তথ্য’সহ মিথ্যা কহ

কৌস্তুভ এর ছবি
লিখেছেন কৌস্তুভ (তারিখ: বুধ, ২৮/০৯/২০১১ - ১২:২৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

কয়েকদিন আগে উপরের ছবিটা ফেসবুকে অনেক বাংলাদেশী বন্ধুকে শেয়ার দিতে দেখলাম। নানা সাম্প্রতিক খবরের সঙ্গে এটা দেখে, একটা সন্দেহ হল, বিশেষভাবে দক্ষিণ’এশীয় মুসলিম ইমিগ্রান্টদের প্রতি অপছন্দ-প্রসূত নয় তো এ চার্টটা?

এরকম মনে হওয়ার আরেকটা কারণ, ইউকে’র পপুলেশন সম্পর্কে আমার যা ধারণা, তাতে বাংলাদেশীর সংখ্যা ভারতীয়দের চেয়ে অনেকটাই কম, অতএব এমনও হতে পারে যে আলস্যের অনুপাত তাদের মধ্যে বেশী থাকলেও হয়ত মোট সংখ্যায় ভারতীয়রাই বেশী?

*********************

সদ্য How to lie with statistics পড়ে শেষ করলাম। বইটা তেমন হলে নামটার অনুবাদ করা যেত ইয়ে’সূত্রের অনুকরণে তথ্যসূত্র। কিন্তু না, নিপাট ভালো বই; বাজারচলতি হাজার হাজার এস্টিমেট-ভ্যালু-প্রোজেকশন-গ্রাফ-ডায়াগ্রামের ভিড়ে তথ্য-উপস্থাপনের মধ্যে লুকোনো পক্ষপাতিত্ব আছে কি না তাই নিয়ে স্কেপটিক হতে, চিনতে পারতে পরামর্শ দেয়। তাই মনে হল তথ্য’সহ মিথ্যা কহ-ই ঠিক হবে। একটু কাব্যি’ও হল গিয়ে।

তাই মূল সংখ্যাগুলো নিয়ে একটু নেড়েঘেঁটে দেখতে ব্রিটেনের সরকারি তথ্য-বুড়োর (মানে ব্যুরো) কাছে আবেদন করলাম ইউনি’র অ্যাকসেস দিয়ে। দুদিন পর মঞ্জুর হলে একটু নিজেহাতে তদন্ত করে দেখলাম। কী পেলাম, কেউ মিথ্যা বলছে কি না, তা একটু কোর্টরুম ড্রামা’র অনুসরণেই উপস্থাপনা করা যাক না।

*********************

উকিল ১: মাই লর্ড, ফরিয়াদী নিখিল বিশ্ব ইসলামোফোবিয়া-বিরোধিতা সংগঠনের পক্ষ থেকে এই poverty.org.uk এবং তার পরিচালক মিঃ পামার’এর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাচ্ছি, এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রাফগুলির দ্বারা ব্রিটেনবাসী দক্ষিণ এশীয় মুসলিম অভিবাসীদের প্রতি বর্ণবিদ্বেষে ইন্ধন দেওয়ার। আপনি স্মরণ করে দেখতে পারেন, কিছুদিন আগেই হিন্দুদের মুখপাত্র ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যারনেস শ্রীলা ফ্ল্যাথার অভিযোগ করেছেন, দক্ষিণ এশীয় মুসলিমরা বেশী ওয়েলফেয়ার, বেনিফিট, শিশুকল্যাণভাতা পাওয়ার উদ্দেশ্যে বেশী বেশী করে পরিবারবৃদ্ধি করেছে। এইসব অভিযোগকারীদের এবং তাদের মদতদাতাদের কঠোর শাস্তি দাবী করি।

উকিল ২: ইয়োর অনার, আমার মক্কেল মিঃ পামার সম্পূর্ণ নির্দোষ। তিনি পলিসি স্ট্যাটিস্টিক্স নিয়ে গবেষণা করেন, এবং ব্রিটেনের নানা পলিসি-সংক্রান্ত বিষয়ে (পলিটিক্স, হেলথ ইত্যাদি) তথ্যভিত্তিক কনসাল্টিং করে থাকেন। তাঁর সাইটে তিনি ইউকে’র নানা বিষয় নিয়ে শয়ে শয়ে গ্রাফ এবং তথ্য উপস্থাপনা করেছেন, লেবার ফোর্স সার্ভে’র এই তথ্যগুলির বিশ্লেষণও তারই অঙ্গ মাত্র। এথনিসিটি বা জাতি সেই সার্ভের একটা বড় ফ্যাক্টর, তাই তা নিয়েও কিছু বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁর কোনো বিশেষ জাতিবিদ্বেষী উদ্দেশ্য ছিল না, ধর্মাবতার।

উকিল ১: বটে? তাহলে চার্টের শিরোনামে বড় বড় করে বাংলাদেশী আর পাকিস্তানিদের নাম উল্লেখ করে দেওয়া কেন? চার্টই বা অসম্পূর্ণ কেন – চীনারা গেল কোথায়? আমেরিকায় চীনা অভিবাসীদের ভিড়ে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীরা চাপা পড়ে যাচ্ছে, আর এখানে তাদের কোনো প্রভাবই নেই বলতে চান?

জাজ: অর্ডার, অর্ডার। আমি কোর্টের তরফ থেকে পরিসংখ্যানবিদ ভাইটালস্ট্যাটিস্টিক্স’কে নিয়োগ করলাম, তিনি তথ্যে কোনোরকম ভুলভ্রান্তি আছে কিনা, এই উপস্থাপনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিনা, চীনারা বাদ কেন, এসব তদন্ত করে জানাবেন। তার জন্য আগামী সাতাশ তারিখ অবধি বিচার মুলতুবি রইল।

*********************

পেশকার: সাক্ষী ভাইটালস্ট্যাটিস্টিক্স হাজির...

উকিল ১: মাই লর্ড, আমি সাক্ষীকে জেরা করতে অনুমতি চাই।

জাজ: অনুমতি দেওয়া হল।

উকিল ১: মিঃ ভাইটালস্ট্যাটিস্টিক্স, আপনি প্রথমে বলুন, ওই সাইটটি খুঁটিয়ে দেখে আপনার কী ধারণা হয়েছে?

ভাই: ওই সাইটে সত্যিই নানারকম পলিসি-বিষয়ক তথ্য-চিত্রের উপস্থাপনা আছে, আলোচনার ওই চার্টগুলি তার খুবই ক্ষুদ্র একটা অংশ। অতএব সাইটটা প্রোপাগান্ডার উদ্দেশ্যে বানানো হয় নি বলেই আমার মনে হয়।

উকিল ২: (স্বগত) ট্রালালালা...

উকিল ১: ওই লেবার ফোর্স সার্ভে’তে তো আরো বেশ কিছু জাতিগোষ্ঠীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, তাহলে চীনা ইত্যাদি তাদের ছেড়ে উনি শুধু আমার মক্কেলদের মত কয়েকটা গোষ্ঠী নিয়েই পড়লেন কেন?

ভাই: তার সম্ভাব্য একটা কারণ, চীনারা ওই হারে বাকি জাতিগোষ্ঠীগুলিরই কাছাকাছি, তাই তাদের আলাদা করে উল্লেখ করে হয় নি। বিচারপতি মহোদয়, আমি সবকটি জাতিগোষ্ঠীকে নিয়েই এই চার্টটি বানিয়ে এনেছি, যেখানে দেখতে পারেন, যে বাংলাদেশী ও পাকিস্তানিদের মধ্যে এই হার সত্যিই চোখে পড়ার মত ভাবে আলাদা, বাকিদের চেয়ে। এখানে প্রতিটি গোষ্ঠীর মধ্যে জনসংখ্যাকে কর্মরত (সবুজ), কর্মহীন কিন্তু কাজে ইচ্ছুক (নীল), আর কর্মহীন কিন্তু কাজে অনিচ্ছুক (কমলা) এই তিনটি শতকরা ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

কর্মরত ভাগটি অবশ্য মূল ছবিতে ছিল না। আর আমি কেবল ২০১০ সালের তথ্য নিয়েই এই চার্ট বানিয়েছি, মিঃ পামার তিন বছরের তথ্যের গড় নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর ফলাফলের সঙ্গে আমার বেশি তফাত নেই।
এখানে চীনারা রয়েছে; অন্যান্য এশীয় দেশের লোকেরা রয়েছে; আফ্রিকান, ক্যারিবিয়ান ইত্যাদি মিলিয়ে কৃষ্ণাঙ্গরা রয়েছে; সাদা+কালো, সাদা+এশিয়ান ইত্যাদি মিলিয়ে মিশ্ররক্তের জনতা রয়েছে; ইউরোপীয় এবং কিছু আমেরিকান, অস্ট্রেলিয়ান শ্বেতাঙ্গরা রয়েছে।

উকিল ১: আপনিও দেখছি আসামীর মতই ২৫ থেকে ৬৪ বছরের তথ্য নিয়েছেন। কিন্তু এই সার্ভের সংজ্ঞা অনুযায়ী ওয়ার্কিং এজ ধরা হয় ১৬ বছর থেকে। তাহলে? আপনি কি ওনার কোলে ঝোল টানছেন?

ভাই: যেহেতু ব্রিটেনে বেকারভাতা দেওয়া হয় ২৫ বছর বয়সের পর থেকে, তাই আমার অনুমান, উনি সেই বয়স থেকে রিটায়ারমেন্টের বয়স অবধি অংশটুকু ছেঁকে নিয়েছেন। আমিও ওঁর সাথে মিলিয়ে দেখতে তাই করেছি। এর পেছনে পক্ষপাত নেই। তবে আমি ১৬ বছর বয়স থেকে তথ্য নিয়েও দেখেছি, বেশি তফাত নেই – কর্মহীনতার হার বরং খানিকটা বেড়েই যায়।

উকিল ১: সরকারের প্রতিবেদন বলছে, কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অ-শ্বেতাঙ্গদের প্রতি ডিসক্রিমিনেশন আছে। তাই থেকে কি এমন হওয়া সম্ভব নয়?

ভাই: তা আছে, কিন্তু তাহলে ব্রিটিশ এবং অন্যান্য-শ্বেতাঙ্গদের বাদ দিলে বাকি সবকটি গোষ্ঠীই প্রভাবিত হওয়ার কথা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, কর্মরত-দের হার বরং মূল ব্রিটিশদের চেয়েও ভারতীয়, কৃষ্ণাঙ্গ ইত্যাদি গোষ্ঠীতে বেশী।

উকিল ১: কিন্তু এ কথা কি সত্যি নয়, যে অনুপাতের বদলে মোট সংখ্যা নিলে বাংলাদেশীদের উপস্থিতি অনেক কমে যায়?

ভাই: তা ঠিক। এ দেশের জনসংখ্যায় ২% এর মত ভারতীয়, ১.৫% এর কিছু বেশী পাকিস্তানি, আর ০.৫% এর কিছু বেশী বাংলাদেশী।
৫% এর বেশী ইউরোপীয় শ্বেতাঙ্গদের বাদ দিলে এদের কাছাকাছি কেবল কৃষ্ণাঙ্গরা (২%), মিশ্র’রা (১.২%) আর চীনারা (০.৪%)।

আমি আরেকটি চার্ট বানিয়েছি, মূল ব্রিটিশদের বাদ দিয়ে, যেখানে এদেশের মোট কর্মহীন ইচ্ছুক (সবুজ) ও অনিচ্ছুক (খয়েরী) জনসংখ্যায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অবদান শতকরা হিসাবে দেখানো হয়েছে। পাশে তুলনার জন্য দেশের মোট জনসংখ্যায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অবদানও (ধূসর) দেখিয়েছি।

তা এখানে আপনার দাবী যৌক্তিক, যে মোট জনসংখ্যার হিসাব ধরলে কর্মহীন অনিচ্ছুকদের হিসাবে পাকিস্তান বাংলাদেশের তিনগুণ আর ভারতীয়রা দ্বিগুণ প্রায়।
কিন্তু সেটা মোট জনসংখ্যাতেও তারা বেশী বলেই। যদি ‘জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে কার কেমন মনোভাব’ হিসাবে দেখতে চান, তাহলে প্রথমের চার্টটাই ঠিক আছে।
আর এটায়, বুঝতেই পারছেন, ধূসরের তুলনায় যাদের খয়েরী বেশী হবে, তাদেরই পরিস্থিতি খারাপ। এখানে দেখতে পাবেন, পাকিস্তানি ও বাংলাদেশীদের পরিস্থিতি তাই বাকিদের তুলনায় খারাপ (অবশ্য চীনা বা অন্যান্য’দেরও তেমন ভাল না)। এটা লক্ষ্য করে দেখুন, ভারতীয়দের তুলনায় পাকিস্তানিদের জনসংখ্যা কম হলেও কর্মহীন অনিচ্ছুক বেশ বেশী।

*********************

জাজ: বিবাদীপক্ষের উকিল, আপনি সাক্ষীকে কোনো প্রশ্ন করতে চান?

উকিল ২: হ্যাঁ হুজুর।
তা মিঃ ভাইটালস্ট্যাটিস্টিক্স, মোট জনসংখ্যা নিয়ে আপনার আরো কিছু পর্যবেক্ষণ আছে বলে শুনেছি। সেগুলো আদালতের সামনে পেশ করবেন কি?

ভাই: নিশ্চয়ই। তার আগে পপুলেশন পিরামিড জিনিসটা একটু বুঝিয়ে নিই।

এই ছবিটা দেখুন, এখানে একটা দেশের মোট জনসংখ্যাকে বিভিন্ন বয়স অনুযায়ী ভাঙা হয়েছে। বয়স রয়েছে Y-অ্যাক্সিসে, আর হরাইজন্টাল বার দিয়ে প্রতিটি বয়সের গ্রুপে জনসংখ্যা দেখানো হয়েছে। X- অ্যাক্সিস তাই’ই মাপছে। যেহেতু তরুণদের সংখ্যা বেশী আর বুড়োদের কম হওয়ার কথা, তাই এটাকে পিরামিডের মত দেখতে লাগে। সাধারণত একপাশে পুরুষ আর একপাশে মহিলাদের দেখানো হয়।

আর এই ছবিটাও দেখুন। এখানে কিছু সম্ভাব্য পিরামিড দেখানো হয়েছে।
দ্রুত বর্ধনশীল, যখন শিশুদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে,
কম বর্ধনশীল, যখন শিশু ও যুবকদের সংখ্যা বেশি, কিন্তু আর খুব দ্রুত বাড়ছে না,
স্থায়ী, যখন কম জন্মহার ও মৃত্যুহারের জন্য জনতার গঠন বেশি বদলাচ্ছে না, বুড়োরাও অনেকদিন বাঁচছেন,
আর সংকোচনশীল, যখন শিশুজন্ম কম হচ্ছে, ফলে মধ্যবয়স্কদের সংখ্যাই বেশি।

জাজ: বেশ, পিরামিড বুঝলাম। এবার এদেশের পিরামিড নিয়ে কিছু বলতে চান?

ভাই: আজ্ঞে হ্যাঁ। আমি এ দেশের প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর পিরামিড বানিয়েছি এই ছবিতে।

দুটি ছোট পরিবর্তন – আমাদের আলোচনায় স্ত্রী/পুরুষ প্রাসঙ্গিক নয় বলে আমি মোট জনসংখ্যা এঁকেছি দুপাশেই, আর X- অ্যাক্সিসে সেই গোষ্ঠীর মধ্যে বিভিন্ন বয়সে জনসংখ্যা না রেখে অনুপাত রেখেছি।

কয়েকটি জিনিস লক্ষ্য করুন। কেবল বাংলাদেশী আর পাকিস্তানিদের পিরামিডই দ্রুত বর্ধনশীল। এবং সরকারের রিপোর্টেও বলা হয়েছে, যে পরিবারের মাপেও তারাই সবচেয়ে বড় – একটা বাংলাদেশী পরিবারে গড়ে থাকে ৪.৫ জন, আর পাকিস্তানি পরিবারে ৪.১ জন। বাকিদের ৩-এর আশেপাশে।
এর সাথে মিশ্র জনগোষ্ঠীর লোকেদেরও পিরামিড দ্রুত বর্ধনশীল। তবে তার কারণ, বর্তমানে ভিন্ন জাতির মধ্যে বিয়ে বেশ কিছু কিছু হচ্ছে (যদিও ২% মত কেবল), আগে যা খুবই কম হত – এই গ্রুপে বেশী বয়সী লোকেরা তাই প্রায় নেই-ই।
আর দেখুন, ব্রিটিশ, অন্য শ্বেতাঙ্গ, ভারতীয়দের পিরামিড সেই তুলনায় সংকোচনশীল; এবং এদের অনেক বৃদ্ধ লোক আছে। এর কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে লোকসংখ্যা কমে যাওয়ায় করা ‘বেবি বুম’, এবং তার পরে ১৯৬৫-৭০’এ হয়েছে তাদের সন্তানদের ‘বেবি বুম’। এই দুই দলের বয়স এখন ৬০ আর ৪০-এর আশেপাশে।
এদের মতই চীনা বা অন্য এশিয়ানদেরও মধ্যবয়সী লোকসংখ্যাই বেশি।

উকিল ১: এসব হ্যানাত্যানা দেখিয়ে আপনি কী ইঙ্গিত করতে চান, অ্যাঁ?

ভাই: বাংলাদেশী আর পাকিস্তানিদের মধ্যে যে বাচ্চাদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, এই তথ্য সত্যি; তবে তার উদ্দেশ্য নিয়ে শ্রীমতী ফ্ল্যাথার যে দাবী করেছেন তা নিয়ে কিছু বলার মত জ্ঞান আমার নেই।
আর আপনার আগের প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে বলব, ইমিগ্রেশন/জন্মহার ইত্যাদির কারণে, যেসব গোষ্ঠীর চেয়ে মোট জনসংখ্যায় এখন পিছিয়ে, তাদের ভবিষ্যতে অতিক্রম করে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

জাজ: তাহলে এই মামলা বিষয়ে আপনার মতামত কী?

ভাই: উপস্থাপিত তথ্যে আমি তেমন কোনো বিকৃতি দেখছি না। তাই এই শিরোনাম “তথ্য’সহ মিথ্যা কহ”-তে আপত্তি জানালাম। আর জনসংখ্যা-পিরামিড বা কর্মহীন-অনিচ্ছুক ইত্যাদি বিষয়ে ওই দুই দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীরা বাস্তবেই অন্যদের থেকে বেশ খানিকটা আলাদা, তাই মিঃ পামার সেটা তাঁর চার্টে হাইলাইট করলে তাঁকে দোষ দিতে পারি না। তাঁর সাইটের কাজকর্মে তাঁকে জাতিবিদ্বেষী বলে অনুমান করার মত কিছুও দেখি নি।

উকিল ২: ইয়েপ্পি... ইয়ে, ইয়োর অনার, তাহলে আমার মক্কেলকে রেহাই দেওয়া হোক?

জাজ: হ্যাঁ হ্যাঁ, তাঁকে এবং তাঁর সাইটকে বেকসুর খালাস দেওয়া হল।

উকিল ১: কিন্তু, স্যার, যারা আমার মক্কেল-বিদ্বেষী ইন্টারপ্রিটেশন করছে, তাদের বিচার করবেন না?

জাজ: সেসব পরের অধিবেশনে হবে। আর পাঠকেরা নিজেদের মত ভাবনাচিন্তা করুক। আমি এখন অ্যাসটেরিক্স পড়তে গেলুম...


মন্তব্য

কৌস্তুভ এর ছবি

সচলবন্ধুদের বলি, রাগ করবেন না, কাজের ব্যস্ততায় কিছুদিন সচলে আসার বা আপনাদের লেখা পড়ার সুযোগ পাচ্ছি না। তবে মন্তব্যের উত্তর দেব নিশ্চয়ই। হাসি

 তাপস শর্মা  এর ছবি

এক কথায় - দুর্দান্ত। চলুক

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ দাদা।

দিফিও-1 এর ছবি

কারণ আর ফলাফল সংক্রান্ত একটা ঝামেলা আছে মনে হচ্ছে। স্ট্যাটে এই ২ জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশ কর্মহীন থাকতে চায়, সেটা দেখানো হয়েছে, কিন্তু ঠিক এই যে বেশী করে বাচ্চা নেয়, এমন স্ট্যাট দেখতে পাচ্ছিনা।

কিছু কি বুঝলাম, না বুঝলামনা?

কৌস্তুভ এর ছবি

এখানে তো ফলাফল থেকে কারণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মত কিছু করা হয়নি।

বাচ্চা বেশি, এই অংশটা পিরামিড-সংক্রান্ত আলোচনায় আছে। ওই দুই গোষ্ঠীর পিরামিড দ্রুত বর্ধনশীল রকমের। ছবি দেখলেই বুঝবেন, তাদের অল্পবয়সী জনসংখ্যার অংশটাই স্ফীত সবচেয়ে বেশি।

কিন্তু বাচ্চা বেশি, আর বাচ্চা বেশি নেয়, এদুটো কিন্তু আলাদা। দ্বিতীয় কথাটা ওই মহিলা বলেছেন, স্ট্যাটিস্টিশিয়ান না জানায় কোনো কমেন্ট করেন নি। বাচ্চা বেশি নিলে, আর বাচ্চারা বেশি ইমিগ্রেট করলে, দুটোতেই বাচ্চা বেশি দেখাবে।

তবে বাচ্চা বেশি জন্মানোই যে সম্ভাব্য কারণ, এটা মনে হয় ওই তথ্যটা দেখলে, যে পরিবারের গড় লোকসংখ্যা একজন বেশি, অন্যদের তুলনায়। অতএব হয় বৃদ্ধ বেশি, বা বাচ্চা। কিন্তু পিরামিড বলে যে বৃদ্ধের সংখ্যা বাকিদের তুলনায় কম, বাচ্চাই বেশি। অতএব পরিবারে গড়ে একটি বাচ্চা বেশি জন্মাচ্ছে বলেই মনে হয়।

হিমু এর ছবি

ইন্টারেস্টিং। শিক্ষার হারের চলকটা যোগ করতে পারলে বোধহয় আরো ইনসাইটফুল হতো।

কৌস্তুভ এর ছবি

ইনসাইটফুল মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। শিক্ষার হার একটা ফ্যাক্টর, মহিলারা সংসারবন্দী হয়ে থাকেন এটাও একটা ফ্যাক্টর। তবে যাঁরা সংসারের কাজ করার মাধ্যমে অবদান রাখছেন, তাঁদের কিন্তু অনিচ্ছুক গোষ্ঠীতে ফেলা হয়নি, যেমন হয়নি ছাত্রদেরও।

GCSE (General Certificate of Secondary Education) আমাদের মাধ্যমিক পরীক্ষার মত। এটায় কারা পাঁচটা বা তার বেশি বিষয়ে ভালো গ্রেড পেয়েছে, তাই নিয়ে সরকারের কিছু তথ্য আছে। (ওই poverty.org.uk সাইটে কিছু নেই।)
তাতে বাংলাদেশী, পাকিস্তানি ও কৃষ্ণাঙ্গরা বাকি গোষ্ঠির তুলনায় বেশ খানিকটা খারাপ - প্রায় ২০% কম ছাত্র ভালো গ্রেড পেয়েছে। ভারতীয় ও চীনা ছাত্ররা ব্রিটিশদের চেয়েও খানিকটা ভাল করেছে।

"In 2002 Chinese pupils were the most likely to achieve five or more GCSE grades A*-C in England, with 77 per cent of Chinese girls and 71 per cent of Chinese boys respectively. Indian pupils had the next highest achievement levels: 70 per cent of Indian girls and 58 per cent of Indian boys achieved these levels.
The lowest levels of GCSE attainment were among Black Caribbean pupils. Only 23 per cent of Black Caribbean boys and 38 per cent of Black Caribbean girls achieved five or more A*-C grade GCSEs. Pupils from the Other Black, Black African and Pakistani groups had the next lowest levels of attainment.
Within each ethnic group a higher proportion of girls than boys achieved five or more GCSE grades A*-C (or equivalent)."

আর অন্যান্য গোষ্ঠীর তুলনায় বাংলাদেশী আর পাকিস্তানিদের মধ্যে পুরুষদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক মহিলারা কর্মরত নন। সেই ছবি ভারতীয়দের মধ্যেও খানিকটা দেখা যায়, যেমন অনুমেয়। কিন্তু ভারতীয়দের পুরুষ/মহিলা দুদলেরই কর্মহীন হওয়ার হার তুলনায় কম।

নিটোল. এর ছবি

বেকার বসে থাকাটা বোধ হয় কেউই চায় না। লাইফস্টাইল উন্নত করতে না চাইলেও অন্তত সম্মানের জন্য হলেও মানুষ কিছু না কিছু করতে চায়। তবে একেবারে কিছুই না করে মোটামুটি জীবন চালিয়ে নেবার মতো লোকের সংখ্যাও বাড়ছে সবখানে। বাংলাদেশী তরুণরা শেয়ারবাজারের প্রতি আকর্ষিত হয়েছিল বোধ হয় এ কারণেই (যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এ হারটা কমে যাচ্ছে মন্দার প্রভাবে)।

কৌস্তুভ এর ছবি

মনে করেন আমি সারাদিন বসে বসে কম্পিউটার গেমস খেলতে ভালবাসি। সেটা কিন্তু আমার কাছে বেকার থাকা নয় - আমি একটা কিছু করছি, যেটা আমার করতে খুব ভাল লাগে। কিন্তু সেটা প্রোডাক্টিভ নয়, রোজগার, পড়াশোনা বা পরিবারের কাজে লাগা কোনোটাই হচ্ছে না - সেই অর্থে সরকার বেকার হিসাবেই ধরবে।

দিহান এর ছবি

ইন্টারেস্টিং। একটু লজ্জার ও বটে...

ইদানীং পৃথিবী অনুভব করে, একটা সূর্যে চলছেনা আর
এতো পাপ, অন্ধকার
ডজনখানেক সূর্য দরকার।

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ। সম্ভবত এই মনোভাব থেকেই বন্ধুরাও শেয়ার দিয়েছিলেন ছবিটা।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

পোস্ট পড়ে যা বুঝলাম, বাংলাদেশী ও পাকিস্তানীরা যে কর্মবিমুখ প্রাথমিক পরিসংখ্যানের পক্ষের এই দাবীকেই সমর্থন করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যানের ফাঁকফোকরগুলো মোটেই আসে নি, যেটা একজন পরিসংখ্যানে এক্সপার্ট ব্লগারের কাছ থেকে পাওয়ার আশা করে পোস্ট পড়া শুরু করেছিলাম। (অবশ্য কোনো ফাঁকফোকরই নাই - এরকম একটা অবস্থা হওয়ার সম্ভাবনা শূন্য না। সেটা হলে পরিসংখ্যান নিয়ে মিথ্যা বলার বইগুলো বাজেয়াপ্ত করতে হবে।) পরিসংখ্যানমূর্খ আমার চোখে কয়েকটা জিনিস অসঙ্গতিপূর্ণ মনে হয়েছে। যেমন,

১) কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে এথনিসিটি একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একজন ভারতীয়ের ভাতের হোটেলে অন্য একজন ভারতীয়ের জন্য চাকুরি পাওয়া সহজ, একজন পাকিস্তানীর মুদি দোকানে একজন বাঙালিকে নেয়ার আগে একজন পাকিস্তানীকেই আগে নেবে। সুতরাং বিভিন্ন এথনিক গ্রুপের নিয়ন্ত্রিত কাজের ক্ষেত্র এই পরিসংখ্যানে একটা গুরুত্বপূর্ণ চলক হওয়া উচিত। পোস্টে এটা পাওয়া যায় নাই।

২) একটা উন্নত দেশে বাংলাদেশী ও পাকিস্তানীদের প্রায় অর্ধেক লোকই বেকার! এই বেকারত্বের পেছনের কারণ শুধু কর্মে অনীহা না। উপরের ১ ছাড়াও কর্মক্ষেত্রে পারিশ্রমিকের বৈষম্য বেকারত্বের আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে। আমি যে কাজের জন্য একজন শেতাঙ্গকে ঘন্টায় ১০ পাউন্ড দেবো, একই কাজের জন্য একজন বাঙালিকে যদি ৫ পাউন্ড দেই, তাহলে যে বৈষম্য সৃষ্টি হবে, তার প্রেক্ষিতে বেকারভাতাকেই বেশি আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। এই জিনিসটা পরিসংখ্যানে বা তার ব্যাখ্যায় ব্যবহৃত হয়েছে কিনা, তা চোখে পড়লো না।

৩) শিশু প্রতিপালন কর্মজীবী বাবা-মায়ের জন্য একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। দিহান আপার সাম্প্রতিক পোস্টগুলো পড়লে জিনিসটা পরিষ্কার হবে। আর আমিও নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে এই মুহূর্তে বুঝতে পারছি। সুতরাং অধিক সংখ্যক অল্পবয়সী ছেলেমেয়ে থাকা পরিসংখ্যানের জাস্ট একটা নাম্বার না, কর্মে নীহা বা অনীহার ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা বিশাল। ব্রিটিশ সরকার শিশু জন্মদানে উৎসাহের জন্য কতোটা আন্তরিকভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেটাও আলোচনায় আসা উচিত। কেউ বলতে পারেন, পাকিস্তানী এবং বাংলাদেশী (মুসলমান)রা গন্ডায় গন্ডায় সন্তান না নিলেই হয়! কিন্তু অধিক সন্তান বাংলাদেশের জন্য সমস্যা হলেও এসব দেশের জন্য ধনাত্মক অবদান, দেশের অর্থনীতির জন্য সম্পদ। সেই সম্পদকে এথনিসিটির কারণে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বৈষম্য করছে কিনা, কর্মে অনীহার পেছনের কারণ হিসেবে এটাও আসবে।

৪) ৩ এর অংশ হিসেবে শিক্ষার হারের চলকের যে তথ্য দিয়েছেন, তার পেছনের কারণটাও আসা দরকার। চাইনিজ এবং ইন্ডিয়ানরা মেধাবী আর ক্যারিবিয়ান কিংবা বাংলাদেশী কিংবা পাকিস্তানীদের মাথায় গ্রে ম্যাটার কম থাকা সম্ভবত তাদের গ্রেড পাওয়ার পেছনের কারণ না। এই পার্থক্যকে হাইলাইট করার পাশাপাশি সরকার পিছিয়ে পড়া গ্রেডিদের গ্রেড উন্নয়নের জন্য কি পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাও আলোচনায় আসা উচিত।

৫) পরিসংখ্যানকে অনেকভাবে টুইস্ট করা যায়। নমুনা চয়ন এবং অনুমিতি সেইরকমভাবে নিলে স্যার আশরাফুলকেও বিশ্বের সবচেয়ে ভালো ক্রিকেটার বানানো সম্ভব। যেমন, আপনার দেয়া ৩ নম্বর গ্রাফে সবুজ থেকে লালের খাম্বা ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, চীন ও বাংলাদেশের জন্য বেশি। সুতরাং এই চার দলকেই এক পাল্লায় তুলে দেয়া যায়। সেটা না করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে সিঙ্গেল আউট করার কারণ বোধগম্য না। ইনফ্যাক্ট কাজ করতে চাই বনাম কাজ করতে চাইনা বেকারের রেশিও নিলে বাংলাদেশকে সিঙ্গেল আউট করা যায়। পাকিস্তানের অবস্থা ইন্ডিয়া বা চীনের খুবই কাছাকাছি।

পুনশ্চ: লজ্জা পাওয়ার বিষয়টা পারস্পরিক। ব্রিটিশ সরকারের উচিত তার ম্যানপাওয়ারের যথাযথ ব্যবহার করা। সেটা করতে না পারার জন্য প্রথমে লজ্জাটা তাদেরই পাওয়া উচিত। এই সমস্যা কতোটা এথনিসিটিউদ্ভূত আর কতোটা সরকারের ব্যর্থতা তার হিসাব করার আগে আমার এথনিসিটির কারণে লজ্জিত হওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পেলাম না।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

কৌস্তুভ এর ছবি

আহহা, আপনি যে বিরক্তিসূচক মন্তব্য করবেন সেটা আমি অনুমান করেইছিলাম।

এরা কর্মবিমুখ কী কী কারণে, সেই নিয়ে কোনো কথা মূল গ্রাফটিতে ছিল না। সেই প্রশ্ন অনুসন্ধান করা এই লেখাটার উদ্দেশ্যও নয়। উপস্থাপিত গ্রাফটা জাতি-অপছন্দ-সঞ্জাত, এরকম একটা সন্দেহ হওয়ায় সংখ্যাগুলোয় কোনো ফাঁকি আছে কিনা তা দেখার জন্যই এই লেখা।

তাই এই কর্মবিমুখতার পেছনে কী কী চলক থাকতে পারে, কোন ব্যাখ্যা দেওয়া যেতে পারে, ইত্যাদি থিয়োরি কোনো সোশাল সায়েন্সের লোক যদি দেন, তাহলে তা ঘেঁটে দেখা স্ট্যাস্টিশিয়ানের পক্ষে হয়ত সম্ভব। নিজে থেকে নানারকম ফ্যাক্টর অনুমান করে দেখা তার পক্ষে কঠিন, কারণ ফ্যাক্টরের সংখ্যা প্রচুর। হিমুদা শিক্ষা একটা সম্ভাব্য ফ্যাক্টর বলেছেন, আমি সেটায় যতটুকু তথ্য পেয়েছি আলোচনা করেছি মন্তব্যে।

৩ আর ৪এ আপনি নানা থিয়োরি দিয়েছেন। সেগুলো ঠিক বা ভুল হতে পারে। এরকম থিয়োরি অনেকই হয়ত দেওয়া যেতে পারে। সেগুলো আলোচনা করা তো এই পোস্টের উদ্দেশ্য নয়। একটা যুতসই ব্যাখ্যা দিয়ে এই কর্মবিমুখতার হারকে explain away করে দিইনি বলে আপনার অপছন্দ হয়েছে। তাতে আমি নাচার।

