটি কি অবলীলায় ব্যবহার করলেন!!
আবারো বলছি, ছফাপাঠ অসম্ভব নয়, তবে সহজও নয়, যদি হত, তাহলে শুভাশীষদাকে তের পর্বের ছফাগিরি নামাইতে হইত না, আপনার মত একটি পোস্টেই সমুলে ব্যবচ্ছেদ করতে পারতেন। লীলেনদাও কিন্তু এই দিকেই আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন, খেয়াল করলে দেখবেন, লীলেনদা বা শুভাশীষদা আপনাদের তুলে ধরা যুক্তির ধারে কাছে দিয়েও হাটেননি বা আলোচনার আগ্রহ দেখাননি; কেনই বা দেখাবেন, এই ব্লগেই, এই সচলেই তারা অনেক অনেক আগে এসব আলোচনা করে এসেছেন, আরও অনেক গভীরে ঢুকে, এখন এদ্দিন বাদে এত অগভীর আলোচনায় তাদের আগ্রহ থাকবে কেন??

হ্যা, লীলেনদা বা শুভাশীষদার আগ্রহ থাকত, যদি আপনারা নতুন কোন আলোক প্রক্ষেপন করতে পারতেন, নতুন কোন মাত্রা যোগ করতে পারতেন; সেই পুরনো ছফাবধ, সেই পুরনো সমালোচনা, যা বহুল আলোচিত এবং চর্চিত, যা নিয়ে গাদা গাদা আলোচনা হয়ে গেছে, তা নিয়ে লীলেনদা বা শুভাশীষদা আলোচনার আগ্রহ দেখাবেন না, এটাই তো স্বাভাবিক।

এটি আসলে সচলের প্রতি আপনার অনাস্থা প্রকাশ পায়, একি সাথে সচলে স্বজনপ্রীতি হয় বুঝায়।

সচলকে ভালবাসি, আর এটাই আমার শক্তি, আর কোন শক্তি নেই আমার। আস্থা বা অনাস্থার প্রশ্ন আসছে কেন, আমি তো সচলে চাকুরী করি না, সচল নামক ব্লগটিকে ভালবেসে কখনো সখনো মন্তব্য করি, কখনো লিখিও। এই তো।

কিন্তু দেখুন ধ্রুব আলমের ব্যাপারটি। আমি আপনার সাথেই বিতর্ক করছিলাম। উনি মাঝখান থেকে ভিতরে ঢুকে কি সব অশালীন শব্দ প্রয়োগ করলেন। ধ্রুব আলম মনে হয়না খুব বেশিদিন হাচল হয়েছেন, তবু আরও একজন অতিথি হাচলকে 'ভোদাই','সোনার চাঁদ' ইত্যাদি বর্ষন করতে একটুও বাঁধেনি তার, কিন্তু কেন? আমি ঠিক জানি না, কিন্তু ধ্রুব আলম হয়ত হিমু ভাইয়ের 'অর্শায় না' জাতীয় শব্দ দ্বারা উৎসাহিত হয়ে থাকবেন, মানে, এই দীনহিন ব্যাটাকে ইচ্ছে করলেই একটা ঘা দিয়ে দেয়া যায়, কারণ --- আর নাই বললাম!

দেখুন, আমি যা বলেছি (মানে, আমাদের ছফা পাঠ হয়ত সম্পূর্ণ নয়, অর্থাৎ, ছফাকে সঠিক মূল্যায়ন করতে হলে, হোক তা ইতিবাচক বা নেতিবাচক, আমাদের আরও আরও পাঠ করতে হবে), তা কিন্তু আরও জোরলো ভাষায় এবং স্পষ্টরূপে লীলেনদা ও শুভাশীষদা বলেছেন; কিন্তু তাদেরকে ধ্রুব আলমরা এমন সব শব্দ বর্ষন তো দূরের কথা, এমনকি রিফিউট করারও সাহস পাবে না।

অন্যদিকে, অধম দীনহিনকে গালাগালও করতে পারবে, কারণ সে তো এমনিতেই খন্ডিত! আগে থেকেই।

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

ধ্রুব আলম এর ছবি

আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত আপনাকে আঘাত করেছি বলে। দেখুন, উনার লেখার বদৌলতে বেশ কিছু ছফার লেখা নতুন করে পড়া হয়েছে। আর আগেও যে পড়া ছিলো না, সেটিই বা কে বললো আপনাকে? এককালে ছফা বেশ পড়েছিলাম, খুব বেশি ভাল লাগেনি। কেন লাগেনি, মন্তব্যে কারণ জেনে গেছেন ইতোমধ্যে।

আপনার বিদ্রুপাত্মক টোন আমার ভাল লাগেনি। আর আপনি মোটেও ভোদাই নন, কিন্তু এখানে জেনেশুনে অমন করছেন কেন, আমার সত্যিই বোধগম্য নয়। আপনি তেনাও মোটেই পেঁচান না, এখানে কেমন যেন ধোঁয়াশা ছড়িয়েছেন। লেখক ছফার নামে লিখেছেন বলেই কি?

আর আপনাকে অতটা আঘাত দেয়ার ইচ্ছে আমার মোটেও ছিলো না। আমি শব্দটা হাস্যচ্ছলেই ব্যবহার করেছি, পিছে স্মাইলিও দেখেছেন নিশ্চয়। আপনার কাছে বুদ্ধিদীপ্ত, যৌক্তিক জবাব আশা করি বলেই, ভুলে রূঢ় ব্যবহার করেছি। ক্ষমা করবেন।

আমাদের ছফা পাঠ হয়ত সম্পূর্ণ নয়, অর্থাৎ, ছফাকে সঠিক মূল্যায়ন করতে হলে, হোক তা ইতিবাচক বা নেতিবাচক, আমাদের আরও আরও পাঠ করতে হবে

আমার দ্বিমত এখানেই। আপনি কেন ধরেই নিচ্ছেন, আমি বা লেখক কম পড়েছি? আরেকটি কথা, এটি কি ওই বক্তব্যের মত হয়ে গেল না "কুরান বুঝতে হলে পুরোটা পড়তে হবে, বার বার পড়তে হবে, ভিন্নভাবে দেখতে হবে"

তবে আপনার ব্যক্তিগত অভিমত নিয়ে ভালো থাকুন। আমি সেটি নিয়ে কিছু বলিনি। আপনি অতিথি কিনা, সেটিও আগে খেয়াল করিনি। আমি আসলে আপনাকে বহুত পুরনো সদস্য বলেই জানি। আর ওভাবে তো কখনো মন্তব্য করি না, কে করেছে নাম দেখে, মন্তব্যটি কি, সেটি দেখেই লিখি।

আর আপনাদের আলোচনার মাঝে এসে আমি মন্তব্য করেছি বটে, কিন্তু তাতে, বিদ্রুপ, অসভ্যতা বা নোংরামি কোথায় ছিলো? লেখাটি আমার ভালোই লেগেছে, তার সঙ্গে আলোচনাও, তাই বেশ ঘেটেঁঘুঁটে কিছু লেখাযুক্ত করে মন্তব্য করেছি, প্রয়োজনের তুলনায় বেশিই মনে হয়!

সে যাকগে, উপরিউক্ত একটি ছাড়া বাকি কোনটিতেই আপনাকে আক্রমণের ইচ্ছা আমার ছিলো না। আর কিছু অপ্রিয় শব্দ উচ্চারণ করেছি, ব্যঙ্গ করে, তীব্র আঘাতের বাসনা নিয়ে নয়।

আর আলোচনা যখন এখানে চলছে, চলুক না। যার ইচ্ছা হবে অংশ নেবেন, যার ইচ্ছে হবে না, নেবেন না। অনেক কিছু জানা হলো ছফার সম্পর্কে, ক্ষতি কি? ছফাগিরি না পড়েও, মূল ছফা তো পড়া হচ্ছে।

হিমু এর ছবি

আপনি কি "অর্শায়" শব্দটার মানে বোঝেন? নাকি ইচ্ছা করে টুইস্ট করছেন?

