শীত

ওডিন এর ছবি
লিখেছেন ওডিন (তারিখ: বুধ, ২৮/১০/২০০৯ - ২:১৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ওইদিন রাতে সুকুমারের নাটকগুলো রিভাইস দিচ্ছিলাম। গুরুর জন্মদিন উপলক্ষে তাকে একটু স্মরন করা আর কি। তো ‘ঝালাপালা’ এর মাঝামাঝি এসে দেখি আমার হাসি ঠিক আগের মত আসতেসে না, গত মিনিট পাঁচেক ধরে কেমন জানি শুকনামার্কা। সুকুমারের নাটকে শুকনা হাসির চে’ বড় ব্লাসফেমি আর মনে হয় নাই। প্রথমে ভাবলাম নিশ্চয়ই খিদে পেয়েছে- খিদে পেলে আমার আবার মাথা কাজ করে না- (ইনফ্যাক্ট কারোরই করে না- মগজে গ্লুকোজ সরবরাহ কমে যায় তো- আর আমারটা আবার অতটা ফুয়েল এফিশিয়েন্ট না- এক্কেরে দুঃখজনক মাইলেজ)।

ফ্রিজ খুলে খাবারদাবারের সন্ধান করতে গিয়েই পেয়ে গেলাম পায়েসের বাটি- দেখে কোদালের মত দাঁতগুলো বের করতে যাব- তখনি বুঝলাম কেন শুকনা হাসি হাসতে হচ্ছে। হাসতে হলে যেই জিনিসটার বেশি দরকার (মগজ আর দাঁত বাদে)- সেইটাতেই ঝামেলা। ঠোঁট ফেটে একাকার! বিরক্তিকর। এই ঠোঁট নিয়ে আর যাই হোক সুকুমার রায় পড়া যাবে না- রামগরুড়ের ছানা হয়ে ‘অরক্ষিত দেশ- অরক্ষিত মানুষ’ টাইপের মন খারাপ করা তথ্য দিয়ে ভরা কোন বই পড়তে হবে।

বুঝতে পারলাম অবশেষে শীতকাল এসে গেছে।

শীত আমার সবসময়ই পছন্দ। ভোরে স্বপ্নের মত কুয়াশা- সকালে কেমন হাল্কা মিষ্টি রোদ- দুপুরবেলা ঝকঝকে নীল আকাশ- দেখলেই মনে হয় ক্যামেরা নিয়ে বাইরে ঝাঁপিয়ে পড়ি- দারুন দারুন সব ছবি তুলে সচলের ক্যামেরাবাজদের গণআত্মহত্যা করতে বাধ্য করি। আর কোথাও বেড়াতে যেতে চাইলে এর চাইতে ভালো সময় আর আছে কি না জানি না। স্কুলে থাকতে নভেম্বরের মধ্যেই সব পরীক্ষা শেষ হয়ে যেত- তারপরে ডিসেম্বর আর জানুয়ারির অনেকটাই ছুটি- এইটা এখনও রক্তে মিশে আছে মনে হয়। ক্যালেন্ডারে নভেম্বর আসা মানেই প্ল্যান শুরু করো- ব্যাগ গোছাও- বাপমা-নানানানু-মামাচাচাদের ওপর পাথেয় সংগ্রহার্থে হামলা করো- । প্রতিবারই আমি কোথাও না কোথাও ঘুরতে যাই- এইবারও যাচ্ছি। আসলে শীত মানেই এখনো আমার কাছে ছুটি।

আমার কাছে শীত মানে ছুটি, রোদ, কুয়াশা, ক্রিকেট, ওপেন এয়ার কনসার্ট (বারবিকিউ আর পিকনিক)…

আর আরেকটা ব্যপার।

বছরের অনেকটা সময় জুড়েই কিছু মহৎপ্রান মানুষজন লাফালাফি করতে থাকে- নানা রকম কথাবার্তা বলেন তাঁরা। আমি চুপচাপ শুনি- পত্রিকাতে পড়ি- হাসিমুখে টিভিতে দেখি- অক্ষম ক্রোধে কেউ হয়ত কেঁপেও উঠি মাঝে মাঝে।