১ সম্পর্কে বলব, শুরুর গ্রাফে কী মাপা হচ্ছে আপনি সেটা ভালভাবে বোঝেন নি তাহলে। ধরুন আমি বুরুন্ডির লোক, কিন্তু আমার দেশের কারোর দোকান বা কোম্পানি নেই এদেশে, তাই আমাকে কেউ চাকরি দিচ্ছে না। সেক্ষেত্রেও কিন্তু আমি চাকরি করতে উৎসাহী ঠিকই। আমাকে কমলা অংশে ফেলা হবে না, হবে নীল অংশে। অতএব আমাকে কর্মবিমুখদের দলে ধরা হবে না। আর প্রথম গ্রাফটার মূল কথা ছিল কমলা কর্মবিমুখদের নিয়েই।

২ নিয়ে বলি, কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে এথনিক মাইনরিটিদের প্রতি বৈষম্যের কথা পোস্টেই এসেছে। কিন্তু সরকারের রিপোর্ট বলছে অ-শ্বেতাঙ্গ সবার প্রতিই বৈষম্য হয়। সেক্ষেত্রে ওই দুটো বিশেষ দেশের লোকেদের প্রতি বাকিদের তুলনায় বেশি করে বৈষম্য হয় বলে বলা নেই। তাহলে একই জব কালোদের আর বাঙালিদের দেওয়া হলে তারা করতে চাইছে না, এই-ই বুঝতে হয়।
আর বেকারভাতা নিতে গেলে সরকারকে জানাতে হয়, আমি জব করতে চাই, এবং জব খুঁজছি। সার্ভেতেও একই প্রশ্ন করা হয়েছে। তাহলে বলতে হয় তারা এখানে এক কথা আর ওখানে আরেক কথা বলছে।

৩ নিয়ে হিমুদার মন্তব্যে বলেছি, যারা কাজ করতে ইচ্ছুক কিন্তু সন্তান/পরিবারের কারণে করতে পারছেন না, তাঁদেরও কমলা অংশে ফেলা হয়নি। আর গ্রাফটার মূল কথা ছিল কমলা কর্মবিমুখদের নিয়েই।

৩+৪: সরকার বা কর্মদাতা বেছে বেছে এই দুই দেশের প্রতি বৈষম্য কেন করছে, তা নিয়ে আপনার যৌক্তিক কিছু থিয়োরি থাকলে বলুন না, দেখি explain away হয়ে যায় কি না।

ইংল্যান্ড সম্পর্কে কিছু সংবাদ-রিপোর্ট বা ডকু বলছে, যে এরা প্রচলিত স্কুলের বদলে ছেলেমেয়েদের মাদ্রাসায় পাঠাতে পছন্দ করে। আর মাদ্রাসায় শিক্ষা যথাযথ না হলে সেটা হিমুদার প্রশ্নের উত্তরে দেখা ফারাকের একটা ব্যাখ্যা হতে পারে। এবং সেক্ষেত্রে মাদ্রাসা-শিক্ষায় হস্তক্ষেপ না করলে সরকার গ্রেডিদের অবস্থার উন্নতিও করতে পারবে না। তবে এ সবই থিয়োরি। মূল পোস্টের আলোচনার থেকে দূরে।

৫ এ আপনি নমুনা চয়ন বা অনুমিতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। আমার মনে হয় না যে ওই দুই দেশের প্রতি বিদ্বেষবশত সরকার তেমনভাবে সার্ভে ডিজাইন করেছে, বা তেমন প্রশ্ন সাজিয়েছে, বা সার্ভেয়ারদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

আমি সবুজের সাথে লালের তুলনা না করে ধূসরের সাথে করেছি, কারণ সবুজ ও লাল কোরিলেটেড, লাল বাড়লে সবুজ বা কর্মরত-অনুপাত (যেটা ওই গ্রাফে দেখানো হয়নি) কমবেই। ধূসর বা মোট জনসংখ্যা আমার নিউট্রাল বেসলাইন মনে হয়েছে।
তা সবুজের তুলনায় লালের জাম্প ভারত বা চীনের ০.২% মত বেশি, আর পাকিস্তান-বাংলাদেশের ০.৬% মত। তাই ওই দুই দেশকে হাইলাইট করা হয়েছে। এবং এরকম গ্রাফে ডিফারেন্স দেখাই সোজা এবং বেশি যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে। আপনি যদি রেশিও নেন, তাহলে ভারতের হয় ১৩%, পাকিস্তানের ৩২%, বাংলাদেশের ৮৪% বেশি। এবার পাকিস্তানকে ইন্ডিয়ার কাছাকাছি বলা যায় বলে মনে হয় না।

শেষে আবারও বলি, সার্ভেতে সত্যিই একটা সংখ্যাগত উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে কি না, সেটা ভেরিফাই করতে এই আলোচনা। তার হাজারটা সম্ভাব্য কারণ নিয়ে আলোচনা করা, প্রতিটার তথ্যগত বিশ্লেষণ করে পার্থক্যটা explain away হয়ে যায় কি না দেখা এই পোস্টের উদ্দেশ্য নয়, তার স্কোপের মধ্যেও নেই - সেই থিয়োরি আনা একজন সোশাল সায়েন্টিস্টের স্কোপের মধ্যে।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আহহা, আপনি যে বিরক্তিসূচক মন্তব্য করবেন সেটা আমি অনুমান করেইছিলাম।

এই অনুমানের কারণ কি?

বাকি মন্তব্য এখন পড়া শুরু করি।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

কৌস্তুভ এর ছবি

ইসলামোফোবিয়া সম্পর্কিত একটা পোস্টে আপনার সঙ্গে যেমন মতানৈক্য-বাক্যবিনিময় হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা থেকে...

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

তাইলে বুঝতে হবে আপনি ব্লগিংয়ে/সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মের ইন্টার অ্যাকশনে এখনো ফিডার খান। আমি মতানৈক্য-মতৈক্য ক্যারি করি না। পোস্টে মন্তব্য করি পোস্টের মেরিটে। কোনো পোস্ট পড়া শুরু করি সেটা আকৃষ্ট করে বলেই। আকৃষ্ট না করলে পড়ি না। আমি প্রশংসায় উদার। স্বাধীনতাবিরোধী ছাড়া কারো সাথে গন্ডগোল করা বা কোনো টপিকে মতানৈক্যের কারণে দূরত্ব সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে সেটা বরং যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব মিটানোর চেষ্টা করি। আপনার এই পোস্ট পড়া শুরু করেছিলাম একটা প্রশংসাসূচক মন্তব্য করার অভিপ্রায় থেকেই। কিন্তু পোস্ট পড়া শেষ করে পুরা পোস্টটিকেই স্রেফ স্টান্টবাজি মনে হয়েছে। তারপরেও যথাসম্ভব সফট ভাষায় পোস্টের দুর্বলতাগুলো বলার চেষ্টা করেছি। আর আপনি ক্যারি করে বেড়াচ্ছেন, কবে আপনার সাথে কোন পোস্টে আমার মতানৈক্য হয়েছে, সেটার জন্য আপনার এই পোস্টের খুঁত ধরছি এসে!

বড়ো হোন।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

কৌস্তুভ এর ছবি

হাহাহা... ফিডার খাওয়া বা না-বড়ো অর্থে জুনিয়র বললে বলতেই পারেন, আপনি বাংলাদেশি ব্লগে বহুদিন আছেন, সেই সুবাদে আমার কথায় আপনার প্রাচীন আস্তমেয়ে-টেয়ে কার যেন স্মৃতিও জেগে ওঠে...

আপনি আমার পোস্ট দেখলেই বিরক্তিসূচক মন্তব্য করবেন এমন তো বলি নি, আমার এই পোস্টের বিষয় থেকে আপনি যে বিরক্তিসূচক মন্তব্য করবেন তা অনুমান করেছি।

একজন ব্লগারের যে ইমেজ তৈরি হয়, সে থেকে তার মন্তব্যের ধরন অনুমান করাও যায়। একজন ডকিন্সের তত্ত্বকে নিন্দা করে পোস্ট দিলে আমার কী মন্তব্য হবে তা অনুমান করা কি কঠিন?

যাক, এই নিয়ে কথা বাড়াতে চাই না। আবার অন্যপথে আলোচনা চলে যাবে।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

ইমেজের বিষয়টা বিস্তারিত বলেন। আমার কোন ইমেজের জন্য আপনার মনে হলো পরিসংখ্যানের পোস্টে আপনার পোস্ট বলে খুঁত ধরা শুরু করবো? এই পোস্টের 'বিষয়'টা কি, তাও একটু ক্লিয়ার করে বলেন।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

সার্ভেতে সত্যিই একটা সংখ্যাগত উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে কি না, সেটা ভেরিফাই করতে এই আলোচনা। তার হাজারটা সম্ভাব্য কারণ নিয়ে আলোচনা করা, প্রতিটার তথ্যগত বিশ্লেষণ করে পার্থক্যটা explain away হয়ে যায় কি না দেখা এই পোস্টের উদ্দেশ্য নয়, তার স্কোপের মধ্যেও নেই - সেই থিয়োরি আনা একজন সোশাল সায়েন্টিস্টের স্কোপের মধ্যে।

শুভঙ্করের ফাঁকিটা ওখানেই। আমি যতোদূর জানি (আমার জানায় ভুল থাকতে পারে) পরিসংখ্যান শুধুমাত্র সংখ্যা না, সংখ্যার ইন্টারপ্রেটেশনও তার অন্তর্ভূক্ত। এজন্য ইন্টারপ্রেটেশনের লেজ ধরেই আপনি যে চলকগুলোকে সোশাল সায়েন্টিস্টদের ওপর ঠেলে দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন, সেগুলোও মাত্রাভেদে 'পরিসংখ্যান'-এর অন্তর্ভূক্ত হওয়া উচিত। কারণ, পরিসংখ্যান দেখে লোকে সিদ্ধান্ত নেয়, যেমন আপনার পোস্টের 'পরিসংখ্যান' দেখে কেউ কেউ বাংলাদেশী হিসেবে লজ্জা পেতে শুরু করেছে, অনেকে বাংলাদেশী ও পাকিস্তানী এথনিসিটিকে ঘৃণাও করতে শুরু করে/করবে। সুতরাং যেখানে সিদ্ধান্তের ব্যাপার আছে, সেখানে কারণ বিশ্লেষণও থাকতে হবে। নাহলে পুরোটাই ভাওতাবাজি হয়ে যায়।

আপনি যদি রেশিও নেন, তাহলে ভারতের হয় ১৩%, পাকিস্তানের ৩২%, বাংলাদেশের ৮৪% বেশি। এবার পাকিস্তানকে ইন্ডিয়ার কাছাকাছি বলা যায় বলে মনে হয় না।

এইটা মজার মন্তব্য হইছে। ১৩% থেকে ৩২% অনেক দূরের; কিন্তু ৩২% থেকে ৮৪% অনেক কাছের! তাই ৮৪ ও ৩২ এক পাল্লায়, ১৩ অন্য পাল্লায়! এবং এটা অবশ্যই পরিসংখ্যানের টুইস্ট না। চোখ টিপি

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

কৌস্তুভ এর ছবি

সংখ্যার কেবল বিশেষ কিছু স্ট্যাট-সংক্রান্ত ইন্টারপ্রিটেশনই স্ট্যাটের স্কোপের মধ্যে। একটা উদাহরণ দিই। আমি আইকিউ নিয়ে বয়সের উপর রিগ্রেশন করলাম। রিগ্রেশন কোয়েফিশিয়েন্ট অর্থাৎ বিটা এল ১.৫। এইটা একটা সংখ্যা, যেটার ইন্টারপ্রিটেশন প্রয়োজন। কিন্তু ইন্টারপ্রিটেশন মানে স্ট্যাট-সংক্রান্ত ইন্টারপ্রিটেশন। সেটা সীমিত। সেটা এটুকুই, যে বয়স একঘর বাড়লে আইকিউ তার সাথে (বাকি ফ্যাক্টর স্থির থাকলে) ১.৫ ঘর বাড়ে বলে দেখা যাচ্ছে।

আর ইন্টারপ্রিটেশনের বাকি অংশ হিসাবে এটা জানা দরকার, এই বিটা'র মান সিগনিফিকেন্ট কিনা - টেস্ট করা হল, পি-ভ্যালু বেরোলো, ০.০০১, সেটা ইন্টারপ্রেট করা হল সিগনিফিকেন্ট হিসাবে, সেটা মূলের ইন্টারপ্রিটেশনে এটা যোগ করল, যে বয়স বাড়লে সত্যিই ডেটায় আইকিউ বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

স্ট্যাটের স্কোপের মধ্যে ইন্টারপ্রিটেশন এটুকুই। ফাঁকে জার্গন বেশি হয়ে গিয়ে থাকলে দুঃখিত। কোরিলেশন ডাজ নট ইম্পলাই কজেশন, অতএব বয়সের আর আইকিউয়ের মধ্যে কোনো কার্যকারণগত সম্পর্ক বা ব্যাখ্যা টানা আমাদের উচিত নয়। এমনও হতে পারত, যে আইকিউ বাড়লে বয়স বাড়ে। অথবা বয়স বাড়লে খুব দূরগত একটা সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে আইকিউ বাড়ে, সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। এইসব আলোচনা করবেন ফিজিওলজিস্ট না নিউরোলজিস্ট বা সোশাল সায়েন্টিস্ট এসবেরা। তাঁরা কোনো পাকাপোক্ত থিয়োরি দিলে তা অ্যানালিসিস করে আমরা দেখতে পারি, কিন্তু নিজে থেকে কোনো ওই ধরনের ইন্টারপ্রিটেশন দিয়ে এই সম্পর্ককে ব্যাখ্যা করা আমাদের এক্তিয়ারে নেই।

---------------

আর দয়া করে আমার মুখে কথা বসিয়ে দেবেন না। ৩২% থেকে ৮৪% অনেক কাছের, বা বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এই হিসাবে পরষ্পরের কাছাকাছি, এমন কিছুই আমি বলি নি, না পোস্টে না মন্তব্যে। ভারত ইত্যাদির (চীনা এবং অন্যান্য ব্যতীত) থেকে দুটোই যে বেশ খানিকটা বেশি, সেটাই শুধু বলেছি। তাও রেশিও মেপে মূল পোস্টে কথাটা বলা হয়নি, ডিফারেন্স মেপে হয়েছিল; সবুজ নয়, ধূসরের সাথে তুলনায়।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

বিভিন্ন গ্রাফের তথ্যের মধ্যে কো-রিলেশন বের করুন। সংখ্যায়ই করুন। যেমন, অল্পবয়সী ছেলেমেয়ে বেশি থাকার সাথে কাজে অনীহা সম্পর্ক কি, বের করুন। মাদ্রাসা আর স্কুলে পড়ার সাথে গ্রেডের কো-রিলেশন কি সেটাও বের করুন। তথ্যের ইন্টারপ্রেটেশন তথ্য দিয়েই করা যায়, সংখ্যা দিয়েই করা যায়। আপনি সংখ্যা দিয়েই করুন।

আর যেখানে আপনার লেখা থেকে লোকজন সিদ্ধান্তে আসছে, হীনমণ্যতায় ভুগছে, এথনিক রেসিজমের সৃষ্টি হচ্ছে, সেখানে আপনি 'লেখক', শুধু পরিসংখ্যানবিদ না।

তাও রেশিও মেপে মূল পোস্টে কথাটা বলা হয়নি, ডিফারেন্স মেপে হয়েছিল; সবুজ নয়, ধূসরের সাথে তুলনায়।

রেশিও মাপবেন না কেন? এক্ষেত্রে রেশিওটা কি অযৌক্তিক প্রভাবক? নাকি রেশিও মাপলে পূর্বসিদ্ধান্তের সাথে তথ্য মেলাতে সমস্যা?

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

নৈষাদ এর ছবি

খুবই ইন্টারেস্টিং লাগল। (অবশ্য কোন লিঙ্কে যাইনি)

১। প্রথমে মনে হয়েছিল ‘মহিলারা’ এই অনিচ্ছুকদের পাল্লা ভারী করছে (মহিলাদের ইচ্ছায় না, ঐ আরকি ‘বাইরে’ গিয়ে কাজ করবে!! বলে কী!!)। হিমুর মন্তব্যের জবাবে আপনি ব্যাপারটা ক্লিয়ার করেছেন যে এটাও বিবেচনায় নেয় হয়েছে। তারপরও মোটাদাগে ধর্মীয়/সামাজিক একটা ফ্যাক্টর থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে পুরুষ/মহিলা আলাদা করার একটা ব্যাপার থাকতে পারে।

২। মোটাদাগে/সরলীকৃতভাবে আমার ‘নিজস্ব ধারণার’ বিপরীতে চলে যাচ্ছে ব্যাপারটা। আমার ধারণা ছিল যারা দেশ থেকে প্রবাসী হয়েছেন, তারা দেশের লোকজন থেকে কাজ করতে বেশি ইচ্ছুক (কারণ প্রবাসী হওয়ার সময়তো ধরেই নিচ্ছে সেখানে গিয়ে প্রাথমিকভাবে কষ্ট করতে হবে।) অবশ্য এখানে দ্বিতীয়/তৃতীয় প্রজন্ম নিশ্চয়ই বিবেচনায় নেয়া হয়েছে, যাদের চিন্তাভাবনা অন্যরকম হবে হয়ত।

৩। তৃতীয় গ্রাফে চাইনিজদের ব্যাপারটা অপ্রত্যাশিত ছিল আমার কাছে।

৪। সবশেষ গ্রাফে মিক্সড এথনিসিটির পিরামিডের ব্যাপারটাও ইন্টারেস্টিং।

৫। ‘ভাইটালস্টেটিস্টিক্স’ – আমি ভাবতাম কথাটা শুধু একটা ক্ষেত্রেই ব্যবহার হয়। চোখ টিপি জানলাম এর ব্যবহার আরও বিস্তৃতি।

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ।

চাইনিজ এবং অন্যান্য এশিয়ানরা ভারতীয়দের এবং পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মাঝামাঝি। দ্বিতীয় তৃতীয় দুটো গ্রাফেই। কিন্তু তাদের বয়সের পিরামিড দারুণ পেটমোটা। এসবের ব্যাখ্যা কি, তা তো আমি কইতে পারি না, সে নিয়ে থিয়োরি দেওয়া আমার স্কোপের মধ্যে নেই...

দ্বিতীয়/তৃতীয় প্রজন্ম হয়ত এটার পেছনে একটা ফ্যাক্টর হতে পারে।

স্ট্যাটে 'ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিক্স' বলে জন্ম-মৃত্যুর হিসাব নেওয়াকে। ডেমোগ্রাফি-সম্পর্কিতই আরকি।

শাব্দিক এর ছবি

দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কিছু সংখ্যক বেকার আবশ্যক, চোখ টিপি ( এ তথ্যের সত্যতা প্রমান করতে বইলেন না আবার)
আর কাউকে না কাউকে তো জনসংখ্যা বাড়ানো দায়িত্ব নিতে হবে না হলে তো জনসংখ্যা নিম্নগামী হয়ে যাবে।

কৌস্তুভ এর ছবি

খাইছে

ভুলো মন এর ছবি

যে পরিসংখ্যানটি মূল লেখাতে দেওয়া হয়েছে সেটা যদি ১০০% সঠিকও হয়ে থাকে তবুও সেটাতে একটা শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। আমার পরিচিত এক দম্পতি দুজনেই কর্মরত। একজন ছোটখাট ব্যবসা করেন অন্যজন রেস্তোরাঁয় চাকরি। সম্প্রতি স্ত্রীটি চাকরি থেকে অবসর নিচ্ছেন আনএমপ্লয়মেন্ট ইন্সুরেন্স সুবিধা নেবেন বলে, কিন্তু তাই বলে তিনি বসে থাকবেন না, স্বামীর দোকানের পরিসর বাড়াতে এবং পরবর্তীতে বর্ধিত পরিসর সামলাতে কাজ করবেন। পরিসংখ্যানে তাকে বেকার এবং কাজ করতে অনিচ্ছুক তালিকাতেই দেখা যাবে, যেটা আদৌ সঠিক নয়।

প্রশ্ন হল, কাজটি অনৈতিক কিনা। উত্তর, অবশ্যই। কিন্তু বাংলাদেশিদের গড় বেতন হিসাব করলে দেখা যায়, তারা কাজের উপযুক্ত মুল্য প্রায় কখনই পান না, এদিকে তাদের খরচ শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কম নয় (বিনোদনমূলক ব্যয় বিবেচনা করা হয় নি, বিনোদনের সংজ্ঞা ব্যক্তিবিশেষে ভিন্ন)। চাকুরীদাতার বৈষম্যের শিকার যারা হয়েছেন তাদের কাছে নৈতিকতার গুরুত্ব কতখানি, তা বোঝা যায় সহজেই।

দক্ষতা বৃদ্ধি করে বা উচ্চতর শিক্ষা নিয়ে একজন চাকুরে তার বেতনের সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে পারেন, তবে আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি এই বিষয়ে বাংলাদেশিদের আগ্রহ নিতান্তই কম, খুব অল্প হাতেগোনা যে কয়েকজন অনার্স-মাস্টার্স-পিএইচডি রুটটা ফলো করছেন তারা ছাড়া।

উচ্চশিক্ষায় জাতিগত অনীহা থাকার ব্যাপারটি এই পরিসংখ্যানের সাথে প্রাসঙ্গিক, তাই এথনিসিটি নিয়ে লজ্জিত হওয়া যেতে পারে। আমি নিজে এই চার্টে পাকিস্তানের সাথে সর্বাধিক মিল থাকার কারণে অত্যন্ত মর্মাহত, কারণ ওরা শুধু আমাদের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করেছে তাই নয়, ব্যাপকমাত্রায় দুর্নীতিও শিখিয়ে দিয়ে গেছে। বিবেককে জাগিয়ে দেবার ক্ষমতা যাদের ছিল, তাঁরা যদি নির্বিচারে মারা না পড়তেন, এই জাতীয় চিত্র দেখতে হতো না বলেই আমার বিশ্বাস।

কৌস্তুভ এর ছবি

তিনি যদি স্বামীর দোকানের জন্য কাজ করে থাকেন, তবে সে কথা সার্ভেতে জানালে তাঁকে কর্মরত হিসাবেই ধরা হবে। আর বেকারভাতা অফিসে যা বলে তিনি ভাতা নিচ্ছেন, যাই যদি বলেন, তবে তাঁকে কর্মহীন কিন্তু ইচ্ছুক হিসাবে ধরা হবে।

দুটোর কোনো ক্ষেত্রেই কিন্তু তিনি প্লটের কমলা, কর্মবিমুখ অঞ্চলে পড়বেন না। আর সেটাই ওই গ্রাফের মুল বক্তব্য ছিল।

আর হ্যাঁ, কাজটা অন্যায়, যদিও তাতে আমার আপত্তিটা মূলত পরিসংখ্যানগত - তিনি একটা গ্রুপের সদস্যা হয়ে অন্য গ্রুপে নাম দিচ্ছেন, ফলে সংখ্যা একটু এদিক-ওদিক হবে।

বলাইদার মন্তব্যের উত্তরে যেটা বলেছি, যে বাংলাদেশি বা পাকিস্তানিদের বিশেষ করে কোনো বৈষম্যের মুখে পড়তে হয় যা বাকি মাইনরিটিদের হয় না, এমন কোনো ইঙ্গিত পাইনি, আপনি পেলে বলতে পারেন। বরং সরকারের তথ্য বলছে, মাইনরিটির মধ্যে যাঁরা কর্মরত তাঁদের গড় বেতনে খুব বেশি ফারাক নেই।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

স্ট্যাট দেখে খুব একটা অবাক হইনি। তবে বয়সভিত্তিক হিসাবটা থাকলে বুঝতে সুবিধা হতো। এসব ক্ষেত্রে বয়স একটা ফ্যাক্টর হতে পাের।

(লেখা চোখ বুলালাম শুধু)।

কৌস্তুভ এর ছবি

বয়স তো ফ্যাক্টর হতে পারে বটেই, বয়সের ডিস্ট্রিবিউশনে যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে তা তো দেখলামই। কোনো এজ গ্রুপে বিশেষ তারতম্য হচ্ছে কিনা সেটা দেখার চেষ্টা করব।

আপডেটঃ আপনার কথামত উদাহরণ হিসাবে বাংলাদেশী আর চীনাদের (প্রত্যেকটা গোষ্ঠীকে দেখানো অনেক খাটনি পড়ত) ওই তিনটে গ্রুপকে বয়সের অনুপাতে ভেঙ্গে দিলাম।

পাঠকদের জন্য ক্যাভিয়াট, সংখ্যাগুলো গ্রুপের মধ্যে অনুপাত মাত্র। যেমন, নিচের ছবিটা বলে, চীনাদের মধ্যে কর্মবিমুখ-অনিচ্ছুক দলের বড় অংশ ২৫-২৯ এজগ্রুপের, যেখানে বাংলাদেশীদের মধ্যে অত পীক কোনো একটা এজগ্রুপে নেই। এটার মানে এই নয়, যে ২৫-২৯ এজগ্রুপে বাংলাদেশীদের তুলনায় বেশী সংখ্যক চীনারা কর্মবিমুখ-অনিচ্ছুক।

এর থেকে আপনি কিছু অতিরিক্ত ইন্টারপ্রেট করতে পারলে বলুন।

আর দ্বিতীয় প্লটে কিছু সামান্য বদল করলাম এই ফাঁকে, যেমন ক্যাটেগোরির নামগুলো সার্ভের ভাষায় ছিল, ওই ভদ্রলোকের ভাষায় করে দিলাম, নীল অংশটা তাই একটু আপডেট করলাম।

স্পর্শ এর ছবি

অসাধারণ!!
আপনি মিয়া আমার দেখা অন্যতম স্মার্ট পোলা। ইন ফ্যাক্ট, পরিচিত মহলে আমরা এখন আপনার নামে এক রকম 'ফ্রেজ'ই চালু করেছি। ধরেন সহজ কিছু কেউ বুঝছে না, তখন বলি- "ওরে এই জিনিস বুঝতে কি আর কৌস্তুভ হওয়া লাগে!" দেঁতো হাসি

লেখা দারুণ লেগেছে। এই বিচারের সাক্ষী 'ভাইটালস্টাটিস্টিক্স' লোকটা আপনি চোখ টিপি

কর্মবিমুখতার সামাজিক কারণের পিছনে ধর্মের কোনো ঐতিহাসিক ভূমিকা থাকতে পারে। নাইলে ভারতের সাথে পাকিস্থান বা বাংলাদেশের পরিবেশ তো খুব একটা আলাদা না। আর কমন ফ্যাক্টর তো এই ধর্মই। কারণ বিদেশে যাওয়ার পরে দেশের আর সব সমস্যা (সুযোগহীনতা, করাপশন) তো দেশেই ছেড়ে যায়। সঙ্গে নিয়ে যায় কিছু 'সংস্কৃতি'।

এই দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির হার থেকেও ব্যাপারটা অনুমেয়।

আর দেখা যাচ্ছে। শুধু রাজনৈতিক নেতা না, জনগনের মানসিকতাও এই পিছিয়ে পড়ার জন্য দায়ী। নইলে ভারতের নেতারা তো আর কম করাপ্ট না। ... চিন্তিত
এ ধরনের লেখা বানাইতে কতটা সময় লাগে ভাবতেসি। আপনার ঘরে বান্ধবী-গার্লফ্রেন্ড নাই?


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

কৌস্তুভ এর ছবি

প্রশংসাধিক্যে সংকুচিত হয়ে পড়লাম।

সংস্কৃতি আর ধর্ম রিলেটেড হলেও একেবারে এক জিনিস তো না। তবে ধর্ম একটা ফ্যাক্টর হলেও হতে পারে। বলাইদার প্রতিমন্তব্যে যেমন বলেছি, অনেকেই যাঁরা সন্তানদের প্রথাগত স্কুলে না পাঠিয়ে মাদ্রাসায় পাঠাচ্ছেন, তাঁদের সন্তানরা শিক্ষাগত দিক থেকে পিছিয়ে পড়বে, এমন হওয়াটা অসম্ভব নয়।

ভারতীয় লোকেরাও কম কোরাপ্ট না। আমার আগের কোনো লেখায় বা মন্তব্যে বলেছিলাম, বাসের সামনে দিয়ে উঠলে ভাড়ার কার্ড ট্যাপ করতে হয় বলে একদল ভারতীয় ছাত্র কেবল পেছন দিয়ে ওঠে।

লেখাটায় বেশি সময় লাগে নি, তথ্য ঘাঁটায় বেশি সময় লেগেছে। প্রফেসরের কাজের চাপের ফাঁকে ফাঁকে এইটাই বিনোদন ছিল আরকি।

নাহ, নাই, সেকথা সচলে কারো অজানা আছে নাকি? কিছু ব্যবস্থা করে দেবেন? খাইছে

পুতুল এর ছবি

অভিবাসীদের নিয়ে জার্মানে তুমুল বিতর্ক হয়েছে, হচ্ছে। গত বছরে পরিসংখ্যান দফতরের এক হোতার পরিসংখ্যান নিয়ে। বইটা এখনো জার্মানে বেষ্ট সেলার তালিকায় আছে।

পরিসংখ্যান দিয়ে প্রায় কাছাকাছি একটা বাস্তব চিত্র বের করা সম্ভব। সরকার বাহাদুররা কিন্তু এই পরিসংখান গুলো জানেন। জার্মান ভদ্রলোক পরিসংখ্যান বিভাগের একজন বড়কর্তা। তিনি দেখিয়েছেন এখানে তুর্কী এবং মুসলামরা আণ্ডা-বাচ্চা দিয়ে আগামী ৫০ বছরে জনসংখ্যায় জার্মানদের ছাড়িয়ে যাবে। সেখানে এটাও বলা হয়েছে যে, অভিবাসী ছেলেমেয়েরা শিক্ষায় জার্মানদের তুলনায় অনেক পেছনে। ভাল বেতনের কাজতো পরের কথা অভিবাসী ছেলেমেয়ারা কাজই পাচ্ছেনা। ফলে ভালবেতনে কাজকরা জার্মানরা তাদের টেক্স থেকে বেকার অভিবাসীদের বসিয়ে বসিয়ে খাওচ্ছে। অভিবাসীদের পক্ষে কথাবলার মত মানুষ জার্মানে নেই বললেই চলে। তার ভেতরে আবার এমন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে কথা বললে তো সাধারণ জার্মানরা অভিবাসীদের বিরোদ্ধে ক্ষেপবেই।

আপাত দৃষ্টিতে ধানবানতে শীবের গীত মনে হলেও এ ধরণের পরিসংখ্যান থেকে সিদ্ধানে উপনীত হওয়ার আগে অভিবাসীদের দিকটা বিবেচনায় রাখা ভাল ফেয়ারনেসের খাতিরে। এখানে একটা কথা মাথায় রাখা জরুরী‍‌-
সচলায়তনের প্রবাসী সচল-হাচল-পাঠক যারা এই আলোচনা কর‌ছেন বা পড়ছেন অভিবাসী হিসাবে আপনারা এখেনে আলোচ্য নন। যে, যে দেশেই থাকুন সে সব দেশের জন্য আপনার রত্ন বিশেষ।

ভাগ্যের পরিবর্তন করতে আমার মতো মূর্খরা চুরি-চামারি করে আইনের ফাক-ফোকর দিয়ে এসব দেশে স্থায়ী অকর্মার ঢেকীরাই এসব উন্নত দেশের মাথাব্যাথার কারণ।

তাদের এই সমাজে ইন্টিগ্রিটার দু'একটা নমুনা দেই আগে-
ঘটনা ইংল্যণ্ডের
লণ্ডনের রাস্তায় হাটতে হাটতে এক বাংলাদেশী আমাকে দেখে স্বগোত্রীয় অনুমান করে এগিয়ে এলেন, তার দোভাষী হওয়ার জন্য। ভদ্রলোক বাবার সাথে লণ্ডন এসেছেন ৩০ বছর আগে। জব সেন্টারে কথা বলতে তার এখনো দোভাষী লাগে!

এক ট্রাভেল এজেন্টে কাজ করে আমার বন্ধু। সেখানে তাদের এক সিলেটী বৃটিশ কলিগ। একদম সাদা ইংরেজদের মতো ইংরেজী বলে। অফিসের বাকী সব কর্মচারী প্রপ্তবয়স্ক হয়ে লণ্ডনে এসেছেন। যুবতী কলগটি গর্বিত বৃটিশ, বাংলাদেশকে তুলোধূনা করছেন। অনেক তর্কের মধ্যে শিক্ষা ব্যাবস্থা ছিল। কী করে সাইকোলজি শব্দটা আলোচনায় এলো ঠিক মনে নেই। বাংলাদেশী বন্ধুটি ঠোটকাটা স্বভাবের। এখানে জন্ম নেয়া ঐ দ্বিতীয় জেনারেশনের মেয়েটিকে মুখফুটে জিজ্ঞেসই করেফেলল, সাইকোলজি শব্দটা এখানে লিখে দিন। আরেক ভদ্রলোক পাশ থেকে বললেন আপনি নির্ভূল ভাবে শব্দটা লিখতে পারলে ৫০ পাউণ্ড দেব।

মেয়েটার জন্য করুনাই হচ্ছিল। আমাকে অবাক করে দিয়ে মেয়েটা সি দিয়ে শব্দটা লেখা শুরু করেছে!

উদারণ দেখে বোঝাই যাচ্ছে এদের পড়ালেখার দৌড়। আমি মাঝে মাঝে অবাক হই সুস্থ মানষিকতার একটা মানুষ এমন একটা দেশে মূর্খ থাকে কী করে!

