ব্যানার: মুস্তাফিজুর রহমান
নীড়পাতা | সন্দেশ | লিংকস | আড্ডাঘর

Primary Links:

‹ পুরোনো ব্লগসব ব্লগনতুন ব্লগ ›

জাহাঙ্গীরনগরের যৌননিপীড়ক শিক্ষকসহ তার রক্ষক প্রশাসন নিপাত যাক!


লিখেছেন সুমন চৌধুরী (তারিখ: সোম, ২০০৮-০৯-১৫ ১৯:২৪)
ক্যাটেগরী:

১.কিছুই অচেনা নয়
রাষ্ট্রের জৈবিক অবস্থান শেষ বিচারে নির্যাতনকারীর পক্ষে, এটা কোন নতুন ঘটনা নয়। ইতিহাসে রাষ্ট্রকে যতবার গণমূখী সিদ্ধান্ত নিতে দেখা গেছে তার প্রতিটাই কোন না কোন গণবিপ্লবের ফসল হিসেবে।

১৯৯৮/৯৯ সালে প্রশাসন আংশিক পরাজিত হয়ছিল প্রবল ছাত্রঅভ্যুত্থানের মুখে। ১৯৯৯ এর ২ আগস্ট ধর্ষণকারীরা ছাত্রজনতার ধাওয়ার মুখে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হয়ছিল। তাদের পক্ষ হয়ে প্রশাসন দেড় মাসের মাথা ক্যাম্পাস বন্ধ করে অন্য একটি আন্দোলনের ফাঁদে ফেলে আন্দোলনকারীদের উপর প্রতিশোধ নেয়। দুমাস ক্যাম্পাস বন্ধ ছিল সেবার। তাতে আন্দোলনকারীদের কৌশলগত ব্যর্থতা ছিল। তবে তাতে প্রশাসনের অসাধুতা হালাল হয় না। আমার স্পষ্ট মনে আছে সেবার প্রশাসনের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিল ছাত্রলীগ আর ছাত্রদলের পেটোয়া বাহিনি। কেন এসেছিল? এসেছিল দুদিন আগে জনতার ধাওয়া খাওয়ার ঝাল মেটাতে।

আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে দেখা যৌন নিপীড়ন বিরোধী আরেক আন্দোলন, যাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক অভিযুক্ত ছিলেন, সেখানেও দেখেছি আন্দোলন দমন করতে আওয়ামী-বিএনপি পেটোয়াবাহিনির বৃহত্তর কোয়ালিশন। ঢাকা আর জাহাঙ্গীরনগরে প্রকাশ্য রাজনীতি নিশিদ্ধ থাকায় শিবির সামনে না এলেও আন্দোলন বিরোধী প্রচারণায় তাদের দার্শনিক অবস্থান আওয়ামী লীগ-বিএনপি থেকে অভিন্ন।

দশ বছর পরে আমি প্রবাসে বসে যখন পত্রিকার খবর আর মাঠে থাকা বন্ধুদের কাছে আন্দোলনের বর্ননা শুনি, চোখের সামনে ইতিহাসের হোমোজিনিয়াস সজ্জাই দেখতে পাই। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের দুই বৃহত্তম রাজনৈতিক জায়গীরদার আওয়ামী লীগ আর বিএনপি অবশ্যই একমত হতে পারে, তবে শুধুমাত্র গণপ্রতিরোধের বিরুদ্ধে, নির্যাতনকারীর পক্ষে।

২. গণপ্রতিরোধই সভ্যতার চৈতন্য, মানুষ ইতিহাসের নির্মাতা

১৯৯৮ সালের ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের সপ্তাহ দুয়েক পরে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের উদ্যোগে আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্রঐক্যের সকল শরীক সংগঠণ এবং নির্দলীয় অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে জাবি ক্যাফেটেরিয়াতে একটি আন্দোলন পর্যালোচনা সভা হয়েছিল। অনেক তর্কবিতর্কে সেদিন সভা শেষ হয়। তবে যে কিউইডিতে মোটামুটি সকলে একমত হয়েছিল তা হলো, যৌন নিপীড়ন ক্ষমতা কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। ধর্মের বা জনগণের বিপরীতে থাকা রাজনৈতিক শ্রেণীর চাপিয়ে দেওয়া প্রতিক্রিয়াশীল নৈতিকতা নয়, যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করা জনগণের প্রকৃত প্রতিপক্ষ হচ্ছে রাষ্ট্র। ধর্ষণকারী যে পুরুষতান্ত্রিক চৈতন্য ধারণ করেন তা নির্যাতনকারী রাষ্ট্রের চৈতন্য। জনগণের এই লড়াই তাই চট করে শেষ হবার নয়। যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা হতে পারে এই লড়াই এর একটি বিরাট মাইল ফলক, তবে শেষ কথা নয়।

