সবকটা জানালা খুলে দাওনা!

তানিম এহসান এর ছবি
লিখেছেন তানিম এহসান [অতিথি] (তারিখ: বিষ্যুদ, ২২/০৯/২০১১ - ২:৪৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সবকটা জানালা খুলে দাওনা .. ‘জানালা’ খুলে দেবার বিষয়টা আমাদের গদ্যে,পদ্যে বিভিন্নভাবে বলা হয়েছে, বলা হচ্ছে, আরো বলা হবে। কিন্তু এই শব্দগুলো একসাথে শুনলে যে গানের কথা আমাদের মনে পড়ে তার সাথে আমাদের নিরাকার বোধ জড়িত। এই জানলা খুলে দেয়ার সাথে একটা দেশের কতটা আবেগ জড়িত হয়ে যাবে তাকি জানতেন প্রয়াত নজরুল ইসলাম বাবু যখন তিনি অক্ষরে অক্ষরে গেঁথেছিলেন এই অবিনাশী গান; কতটা বুঝেছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল যখন তিনি ভেতরের সবটুকু আবেগ নিয়ে জল ছাপিয়ে যাওয়া দু’চোখে প্রথমবার সুরে গেঁথেছেন, কিংবা সাবিনা ইয়াসমিন, তিনি যখন প্রথম তার কিন্নর কণ্ঠে গানটা তুলেছিলেন। আমাদের ভাগ্য ভালো এখনো এই গানটির ফিউশন করার চেষ্টা কেউ করেনি।

ছোটবেলা এই গানটা শুনলেই আমরা জানতম বাংলাদেশ টেলিভিশনে রাত আটটার সংবাদ শুরু হবে। প্রথমবার সব গান পুরোপুরি গ্রাস করেনা, পুরোটা শুনতে হয়, একদিন হঠাৎ গানটার মর্মবাণী মরমের চরম ভেতরে দুমড়ে-মুচড়ে ধরে, গলা বুজে আসে, চোখে জল চলে আসে দোমড়ানো সুখে। কিন্তু এই গানটার বেলায় কারো দ্বিতীয় বার পেরিয়ে তৃতীয়বার শুনতে হয়েছে বলে আমার মনে হয়না (জামাত-শিবির-রাজাকার মানুষের পর্যায়ে যেহেতু পড়েনা, তাদের বাদ দিয়েই বলছি)।

এই চরম আহত সময়েও আমরা কোন কোন মুহূর্তে টের পাই, আমাদের ভেতর আমাদের আমিটা রক্তের পরতে পরতে গর্ব বয়ে নিয়ে বেড়ায়, আমাদের বুকের ভেতর আমরা টের পাই একটা ঘুমন্ত সাহস চিৎকার করে বলে উঠে “বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাটি”, আবারো বুঝে নিবে ”দুর্বৃত্ত”, আমরা শক্তিমান হয়ে উঠি। আলস্য কেটে যায়, আমরা আবার আমাদের ভালবাসতে শুরু করি, আমাদের বাবা-মাকে নিয়ে গর্ব করতে শুরু করি, ভাই-বোনের জন্য মমতায় আমাদের বুক ভরে যায়, আমরা বুকভরে বাতাস নেই, চোখে মুখে একটানা হাসি ধরে রাখি, আমরা গান গাই; আমি অবাক বিস্ময় নিয়ে দেখি এদেশের সবাই গান পছন্দ করে, গান নিয়ে ফতোয়া দেয় খুবই নগণ্য সংখ্যক মানুষ, তাদের অনুসারীরাও নগণ্য।