এদের পড়ালেখায় এতো পিছিয়ে থাকার দায় কী এদেরই! এই এতটুকু বিদ্যা নিয়ে এরা কাজ পাবে কোথায়!
সপ্তাহে দেড়শ পাউণ্ড বেতন নিয়ে মেয়েটা ঐ অফিসের সেক্রেটারী নামের একটা সোপিস।
বেকার ভাতা না নিয়ে কাজ করলে ঐ লোকটা পাবে ঘন্টায় ২ পাউণ্ড। দেশী ভাইয়ের রেস্তোরায় থালা-বাসন মেজে। তো এই কাজটা কে করবে!
অথচ পরিসংখ্যানে আমরা দেখব লোকটা অলস, কাজের প্রতি তার কোন আগ্রহ নাই।

থাকতে দিলে, খাইতে এবং শুইতেও দিতে হয়। সেটা কী আদোও করছে ধনী দেশগুলো!

দ্বিতীয় জেনারেশন‌-
একটা বাচ্চাকে এক বছর বয়স থেকে শিশুগ্রুপে দিতে মায়ের র্স্বাবক্ষণিক কাজের চুক্তিপত্র দেখাতে হয়। বাচ্চাটা কোথাও রাখার ব্যবস্থা না থাকলে মা কাজ কখন থেকে কখন পর্যন্ত করতে পারবে সেটা না জেনে কাজটা খুজবে কী করে! ছোট বাচ্চা থাকলে বাচ্চার বাপই কাজ পায় না। কারণ ছোট বাচ্চার অসুখ-বিসুখ বেশী হয়। বাচ্চা নিয়ে দৌড়া-দৌড়ী করতে হয় ডাক্তারের কাছে। শ্রমিক আইন অনুযায়ী বাচ্চার অসুখ থাকলো বাবা বা মাকে ছুটি দিতে বাধ্য মালিক। এত ঝামেলায় কে যায়!

কাজেই বাচ্চাটা শিশুগ্রুপে যেতে পারছেনা এদেশী ভাষাটা মাতৃ ভাষার মতো করে শেখা হচ্ছেনা। ভাষা ভাল করে না জানলে বাধ্যতামূলক স্কুলে ভাল ফলাফল আকাশ থেকে আসবে! কাজেই দ্বিতীয় জেনারেশনেও মূর্খ হচ্ছে অবধারিত ভাবে। এখানে দেখেন অভিবাসীরা পিছায়েই আছে।

সরকারী শিশুগ্রুপে পাত্তা না পেয়ে আমাদের কন্যাধনকে দিতে চেয়েছিলাম প্রাইভেট বেবী কেয়ারে। সেখানে দিতে গেলে আমারা দু'জনের ফুলটাইম কাজ করেও কালানো মুস্কিল হতো। সরকার কিন্তু ব্যবস্থা করেই রেখেছে। সরকারেরটায় জায়গা না হলে আছে বেসরকারী। অথচ সরকার বাহাদুর ভাল করেই জানেন অভিবাসীরা স্বল্প শিক্ষিত এবং সংগত কারণে স্বল্প আয়ের মানুষ।

এই সব বিমাতা সুলভ আচরণের আরো অনেক ভাল উদারণ আছে। কিন্তু দিয়ে লাভ কী! কী ভাবে অভিবাসীদের আরো সুযোগ-সুবিধা কমানো যায় এইটা যখন বড় দলগুলোর রাজনৈতিক প্রপাগাণ্ডা, সেখানে কী ভাবে তাদের অন্তত দ্বিতীয় জেনারেশনকে এদেশের মেইনস্ট্রিমদের সাথে মেলানো যায় সে উপায় নিয়ে আলোচনার জায়গা কোথায়!

বিশেষ বিশেষ উপলক্ষে এই সব সমিক্ষা বের হবে, যা দেখে আমরা লজ্জা পাব।

একটু অপ্রাসংগিক হয়ে গেল, কিন্তু এই সব শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে, তাই একধরণের ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়াই বলতে পারেন। বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

হাসিব এর ছবি

- ঐ লোক তো মনে হয় বুনডেসবাঙ্কে কাজ করতো। নিশ্চিত না, আমারও ভুল হতে পারে।
- ঐ লোকের ও অন্যান্য আরো অনেকের জার্মান ইমিগ্র্যান্টদের সাথে জার্মানদের তুলনা অন্যায্য বাটখারা দিয়ে মাপতে দেখি। আমরা বিজনেসে এইটারে বলি পিয়ার গ্রুপ কম্পারিজন। জার্মান ইমিগ্র্যান্ট (বিশেষত গেস্ট ওয়ার্কার জনগোষ্ঠির তুলনা হতে সেই জার্মানদের সাথে যারা ঐ একই সময়ে জার্মানিতে গেস্ট ওয়ার্কাররা যে কাজ করতো সেই একই কাজ করতো। সেকেন্ড/থার্ড জেনারেশন তুর্কিরা অনেক এগিয়েছে। সেই তুলনায় গেস্ট ওয়ার্কারদের জার্মান কলিদদের বংশধরেরা কতদুর এগিয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তরে হের সারাতসিন কী বলেন?

পুতুল এর ছবি

সেরাৎসিন অনেক জায়গায় ছিলেন। ডয়েচে বাহন, বার্লিনের ফাইন্ন্স সিনেটর, বুণ্ডাস ব্যংক সহ।

জার্মান ইমিগ্র্যান্ট (বিশেষত গেস্ট ওয়ার্কার জনগোষ্ঠির তুলনা হতে সেই জার্মানদের সাথে যারা ঐ একই সময়ে জার্মানিতে গেস্ট ওয়ার্কাররা যে কাজ করতো সেই একই কাজ করতো।

না এমন কোন তুলনা ভুলেও কোন জার্মান করবে না। এতে হীতে বিপরীত হওয়ার সম্ভবনা বেশী। কারণ শিক্ষা ব্যাস্থায় এত নীচে থেকে বৈষম্য শুরু হয় যে বিশ্লেষণ করে সেটা ধরিয়ে দিলে খুব স্বল্প শিক্ষিত জার্মান শ্রমিকরা মধ্যবিত্তের প্রতিনিধি সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর উপড় ক্ষেপে যাবে।
একই শিক্ষা এবং আয়ের প্রায় সব শ্রমিক এক ধরনের সমাজ এবং পরিবেশের প্রতিনিধি। কাজেই গেষ্ট ওয়ার্কারদের মতো একই মানের কাজের জার্মান শ্রমিকদের দ্বিতীয় জেনারেশনও গেষ্ট ওয়র্কাদের দ্বিতীয় জেনারেশনের কাছাকাছি। অনেক ক্ষেত্রে জার্মানরা বরং পিছিয়ে।

এই পিছিয়ে থাকার কারণ হল ইমিগ্রেন্টরা বাচ্চার জন্য যে পরিমান ত্যাগ স্বীকার করে জার্মানরা তা করে না।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

স্পর্শ এর ছবি

ইউরোপে শুনেছিলাম শিক্ষা ফ্রী! আপনার মন্তব্য থেকে বাস্তব চিত্রটা পেলাম।

ভারতীয় বা চৈনিকদের শিক্ষাক্ষেত্রে, কর্মক্ষেত্রে বা কর্মেরইচ্ছার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকার ব্যাখ্যাটা কী? ওদের অভিবাসীরাওতো ভাষার সমস্যায় (বিশেষকরে চায়নিজ শিক্ষিত ছেলেমেয়েরাও অনেক স্ট্রাগল করে দেখেছি) পড়ার কথা। সেকেন্ড জেনারেশনের শিক্ষার ব্যাপারটা তারা কীভাবে নিশ্চিত করছে?


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

চায়নিজ বা ভারতীয় কমিউনিটি অনেক স্ট্রং আমাদের তুলনায়। যেমন, জার্মানিতে অড জবের ক্ষেত্রে 'জানাশোনা' থাকলে জব পাওয়া অনেক সহজ। অর্থনীতিই আসলে সবকিছু কন্ট্রোল করে। টাকার টানাটানি থাকলে শিক্ষা জিনিসটা কঠিন হয়ে যায়। ইংল্যান্ডের জন্য কাজটা আরো কঠিন। ইংল্যান্ডে টিউশন ফি আছে। ওটা আয় করতেই পড়ার সময় শেষ। বাংলাদেশ সরকার বাইরে পড়ার জন্য স্কলারশীপ দেয় না (বা দেয় না বললেই চলে)। অনেক চায়নীজ নিজ দেশের স্কলারশীপেই ইউরোপে পড়ে। বাড়তি ইনকাম ফাও। এখানে এথনিসিটিবেইজড মগজের পার্থক্য নাই। আমার প্রোগ্রামে শুরুর সেমিস্টারে আমার এক ফ্রেন্ড (বাংলাদেশী) ফার্স্ট হয়েছিলো। আমিও অনেকগুলো লাইফ হেল করা ঝামেলা ফেস করার পরেও প্রথম ৫ জনে ছিলাম, যেখানে অর্ধেকের বেশি পোলাপান সব সাবজেক্টে পাসই করতে পারে নাই।

এছাড়াও আরেকটা বিষয় আছে, তাহলো অভিবাসী টার্গেট গ্রুপ। বাপ-মায়ের অ্যাকাডেমিক এবং ফিনান্সিয়াল ব্যাকগ্রাউন্ডও ছেলেমেয়ের ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব রাখে। যেমন, জার্মানিতে বিপুল সংখ্যক তার্কিশকে আনা হয়েছে মূলত তথাকথিত'ছোটো' কাজগুলো করার জন্য। এই 'ছোট' কাজ করা বাবামায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা আমার মতো সোনার চামচ মুখে দিয়ে জার্মানিতে ইন করাদের চাইতে কম, এদের সন্তানদের জন্যও আমার সন্তানের মতো অ্যাকাডেমিক ব্যাকআপ পাওয়া কঠিন।

জবের ক্ষেত্রে লিখিত ডিসক্রিমিনেশনই বহাল, অলিখিত দূরে থাক। কোনো জবে জার্মান পেলে অন্য কাউকে নিবে না, এরপরে ইইউ, তারপরেও যদি যোগ্য লোক না পাওয়া যায়, তাইলে আউসল্যান্ডার (বিদেশি)।

এখন এসব কনটেক্সট বিবেচনা না করে আমি হুদা কিছু সংখ্যা আমার ইচ্ছেমতো চয়ন করে বসায় দিলাম, যাতে লোকজন বুঝে 'মুসলমান' মানেই মাথা খাটো, তাইলে সমস্যা। এই পোস্টের সমস্যাও এটা।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

স্পর্শ এর ছবি

হুমম, কারণ হিসাবে দেখা যাচ্ছে। চায়নিজ ও ভারতীয় কমিউনিটি বেশ স্ট্রং। এই স্ট্রেন্থ টা কি তাদের সংখ্যা বেশি হবার কারণে? নাকি তারা 'নিজদের লোক' কে বেশি কেয়ার করে, বাংলাদেশ এর তুলনায়? সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশীরা নিজেদের লোককে অতটা টানছে না বলতে হবে।

আবার চায়নিজ গভর্মেন্ট তাদের ছাত্রদের স্কলারশিপ দিচ্ছে ইউরোপে লেখাপড়ার জন্য। বাংলাদেশ গভর্ণমেন্ট দিচ্ছে না। পাকিস্থানও দিচ্ছে না বলেই মনে হয়। তো চায়না-ভারতের সাথে বাংলাদেশ-পাকিস্থান এসব দেশের সরকারের মনোভাবের এই পার্থক্য কি কোনো ধরনের 'কালচারাল' পার্থক্য থেকে উৎসরিত? সেক্ষেত্রে এসব সেই ঔপনিবেশিক আমল থেকেই মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষায় অনিহা এটা কি 'কালচারাল' পার্থক্যটার একটা শুরুর দিককার কারণ হতে পারে না?

আর জার্মানরা বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। 'নিজেদের দেশের' লোককে বেশি সুযোগ দিচ্ছে। এই ব্যাপারটা আমাদের কাছে খারাপ লাগলেও, নিজেকে একজন জার্মান হিসাবে কল্পনা করে দেখুন। আমি কিন্তু আমার সরকারের কাছে এ ধরনের 'জব-প্রোটেকশন'ই চাইবো। আমার সরকার কিন্তু সেগুলো দিচ্ছে না, বা দেবার সক্রিয় ইচ্ছাই পোষণ করে না। আমাকে তাই জার্মানিতে দৌড়াতে হচ্ছে। এবং সেখানকার সরকারের এ সব কারবারে সাফার করছি।

প্রতিবার দেশ ছাড়ার সময় 'ওয়ার্কার' দেরকে যেভাবে হয়রানি করতে দেখি!! আমি বুঝি না। এই বেকার ও স্বল্প স্কিলের মানুষগুলো বিদেশে গিয়ে কাজ কর্ম করে টাকা পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকাটা অনেকখানি ঘোরাচ্ছে। কিন্তু সরকার তাদের বিদেশ পাঠানোর ব্যাপারটাকেই কী ভয়ানক হ্যাজার্ডাস করে রেখেছে!


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আমি ইমিগ্রান্টদের ইতিহাস তেমন একটা জানি না। পুতুল ভাইয়ের নিচের মন্তব্যে কিছুটা পাবেন। বাংলাদেশীরা আসলে টানার মতো অবস্থায় খুব একটা নাই। ভারতের সরকারের সাথে বাংলাদেশ সরকারের পার্থক্য, আমার ধারণামতে, করাপশনের লেভেলে। আমাদের রাজনীতিবিদেরা নিজেরা ২ টাকা ইনকামের জন্য বাংলাদেশকে ২ লাখ টাকার বাড়ি দিতে কার্পণ্য করে না। ইন্ডিয়ান পলিটিশিয়ানরা নিজেদের মধ্যে করাপ্টেড হলেও দেশের স্বার্থ দেখে। স্কলারশীপের ক্ষেত্রে পাকিস্তান সরকার আমাদের থেকে সম্ভবত ভালো। নরওয়েতে বেশকিছু পিএইচডি স্টুডেন্ট দেখেছি যাদের ফান্ডিং তাদের সরকার থেকে হয়।

নিজেদের দেশের লোককে বেশি সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে আপনি যেটা বললেন, আমারও আপত্তি নেই। কিন্তু এরকম পরিসংখ্যানে সেই সত্যটা আনতে হবে, নাহলে চিত্রটা মিসলিডিং হবে।

ভারতের সাথে আমাদের পার্থক্যের কারণ শুধু কালচারাল বা ধর্মীয় না। পাকিস্তানের সাথে আমাদের ধর্মে মিল থাকলেও কালচারে মিল ভারতীয়দের সাথে বেশি। অর্থাৎ 'ধর্মীয় কালচার' এর প্রভাব আমাদের ওপর অনেক কম। স্বাধীনতার প্রশ্নে অবস্থানের বাইরেও পাকিদের চেয়ে ভারতীয়দেরকে আমার অনেক বেশি সমমনা মনে হয়েছে। কালচারের দিক দিয়ে আমাদের অতিরিক্ত অতিথিপরায়ণতা মনে হয় একটা দুর্বল দিক। অর্থনীতি আর সম্পদের তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত লোকসংখ্যা আমাদেরকে শুরুতেই পঙ্গু করে দিয়েছে। সে সমস্যা থেকে না বেরিয়ে আমরা বরং তার এফেক্টে আরো সমস্যায় জড়িয়ে গেছি। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটা দেশের ফাইটব্যাক করার মতো অবস্থা আমাদের মধ্যে কখনো সৃষ্টি হয় নাই। পাকিস্তান বাঁশ খাচ্ছে তার সামরিক শাসনের কারণে। পাঁচওয়াক্ত নামাজ পড়ার কারণে না।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

স্পর্শ এর ছবি

পাকিস্তান বাঁশ খাচ্ছে তার সামরিক শাসনের কারণে। পাঁচওয়াক্ত নামাজ পড়ার কারণে না।

পাঁচওয়াক্ত নামাজ নিয়ে কিন্তু কিছু বলিনি। বলেছি মুসলিমদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষায় অনিহা ছিলো এবং আছে। এটা কিন্তু একটা ফ্যাক্ট। পাকিস্থানের জনগন তাদের সামরিক সরকারকে ঘাড় ধরে নামাতে পারছে না। এই শিক্ষার অভাবের কারণেই। ম্যাস পিপল কিছুটা শিক্ষিত না হলে তাদের কোনো কিছুতেই দলবদ্ধ করা যায় না। একাত্তরে আমরা পেরেছি কারণ আমাদের জনগণ তখন 'অ্যাকাডেমিক্যালি' শিক্ষিত না হলেও। ধর্মীয় কুশিক্ষায় কুশিক্ষিত ছিলো না। দেশীয় সংস্কৃতির বিচারে অনেকখানি এগিয়ে ছিলাম আমরা। পাকিস্থানে যেটা নাই। আর বর্তমান ট্রেন্ডটা খেয়াল করুন ধর্মীয় কুশিক্ষার দিক দিয়ে আমরা কিন্তু পাকিস্থানের দিকে এগিয়ে চলেছি।

আবার দেখুন। আমাদের পলিটিশিয়ানদের দেশের প্রতি দরদ কম (নেই বললেই চলে)। এ ধরনের মূল্যবোধ কিন্তু অনেকখানিই শিক্ষানির্ভর। এখানে আবারও আসে সেই 'অনীহাতত্ত্ব'...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

মুসলিমদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষায় অনিহা ছিলো এবং আছে। এটা কিন্তু একটা ফ্যাক্ট।

ধরেন হঠাৎ করে একদিন সব মুসলমান নাস্তিক বা হিন্দু হয়ে গেলো। তাইলে কি তারা ধুম করে চীন বা ইন্ডিয়ার মতো আধুনিক শিক্ষায় আগ্রহী হয়ে উঠবে?

এই পোস্টের ট্যাগিং আর ধর্মের নামে কুশিক্ষা দুইটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা ও সম্পদের দিকে চোখ দিলেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হওয়ার কথা।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

স্পর্শ এর ছবি

হতে পারে কিন্তু!

'অনীহার কারণ' কিন্তু এই না যে সব মুসলিম হঠাৎ করে কোনো ঐশী হুকুম পায় পড়াশুনা না করার ব্যাপারে। বরং নিয়ম করে প্রতি জুম্মাবারে কিছু অর্ধ(কখনো অ)শিক্ষিত হুজুরদের(আধুনিক শিক্ষায়) নানান কথা বার্তায় বিভ্রান্ত হয়। (আমার এলাকায় ইউসুফ জুলেখার গল্প পাঁচবার শুনেছি) এমন কি অনেক সময় তারা নানান টিপস/ফতোয়াও চেয়ে নেয় তাদের থেকে।

বুয়েটে আমারই এক ফ্রেন্ড ছিলো যারা, দুই বোন ডাক্তার, ভাই ইঞ্জিনিয়ার কিন্তু সবচেয়ে ছোটো ছেলেকে দিয়েছে কাওমী মাদ্রাছায়। সেই পিচ্চি ছেলে মাঝে মধ্যে আমার রুমে আসতো। আর আগ্রহ নিয়ে বিভিন্ন বই নেড়েছেড়ে দেখতো। কম্পিউটারে গেম খেলত। আবার পরে ফিরে যেতে হতো সেই টর্চার সেন্টারে।

এরকম এক সন্তানকে মাদ্রাসায় পাঠানোর আরেকটা কেইস দেখেছি বাসার পাশেই। ভাই রা সব পিজির ডাক্তার। ছেলেটা এখন কোনো রকমে একটা ফার্মেসি চালায়।(ভাইদের বদৌলতে)

আর আমি নিজে অনেক হুজুরকে 'বিজ্ঞান' শিক্ষার ব্যাপারে কুৎসা রটাতে দেখেছি। ইংরেজী শিক্ষার ব্যাপারেও। এই হুজুরদের অ্যাধ্যাতিক নেতা হিসাবে কিন্তু মেনে চলেছে মুসলিমরা। অতীতেও, এখনও।

একটু চিন্তা করলেই বোঝা সম্ভব কেন মুসলিমরা পিছিয়ে পড়ছে। নাজাম-কালাম-জিকির-আজকর-যাকাত-রোজা এসবের কারণে না। কিন্তু অনেকাংশে ধর্মীয় কারণেই।

আর

জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা ও সম্পদের দিকে চোখ দিলেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হওয়ার কথা।

জামাত ইসলামের মতো ধূর্ত শিয়ালের সাফল্য দিয়ে মুসলিমদের সামগ্রিক ব্যর্থতা ঢাকতে চাইলে তো হবে না।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

জামাত ইসলামের মতো ধূর্ত শিয়ালের সাফল্য দিয়ে মুসলিমদের সামগ্রিক ব্যর্থতা ঢাকতে চাইলে তো হবে না।

ঠিক। একইভাবে কওমী মাদ্রাসার ছাত্রদের অবস্থা দিয়ে অর্থনৈতিক ব্যর্থতার দোষ ইসলামের ঘাড়ে চাপানি যায় না।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

স্পর্শ এর ছবি

প্রতি ঈদের জামাতে গ্রামে গিয়ে দেখি, হুজুররা কীভাবে বিজ্ঞানকে 'শয়তানের' ব্যাপার স্যাপার বলে প্রচার করছে। ইংরেজী শিখলে কীভাবে বেল্লেলাপনা করে বেড়াবে... এইসব। এই ধর্মপ্রাণ গ্রামবাসীরা কিন্তু জামাতি না। অনেক সময় সেইসব হুজুররাও জামাতি না। স্রেফ তারা যেইটা বিশ্বাস করে সেটাই আধ্যাতিক নেতা হিসাবে অনুসারীদের কাছে প্রচার করে।

গ্রামে আমার নিজের ফুপাই, তার ছেলেকে আলিয়া মাদ্রাসায় পড়তে দিলো। কিছুই করতে পারলাম না চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া।

আর উপমহাদেশের মুসলিমরা 'জ্ঞান বিজ্ঞানে' যে পিছিয়ে আছে সেইটা তো স্বীকার করেন নাকি? আর এই রিজিয়নে এত জাতিগোষ্ঠি থাকতে কোথাকার পাকিস্তান আর বাংলাদেশের মুসলিমরা ক্যান পিছিয়ে পড়লো তাইলে? সারা দুনিয়াতেই বা কেন মুসলিমরা পিছিয়ে? আধুনিক শিক্ষায় তাদের (হয়তো তাদের হুজুরদের কল্যানেই) অনীহা আছে। এই ব্যাপারটা আপনাকে কোনো ভাবেই বোঝানো যাবে না।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আপনার এই বক্তব্যের বিপরীতে 'ইসলাম ও বিজ্ঞান' বাদীরা ইবনে সিনাসহ আরো অনেকের রেফারেন্স দিয়ে বলবে মুসলমানরাই আসলে জ্ঞান-বিজ্ঞানের মা-বাপ। হাসি

দুইটাই ভুল বক্তব্য।

মাছির ডানার উপকারীতা আর গোমূত্রের সর্বরোগসংহারিত্বের মধ্যে বেসিক পার্থক্য নাই।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

স্পর্শ এর ছবি

আচ্ছা তর্কের খাতিরে পিছনের কারণ নাহয় পরে আলোচনা করি।

মুসলমানরা পিছিয়ে আছে, কি না?

নাকি আপনি পিছিয়ে পড়ার ব্যাপারটা স্বীকারই করেন না? ( হয়তো আপনি ভাবেন, এরা ইহকালে পিছিয়ে পড়লেও পরকালে যোজন যোজন দূরে এগিয়ে আছে?) সেক্ষেত্রে আমার কিছু বলার নাই।

আমার এখানে তামিলরা, রাস্তা ঝাড়ও দিচ্ছে, আবার ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে ব্রিলিয়ান্ট গণিতবিদ হিসাবেও চাকরি করছে। বসে নেই কেউ।

যাই হোক, ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। আর কেউ এ বিষয়ে যখন কথা বলছে না। তখন আমি অফ যাচ্ছি। আমার বলার যা যা ছিলো বলা হয়ে গেছে। এর পর আর কিছু বললে সেগুলো 'মাছির ডানায় ভর করে গো-মূত্রে ভেসে যাবে'।

আর পার্টিং রিমার্ক হিসাবে বলি, কৌস্তুভ কোনো ধরনের 'জাত্যাভিমান' থেকে এই পোস্ট লিখেছে মনে হয়নি। অভিজ্ঞ বা অন্যকোনো তথ্য যাদের কাছে আছে তাদের মত ভিন্ন হতে পারে।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

মুসলমান মানেই মুসলমান হওয়ার কারণে পিছিয়ে পড়া - এই অনুমিতি ঠিক কিনা, আগে যাচাই করেন, আমার স্বীকার-অস্বীকারে কিছু যায় আসে না।

আপনার এই অনুমিতির কারণেই আমার বক্তব্য আপনার সীমায় ঢুকছে না। আমিও টায়ার্ড।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

স্পর্শ এর ছবি

মুসলমান মানেই মুসলমান হওয়ার কারণে পিছিয়ে পড়া

এ ধরনের কোনো অনুমিতি দাড়া করাইনি। আপনি তেমন বুঝলে আমার বোঝানোর ব্যর্থতা।
মুসলমানরা সামগ্রিক ভাবে পিছিয়ে পড়েছে(এটা ফ্যাক্ট)। এবং এই গ্রুপটা যেহেতু 'মুসলমান' তাদের সেই ধর্মীয় অবস্থানের ইফেক্ট নিশ্চই আছে। তারা নামাজ পড়ছে বা খৎনা করছে বলে পিছিয়ে পড়ছে এমন কিছুই বলিনাই। বলেছি তাদের ধর্মীয় সংস্কৃতি আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চায় তাদেরকে অনীহ করে তুলছে। (আপনার বিকল্প কোনো তত্ত্ব থাকলে বলেন)

এই এগিয়ে যাওয়া পিছিয়ে পড়া নিয়ে ইনসাইটফুল একটা টেড টক-


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

এবং এই গ্রুপটা যেহেতু 'মুসলমান' তাদের সেই ধর্মীয় অবস্থানের ইফেক্ট নিশ্চই আছে।

এই কজালিটি ইফেক্টটা কি স্ট্যাটিস্টিক্যালি এস্টাবলিশ্ড? নাকি কিছু এসোসিয়েশানের উপর ভিত্তি করে বলা একটা অবিজ্ঞানভিত্তিক মেটা ন্যারেটিভ? তাহলে কিন্তু এইটার দশটা অবিজ্ঞানভিত্তিক ভ্যালিড কাউন্টার ন্যারেটিভও থাকা স্বাভাবিক।

ফাহিম হাসান এর ছবি

ধ্রুব ভাই, ধর্মের সাথে ইকোনমিক গ্রোথের কজালিটি নিয়ে বেশ কিছু কাজ আছে যেগুলো উঁচু জার্নালে পাব্লিশড হয়েছে। একটি বিশেষ ধর্মের অনুসারী হলে মাইক্রো ও ম্যাক্রো উভয় লেভেলেই এর প্রভাব আছে।

আপাতত আপনার প্রশ্নের সংক্ষেপে উত্তর দেই -

এই কজালিটি ইফেক্টটা কি স্ট্যাটিস্টিক্যালি এস্টাবলিশ্ড? হ্যাঁ।

উদাহরণ হিসেবে এই পেপারটা দেখুন - http://papers.ssrn.com/sol3/papers.cfm?abstract_id=1440489

ইন্দোনেশিয়ার মুসলিম-নন মুসলিম শিক্ষার্থীদের উপর করা গবেষণা। আমি অ্যাবস্ট্রাকটটা তুলে দিচ্ছি।

This paper measures and investigates the reasons for the gap in secondary education progression between Muslims and non-Muslims. The analysis is done using a panel dataset from Indonesia that follows 3rd to 6th grade students over 14 years, until the sample is well beyond secondary school age. Muslim males face a lower chance of enrolling in college compared to non-Muslim males, while among females the gap is largest at senior secondary enrolment. The paper finds that equalising two sets of covariates, scholastic ability and parental education, removes most of the gap. Using the same methodology, the paper finds that the renowned lack of gender education gap among Muslims in Indonesia is due to females’ higher scholastic ability. Equalising this difference unearths a substantial male advantage in senior secondary enrolment and removes the female advantage in post-secondary enrolment

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

ডুপ্লি

sh21 এর ছবি

মুসলমান রা এখন পিছিয়ে আছে মান্লাম। কিন্তু এর কারন কি ধর্ম?? ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন জাতি জ্ঞান বিজ্ঞানে এগিয়ে ছিল।জ্ঞান বিজ্ঞানের শুরু হয়েছিল গ্রীসে, সেই গ্রীস কি এখন জ্ঞান বিজ্ঞানে অগ্রসর???গ্রীসদের এই পিছিয়ে পরাটা নিশ্চই ধর্মের কারনে নয়।মধ্যযুগে যখন ইউরোপে অন্ধকার চলছে তখন মুসলমান বিশ্বে জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসার ব্যপকভাবে হয়েছিল। এবং এটা হয়েছিল কিন্তু এই ধর্মের কারনে।একই ধর্ম তখন জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসারে ভূমিকা পালন করেছে আর এখন জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসারে বাধা দিবে তা তো হয় না। আমার মতে ব্যাপারটা অর্থনৈতিক। আমাদের সরকার ইচ্ছা করলেই গবেষনায় অনেক টাকা অনুদান দিতে পারবে না।ব্রিটিশ আমলে মুসলমানরা ইংরেজী ভাষা শিখতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিল এই জন্যে নয় যে ধর্মে নিষেধ আছে।বরং তারা মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনায় আঘাত করছিল এর প্রতিবাদ জানানোর জন্যে।প্রতিবাদের পদ্ধতি ভুল ছিল।তাই পরে এটা থেকে সরে এসেছে। মুসল্মান্দের কাছে ধর্ম তাই যা কোরান হাদীসে বলে।আর ওই খানে খুব ভাল ভাবেই বলা আছে জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা করতে। তাই আধুনিক শিক্ষায় মুসলমান ধর্মকে বাধা হিসেবে দেখার কোন যৌক্তিকতা নাই।

পুতুল এর ছবি

শিক্ষাটা ফ্রীই আছে, বই-পুস্তকও বিনে পয়সায়। কিন্তু আনুষাঙ্গিক খরচ বিশাল। তা ছাড়া যে সব অভিবাবক ( স্বল্প শিক্ষিত এবং শিক্ষাদানের ভাষায় দুর্বল ইমিগ্রেন্ট পরিবার) বাচ্চার বাড়ির কাজ নিজের তদারকীতে করিয়ে নেয়ার মতো জ্ঞান রাখেন না, চাইলে তারা ছুটির পরে স্কুলের শিক্ষকদের দ্বারা স্কুলেই তা করিয়ে আনতে পারেন।

কিন্তু তার জন্য খরচ বহন করার আর্থিক ক্ষমতা থাকতে হবে।

বিশেষ করে ইংল্যাণ্ডে ভারতীয়রা এখন আর দ্বিতীয় জেনারশন নেই। তারা তৃতীয় জেনারেশন। ভারতীয়দের উন্নতির ফলে তারা ভাতের ব্যবসা বাংলাদেশীদের হাতে দিয়ে প্রথমে ধরেছিল ইহুদিদের কাপড়ের ব্যবসা। সেটাও এখন আর ভারতীয়দের হাতে নেই। কিছু বাংলাদেশী মাছ বেচা ছেড়ে সেদিকে এগিয়েছে। আর ভারতীয়রা ভাগ বসিয়েছে ইহুদীদের হিরার ব্যবসায়। যদিও খুব সহজ এবং সরল হয়ে গেল, তবুও এভাবেই এসেছে ভারতীয়দের আর্থিক উন্নতি।

আর্থিক উন্নতির কারণে বাচ্চাদের জন্য শিক্ষার পেছনে ব্যায় বাড়াতে পেরেছে। ফল হাতে নাতে; কয়েক বছর আগের এক সমিক্ষায় দেখা গেছে ইংল্যাণ্ডের ৭০ ভাগ চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্র ভারতীয় বংশদ্ভূত।

চায়নীজদের বিষয়টা কিছুটা এই রকমই হওয়ার কথা।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

স্পর্শ এর ছবি

শিক্ষা আর কর্মসংস্থানে 'ভারত/বা চীন' কীভাবে এগিয়ে আছে সেটা বোঝা গেল। কিন্তু এই পোস্টে স্টাটিস্টিক্স ছিলো,
'কর্মে অনিচ্ছুক বেকার'দের নিয়ে। বাংলাদেশী যারা বেকার আছেন তারা কেন জরিপের সময় নিজেকে 'কর্মে অনিচ্ছুক' হিসাবে দাবি করছেন? তারা যদি বলতো যে 'কর্ম করতে চাই কিন্তু পাচ্ছি না' বা 'চাই কিন্তু আমার শিক্ষা নাই' এ ধরনের কিছু, তাহলেও কিন্তু জরিপে বাংলাদেশের অবস্থা এমন বেহাল হয় না। (শিশুপালনের জন্য ঘরে আটকে গেলে তাকে কিন্তু 'কর্মে অনিচ্ছুক' হিসাবে ধরা হয়নি)।

আপনি মন্তব্যে বললেন ভারতীয়রা 'দৌড়ে এগিয়ে আছে'। তারা যে ব্যবসাটা ছেড়ে আরো বড় ব্যবসায় যাচ্ছে। সেই ফেলে যাওয়া ব্যবসাগুলো ধরছে বাংলাদেশীরা। এভাবে আমরা সব সময়ই এক ধাপ পিছিয়ে। বাংলাদেশ, বোঝা যাচ্ছে আকারে ছোটো। এবং ভারত স্বাধীন হবার পরেও বাংলাদেশকে অনেকদিন পরাধীন থাকতে হয়েছে। কিন্তু পাকিস্থানের ব্যাখ্যাটা কি? পাকিস্থান কেন দৌড়ে পিছালো। ইনফ্যাক্ট বাংলাদেশের সম্পদ শুষে তারা তো অনেক ধরনের ইনফ্রাস্ট্রাকচারই গড়ে তুলেছিলো। তারা গণতন্ত্রও ধরে রাখতে পারলো না, দেশ বিদেশেও ভারতের মত ছড়াতে পারলো না, জ্ঞানে বিজ্ঞানে পিছিয়ে পড়লো... ইত্যাদি ইত্যাদি...