অভিধানে কী বলছে দেখুন:

অর্শানো [ arśānō] ক্রি. 1 বর্তানো, উত্তরাধিকার সূত্রে বা অন্যভাবে পাওয়া, অধিকারে আসা (পিতার সম্পত্তি পুত্রে অর্শে বা অর্শায়); 2 স্পর্শ করা (দোষ অর্শায়); 3 ভাগ্যে ঘটা। [ফা. উর্স্ > বাং. √ অর্শ্ + আ, আনো]।

বাংলা ভাষা শিখে তারপর "নেপথ্য শক্তি"র গন্ধ শুঁকতে সচলায়তনে আসবেন।

মাসুদ সজীব এর ছবি

দীনুদা, আপনি আপনার প্রথম মন্তব্যে একটু ফিরে যান, সে মন্তব্যের উত্তরে আমি যে প্রশ্নগুলো করেছিলাম আপনি কি তার একটিরও উত্তর দিয়েছেন। দেননি, আপনাকে একেবারে পয়েন্ট আকারে প্রশ্ন করছি, সেগুলো পয়েন্ট আকারেই উত্তর দিবেন আশা করছি।

১।

শুভাশীষদাকে তের পর্বের ছফাগিরি নামাইতে হইত না

শুভাশীষ দা শত শত পর্ব নামালেই সেটি আমাকে কিংবা সবাইকে তা গ্রহণ করতে হবে এমন না। জাকের নায়েকও ধর্ম নিয়ে শত শত হাজার হাজার লেকচার দিতে পারে, তাই বলে জাকের নায়েক-ই সঠিক আর বাদ বাকী সবাই ভুল এমন না। (জাকের নায়েকের নাম দেখে আবার অন্যভাবে নিবেন না, জাকের নায়েকের বদলে অন্য যে কারো নাম নিতে পারেন) ছফাকে নিয়ে তের পর্ব নামালেই ছফার সমালোচনা করা যাবে না, এ কথা আপনাকে কে বলল? (শুভাশীষদার ছফাগিরি নিয়ে আপনার কথামালা ধর্মের মতো হয়ে যাচ্ছে, শেষ নবীর পরে আর কোন নবী আসবে না, আর কোন প্রশ্ন করা যাবে না টাইপের নয় কি?) আপনি বলছেন উনারা সেই অালোচনা করে এসেছেন, উনারা করে আসলেই আর প্রয়োজন নেই? শুভাশীষ দা কি ছফার বাণী প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছেন, যেন প্রশ্ন করা যাবে না সেই সম্পর্কে।

২। লীলেনদা বা শুভাশীষদা আপনাদের তুলে ধরা যুক্তির ধারে কাছে দিয়েও হাটেননি বা আলোচনার আগ্রহ দেখাননি; কেনই বা দেখাবেন,

আপনি শুভাশীষ দা আর লীলেনদাকে একেবারে মূল আদর্শ ধরছেন কেন ছফার আলোচনায়? ‍আর আমার মনে হচ্ছে আপনি উনাদের দুজনের সাথে আমাকে মুখোমুখি করে দিচ্ছেন যেন একটা তিক্ততা সৃষ্টি হয়। উনারা আগ্রহ দেখাননি সেটি উনাদের ব্যাক্তিগত বিষয়, আমিতো জোর করে উনাদের কে আলোচনায় ডেকে নিয়ে আসতে পারি না।

৩। এই ব্লগেই, এই সচলেই তারা অনেক অনেক আগে এসব আলোচনা করে এসেছেন, আরও অনেক গভীরে ঢুকে, এখন এদ্দিন বাদে এত অগভীর আলোচনায় তাদের আগ্রহ থাকবে কেন??

বাহ! সব তো আপনি বিচার করে ফেললেন। কোনটা গভীর আর কোনটা অগভীর! সচল কর্তৃপক্ষ যদি মনে করতো এ বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজন নেই তাহলে এ লেখা প্রকাশিত হতো না। যার ভালোলাগবে সে আলোচনায় অংশগ্রহন করবে আর যার লাগবেনা সে করবে না। কেউ(শুভাশীষ দা কিংবা লীলেন দা) আলোচনায় অংশগ্রহন না করলে এই লেখা বিফলে যাবে না কিংবা অংশগ্রহন করলেই সেটি সফল হয়ে যাবে না। উনারা ছাড়াও আরো অনেকেই এই আলোচনায় অংশগ্রহন করেছে। তারপরও বলছি ‍আমার লেখা অগভীর হতে পারে, কিন্তু আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর উনারা দেননি, উনারা শুধু আমার লেখা নয় অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যের(আব্দুল্লাহ ভাইয়ের লিংক, ধ্রুব ভাইয়ের ছফার লিংক, জিন্নাহ মৃত্যুতে শেখ মুজিবের হাউমাউ করে কান্না) ব্যাখা দেননি, এমনকি আপনিও নন। কোন প্রকার ব্যাখা না দিয়ে শুধু উপদেশ দিয়ে গেছেন সবাই। আর এ লেখা উনাদেরকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়নি।

৪। হ্যা, লীলেনদা বা শুভাশীষদার আগ্রহ থাকত, যদি আপনারা নতুন কোন আলোক প্রক্ষেপন করতে পারতেন, নতুন কোন মাত্রা যোগ করতে পারতেন; সেই পুরনো ছফাবধ, সেই পুরনো সমালোচনা, যা বহুল আলোচিত এবং চর্চিত, যা নিয়ে গাদা গাদা আলোচনা হয়ে গেছে, তা নিয়ে লীলেনদা বা শুভাশীষদা আলোচনার আগ্রহ দেখাবেন না, এটাই তো স্বাভাবিক।

আপনার এ মন্তব্য পড়ে মনে হলো আপনি শুভাশীষ দা আর লীলেনদারও অন্ধ ভক্ত হয়ে গেছেন। বারবার উনাদেরকেই টেনে আনছেন, উনাদেরকেই আদর্শ মানছেন! নতুন আলো কি রকম? ছফাকে পূজো করা, তাঁর মতো জ্ঞানী পন্ডিত আগামী তিন হাজার বছরে আর আসবে না, এমন কথা? দু:খিত ছফাকে পূজো করা, শুধু ছফা নয় কাউকেই পূজো করা সম্ভব নয়। আমরা পারিনি নতুন আলো প্রক্ষাপন করতে, আপনি দয়া করে একটু করে দেখান, দেখে শিখি।
৫। ধ্রুব আলম মনে হয়না খুব বেশিদিন হাচল হয়েছেন

আপনি আবারও সচল-হাচল, সিনিয়ার-জুনিয়াল খুঁজলেন?

৬। আমাদের আরও আরও পাঠ করতে হবে

আমাদের বলতে কি আপনি আমাকে সহ বুঝালেন? আপনি কি করে জানলেন আমি ছফাকে কতটুকু পড়েছি। আপনি পুরো মন্তব্যটিতে বারবার শুভাশীষ দা আর লীলেন নাদকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অানছেন কেন সেটা আমার কাছে একেবারেই বোধগম্য হয়নি।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

আমার কোন নেপথ্য শক্তি নেই; হয়ত এই মন্তব্যও প্রকাশিত হবে না; আপনার গালাগালসমেত মন্তব্য শোভা পেলেও আমার জবাবটুকু হয়ত নীতিমালা লঙ্ঘন হিসেবেই দেখা হবে; তবে নেপথ্য শক্তি ছাড়া বেঁচে থাকার আনন্দটুকু আমার ঠিকই থাকবে।

কথাগুলো একেবারেই ভালো লাগল না...