যৌন নিপীড়নসহ সকল প্রকার নির্যাতনের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ চলছে চলবে। সকল সুস্থ মানবিক বোধ সম্পন্ন মানুষ এই প্রতিরোধের সমর্থনে আছে, থাকবে।

জনতার জয় হোক!


গড় রেটিং
( ভোট)
লিখেছেন সুমন চৌধুরী (তারিখ: সোম, ২০০৮-০৯-১৫ ১৯:২৪)
উদ্ধৃতি | সুমন চৌধুরী এর ব্লগ | ৬৫টি মন্তব্য | ৬৬২বার পঠিত

Views or opinions expressed in this post solely belong to the writer, সুমন চৌধুরী. Sachalayatan.com can not be held responsible.

অভিজিৎ এর ছবি
১ | অভিজিৎ | সোম, ২০০৮-০৯-১৫ ১৯:৩১

যৌন নিপীড়নসহ সকল প্রকার নির্যাতনের বিরুদ্ধে যে গণপ্রতিরোধ চলছে তার প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধতা।

জাহাঙ্গীরনগরের যৌননিপীড়ক শিক্ষকসহ তার রক্ষক প্রশাসন নিপাত যাক!




পান্ডুলিপি পোড়ে না। -- বুলগাকভ (মাস্টার এন্ড মার্গেরিটা)


রায়হান আবীর এর ছবি
২ | রায়হান আবীর | সোম, ২০০৮-০৯-১৫ ১৯:৪৪

একাত্মতা পোস্টের সাথে।

জাহাঙ্গীরনগরের যৌননিপীড়ক শিক্ষকসহ তার রক্ষক প্রশাসন নিপাত যাক!

=============================
তু লাল পাহাড়ীর দেশে যা!
রাঙ্গা মাটির দেশে যা!
ইতাক তুরে মানাইছে না গ!
ইক্কেবারে মানাইসে না গ!


স্নিগ্ধা এর ছবি
৩ | স্নিগ্ধা | সোম, ২০০৮-০৯-১৫ ১৯:৪৯

একাত্মতা!


সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি
৪ | সুলতানা পারভীন শিমুল | সোম, ২০০৮-০৯-১৫ ২০:২০

নিপাত যাক !

...........................

সংশোধনহীন স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন দেখি একদিন


অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি
৫ | অতন্দ্র প্রহরী | সোম, ২০০৮-০৯-১৫ ২০:২৩

পোস্টের সাথে আমিও একাত্মতা প্রকাশ করছি।
_______________________________
বিষন্নতা ছোঁয় আমায় মাঝে মাঝেই, কখনো কি ছোঁয় না তোমায়?


অতিথি লেখক এর ছবি
৬ | অতিথি লেখক | সোম, ২০০৮-০৯-১৫ ২১:১৭

ঘৃণা, ঘৃণা , ঘৃণা, ঘৃণা, ঘৃণা , ঘৃণা.................. জাহাঙ্গীরনগরের যৌননিপীড়ক শিক্ষকসহ তার রক্ষক প্রশাসন এর জন্য ।
নিবিড়


ঝরাপাতা এর ছবি
৭ | ঝরাপাতা | সোম, ২০০৮-০৯-১৫ ২৩:০৮

জাহাঙ্গীরনগরের যৌননিপীড়ক শিক্ষকসহ তার রক্ষক প্রশাসন নিপাত যাক!