একটু ভাবলেই দেখা যায়। উপমহাদেশীয় মুসলিদের যাবতীয় পিছিয়ে পড়ার কারণ হচ্ছে একেবারে শুরুতে 'আধুনিক শিক্ষায়' তাদের অনীহা। একটা ডোমিনো ইফেক্টের মত সেটাই বয়ে যাচ্ছে। একটা সময় পর্যন্ত আমাদের দেশের বেশিরভাগ ইংরেজী আর গণিত শিক্ষক ছিলেন হিন্দু (কেন?)। যাদের একটা বৃহৎ অংশ দেশ ছাড়তে বাধ্য হন পরবর্তিতে।

তাই পিছিয়ে পড়াতে 'ধর্মীয় সংস্কৃতির' একটা বড় অবদান আছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নাই।

আমি বলছি না যে ভিন্ন ধর্ম বা ভিন্ন ইথনিসিটির কারণে কারো মাথা ভালো বা খারাপ হবে। সেই ডিস্ট্রিবিউশন সব গ্রুপেই সমান। কিন্তু একটা রক্ষণশীল সংস্কৃতির মধ্যে মুক্তচিন্তা/বা ধী-শক্তির বিকাশ ঠিক মত হবে না সেটা বোঝাই যায়। বাংলাদেশ বা পাকিস্থানের কর্মের ইচ্ছার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার এটা একটা বড় কারণ।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আধুনিক শিক্ষায় অনীহা সরাসরি কর্মে অনীহার সাথে কোরিলেট করা যায় না। প্রত্যেকেই যে শিক্ষাই গ্রহণ করুক, তার চাকুরি/ব্যবহারিক দিকটা দেখে। বেশি কোয়ালিফায়েড লোক বেশি কোয়ালিফিকেশন দরকার, এমন জব পাবে, কম কোয়ালিফায়েডরা তাদের সাথে মানানসই জব পাবে। জবের বেতনবৈষম্য বাংলাদেশে যেমন প্রবল, ইউরোপে (আমার স্বল্প অভিজ্ঞতায়) তেমন প্রবল না। একজন চুলকাটা শ্রমিক একজন পিএইচডির চেয়ে বেশি আয় করা সম্ভব। চুল কাটতে হবে বলে যে কাজ করতে চায় না, স্বভাবতই সে আগে থেকেই চেষ্টা করে, যাতে চুল কাটতে না হয়। বৈষম্যটা হয় 'একই জব' এ ভিন্ন বেতনের।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

স্পর্শ এর ছবি

আচ্ছা তাহলে আমাকে কিছু সম্ভাব্য সেনোরিও দেন। যেখানে একজন অভিবাসী কোনো একটা জরিপে বলবে,

"আমি বেকার এবং আমি জব চাই না"

সেক্ষেত্রে আমি কিছুটা ধারনা পাবো, কিছু মিস করছি কি না।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

বাস্তব অবস্থা হলো, যারা বেকার এবং জব চায় না, তারা বেকারভাতার পাশাপাশি ব্ল্যাকে কাজ করতে পারে। পুরাটাই অর্থনৈতিক ব্যাপার। এখানে সমীকরণটা হলো, লিগ্যাল জবের আয় < বেকার ভাতা প্লাস ব্ল্যাকে ইনকাম। লিগ্যাল জবে বেতনের বৈষম্য থাকলে এই সমীকরণে পড়ে যায়। কাজের ক্ষেত্রে আরো অনেক প্যাচঘোচ আছে। কাজ পরিবর্তন বা অ্যাক্সিডেন্ট বা অসুস্থতার কারণে প্রাপ্য বেনিফিট নিয়ে দৌঁড়াদৌড়িতেও বৈষম্য আছে। আমি যতোজনকে কাজে 'অনীহা' দেখেছি, তারা সবই এই সমীকরণের অংশ। আসলে তারা অলসও না, কাজও কম করে না। লিগ্যালি কাজ না করলে আয় বেশি। সোজা হিসাব।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

স্পর্শ এর ছবি

কিন্তু বেকার ভাতা তো 'জব খুঁজতেসে পাচ্ছে না' এ ধরনের ব্যক্তিকে দেওয়া হয় বলে জানতাম। (আমার জানায় ভুল থাকতে পারে)

আর অফ অল পিপলস মুসলিমদের এই দৈন্য কেন? কেন তারা গাছেরটাও খেতে চায় তলারটাও কুড়াতে চায়। এইগুলা কি অশিক্ষা না?

আপনিই বলছেন। তারা বেকার ভাতার জন্য নিজেকে 'বেকার' জহির করছে। ওদিকে আসলে তারা কাজ করছে, তার মানে অবৈধভাবে হলেও কাজ পাচ্ছে। তার মানে ইন্ডিয়ানরা/চাইনিজরা বেশি কাজ পায় আমরা পাই না এ যুক্তি নাল হয়ে যাচ্ছে। ওরাও কেন এমন করছে না?

আমি কনফিউজড হয়ে যাচ্ছি।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আর অফ অল পিপলস মুসলিমদের এই দৈন্য কেন? কেন তারা গাছেরটাও খেতে চায় তলারটাও কুড়াতে চায়। এইগুলা কি অশিক্ষা না?

আপনি সবকিছুই মুসলিমদের দিকে ঠেলতেছেন। মুসলিম মানেই দরিদ্র না। পৃথিবীর সবচেয়ে বিলাশবহুল গাড়িগুলো 'মুসলিম'দের জন্যই তৈরি হয়। সেখানে প্রভাবক ধর্ম না, তেল। পৃথিবীর সবচেয়ে সভ্য ইংরেজরা দীন না, সেখানে প্রভাবক কলোনিজম। কারণে যান, সবকিছু ধর্মের ওপর চাপানোর বায়াস থাকলে আসল কারণ অগোচরে থেকে যাবে।

বেকার থাকার সমীকরণ দেখলেই পরিষ্কার হওয়ার কথা। একটা কারণ, বেতনে বৈষম্য। আরো অনেক কারণ থাকতে পারে।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

স্পর্শ এর ছবি

জ্ঞান বিজ্ঞান আর মোরাল ভ্যালুতে পিছিয়ে থাকার কথা বলেছিলাম। অর্থবিত্ত বৈভবের প্রসঙ্গ তুলিনি। আপনার সেই অতিধনীদের তেলটুকু বাদ দিলে আর কিছুই থাকে না।

আর একটা পয়েন্ট ক্লিয়ার করি। মুসলিমদের 'ধর্মের কারণে' এইটা হইসে তেমন বলিনি। কে কত নামাজ পড়লো কত যাকাত দিলো, রোজা রাখলো। আল্লাহ-বিল্লাহ করলো। তার সাথে জ্ঞান বিজ্ঞানে কতটা পিছিয়ে পড়লো তার তেমন কোনো সম্পর্ক নেই।

তাহলে এই আলোচনায় 'ধর্ম' আসছে কোথা থেকে?

আমি বার বার বলছি 'ধর্মোদ্ভুত সংস্কৃতির' কথা। মুসলিমদের মধ্যে কালচারালি জ্ঞান বিজ্ঞানে অনীহা সৃষ্টি হয়েছে। যেটা তাদের রিলিজিওয়াস লিডারদের প্ররোচনা বা কু-শিক্ষার ফল। আবার লিডারদের উপর সব চাপানো যায় না। নিজেরাও তারা হয় লিডারদেরকে প্রশ্ন করতে 'ভয় পায়' (ধর্মীয় ভয়)। অথবা চিন্তা করতেই চায় না। (আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে টাইপ মনোভাব)।

আর কেন 'মুসলিম'দের কথা বলছি? কারণ পাকিস্থানের সাথে বাংলাদেশের এই এক 'ধর্ম' ছাড়া আর কিছুতেই মিল নাই। এবং এই জরিপে তারা একই রকম 'স্টাটিস্টিক্স' নিয়ে বসে আছে। তাই এদের মিলটা কোথায়? সে প্রশ্ন থেকেই ধর্মের অবতারণা। খেয়াল করলে দেখা যাবে ভারত কিন্তু একইরকম ডেমোগ্রাফি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তরতর করে। তাদের মধ্যে ধর্মীয় গোড়ামি নেই তা বলছি না। বলতে চাচ্ছি তাদের ধর্মীয় সংস্কৃতি জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনীহা সৃষ্টি করছে না। (অতীতে করেছে এখন অনেকটাই শুধরে নিয়েছে) এটাই এগিয়ে যাওয়ার কারণ।

আর 'পিছিয়ে পড়া গ্রুপগুলোর' ধর্মোদ্ভুত সংস্কৃতির মত শক্তিশালী একটা কমন ফ্যাক্টরকে আলোচনার বাইরে রেখে এ ধরনের কোরিলেশন/আর্থসামাজিক-অবস্থা ঠিকমত ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। যেখানে মুসলিমদের পিছিয়ে পড়ার চিত্রটা শুধু বাংলাদেশ-পাকিস্থান না, দুনিয়ার অন্য সব দেশ মিলিয়েই রীতিমত 'গ্লোবাল'!


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

জ্ঞান বিজ্ঞান আর মোরাল ভ্যালুতে পিছিয়ে থাকার কথা বলেছিলাম।

এই জিনিসটাকে আপনি 'ফ্যাক্ট' হিসেবে চালাচ্ছেন। এটা ফ্যাক্ট হওয়ার কারণ বুঝতে পারছি না। মুসলমান হলেই জ্ঞানে অনীহা হবে আর মোরালিটি নষ্ট হয়ে যাবে, এর একটা ম্যাথমেটিক্যাল প্রুফ ছাড়া এটাকে 'ফ্যাক্ট' হিসেবে দেখতে সমস্যা আছে। অন্যদিকে আপনি এটাকে ফ্যাক্ট হিসেবে ধরে নিয়ে তার ওপর বেইজ করে বাকি আলোচনা আগাচ্ছেন। সুতরাং আমার আর আপনার কথার মধ্যে ফেইজ শিফট অনেক বেশি হবে।

আপনার এই 'ফ্যাক্ট' ফ্যাক্ট হলে আসলে পরিসংখ্যান টংখ্যান কিছু লাগে না। মুসলমানরা যেহেতু মোরাল ভ্যালুতে পিছানো, সেহেতু তারা চোর বদমাশ ফাঁকিবাজ সোশালখোর হবে এটা তো জানা কথা! পরিসংখ্যান ব্যুরোগুলোর কাজও কমে গেলো। সিদ্ধান্ত যদি আগে থেকেই জানা যায়, তাইলে ডেটা কালেকশন একটা করলেই হলো, না করেও বসায় দিলে কোনো প্রবলেম নাই।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সুরঞ্জনা এর ছবি

মন খারাপ
তাহলে, এই বাংলাদেশীরা অসৎ উপায় করতেই বেশি আগ্রহী?
মনটা এমন দমে গেলো যে কি বলবো। অলস শুনতেও এর চেয়ে বেশি ভালো ছিলো।
মন খারাপ

............................................................................................
এক পথে যারা চলিবে তাহারা
সকলেরে নিক্‌ চিনে।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

সততার ক্ষেত্রে বাংলাদেশীরা কারো চেয়ে পিছিয়ে না। আর্থিক বিচারে লাভজনক হলে জাতিধর্মনির্বিশেষে সবাই একই কাজ করে।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

পুতুল এর ছবি

তাই পিছিয়ে পড়াতে 'ধর্মীয় সংস্কৃতির' একটা বড় অবদান আছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নাই।

মালোয়েশিয়া কিন্তু সব কিছুতেই এগিয়ে। ব্যাপারটা ঠিক তত সহজ নয়। আর যেহেতু ইংল্যাণ্ডের বাংলাদেশী মুসলমান নিয়ে কথা হচ্ছে সেখানে ব্যাপরটা আরো জটিল। তবে মোটা দাগে আপনার কথা (রক্ষণশীল সংস্কৃতির মধ্যে মুক্তচিন্তা/বা ধী-শক্তির বিকাশ ঠিক মত হবে না) ঠিক আছে।

ভারতের প্রতিনিধিত্বকারী হিন্দু ধর্মের একটা বিশেষ বর্ণ কেবল শিক্ষা বা ইংরেজী শিক্ষার সুযোগ নিতে পেরেছে। সেই রকম ইংরেজী শিক্ষিত মুসলমানদের মধ্যে জনসংখ্যার অনুপাতে কম ছিল না। জনসংখ্যার অনুপাতে বাংলাদেশ কিন্তু শিক্ষায় এখন (আমার ধারণা) ভারতের কাছাকাছিই থাকার কথা। আমাদের দেশে অন্তত যে কোন ছেলে বা মেয়ে আর্থিক সামর্থ্য এবং তথাকথিত মেধা থাকলে বাংলাদেশের যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরিক্ষায় অংশ নিতে পারছে। (ব্যাতিক্রম মনে হয় আইওটি, দুঃখজনক) ভারতে কিন্তু অনেক অনেক কারণে নীচু বর্ণের হিন্দুদের জন্য তা এখনো নিশ্চিৎ করতে পারে নি। ভারতে এগিয়ে থাকা জনগন উঁচু বর্ণেরই।

শোনা কথা; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে শ্রমিক সংকট মেটাতে বৃটিশরা তাদের প্রায় সব প্রক্তন কলোনী থেকে শ্রমিক আমদানী করেছে। বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে প্লেন থেকে ফর্ম ছেড়েছে, সেটা কুড়িয়ে কাউতে দিয়ে পুরণ করে প্রথম জেনারেশন বিলাতে এসেছে। তাদের অনেকেই এখন ব্রিক লেইনে লাঠি ভর দিয়ে হাচে আর পানের পিক ফালায় রাস্তায়।

কুড়ি বছর আগে আমি আমার গ্রামকে যেমন দেখেছিলাম সে গ্রাম আমার কল্পনায় এখনও তেমনই আছে। তার কথা এখন সেই একই গ্রামে বড় হওয়া আমার বড় ভাইয়ের ছেলেমেয়েদের কাছে বললে ওরা হা করে মুখের দিখে তাকিয়ে থাকে। গুগল আর্থ করে পরিবর্তণটা দেখে নিজেই অবাক হই। কী কারণে জানিনা ক্লাস নাইনে উঠেই ঈশ্বরের অস্তিতে সন্ধিহান হয়ে পরি। আমার মতো (অন্তত আমি নিজেকে তাই মনে করি) একজন আধুনিক মানুষ দুনিয়ার সব আধুনিক সুযোগ সুবিথা নিয়েও ছেলেবেলার ফেলে আসা সেই গ্রামকে ধরে রাখি।

এখন চিন্তা করে দেখুন; ৫০ বছর আগে সিলেটের জামাল গঞ্জ থানার একজন মানুষ লটারীর মতো প্লেন থেকে ফেলা ফরম অন্য কাউকে দিয়ে পুরণ করিয়ে লণ্ডনে এসেছে। এমন আকাশ-পাতাল পার্থক্যের সংস্কৃতিক ব্যাবধানে ৫০ বছর আগের সেই পড়া-লেখা না জানা মানুষটি দুনিয়ার উন্নতির সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়ার কতটুকু সুযোগ পেয়েছে!

দেশের আদলে বৃটিশদের প্রশ্রয়ে তাঁরা ইংল্যণ্ডে মাদ্রাসা তৈরী করেছে। এখনো তাদের ছেলে-মেয়েরা দেশে যায় বিয়ে করার জন্য। ইষ্ট লণ্ডনে হাটলে মনে হয় কোন উন্নত আরব দেশে চলে এসেছি। এতো এতো চোখ বরাবর দু'টো ছিদ্র ওয়ালা কালো বস্তা (পড়ুন বোরখা) দেখি। তাদের অনেকের জন্ম আবার এখানেই। কথা হলো বৃটিশ সরকার এই বৈশম্য হতে দিল কেন!

হয়তো তাদের ইচ্ছে ছিল সব ধর্মের মানুষকে সমান সুযোগ দেয়ার। তার ফল তো এখন দেখা যাচ্ছে। ঠিক ভারতীয় বৃটিশদের মধ্যেও এখনো মন্দির তৈরী করার প্রবণতা আছে। সাউথ হলে দেখা যায় শুধু পাগড়ী (শিখদের)। তামিলদের মধ্যে আছে। কিন্তু ইংল্যণ্ডে কী মাদ্রাসা বন্ধ হয়েছে। হয় নি। হয়ত হবেও না। এখানে এই রকম পরিবারে জন্ম নেয়া যে কোন ছেলেমেয়ের সাথে কথা বলে দেখুন এদেরকে বাংলাদেশের রিক্সা চালকের ছেলেমেয়ের থেকে চিন্তা চেতনায় পিছিয়ে থাকা মনে হতে বাধ্য। বাংলাদেশী বংশদ্ভূত এই সব মানুষদের নিয়েই পরিসংখ্যান তৈরী হয়ে। অক্সফামের প্রধান বাংলাদেশ থেকে আশা সেলী আপাকে নিয়ে নয়।

লণ্ডন থেকে প্রকাশিত যে কোন একটা পত্রিকার পাতায় চোখ বোলালেই এদের চিন্তাটা পড়তে পারবেন। জন্ম যথায় তথায় হলেও কর্মটা ভাল করার জন্য বৃটিশ সরকারে একটু মনোযোগী হওয়া দরকার ছিল। অন্তত শিক্ষা ব্যাবস্থায়। কারণ ঐ মানুষ গুলো তো বাংলাদেশী বংশদ্ভূত বৃটিশ, বাংলাদেশী নয়। এরা পিছিয়ে থাকলে ক্ষতি যদি কার হয় থবে তা ইংরেজ জাতির।

কাজে অনিহার কারণ আগের মন্তব্যে পরিস্কার করার চেষ্টা করেছি। ইংল্যান্ডে কিন্তু কাজের যায়গাও কম।

পাকিস্তানের জন্য মাঝে মাঝে করুণাও হয়। আমরা অন্তত অনেক অন্ধকার পার করে গনতন্ত্র উদ্ধার করার পথেই আছি। ধর্মীয় মৌলাবাদ থেকে পাকিস্তান এখনো বের হতেই পারেনি। এখনো আফগান তালেবান বাদ দিলে বিবাদমান বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় পালা করে শুক্রবারের জামাতে প্রতিপক্ষের মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়। অথচ এরা সবাই নিজেদের সঠিক মুসলমান দাবী করে।

আমার এত কথায় বিষয়টা পরিস্কার করতে পারলাম কীনা জানিনা। তবে ধর্ম, সমাজ, সংস্কৃতি সব কিছু প্রভাবিত করা সম্ভব। ভালর জন্যতো অনেক সহজেই সম্ভব। দরকার হচ্ছে সদিচ্ছার। সেটাই এই দেশগুলোর তেমন নেই।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

স্পর্শ এর ছবি

দেশগুলোর সদিচ্ছার অভাব কিছুটা আছে তা বোঝা যায়।

আবার লটারি পাওয়া মানুষগুলো বা তাদের পরে এমন অন্য অনেকেই একটা পশ্চিমা সভ্যতার মধ্যে গিয়েও নিজের বিশ্বাস মূল্যবোধ আঁকড়ে থাকতে চাইবেন সেটাও ঠিক আছে। কিন্তু আশেপাশে সবাইকে তরতর করে এগিয়ে যেতে দেখেও, যদি তারা নিজেরা এগোতে না চায়, তাহলে তো আর গেলানো যাবে না। ঘোড়াকে পানি খাওয়ানোর মত।
আবার খেয়াল করলে দেখা যাবে এই আদী বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত লন্ডনীদের পরিবার আর্থিক ভাবেও খুব একটা পিছিয়ে নেই বর্তমানে।

মালোয়েশিয়া, ইরানের মতই একটা ভিন্ন কেইস। ওদেরও ধর্মীয় সংস্কৃতি আলাদা। ওটা ওদের 'মাজহাব' আলাদা হবার কারণে কি না জানি না। মালেদের ঈদের খুদবা শোনার সুযোগ হয়েছে। খুবই লিবেরাল। এমন কি সেই খুদবায় স্ত্রী-পুত্রকন্যাকে নিয়ে মাঝে মাঝে এলাকার পার্কে ঘুরে আসার কথাও বলা হয়। বাড়ির মহিলাদের সাথে জ্ঞানবিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করার কথাও বলা হয়। প্রথমবার এসব শুনে অবাক হয়েছিলাম! (নিজের দেশের খুদবার সাথে তুলোনা করে)।

মালোয়েশিয়া তাদের নারীদের কর্মক্ষেত্রে দারুণ অ্যাক্সেস দিয়েছে। ওদের বাসটার্মিনালগুলো মেয়েদের দ্বারাই পরিচালিত হয়। চিন্তাকরুন তো গাবতলি, সায়েদাবাদ, মহাখালিতে কি আমাদের দেশে মেয়েদের কাজ করার পরিবেশ আছে? ইনফ্যাক্ট মালে পুরুষদের অলস মনে হয়েছে। তাদের মহিলারাই বেশিরভাগ কাজ করে।

নারীর এম্পাওয়ারমেন্ট তারা করতে পেরেছে। যেটা আমরা পারছি না 'ইসলামিক কারণেই'। সিমপ্লি "নারীর সমান অধিকার" টাই সাংবিধানিক ভাবে নিশ্চিত করতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি। ধর্মীয় গোড়ামির কারণেই। মালোয়েশিয়ায় নারীদের সব ক্ষেত্রেই অবাধ বিচরণ। ওরা তো এগোবেই...

এই রেস্পেক্টে, বাংলাদেশ-পাকিস্থান বা তেল রাষ্ট্রগুলোর কথা ভাবুন!


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

কৌস্তুভ এর ছবি

পুতুল, আপনি এই অভিজ্ঞতার কথা বলায় বিরক্ত হয়নি। বরং এই বিষয়ে আরো জানতে ইচ্ছুক (এবং কিছু বিষয়ে ভিন্নমত শুনেছি) বলে মুর্শেদভাইয়ের পোস্টে আপনার কাছে কিছু রেফারেন্স চেয়েছিলাম। এখানে দিলেও খুশি হব।

মূল কথা এই যে, এই অভিজ্ঞতাগুলো বিছিন্ন ঘটনা নাকি এটাই সাধারণ, সেটা বড় আকারের সার্ভে ছাড়া জানার উপায় নেই। অতএব এইরকম সার্ভের ফলাফলগুলোর দাম আছে। এবং সরকারের সার্ভে-ফলাফল বলছেও যে কিছু বৈষম্য আছে। এবার তার জন্য সরকার কিছু করছে কি না, সেটাই দেখার।

পুতুল এর ছবি

কৌস্তুব দা,

কোন কাজে লাগবে এমন পরিসংখ্যান জার্মান ভাষায় পেলাম না। অনেক খুঁজে নীচের লিংকটা পেলাম ইংরেজীতে।

কিছু ধারণা হয়ত পেতে পারেন।

http://www.janvonbroeckel.de/english/nlof.htm

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ, পড়ে দেখব। আর ওই সেরাৎসিন যাঁর কথা বললেন, তাঁর বা তাঁর বইয়ের নামধাম কিছু বলতে পারেন? সেরাৎসিন শব্দটা ভুল ট্রান্সলিটারেট করছি মনে হয়, গুগলে কিছু পেলাম না।

পুতুল এর ছবি

জার্মানদের নাম ঠিক ভাবে লেখা সহজ না। আমার সেরাৎসিন-ও হয়তো পুরো ঠিক হয়নি।
এখানে এই লোক সম্পর্কে ইংরেজীতে কিছু তথ্য পাবেন।

http://www.spiegel.de/international/germany/0,1518,715876,00.html

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

কৌস্তুভ এর ছবি

ডাঙ্কেশ্যন দেঁতো হাসি

উচ্ছলা এর ছবি

অনেক কিছু জানতে পারলাম। বাংলাদেশ/পাকিস্তান সংক্রান্ত তথ্য জেনে একটুও অবাক হইনি। কেন হইনি, কে জানে।
অনেক পরিশ্রম করে এরকম একটি পোস্ট লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ, উচ্ছলা।

তাসনীম এর ছবি

আমি নিজেও কর্মবিমুখ - বাধ্য হয়েই অফিসে আসি। দুঃখের বিষয় আমাকে কেউ জিজ্ঞেসও পর্যন্ত করে নি আমি কাজ করতে চাই কিনা মন খারাপ আমি ওই হলুদ অংশেই স্থান পেতে চাই। যাই হোক - দেখা যাচ্ছে আমার মত বহু মানুষই আছেন।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আপনি কি মুসলমান? দেঁতো হাসি

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

তাসনীম এর ছবি

আরে নাহ ওসব কিছু নয়...ড্রিম জব পাই না দেখে এই অবস্থা।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

এই পোস্টের কথা ভুলে গেছিলাম। হাসি

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

কালো কাক এর ছবি

কাজ তো আমারও করতে ইচ্ছা হয়না। "কাজ না করলেও আপনাকে মাসে মাসে একটা নির্দিষ্ট হারে ভাল এমাউন্টের টাকা দেয়া হলে কে কে তবুও কাজ করতে চান?" একটা ট্রেনিং এ এই প্রশ্নের উত্তরে ২২জনের মধ্যে ২জন হাত তুলেছিল কেবল। তখন তো মনে করেছিলাম এটাই মানবধর্ম। এই লেখা পড়ে বুঝতেসিনা আসলে এটা শুধু আমাদের ধর্ম কীনা !
তবে আমি বাংলাদেশে থাকি আর মঙ্গল গ্রহে থাকি কাজ করতে অনাগ্রহীই থাকব। এটা আমার নিজস্ব সমস্যা, আমি আইলসা মন খারাপ

কৌস্তুভ এর ছবি

কর্মবিমুখ হলেও, আপনি যখন চাকরিরত তখন কমলা অংশে পড়বেন না। আর সত্যি বলতে পরিবারের দায়িত্ব আপনাকে ওখানে যেতেও দেবে না - সবুজ থেকে নীলে চলে গেলেই আপনাকে দ্রুত সবুজে ফিরে আসার উপায় খুঁজতে হবে। অতএব কমলা অঞ্চলের মানুষদের সঙ্গে এক্ষেত্রে আপনি ভিড়তে পারবেন না। হাসি

সজল এর ছবি

সহজপাচ্য পোস্ট (তা নাহলে আবার পড়তে পারি না)। একটা ব্যাপার, "কাজ করতে চাও" এই রকম প্রশ্নের মুখে কত জন সত্য বলে?

কৌস্তুভের তৈরী করা গ্রাফগুলো মিথ্যা হলে তারে গদাম। কিন্তু সত্য হলে?
ধরা যাক, তার একটা ইনটেনশন আছে (এথনোসেন্ট্রিক সুপিরিওরিটি?)। কিন্তু ইনটেনশন যাই হোক, তথ্যগুলো সত্য। এখন বাংলাদেশী হিসেবে আমাদের প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে? যেহেতু ওই অভিবাসীদের গ্রুপটাকে "বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত" হিসেবেই পরিচিত করানো হয়, ব্যাপারটা থেকে "হাত ধুয়ে" নেয়ারও উপায় নেই। তাই প্রতিক্রিয়া থাকতেই হবে।
একঃ হতে পারে স্বজাতির বদনাম করার চক্রান্তকারীদের উদ্দেশ্যে নিন্দাজ্ঞাপন করে যেমনটা চলছে, তা চলতে দেয়া যেতে পারে। তাতে এই পরিসংখ্যানটা বদলাবে না, ভবিষ্যতে হয়তো আরো খারাপ হবে, মাঝে মাঝেই এই রকম গ্রাফ উঠে আসবে, আমরা আবারো নিন্দাজ্ঞাপন করার সূযোগ পাব।
দুইঃ আত্মসমালোচনা করে এই পরিসংখ্যানগুলো যেন ভবিষ্যতে আমাদের পক্ষে আসে সে ব্যাবস্থা নেয়া। আবার দুইটা প্রতিক্রিয়াই হতে পারে, মানে সমালোচনাও করলাম, আবার নিজের ভুলটা ঠিকও করে নিলাম।
কোনটা ভালো, সেটা সবার নিজের পছন্দ।

আমি আমাদের ভুলগুলো ঠিক করে নেয়ার পক্ষপাতি, ভবিষ্যতে যেন কেউ আবার একই কথা আমাদের বলতে না পারে। এই বাজে অবস্থার কারণগুলো কী কী হতে পারে? (স্বগতোক্তি)

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আপনি যেভাবে তথ্যগুলো 'সত্য' বলে মেনে নিচ্ছেন, তাতে অবস্থা আরো খারাপ হবে। তথ্য ইটসেলফ প্যাসিভ জিনিস, তাকে কি কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ওপর তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভরশীল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয়ী ম্যাচগুলোর গড়কে ব্যবহার করে আশরাফুলকে (১০০ গড়) সেরা ব্যাটসম্যান বানানো যায়। যদিও ১০০ গড়ের তথ্যটা সত্য; কিন্তু সিদ্ধান্তটা ভুল আরো গুরুত্বপূর্ণ চলকগুলোকে বিবেচনা না করায়। এই পোস্টে কয়েকটা তথ্য তুলে দিয়ে তাতে প্যাটার্ন ম্যাচিং করে বাংলাদেশী ও পাকিস্তানীদেরকে সিঙ্গেল আউট করা হয়েছে এবং এরপরের ম্যাচিংয়ে ইসলামী কালচারকে কাজে অনীহার কারণ হিসেবে সিদ্ধান্তে আসা হয়েছে।

নিজেদেরকে ছোট ভেবে আসলে তেমন কোনো লাভ হয় না। বরং অন্যেরা সেই সুবিধা নেয়। আমি যদি নিজেকে বাংলাদেশী বলে ঘৃণা করি, তাইলে আরেকজন আমাকে কেন সম্মান করবে? সমস্যা প্রত্যেক দেশের মানুষের মধ্যেই আছে। সারা দুনিয়ার সম্পদ চুরি করা ব্রিটিশরা হলো দুনিয়ার সবচেয়ে 'সভ্য' জাতি! তাদেরকে চোর বলে একটা পরিসংখ্যান বের করে দেখান, মজা বুঝা যাবে। চোখ টিপি

উন্নতির চেষ্টা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক লেভেলে সবারই করা উচিত। কিন্তু নিজেকে গালি দিয়ে আর অন্যের দ্বারা নির্বিচারে নিজেকে গালির অধিকার দিয়ে নিজেকে অসম্মানই করা হয়, কোনো কাজে আসে না।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সজল এর ছবি

তথ্যগুলো মিথ্যা হলেতো বললামই পোস্টদাতার উদ্দেশ্যে নিন্দা। কিন্তু সত্য হলে? তথ্যগুলো আমাদের বিপক্ষে যায় বলে আমাদের শত্রুগ্রুপ সেটা তাদের ইচ্ছামত ইন্টারপ্রেট করবে সেতো ঠিকই। কিন্তু আমরা কী করব? ইন্টারপ্রিটেশন সাবজেকটিভ হতে পারে, সংখ্যাগুলোতো না।

এই যে কর্মে অনীহা (তথ্য সত্য হলে, এই কথাটাও অবজেকটিভ সত্য) তার পিছনে নিশ্চয় কিছু কারণ আছে। আপনার একটা কমেন্টে দেখলাম, হতে পারে ব্ল্যাকে কাজ করলে তুলনামূলক বেতন বেশি। এটা একটা কারণ হতে পারে। তাই যদি হয়, তাহলে কি আমরা এটাই চলতে দেব, কারণ মান-সম্মান যাক, টাকাতো পকেটে আসছে বলে? নাকি, লিগ্যালি যেন এই গ্রুপটা অন্যদের মত বেতন পায় সেটার জন্য কিছু উদ্যোগ নেয়া দরকার। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এমপিও তো আছেন, সুতরাং বাংলাদেশী কমিউনিটের কোন রাজনৈতিক পাওয়ার নেই ব্যাপারটা এমনো না।

ভালো গ্রেড কম পাওয়াদের মাঝে কেন এই গ্রুপটার নাম আসলো? তারা খারাপ গ্রেড পাচ্ছে বলেই তো। এর কারণ খুঁজে প্রতিকার করা যেতে পারে, কিন্তু এই ফ্যাক্টটা অস্বীকার করেতো লাভ নেই। একই ভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও যদি তাদের মাঝে বেশি হয়, যেখানে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ, যেটা জীবনযাত্রার মান দিন দিন অবনতির দিকে নিয়ে যায়, সেটা স্বীকার করে নিয়ে, শিক্ষার হার বাড়ানো ইত্যাদি সমাধানের দিকেই চোখ দিতে হবে। আমার ধারণা মেধার পরিমাণ সব জনগোষ্ঠিতে একই রকম, কিন্তু মেধার বিকাশ পরিবেশের কারণেই ব্যাহত/বিকাশ হয়। তো, এই জনগোষ্ঠীর এই পিছিয়ে পড়ার একটা কারণ তো আছে, খালি চোখে ধর্মীয় আর সাংস্কৃতিক পশ্চাদপসরতাকেই আমার কারণ মনে হয়, সেটা ভুলও হতে পারে। কিন্তু একটা কারণ আছেতো বটেই।

দুনিয়ায় কাউকে মহাপুরুষ ভাবার দরকার নেই, সুযোগে পেলে সবাই সবাইকে নিয়ে হাসাহাসি করবে। কিন্তু আমি এই হাসাহাসি নিয়ে অনুযোগের মধ্য দিয়ে সমাধান দেখতে পাই না, বরং নিজের অবস্থা ভালো করে দরকারে অন্যের অবস্থা নিয়ে হাসাহাসি করার অবস্থায় যেতে চাই।

নিজেরে ছোট ভেবে কান্নাকাটি আমিও পছন্দ করি না। কিন্তু আমার দুর্বলতাগুলো লুকিয়ে আমি কিছু করতে পারবো না সেটা আমি জানি, একই সাথে অন্য কেউ যদি আমার দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে বাঁধা দেয় সেটা দূর করার চেষ্টাও আমি করতে পারব। কিন্তু আগেতো আমার দুর্বলতা স্বীকার করতে হবে!

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

কৌস্তুভ এর ছবি

স্বগতোক্তি ভাল লাগল।

তাসনীম এর ছবি

সজলের প্রশ্নটা আমারও। কাজ করতে চাও কিনা এই প্রশ্নের উত্তর আমার মত সৎভাবে আর কয়জন দেবে?