০২।
এমন চাইলে সোনা/সামু ব্লগে যেতে পারেন... সেখানে ছফা সম্পর্কে শুধুমাত্র গোল গোল কথা'র ভাণ্ডার পাবেন... কোনও নেপথ্য শক্তি সেখানে ছফা'র সমালোচনা করতে আসবে না।

০৩।
ছফাগিরি'র কমেন্ট সেকশন ঘুরে আসতে পারেন। লীলেন'দা ও শুভাশীষ'দা ছাড়া আরও একজন সক্রিয় আলোচনায় অংশ নিয়েছেন যাঁর নাম হাসান মোরশেদ। তাঁর কিছু কমেন্টে এই পোস্টের আলোচ্য কিছু কথা আগেও এসেছে, কথাগুলো নতুন নয়। তাঁর আলোচনাকে আপনি চেপে গেলেন কি?

০৪।
নিচে আব্দুল্লাহ এ এম ভাইয়ের একটি লিঙ্কসমেত কমেন্টে কারও কোনও আগ্রহ দেখতে পাচ্ছিনা! কোন নেপথ্য শক্তির প্ররোচনায় সেখানে ছফা'র কথাগুলোকে কেউ খণ্ডাতে আসছেন না বুঝলাম না।

০৫।
ছফাগিরি ১ এর কমেন্ট সেকশন দেখতে পারেন যেখানে শ্রদ্ধেয় ষষ্ঠ পান্ডব'দা হুঁশিয়ার করেছিলেনঃ

... ... কাউকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে আপনার অবস্থান যদি নিরপেক্ষ না হয়, বিচারের ক্ষেত্রে আপনি যদি কঠোর না হন তাহলে আপনার বিশ্লেষণ শেষ পর্যন্ত স্তুতি বা নিন্দাতে পরিণত হবে।

ব্যক্তি শুভাশীষ দাশ আহমদ ছফা বা সলিমুল্লাহ খানকে যে দৃষ্টিতেই দেখুন না কেন বিচার-বর্ণনার ক্ষেত্রে তার প্রভাব না থাকাই উত্তম। আমার মনে হয়েছে লেখায় ছফা বিষয়ে আপনার ব্যক্তিগত মুগ্ধতার ছাপ পড়েছে - আপনি তাতে একমত নাও হতে পারেন - তবে আমার মনে হয়েছে তাই বললাম।

সমালোচনার ভাষা কেমন হতে পারে সে ব্যাপারে ষষ্ঠ পান্ডব'দা কে আদর্শ হিসেবে নিতে পারেন

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

দীনহিন এর ছবি

কথাগুলো একেবারেই ভালো লাগল না...

আমার সংশ্লিষ্ট কথাগুলি ছিল একজন অপমানিত ব্যাক্তির আত্মকথন, খোঁজ নিয়ে দেখুন, সচল তো দূরের কথা, এমনকি কোন হাচল অতিথিকেও অন্য কোন সচল 'ভোদাই', 'সোনার চাঁদ' - এইসব ভাষায় অপমান করেছে কিনা! মনে হয়, পাবেন না। অথচ সেইসব অপমানের কথাগুলি যখন বর্ষিত হচ্ছিল, তখন আপনাকে বা হিমু ভাইকে খুঁজে পাওয়া যায়নি; কিন্তু অপমানিত ব্যাক্তিটি যখন মনের দুঃখে কিছু কথা বলে ফেলেছে, তখন আপনি বা হিমু ভাই একটুও দেরী করেননি। আমার কথাগুলি খারাপ লাগলেও ধ্রুব আলমদের গালাগাল আপনাদের খারাপ লাগেনি!!! আমি বিতর্ক করছিলাম লেখকের সাথে, সচল নীতিমালা যদি লংঘন করে থাকি, তাহলে লেখক বা অন্য যে কারও অভিযোগ করার সুযোগ আছে; কিন্তু হিমু ভাই নিজেই যদি একজনের পক্ষ নিয়ে আরেকজনের উপর কঠোর ভাষা প্রয়োগ করেন, তাহলে আলোচনা কিভাবে হবে? বিশেষ করে, সেই আরেকজন যদি হয় আমার মত একজন নবীন অতিথি হাচল, তাহলে তাদের কি অবস্থা হতে পারে ভেবে দেখুন!

সমালোচনার ভাষা কেমন হতে পারে সে ব্যাপারে ষষ্ঠ পান্ডব'দা কে আদর্শ হিসেবে নিতে পারেন

ষষ্ঠ পান্ডবদা আমার সবসময়কার আদর্শ। কিন্তু আপনার কি মনে হচ্ছে? এই লেখা বা ধ্রুব আলমের সমালোচনাগুলি পান্ডবদা কথিত আদর্শ সমালোচনার উদাহরণ?

অঃ টঃ ভাই, খুব ক্লান্ত লাগছে! আমি আর এই পোস্টে আসছি না। আপনারা যা ইচ্ছে বলতে পারেন বা ভাবতে পারেন আমার ব্যাপারে!

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

হিমু এর ছবি

আপনি তো বাংলা ভাষাই ঠিকমতো শেখেননি। অর্শানো মানে না বুঝে সেটাকে গালি ধরে নিচ্ছেন (মনে হয় অর্শ রোগের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছেন)। এই পোস্টে আমার অংশগ্রহণ দুই তিনটা মন্তব্যে, কিন্তু আপনি আরেকজনের সঙ্গে ঝগড়া পাকিয়ে সে প্রসঙ্গে আমার নাম বার বার টেনে নিয়ে আসছেন। কেন, সেটা আমার বোধগম্য নয়।

দুঃখের সঙ্গে বলছি, আপনার আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

পুরো সচলের গুষ্টি উদ্ধার করে তো বসে আছেন
(ধ্রুব আলম ইতোমধ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন দেখতে পাচ্ছি)

আমার টু-দ্য-পয়েন্ট প্রশ্নের উত্তর পাইনি কিন্তু একটাও চিন্তিত

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

মাসুদ সজীব এর ছবি

একটু দ্বিমত করতে চাই, রাজনৈতিক কারনে কিংবা দর্শনের কারনে আল-মাহমুদ আর আলি আহসানকে বাতিল করা হয়না। যে লেখক প্রতিক্রিয়াশীলতার দীক্ষা নেয়, যে লেখক ধর্মের লাঠি হাতে নেয়, যে লেখক স্বৈরাচার ও রাজাকারদের পক্ষ নেয় তাকেই বাতিল করা হয়। এর দুজন সহ আরো অনেকেই সেই সেই ক্যাটাগরীতে পড়েছে।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

ধ্রুব আলম এর ছবি

আমি ভদ্র ভাষায় রাজনৈতিক দর্শন বলেছি, প্রকৃতপক্ষে এদের প্রতি ঘৃণা ছাড়া আমার আর কিছুই নেই। তবে এরা উদাহরণ হিসেবে আসতে পারেন, ছফার সাথে তুলনা হয় না। ছফা এদের মত নির্লজ্জভাবে কলম ধরেননি, অন্যদিকে আল মাহমুদ তো শিবিরের সদস্য বললেও কম হবে। রেগে টং

মাসুদ সজীব এর ছবি

ছফা মোটেও আল মাহামুদের দলের নয়, ছফা প্রতিক্রিয়াশীলতায় দীক্ষা নেননি কিংবা রাজাকারদের লাঠিয়াল হননি কোনদিন। আমি ব্যাক্তিগতভাবে যতটুকু উপলব্ধি করেছি কিংবা বলা যায় ছফা পাঠে যতটুকু বুঝেছি তাতে ছফা শেখ মুজিবকে মেনে নিতে পারেননি অনেকটা, ছফার মুজিব বিদ্বেষ রয়েছে।

কেন মুজিব বিদ্বেষ ছিলো সেটি বিশদ আলোচনার বিষয়। সময় সুযোগ হলে সেই বিষয়ে আরেকটি লেখো পোষ্ট করার চেষ্টা করবো।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

ধ্রুব আলম এর ছবি

ওইকালে মুজিব বিদ্বেষ না থাকলে আর বিপ্লবের খই না ভাজলে প্রগতিশীল হওয়া যেতো না খাইছে