যে রাতে গুঁজেছো চুলে বেগুনি রিবন বাঁধা ভাট,
সে রাতে নরকও ছিলো প্রেমের তল্লাট।
. . . . . . . . . . . . . . . . . . (আবু হাসান শাহরিয়ার)


যূথচারী এর ছবি
৮ | যূথচারী | সোম, ২০০৮-০৯-১৫ ২৩:৫৪

জাহাঙ্গীরনগরের আন্দোলনে "ব্যর্থতা", "আংশিক ব্যর্থতা", ইত্যাদির কারণ আমার কাছে মনে হয় জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষকদের মেরুদন্ডহীনতা। সুমন ভাইয়ের কাছে প্রশ্ন- জাহাঙ্গীরনগরের একটা মেরুদন্ড সোজা মাস্টারের নাম বলেন। একটাও নাই। এমন একটা টিচার-ও খুঁজে পাবেন না, যে একবার এই গ্রুপ একবার ঐ গ্রুপ না করছে। ৯৮-এ যে ২৫ টা মাস্টারকে আলাউদ্দিন নিয়োগ দিছিলো, তার সুবিধাভোগী আজকের ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের সপক্ষের শিক্ষক বলে পরিচিত শিক্ষকরাও আছে, তাই না? আপনি তো ঐ সময় ক্যাম্পাসে ছিলেন, তাই ঐ মাস্টারগো নাম বলার দরকার দেখতেছি না।
এইটা এমন একটা আনকালচারড ক্যাম্পাস, যেখানে ঘোর আওয়ামী মাস্টারকেও আমি দেখেছি, ২০০১-এ যখন বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় এলো, তখন ২ মাস্টার ঝগড়া করতেছে। আমার বিভাগের দুই টিচারের রুমে গেলাম, একজন বললো- "দেখো জাফর আমি বিএনপি ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি-তে যোগ দিছি, আর অমুক মাস্টার সারা জীবন আওয়ামী লীগ করে, এখন বলে সে নাকি বিএনপি।" ঐ টিচারের রুমে গেলাম, উনি বললেন, "দেখো, আমি ৬ মাস আগে বিএনপি-তে যোগ দিছি, আর তমুক মাস্টার সারা জীবন আওয়ামী লীগ করে, এখন বলে সে নাকি বিএনপি।" মেরুদন্ড বলে কোনো তরল পদার্থ-ও এদের নাই।
এমন কমপক্ষে ১০ জন মাস্টারের নাম আমার এখন মনে পড়তেছে, যারা একসময় বামপন্থী ছিলেন, কিন্তু সুবিধামতো সময়ে জামাতপন্থীও হয়েছেন। আর আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি বা বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগ এটা তো সাধারণ ঘটনা।
সানিকে বরখাস্ত করা হতো, যদি সে মোস্তফার মতো আওয়ামী লীগের হতো, অথবা তানভীরের মতো দলনিরপেক্ষ হতো। সানি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন একটা রাজনীতির অংশ যেখানে আগামী সিন্ডিকেট নির্বাচনে ৫-৬টা ভোট আছে। জাহাঙ্গীরনগর এমন একটা আনকালচারড জায়গা, যেখানে ৫-৬টা ভোটের জন্য ৪টা মেয়ের সম্ভ্রমহানিকেও এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষকগুলা এতোটাই মেরুদন্ডহীন যে, এই মেয়েগুলো তাদের নিজের মেয়ে, বোন বা মা হলেও তারা এই একই কাজ করতো।


চোখের সামনে পুড়ছে যখন মনসুন্দর গ্রাম...
আমি যাই নাইরে, আমি যেতে পারি না, আমি যাই না...


সুমন চৌধুরী এর ছবি
৮.১ | সুমন চৌধুরী | মঙ্গল, ২০০৮-০৯-১৬ ০০:৪৪

এগুলি তো সবই জানি। তারপরো পোলাপান আন্দোলন করে। আরো করবে। আর কী কমু? তুমি যা কইছ ঠিকই কইছ তোমারে তেমন কিছু আর বলার নাই।



অজ্ঞাতবাস


১০

অরূপ এর ছবি
৮.২ | অরূপ | মঙ্গল, ২০০৮-০৯-১৬ ০৩:১০

উদ্ধৃতি
জাহাঙ্গীরনগরের একটা মেরুদন্ড সোজা মাস্টারের নাম বলেন। একটাও নাই

ঢালাও মন্তব্য, সতর্কতা কাম্য


১১

যূথচারী এর ছবি
৮.২.১ | যূথচারী | মঙ্গল, ২০০৮-০৯-১৬ ১১:০৮

জানলে একটা নাম বলেন, (অতিকল্পনে দুই একটা ব্যতিক্রম থাকতে পারে, সাধারণ আলোচনায় তা প্রাসঙ্গিক না)


চোখের সামনে পুড়ছে যখন মনসুন্দর গ্রাম...
আমি যাই নাইরে, আমি যেতে পারি না, আমি যাই না...