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

স্পর্শ এর ছবি

ভেবে দেখুন তো। অসৎ উত্তর হিয়াবে কোনটা বেশি লাইকলি, 'চাই' নাকি 'চাই না'?


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

তাসনীম এর ছবি

জিজ্ঞেস করলে নিশ্চিত ভাবেই বেশিরভাগই বলবে কাজ করতে চাই...কিন্তু এইভাবেই কি ওরা এই তথ্যটা বের করে? যদি করে তাহলে বাংলাদেশিরা ভারতীয়দের তুলনায় অনেক বেশি সত্যবাদী আর বৃটিশরা...বড়মাপের আহাম্মক।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

স্পর্শ এর ছবি

জরিপ এভাবেই করে মনে হয়। (কৌস্তুভ কী বলে?)

আর, তার মানে আপনি ধরেই নিচ্ছেন।
১)ভারতীয়রা বেশি মিথ্যা বলেছে।
২)বাঙ্গালীরা বেশি সত্য বলেছে। (আপনি যে ভাবে অনিচ্ছাস্বত্তেও কাজে যান)
৩)বৃটিশরা সেসবের কিছুই ধরতে পারে নাই।

তাইলে তো এই লেখার যাবতীয় স্টাটিস্টিক্সই ভুয়া। এই আলোচনায় আপনি কেন অংশ গ্রহন করছেন? কোনোই মানে হয় না।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

তাসনীম এর ছবি

তাইলে তো এই লেখার যাবতীয় স্টাটিস্টিক্সই ভুয়া।

আরে তা কেন হবে...একটা পরিসংখ্যান নানান ভাবে ব্যাখ্যা করা যায় হাসি

তবে কাজের অনাগ্রহ শুধু জিজ্ঞেস করেই বের করে কিনা এটা আমিও জানতে আগ্রহী।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

স্পর্শ এর ছবি

শিক্ষার সুযোগের অভাবের একটা কারণ হিসাবে আলোচনায় 'দারিদ্র' এসেছে। কিন্তু ভেবে দেখুন প্রচন্ড ধনী মুসলিম জাতি-গোষ্টিও পৃথিবীতে আছে। তারাও জ্ঞানে-বিজ্ঞানে-মানবীয়গুণাবলিতে একইরকম পিছিয়ে। (বিলাসী আরব অঞ্চলের জাতিদের কথা বলতেসি)। এরা এদের অর্থসম্পদ জ্ঞান বিজ্ঞানের কাজে তো ব্যবহার করছেই না, উলটো আমাদের মত দরিদ্র দেশগুলোর জঙ্গিবাহিনীর বড় ফান্ডিং সোর্স হিসাবে কাজ করছে। আগারগাওএ 'ঈমাম প্রশিক্ষণকেন্দ্র' এর ভবনটার জৌলুসের সাথে, একটু পাশেই মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্রের ভবনের দৈন্যের তুলনা করলেই অনেক কিছু দেখা যায়।

তাই আমরা দেখছি, মুসলিমদের যে অংশ আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল, যে অংশ অস্বচ্ছল... সবাই জ্ঞানে বিজ্ঞানে সমান ভাবে পিছিয়ে পড়ছে। (ইরানের কাউন্টার এক্সাম্পল তুলবেন না প্লিজ, আরবীয়রা শিয়াদের মুসলিমই জ্ঞান করে না)

সবার এত মিলটা কোথা থেকে আসছে বলে মনে হয়?


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

হিমু এর ছবি

মুসলিমরা জ্ঞানবিজ্ঞানে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে। কারণ বিজ্ঞানের সবকিছুই কোরানে আছে। মুসলিমরা তাই একেবারে সোর্সকোডে হাত দিয়ে বসে আছে।

তাসনীম এর ছবি

আমার আসলে জানার ইচ্ছে ছিল কাজের অনাগ্রহের ব্যাপারটা কিভাবে বের করা হয়।

মুসলমানদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিমুখতা নিয়ে আমার কোনোই দ্বিমত নেই। ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের বিরাট একটা অংশ মসজিদ এবং মাদ্রাসা নির্মান এবং নামাজ পড়াকেই সবচেয়ে বড় কাজ মনে করেন। ফলশ্রুতিতে যা হওয়ার তাই হচ্ছে - বাকিদের থেকে মুসলমানরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে পিছিয়ে পড়ছে।

কিন্তু শিক্ষার অভাব বা দারিদ্র্য কর্মবিমুখতার কারণ নয়। আমি আমেরিকাতে বাংলাদেশিদের হাড়ভাঙ্গা খাটুনি করতে দেখি। এদের অনেকেই তেমন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পাননি, কেউ কেউ খুবই ধার্মিক। ধর্মের কারণে কেউ কর্ম থেকে দূর থাকে বলে মনে হয় না।

বৃটেনে সরকারী ওয়েলফেয়ার বেশি বলেই কি মানুষ কর্মবিমুখ? বাংলাদেশিরা সরকারের বদান্যতার সুযোগ নিচ্ছেন? আমি জরিপটা অন্যান্য দিকগুলোও দেখার চেষ্টা করছি।

বাংলাদেশিদের আমি ভারতীয়দের তুলনায় সিগনিফিকেন্টলি অলস মনে করি না। এটা আমার বিশ্বাস, কোনো পরিসংখ্যান দেখাতে পারবো না।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

কৌস্তুভ এর ছবি

এখানে গিয়ে সার্ভের মেথডলজি, কী প্রশ্ন করা হয় ইত্যাদি ডিটেলে দেখে নিতে পারেন ইচ্ছা হলে।

কাজে অনাগ্রহ'র মধ্যে অনেক সাবক্যাটেগরি আছে। "আমি আপাতত অসুস্থ, কিন্তু সুস্থ থাকলেও কাজ খুঁজতাম না", "আমি কাজ খুঁজি না, কারণ বিশ্বাস করি যে ভাল কাজ কিছু মিলবে না", ইত্যাদি ইত্যাদি।

একটা লোককে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে অনেক প্রশ্ন করা হয়। তুমি আগে কী কাজ করেছ, কতদিন আগে, এখন করছ না কেন, কোথায় শেষ চেষ্টা করেছিলে, কাজ খুঁজতে গিয়ে কোনো খারাপ ব্যবহার পেয়েছ কি না, ইত্যাদি ইত্যাদি। এত কিছু মিলিয়ে মিথ্যা বলে যাওয়া অসম্ভব নয়, কিন্তু সেগুলো আংশিক হলেও চেক-এর কাজ করে। এবার লোকে যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ভুল তথ্য দিচ্ছে এমন কিছু উল্লেখ তো উপরের মন্তব্যে দেখছিই।

বৃটেনে সরকারী ওয়েলফেয়ার বেশি বলেই মানুষ কর্মবিমুখ, এটা কিছু লোকের দাবী তো বটেই। তবে তার হ্যাঁ/না বিচার করার মত তথ্য নেই।

হিমু এর ছবি

সবার আগে রাণী এলিজাবেথের উচিত একটা দোকানটোকান খুলে বসা। বইসা বইসা আর কত?

পুতুল এর ছবি

হিম্বাই আপনি থাকেন কৈ,
এলিজাবেথ নাকি নাতবৌয়ের অন্তর্বাস নিলামে তোলসে।

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

অ্যাকাডেমিক শিক্ষার সাথে যারা কাজে অনীহার সম্পর্ক খুঁজছেন, তাদের জন্য আরেকটা তথ্য দেই, আমার ২জন পিএইচডিধারী বন্ধু বেশ অনেকদিন বেকার ছিলো। আমার নিজেরও একই অবস্থা হওয়ার ভালোই সম্ভাবনা আছে। অবশ্য আমরা ৩ জনই মুসলমান এবং বাংলাদেশী - হয়তো এই কারণেই কর্মে অনীহা। তবে বিশ্বাস করেন আর না করেন, প্রতিদিনই জবের অ্যাড খুঁজতেছি, মানানসই হলে অ্যাপলাইও করতেছি। এই ৩ জনের মধ্যে আমি সবচেয়ে অলস। আমরাও হয়তো এরকম কোনো পরিসংখ্যানের নাম্বার হয়ে যাবো। বাংলাদেশের এই দুর্নামের জন্য আগে থেকেই ক্ষমাপ্রার্থী, বিশেষ করে যারা আমাদের কারণে খুব হীনমণ্যতাবোধ করছেন, তাদের কাছে।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

স্পর্শ এর ছবি

আপনি আসলে (অন্তত এই আলোচনা/পরিসংখ্যানের) মূল পয়েন্টটা মিস করেছেন।

কাজ খুঁজছেন তাই কর্মে অনীহা গ্রুপে আপনার বা আপনার বন্ধুদের পড়ার কোনোই সম্ভাবনা নেই।

পিএইসডি করে জব পাচ্ছেন না এমন কয়েকজনকে আমিও দেখেছি। কিন্তু খুঁজে পেতে তারা 'নন পি এইজডি' টাইপ জব ঠিকই জোগাড় করে নিয়েছেন। এমনকি হয়তো আমি নিজেও পিএইচডি শেষ করে জব পাবো না সহজেই। কিন্তু তাই বলে কোনো জরিপে কখনই বলবো না যে 'আমি কাজ করতে চাই না'। তাই এ ধরনের কোনো পরিসংখ্যানের অনর্ভুক্ত হয়ে কারো হীনমন্যতার কারণ হবো না বলেই মনে করি।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আমার মনে হয় আমি মূল পয়েন্ট মিস করি নাই। এই পরিসংখ্যানের মূল পয়েন্ট সিলেক্টেড কিছু সংখ্যার সাহায্যে বাংলাদেশী তথা মুসলমানরা যে কর্মে অনীহ - এই রেসিস্ট বক্তব্যের প্রচার।

এই উদাহরণটা দিয়েছি কাজ পাওয়ার সাথে ডিগ্রির কোরিলেশন সবসময় হয় না, এটা বুঝাতে।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

আহসান হাবিব এর ছবি

আপনি পরিসংখ্যান না দিলেও আমি বিশ্বাস করতাম হাসি

শুধু বিলাতে না, অন্যান্য দেশগুলোতে নিলেও এই চিত্রের তেমন উনিশ-বিশ হবেনা।আমি এক নরডিক দেশে থাকি যেখানে বাংলাদেশির সংখ‌্যা সাকূল্যে ৮০০ এর বেশি হবেনা।এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি সোশ্যাল সিকিউরিটির টাকায় চলে।এবং এটা নিয়ে তাদের ন্যুনতম কোন লজ্জাবোধ নাই।

যেহেতু উনাদের কাজের পিছনে নষ্ট করার মতো কোন সময়ই নাই, তাই সেই সময়টুকুর যথার্থ ব্যবহার করেন একজন আরেকজনের পাছায় বাঁশ দিতে।আমি যে শহরে থাকি সেখানে ইতোমধ্যে ৩টা গ্রুপ, ক্ষেত্রবিশেষে উনাদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ, কখনো-সখনো পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায়।

বাংলাদেশ সমিতির কে সত্যিকারের মালিক, যেটা নিয়ে এখন কোর্টে মামলা মোকাদ্দমা চলছে!

আম্লীগ-বিম্পি'রে গালি দেওয়া বহুত আগেই বাদ দিছি।

দোষ শুধু মন্ত্রী-মিনিষ্টার আর দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তাদের না, দোষ আসলে আমাদের রক্তে।

কৌস্তুভ এর ছবি

মন্তব্যে অনেকে অনেক রকম পর্যবেক্ষণ আর বিশ্লেষণ দিচ্ছেন। আপনার আঙ্গিকটা নিয়ে আলাদা করে আর কিছু বলছি না। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

কৌস্তুভ এর ছবি

বলাইদা, আপনার এদিক-ওদিক একাধিক মন্তব্য মিলিয়ে একসাথে উত্তর দিচ্ছি।

এই পোস্টের 'বিষয়'টা কি, তাও একটু ক্লিয়ার করে বলেন।

আবারও একবার দেখতে পেলাম, যে আপনি পোস্টটা ভাল করে পড়েন নি, বা বোঝেন নি। তার আগেই সমালোচনায় লেগেছেন। পোস্টের বিষয় বা উদ্দেশ্য শুরুতেই স্পষ্ট করে বলে দেওয়া। ওই গ্রাফ'টা কোনো বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্য থেকে (ইসলামোফোবিয়া, জাতি-বিদ্বেষ, যাই হোক) ওই দুটো গ্রুপকেই হাইলাইট করছে নাকি, বা চীনাদের বাদ দেওয়া ইত্যাদি তথ্য বিকৃতি করছে কি না, তা অনুসন্ধান করা।

রেশিও মাপবেন না কেন? এক্ষেত্রে রেশিওটা কি অযৌক্তিক প্রভাবক? নাকি রেশিও মাপলে পূর্বসিদ্ধান্তের সাথে তথ্য মেলাতে সমস্যা?

আবারও উদাহরণ যে, স্ট্যাটে আপনার ধারণা অপরিণত। ওই যেমন ইন্টারপ্রিটেশন নিয়ে। কিন্তু তাই নিয়েই আমার হিসাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গলদ আছে বলে দেখাতে চাইছেন। প্রথমত যে জিনিসগুলোর তুলনা করছেন তারা নিজেরাই স্ট্যান্ডার্ডাইজড অনুপাত। স্ট্যাটে বিশেষ পরিস্থিতি বা মডেল (যেমন বা কন্টিঞ্জেসি টেবিলের অডস রেশিও) ইত্যাদি ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডিফারেন্সই প্রচলিত স্ট্যাটিস্টিক। সেটা রিগ্রেশনই হোক বা টি-টেস্ট বা বাইনোমিয়াল মীন ডিফারেন্স...। একটা বড় কারণ বলতে পারি, ডিফারেন্স মাপার অর্থ গ্রাফ থেকে দুটো বারের উচ্চতার তফাত মাপা, যেটা হবে একটা বারের খণ্ডাংশ, সেটা পাশের স্কেল থেকে মেপে নেওয়া সহজ। আই-এস্টিমেশনে রেশিও পাওয়া পাঠকের পক্ষে কঠিনতর। আর দ্বিতীয় কারণ বলতে পারি, রেশিও এস্টিমেট আনবায়াসড নয়। তৃতীয় কারণ, সেটার ভেরিয়েন্স এস্টিমেট করা কঠিন। বিশেষ করে, এখানে যেগুলো মাপছি সেগুলো ছোট সংখ্যা, ৫-১০% এর নিচে, এক্ষেত্রে রেশিওর ভেরিয়েন্স বেশ বেশি হয়, ফলে ডেটার সামান্য পরিবর্তনে ফ্লাকচুয়েশনও বেশি হয়।

আমি ডিফারেন্সই নিই আর রেশিও, ফলাফল যা দেখা যাচ্ছে তাতে বেশি তফাত নেই। আপনার পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত হাস্যকর।

ইমেজের বিষয়টা বিস্তারিত বলেন। আমার কোন ইমেজের জন্য আপনার মনে হলো পরিসংখ্যানের পোস্টে আপনার পোস্ট বলে খুঁত ধরা শুরু করবো?

এই নিয়ে আর কিছু বলতে চাইনি। চাপাচাপি করছেন যখন তখন এটুকু বলি, খ্রীষ্ট কায়েদা পোস্টে দেখেছিলাম, অন্য ধর্মবাদী দলের চেয়ে ইসলামিস্ট টেররিস্টদলের অপকর্মের হার বেশি, এই কথা বলায় আপনি সেদলের পক্ষ নিয়ে এইসেই বলে ব্যাপারটা অস্বীকার করতে, উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এখানেও তথ্য বাংলাদেশী ইমিগ্রান্টদের (বা 'মুসলিম ইমিগ্রান্ট'দের) অনাকাঙ্খিত ছবি আনছে দেখেই তা দুর্বল যুক্তি দিয়ে উড়িয়ে দিতে চাইবেন, তা অনুমান করেছিলাম। এবং থিয়োরি/মডেলের দক্ষতার পরীক্ষা প্রেডিকশনের সফলতায়। হাসি

আর যেখানে আপনার লেখা থেকে লোকজন সিদ্ধান্তে আসছে, হীনমণ্যতায় ভুগছে, এথনিক রেসিজমের সৃষ্টি হচ্ছে, সেখানে আপনি 'লেখক', শুধু পরিসংখ্যানবিদ না।

এই সমস্যা কতোটা এথনিসিটিউদ্ভূত আর কতোটা সরকারের ব্যর্থতা তার হিসাব করার আগে আমার এথনিসিটির কারণে লজ্জিত হওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পেলাম না।

এই লেখা থেকে লোকে এথনিক রেসিজমে উদ্বুদ্ধ হয়ে গন্ডগোল করছে? হা হা হা... কই কোথাও দেখলাম না তো?

বাংলাদেশি লোকজন তাদের দেশীভাইদের মধ্যে এই ট্রেন্ডের তথ্য দেখে লজ্জিত হয়েই পোস্ট দিয়েছিল। তা তারা লজ্জিত হবে, নাকি গর্বিত হবে, এসব আমার এক্তিয়ারে না। যে ডেটা দেখে তাদের এই ভাবনা হয়েছে, সেটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা বিদ্বেষপ্রসূত হয়ে বিকৃত কি না, সেটুকু দেখাই আমার উদ্দেশ্য ছিল, শুরুতেই বলেছি।

এই তথ্য থেকে কে কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা একান্তই তার ব্যাপার। কে লজ্জিত হবে, কে চিন্তিত হবে, কে প্রতিকার করতে চাইবে, তা বলে দেওয়া স্ট্যাটিস্টিশিয়ানের কাজ না, তার কাজ তথ্যটুকু দেওয়া, পলিসি ডিসিশন সরকারের হাতে, মনোভাব পাঠকের হাতে। ওই ভদ্রলোক পলিসি কনসাল্টিং করেন, অতএব তাঁর এই তথ্য ঘাঁটায় যৌক্তিকতা আছে, খারাপ ইনটেনশন নেই।

বিভিন্ন গ্রাফের তথ্যের মধ্যে কো-রিলেশন বের করুন।

এইটা অত্যন্ত vague একটা কথা। কোন গ্রাফ, কোন তথ্য? সব ধরে ধরে করতে হবে নাকি?

যেমন, অল্পবয়সী ছেলেমেয়ে বেশি থাকার সাথে কাজে অনীহা সম্পর্ক কি, বের করুন। মাদ্রাসা আর স্কুলে পড়ার সাথে গ্রেডের কো-রিলেশন কি সেটাও বের করুন।

এরকম কয়েকশ ভেরিয়েবল মাপা হয়েছে ওই সার্ভেতে, প্রতিটার উপর এথনিসিটি আর ইকনমিক অ্যাক্টিভিটি অ্যানালাইজ করতে যাব কেন? আপনার মনে হয়েছে বলেই? তারপর এইদুটো করে যদি explain away করে না দেওয়া যায়, তখন হয়ত আরো দুটো ভেরিয়েবল তুলে বলবেন, এগুলোর উপর করুন। আপনার যদি কংক্রিট থিয়োরি থাকে যে কোনো ভেরিয়েবল দিয়ে ভাঙলে এই তফাতগুলো চলে যাবে, তাহলে ব্যাখ্যা করে উপস্থাপনা করুন, তারপর নাহয় সেগুলো বিশ্লেষণ করা যাবে।

এই পোস্টে কয়েকটা তথ্য তুলে দিয়ে তাতে প্যাটার্ন ম্যাচিং করে বাংলাদেশী ও পাকিস্তানীদেরকে সিঙ্গেল আউট করা হয়েছে এবং এরপরের ম্যাচিংয়ে ইসলামী কালচারকে কাজে অনীহার কারণ হিসেবে সিদ্ধান্তে আসা হয়েছে।

এখন এসব কনটেক্সট বিবেচনা না করে আমি হুদা কিছু সংখ্যা আমার ইচ্ছেমতো চয়ন করে বসায় দিলাম, যাতে লোকজন বুঝে 'মুসলমান' মানেই মাথা খাটো, তাইলে সমস্যা। এই পোস্টের সমস্যাও এটা।

"ম্যাচিংয়ে ইসলামী কালচারকে কাজে অনীহার কারণ হিসেবে সিদ্ধান্তে আসা হয়েছে" এ কথা সম্পূর্ণ অসত্য। ইসলামি কালচার সম্পর্কে কোনো মন্তব্য পোস্টে করাই হয়নি। এই দুই দেশের প্রতি কোনো সম্ভাব্য বিদ্বেষ আছে কি না, বা ইসলামোফোবিয়া আছে কি না, এই সন্দেহটাই বরং প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্ত করার পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নি। অ্যানালিসিসে ধর্মের নামোল্লেখই হয়নি। তাহলে তো ভারতীয়দের মধ্যেও বেশ কিছু অংশ মুসলিম, তাদেরও ধরতে হত। সোমালি ইত্যাদি আফ্রিকানরা মুসলিম, তাদেরও। আর আপনি ইসলামী কালচারকে দোষারোপ করা হয়েছে বলে দিলেন। ইসলামি কালচার তো দূর, আমি কোনো কারণ বা কজালিটি উল্লেখের দিকেই যাই নি, সেই তথ্য নেইও। আমার প্রতি এই অন্যায্য দোষারোপে প্রতিবাদ জানালাম।

নাকি রেশিও মাপলে পূর্বসিদ্ধান্তের সাথে তথ্য মেলাতে সমস্যা?

আপনি যেভাবে তথ্যগুলো 'সত্য' বলে মেনে নিচ্ছেন, তাতে অবস্থা আরো খারাপ হবে।

পোস্ট পড়ে যা বুঝলাম, বাংলাদেশী ও পাকিস্তানীরা যে কর্মবিমুখ প্রাথমিক পরিসংখ্যানের পক্ষের এই দাবীকেই সমর্থন করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে।

এটা জানি, দুনিয়ায় সবার মন জুগিয়ে চলা সম্ভব নয়, এবং তার কোনো প্রয়োজনও নেই। আমার এবং অন্য কয়েকজনের সঙ্গে আপনার বাক্যবিনিময়ের মধ্যে দিয়ে এটা বুঝে গিয়েছি, যে আপনার মন জুগিয়ে চলাও আমার পক্ষে সম্ভব নয়, এবং তার জন্য আমি উদগ্রীবও নই। আপনি যদি আমায় বায়াসড ভাবছেন, পারপাসফুলি ডেটা-ম্যানিপুলেটিভ ভাবছেন, তেমন ইঙ্গিত করছেন, করুন, আমার কিছু যাবে-আসবে না। এত বড় একটা মন্তব্য করলাম, অনেকটা সময় গেল, আর না। আর আপনার সঙ্গে বিতর্ক চালিয়ে সময় নষ্টে আগ্রহী নই।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আগ্রাসী 'ধার্মিক' এবং আগ্রাসী 'নাস্তিক' দুইটাই আমার দৃষ্টিতে ভুদাই। ভুদাইদের সাথে আলোচনায় নষ্ট করার মতো সময় আমারও নাই। তাতে ত্যানা প্যাচানি ছাড়া কোনো মহৎ কর্ম সাধন হয় না। আমার সম্পর্কে আপনার অনুমিতি দেখে বোঝা যায় আমার মন্তব্য গ্রহণ করার মতো ক্যাপাসিটি আপনার নাই। আলোচনাকে প্রথমেই সমালোচনা হিসেবে নিলে সেটা সম্ভবও নয়। সুতরাং অফ গেলাম।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

কৌস্তুভ এর ছবি

বেশ, মানলাম আপনি আমাকে 'ভুদাই' বলে মনে করেন না যেহেতু আমার সাথে এত সময় ধরে আলোচনার নামে অনেক বকেছেন এবং বকিয়েছেন। কিন্তু মনে করুন না করুন আই ডোন্ট গিভ আ ড্যাম। বরং এই অফ যাওয়াটা যদি যথাসময় যেতেন, এত ভুলভাল উল্টোপাল্টা না বকে, তাহলে পাঠকের কাছে কম হাস্যকর হত, আর আমারও সময় বাঁচত, এত ভুলভাল কথা 'গ্রহণ' করার ক্যাপাকিটি বা ইচ্ছা কোনোটাই আমার নাই।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

ভুলভাল বকলাম, নাকি ভুলভাল দেখিয়ে দিলাম? আমি যতোদূর জানি, সচল পরিসংখ্যানের স্কুল না আর আপনি তার মাস্টারমশাই না, সচল লেখার স্থান। আপনাকে আমি কি মনে করি তার ড্যাম দেয়ার ইচ্ছে আপনার না থাকলেও আমাকে 'যথাসময়ের' সংজ্ঞা শেখানোর ইচ্ছাতো ষোলোআনাই দেখা যায় মাস্টারমশাই। নিজের লেজে তেল দেন। আর পাঠকের কাছে হাস্যকর হওয়ার সিদ্ধান্ত পাঠকের ওপর ছেড়ে দিন।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

কৌস্তুভ এর ছবি

দিব্যি তো অফ গেছিলেন, আবারও ফিরে এলেন? অ্যানালিসিসে ভুল তো দেখাতে পারেননি, 'রেশিও নেবেননা কেন' 'রেশিও নেবেননা কেন' ইত্যাদি কিছু ভুলভাল অভিযোগ করেছেন শুধু। আর এই যেমন ধরেন, বিবর্তনের ফলে great apes-রা যে অনেক মিলিয়ন বছর আগেই লেজ হারিয়েছে, এটুকুও না জানলে শেখাতে হবে বইকি...

ধুর, হুদাই বকে চলেছি...

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

প্রধান অভিযোগ, রেশিও না, রেশিওর ধান্দাবাজির বাইরে প্রধান অভিযোগ, আপনি কিছু সংখ্যার মাধ্যমে অবধারিতভাবে একটা বর্ণবাদী - প্রথমত বাংলাদেশী, দ্বিতীয়ত মুসলমান - সিদ্ধান্তে পাঠককে ঠেলে দিয়েছেন।

অনেক পাঠক শুধুমাত্র বাংলাদেশী হওয়ার কারণেই নিজেদেরকে ঘৃণা করা শুরু করেছে এই পোস্ট পড়ে। সুতরাং এই বর্ণবাদী সাংখ্যিক বক্তব্যের দায় লেখককে নিতে হবে। শর্মিলা বসুর গবেষণার সংখ্যা তুলে দিয়েও একই আকাম করা যায়।

পোস্ট রিপোর্ট করলাম।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

কৌস্তুভ এর ছবি

বেশ বেশ, ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে মডুদের অপেক্ষা করি তাহলে। আর মুন্ডুটা এক কোপে নামিয়ে দেওয়ার আগে তাঁদের কাছে ফরিয়াদ করব, লেখাটা পড়ে দেখতে, কোনো ইচ্ছাকৃত তথ্যভ্রান্তি আছে কি না, তথ্যের বেলাইন ইন্টারপ্রিটেশন করার চেষ্টা আছে কি না; একটা সাদামাটা সংখ্যার থেকে একজনের কল্পনায় কোনো পাঠক কী ভেবে নিয়ে ঘৃণা/ভালোবাসা করতে পারে তার দায় তথ্যবাহকের উপর চাপে কি না সেটা ভেবে দেখতে।

আপনি আমাকে ধান্দাবাজ, বর্ণবাদী, ইসলাম-বিরোধী-প্রোপাগাণ্ডাকারী, অনেক কিছুই তো সাজালেন, অসত্য অভিযোগও করলেন। তা নিয়ে মডুদের ডিস্টাপ দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করিনি। আর আপনি যখন ঘামের ফোঁটায় কুমীর দেখে মডুদের কাছে গিয়ে নালিশ জানালেন, তখনও আপনাকে 'কান্নাপক্ষ' বলে হ্যাটা না দেওয়ার ভদ্রতাটা আমার আছে।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

ভাই, আমি কান্নাপক্ষই। তবে এক্ষেত্রে কান্নাটা রেসিজমের বিরুদ্ধে। আমার প্রথম মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়ই আপনি যেভাবে ব্যক্তিআক্রমণ করা শুরু করেছেন, সেটা নিয়ে কান্নাকাটি করি নাই। এখন তো পুরা বাঁদর-টাঁদরের কেচ্ছা পর্যন্ত চলে গেছে। এ লাইনে আপনার প্রতিভার প্রশংসা করতেই হয়। এটা বড়ো কোনো ব্যাপার না আমার জন্য। তবে রেসিজমটা ব্যাপার।

আমিও মডুদের জন্য অপেক্ষা করছি। সচল বাংলাদেশবিরোধী সিলেক্টিভ সংখ্যার পারিসংখ্যানিক স্কুল কিনা, দেখা যাক।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

কৌস্তুভ এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি গ্রেট এপস (এবং তাদের সাবসেট মানুষদের) লেজ নেই - এই তথ্য বলাটাকে আপনি 'বাঁদর বর্ণবাদী গালি হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে' দেখাতে চান নাকি? অহো অহো...

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

এটা বর্ণবাদী গালি না, এটা জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা নিয়ে আক্রমণাত্মক বক্তব্য। আপনি পরিসংখ্যানে এক্সপার্ট; কিন্তু আমি এক্সপার্ট না। এজন্য সবিনয়ে আমার প্রথম মন্তব্যেই নিজেকে পরিসংখ্যানমূর্খ বলেছি। কিন্তু আপনি জ্ঞান নিয়ে জ্ঞান দেওয়া চালিয়ে গেছেন। এটা হলো সর্বশেষ সংযোজন।

সচল পরিসংখ্যানের স্কুল না আর এই পোস্ট পরিসংখ্যানে দক্ষ পিয়ারদের সেমিনার না। সুতরাং পাঠক 'লেখা' আশা করে, পরিসংখ্যানে কে কতো বড়ো বালছিঁড়াপণ্ডিত এটা সচলের পাঠকের বিবেচ্য না।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

স্পর্শ এর ছবি

অ্যালা থামেন


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

এই পোস্টে আপনি তো ছাগোলের তিন নাম্বার বাচ্চার মতো অনবরত লাদি ছেড়ে যাচ্ছেন। আমারে থামানোর কন্ট্রাক্ট আপনাকে কে দিলো? বাপ-মায়ে ভদ্রতা বইলা কিছু শেখায় নাই, নাকি উগ্র নাস্তিকতা শিখাইয়া 'দুনিয়ার মুসলমানরাই সব নষ্টের মূল' এই বাণী পুটকির মস্তিষ্কে ঢুকাইয়া ছাইড়া দিছে আর আপনি সেই পুটকি দিয়া লাদাইয়া যাইতে থাকবেন। অন্য কেউ কমেন্ট করলেই তারে থামতে হইবো?

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

ফাহিম হাসান এর ছবি

বলাইদা, তাহলে ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা হিসেবে আমিও নাক গলাই -

যদি আপনার কোন বক্তব্য থাকে আর সেইটাতে অন্য কারো নাক দেখতে না চান, তবে রেস্ট্রিক্ট করে দিলেই পারেন। যেহেতু উন্মুক্ত অবস্থায় লিখেছেন, কাজেই আর দশজনের প্রতিক্রিয়া আসবে এটাই স্বাভাবিক।

আপনার সাথে লেখক-পাঠকের মত পার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু এরকম উগ্র মন্তব্য, গালাগালি আশা করি নাই। থামলে ভাল হত, কিন্তু সেটা যেহেতু হচ্ছে না, কাজেই শুধু কৌস্তুভকে কিছু বলার থাকলে অন্তত রেস্ট্রিক্ট করে দিন।

ব্যক্তিগতভাবে আমি এই পোস্টে উগ্র নাস্তিকতা, বর্ণবাদী চিন্তা বা জাত্যাভিমান কোনটাই পাই নাই।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আমারটা রিঅ্যাকশন। গালির পালটা গালি। তারচেয়ে বেশি কিছু না। আগে গালির প্রতিবাদ করতে হবে, পরে পালটা গালির। সিরাতের অ্যাপোলজিস্ট ছাগু সচলে আমাকে থামার উপদেশ দিবে, এটা গ্রহণযোগ্য না।

কৌস্তভের পোস্ট আর স্পর্শের 'মুসলমানিত্বই সব নষ্টের গোড়া' এই জিকিরে আপনি খারাপ কিছু না পেতে পারেন, সেটা আপনার ব্যাপার; কিন্তু আমি এটাকে বিশুদ্ধ রেসিস্ট পোস্ট হিসেবে দেখছি এবং সেটার প্রতিবাদ করছি। আরো কয়েকজনও দেখলাম একইভাবে পোস্টটাকে পড়েছে, অনেকে নিজের রেসের জন্য কান্নাকাটিও শুরু করেছে পোস্ট পড়ে। সচলে এরকম রেসিস্ট পোস্ট দেখতে চাই না।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

স্পর্শ এর ছবি

সিরাতের অ্যাপোলজিস্ট ছাগু

তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ,
আমি আজ ছাগু বড়...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

স্পর্শ এর ছবি

এইতো! শাব্বাস!! চালিয়ে যান।

দুনিয়ার মুসলমানরাই সব নষ্টের মূল

এই কথা একবারও বলিনাই। তারা নিজেরা নিজেদের গোড়ামীর কারণে পিছিয়ে পড়ছে এটাই বলেছি... আমি আস্তিক নাকি নাস্তিক সেটাও কোথাও বলিনাই।

তবে আপনি কী সেইটা বুঝতে পারছি।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

চরম উদাস এর ছবি

অ্যাঁ ... এইগুলা কি বলেন?? কেন বলেন?? ... মন খারাপ

সোবহান মুন্সি এর ছবি

অন্য কিছু বাংলা ব্লগে ধর্মান্ধদের করা মন্তব্যও এই রকমই হয়।

নজমুল আলবাব এর ছবি

বলাই'দা, হইলো না। এটা ভালো কমেন্ট না। আশা করবো এটা সাময়িক মাথা গরমের ফল। ঠান্ডা, ঠান্ডা, ঠান্ডা...