মাসুদ সজীব এর ছবি

গুণী লেখক কেন, এক লাইনে এর উত্তর দেওয়া কঠিন কাজ। সহজ ভাষায় তিনি সস্তা জনপ্রিয়তার জন্যে বাজারি লেখা লেখেননি (আশা করি বাজারি লেখা কি এটার সংজ্ঞা জানতে চাইবেন না)। ছফা বহুমুখী লেখক ছিলেন, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গবেষনা গ্রন্থ সহ সাহিত্যের প্রায় সব ধারাতেই উনার বিচরণ ছিলো।

লেখার মান এবং গুণ-ই কাউকে শ্রেষ্ঠ লেখকদের একজন করে। কিন্তু মান আর গুণ থাকলেই কোন লেখক তার সময়কালে অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক হিসেবে স্বীকৃতি নাও পেতে পারে, বেশি ভাগ ক্ষেত্রে এমনটাই হয়। ছফা শ্রেষ্ঠ কিনা সেটা নিয়ে আবার সংশয় আছে বলেইহয়তো শব্দটা ব্যবহার করেছি। তবে উনি যে লেখক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সেটা আমি জানি, উনাকে পড়ে এইটুকু বুঝেছি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উনার লেখা উপন্যাস আমার ভীষন ভালোলেগেছে, ভালোলেগেছে গবেষনাধর্মী লেখা গুলোও।

ছফার রাজনৈতিক দর্শন কিংবা রাজনৈতিক বিদ্বেষ বিশেষ করে শেখ মুজিবুর রহমান নিয়ে উনার দ্বিমুখিতা (যাকে আমি মিথ্যাচার বলেছি এবং সেটাকে আমি মিথ্যাচারি মনে করি) আমার পছন্দ হয়নি। ভালো লাগেনি অন্যদের বাতিল করে দেওয়ার ধরণটা। দর্শন আর লেখক আলাদ হতেই পারেন আবার নাও হতে পারেন। যে দর্শন সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদীদের পক্ষে যায় না, যে দর্শন রাজাকার-স্বৈরাশাসকের পক্ষে যায় না সেই দর্শন কিংবা সেই লেখককে আমি বাতিল করি না।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

দীনহিন এর ছবি

ছফা শ্রেষ্ঠ কিনা সেটা নিয়ে আবার সংশয় আছে বলেইহয়তো শব্দটা ব্যবহার করেছি।

তাই?

সহজ ভাষায় তিনি সস্তা জনপ্রিয়তার জন্যে বাজারি লেখা লেখেননি

'প্রগতিশীলতার আড়ালে' ছফা 'সুকৌশল মিথ্যাচারগুলি' কেন করেছিলেন তাহলে বাজারই যদি লক্ষ্য না হয়??? তাছাড়া উপরে যে ধ্রুব আলম সাহেব মন্তব্য করলেন,

ওইকালে মুজিব বিদ্বেষ না থাকলে আর বিপ্লবের খই না ভাজলে প্রগতিশীল হওয়া যেতো না

এই লাইনটিকেও তো খন্ডন করছেন না!

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

ধ্রুব আলম এর ছবি

ওইকালে মুজিব বিদ্বেষ না থাকলে আর বিপ্লবের খই না ভাজলে প্রগতিশীল হওয়া যেতো না

এটা সেযুগের যে কাউকে জিজ্ঞেস করে দেখেন, বিশেষ করে বামবাবুদের, ওটা ও যুগের ফ্যাশন ছিলো কিনা। তাদের বিপ্লব ফ্যান্টাসির মূল্য দেশ তখন দিয়েছে, এখনো দিচ্ছে।

রক্ষীবাহিনীর অত্যাচার নিয়ে, বাকশাল নিয়ে এখনো চেচাঁমেচি করে ফেনা তুলে ফেলা হয়। বামবাবুরা তখন কি করেছিলেন? তারা কি রবিনহুড ছিলেন নাকি? মাওলানা ভাসানী, ওসমানী করেছিলেন কি? কিন্তু তারা বীর, মুজিব পচা, বাকশালী, বুর্জোয়া। উপজেলা, থানায় কম্বল চুরি গেলেও তা মুজিবের দোষ আর সদ্যমাত্র স্বাধীন দেশে সশস্ত্র বিপ্লবে বিভোর সিরাজ শিকদার বীর!

যাকগে, ছফা কখনো সশস্ত্র আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছেন বলে জানা নেই, কিন্তু মুজিব বিদ্বেষ তার ষোল-আনা। যার অনেকটাই পড়ে মনে হয় আক্রোশবশত, কার্যকারণ বিশ্লেষণ করে নয়।

শুধু ব্যক্তি মুজিব কেন, শাসক মুজিবেরও অনেক ভুল ছিলো, সেগুলো নিয়ে আলোচনা চলতেই পারে। কিন্তু উনি সব দোষ আওয়ামী লিগ তথা একজনের ঘাড়ে চাপিয়ে দায় সেরেছেন, সে যুগের ফ্যাশন অনুযায়ী। এটি স্বভাবতই তার থেকে আশা করা যায় না।

মাসুদ সজীব এর ছবি

এই লেখায় কিংবা অনেক মন্তব্যে ছফার বিরুদ্ধে আনিত প্রমাণসহকারে অভিযোগগুলো আপনি একটিও খন্ডাননি কিংবা স্বীকারও করেননি যে ছফা ভুল করেছেন। বরং সেগুলো পাশ কাটিয়ে কমগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলে যাচ্ছেন। আমি কেন গুণী বললাম, কেন বাজারি লেখক বললাম না এইসব। মূল বিষয়ে (অভিযোগগুলোর) আপনার মন্তব্য কি এককথায় প্রকাশ করতে পারবেন।

প্রগতিশীলতার আড়ালে' ছফা 'সুকৌশল মিথ্যাচারগুলি' কেন করেছিলেন তাহলে বাজারই যদি লক্ষ্য না হয়??

কেন করেছেন সেটি আমাকেই ব্যাখা করতে হবে? অনেক ছফাভক্ত ক্ষেপে উঠবে হয়তো তারপরও আপনাকে তুষ্ট করতে বলি, ছফার মাঝে সাম্প্রদায়িক চেতনা কাজ করতো ( প্রমাণ এখানে দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছি না, ছফার সাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার কিছু বিষয় নিয়ে সামনে হয়তো আরেকটি পোষ্ট করবো)। এই দেশে সাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষগুলো কোনদিনও শেখ মুজিবুর রহমানকে মেনে নিতে পারেননি মন থেকে। আর যে মানুষ সুকৌশলে মিথ্যাচার করে সে মানুষকে প্রগতিশীল বলা যায় না, অনেকের কাছে ছফা ভীষন প্রগতিশী কিন্তু আমি ছফাকে প্রগতিশীল মনে করি না। তাই বলেছি প্রগতিশীলতার আড়ালে ছফার সুকৌশলে মিথ্যাচার।

ধ্রুব ভাইয়ের বলা বক্তব্য উনি-ই খন্ডন করবেন, আমি নই।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

কল্যাণ এর ছবি

চলুক

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

অন্যকেউ এর ছবি

১। পূর্বোক্ত।

২। সাক্ষাৎকারে আমরা কথা বলি সাধারণত। রাজনৈতিক বিশ্লেষণের জন্য ভরসা করি লেখায়। মৌখিক বক্তব্যের একেকটা বাক্য থেকে ইঙ্গ-মার্কিন ষড়যন্ত্র খুঁজে পাওয়াটা বিশেষ কিছু রাজনৈতিক মতাদর্শীদের চিহ্নিতকরণ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পড়ে।

৩। দিন।

শেখ মুজিবুর রহমান বানানটা ঠিক, আর শেখ মুজিবর রহমান ভুল। প্রতিমন্তব্যে ব্যবহার করা 'কোর্ট' শব্দটা সঠিকভাবে লিখতে হবে 'কোট'।

আমার মন্তব্যে থাকা "অনুল্লেখযোগ্য কথোপকথন", এই প্রতিমন্তব্যে এসে হয়েছে "শেখ মুজিবুরের হত্যা যদি আপনার কাছে অনুল্লেখযোগ্য হয়"

তীব্র প্রতিমন্তব্যে পরাজয় মেনে নিলাম। শুভকামনা।

_____________________________________________________________________

বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখো দ্বিতীয় বিদ্যায়।

মাসুদ সজীব এর ছবি

সাক্ষাৎকারে আমরা কথা বলি সাধারণত। রাজনৈতিক বিশ্লেষণের জন্য ভরসা করি লেখায়

এটা কতটা যুক্তিযুক্ত? সাক্ষাৎকারে কি আমরা একজন লেখকের মনোজগত, চিন্তার জগত, রাজনীতি ও রাষ্ট্রভাবনা, বিশ্বাস-অবিশ্বাস, সহ জীবনযাপনের সবকিছু জানতে পারি না? সাক্ষাৎকার কি শুধুই্ একটি নিছক আড্ডা, শুধুই মূল্যহীন কথামালা?