১২

পরিবর্তনশীল এর ছবি
৯ | পরিবর্তনশীল | সোম, ২০০৮-০৯-১৫ ২৩:৫৪

জাহাঙ্গীরনগরের যৌননিপীড়ক শিক্ষকসহ তার রক্ষক প্রশাসন নিপাত যাক!
---------------------------------
ছেঁড়া স্যান্ডেল


১৩

জুলিয়ান সিদ্দিকী এর ছবি
১০ | জুলিয়ান সিদ্দিকী | মঙ্গল, ২০০৮-০৯-১৬ ০০:২৬

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় এখন পশুদের বিচরণ ক্ষেত্র হওয়ার জন্য উপযুক্ত। সভ্যতা আর সভ্য মানুষদের স্থান সেখানে ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। পিতা-মাতারা তাঁদের সন্তানদের সেখানে পড়তে পাঠানোর আগে অন্তত দশবার চিন্তা-ভাবনা করা উচিত।
কারণ-
০১. মেয়েটিকে পড়তে পাঠালে সে ধর্ষিতা হওয়ার সম্ভাবনা ৯৮.৫%
০২. ছেলেটিকে পড়তে পাঠালে সে লম্পট হওয়ার সম্ভাবনা ৭৫.৫%
____________________________________
ব্যাকুল প্রত্যাশা উর্ধমুখী; হয়তো বা কেটে যাবে মেঘ।
দূর হবে শকুনের ছাঁয়া। কাটাবে আঁধার আমাদের ঘোলা চোখ
আলোকের উদ্ভাসনে; হবে পুন: পল্লবীত বিশুষ্ক বৃক্ষের ডাল।


১৪

সুমন চৌধুরী এর ছবি
১০.১ | সুমন চৌধুরী | মঙ্গল, ২০০৮-০৯-১৬ ০০:৫৮

জুলিয়ান সিদ্দিকী,

আপনার মন্তব্যটি অত্যন্ত আপত্তিকর। আপনি একই সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগরের সমগ্র শিক্ষার্থী এবং বিশেষ করে নারী-ছাত্রদের অপমান করেছেন। আপনি যা বললেন হুবহু সেই কথা গুলি ধর্ষণকারীদের সমর্থকেরা বলে থাকেন।

সারাদেশের নারীরা যখন প্রবলভাবে প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের যৌন নিপীড়নের শিকার তখন এই জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরাই প্রথমবারের মতো সাহস করে ধর্ষকদের সাথে এবং ধর্ষকদের পৃষ্ঠপোষক প্রশাসনের সঙ্গে লড়াই করেছে। ধর্ষণ বিরোধী যৌন নিপীড়নবিরোধী আন্দোলনগুলি একই সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগরের ছাত্রদের এবং বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের গৌরব। আপনি যা বললেন তার অর্থ দাড়ায় জাহাঙ্গীরনগরের ছাত্রীরা গণহারে ধর্ষিতা এবং ছাত্ররা গণহারে লম্পট। এই কথা শুধু আওয়ামী লীগ-বিএনপি নয় বিশেষভাবে বলে থাকেন চরম প্রতিক্রিয়াশীল অন্যএকটি ধর্মীয় ফ্যাসীবাদী দলের কর্মী-সমর্থকরা যাদের প্রবেশ জাহাঙ্গীরনগরে নিশিদ্ধ।

এই জঘন্য মন্তব্যের জন্য আপনার ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।



অজ্ঞাতবাস


১৫

জুলিয়ান সিদ্দিকী (অনলাইন মন্তব্যের কোটা শেষ) এর ছবি
১০.১.১ | জুলিয়ান সিদ্দিকী (অনলাইন মন্তব্যের কোটা শেষ) (যাচাই করা হয়নি) | মঙ্গল, ২০০৮-০৯-১৬ ০১:২৩

উদ্ধৃতি
আপনার মন্তব্যটি অত্যন্ত আপত্তিকর। আপনি একই সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগরের সমগ্র শিক্ষার্থী এবং বিশেষ করে নারী-ছাত্রদের অপমান করেছেন। আপনি যা বললেন হুবহু সেই কথা গুলি ধর্ষণকারীদের সমর্থকেরা বলে থাকেন।