এই গানটা আমাদের জাতিগত ঐতিহ্যের সাথে কোন মাত্রায় জড়িত তার হিসেব করার প্রয়োজন বোধ করিনা। “আজ আমি সারা নিশি থাকবো জেগে/ ঘরের আলো সব আঁধার করে/ ছড়িয়ে রাখো আতর গোলাপ/ এ দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে” - এই জেগে থাকা জাতি আমরা, চিরকাল। অসম্ভব জেগে থাকা জাতি, আবার ঘুমালে কুম্ভকর্ণ, ঘুম ভাঙতে দেরী। আমরা কেমন যেন একটা শীতনিদ্রায় আছি, আমি নিশ্চিত ঘুমটা যখন ভাঙবে, মানুষ তখন এই ধরনের গানগুলো আবার ঠিকমতো শুনবে, গাইবে, হাসতে হাসতে জাতি বিনির্মাণ এর যুদ্ধে এগিয়ে যাবে।

“চোখ থেকে মুছে ফেলো অশ্রুটুকু/ এমন খুশীর দিনে কাঁদতে নেই/ হারানো স্মৃতির বেদনাতে/ একাকার করে মন রাখতে নেই!” -এই জায়গাটাতে এসে মনে হয় সত্ত্বার পরম ভেতরে কেউ এসে জলমগ্ন নোঙর তুলে আবার ঢেউয়ের নাগালে নিয়ে যায় চেতনার অবিরল ধারা; আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে গানটা পুরোপুরি শেষ হবার পর এর গীতিকবি এবং সুরকারের প্রতিক্রিয়া কি ছিলো!

“ওরা আসবে, চুপিচুপি/ যারা এই দেশটাকে ভালোবেসে দিয়ে গেছে প্রাণ” - আমরা তাদের জন্য অপেক্ষায় আছি, আমাদের সাহসী পূর্বপ্রজন্ম যারা তাদের সমগ্র আশীর্বাদ নিয়ে আমাদের সাথে আছেন এটা আমি প্রাণপণ বিশ্বাস করি; আমি বিশ্বাস করি তাদের সন্তানেরা এখনও সৎসাহস নিয়ে এদেশের পথে পথে ঘুরে বেড়ান; যারা সে সাহস হারিয়ে ফেলেছে তারা এই গান শুনে আবারও সেই সাহস ফিরে পাক। ঘোর কলিকালে পৃথিবী সুখবর দিতে ভুলে যায়, তারচেয়েও কষ্টে রেখেছে মাতৃভূমি - তবুও প্রাণপণ নিজেদের ধরে রাখার লড়াইয়ে আজ এই গানটা শুনে আমাদের বিশ্বাসের মলিন হয়ে যাওয়া মলাটে সবুজের প্রলেপ পড়ুক রক্তিম অহংকারে!

একটা গান কখনো কখনো শুধুমাত্র গান হিসেবে থাকেনা,সময়ের সাপেক্ষে মুক্তির সনদপত্র হয়ে দাড়ায়,আমাদের মুক্তির সনদপত্র শব্দ আর সুরে পাক প্রাণ।

http://youtu.be/tq80_NSveug
নেট কানেকশানে সমস্যা হচ্ছে খুব, বুঝতে পারছিনা ইউটিউব লিংকে গানটার সাথে চিত্রায়ন কতটা সাযুজ্য পূর্ণ হলো, কারো কাছে যদি দৃষ্টিকটু মনে হয় তাহলে ক্ষমা প্রার্থী)
 খুলনা, ২১.০৯.২০১১


মন্তব্য

উচ্ছলা এর ছবি

প্রিয় গানটি আপনার কারনে আজ আবার অনেকদিন পর শোনা হলো; ধন্যবাদ।
Goosebump all over.