সুরঞ্জনা এর ছবি

এই মন্তব্য আশা ও করিনি, ভালো ও লাগেনি।

আপনার সাথে যুক্তি তর্ক দিয়েই কথা হচ্ছিলো, সহ সচল হিসেবে ব্যাপার বহুদূর গড়ানোর আগে থামতে বলাটাও সমীচিন। বহু পোস্টে এমন কাজ সচলরা পূর্বেও করেছেন, আগামীতেও করবেন। আপনার বেমক্কা এমন গালাগাল বর্ষণ করা টা কোন মতেই ভালো স্পিরিট এর সাইন না।
আপনি উত্তেজিত হয়েছেন বলেই এমন যাচ্ছেতাই ভাষায় কথা বলবেন?

আমি যদি এখন বলি আপনি অকারণে মুসলমান দের পক্ষে ঝোল টেনে গীত গাইছেন, এবং অন্য সব জাতি ওদের পেছনে কাঠি দিচ্ছে, এই এক কথা বারবার বারবার বলছেন যেহেতু, তাই ছাগুটা আপনি?! সেটা খুব যুক্তি-সঙ্গত শোনাবে?
সহ সচলকে যা খুশি তাই বলে যাচ্ছেন বিশ্রি ভাষায়! সিনিয়র হিসেবে আপনাকে এসব মানায়??!

সমালোচনায় অংশগ্রহণ করে অন্য পক্ষের যুক্তি তর্ক দেখলে নিতে পারেন না যখন, তাহলে সমালোচনা করতে যান কেন? নিতে যে পারেন না, সেটা তো প্রমাণ করলেন এই মন্তব্যেই, মনের ঝাল আর চেপে রাখলেন কই?

ভদ্রতা আপনি জানেন?
মডারেটর দের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমিও দেখতে চাই সচলে কি পর্যন্ত ফাজলেমি অ্যালাউড।

............................................................................................
এক পথে যারা চলিবে তাহারা
সকলেরে নিক্‌ চিনে।

তাসনীম এর ছবি

আপনাকে থামানোর সময় এসে গেছে - এই মন্তব্য আপত্তিকর, অশ্লীল এবং অগ্রহনযোগ্য।

মডারেশনকে অনুরোধ করছি এই ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করতে। আমরা কেউ আমাদের সময় এখানে খরচ করি না অহেতুক অপমানিত হওয়ার জন্য।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

সন্দেশ এর ছবি

প্রিয় অছ্যুৎ বলাই,
কুৎসিত ভাষায় একজন সহ সচলকে বিনা উস্কানিতে গালিগালাজ করার জন্য আপনার একাউন্ট ব্লক করা হবে না ক্যানো সে ব্যাপারে কারন দর্শানো হলো। অনুগ্রহ করে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে contact এট সচল বরাবর আপনার জবাব না পেলে আপনার একাউন্ট ডিএক্টিভেট করা হতে হতে পারে।

পোস্টের ব্যাপারে আপনার আপত্তির জবাব আমরা ইমেইলে জানাবো।

আপনার সহযোগীতার জন্য ধন্যবাদ।

(সংযোজন: আপনার একাউন্ট ব্লক করা হলো। কেনো আপনার একাউন্ট পুনরায় এক্টিভেট করা হবে সে ব্যাপারে কারন দর্শানো হচ্ছে।)

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আমার মন্তব্যের কারণ উপরে ফাহিম হাসানের মন্তব্যের উত্তরে একবার বলেছি। আবারও বলি, কৌস্তভ ও আমার মধ্যে যেখানে আলাপ চলছে, সেখানে মাঝখানে নাক ঢুকিয়ে (যৌক্তিক কারণ থাকলে অবশ্য নাক ঢুকানো সমস্যা না) স্পর্শের 'অ্যালা থামেন' বলাকে অসম্মানজনক মনে করেছি। যেখানে এই পোস্টেরই অন্য কয়েকটা থ্রেডে স্পর্শের সাথে আমার আলাপ চলছে, সেখানে কৌস্তভের সাথের এই থ্রেডে এসে আমাকে অসম্মানজনকভাবে থামতে বলাটা সচলের আচারে গ্রহণযোগ্য মনে হয় নাই। আমার মন্তব্যটা স্পর্শের এই অসম্মানজনক ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া। সহসচলদের মন্তব্যে বুঝতে পারছি, এই প্রতিক্রিয়া দেখানো আমার উচিত হয় নাই। এরকম প্রতিক্রিয়াও সচলের আচারবিরোধী। এই মন্তব্যের জন্য তাই সহসচলদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি। ভুলটা দেখিয়ে দেওয়ার জন্যও তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

সজল এর ছবি

নিজের লেজে তেল দেন

কথাটায় আপত্তি জানাচ্ছি।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

পাগল মন এর ছবি

পোস্টটা পড়েছি গতকাল, আজ মন্তব্যগুলোও পড়লাম।
পোস্টটি পড়ে অনেক কিছু বুঝেছি আবার অনেক কিছু বুঝিওনি। সেটা পরে বলছি। কিন্তু মন্তব্য পড়ে একটা জিনিস বুঝলাম না, আলোচনা হঠাৎ করে ইসলাম আর মুসলমানদের দিকে ঘুরে গেল কেন? এই পোস্টের উদ্দেশ্য কী মুসলমানরা (ইসলাম ধর্মে) কাজ করতে চায় না, পড়াশুনা করেনা এসব তুলে ধরা?
আমিতো ভেবেছিলাম এটা জাস্ট একটা লেখা যেখানে স্ট্যাটিস্টিক্সে ফ্যালাসি থাকলে সেটা কিভাবে বের করা যায় এরকম কিছু একটা নিয়ে। অবশ্য আমি ভুলও ভাবতে পারি।

এবার আসি পোস্টের প্রসঙ্গে। আমি স্ট্যাটিস্টিক্স অনেক কম বুঝি। তবে এটা দিয়ে যে অনেক কিছু বোঝানো যায় সেটা জানি। এটা দিয়ে অনেক মিথ্যাকেও সত্যরূপে দেখানো যায় তার প্রমাণ একটা কোর্স করাকালীনই পেয়েছি। যাহোক, এখানে কৌস্তুভদা যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন ব্যাপারটা সেটা আমার বেশ পছন্দ হয়েছে, আশা করব আরো অনেক স্ট্যাটিস্টিক্সের ফলাফলও এভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে।

------------------------------------------
হায়রে মানুষ, রঙিন ফানুস, দম ফুরাইলে ঠুস
তবুও তো ভাই কারোরই নাই, একটুখানি হুঁশ।

কৌস্তুভ এর ছবি

তা আলোচনা যে ঘুরে গেল, আমার কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই, তাই তো দেখছি। এখন 'ধর্মানুভূতি' বড় নাজুক জিনিস, কখন কোথায় যে তা 'আহত' হয়ে পড়ে তা কে জানে...

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

ধর্মের কারণে এইসব উৎপাত হয় বলে একটা যথেষ্ট-যাচাইহীন গাট ফিলিং প্রচলিত আছে। বাট, স্ট্যাটিস্টিক্যালি স্পিকিং, সেইটা বলার ইনাফ ডাটা কি এখানে আছে? অ্যাসোসিয়েশান থেকে কজালিটি বের করা তো এতো স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড না। কৌস্তুভ ভাই এ ব্যাপারে কিছু আলোকপাত করতে পারেন। তিনি অবশ্য সেরকমটা দাবী করেছেন সেটা কিন্তু না। তিনি বরং যারা এই তথ্যের বিরুদ্ধে এথনিক বায়াসের অভিযোগ তুলবে, তাদের বিপক্ষে তথ্যের সত্যতাকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন।

একগুচ্ছ তথ্যের সন্নিবেশকে ঘিরে বিভিন্ন কারণ ব্যাখ্যায় নেমে পড়াটা কিন্তু সোশ্যাল সায়েন্সের চর্চা হচ্ছে। কারণ বের করার জন্যে causal মডেল ব্যবহার করতে গেলে এসব অনেক কথারই আর স্ট্যাটিস্টিক্যাল বা বৈজ্ঞানিক মূল্য অতোটা থাকবে কিনা সন্দেহ।

এবার নিজে কিছু সোশ্যাল সায়েন্স করি, বলে কয়ে। হাসি এথনিসিটি নিয়ে ডাটা অনেক সময়ে বিপত্তিকর। ফ্রান্সে সম্ভবত এ ধরনের ডাটা কালেকশানই নিষিদ্ধ। আমি ব্যক্তিগতভাবে এতে তেমন কোনো সমস্যা দেখি না। মানুষ তাদের এথনিসিটি জাতীয়তা এসব-সেসব নিয়ে গর্ববোধ শ্রেষ্ঠত্বের জল্পনা কল্পনা করাটা তো ভ্যালিড। সেগুলোর বিপক্ষে তথ্য যদি চলে যায়, সেটা ভ্যালিড হবে না কেনো? তথ্যের শুদ্ধতা সেখানে বরং সেপারেট প্রশ্ন, এবং সেটা কেবল এই ক্ষেত্রে না, বিজ্ঞানের সকল শাখাতেই একটা সমস্যা। কিন্তু এথনিক ডাটামাত্রই বায়াস্ড হবে এটা ভিত্তিহীন। তাদের অনুভূতিকে প্রিসার্ভ করার জন্যে তারা চাইলে জাতীয়তা-অনুভূতির প্রতি সশ্রদ্ধ কিছু জার্নালও বের করতে পারে, যাদের পলিসি হবে জাতীয়তা নিয়ে কোনো তথ্যা না ছাপানো, হাসি । তারা শুধু সেসব জার্নালে সাব্সক্রাইব করতে পারে। কিন্তু জগতের সকলকে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকতে হবে এটা মানতে পারছি না। দুটো পপুলেশান থাকলে, দুটো গড় থাকবেই, এবং তারা সমান না হতেই পারে। তখন একটা বেশি হবে, আরেকটা কম। এটা স্ট্যাটিস্টিক্সের নিয়তি। জাতীয়তা বা এথনিসিটি নিয়ে যারা গর্ব করেন, তাদের সবাইকে খুশি করা তো স্ট্যাটিস্টিক্সের পক্ষে সম্ভব না!

কৌস্তুভ এর ছবি

আপনার মন্তব্য ভাল লাগল।

পোস্টের অ্যানালিসিসে আমি কোথাও ধর্ম আনিনি। অ্যাসোসিয়েশান, কজালিটি কিছুই না। ওই প্রসঙ্গে কিছু বলার দরকার আমি দেখিনি, যেহেতু মূল চার্টে ওর কোনো সম্পর্ক নেই।
অবশ্য সার্ভেতে রিলিজিয়নও মাপে, প্রয়োজনে কেউ তুলে দেখতে পারেন। তবেএকটা ব্যাপার এই যে, এসব ক্ষেত্রে স্রেফ ধর্মে নাম লেখানোর চেয়ে বড় ফ্যাক্টর সম্ভবত ধর্মীয় গোঁড়ামি, যেটা মাপা হয় নি।

দুটো পপুলেশান থাকলে, দুটো গড় থাকবেই, এবং তারা সমান না হতেই পারে। তখন একটা বেশি হবে, আরেকটা কম। এটা স্ট্যাটিস্টিক্সের নিয়তি।

হ্যাঁ, কিন্তু সেই কম-বেশিটা কেবলই র‍্যান্ডম, নাকি স্ট্যাটের চোখে সিগনিফিকেন্টলি আলাদা, সেটা মাপার জন্য টেস্ট আছে। আর টেস্ট বলছে, ফর এক্সাম্পল, সার্ভের বাংলাদেশী লোকেদের চেয়ে চীনাদের কমলা অঞ্চলের প্রোপোর্শন সিগনিফিকেন্টলি কম।

rabbani এর ছবি

কাজ না করতে আমার ভালোই লাগে, কিন্তু আসলেই কাজ না করে কতদিন থাকতে পারব জানিনা

আমার তামিল আমেরিকান প্রফেসরের মতে বাঙালিদের মাথায় বুদ্ধি আছে তবে খাটতে চাই না, ব্লগ লিখার মত 'অকাজ' করে বেড়ায় খাইছে
কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক: তার মতে বাঙালিরা জ্ঞানী, তবে সেই জ্ঞান দিয়ে নতুন কিছু না করে, অন্যে কিছু করলে সেটা 'detail ' বুঝার এবং বুঝানোর চেষ্টা করে উল্লেখ্য, তার মাস্টার্স, পিএইচডি, পোস্টডক ৩ টাই বাঙালি (ইন্ডিয়ান) প্রফেস্যরের তত্বাবধানে এবং তার অনেক বাঙালি বন্ধু আছে বলে সে দাবি করে

কৌস্তুভ এর ছবি

কাজ না করে হয়ত কষ্টেসৃষ্টে হলেও অনেকদিনই থাকতে পারবেন, যদি ওয়েলফেয়ার পেতে থাকেন, বা অন্যপথে কোনো ইনকাম থাকে...

দিগন্ত এর ছবি

আমি চার্টটা দেখে অবাক হয়েছিলাম - মনে হয়েছিল এটা সম্ভব না। শেয়ার ও করেছিলাম কেউ খন্ডন করবে এরকম আশায় ... আমি সফল। লেখাটা পড়ে বাকি কমেন্ট করব।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

কৌস্তুভ এর ছবি

বেশ, পাঠপ্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় হাসি

shafi.m এর ছবি

শুরু থেকে শেষ, সবটুকু পড়লাম। বাঙাল বলে কি দুঃখ পেলাম বা লো-সেল্ফস্টিমে ভুগ্লাম? এ না। তবে, রাগ যথার্থই হলো, না না পোস্টদাতার প্রতি ন্য়, বাঙালদের প্রতি। স্টাটিস্টিক্সের ভুল ধরার মত যথেষ্ট বোধ-বিদ্যা নাই, তবে এমন উই-চুই পত্রিকায় পড়ছিলাম বলেই জ্ঞান করি। বাঙালরা কাজে অনিচ্ছুক? হ্তেপারে।

কোলিশন সরকার প্রধান শর্ত দিতে গিয়ে বলেছেন, ইংরেজি না জানলে ভাতা-টাতার কঁাথায় আগুন। (যতদূর জানি) সিলোটি বাঙালরা (কিছু অংশ) ইংরেজি শেখার ব্যপারে ধরি মাছ-না ছুঁই জল অবস্থা। হাটুতে ট্রাওজার বেধেঁ ও স্পাইক চুলে "ই'নে" তেই থেমে আছে বলে আমার ধারণা। ইংরেজিতে অনিহার কারণে সেই ফ্রাকশনের শিক্ষা হ্য়-মাদ্রাসা এস্টাবলিস্টমেন্টে নাহ্য় নিল হ্য়ে থাকে। মাদ্রাসা ও ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা শিক্ষার্থিরা এফোর্ড করতে পারলে উচ্চ শিক্ষা নেয়্নি এমন বাঙাল ও অবাঙাল মুসলিম পাওয়া দুষ্কর হবে। তা ছাড়া বিশেষত মুসলিম বাঙালরা ব্যক্তিগত ব্য্পারে ব্যাংক লোন নেয়াতে শরিয়াহ একাউন্ট্কে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে (প্রায় সব ব্যাংকই ইসলামি একাউন্ট অফার করে) ইন্টারেস্ট না দেয়ার জন্যে (অনেকে একারণে বাড়ি মর্গেজও নেয় না) আর ইসলামি একাউন্ট থেকে বড় অংকের লোন পাওয়া প্রায় যায়্না বলা চলে এ কারণেও অনেক ছাত্র-ছাত্রী ছোট ব্যবসা বা সুপার মার্কেটের ম্য্নেজার হ্য়ে কর্ম জীব্ন শুরু করে; তাব্লিগ কেউ করে কিনা বলতে পারব না, দেখিনি। "নিল" এর একাংশ বয়সন্ধির পর উচ্ছন্নে যায় তারপর এক্টু বড় হলে ফ্যমিলি বিজনেসে ঢুকে পরে, আরেকাংশ জীবিকার অল্টার্নেটিভ খুঁজে বার করে, আর সরকার থেকে প্রাপ্ত বেনেফিটে চলা এই অল্টার্নেটিভের অন্তরভুক্ত এবং একাধিক ফ্যমিলি মেম্বারও কিছুটা প্রভাবিত হ্য় এই অংশের কারণে।

মুসলিমদের জেনরালাইজেশন নতুন কিছু নয়, মুসলিমদের সাথে এক্সট্রিমিস্ট ও "ল্যাক ওফ এজুকেশন" এর মিক্সারও হিস্ট্রি হ্তে চল্লো, গা সওয়া ব্যপার, একদল মুসলিম তো আরেক কাঠি উপ্রে, না পেরে বলে "যাহ এভ্যুলেশন থিওরি মাইন্যা লইলাম, হুহ (!)"। সবার সম টার্গেট, মুসলিম। এমনকি মুসলিমরাও মুসলিমদের। যাক এটা অন্য ব্যাপার, মন্তব্য ও প্রতিমন্তব্যে সামান্য আলোচনা দেখে মনে হল কিছু বলি আরকি। আমি মুসলিম, বাঙাল মুসলিম। এটা নিয়ে অন্য টপিক খুলে মনভরে মুসলিম বিদ্বেষীদের সাথে তর্ক-বিতর্ক করবোনে।

ফাইনালি, বালাইদা, স্পর্শ, কঔস্তুভ (দুঃখিত, ম্যাকে সচলায়তনের ফোনোটিক ব্যবহার করে আপ্নার নামের বানান লেখা অসম্ভব) কোথায় থাকেন জানি না; আমার ধারণা মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা (স্টাটিস্টিক্স) যেমন বিভিন্ন দেশে ভ্যারি করে, তেমনি আরো অনেক স্টাটিস্টিক্সও বিভিন্ন দেশ ও জাতির (একি দেশের-ও) হিসেবে ভ্যরি করাটাই স্বাভাবিক। জার্মান, ব্রাইটনরা, বা নর্থামেরিকানরা বিভিন্ন অজুহাতে জানাতে কার্পন্য নাও করতে পারে যে আমাদের হাত কত বড় আর আমরা কত্দূর চুলকাতে পারি কিন্তু আদতে কি তাই? চকচকে ধাতব বস্তু তাই সবসময় সোনা নয়, অথচ ধাতব বস্তুও সত্য, সোনাও সত্য। বালাইদার মত আমারও ধারণা ছিল বাঙালদের পক্ষেই হ্য়ত লিখবেন, অবশ্য শেষে এসে মাথা চুলকান লাগল। মন্তব্যে এক বাঙাল তো বলেই ফেল্ল (সে যেথায় থাকে সেথায়), বাঙালরা একে অন্যের পাছায় আঙগুল দিয়ে সেদেশের সরকার থেকে প্রাপ্ত ভাতার শ্রাদ্ধ করে, এসব নাকি আমাদের রক্তের দোষ! মাঝে মাঝে অবাক হই না যে ৭১ এ আমরা অনেক বাঙাল পেয়েছিলাম যারা বাঙাল মারার জন্যে কত কমিটি-ফমিটি করেছিল।

আমার শিক্ষাভাবের কারণে মনে হল কঔস্তুভ ভায়ের লেখাটা সম্পূর্ন ন্য়। ইফ ইউ কুড, প্লিজ হেল্প আস ফাইট দেম ব্যাক (I really thought, that's what you were trying to do. Weren't you?)

শাফি।
পূব লন্ড্ন, ইংল্যান্ড।

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

Fighting for them is easier than fighting them back.

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

কৌস্তুভ এর ছবি

'আস' মানে কারা, 'দেম' মানেই বা ঠিক কারা? কাদের সাথে কীরকম 'ফাইট' হওয়ার কথা হচ্ছে? না জেনেশুনেই কী করে হ্যাঁ/না বলি...

একটা সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট একটা বিষয় চেক করা অবধিই লেখাটার উদ্দেশ্য ছিল, সেই হিসাবে যাঁরা তার সমাজতাত্ত্বিক আলোচনা বা বিশ্লেষণ আশা করবেন, তাঁদের কাছে লেখাটা অসম্পূর্ণ তো বটেই।

guest_writer এর ছবি

শাফি, আপনার অবগতির জন্য একটি তথ্য জানাই। এই কয়েকদিন হল, পূর্ব লন্ডনের একটি নার্সারী স্কুলকে " বেষ্ট নার্সারী স্কুল ইন ইংল্যান্ড " পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ( দুঃখিত এই মূহুর্তে নামটি স্মরন করতে পারছিনা )। এই স্কুলের শিক্ষার্থিদের অধিকাংশই সিলেটি বাবা-মায়ের সন্তান, এবং বাঙালি শিক্ষকও আছেন। বাঙালি হিসাবে গর্ব করতে পারেন। সিলেটি হলেতো কথাই নেই।

সব জাতের সব ধর্মের মানুষের মধ্যেই ভালমন্দ উভয় ধরনেরই মানুষ আছে।

প্রৌঢ়ভাবনা।

তারাপ কোয়াস এর ছবি

১. পোষ্টের বিশ্লেষণ ভালো লেগেছে। কৌস্তুভ'দাকে ধন্যবাদ।

২. "বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত" দল কর্ম বিমুখ কেন সেটা ভিন্ন আলোচনা(আমি যতটুকু বুঝেছি সেটা এই পোষ্টের উদ্দেশ্যও ছিলও না)। তবে পাঠক হিসাবে বাড়তি লাভের খাতায় পোষ্টের সাথে মন্তব্যগুলাতে তার অনেক কারণ উঠে এসেছে এবং হয়তো আরও ভিন্ন ধরনের কারণ থাকার সম্ভাবনাও প্রবল।

৩. অফ টপিক একটা মন্তব্য যোগ করতে চাই। স্পর্শ ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমার ভিন্নমত পোষণ করছি।
নিজেদের মুসলমান দাবি করা জনগোষ্ঠী মোটা দাগে শুধু ধর্মের কারণে জ্ঞান বিজ্ঞানে অনগ্রসর/কর্ম বিমুখ না, এখানে ধর্ম একটা কারণ বটে তবে অবশ্যই মূল কারণ না।
আমার দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি। আমার এলাকার লোকজন নিজেদের মুসলমান ভিন্ন অন্যকোন ধর্মের (কঠোর)অনুসারী বলে দাবি করেন। এবং কাছাকাছি কিছু সংখ্যক ভিন্ন এলাকার সমমনাদের নিয়ে এদের বিভিন্ন ধরনের প্যারিস,পরিষদ, কমিটি ইত্যাদি বর্তমান। এই অঞ্চলের এবং কাছাকাছি এলাকার লোকজন এর ভেতর দীর্ঘকাল উচ্চশিক্ষায় অনীহা এবং কোন এক বিশেষ পেশার প্রতি আকর্ষণ বোধ করতো(যদিও অতি সম্প্রতি এই ঝোঁকের অনেক পরিবর্তন ঘটেছে, তবে সেটা কোন ধর্মীয় কারণেও ঘটে নাই!)

অপরপক্ষে সমমনা দাবিদার এবং (কঠোর)অনুসারী কিন্তু ভিন্ন এলাকায় এই চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন! তাঁদের উচ্চশিক্ষার প্রতি ঝোঁক বেশী এবং উল্লেখিত কোন বিশেষ ধরনের কোন পেশার প্রতি তাঁদের অনুরাগ নেই।

প্রসঙ্গত বলে রাখি এই বিশেষ ধর্মের 'হোলিম্যান'দের সাথে চিন্তা চেতনায় কট্টরপন্থী 'মুসলমান হুজুর' এর সাথে মৌলবাদী মন মানসিকতায় বিশেষ কোন পার্থক্য নেই, যা দৃশ্যমান তা শুধুই পোশাকে! এবং যদিও ধর্মগ্রন্থে বা 'হোলি ম্যান'রা উচ্চশিক্ষায় কোন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেন নাই তারপরেও একই দেশের একই জেলার একই বিশেষ ধর্মের অনুসারীদের মাঝে এই বিশাল পার্থক্য!

তাই আমি বলাইদার সাথে একমত যে 'সবকিছু ধর্মের ওপর চাপানোর বায়াস থাকলে আসল কারণ অগোচরে থেকে যাবে।'


love the life you live. live the life you love.

কৌস্তুভ এর ছবি

পোস্ট ভালো লাগায় ধন্যবাদ।

দ্রোহী এর ছবি

কৌস্তুভ এর ছবি

আমার এরকমও একটা মনে হচ্ছিল খানিক খানিক যে এই কার্টুনটা (যেটার সাথে ওই ডায়াগ্রামটা প্রকাশিত হয়েই সেটা ছড়াল) আপনি এখানে দেবেন...

বুড়া এর ছবি

ভারতের হিন্দিভাষী অঞ্চলে একটি গালি প্রচলিত, কামচোর। অস্যার্থ যে পয়সা নিয়ে কাজে ফাঁকি দেয়, কাজ করতে অনিচ্ছুক। গালিটি যথেষ্ট অপমানজনক, কোন সক্ষম পুরুষকে বললে মারামারির সমূহ সম্ভাবনা।
এর হুবহু সমার্থক গালি বাংলাভাষায় অন্তত আমি পাইনি, কাছাকাছি অর্থের যেগুলি আছে, সেগুলিকে এতখানি অপমানজনক মনে করা হয় না।

সজল এর ছবি

এই হুবহু গালি সিলেট অঞ্চলে আছে।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

শাব্দিক এর ছবি

মনে হয় খাদ্য অভ্যাস টা এই কর্ম বিমুখতার পিছনে অনেক অংশে দায়ী।
যার কারনে ইন্ডিয়ান এবং চাইনিজ রা অনেক কর্মঠ আমাদের চেয়ে।

কৌস্তুভ এর ছবি

মনে হয় না। আপনার এই ধারণার পেছনে কোনো কারণ বা যুক্তি থাকলে ব্যাখ্যা করেন।

ভারতীয়, বাংলাদেশী, চাইনিজ সবারই প্রধান খাদ্য ভাত। যদি ধরেন ভারতীয়রা (হিন্দুরা) নিরামিষ বেশি খায়, চীনারা কিন্তু বাংলাদেশী(মুসলমান)দের মতই বীফ ইত্যাদি মাংস দিব্যি খায়। আবার তারা পর্ক খায় কিন্তু বাংলাদেশী(মুসলমান)রা খায় না। এত হরেকরকমবা থেকে জেনারেলাইজ করলেন যে, ব্যাখ্যা করে বোঝান।

শাব্দিক এর ছবি

চাইনিজ যে সব ঐতিহ্যবাহী খাবার আছে সেসহ যেমন গ্রিনটি , জিংসিং এসব অত্যন্ত কর্ম প্রেরনা বৃদ্ধি করে। এক চাইনিজের সাথে কথা হয়েছিল, সে বলছিল তাদের ঐতিহ্যবাহী চাইনিজদের প্রতিদিনের মেন্যুতে এসব কিছু খাবার থাকে যে গুলি তাদের সুস্থ রাখে এবং কর্মঠ করে, যদিও তার মতে নতুন জেনারেশান ফাস্টফুড নির্ভর হয়ে যাচ্ছে, যা ক্ষতিকর।
Ginseng is noted for being an adaptogen, one which can, to a certain extent, be supported with reference to its anticarcinogenic and antioxidant properties. Some animal experiments to determine whether longevity and health were increased in the presence of stress gave negative results. Many studies have been done with varying results using only ginseng extracts. However, when ginseng is used in combination with other traditional Chinese herbs, the synergistic effects had many more definitive and positive results.
In the book Green Tea: The Natural Secret for a Healthier Life, Nadine Taylor states that green tea has been used as a medicine in China for at least 4,000 years.The Chinese have known about the medicinal benefits of green tea since ancient times, using it to treat everything from headaches to depression. There is also research indicating that drinking green tea lowers total cholesterol levels, as well as improving the ratio of good (HDL) cholesterol to bad (LDL) cholesterol.

ভারতীয়দের ভেজিটেরিয়ন যারা তারা তাদের মধ্যে লেথারজিক কম দেখা যায়। কারন এরা লো ক্যালরি যুক্ত পুষ্টিকর খাবার খায়।
Vegetarianism encompasses the practice of following plant-based diets (fruits, vegetables, etc.), with or without the inclusion of dairy products or eggs, and with the exclusion of meat (red meat, poultry, and seafood) Many new vegetarians eat a lot of soy, which they see as complete protein and a satisfactory replacement for meat. Most vegetarian foods, especially legumes and whole grains, have protein, carbs and fat in varying percentages. So think holistically, rather than in separate categories. By eating a wide variety and different combinations of whole foods within your dietary restrictions, you would be able to meet your nutritional needs without excess calories. Legumes - beans and lentils, are an excellent low cal source of vegetarian protein, especially when combined with whole grains. Beans have some carbs, and are slow to digest, so will help to maintain your blood sugar levels
এছাড়া অন্যান্য ভারতীয় রা প্রচুর উপকারি মশলা ব্যবহার করে থাকে। মাদ্রাজি, উত্তর প্রদেশ, কেরালা এমন কি কলকাতার মানুষদের প্রতিদিনের খাবারে প্রচুর ফল, ফলের রস, সবজি এবং ভাতের বদলে রুটি খাওয়ার অভ্যাস বেশি।
People in India consider a healthy breakfast, or nashta, important. They generally prefer to drink tea or coffee with the first meal of the day. North Indian people prefer roti, parathas, and a vegetable dish, accompanied by achar (pickles) and some curd; people of western India, dhokla and milk; South Indians, idlis and dosas, generally accompanied by various chutneys.
Lunch in India usually consists of a main dish of rice in the south and east or rotis made from whole wheat in the northern and western parts of India. It typically includes two or three kinds of vegetables. Lunch may be accompanied by items such as kulcha, nan, or parathas. Curd is also included in the main course. Paan (betel leaves), which aid digestion, are often eaten after lunch in parts of India.
Indian families will gather for "evening breakfast" to talk, drink tea, and eat light snacks.
Dinner is considered the main meal of the day, and the whole family gathers for the occasion. Dinner may be followed by dessert of variety of fruits.
অন্যদিকে মুসলিমদের খাদ্যাভাস দেখা রেড মিট, ভাত , বিরয়ানী ইত্যাদি খাবার বেশি। যদিও প্রতিদিন অন্যান্য ধনী মুসলিম দেশের মত রেড মিত খাওয়া হয় না, কিন্তু বাঙ্গালিদের ভাত খাবার প্রবণতা এদের আলসে করে ফেলে।
তবে খাদ্যাভ্যাস কর্মহীনতার একটা দিক হতে পারে, অবশ্যই একমাত্র কারন নয়।

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

প্রিয়তে নিলাম। আমার তো এমনিতেই মোটা মাথা আর কাব্যান্ধ চোখ। তাই সময় নিয়ে মাথা খাটিয়ে পড়তে হবে। তবে মনে হচ্ছে, মন্তব্যে-প্রতিমন্তব্যে ভরা এই পোষ্টটি অনেক শেখাবে আমাকে। হাসি

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ রোমেল ভাই।

তারেক অণু এর ছবি

ইন্টারেস্টিং

কৌস্তুভ এর ছবি

সে তো বটেই।

কর্ণজয় এর ছবি

নতুন রকম...

কৌস্তুভ এর ছবি

হাসি

ভুলো মন এর ছবি

মন্তব্য প্রতিমন্তব্য সবগুলোই পড়লাম। যার অবস্থানে অনড় থাকবেন এটাও বোঝা গেল। আমি খুব অল্প জানি, তাই সব মন্তব্য একশভাগ বুঝতে পেরেছি এই দাবী করা সম্ভব নয়।

আমার স্বল্প বুদ্ধিতে একটা বিষয় ধরা পড়ে নি, সেটা হলো কেন একজন বাংলাদেশি নিজেকে "কাজ করতেই ইচ্ছুক না" এমন দলে ফেলবে। লক্ষ্য করুন, অন্য কোন জাতি নিয়ে এই মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষনে যাচ্ছি না, কারন তাদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে আমার কিছুই জানা নেই। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি, অপরিচিত বা সদ্যপরিচিত কারো কাছে নিজের সবচেয়ে ভালো দিকটাই প্রকাশ করা দস্তুর। আর কমবেশি সব পরিবার থেকেই শেখানো হয়, "নিস্কর্মা" পরিচিতিটা খারাপ। ধরে নেয়া গেল, জরিপে অংশগ্রহনকারীরা অপরের মনোভাবকে পাত্তা না দিয়েই অভ্যস্ত। থিয়োরীতে বেশি না গিয়ে প্র্যাকটিকালে নেমে গেলাম। পরিচিত কয়েকজন কে ফোন করে জানতে চাইলাম, কে কে কাজ না করতে ইচ্ছুক। ফলাফল এরকম

৫ পুরুষ - কর্মরত - কেউই কাজ করতে চান না
৩ মহিলা - কর্মরত - কেউই কাজ করতে চান না
১ ছাত্র - পাশ করে কাজ খুঁজবেন, পরিবারকে আর্থিক সহায়তার সমস্ত দায়িত্ব তারই
২ মহিলা - গৃহবধু - কাজ করতে চান নিজস্ব সত্ত্বার স্বাধীনতা উপভোগ করতে, কিন্তু আর্থিক প্রয়োজন নেই।
১ মহিলা - গৃহবধু - ঘরে থেকেই তিনি খুশি, তার ধারনা বাইরের পৃথিবী হচ্ছে চোর ছ্যাচোড় এর আড্ডা, কাজ করতে না যাওয়াই উচিত। আর্থিক প্রয়োজন নেই।

খুব কম স্যাম্পল নেওয়া হয়ে গেল, এ থেকে কোন সার্বজনীন সিদ্ধান্তে আসা যায় না, তবুও, একজন ছাপোষা মানুষের পর্যবেক্ষন এটাই। আমি সার্ভের টেকনিক নিয়ে কোন অ্যানালাইসিস করি নি, জানি না সার্ভে তে কিরকম প্রশ্ন করা হয়েছিল। হয়ত বাংলাদেশি কেউ প্রশ্নকর্তা হলে সংখ্যাগুলো অন্যরকম হতো।

কৌস্তুভ এর ছবি

আপনার উদ্যম ভালো লাগল। ওই বিশ্লেষণ কোনো সমাজতাত্ত্বিক করতে পারবেন মনে হয়।

সার্ভে সম্পর্কে উপরে তাসনীমভাইকে যা লিখেছিলাম সেটাই কপি-পেস্ট করছি। চাইলে লিঙ্কে গিয়ে বিস্তারিত পড়তে পারেন।

এখানে গিয়ে সার্ভের মেথডলজি, কী প্রশ্ন করা হয় ইত্যাদি ডিটেলে দেখে নিতে পারেন ইচ্ছা হলে।

কাজে অনাগ্রহ'র মধ্যে অনেক সাবক্যাটেগরি আছে। "আমি আপাতত অসুস্থ, কিন্তু সুস্থ থাকলেও কাজ খুঁজতাম না", "আমি কাজ খুঁজি না, কারণ বিশ্বাস করি যে ভাল কাজ কিছু মিলবে না", ইত্যাদি ইত্যাদি।

একটা লোককে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে অনেক প্রশ্ন করা হয়। তুমি আগে কী কাজ করেছ, কতদিন আগে, এখন করছ না কেন, কোথায় শেষ চেষ্টা করেছিলে, কাজ খুঁজতে গিয়ে কোনো খারাপ ব্যবহার পেয়েছ কি না, ইত্যাদি ইত্যাদি। এত কিছু মিলিয়ে মিথ্যা বলে যাওয়া অসম্ভব নয়, কিন্তু সেগুলো আংশিক হলেও চেক-এর কাজ করে। এবার লোকে যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ভুল তথ্য দিচ্ছে এমন কিছু উল্লেখ তো উপরের মন্তব্যে দেখছিই।

চরম উদাস এর ছবি

ভালো লাগলো পোস্ট ... চলুক

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

পরিসংখ্যান ভালো জিনিস, কিন্তু ইচ্ছে করলে সেটা খারাপ কাজে ব্যবহার করা যায় সেটা এই পোস্ট পড়ে বোঝা যায়। ‘কাজ নাই এবং দিলেও কাজ করার ইচ্ছা নাই’ এইরকম মানুষের কাতারে বাংলাদেশিরা শীর্ষস্থানে আছে আর পোস্টে ভাইটালপরিসংখ্যানিক্সের মুখে নানা কথা বসিয়ে সেটাকে জাস্টিফাই করানোর চেষ্টা- এসবের কোনো মানেই নেই। বাংলাদেশি মানেই ‘কামচোর’- এটা প্রমাণের পেছনে চেষ্টা করে লাভ কি! এটাতো একটা বিশেষ রেসকে টার্গেট করা। সচলায়তনের মূলনীতিও এর বিরুদ্ধে।

যেকোনো সার্ভেতেই নানারকম গলদ থাকে। উদ্দেশ্যমূলক সার্ভে যারা করেন, তারা আগে থেকেই ফলাফল কি আসবে সেটা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে সেই অনুসারে প্রশ্ন সাজান। এইসব সার্ভের ফলাফল দেখেই সিদ্ধান্তে আসা কতোটা যৌক্তিক!