শীত যখন গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে আসে- তখন বেশ মজার ব্যপার একটা আমি খেয়াল করি। এঁদের চোখমুখ কেমন জানি শুকিয়ে যায়- ময়শ্চারাইজারের অভাবেই নাকি কে জানে। মনে হয় একটু দিশেহারা ভাব। তাঁদের কথাবার্তাও একটু বেসামাল হয়ে পড়ে। এইরকম বাজে আবহাওয়ায় আবার কিছু হতচ্ছাড়া দুষ্টু লোকজনের উদয় হয়। তারা নানান আবজাব মিটিংফিটিং করে, মিছিল করে, উষ্কানীমূলক গানটান গায়- রক্তলাল-রক্তলাল- এইরকম আক্র্মনাত্মক যেগুলার লিরিক্স। ইন্টারনেট নামক তাগুতি জায়গায় কিসব লেখালেখি করে, অশালীন সব ঝাপসা শাদাকালো ফ্যাব্রিকেটেড ভিডিও পোস্ট করে দেয়।

মহৎপ্রানদের এইসব একটুও ভালো লাগে না। কিন্ত নভেম্বরকে সরিয়ে ডিসেম্বর চলে আসলে তাঁরা আরও শুকিয়ে যান… হতচ্ছাড়া দুষ্টু লোকজনের সংখ্যা মনে হয় প্রতি বছরই বাড়ছে- ওদের চিৎকারে কান পাতা দায়। নাহ, এবছরের মত মহৎ কাজকর্ম শেষ- ভাবেন তাঁরা- এইবার শীতনিদ্রার সময় হয়েছে। কিন্তু এই হতচ্ছাড়াদের চেঁচামেচিতে শান্তিতে একটু ঘুমোবারও উপায় নেই। সারারাত খুব কষ্টে কাটে তাঁদের। কোনক্রমে ডিসেম্বর মাসটা পার করে দেন তাঁরা।

নতুন বছর আসে- চোখে নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন নিয়ে তাঁরা ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। আড়মোড়া ভাঙ্গতে থাকেন। পুরনো সম্পর্কগুলো ঝালাতে শুরু করেন। কিন্তু সব শেষ করার আগেই হুড়মুড় করে ফেব্রুয়ারি চলে আসে- সাথে উল্লুকের মতো সেই আবারো হতচ্ছাড়া দুষ্টু লোকজন। এসেই কিসব বইএর বাজার নিয়ে হাউকাউ শুরু করে দেয়- আর বোকা মানুষজন এদের সেই ফাঁদে পা দেয়- কিসের কি এক মিনারে ফুল পর্যন্ত দেয় এরা! গত বছরের সব মহৎ অর্জন মোটামুটি আরব সাগরে ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়। গলা ছেড়ে কাঁদতে ইচ্ছে করে তাঁদের।

সবকিছুরই শেষ আছে- শীতও একদিন শেষ হয়, মার্চ চলে আসে- আহ বসন্ত! তাঁদের খুব ভালো লাগে- তবে ছোট্ট একটা সমস্যা খচখচ করতে থাকে। মার্চ মাসের সময়টা আবার একটু অস্বস্তিকর- মানে খারাপই বলতে গেলে। চুপচাপ থাকাই শ্রেয় মনে করেন তাঁরা। সামনে তো আরো দিন আছে। হতচ্ছাড়া দুষ্টু উল্লুকগুলো আবার ঝিমিয়ে পড়বে- অন্যান্য বারের মতই। বোকা বাঙ্গালীগুলোও মনে রাখে না বেশিদিন। প্রতিবারই এমন হয়। এপ্রিল, মে, জুন আসবেই। শীতল, নিষ্পলক চোখে তাঁরা অপেক্ষা করতে থাকেন।

তাঁরাও হয়তো ভুলে যান যে শীত আবারো আসবে। হতচ্ছাড়া দুষ্টু পাজি উল্লুকগুলোও আবার গাঝাড়া দিয়ে উঠবে।

আমার কাছে শীত মানে ছুটি, রোদ, কুয়াশা, ক্রিকেট…

ইস- সারা বছরই যদি শীতটা থাকতো!