তারেক অণু এর ছবি

চলুক , খুব আবেগ দিয়ে লিখেছেন ! মনের ভিতরে নাড়িয়ে দিয়ে যায়।

তাপস শর্মা এর ছবি

ভাললাগা এবং ভালবাসা। গানের আবেশে দেশের সোঁদা মাটির গন্ধ, বাতাসে তার অনুভুতির কলতান।

তানিম এহসান ভাই খুব ভাল লাগল।

মিলু এর ছবি

চলুক আবেগে ভরা লেখা। গানটার কোন তুলনা হয় না।

বাই দ্যা ওয়ে, আপনি খুলনায় থাকেন নাকি? আমি আজ সকালেই খুলনা থেকে ফিরলাম।

চরম উদাস এর ছবি

আবেগটুকু ছুয়ে গেলো।

পিয়াল এর ছবি

খুব ভালো লাগলো|

বাউন্ডুলে এর ছবি

আমরা তাদের জন্য অপেক্ষায় আছি, আমাদের সাহসী পূর্বপ্রজন্ম যারা তাদের সমগ্র আশীর্বাদ নিয়ে আমাদের সাথে আছেন এটা আমি প্রাণপণ বিশ্বাস করি;

আমরাও বিশ্বাস করি...আমরাও অপেক্ষায় আছি সেই ক্ষণের... শ্রদ্ধা
আপানার লেখায় হৃদয় ছুঁয়ে গেল... অসংখ্য ধন্যবাদ চলুক

কর্ণজয় এর ছবি

নষ্টালজিয়া...
সুন্দর... গানটা এবং লেখাটা...

বন্দনা এর ছবি

এত্ত সুন্দর করে গান টা বিশ্লেষন করলেন, খুব ভালো লাগলো তানিম ভাই।

তানিম এহসান এর ছবি

সবাইকে ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য। আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

@মিলু ভাই, আমি খুলনায় থাকিনা, অফিসের কাজে খুলনায় এসেছি।

কল্যাণF এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

ফাহিম হাসান এর ছবি

প্রিয় গানটা আরেকবার শোনানোর জন্য ধন্যবাদ।

অভিযাত্রী  এর ছবি

গানটিতে অশ্রু মুছে ফেলার কথা বলা হয়েছে কিন্তু কেন যেন গানটি যতবার শুনি ততবার নিজের অজান্তেই ভিজে ওঠে চোখ, হয়তো সেই শহীদদের কথা স্মরণ করে যারা নিজেরা জীবন দিয়ে আমাদের দিয়ে গেছে একটি সুন্দর দেশ, স্বাধীনভাবে বাঁচার স্বপ্ন.....................
মনের গহিনে একটা ক্ষীণ আশা জেগে ওঠে, “ওরা আসবে

সবকটা জানালা খুলে দাওনা

আমি গাইবো, গাইবো, বিজয়েরই গান
ওরা আসবে, চুপি চুপি
যারা এই দেশটাকে ভালবেসে দিয়ে গেছে প্রাণ

সবকটা জানালা খুলে দাওনা

চোখ থেকে মুছে ফেল অশ্রুটুকু
এমন খুশির দিনে কাঁদতে নেই।।
হারানো স্মৃতির বেদনাতে
একাকার করে মন রাখতে নেই

ওরা আসবে, চুপি চুপি
কেউ যেন ভুল করে গেও নাকো মন ভাঙ্গা গান

সবকটা জানালা খুলে দাওনা

আজ আমি সারা নিশি থাকব জেগে
ঘরের আলো সব আঁধার করে ।।
ছড়িয়ে রাখো আতর গোলাপ
এদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে

ওরা আসবে, চুপি চুপি
কেউ যেন ভুল করে গেও নাকো মন ভাঙ্গা গান

সবকটা জানালা খুলে দাওনা

আমি গাইবো, গাইবো, বিজয়েরই গান
ওরা আসবে, চুপি চুপি
যারা এই দেশটাকে ভালবেসে দিয়ে গেছে প্রাণ

সবকটা জানালা খুলে দাওনা

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

মন খারাপ অবস্থায় এই পোস্টটা পড়া উচিত হয় নাই।

ওরা আর চুপি চুপি আসবে না, এটাই বাস্তব, যদি আমরাই 'ওরা' না হই।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

pathok এর ছবি

গতকাল দেখা খালেদ মোশারফ এর ভিডিও দেখার পর আজ এই লেখাটা পড়ে সত্যিই অছ্যুৎ বলাই এর মতই মনে হচ্ছে - আমাদের ই ওরা হতে হবে - অনেক ধন্যবাদ তানিম - স্যাম