আর একটা কথা- তৃতীয় বিশ্ব নিজের ইচ্ছায় তৃতীয় বিশ্ব হয় নাই। হাজারটা কারণে আমাদের তৃতীয় বিশ্ব বানানো হয়েছে। কর্মে অনীহা- এই ক্ষেত্রে কোন ফ্যাক্টর হিসেবেই আসবে না। একটা উদাহরণ দেই।

ক্ষুদ্রঋণ প্রথম যখন মাঠে নামে তখন তারা বলতে থাকে, দারিদ্র্যের কারণ মানুষের পরিশ্রম না করার মানসিকতা আর মূলধনের অভাব। এর কিছুদিন পরেই পরিশ্রম না করার মানসিকতা নিয়ে তারা আর উচ্চবাচ্য করে না কারণ এটা একটা ডাঁহা মিথ্যা। বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি পরিশ্রমী, তারা হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেও নিজের অবস্থার উন্নতি করতে পারে না। এরপর থেকে কারণ হিসেবে তারা দেখায় শুধুমাত্র মূলধনের অভাবকে। অথচ এর পেছনেও অনেক মিথ্যা। দারিদ্র্যের কারণ শুধুমাত্র মূলধনের অভাব নয়। শিক্ষার অভাব, প্রয়োজনীয় রিসোর্সের স্বল্পতা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব, স্বাস্থ্য- অনেকগুলোই এক্ষেত্রে কারণ। কিন্তু সেগুলোকে সামনে আনা হয় না। তারা মানুষকে ঋণ দিয়ে কিস্তিতে কিভাবে শোধ করবে সেটার চার্ট দিয়েই খালাস। ৯৮% ঋণ শোধের অডিট শিট দেখিয়ে ড: ইউনূস সেইসময়ে বিশ্বের যাবতীয় নিওলিবারেল থিঙ্ক ট্যাঙ্ককে চমকে দেন। চারিদিকে শুরু হয় ইউনূস বন্দনা। ১৯৭৬ থেকে শুরু করে ২০১১ পর্যন্ত আমাদের অর্জন খালি প্রফেসর ইউনূসের নোবেল। গরীব ভুখারা এখনো গরীব ভুখাই আছে। তবে বেঁচেবর্তে আছে- এই যা!

পোস্টটা পড়ে যেসব বাংলাদেশি নিজেদের আলস্যের দিকে ফিরে তাকাবেন তাঁদের শুভেচ্ছা। ‘রাজায় কৈছে *দির ভাই, আনন্দের আর সীমা নাই’- দৃষ্টিভঙ্গি যাদের তাদের ব্যাপারে বিশেষ কোনো কথা নাই। যে যেভাবে ভেবে আনন্দ পায়, পাক না।

স্পর্শ এর ছবি

এইসব সার্ভের ফলাফল দেখেই সিদ্ধান্তে আসা কতোটা যৌক্তিক!

লেখক কোনো সিদ্ধান্তে এসেছেন বলে তো পোস্টের কোথাও দেখলাম না! জরিপ করে কিছু উপাত্ত বৃটিশরা বের করেছেন। যেটা আরেকটু বিশদে ঘাটাঘাটি করে বর্ণনা করেছেন লেখক। এই ঘাটাঘাটির সময় কোনো ঘাপলা বের হলে তিনি সেটা প্রকাশ করতেন বলেই মনে করি। সেক্ষেত্রে ইন্টিগ্রিটি আলোকে ঘাপলা না বের হলেও কী পেলেন সেটা প্রকাশ তিনি করবেন।

জরিপের মাধ্যমে উপাত্ত সংগ্রহ করার সময় বৃটিশরা কোনো দুইনাম্বারি করেছে কি না। সেটা এই পোস্টের স্কোপের বাইরে। কন্টেন্ট নিয়ে ভিন্নমত থাকা আর লেখককে 'অসৎউদ্দেশ্যপ্রবণ' বলে দাবি করা ভিন্নমাত্রার অভিযোগ।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

এক রকমের সিদ্ধান্ত তো আছেই। সরাসরি সিদ্ধান্ত যদি পোস্টে জানানো না হয়, কিংবা পোস্ট পড়ে যদি মনে হয়- ও কিছুই তো বুঝলাম না। আসলে বাংলাদেশিরা আইলস্যা নাকি আইলস্যা না? তাহলে কৌস্তুভকে অনুরোধ করি- ১/২ টা বাক্যে সেটা জানিয়ে দিন- এই জরিপ কতোটা আসল কতোটা ভুয়া?

জরিপের মাধ্যমে উপাত্ত সংগ্রহ করার সময় বৃটিশরা কোনো দুইনাম্বারি করেছে কি না। সেটা এই পোস্টের স্কোপের বাইরে। কন্টেন্ট নিয়ে ভিন্নমত থাকা আর লেখককে 'অসৎউদ্দেশ্যপ্রবণ' বলে দাবি করা ভিন্নমাত্রার অভিযোগ।

স্কোপের বাইরে হবে কেন?

লেখককে 'অসৎউদ্দেশ্যপ্রবণ' কৈলাম কখন? নিজের মন্তব্য গগলস্‌ পরে আবার পর্লাম, কৈ নাই ত। প্রথম প্যারায় পড়ছি কিন্তু। দেঁতো হাসি

কৌস্তুভ এর ছবি

১।

কৌস্তুভকে অনুরোধ করি- ১/২ টা বাক্যে সেটা জানিয়ে দিন- এই জরিপ কতোটা আসল কতোটা ভুয়া?

ভারত সরকারের সার্ভে মেথডলজি নিয়ে বিস্তারিত ধারণা আছে, ব্রিটিশ সরকারের ততটা নেই। তবে এইধরনের লার্জ স্কেল সরকারি সার্ভেতে বড়মাপে ঘাপলা করার ইনটেনশন বা উপায় দুটোই বিরল।

তাদের পদ্ধতির ডেসক্রিপশন পড়ে আমার মনে হয় নি তারা কোনো দুইনাম্বারি করেছে। আর গোপনে গোপনে দুইনাম্বারি করার ইনটেনশন বা উপায় যেহেতু তেমন ঘটতে দেখা যায় না এরকম সার্ভেয়, তাই আগে থেকেই ধরে নেওয়ার কোনো কারণ দেখি না যে এমন ঘটেছে। 'নাল হাইপোথিসিস' এক্ষেত্রে তাদের কিছু ঘাপলা না করার দিকেই থাকবে।

যদি আপনার কাছে এমন কিছু থাকে যে তাতে দেখানো যায় এদের সার্ভেতে ঘাপলা হয়েছে, তাহলে দেখান, মেনে নেব। কিন্তু ডেটা কালেক্ট করে প্রসেস করার পর কোনো একটা আউটপুট টেবিলের ফল সার্ভেকৃত বাংলাদেশিদের ইমেজের পক্ষে ভাল হয়নি, এটাই ঘাপলার প্রমাণ হতে পারে না।

২।

আসলে বাংলাদেশিরা আইলস্যা নাকি আইলস্যা না?

এরকম জেনারেল কনক্লুশন কোনো স্ট্যাটিস্টিশিয়ানই টানতে পারে না। আর তাছাড়া, আইলসা কথাটা তো সার্ভেতে কোথাও ব্যবহারও হয় নি।

'বাংলাদেশিরা আইলসা' এরকম স্টেটমেন্ট আশা করাও তো ভুল। যারা সবুজ বা নীল অঞ্চলে আছে, তাদের কী দোষ যে এরকম একটা জেনারেল স্টেটমেন্টের আওতায় তারাও পড়ে যাবে? আপনি কি তাই ফেলতে চান?

৩।

‘কাজ নাই এবং দিলেও কাজ করার ইচ্ছা নাই’ এইরকম মানুষের কাতারে বাংলাদেশিরা শীর্ষস্থানে আছে আর পোস্টে ভাইটালপরিসংখ্যানিক্সের মুখে নানা কথা বসিয়ে সেটাকে জাস্টিফাই করানোর চেষ্টা- এসবের কোনো মানেই নেই।

বাংলাদেশি মানেই ‘কামচোর’- এটা প্রমাণের পেছনে চেষ্টা করে লাভ কি! এটাতো একটা বিশেষ রেসকে টার্গেট করা।

এইটা একটা অসত্য অপবাদ যেটা বলাইদাও করেছেন। ওটাকে জাস্টিফাই করতে হবে এমন কোনো প্রিকনসিভড নোশন নিয়ে আমি এই পোস্ট লিখতে বসি নি। সেটা পোস্ট পড়ে আপনি না বোঝায়, এবং আমার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অসত্য ইঙ্গিত করায়, বিরক্ত হলাম।

'বাংলাদেশিরা আইলসা', 'বাংলাদেশিরা কামচোর' এ ধরনের কিছু প্রমাণের চেষ্টা নিয়ে আমি বসি নি। তা যে এই ডেটা থেকে করাও যায় না, করার চেষ্টাও অর্থহীন, এটুকুও বোঝেন নি, কিন্তু পোস্টলেখকের সম্পর্কে ঠিকই অন্যায় ইঙ্গিত করছেন।

এ প্রসঙ্গটা যেহেতু এথনিসিটিভিত্তিক ডায়াগ্রাম থেকে উৎপত্তি, তাই এখানে যে অপ্রিয় প্যাটার্নগুলো এসেছে তা কোনো না কোনো এথনিসিটির সম্পর্কেই হবে। সেটা 'রেসকে টার্গেট করা' হবে কেন? অ্যানালিসিসটা বাংলাদেশকে টার্গেট করে তো করা হয় নি, সব এথনিসিটিকে একই ভাবে অ্যানালাইজ করা হয়েছে। যদি কিছু কিছু প্যাটার্নে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান কাছাকাছি রকম (এবং অন্য কিছু এথনিসিটির চেয়ে আলাদা - যেমন আবার কখনও ব্ল্যাক বা কখনও মিক্সড এথনিসিটির সঙ্গে মিলও এসেছে) বলে দেখা যায়, তাহলেই সেটা অ্যানালিস্টের রেসিজম হয়ে গেল? বাহ!

এই অন্যায় অভিযোগগুলো বলাইদা একপ্রস্থ করেছিলেন, তাঁর সঙ্গে একপ্রস্থ বাদানুবাদ হয়েছে। আপনার সঙ্গে একই জিনিস নিয়ে আবারও একই কথা বলে যেতে চাই না।

৪।

যেকোনো সার্ভেতেই নানারকম গলদ থাকে। উদ্দেশ্যমূলক সার্ভে যারা করেন, তারা আগে থেকেই ফলাফল কি আসবে সেটা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে সেই অনুসারে প্রশ্ন সাজান। এইসব সার্ভের ফলাফল দেখেই সিদ্ধান্তে আসা কতোটা যৌক্তিক!

এইধরনের সার্ভের উপর কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এই সার্ভেগুলোর 'উদ্দেশ্য' সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটা ওয়েল-ডিজাইনড সার্ভে করা যা থেকে পপুলেশনের নানা প্যারামিটার ঠিকভাবে এস্টিমেট করা যায়, যা পরবর্তীতে পলিসি প্ল্যানিং ইত্যাদিতে কাজে লাগানো যায়।
ওমুক রেসকে হেয় করতে হবে, সেই উদ্দেশ্য নিয়ে এরকম কোনো বড় সার্ভে সচরাচর কেউ ডিজাইন করে না, করা খুব কঠিনও যেহেতু কম্পিউটারাইজড। এরকম উদ্দেশ্যমূলকভাবে সার্ভের প্রশ্ন সাজানো হয়েছে, এটা খুবই হাস্যকর অভিযোগ। একটা লজেন্স-কোম্পানির রাস্তায়-বসা সার্ভে সম্পর্কে এসব বললে চলত।
(অবশ্য এখন আপনি ওনার স্টাইলে বলতেই পারেন, সচলে মন্তব্য করতে গেলে তো আর সার্ভে/পরিসংখ্যান বিষয়ে পণ্ডিত হতে হয় না, অতএব আমার ভুল ধারণা থেকে করা মন্তব্যও যৌক্তিক।)

এবং একটা ওয়েল-ডিজাইনড ওয়েল-অ্যানালাইজড সার্ভে থেকে তার স্কোপের মধ্যে কোনো ইন্টারপ্রিটেশনে এলে সেটা যথেষ্ট যৌক্তিক। সেটা থেকে 'বাংলাদেশি হবার জন্য লজ্জিত' বা 'বাংলাদেশিরা অলস' টাইপের জেনারেল কনক্লুশন টানাটা হয়ত নয়। এই তফাতটা না বুঝলে আর কী বলার আছে।

এই নিয়ে দীর্ঘ বাদানুবাদ এবং তার তিক্ত ফলাফল সবাই দেখেছেন, আমি তাই এই নিয়ে আর কথা বাড়াতে আগ্রহী নই। আপনাকে অনুরোধ রইল আমার সম্পর্কে অসত্য অপমানজনক ইঙ্গিত না করার।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

অনুরোধ করেছিলাম- ১/২ বাক্যে এইসব ভুয়া কি খাঁটি জানাতে। বিশাল বড় একটা কমেন্ট লিখে ফেললেন। তবে সারমর্মটা বুঝছি- এটা ভুয়া চার্ট না। দেঁতো হাসি

উপরে একবার বলেছি আপনাকে উদ্দেশ্যমূলক বলি নাই। মন্তব্যে যা যা কৈছি ব্রিটিশরাজরে কৈছি। সাথে শুধু এটুকু কৈছি- এইসব উদ্দেশ্যপ্রণোদিত জরিপকে খুঁজে এনে পোস্ট করার কোনো মানে নাই। এগুলো রেসকে টার্গেট করে করা। সচলায়তনের মূলনীতির সাথেও যায় না।

দুইবার ক্লিয়ার কর্লাম। তারপরেও যদি ভাবেন, অপমান। তাইলে অপমান-ই। মন খারাপ

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

সিদ্ধান্তে না আসলেও হবে তাইলে চিন্তিত
।অতীতে মনে পড়ে সিদ্ধান্তে না আসায় সিরিয়াস জটিলতায় পড়ছিলাম।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

নীলকান্ত এর ছবি

বান্ধায় রাখনের মত কমেণ্ট।


অলস সময়

গৌতম এর ছবি

১. আমার কাজ করতে ইচ্ছা করে না। জীবিকার তাগিদে কাজ করি। খাওয়া-পড়ার চিন্তা না থাকলে হয়তো শুধু ঘুরে বেড়াতাম (যে কারণে তারেক অণুকে হিংসাই)। কিংবা হয়তো মানবমুক্তি লক্ষ্যে বিপ্লব করতাম। হাসি

২. আচ্ছা, পপুলেশন পিরামিডের যে গ্রাফটা দিলেন সেটা কীভাবে বানাতে হয়? কোনো লিংক দিতে পারবেন?

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

কৌস্তুভ এর ছবি

যে গ্রাফটা আমি তৈরি করেছি সেটা ডেটা ম্যাট্রিক্সটা থেকে ম্যাটল্যাবে দুতিনটে কম্যান্ড দিয়ে বানানো। পোস্টে উদাহরণ হিসাবে যে পিরামিডটা আছে সেটা তো অন্য কেউ অন্যভাবে বানিয়েছে। আমার ম্যাটল্যাব কম্যান্ডগুলো আপনি চাইলে হিস্টরি থেকে এনে দিতে পারি। আর বাজারচলতি সফটওয়ার কিছু নিশ্চয়ই থাকবে।

গৌতম এর ছবি

আমি আসলে এসপিএসএস-এ এই কাজটা কীভাবে করা যায় খুঁজছিলাম। কিন্তু অপশন পাচ্ছি না। ম্যাটল্যাব জানি না। মন খারাপ

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

কৌস্তুভ এর ছবি

ওহ, সরি তাহলে। এসপিএসএস সুবিধার্লাগেনা তাই বেশি নাড়াঘাঁটাও করিনা।

তাসনীম এর ছবি

এই লেখাটাতে জাতিগত এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ খুঁজে পাওয়াটা আমার কাছে বিস্ময়কর এবং কিছুটা হলেও দুর্ভাগ্যজনক মনে হয়েছে।

একই সঙ্গে এই সার্ভে দেখে বাংলাদেশি হিসাবে লজ্জিত হওয়ার কোনো কারণ আমি খুঁজে পাই নি। আমেরিকার প্রতিটি শহরে বাংলাদেশী অভিবাসী জনসাধারণকে প্রাণান্ত পরিশ্রম করতে দেখি - বৃটেনের তৈরি সার্ভে বৃটেনের জন্য প্রযোজ্য, সেখানে বাংলাদেশিদের আলস্য থাকলে সেই জন্য ওদের সোশাল সিকিউরিটির দুর্বলতা নিশ্চিতভাবে কিছুটা দায়ী। আশা করব তারা তাদের জনগোষ্ঠিকে কর্মমুখি করার চেষ্টা করবে, সেটা বাংলাদেশি বা চাইনিজ যাই হোক না কেন।

একটা ছোট ভূখন্ডে ১৫ কোটি মানুষ খেয়ে পরে বেঁচে আছে - তেমন কোন ঝামেলা ছাড়াই। পরিশ্রমী একটা জাতির প্রতিচ্ছবি আমি আমার স্বদেশের মুখে দেখি। লজ্জিত নয়, বাংলাদেশি হিসাবে আমি গর্বিত।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

গৌতম এর ছবি

একমত তাসনীম ভাই।

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

সজল এর ছবি

একটা ছোট ভূখন্ডে ১৫ কোটি মানুষ খেয়ে পরে বেঁচে আছে - তেমন কোন ঝামেলা ছাড়াই। পরিশ্রমী একটা জাতির প্রতিচ্ছবি আমি আমার স্বদেশের মুখে দেখি।

সেটাই। সীমিত রিসোর্স নিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে ঘন বসতির দেশে একে বারে খারাপ অবস্থায় নেই আমরা, জাতি হিসেবে যদি আমরা আলসেই হতাম, তাইলে ফি-বছর একটা করে দেশব্যাপি দুর্ভিক্ষ হত।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

চরম উদাস এর ছবি

চলুক

স্পর্শ এর ছবি

মন্তব্যটা ভালোলাগলো খুব।

বিদেশে গিয়ে যারা কাজ করেন তারা কী প্রাণান্ত পরিশ্রম করেন সেটা নিজেও দেখেছি। এই গ্রুপের লোকদের জরিপে 'কাজ করতে চাউ কিনা' টাইট প্রশ্ন করে 'না' উত্তর পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু ব্রিটেনে ওরা কীভাবে পেল। এবং তারা আসলে কোন শ্রেনীর প্রতিনিধিত্ব করছে সেটা খুঁজে দেখা যেতে পারে।

এখানে একটা ভিন্ন প্রসংগে কথা বলি। কদিন আগে দেশে থাকতেই একেবারে আমার এলাকার পাশেই ছয় কিশোরকে পিটিয়ে মেরে ফেললো গ্রামবাসী মুসুল্লিরা। ইউটিউবে একটা বিভৎস ভিডিও ও দেখেছি অন্য কোনো যায়গায় আরেক গণধোলাই এর। পথেঘাটে চলাফেরা করলে বোঝা যায় কী ভয়ানক অসহিষ্ণুতা বাসাবেঁধেছে মানুষের মাঝে। সবলের বিরুদ্ধে তারা কিছু করতে সাহস পাচ্ছে না বলে দুর্বল আর অসহায়ের উপরেই ঝাল মিটিয়ে নিচ্ছে...

এইসব অবক্ষয় কিন্তু বাড়ছে। এ ব্যাপারগুলোকে উপেক্ষা করার উপায় নেই। বরং আলোচনা আর পর্যবেক্ষণের সাবজেক্ট করার দরকার আছে। দেশ থেকে ওয়ার্কার হিসাবে যারা বাইরে যায় তাদের পরিশ্রম আমরা দেখছি। দেশের কৃষক-শ্রমিকের পরিশ্রম আমরা দেখছি। কিন্তু এমন সুবিশাল ম্যানপাওয়ার নিয়েও আমরা তেমন একটা তরতর করে এগোচ্ছি না। এর জন্য কর্মক্ষম জনগোষ্টির একটা বড় অংশের স্কিলের অভাব (স্কিল্ল অর্জনে অনীহা/সুযোগহীনতা?) আর কর্মে অনীহাকে দায়ী করা যেতে পারে। গ্রামে গঞ্জে গিয়ে যুবকদের সাথে কথাবার্তা বা মেলামেশার সুযোগ কারো হলে তারাও দেখতে পারবেন চিত্রটা।

শেয়ারবাজার আর মাল্টিলেভেল মার্কেটে অংশগ্রহনের এই হিড়িক-এর একটা ব্যাখ্যা কিন্তু 'আলস্য'।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

ফাহিম হাসান এর ছবি

শেয়ারবাজার আর মাল্টিলেভেল মার্কেটে অংশগ্রহনের এই হিড়িক-এর একটা ব্যাখ্যা কিন্তু 'আলস্য'।

উঁহু, একমত নই। শেয়ারবাজারে প্রতিনিয়ত খবর সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা লাগে। মাল্টিলেভেলে লোকজনের কাছে ধরে ধরে জিনিস্পাতি বিক্রি করতে হয়। আমার মনে হয় ব্যাপারটা ঠিক আলস্য না, বরং শর্ট টার্ম গোল ম্যাক্সিমাইজেশান। আর দুইটা এক জিনিস না।

কৌস্তুভ এর ছবি

চলুক

পাঠক এর ছবি

গুরু গুরু

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

১ দাগাইলাম। এখন এই লেখার পরিসংখ্যান গড় ভোট ৪.৪ (৭ ভোট)।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

তাসনীম এর ছবি

আমি পাঁচ দেওয়াতে এখন ৪.৫ (৮ ভোট)।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

shafi.m এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা- । ইউ আর আ গুড হিউম্যান বিইং ভাই। মন্তব্য-প্রতিমন্তব্যের টেনশন কাটানোয় বড় ভাইদের খুব দরকার। হাসি আপ্নার লেখা পড়তেও অনেক মজা, প্রত্যেক লেখাই এক দমে শেষ। আরো অনেক লিখুন, আরো মজা করে লিখুন। ফিআমানিল্লাহ হাসি

শাফি।

তাসনীম এর ছবি

এটা গুড হিউম্যান বিইং হিসাবে দেই নি। আমি খুব বেশি তারা দেই না - ইন ফ্যাক্ট তারা এখন অর্থহীন - সচল আর হাচল ছাড়া আর কেউ এটা দেখতে পান না। এটা দিয়ে পাঠকপ্রিয়তাও যাচাই হয় না। আর যাঁরা এই পোস্টে মন্তব্য এবং তারা দিয়েছেন তাদের কারো বড় ভাইয়ের দরকার আছে বলে মনে হয় না। সবারই জানা উচিত কোথায় সীমানা।

আমার লেখা অব্যাহত থাকবে।

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

সুরঞ্জনা এর ছবি

এবার আমি অবাক হলাম।

আপনার কাছে এটা এক দেয়ার মতো পোস্ট মনে হবে এটা মনে হয় নি কখনো অনিন্দ্য দা। মন খারাপ
কোন রকনাম অ্যাকিউজ করছি না, বা এক্সপ্লেনেশন ও চাইছি না, কিন্তু এটা এক পাবার মতো পোস্ট মনে হয় নি সত্যি। ইনফ্যাক্ট, কেউ একজন যে একটা ফেইসবুকে সার্কুলেটিং পরিসংখ্যান কে যাচাই করে দেখার ট্রাবল নিয়েছেন, এই অ্যাপ্রোচ টা খুবই ভালো লেগেছে।

পরিসংখ্যান আমার মনমতো হয় নি, তাই বলে এই যাচাই করার অ্যাটেম্পট টা কে এক তারা দেবো? মন খারাপ

............................................................................................
এক পথে যারা চলিবে তাহারা
সকলেরে নিক্‌ চিনে।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

আতে ঘা (চন্দ্রবিন্দু পাইতেছি না) বিষয়টা যে পরিসংখ্যানে লেখা থাকে না, সেই বুঝাইতেই এক্সপেরিমেন্টালি একটা ১ দিলাম। ছোট্ট এক্সপেরিমেন্ট, মন খারাপ হওয়ার কিছু নাই। শিওর।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

কৌস্তুভ এর ছবি

পোস্টের অ্যাপ্রোচটা আপনার ভালো লেগেছে শুনে ভাল লাগল। হাসি

কৌস্তুভ এর ছবি

বেশ করেছেন। এক্সপেরিমেন্ট করতেই দিন, আর আঁতে ঘা লাগাতেই দিন, একতারা দেবেন কি না সে আপনার অধিকার। সত্যি বলতে আমি আপ-টু পাঁচটা একতারা আসতে পারে ধরে রেখেছিলাম, তা কেবল তো গোটাতিনেক এসেছে আন্দাজ।

অনাহুত বা রবাহুত এর ছবি

আমাদের হীনমণ্যতা ঘুঁচুক, আমরা নির্মোহ হই। পরিসংখ্যান নিজে সমাজ নিয়ে কিছু বলতে পারেনা। সে বেচারা শুধু সংখ্যাকে সাজিয়ে-গুছিয়ে কাপড়চোপড় পড়ায়। সেই কাপড়-চোপড় আল্ট্রা-মডার্ণ হবে না আদিমযুগের হবে সেই ফরমায়েশ করে সমাজবিজ্ঞানী খদ্দেরগণ। আর সেই কাপড়চোপড় পরীহিতা পরিসংখ্যানকে সুন্দরী না কুৎসিত দেখায় সেটাও নির্ধারণ করে সমাজবিজ্ঞানীরাই।

কাজেই ইউরোপীয় মুসলিমফোবিয়া/মুসলিম পশ্চাদপসরতা তত্ত্ব/বর্ণবাদ/আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা এগুলোর জন্য বেচারা পরিসংখ্যানকে ধমকাচ্ছি কেন আমরা? কাপড়চোপড় পছন্দ না হলে ভিন্ন ফরমায়েশ দেই কেমন? হাসি আর রুচিভেদে মতভেদ হবেই, তবে নিজের মত অন্যের মুখে না বসালেই হলো হাসি

যে বাংলাদেশকে আমি জানি তাকে হাজার পরিসংখ্যান দিয়েও লজ্জায় জড়ানো যাবেনা। বরং এ থেকে যদি কিছু শেখার থাকে তবে সেটাই শিখি।

কৌস্তুভ এর ছবি

আপনার কাপড়চোপড়ের অ্যানালজিতে একটু সমস্যা আছে। উদাহরণ দিয়ে বলি।

ধরুন আপনি ওষুধ কোম্পানি মার্ক-এর কর্মকর্তা। একটা নতুন ওষুধ তৈরি করেছেন (মানে আপনার ড্রাগ টিম তৈরি করেছে)। তাহলে সে ওষুধটা যেইমাত্র আপনি কোনো ক্লিনিকাল ট্রায়াল-এর মাধ্যমে পরীক্ষা করতে যাবেন, শুরুর আগেই বিস্তারিত প্ল্যান আপনাকে সরকারের সাইটে, ফর পাবলিক, জমা দিয়ে দিতে হবে। পরীক্ষা শেষে ফলাফল নির্দিষ্টভাবে স্ট্যাটিস্টিকালি অ্যানালাইজ করে, এবং র ডেটাও, প্রকাশ করতে হবে সরকারের কাছে। পরীক্ষা চালানোরই নির্দিষ্ট নিয়মনীতিও সরকার বেঁধে দিয়েছে। এসব না হলে, সেটার ফল করে আপনি পাবলিশ করতেই পারবেন না, অতএব সেই ড্রাগ যে কাজ করে এমন দাবীও করতে পারবেন না। অতএব সরকার ছাড়পত্রও দেবে না।

অতএব যদিও আমি স্ট্যাটিস্টিশিয়ান হিসাবে ওই কোম্পানিতে চাকরি করি, আমি আপনার ইচ্ছামত ডেটা কালেক্ট করতে বা অ্যানালাইজ করতে পারব না। আমাকে গাইডলাইন মেনেই কাজ করতে হবে।

তাই সমাজবিজ্ঞানী ফরমায়েশ দিলেও ডেটাকে তাঁর ইচ্ছামত কাপড় পরানো যায় না। এটা যারা করে, তারা ফ্রড, এবং ধরা পড়লে পেপার রিট্রাক্ট হওয়া, চাকরি যাওয়া ইত্যাদি অনেক কিছুই হয়।

স্পর্শ এর ছবি

বৃটিশরা একটা জরিপ করেছে। সেই জরিপের তথ্য নিয়ে কিছু অ্যানালাইসিস করে সেটা উপস্থাপন করছে কৌস্তুভ। এই জরিপে যদি কেউ অবিশ্বাস করতে চায় করতেই পারে। ব্রিটিশদের গালিও দিতে পারে। তাই বলে কৌস্তুভ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এই পোস্ট দিয়েছে- সহ সচলের প্রতি এমন ধারনা পোষণ করলে এক ধরনের মানসিক দেউলিয়াত্বই উন্মোচিত হয়।

পোস্ট এর উপর আলোচনা করতে গিয়ে দেখা গেল অনেকে পড়ে আছেন 'অস্ট্রিচ অ্যালগরিদম' নিয়ে। মুসলিমরা যে পিছিয়ে আছে এবং আরো পিছিয়ে পড়ছে ক্রমাগত সেটা তারা স্বীকারই করতে চান না। এবং আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চাকে রীতিমত প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিরুৎসাহিত হয় বেশিরভাগ মোল্লা কর্তৃক সেটাও তারা মানেন না। হয় তারা অনেকদিন মসজিদ বা গ্রাম মুখো হননি অথবা তারা কোনো মুসলিম দেশে বাস করেন না।

আমরা সব সময় চাচ্ছি সচলায়তনে ছাগুমত বাদে অন্য সকল আঙ্গিকের লেখা আসুক। কিন্তু এই লেখাটা আঁতে ঘা দিচ্ছে বলে অজাচিতভাবেই লেখকে 'গালি' দিচ্ছি। যেখানে লেখাটা অনেক ফলপ্রসু আলোচনার সূত্রপাত করতে পারতো।

এই দৈন্য কাটুক...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

ফাহিম হাসান এর ছবি
shafi.m এর ছবি

বৃটিশরা একটা জরিপ করেছে। সেই জরিপের তথ্য নিয়ে কিছু অ্যানালাইসিস করে সেটা উপস্থাপন করছে কৌস্তুভ। এই জরিপে যদি কেউ অবিশ্বাস করতে চায় করতেই পারে। ব্রিটিশদের গালিও দিতে পারে। তাই বলে কৌস্তুভ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এই পোস্ট দিয়েছে- সহ সচলের প্রতি এমন ধারনা পোষণ করলে এক ধরনের মানসিক দেউলিয়াত্বই উন্মোচিত হয়।

জি জি ভাই, ঠিক বলেছেন।

পোস্ট এর উপর আলোচনা করতে গিয়ে দেখা গেল অনেকে পড়ে আছেন 'অস্ট্রিচ অ্যালগরিদম' নিয়ে। মুসলিমরা যে পিছিয়ে আছে এবং আরো পিছিয়ে পড়ছে ক্রমাগত সেটা তারা স্বীকারই করতে চান না। এবং আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চাকে রীতিমত প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিরুৎসাহিত হয় বেশিরভাগ মোল্লা কর্তৃক সেটাও তারা মানেন না। হয় তারা অনেকদিন মসজিদ বা গ্রাম মুখো হননি অথবা তারা কোনো মুসলিম দেশে বাস করেন না।

ঠিকাছে। তালগাছটা আপনাকে দিলাম

আমরা সব সময় চাচ্ছি সচলায়তনে ছাগুমত বাদে অন্য সকল আঙ্গিকের লেখা আসুক। কিন্তু এই লেখাটা আঁতে ঘা দিচ্ছে বলে অজাচিতভাবেই লেখকে 'গালি' দিচ্ছি। যেখানে লেখাটা অনেক ফলপ্রসু আলোচনার সূত্রপাত করতে পারতো।

মানে আপ্নি মন্তব্য কে ন্য়, মুল লেখার কথা বল্লেন (মানে আমি যে মন্তব্য করছি, তাই ক্লিয়ার হ্তে চাইছিলাম আরকি দেঁতো হাসি ) আর ভাই, কঔস্তুভ ভাই কে কেউ গালি কেন দিবে? উনি আসলেই যে উনার ব্যস্ত সম্য় থেকে কিছু সম্য় বার করে এক্টা ব্রিট পরিসংখ্যান কে বিশ্লষণ করেছেন সেটা প্রসংশার দাবিদার। চলুক

তবে লক্ষ করুন, পোস্টের শিরোণাম হলো উপাত্ত সহ মিথ্যা। অনেকেই মনে (আমি নিজে দেঁতো হাসি ) করেছিলেন যে ব্রিটরা বাঙালদের নিয়ে যে সার্ভে দিয়েছে সেটা আসলে বড়ধরণের হ্ট্কারিতা, তারা ইচ্ছে করে বাঙালদের টার্গেট করছে- সেটাই করতেই তারা উপাত্য সহ মিথ্যা বলছে! কঔস্তুভ ভাই হ্য়ত সেটাই বলতে চাইছিলেন (আমার ধারণা ছিল, এমনকি উনি সেভাবেই এগুচ্ছিলেন মনে হল, আমার ভুল হ্তেও পারে অবশ্য!) কিন্তু পোস্টের শেষে এসে মনে হল কিছু এক্টা বাদ গেল বোধহ্য়! ছোট গপ্পের মত শেষ হইয়াও হইলোনা শেষ।

আমরা বাঙাল, আমরা আমাদের খুব ভাল ভাবে চিনি। তবু যখন দেখি সঠিক সময়ে কনো বাঙাল ব্রিট, নর্থামেরিক্যেন, জার্মান, বা ডেনিশ (যে কেউ, যারা আমাদেরকে হাস্যকর হিসেবে উপস্থাপন করে, এস্পেশালি তারা যদি মড়ল গোছের কিছু হ্য়) দেরকে দঁাতভাঙা জবাব দেয়, তখন বুকে যে কি উথাল পাথাল হ্য় বলে বঝাতে পারবনা, মনের সুখের এক অজুহাত পাইরে ভাই।

এটাও ঠিক, কঔস্তুভ ভাইকে কেউ সে দায়িত্ব দেয় নাই, উনিও কি সেরকম দায় নিয়ে বসে আছেন? নাহ। আমার বা আমাদের মনের সুখ দেবার জন্যে উনি কনো কন্ট্রাক্ট নেননি। তবু কি এক্টা "তবু" থেকে যায় না? উনি এক্টা ব্রিটিশ পরিসংখ্যান কতটুকু সত্য তা প্রমাণ করলেন, যেটা সম্পর্কে খবরের কাগজের কল্যানে সবাই (অনেকেই) অলরেডি অবগত, তাইলে কি হল? এক্টা ব্যাপার খবরের কাগজ থেকে ব্লগে এল, এই? এটাই কি উনি চাইলেন?