হুমায়ুন আজাদ কিভাবে শেখ মুজিবুর রহমানকে মূল্যায়ন করেছেন তা নিচে উল্লেখ করেছি।

তীব্র প্রতিমন্তব্যে পরাজয় মেনে নিলাম

জয়-পরাজয়ের কিছু নেই। আপনি আমার সাথে কোন বিষয়ে একমত না হতে পারেন, আমি ও না হতে পারি কিন্তু শুধু বানান ভুলের জন্যে কাউকে আপনি মুজিব বিদ্বেষী কিংবা বিদ্রুপ শ্রদ্ধাকরী বলবেন এটা মানতে পারিনি। ভালোথাকবেন।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

প্রিয় মাসুদ সজীব,
আমার মনে হয় “যদ্যপি আমার গুরু” বইয়ের মুখবন্ধটি এই পোস্টে প্রাসঙ্গিকতার সূত্রে লিপিবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। এটি অন্য কারও বিশ্লেষণ নয়, লেখকের (ছফা) নিজস্ব বক্তব্য। অতএব, তা নিয়ে কারো কোনও অভিযোগ থাকবে না আশা করা যায়।

বইটির মুখবন্ধ

এই লেখাটি দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীর পাতায় পারায় চার মাস ধরে প্রকাশিত হয়েছিল। পত্রিকায় প্রকাশিত লেখার কিস্তিগুলো পাঠ করে তাৎক্ষণিক ভাবে অনেকেই তারিফ করেছিলেন। তার মধ্যে অধ্যাপক রাজ্জাকের প্রাক্তন ছাত্র এবং কতিপয় ঘনিষ্ঠ ব্যাক্তিও ছিলেন। আবার কতিপয় মানুষের মুখে এরকম অভিযোগও উচ্চারিত হতে শুনেছি, আমি যেসব কথা অধ্যাপক রাজ্জাকের জবানীতে প্রকাশ করেছি সেগুলো রাজ্জাক সাহেব বলেননি, আমি নিজে বানিয়ে বানিয়ে লিখেছি।

একটি লেখা যখন কাগজে প্রকাশিত হয় তা সকল পাঠকের মনে সমান আবেদন সৃষ্টি করে না। কারও ভালো লাগে, কারও লাগে না। আমার লেখাটির ব্যাপারেও পক্ষে বিপক্ষে কে কী বললেন সেটা আমার বিশেষ বিচার্য বিষয় হয়ে ওঠেনি। আমি যে জিনিসটির ওপর সবিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছিলামঃ আমার শিক্ষক অধ্যাপক রাজ্জাকের অনন্য ব্যাক্তিত্বের মহিমা আমি যেভাবে অনুভব করেছি, অন্তত তার কিছুটা উত্তাপ দশজনের কাছে প্রকাশ করি। মুখ্যত এই উদ্দেশ্য নিয়েই রচনাটি লিখতে প্রবৃত্ত হই। স্যারের কাছে উনিশশো সত্তর সালের শেষের দিকে যাওয়া আসা শুরু করেছিলাম।, এখনও সেই প্রক্রিয়াটির ইতি ঘটেনি।

আমার স্বভাবটাই এমন, একজন মানুষ, তিনি যত বড় ব্যাক্তিত্বই হোন, বেশিদিন আমার আগ্রহ এবং কৌতূহল উদ্দীপ্ত রাখতে পারেননা। অতি সহজেই তাঁরা পুরনো হয়ে যান। তখন তাঁদের ছেড়ে যাওয়া ছাড়া আমার কোনও উপায় থাকেনা। স্বভাবের এই একাঝোঁকা প্রবণতাটির জন্য জীবনে আমি কম দুঃখ কষ্টের সম্মুখীন হইনি। সাতাশ বছর ধরে রাজ্জাক স্যারের সান্নিধ্য লাভ করে আসছি, রাজ্জাক সাহেব আমার কাছে একদিনের জন্যও পুরনো হয়ে যাননি। প্রতিবারই তাঁর ব্যাক্তিত্ব এবং জানাশোনার পরিধি আমার চোখে নতুন নতুন চমক সৃষ্টি করেছে। প্রথম দিন তাঁর সঙ্গে কথা বলে যেভাবে বিস্মিত হয়েছিলাম, এখনও একই ধরনের বিস্ময় তিনি আমার মধ্যে সৃষ্টি করেন। ভক্তি কিংবা শ্রদ্ধার প্রকাশ এ রচনায় কতোটুকু ঘটেছে আমি তা জানিনে। বিস্ময়বোধের কারনেই স্যারের ওপর রচনাটি লিখতে বাধ্য হয়েছি।

আমার এ রচনাটিকে কেউ যদি নিছক সাক্ষাৎকার ধর্মী রচনা মনে করেন, আমার ধারনা, লেখাটির ওপর কিঞ্চিৎ অবিচার করা হবে। আমি রাজ্জাক স্যারের সমগ্র ব্যাক্তিত্বটিকে স্পর্শ করতে চেষ্টা করেছি। আমার অক্ষমতার পরিমান অপরিসীম। আমি রাজ্জাক স্যার সম্পর্কে যত জানি, তাঁকে যতদূর বুঝতে পারি, তাঁর চাইতে ঢের ঢের কামেল ব্যাক্তি সংসারে এখনও বেঁচেবর্তে রয়েছেন। আর রাজ্জাক স্যারের ওপর লেখা এটি একমাত্র গ্রন্থ নয়।

রাজ্জাক স্যারের ওপর কোনও কিছু লিখে প্রকাশ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাপার। এই ঝুঁকি দুদিক থেকেই। রাজ্জাক স্যার নানা বিষয়ে স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন একতরফা মতামত দিয়ে বসেন, যেটা সমাজের মানুষ বরদাশত করতে অনেক সময়ই প্রস্তুত নয়। অন্যদিকে তাঁর বক্তব্যের উপস্থাপনায় যদি সামান্য হেরফেরও ঘটে যায়, তিনি সেটা সহজভাবে মেনে নিতে রাজি হবেন না। এ দুধরনের ঝুলন্ত খড়গ মাথার ওপর রেখে রচনাটি আমাকে লিখতে হয়েছে। এ গ্রন্থের সব কথা রাজ্জাক সাহেবের। কিন্তু বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে আমি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ সংযোজিত করেছি। এটি করতে গিয়ে দু’ধরণের স্বেচ্ছাচারিতা প্রশ্রয় পেয়েছে। কোথাও কোথাও তাঁকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, কারও কারও দৃশটিতে তা অনাবশ্যক বড় করে দেখানো বলে প্রতিভাত হতে পারে। প্রথম পুরুষে যেহেতু রচনাটি লিখিত হয়েছে, লেখকের ভুমিকাটি কোথাও কোথাও প্রবল হয়ে উঠেছে এমন মনে হওয়া আশ্চর্যের কিছু নয়।