তানিম এহসান এর ছবি

আমরাই “ওনারা” কেননা আমাদের রক্তে তারা মিশে আছেন। ওনারাই আমরা, আমাদের মত ওনারা তাদের জীবনে আমাদের মত করে সময় কাটিয়ে গেছেন হাজার বছর - আমারতো সবসময়ই মনে হয় আমি ছিলাম, তখনকার মত করে - হয়তো নুরলদীনের সাথে কিংবা তীতুমীর, সূর্যসেন, হয়তোবা নাম না জানা আরো কোন শহীদ যাদের নাম ইতিহাস লেখেনি কিন্তু তাতে ইতিহাসের মসৃণ পাতায় পাতায় কোন কলঙ্ক জোটেনি; কারণ নাম না জানা মানুষেরাই চিরকাল অমরত্বের সাধে আসেনি, অমরত্ব মেটাতে এসেছে । আমাদেরও অমরত্ব মেটাতে যেতে হবে।

কি অদ্ভুত একটা সময়ের মাঝ দিয়ে যাচ্ছি আমরা আমরা ৭০ দশকের প্রজন্ম! আমাদের এখন মধ্যবয়স, আমরা এখন মধ্যবর্তী প্রজ ন্ম, মধ্যভাগ যেকোনো জিনিসের সর্বোত্তম ভার ধরে রাখে - আমরা ভারাক্রান্ত। আমার এ কথা বলতে খারাপ লাগছেনা কারণ আমি জানি আমি ভারাক্রান্ত এবং এ ভার নিয়ে চলতে যেয়ে আমি টের পাই ঘুড়ির সুতোয় সুতোয় মাঞ্জা কমে গেছে, গানের তালে তাল মেলেতো লয় মেলেনা, কোনকিছুই আর পূর্ণাঙ্গ হয়না, ফাকি থেকে যায়।

আমাদের এই ভার হ্যাঁচকা টানে একদিন নামিয়ে দিয়ে যেদিন আকাশে আকাশ হয়ে সাগরের সাথে যুগলবন্দী কোন এক ঘোরে আবার হাহাহাহাহাহাহাহা করে হাসতে থাকবো, পায়ের তলায় অবিরত ফুটতে থাকবে অহংকারের ফুল, বুকের ভেতর একটা হুমহুম মত্ত ভাব টগবগ করে নাচতে থাকা রক্তের শিরায় শিরায় ঐতিহ্যের স্ফুলিঙ্গ নিয়ে দাউদাউ করে জ্বালিয়ে যাবে “বাঙালী”হিসেবে বেঁেচ থাকা জাতিগত বোধ -- সেদিন, সেদিন দেখে যেন চলে যাই সক্ষম হাসিতে, তার আগে নয়!

সেদিনটা দেখে যাবার বড় সাধ হয়, আশৈশব সাধ; মনে হয় সেদিন সেই পুনরুত্থান এ লাখো মানুষের ভিড়ে যেন আমিও থাকি, শরীরের সব রোম উড়িয়ে দিয়ে আগল ভাঙা বাদ্যে গলা ভেঙে গেয়ে যাই মুক্তির গান!

”সেদিনের মাঠে বসে দেখা হলে পিছু ফিরে তাকাবোনা,
তুমিও খুঁজোনা - তুমি আর আমি আর
আমরা সবাই সেদিন, সেদিন জেনো মিশে গেছি
এক হয়ে নিরাকার সবটুকু বাসনা নিয়ে -
হয়ে গেছি বাংলাদেশ; বায়ান্ন, উনসত্তর, একাত্তর
এমনকি নব্বই এর মত করে আমরা সবাই
একখানি পতাকার সবটুকু লাল-সবুজে
যার যার হাত রেখে
বাংলাদেশ আর তার মানচিত্র হয়ে গেছি!”