মন্তব্য

হিমু এর ছবি

দেশের শীত বড় প্রিয় সময় ছিলো রে ভাই, বড় প্রিয় সময় ছিলো। স্কুলে পড়তাম যখন, বাসার সামনের মাঠে ব্যাডমিন্টন কোর্ট কাটা হতো, ছোটোবড় সবাই মিলে হই-হল্লা করে ব্যাডমিন্টন খেলতাম অনেক রাত পর্যন্ত। লেপ বের করা হতো আলমারি থেকে, রাতের বেলা হিমের মধ্যে লেপের নিচে ঢুকে গল্পের বই পড়তাম আব্বা এসে বাতি বন্ধ না করা পর্যন্ত। সকালে কাঁপতে কাঁপতে উঠতাম, চারপাশে কুয়াশা, বন্ধুর সাথে কাঁপতে কাঁপতে স্কুলে যেতাম, স্কুল ছুটির সময় আবার চারদিকে সোনালী রোদ, ফাটিয়ে ক্রিকেট খেলতাম। আম্মা ভাঁপা পিঠা বানাতেন, খেতে তেমন পছন্দ করতাম না, কিন্তু ঐ আয়োজনের যে উৎসব-উৎসব ভাব, সেটা খুব ভালো লাগতো। শীতে পারতপক্ষে অন্য কোথাও বেড়াতে যেতাম না, ঘরটাই কেমন যেন অন্যরকম অচেনা মনে হতো।

কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছুটা সময় শীতগুলি গয়রহ কেটে গেছে মন খারাপ । দুই হাজার দুই থেকে মাথায় ঢুকলো ট্রেকিঙের পোকা ... এরকম পোকাঅলা আরো কয়েকজন পাওয়া গেলো, তারপর দুই হাজার পাঁচ পর্যন্ত প্রতিটা শীতের ছুটিতে আমরা কোথাও না কোথাও ট্রেক করতে গিয়েছি। খুব চমৎকার সব সময় কেটেছে তখন।

এখন এখানে শীত ... বড় কর্কশ। দেশের শীতে হৃদয়ের উষ্ণতা বাড়ে, অন্য কারো কাছে মন উত্তাপ খোঁজে, এই একান্ন ডিগ্রী অক্ষাংশের শীত মনের চারপাশে দেয়াল তুলে দেয়।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

যুধিষ্ঠির এর ছবি

দেশের শীতে হৃদয়ের উষ্ণতা বাড়ে, অন্য কারো কাছে মন উত্তাপ খোঁজে, এই একান্ন ডিগ্রী অক্ষাংশের শীত মনের চারপাশে দেয়াল তুলে দেয়।

কী অসাধারণ কথা একটা!

মন্তব্যে লাইক মারার অপশন চাইই চাই!

অমিত এর ছবি

মনে হল আমার কৈশোরের গল্পগুলোই অন্য কেউ বলে গেল

ওডিন এর ছবি

এইবার আপনি আমার মন খারাপ করে দিলেন রে ভাই!

আর উঁচুনীচু এবড়োখেবড়ো পথে হাঁটাহাটি? - দেশে আসলে আপনার উইংম্যানের অভাব হবে না- পোকাওয়ালা লোকজন এখন আছে, মাঝে মাঝেই ডানা ঝাপটায়।

---------------------------------------------
ফুল ফোটে? তাই বল! আমি ভাবি পটকা। চিন্তিত

সুরঞ্জনা [অতিথি] এর ছবি

আমাদের সবার ছোটবেলার শীতকাল গুলো কি করে একই রকম হল?
মন্তব্য সুন্দর হয়েছে। হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

শীতের হিম জিন্দাবাদ!! রাজাকারগুলোর ** জমে খসে পড়ুক।

হিমু ভাই......ট্রেকিং এ এখন গাড়ি চলে। নিওফাইট গাধাগুলো, যারা কখনো আহসান মঞ্জিল ও দেখে নাই...এইগুলা এখন পাজেরো হাঁকায়া 'বগা লেক গেসি!' বলে ফাল পারে। মিজাজ গরম হয়ে যায়।

সংসপ্তক

হিমু এর ছবি

কিন্তু বগা লেকে পায়ে হেঁটে যাওয়ার রাস্তাটাই তো আসল!

শেষবার গেলাম থানচি, বিডিয়ারের বাধার কারণে আর তাজিনডঙের পথে পাহাড়ে চড়া হলো না। যাবার সময় গাড়িতে সাঙ্গুর পাশের পাহাড় বেয়ে গিয়েছি, বহু নিচে সুতার মতো দেখা যায় নদী। ফিরেছি সেই সাঙ্গু ধরে। কী যে অপূর্ব একটা নদী, আর কী যে উজ্জ্বল একটা দিন ছিলো সেদিন! ওরকম নৌকোযাত্রা আবার কবে হবে, কে জানে!



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

ওডিন এর ছবি

ছিঃ ছিঃ ভাই- আপনে এই চমৎকার অসাধারন ঋতুবিষয়ক রচনায় এদের পাইলেন কিভাবে? আপনার নজর তো দেখি বেশ খারাপ! খাইছে

পুনশ্চঃ রাজাকারগুলোর ** থাকলে ত জইমা খইসা পড়বো! ** থাকলে আর রাজাকার হইত না-

---------------------------------------------
ফুল ফোটে? তাই বল! আমি ভাবি পটকা। চিন্তিত

মূলত পাঠক এর ছবি

বাঃ, দারুণ লিখেছেন তো! পড়ে ভয়ানক মুগ্ধ হলাম, বিশেষতঃ প্রথম দিকে যেভাবে শীতের উপক্রমণিকা হলো সুকুমার রায়ের ঘাড়ে চড়ে। তোফা!

মাঝখানে ছবি তোলার কথা আসায় স্ক্রোল করে দেখলাম, লেখা থামিয়ে ছবি পোস্ট করে কেটে পড়লেন না কি। ছবি না দেখে আশ্বস্ত হলাম। শেষাংশটায় শুরুর মেজাজ পেলাম না, যাক সে আর কী করা।

লিখতে থাকুন পড়তে থাকি।

ওডিন এর ছবি

হুম- কিন্তু দাদা শেষাংশটাই তো এই লেখার আসল অংশ! বাকিটুকু তো কেকের উপরের ফ্রস্টিং মাত্র- পুরাটাই ভগিচগি। আসলে আমিই ঠিকমত লিখতে পারি নাই।

আর ক্যামেরাবাজির কথাতেই দেখি আপনারে ভয় দেখায় দিলাম- দেঁতো হাসি
---------------------------------------------
ফুল ফোটে? তাই বল! আমি ভাবি পটকা। চিন্তিত

অনিকেত এর ছবি

ভাল লাগল ওডিন।

ওডিন এর ছবি

ধন্যবাদ। লেখাটা বেশি সুবিধার হয় নাই- যা বলতে চাইলাম সেইটা মনে হয় হইলো না। আপনার মত যদি মনের ভাবটা কিবোর্ডে ঢেলে দিতে পারতাম... এইসব ব্যাপার নিয়ে আসলে আপনাদের লেখা উচিত- আরও।
---------------------------------------------
ফুল ফোটে? তাই বল! আমি ভাবি পটকা। চিন্তিত

পুতুল এর ছবি

শীত ভাল লাগে দেশে। এখানে (জার্মানীতে) শীত এলে ভয় করে।
লেখা ভাল লেগেছে।
**********************
ছায়া বাজে পুতুল রুপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কি দোষ!
!কাঁশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

ওডিন এর ছবি

অনেক অনেক ধন্যবাদ!
---------------------------------------------
ফুল ফোটে? তাই বল! আমি ভাবি পটকা। চিন্তিত

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

শীতের শুরুটা কিন্তু চমৎকার হয়েছে।

ওডিন এর ছবি

ধন্যবাদ ভাই!
---------------------------------------------
ফুল ফোটে? তাই বল! আমি ভাবি পটকা। চিন্তিত

যুধিষ্ঠির এর ছবি

ছোটবেলায় শীতকাল মানেই পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ায় লেপের নীচে ঢুকে অবাধে গল্পের বই পড়া, এমনকি রাতের বেলা লাইটের আলোতেও – কলেজ ভার্সিটিতে গিয়ে এই ব্যাপারটার চার্মটাই নষ্ট হয়ে যায়। শীতকালেও ক্লাস চলে, পরীক্ষা দিতে হয় - এই ব্যাপারটা পার করে ডিসেম্বর-জানুয়ারীর শীত উপভোগ করার স্কুল জীবনের দিনগুলোর মত অনুভূতি পরে আর কোনদিন হয় নি।

এখন এই হিমের দেশে শীতকাল মানে যে কী, সেটা হিমু তার মন্তব্যে বলে দিয়েছেন খুব সুন্দর করে। মাঝে মাঝে এমনও সময় যায়, শুক্রবার অফিস শেষ করে ফিরে সোমবারে আবার অফিসে বের হওয়ার আগে পর্যন্ত বাইরে বের হওয়াই হয় না - পাঁচ-ছ'টা লেয়ারের কাপড় গায়ে দেয়া, টুপী-গ্লাভস পড়া, তিন ফিট বরফ খুঁদে গাড়ি বের করা এসব ঝামেলা এড়ানোর জন্য। শীত আবার মানুষের পছন্দের ঋতু হয় কিভাবে?

লেখার শুরুটা ভালো লেগেছে।

ওডিন এর ছবি

ধন্যবাদ! লেখার থেকে মন্তব্য নিযুতগুন ভালো। লইজ্জা লাগে
আর তীব্র দাবি- কমেন্ট লাইক করার অপশন দেয়া হোক।
---------------------------------------------
ফুল ফোটে? তাই বল! আমি ভাবি পটকা। চিন্তিত

মৃত্তিকা এর ছবি

হুম বুঝলাম। লেখা পড়ে মজাও পেলাম। চলুক
তবে আমি কিন্তু অপেক্ষা করছি আপনার হিমালয়, হিমাচল ভ্রমণ কাহিনী শোনার এবং দেখবার!

ওডিন এর ছবি

হিমালয় আবার কি? খায় না মাথায় দেয়? ও সেই টিলাগুলা- ঝিনাইদহে নাকি?
আরেকটু অপেক্ষা করেন আপা- এইবার বাঁইচা ফেরত আইসা নেই। খাইছে
---------------------------------------------
ফুল ফোটে? তাই বল! আমি ভাবি পটকা। চিন্তিত

নামহীন [অতিথি] এর ছবি

ভাল লাগল। দেশের শীতকালটা আবার কবে ফিরে পাব জানিনা। শাহবাগটা পার হলেই পুরো ইউনিভার্সিটি জুড়ে একটা অন্য আমেজ থাকে। প্রায় ১০হাজার মাইল দূরে এখন শীত মানে বড় বেশী একাকিত্ব আর হতাশার দেয়ালে ঠাসা অবরুদ্ধ এক জীবন।

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

হুম, শেষ রাতে এখন কাঁথামুড়ি দিতে হয়। কয়দিন পরেই লেপ উঠবে গায়ে!
.........................................................................................

আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ ব'সে অপেক্ষা করার সময় আছে।

ওডিন এর ছবি

ভাই, লেপকাঁথা যাই মুড়ি দেন- খালি ঝিমায়েন না- কান খাড়া রাইখেন। এইটা আমাদের সিজন! শয়তানী হাসি
---------------------------------------------
ফুল ফোটে? তাই বল! আমি ভাবি পটকা। চিন্তিত

ভুতুম এর ছবি

ওডিন্দা, লেখা ভালু হয়েছে ভালু।

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

-----------------------------------------------------------------------------
সোনা কাঠির পাশে রুপো কাঠি
পকেটে নিয়ে আমি পথ হাঁটি

ওডিন এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ ভুতুমদা!
---------------------------------------------
ফুল ফোটে? তাই বল! আমি ভাবি পটকা। চিন্তিত

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

কৈশোর পেরিয়ে আসার পরেও শীত আসে। আসে না আমার সন্ধ্যারাতে কলোনীর বড় ভাইদের ছায়ায় চাঁদা দিয়ে ব্যাডমিন্টন- সকাল থেকে জম্পেশ ক্রিকেট টেস্ট ম্যাচ (কারণ সবার বার্ষিক পরীক্ষা শেষ)- আর মহা মহা আলস্যের বছর শেষের কয়েকটা দিন।

শীত আছে আগের মতই- আমি পাল্টেছি- সবাই পালটে দিয়েছে।

-------------------------------------------------------------
মধ্যরাতের কী-বোর্ড চালক

সাইফ তাহসিন এর ছবি

এইরকম বাজে আবহাওয়ায় আবার কিছু হতচ্ছাড়া দুষ্টু লোকজনের উদয় হয়। তারা নানান আবজাব মিটিংফিটিং করে, মিছিল করে, উষ্কানীমূলক গানটান গায়- রক্তলাল-রক্তলাল- এইরকম আক্র্মনাত্মক যেগুলার লিরিক্স। ইন্টারনেট নামক তাগুতি জায়গায় কিসব লেখালেখি করে, অশালীন সব ঝাপসা শাদাকালো ফ্যাব্রিকেটেড ভিডিও পোস্ট করে দেয়।

মহৎপ্রানদের এইসব একটুও ভালো লাগে না। কিন্ত নভেম্বরকে সরিয়ে ডিসেম্বর চলে আসলে তাঁরা আরও শুকিয়ে যান… হতচ্ছাড়া দুষ্টু লোকজনের সংখ্যা মনে হয় প্রতি বছরই বাড়ছে- ওদের চিৎকারে কান পাতা দায়।

অসাধারন লাগল তোমার লেখাটা তন্ময়, পুরা তন্ময় হয়েই পড়লাম, আমার প্রিয়তে ঝুলালাম, খোমাখাতাতেও ঝুলাবো বাসায় গিয়ে। এমন আরো লেখা চাই, তাছাড়া নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উদ্বুদ্ধ করবো কিভাবে আমরা? আশা করি বাংপাকি এবং রাজাকারদের জন্যে এমন শীত যেন অনন্ত্কাল ধরে থাকে।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদ্বপি গরীয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

ওডিন এর ছবি

সালাম!
আপনে বুঝতে পারসেন আমি কি বলতে চাছি। আমি শুধু চাই অনন্ত শীত। An eternal winter to freeze the cold dark hearts of the serpents!
---------------------------------------------
ফুল ফোটে? তাই বল! আমি ভাবি পটকা। চিন্তিত

রানা মেহের এর ছবি

বাইরে ঘন হয়ে কুয়াশা পড়েছে
এবছরের দেখা প্রথম কুয়াশা
ভেতরে এসে আপনার লেখা পড়লাম
খুব ভালো লাগলো
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

ওডিন এর ছবি

পড়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
---------------------------------------------
ফুল ফোটে? তাই বল! আমি ভাবি পটকা। চিন্তিত

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

শীত পড়েছে বেশ ভালোই। তাই তোমার এই লেখাটা রিভাইস দিয়ে গেলুম। এইরকম লিখতে পারার জন্যে ঈর্ষা জানাতুম, তো আজ থাক, আজ শুধু এটা আমার অন্যতম প্রিয় লেখাগুলোর একটা তা জানিয়ে গেলুম। হাসি

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।