রাজ্জাক স্যারের অত্যন্ত স্নেহভাজন আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ড. আনিসুজ্জামানকে এ রচনাটির মুখবন্ধ লিখে দেবার সনির্বন্ধ অনুরোধ করেছিলাম, তিনি রাজিও হয়েছিলেন। পড়ে ভেবে দেখলাম এই লেখায় আমি অনেকগুলো গুরুতর অপরাধ করে ফেলেছি। আমার অপরাধ স্থলনের বোঝা আমার শিক্ষকের ওপর আরোপ করা ঠিক হবে না বলেই মুখবন্ধটি রচনার দায়িত্বটি নিজেকে গ্রহন করতে হল।

বিনীত
আহমদ ছফা
১ ফাল্গুন ১৪০৪

বইটির সূচনা বাক্য হল একটি উদ্ধৃতিঃ

যদ্যপি আমার গুরু শুঁড়িবাড়ি যায়
তথাপি তাহার নাম নিত্যানন্দ রায়

বইটির শেষ বাক্যগুলো এমনঃ

ভাবতে অবাক লাগে তিনি যে প্রজন্মের মানুষ সেই প্রজন্মকে কতদূর পেছনে ফেলে এসেছেন। বলতে গেলে কিছুই না লিখে শুধুমাত্র সাহচর্য, সংস্পর্শের মাধ্যমে কত কত আকর্ষিত তরুণচিত্তের মধ্যে প্রশ্নশীলতার অঙ্কুর জাগিয়ে তুলেছেন একথা যখন ভাবি বিস্ময়ে অভিভূত না হয়ে উপায় থাকে না।

এখন, ছফা-পাঠকের মনেও যদি ছফা'কে নিয়ে “প্রশ্নশীলতার অঙ্কুর” জেগে ওঠে সে দায় কি নিতান্তই পাঠকের? আমি জানি না। তবে একটি স্থানে ছফা সৎ। তিনি তাঁর গুরুভক্তি (অন্ধ গুরুভক্তি বললেও চলে) আড়াল করেন নি, আড়াল করার চেষ্টাও করেন নি। সেক্ষেত্রে তাঁকে গুরুভক্ত বলা হলে সমস্যা কোথায় আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারি নি। তাছাড়া, “প্রায় কিছুই না লিখে” রেখে যাওয়া একজন মানুষকে সুদূর ভবিষ্যতের পাঠক কিভাবে খুঁজবে আমি জানিনা। যদি তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে কাটাছেঁড়া সমেত স্মৃতিখন্ড থেকে থাকে তবে হয়তো তা ছেঁকে মানুষটির কিছু অংশ পাওয়া যেতে পারে। সে জন্য তাঁকে আরো বেশি কাটাছেঁড়াই করা দরকার। নতুবা ভবিষ্যতের মানুষ যদি জানেঃ পুরাকালে এই বঙ্গদেশে রাজ্জাক নামের এক পয়গম্বর জন্মেছিল– ব্যাপারটা কি শোভন হবে?

প্রয়াত ছফা’কে/অধ্যাপক রাজ্জাক-কে যদি কাটাছেঁড়া করা না যায়, তবে জীবিত আব্দুল করিম খন্দকার সাহেবকেও নির্দ্বিধায় দায়মুক্তি দেয়া যায়, তাই না? কেমন হবে সেটা?

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

ধ্রুব আলম এর ছবি

পুরাকালে এই বঙ্গদেশে রাজ্জাক নামের এক পয়গম্বর জন্মেছিল

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

কিংবদন্তীদের কিছু করতে-টরতে হয় না - আবদুর রাজ্জাক প্রসঙ্গে হুমায়ুন আজাদ।

মাসুদ সজীব এর ছবি

প্রয়াত ছফা’কে/অধ্যাপক রাজ্জাক-কে যদি কাটাছেঁড়া করা না যায়, তবে জীবিত আব্দুল করিম খন্দকার সাহেবকেও নির্দ্বিধায় দায়মুক্তি দেয়া যায়, তাই না? কেমন হবে সেটা?

চলুক

আমারও কথা সেটা। ধরা যাক ছফার নাম উল্লেখ না করে ঠিক এই শিরোনামে লেখাটা পোষ্ট করা হলো। তাহলে কি হতো? আমি নিশ্চিত সবাই তখন একমত হতেন আলোচ্য ব্যাক্তি মিথ্যাচার করেছেন, কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। তখন এই শিরোনাম নিয়ে কোন বিপত্তি হতো না। বিপত্তি ঘটলো নাম টা ছফা বলে। নাম দিয়ে আমরা এখানে বিচার করি সবকিছু। শেখ মুজিব ৭ই মার্চ জিয়ে পাকিস্থান বলেছে, এই কথা কে বলেছে? এ, কে খন্দকার! ওরে বাবা উনি মুক্তিযুদ্দের উপ প্রধান সেনাপতি উনি কি আর মিথ্যে বলতে পারেন? এভাবেই চলে ব্যাক্তি পূজোর আরাধনা আর মিথ্যেকে সত্য বানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। ইতিহাস সম্পর্কে কোন মহারথী কি বলেছেন সেটা কখনো গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রমাণ। প্রমাণ ছাড়া ইতিহাস আলোচনা কিংভা ইতিহাস রচণার নাম মিথ্যাচার আর ইতিহাস বিকৃতি।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

এক লহমা এর ছবি

চলুক

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

ধ্রুব আলম এর ছবি

'জয় পাকিস্তান', 'জিয়ে পাকিস্তান' নিয়ে আহমদ ছফার দোটানা ও তার স্মৃতির নমুনা দেখুন এখানে

দুঃখজনক। ইয়ে, মানে...

অফটপিকঃ *নজরুল ভাইয়ের এই লেখাটি সকলের অবশ্যপাঠ্য*

মাসুদ সজীব এর ছবি

শেখ মুজিবুর রহমান এবং জিয়াউর রহমানকে নিয়ে হুমায়ুন আজাদের মূল্যায়ন…..

শেখ মুজিব: আমাদের শোচনীয় দেশে সব ধরণের ব্যাখা সম্ভব, মিথ্যে এখানে খুবই শক্তিমান, অনেকটা আমাদের মায়ের বুলি এবং নির্লজ্জভাবে তা প্রচার করা হয়। মুজিব যদি ধরা না দিয়ে পালিয়ে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করতেন, কোন ভাঙ্গা বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা ঘোষনা করতেন তাহলে কি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ আরো তীব্র হতো, আরো সফল হতো? তাহলে তিনি কি মুজিব হতেন? তাহলে তো তিনি হতেন মেজর জিয়া। মুজিব পালিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষনা দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না, তিনি মুজিব হতেন না, হতেন সামান্য বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং মুক্তিযুদ্ধে আমরা এত অনুপ্রেরণা পেতাম না। যোদ্ধা মুজিব থেকে বন্দী মুজিব ছিলেন অনেক বেশি শক্তিশালী এবং অনুপ্রেরণা দায়ক। তিনি তখন হয়ে ‍উঠেছিলেন মহানায়ক. ঘোষকের থেকে অনেক উপরে যার স্থান।

মুক্তিযুদ্ধের সময়টি ভরে তিনি ছিলেন নিয়ন্ত্রক ও প্রেরণা, তিনিই ছিলেন এক অর্থে মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্থানের কারাগারে তিনি হয়তো জানতেন না মুক্তিযুদ্ধের কথা কিন্তু সমগ্র বাঙালির রূপ ধরে তিনিই করে চলেছিলেন মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধে প্রতিটি বাঙালি ও মুক্তিযোদ্ধাই ছিলো মুজিবের দ্বিতীয় সত্তা। মুজিবের বন্দীত্ব মুক্তিযুদ্ধ ঘোষনার থেকে অনেক বড় ঘটনা।