এইবার বুকভরে একটা শ্বাস টানি হাসি

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

তানিম,
সব অশ্রু মুছে ফেলতেই হবে তোমাদের! কারন,

এখন যৌবন যার...

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

তানিম এহসান এর ছবি

রোমেল ভাই, ১৬ নাম্বারে আমার প্রতিমন্তব্যে আমি ইনভার্টেড কমার মধ্যে একটা কিছু লিখে ফেলেছিলাম, সেটা নিয়ে একটু মন্তব্য করবেন কি। আপনার কাছে কবিতা বা কবিতা বিষয়ক মন্তব্য আমি সবসময় চেয়ে এসেছি। শেখায় কার্পণ্য আমার কোনদিনও ছিলোনা, কোনদিন না থাকুক হাসি

জ.ই মানিক এর ছবি

কিছু গান হৃদয়ের মর্ম মূলে হানা দিয়ে তোলপাড় জুড়ে দেয়। এ এমনই একটা গান।

বর্ণনা ছুঁয়ে যায়।

আঁধারকে হটিয়ে আলো হাসবেই।

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

সুন্দর লিখেছেন তানিম ভাই।

গানটা এক ধরণের হিম নৈঃশব্দ্যের শোকে
আচ্ছন্ন করে আমাকে,
আমাকে অশ্রুল করে,
কখনও অভিমানী করে,
কখনও শক্তিমান করে!!!


_____________________
Give Her Freedom!

guest_writer এর ছবি

আমি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম। কি চেয়েছিলাম আর কি এখন দেখছি ! আমার গ্রামের বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধা ট্র্যানজিট ক্যাম্প ছিল। মুক্তিযুদ্ধকালিন পুরো নয় মাস মাথার উপর কত বড় একটা বিপদের আশঙ্কা নিয়ে কাটিয়েছি। আমাদের গ্রামটি পুরো মুক্তিযুদ্ধকালিন মুক্ত এলাকা হিসাবেই চিন্হিত ছিল। মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের বাড়ি হয়েই ভারতে যাতায়াত করতেন। এই নয় মাসে হাজার কয়েক মুক্তিযোদ্ধা আমাদের বাড়িতে আহার, বাসস্থান ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও পেয়েছেন। বিনিময়ে রাষ্ট্রের বা দেশের কাছে তেমন কিছুই চাইনি। চেয়েছি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়ন। সেটা বোধহয় আর দেখে যেতে পারবোনা। আমার প্রজন্মের মধ্যেই দেখেছি অবিশ্বাস্য দেশপ্রেম। আবার এই প্রজন্মকেই নষ্ট প্রজন্ম হয়ে যেতে দেখেছি।

বর্তমান প্রজন্ম যেন নতুনভাবে দেশটাকে গড়ে তোলার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়।

রোমেল চৌধুরীর মন্তব্যের একাংশের পুনরাবৃত্তি করে বলছি, " এখন যৌবন যার..."

মন্তব্য : প্রৌঢ়ভাবনা

সুমন তুরহান এর ছবি

সেদিনের মাঠে বসে দেখা হলে পিছু ফিরে তাকাবোনা,
তুমিও খুঁজোনা - তুমি আর আমি আর
আমরা সবাই সেদিন, সেদিন জেনো মিশে গেছি
এক হয়ে নিরাকার সবটুকু বাসনা নিয়ে -
হয়ে গেছি বাংলাদেশ; বায়ান্ন, উনসত্তর, একাত্তর
এমনকি নব্বই এর মত করে আমরা সবাই
একখানি পতাকার সবটুকু লাল-সবুজে
যার যার হাত রেখে
বাংলাদেশ আর তার মানচিত্র হয়ে গেছি!