প্রিয় সুমন চৌধুরী,
আমি বিতর্ককে ভয় পাই। এবং সাধারণত: এটিকে এড়িয়ে চলতে ভালোবাসি। কিন্তু আপনার আপত্তিকর এবং অন্যায় অভিযোগের কারণেই লিখতে বাধ্য হলাম।

দেখুন, আমার বক্তব্যে কোনো ছলচাতুরী বা রাখ-ঢাক নেই। যা বলার পরিষ্কার করেই বলেছি। এখানে নারী বা শিক্ষার্থীদের অপমানের কোনো প্রশ্নই আসে না।
যেখানে শিক্ষক ও প্রশাসনের প্রশ্রয়ে এবং রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় সেঞ্চুরি মানিকদের মত ছেলেদের জন্ম হয়। এ তো গেল একজন মানিকের কথা। ধরাপড়লে চোর আর না ধরা পড়লে সাধু। সেই প্রবাদের আলোকে আরো কতজন ছেলে ধর্ষক হিসেবে অন্ধকারে রয়ে গেছে তার কোনো পরিসংখ্যান বা প্রমান নেই।

আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, মেয়েরা তার নির্যাতনের কথা প্রকাশ করতে চাইলেও পরিবার এবং সামাজিক অবস্থান ও ভবিষ্যতের বিয়ের সম্বন্ধের সম্ভাব্যতা যাচাই করে অনেক মেয়েকেই মুখ বুঁজে থাকতে হয় বা ঘটনার কথা চেপে যেতে বাধ্য করা হয়। সেই মেয়েদেরও কোনো পরিসংখ্যান আমরা জানি না।


আপনি যা বললেন তার অর্থ দাড়ায় জাহাঙ্গীরনগরের ছাত্রীরা গণহারে ধর্ষিতা এবং ছাত্ররা গণহারে লম্পট।

এখানে কাল তিনপ্রকার। অতীত বর্তমান এবং ভবিষ্যতের পয়োগবিধি লক্ষ্যনীয়। আমি ভবিষ্যত সম্ভাবনার কথা বলেছি। পিতা-মাতাকে ভাবতে বলেছি। আপনি সেটাকে অতীত আর বর্তমানে গুলিয়ে নিয়ে ভবিষ্যতের কথাটি চেপে গিয়েছেন বা ভাবতে চাননি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে বা অতীতে যে আন্দোলনগুলো হচ্ছে বা হয়েছে- সবসময়ই প্রশাসন একটি ধোঁয়াচ্ছন্ন পরিবেশের সৃষ্টি করে আন্দোলনের পরিবেশ নস্যাত করে দিয়েছেন। এই যে সাম্প্রতিক কালে অনশনরত চেলে-মেয়েগুলোকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে নিবৃত্ত করা হলো- তার কি হবে? এমন মিথ্যাবাদী-প্রতারক আর স্বার্থান্ধ শিক্ষকদের কাছ থেকে ছেলে-মেয়েরা কী শিখবে। তারা কি অনুপ্রাণিত হবে না?

সুমন চৌধুরী, আমি খুব সাদা-সিধে কথা বলেছি আপনি সেটাকে কোথায় নিয়ে গেলেন বুঝতে পারলাম না। আবারও অনুরোধ করছি যে, আমার পূর্বোক্ত মন্তব্যটি আবার একবার পড়ুন। কারণ এটি মডারেটরদের চেকপোস্ট পার হয়েছে। আপত্তিকর নয় বিধায় এবং বর্তমান জাহাঙ্গীরনগর বিশইবদ্যালয়ের আন্দোলনের পক্ষে বলেই ছাড়পত্র পেয়ে সচলের পাতায় এসেছে। আপনি যদি ভুল বুঝে থাকেন তাহলে আমার কিছু করার নেই।

বি:দ্র: আমার মন্তব্যের কোটা ফুরিয়ে গেছে বলে অফলাইনের সুযোগটা নিতে বাধ্য হলাম।


১৬

সচলায়তন এর ছবি
১০.১.১.১ | সচলায়তন | মঙ্গল, ২০০৮-০৯-১৬ ০১:৫৫

প্রিয় জুলিয়ান সিদ্দিকী,

উদ্ধৃতি
কারণ এটি মডারেটরদের চেকপোস্ট পার হয়েছে। আপত্তিকর নয় বিধায় এবং বর্তমান জাহাঙ্গীরনগর বিশইবদ্যালয়ের আন্দোলনের পক্ষে বলেই ছাড়পত্র পেয়ে সচলের পাতায় এসেছে।