ঘোষনা করে ঘোষক হওয়া যায়, মুজিব হওয়া যায় না।

বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধে পৌছে দিয়েছিলেন মুজিব, বন্দী থেকেও তিনিই নিয়ন্ত্রন করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধকে, তিনি সৃষ্টিই করে চলেছিলেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। মুজিবকে আমরা প্রচন্ড সমালোচনা করতে পারি, তিনি সমালোচনার উর্ধ্বে নন, অনেক সীমাবদ্ধতা তাঁর ছিলো, কয়েক দশক ধরে তো কোটি কোটি বামন প্রাণভরে তাঁর সমালোচনা করেছে।

কিন্তু সত্য হচ্ছে তিনি মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক, বাংলাদেশের মহাস্থপতি।

মুজিব ছাড়া হাজার হাজার জিয়া বা অন্য কেউ মুক্তিযুদ্ধের ঘোষনা দিলেও মুক্তিযুদ্ধ ঘটতো না, তখন সেটা হতো হাস্যকর হঠকারিতা ও পরিণতিতে শোকাবহ। মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে আসতো না এবং বিশ্ব আমাদের পক্ষ নিতো না।

জিয়াউর রহমান: একটি ঘোষনা পত্র পাঠের ফলে মহুর্তেই জিয়া নায়ক হয়ে ওঠেন। অনেক সময় কেউ কেউ অসাধারণ হয়ে ওঠেন, এজন্যে লাগে সুযোগ ও আকস্মিতা। কেউ হঠাৎ রবীন্দ্রনাথ বা মুজিব বা আইনস্টাইন হয়ে উঠতে পারেন না কিন্তু কেউ কেউ হঠাৎ মেজর জিয় হয়ে ওঠে সারাদেশকে আলোড়িত করতে পারেন। এটি ছিলো এক ঐতিহাসিক আকস্মিকতা ও সুযোগ যাতে একজন সাধারণ মেজর অসাধারণ হয়ে উঠেছিলেন, সারা জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। কিন্তু তিনি অপরিহার্য ছিলেন না, কালুরঘাট বেতারযন্ত্রীরা যদি অন্যকোন মেজরকে পেতেন, তাকে দিয়ে ঘোষনা করাতেন, তাহলে তিনি হয়ে উঠতেন কিংবদন্তি। মেজর জিয়া হয়ে ওঠেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের আকস্মিক কিংবদন্তি, এটা আর কারো ভাগ্যে জোটেনি।

জিয়া রাজনীতিবিদ ধারণাটিকেই বদলে দেন। তিনি দালাল সংগ্রহ করেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে থেকে এবং পেতে তার কোন অসুবিধা হয়নি। একটি শুয়োর পাওয়ার চেয়ে দালাল পাওয়া এই দেশে সহজ। জিয়ার আমলে শুরু হয় বাংলাদেশের পশ্চাৎমুখী পথ চলা। জিয়া হচ্ছে রাজাকারের ত্রাতা ও বাঙলাদেশে প্রতিক্রিয়াশীলতার জনক। জিয়ার এমন অসামান্য প্রতিভা ছিলো যে তিনি রাজাকারদের মুক্তিযোদ্ধা করে তোলেন আর ‍মুক্তিযোদ্ধাদের রাজাকার করে তুলেন। একটা কথা মনে রাখা দরকার, একবার মুক্তিযোদ্ধা মানেই চিরকলা মুক্তিযোদ্ধ নয়, যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আজীবন লালন কর, সেই শুধু মুক্তিযোদ্ধা-এমনকি যুদ্ধ না করেও।

আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই এসেছিলেন সেনাবাহিনী ও বিডিআর থেকে, চেতনায় তারা ছিলো পাকিস্থানী, যদিও তারা অংশ নিয়েছে মুুক্তিযুদ্ধে। আবার স্বাধীনাতার পর অনেকে সুবিধার জন্যে আদর্শ বিসর্জন দিয়েছে দ্বিধাহীনভাবে। জিয়া ক্ষমতায় এসে তাদের লোভ দেখিয়ে নষ্ট করেছে, এরশাদও নষ্ট করেছে, ফলে ‍মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারদের বিরোধপ্রায় পুরোপুরি লোপ পেয়ে গেছে। রাজাকারদের যে শাস্তি দেওয়া দরকার ছিলো, যেভাবে তাদের অস্তিত্বহীন করা দরকার ছিলো-যেমন করা হয়েছে জার্মান নাটসিদের-বাঙলাদেশে তা করা হয়নি। ক্ষমতা ও টাকা পয়সার কাছেই পরাভূত হয়েছে সব চেতনা, তাই জেগে উঠেছে রাজাকাররা। এখনতো দেশ ভরে’ই রাজাকার, একাত্তরে এত রাজাকার ছিলো না। রাজাকারদের ক্ষমতার ভাগ পাওয়ার আরো একটি কারণ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানদেশগুলো। তারা বাঙলাদেশকে কোন সাহায্য করেনি, কিন্তু টাকা ছড়িয়েছে প্রতিক্রিয়াশীলতা বিস্তারের জন্যে, রাজাকারদের প্রতিষ্ঠা করার জন্যে। এই যে আমাদের নেতারা ঘন ঘন হজ আর ওমরা করতে যায়, হৈচৈ করে টঙ্গিতে এস্তেমা করে, এর কি কোনো দরকার আছে? নেতাদের ঘন ঘন হজ আর ওমারা হচ্ছে রাজাকারদের প্রতিষ্ঠা করার একটি কৌশল এবং এতে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন রাজাকার। প্রতিক্রিয়াশল মানুষ মাত্রই রাজাকার। (এই বাঙলার সক্রেটিস, পৃষ্টা-৬৫)

প্রশ্ন: আপনি কি জাতির পিতা তত্ত্বে বিশ্বাস করেন?
হুমায়ুন আজাদ: না, জাতির পিতা তত্ত্বে অামি বিশ্বাস করিনা। আমি মনে করি শেখ মুজিব বাঙলাদেশের মহাস্থপতি, তাঁর উদ্যাগ ছড়া দেশ স্বাধীন হতো না।তাঁর পাশে তার অগ্রজও অনুজ বাঙালি মুসলমান রাজনীতিবীদরা মাঝারি ও নিম্নমাঝারি। আমরা কি এই বাঙলাদেশ চেয়েছিলাম বইটিতে আমি এ বিষয়ে বিস্তৃতভাবে ব্যাখা করেছি। শেখ মুজিব যুগান্তর ঘটিয়েছিলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্র সৃষ্টি করার জন্যে বাঙালিকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। তাঁর সঙ্গে আর কোনো রাজনীতিবিদের তুলনা চলে না। কিন্তু জাতির পিতা ধারণাটিই আমার ভলোলাগে না। পাকিস্থান পর্বে কায়েদে আজম শুনে শুনে ঘেন্না ধরে গিয়েছিলো, জাতির পিতা তারই বাঙলারূপ। তাঁকে স্বীকার করে নিতে হবে বাঙলাদেশেল মহাস্থপতিরূপে, আমাদের রাজনীতিবিদদের মধ্যে যিনি মহাকায়, যার স্থান সর্বোচ্চ।

প্রশ্ন: বর্তমান সরকার তো (বিম্পি-জামাত) এসে শেখ মুজিবের ছবির পাশে প্রধানমন্ত্রীর ছবি…..
হুমায়ুন আজাদ: মুজিবের দুর্ভাগ্য তিনি ওয়াশিংটন বা গান্ধির মর্যাদা পাননি। এর জন্যে আওয়ামিলীগ ও মুজিব বেশ দায়ী। বিএনপি তৈরিই হয়েছে মুজিববিরোধীদের নিয়ে, এবং এ দলের কাজ হচ্ছে বাঙলাদেশের ইতিহাসকে দূষিত করা। এ সরকার কতো কিছুই করছে, কতো কিছুই মুছে ফেলছে, মুজিবের ছবিও ফেলে দিতে পারে। তবে তাঁর ছবি ফেলে দেওয়া সহজ হবে না। শেখ মুজিবের ছবি যদি সম্পূর্ণ ভেঙ্গে ফেলা হয়- এই বাঙলাদেশে শেখ মুজিবের একটি ছবিও যদি খুঁজে পাওয়া না যায় তাহলেও যে ছবিটি সবচে বড় সেটি শেখ মুজিবের।এবং অন্য সব ছবি আসবে যাবে তোলা হবে, যেমন নাপিতের দোকানে যুগে যুগে কতো অভিনেত্রীর ছবি উঠেছে আর নেমেছে। কিন্তু শেখ মুজিবের ছবি স্থির এবং এটা শুধু দেয়ালের ছবি নয়। শেখ মুজিবের ছবি সমস্ত বাংলাদেশেই অঙ্কিত রয়েছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। (গ্রন্থ: এই বাঙলার সক্রেটিস, পৃষ্টা-৬৮-৬৯)।