তানিম ভাই, যে পবিত্র আবেগে লিখেছেন এই লেখা আর যে রক্ত দিয়ে লিখেছেন কবিতাটি, সে-আবেগের লালিমা ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে...

আর, ওরা তো মৃত্যুঞ্জয়ী শ্রদ্ধা

-----------------------------------------------------------
স্নান স্নান চিৎকার শুনে থাকো যদি
নেমে এসো পূর্ণবেগে ভরাস্রোতে হে লৌকিক অলৌকিক নদী

তানিম এহসান এর ছবি

ধন্যবাদ সুমন ভাই, অনেক দেরীতে দেখলাম আপনার মন্তব্য। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

তানিম এহসান এর ছবি

কত মন্তব্যের জবাব দেয়া হয়নি কত পোস্টে! ব্লগ বোঝার আগেই ব্লগার হয়ে গেলে এমন-ই হয় তানিম!

কল্যাণ এর ছবি

খাইছে

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

তানিম এহসান এর ছবি

মিয়া মস্করা করেন! আজকে কেন জানি খুব পিছু ফিরে দেখতে ইচ্ছা করলো, দেখতে দেখতে একদম হারিয়েই গিয়েছিলাম। তারপর টের পেলাম কতকিছু খেয়াল করিনি, বিশেষ করে বানান কিংবা উপযাজক হয়ে পরামর্শ দিতে আসা সজ্জন পাঠকের মন্তব্যের প্রতিমন্তব্য-ও করিনি। নিজের সাথে কথা বলছি আর আপনে মিয়া ভেংচি দেন আমারে মামুর বুটা! খ্রান, দেশে আইসা লন তারপর টের পাওয়ামু!

নিজের সমালোচনা নিজেই করে নেয়া ভাল, বুঝলেন কল্যাণ-প্রবর দেঁতো হাসি

কল্যাণ এর ছবি

হ আইচ্ছা মত মাইর দিয়েন। তাপ্পর চুই আর গোলালূ দিয়ে ঝালঝাল হাসের মাংসের ঝোল দিয়ে এক গামলা ভাত খাওয়াইয়েন ইয়ে, মানে...

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

তানিম এহসান এর ছবি

ঠিক আছে। আসেন। আগে থেকে জানায়েন। হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

চোখ থেকে মুছে ফেল অশ্রু টুকু
এমন খুশির দিনে কাঁদতে নেই।।

এই লাইনদুটো শুনলে অশ্রু মুছেও কাজ হয় না,আবার চোখ ভিজে যায়!
মন খারাপ

লেখা অসাধারণ!

***************
সুবোধ অবোধ

তানিম এহসান এর ছবি

এই লাইনদুটো শুনলে অশ্রু মুছেও কাজ হয় না,আবার চোখ ভিজে যায়! হু!

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

চলুক শ্রদ্ধা

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

তানিম এহসান এর ছবি

শ্রদ্ধা

আয়নামতি এর ছবি

কত পোস্ট যে পড়িনি আমি মন খারাপ কেম্নে জানি এটা পড়া হয়ে গেলো।
পোস্টের আবেগটা ছুঁয়ে গেলো এই ঘুঘুডাকা দুপুরে!
ছোট্ট একটা অনুরোধ, 'ছড়িয়ে রাখো আতর গোলাপ এদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে'
টাইপো টা ঠিক করবেন প্লিজ? পরের প্যারা আগে, আগের প্যারা পরে বিশ্লেষণের
কারণটা কী স্মৃতির হুড়োহুড়িতে পরের প্যারার আগে এসে দাঁড়ানোর ফল?
এমনি কৌতুহল হলো তাই জানতে চাওয়া।

তানিম এহসান এর ছবি

ঠিক করে দিলাম ভাইয়া, ধন্যবাদ। স্মৃতির হুড়াহুড়ি নয়, ওভাবেই লিখেছিলাম। এই গান বিস্মৃতির মাঝে কোনদিন হারাতে পারে!

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।