আপনার এ ধারণাটি মৃদু ত্রুটিপূর্ণ। সচলে অতিথিদের দৃষ্টিভঙ্গিদের সাথে সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্যে মন্তব্য প্রকাশিত হয়। যেসব মন্তব্যে অশোভন শব্দ, অমূলক উস্কানিবাচক বক্তব্য বা অর্থহীন বক্তব্য থাকে, কেবল সেগুলোকেই মডারেটররা আটকে দেন, বাকিগুলি প্রকাশিত হয়। আপনার কোন মন্তব্য প্রথম পাতায় প্রকাশিত হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেটি কারো কাছে আপত্তিকর হতে পারবে না।

ধন্যবাদ।

________________________________
সচলায়তন.COM কর্তৃপক্ষ


১৭

সুমন চৌধুরী এর ছবি
১০.১.১.২ | সুমন চৌধুরী | মঙ্গল, ২০০৮-০৯-১৬ ০১:৫৯

প্রিয় জুলিয়ান সিদ্দিকী,

মন্তব্য না পড়ে প্রতিমন্তব্য করার বদনাম বাংলাব্লগ জগতে যাদের সবচাইতে কম আমি সম্ভবত তাঁদের দলে পড়ি। আপনার মন্তব্যটি ছাড়া হয়েছে, এখনো অতিথি স্ট্যাটাসে থাকলেও আপনি নিয়মিত সচলে লিখে যাচ্ছেন, মন্তব্য করে যাচ্ছেন, আপনার এই অবস্থানটিকে সন্মান করে।

তারপরেও আপনার মন্তব্যটি আমি আরো একবার পড়লাম। প্রতিমন্তব্যটিও পড়লাম। আমার মনে হচ্ছে না আমি এতটুকু ভুল বুঝেছি।

আপনি জাহাঙ্গীরনগরে পাঠাবার পূর্বে পিতামাতাদের যে ভাবনার কথা বলছেন সেটাই আপত্তিকর। সবচাইতে আপত্তিকর হচ্ছে আপনি যে সম্ভাবনার গণিত দেখিয়েছেন সেখানে। এই মন্তব্য টাইপ করার সময় আপনার মনে কোন অমোঘ ভাবনা ছিল সেটা সম্ভবত আমার জানার কথা নয়। যে ব্যাখ্যা আপনি দিলেন আমার ক্ষুদ্র মস্তিস্ক সেটাও আপনার মতো করে বুঝতে পারছে না। ভবিষ্যতের কোনভাবনা ভাবতে বলছেন আপনি? প্রতিবাদের ধারা থেকে সরে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিক্রিয়াশীল জানোয়ারদের অভয়ারণ্য কীভাবে বানানো যায় সেই ভাবনা? কীভাবে সমাজে নারী নির্যাতনকে স্থায়ী করা যায় সেই ভাবনা? আপনি বলেছেন,

উদ্ধৃতি
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় এখন পশুদের বিচরণ ক্ষেত্র হওয়ার জন্য উপযুক্ত। সভ্যতা আর সভ্য মানুষদের স্থান সেখানে ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। পিতা-মাতারা তাঁদের সন্তানদের সেখানে পড়তে পাঠানোর আগে অন্তত দশবার চিন্তা-ভাবনা করা উচিত।
কারণ-
০১. মেয়েটিকে পড়তে পাঠালে সে ধর্ষিতা হওয়ার সম্ভাবনা ৯৮.৫%
০২. ছেলেটিকে পড়তে পাঠালে সে লম্পট হওয়ার সম্ভাবনা ৭৫.৫%

ঠিক এই কথাগুলিই ১৯৯৮ সালের প্রথম ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের সময়ে আমরা ধর্ষণকারীদের সমর্থক শিবিরকে বলতে শুনেছি। তারা এই কথাগুলি বলার সময় সমাজে প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিক বিকৃত মনোভাবাপন্নদের পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

আমার মনে হয় এই জাতীয় মন্তব্য করার বিষয়ে আপনার সতর্ক থাকা প্রয়োজন।



অজ্ঞাতবাস


১৮

সবজান্তা এর ছবি
১০.২ | সবজান্তা | মঙ্গল, ২০০৮-০৯-১৬ ০১:৩০

মন্তব্যের সাথে একমত হতে পারলাম না। এ ধরণের ঢালাও মন্তব্য অনুচিত, অসত্য এবং বোধ করি অনেককেই আহত করবে।


অলমিতি বিস্তারেণ

১৯

জুলিয়ান সিদ্দিকী (অনলাইন মন্তব্যের কোটা শেষ) এর ছবি
১০.২.১ | জুলিয়ান সিদ্দিকী (অনলাইন মন্তব্যের কোটা শেষ) (যাচাই করা হয়নি) | মঙ্গল, ২০০৮-০৯-১৬ ০২:০১

সবজান্তা বলেছেন:

মন্তব্যের সাথে একমত হতে পারলামনা।
এ ধরণের ঢালাও মন্তব্য অনুচিত, অসত্য
এবং বোধ করি অনেককেই আহত করবে।

যদি আমার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আপনার এমন মন্তব্য হয়ে থাকে। তাহলে দয়া করে একটু গুছিয়ে বলবেন কি?


২০

সবজান্তা এর ছবি
১০.২.১.১ | সবজান্তা | মঙ্গল, ২০০৮-০৯-১৬ ০৯:০২

আমার যা বলার ছিলো নিচের মন্তব্যে অরূপ ভাই তা বলে দিয়েছেন। আপনার স্ট্যাটিসটিকস নিয়ে দ্বিমত থাকলেও, সেটাকে বাদ দিয়ে মূল আপত্তি হচ্ছে এই প্রকাশভঙ্গি জাহাঙ্গীরনগরের সাবেক-বর্তমান ছাত্রদের আহত করবে।


অলমিতি বিস্তারেণ

২১

অরূপ এর ছবি
১০.৩ | অরূপ | মঙ্গল, ২০০৮-০৯-১৬ ০৩:০২

প্রিয় জুলিয়ান সিদ্দিকী,

এভাবে কল্পিত(?) পরিসংখ্যানে বক্তব্য জোরালো করতে গিয়ে আপনি খুব ঢালাও একটা মন্তব্য করে ফেলেছেন। জাবির যেকোন ছাত্র-ছাত্রীর কাছে এই পরিসংখ্যান দিয়ে বলতে চাওয়া বক্তব্যটি অফেন্সিভ মনে হতে পারে।

হতে পারে আপনি পাবলিক পারসেপশন ও আশংকাকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রকাশভঙ্গীটা ঠিক হচ্ছে না। ভবিষ্যতে আরো সতর্কতা অবলম্বন করতে অনুরোধ করি।


২২

জুলিয়ান সিদ্দিকী (অনলাইন মন্তব্যের কোটা শেষ) এর ছবি
১০.৩.১ | জুলিয়ান সিদ্দিকী (অনলাইন মন্তব্যের কোটা শেষ) (যাচাই করা হয়নি) | মঙ্গল, ২০০৮-০৯-১৬ ০৩:২৬

তথাস্তু চলুক


২৩

কেমিকেল আলী এর ছবি
১০.৪ | কেমিকেল আলী | মঙ্গল, ২০০৮-০৯-১৬ ২১:০০

জুলিয়ান সিদ্দিকীর মন্তব্যে তীব্র আপত্তি জানাচ্ছি।


২৪

তানবীরা এর ছবি
১০.৫ | তানবীরা | বুধ, ২০০৮-০৯-১৭ ১৭:৩০

মেয়েদেরকে পড়তে পাঠানোর নিরাপদ প্রতিষ্ঠান কোনটা বাংলাদেশে কেউ কি বলতে পারেন? স্কুল থেকেইতো আরম্ভ হয়, হুজুর মাস্টার কে বাদ যান?

তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে


২৫

আলমগীর এর ছবি
১০.৬ | আলমগীর | রবি, ২০০৮-০৯-২১ ১৪:৪৪

উদ্ধৃতি
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় এখন পশুদের বিচরণ ক্ষেত্র হওয়ার জন্য উপযুক্ত।

এখান থেকেই আপনার বক্তব্যটা পরিষ্কার। একমততো নইই, ভালও লাগল না।


২৬

শিক্ষানবিস এর ছবি
১১ | শিক্ষানবিস | মঙ্গল, ২০০৮-০৯-১৬ ০০:৪২

সম্পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করছি।

জাহাঙ্গীরনগরের যৌননিপীড়ক শিক্ষকসহ তার রক্ষক প্রশাসন নিপাত যাক!


২৭

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি
১২ | ষষ্ঠ পাণ্ডব | মঙ্গল, ২০০৮-০৯-১৬ ০১:১৫

একটা ক্লিশে মন্তব্য করতে বাধ্য হচ্ছি। যতদিন পর্যন্ত না রাষ্ট্রের মূল চরিত্রটি পরিবর্তিত হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত এমন সব ঘটনা চলতেই থাকবে।

ছাত্র-ছাত্রীদের বয়স অল্প বা আপোষের মানসিকতা কম বলে এসব নিয়ে কিছু আন্দোলন হয়। নতুবা প্রতি নিয়ত দশটা জাহাঙ্গীরনগরের ঘটনা ঘটছে গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে, ছোট-খাট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে, সরকারী-বেসরকারী অফিসগুলোতে। ছাত্রীদের মত অল্প বয়সী, দুর্বলরাই নয়, অধিক বয়সী, উচ্চ পদস্থ নারীরাও প্রতি নিয়ত নানা ধরনের যৌন হয়রানীর শিকার হচ্ছেন।

নিবর্তনমূলক রাষ্ট্র পুরুষতান্ত্রিক চৈতন্য ধারন করবে সেটাই স্বাভাবিক। এধরনের সমস্যার মূলোৎপাটন করতে হলে তাই নিবর্তনমূলক রাষ্ট্রেরই মূলোৎপাটন করতে হবে।

ছোট-খাট মুভমেন্টগুলো আপাত কিছু লাভ দিতে পারে হয়তো তবে তার স্থায়ীত্ব খুবই কম। সেগুলো নিয়ে আত্মতৃপ্তিতে ভোগারও কোন মানে হয় না। ভবিষ্যতে টাইম পিরিয়ডটি দশ বৎসর থেকে কমে দশ মাস বা দশ সপ্তাহ হয়ে যেতে পারে।

সচেতন মানুষদের তাই এখনই ঠিক করা উচিত তারা কোন কৌশল অবলম্বন করবেন যাতে রাষ্ট্রের চরিত্রটিকে গণমূখী করা যায়।

যারা আন্দোলন করছেন বা আন্দোলন সমর্থন করছেন তাদের সদিচ্ছাকে কোন ভাবে খাটো করার কোন অভিপ্রায় আমার নেই। তবে প্রিয় মানুষগুলোর নিঃস্বার্থ পরিশ্রম আশু হতাশার পথে যাচ্ছে দেখতে ভালো লাগে না।

===============================
তোমার সঞ্চয় দিনান্তে নিশান্তে পথে ফেলে যেতে হয়


২৮

সুমন চৌধুরী এর ছবি
১২.১ | সুমন চৌধুরী | মঙ্গল, ২০০৮-০৯-১৬ ০১:২৮

আপনার কমেন্টে মোটামুটি একমত। তবে এটাও সত্যি যে এই আন্দোলনগুলিই বিভিন্নমাত্রায় রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের অ্যান্টি থিসিস হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এগুলিকে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করতে না পারার যে ব্যর্থতা তার কারণ অনেক গভীরে। সেই দুষ্টচক্র থেকে বের হবার পথ খুঁজে বার করতে হবে। এই জন্য যা প্রয়োজন তার ভাবনা নিবর্তনবিরোধী সবাইকেই ভাবতে হবে।



অজ্ঞাতবাস


২৯

সবজান্তা এর ছবি
১৩ | সবজান্তা | মঙ্গল, ২০০৮-০৯-১৬ ০১:২৮

আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করছি।

আজ দুপুরে ভুলে গিয়েছিলাম টি এস সি র কথা, নাহলে সেখানে যাওয়ারও প্ল্যান ছিলো।


অলমিতি বিস্তারেণ

৩০

নজরুল ইসলাম এর ছবি
১৪ | নজরুল ইসলাম | মঙ্গল, ২০০৮-০৯-১৬ ০২:২৩

নাহ... ভাবতেছি আবার মানুষের কাতারে গিয়ে দাঁড়াতে হবে।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল


৩১

দেবোত্তম দাশ এর ছবি
১৫ | দেবোত্তম দাশ | মঙ্গল, ২০০৮-০৯-১৬ ০৪:০০

আর কতদিন আমাদের এভাবে কষ্ট সয়ে যেতে হবে ?
------------------------------------------------------
স্বপ্নকে জিইয়ে রেখেছি বলেই আজো বেঁচে আছি


৩২