একটু খেয়াল করে পড়লে হুমায়ুন অাজাদ আর ছফার পার্থক্যটুকু বুঝা যাবে, আজাদ বলছেন মুজিব সম্মান না পাওয়ার পেছনে তিনি এবং তার দল বেশ দায়ী কিন্তু এটি-ই একমাত্র কারণ নয়। কিন্তু ছফা বলেছেন শেখ মুজিব যখন একদল করলেন তখন তখন তাকে ভায়োলেন্ট ওয়েতে সামরিক লোকেরা সপরিবারে হত্যা করল। অর্থাৎ তিনি নিশ্চিত হয়ে বলছেন এটিই একমাত্র কারণ, আর এখানেই আমার আপত্তি কিংবা বিরোধীতা হুমায়ুন আজাদের মূল্যায়ন থেকে বুঝার কথা তিঁনি শেখ মুজিবকে কতটুকু সম্মান করেছেন আর কতটুকু সঠিক সমালোচনা করেছেন। মুজিবের নানান সমালোচনা আরও রুঢ় ভাষায়ও করেছেন আজাদ কিন্তু সেই সমালোচনায় ছফার মতো শোনা কথায় হাউমাউ করে কান্না করা কিংবা জিয়ে পাকিস্থান বলেছেন বলে দাবি করেননি (যদিও জিয়ে পাকিস্থানকে ছফা পরে স্মৃতির উপর দোষ চাপিয়ে দিয়েছেন।

বাংলাদেশে যেহেতু শেখ মুজিবের নাম আসলে জিয়ার নাম নিয়ে আসা হয় সেহেতু জিয়াকে আলোচনা-সমালোচনা করতে হয় একজন ইতিহাসবিদ-গবেষক হিসাবে। শুভাশীষ দা বলেছেন তিনি ছফার, মুজিব গুণগান নিয়ে পাঁচ পর্বের সিরিজ নামাতে পারবেন, মুজিব বন্দনার প্রয়োজন নেই। ছফা কোথায় কোথায় জিয়াউর রহমানকে সমালোচনা করে লিখেছেন তা নিয়ে যদি কয়েকটা পর্ব নামিয়ে ফেলতেন তাহলে বড়ই উপকৃত হতাম।

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

এক লহমা এর ছবি

চলুক খুব ভাল লাগল।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

ধ্রুব আলম এর ছবি

চলুক চলুক

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

হুমায়ুন আজাদ আলাদা পোস্টে আসতে পারেন, ছফা'র পোস্ট ছফাকে ঘিরেই থাকুক

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

ধ্রুব আলম এর ছবি

তুলনার্থে সমস্যা দেখছি না।

মাসুদ সজীব এর ছবি

সাক্ষী দা, উপরের মন্তব্যে একজন হুমায়ুন আজাদকে টেনে এনেছেন বলেই শেখ মুজিব আর জিয়ার প্রতি হুমায়ুন আজাদের দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা মতামত কি ছিলো সেটা তুলে ধরেছি। হাসি

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

ধ্রুব আলম এর ছবি

মাদ্রাসা উদ্বোধনে আহমদ ছফাঃ

[img][/img]

[img][/img]

[img][/img]

[img][/img]

[img][/img]

[img][/img]

ধ্রুব আলম এর ছবি

৭৪-এর মন্বন্তর (আসলেই?) নিয়ে ছফাঃ

[img][/img]

[img][/img]

[img][/img]

মাসুদ সজীব এর ছবি

আমার মনে হয় এই একটি লেখাই যথেষ্ট শেখ মুজিবের প্রতি ছফার বিদ্বেষ প্রমাণের। শেখ মুজিবুরের শাসন আমলের সমালোচনা করতে গিয়ে ছফা শেখ মুজিবুর রহমানের অতীত সকল কীর্তিকে আল্লাহর দান করে দিয়েছেন। ছফা বলেছেন

সৃষ্টিকর্তা আপনার সকল সাধ, আকাঙক্ষা রহস্যজনক ভাবে পূরণ করেছেন

এর অর্থ কি? তাঁর বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠা, স্বাধীন দেশের শাসক হওয়া সবকিছু-ই আল্লাহর অশেষ রহমতে হয়ে গেছে? রহস্যজনক বলতে বুঝায় বিনা কষ্টে, বিনা শ্রমে অপ্রত্যাশিত ভাবে কোন কিছু প্রাপ্তি! তাহলে শেখ মুজিবুর রহমান কোন শ্রম-কষ্ট-ত্যাগ না করেই শুধু ভাগ্যের জোরে একটা দেশকে স্বাধীন করার নেতৃত্ব দিয়েছেন? এই না হলে মুজিব সমালোচনা?

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

হাসিব এর ছবি

দুইটাই অত্যন্ত লোকোয়ালিটি এ্যানালাইসিস।

ধ্রুব আলম এর ছবি

আহমদ ছফাকে নিয়ে কিছু লেখা পেলাম, আগ্রহী পাঠক পড়ে দেখুন, মন্তব্য করুন। আলোচনা বেশ লাগছে।

প্রথম লেখা

২য় লেখা (লিঙ্কওয়ালা, অনেকগুলো এখন কাজ করে না হয়তো, দেখতে পারেন)

আর ছফাগিরি তো আছেই।

**এই লেখাটিতে উনার বিষয়ে কিছু অসমর্থিত তথ্য রয়েছে**

মাসুদ সজীব এর ছবি

চলুক চলুক

-------------------------------------------
আমার কোন অতীত নেই, আমার কোন ভবিষ্যত নেই, আমি জন্ম হতেই বর্তমান।
আমি অতীত হবো মৃত্যুতে, আমি ভবিষ্যত হবো আমার রক্তকোষের দ্বি-বিভাজনে।

হাসান মোরশেদ এর ছবি

বিশাল আলোচনা।
আমি আর ঝামেলা না বাড়াই।
শুধু একটা বিষয় পরিস্কার হলোনা গত কয়েক বছরের আলোচনায়।

বাংলাদেশকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা রাস্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার ধারণাটিও রাজ্জাক সাহেবের মস্তক থেকে এসেছিল

গুরুবন্দনায় ছফা যে দাবীটি উত্থাপন করেছিলেন সেটার সপক্ষে কোন যুক্তি প্রমান এখনো পেলাম না। ছফা সাহেব ও কোন প্রমান দেন নাই, ছফার শিষ্যরা ও দেন নাই।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

এই প্রশ্নের উত্তর তের খণ্ডের ছফাগিরিতে বারবার খুঁজেও পেলাম না। চাল্লু
কে জানে, কোন নেপথ্য শক্তি আবার এই উত্তর আটকে রেখেছে? চিন্তিত

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

অন্তত এই বিষয়ে ছফা ছিলেন নির্ঘাত একজন কূপমণ্ডূক, আব্দুর রাজ্জাকের বাইরে তাঁর আর কোন কিছু জানা ছিল না। সম্ভবত রাজ্জাকও এরকম টা ভাবতেন, কিন্তু ছফা ছাড়া অন্য কারো জবানীতে রাজ্জাক এ ব্যাপারে মুখ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন না।

কল্যাণ এর ছবি

চলুক

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।