উনার লেখাকে ভুল বুঝে থাক্লে, দায় পুরাটাই আমি কাঁধে নিচ্ছি। খুব স্ট্রংলি মনে করতে ইচ্ছে হ্য় যে লেখাটা আমি ভুল বুঝেছি, যদি তা না হ্য়, তবে কঔস্তুভ ভায়ের এ দায় কাঁধে নিতে হবে যে, বিদেশে আম্রা প্রায়ই অপমানিত হই, আমাদেরকে হীন করে উপস্থাপন করা হ্য়, উনি তাতে আরেক্টু ইন্ধন দিলেন যেটা এক্কেবারে প্রয়োজন ছিল না, একদম না। সোহো'তে বাঙালদের (শুধু মাত্র বাংলাদেশিদের!!!) রেজুউমে নেয়া বন্ধ করে দিছিল এক সময়। ইংল্যান্ডে আম্রা খারাপ নেই, আসছি পড়তে আর ভাগ্যন্বেশনে।এখানে রেসিজম এখনো সহনশীল অবস্থায় আছে (অনন্য অনেক দেশের তুলনায়)। তবে এই কতটুকু "খারাপ নেই" এটা বস্টেনে বসে বোঝা যাবে না।

যদি বলি লেখাটা ক্লিশেইড (বাঙালরাই বাঙালদের সবচে বড় ক্রিটিক), বলা কি খুব ভুল হবে?

এই দৈন্য কাটুক...

জি, সব দৈন্যই কাটুক।

শাফি।
পুব লন্ডন, ইংল্যান্ড।

কৌস্তুভ এর ছবি

১। এই গ্রাফটা বা এটার সম্পর্কে লেখা খবরের কাগজে এসেছিল, আপনার দাবি?

২। আপনি অবশ্যই লেখাটা ভুল বুঝেছেন।

"বাঙালরাই বাঙালদের সবচে বড় ক্রিটিক" এই হিসাবে লেখাটা ক্লিশেইড নয়, ফর দা সিম্পল রিজন যে এটা বাঙালদের ক্রিটিসিজম নয়। এটা ওই গ্রাফটার ক্রিটিসিজম (পর্যালোচনা অর্থে)। বাংলাদেশীদের হাবভাব সম্বন্ধে কোনো কমেন্ট করা এই লেখায় হয়নি।

প্রবাসী বাংলাদেশীদের আপনি বলছেন আপনি ভালো করে চেনেন। হয়ত তাই। নিচে একজন আবার বলছেন তিনি স্ক্যান্ডিনেভিয়াবাসী বাংলাদেশীদের ভাল করে চেনেন এবং তাঁর চোখে তাদের ইমেজ ভাল না। কোনটা ঠিক ভুল তা বলার মত স্টেপ আমি নিতে যাব কেন, না জেনে? এবং সেই মন্তব্য করা এই পোস্টের এক্তিয়ারেও পড়ে না।

আমি কী উদ্দেশ্য নিয়ে পোস্টটা দিয়েছি, সেটা লেখার শুরুতেই বলেছি, অন্য মন্তব্যেও বলেছি।

৩। পোস্টের শেষে আপনারা অনেকে যেটা আশা করছিলেন, সেটা হচ্ছে এই যে শিরোনামের সন্দেহটাই প্রমাণিত হবে, পরিসংখ্যানের কোনো ধাপে ওই তথ্যগুলো যে ভুল সেটা প্রমাণিত হবে। হয়নি। তার জন্য আপনারা আশাহত বোধ করতেই পারেন, লেখাটা অপূর্ণ বলতেই পারেন, কিন্তু তার জন্য আমার কোনো দোষ নেই। একটা ফেয়ার ট্রায়াল দিয়েছিলাম, তাতে যা বেরিয়ে এসেছে তাই জানিয়েছি।

shafi.m এর ছবি

না ঠিক গ্রাফ গুলি নয়, তবে গ্রাফ গুলি যে ঘটনার ভিত্তিতে (আমার ধারণা) নির্মিত সে ঘটনার জন্যে এই লিংক্টাতে ক্লিক করতে পারেন।

http://www.dailymail.co.uk/news/article-2037172/Baroness-Shreela-Flather-Migrants-having-big-families-claim-benefits.html?ito=feeds-newsxml

শাফি।

কৌস্তুভ এর ছবি

১। আপনি যে পোস্টটা বোঝেন নি, তার কারণ এখন বুঝতে পারছি - আপনি পোস্টটা ভাল করে পড়েনই নি। এই শ্রীলা ফ্ল্যাথারের কথা ডায়লগের শুরুতেই উকিল-১ ই তুলে এনেছিল। ঠিক এই লিঙ্ক রেফার করেই।
কিন্তু সেটা আরেকটা পোটেনশিয়াল বর্ণবাদের উদাহরণ হিসাবেই কেবল। মূল গ্রাফের সঙ্গে ওই খবরের ডেটার সম্পর্ক নেই।

২। গ্রাফগুলো এই ঘটনার ভিত্তিতে নির্মিত হতেই পারে না। ওই সার্ভে করা হয়েছিল ২০১০ সালে। আর ওই সাইটে গ্রাফগুলো তৈরি করা চলছেও ১৪ই সেপ্ট ২০১১-র অনেক আগে থেকেই।
তার আগেও ফি-বছরই এমন সার্ভে করা হয়েছে। ২০০১ সালের সেনসাস থেকেও ওইরকম প্যাটার্ন দেখা যায় যা মহিলা রেফার করেছেন, সেটার রেফারেন্স আমার লেখায়ও আছে।

প্রিকনসিভড ধারণার ছাঁচে সবকিছুকে ফেলা ভাল না। তথ্যাদি দেখে, সেটার উপর ভিত্তি করেই মতামত দিন, যেমন করা হয়েছে এই লেখায়।

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

চলুক

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

ছাগুমত ছাড়া আরো কিছু বৈজ্ঞানিক মতাদর্শ:

নিওছাগু ভায়া (পুরাতন) লিবারাল হিউম্যানিজম
নিওছাগু ভায়া নিওলিাবরল
নিওছাগু ভায়া (পুরাতম) কলোনিয়ালিজম
নিওছাগু ভায়া নিওকলনিয়ালিজম
নিওছাগু ভায়া নিতসে
নিওছাগু ভায়া নিওকন
নিওছাড়ু ভায়া (পুরাতন) মডার্নিজম
নিওছাগু ভায়া পোমো
নিওছাগু ভায়া (পুরাতন) সোসাল ডারুইনিজম
নিওছাগু ভায়া ডকিন্স


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

যত ইজম তত ইজমিস্ট। যত গুরু তত গোঁড়া।

ন্যাশনালিজম, ফ্যাসিজম, কমিউনিজম, (পুরাতন) মার্ক্সিজম, নিওইসলামিকমার্ক্সিজম, (পুরাতন) স্টেটিজম, নিওস্টেটিজম, টোটালিটারিয়ানিজম (সর্বকাল), পোস্টমডার্নিজম, দেরিদা, ফুকো, হুমায়ুন আজাদ, আহমদ ছফা ...

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

হাহাহা, আমি প্রথমে পড়ছি যত গরু তত গোঁড়া। মনগরু বাইন্ধা রাখনের কাম ...


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

কৌস্তুভ এর ছবি

চলুক

কল্যাণF এর ছবি

পোষ্ট সহ মন্তব্যগুলো বারবার পড়ছিলাম। আলোচনা মাঝেমাঝেই এমন ঘুরে যাচ্ছে যে তাল হারিয়ে ফেলার অবস্থা। আমার মনে হচ্ছে যারা বলছে যে কাজ না থাকলেও কাজ করতে চায় না, তারা কি দিনের পর দিন নিয়মিত অভুক্ত থেকে এই কথা বলছে? এদের গায়ের কাপড়, মাথার ছাঁদ আর অসুখে ডাক্তারের যোগান আছে? থাকলে সেটা আসছে কিভাবে? মানে তাদের কাজের প্রয়োজনীয়তার লেভেলটা কোথায়? তাদের কি বিকল্প কোন ব্যাবস্থা আছে বলে এই কথা বলছে? এই ধরনের মানুষগুলোর অবস্থান কোথায়? কৌস্তভ ভাই, আমি কি কিছু মিস করে যাচ্ছি পোষ্টে, কারণ পড়তে পড়তে আমার এই প্রশ্নগুলো মাথায় এলো। পেটে পাটকেল থাকলে সবাইতো কাজ করতে চাইবে।

আবার যারা কঠিন পরিশ্রম করে ভাত-কাপড়ের চেষ্টায় আছে যদি সত্যি কথা বলে, তাহলে বলবে যে এইবার একটু বসে মাস্তি করে খেতে চাই। আমারতো প্রতিদিন কাজ ছেড়ে চলে যেতে ইচ্ছা হয়, কিন্তু পেটের দায়ে সেটা আর করে উঠতে পারি না। তাছাড়া কাজ ও কাজের পরিবেশ, আয় এগুলোও নিশ্চয় প্রভাব ফেলবে।

কৌস্তুভ এর ছবি

আমার মনে হচ্ছে যারা বলছে যে কাজ না থাকলেও কাজ করতে চায় না, তারা কি দিনের পর দিন নিয়মিত অভুক্ত থেকে এই কথা বলছে? এদের গায়ের কাপড়, মাথার ছাঁদ আর অসুখে ডাক্তারের যোগান আছে? থাকলে সেটা আসছে কিভাবে?

এর উত্তর সম্ভবত, তাদের সোশাল সিকিউরিটির সম্বলটুকু রয়েছে, তাদের এই মিনিমাম জোগানটুকু দেয় সরকার।

ফাহিম হাসান এর ছবি

মূল পোস্ট পড়লাম। ব্যক্তিগতভাবে আমি এই পোস্টে উগ্র নাস্তিকতা, বর্ণবাদী চিন্তা বা জাত্যাভিমান কোনটাই পাই নাই। স্পর্শকাতর ইস্যু তাই একটা ডিসক্লেইমার আসতে পারত (পরামর্শ)। একজন অ্যাকাডেমিক হিসেবে ডেটার সাথে আপনার যা সম্পর্ক, আপনি ডেটাকে যেভাবে দেখেন সবাই সেভাবে দেখবে না - এটাই স্বাভাবিক। আপনার ভূমিকা তাই যোগসূত্র স্থাপন, তাই না? আর এই কাজে আপনি দক্ষ। কারণ আপনার লেখার হাত বেশ ভাল। লেখাটা বুঝতে আমার কোন সমস্যা হয় নাই। তবে আদালতের ছলে না বলে সরাসরি বললেই বোধ হয় ভাল হত।

মন্তব্য পড়া শেষ। এখন মেথডলজি পড়ছি। ফ্রেমিংয়ে সমস্যা আছে কিনা দেখছি। সেলফ রিপোর্টিং বা অ্যাসেসমেন্টে
টিপিকাল কিছু সমস্যা থাকে। আরো টুক-টাক করে মন্তব্য করে যাব।

কৌস্তুভ এর ছবি

ধন্যবাদ।

স্পর্শকাতর ইস্যু বলেই তো সন্দেহ আমারও হয়েছিল। কিন্তু শুরুতে ডিসক্লেমার বলতে কী দেখতে চান? 'পোস্টের শেষে কিছু অপ্রিয় প্যাটার্ন আপহেল্ড হয়েছে' এটা শুরুতেই লিখে দিলে তো বরং প্রিকনসিভড অসদুদ্দেশ্যর অভিযোগ আরও বাড়বে!

ডায়াগ্রামটা দেখে এবং স্পর্শকাতর ইস্যু বলে একটা সন্দেহ হয়েছিল। সেটাকে ধাপে ধাপে চেক করেছি, পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি দেখে, নিজে হাতে ডেটার ময়নাতদন্ত করে। ব্যাপারটা যেভাবে উদঘাটিত হয়ে সন্দেহ থেকে ওই ডায়াগ্রামনির্মাতা মুক্তি পেয়েছেন, সেটাকে শুকনো প্রবন্ধের চেয়ে এই ফরম্যাটে ফেলাটাই স্বাভাবিক মনে হয়েছে।

মেথডলজি পড়ে কী মনে হল জানাবেন।

লার্জ স্কেল সার্ভেতে ছোটখাট গোলযোগ হতেই পারে, তবে ভারত সরকারের সার্ভে ডিজাইনের অভিজ্ঞতা থেকে (যেটা নেহরুর ডাকে শুরু করেছিলেন মহলানবিশ) বলতে পারি, ব্যাক-আপ চেকের ব্যবস্থা রাখা হয়। অন্যান্য সার্ভে, বিগত সার্ভে, ইত্যাদি মিলিয়ে ভেরিফাই করে, কেউ বাড়িতে না থাকলে ফিরে গিয়ে, কেউ রেসপন্সে অনিচ্ছুক হলে র‍্যান্ডমলি অন্য সাবজেক্ট বেছে নিয়ে, এরকম অনেক ব্যবস্থা থাকে।

আর সার্ভে ডিজাইনটা করা হয় দেশকে দুভাগে ভেঙে - আর্বান আর রুরাল। কারণ প্রশাসনিক স্তরগুলো আলদা। রুরালে যেমন, রাজ্য > জেলা > ব্লক > গ্রাম > রাস্তা এই লোয়েস্ট লেভেলে গিয়ে তারপর রাস্তার বাড়ির নম্বর তালিকা থেকে কম্পিউটার র‍্যান্ডমলি নম্বর বেছে দেয়। আর প্রতি লেভেলে কটা স্যাম্পল নেওয়া হবে সেটাও কম্পিউটার মোট সংখ্যা থেকে অনুপাত কষে বের করে।

তা এরকম একটা ডিটেলড ব্যবস্থায় উদ্দেশ্যমূলক পরিবর্তন করা, তাও কেবল একটা বিশেষ এথনিসিটিকে ফাঁসাবার জন্য, করা খুব কঠিন।

এধরনের সার্ভে থেকে যা পাওয়া যায়, তা হল, সার্ভেকৃত মানুষদের মধ্যে গড়ে এই প্যাটার্ন এই এস্টিমেট এই ট্রেন্ড দেখা গেছে।
সেটা থেকে গোটা পপুলেশনের এস্টিমেট বের করা প্রয়োজন, কারণ বানালে তো সবার জন্যই পলিসি ইত্যাদি বানাতে হবে, শুধু সার্ভেকৃত মানুষদের জন্য তো নয়। তাই র‍্যান্ডম স্যাম্পল (স্ট্র্যাটিফায়েড ইত্যাদি করে) নেওয়া, যাতে ওই এক্সটেনশনটা স্ট্যাটিস্টিকালি বেআইনি না হয়।

নজমুল আলবাব এর ছবি

১৬৯ টা মন্তব্য হয়ে গেছে। পোস্ট সংক্রান্ত একটা উপসংহার টানা প্রয়োজন। চিপা কমেন্টের আর প্রয়োজন আছে বলেতো মনে হচ্ছে না। শর্ট টেম্পার্ড লোকজন ভর্তি চারদিকে, আঙুলবাজের সংখ্যাও অনেক। তিতামোর চোটে পরে টেকা দায় হবে।

মঈনুল এর ছবি

লেখাটা পড়লাম,মন্তব্য সহ।কিছু ব্লগারের হাস্যকর যুক্তিগুলো বিরক্তি উৎপাদন করলো যথেষ্ট যদিও।

স্ক্যানডিনেভিয়ায় কয়েক বছর থাকার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি,বাংলাদেশীরা সোশাল থেকে টাকা নেয়ার জন্য হেন কোন কৌশল নেই অবলম্বন করে না।দিনের পর দিন ইচ্ছা করে ভাষা শিক্ষায় ফেল করে,নিজেকে অসুস্হ দেখিয়ে, বাচ্চা নিয়ে সোশালের টাকা নেয় আবার কালো কাজ করে।এই দেশগুলিকে তারা কখনোই নিজের করে নেয় না,সব সুবিধা নেবে,কালো কাজ করবে অথচ রেসিজমের কথা বলবে।কিন্তু এইসব জায়গায় সবার বেতন প্রফেশন অনুযায়ী সেট করা। জাতিধর্মের ব্যাপার নেই, বৈষম্যের সুযোগ নেই। এই আকাম পাকিদের বেলায়ও সত্য।এমনকি ওদের শিক্ষিতগুলাও বদের ঝাড়। সত্য আফ্রিকানদের বেলায়ও। তুলনায় ইরানী ইরাকিরা অল্প কিছুটা ভালো হলেও ওরা ওদের নারীদের অত্যাচার করে,অনারকিলিংও হয়েছে কিছু।

মূল কথা হলো স্ক্যানডিনেভিয়ায় অধিকাংশ বাংলাদেশীরা অলস নয়,দুর্নীতিবাজ,প্রচন্ড স্বার্থপর,লোভী।মসজিদের নামে টাকা পাওয়া যায় বলে অনেকগুলি মসজিদ,ওদের টাকায় মসজিদ বানিয়ে জড়ো হয়ে ওদেরকেই গালিগালাজ করে নাস্তিক বির্ধমী বলে।আর হাজারটা গ্রুপ,জামাতেরও ভালো অবস্হান। সবাই নয়,অধিকাংশ।এদের কোন শিক্ষাগত যোগ্যতাও নেই।নানান মিথ্যা কেস সাজিয়ে দেশের ভাবমুর্তি নষ্ট করে এসাইলাম মেরে নাগরিকত্ব নিয়েছে।অল্পকিছু শিক্ষিত আছেন,তাদের নিয়ে সমস্যা নেই।বিষয়টা লজ্জার,তবে এটাই বাস্তবতা।একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমি লজ্জিত ওদের নীচুতা দেখে।

কৌস্তভকে ধন্যবাদ সু্ন্দর লেখার জন্য।

কৌস্তুভ এর ছবি

লেখার প্রশংসায় বাধিত হলাম।

সন্দেশ এর ছবি

এই পোস্টে সকল দৃষ্টিভঙ্গী থেকে মতামত গৃহীত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হওয়ায় মন্তব্যের অপশন বন্ধ করে দেয়া হলো।

কল্যাণF এর ছবি

সন্দেশ ভাই মন্তব্য করা যাচ্ছে আবার!

কৌস্তুভ এর ছবি

মন্তব্য খুলে দেওয়ায় ধন্যবাদ। কিছু পাঠকের মন্তব্যের জবাব দেওয়ার সুযোগ হয়নি তখন।

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

এই উত্তরটা ফাহিম হাসানকে উদ্দেশ্য করে, তবে স্পর্শ দেখলেও ভালো হবে আশা করছি, কারণ তাকে করা মন্তব্যের সূত্রপাত থেকেই এর অবতারণাঃ

অনেক ধন্যবাদ লিঙ্কটার জন্য। কজালিটি নিয়ে আরেকটু তর্ক করি। ব্যাপারটা হচ্ছে, অ্যাসোসিয়েশান মাত্রই কজালিটি নয়। একটা উদহরণ দেই, উইকিপিডিয়া থেকে,

In a widely-studied example, numerous epidemiological studies showed that women who were taking combined hormone replacement therapy (HRT) also had a lower-than-average incidence of coronary heart disease (CHD)

এখান থেকে মনে হয় যে HRT নেয়াটা CHD এর বিপরীতে ভালো। তাই যেটা ঘটলো -

[it leads] doctors to propose that HRT was protective against CHD.

কিন্তু আসলেই কি তাই?

randomized controlled trials showed that HRT caused a small but statistically significant increase in risk of CHD. Re-analysis of the data from the epidemiological studies showed that women undertaking HRT were more likely to be from higher socio-economic groups (ABC1), with better than average diet and exercise regimens. The use of HRT and decreased incidence of coronary heart disease were coincident effects of a common cause (i.e. the benefits associated with a higher socioeconomic status), rather than cause and effect as had been supposed.

ফলে দুটো জিনিসে অ্যাসোসিয়েশান থাকলেই তাদের মধ্যে কজ ইফেক্ট সম্পর্ক আছে ভাবাটা ভুল। স্পর্শ বলছে

এই গ্রুপটা যেহেতু 'মুসলমান' তাদের সেই ধর্মীয় অবস্থানের ইফেক্ট নিশ্চই আছে

এখানে এই নিশ্চয়তার কারণে এটা একটা লজিকাল ফ্যালাসি

... correlation proves causation, is a logical fallacy by which two events that occur together are claimed to have a cause-and-effect relationship.

একটা বিশেষ গ্রুপের একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকা মানেই এই না যে ওই গ্রুপের অবস্থানের একটা ইফেক্টই ওই বৈশিষ্ট্য। অ্যাসোসিয়েশান থেকে কজালিটি প্রমাণ করাটা বেশ কঠিন। বেশ বেশ কঠিন। সাধারণত কন্ট্রোলড এক্সপেরিমেন্ট দ্বারা এটা করতে হয়, যেখানে অন্য সকল ভ্যারিয়েট ফিক্সড। এমন কি কোন কোন ক্ষেত্রে কজালিটি বের করা যাবে সেটাও লিমিটেড, বা একটা মৌলিক তর্কের প্রশ্ন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় কন্ট্রোলড এক্সপেরিমেন্ট করাটা অনৈতিক।

এখন তোমার দেয়া পেপারটাতে কিছু অ্যাসোসিয়েশান দেখানো আছে সত্যি। কিন্তু কজাল ইফেক্ট কি প্রমাণ করা আছে? আমি পাই নি। দেখাতে পারো।

একইভাবে বাংলাদেশি ব্রিটেনি ইমিগ্রেন্টরা ভারতীয়দের চেয়ে অলস, এরকম অ্যাসোসিয়েশান প্রমাণ করে না যে বাংলাদেশী হওয়াটাই এর কারণ। বা পাকিস্তানিরাও এতে আছে দেখে মুসলমান হওয়াটাই এর কারণ। এতে কিছু প্যাটার্ন ম্যাচিংয়ের তৃপ্তি মেটে বটে। ফলে এগুলো একেকটা ক্যান্ডিডেট হাইপোথিসিস হতে পারে। কিন্তু অ্যাসোসিয়েশান মাত্রই কজাল ইফেক্ট থাকার **নিশ্চয়তা** নাই। সেটা নিশ্চয়তার সাথে বলতে হলে এস্টাবলিশ্ড করতে হবে। না হলে সেটা ভুল হবার সম্ভাবনা থাকে। তাহলে এস্টাবলিশ করার আগেই একটা পটেনশিয়ালি ভুল জিনিসের ব্যাপারে এতো নিশ্চয়তার সাথে স্টেইটমেন্ট দিয়ে যাওয়াটার ফয়দা কী?

shafi.m এর ছবি

চলুক

ফাহিম ভাই কি মন্তব্য করেছেন এই মুহূর্তে তা বল্তে পারছিনা (দেখিনি) তবে, স্পর্শের প্রতি-মন্তব্যের অপেক্ষায় থাক্লাম।

শাফি।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

চলুক

@কৌস্তুভ,

একাডেমিক আগ্রহ থেকে কয়েকটা প্রশ্ন:

ড্যাটা কি ওয়েটেড? (আপনি করেছেন না ওরাই করেছে)। স্ট্যাট ক্যানাডা কোন ড্যাটা সরবরাহ করলে বুটস্ট্র্যাপ ওয়েট আলাদা ফাইলে দিয়ে দেয়। সেটা আমরা সার্ভে ড্যাটাতে প্রয়োগ করি। সেখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় হল সিভি। সিভি ১৬.৫ এর উপরে গেলে সেই স্ট্যাট আমরা ওয়ার্নিং দিয়ে প্রকাশ করি। ইউকে তে কিভাবে করে ওরা? কিংবা ওরা কত থ্রেশল্ড ব্যবহার করে? (আমি খুঁজলে হয়তো পাবো, কিন্তু আপনি যেহেতু কাজ করেছেন এটা নিয়ে তাই আপনাকেই জিজ্ঞেস করলাম। খাটতে ইচ্ছে করতেছে না হাসি )

কৌস্তুভ এর ছবি

ভাল পয়েন্ট তুলেছেন। ওয়েটগুলো দরকার হয় যখন মাল্টিস্টেজ সার্ভে ডিজাইন হয়, যেমন আমাদের NSSO (national sample survey organization) ওয়েট ইউজ করে। এই লেবার ফোর্স সার্ভে একটা সিঙ্গল-স্টেজেই কাজ করে, সরকারের পুরো এনিউমারেশন লিস্ট থেকে সরাসরি র‍্যান্ডম স্যাম্পল ড্র করে। স্যাম্পল টানা হয়ে গেলে তারপর সেটাকে স্টেজে ভেঙে সার্ভেয়ারদের দায়িত্ব দেবার কাজগুলো চলে। অতএব এদের বুটস্ট্র্যাপ ওয়েটিংয়ের দরকার পড়বে না।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

ধরেই নিয়েছিলাম মাল্টিস্টেজ সার্ভে। একটু অবাক হলাম।

এই ড্যাটার ফলাফল নিয়ে আরো প্রশ্ন আসে, যেমন, আমার মতে একটা বড় সমস্যা হল তিন বছরের গড় ড্যাটার উপর ফলাফলগুলো বের করা। ক্রস সেকশনাল ড্যাটা পুল করে কী পাওয়া যায় তা হয়তো পাঠক ধরতে পারেননি। যাই হোক, আর কচলানোর দরকার দেখি না হাসি

কৌস্তুভ এর ছবি

ঠিক, ওই সাইটের ভদ্রলোক তিন বছরের গড় নিয়েছেন দেখে (অবশ্য তাঁর নিজের কিছু ব্যাখা ছিল) আমি ক্রসচেক করার সময় শুধুমাত্র ২০১০ সালের ডেটাই নিয়ে দেখেছি। তাতে ওনার আউটপুটের চেয়ে তফাত খুব একটা আসেনি।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

হুম। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে কনফিডেন্স ইন্টারভাল দিতে পারতেন সাথে।

ফাহিম হাসান এর ছবি

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানাই। উত্তর দিতে একটু দেরী হয়ে গেল।

দুটো জিনিসে অ্যাসোসিয়েশান থাকলেই তাদের মধ্যে কজ ইফেক্ট সম্পর্ক আছে ভাবাটা ভুল।

জানি ভাইয়া, কিন্তু আমি যেই পেপারটা দিয়েছি সেখানের ইকনোমেট্রিক মডেল দেখুন। মাল্টিকোলিনিয়ারিটি থাকলে অনেক সময় সিউডো অ্যাসোসিয়েশান দেখায়। শিক্ষা, যোগ্যতা - এ জাতীয় ভ্যারিয়েবলে কিছুটা কোলিনিয়ারিটি থাকবেই - জানা কথা। কিন্তু কোরিলেশান কোএফিশিয়েন্টগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ৫% বা ১% লেভেলে সিগ্নিফিক্যান্ট। এফিশিয়েন্সির কোন সমস্যা দেখছি না। যদি অমিটেড ভেরিয়েবল বায়াস থাকত তবে এতটা সিগ্নিফিক্যন্ট হওয়ার কথা না।

যাই হোক, এটা স্রেফ একটা পেপার। ধর্ম নিয়ে কাজ করার নানা বিপত্তি আছে, আপনার আগ্রহ থাকলে টপ জার্নালের, বিশেষ করে ইকোনোমেট্রিকা, Journal of Political Economy (JPE) পেপার আছে কিনা দেখতে পারেন।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

লেখাটা প্রকাশের পরেই টুপ করে পড়ে নিয়েছিলাম। বেশ ব্যস্ত বলে পরে আর খোঁজ রাখতে পারিনি। এর মধ্যে অনেক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। সেসব নিয়ে কথা বলারও আর কোনো মানে হয়না এখন। কেবল বলে যাই, পাঁচতারা দিয়েছি। পরবর্তী অধিবেশনের ফিরিস্তা পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।

যেরকম শান্তভাবে এবং দৃঢ়ভাবে ঝড় সামলেছেন সেজন্য কৃতিত্ব পাওনা আপনার হাসি

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

কৌস্তুভ এর ছবি

থ্যাঙ্কু ভাই। হাসি

সুমন তুরহান এর ছবি

আপত্তিকর কিছুই পেলাম না লেখায় অথচ এতো গিয়ানজাম হয়ে গেলো। ধর্মানুভূতি বড় নাজুক জিনিস!

-----------------------------------------------------------
স্নান স্নান চিৎকার শুনে থাকো যদি
নেমে এসো পূর্ণবেগে ভরাস্রোতে হে লৌকিক অলৌকিক নদী

guest_writer এর ছবি

অ:ট: আপনাদের অবগতির জন্য একটি তথ্য জানাই। দিন কয়েক আগে পূর্ব লন্ডনের একটি নার্সারী স্কুলকে " বেষ্ট নার্সারী স্কুল ইন লন্ডন " এর স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে ( এই মূহুর্তে স্কুলের নামটা স্মরন করতে পারছিনা )। এই স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থিই সিলেটি বাবা-মায়ের সন্তান এবং এই স্কুলে বাঙালি শিক্ষকও আছেন। বাঙালি হিসাবে গর্ব করতে পারেন অবশ্যই। সিলেটি হলেতো কথাই নেই।

প্রৌঢ়ভাবনা

দিগন্ত এর ছবি

ভারতীয় ইমিগ্রান্টদের আমেরিকা বা ব্রিটেনে গড়ের ওপর ভাল করার একটা কারণ হল তারা সিলেকশন ও প্রোপর্শন বায়াস পায়। ভারতীয়রা অধিকাংশই আমেরিকা-ব্রিটেনে আসে ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে অন্যদিকে বাংলাদেশী-পাকিস্তানীরা মূলত আসে পারিবারিক সম্পর্কের সূত্রে। প্রথমটা একধরণের মেরিটোক্র্যাটিক কিন্তু দ্বিতীয়টা না। তাই গড়ের ওপর ভারতীয়রা ভাল করে। যেহেতু এটা অনেক পুরোনো পোস্ট আমি আর এ নিয়ে বিস্তারে লিখছি না। আগ্রহী ব্যক্তি এখানে পড়তে পারেন।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

কৌস্তুভ এর ছবি

আপনার চার্টগুলো বেশ ইন্টারেস্টিং। এটা একটা সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতেই পারে।

ইয়ে, সিলেকশন বায়াস জিনিসটা প্রচলিত হলেও প্রোপোর্শন বায়াস কথাটা এই প্রথম শুনলাম।

দিগন্ত এর ছবি

ব্যাপারটা বোঝার সুবিধার জন্য একটা করে নাম দিলাম। প্রোপোর্শন বায়াস-এর নিশ্চয় আরও কোনো ফর্মাল নাম আছে।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA